৮৭ হাদিস
০১
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬২১
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ أَبُو الْحَسَنِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ لَمْ يَكُنْ يَحْنَثُ فِي يَمِينٍ قَطُّ، حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ كَفَّارَةَ الْيَمِينِ وَقَالَ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتُ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، إِلاَّ أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ، وَكَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي‏.‏
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে, আবূ বাকর (রাঃ) কক্ষনো শপথ ভঙ্গ করেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ্‌ কসমের কাফ্‌ফারা সংবলিত আয়াত অবতীর্ণ করেন। তিনি বলতেন, আমি কসম করি। অতঃপর যদি এর চেয়ে উত্তমটি দেখতে পাই তবে উত্তমটিই করি এবং আমার শপথ ভাঙ্গার জন্য কাফ্‌ফারা দেই। [৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৬৮)
০২
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬২২
আবদ আল-রহমান বিন সামুরা (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ لاَ تَسْأَلِ الإِمَارَةَ، فَإِنَّكَ إِنْ أُوتِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا، وَإِنْ أُوتِيتَهَا مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا، وَإِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ، وَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ ‏"‏‏.‏
আবদুর রহমান ইব্‌নু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু সামুরাহ! তুমি নেতৃত্ব চেয়ো না। কারণ, চাওয়ার পর যদি নেতৃত্ব পাও তবে এর দিকে তোমাকে সোপর্দ করে দেয়া হবে। আর যদি না চেয়ে তা পাও তবে তোমাকে এ বিষয়ে সাহায্য করা হবে। কোন কিছুর ব্যাপারে যদি শপথ কর আর তা ছাড়া অন্য কিছুর ভিতর কল্যাণ দেখতে পাও, তবে নিজ শপথের কাফ্‌ফারা আদায় করে তাত্থেকে উত্তমটি গ্রহণ কর।[৬৭২২, ৭১৪৬, ৭১৪৭; মুসলিম ২৭/৩, হাঃ ১৬৫২, আহমাদ ২০৬৪২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৬৯)
০৩
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬২৩
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي رَهْطٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ أَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ ‏"‏ وَاللَّهِ لاَ أَحْمِلُكُمْ، وَمَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ ‏"‏‏.‏ قَالَ ثُمَّ لَبِثْنَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ نَلْبَثَ، ثُمَّ أُتِيَ بِثَلاَثِ ذَوْدٍ غُرِّ الذُّرَى فَحَمَلَنَا عَلَيْهَا فَلَمَّا انْطَلَقْنَا قُلْنَا أَوْ قَالَ بَعْضُنَا وَاللَّهِ لاَ يُبَارَكُ لَنَا، أَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَسْتَحْمِلُهُ، فَحَلَفَ أَنْ لاَ يَحْمِلَنَا ثُمَّ حَمَلَنَا، فَارْجِعُوا بِنَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنُذَكِّرُهُ، فَأَتَيْنَاهُ فَقَالَ ‏"‏ مَا أَنَا حَمَلْتُكُمْ، بَلِ اللَّهُ حَمَلَكُمْ، وَإِنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، إِلاَّ كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي، وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ ‏"‏‏.‏ أَوْ ‏"‏ أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَكَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي ‏"‏‏.‏
আবূ বুরদাহ (রাঃ)-এর পিতা আবূ মূসা আশ’আরী থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি একবার আশ’আরী গোত্রের একদল লোকের সঙ্গে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁর কাছে বাহন চাইলাম। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না। আর আমার কাছে কিছু নেই যার উপর আরোহণ করা যায়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আল্লাহ্‌ যতক্ষণ চাইলেন, ততক্ষণ আমরা সেখানে থাকলাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অতি সুন্দর তিনটি উষ্ট্রী আনা হল। তিনি সেগুলোর উপর আমাদেরকে আরোহণ করালেন। এরপর আমরা যখন চলতে লাগলাম তখন বললাম অথবা আমাদের মাঝে কেউ বলল, আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহ্‌ আমাদেরকে বরকত দিবেন না। কারণ, আমরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বাহন চইলে তিনি আমাদেরকে বাহন দিবেন না বলে কসম করলেন, অতঃপর আমাদেরকে আরোহণ করালেন। চল আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাই এবং তাঁকে ব্যাপারটি স্মরণ করিয়ে দেই। এরপর আমরা তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ্‌ আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহ্‌র কসম! আমি যখন আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় কোন শপথ করি আর সেটি বাদে অন্যটির মাঝে কল্যাণ দেখি তখন শপথের জন্য কাফ্‌ফারা আদায় করে দেই। আর যেটা কল্যাণকর সেটাই করে নেই এবং স্বীয় শপথের কাফ্‌ফারা আদায় করি। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭০)
০৪
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬২৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা (দুনিয়ায়) সবশেষে আগমনকারী আর ক্বিয়ামাতের দিন হব অগ্রগামী।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭১)
০৫
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬২৫
আল্লাহর রাসূলও (রাঃ)
فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ وَاللَّهِ لأَنْ يَلِجَّ أَحَدُكُمْ بِيَمِينِهِ فِي أَهْلِهِ آثَمُ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ أَنْ يُعْطِيَ كَفَّارَتَهُ الَّتِي افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْهِ ‏"‏‏.‏
বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ্‌র কসম! তোমাদের মাঝে কেউ আপন পরিজন সম্পর্কে শপথ করে এবং সে এর কাফ্‌ফারা আদায় করার পরিবর্তে- যা আল্লাহ ফরয করেছেন- শপথে অনড় থাকে, তাহলে সে আল্লাহ্‌র নিকট গুনাহ্‌গার হবে। [৬৬২৬; মুসলিম ২৭/৬, হাঃ ১৬৫৫, আহমাদ ৮২১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- র৭১)
০৬
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬২৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنِ اسْتَلَجَّ فِي أَهْلِهِ بِيَمِينٍ فَهْوَ أَعْظَمُ إِثْمًا، لِيَبَرَّ ‏"‏‏.‏ يَعْنِي الْكَفَّارَةَ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আপন পরিবারের ব্যাপারে কসম করে এর উপর অটল থাকে সে মস্ত বড় পাপী, তার কাফ্‌ফারা তাকে গুনাহ থেকে মুক্ত করবে না।[৬৬২৫; মুসলিম ২৭/৬, হাঃ ১৬৫৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭২)
০৭
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬২৭
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْثًا وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ، فَطَعَنَ بَعْضُ النَّاسِ فِي إِمْرَتِهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏
"‏ إِنْ كُنْتُمْ تَطْعَنُونَ فِي إِمْرَتِهِ فَقَدْ كُنْتُمْ تَطْعَنُونَ، فِي إِمْرَةِ أَبِيهِ مِنْ قَبْلُ، وَايْمُ اللَّهِ إِنْ كَانَ لَخَلِيقًا لِلإِمَارَةِ، وَإِنْ كَانَ لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَىَّ، وَإِنَّ هَذَا لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَىَّ بَعْدَهُ ‏"‏‏.‏
ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার একটি বাহিনী পাঠালেন যার আমীর নিযুক্ত করলেন উসামাহ্‌ ইব্‌নু যায়দকে। কতক লোক তাঁর নেতৃত্ব সম্পর্কে সমালোচনা করল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে বললেনঃ তোমরা তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা কর, তবে ইতোপুর্বে তাঁর পিতার নেতৃত্ব সম্পর্কেও তোমরা সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহ্‌র কসম! সে অবশ্যই নেতৃত্বের যোগ্য ছিল। আর মানুষের মাঝে সে আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় ছিল। তারপরে অবশ্যই এ উসামাহ সকল মানুষ অপেক্ষা আমার কাছে প্রিয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৩)
০৮
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬২৮
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَتْ يَمِينُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لاَ وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ ‏"‏‏.‏
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কসম ছিল وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ বাক্য দ্বারা। অর্থাৎ অন্তরের পরিবর্তনকারীর কসম। [৬৬১৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৪)
০৯
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬২৯
জাবির বিন সামুরা (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ إِذَا هَلَكَ قَيْصَرُ فَلاَ قَيْصَرَ بَعْدَهُ، وَإِذَا هَلَكَ كِسْرَى فَلاَ كِسْرَى بَعْدَهُ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُنْفَقَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏"‏‏.‏
জাবির ইব্‌নু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ জাবির ইব্‌নু সামুরাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্নিত। তিনি বলেন, কায়সারের ধ্বংসের পরে আর কোন কায়সার আসবে না। কিসরার ধ্বংসের পর আর এরপর কোন কিসরা হবে না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! অবশ্যই তাদের দু’জনের ধন সম্পদ আল্লাহ্‌র রাস্তায় তোমরা খরচ করবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৫)
১০
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ إِذَا هَلَكَ كِسْرَى فَلاَ كِسْرَى بَعْدَهُ، وَإِذَا هَلَكَ قَيْصَرُ فَلاَ قَيْصَرَ بَعْدَهُ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَتُنْفَقَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কিস্‌রা যখন ধ্বংস হবে অতঃপর আর কোন কিস্‌রা হবে না। আর কায়সার যখন ধ্বংস হবে তখন আর কোন কায়সার হবে না। যাঁর হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ সেই সত্তার শপথ! এ দু’ এর ধন-সম্পদ অবশ্যই তোমরা আল্লাহ্‌র পথে খরচ করবে।
১১
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩১
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏
"‏ يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا، وَلَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً ‏"‏‏.‏
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্নিত। তিনি বলেছেনঃ হে উম্মাতে মুহাম্মাদী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্‌র শপথ! আমি যা জানি যদি তা তোমরা জানতে তবে অবশ্যই তোমরা হাসতে কম আর কাঁদতে বেশি। [৫৮] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৬৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৭)
১২
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩২
আব্দুল্লাহ বিন হিশাম (রাঃ)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عَقِيلٍ، زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ أَنَّهُ سَمِعَ جَدَّهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ هِشَامٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ آخِذٌ بِيَدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لأَنْتَ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ إِلاَّ مِنْ نَفْسِي‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لاَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْكَ مِنْ نَفْسِكَ ‏"‏‏.‏ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ فَإِنَّهُ الآنَ وَاللَّهِ لأَنْتَ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ نَفْسِي‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الآنَ يَا عُمَرُ ‏"‏‏.‏
আবদুল্লাহ ইব্‌নু হিশাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমরা একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তখন ‘উমার ইব্‌নু খাত্তাব (রাঃ)-এর হাত ধরেছিলেন। ‘উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার জান ছাড়া আপনি আমার কাছে সব কিছু চেয়ে অধিক প্রিয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, যাঁর হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম! তোমার কাছে আমি যেন তোমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় হই। তখন ‘উমার (রাঃ) তাঁকে বললেন, আল্লাহ্‌র কসম! এখন আপনি আমার কাছে আমার প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে উমর! এখন (তুমি সত্যিকার ইমানদার হলে)। [৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭০, ই. ৬১৭৮)
১৩
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحَدُهُمَا اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ‏.‏ وَقَالَ الآخَرُ وَهْوَ أَفْقَهُهُمَا أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ، وَائْذَنْ لِي أَنْ أَتَكَلَّمَ‏.‏ قَالَ ‏"‏ تَكَلَّمْ ‏"‏‏.‏ قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا ـ قَالَ مَالِكٌ وَالْعَسِيفُ الأَجِيرُ ـ زَنَى بِامْرَأَتِهِ، فَأَخْبَرُونِي أَنَّ عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ، فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَجَارِيَةٍ لِي، ثُمَّ إِنِّي سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ مَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ، وَإِنَّمَا الرَّجْمُ عَلَى امْرَأَتِهِ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ، أَمَّا غَنَمُكَ وَجَارِيَتُكَ فَرَدٌّ عَلَيْكَ ‏"‏‏.‏ وَجَلَدَ ابْنَهُ مِائَةً وَغَرَّبَهُ عَامًا، وَأُمِرَ أُنَيْسٌ الأَسْلَمِيُّ أَنْ يَأْتِيَ امْرَأَةَ الآخَرِ، فَإِنِ اعْتَرَفَتْ رَجَمَهَا، فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا‏.‏
আবূ হুরাইরাহ ও যায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেছেন, একবার দু’ লোক ঝগড়া করতে করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো। তাদের একজন বলল, আল্লাহর কিতাব মুতাবিক আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন। দু’জনের মধ্যে (বেশি) বুদ্ধিমান অন্য লোকটি বলল, হ্যাঁ। হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দিন। আর আমাকে কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বল। লোকটি বলল, আমার পুত্র ও লোকটির কাছে চাকর হিসাবে ছিল। (মালিক বলেন, الْعَسِيفُ শব্দের অর্থ চাকর) আমার পুত্র এর স্ত্রীর সঙ্গে যেনা করেছে। লোকেরা বলেছে যে, আমার পুত্রের (শাস্তি) রজম হবে। তাই আমি একশ’ বক্রী ও একটি বাঁদী নিয়ে তার ফিদইয়া দিয়েছি। এরপর আমি আলিমদের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার পুত্রের একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন হবে। আর রজম হবে এর স্ত্রীর। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের উভয়ের মধ্যে অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দেব। তোমার বক্রী ও বাঁদী তোমাকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি তাঁর পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য নির্বাসিত করলেন। আর উনায়ক আসলামীকে আদেশ দেয়া হল অন্য লোকটির স্ত্রীর কাছে যাওয়ার জন্য। সে যদি (ব্যভিচার) স্বীকার করে তবে তাকে রজম করতে। সে তা স্বীকার করল, সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হল। [২৩১৪, ২৩১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
১৪
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحَدُهُمَا اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ‏.‏ وَقَالَ الآخَرُ وَهْوَ أَفْقَهُهُمَا أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ، وَائْذَنْ لِي أَنْ أَتَكَلَّمَ‏.‏ قَالَ ‏"‏ تَكَلَّمْ ‏"‏‏.‏ قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا ـ قَالَ مَالِكٌ وَالْعَسِيفُ الأَجِيرُ ـ زَنَى بِامْرَأَتِهِ، فَأَخْبَرُونِي أَنَّ عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ، فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَجَارِيَةٍ لِي، ثُمَّ إِنِّي سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ مَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ، وَإِنَّمَا الرَّجْمُ عَلَى امْرَأَتِهِ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ، أَمَّا غَنَمُكَ وَجَارِيَتُكَ فَرَدٌّ عَلَيْكَ ‏"‏‏.‏ وَجَلَدَ ابْنَهُ مِائَةً وَغَرَّبَهُ عَامًا، وَأُمِرَ أُنَيْسٌ الأَسْلَمِيُّ أَنْ يَأْتِيَ امْرَأَةَ الآخَرِ، فَإِنِ اعْتَرَفَتْ رَجَمَهَا، فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا‏.‏
আবূ হুরাইরাহ উম্মাতে (রাঃ) ও যায়দ ইব্‌নু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তাঁরা বলেছেন, একবার দু’ লোক ঝগড়া করতে করতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলো। তাদের একজন বলল, আল্লাহর কিতাব মুতাবিক আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন। দু’জনের মধ্যে (বেশি) বুদ্ধিমান অন্য লোকটি বলল, হ্যাঁ। হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দিন। আর আমাকে কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বল। লোকটি বলল, আমার পুত্র ও লোকটির কাছে চাকর হিসাবে ছিল। (মালিক বলেন, الْعَسِيفُ শব্দের অর্থ চাকর) আমার পুত্র এর স্ত্রীর সঙ্গে যেনা করেছে। লোকেরা বলেছে যে, আমার পুত্রের (শাস্তি) রজম হবে। তাই আমি একশ’ বক্রী ও একটি বাঁদী নিয়ে তার ফিদইয়া দিয়েছি। এরপর আমি আলিমদের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার পুত্রের একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন হবে। আর রজম হবে এর স্ত্রীর। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের উভয়ের মধ্যে অবশ্যই আল্লাহর কিতাব মুতাবিক ফয়সালা করে দেব। তোমার বক্রী ও বাঁদী তোমাকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। তিনি তাঁর পুত্রকে একশ’ বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য নির্বাসিত করলেন। আর উনায়ক আসলামীকে আদেশ দেয়া হল অন্য লোকটির স্ত্রীর কাছে যাওয়ার জন্য। সে যদি (ব্যভিচার) স্বীকার করে তবে তাকে রজম করতে। সে তা স্বীকার করল, সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হল। [২৩১৪, ২৩১৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৭৯)
১৫
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩৫
আবু বাকরাহ (রাঃ)
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَهْبٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كَانَ أَسْلَمُ وَغِفَارُ وَمُزَيْنَةُ وَجُهَيْنَةُ خَيْرًا مِنْ تَمِيمٍ وَعَامِرِ بْنِ صَعْصَعَةَ وَغَطَفَانَ وَأَسَدٍ، خَابُوا وَخَسِرُوا ‏"‏‏.‏ قَالُوا نَعَمْ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُمْ خَيْرٌ مِنْهُمْ ‏"‏‏.‏
আবূ বাক্‌রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আবূ বাক্‌রাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্নিত। তিনি বলেনঃ আসলাম, গিফার, মুযায়না এবং জুহাইনাহ বংশ তামীম, আমীর ইব্‌নু সাসা’আ, গাতফান ও আসাদ বংশ থেকে উত্তম তোমরা কি এরূপ ধারনা কর? তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাহাবাগণ বললেন, হাঁ। তখন তিনি বললেনঃ কসম ঐ সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই তাঁরা এদের (শেষোক্ত গোত্রগুলোর) চেয়ে উত্তম। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮০)
১৬
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩৬
আবু হুমাইদ আল-সাইদি (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَ عَامِلاً فَجَاءَهُ الْعَامِلُ حِينَ فَرَغَ مِنْ عَمَلِهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا لَكُمْ، وَهَذَا أُهْدِيَ لِي‏.‏ فَقَالَ لَهُ ‏"‏ أَفَلاَ قَعَدْتَ فِي بَيْتِ أَبِيكَ وَأُمِّكَ فَنَظَرْتَ أَيُهْدَى لَكَ أَمْ لاَ ‏"‏‏.‏ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشِيَّةً بَعْدَ الصَّلاَةِ فَتَشَهَّدَ وَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَمَّا بَعْدُ، فَمَا بَالُ الْعَامِلِ نَسْتَعْمِلُهُ، فَيَأْتِينَا فَيَقُولُ هَذَا مِنْ عَمَلِكُمْ، وَهَذَا أُهْدِيَ لِي‏.‏ أَفَلاَ قَعَدَ فِي بَيْتِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَنَظَرَ هَلْ يُهْدَى لَهُ أَمْ لاَ، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَغُلُّ أَحَدُكُمْ مِنْهَا شَيْئًا، إِلاَّ جَاءَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَحْمِلُهُ عَلَى عُنُقِهِ، إِنْ كَانَ بَعِيرًا جَاءَ بِهِ لَهُ رُغَاءٌ، وَإِنْ كَانَتْ بَقَرَةً جَاءَ بِهَا لَهَا خُوَارٌ، وَإِنْ كَانَتْ شَاةً جَاءَ بِهَا تَيْعَرُ، فَقَدْ بَلَّغْتُ ‏"‏‏.‏ فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ ثُمَّ رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ حَتَّى إِنَّا لَنَنْظُرُ إِلَى عُفْرَةِ إِبْطَيْهِ‏.‏ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ وَقَدْ سَمِعَ ذَلِكَ مَعِي زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَلُوهُ‏.‏
আবূ হুমায়দ সা’ঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে রাজস্ব আদায়কারী নিযুক্ত করলেন। সে কাজ শেষ করে তাঁর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এটা আপনার জন্য আর এ জিনিসটি আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ তুমি তোমার বাপ-মার ঘরে বসে থাকলে না কেন? তা হলে দেখতে তোমার জন্য হাদিয়া পাঠানো হয় কি না? এরপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এশার ওয়াক্তের সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাশাহ্‌হুদ পাঠ করলেন ও আল্লাহ্‌র যথোপযুক্ত প্রশংসা করলেন। এরপর বললেনঃ রাজস্ব আদায়কারীর অবস্থা কী হল? আমি তাঁকে নিযুক্ত করে পাঠালাম আর সে আমাদের কাছে এসে বলছে, এটা সরকারী রাজস্ব আর এ জিনিস আমাকে হাদিয়া দেয়া হয়েছে। সে তাঁর বাপ-মার ঘরে বসেই থাকল না কেন? তাহলে দেখত তার জন্য হাদিয়া দেয়া হয় কি না? ঐ সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ, তোমাদের মাঝে কেউ কোন বস্তুতে খিয়ানত করলে, ক্বিয়ামাতের দিন সে ঐ বস্তুটিকে তার কাঁধে বহন করা অবস্থায় আসবে। সে বস্তুটি যদি উট হয় তা হলে উট আওয়াজ করতে থাকবে। যদি গরু হয় তবে হাম্বা হাম্বা করতে থাকবে। আর যদি বক্‌রী হয় তবে ভ্যা ভ্যা করতে থাকবে। আমি (বানী) পৌছিয়ে দিলাম। রাবী আবূ হুমায়দ বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হস্ত মুবারক এতটুকু উঠালেন যে, আমরা তাঁর দু’বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। আবূ হুমায়দ বলেন, এ কথাগুলো যায়দ ইব্‌নু সাবিতও আমার সঙ্গে শুনেছে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে। কাজেই তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পার।[৯২৫; মুসলিম ৩৩/৭, হাঃ ১৮৩২, আহমাদ ২৩৬৫৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮১)
১৭
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَام ٌ ـ هُوَ ابْنُ يُوسُفَ ـ عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا، وَلَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً ‏"‏‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যাঁর হাতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ ঐ সত্তার কসম! আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে তোমরা অবশ্যই কাঁদতে বেশি আর হাসতে কম।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮২)
১৮
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩৮
আবু দার (রাঃ)
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْمَعْرُورِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَقُولُ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ ‏"‏ هُمُ الأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، هُمُ الأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ‏"‏ قُلْتُ مَا شَأْنِي أَيُرَى فِيَّ شَىْءٌ مَا شَأْنِي فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ وَهْوَ يَقُولُ، فَمَا اسْتَطَعْتُ أَنْ أَسْكُتَ، وَتَغَشَّانِي مَا شَاءَ اللَّهُ، فَقُلْتُ مَنْ هُمْ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ الأَكْثَرُونَ أَمْوَالاً، إِلاَّ مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا ‏"‏‏.‏
আবূ যর গিফারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একবার আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি কা‘বা ঘরের ছায়ায় বসে বলেছিলেনঃ কা‘বা ঘরের রবের কসম! তারা ক্ষতিগ্রস্ত। কা‘বা ঘরের রবের কসম! তারা ক্ষতিগ্রস্ত। আমি বললাম, আমার অবস্থা কী? আমার মাঝে কি কিছু (ত্রুটি) দেখা গেছে? তিনি বলছিলেন, এমন অবস্থায় আমি তাঁর কাছে বসে পড়লাম। আমি আর চুপ করে থাকতে পারলাম না। আমি চিন্তায় আচ্ছন্ন রইলাম যতক্ষনের জন্য আল্লাহ চাইলেন। এরপর আরি আরয করলাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান! তারা কারা হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তিনি বললেনঃ অধিক সম্পদের অধিকারী। তবে তারা নয় যারা এভাবে এভাবে এভাবে (সাদকা করে)। [৬০][১৪৬০; মুসলিম ১২/৮, হাঃ ৯৯০, আহমাদ ২১৪০৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৩)
১৯
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৩৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ قَالَ سُلَيْمَانُ لأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى تِسْعِينَ امْرَأَةً، كُلُّهُنَّ تَأْتِي بِفَارِسٍ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ‏.‏ فَقَالَ لَهُ صَاحِبُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ‏.‏ فَلَمْ يَقُلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ‏.‏ فَطَافَ عَلَيْهِنَّ جَمِيعًا، فَلَمْ تَحْمِلْ مِنْهُنَّ إِلاَّ امْرَأَةٌ وَاحِدَةٌ، جَاءَتْ بِشِقِّ رَجُلٍ، وَايْمُ الَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ‏.‏ لَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُرْسَانًا أَجْمَعُونَ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ একবার সুলায়মান (আঃ) বললেনঃ আমি আজ রাতে নব্বইজন স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হব, যারা প্রত্যেকেই একটি করে অশ্বারোহী জন্ম দেবে যারা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। তাঁর সঙ্গী বলল, ইনশা আল্লাহ্‌ (বলুন)। তিনি ইনশা আল্লাহ বললেন না। অতঃপর তিনি সকল স্ত্রীর সঙ্গেই মিলিত হলেন। কিন্তু একজন স্ত্রী ছাড়া কেউ গর্ভবতী হলেন না, আর সেও এক অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করল। যাঁর হাতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ, ঐ সত্তার কসম! তিনি যদি ইনশা আল্লাহ বলতেন, তাহলে সকলেই অশ্বারোহী হয়ে আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করত। [৬১](আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৪)
২০
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪০
আল বারা বিন আজিব (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ أُهْدِيَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَرَقَةٌ مِنْ حَرِيرٍ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَتَدَاوَلُونَهَا بَيْنَهُمْ، وَيَعْجَبُونَ مِنْ حُسْنِهَا وَلِينِهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَتَعْجَبُونَ مِنْهَا ‏"‏‏.‏ قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَمَنَادِيلُ سَعْدٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْهَا ‏"‏‏.‏ لَمْ يَقُلْ شُعْبَةُ وَإِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ‏"‏‏.‏
বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একবার রেশমের এক টুক্রা কাপড় হাদিয়া পাঠানো হল। লোকেরা তার সৌন্দর্য ও মসৃণতা দেখে অবাক হয়ে একে একে হাতে নিয়ে দেখছিল। এরপর রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা কি এটা দেখে অবাক হচ্ছ? তাঁরা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ যাঁর মুঠোয় আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম!। নিশ্চয়ই জান্নাতে সা‘দের রুমাল এর চেয়েও উত্তম হবে।[১] আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (বুখারী রহ.) বলেন, তবে শু‘বাহ এবং ইসরাঈল আবূ ইসহাক থেকে যে বর্ণনা করেছেন তাতে وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ কথাটি বলেননি। [৩২৪৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৫)
২১
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪১
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ إِنَّ هِنْدَ بِنْتَ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا كَانَ مِمَّا عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَهْلُ أَخْبَاءٍ ـ أَوْ خِبَاءٍ ـ أَحَبَّ إِلَىَّ أَنْ يَذِلُّوا مِنْ أَهْلِ أَخْبَائِكَ ـ أَوْ خِبَائِكَ، شَكَّ يَحْيَى ـ ثُمَّ مَا أَصْبَحَ الْيَوْمَ أَهْلُ أَخْبَاءٍ ـ أَوْ خِبَاءٍ ـ أَحَبَّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ يَعِزُّوا مِنْ أَهْلِ أَخْبَائِكَ أَوْ خِبَائِكَ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَأَيْضًا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ ‏"‏‏.‏ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ مِسِّيكٌ، فَهَلْ عَلَىَّ حَرَجٌ أَنْ أُطْعِمَ مِنَ الَّذِي لَهُ قَالَ ‏"‏ لاَ إِلاَّ بِالْمَعْرُوفِ ‏"‏‏.‏
আয়িশা সিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হিন্দা বিন্ত ‘উত্বাহ ইব্ন রাবীআ‘ বলল, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এমন এক সময় ছিল যখন ভূ-পৃষ্ঠে যারা তাঁবুতে বাস করছে তাদের মাঝে আপনার অনুসারী যারা তারা অপমানিত হোক এটা আমি খুবই পছন্দ করতাম। (এখানে বর্ণনার মাঝে তিনি أَخْبَاءٍ বলেছেন, না خِبَاءٍ বলেছেন এ সম্পর্কে রাবী ইয়াহ্ইয়ার সন্দেহ রয়েছে।) কিন্তু আজ আমার কাছে এর চেয়ে বেশি প্রিয় কিছুই নেই যে, তাঁবুতে বাসকারীদের মাঝে আপনার অনুসারীরা সম্মানিত হোক। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যাঁর হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ কসম ঐ সত্তার! এ সম্মান আরও বাড়ুক। হিন্দা বললো, আবূ সুফ্ইয়ান একজন কৃপণ লোক। তার মাল থেকে তার পরিবারবর্গকে) কিছু খাওয়ালে এতে কি আমার কোন দোষ হবে? তিনি বললেনঃ না। তবে তা (ন্যায়সঙ্গতভাবে হতে হবে। [২২১১] (আধুনিক প্রকাশনী- ,৬১৭৮ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৬)
২২
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪২
ইবনু মাসউদ (রাঃ)
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا شُرَيْحُ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُضِيفٌ ظَهْرَهُ إِلَى قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ يَمَانٍ إِذْ قَالَ لأَصْحَابِهِ ‏"‏ أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ ‏"‏‏.‏ قَالُوا بَلَى‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَفَلَمْ تَرْضَوْا أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ ‏"‏‏.‏ قَالُوا بَلَى‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْلِ الْجَنَّةِ ‏"‏‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক সময় ইয়ামানী চামড়ার কোন এক তাঁবুতে তাঁর পিঠ হেলান দিয়েছিলেন। তখন তিনি তাঁর সহাবীদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা জান্নাতীদের এক-চতুর্থাংশ হবে, এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট আছ? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা জান্নাতীদের এক-তৃতীয়াংশ হবে, এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট নও! তাঁরা বললেন হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ যাঁর হাতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রাণ শপথ ঐ সত্তার! নিশ্চয়ই আমি কামনা করি তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৭)
২৩
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪৩
আবু সাইদ আল খুদরী (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَمِعَ رَجُلاً، يَقْرَأُ ‏{‏قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ‏}‏ يُرَدِّدُهَا، فَلَمَّا أَصْبَحَ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ، وَكَأَنَّ الرَّجُلَ يَتَقَالُّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ‏"‏‏.‏
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে, এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তিকে (ক্বুল হু ওয়া আল্লাহু আহাদ) বারংবার পাঠ করতে শুনলেন। সকাল হলে তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হাযির হলেন এবং ব্যাপারটি তাঁর কাছে উল্লেখ করলেন। আর ঐ ব্যক্তি যেন উক্ত সূরার পাঠকে কম গুরুত্ব দিচ্ছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ কসম ঐ সত্তার! নিশ্চয়ই এ সূরা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। [৬৩](আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৮)
২৪
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪৪
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ أَتِمُّوا الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَاكُمْ مِنْ بَعْدِ ظَهْرِي إِذَا مَا رَكَعْتُمْ وَإِذَا مَا سَجَدْتُمْ ‏"‏‏.‏
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন যে, তোমরা রুকু‘ ও সাজদাহ পূর্ণভাবে কর। [৬৪] যাঁর হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম! তোমরা যখন রুকু এবং সাজদাহ কর তখন আমি তোমাদেরকে আমার পিছন থেকে অবশ্যই দেখতে পাই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৮৯)
২৫
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ امْرَأَةً، مِنَ الأَنْصَارِ أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَعَهَا أَوْلاَدٌ لَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّكُمْ لأَحَبُّ النَّاسِ إِلَىَّ ‏"‏‏.‏ قَالَهَا ثَلاَثَ مِرَارٍ‏.‏
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে, আনসার গোত্রের এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হাযির হল; সঙ্গে ছিল তার সন্তান-সন্ততি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যাঁর হাতে আমার প্রাণ ঐ সত্তার কসম! মানুষের মধ্যে তোমরা আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯০)
২৬
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪৬
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَدْرَكَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَهْوَ يَسِيرُ فِي رَكْبٍ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ فَقَالَ ‏
"‏ أَلاَ إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ، أَوْ لِيَصْمُتْ ‏"‏‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)-কে বাহনে চলা অবস্থায় পেলেন যখন তিনি তাঁর পিতার নামে কসম করছিলেন। তিনি বললেনঃ সাবধান! আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কেউ কসম করতে চাইলে সে যেন আল্লাহর নামে কসম করে, নইলে যেন চুপ থাকে। [৬৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯১)
২৭
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪৭
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ قَالَ سَالِمٌ قَالَ ابْنُ عُمَرَ سَمِعْتُ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ ‏"‏‏.‏ قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَا مُنْذُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ذَاكِرًا وَلاَ آثِرًا‏.‏ قَالَ مُجَاهِدٌ ‏{‏أَوْ أَثَرَةٍ مِنْ عِلْمٍ‏}‏ يَأْثُرُ عِلْمًا‏.‏ تَابَعَهُ عُقَيْلٌ وَالزُّبَيْدِيُّ وَإِسْحَاقُ الْكَلْبِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ وَمَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ‏.‏
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আমি ‘উমার (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। ‘উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! যখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি, তখন থেকে আমি তাদের নামে কসম করিনি মনে থাকা অবস্থাতেও না, অন্যের কথা উদ্ধৃত করেও না।

মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন, {أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ} দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অবগত বিষয় উদ্ধৃত করা।

অনুরূপ ‘উকায়ল, ‘যুবায়দী ও ইসহাক কালবী (রহ.) যুহরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনু ‘উয়াইনাহ্. ইবনু ‘উমার (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার (রাঃ)-কে বলেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯২)
২৮
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪৮
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لاَ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ ‏"‏‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদাদের নামে শপথ করো না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৩)
২৯
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৪৯
জাহদাম (রা)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، وَالْقَاسِمِ التَّمِيمِيِّ، عَنْ زَهْدَمٍ، قَالَ كَانَ بَيْنَ هَذَا الْحَىِّ مِنْ جَرْمٍ وَبَيْنَ الأَشْعَرِيِّينَ وُدٌّ وَإِخَاءٌ، فَكُنَّا عِنْدَ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، فَقُرِّبَ إِلَيْهِ طَعَامٌ فِيهِ لَحْمُ دَجَاجٍ وَعِنْدَهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَيْمِ اللَّهِ أَحْمَرُ كَأَنَّهُ مِنَ الْمَوَالِي، فَدَعَاهُ إِلَى الطَّعَامِ فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُهُ يَأْكُلُ شَيْئًا فَقَذِرْتُهُ، فَحَلَفْتُ أَنْ لاَ آكُلَهُ‏.‏ فَقَالَ قُمْ فَلأُحَدِّثَنَّكَ عَنْ ذَاكَ، إِنِّي أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَفَرٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ نَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ ‏"‏ وَاللَّهِ لاَ أَحْمِلُكُمْ، وَمَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ ‏"‏‏.‏ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَهْبِ إِبِلٍ فَسَأَلَ عَنَّا‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَيْنَ النَّفَرُ الأَشْعَرِيُّونَ ‏"‏‏.‏ فَأَمَرَ لَنَا بِخَمْسِ ذَوْدٍ غُرِّ الذُّرَى، فَلَمَّا انْطَلَقْنَا قُلْنَا مَا صَنَعْنَا حَلَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَحْمِلُنَا وَمَا عِنْدَهُ مَا يَحْمِلُنَا ثُمَّ حَمَلَنَا، تَغَفَّلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمِينَهُ، وَاللَّهِ لاَ نُفْلِحُ أَبَدًا، فَرَجَعْنَا إِلَيْهِ فَقُلْنَا لَهُ إِنَّا أَتَيْنَاكَ لِتَحْمِلَنَا فَحَلَفْتَ أَنْ لاَ تَحْمِلَنَا، وَمَا عِنْدَكَ مَا تَحْمِلُنَا‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ إِنِّي لَسْتُ أَنَا حَمَلْتُكُمْ، وَلَكِنَّ اللَّهَ حَمَلَكُمْ، وَاللَّهِ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا، إِلاَّ أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَتَحَلَّلْتُهَا ‏"‏‏.‏
যাহদাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমাদের গোত্র জারাম এবং আশ‘আরী গোত্রের মাঝে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব ছিল। আমরা (একবার) আবূ মুসা আশ‘আরীর সাথে ছিলাম। তাঁর কাছে খাবার উপস্থিত করা হল, যাতে ছিল মুরগীর গোশত। তাইমিল্লাহ্‌ গোত্রের এক লাল রঙের ব্যক্তি তাঁর কাছে ছিল। সে দেখতে গোলামদের মত। তিনি তাকে খাবার খেতে ডাকলেন। তখন সে লোকটি বলল, আমি মুরগীকে এমন জিনিস খেতে দেখেছি যার জন্য আমি তাকে ঘৃনা করি। তাই আমি কসম করেছি যে, মুরগী খাব না। তিনি বললেন, ওঠ, আমি এ সম্পর্কে অবশ্যই তোমাকে একখানা হাদীস বলব। একবার আমি কতক আশ‘আরীর সাথে বাহন সংগ্রহের জন্য রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে বাহন দিতে পারব না। তোমাদের বাহন দেয়ার জন্য কিছুই আমার কাছে নেই। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গনীমতের কিছু উট এল। তিনি আমাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেনঃ আশ‘আরী দলটি কোথায়? এরপর আমাদের জন্য পাঁচটি উত্তম সুন্দর উট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমরা যখন চলে গেলাম, তখন চিন্তা করলাম আমরা এ কী করলাম? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো শপথ করেছিলেন আমাদেরকে বাহন দেবেন না। আর তাঁর কাছে কোন বাহন তো ছিলও না। কিন্তু এরপর তিনি তো আমাদেরকে আরোহণের বাহন দিলেন। আমরা রসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-তাঁর কসমের ব্যাপারে অন্যমনস্ক রেখেছিলাম। আল্লাহর কসম! এ বাহন আমাদের কোন উপকারে আসবে না। কাজেই আমরা তাঁর কাছে ফিরে গেলাম এবং তাঁকে বললাম যে, আমাদেরকে আপনি আরোহণ করাবেন এ উদ্দেশ্যে আমরা তো আপনার কাছে এসেছিলাম। আপনি কসম করেছিলেন যে, আপনি আমাদেরকে কোন বাহন দিবেন না। আর আপনার কাছে এমন কোন কিছু ছিলও না, যাতে আমাদেরকে আরোহণ করাতে পারেন। তখন তিনি বলেছিলেনঃ আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাইনি বরং আল্লাহ্‌ আরোহণ করিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! আমি যখন শপথ করি আর তার অন্যটির মাঝে যদি অধিক কল্যাণ দেখতে পাই, তা হলে যা কল্যাণকর তাই বাস্তবায়িত করি এবং আমি শপথ ভঙ্গ করি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৪)
৩০
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ بِاللاَّتِ وَالْعُزَّى‏.‏ فَلْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ‏.‏ وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ تَعَالَ أُقَامِرْكَ‏.‏ فَلْيَتَصَدَّقْ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শপথ করে এবং বলে, ‘লাত ও উয্যার শপথ’, তখন সে যেন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ বলে আর যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে ‘এসো জুয়া খেলি’ তাহলে সে যেন সদাকাহ দেয়।[১] [৪৮৬০] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৫)
৩১
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫১
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اصْطَنَعَ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ وَكَانَ يَلْبَسُهُ، فَيَجْعَلُ فَصَّهُ فِي بَاطِنِ كَفِّهِ، فَصَنَعَ النَّاسُ خَوَاتِيمَ ثُمَّ إِنَّهُ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَنَزَعَهُ، فَقَالَ ‏"‏ إِنِّي كُنْتُ أَلْبَسُ هَذَا الْخَاتِمَ وَأَجْعَلُ فَصَّهُ مِنْ دَاخِلٍ ‏"‏‏.‏ فَرَمَى بِهِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ وَاللَّهِ لاَ أَلْبَسُهُ أَبَدًا ‏"‏‏.‏ فَنَبَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَهُمْ‏.‏
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি স্বর্ণের আংটি তৈরী করালেন এবং তিনি সেটা ব্যবহার করতেন। ব্যবহারকালে তাঁর পাথরটি হাতের ভিতরের দিকে রাখতেন। তখন লোকেরাও এরূপ করল। এরপর তিনি মিম্বরের উপর বসে তা খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি এ আংটি পরেছিলাম এবং তার পাথর হাতের ভিতরের দিকে রেখেছিলাম। অতঃপর তিনি তা ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। আর বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি এ আংটি আর কোনদিন ব্যবহার করব না! তখন লোকেরাও তাদের নিজেদের আংটিগুলো খুলে ফেলল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৬)
৩২
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫২
থাবিত বিন আল-দাহহাক (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ مِلَّةِ الإِسْلاَمِ فَهْوَ كَمَا قَالَ ـ قَالَ ـ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَىْءٍ عُذِّبَ بِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ، وَلَعْنُ الْمُؤْمِنِ كَقَتْلِهِ، وَمَنْ رَمَى مُؤْمِنًا بِكُفْرٍ فَهْوَ كَقَتْلِهِ ‏"‏‏.‏
সাবিত ইবনু যহ্হাক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের কসম করলে সেটা ঐ রকম হবে, যেমন সে বলল। তিনি (আরও বলেছেন) কেউ কোন জিনিসের দ্বারা আত্মহত্যা করলে, জাহান্নামের আগুনে তাকে ঐ জিনিস দিয়েই শাস্তি দেয়া হবে। কোন মু‘মিনকে লা‘নত করা তাকে হত্যা করা তুল্য। আর কোন মু‘মিনকে কুফরীর অপবাদ দেয়াও তাকে হত্যা করার তুল্য।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৭)
৩৩
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫৩
وَقَالَ عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ إِنَّ ثَلاَثَةً فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ، فَبَعَثَ مَلَكًا فَأَتَى الأَبْرَصَ فَقَالَ تَقَطَّعَتْ بِي الْحِبَالُ، فَلاَ بَلاَغَ لِي إِلاَّ بِاللَّهِ، ثُمَّ بِكَ ‏"‏‏.‏ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন যে, বানী ইসরাঈল গোত্রের তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ্‌ পরীক্ষা করতে চাইলেন। অতঃপর একজন ফেরেশ্তা পাঠালেন। ফেরেশ্তা কুষ্ঠরোগীর কাছে এল। সে বলল, আমার সমস্ত উপায়-উপকরণ ছিন্ন হয়ে গেছে। কাজেই আমার জন্য আল্লাহ ব্যতীত, অতঃপর তুমি ব্যতীত কোন উপায় নেই। এরপর পুরো হাদীস বর্ণনা করলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৮)
৩৪
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫৪
বারা (রহ.)
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، عَنِ الْبَرَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏.‏ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، عَنِ الْبَرَاءِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ أَمَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ‏.‏
বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে কসম পূর্ণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৯৯)
৩৫
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫৫
উসামা (রাঃ)
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، سَمِعْتُ أَبَا عُثْمَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ أُسَامَةَ، أَنَّ ابْنَةً لِرَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَتْ إِلَيْهِ وَمَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَسَعْدٌ وَأُبَىٌّ أَنَّ ابْنِي قَدِ احْتُضِرَ فَاشْهَدْنَا‏.‏ فَأَرْسَلَ يَقْرَأُ السَّلاَمَ وَيَقُولُ ‏"‏ إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَمَا أَعْطَى وَكُلُّ شَىْءٍ عِنْدَهُ مُسَمًّى فَلْتَصْبِرْ وَتَحْتَسِبْ ‏"‏‏.‏ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ، فَقَامَ وَقُمْنَا مَعَهُ، فَلَمَّا قَعَدَ رُفِعَ إِلَيْهِ، فَأَقْعَدَهُ فِي حَجْرِهِ وَنَفْسُ الصَّبِيِّ تَقَعْقَعُ، فَفَاضَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَعْدٌ مَا هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ هَذَا رَحْمَةٌ يَضَعُهَا اللَّهُ فِي قُلُوبِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ، وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ ‏"‏‏.‏
উসামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার উসামাহ ইবনু যায়দ, সা‘দ ও ‘উবাই (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক কন্যা তাঁর কাছে খবর পাঠালেন যে, আমার পুত্র মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। কাজেই তিনি যেন আমাদের নিকট আসেন। তিনি সালামের সঙ্গে এ কথা বলে পাঠালেন যে, আল্লাহ যা দান করেন আর যা নিয়ে নেন সব কিছুই আল্লাহর জন্য। আর সব কিছুই আল্লাহর নিকট নির্ধারিত আছে। অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সাওয়াবের আশা কর। এরপর তাঁর কন্যা কসম দিয়ে আবার খবর পাঠালেন। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে দাঁড়ালাম। (সেখানে গিয়ে) তিনি যখন বসলেন, শিশুটিকে তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসালেন, আর শিশুটির শ্বাস নিঃশেষ হয়ে আসছিল। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দু‘চোখ অশ্র“ প্রবাহিত করল। তখন সা‘দ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ কী ব্যাপার? তিনি বললেনঃ এ হল রহমত, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তার মনের ভিতরে দিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ কেবলমাত্র তাঁর দয়ালু বান্দাদের ওপরই দয়া করে থাকেন। [৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০০)
৩৬
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏
"‏ لاَ يَمُوتُ لأَحَدٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ثَلاَثَةٌ مِنَ الْوَلَدِ، تَمَسُّهُ النَّارُ، إِلاَّ تَحِلَّةَ الْقَسَمِ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে মুসলিমের তিনটি সন্তান মারা গেছে (সে যদি ধৈর্য ধরে) তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। তবে কসম পূর্ণ করার জন্য (তাকে পুলসিরাতের উপর দিয়ে নেয়া হবে)।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০১)
৩৭
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫৭
হারিথা বিন ওয়াহব (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ خَالِدٍ، سَمِعْتُ حَارِثَةَ بْنَ وَهْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏
"‏ أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَهْلِ الْجَنَّةِ، كُلُّ ضَعِيفٍ مُتَضَعَّفٍ، لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ، وَأَهْلِ النَّارِ كُلُّ جَوَّاظٍ عُتُلٍّ مُسْتَكْبِرٍ ‏"‏‏.‏
হারিসাহ ইবনু ওয়াহব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের সম্পর্কে জানাব না? তারা হবে (দুনিয়াতে) দুর্বল, মাযলুম। তারা যদি আল্লাহর ওপর কসম করে, তবে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন। আর জাহান্নামের অধিবাসী হবে অবাধ্য, ঝগড়াটে ও অহংকারীরা।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০২)
৩৮
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫৮
আব্দুল্লাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ النَّاسِ خَيْرٌ قَالَ ‏
"‏ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ، وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ ‏"‏‏.‏ قَالَ إِبْرَاهِيمُ وَكَانَ أَصْحَابُنَا يَنْهَوْنَا وَنَحْنُ غِلْمَانٌ أَنْ نَحْلِفَ بِالشَّهَادَةِ وَالْعَهْدِ‏.‏
আবদুল্লাহ ইব্‌নু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একবার জিজ্ঞেস করা হল, কোন মানুষ সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ আমার সময়ের মানুষ। এরপর তাদের পরবর্তী লোকেরা, এরপর তাদের পরবর্তী লোকেরা। এরপরে এমন লোক আসবে যে তাদের সাক্ষ্য কসমের উপর অগ্রগামী হবে, আর কসম সাক্ষ্যের উপর অগ্রগামী হবে। রাবী ইবরাহীম বলেন যে, আমরা যখন বালক ছিলাম তখন আমাদের সঙ্গীরা সাক্ষ্য এবং অঙ্গীকারের সঙ্গে কসম করতে নিষেধ করতেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৩)
৩৯
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৫৯
আব্দুল্লাহ (রাঃ)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، وَمَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ كَاذِبَةٍ، لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ رَجُلٍ مُسْلِمٍ أَوْ قَالَ أَخِيهِ لَقِيَ اللَّهَ وَهْوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ ‏"‏‏.‏ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَهُ ‏{‏إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ‏}‏ قَالَ سُلَيْمَانُ فِي حَدِيثِهِ فَمَرَّ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ فَقَالَ مَا يُحَدِّثُكُمْ عَبْدُ اللَّهِ قَالُوا لَهُ فَقَالَ الأَشْعَثُ نَزَلَتْ فِيَّ، وَفِي صَاحِبٍ لِي، فِي بِئْرٍ كَانَتْ بَيْنَنَا‏.‏
রাবী সুলায়মান তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন, আশ‘আস ইবনু কায়স্ (রাঃ) যখন পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন জিজ্ঞেস করেন, ‘আবদুল্লাহ্ তোমাদের কাছে কী বর্ণনা করেছেন? জবাবে লোকেরা তাঁকে কিছু বলল। তখন আশ‘আস (রাঃ) বললেন, এ আয়াত আমার আর আমার এক সাথী সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমাদের দু’ জনের মাঝে একটি কূপ নিয়ে বিবাদ ছিল। [২৩৫৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
৪০
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬০
আব্দুল্লাহ (রাঃ)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، وَمَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ كَاذِبَةٍ، لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ رَجُلٍ مُسْلِمٍ أَوْ قَالَ أَخِيهِ لَقِيَ اللَّهَ وَهْوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ ‏"‏‏.‏ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَصْدِيقَهُ ‏{‏إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ‏}‏
قَالَ سُلَيْمَانُ فِي حَدِيثِهِ فَمَرَّ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ فَقَالَ مَا يُحَدِّثُكُمْ عَبْدُ اللَّهِ قَالُوا لَهُ فَقَالَ الأَشْعَثُ نَزَلَتْ فِيَّ، وَفِي صَاحِبٍ لِي، فِي بِئْرٍ كَانَتْ بَيْنَنَا‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন মুসলিমের মাল আত্মসাৎ করার জন্য অথবা বলেছেনঃ তার ভাইয়ের মাল আত্মসাৎ করার জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করবে, আল্লাহ্‌র সাথে তার সাক্ষাত ঘটবে এমন অবস্থায় যে আল্লাহ্‌ তার উপর রাগান্বিত থাকবেন। এ কথারই সত্যতায় আল্লাহ তা‘আলা-অবতীর্ণ করেনঃ নিশ্চয় যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মুল্যে বিক্রয় করে, এরা আখিরাতের নি’মাতের কোন অংশই পাবে না।

বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ রাবী সুলায়মান তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন, আশ‘আস ইবনু কায়স্ (রাঃ) যখন পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন জিজ্ঞেস করেন, ‘আবদুল্লাহ তোমাদের কাছে কী বর্ণনা করেছেন? জবাবে লোকেরা তাঁকে কিছু বলল। তখন আশ‘আস (রাঃ) বললেন, এ আয়াত আমার আর আমার এক সাথী সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমাদের দু‘জনের মাঝে একটি কুপ নিয়ে বিবাদ ছিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৪)
৪১
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬১
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ لاَ تَزَالُ جَهَنَّمُ تَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا قَدَمَهُ فَتَقُولُ قَطْ قَطْ وَعِزَّتِكَ‏.‏ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ ‏"‏‏.‏ رَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ‏.‏
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জাহান্নাম সর্বদাই বলতে থাকবে-আরও কি আছে? এমন কি রাব্বুল ইযযত তাতে তাঁর পা রাখবেন। ‘বাস, বাস‘ জাহান্নাম বলবে, তোমার ইযযতের কসম! সেদিন তার একাংশ অন্য অংশের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাবে। শু‘বা, ক্বাতাদাহ (রহঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[৪৮৪৮; মুসলিম ৫১/১৩, হাঃ ২৮৪৮, আহমাদ ১২৩৮৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৬)
৪২
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬২
আল-যুহরি (রাঃ)
حَدَّثَنَا الأُوَيْسِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، ح وَحَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ النُّمَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، قَالَ سَمِعْتُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، وَسَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، وَعَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ، وَعُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حَدِيثِ، عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَالَ لَهَا أَهْلُ الإِفْكِ مَا قَالُوا، فَبَرَّأَهَا اللَّهُ، وَكُلٌّ حَدَّثَنِي طَائِفَةً مِنَ الْحَدِيثِ ـ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَعْذَرَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ، فَقَامَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ فَقَالَ لِسَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ لَعَمْرُ اللَّهِ لَنَقْتُلَنَّهُ‏.‏
উরঅয়া বিন আয যুবায়ের (র) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর অপবাদ বিষয়ক হাদীস বর্ণনা করেন। অপবাদ রটনাকারীরা যখন তাঁর সম্পর্কে যা ইচ্ছে তাই অপবাদ রটালো, তখন আল্লাহ তাঁকে পূত-পবিত্র বলে প্রকাশ করে দিলেন। রাবী বলেন, উপর্যুক্ত বর্ণনাকারীগণ প্রত্যেকেই হাদীসের এক একটি অংশ আমার কাছে বর্ণনা করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উবাই এর মিথ্যা রটনা থেকে নিরাপত্তা চাইলেন। এরপর উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং সা‘দ ইবনু ‘উবাদাহ সম্পর্কে বললেন, আল্লাহ্‌র কসম, অবশ্য অবশ্যই আমরা তাকে হত্যা করব।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৭)
৪৩
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬৩
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ‏{‏لاَ يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ‏}‏ قَالَ قَالَتْ أُنْزِلَتْ فِي قَوْلِهِ لاَ، وَاللَّهِ بَلَى وَاللَّهِ‏.‏
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, {لاَ يُؤَاخِذُكُمْ اللهُ} আয়াতটি- لاَ وَاللهِ (না, আল্লাহর শপথ) এবং بَلَى وَاللهِ

(হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ) এ জাতীয় কথা বলা সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়। [৪৬১৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৮)
৪৪
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا زُرَارَةُ بْنُ أَوْفَى، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَرْفَعُهُ قَالَ ‏
"‏ إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لأُمَّتِي عَمَّا وَسْوَسَتْ أَوْ حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ بِهِ أَوْ تَكَلَّمْ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। আর আবূ হুরায়রা (রাঃ) অন্যত্র হাদীস মারফু‘ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি {নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)} বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ আমার উম্মাতের ঐ সকল ওয়াস্ওয়াসা ক্ষমা করে দিয়েছেন যা তাদের মনে উদিত হয় বা যে সব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষন না তা বাস্তবে করে বা সে সম্পর্কে কথা বলে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০৯)
৪৫
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬৫
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিনুল আস (রাঃ)
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْهَيْثَمِ، أَوْ مُحَمَّدٌ عَنْهُ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ شِهَابٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ طَلْحَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَمَا هُوَ يَخْطُبُ يَوْمَ النَّحْرِ إِذْ قَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ كُنْتُ أَحْسِبُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَذَا وَكَذَا قَبْلَ كَذَا وَكَذَا‏.‏ ثُمَّ قَامَ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُنْتُ أَحْسِبُ كَذَا وَكَذَا لِهَؤُلاَءِ الثَّلاَثِ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ افْعَلْ وَلاَ حَرَجَ ‏"‏ لَهُنَّ كُلِّهِنَّ يَوْمَئِذٍ، فَمَا سُئِلَ يَوْمَئِذٍ عَنْ شَىْءٍ إِلاَّ قَالَ ‏"‏ افْعَلْ وَلاَ حَرَجَ ‏"‏‏.‏
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনু ‘আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর দিন খুতবা দিচ্ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে নিবেদন করল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ধারণা করলাম যে, অমুক অমুক রুকনের পূর্বে অমুক অমুক রুকন হবে। এরপর আরেক জন উঠে দাঁড়াল এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! অমুক অমুক আমলের পূর্বে অমুক আমাল হবে, (অর্থাৎ তারা যবহ, হলক ও তাওয়াফ) এ তিনটি কাজ সম্পর্কে জানতে চাইল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ করতে পার, কোন দোষ নেই। ঐ দিন যে সম্পর্কে তিনি জিজ্ঞেসিত হলেন, বললেনঃ করতে পার, কোন দোষ নেই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১০)
৪৬
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬৬
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زُرْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏‏.‏ قَالَ آخَرُ حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏‏.‏ قَالَ آخَرُ ذَبَحْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏‏.‏
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বলল যে, আমি পাথর নিক্ষেপের আগে যিয়ারাত করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। আরেক ব্যক্তি বলল, আমি তো যবহ করার আগে মাথা মুন্ডন করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। আরেক জন বলল, আমি পাথর নিক্ষেপের আগে যবহ্ করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১১)
৪৭
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، دَخَلَ الْمَسْجِدَ يُصَلِّي وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ، فَجَاءَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ ‏"‏ ارْجِعْ فَصَلِّ، فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏"‏‏.‏ فَرَجَعَ فَصَلَّى، ثُمَّ سَلَّمَ فَقَالَ ‏"‏ وَعَلَيْكَ، ارْجِعْ فَصَلِّ، فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ‏"‏‏.‏ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ فَأَعْلِمْنِي‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَأَسْبِغِ الْوُضُوءَ، ثُمَّ اسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ فَكَبِّرْ، وَاقْرَأْ بِمَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ، ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا، ثُمَّ ارْفَعْ رَأْسَكَ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا، ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ، سَاجِدًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَسْتَوِيَ وَتَطْمَئِنَّ جَالِسًا، ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَسْتَوِيَ قَائِمًا، ثُمَّ افْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلاَتِكَ كُلِّهَا ‏"‏‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ এক ব্যাক্তি মাসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করছিল। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন মাসজিদের এক কোণে অবস্থান করছিলেন। লোকটি এসে তাঁকে সালাম করল। তিনি বললেনঃ ফিরে যাও এবং সালাত আদায় কর। কেননা তুমি সালাত আদায় করনি। তখন সে ফিরে গেল এবং সালাত আদায় করল। আবার এসে তাঁকে সালাম দিল। তিনি বললেনঃ তোমার উপরেও সালাম। তুমি ফিরে যাও এবং সালাত আদায় কর। কারণ, তুমি সলাত আদায় করনি। তৃতীয়বারে লোকটি বলল, আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ যখন তুমি সালাতে দন্ডায়মান হবে তখন খুব ভালভাবে ‘উযূ করবে। এরপর কিব্‌লামুখী হবে। তারপর তাকবীর বলবে। এরপর কুরআন থেকে যা তোমার জন্য সহজ তা তিলাওয়াত করবে। এরপর ধীরস্থিরভাবে রুকূ করবে। এরপর মাথা উঠাবে। এমনকি সঠিকভাবে দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর সাজ্‌দাহ করবে ধীরস্থিরভাবে। এরপর মাথা তুলে সোজা হবে এবং ধীরস্থিরভাবে বসে যাবে। এরপর আবার ধীরস্থিরভাবে সাজদাহ করবে। তারপর সিজ্‌দা থেকে মাথা উঠিয়ে স্থির হয়ে বসবে। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। এরপর তোমার পুরো সালাতেই এরূপ করবে। [৬৮](আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১২)
৪৮
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬৮
আয়েশা (রাঃ)
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ هُزِمَ الْمُشْرِكُونَ يَوْمَ أُحُدٍ هَزِيمَةً تُعْرَفُ فِيهِمْ، فَصَرَخَ إِبْلِيسُ أَىْ عِبَادَ اللَّهِ أُخْرَاكُمْ، فَرَجَعَتْ أُولاَهُمْ فَاجْتَلَدَتْ هِيَ وَأُخْرَاهُمْ، فَنَظَرَ حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ فَإِذَا هُوَ بِأَبِيهِ فَقَالَ أَبِي أَبِي‏.‏ قَالَتْ فَوَاللَّهِ مَا انْحَجَزُوا حَتَّى قَتَلُوهُ، فَقَالَ حُذَيْفَةُ غَفَرَ اللَّهُ لَكُمْ‏.‏ قَالَ عُرْوَةُ فَوَاللَّهِ مَا زَالَتْ فِي حُذَيْفَةَ مِنْهَا بَقِيَّةٌ حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ‏.‏
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, উহূদের যুদ্ধে মুশরিকরা প্রকাশ্যতঃ পরাজিত হলে ইব্‌লিস চিৎকার করে বলল, হে আল্লাহ্‌র বান্দারা! তোমরা পিছনের দিকে ফির। এতে সামনের লোকগুলো পিছনের দিকে ফিরল। তারপর পিছনের লোকগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। হুযাইফা ইব্‌নু ইয়ামান (রাঃ) হঠাৎ তাঁর পিতাকে দেখে (মুসলিমদের প্রতি লক্ষ্য করে) বললেন, এ তো আমার পিতা, আমার পিতা। আল্লাহ্‌র কসম! তারা ফিরল না। শেষে তারা তাঁকে হত্যা করল। হুযাইফাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌ তোমাদের ক্ষমা করুন। ‘উরওয়াহ (রাঃ) বললেন যে, আল্লাহ্‌র কসম! মৃত্যু পর্যন্ত হুযাইফাহ (রাঃ)-এর মাঝে এ ব্যাপারটি বিদ্যমান ছিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৩)
৪৯
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৬৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَوْفٌ، عَنْ خِلاَسٍ، وَمُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏
"‏ مَنْ أَكَلَ نَاسِيًا وَهْوَ صَائِمٌ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ، فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ ‏"‏‏.‏
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে সায়িম ভুলে কিছু খায় সে যেন তার সওম পূর্ণ করে। কেননা, আল্লাহ্‌ তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন। [৬৯](আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৪)
৫০
সহীহ বুখারী # ৮৩/৬৬৭০
আব্দুল্লাহ বিন বুহাইনা (রাঃ)
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ، فَمَضَى فِي صَلاَتِهِ، فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ انْتَظَرَ النَّاسُ تَسْلِيمَهُ، وَسَجَدَ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ وَسَلَّمَ‏.‏
আবদুল্লাহ্‌ ইবনু বুহাইনাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। প্রথম দু’রাকআতে বসার পূর্বেই তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। এভাবেই সলাত আদায় করতে থাকলেন। সলাত শেষ করলে লোকেরা তাঁর সালামের অপেক্ষা করছিল। তিনি আল্লাহু আকবর বলে সালামের পূর্বে সাজদাহ করলেন। এরপর তিনি তার মাথা উঠালেন। আবার আল্লাহু আকবর বলে সাজদাহ করলেন। এরপর আবার মাথা উঠালেন এবং সালাম ফিরালেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২১৫)