সালাত
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৪৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَرَادَ أَنْ يَتَّخِذَ خَشَبَتَيْنِ يُضْرَبُ بِهِمَا لِيَجْتَمِعَ النَّاسُ لِلصَّلاَةِ فَأُرِيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الأَنْصَارِيُّ ثُمَّ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ خَشَبَتَيْنِ فِي النَّوْمِ فَقَالَ إِنَّ هَاتَيْنِ لَنَحْوٌ مِمَّا يُرِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقِيلَ أَلاَ تُؤَذِّنُونَ لِلصَّلاَةِ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالأَذَانِ .
রেওয়ায়ত ১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি কাঠ তৈয়ার করাইবার মনস্থ করিয়াছিলেন, যেন একটির দ্বারা অপরটির উপর আঘাত করিয়া ধ্বনি সৃষ্টি করিয়া মানুষকে নামাযের জামাতের উদ্দেশ্যে একত্র করা যায়। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবন যায়দ আনসারী এবং বনি হারিস ইবন খাযরাযী (রাঃ) স্বপ্নে দুইটি কাঠ দেখিতে পাইয়া বলিলেনঃ এই দুইটি অনুরূপ কাঠই যেরূপ কাঠ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৈয়ার করাইতে চাহিয়াছেন। তারপর তাহাকে বলা হইলঃ তোমরা নামাযের জন্য আযান দাও না কেন? ঘুম হইতে জাগার পর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে উপস্থিত হইয়া তাহার স্বপ্নের কথা আরয করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযানের জন্য হুকুম দিলেন।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৪৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ " .
রেওয়ায়ত ২. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন তোমরা আযান শোন তখন মুয়াযযিনের অনুরূপ তোমরাও বল।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৪৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لاَسْتَبَقُوا إِلَيْهِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا " .
রেওয়ায়ত ৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মানুষ যদি জানিত আযান ও প্রথম কাতারে কী (বরকত ও মঙ্গল) রহিয়াছে, তবে উহা পাইবার জন্য লটারী ছাড়া উপায় না থাকিলে তাহারা উহার জন্য লটারী করিত। আর যদি তাহারা জানিত দ্ধিপ্রহরের নামাযে (যোহর ও জুম'আয়) প্রথম সময়ে গমনে কী রহিয়াছে তবে তাহার দিকে দ্রুতগতিতে ধাবিত হইত। আর তাহারা যদি জানিত ইশা ও ফজরের নামাযে কী রহিয়াছে তাহা হইলে উভয় নামাযের জন্য অবশ্যই আসিত, এমনকি হামাগুড়ি দিয়াও।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৪৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، عَنْ أَبِيهِ، وَإِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّهُمَا، سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ فَلاَ تَأْتُوهَا وَأَنْتُمْ تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا فَإِنَّ أَحَدَكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَ يَعْمِدُ إِلَى الصَّلاَةِ " .
রেওয়ায়ত ৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন নামাযের ইকামত বলা হয় তখন তাড়াহুড়া না কুরিয়া ধীরে সুস্থে আসিবে। অতঃপর জামাতের সঙ্গে যতখানি পাইবে উহা পড়িয়া অবশিষ্ট নামায নিজে নিজে পূরণ করবে। কেননা তোমাদের কেউ নামাযের উদ্দেশ্যে বাহির হইলে তাহাকে নামাযে গণ্য করা হয়।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ الأَنْصَارِيِّ، ثُمَّ الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ لَهُ " إِنِّي أَرَاكَ تُحِبُّ الْغَنَمَ وَالْبَادِيَةَ فَإِذَا كُنْتَ فِي غَنَمِكَ أَوْ بَادِيَتِكَ فَأَذَّنْتَ بِالصَّلاَةِ فَارْفَعْ صَوْتَكَ بِالنِّدَاءِ فَإِنَّهُ لاَ يَسْمَعُ مَدَى صَوْتِ الْمُؤَذِّنِ جِنٌّ وَلاَ إِنْسٌ وَلاَ شَىْءٌ إِلاَّ شَهِدَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
রেওয়ায়ত ৫. আবদুর রহমান ইবন আবি সাসা'আ' আনসারী মাযনী (রহঃ) কর্তৃক তাহার পিতা হইতে বর্ণিত, আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাহাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছেনঃ আমি দেখিতেছি তুমি মাঠ ও বকরীকে ভালবাস। তুমি যখন তোমার বকরীর সঙ্গে থাক অথবা মাঠে থাক এবং নামাযের জন্য আযান দাও তবে তারস্বরে আযান দিও। কারণ আযানের স্বর মানুষ, জিন এবং অন্য যে কেউ শুনিতে পায়, সে মুয়াযযিনের জন্য কিয়ামত দিবসে সাক্ষ্য দিবে। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে অনুরূপ শুনিয়াছি।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لاَ يَسْمَعَ النِّدَاءَ فَإِذَا قُضِيَ النِّدَاءُ أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ أَدْبَرَ حَتَّى إِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ يَقُولُ اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ إِنْ يَدْرِي كَمْ صَلَّى " .
রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ নামাযের জন্য আযান দেওয়ার সময় শয়তান সশব্দে বায়ু ছাড়িতে ছাড়িতে পালায়, যেন সে আযানের শব্দ না শোনে। আযান শেষ হইলে সে আবার আসে। ইকামত আরম্ভ হইলে আবার পলায়ন করে। ইকামত বলা শেষ হইলে পুনরায় উপস্থিত হয় এবং ওয়াসওয়াসা ঢালিয়া নামাযী ব্যক্তি ও তাহার অভীষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে; যে সকল বিষয় তাহার স্মরণ ছিল না সেই সবের প্রতি আকৃষ্ট করিয়া সে বলিতে থাকেঃ অমুক বিষয় স্মরণ কর, অমুক বিষয় স্মরণ কর। ফলে সেই ব্যক্তি কত রাকাআত নামায পড়িয়াছে উহা পর্যন্ত ভুলিয়া যায়।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّهُ قَالَ سَاعَتَانِ يُفْتَحُ لَهُمَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَقَلَّ دَاعٍ تُرَدُّ عَلَيْهِ دَعْوَتُهُ حَضْرَةُ النِّدَاءِ لِلصَّلاَةِ وَالصَّفُّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ .
রেওয়ায়ত ৭. সাহল ইবন সা’আদ সায়েদী (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেনঃ দুইটি মুহূর্ত এইরূপ আছে সেই সময় অসমানের দরওয়াজা খোলা হয় এবং সেই মুহূর্তদ্বয়ে প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কুচিৎ ফেরত দেওয়া হয়; নামাযের আযানের মুহুর্ত এবং আল্লাহর পথে জিহাদের কাতার ঠিক করার মুহুর্ত। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলিয়াছেনঃ মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ জুম'আর দিন সময়ের পূর্বে আযান দেওয়া যায় কি? তিনি উত্তর দিলেনঃ না, যায় না। সূর্য পশ্চিম দিকে ঝুঁকিবার পরই আযানের সময় হয়। ইয়াহইয়া (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন- মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল আযান ও ইকামত-এর (বাক্যগুলি) দুই দুইবার বলা সম্পর্কে এবং ইকামতের সময় মানুষের কোন সময় দাঁড়াইতে হইবে সেই সম্পর্কে। তিনি উত্তর দিলেনঃ আযান ও ইকামতের বিষয় আমি লোকজনকে যে পর্যায়ে পাইয়াছি উহার চাইতে অধিক কিছু আমার নিকট পৌছে নাই। ইকামত অবশ্য দুই দুইবার বলিতে নাই। আমাদের শহরের (মদীনা) বিজ্ঞ আলিমগণ এই মতই পোষণ করিতেন। ইকামতের সময় দাঁড়াইবার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন সীমা আমি জ্ঞাত নই। তবে আমার মতে উহা অনেকটা লোকের শক্তি-সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে। কারণ সব লোক এক রকমের নয়; তাহাদের মধ্যে সবল ও দুর্বল সকল প্রকারের লোকই থাকে। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ যাহারা প্রবাসী নহে বরং মুকীম (স্বদেশে বা বিদেশে শরীয়তসম্মত স্থায়ী বসবাসকারী) তাহারা ফরয নামায জামাত সহকারে আযান ছাড়া শুধু ইকামত বলিয়া পড়িতে চাহিলে-এই বিষয়ে আপনার মত কি? তিনি বলিলেনঃ কেবল ইকামত বলিলেও চলিবে। কেননা আযান ওয়াজিব হয় সেই সব মসজিদের জন্য যেসব মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং লোকজনকে নামাযের জন্য আহবান করা হয়। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মুয়াযযিন কর্তৃক ইমামকে সালাম দেওয়া, নামাযের জন্য তাহাকে আহবান করা এবং সর্বপ্রথম কোন আমীরের প্রতি এইরূপ করা হইয়াছিল- এই বিষয়ে মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিলেনঃ এইরূপ সালাম দেওয়ার রীতি প্রথম যুগে ছিল বলিয়া আমি অবগত নই। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মুয়াযযিন আযান দিয়া অপেক্ষা করিল, কিন্তু নামায পড়িতে কেউ আসিল না। অতএব, সে ইকামত বলিয়া একা একাই নামায পড়িল। নামায সমাপ্ত হইলে কিছু লোক আসিল। এক্ষণে সে কি পুনরায় আগন্তুকদের সঙ্গে নামায পড়িবে? মালিক (রহঃ)-এর নিকট এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হইলে তিনি বলিলেনঃ না, পরে যাহারা আসিবে তাহারা পৃথক পৃথকভাবে নামায পড়িবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ) জিজ্ঞাসিত হইলেনঃ মুয়াৰ্যযিন আযান দিবার পর নফল নামায শুরু করিল। লোকজন আসিয়া অন্যের দ্বারা ইকামত বলাইয়া জামাতসহকারে নামায পড়িতে ইচ্ছা করিল, এইরূপ করা চলে কি? তিনি উত্তর দিলেন, যায়, ইহা বৈধ। ইকামত বলার ব্যাপারে মুয়াযযিন এবং অন্য ব্যক্তি এক সমান। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ ফজরের আযান প্রায়ই সুবহে-সাদিক-এর আগে দেওয়া হইত। কিন্তু অন্যসব নামাযের আযান আমাদের মতে সময় হওয়ার পর ছাড়া দেওয়া হইত না।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْمُؤَذِّنَ، جَاءَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يُؤْذِنُهُ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ فَوَجَدَهُ نَائِمًا فَقَالَ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ . فَأَمَرَهُ عُمَرُ أَنْ يَجْعَلَهَا فِي نِدَاءِ الصُّبْحِ .
রেওয়ায়ত ৮. মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, তাহার নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, ফজরের নামাযের সংবাদ দেওয়ার জন্য মুয়াযযিন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট আসিলেন এবং তাহাকে নিদ্রিত পাইয়া বলিলেন- (يا امير المؤمنين) الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ উমর (রাঃ) শুনিয়া বাক্যটিকে ফজরের আযানের অন্তর্ভুক্ত করিবার নির্দেশ দিলেন। মালিক (রহঃ)-এর চাচা আবু সুহায়ল ইবন মালিক (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলিয়াছেনঃ লোকদিগকে (পূর্বযুগে) যেইরূপ পাইয়াছি, এখন নামাযের আযান ব্যতীত আর অন্য কিছুই সেইরূপ দেখিতেছি না।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫৪
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ مَا أَعْرِفُ شَيْئًا مِمَّا أَدْرَكْتُ عَلَيْهِ النَّاسَ إِلاَّ النِّدَاءَ بِالصَّلاَةِ .
১০
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، سَمِعَ الإِقَامَةَ، وَهُوَ بِالْبَقِيعِ فَأَسْرَعَ الْمَشْىَ إِلَى الْمَسْجِدِ .
রেওয়ায়ত ৯. নাফি (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) ইকামত শুনিয়া ‘বকী’ নামক স্থান হইতে মসজিদের দিকে ত্বরিত ধাবিত হইয়াছিলেন।
১১
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، أَذَّنَ بِالصَّلاَةِ فِي لَيْلَةٍ ذَاتِ بَرْدٍ وَرِيحٍ فَقَالَ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ الْمُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ ذَاتُ مَطَرٍ يَقُولُ " أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ " .
রেওয়ায়ত ১০. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক শীতল রজনীতে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। আযানের পর বললেনঃ (أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ)-তোমরা নিজ নিজ আবাসে নামায পড়। তারপর তিনি বলিলেনঃ শীতল ও বর্ষনশীলা রজনীতে (أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ) বলিবার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিতেন।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ لاَ يَزِيدُ عَلَى الإِقَامَةِ فِي السَّفَرِ إِلاَّ فِي الصُّبْحِ فَإِنَّهُ كَانَ يُنَادِي فِيهَا وَيُقِيمُ وَكَانَ يَقُولُ إِنَّمَا الأَذَانُ لِلإِمَامِ الَّذِي يَجْتَمِعُ النَّاسُ إِلَيْهِ .
রেওয়ায়ত ১১. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) সফরে শুধু ইকামত বলিতেন। অবশ্য ফজরের সময় আযান ও ইকামত উভয়ের ব্যবস্থা করা হইত। তিনি বলিতেনঃ আযান বলিতে হয় সেই ইমামের বেলায় যাহার সহিত নামায পড়িবার উদ্দেশ্যে লোকজন একত্রিত হয়।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫৮
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، قَالَ لَهُ إِذَا كُنْتَ فِي سَفَرٍ فَإِنْ شِئْتَ أَنْ تُؤَذِّنَ وَتُقِيمَ فَعَلْتَ وَإِنْ شِئْتَ فَأَقِمْ وَلاَ تُؤَذِّنْ . قَالَ يَحْيَى سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُؤَذِّنَ الرَّجُلُ وَهُوَ رَاكِبٌ .
রেওয়ায়ত ১২. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার পিতা বলিয়াছেনঃ তুমি সফরে থাকিলে ইচ্ছা করিলে আযান ও ইকামত দুইটিই বলিতে পার, আর যদি চাও, আযান না দিয়া কেবল ইকামতও বলিতে পার। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আমি মালিক (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আরোহী’ আযান দিলে কোন দোষ নাই।
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৫৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ صَلَّى بِأَرْضِ فَلاَةٍ صَلَّى عَنْ يَمِينِهِ مَلَكٌ وَعَنْ شِمَالِهِ مَلَكٌ فَإِذَا أَذَّنَ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ أَوْ أَقَامَ صَلَّى وَرَاءَهُ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ أَمْثَالُ الْجِبَالِ .
রেওয়ায়ত ১৩. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি মাঠে নামায পড়ে তাহার ডাইনে একজন ও বামে একজন ফেরেশতা নামাযে দাঁড়ান। আর যদি সে আযান ও ইকামত দিয়া নামায পড়ে তবে তাহার পিছনে পাহাড় পরিমাণ (বহু) ফেরেশতা নামাযে শামিল হন।
১৫
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৬০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ بِلاَلاً يُنَادِي بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ " .
রেওয়ায়ত ১৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ বিলাল রাত্রি থাকিতে আযান দেয়। অতএব ইবন উম্মি-মাকতুম আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করিতে পার।
১৬
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৬১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ بِلاَلاً يُنَادِي بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ " . قَالَ وَكَانَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ رَجُلاً أَعْمَى لاَ يُنَادِي حَتَّى يُقَالَ لَهُ أَصْبَحْتَ أَصْبَحْتَ .
রেওয়ায়ত ১৫. সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ বিলাল রাত (অবশিষ্ট থাকিতে) আযান দেয়। অতঃপর তোমরা পানাহার করিতে থাক যতক্ষণ ইবন উম্মি মাকতুম আযান না দেয়। তিনি (রেওয়ায়ত বর্ণনাকারী) বলিয়াছেনঃ ইবন উম্মি মাকতুম ছিলেন অন্ধ ব্যক্তি। তাহার উদ্দেশ্যে أَصْبَحْتَ أَصْبَحْتَ (ভোর হইয়াছে, তোর হইয়াছে) না বলা পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না।
১৭
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৬২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا كَذَلِكَ أَيْضًا وَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . وَكَانَ لاَ يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ .
রেওয়ায়ত ১৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আরম্ভ করার সময় উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলিতেন এবং যখন রুকু হইতে মাথা তুলিতেন তখনও দুই হাত অনুরূপভাবে তুলিতেন এবং বলতেন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) অবশ্য সিজদার সময় তিনি হাত উঠাইতেন না।
১৮
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৬৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكَبِّرُ فِي الصَّلاَةِ كُلَّمَا خَفَضَ وَرَفَعَ فَلَمْ تَزَلْ تِلْكَ صَلاَتَهُ حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ .
রেওয়ায়ত ১৭. আলী ইবন হুসায়ন আলী ইবন আবি তালিব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের মধ্যে যখন নিচের দিক ঝুঁকিতেন ও মাথা উপরে তুলিতেন তখন তকবীর (আল্লাহু আকবার) বলতেন। তিনি আল্লাহর সহিত মিলিত হওয়া পর্যন্ত এইভাবে নামায পড়িয়াছেন।
১৯
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৬৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي الصَّلاَةِ .
রেওয়ায়ত ১৮. সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে দুই হাত উপরে উঠাইতেন।
২০
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৬৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، كَانَ يُصَلِّي لَهُمْ فَيُكَبِّرُ كُلَّمَا خَفَضَ وَرَفَعَ فَإِذَا انْصَرَفَ قَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لأَشْبَهُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
রেওয়ায়ত ১৯. আবি সালমা ইবন আবদুর রহমান ইবন আওফ (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) তাহাদের (শিক্ষাদানের) উদ্দেশ্যে নামায পড়িতেন এবং তিনি যতবার নিচের দিকে ঝুঁকিতেন ও মাথা উপরে তুলিতেন ততবার তকবীর (আল্লাহু আকবার) বলতেন। নামায শেষ করার পর তিনি বলিতেনঃ তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামাযের সঙ্গে আমি অধিকতর সামঞ্জস্য-রক্ষাকরী।
২১
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৬৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يُكَبِّرُ فِي الصَّلاَةِ كُلَّمَا خَفَضَ وَرَفَعَ . وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا دُونَ ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ২০. সলিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) যখন নিচের দিকে ঝুঁকিতেন ও মাথা উপরে তুলিতেন তখন তকবীর বলিতেন। নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) নামায আরম্ভ করার সময় উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলিতেন। আর যখন রুকৃ হইতে মাথা তুলিতেন তখন দুই হাত কাঁধের একটু নিচ পর্যন্ত তুলিতেন।
২২
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৬৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ كَانَ يُعَلِّمُهُمُ التَّكْبِيرَ فِي الصَّلاَةِ . قَالَ فَكَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ نُكَبِّرَ كُلَّمَا خَفَضْنَا وَرَفَعْنَا .
রেওয়ায়ত ২১. আবু নঈম ওয়াহব ইবন কায়সান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাহাদিগকে নামাযের ‘তকবীর শিক্ষা দিতেন। তিনি আরও বর্ণনা করিয়াছেনঃ নিচের দিকে ঝুঁকিবার ও মাথা উপরে তুলিবার সময় ‘তকবীর’ বলার জন্য তিনি [জাবির (রাঃ)] আমাদিগকে নির্দেশ দিতেন।
২৩
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৬৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَدْرَكَ الرَّجُلُ الرَّكْعَةَ فَكَبَّرَ تَكْبِيرَةً وَاحِدَةً أَجْزَأَتْ عَنْهُ تِلْكَ التَّكْبِيرَةُ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ إِذَا نَوَى بِتِلْكَ التَّكْبِيرَةِ افْتِتَاحَ الصَّلاَةِ . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ دَخَلَ مَعَ الإِمَامِ فَنَسِيَ تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ وَتَكْبِيرَةَ الرُّكُوعِ حَتَّى صَلَّى رَكْعَةً ثُمَّ ذَكَرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ كَبَّرَ تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ وَلاَ عِنْدَ الرُّكُوعِ وَكَبَّرَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ قَالَ يَبْتَدِئُ صَلاَتَهُ أَحَبُّ إِلَىَّ وَلَوْ سَهَا مَعَ الإِمَامِ عَنْ تَكْبِيرَةِ الاِفْتِتَاحِ وَكَبَّرَ فِي الرُّكُوعِ الأَوَّلِ رَأَيْتُ ذَلِكَ مُجْزِيًا عَنْهُ إِذَا نَوَى بِهَا تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ . قَالَ مَالِكٌ فِي الَّذِي يُصَلِّي لِنَفْسِهِ فَنَسِيَ تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ إِنَّهُ يَسْتَأْنِفُ صَلاَتَهُ . وَقَالَ مَالِكٌ فِي إِمَامٍ يَنْسَى تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلاَتِهِ قَالَ أَرَى أَنْ يُعِيدَ وَيُعِيدُ مَنْ خَلْفَهُ الصَّلاَةَ وَإِنْ كَانَ مَنْ خَلْفَهُ قَدْ كَبَّرُوا فَإِنَّهُمْ يُعِيدُونَ .
রেওয়ায়ত ২২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- তিনি বলিয়াছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি এক রাকআত নামায পায় এবং একবার তকবীর বলে তাহার জন্য ঐ এক ‘তকবীর যথেষ্ট হইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- ঐ এক ‘তকবীরই যথেষ্ট হইবে যদি সে উক্ত তকবীর দ্বারা ‘তকবীর-এ তাহরীমা’-এর নিয়ত করে। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ এক ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে নামাযে শরীক হইল কিন্তু সে তববীর-এ তাহরীমা’ ও রুকূর ‘তকবীর বলিতে ভুলিয়া গেল। নামায এক রাকআত পড়ার পর তাহার স্মরণ হইল যে, সে ‘তাহরীমা’ ও রুকূর তকবীর বলে নাই। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতে সে তকবীর বলিল। তাহার কি করা উচিত? তিনি উত্তর দিলেন, সেই ব্যক্তির জন্য নামায শুরু হইতে পুনরায় পড়া আমি ভাল মনে করি। আর যদি কোন ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’ বলিতে ভুলিয়া যায়, প্রথম রুকূর সময় তকবীর’ বলে, রুকূর তকবীরের সঙ্গে ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’রও নিয়ত করে, তবে আমার মতে উক্ত রুকূর ‘তকবীর’ই তাহার জন্য যথেষ্ট হইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি একা একা নামায পড়িতেছে সে ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’ ভুলিয়া গেলে তাহাকে নামায পুনরায় পড়িতে হইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ ইমাম যদি ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’ বলিতে ভুলিয়া গেলেন এবং নামায সমাপ্ত করিলেন, তবে আমার মতে ইমাম ও মুকতাদী উভয়ের নামায পুনরায় পড়া উচিত, এমন কি মুকতাদীগণ তকবীর বলিয়া থাকিলেও।
২৪
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ بِالطُّورِ فِي الْمَغْرِبِ .
রেওয়ায়ত ২৩. মুহাম্মদ ইবন যুবায়র ইবন মুতায়িম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের নামাযে সূরা[1] (والطُّورِ) পাঠ করতেন শুনিয়াছি।
২৫
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ، سَمِعَتْهُ وَهُوَ، يَقْرَأُ {وَالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا} فَقَالَتْ لَهُ يَا بُنَىَّ لَقَدْ ذَكَّرْتَنِي بِقِرَاءَتِكَ هَذِهِ السُّورَةَ إِنَّهَا لآخِرُ مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِهَا فِي الْمَغْرِبِ .
রেওয়ায়ত ২৪. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, উম্মুল ফযল বিনত হারিস (রাঃ) তাহাকে সূরা[1] (وَالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا) পাঠ করিতে শুনিয়া বলিয়াছিলেন, হে বৎস! তুমি এই সূর্য পাঠ করিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা স্মরণ করাইয়া দিলে। এই সূরাটি সর্বশেষ সূরা যাহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র মুখে মাগরিবের নামাযে পাঠ করিতে আমি শুনিয়াছি।
২৬
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، مَوْلَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ، قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَصَلَّيْتُ وَرَاءَهُ الْمَغْرِبَ فَقَرَأَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ سُورَةٍ مِنْ قِصَارِ الْمُفَصَّلِ ثُمَّ قَامَ فِي الثَّالِثَةِ فَدَنَوْتُ مِنْهُ حَتَّى إِنَّ ثِيَابِي لَتَكَادُ أَنْ تَمَسَّ ثِيَابَهُ فَسَمِعْتُهُ قَرَأَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَبِهَذِهِ الآيَةِ {رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ}.
রেওয়ায়ত ২৫. কায়স ইবন হারিস (রহঃ) আবু আবদুল্লাহ সুনাবিহি (রাঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- তিনি (আবু আবদুল্লাহ সুনাবিহি) বলিয়াছেনঃ আমি আবু বকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে মদীনায় আগমন করিলাম এবং তাহার ইমামতিতে মাগরিবের নামায পড়িলাম। তিনি প্রথম দুই রাকাআতে সূরা ফাতিহার পর (قِصَارِ الْمُفَصَّلِ) (কিসার-ই-মুফাসসাল) হইতে এক রাকাআতে একটি করিয়া সূরা পাঠ করিলেন; তারপর তৃতীয় রাকাআতে দাঁড়াইলেন । আমি তখন তাহার এত নিকটবর্তী ছিলাম যে, আমার কাপড় তাহার কাপড়কে প্রায় স্পর্শ করিতেছিল। সেই সময় আমি তাহাকে সূরা ফাতিহা ও (নিচের) আয়াতটি পাঠ করিতে শুনিয়াছিঃ (رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ) অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক সরলপথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য-লংঘনপ্রবণ করিও না এবং তোমার নিকট হইতে আমাদিগকে করুণা দাও, তুমিই মহাদাতা। (সূরা আলে ইমরানঃ)
২৭
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا صَلَّى وَحْدَهُ يَقْرَأُ فِي الأَرْبَعِ جَمِيعًا فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ وَكَانَ يَقْرَأُ أَحْيَانًا بِالسُّورَتَيْنِ وَالثَّلاَثِ فِي الرَّكْعَةِ الْوَاحِدَةِ مِنْ صَلاَةِ الْفَرِيضَةِ وَيَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِنَ الْمَغْرِبِ كَذَلِكَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ سُورَةٍ .
রেওয়ায়ত ২৬. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) যখন একা নামায পড়িতেন তখন চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে একটি সূরা পাঠ করিতেন। আর এমনও হইত যে, ফরয নামাযের এক রাকাআতে দুই-তিনটি সূরা একসাথেও পাঠ করিতেন। আর মাগরিবের নামাযে প্রথম দুই রাক’আতে সূরা ফাতিহার সাথে একটি করিয়া সূরা পড়িতেন।
২৮
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ فَقَرَأَ فِيهَا بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ .
রেওয়ায়ত ২৭. আদী ইবন সাবিত আনসারী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, বারা ইবন আযির (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহিত ইশার নামায পড়িয়ছিলাম। তিনি সেই নামাযে সূরা[1] (والتِّينِ وَالزَّيْتُونِ) পড়িয়ছিলেন।
২৯
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَعَنْ تَخَتُّمِ الذَّهَبِ وَعَنْ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي الرُّكُوعِ .
রেওয়ায়ত ২৮. ইবরাহীম ইবন আবদিল্লাহ ইবন হুনায়ন (রহঃ) তাহার পিতা হইতে তিনি আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (قَسِّيِّ) ও (معصفر) (পুরুষদিগকে) পরিধান করিতে নিষেধ করিয়াছেন, আরও নিষেধ করিয়াছেন পুরুষদিগকে স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করিতে। রুকূতে কুরআন পাঠ করিতেও তিনি নিষেধ করিয়াছেন। قَسِّيِّ রেখাযুক্ত এক প্রকার রেশমী বস্ত্র এবং (معصفر) হলুদ বর্ণের বস্ত্র।
৩০
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ التَّمَّارِ، عَنِ الْبَيَاضِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَى النَّاسِ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَقَدْ عَلَتْ أَصْوَاتُهُمْ بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ " إِنَّ الْمُصَلِّيَ يُنَاجِي رَبَّهُ فَلْيَنْظُرْ بِمَا يُنَاجِيهِ بِهِ وَلاَ يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ بِالْقُرْآنِ " .
রেওয়ায়ত ২৯. আবু হাযিম তাম্মার (রহঃ) কর্তৃক বায়াযী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল লোকের কাছে আগমন করিলেন, সেই সময় তাহারা (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হইয়া) নামায পড়িতেছিলেন এবং উচ্চকণ্ঠে কুরআন পড়িতেছিলেন। ইহা দেখিয়া তিনি বলিলেনঃ নামাযরত ব্যক্তি তাহার প্রতিপালকের সাথে মোনাজাত করে, কাজেই তাহার খেয়াল রাখা উচিত যে, কিরূপে তাহার প্রভুর সহিত আলাপ করিতেছে। আর তোমরা সরবে (নামাযে) কুরআন পাঠে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করিও না।
৩১
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ قُمْتُ وَرَاءَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ فَكُلُّهُمْ كَانَ لاَ يَقْرَأُ {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ } إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ .
রেওয়ায়ত ৩০. হুমায়দ-এ তবীল (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আবু বকর, উমর, উসমান (রাঃ)-এর পশ্চাতে (নামাযে) দাঁড়াইয়াছি। তাহাদের কেউই নামায আরম্ভ করার পর (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) সরবে পড়িতেন না।
৩২
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ كُنَّا نَسْمَعُ قِرَاءَةَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عِنْدَ دَارِ أَبِي جَهْمٍ بِالْبَلاَطِ .
রেওয়ায়ত ৩১. আবু সুহায়ল ইবন মালিক (রহঃ) কর্তৃক তাহার পিতা হইতে বর্ণিত-তিনি বলিয়াছেনঃ আমরা বলাত (بلاط) নামক স্থানে অবস্থিত আবু জুহায়মের বাড়ি হইতে উমর (রাঃ)-এর কিরা'আত শুনিতাম।
৩৩
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৭৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا فَاتَهُ شَىْءٌ مِنَ الصَّلاَةِ مَعَ الإِمَامِ فِيمَا جَهَرَ فِيهِ الإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ أَنَّهُ إِذَا سَلَّمَ الإِمَامُ - قَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَقَرَأَ لِنَفْسِهِ فِيمَا يَقْضِي وَجَهَرَ .
রেওয়ায়ত ৩২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিয়ম ছিলঃ যে নামাযে ইমাম সরবে কিরা'আত পড়িতেন সেই নামাযে ইমামের সহিত কিছু অংশ ছুটিয়া গেলে ইমাম সালাম ফিরাইবার পর আবদুল্লাহ্ (রাঃ) দাঁড়াইয়া অবশিষ্ট নামায সরবে কিরা'আত সহকারে পড়িতেন। ইয়াযিদ ইবন রূমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি নাফি’ ইবন যুবায়র ইবন মুতায়িম-এর পার্শ্বে দাঁড়াইয়া নামায পড়িতাম। তিনি আমাকে হস্ত দ্বারা যখন চাপ দিতেন অর্থাৎ ইশারা করিতেন তখন আমি তাহাকে কিরা'আত বলিয়া দিতাম, অথচ আমরা উভয়েই তখন নামাযে।
৩৪
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي إِلَى جَانِبِ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ فَيَغْمِزُنِي فَأَفْتَحُ عَلَيْهِ وَنَحْنُ نُصَلِّي .
৩৫
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ، صَلَّى الصُّبْحَ فَقَرَأَ فِيهَا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا .
রেওয়ায়ত ৩৩. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) ফজরের নামাযে পড়িলেন, তিনি ফজরের উভয় রাকাআতে সূরা বাকারা পাঠ করিলেন।
৩৬
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، يَقُولُ صَلَّيْنَا وَرَاءَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ الصُّبْحَ فَقَرَأَ فِيهَا بِسُورَةِ يُوسُفَ وَسُورَةِ الْحَجِّ قِرَاءَةً بَطِيئَةً فَقُلْتُ وَاللَّهِ إِذًا لَقَدْ كَانَ يَقُومُ حِينَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ . قَالَ أَجَلْ .
রেওয়ায়ত ৩৪. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন রবী’আ-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ আমরা উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর পিছনে ফজরের নামায পড়িয়াছি। তিনি ফজরের নামাযে সূরা ইউসুফ ও সূরা হাজ্জ ধীরেসুস্থে পাঠ করিয়াছিলেন। তিনি (হিশাম-এর পিতা) বলিলেনঃ তখন তো ফজর হইয়া যাইত অর্থাৎ চতুর্দিক আলোকিত হইয়া উঠিত। তিনি (আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন রবী’আ) বললেনঃ হ্যাঁ।
৩৭
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَرَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَّ الْفُرَافِصَةَ بْنَ عُمَيْرٍ الْحَنَفِيَّ، قَالَ مَا أَخَذْتُ سُورَةَ يُوسُفَ إِلاَّ مِنْ قِرَاءَةِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ إِيَّاهَا فِي الصُّبْحِ مِنْ كَثْرَةِ مَا كَانَ يُرَدِّدُهَا لَنَا .
রেওয়ায়ত ৩৫. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ফারাফিসা ইবন উমাইর আল-হানাফি (রহঃ) বলিয়াছেনঃ উসমান ইবন আফফান (রাঃ) ফজরের নামাযে প্রায় সূরা ইউসূফ পাঠ করিতেন। তাহার (পুনঃ পুনঃ) তিলাওয়াত হইতেই আমি উক্ত সূরা কণ্ঠস্থ করিয়াছি।
৩৮
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقْرَأُ فِي الصُّبْحِ فِي السَّفَرِ بِالْعَشْرِ السُّوَرِ الأُوَلِ مِنَ الْمُفَصَّلِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ .
রেওয়ায়ত ৩৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) ফজরের নামাযে ‘মুফাসসাল’ -এর প্রথম দশটি সূরা হইতে পাঠ করিতেন; প্রতি রাকাআতে উম্মুল কুরআন (ফাতিহা) এবং একটি সূরা।
৩৯
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ، مَوْلَى عَامِرِ بْنِ كُرَيْزٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَادَى أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ وَهُوَ يُصَلِّي فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ لَحِقَهُ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى يَدِهِ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يَخْرُجَ مِنْ بَابِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ " إِنِّي لأَرْجُو أَنْ لاَ تَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى تَعْلَمَ سُورَةً مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِي التَّوْرَاةِ وَلاَ فِي الإِنْجِيلِ وَلاَ فِي الْقُرْآنِ مِثْلَهَا " . قَالَ أُبَىٌّ فَجَعَلْتُ أُبْطِئُ فِي الْمَشْىِ رَجَاءَ ذَلِكَ ثُمَّ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ السُّورَةَ الَّتِي وَعَدْتَنِي . قَالَ " كَيْفَ تَقْرَأُ إِذَا افْتَتَحْتَ الصَّلاَةَ " . قَالَ فَقَرَأْتُ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} حَتَّى أَتَيْتُ عَلَى آخِرِهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هِيَ هَذِهِ السُّورَةُ وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُعْطِيتُ " .
রেওয়ায়ত ৩৭. আলী ইবন আবদুর রহমান ইবন ইয়াকুব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ‘আমির ইবন কুরায়য’-এর মাওলা আবূ সাঈদ (রহঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবন কা'ব (রাঃ)-কে ডাকিলেন, তখন তিনি নামায পড়িতেছিলেন। নামায শেষ করিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে হাযির হইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন হাত তাহার হাতের উপর রাখিলেন, তখন তিনি (উবাই ইবন কা'ব) মসজিদের দরজা দিয়া বাহির হইতে চাহিতেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বললেন, আমার ইচ্ছা যে, তুমি একটি সূরা জ্ঞাত না হইয়া মসজিদ হইতে বাহির হইবে না। সূরাটি এইরূপ যে, উহার সমতুল্য কোন সূরা তওরীত, ইঞ্জিল এমন কি খোদ কুরআনেও অবতীর্ণ হয় নাই। উবাই (রাঃ) বলিলেনঃ ইহা শুনিয়া সূরাটি জানিবার বাসনায় আমি ধীরে ধীরে চলিতে লাগিলাম। অতঃপর আমি বলিলামঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! যেই সূরাটি জ্ঞাত করাইবার বিষয় আপনি আমাকে বলিয়াছেন, তাহা কোন সূরা? তিনি বললেন, তুমি নামায আরম্ভ করার পর কিরূপে কিরাআত পড়। উবাই (রাঃ) বলেন, আমি সূরা ফাতিহা (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) হইতে শেষ পর্যন্ত তাহাকে পড়িয়া শুনাইলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ইহাই সেই সূরা। (যে সূরার কথা বলিয়াছিলাম) এ সূরার নামই (السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ) যাহা আমাকে প্রদান করা হইয়াছে।
৪০
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ مَنْ صَلَّى رَكْعَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَمْ يُصَلِّ إِلاَّ وَرَاءَ الإِمَامِ .
রেওয়ায়ত ৩৮. আবু নুয়ায়ম ওহ্ব ইবন কায়সান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি এমন এক রাকাআত নামায পড়িয়াছে যাহাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে নাই তাহার নামায হয় নাই, অবশ্য যদি সেই ব্যক্তি ইমামের পশ্চাতে (নামায পড়িয়া) থাকে (তবে তাহার নামায শুদ্ধ হইয়াছে।)
৪১
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا السَّائِبِ، مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ هِيَ خِدَاجٌ هِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِنِّي أَحْيَانًا أَكُونُ وَرَاءَ الإِمَامِ قَالَ فَغَمَزَ ذِرَاعِي ثُمَّ قَالَ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ يَا فَارِسِيُّ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ فَنِصْفُهَا لِي وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَءُوا يَقُولُ الْعَبْدُ {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى حَمِدَنِي عَبْدِي وَيَقُولُ الْعَبْدُ {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} يَقُولُ اللَّهُ أَثْنَى عَلَىَّ عَبْدِي وَيَقُولُ الْعَبْدُ {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} يَقُولُ اللَّهُ مَجَّدَنِي عَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} فَهَذِهِ الآيَةُ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ يَقُولُ الْعَبْدُ {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ } فَهَؤُلاَءِ لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ " .
রেওয়ায়ত ৩৯. আবুস সায়িব মাওলা’ হিশাম ইবন যুহরা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে এইরূপ বর্ণনা করিতে শুনিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি নামায পড়িয়াছে, কিন্তু সে নামাযে উম্মুল কুরআন পড়ে নাই, তাহার নামায অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ-না-তামাম। আবুস সায়িব (রহঃ) বলিলেনঃ আমি প্রশ্ন করিলাম, হে আবু হুরায়রা (রাঃ)! আমি অনেক সময় ইমামের পিছনে (নামায পড়িয়া) থাকি (তখন কিভাবে পড়িব?)। তিনি আমার বাজুতে চিমটি কাটিয়া বলিলেনঃ হে পারস্যের অধিবাসী! তুমি উহা মনে মনে পড়। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ আল্লাহ তা'আলা বলিয়াছেন- আমি নামাযকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার বান্দা ও আমার মধ্যে আধা-আধি ভাগ করিয়াছি। উহার অর্ধেক আমার, অর্ধেক আমার বান্দার। আর আমার বান্দার জন্য তাহাই যাহা সে চায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমরা পাঠ কর; (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) (বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য সমস্ত প্রশংসা), আল্লাহ (ইহার উত্তরে) বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করিয়াছে। বান্দা বলে (الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ) (যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু) আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুন বর্ণনা করিয়াছে। বান্দা বলে (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) (কর্মফল দিবসের মালিক), আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করিয়াছে। বান্দা বলে (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) (আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি), আল্লাহ বলেনঃ এই আয়াতটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে আধা-আধি বিভক্ত। আর আমার বান্দার জন্য তাহাই যাহা সে চায়। বান্দা বলেঃ (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ) (আমাদিগকে সরলপথ প্রদর্শন কর, যাহাদিগকে তুমি অনুগ্রহ দান করিয়াছ, যাহারা ক্রোধ-নিপতিত নহে, পথভ্রষ্ট নহে।) আল্লাহ্ বলেনঃ এই আয়াতগুলি আমার বান্দারই। (অর্থাৎ এই প্রার্থনা আমার বান্দার পক্ষ হইতে) এবং তাহার জন্য উহা যাহা সে চায়।
৪২
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ فِيمَا لاَ يَجْهَرُ فِيهِ الإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ .
রেওয়ায়ত ৪০. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেনঃ ইমাম যে সকল নামাযে নীরবে কিরাআত পড়িতেন সেই নামাযে তিনি ইমামের পিছনে কিরাআত পড়িতেন।
৪৩
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৮৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، كَانَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ فِيمَا لاَ يَجْهَرُ فِيهِ الإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ .
রেওয়ায়ত ৪১. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) যেসব নামাযে ইমাম কিরাআত সরবে পড়িতেন না সেসব নামাযে ইমামের পিছনে কিরাআত পড়িতেন।
৪৪
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৯০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، كَانَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ فِيمَا لاَ يَجْهَرُ فِيهِ بِالْقِرَاءَةِ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ فِي ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রহঃ) য়াযিদ ইবন রূমান (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন; যেসব নামাযে ইমাম সরবে কিরাআত পড়িতেন না সেই সব নামাযে নাফি ইবন জুবায়র ইবন মুতয়িম (রহঃ) ইমামের পিছনে কিরাআত পড়িতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন যে, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন- এই বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার মনঃপূত।
৪৫
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৯১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا سُئِلَ هَلْ يَقْرَأُ أَحَدٌ خَلْفَ الإِمَامِ قَالَ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ خَلْفَ الإِمَامِ فَحَسْبُهُ قِرَاءَةُ الإِمَامِ وَإِذَا صَلَّى وَحْدَهُ فَلْيَقْرَأْ . قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لاَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ . قَالَ يَحْيَى سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ الأَمْرُ عِنْدَنَا أَنْ يَقْرَأَ الرَّجُلُ وَرَاءَ الإِمَامِ فِيمَا لاَ يَجْهَرُ فِيهِ الإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ وَيَتْرُكُ الْقِرَاءَةَ فِيمَا يَجْهَرُ فِيهِ الإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ .
রেওয়ায়ত ৪৪. ইবন উকায়মা লায়সী (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরবে কুরআন পাঠ করা হইয়াছে এমন একটি নামায সমাপ্ত করিলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমাদের কেউ এখন (নামাযে) আমার সাথে কুরআন পড়িয়াছ কি? উত্তরে এক ব্যক্তি বলিলঃ হ্যাঁ, আমি পড়িয়াছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ ইহার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি (মনে মনে) বলিতেছিলাম, আমার কী হইল, কুরআন পাঠে আমার সাথে মুকাবিলা করা হইতেছে কেন! ইহা শুনিয়া লোকেরা (নামাযে ইমামের পিছনে) কুরআন পড়া হইতে বিরত হইলেন। যে নামাযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরবে কুরআন পাঠ করিয়াছিলেন, সেইরূপ নামাযেই তিনি (কোন সাহাবী কর্তৃক কুরআন পড়িতে) শুনিয়াছিলেন।
৪৬
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৯২
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ " هَلْ قَرَأَ مَعِي مِنْكُمْ أَحَدٌ آنِفًا " . فَقَالَ رَجُلٌ نَعَمْ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا جَهَرَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِرَاءَةِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
৪৭
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৯৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ آمِينَ .
আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন ইমাম আমীন (امين) বলেন তখন তোমরাও আমীন বল। কেননা যাহার আমীন ফেরেশতাদের আমীন-এর সহিত একত্রে উচ্চারিত হয় তাহার পূর্বের গুনাহ মাফ করা হয়। ইবন শিহাব (রহঃ) (এই হাদীসের একজন রাবী) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিতেন, আমীন।
৪৮
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৯৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ الإِمَامُ {غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ} فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .
রেওয়ায়ত ৪৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ ইমাম যখন (غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ) বলিবেন তখন তোমরা আমীন বলিও। যাহার বাক্য ফেরেশতাদের (আমীন) বাক্যের সহিত মিলিত হইবে তাহার পূর্বের গুনাহ মাফ করা হইবে।
৪৯
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৯৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِينَ وَقَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ فِي السَّمَاءِ آمِينَ فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .
রেওয়ায়ত ৪৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন তোমাদের কেউ আমীন বলে তখন আসমানের ফেরেশতাগণও আমীন বলেন। ফলে যদি এক আমীন (যাহা তোমাদের কেউ বলিয়াছে) দ্বিতীয় আমীন'-এর সাথে (যাহা ফেরেশতাগণ বলিয়াছেন) মিলিত হয় তবে তাহার পূর্বের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করা হয়।
৫০
মুয়াত্তা মালিক # ৩/১৯৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .
রেওয়ায়ত ৪৭. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ ইমাম (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) বলিলে তোমরা বলিবে (اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ) কেননা যাহার বাক্য ফেরেশতাদের বাক্যের সহিত মিলিত হয় তাহার পূর্বের পাপসমূহ মাফ করা হয়।