সামরিক অভিযান
অধ্যায়ে ফিরুন
৭১ হাদিস
০১
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৪৮
আবু আল-বখতারী (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، أَنَّ جَيْشًا، مِنْ جُيُوشِ الْمُسْلِمِينَ كَانَ أَمِيرَهُمْ سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ حَاصَرُوا قَصْرًا مِنْ قُصُورِ فَارِسَ فَقَالُوا يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَلاَ نَنْهَدُ إِلَيْهِمْ قَالَ دَعُونِي أَدْعُهُمْ كَمَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُوهُمْ ‏.‏ فَأَتَاهُمْ سَلْمَانُ فَقَالَ لَهُمْ إِنَّمَا أَنَا رَجُلٌ مِنْكُمْ فَارِسِيٌّ تَرَوْنَ الْعَرَبَ يُطِيعُونَنِي فَإِنْ أَسْلَمْتُمْ فَلَكُمْ مِثْلُ الَّذِي لَنَا وَعَلَيْكُمْ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْنَا وَإِنْ أَبَيْتُمْ إِلاَّ دِينَكُمْ تَرَكْنَاكُمْ عَلَيْهِ وَأَعْطُونَا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَأَنْتُمْ صَاغِرُونَ ‏.‏ قَالَ وَرَطَنَ إِلَيْهِمْ بِالْفَارِسِيَّةِ وَأَنْتُمْ غَيْرُ مَحْمُودِينَ ‏.‏ وَإِنْ أَبَيْتُمْ نَابَذْنَاكُمْ عَلَى سَوَاءٍ ‏.‏ قَالُوا مَا نَحْنُ بِالَّذِي نُعْطِي الْجِزْيَةَ وَلَكِنَّا نُقَاتِلُكُمْ ‏.‏ فَقَالُوا يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَلاَ نَنْهَدُ إِلَيْهِمْ قَالَ لاَ ‏.‏ فَدَعَاهُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ إِلَى مِثْلِ هَذَا ثُمَّ قَالَ انْهَدُوا إِلَيْهِمْ ‏.‏ قَالَ فَنَهَدْنَا إِلَيْهِمْ فَفَتَحْنَا ذَلِكَ الْقَصْرَ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَالنُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ وَحَدِيثُ سَلْمَانَ حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ ‏.‏ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ أَبُو الْبَخْتَرِيِّ لَمْ يُدْرِكْ سَلْمَانَ لأَنَّهُ لَمْ يُدْرِكْ عَلِيًّا وَسَلْمَانُ مَاتَ قَبْلَ عَلِيٍّ ‏.‏ وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى هَذَا وَرَأَوْا أَنْ يُدْعَوْا قَبْلَ الْقِتَالِ وَهُوَ قَوْلُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِنْ تُقُدِّمَ إِلَيْهِمْ فِي الدَّعْوَةِ فَحَسَنٌ يَكُونُ ذَلِكَ أَهْيَبَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ دِعْوَةَ الْيَوْمَ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ لاَ أَعْرِفُ الْيَوْمَ أَحَدًا يُدْعَى ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ يُقَاتَلُ الْعَدُوُّ حَتَّى يُدْعَوْا إِلاَّ أَنْ يَعْجَلُوا عَنْ ذَلِكَ فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ فَقَدْ بَلَغَتْهُمُ الدَّعْوَةُ ‏.‏
আবূল বাখতারী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, মুসলিমদের কোন এক সেনাবাহিনী পারস্যের একটি দুর্গ অবরোধ করে। সালমান ফারসী (রাঃ) এই বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন। সেনাবাহিনীর মুজাহিদগণ বললেন, হে আবদুল্লাহর পিতা! আমরা কি তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ব না? তিনি বললেন, আমি যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের (ইসলাম গ্রহণের) দাওয়াত দিতে শুনেছি, তোমরা আমাকেও সেভাবে দাওয়াত দিতে দাও। সালমান (রাঃ) তাদের নিকটে এসে বললেন, আমি তোমাদের মাঝেরই একজন পারস্যবাসী। তোমরা দেখতে পাচ্ছ, আরবরা আমার আনুগত্য করছে। তোমরা যদি ইসলাম গ্রহণ কর তবে তোমরাও আমাদের মতই অধিকার পাবে এবং আমাদের উপর যে দায় আসে তোমাদের উপরও সেরকম দায় আসবে। তোমরা যদি এ দাওয়াত কুবুল করতে অসম্মত হও এবং তোমাদের ধর্মের উপর অবিচল থাকতে চাও, তবে আমরা তোমাদেরকে তোমাদের ধর্মের উপর ছেড়ে দিব। কিন্তু এক্ষেত্রে তোমরা আমাদের অনুগত্য স্বীকার করে আমাদেরকে জিযইয়া দিবে। রাবী বলেন, তিনি তাদেরকে এ কথাগুলো ফারসী ভাষায় বলেন। (তিনি আরো বলেন) এই অবস্থায় তোমরা প্রশংসিত হবে না। তোমরা যদি এটাও (জিযইয়া প্রদান) অস্বীকার কর তবে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে লড়বো। তারা বলল, আমরাজিযইয়া প্রদানে সম্মত নই, বরং আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। মুসলিম সেনানীগণ বললেন, হে আবদুল্লাহর পিতা! আমরা কি তাদেরকে আক্রমণ করব না? তিনি বললেন, না। রাবী বলেন, তিনি এভাবে তাদেরকে তিন দিন যাবত আহবান করতে থাকেন। তারপর তিনি মুসলিম বাহিনীকে নির্দেশ দিলেন, প্রস্তুত হও এবং তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়। রাবী বলেন, আমরা তাদেরকে আক্রমণ করে সেই দুর্গ দখল করলাম। যঈফ, ইরওয়া (৫৮৭) এ অনুচ্ছেদে বুরাইদা, নুমান ইবনু মুকাররিন, ইবনু উমার ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। সালমান (রাঃ)-এর হাদীসটি হাসান। আমরা শুধু আতা ইবনুস সায়িবের সূত্রেই এ হাদীসটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে বলতে শুনেছি, আবূল বাখতার সালমান (রাঃ)-এর দেখা পাননি। কেননা তিনি আলী (রাঃ)-এর দেখা পাননি। আর সালমান (রাঃ) আলী (রাঃ)-এর পূর্বে মারা যান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তার পরবর্তীগণ এ হাদীসের মতই মত দিয়েছেন। তাদের মতে, যুদ্ধ শুরু করার পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে। ইসহাক ইবনু ইবরাহীমেরও এই মত। তিনি বলেন, যদি আক্রমণ করার পূর্বে শত্রুবাহিনীকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া হয় তবে তা উত্তম এবং তা তাদের মনে প্রভাব ও ভীতির সঞ্চার করবে। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম বলেন, আজকাল আর এরূপ দাওয়াত দেয়ার প্রয়োজন নেই। ইমাম আহমাদ বলেন, বর্তমানে এ ধরনের আহবান করার কোন প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। ইমাম শাফিঈ বলেন, শত্রুকে ইসলামের দাওয়াত না দেয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করা যাবে না। কিন্তু তাদেরকে তাড়াতাড়ি দাওয়াত গ্রহণ করার জন্য বলতে হবে। অবশ্য দাওয়াত না দিলেও কোন সমস্যা নেই। কেননা তাদের কাছে ইতিপূর্বেই ইসলামের দাওয়াত পৌছেছে।
০২
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৪৯
ইবনে আসিম আল-মুজানি (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْعَدَنِيُّ الْمَكِّيُّ، - وَيُكْنَى بِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الرَّجُلُ الصَّالِحُ هُوَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ نَوْفَلِ بْنِ مُسَاحِقٍ عَنِ ابْنِ عِصَامٍ الْمُزَنِيِّ عَنْ أَبِيهِ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَعَثَ جَيْشًا أَوْ سَرِيَّةً يَقُولُ لَهُمْ ‏
"‏ إِذَا رَأَيْتُمْ مَسْجِدًا أَوْ سَمِعْتُمْ مُؤَذِّنًا فَلاَ تَقْتُلُوا أَحَدًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَهُوَ حَدِيثُ ابْنِ عُيَيْنَةَ ‏.‏
ইবনু ইসাম আল-মুযানী (রাহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (ইসাম) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট বা বড় কোন যুদ্ধাভিযানে প্রেরণকালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরকে বলতেনঃ তোমরা কোন মাসজিদ দেখলে অথবা মুয়াযযিনের আযান শুনলে সেখানকার কাউকে হত্যা করবে না। যঈফ, যঈফ আবূ দাউদ (৪৫৪) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। এটি ইবনু উআইনার রিওয়ায়াত।
০৩
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫০
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ خَرَجَ إِلَى خَيْبَرَ أَتَاهَا لَيْلاً وَكَانَ إِذَا جَاءَ قَوْمًا بِلَيْلٍ لَمْ يُغِرْ عَلَيْهِمْ حَتَّى يُصْبِحَ فَلَمَّا أَصْبَحَ خَرَجَتْ يَهُودُ بِمَسَاحِيهِمْ وَمَكَاتِلِهِمْ فَلَمَّا رَأَوْهُ قَالُوا مُحَمَّدٌ وَافَقَ وَاللَّهِ مُحَمَّدٌ الْخَمِيسَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ ‏"‏ ‏.‏
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার অভিযানের যাত্রা করে সেখানে রাতের বেলা গিয়ে পৌছান। তিনি রাতের বেলা কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় পৌছালে ভোর না হলে হামলা করতেন না। ইয়াহুদীরা ভোর হলে তাদের চিরাচরিত অভ্যাস মোতাবিক কোদাল ও ঝুড়িসহ (কৃষিকাজে) বের হল। তাকে দেখে এরা বলল, মুহাম্মাদ এসে গেছেন। আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ তার সমস্ত বাহিনীসহ এসে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহু আকবার! খাইবার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমরা যখন কোন সম্প্রদায়ের এলাকায় যাই তখন সতর্ককৃত লোকদের ভোর বেলাটা খুবই শোচনীয় হয়ে থাকে। - সহীহ, নাসা-ঈ
০৪
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫১
আবু তালহা (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا ظَهَرَ عَلَى قَوْمٍ أَقَامَ بِعَرْصَتِهِمْ ثَلاَثًا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَحَدِيثُ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْغَارَةِ بِاللَّيْلِ وَأَنْ يَبِيتُوا وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُبَيَّتَ الْعَدُوُّ لَيْلاً ‏.‏ وَمَعْنَى قَوْلِهِ وَافَقَ مُحَمَّدٌ الْخَمِيسَ يَعْنِي بِهِ الْجَيْشَ ‏.‏
আনাস (রাঃ) হতে আবূ তালহা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয়ী হলে তাদের এলাকায় তিন দিন অবস্থান করতেন। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪১৪), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আনাসের সূত্রে হুমাইদের হাদীসটিও হাসান সহীহ। রাতে শত্রুর এলাকায় গিয়ে অতর্কিত হামলার পক্ষে একদল অভিজ্ঞ আলিম সম্মতি প্রদান করেছেন। এটাকে অন্য একদল অভিজ্ঞ আলিম মাকরুহ বলেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক বলেন, রাতের বেলা শক্রর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কোন সমস্যা নেই। ওয়াফাকা মুহাম্মাদ আল-খামীস" -এর অর্থ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী।
০৫
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫২
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ وَقَطَعَ وَهِيَ الْبُوَيْرَةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ ‏:‏ ‏(‏ مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ ‏)‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ ذَهَبَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا وَلَمْ يَرَوْا بَأْسًا بِقَطْعِ الأَشْجَارِ وَتَخْرِيبِ الْحُصُونِ ‏.‏ وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ ذَلِكَ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ ‏.‏ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَنَهَى أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ يَزِيدَ أَنْ يَقْطَعَ شَجَرًا مُثْمِرًا أَوْ يُخَرِّبَ عَامِرًا وَعَمِلَ بِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَهُ ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ بَأْسَ بِالتَّحْرِيقِ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ وَقَطْعِ الأَشْجَارِ وَالثِّمَارِ ‏.‏ وَقَالَ أَحْمَدُ وَقَدْ تَكُونُ فِي مَوَاضِعَ لاَ يَجِدُونَ مِنْهُ بُدًّا فَأَمَّا بِالْعَبَثِ فَلاَ تُحَرَّقُ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ التَّحْرِيقُ سُنَّةٌ إِذَا كَانَ أَنْكَى فِيهِمْ ‏.‏
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, বানু নাযীরের বুওয়ায়রাস্থ খেজুর বাগানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগ্নিসংযোগ করেন এবং গাছগুলো কেটে ফেলেন। আল্লাহ তা'আলা এই বিষয়ে আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “তোমরা যেসব খেজুরের গাছ কেটেছ বা এদের কাণ্ডের উপর যেগুলোকে স্বঅবস্থায় দাড়িয়ে থাকতে দিয়েছ, তা সবই আল্লাহ্‌ তা'আলার অনুমতিক্রমেই করেছ, যাতে তিনি ফাসিকদের লাঞ্ছিত করতে পারেন"(সূরাঃ হাশর– ৫)। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৪৪), নাসা-ঈ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহঁ। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম মত দিয়েছেন। যুদ্ধাবস্থায় গাছপালা কর্তন এবং দুর্গসমূহের ধ্বংস করায় কোন সমস্যা নেই বলে তারা মনে করেন। কিছু আলিম তা মাকরূহ বলেছেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম আওযাঈও। তিনি বলেন, ফলবান বৃক্ষ কাটতে এবং জনপদ ধ্বংস করতে আবূ বকর (রাঃ) বারণ করেছেন। মুসলিমগণও তার পরবর্তী সময়ে এই নীতির অনুসরণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, শক্র বাহিনীর কৃষিক্ষেত্রে আগুন লাগিয়ে দেওয়া এবং ফলবান বা যে কোন ধরনের গাছ কাটাতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম আহমাদ বলেন, প্রয়োজনবোধে তা করা যাবে, কিন্তু বিনা প্রয়োজনে আগুন লাগানো যাবে না। ইমাম ইসহাক বলেন, শক্রর প্রতি প্রবল আক্রমণের উদ্দেশ্যে এরূপ করাই সুন্নাত।
০৬
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫৩
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে আরেকটি সনদ।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ فُضِّلْتُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ ‏"‏ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
০৭
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ أَخْضَرَ، نَحْوَهُ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ مُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ وَابْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالأَوْزَاعِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا لِلْفَارِسِ ثَلاَثَةُ أَسْهُمٍ سَهْمٌ لَهُ وَسَهْمَانِ لِفَرَسِهِ وَلِلرَّاجِلِ سَهْمٌ ‏.‏
০৮
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫৫
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الأَزْدِيُّ الْبَصْرِيُّ، وَأَبُو عَمَّارٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ خَيْرُ الصَّحَابَةِ أَرْبَعَةٌ وَخَيْرُ السَّرَايَا أَرْبَعُمِائَةٍ وَخَيْرُ الْجُيُوشِ أَرْبَعَةُ آلاَفٍ وَلاَ يُغْلَبُ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا مِنْ قِلَّةٍ ‏"‏ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ يُسْنِدُهُ كَبِيرُ أَحَدٍ غَيْرُ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ حِبَّانُ بْنُ عَلِيٍّ الْعَنَزِيُّ عَنْ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَرَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সফরসঙ্গী চারজন হওয়া উত্তম, চার শত সৈনিক নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্র বাহিনী উত্তম, চার হাজার সৈনিক নিয়ে গঠিত পূর্ণ বাহিনী উত্তম এবং বার হাজার সৈন্য নিয়ে গঠিত বাহিনী সংখ্যাস্বল্পতার কারণে পরাজিত হবে না (পরাজিত হলে তা ঈমানের দুর্বলতার কারণেই)। যঈফ, সহীহাহ নতুন সংস্করণ (৯৮৬) এ হাদীসটি হাসান গারীব। জারীর ইবনু হাযিম ব্যতীত আর কোন প্রবীণ রাবী এটাকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেননি। যুহরী হতে এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবেই বর্ণিত হয়েছে। হাব্বান ইবনু আলী আবদুল্লাহ হতে তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে লাইস ইবনু সা'দ উকাইল সুত্রে, তিনি যুহুরীর সুত্রে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাতে এটাকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
০৯
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫৬
ইয়াজিদ বিন হুরমুজ (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، أَنَّ نَجْدَةَ الْحَرُورِيَّ، كَتَبَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِالنِّسَاءِ وَهَلْ كَانَ يَضْرِبُ لَهُنَّ بِسَهْمٍ فَكَتَبَ إِلَيْهِ ابْنُ عَبَّاسٍ كَتَبْتَ إِلَىَّ تَسْأَلُنِي هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِالنِّسَاءِ وَكَانَ يَغْزُو بِهِنَّ فَيُدَاوِينَ الْمَرْضَى وَيُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ وَأَمَّا يُسْهِمُ فَلَمْ يَضْرِبْ لَهُنَّ بِسَهْمٍ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَأُمِّ عَطِيَّةَ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُسْهَمُ لِلْمَرْأَةِ وَالصَّبِيِّ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَأَسْهَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلصِّبْيَانِ بِخَيْبَرَ وَأَسْهَمَتْ أَئِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ لِكُلِّ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي أَرْضِ الْحَرْبِ ‏.‏
قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَأَسْهَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلنِّسَاءِ بِخَيْبَرَ وَأَخَذَ بِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَهُ ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ بِهَذَا ‏.‏ وَمَعْنَى قَوْلِهِ وَيُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ يَقُولُ يُرْضَخُ لَهُنَّ بِشَيْءٍ مِنَ الْغَنِيمَةِ يُعْطَيْنَ شَيْئًا ‏.‏
ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রাহঃ) হতে বর্ণিত আছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে হারুরা এলাকার (খারিজী নেতা) নাজদা চিঠির মাধ্যমে প্রশ্ন করে যে, মহিলাদেরকে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের মাঠে নিয়ে যেতেন এবং তাদের জন্য কি গানীমাতে অংশ নির্ধারণ করতেন? উত্তরে ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে লিখলেন, তুমি আমাকে চিঠির মাধ্যমে প্রশ্ন করেছ যে, মহিলাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের মাঠে অংশগ্রহণ করাতেন কি-না এবং গানীমতের অংশ তাদের জন্য নির্ধারণ করতেন কি-না। তিনি তাদেরকে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতেন। তারা অসুস্থ যোদ্ধাদের সেবাযত্ন করত। গানীমাতের সম্পদ হতে তাদেরকে প্রদান করা হত, কিন্তু তিনি তাদের জন্য অংশ নির্ধারণ করেননি। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪৩৮), মুসলিম আনাস ও উম্মু আতিয়্যা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক বেশিরভাগ অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী এবং শাফিঈও (গানীমাতের কোন অংশ মহিলারা পাবে না)। কয়েকজন আলিম বলেছেন, গানীমাতের ভাগ মহিলা এবং শিশুদেরকেও প্রদান করতে হবে। আওযাঈর এই মত। তিনি বলেন, খাইবারের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদেরকে গানীমাতের ভাগ প্রদান করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে ভূমিষ্ঠ শিশুদেরকে মুসলিম নেতৃবৃন্দ গানীমাতের ভাগ প্রদান করেছেন। আওযাঈ আরো বলেন, খাইবারের যুদ্ধে মহিলাদের জন্যও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গানীমাতে অংশ নির্ধারণ করেছেন। মুসলিমগণ পরবর্তীতে এ নীতিই অনুসরণ করেছেন। ইমাম তিরমিয়ী বলেন, আমাদের নিকট একথাগুলো আলী ইবনু খাশরামের সূত্রে, তিনি ঈসা ইবনু ইউনুসের সূত্রে, তিনি আওযাঈর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। "ইউহযাইনা মিনাল গানীমাহ"-এর অর্থ “তাদেরকে (মহিলাদেরকে) গানীমাত হতে অল্প কিছু দেয়া হল, তাদেরকে কিছু দেয়া হল”।
১০
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫৭
উমাইর, আবিল-লাম (রাঃ)-এর মুক্ত দাস
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَالَ شَهِدْتُ خَيْبَرَ مَعَ سَادَتِي فَكَلَّمُوا فِيَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَعْلَمُوهُ أَنِّي مَمْلُوكٌ ‏.‏ قَالَ فَأَمَرَ بِي فَقُلِّدْتُ السَّيْفَ فَإِذَا أَنَا أَجُرُّهُ فَأَمَرَ لِي بِشَيْءٍ مِنْ خُرْثِيِّ الْمَتَاعِ وَعَرَضْتُ عَلَيْهِ رُقْيَةً كُنْتُ أَرْقِي بِهَا الْمَجَانِينَ فَأَمَرَنِي بِطَرْحِ بَعْضِهَا وَحَبْسِ بَعْضِهَا ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يُسْهَمَ لِلْمَمْلُوكِ وَلَكِنْ يُرْضَخُ لَهُ بِشَيْءٍ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏
আবূল লাহমের মুক্তদাস উমাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি খাইবারের যুদ্ধে আমার মনিবদের সাথে অংশগ্রহণ করি। তারা আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বললেন। তারা তাকে আরো জানান যে, আমি ক্রীতদাস। বর্ণনাকারী উমাইর (রাঃ) বলেন, আমার ব্যপারে তার হুকুম মোতাবিক হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে হাটছিলাম। তিনি গানীমাতের মধ্য হতে কিছু তৈজসপত্র আমাকে দিতে বললেন। আমি তাকে কয়েকটি মন্ত্র শুনালাম, যেগুলো দিয়ে আমি পাগলদের ঝাড়ফুক করতাম। তিনি এর কিছু বাদ দেয়ার এবং কিছু রাখার জন্য আমাকে নির্দেশ দেন। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪৪০) ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তারা মনে করেন গোলামের জন্য গানীমাতের সম্পদে কোন নির্ধারিত অংশ নেই, তবে অল্প পরিমাণ দেওয়া যায়। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও।
১১
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫৮
It has been related by Az-Zuhri, that the Prophet (ﷺ) gave a portion to some people among the Jews who fought along with him. This was narrated to us by Qutaibah
وَيُرْوَى عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَسْهَمَ لِقَوْمٍ مِنَ الْيَهُودِ قَاتَلُوا مَعَهُ ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَزْرَةَ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ بِهَذَا ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে রাওনা হলেন। তিনি ওয়াবরার প্রস্তরময় এলাকায় পৌছলে মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি তার সাথে মিলিত হল। তার সাহসিকতা ও বীরত্বের খ্যাতি ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের উপর বিশ্বাসী নও? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি ফিরে যাও, আমি কখনো কোন মুশরিকের সাহায্য নিব না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৩২), মুসলিম এ হাদীসে আরো বক্তব্য আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীসের বক্তব্য অনুযায়ী আমল করেছেন। তারা বলেন, যিমীদেরকে গানীমাতের অংশ দেওয়া যাবে না যদিও তারা শক্রর বিরুদ্ধে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, তারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে তাদেরকে গানীমাতের অংশ দেয়া হবে।
১২
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৫৯
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا بُرَيْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَفَرٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ خَيْبَرَ فَأَسْهَمَ لَنَا مَعَ الَّذِينَ افْتَتَحُوهَا ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ مَنْ لَحِقَ بِالْمُسْلِمِينَ قَبْلَ أَنْ يُسْهَمَ لِلْخَيْلِ أُسْهِمَ لَهُ ‏.‏ وَبُرَيْدٌ يُكْنَى أَبَا بُرَيْدَةَ وَهُوَ ثِقَةٌ وَرَوَى عَنْهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَغَيْرُهُمَا ‏.‏
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে রাওনা হলেন। তিনি ওয়াবারার প্রস্তরময় এলাকায় পৌছলে মুশরিক সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি তার সাথে মিলিত হল। তার সাহসিকতা ও বীরত্বের খ্যাতি ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ তা'আলা ও তার রাসূলের উপর ঈমান আনবে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি ফিরে যাও, আমি কখনো কোন মুশরিকের সাহায্য নিব না। সহীহ, ইবনু মাজাহ (২৮৩২), মুসলিম এ হাদীসে আরো বক্তব্য আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। কিছু বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীসের মতই আমল করেছেন। তারা বলেন, যিম্মীদেরকে গানীমাতের অংশ দেয়া যাবে না, তারা মুসলিমদের সাথে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও না। অপর একদল বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, তারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে তাদেরকে গানীমাত দেয়া হবে, যেমন যুহরীর সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদী একগোষ্ঠী অমুসলিমকে গানিমাতের অংশ দিয়েছিলেন, যারা তার সাথে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলো। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবনু সাঈদ আব্দুল ওয়ারিস ইবনু সাঈদ হতে, তিনি আযরা ইবনু সাবিত হতে, তিনি যুহরী হতে। সনদ দুর্বল
১৩
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬০
Another Chain fro Abu Idris Al-Khawlani 'Ai'dhullah bin 'Ubaidullah who said
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَبِيعَةَ بْنَ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيَّ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ، عَائِذُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ، يَقُولُ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضِ قَوْمٍ أَهْلِ كِتَابٍ نَأْكُلُ فِي آنِيَتِهِمْ قَالَ ‏
"‏ إِنْ وَجَدْتُمْ غَيْرَ آنِيَتِهِمْ فَلاَ تَأْكُلُوا فِيهَا فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَاغْسِلُوهَا وَكُلُوا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
আবূ সালাবা আল-খুশানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মাজুসীদেব (অগ্নি উপাসক) হাড়ি-পাতিল ব্যবহার প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেনঃ এগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নাও, তারপর এতে রান্নাবান্না কর। তিনি নখর ও শিকারী দাতযুক্ত হিংস্র প্রাণীও (খেতে) নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২০৭, ৩২৩২), নাসা-ঈ এ হাদীসটি আবূ সালাবা (রাঃ)-এর নিকট হতে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি আবূ সালাবা (রাঃ) হতে আবূ ইদরীস আল খাওলানীও বর্ণনা করেছেন। আবূ সালাবা (রাঃ)-এর নিকট হতে আবৃ কিলাবা (রাহঃ) কখনো হাদীস শুনেননি। বরং এ হাদীসটি তিনি আবৃ আসমার মাধ্যমে আবূ সালাবা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। আবূ সালাবা আল-খুশানী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আহলে কিতাবের এলাকায় থাকি। আমরা কি তাদের পাত্রে আহার করব? তিনি বললেনঃ তোমরা তাদের পাত্র ব্যতীত অন্য পাত্র সেটাতে খাওয়া-দাওয়া করা থেকে বিরত থাক। আর অন্য পাত্র যোগাতে না পারলে এগুলো পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নাও, তারপর এতে খাও। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩২০৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
১৪
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬১
আরেকটি শৃঙ্খল (RA)
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَنَفَّلَ سَيْفَهُ ذَا الْفَقَارِ يَوْمَ بَدْرٍ وَهُوَ الَّذِي رَأَى فِيهِ الرُّؤْيَا يَوْمَ أُحُدٍ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي الزِّنَادِ ‏.‏ وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي النَّفَلِ مِنَ الْخُمُسِ فَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ لَمْ يَبْلُغْنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَفَّلَ فِي مَغَازِيهِ كُلِّهَا وَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّهُ نَفَّلَ فِي بَعْضِهَا وَإِنَّمَا ذَلِكَ عَلَى وَجْهِ الاِجْتِهَادِ مِنَ الإِمَامِ فِي أَوَّلِ الْمَغْنَمِ وَآخِرِهِ ‏.‏ قَالَ ابْنُ مَنْصُورٍ قُلْتُ لأَحْمَدَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَفَّلَ إِذَا فَصَلَ بِالرُّبُعِ بَعْدَ الْخُمُسِ وَإِذَا قَفَلَ بِالثُّلُثِ بَعْدَ الْخُمُسِ فَقَالَ يُخْرِجُ الْخُمُسَ ثُمَّ يُنَفِّلُ مِمَّا بَقِيَ وَلاَ يُجَاوِزُ هَذَا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا الْحَدِيثُ عَلَى مَا قَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ النَّفَلُ مِنَ الْخُمُسِ ‏.‏ قَالَ إِسْحَاقُ كَمَا قَالَ ‏.‏
১৫
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬২
Another Chain with similar meaning There are narrations on this topic from 'Awf bin Malik, Khalid bin Al-Walid, Anas, and Samurah. This Hadith is Hasan Sahih. Abu Muhammad is Nafi' the freed slave of Abu Qatadah. This is acted upon according to some
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، وَخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ، وَأَنَسٍ، وَسَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَأَبُو مُحَمَّدٍ هُوَ نَافِعٌ مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لِلإِمَامِ أَنْ يُخْرِجَ مِنَ السَّلَبِ الْخُمُسَ ‏.‏ وَقَالَ الثَّوْرِيُّ النَّفَلُ أَنْ يَقُولَ الإِمَامُ مَنْ أَصَابَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ وَمَنْ قَتَلَ قَتِيلاً فَلَهُ سَلَبُهُ فَهُوَ جَائِزٌ وَلَيْسَ فِيهِ الْخُمُسُ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ السَّلَبُ لِلْقَاتِلِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ شَيْئًا كَثِيرًا فَرَأَى الإِمَامُ أَنْ يُخْرِجَ مِنْهُ الْخُمُسَ كَمَا فَعَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ‏.‏
আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শুক্র পক্ষের কোন সৈনিককে কোন লোক হত্যা করলে এবং এর প্রমাণ তার নিকট থাকলে সে নিহতের অস্ত্রশস্ত্র ও জিনিসপত্র পাবে। সহীহ, ইরওয়া (৫/৫২-৫৩), সহীহ আবূ দাউদ (২৪৩), নাসা-ঈ আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসের সাথে আরও ঘটনা আছে। ইবনু আবী উমার হতে সুফিয়ানের বরাতে ইয়াহইয়া ইবনু সাইদের সূত্রেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আওফ ইবনু মালিক, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, আনাস ও সামুরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আবূ মুহাম্মাদের নাম নাফি, তিনি আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম। এ হাদীস মোতাবিক একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করেছেন। এই অভিমত (হত্যাকারী নিহতের মালপত্র পাবে) দিয়েছেন ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ এবং আহমাদও। আরেক দল অভিজ্ঞ আলিম বলেন, দলনেতার এই মালপত্র হতে খুমুস বের করে নেওয়ার অধিকার আছে। সুফিয়ান সাওরী বলেন, যে লোক যা পেয়েছে তা তারই হবে এবং শক্রপক্ষের কোন লোককে যে ব্যক্তি খুন করল সে তার মালপত্রের অধিকারী হবে। দলনেতার এরূপ ঘোষণাই হল নাফল (পুরস্কার) এবং তাতে কোন খুমুস নেই। ইসহাক (রাহঃ) বলেছেন, হত্যাকারী নিহতের মালপত্রের অধিকারী হবে। তবে যদি মালপত্রের পরিমাণ অধিক হয় তবে দলনেতা চাইলে সেটা হতে খুমুস বের করতে পারেন, যেভাবে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বের করেছেন।
১৬
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬৩
আবু সা'ঈদ আল-খুদরি (রাঃ)
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ جَهْضَمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شِرَاءِ الْمَغَانِمِ حَتَّى تُقْسَمَ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ ‏.‏
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, গানীমাতের মাল ভাগ করার আগে তা বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৪০১৫-৪০১৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা গরীব বলেছেন।
১৭
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬৪
উম্মে হাবিবা বিনতে ইরবাদ বিন সারিয়াহ (রা.)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ النَّبِيلُ، عَنْ وَهْبٍ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، أَنَّ أَبَاهَا، أَخْبَرَهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ تُوطَأَ السَّبَايَا حَتَّى يَضَعْنَ مَا فِي بُطُونِهِنَّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ ‏.‏ وَحَدِيثُ عِرْبَاضٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ إِذَا اشْتَرَى الرَّجُلُ الْجَارِيَةَ مِنَ السَّبْىِ وَهِيَ حَامِلٌ فَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ لاَ تُوطَأُ حَامِلٌ حَتَّى تَضَعَ ‏.‏ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَأَمَّا الْحَرَائِرُ فَقَدْ مَضَتِ السُّنَّةُ فِيهِنَّ بِأَنْ أُمِرْنَ بِالْعِدَّةِ ‏.‏ قَالَ حَدَّثَنِي بِذَلِكَ عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ ‏.‏
উম্মু হাবীবা বিনতু ইরবায ইবনু সারিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তাকে তার বাবা (ইরযায) জানিয়েছেন যে, গর্ভবতী যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে সন্তান প্রসব হওয়ার আগ পর্যন্ত সহবাস করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারণ করেছেন। সহীহ, দেখুন হাদীস নং (১৪৭৪) আবূ ঈসা বলেন, রুয়াইফি ইবনু সাবিত (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আর ইরবাযের হাদীসটি গারীব। এ হাদীস অনুসারে আলিমগণ আমল করেছেন। ইমাম আওযাঈ বলেন, গর্ভবতী বন্দিনী দাসী কোন লোক কিনলে সেই ব্যাপারে উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, সন্তান প্রসব হওয়ার আগ পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করা যাবে না। আওযাঈ আরো বলেন, মুক্ত যুদ্ধবন্দিনীর বিষয়ে বিধান হল, তাদের সাথে ইদাত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সহবাস করা যাবে না। আলী ইবনু খাশরাম ঈসা ইবনু ইউনুসের সূত্রে আওযাঈ হতে এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন।
১৮
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬৫
قَالَ مَحْمُودٌ وَقَالَ وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ مُرِّيِّ بْنِ قَطَرِيٍّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي طَعَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ ‏.‏
কাবীসা ইবনু হুলব (রাহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (পিতা) বলেন, নাসারাদের বানানো খাবারের প্রসঙ্গে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেনঃ তোমার মনে কোন খাবারের ব্যাপারে (অযথা) সন্দেহ ও দ্বিধা-সংকোচ সৃষ্টি হওয়া ঠিক নয়। তুমি এরকম অমূলক সংশয়ে পড়ে গেলে নাসারাদের অনুরূপ হয়ে গেলে। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৮৩০) আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আমি মাহমূদকে বলতে শুনেছি উবাইদুল্লাহ ইবনু মূসা বলেছেন, ইসরাঈল সিমাক হতে, তিনি কাবীসা হতে, তিনি তার পিতা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ওয়াহাব ইবনু জারীর বলেন, শুবা সিমাক হতে, তিনি মুরাই ইবনু কাত্বারী হতে, তিনি আদী ইবনু হাতিম হতে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীস মোতাবিক আলিমগণ আমল করেছেন। ইয়াহুদী নাসারাদের খাদ্য খাওয়ার অনুমতি আছে বলে তারা মনে করেন।
১৯
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬৬
আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রাঃ)
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الشَّيْبَانِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي حُيَىٌّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ وَالِدَةٍ وَوَلَدِهَا فَرَّقَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَحِبَّتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ كَرِهُوا التَّفْرِيقَ بَيْنَ السَّبْىِ بَيْنَ الْوَالِدَةِ وَوَلَدِهَا وَبَيْنَ الْوَلَدِ وَالْوَالِدِ وَبَيْنَ الإِخْوَةِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ الْبُخَارِيَّ يَقُولُ سَمِعَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيُّ مِنْ أَبِي أَيُّوبَ ‏.‏
আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ (বন্দিনী) মা ও তার সন্তানকে একে অপর হতে যে লোক আলাদা করল, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে তার এবং তার প্রিয়জনদের পরস্পর হতে আলাদা করবেন। হাসান, মিশকাত (৩৩৬১) আবূ ঈসা বলেন আলী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আর এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তীগণ আমল করেছেন। বন্দিনী মা-সন্তান, পিতা-পুত্র এবং ভাইদেরকে পরস্পর হতে আলাদা করাকে তারা নিষিদ্ধ বলেছেন।
২০
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬৭
আলী ইবনু আবি তালিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، - وَاسْمُهُ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيُّ وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ إِنَّ جِبْرَائِيلَ هَبَطَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ خَيِّرْهُمْ يَعْنِي أَصْحَابَكَ فِي أُسَارَى بَدْرٍ الْقَتْلَ أَوِ الْفِدَاءَ عَلَى أَنْ يُقْتَلَ مِنْهُمْ قَابِلاً مِثْلُهُمْ ‏.‏ قَالُوا الْفِدَاءَ وَيُقْتَلَ مِنَّا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَنَسٍ وَأَبِي بَرْزَةَ وَجُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الثَّوْرِيِّ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ ‏.‏ وَرَوَى أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏ وَرَوَى ابْنُ عَوْنٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏ وَأَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ اسْمُهُ عُمَرُ بْنُ سَعْدٍ ‏.‏
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন যে, জিবরীল (আঃ) তার নিকট এসে বলেন, বদরের বন্দীদের ব্যাপারে তাদেরকে অর্থাৎ আপনার সাহাবীদেরকে ইখতিয়ার (স্বাধীনতা) দিন। হয় তাদেরকে তারা মেরে ফেলুক অথবা তাদের (সাহাবীদের) সমান সংখ্যক লোক আগামী বছর নিহত হওয়ার শর্তে মুক্তিপণ গ্রহণ করে তাদেরকে মুক্ত করে দিক। তারা (সাহাবীগণ) বললেন, আমাদের মধ্য হতে সম-সংখ্যক লোক মারা গেলেও আমরা তাদেরকে মুক্তিপণ গ্রহণ করে ছেড়ে দিব। সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৭৩), ইরওয়া (৫/৪৮-৪৯) ইবনু মাসউদ, আনাস, আবূ বারযা ও জুবাইর ইবনু মুতঈম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা সাওরীর সূত্রে হাসান গারীব বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র ইবনু আবী যাইদা বর্ণিত হাদীস হিসাবেই জেনেছি। আবূ উসামা-হিশাম হতে, তিনি ইবনু সীরীন হতে, তিনি উবাইদা হতে, তিনি আলী (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রে একইরকম বর্ণিত হয়েছে। এটি মুরসাল হাদীসরূপে ইবনু আওন-ইবনু সীরীন হতে, তিনি উবাইদা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবূ দাউদ আল-হাফারীর নাম উমার, পিতা সাদ।
২১
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬৮
ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ)
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَمِّهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَدَى رَجُلَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ بِرَجُلٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَعَمُّ أَبِي قِلاَبَةَ هُوَ أَبُو الْمُهَلَّبِ وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو وَيُقَالُ مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو وَأَبُو قِلاَبَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الْجَرْمِيُّ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ لِلإِمَامِ أَنْ يَمُنَّ عَلَى مَنْ شَاءَ مِنَ الأُسَارَى وَيَقْتُلَ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ وَيَفْدِيَ مَنْ شَاءَ ‏.‏ وَاخْتَارَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْقَتْلَ عَلَى الْفِدَاءِ ‏.‏ وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ بَلَغَنِي أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ مَنْسُوخَةٌ قَوْلُهُ تَعَالَى‏:‏ ‏(‏فَإِِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً‏)‏ نَسَخَتْهَا‏:‏ ‏(‏وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ ‏)‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَنَّادٌ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ ‏.‏ قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قُلْتُ لأَحْمَدَ إِذَا أُسِرَ الأَسِيرُ يُقْتَلُ أَوْ يُفَادَى أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ إِنْ قَدَرُوا أَنْ يُفَادُوا فَلَيْسَ بِهِ بَأْسٌ وَإِنْ قُتِلَ فَمَا أَعْلَمُ بِهِ بَأْسًا ‏.‏ قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الإِثْخَانُ أَحَبُّ إِلَىَّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ مَعْرُوفًا فَأَطْمَعُ بِهِ الْكَثِيرَ ‏.‏
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, দু’জন মুসলিম বন্দীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুশরিক বন্দীর সাথে বিনিময় করেছেন। সহীহ, মুসলিম (৫/৭৮) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবূ কিলাবার চাচার নাম আবূল মুহাল্লাব আব্দুর রাহমান ইবনু আমর, মতান্তরে তার নাম মুআবিয়া ইবনু উমার। আর আবূ কিলাবার নাম আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ আল-জারমী। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈগণ আমল করেছেন। তাদের মতে নেতা চাইলে কোন বন্দীকে অনুগ্রহ প্রদর্শনপূর্বক মুক্তি দিতে পারেন, মেরে ফেলতে পারেন অথবা বিনিময় গ্রহণ করে ছেড়েও দিতে পারেন। বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে মেরে ফেলাকেই কিছু অভিজ্ঞ আলিম উত্তম মনে করেন। আওযাঈ বলেন, আমি জানতে পেরেছি, নিম্নলিখিত আয়াত মানসূখ (বাতিল) হয়ে গেছেঃ “তারপর হয় অনুগ্রহ করবে অথবা বিনিময় গ্রহণ করে মুক্ত করে দিবে” (সূরাঃ মুহাম্মাদ- ৪)। নাসিখ (বাতিলকারী) আয়াত হলঃ “তাদেরকে যে জায়গাতেই পাও সেখানেই মেরে ফেল" (সূরাঃ বাকারা- ১৯১, সূরাঃ নিসা- ৯১)। ইবনুল মুবারাক আওযাঈ হতে এই উক্তি বর্ণনা করেছেন। ইসহাক ইবনু মানসুর বলেন, আহমাদকে আমি প্রশ্ন করলাম, কাফির যোদ্ধা বন্দী অবস্থায় এলে আপনি তাকে মেরে ফেলা পছন্দ করেন না বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেওয়া পছন্দ করেন? তিনি উত্তরে বললেন, বিনিময় দিতে রাযি হলে তা নিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়াতেও কোন সমস্যা নেই অথবা মেরে ফেলতেও কোন আপত্তি নেই। ইসহাক বলেন, তাকে মেরে ফেলাটাই আমি উত্তম বলে মনে করি। তবে সে প্রসিদ্ধি লাভ করলে এবং তার ব্যাপারে নানাবিধ আশা করার সুযোগ থাকলে (তাকে মুক্তি দেওয়াই উচিত)।
২২
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৬৯
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ امْرَأَةً وُجِدَتْ فِي بَعْضِ مَغَازِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقْتُولَةً فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ وَنَهَى عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَرَبَاحٍ وَيُقَالُ رِيَاحُ بْنُ الرَّبِيعِ وَالأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَالصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ كَرِهُوا قَتْلَ النِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ ‏.‏ وَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْبَيَاتِ وَقَتْلِ النِّسَاءِ فِيهِمْ وَالْوِلْدَانِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَرَخَّصَا فِي الْبَيَاتِ ‏.‏
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, একজন মহিলাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন এক যুদ্ধে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে খুবই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং নারী ও শিশুদের মেরে ফেলতে বারণ করেন। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৪১), নাসা-ঈ বুরাইদা, রাবাহ তাকে রিয়াহ ইবনুর রাবীও বলা হয়। আসওয়াদ ইবনু সার', ইবনু আব্বাস ও সাব ইবনু জাসসামা (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। নারী ও শিশুদের মেরে ফেলাকে তারা জঘন্য কাজ বলেছেন। এই মতটি দিয়েছেন সুফিয়াম সাওরী ও শাফিঈও। রাতের বেলা আক্রমণ এবং এমতাবস্থায় নারী ও শিশুদের মেরে ফেলার পক্ষে অন্য একদল অভিজ্ঞ আলিম সম্মতি প্রদান করেছেন। এই অভিমত দিয়েছেন আহমাদ ও ইসহাক। রাতের বেলা অতর্কিত আক্রমণের সুযোগ তারা দু’জনেই রেখেছেন।
২৩
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭০
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي الصَّعْبُ بْنُ جَثَّامَةَ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ خَيْلَنَا أَوْطَأَتْ مِنْ نِسَاءِ الْمُشْرِكِينَ وَأَوْلاَدِهِمْ ‏.‏ قَالَ ‏
"‏ هُمْ مِنْ آبَائِهِمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, সাব ইবনু জাসসামা (রাঃ) আমাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের নারী ও শিশুদেরকে আমাদের অশ্বারোহী বাহিনী পদদলিত করেছে। তিনি বললেনঃ তারা তাদের বাপ-দাদার সাথেই সম্পৃক্ত। হাসান, ইবনু মা-জাহ (২৮৩৯), নাসা-ঈ। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
২৪
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭১
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْثٍ فَقَالَ ‏"‏ إِنْ وَجَدْتُمْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا لِرَجُلَيْنِ مِنْ قُرَيْشٍ فَأَحْرِقُوهُمَا بِالنَّارِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَرَدْنَا الْخُرُوجَ ‏"‏ إِنِّي كُنْتُ أَمَرْتُكُمْ أَنْ تَحْرِقُوا فُلاَنًا وَفُلاَنًا بِالنَّارِ وَإِنَّ النَّارَ لاَ يُعَذِّبُ بِهَا إِلاَّ اللَّهُ فَإِنْ وَجَدْتُمُوهُمَا فَاقْتُلُوهُمَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَحَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ ‏.‏ وَقَدْ ذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بَيْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ وَبَيْنَ أَبِي هُرَيْرَةَ رَجُلاً فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَرَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِثْلَ رِوَايَةِ اللَّيْثِ وَحَدِيثُ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ أَشْبَهُ وَأَصَحُّ ‏.‏ قَالَ الْبُخَارِيُّ وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ قَدْ سَمِعَ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ وَحَدِيثُ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو فِي هَذَا الْبَابِ صَحِيحٌ ‏.‏
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি যুদ্ধে প্রেরণ করেন। তিনি বলে দেন, তোমরা কুরাইশ বংশের অমুক অমুক লোকের নাগাল পেলে তাদের দু’জনকেই আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। যখন আমরা যাত্রা শুরু করলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেনঃ আমি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম, অমুক অমুক লোককে তোমরা আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকারী আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কেউ নয়। অতএব তোমরা অমুক ও অমুকের নাগাল পেলে তবে তাদের দু’জনকেই মেরে ফেলবে। সহীহ, বুখারী ইবনু আব্বাস ও হামযা ইবনু আমর আল-আসলামী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। এই হাদীসের সনদে সুলাইমান ইবনু ইয়াসার ও আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর মাঝখানে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক আরও একজন বর্ণনাকারীর উল্লেখ করেছেন। এই হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী লাইসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। লাইস ইবনু সাদের হাদীস অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সহীহ।
২৫
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭২
থাওবান (RA)
حَدَّثَنِي أَبُو رَجَاءٍ، قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ‏
"‏ مَنْ مَاتَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلاَثٍ الْكِبْرِ وَالْغُلُولِ وَالدَّيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ ‏.‏
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক তিনটি বিষয়ে অর্থাৎ অহংকার, গানীমাতের সম্পদ আত্মসাৎ ও ঋণ হতে মুক্ত অবস্থায় মারা গেল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৪১২) আবূ হুরাইরা ও যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
২৬
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭৩
থাওবান (RA)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ فَارَقَ الرُّوحُ الْجَسَدَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلاَثٍ الْكَنْزِ وَالْغُلُولِ وَالدَّيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏ هَكَذَا قَالَ سَعِيدٌ الْكَنْزَ وَقَالَ أَبُو عَوَانَةَ فِي حَدِيثِهِ الْكِبْرَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ مَعْدَانَ وَرِوَايَةُ سَعِيدٍ أَصَحُّ ‏.‏
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি তিনটি বিষয় হতে মুক্ত থাকা অবস্থায় তার রূহ তার দেহ হতে আলাদা হলে সে জান্নাতে যাবেঃ সম্পদ পুঞ্জীভূত করা, গানীমাতের মাল আত্মসাৎ করা ও ঋণ। হাদীসে বর্ণিত শব্দ শাজ, সহীহা (২৭৮৫) সাঈদ তার বর্ণনায় আল-কানয এবং আবূ আওয়ানা তার বর্ণনায় আল-কিবর (অহংকার) শব্দের উল্লেখ করেছেন। আবূ আওয়ানার বর্ণনায় "মাদান" রাবীর উল্লেখ করেননি। সাঈদের বর্ণনাটি অনেক বেশী সহীহ।
২৭
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭৪
সিমাক আবু রুমাইল আল-হানাফী (রহঃ)
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ أَبُو زُمَيْلٍ الْحَنَفِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فُلاَنًا قَدِ اسْتُشْهِدَ ‏.‏ قَالَ ‏
"‏ كَلاَّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ بِعَبَاءَةٍ قَدْ غَلَّهَا قَالَ قُمْ يَا عَلِيُّ فَنَادِ إِنَّهُ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلاَّ الْمُؤْمِنُونَ ثَلاَثًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ ‏.‏
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক লোক শহীদ হয়েছে। তিনি বললেনঃ কোন অবস্থাতেই নয়, গানীমাতের একটি আলখাল্লা (লম্বা ঢিলা জামা) আত্মসাৎ করায় আমি তাকে জাহান্নামে দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেনঃ হে উমার! উঠ এবং তিনবার ঘোষণা দাও- ঈমানদার লোক ব্যতীত অন্য কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। সহীহ, মুসলিম এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ গারীব বলেছেন।
২৮
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِأُمِّ سُلَيْمٍ وَنِسْوَةٍ مَعَهَا مِنَ الأَنْصَارِ يَسْقِينَ الْمَاءَ وَيُدَاوِينَ الْجَرْحَى ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সুলাইম (রাঃ) ও তার সাথের আনসার মহিলাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তারা পানি পান করাতেন এবং আহতদের জখমে ঔষধ লাগিয়ে দিতেন। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২২৮৪), মুসলিম আবূ ঈসা বলেছেন, রুবাই বিনতি মুআওয়্যিয (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আর এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
২৯
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭৬
আলী ইবনু আবি তালিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ كِسْرَى أَهْدَى إِلَيْهِ فَقَبِلَ مِنْهُ وَأَنَّ الْمُلُوكَ أَهْدَوْا إِلَيْهِ فَقَبِلَ مِنْهُمْ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَثُوَيْرٌ هُوَ ابْنُ أَبِي فَاخِتَةَ وَأَبُو فَاخِتَةَ اسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ عِلاَقَةَ وَثُوَيْرٌ يُكْنَى أَبَا جَهْمٍ ‏.‏
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য কিসরা (পারস্য সম্রাট) উপহার পাঠালে তিনি তা নেন। বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাগণ তার জন্য উপহার পাঠালে তিনি তা গ্রহণ করেছেন। খুবই দুর্বল, তা’লীক আলার রাওযাতুন নাদীয়্যাহ (২/১৬৩) এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। সুওয়াইর ইবনু আবূ ফাখিতার নাম সাঈদ, পিতার নাম ইলাকা। সুওয়াইর-এর উপনাম আবূ জাহম।
৩০
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭৭
ইয়াদ বিন হিমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ عِمْرَانَ الْقَطَّانِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، هُوَ ابْنُ الشِّخِّيرِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ، أَنَّهُ أَهْدَى لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَدِيَّةً لَهُ أَوْ نَاقَةً فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَسْلَمْتَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِنِّي نُهِيتُ عَنْ زَبْدِ الْمُشْرِكِينَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَمَعْنَى قَوْلِهِ ‏"‏ إِنِّي نُهِيتُ عَنْ زَبْدِ الْمُشْرِكِينَ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي هَدَايَاهُمْ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقْبَلُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ هَدَايَاهُمْ وَذُكِرَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ الْكَرَاهِيَةُ وَاحْتُمِلَ أَنْ يَكُونَ هَذَا بَعْدَ مَا كَانَ يَقْبَلُ مِنْهُمْ ثُمَّ نَهَى عَنْ هَدَايَاهُمْ ‏.‏
ইয়ায ইবনু হিমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি তার একটি উষ্ট্রী বা অন্য কিছু উপহার হিসাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে উপস্থাপন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি ইসলাম ধর্ম কুবুল করেছ? তিনি বলেন, না (পরে তিনি ইসলাম ধর্ম কুবুল করেন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুশরিকদের উপহার নিতে আমাকে বারণ করা হয়েছে। হাসান সহীহ, প্রাগুক্ত (২/১৬৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। ‘যাবদুল মুশরিকীন’ অর্থ ‘মুশরিকদের দেওয়া উপহার। অবশ্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এও বর্ণিত আছে যে, মুশরিকদের উপহার তিনি নিতেন। এ হাদীসে মাকরূহ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটাও হতে পারে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগে উপহার নিতেন। তারপর তা নিতে তাকে বারণ করে দেওয়া হয়েছে।
৩১
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭৮
আবু বাকরাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا بَكَّارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَاهُ أَمْرٌ فَسُرَّ بِهِ فَخَرَّ لِلَّهِ سَاجِدًا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ بَكَّارِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ رَأَوْا سَجْدَةَ الشُّكْرِ ‏.‏ وَبَكَّارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ ‏.‏
আবূ বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এমন একটি সুখবর আসে যে, তিনি তাতে খুবই আনন্দিত হন এবং সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। হাসান, ইবনু মা-জাহ (১৩৯৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। আমরা শুধুমাত্র উল্লেখিত সনদ সূত্রেই বাক্কার ইবনু আবদুল আযীযের বর্ণিত হাদীসে তা জেনেছি। এ হাদীস মোতাবিক বেশির ভাগ আলিম আমল করেছেন। কৃতজ্ঞতার সিজদা বৈধ হওয়ার পক্ষে তারা অভিমত দিয়েছেন। বাক্কার ইবনু আব্দুল আজীজ ইবনু আবী বাকরাহ হাদীসের (বর্ণনার) উপযোগী।
৩২
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৭৯
উম্ম হানি' হু (রাঃ) থেকে আরেকটি সনদ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ، مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، أَنَّهَا قَالَتْ أَجَرْتُ رَجُلَيْنِ مِنْ أَحْمَائِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قَدْ أَمَّنَّا مَنْ أَمَّنْتِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَجَازُوا أَمَانَ الْمَرْأَةِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ أَجَازَا أَمَانَ الْمَرْأَةِ وَالْعَبْدِ ‏.‏ وَأَبُو مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَيُقَالُ لَهُ أَيْضًا مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ وَاسْمُهُ يَزِيدُ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ أَجَازَ أَمَانَ الْعَبْدِ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ ذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَمَعْنَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ مَنْ أَعْطَى الأَمَانَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَهُوَ جِائِزٌ عَلَى كُلِّهِمْ ‏.‏
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহিলারাও তাদের সম্প্রদায়ের পক্ষে (কাউকে) আশ্রয় দিতে পারে। হাসান, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৭৮) উম্মু হানী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। ইমাম বুখারীর নিকট আমি প্রশ্ন করলে তিনি এটিকে সহীহ হাদীস বলেন। কাছীর ইবনু যাইদ আল-ওয়ালীদ ইবনু রাবাহ-এর নিকট হাদীস শুনেছেন। আর আল-ওয়ালীদ ইবনু রাবাহ আবূ হুরাইরার নিকট হাদীস শুনেছেন। তিনি হাদীস বর্ণনা করার উপযোগী। আবূ তালিবের কন্যা উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার শ্বশুর পক্ষের আত্মীয়দের মধ্যে দুইজন লোককে আমি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোককে তুমি নিরাপত্তা প্রদান করেছ আমরাও তাকে নিরাপত্তা দিলাম। সহীহ সহীহ আবূ দাউদ (২৪৬৮),সহীহ (২০৪৯), নাসা-ঈ সংক্ষিপ্তভাবে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক অভিজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। নারীরাও কোন লোককে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে তারা মনে করেন। এই মত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ ও ইসহাকও। নারী ও গোলামদের দ্বারা কোন লোকের নিরাপত্তা দানকে তারা দু’জনেই বৈধ বলেছেন। অন্যান্য সূত্রেও উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আবূ মুররা (রহঃ) আকীল ইবনু আবূ তালিবের মুক্ত দাস, তাকে উম্মু হানী (রাঃ)-এর মুক্তদাসও বলা হয়। তার নাম ইয়াযীদ। উমর (রাঃ)-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, গোলাম কর্তৃক নিরাপত্তা দান করাকে তিনি অনুমোদন করেছেন। আলী ইবনু আবূ তালিব ও আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুসলিমদের যিম্মা এক সমান, তাদের সাধারণ লোকও (কাউকে) নিজ দায়িত্বে নিরাপত্তা দেওয়ার অধিকারী”। আবূ ঈসা বলেনঃ অভিজ্ঞ আলিমগণের মতে এ হাদীসের অর্থ হচ্ছে কোন মুসলিম লোক যদি (শক্র পক্ষের) কোন লোককে মুসলিমদের পক্ষে নিরাপত্তার ওয়াদা দেয় তবে তা সমগ্র মুসলিম সমাজের পক্ষে গণ্য হবে।
৩৩
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮০
আবু আল-ফাইদ (রাঃ)
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الْفَيْضِ، قَالَ سَمِعْتُ سُلَيْمَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ كَانَ بَيْنَ مُعَاوِيَةَ وَبَيْنَ أَهْلِ الرُّومِ عَهْدٌ وَكَانَ يَسِيرُ فِي بِلاَدِهِمْ حَتَّى إِذَا انْقَضَى الْعَهْدُ أَغَارَ عَلَيْهِمْ فَإِذَا رَجُلٌ عَلَى دَابَّةٍ أَوْ عَلَى فَرَسٍ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَفَاءٌ لاَ غَدْرٌ ‏.‏ وَإِذَا هُوَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ فَسَأَلَهُ مُعَاوِيَةُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ مَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَوْمٍ عَهْدٌ فَلاَ يَحُلَّنَّ عَهْدًا وَلاَ يَشُدَّنَّهُ حَتَّى يَمْضِيَ أَمَدُهُ أَوْ يَنْبِذَ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَرَجَعَ مُعَاوِيَةُ بِالنَّاسِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
সুলাইম ইবনু আমির (রহঃ) বলেন, একটি সন্ধিচুক্তি মুআবিয়া (রাঃ) ও রূমবাসীদের মধ্যে কার্যকর ছিল। তিনি (মুআবিয়া) তাদের জনপদে (সৈন্যসহ) চলাফেরা করতেন। এমতাবস্থায় চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে অতর্কিতে তাদেরকে আক্রমণ করেন। এমন সময় শোনা গেল, পশুর পিঠে অথবা ঘোড়ায় সাওয়ার হয়ে একজন লোক বলছে, আল্লাহু আকবার। চুক্তির সময় পূর্ণ কর, বিশ্বাসঘাতকতা কর না। আমর ইবনু আবাসা (রাঃ) ছিলেন এই আরোহী ব্যক্তি। এ বিষয়ে মুআবিয়া (রাঃ) তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ কোন জাতির সাথে যে লোকের চুক্তি আছে সে যেন এই চুক্তি ভঙ্গ না করে এবং তার বিপরীত কিছু না করে। চুক্তির সময় শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত অথবা প্রতিপক্ষকে পরিষ্কারভাবে জানানোর আগ পর্যন্ত এটা ভঙ্গ করা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর মুআবিয়া (রাঃ) নিজের লোকদের নিয়ে ফিরে আসেন। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪৬৪) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
৩৪
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮১
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنِي صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏"‏ إِنَّ الْغَادِرَ يُنْصَبُ لَهُ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَنَسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ حَدِيثِ سُوَيْدٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لاَ أَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ مَرْفُوعًا ‏.‏
ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্যে কিয়ামত দিবসে একটি করে পতাকা স্থাপন করা হবে। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (২৪৬১) আলী, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, আবূ সাঈদ আল-খুদরী ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। তিনি আরও বলেনঃ “প্রত্যেক বিশ্বাস ঘাতকের জন্য পতাকা থাকবে” আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত এই হাদীস সম্পর্কে আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীসটি মারফু’ হিসাবে আমার জানা নেই।
৩৫
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮২
জাবির (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ رُمِيَ يَوْمَ الأَحْزَابِ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَطَعُوا أَكْحَلَهُ أَوْ أَبْجَلَهُ فَحَسَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّارِ فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَتَرَكَهُ فَنَزَفَهُ الدَّمُ فَحَسَمَهُ أُخْرَى فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ قَالَ اللَّهُمَّ لاَ تُخْرِجْ نَفْسِي حَتَّى تُقِرَّ عَيْنِي مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ ‏.‏ فَاسْتَمْسَكَ عِرْقُهُ فَمَا قَطَرَ قَطْرَةً حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَحَكَمَ أَنْ يُقْتَلَ رِجَالُهُمْ وَيُسْتَحْيَى نِسَاؤُهُمْ يَسْتَعِينُ بِهِنَّ الْمُسْلِمُونَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ أَصَبْتَ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ ‏"‏ ‏.‏ وَكَانُوا أَرْبَعَمِائَةٍ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ قَتْلِهِمُ انْفَتَقَ عِرْقُهُ فَمَاتَ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَعَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সা’দ ইবনু মুআয (রাঃ) আহযাব যুদ্ধের দিন তীরবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এতে তার বাহুর মাঝখানের রগ কেটে যায়। তার ক্ষতস্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগুনের সেক দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করেন। তারপর তার হাত ফুলে যায়। আগুনের সেঁক দেওয়া বন্ধ করলে আবার রক্তক্ষরণ হতে থাকে। আবার তিনি তার ক্ষতস্থানে আগুনের সেঁক দেন। তার হাত পুনরায় ফুলে উঠে। তিনি (সাদ) নিজের এ অবস্থা দেখে বলেন, ‘হে আল্লাহ। আমার জীবনকে কেড়ে নিও না বানু কুরাইযার চরম পরিণতি দেখে আমার চোখ না জুড়ানো পর্যন্ত।” তার জখম হতে সাথে সাথে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে গেল। এরপর আর একটি ফোটাও বের হয়নি। সা'দ ইবনু মুআয (রাঃ)-কে তারা (বানু কুরাইযা) সালিশ মানতে রাজী হয়। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার (সাদের) নিকট লোক পাঠালেন (সমাধানের জন্য)। তিনি সমাধান দিলেন যে, বানু কুরাইযা গোত্রের পুরুষদেরকে মেরে ফেলা হবে এবং মহিলাদেরকে বাচিয়ে রাখা হবে। মুসলিমগণ তাদের দ্বারা বিভিন্ন রকম কাজ আদায় করতে পারবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাদের ব্যাপারে তোমার মত সম্পূর্ণ আল্লাহ্ তা'আলার মতের অনুরূপ হয়েছে। তারা (পুরুষগণ) সংখ্যায় ছিল চার শত। লোকেরা তাদেরকে মেরে ফেলা সমাপ্ত করলে, তার ক্ষতস্থান হতে আবার রক্ত পড়া আরম্ভ হল এবং তিনি মৃত্যু বরণ করলেন। সহীহ, ইরওয়া (৫/৩৮-৩৯) আবূ সাঈদ ও আতিয়া আল-কুরায়ী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
৩৬
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮৩
সামুরাহ বিন জুনদাব (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ اقْتُلُوا شُيُوخَ الْمُشْرِكِينَ وَاسْتَحْيُوا شَرْخَهُمْ ‏"‏ ‏.‏ وَالشَّرْخُ الْغِلْمَانُ الَّذِينَ لَمْ يُنْبِتُوا ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَرَوَاهُ الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنْ قَتَادَةَ نَحْوَهُ ‏.‏
সামুরা ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “বয়স্ক মুশরিকদের হত্যা কর এবং তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকদের জীবিত রাখ।" যঈফ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৫২) যঈফ আবূ দাউদ (২৫৯) শারখঃ যার এখনও লজ্জাস্থানের লোম গজায়নি সে বালক। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। হাজ্জাজ ইবনু আরতাতও কাতাদার সূত্রে এ হাদীস এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
৩৭
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮৪
আতিয়াহ আল-কুরাজি (রাঃ)
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ، قَالَ عُرِضْنَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ قُرَيْظَةَ فَكَانَ مَنْ أَنْبَتَ قُتِلَ وَمَنْ لَمْ يُنْبِتْ خُلِّيَ سَبِيلُهُ فَكُنْتُ مِمَّنْ لَمْ يُنْبِتْ فَخُلِّيَ سَبِيلِي ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُمْ يَرَوْنَ الإِنْبَاتَ بُلُوغًا إِنْ لَمْ يُعْرَفِ احْتِلاَمُهُ وَلاَ سِنُّهُ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏
আতিয়া আল-কুরায়ী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমাদেরকে বানূ কুরাইযার যুদ্ধের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আনা হল। যাদের লজ্জাস্থানের লোম উঠেছে (বালেগদের) তাদেরকে হত্যা করা হল, আর যাদের তা উঠেনি (নাবালেগদের) তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়া হল। আমার লজ্জাস্থানে তখনও লোম উঠেনি। একারণে আমাকে মুক্ত করে দেওয়া হল। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৫৪১) এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক একদল অভিজ্ঞ আলিম আমল করেছেন। তাদের মতে, যে লোকের বয়স এবং বীর্যপাতের ব্যাপারে সঠিকভাবে অনুমান করা না যাবে- তার নাভির নীচের লোম উঠাই বয়ঃপ্রাপ্তির লক্ষণ বলে গণ্য হবে। এই অভিমত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ এবং ইসহাকও।
৩৮
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮৫
আমর ইবনু শুআইব
حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي خُطْبَتِهِ ‏
"‏ أَوْفُوا بِحِلْفِ الْجَاهِلِيَّةِ فَإِنَّهُ لاَ يَزِيدُهُ يَعْنِي الإِسْلاَمَ إِلاَّ شِدَّةً وَلاَ تُحْدِثُوا حِلْفًا فِي الإِسْلاَمِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَجُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَقَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক খুতবায় বলেনঃ জাহিলী আমলের চুক্তিসমূহকে তোমরা পূর্ণ কর। কেননা ইসলাম এটাকে আরো মজবুত করবে। তোমরা আর নতুন করে ইসলামে একইরকম চুক্তি করবে না। হাসান, মিশকাত তাহকীক ছানী (৩৯৮৩) আবদুর রাহমান ইবনু আওফ, উম্মু সালামা, জুবাইর ইবনু মুতঈম, আবূ হুরাইরা, ইবনু আব্বাস ও কাইস ইবনু আসিম (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
৩৯
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮৬
বাজালাহ বিন আবদাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ بَجَالَةَ بْنِ عَبْدَةَ، قَالَ كُنْتُ كَاتِبًا لِجَزْءِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَلَى مَنَاذِرَ فَجَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ انْظُرْ مَجُوسَ مَنْ قِبَلَكَ فَخُذْ مِنْهُمُ الْجِزْيَةَ فَإِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ أَخْبَرَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏
বাজালা ইবনু আবদা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মানাযির নামক অঞ্চলে আমি জায ইবনু মুআবিয়ার সচিব ছিলাম। আমাদের নিকট উমার (রাঃ)-এর চিঠি আসল। তিনি লিখেছেন, তোমাদের এ অঞ্চলের অগ্নিপূজকদের দেখ এবং তাদের নিকট হতে কর সংগ্রহ কর। আমাকে আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) জানিয়েছেন যে, হাজার এলাকার অগ্নিপূজকদের নিকট হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর আদায় করেছেন। সহীহ, ইরওয়া (১২৪৯), বুখারী এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন।
৪০
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮৭
বাজালাহ (রা)
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ بَجَالَةَ، أَنَّ عُمَرَ، كَانَ لاَ يَأْخُذُ الْجِزْيَةَ مِنَ الْمَجُوسِ حَتَّى أَخْبَرَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ ‏.‏ وَفِي الْحَدِيثِ كَلاَمٌ أَكْثَرُ مِنْ هَذَا ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
বাজালা (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, অগ্নিপূজকদের হতে উমার (রাঃ) কর সংগ্রহ করতেন না যে পর্যন্ত না তাকে আবদুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ) জানান যে, হাজার এলাকার অগ্নিপূজকদের নিকট হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর সংগ্রহ করেছেন। সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস এ হাদীসে আরো অনেক কথা আছে। এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
৪১
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮৮
মালিক (রাঃ)
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي كَبْشَةَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجِزْيَةَ مِنْ مَجُوسِ الْبَحْرَيْنِ وَأَخَذَهَا عُمَرُ مِنْ فَارِسَ وَأَخَذَهَا عُثْمَانُ مِنَ الْفُرْسِ ‏.‏ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا فَقَالَ هُوَ مَالِكٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
সাইব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনের মাজুসীদের নিকট হতে জিযইয়া গ্রহণ করেন। উমার (রাঃ) পারস্যের মাজুসীদের নিকট হতে এবং উসমান (রাঃ) ফুরস-এর মাজুসীদের নিকট হতে তা আদায় করেন। ইমাম তিরমিয়ী বলেনঃ আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তিনি বলেনঃ মালিক জুহরীর সুত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। অতএব হাদীসটি মুরসাল, ইরওয়া
৪২
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৮৯
উকবাহ বিন আমির (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَمُرُّ بِقَوْمٍ فَلاَ هُمْ يُضَيِّفُونَا وَلاَ هُمْ يُؤَدُّونَ مَا لَنَا عَلَيْهِمْ مِنَ الْحَقِّ وَلاَ نَحْنُ نَأْخُذُ مِنْهُمْ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنْ أَبَوْا إِلاَّ أَنْ تَأْخُذُوا كَرْهًا فَخُذُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ أَيْضًا ‏.‏ وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُمْ كَانُوا يَخْرُجُونَ فِي الْغَزْوِ فَيَمُرُّونَ بِقَوْمٍ وَلاَ يَجِدُونَ مِنَ الطَّعَامِ مَا يَشْتَرُونَ بِالثَّمَنِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنْ أَبَوْا أَنْ يَبِيعُوا إِلاَّ أَنْ تَأْخُذُوا كَرْهًا فَخُذُوا ‏"‏ ‏.‏ هَكَذَا رُوِيَ فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ مُفَسَّرًا وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضى الله عنه أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏
উকবা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন একটি সম্প্রদায়ের এলাকা দিয়ে আমরা চলাচল করি যারা আমাদের মেহমানদারীও করে না এবং তাদের উপর আমাদের প্রাপ্য অধিকারও আদায় করে না। আমরাও তাদের নিকট হতে জোরপূর্বক আমাদের প্রাপ্য অধিকার আদায় করি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা তোমাদের বল প্রয়োগ ব্যতীত মেহমানদারী করতে না চাইলে তোমরা জোরপূর্বকই তা আদায় কর। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৬৭৬), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান বলেছেন। এটিকে ইয়াযীদ ইবনু হাবীবের সূত্রেও লাইস ইবনু সা’দ বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসের তাৎপর্য হল, মুসলিম যোদ্ধারা অভিযানে গমন করত। তখন এমন সব যিমীদের লোকালয় পেরিয়ে যেতে হত যেখানে ইচ্ছা করলেও খাবার-দাবার কিনতে পাওয়া যেত না। এরূপ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ ছিলঃ তারা খাবার বিক্রয় করতে অস্বীকার করলে এবং জোরখাটিয়ে আদায় করা ছাড়া আর কোন উপায় না থাকলে তবে তাদের নিকট হতে শক্তি খাটিয়েই তা কিনে নাও। কয়েকটি হাদীসে এরূপ ব্যাখ্যার উল্লেখ আছে। এরকম পরিস্থিতিতে উমার (রাঃ)-ও এরূপ নির্দেশই দিতেন।
৪৩
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৯০
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ ‏
"‏ لاَ هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ نَحْوَ هَذَا ‏.‏
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এই বিজয়ের পর আর হিজরাত নেই। হ্যাঁ জিহাদ ও (তার) সংকল্প বজায় থাকবে। অতএব যখন জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য তোমাদেরকে ডাকা হবে তখন তোমরা তার জন্যে বেরিয়ে পড়। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৭৭৩), নাসা-ঈ আবূ সাঈদ, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আবদুল্লাহ ইবনু হুবশী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসটি সুফিয়ান সাওরীও মানসূরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৪৪
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৯১
ইয়াহইয়া বিন আবি কাথির (রাঃ)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى‏:‏ ‏(‏لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ ‏)‏ قَالَ جَابِرٌ بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَنْ لاَ نَفِرَّ وَلَمْ نُبَايِعْهُ عَلَى الْمَوْتِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ وَابْنِ عُمَرَ وَعُبَادَةَ وَجَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ قَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَلَمْ يُذْكَرْ فِيهِ أَبُو سَلَمَةَ ‏.‏
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে আল্লাহ তা'আলার এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণিত আছেঃ “আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই মু'মিন লোকদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন গাছের নীচে তোমার নিকট তারা শপথ করছিল। তাদের অন্তরের অবস্থা তার জানা ছিল। এজন্যই তাদের উপর তিনি প্রশান্তি অবতীর্ণ করেন এবং তাদেরকে নিকটবর্তী বিজয় দান করেন” (সূরাঃ ফাত্হ- ১৮)। জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমরা শপথ করলাম (প্রতিজ্ঞা করলাম) যে, আমরা যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালাবো না। কিন্তু আমরা তার নিকট মৃত্যুর বাই’আত করিনি। - সহীহ, মুসলিম আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত সালামা ইবনুল আকওয়া, ইবনু উমার, উবাদা ও জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত আছে। কিন্তু আবূ সালামার নাম তাতে উল্লেখ নেই।
৪৫
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৯২
ইয়াজিদ বিন আবি 'উবাইদ (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ لِسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ عَلَى أَىِّ شَيْءٍ بَايَعْتُمْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ قَالَ عَلَى الْمَوْتِ ‏.‏ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
ইয়াযীদ ইবনু আবূ উবাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ)-কে আমি প্রশ্ন করলামঃ হুদাইবিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আপনারা কি বিষয়ে শপথ করেছিলেন তিনি বললেন, মৃত্যুর শপথ করেছিলাম (যে পর্যন্ত জীবন থাকবে যুদ্ধ করতে থাকব, পালিয়ে যাবো না )। সহীহ, নাসা-ঈ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
৪৬
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৯৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا نُبَايِعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فَيَقُولُ لَنَا ‏
"‏ فِيمَا اسْتَطَعْتُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ كِلاَهُمَا ‏.‏
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট (নির্দেশ) শুনার ও সে মোতাবিক আনুগত্যের শপথ নিতাম। তিনি আমাদের বলতেনঃ তোমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব। সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ, নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। উভয় হাদীসের অর্থই সঠিক। কেননা তার নিকট প্রয়োজনবোধে মৃত্যুবরণের জন্য তার একদল সাহাবী শপথ (বাই’আত) করেছেন। তারা বলেছেন, “আমরা মৃত্যুবরণ করার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত আপনার আগে আগে প্রতিরক্ষা রচনা করে চলব’৷ সাহাবীদের অন্য দল তার নিকট প্রাণভয়ে যুদ্ধক্ষেত্র হতে না পালানোর শপথ করেছেন।
৪৭
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৯৪
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمْ نُبَايِعْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمَوْتِ إِنَّمَا بَايَعْنَاهُ عَلَى أَنْ لاَ نَفِرَّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَمَعْنَى كِلاَ الْحَدِيثَيْنِ صَحِيحٌ قَدْ بَايَعَهُ قَوْمٌ مِنْ أَصْحَابِهِ عَلَى الْمَوْتِ وَإِنَّمَا قَالُوا لاَ نَزَالُ بَيْنَ يَدَيْكَ حَتَّى نُقْتَلَ وَبَايَعَهُ آخَرُونَ فَقَالُوا لاَ نَفِرُّ ‏.‏
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমরা কোন সময়ই মৃত্যুর শপথ করিনি, বরং আমরা তার নিকট যুদ্ধক্ষেত্র হতে পালিয়ে না যাওয়ার শপথ করেছি। সহীহ, মুসলিম ১৫৯১ নং হাদীসটি উল্লেখ হয়েছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
৪৮
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৯৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ رَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا فَإِنْ أَعْطَاهُ وَفَى لَهُ وَإِنْ لَمْ يُعْطِهِ لَمْ يَفِ لَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَعَلَى ذَلِكَ الْأَمْرُ بِلَا اخْتِلَافٍ.‏
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন প্রকার লোকের সাথে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে খুবই বেদনাদায়ক শাস্তি। এদের মধ্যকার একজন হলঃ ইমামের নিকট যে লোক আনুগত্যের শপথ করেছে। ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) তাকে কোন সুযোগ-সুবিধা দিলে তবে সে শপথ ঠিক রাখে। তিনি তাকে কোন সুযোগ-সুবিধা না দিলে তবে সে শপথ পূর্ণ করে না। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২২০৭), নাসা-ঈ এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীসের বক্তব্য সম্পর্কে কোন মতবিরোধ নেই।
৪৯
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৯৬
জাবির (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَ عَبْدٌ فَبَايَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْهِجْرَةِ وَلاَ يَشْعُرُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ عَبْدٌ فَجَاءَ سَيِّدُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ بِعْنِيهِ ‏"‏ ‏.‏ فَاشْتَرَاهُ بِعَبْدَيْنِ أَسْوَدَيْنِ وَلَمْ يُبَايِعْ أَحَدًا بَعْدُ حَتَّى يَسْأَلَهُ أَعَبْدٌ هُوَ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الزُّبَيْرِ ‏.‏
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন গোলাম এসে হিজরাতের শপথ নিল। সে যে গোলাম তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন না। তার মনিব এসে উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ আমার নিকট একে বিক্রয় করে দাও। তিনি দু'টি কালো গোলামের বিনিময়ে তাকে কিনলেন। এরপর হতে তিনি কোন লোককে শপথ করাতেন না সে গোলাম কি-না তা প্রশ্ন না করা পর্যন্ত। সহীহ, মুসলিম ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীসটি শুধুমাত্র আবূয যুবাইরের সূত্রে জেনেছি।
৫০
জামি আত-তিরমিযী # ২১/১৫৯৭
ইবন আল-মুনকাদির (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، سَمِعَ أُمَيْمَةَ بِنْتَ رُقَيْقَةَ، تَقُولُ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نِسْوَةٍ فَقَالَ لَنَا ‏"‏ فِيمَا اسْتَطَعْتُنَّ وَأَطَقْتُنَّ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَرْحَمُ بِنَا مِنَّا بِأَنْفُسِنَا ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايِعْنَا ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ تَعْنِي صَافِحْنَا ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّمَا قَوْلِي لِمِائَةِ امْرَأَةٍ كَقَوْلِي لاِمْرَأَةٍ وَاحِدَةٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ ‏.‏ وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ لاَ أَعْرِفُ لأُمَيْمَةَ بِنْتِ رُقَيْقَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ ‏.‏ وَأُمَيْمَةُ امْرَأَةٌ أُخْرَى لَهَا حَدِيثٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রুকাইকার মেয়ে উমাইমা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কয়েকজন মহিলার সাথে শপথ গ্রহণ করি। তিনি আমাদেরকে বললেনঃ তোমাদের যোগ্যতা ও শক্তি মোতাবিক (দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদন করবে)। আমি বললাম, আমাদের নিজেদের চাইতে আল্লাহ ও তার রাসূল আমাদের উপর অনেক বেশি অনুগ্রহশীল। আমি আরো বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদেরকে শপথ করান। সুফিয়ান বলেন, তার কথার অর্থ ছিল, আমাদের হাত স্পর্শ করুন (যেভাবে পুরুষদের হাত স্পর্শ করে শপথ করা হয়)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার বক্তব্য একজন মহিলার প্রতি যেমন এক শতজন মহিলার উপরেও ঠিক তেমনই। সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৮৭৪) আইশা, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ও আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আমরা এ হাদীস প্রসঙ্গে শুধুমাত্র মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের সূত্রেই জেনেছি। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ও অন্যান্যরা মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদিরের সূত্রে এ হাদীসের মতই বর্ণনা করেছেন। আমি এ হাদীস বিষয়ে মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, উমাইমা বিনতু রুকাইকা (রাঃ) হতে বর্ণিত এটি ব্যতীত আর কোন হাদীস আছে কি-না তা আমার জানা নেই। উমাইমা (রাঃ) নামক আরো একজন মহিলা আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন।