স্বপ্ন
অধ্যায়ে ফিরুনحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الرُّؤْيَا الْحَسَنَةُ مِنَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ " . وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, নেককার মানুষের ভাল স্বপ্ন নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ সমতুল্য।[1]আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে অনুরূপ (অর্থাৎ পূর্বোক্ত হাদীস) রেওয়ায়ত করিয়াছেন।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْتُ مَسْجِدَ دِمَشْقَ فَإِذَا فَتًى شَابٌّ بَرَّاقُ الثَّنَايَا وَإِذَا النَّاسُ مَعَهُ إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَىْءٍ أَسْنَدُوا إِلَيْهِ وَصَدَرُوا عَنْ قَوْلِهِ فَسَأَلْتُ عَنْهُ فَقِيلَ هَذَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ . فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ هَجَّرْتُ فَوَجَدْتُهُ قَدْ سَبَقَنِي بِالتَّهْجِيرِ وَوَجَدْتُهُ يُصَلِّي - قَالَ - فَانْتَظَرْتُهُ حَتَّى قَضَى صَلاَتَهُ ثُمَّ جِئْتُهُ مِنْ قِبَلِ وَجْهِهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ ثُمَّ قُلْتُ وَاللَّهِ إِنِّي لأُحِبُّكَ لِلَّهِ . فَقَالَ آللَّهِ فَقُلْتُ آللَّهِ . فَقَالَ آللَّهِ فَقُلْتُ آللَّهِ . فَقَالَ آللَّهِ فَقُلْتُ آللَّهِ . قَالَ فَأَخَذَ بِحُبْوَةِ رِدَائِي فَجَبَذَنِي إِلَيْهِ وَقَالَ أَبْشِرْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ
" قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابِّينَ فِيَّ وَالْمُتَجَالِسِينَ فِيَّ وَالْمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ وَالْمُتَبَاذِلِينَ فِيَّ " .
" قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَجَبَتْ مَحَبَّتِي لِلْمُتَحَابِّينَ فِيَّ وَالْمُتَجَالِسِينَ فِيَّ وَالْمُتَزَاوِرِينَ فِيَّ وَالْمُتَبَاذِلِينَ فِيَّ " .
তিনি আমাকে মালিকের সূত্রে, আবু হাযিম ইবনে দীনার থেকে, আবু ইদ্রিস আল-খাওলানির সূত্রে বলেছেন যে, তিনি বলেন: আমি দামেস্কের মসজিদে প্রবেশ করলাম, এবং দেখ, একজন যুবক দুজনের মধ্যে উজ্জ্বল, এবং লোকেরা যখন তার সাথে ছিল, যদি তারা কোন বিষয়ে মতানৈক্য করে, তখন তারা তার কাছে এটি আরোপ করে এবং আমি যা বলেছিলাম তা থেকে তিনি বিচ্যুত হয়েছিলেন। মুআয বিন জাবাল রা. পরের দিন, আমি হিজরত করলাম এবং দেখতে পেলাম যে তিনি হিজরত করার ক্ষেত্রে আমার আগে ছিলেন, এবং আমি তাকে প্রার্থনা করতে দেখেছি - তিনি বললেন - তাই আমি তার জন্য অপেক্ষা করলাম যতক্ষণ না সে তার নামায শেষ করে, তারপর আমি তার মুখের সামনে থেকে তার কাছে এলাম, আমি তাকে সালাম দিলাম, তারপর বললাম, "আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে আল্লাহর জন্য ভালবাসি।" তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম”, আমি বললাম, “আল্লাহর কসম”। তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম”, আমি বললাম, “আল্লাহর কসম”। তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম” এবং আমি বললাম, “আল্লাহর কসম”। তিনি বললেন, “অতএব তিনি আমার চাদরটি ধরে আমাকে তার কাছে টেনে নিয়ে বললেন, ‘সুসংবাদ দাও, কারণ আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘‘পরম ও মহান আল্লাহ বলেছেন: যারা আমার জন্য একে অপরকে ভালবাসে, এবং যারা আমার জন্য একত্রে বসে এবং যারা আমার জন্য পরস্পরকে বিনিময় করে, তাদের জন্য আমার ভালবাসা ওয়াজিব করা হয়েছে। আমার মধ্যে.
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ زُفَرَ بْنِ صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ يَقُولُ " هَلْ رَأَى أَحَدٌ مِنْكُمُ اللَّيْلَةَ رُؤْيَا " . وَيَقُولُ " لَيْسَ يَبْقَى بَعْدِي مِنَ النُّبُوَّةِ إِلاَّ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ " .
রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণনা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামায শেষে (উপস্থিত সাহাবীগণকে) জিজ্ঞাসা করিতেন, তোমাদের কেহ রাত্রে কোন স্বপ্ন দেখিয়াছ কি? অতঃপর বলিতেন যে, আমার পরে ভাল (সত্য) স্বপ্ন ব্যতীত নবুয়তের কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না (অর্থাৎ ভাল স্বপ্নও নবুয়তের একটি অংশ)।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَنْ يَبْقَى بَعْدِي مِنَ النُّبُوَّةِ إِلاَّ الْمُبَشِّرَاتُ " . فَقَالُوا وَمَا الْمُبَشِّرَاتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الرَّجُلُ الصَّالِحُ أَوْ تُرَى لَهُ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ " .
রেওয়ায়ত ৩. আতা ইবনে ইয়াসার (রাঃ)-এর রেওয়ায়ত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আমার পরে মুবাশশিরাত (সুসংবাদসমূহ) ব্যতীত নবুয়তের কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না। সাহাবীগণ আরয করিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুবাশশিরাত কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, এমন ভাল ও শুভ স্বপ্ন যাহা কোন নেককার মানুষে দেখে কিংবা অপর কেহ তাহার (উক্ত নেককার) সম্বন্ধে দেখে। ইহা নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ بْنَ رِبْعِيٍّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ مِنَ اللَّهِ وَالْحُلْمُ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمُ الشَّىْءَ يَكْرَهُهُ فَلْيَنْفُثْ عَنْ يَسَارِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ إِذَا اسْتَيْقَظَ وَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو سَلَمَةَ إِنْ كُنْتُ لأَرَى الرُّؤْيَا هِيَ أَثْقَلُ عَلَىَّ مِنَ الْجَبَلِ فَلَمَّا سَمِعْتُ هَذَا الْحَدِيثَ فَمَا كُنْتُ أُبَالِيهَا .
রেওয়ায়ত ৪. আবু কাতাদ ইবনে রিবয়ী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রবণ করিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন, যে ভাল স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ হইতে হয় এবং দুঃস্বপ্ন শয়তানের পক্ষ হইতে হয়। সুতরাং তোমাদের কেহ যদি কোন খারাপ স্বপ্ন দেখে তাহা হইলে সে যেন বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং উহার অমঙ্গল হইতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে। কারণ আল্লাহ চাহেন তো উহা আর তাহার কোন অনিষ্ট করিতে পারিবে না। আবু সালমা বলেন, আগে আমি এমন স্বপ্ন দেখিতাম, যাহা আমার উপর পাহাড়ের চাইতেও অধিক বোঝা হইত। কিন্তু যখন হইতে এই হাদীস শ্রবণ করিয়াছি, আমি আর সেই দিকে ক্ৰক্ষেপও করি নাই।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي هَذِهِ الآيَةِ {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ} . قَالَ هِيَ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الرَّجُلُ الصَّالِحُ أَوْ تُرَى لَهُ .
রেওয়ায়ত ৫. উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) এই আয়াত সম্বন্ধে (لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ) (তাহাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সুসংবাদ রহিয়াছে) বলেন যে, ইহার অর্থ হইল ঐ সমস্ত ভাল স্বপ্ন, যাহা নেককার মানুষে দেখে কিংবা অপর কেহ তাহার সম্বন্ধে (বা তাহার জন্য) দেখে।
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ " .
ইয়াহইয়া আমার কাছে মালেক থেকে মূসা ইবনে মায়সারা থেকে সাঈদ ইবনে আবী হিন্দ থেকে আবূ মূসা আল-আশআরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি পাশার খেলা খেলে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করল।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ بَلَغَهَا أَنَّ أَهْلَ بَيْتٍ فِي دَارِهَا كَانُوا سُكَّانًا فِيهَا وَعِنْدَهُمْ نَرْدٌ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِمْ لَئِنْ لَمْ تُخْرِجُوهَا لأُخْرِجَنَّكُمْ مِنْ دَارِي وَأَنْكَرَتْ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ .
রেওয়ায়ত ৬. আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি শতরঞ্জ খেলা খেলিল, সে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের নাফরমানী করিল (অবাধ্য হইল)।[1] নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার বাড়ির একটি ঘরে কিছুসংখ্যক লোক বাস করিত। তিনি শুনিয়াছেন যে, উহাদের নিকট শতরঞ্জ রহিয়াছে। অতঃপর তিনি তাহাদের নিকট বলিয়া পাঠাইলেন, তোমরা উহা (শতরঞ্জ) দূর কর। অন্যথায় আমি তোমাদেরকে আমার ঘর হইতে বাহির করিয়া দিব। তিনি উহাকে অত্যন্ত খারাপ মনে করিয়াছেন।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا وَجَدَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِهِ يَلْعَبُ بِالنَّرْدِ ضَرَبَهُ وَكَسَرَهَا . قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ لاَ خَيْرَ فِي الشَّطْرَنْجِ . وَكَرِهَهَا وَسَمِعْتُهُ يَكْرَهُ اللَّعِبَ بِهَا وَبِغَيْرِهَا مِنَ الْبَاطِلِ وَيَتْلُو هَذِهِ الآيَةَ {فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلاَّ الضَّلاَلُ }.
রেওয়ায়ত ৭. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার পরিবারের কাহাকেও শতরঞ্জ খেলিতে দেখিলে তাহাকে মারিতেন এবং শতরঞ্জ ভাঙ্গিয়া ফেলিতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, আমি মালিক (রহঃ) হইতে শুনিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন, শতরঞ্জ খেলা ভাল নহে। তিনি উহাকে মাকরূহ মনে করিতেন। আমি (ইমাম) মালিক (রহঃ)-এর নিকট শ্রবণ করিয়াছি, তিনি বলিতেন যে, শতরঞ্জ খেলা, অপরাপর সকল অনর্থ এবং উদ্দেশ্যহীন খেলা মকরূহ। অতঃপর এই আয়াত তিলাওয়াত করিতেন (فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلاَّ الضَّلاَلُ) (হক-এর পর পথভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছু নাই)।