১৪৫ হাদিস
০১
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৫৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لأَبِي بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالاً كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ - قَالَ - فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ مَعْمَرُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعِقَالُ صَدَقَةُ سَنَةٍ وَالْعِقَالاَنِ صَدَقَةُ سَنَتَيْنِ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ رَبَاحُ بْنُ زَيْدٍ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ بِإِسْنَادِهِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ عِقَالاً ‏.‏ وَرَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ قَالَ عَنَاقًا ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَمَعْمَرٌ وَالزُّبَيْدِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا ‏.‏ وَرَوَى عَنْبَسَةُ عَنْ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ عَنَاقًا ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর আবূ বাকর (রাঃ) খলীফা হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন আরবের কিছু গোত্র কুফরী করলো। ‘উমার (রাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললেন, আপনি এ লোকদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আমি লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে, তার জান-মাল আমার থেকে নিরাপদ। তবে আইনের বিষয়টি ভিন্ন এবং তার প্রকৃত বিচার মহান আল্লাহর উপর ন্যস্ত’’। তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ শপথ! যে ব্যক্তি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। সম্পদের হক/অধিকার হলো যাকাত। আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমাকে একটি রশি দিতেও অস্বীকৃতি জানায় যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতো, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি বুঝতে পারলাম যে, মহান আল্লাহ আবূ বাকরের হৃদয়কে যুদ্ধের জন্য উম্মুখ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারলাম যে, এটাই হাক্ব ও সঠিক।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। কিন্তু তার উক্তি : (عقالاً) শায। মাহফূয হচ্ছে : (عناقاً)। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, রাবাহ ইবনু যায়িদ মা‘মার হতে, তিনি যুহরী হতে উল্লেখিত সানাদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, উটের রশি। বর্ণনাকারী ইবনু ওয়াহাব ইউনুস সূত্রে বলেছেন, ছা্গল ছানা। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, শু‘আইব ইবনু আবূ হামযাহ এবং মা‘মার ও যুবাইদী যুহরী হতে এ হাদীসে বলেছেন, ‘যদি তারা একটি বকরীর বাচ্চা দিতেও অস্বীকার করে’। আর আনবাসাহ ইউনুস হতে যুহরী সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বকরীর বাচ্চা। সহীহ : বুখারী, এবং তিনি বলেছেন, এটি (عقالاً) এর বর্ণনার চাইতে অধিক বিশুদ্ধ।
০২
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৫৭
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ حَقَّهُ أَدَاءُ الزَّكَاةِ وَقَالَ عِقَالاً ‏.‏
যুহরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকর (রাঃ) বলেছেন, মালের হাক্ব হচ্ছে যাকাত এবং তিনি রশির কথা উল্লেখ করেছেন।[1] সহীহ : কিন্তু হাদীসটি এ শব্দে শায।
০৩
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৫৮
আবু সাইদ আল খুদরী (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
‘আমর ইবনু ইয়াহইয়া আল-মাযিনী (রহঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচটি উটের কমে যাকাত নেই, পাঁচ উকিয়ার কমে যাকাত নেই এবং পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
০৪
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৫৯
আবুসাইদ আল-খুদরি (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِدْرِيسُ بْنُ يَزِيدَ الأَوْدِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ الْجَمَلِيِّ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ زَكَاةٌ ‏"‏ ‏.‏ وَالْوَسْقُ سِتُّونَ مَخْتُومًا ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو الْبَخْتَرِيِّ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي سَعِيدٍ ‏.‏
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াসাকের কমে যাকাত নেই। এক ওয়াসাক হচ্ছে ষাট সা‘।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আবুল বাখতারী (রহঃ) আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে হাদীস শুনেননি।
০৫
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ الْوَسْقُ سِتُّونَ صَاعًا مَخْتُومًا بِالْحَجَّاجِيِّ ‏.‏
ইবরাহীম (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ওয়াসাক হচ্ছে ষাট সা‘। এটি আল-হাজ্জাজ কর্তৃক নির্ধারিত।[1] সহীহ মাক্বতূ‘।
০৬
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬১
হাবিব আল-মালিকি (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا صُرَدُ بْنُ أَبِي الْمَنَازِلِ، قَالَ سَمِعْتُ حَبِيبًا الْمَالِكِيَّ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ يَا أَبَا نُجَيْدٍ إِنَّكُمْ لَتُحَدِّثُونَنَا بِأَحَادِيثَ مَا نَجِدُ لَهَا أَصْلاً فِي الْقُرْآنِ ‏.‏ فَغَضِبَ عِمْرَانُ وَقَالَ لِلرَّجُلِ أَوَجَدْتُمْ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَمِنْ كُلِّ كَذَا وَكَذَا شَاةً شَاةٌ وَمِنْ كُلِّ كَذَا وَكَذَا بَعِيرًا كَذَا وَكَذَا أَوَجَدْتُمْ هَذَا فِي الْقُرْآنِ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ فَعَنْ مَنْ أَخَذْتُمْ هَذَا أَخَذْتُمُوهُ عَنَّا وَأَخَذْنَاهُ عَنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ أَشْيَاءَ نَحْوَ هَذَا ‏.‏
সুরাদ ইবনু আবুল মানাযিল (রহঃ) বলেন, আমি হাবীব আল-মালিকী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)-কে বললো, হে আবূ নুজাইদ! আপনারা আমাদের কাছে এমন হাদীসও বর্ণনা করেন, যার কোনো বুনিয়াদ কুরআনে পাই না। এ কথা শুনে ‘ইমরান (রাঃ) অসন্তুষ্ট হয়ে লোকটিকে বললেন, তোমরা কি কুরআনের মধ্যে কোথাও পেয়েছো যে, প্রত্যেক চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম (যাকাত) দিতে হবে, এত এত ছাগলে একটি ছাগল এত এত উটে একটি উট দিতে হবে? সে বললো, না। তিনি বললেন, তাহলে এটা তোমরা কোথায় পেয়েছ? মূলতঃ তোমরা এটা সাহাবীদের কাছ থেকে জেনেছো এবং আমরা পেয়েছি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। তিনি অনুরূপ আরো কিছু বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন।[1] দুর্বল।
০৭
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬২
সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، سُلَيْمَانَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ نُخْرِجَ الصَّدَقَةَ مِنَ الَّذِي نُعِدُّ لِلْبَيْعِ ‏.‏
সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত দিতে নির্দেশ করেছেন।[1] দুর্বল।
০৮
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬৩
আমর ইবনু শুআইব
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، - الْمَعْنَى - أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَهَا وَفِي يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَهَا ‏"‏ أَتُعْطِينَ زَكَاةَ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللَّهُ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَتْ هُمَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلِرَسُولِهِ ‏.‏
‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। একদা এক মহিলা তার কন্যাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো। তার কন্যার হাতে দু‘টি মোটা স্বর্ণের কঙ্কন ছিলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এর যাকাত দাও? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট যে, মহান আল্লাহ এর বিনিময়ে কিয়ামতের দিন তোমাকে আগুনের দু’টি কঙ্কন পরিয়ে দিবেন? বর্ণনাকারী বলেন, সে তৎক্ষণাত তা খুলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে রেখে দিয়ে বললো, এ দু‘টি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্য।[1] হাসান।
০৯
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬৪
উম্মে সালামাহ, উম্মুল মুমিনীন (রা.)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَتَّابٌ، - يَعْنِي ابْنَ بَشِيرٍ - عَنْ ثَابِتِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَلْبَسُ أَوْضَاحًا مِنْ ذَهَبٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَنْزٌ هُوَ فَقَالَ ‏
"‏ مَا بَلَغَ أَنْ تُؤَدَّى زَكَاتُهُ فَزُكِّيَ فَلَيْسَ بِكَنْزٍ ‏"‏ ‏.‏
উম্মু সালামাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বর্ণের অলংকার পরতাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এটা কি কান্য (সঞ্চিত সম্পদ) হিসেবে গণ্য হবে? তিনি বললেনঃ যে সম্পদ নিসাব পরিমাণ হয় এবং তার যাকাত দেয়া হয়, তা ‘কানয’ নয়।[1] হাসান : এর কেবল মারফু অংশটুকু।
১০
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬৫
আব্দুল্লাহ বিন শাদ্দাদ বিন আল হাদ (রহ.)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ طَارِقٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى فِي يَدِي فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ فَقَالَ ‏"‏ مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ صَنَعْتُهُنَّ أَتَزَيَّنُ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنَّ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ لاَ أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏
‘আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ ইবনুল হাদ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট গেলে তিনি বললেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে এসে আমার হাতে রূপার বড় আংটি দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে ‘আয়িশাহ! এটা কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উদ্দেশে সাজসজ্জার জন্য আমি এটা বানিয়েছি। তিনি বললেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত দাও? আমি বললাম, না, অথবা আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন। তিনি বললেন, তোমাকে (জাহান্নামের) আগুনে নিয়ে যেতে এটাই যথেষ্ট।[1] সহীহ।
১১
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬৬
حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ يَعْلَى، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ نَحْوَ حَدِيثِ الْخَاتَمِ ‏.‏ قِيلَ لِسُفْيَانَ كَيْفَ تُزَكِّيهِ قَالَ تَضُمُّهُ إِلَى غَيْرِهِ ‏.‏
‘উমার ইবনু ই‘য়ালা (রহঃ) হতে এ সূত্রেও আংটি সম্পর্কিত পূর্বানুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সুফয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এর যাকাত কিভাবে দিবে? তিনি বলেন, যাকাতের অন্যান্য মালের সাথে যোগ করে।[1] দুর্বল।
১২
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬৭
হাম্মাদ (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ أَخَذْتُ مِنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ كِتَابًا زَعَمَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، كَتَبَهُ لأَنَسٍ وَعَلَيْهِ خَاتَمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَعَثَهُ مُصَدِّقًا وَكَتَبَهُ لَهُ فَإِذَا فِيهِ ‏"‏ هَذِهِ فَرِيضَةُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَهَا فَلاَ يُعْطِهِ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الإِبِلِ الْغَنَمُ فِي كُلِّ خَمْسِ ذَوْدٍ شَاةٌ ‏.‏ فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ خَمْسًا وَثَلاَثِينَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَثَلاَثِينَ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَسِتِّينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَسَبْعِينَ فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ فَإِذَا تَبَايَنَ أَسْنَانُ الإِبِلِ فِي فَرَائِضِ الصَّدَقَاتِ فَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَأَنْ يَجْعَلَ مَعَهَا شَاتَيْنِ - إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ - أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ مِنْ هَا هُنَا لَمْ أَضْبِطْهُ عَنْ مُوسَى كَمَا أُحِبُّ ‏"‏ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ - إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ - أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ بِنْتِ لَبُونٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِلَى هَا هُنَا ثُمَّ أَتْقَنْتُهُ ‏"‏ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ بِنْتُ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَشَاتَيْنِ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ مَخَاضٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ ابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَىْءٌ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلاَّ أَرْبَعٌ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي سَائِمَةِ الْغَنَمِ إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ فَفِيهَا شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى مِائَتَيْنِ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ ثَلاَثَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ مِنَ الْغَنَمِ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ فَإِنْ لَمْ تَبْلُغْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ أَرْبَعِينَ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي الرِّقَةِ رُبْعُ الْعُشْرِ فَإِنْ لَمْ يَكُنِ الْمَالُ إِلاَّ تِسْعِينَ وَمِائَةً فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا ‏"‏ ‏.‏
হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আমি সুমামাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আনাস (রাঃ) হতে একখানা কিতাব গ্রহণ করি। সুমামাহর ধারণা, আবূ বাকর (রাঃ) এটি আনাস (রাঃ)-কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণকালে লিখেছিলেন এবং তাতে রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মোহরাঙ্কিত ছিলো। তাতে লিখা ছিলোঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফারয যাকাতের বিষয়ে মুসলিমদের উপর যা নির্ধারিত করেছেন এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তাঁর রসূলকে যা আদেশ করেছেন। কাজেই যেকোন মুসলিমের নিকট বিধি অনুসারে যাকাত চাওয়া হবে সে যেন তা দিয়ে দেয়। কিন্তু কারো কাছে অতিরিক্ত দাবি করা হলে সে যেন অতিরিক্ত না দেয়। পঁচিশটি উটের কম হলে প্রতি পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী দিতে হবে। উটের সংখ্যা পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হলে তাতে একটি বিনতু মাখাদ (দুই বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। তার কাছে এরূপ উট না থাকলে একটি ‘ইবনু লাবূন’ (তিন বছরের) উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে তাতে একটি ‘বিনতু লাবূন’ (তিন বছর বয়সের উষ্ট্রী) দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ থেকে ষাট পর্যন্ত হলে তাতে একটি ‘হিক্কাহ’ (চার বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা একষট্রি থেকে পঁচাত্তর হলে তাতে একটি ‘জাযাআহ্’ (পাঁচ বছরের) উষ্ট্রী দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর থেকে নব্বই হলে তাতে দু‘টি ‘বিনতু লাবূন’ দিতে হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই থেকে একশত বিশ হলে দু’টি হিক্কাহ দিতে হবে। এক শত বিশ-এর উর্ধে হলে প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি করে ‘বিনতু লাবূন’ এবং প্রতি পঞ্চাশটির জন্য একটি করে ‘হিক্কাহ’ দিবে। যদি যাকাতযোগ্য বয়সের উট না থাকে, যেমন, কারো জাযাআহ্ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটার পরিবর্তে হিক্কাহ আছে, তখন হিক্কাহ গ্রহণ করতে হবে এবং এর সাথে সহজলভ্য হলে দু‘টি বকরী কিংবা বিশ দিরহামও দিতে হবে। একইভাবে কারো উপর হিক্কাহ দেয়া ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে সেটা নেই বরং জাযাআহ আছে। তখন তার থেকে জাযাআহ গ্রহণ করতে হবে এবং যাকাত উসুলকারী বিশ দিহরাম কিংবা দু‘টি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে দিবে। এমনিভাবে কারো উপর হিক্কাহ ওয়াজিব, কিন্তু তার কাছে তা নেই, বরং জাযাআহ আছে। তার থেকে সেটাই নিতে হবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এখানে আমি আমার উস্তাদ মূসা ইবনু ইসমাঈল হতে আশানুরূপ আয়ত্ত করতে পারিনি। এখানেও যাকাতদাতা সহজলভ্য দু‘টি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। যার উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব কিন্তু সেটা তার কাছে নেই, বরং তার কাছে হিক্কাহ আছে। সেটাই তার কাছ থেকে নিতে হবে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ পর্যন্ত আমি সন্দিহান ছিলাম, পরবর্তীতে আমি পূর্ণ আস্থাশীল হই। অর্থাৎ তহশীলদার বিশ দিরহাম অথবা দু‘টি বকরী যাকাত প্রদানকারীকে ফেরত দিবে। যদি কারো উপর বিনতু লাবূন ওয়াজিব হয় এবং সেটা তার কাছে না থাকে, বরং বিনতু মাখাদ থাকে, তখন তার থেকে সেটাই গ্রহণ করবে এবং এর দু’টি বকরী অথবা বিশ দিরহাম প্রদান করবে। যদি কারো উপর বিনতু মাখাদ ওয়াজিব হয়, অথচ তা তার কাছে নেই, বরং তার নিকট আছে ইবনু লাবূন, তখন সেটাই গ্রহণ করবে এবং সাথে কিছুই দিতে হবে না। আর কারো কাছে চারটি উট থাকলে তাকে কিছুই দিতে হবে না। অবশ্য উটের মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তা ভিন্ন কথা। স্বাধীনভাবে চরে বেড়ানো মেষ-বকরীর সংখ্যা চল্লিশ থেকে একশো বিশ পর্যন্ত পৌছলে একটি বকরী দিতে হবে। একশত বিশ অতিক্রম করে দুইশো পর্যন্ত পৌঁছলে দু‘টি বকরী। বকরীর সংখ্যা দুইশো অতিক্রম করে তিনশো পর্যন্ত হলে তিনটি বকরী এবং তিনশো থেকে অধিক হলে প্রতি একশোটির জন্য একটি বকরী যাকাত দিতে হবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা অন্ধ বকরী-ছাগল নেয়া হবে না। তবে আদায়কারী তা নিতে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকাতের ভয়ে পৃথক পৃথক মালকে যেন একত্র না করা হয় এবং একত্রে থাকা মালকে যেন পৃথক না করা হয়। দুই শরীকের কাছ থেকে যে যাকাত আদায় করা হবে সেটা তারা নিজ নিজ অংশ হিসাবে বহন করবে। চরে বেড়ানো বকরীর সংখ্যা চল্লিশ না হলে কিছুই দিতে হবে না। তবে মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলে ভিন্ন কথা। রূপার যাকাতের পরিমাণ হলো চল্লিশ ভাগের এক ভাগ। রৌপ্য মুদ্রা একশো নব্বই হলে কিছুই দিতে হবে না। হ্যাঁ, মালিক স্বেচ্ছায় কিছু দিলে তাতে আপত্তি নেই।[1] সহীহ : বুখারী সংক্ষেপে।
১৩
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬৮
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابَ الصَّدَقَةِ فَلَمْ يُخْرِجْهُ إِلَى عُمَّالِهِ حَتَّى قُبِضَ فَقَرَنَهُ بِسَيْفِهِ فَعَمِلَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى قُبِضَ ثُمَّ عَمِلَ بِهِ عُمَرُ حَتَّى قُبِضَ فَكَانَ فِيهِ ‏
"‏ فِي خَمْسٍ مِنَ الإِبِلِ شَاةٌ وَفِي عَشْرٍ شَاتَانِ وَفِي خَمْسَ عَشَرَةَ ثَلاَثُ شِيَاهٍ وَفِي عِشْرِينَ أَرْبَعُ شِيَاهٍ وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ ابْنَةُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَةُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّةٌ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الإِبِلُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ وَفِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً فَشَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً عَلَى الْمِائَتَيْنِ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الْغَنَمُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ وَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ حَتَّى تَبْلُغَ الْمِائَةَ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ مَخَافَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَيْبٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ إِذَا جَاءَ الْمُصَدِّقُ قُسِمَتِ الشَّاءُ أَثْلاَثًا ثُلُثًا شِرَارًا وَثُلُثًا خِيَارًا وَثُلُثًا وَسَطًا فَأَخَذَ الْمُصَدِّقُ مِنَ الْوَسَطِ وَلَمْ يَذْكُرِ الزُّهْرِيُّ الْبَقَرَ ‏.‏
সালিম (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত হিসেবে যে পত্র লিখেছেন তা কমকর্তাদের নিকট পৌছার পূর্বেই তিনি ইনতিকাল করেন। ফলে তা তাঁর তরবারির খাপের মধ্যেই থেকে যায়। অতঃপর আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত সে বিধান অনুযায়ী কাজ করেন। তাঁর পরে ‘উমার (রাঃ) তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তদানুযায়ী কাজ করেন। তাতে লিখা ছিলঃ প্রত্যেক পাঁচটি উটের জন্য একটি বকরী, দশটির জন্য দু‘টি বকরী, পনেরটির জন্য তিনটি বকরী এবং বিশটির জন্য চারটি বকরী প্রদান করতে হবে। পঁচিশটির জন্য দিতে হবে একটি বিনতু মাখাদ এবং তা পঁয়ত্রিশটি পর্যন্ত। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত একটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত দিতে হবে একটি হিককাহ। যখন এর থেকে একটিও বর্ধিত হবে, তখন পঁচাত্তর পর্যন্ত দিতে হবে একটি জাযাআহ। যখন এর থেকে একটিও বর্ধিত হবে, তখন দু‘টি বিনতু লাবূন দিতে হবে। যখন এর থেকেও একটি বৃদ্ধি পাবে, তখন দু‘টি হিককাহ দিতে হবে, তা একশো বিশ পর্যন্ত। উটের সংখ্যা এর অধিক হলে প্রত্যেক পঞ্চাশে একটি হিককাহ এবং প্রত্যেক চল্লিশে একটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। ছাগলের ক্ষেত্রে প্রত্যেক চল্লিশটি ছাগলের জন্য একটি বকরী একশো বিশ পর্যন্ত। এর থেকে একটিও বর্ধিত হলে দুইশো পর্যন্ত দু‘টি বকরী। দুই শতের অধিক হলে তিনশো পর্যন্ত তিনটি বকরী। ছাগলের সংখ্যা এর চাইতে অধিক হলে প্রত্যেক একশো’তে একটি বকরী দিতে হবে। ছাগলের সংখ্যা একশো না হলে কিছুই দিতে হবে না। যাকাত দেয়ার ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্র এবং একত্রকে ভিন্ন ভিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের উপর যে যাকাত ধার্য হবে, তা উভয়ে সমান হারে বহন করবে। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ অথবা দোষযুক্ত (পশু) গ্রহণ করা যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, যুহরী (রহঃ) বলেছেন, যাকাত আদায়কারীর উচিত হলো, যাকাত আদায়ের সময় সমস্ত বকরীগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করবে। এক ভাগ নিকৃষ্ট, এক ভাগ উৎকৃষ্ট এবং এক ভাগ মধ্যম। সুতরাং আদায়কারী ‘মধ্যম’ মানের পশুই নিবে। যুহরীর বর্ণনায় গরুর যাকাত সম্বন্ধে কিছুই উল্লেখ নেই।[1] সহীহ।
১৪
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৬৯
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ ‏
"‏ فَإِنْ لَمْ تَكُنِ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ‏"‏ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ كَلاَمَ الزُّهْرِيِّ ‏.‏
সুফয়ান ইবনু হুসাইন (রহঃ) হতে উপরোক্ত সানাদে এ হাদীসের ভাবার্থ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিনতু মাখাদ না থাকলে ইবনু লাবূন দিতে হবে। এ বর্ণনায় যুহরীর কথাটি উল্লেখ নেই।[1] সহীহ।
১৫
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ هَذِهِ نُسْخَةُ كِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي كَتَبَهُ فِي الصَّدَقَةِ وَهِيَ عِنْدَ آلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَقْرَأَنِيهَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَوَعَيْتُهَا عَلَى وَجْهِهَا وَهِيَ الَّتِي انْتَسَخَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ ‏"‏ فَإِذَا كَانَتْ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ بَنَاتِ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ ثَلاَثِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ وَحِقَّةٌ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَثَلاَثِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ وَبِنْتُ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ خَمْسِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ حِقَاقٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَخَمْسِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ سِتِّينَ وَمِائَةً فَفِيهَا أَرْبَعُ بَنَاتِ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَسِتِّينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ سَبْعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ بَنَاتِ لَبُونٍ وَحِقَّةٌ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَسَبْعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ ثَمَانِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ وَابْنَتَا لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَثَمَانِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ تِسْعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ حِقَاقٍ وَبِنْتُ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَتِسْعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَيْنِ فَفِيهَا أَرْبَعُ حِقَاقٍ أَوْ خَمْسُ بَنَاتِ لَبُونٍ أَىُّ السِّنَّيْنِ وُجِدَتْ أُخِذَتْ وَفِي سَائِمَةِ الْغَنَمِ ‏"‏ ‏.‏ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ وَفِيهِ ‏"‏ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ مِنَ الْغَنَمِ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু শিহাব (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাত সম্পর্কে যে ফরমান লিখিয়েছেন এটা সেই পান্ডুলিপি যা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর পরিবারে সংরক্ষিত আছে। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তা আমাকে পড়িয়েছেন এবং আমি তা হুবহু মুখস্ত করি। পরবর্তীতে তা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এবং সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে কপি করেন। তিনি বলেন, উটের সংখ্যা একশো একুশ থেকে একশো উনত্রিশ হলে তিনটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। একশো ত্রিশ থেকে একশো ঊনচল্লিশ হলে দু‘টি বিনতু লাবূন ও একটি হিককাহ দিতে হবে। আর একশো চল্লিশ থেকে ঊনপঞ্চাশ হলে দু‘টি হিককাহ ও একটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। একশো পঞ্চাশ থেকে একশো উনষাট হলে দিতে হবে তিনটি হিক্কাহ। একশো ষাট থেকে একশো উনসত্তর পর্যন্ত তিনটি বিনতু লাবূন ও একটি হিক্কাহ দিতে হবে। একশো আশি থেকে একশো ঊননব্বই পর্যন্ত দু‘টি হিক্কাহ ও দুটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। একশো নব্বই হলে তা থেকে একশো নিরানব্বই পর্যন্ত তিনটি হিক্কাহ ও একটি বিনতু লাবূন। দুইশো হলে চারটি হিককাহ অথবা পাঁচটি বিনতু লাবূন দিতে হবে। এ উভয় বয়সের মধ্যে যেটাই পাওয়া যাবে সেটাই নেয়া হবে। আর চরে বেড়ানো ছাগল (এর যাকাত সম্বন্ধে) ইবনু শিহাব ইতিপূর্বে সুফয়ান ইবনু হুসাইনের হাদীসে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে, যাকাত বাবদ অতিবৃদ্ধ ও দোষযুক্ত বকরী নেয়া হবে না, এবং পুরুষ জাতীয় (পাঠা)-ও না। অবশ্য যাকাত আদায়কারী প্রয়োজনে নিতে চাইলে নিতে পারে।[1] সহীহ।
১৬
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭১
মালিক (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَالَ مَالِكٌ وَقَوْلُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه لاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ ‏.‏ هُوَ أَنْ يَكُونَ لِكُلِّ رَجُلٍ أَرْبَعُونَ شَاةً فَإِذَا أَظَلَّهُمُ الْمُصَدِّقُ جَمَعُوهَا لِئَلاَّ يَكُونَ فِيهَا إِلاَّ شَاةٌ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ ‏.‏ أَنَّ الْخَلِيطَيْنِ إِذَا كَانَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةُ شَاةٍ وَشَاةٌ فَيَكُونُ عَلَيْهِمَا فِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ فَإِذَا أَظَلَّهُمَا الْمُصَدِّقُ فَرَّقَا غَنَمَهُمَا فَلَمْ يَكُنْ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا إِلاَّ شَاةٌ فَهَذَا الَّذِي سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ ‏.‏
ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর উক্তিঃ ‘"একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকেও একত্র করা যাবে না"। এর ব্যাখ্যা হলো, দুই মালিকের পৃথক পৃথকভাবে চল্লিশটি ছাগল আছে। অতঃপর তাদের কাছে যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হলে তারা উভয়ের পৃথক পৃথক ছাগলগুলোকে একত্র করে (তা যৌথ বলে দাবী করলো)। যাতে তাদের একটির অধিক বকরী দিতে না হয়। আর একত্রকে বিচ্ছিন্ন না করার ব্যাখ্যা হলো, যেমন দু‘জন সমান অংশীদারের প্রত্যেকের একশো একটি ছাগল আছে। (হিসেব মতে, দুইশো দু’টিতে) যাকাত দিতে হয় তিনটি বকরী। কিন্তু যখন তাদের কাছে যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হয় তখন তারা (একশো একটি করে) পৃথক করে ফেললো। ফলে উভয়কে একটি করে বকরী দিতে হলো। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, এর ব্যাখ্যা আমি এরূপই শুনেছি। [1] সহীহ মাক্বতূ‘।
১৭
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭২
আল-হারিস আল-আ'ওয়ার (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، وَعَنِ الْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ هَاتُوا رُبْعَ الْعُشُورِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ شَىْءٌ حَتَّى تَتِمَّ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ فَمَا زَادَ فَعَلَى حِسَابِ ذَلِكَ وَفِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ إِلاَّ تِسْعًا وَثَلاَثِينَ فَلَيْسَ عَلَيْكَ فِيهَا شَىْءٌ ‏"‏ ‏.‏ وَسَاقَ صَدَقَةَ الْغَنَمِ مِثْلَ الزُّهْرِيِّ قَالَ ‏"‏ وَفِي الْبَقَرِ فِي كُلِّ ثَلاَثِينَ تَبِيعٌ وَفِي الأَرْبَعِينَ مُسِنَّةٌ وَلَيْسَ عَلَى الْعَوَامِلِ شَىْءٌ وَفِي الإِبِلِ ‏"‏ ‏.‏ فَذَكَرَ صَدَقَتَهَا كَمَا ذَكَرَ الزُّهْرِيُّ قَالَ ‏"‏ وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ خَمْسَةٌ مِنَ الْغَنَمِ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَةُ مَخَاضٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْجَمَلِ إِلَى سِتِّينَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ سَاقَ مِثْلَ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ قَالَ ‏"‏ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً - يَعْنِي وَاحِدَةً وَتِسْعِينَ - فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْجَمَلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الإِبِلُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَلاَ تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ وَلاَ تَيْسٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَفِي النَّبَاتِ مَا سَقَتْهُ الأَنْهَارُ أَوْ سَقَتِ السَّمَاءُ الْعُشْرُ وَمَا سَقَى الْغَرْبُ فَفِيهِ نِصْفُ الْعُشْرِ ‏"‏ ‏.‏ وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ وَالْحَارِثِ ‏"‏ الصَّدَقَةُ فِي كُلِّ عَامٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ قَالَ ‏"‏ مَرَّةً ‏"‏ ‏.‏ وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ ‏"‏ إِذَا لَمْ يَكُنْ فِي الإِبِلِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَلاَ ابْنُ لَبُونٍ فَعَشَرَةُ دَرَاهِمَ أَوْ شَاتَانِ ‏"‏ ‏.‏
‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। যুহাইর (রহঃ) বলেন, আমার ধারনা, এ হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা প্রতি চল্লিম দিরহামে এক দিরহাম (যাকাত) দিবে এবং দুইশো দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোন যাকাত নেই। আর দুইশো দিরহাম পূর্ণ হলে তাতে পাঁচ দিরহাম দিতে হবে এবং এর অতিরিক্ত হলে, উপরোক্ত হিসাব অনুযায়ী দিতে হবে। ছাগলের যাকাত হলো, প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি বকরী। বকরীর সংখ্যা ঊনচল্লিশ হলে যাকাত হিসেবে তোমার উপর কিছুই ওয়াজিব নয়। অতঃপর বকরীর হিসাব ও যাকাত যুহরীর বর্ণনানুযায়ী বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, গরুর যাকাত হচ্ছে, প্রতি ত্রিশটি গরুর জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি বাছুর এবং চল্লিশটির জন্য পূর্ণ দুই বছরের একটি বাছুর। তবে কৃষিকাজে নিয়োজিত পশুর যাকাত নেই। উটের যাকাতও যুহরীর বর্ণনানুরূপ দিতে হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ পঁচিশটি উটের জন্য পাঁচটি বকরী এবং একটিও বর্ধিত হলে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত একটি বিনতু মাখাদ দিতে হবে। বিনতু মাখাদ না থাকলে একটি ইবনু লাবূন দিবে। এর থেকে একটিও বৃদ্ধি পেলে ষাট পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী একটি হিককাহ দিতে হবে। অতঃপর যুহরীর হাদীসের বর্ণনানুরূপ। তিনি বলেনঃ যদি একটিও বর্ধিত হয় অর্থাৎ একানব্বই হয়, তা থেকে একশো বিশ পর্যন্ত গর্ভধারণ করার উপযোগী দু’টি হিককাহ দিবে। আর যাকাত দেয়ার ভয়ে একত্রকে বিচ্ছিন্ন এবং বিচ্ছিন্নকে একত্র করা যাবে না। যাকাত হিসেবে অতিবৃদ্ধ এবং দোষযুক্ত পশু গ্রহণ করা যাবে না এবং কোনো পাঠাও নেয়া যাবে না। তবে আদায়কারী নিতে চাইলে নিতে পারবে। শস্যের যাকাত হচ্ছে, ভুমি নদ-নদী অথবা বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত হলে ‘উশর’ দিতে হবে (এক-দশমাংশ)। আর যেসব ভূমিতে পানিসেচ করতে হয় তাতে দিতে হবে বিশ ভাগের এক ভাগ। ‘আসিম ও হারিসের হাদীসে এটাও রয়েছে, যাকাত প্রতি বছরই দিতে হবে। যুহাইর বলেন, আমার ধারণা, প্রতি বছর একবার বলেছেন। ‘আসিমের হাদীসে রয়েছে, বিনতু মাখাদ ও ইবনু লাবূন না থাকলে দশ দিরহাম অথবা দু‘টি বকরী প্রদান করতে হবে।[1] সহীহ।
১৮
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭৩
আলী ইবনে আবুতালিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، وَسَمَّى، آخَرَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، وَالْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِبَعْضِ أَوَّلِ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ ‏"‏ فَإِذَا كَانَتْ لَكَ مِائَتَا دِرْهَمٍ وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ وَلَيْسَ عَلَيْكَ شَىْءٌ - يَعْنِي فِي الذَّهَبِ - حَتَّى يَكُونَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا فَإِذَا كَانَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا نِصْفُ دِينَارٍ فَمَا زَادَ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَلاَ أَدْرِي أَعَلِيٌّ يَقُولُ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ ‏.‏ أَوْ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَلَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ ‏"‏ ‏.‏ إِلاَّ أَنَّ جَرِيرًا قَالَ ابْنُ وَهْبٍ يَزِيدُ فِي الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ ‏"‏ ‏.‏
‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীসের প্রথম দিকের কিছু অংশ বর্ণনার পর বলেন, তিনি বলেছেন, তোমার কাছে দুইশো দিরহাম থাকলে এবং তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে পাঁচ দিরহাম (যাকাত) দিবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে বিশ দীনারের কমে যাকাত নেই। বিশ দীনারে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে অর্ধ দীনার যাকাত দিতে হবে। এরপর যা বাড়বে তাতে উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হবে। বর্ণনাকারী বলেন, ‘‘উপরোক্ত হিসেবে যাকাত দিতে হবে’’ এটা ‘আলীর (রাঃ) কথা নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তা আমার জানা নেই। আর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্পদেই যাকাত দিতে হয় না। ইবনু ওয়াহব বলেন, জারীর তার বর্ণনায় বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক বছর অতিবাহিত না হলে কোনো সম্পদেই যাকাত নেই।[1] সহীহ।
১৯
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭৪
আলী ইবনে আবুতালিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ قَدْ عَفَوْتُ عَنِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ فَهَاتُوا صَدَقَةَ الرِّقَةِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ فِي تِسْعِينَ وَمِائَةٍ شَىْءٌ فَإِذَا بَلَغَتْ مِائَتَيْنِ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ كَمَا قَالَ أَبُو عَوَانَةَ وَرَوَاهُ شَيْبَانُ أَبُو مُعَاوِيَةَ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَدِيثَ النُّفَيْلِيِّ شُعْبَةُ وَسُفْيَانُ وَغَيْرُهُمَا عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ عَلِيٍّ لَمْ يَرْفَعُوهُ أَوْقَفُوهُ عَلَى عَلِيٍّ ‏.‏
‘আলী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘোড়া ও গোলামের যাকাত মাফ করেছি। কিন্তু রৌপ্যের যাকাত প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম দিতে হবে এবং একশো নব্বই তোলা পর্যন্ত যাকাত নেই, যখন দুইশো পূর্ণ হবে তখন পাঁচ দিরহাম দিতে হবে।[1] সহীহ।
২০
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭৫
বাহজ বি হাকিম (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ فِي كُلِّ سَائِمَةِ إِبِلٍ فِي أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَلاَ يُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ ‏"‏ مُؤْتَجِرًا بِهَا ‏"‏ ‏.‏ ‏"‏ فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ لَيْسَ لآلِ مُحَمَّدٍ مِنْهَا شَىْءٌ ‏"‏ ‏.‏
বাহয ইবনু হাকীম হতে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চারণভূমিতে বিচরণশীল উটের চল্লিশটির জন্য একটি বিনতু লাবূন যাকাত দিতে হবে এবং একটি উটকেও বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের উদ্দেশে দিবে, ইবনুল ‘আলা’ বলেন, ‘‘যে সওয়াবের জন্য দিবে, সে তাই পাবে। আর যে ব্যক্তি তা দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, আমি তা আদায় করবোই এবং (শাস্তিস্বরূপ) তার সম্পদের অর্ধেক নিবো। কেননা এটাই আমাদের মহান রবের হাক্ব। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার-পরিজনের জন্য এর থেকে সামান্য পরিমাণও নেই।’’[1] হাসান।
২১
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭৬
মু'আয বিন জাবাল (রাঃ)
حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مُعَاذٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا وَجَّهَهُ إِلَى الْيَمَنِ أَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنَ الْبَقَرِ مِنْ كُلِّ ثَلاَثِينَ تَبِيعًا أَوْ تَبِيعَةً وَمِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنَّةً وَمِنْ كُلِّ حَالِمٍ - يَعْنِي مُحْتَلِمًا - دِينَارًا أَوْ عِدْلَهُ مِنَ الْمَعَافِرِ ثِيَابٌ تَكُونُ بِالْيَمَنِ ‏.‏
মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামান দেশে পাঠানোর সময় এ নির্দেশ দেন যে, গরুর (যাকাত) প্রতি ত্রিশটির জন্য পূর্ণ এক বছর বয়সী একটি এড়ে বাছুর বা বকনা বাছুর এবং প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক যিম্মী থেকে এক দীনার বা এর সম-মূল্যের কাপড়- যা ইয়ামেনে তৈরি হয় আদায় করতে হবে।[1] সহীহ।
২২
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭৭
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَالنُّفَيْلِيُّ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ ‏.‏
মু‘আয (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
২৩
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭৮
মু'আয বিন জাবাল (রাঃ)
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ بَعَثَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَمَنِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ لَمْ يَذْكُرْ ثِيَابًا تَكُونُ بِالْيَمَنِ ‏.‏ وَلاَ ذَكَرَ يَعْنِي مُحْتَلِمًا ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ جَرِيرٌ وَيَعْلَى وَمَعْمَرٌ وَشُعْبَةُ وَأَبُو عَوَانَةَ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ مَسْرُوقٍ - قَالَ يَعْلَى وَمَعْمَرٌ - عَنْ مُعَاذٍ مِثْلَهُ ‏.‏
মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামান দেশে প্রেরণ করেন... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে ইয়ামান দেশের তৈরি কাপড়ের কথা উল্লেখ করেননি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পর্কে কিছুই বলেননি।[1] সহীহ।
২৪
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৭৯
সুওয়াইদ ইবন গাফলাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ مَيْسَرَةَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ سِرْتُ أَوْ قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ، سَارَ مَعَ مُصَدِّقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَنْ لاَ تَأْخُذْ مِنْ رَاضِعِ لَبَنٍ وَلاَ تَجْمَعْ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ تُفَرِّقْ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ ‏"‏ ‏.‏ وَكَانَ إِنَّمَا يَأْتِي الْمِيَاهَ حِينَ تَرِدُ الْغَنَمُ فَيَقُولُ أَدُّوا صَدَقَاتِ أَمْوَالِكُمْ ‏.‏ قَالَ فَعَمَدَ رَجُلٌ مِنْهُمْ إِلَى نَاقَةٍ كَوْمَاءَ - قَالَ - قُلْتُ يَا أَبَا صَالِحٍ مَا الْكَوْمَاءُ قَالَ عَظِيمَةُ السَّنَامِ - قَالَ - فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا قَالَ إِنِّي أُحِبُّ أَنْ تَأْخُذَ خَيْرَ إِبِلِي ‏.‏ قَالَ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا قَالَ فَخَطَمَ لَهُ أُخْرَى دُونَهَا فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا ثُمَّ خَطَمَ لَهُ أُخْرَى دُونَهَا فَقَبِلَهَا وَقَالَ إِنِّي آخِذُهَا وَأَخَافُ أَنْ يَجِدَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِي عَمَدْتَ إِلَى رَجُلٍ فَتَخَيَّرْتَ عَلَيْهِ إِبِلَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ هُشَيْمٌ عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ نَحْوَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ لاَ يُفَرِّقْ ‏"‏ ‏.‏
সুওয়াইদ ইবনু গাফালার (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফর করেছি অথবা যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যাকাত আদায়কারীর সঙ্গে সফর করেছেন তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে (নিয়ম ছিলো) দু প্রদানকারী পশু নেয়া যাবে না। বিচ্ছিন্নকে একত্র করা এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। এরপর লোকেরা তাদের পশুপালকে পানি পান করানোর জন্য কূপের কাছে নিয়ে এলে আদায়কারী পানির কূপের নিকট এসে বলতেন, তোমরা তোমাদের সম্পদের যাকাত আদায় করো’। বর্ণনাকারী বলেন, তাদের এক ব্যক্তি একটি কূমাআ উষ্ট্রী নিয়ে এলো। আমি বললাম, হে আবূ সলিহ! কূমাআ কি? তিনি বললেন, উঁচু কুঁজবিশিষ্ট। বর্ণনাকারী বলেন, (আদায়কারী সেটা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে) যাকাতদাতা বললো, আমি আকাঙ্খা করেছি যে, আপনি আমার সর্বোৎকৃষ্ট উটটি গ্রহণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, আদায়কারী তা গ্রহণ না করায় সে ওটার চেয়ে নিকৃষ্ট মানের একটি উটে লাগাম ধরে নিয়ে এলো কিন্তু তিনি এটাও গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে পরে ওটার চাইতে আরো নিকৃষ্ট মানের একটি উট লাগাম ধরে নিয়ে আসেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। অতঃপর বললেন, আমি তা গ্রহণে এজন্য ভয় করছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে একথা না বলেন যে, এ ব্যক্তি তার উটের উপর তোমাকে স্বাধীনতা দেয়ায় তুমি তার উত্তম সম্পদটিই নিয়ে এসেছো।[1] হাসান।
২৫
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي لَيْلَى الْكِنْدِيِّ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ أَتَانَا مُصَدِّقُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَقَرَأْتُ فِي عَهْدِهِ ‏"‏ لاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ ‏"‏ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ ‏"‏ رَاضِعَ لَبَنٍ ‏"‏ ‏.‏
সুয়াইদ ইবনু গাফালাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যাকাত আদায়কারী আমাদের নিকট আসলে আমি তার হাত ধরে মুসাফাহা করি। অতঃপর আমি তার কাছে যাকাত সম্পর্কিত যে নির্দেশনামা ছিলো তাতে এ বিষয়টি পাঠ করেছিঃ যাকাত আদায়ের ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্র এবং একত্রকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। তবে তিনি এ কথা বর্ণনা করেননি যে, ‘দু দানকারী পশু’ (নেয়া যাবে না)।[1] হাসান।
২৬
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮১
মুসলিম ইবনে শু'বাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَاقَ الْمَكِّيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْجُمَحِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ ثَفِنَةَ الْيَشْكُرِيِّ، - قَالَ الْحَسَنُ رَوْحٌ يَقُولُ مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ - قَالَ اسْتَعْمَلَ نَافِعُ بْنُ عَلْقَمَةَ أَبِي عَلَى عِرَافَةِ قَوْمِهِ فَأَمَرَهُ أَنْ يُصَدِّقَهُمْ قَالَ فَبَعَثَنِي أَبِي فِي طَائِفَةٍ مِنْهُمْ فَأَتَيْتُ شَيْخًا كَبِيرًا يُقَالُ لَهُ سَعْرُ بْنُ دَيْسَمٍ فَقُلْتُ إِنَّ أَبِي بَعَثَنِي إِلَيْكَ - يَعْنِي لأُصَدِّقَكَ - قَالَ ابْنَ أَخِي وَأَىَّ نَحْوٍ تَأْخُذُونَ قُلْتُ نَخْتَارُ حَتَّى إِنَّا نَتَبَيَّنُ ضُرُوعَ الْغَنَمِ ‏.‏ قَالَ ابْنَ أَخِي فَإِنِّي أُحَدِّثُكَ أَنِّي كُنْتُ فِي شِعْبٍ مِنْ هَذِهِ الشِّعَابِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَنَمٍ لِي فَجَاءَنِي رَجُلاَنِ عَلَى بَعِيرٍ فَقَالاَ لِي إِنَّا رَسُولاَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكَ لِتُؤَدِّيَ صَدَقَةَ غَنَمِكَ ‏.‏ فَقُلْتُ مَا عَلَىَّ فِيهَا فَقَالاَ شَاةٌ ‏.‏ فَأَعْمِدُ إِلَى شَاةٍ قَدْ عَرَفْتُ مَكَانَهَا مُمْتَلِئَةً مَحْضًا وَشَحْمًا فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا ‏.‏ فَقَالاَ هَذِهِ شَاةُ الشَّافِعِ وَقَدْ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَأْخُذَ شَافِعًا ‏.‏ قُلْتُ فَأَىَّ شَىْءٍ تَأْخُذَانِ قَالاَ عَنَاقًا جَذَعَةً أَوْ ثَنِيَّةً ‏.‏ قَالَ فَأَعْمِدُ إِلَى عَنَاقٍ مُعْتَاطٍ ‏.‏ وَالْمُعْتَاطُ الَّتِي لَمْ تَلِدْ وَلَدًا وَقَدْ حَانَ وِلاَدُهَا فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا فَقَالاَ نَاوِلْنَاهَا ‏.‏ فَجَعَلاَهَا مَعَهُمَا عَلَى بَعِيرِهِمَا ثُمَّ انْطَلَقَا ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أَبُو عَاصِمٍ عَنْ زَكَرِيَّاءَ قَالَ أَيْضًا مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ ‏.‏ كَمَا قَالَ رَوْحٌ ‏.‏
মুসলিম ইবনু শু‘বাহ (রহঃ) বলেন, নাফি’ ইবনু আলকামাহ (রহঃ) আমার পিতাকে নিজ গোত্রপ্রধান নিযুক্ত করে তাদের কাছ থেকে যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা আমাকে তাদের এক গোষ্ঠীর কাছে প্রেরণ করেন। অতঃপর আমি সা‘র ইবনু দায়সাম নামক এক বৃদ্ধের কাছে এসে বললাম, আমার পিতা আমাকে আপনার কাছে যাকাত উসূল করতে পাঠিয়েছেন। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কিভাবে নিবে? আমি বললাম, আমরা বাছাই করবো, আমরা বকরীর বাঁট দেখে যাচাই করবো। তিনি বললেন, হে ভাতিজা! আমি তোমাকে একটি হাদীস বলছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে একদা আমি কোন এক উপত্যকায় আমার মেষপাল চরাচ্ছিলাম। এমন সময় দুইজন লোক একটি উটে চড়ে আমার নিকট এসে বললো, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধি হিসাবে আপনার মেষপালের যাকাত উসূল করতে আপনার কাছে প্রেরিত হয়েছি। আমি বললাম, আমি কি প্রদান করবো? তারা বলেন, বকরী। সুতরাং আমি এমন একটি বিশেষ বকরী দেয়ার মনস্থ করলাম, সেটির বাট দুগ্ধে ভর্তি, খুব মোটাতাজা চর্বিওয়ালা। আমি তাদেরকে সেটা বের করে দিলে তারা বললেন, এটা তো জোড়াওয়ালা (বাচ্চাওয়ালা) বকরী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জোড়াওয়ালা বকরী নিতে বারণ করেছেন। আমি বললাম, তাহলে আপনারা কেমন বকরী নিবেন? তারা বললেন, এক বছর কিংবা দুই বছর বয়সী বকরী। তিনি বলেন, তখন আমি একটি ‘মু‘তাত্’ বকরীর দেয়ার মনস্থ করলাম। মু‘তাত্ ঐ বকরীকে বলে যা কোনো বাচ্চা দেয়নি, কিন্তু গর্ভধারণের উপযুক্ত হয়েছে। সেটি এনে তাদেরকে দিলে তারা বললেন, হ্যাঁ, আমরা এটি নিতে পারি। অতঃপর তারা বকরীটিকে তাদের উটের পিঠে তুলে নিয়ে চলে যান।[1] দুর্বল।
২৭
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮২
এই ঐতিহ্যও হয়েছে
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ النَّسَائِيُّ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ ‏.‏ قَالَ فِيهِ وَالشَّافِعُ الَّتِي فِي بَطْنِهَا الْوَلَدُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَرَأْتُ فِي كِتَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ بِحِمْصَ عِنْدَ آلِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ الْحِمْصِيِّ عَنِ الزُّبَيْدِيِّ قَالَ وَأَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْغَاضِرِيِّ - مِنْ غَاضِرَةِ قَيْسٍ - قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ ثَلاَثٌ مَنْ فَعَلَهُنَّ فَقَدْ طَعِمَ طَعْمَ الإِيمَانِ مَنْ عَبَدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَأَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَعْطَى زَكَاةَ مَالِهِ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ رَافِدَةً عَلَيْهِ كُلَّ عَامٍ وَلاَ يُعْطِي الْهَرِمَةَ وَلاَ الدَّرِنَةَ وَلاَ الْمَرِيضَةَ وَلاَ الشَّرَطَ اللَّئِيمَةَ وَلَكِنْ مِنْ وَسَطِ أَمْوَالِكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَسْأَلْكُمْ خَيْرَهُ وَلَمْ يَأْمُرْكُمْ بِشَرِّهِ ‏"‏ ‏.‏
যাকারিয়্যাহ ইবনু ইসহাক (রহঃ) হতে তার সানাদে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত। বর্ণনাকারী মুসলিম ইবনু শু‘বাহ তার বর্ণনায় বলেন, শাফি‘ বলা হয় গর্ভবতী বকরীকে। দুর্বল। গাদিরাহ ক্বায়িসের ‘আবদুল্লাহ ইবনু মু‘আবিয়াহ আল-গাদিরী সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তিনটি কাজ করেছে সে ঈমানের স্বাদ পেয়েছে। (এক) যে এক আল্লাহর ‘ইবাদাত করে। (দুই) এ বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। (তিন) যে স্বতঃস্ফূর্ত মনে নিঃসঙ্কোচে প্রতি বছর তার মালের যাকাত দেয়। বৃদ্ধ বয়সের, রোগগ্রস্ত, ক্রটিপূর্ণ ও নিকৃষ্ট মাল যাকাত দেয় না, বরং মধ্যম মানের যাকাত দিয়ে থাকে। কেননা আল্লাহ তোমাদের উৎকৃষ্ট সম্পদ চান না এবং তোমাদের নিকৃষ্ট দেয়ারও নিদের্শ করেন না।[1] সহীহ।
২৮
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮৩
উবাই বিন কা'ব (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُصَدِّقًا فَمَرَرْتُ بِرَجُلٍ فَلَمَّا جَمَعَ لِي مَالَهُ لَمْ أَجِدْ عَلَيْهِ فِيهِ إِلاَّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَقُلْتُ لَهُ أَدِّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا صَدَقَتُكَ ‏.‏ فَقَالَ ذَاكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَلَكِنْ هَذِهِ نَاقَةٌ فَتِيَّةٌ عَظِيمَةٌ سَمِينَةٌ فَخُذْهَا ‏.‏ فَقُلْتُ لَهُ مَا أَنَا بِآخِذٍ مَا لَمْ أُومَرْ بِهِ وَهَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكَ قَرِيبٌ فَإِنْ أَحْبَبْتَ أَنْ تَأْتِيَهُ فَتَعْرِضَ عَلَيْهِ مَا عَرَضْتَ عَلَىَّ فَافْعَلْ فَإِنْ قَبِلَهُ مِنْكَ قَبِلْتُهُ وَإِنْ رَدَّهُ عَلَيْكَ رَدَدْتُهُ ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي فَاعِلٌ فَخَرَجَ مَعِي وَخَرَجَ بِالنَّاقَةِ الَّتِي عَرَضَ عَلَىَّ حَتَّى قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَتَانِي رَسُولُكَ لِيَأْخُذَ مِنِّي صَدَقَةَ مَالِي وَايْمُ اللَّهِ مَا قَامَ فِي مَالِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ رَسُولُهُ قَطُّ قَبْلَهُ فَجَمَعْتُ لَهُ مَالِي فَزَعَمَ أَنَّ مَا عَلَىَّ فِيهِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَذَلِكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَقَدْ عَرَضْتُ عَلَيْهِ نَاقَةً فَتِيَّةً عَظِيمَةً لِيَأْخُذَهَا فَأَبَى عَلَىَّ وَهَا هِيَ ذِهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ خُذْهَا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ ذَاكَ الَّذِي عَلَيْكَ فَإِنْ تَطَوَّعْتَ بِخَيْرٍ آجَرَكَ اللَّهُ فِيهِ وَقَبِلْنَاهُ مِنْكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَهَا هِيَ ذِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا فَخُذْهَا ‏.‏ قَالَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَبْضِهَا وَدَعَا لَهُ فِي مَالِهِ بِالْبَرَكَةِ ‏.‏
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যাকাত আদায়কারী হিসেবে পাঠালেন। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলে সে তার মাল (উট) একত্র করলো। আমি দেখলাম যে, তার উপর একটি বিনতু মাখাদ ফারয হয়েছে। সুতরাং আমি তাকে বললাম, একটি বিনতু মাখাদ দিন। কেননা তোমার যাকাত সেটাই। সে বললো, এর এতে দুগ্ধও নেই এবং এটি বাহনের উপযোগীও নয়, বরং এর পরিবর্তে আমার এই বড় মোটাতাজা যুবতী উটনী নিন। আমি বললাম, আমি এটা নিতে পারবো না, এরূপ নিতে আমাকে আদেশ করা হয়নি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তোমার নিকটেই আছেন। তুমি আমাকে যা বলেছো, তা ইচ্ছে হলে তাকে বলে দেখতে পারো। তিনি এটা গ্রহণ করলে আমি নিবো, আর প্রতাখ্যান করলে আমিও প্রত্যাখ্যান করবো। সে বললো, আমি তাই করবো। অতঃপর সে আমাকে নিয়ে উক্ত উষ্ট্রী সহ রওয়ানা হলো। অবশেষে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে উপস্থিত হই। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনার প্রতিনিধি আমার কাছে আমার সম্পদের যাকাত নিতে এসেছে। আল্লাহর শপথ! এর পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং কিংবা তাঁর প্রতিনিধি কখনো আমার সম্পদের যাকাত নিতে আসেননি। কাজেই আমি আমার সমস্ত মাল তাঁর সম্মুখে একত্র করেছি। কিন্তু তিনি বলেন, আমার মালের উপর নাকি একটি মাখাদ ফারয। অথচ তাতে দুগ্ধও নেই বা আরোহণেরও অনুপযোগী। তাই আমি একটি বড় ও মোটাতাজা যুবতী উষ্ট্রী পেশ করেছি। কিন্তু তিনি এটা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। আর সেটি এটাই, আমি আপনার কাছে নিয়ে এসেছি। হে আল্লাহর রসূল! এটা গ্রহণ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আদায়কারী যা বলেছে তাই তোমার উপর ফারয। তবে তুমি স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত দিলে আল্লাহ তোমাকে এর প্রতিদান দিবেন এবং আমরাও সেটা তোমার থেকে গ্রহণ করলাম। সে বললো, এটাই সেই উষ্ট্রী, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার নিকট নিয়ে এসেছি, গ্রহণ করুন। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গ্রহণ করতে আদেশ দিলেন এবং তার ও তার সম্পদের বরকতের জন্য দু‘আ করলেন।[1] হাসান।
২৯
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮৪
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ الْمَكِّيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيِّ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ ‏
"‏ إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু ‘আব্বাস রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূ‘আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণকালে বললেন, তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছো যারা আহলি কিতাব। তুমি (সর্বপ্রথম) তাদেরকে এ সাক্ষ্য দিতে আহবান করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি (মুহাম্মাদ) আল্লাহর রসূল। তারা তোমার এ কথা মেনে নিলে তাদেরকে অবহিত করবে, আল্লাহ তাদের উপর তাদের মালের যাকাত প্রদান ফারয করেছেন, যা তাদের ধনীদের কাছ থেকে নেয়া হবে এবং তাদের গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা তোমার এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদের উত্তম সম্পদগুলো গ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে। আর মযলুমের বদদু‘আকে ভয় করবে। কেননা তার দু‘আ ও আল্লাহর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধক নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
৩০
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ الْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ كَمَانِعِهَا ‏"‏ ‏.‏
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাকাত সংগ্রহে সীমালংঘনকারী ঐ ব্যক্তির মতই যে যাকাত দিতে অস্বীকার করে।[1] হাসান।
৩১
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮৬
বশীর বিন আল-খাসাসিয়াহ (রহ.)
حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ حَفْصٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ رَجُلٍ، يُقَالُ لَهُ دَيْسَمٌ - وَقَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ مِنْ بَنِي سَدُوسٍ - عَنْ بَشِيرِ بْنِ الْخَصَاصِيَةِ، - قَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ فِي حَدِيثِهِ وَمَا كَانَ اسْمُهُ بَشِيرًا - وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمَّاهُ بَشِيرًا قَالَ قُلْنَا إِنَّ أَهْلَ الصَّدَقَةِ يَعْتَدُونَ عَلَيْنَا أَفَنَكْتُمْ مِنْ أَمْوَالِنَا بِقَدْرِ مَا يَعْتَدُونَ عَلَيْنَا فَقَالَ ‏
"‏ لاَ ‏"‏ ‏.‏
বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। বর্ণনাকারী ইবনু ‘উবাইদ তার বর্ণনায় বলেন, আসলে তার নাম বাশীর ছিলো না, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম বাশীর রাখেন। তিনি বলেন, আমরা বললাম, যাকাত আদায়কারীরা আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেন (ফারযের অধিক নিয়ে যান)। কাজেই তারা যে পরিমাণ মাল আমাদের উপর সীমালঙ্ঘন করেন ঐ পরিমাণ মাল কি আমরা গোপন করবো? তিনি বলেন, না।[1] দুর্বল।
৩২
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮৭
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَيَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَصْحَابَ الصَّدَقَةِ يَعْتَدُونَ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَفَعَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ ‏.‏
আইয়ূব (রহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের ভাবার্থ একই সানাদে বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে রয়েছেঃ আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! যাকাত আদায়কারীগণ সীমালঙ্ঘন করে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এটি ‘আবদুর রাযযাক্ব (রহঃ) মা‘মার হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসরূপে বর্ণনা করেছেন।
৩৩
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮৮
জাবির ইবনে আতিক (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ أَبِي الْغُصْنِ، عَنْ صَخْرِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ سَيَأْتِيكُمْ رَكْبٌ مُبَغَّضُونَ فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَرَحِّبُوا بِهِمْ وَخَلُّوا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَبْتَغُونَ فَإِنْ عَدَلُوا فَلأَنْفُسِهِمْ وَإِنْ ظَلَمُوا فَعَلَيْهَا وَأَرْضُوهُمْ فَإِنَّ تَمَامَ زَكَاتِكُمْ رِضَاهُمْ وَلْيَدْعُوا لَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو الْغُصْنِ هُوَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسِ بْنِ غُصْنٍ ‏.‏
‘আবদুর রহমান ইবনু জাবির ইবনু আতীক (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অচিরেই তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় যাকাত আদায়কারী দল আসবে, যাদের আচরণে অসন্তুষ্ট হবে। তারা এলে তোমরা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে এবং যা গ্রহণ করতে চায়, তাদের মাঝে তা উন্মুক্ত করে দিবে। তারা ন্যায়নীতি অনুসরণ করলে তাদের নিজেদের জন্যই কল্যাণকর হবে। আর যদি যুলুম করে তাহলে এর পাপ তাদেরই উপর বর্তাবে। তোমরা তাদেরকে সন্তুষ্ট করবে, কেননা তোমাদের যাকাতের পরিপূর্ণতা তাদের সন্তুষ্টির মধ্যেই নিহিত। তাদের উচিত হলো, তারা যেন তোমাদের জন্য দু‘আ করে।[1] দুর্বল।
৩৪
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৮৯
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، - وَهَذَا حَدِيثُ أَبِي كَامِلٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هِلاَلٍ الْعَبْسِيُّ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ نَاسٌ - يَعْنِي مِنَ الأَعْرَابِ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّ نَاسًا مِنَ الْمُصَدِّقِينَ يَأْتُونَا فَيَظْلِمُونَا ‏.‏ قَالَ فَقَالَ ‏"‏ أَرْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ ظَلَمُونَا قَالَ ‏"‏ أَرْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ ‏"‏ ‏.‏ زَادَ عُثْمَانُ ‏"‏ وَإِنْ ظُلِمْتُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو كَامِلٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ جَرِيرٌ مَا صَدَرَ عَنِّي مُصَدِّقٌ بَعْدَ مَا سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ وَهُوَ عَنِّي رَاضٍ ‏.‏
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কতিপয় বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, যাকাত আদায়কারীগণ আমাদের কাছে এসে আমাদের উপর যুলুম করেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের যাকাত আদায়কারীদেরকে তোমরা সন্তুষ্ট রাখবে। তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! তারা আমাদের উপর যুলুম করলেও? তিনি বললেন, তোমাদের যাকাত আদায়কারীদেরকে সন্তুষ্ট রাখবে। বর্ণনাকারী ‘উসমানের বর্ণনায় এটাও আছেঃ যদিও তারা তোমাদের উপর যুলুম করে।[1] বর্ণনাকারী আবূ কামিল তার হাদীসে বলেন, জারীর (রাঃ) বলেছেন, আমি যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একথা শুনেছি, তখন থেকে প্রত্যেক যাকাত আদায়কারী আমার উপর সন্তুষ্ট হয়েই ফিরেছেন। সহীহ।
৩৫
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯০
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাঃ)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، وَأَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ كَانَ أَبِي مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَاهُ قَوْمٌ بِصَدَقَتِهِمْ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ فُلاَنٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَأَتَاهُ أَبِي بِصَدَقَتِهِ فَقَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى ‏"‏ ‏.‏
‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা ছিলেন গাছের নিচে বাইয়াতে রিদওয়ান গ্রহণকারীদের একজন। কোন সম্প্রদায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তাদের যাকাত নিয়ে এলে তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! অমুক পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমার পিতা তাঁর কাছে তার সাদাকা নিয়ে এলে তিনি বলেন, হে আল্লাহ! আবূ আওফার পরিবারের উপর রহমত বর্ষণ করুন।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম। باب تَفْسِيرِ أَسْنَانِ الإِبِلِ অনুচ্ছেদ-৮ : উটের বয়স সম্পর্কে قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُهُ مِنَ الرِّيَاشِيِّ، وَأَبِي، حَاتِمٍ وَغَيْرِهِمَا وَمِنْ كِتَابِ النَّضْرِ بْنِ شُمَيْلٍ وَمِنْ كِتَابِ أَبِي عُبَيْدٍ وَرُبَّمَا ذَكَرَ أَحَدُهُمُ الْكَلِمَةَ قَالُوا يُسَمَّى الْحُوَارَ ثُمَّ الْفَصِيلَ إِذَا فَصَلَ ثُمَّ تَكُونُ بِنْتَ مَخَاضٍ لِسَنَةٍ إِلَى تَمَامِ سَنَتَيْنِ فَإِذَا دَخَلَتْ فِي الثَّالِثَةِ فَهِيَ ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِذَا تَمَّتْ لَهُ ثَلَاثُ سِنِينَ فَهُوَ حِقٌّ وَحِقَّةٌ إِلَى تَمَامِ أَرْبَعِ سِنِينَ لأَنَّهَا اسْتَحَقَّتْ أَنْ تُرْكَبَ وَيُحْمَلَ عَلَيْهَا الْفَحْلُ وَهِيَ تَلْقَحُ وَلَا يُلْقِحُ الذَّكَرُ حَتَّى يُثَنِّيَ وَيُقَالُ لِلْحِقَّةِ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ لأَنَّ الْفَحْلَ يَطْرُقُهَا إِلَى تَمَامِ أَرْبَعِ سِنِينَ فَإِذَا طَعَنَتْ فِي الْخَامِسَةِ فَهِيَ جَذَعَةٌ حَتَّى يَتِمَّ لَهَا خَمْسُ سِنِينَ فَإِذَا دَخَلَتْ فِي السَّادِسَةِ وَأَلْقَى ثَنِيَّتَهُ فَهُوَ حِينَئِذٍ ثَنِيٌّ حَتَّى يَسْتَكْمِلَ سِتًّا فَإِذَا طَعَنَ فِي السَّابِعَةِ سُمِّيَ الذَّكَرُ رَبَاعِيًّا وَالأُنْثَى رَبَاعِيَّةً إِلَى تَمَامِ السَّابِعَةِ فَإِذَا دَخَلَ فِي الثَّامِنَةِ وَأَلْقَى السِّنَّ السَّدِيسَ الَّذِي بَعْدَ الرَّبَاعِيَةِ فَهُوَ سَدِيسٌ وَسَدَسٌ إِلَى تَمَامِ الثَّامِنَةِ فَإِذَا دَخَلَ فِي التِّسْعِ وَطَلَعَ نَابُهُ فَهُوَ بَازِلٌ أَىْ بَزَلَ نَابُهُ - يَعْنِي طَلَعَ - حَتَّى يَدْخُلَ فِي الْعَاشِرَةِ فَهُوَ حِينَئِذٍ مُخْلِفٌ ثُمَّ لَيْسَ لَهُ اسْمٌ وَلَكِنْ يُقَالُ بَازِلُ عَامٍ وَبَازِلُ عَامَيْنِ وَمُخْلِفُ عَامٍ وَمُخْلِفُ عَامَيْنِ وَمُخْلِفُ ثَلَاثَةِ أَعْوَامٍ إِلَى خَمْسِ سِنِينَ وَالْخَلِفَةُ الْحَامِلُ ‏.‏ قَالَ أَبُو حَاتِمٍ وَالْجَذُوعَةُ وَقْتٌ مِنَ الزَّمَنِ لَيْسَ بِسِنٍّ وَفُصُولُ الأَسْنَانِ عِنْدَ طُلُوعِ سُهَيْلٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَنْشَدَنَا الرِّيَاشِيُّ إِذَا سُهَيْلٌ أَوَّلَ اللَّيْلِ طَلَعْ فَابْنُ اللَّبُونِ الْحِقُّ وَالْحِقُّ جَذَعْ لَمْ يَبْقَ مِنْ أَسْنَانِهَا غَيْرُ الْهُبَعْ وَالْهُبَعُ الَّذِي يُولَدُ فِي غَيْرِ حِينِهِ ‏.‏ ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি আর-রিয়াশী, আবূ হাতিম ও অন্যদের কাছে শুনেছি এবং নাদর ইবনু শুমাইল ও আবূ ‘উবাইদের কিতাবে দেখেছি। তাদের দু’ জনের একজন কর্তৃক আলোচ্য বিষয়টি উল্লেখ হয়েছে। তারা বলেছেন, গর্ভস্থ ভ্রুণের নাম ‘আল-হুয়ার’। নবজাত বাচ্চার নাম ‘আল-ফাসিল’। এক বছর হতে দু’ বছরে পদার্পণকারী হচ্ছে ‘বিনতু মাখাদ’। তৃতীয় বছরে পদার্পণকারী ‘ইবনাতু লাবূন’। তিন বছর হতে চতুর্থ বছর পূর্ণ হলে ‘হিককাহ’। কারণ তখন তা আরোহণ এবং প্রজননের উপযোগী হয়। আর ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পুরুষ উট বালেগ হয় না। হিককহকে ‘ত্বরুক্বাতুল ফাহল’ বলার কারণ হলো পুরুষ উট তাকে পাল দেয়। চতুর্থ বছর শেষে পঞ্চম বছরে পদার্পনকারীকে ‘জাযাআহ’ বলে। ষষ্ঠ বছরে পদার্পন করলে এবং সামনে দুটি দাঁত পড়ে গেলে তা হয় ‘সানি’। এ নাম ষষ্ঠ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে। অতঃপর সপ্তম বছর হলে উটের নাম হয় ‘রুবাঈ’ এবং উষ্ট্রীর নাম হয় ‘রুবাঈয়াহ’, সপ্তম বছর শেষ হওয়া পর্যন্ত এ নাম বহাল থাকে। অষ্টম বছরে প্রবেশ করলে তার রুবাঈ দাতের পাশের দাত সাদুখ পড়ে যায়। তাই তাকে সাদীস বলা হয়। অতঃপর নবম বছরে প্রবেশ করলে এবং পাশের ধারালো দাঁত প্রকাশ হলে এ দাঁত প্রকাশ হওয়ার কারণে তাকে বলা হয় ‘বাযিল’। সবশেষে দশম বছরে পদার্পন করলে তার নাম ‘মাখলাফ’। এরপর তার আর কোনো নাম নেই। অবশ্য (এরপর) এক বর্ষীয়া ‘বাযিল’, দুই বর্ষীয়া ‘বাযিল’ এবং এক বর্ষীয়া ‘মাখলাফ’, দুই বর্ষীয়া মাখলাফ এবং তিন বর্ষীয়া ‘মাখলাফ’ এভাবে পাঁচ বছর পর্যন্ত। খুলফাহ হচ্ছে গর্ভধারী উষ্ট্রী। আবূ হাতিম (রহঃ) বলেন, ‘আল-জাযু‘আহ’ শব্দটি কালের একটি সময়কে বুঝায়, এর অর্থ দাঁত নয়। উটের বয়সের ব্যবধান ঘটে সুহাইল তারকার উদয়ের সাথে। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, কবি আর-রিয়াশী আমাদের নিকট তা কয়েক লাইন কবিতার মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেনঃ ‘‘রাতের প্রথম প্রহরে যখন সুহাইল তারকা উদিত হয় তখন ইবনু লাবূন হয় হিককাহ আর হিককাহ হয় জাযাআহ। তারপর হুবা‘ ছাড়া উটের বয়স আর গণনা করা হয় না। সুহাইল তারকার উদয়ের সাথে জন্মগ্রহণকারী উটকে হুবা‘ বলা হয়।
৩৬
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯১
আমর ইবনু শুআইব
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لاَ جَلَبَ وَلاَ جَنَبَ وَلاَ تُؤْخَذُ صَدَقَاتُهُمْ إِلاَّ فِي دُورِهِمْ ‏"‏ ‏.‏
‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দূরে অবস্থান করে যাকাত আদায় করবে না এবং যাকাতের মালও দুরে সরিয়ে নিবে না। যাকাত দাতাদের বসতি থেকেই যাকাত আদায় করতে হবে।[1] হাসান সহীহ।
৩৭
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯২
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، فِي قَوْلِهِ ‏
"‏ لاَ جَلَبَ وَلاَ جَنَبَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَنْ تُصَدَّقَ الْمَاشِيَةُ فِي مَوَاضِعِهَا وَلاَ تُجْلَبُ إِلَى الْمُصَدِّقِ وَالْجَنَبُ عَنْ غَيْرِ هَذِهِ الْفَرِيضَةِ أَيْضًا لاَ يُجْنَبُ أَصْحَابُهَا يَقُولُ وَلاَ يَكُونُ الرَّجُلُ بِأَقْصَى مَوَاضِعِ أَصْحَابِ الصَّدَقَةِ فَتُجْنَبُ إِلَيْهِ وَلَكِنْ تُؤْخَذُ فِي مَوْضِعِهِ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। ‘লা জালাবা ওয়া লা জানাবা’-এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, চতুষ্পদ জন্তুর যাকাত তার অবস্থানস্থল থেকেই নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই তা আদায়কারীর নিকট টেনে নিতে বাধ্য করা যাবে না এবং ‘ওয়া লা জানাবা’-ও একইরূপ। মালের অধিকারী তা আদায়কারীর কাছে হাঁকিয়ে নিবে না। বর্ণনাকারী বলেন, যাকাত আদায়কারী যাকাত দাতার নিকট থেকে দূরে অবস্থান করবে না, বরং, বরং মালের স্থানে থেকেই যাকাত নেয়া হবে।[1] সহীহ মাক্বতূ‘।
৩৮
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - حَمَلَ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَوَجَدَهُ يُبَاعُ فَأَرَادَ أَنْ يَبْتَاعَهُ فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ ‏
"‏ لاَ تَبْتَعْهُ وَلاَ تَعُدْ فِي صَدَقَتِكَ ‏"‏ ‏.‏
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুমা সূত্রে বর্ণিত। একদা ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এক ব্যক্তিকে জিহাদের উদ্দেশ্যে একটি ঘোড়া দান করেন। পরে তিনি ঐ ঘোড়াটি বিক্রি হতে দেখে তা কেনার ইচ্ছা করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তুমি তা কিনবে না এবং তোমার সাদাকা তুমি ফিরিয়ে নিবে না।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
৩৯
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَيَّاضٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ فِي الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ زَكَاةٌ إِلاَّ زَكَاةُ الْفِطْرِ فِي الرَّقِيقِ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘোড়া ও দাস-দাসীতে কোন যাকাত নেই। কিন্তু দাস-দাসীর পক্ষ হতে সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরাহ) দিতে হবে।[1] সহীহ।
৪০
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلاَ فِي فَرَسِهِ صَدَقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমদের উপর তার দাস-দাসী ও তার ঘোড়ার কোনো যাকাত নেই।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
৪১
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯৬
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْهَيْثَمِ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالأَنْهَارُ وَالْعُيُونُ أَوْ كَانَ بَعْلاً الْعُشْرُ وَفِيمَا سُقِيَ بِالسَّوَانِي أَوِ النَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ ‏"‏ ‏.‏
সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ভূমি বৃষ্টি, নদ-নদী ও ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয় অথবা যে ভূমিতে তলদেশে থেকে আপনা আপনিই পানি সিঞ্চিত হয়, তাতে ‘উশর’ দেয়া ওয়াজিব (অর্থাৎ উৎপাদিত ফসলের এক-দশমাংশ যাকাত দিবে)। আর যে ভূমি উষ্ট্রী, বালতি কিংবা সেচ যন্ত্র দিয়ে সিঞ্চন করা হয়, তার যাকাত হলো, উশরের অর্ধেক (অর্থাৎ বিশ ভাগের এক ভাগ)।[1] সহীহ : বুখারী ও মুসলিম।
৪২
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯৭
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ فِيمَا سَقَتِ الأَنْهَارُ وَالْعُيُونُ الْعُشْرُ وَمَا سُقِيَ بِالسَّوَانِي فَفِيهِ نِصْفُ الْعُشْرِ ‏"‏ ‏.‏
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ভূমি নদ-নদী ও ঝর্ণার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়, তার যাকাত হলো, এক-দশমাংশ। আর যে ভূমি উষ্ট্রী দ্বারা (অন্য উপায়ে) সিঞ্চিত হয়, তার যাকাত বিশ ভাগের এক ভাগ।[1] সহীহ : মুসলিম।
৪৩
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯৮
حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ، وَحُسَيْنُ بْنُ الأَسْوَدِ الْعِجْلِيُّ، قَالاَ قَالَ وَكِيعٌ الْبَعْلُ الْكَبُوسُ الَّذِي يَنْبُتُ مِنْ مَاءِ السَّمَاءِ ‏.‏ قَالَ ابْنُ الأَسْوَدِ وَقَالَ يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ آدَمَ سَأَلْتُ أَبَا إِيَاسٍ الأَسَدِيَّ عَنِ الْبَعْلِ فَقَالَ الَّذِي يُسْقَى بِمَاءِ السَّمَاءِ ‏.‏ وَقَالَ النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ الْبَعْلُ مَاءُ الْمَطَرِ ‏.‏
ওয়াকী’ (রহঃ) বলেন, কাবূস-কেই বা’ল ভূমি বলা হয়। যে ভূমিতে বৃষ্টির পানির সাহায্যে ফসল জন্মায়, তাই ‘কাবূস’। ইবনুল আসওয়াদ (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনু আদম (রহঃ) বলেছেন, আমি আবূ ইয়াস আল-আসাদীকে ‘বা‘ল’ (ভূমি) সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি দ্বারা সিঞ্চিত ভূমি এবং নাযর বিন শুমাইল বলেনঃ বা‘ল হল বৃষ্টির পানি।[1] সহীহ মাক্বতূ‘।
৪৪
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৫৯৯
মু'আয বিন জাবাল (রাঃ)
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ ‏
"‏ خُذِ الْحَبَّ مِنَ الْحَبِّ وَالشَّاةَ مِنَ الْغَنَمِ وَالْبَعِيرَ مِنَ الإِبِلِ وَالْبَقَرَةَ مِنَ الْبَقَرِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ شَبَّرْتُ قِثَّاءَةً بِمِصْرَ ثَلاَثَةَ عَشَرَ شِبْرًا وَرَأَيْتُ أُتْرُجَّةً عَلَى بَعِيرٍ بِقِطْعَتَيْنِ قُطِعَتْ وَصُيِّرَتْ عَلَى مِثْلِ عِدْلَيْنِ ‏.‏
মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামানে প্রেরণের সময় বললেন, ফসল থেকে ফসল, বকরীপাল থেকে বকরী, উটপাল থেকে উষ্ট্রী, গরুর পাল থেকে গাভী যাকাত বাবদ গ্রহণ করবে।[1] দুর্বল। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি মিসরের একটি শসা মেপেছি তের বিঘত লম্বা এবং একটি তরমুজ বা লেবু দেখেছি, যা দুই টুকরা করে একটি উষ্ট্রীর উপর দু’টি বোঝার মত সমান ভারী অবস্থায় ছিল।
৪৫
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৬০০
আমর ইবনু শুআইব
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ الْمِصْرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ هِلاَلٌ - أَحَدُ بَنِي مُتْعَانَ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعُشُورِ نَحْلٍ لَهُ وَكَانَ سَأَلَهُ أَنْ يَحْمِيَ لَهُ وَادِيًا يُقَالُ لَهُ سَلَبَةُ فَحَمَى لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ الْوَادِي فَلَمَّا وُلِّيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - كَتَبَ سُفْيَانُ بْنُ وَهْبٍ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ فَكَتَبَ عُمَرُ رضى الله عنه إِنْ أَدَّى إِلَيْكَ مَا كَانَ يُؤَدِّي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عُشُورِ نَحْلِهِ لَهُ فَاحْمِ لَهُ سَلَبَةَ وَإِلاَّ فَإِنَّمَا هُوَ ذُبَابُ غَيْثٍ يَأْكُلُهُ مَنْ يَشَاءُ ‏.‏
‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদা সূত্রে বর্ণিত। মুত্য়ান গোত্রের হিলাল নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার মধুর ‘উশর’ নিয়ে এলেন এবং তাঁর নিকট ‘সালাবাহ্’ নামক একটি সমতলভূমি বন্দোবস্ত চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উক্ত ভূমিটি বন্দোবস্ত দিলেন। পরবর্তীতে যখন ‘উমার (রাঃ) খলীফা হন, তখন (এ এলাকার আমীর) সুফয়ান ইবনু ওয়াহাব ‘উমার ইবনুল খাত্তাবকে (রাঃ) ঐ ভূমির বিষয়ে চিঠি লিখে জানতে চাইলেন। উত্তরে ‘উমার (রাঃ) তাকে লিখেনঃ তিনি (হিলাল) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার মধুর যে ‘উশর’ দিতেন তিনি যদি তা তোমাকেও দেন তাহলে ‘সালাবা’ ওয়াদীতে তার বন্দোবস্ত বহাল রাখবে। অন্যথায় তা বনের মৌমাছি হিসেবে গণ্য হবে এবং যে কেউ তার মধু খেতে পারবে।[1] হাসান।
৪৬
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৬০১
আমর ইবনু শুআইব
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - وَنَسَبَهُ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ الْمَخْزُومِيِّ - قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ شَبَابَةَ، - بَطْنٌ مِنْ فَهْمٍ - فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ مِنْ كُلِّ عَشْرِ قِرَبٍ قِرْبَةٌ وَقَالَ سُفْيَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ قَالَ وَكَانَ يُحَمِّي لَهُمْ وَادِيَيْنِ زَادَ فَأَدَّوْا إِلَيْهِ مَا كَانُوا يُؤَدُّونَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَمَّى لَهُمْ وَادِيَيْهِمْ ‏.‏
‘আমর ইবনু শু‘আইব (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। ‘শাবাবাহ’ হচ্ছে ফাহম গোত্রের উপগোত্র। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। বর্ণনাকারী বলেন, (মধুর যাকাত হচ্ছে) প্রত্যেক দশ মশকের জন্য এক মশক। সুফয়ান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আস-সাকাফী তাদেরকে দু‘টি সমতলভূমি বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন। তারা তাকে (মধুর) যাকাত সেভাবেই দিতেন যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দিতেন। তিনি তাদের দু‘টি সমভূমির বন্দোবস্ত বহাল রেখেছিলেন।[1] হাসান।
৪৭
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৬০২
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَذِّنُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ بَطْنًا، مِنْ فَهْمٍ بِمَعْنَى الْمُغِيرَةِ قَالَ مِنْ عَشْرِ قِرَبٍ قِرْبَةٌ ‏.‏ وَقَالَ وَادِيَيْنِ لَهُمْ ‏.‏
‘আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সুত্রে বর্ণিত। ফাহম গোত্রের উপগোত্র...অতঃপর মুগীরাহর হাদীসের অনুরূপ। তিনি বলেন, (মধুর যাকাত) দ‏শ মশকে এক মশক দেয়া ওয়াজিব। তিনি আরো বলেন, সমভূমি দু‘টি তাদের মালিকানায় ছিল।[1] হাসান।
৪৮
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৬০৩
আত্তাব ইবনে উসাইদ (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ السَّرِيِّ النَّاقِطُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَتَّابِ بْنِ أَسِيدٍ، قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُخْرَصَ الْعِنَبُ كَمَا يُخْرَصُ النَّخْلُ وَتُؤْخَذُ زَكَاتُهُ زَبِيبًا كَمَا تُؤْخَذُ زَكَاةُ النَّخْلِ تَمْرًا ‏.‏
আত্তাব ইবনু আসীদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ হয় এবং আঙ্গুরের যাকাত গ্রহণ করবে কিশমিশ দ্বারা, যেমন পাকা খেজুরের যাকাত শুকনা খেজুর দ্বারা নেয়া হয়।[1] দুর্বল।
৪৯
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৬০৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ التَّمَّارِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَعِيدٌ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَتَّابٍ شَيْئًا ‏.‏
ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে পূর্বোক্ত সানাদে এ হাদীসের ভাবার্থ বর্ণিত হয়েছে।[1] দুর্বল।
৫০
সুনান আবু দাউদ # ৯/১৬০৫
আবদুর রহমান ইবনে মাসউদ (রাঃ)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ جَاءَ سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ إِلَى مَجْلِسِنَا قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ إِذَا خَرَصْتُمْ فَخُذُوا وَدَعُوا الثُّلُثَ فَإِنْ لَمْ تَدَعُوا أَوْ تَجِدُوا الثُّلُثَ فَدَعُوا الرُّبُعَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْخَارِصُ يَدَعُ الثُّلُثَ لِلْحِرْفَةِ ‏.‏
‘আবদুর রহমান ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহল ইবনু আবূ হাসমাহ (রাঃ) আমাদের মাজলিসে এসে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ যখন অনুমানে পরিমাণ নির্ধারণ করবে, তখন তা হতে এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিবে। এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিতে অসম্মত হলে এক-চতুর্থাংশ ছেড়ে দিবে।[1] ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অনুমানকারী ব্যবসার জন্য এক-তৃতীয়াংশ বাদ দিবে। দুর্বল।