আকীকা
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মুয়াত্তা মালিক # ২৬/১০৬৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي ضَمْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْعَقِيقَةِ فَقَالَ " لاَ أُحِبُّ الْعُقُوقَ " . وَكَأَنَّهُ إِنَّمَا كَرِهَ الاِسْمَ وَقَالَ " مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَأَحَبَّ أَنْ يَنْسُكَ عَنْ وَلَدِهِ فَلْيَفْعَلْ " .
রেওয়ায়ত ১. বনী যামরার জনৈক ব্যক্তি তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিকট আকীকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিয়াছিলেন, আমি উকুক[1] (পিতা মাতার অবাধ্যতা) পছন্দ করি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নামটি পছন্দ করিলেন না। তিনি আরো বলিয়াছিলেনঃ কাহারো সন্তান হইলে সে যদি কিছু কুরবানী করিতে চায় তবে তাহা করিতে পারে।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ২৬/১০৬৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ وَزَنَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَعَرَ حَسَنٍ وَحُسَيْنٍ وَزَيْنَبَ وَأُمِّ كُلْثُومٍ فَتَصَدَّقَتْ بِزِنَةِ ذَلِكَ فِضَّةً .
রেওয়ায়ত ২. জাফর ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-তনয়া ফাতিমা (রাঃ) হাসান, হুসাইন, যায়নব ও উম্মে কুলসুম (রাঃ)-এর মাথার চুল ওজন করিয়া সেই পরিমাণ রৌপ্য খয়রাত করিয়াছিলেন।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৬/১০৬৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، أَنَّهُ قَالَ وَزَنَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَعَرَ حَسَنٍ وَحُسَيْنٍ فَتَصَدَّقَتْ بِزِنَتِهِ فِضَّةً .
রেওয়ায়ত ৩. মুহাম্মদ ইবন আলী ইবন হুসায়ন (রাঃ) বলিয়াছেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-তনয়া ফাতিমা (রাঃ) হাসান ও হুসায়নের মাথার চুল ওজন করাইয়া তত পরিমাণ রৌপ্য খয়রাত করিয়াছিলেন।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৬/১০৭০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، لَمْ يَكُنْ يَسْأَلُهُ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِهِ عَقِيقَةً إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهَا وَكَانَ يَعُقُّ عَنْ وَلَدِهِ بِشَاةٍ شَاةٍ عَنِ الذُّكُورِ وَالإِنَاثِ .
রেওয়ায়ত ৪. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর পরিবারের কাহারও জন্য আকীকার ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করিলে তিনি তাহাকে সাহায্য করিতেন এবং তাহার নিজের সন্তানের ব্যাপারে ছেলে বা মেয়ে হউক, প্রত্যেক সন্তানের জন্য একটি করিয়া বকরী কুরবানী দিতেন।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৬/১০৭১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَسْتَحِبُّ الْعَقِيقَةَ، وَلَوْ بِعُصْفُورٍ .
রেওয়ায়ত ৫. মুহাম্মদ ইবন ইবরাহীম হারিস তায়মী (রহঃ) বর্ণনা করেন-পিতার নিকট শুনিয়াছি, আকীকা করা তাহার খুবই প্রিয় ছিল, তাহা একটি পাখিও হউক না কেন।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৬/১০৭২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّهُ عُقَّ عَنْ حَسَنٍ، وَحُسَيْنٍ، ابْنَىْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ .
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) জ্ঞাত হইয়াছেন-আলী ইবন আবু তালিবের পুত্র হাসান ও হুসায়ন (রাঃ) এর আকীকা করা হইয়াছিল।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৬/১০৭৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانَ يَعُقُّ عَنْ بَنِيهِ الذُّكُورِ، وَالإِنَاثِ، بِشَاةٍ شَاةٍ . قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْعَقِيقَةِ أَنَّ مَنْ عَقَّ فَإِنَّمَا يَعُقُّ عَنْ وَلَدِهِ بِشَاةٍ شَاةٍ الذُّكُورِ وَالإِنَاثِ وَلَيْسَتِ الْعَقِيقَةُ بِوَاجِبَةٍ وَلَكِنَّهَا يُسْتَحَبُّ الْعَمَلُ بِهَا وَهِيَ مِنَ الأَمْرِ الَّذِي لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ النَّاسُ عِنْدَنَا فَمَنْ عَقَّ عَنْ وَلَدِهِ فَإِنَّمَا هِيَ بِمَنْزِلَةِ النُّسُكِ وَالضَّحَايَا لاَ يَجُوزُ فِيهَا عَوْرَاءُ وَلاَ عَجْفَاءُ وَلاَ مَكْسُورَةٌ وَلاَ مَرِيضَةٌ وَلاَ يُبَاعُ مِنْ لَحْمِهَا شَىْءٌ وَلاَ جِلْدُهَا وَيُكْسَرُ عِظَامُهَا وَيَأْكُلُ أَهْلُهَا مِنْ لَحْمِهَا وَيَتَصَدَّقُونَ مِنْهَا وَلاَ يُمَسُّ الصَّبِيُّ بِشَىْءٍ مِنْ دَمِهَا .
রেওয়ায়ত ৭. উরওয়াহ ইবন যুবাইর (রহঃ) ছেলে হউক বা মেয়ে, প্রত্যেক সত্তানের জন্য একটি বকরী আকীকা করিতেন।[1] মালিক (রহঃ) বলেনঃ আকীকার বিষয়ে আমাদের নিকট হুকুম হইল, ছেলে হইক বা মেয়ে হউক প্রত্যেকের জন্য একটি বকরী আকীকা করা হইবে। আকীকা করা ওয়াজিব নহে, মুস্তাহাব। তবে আকীকার বকরী কুরবানীর বকরীর অনুরূপ হইতে হইবে। চোখ কানা, অতিশয় বৃদ্ধ, শিং ভাঙা এবং রোগা হইলে চলিবে না। আকীকার গোশত এবং চামড়া বিক্রয় করা জায়েয নহে। ইহার হাড়গুলিও ভাঙ্গিয়া দেওয়া উচিত।[2]আকীকার গোশত নিজে খাইবে এবং দরিদ্রদিগকেও খাইতে দিবে। আকীকাকৃত বকরীর রক্ত বাচ্চাকে ছোঁয়াইবে না।