১৩ হাদিস
০১
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪২৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ غَيْرَ، وَاحِدٍ، مِنْ عُلَمَائِهِمْ يَقُولُ لَمْ يَكُنْ فِي عِيدِ الْفِطْرِ وَلاَ فِي الأَضْحَى نِدَاءٌ وَلاَ إِقَامَةٌ مُنْذُ زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَوْمِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَتِلْكَ السُّنَّةُ الَّتِي لاَ اخْتِلاَفَ فِيهَا عِنْدَنَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি অনেক আলিমকে বলিতে শুনিয়াছেন যে, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগ হইতে বর্তমান যুগ পর্যন্ত আযান ও ইকামত ছিল না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহা এমন একটি সুন্নত যাহাতে আমাদের মতে কাহারও দ্বিমত নাই।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪২৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَغْتَسِلُ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَغْدُوَ إِلَى الْمُصَلَّى ‏.‏
রেওয়ায়ত ২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ঈদগাহে গমনের পূর্বে গোসল করিতেন।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الأَضْحَى قَبْلَ الْخُطْبَةِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩. ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে খুতবার পূর্বে নামায পড়িতেন।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، وَعُمَرَ، كَانَا يَفْعَلاَنِ ذَلِكَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবু বকর এবং উমর (রাঃ) তাহারা উভয়েই এইরূপ করিতেন।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ قَالَ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ إِنَّ هَذَيْنِ يَوْمَانِ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامِهِمَا يَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ وَالآخَرُ يَوْمٌ تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ نُسُكِكُمْ ‏.‏ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ ثُمَّ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَجَاءَ فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَخَطَبَ وَقَالَ إِنَّهُ قَدِ اجْتَمَعَ لَكُمْ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا عِيدَانِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْ أَهْلِ الْعَالِيَةِ أَنْ يَنْتَظِرَ الْجُمُعَةَ فَلْيَنْتَظِرْهَا وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَرْجِعَ فَقَدْ أَذِنْتُ لَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ ثُمَّ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - وَعُثْمَانُ مَحْصُورٌ - فَجَاءَ فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَخَطَبَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৫. ইবন আযহারের মাওলা আবূ উবায়দ (রহঃ) বলেনঃ আমি ঈদের নামাযে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে শরীক হইয়াছি। তিনি ঈদের নামায পড়াইলেন, অতঃপর (মিম্বরে) প্রত্যাগমন করিলেন এবং লোকের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করিলেন। খুতবায় তিনি বলিলেনঃ এই দুইটি (ঈদের) দিবস এমন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় দিবসে রোযা রাখিতে নিষেধ করিয়াছেন, তোমাদের রোযা খোলার (অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের) দিন আর তোমাদের কুরবানীর গোশত আহার করার দিন। আবু উবায়দ (রহঃ) বলেনঃ অতঃপর আমি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর সাথেও ঈদে হাযির হইয়াছি। তিনি (ঈদগাহে) আসার পর নামায পড়িলেন, তারপর (মুসল্লা হইতে) ফিরিয়া খুতবা প্রদান করিলেন, আজিকার এই দিনে তোমাদের জন্য দুইটি ঈদ একত্র হইয়াছে (শুক্রবার হওয়ার কারণে)। মদীনার বাহিরের লোকেরা ইচ্ছা করিলে জুম'আর নামাযের জন্য অপেক্ষা করিতে পারে অথবা ইচ্ছা করিলে নিজেদের এলাকায় ফিরিয়াও যাইতে পারে, আমি তাহাদিগকে এই অনুমতি দিলাম। আবু উবায়দ (রহঃ) বলেনঃ আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ)-এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলাম, যখন উসমান (রাঃ) অবরুদ্ধ ছিলেন। আলী (রাঃ) আসিলেন এবং নামায পড়লেন, তারপর লোকদের দিকে মুখ করিলেন ও খুতবা দিলেন।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَأْكُلُ يَوْمَ عِيدِ الْفِطْرِ قَبْلَ أَنْ يَغْدُوَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৬. উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে ঈদগাহে গমনের পূর্বে আহার গ্রহণ করিতেন।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا يُؤْمَرُونَ بِالأَكْلِ يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ الْغُدُوِّ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَلاَ أَرَى ذَلِكَ عَلَى النَّاسِ فِي الأَضْحَى ‏.‏
রেওয়ায়ত ৭. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) তাহাকে অবগত করিয়াছেন যে, (তাহাদের যুগে) ঈদুল ফিতরের দিন লোকজন সকালে ঈদে যাওয়ার পূর্বে কিছু আহার করার জন্য নির্দেশিত হইত। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ ঈদুল আযহাতে (কুরবানীর ঈদে) লোকের জন্য আমি ইহা প্রয়োজন মনে করি না।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، سَأَلَ أَبَا وَاقِدٍ اللَّيْثِيَّ مَا كَانَ يَقْرَأُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الأَضْحَى وَالْفِطْرِ فَقَالَ كَانَ يَقْرَأُ بِـ ‏{‏ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ‏}‏ وَ ‏{‏اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ‏}‏‏.‏
রেওয়ায়ত ৮. উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আবূ ওয়াকিদ লায়সী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন সূরা পাঠ করিতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করিতেন সূরা কাফ ও কামার, এই দুই সূরা।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ شَهِدْتُ الأَضْحَى وَالْفِطْرَ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ فَكَبَّرَ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى سَبْعَ تَكْبِيرَاتٍ قَبْلَ الْقِرَاءَةِ وَفِي الآخِرَةِ خَمْسَ تَكْبِيرَاتٍ قَبْلَ الْقِرَاءَةِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَهُوَ الأَمْرُ عِنْدَنَا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ فِي رَجُلٍ وَجَدَ النَّاسَ قَدِ انْصَرَفُوا مِنَ الصَّلاَةِ يَوْمَ الْعِيدِ إِنَّهُ لاَ يَرَى عَلَيْهِ صَلاَةً فِي الْمُصَلَّى وَلاَ فِي بَيْتِهِ وَإِنَّهُ إِنْ صَلَّى فِي الْمُصَلَّى أَوْ فِي بَيْتِهِ لَمْ أَرَ بِذَلِكَ بَأْسًا وَيُكَبِّرُ سَبْعًا فِي الأُولَى قَبْلَ الْقِرَاءَةِ وَخَمْسًا فِي الثَّانِيَةِ قَبْلَ الْقِرَاءَةِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৯. নাফি' (রহঃ) বলেনঃ আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর সাথে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে উপস্থিত হইয়াছি। তিনি কিরাআতের পূর্বে প্রথম রাকাআতে সাতটি তকবীর ও দ্বিতীয় রাকাআতে পাঁচটি তকবীর বলিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেন- আমাদের নিকট ইহাই হুকুম। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ তাহার মতে যে ব্যক্তি ঈদের দিন লোকজনকে নামায পড়িয়া ফিরিবার কালে পায়, সেই ব্যক্তির জন্য ঈদগাহ অথবা স্বগৃহে ঈদের নামায পড়ার প্রয়োজন নাই। আর যদি সে ঈদগাহে বা নিজ ঘরে ঈদের নামায পড়ে তাহাতেও কোন আপত্তি নাই। সে প্রথম রাক’আতে কিরাআতের পূর্বে সাত তকবীর ও দ্বিতীয় রাকাআতে কিরাআতের পূর্বে পাঁচ তকবীর পাঠ করবে।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، لَمْ يَكُنْ يُصَلِّي يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ الصَّلاَةِ وَلاَ بَعْدَهَا ‏.‏
ইয়াহিয়া আমাকে মালিক থেকে নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর ফিতরের দিন নামাযের আগে না পরে সালাত আদায় করেননি।
১১
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، كَانَ يَغْدُو إِلَى الْمُصَلَّى بَعْدَ أَنْ يُصَلِّيَ الصُّبْحَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১০. নাফি' (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) ঈদুল ফিতরের দিন নামায পড়িতেন না, ঈদের পূর্বেও না এবং পরেও না। মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) ফজরের নামায পড়ার পর সূর্য উদয়ের পূর্বে প্রত্যুষে ঈদগাহে গমন করিতেন।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৩৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، أَنَّ أَبَاهُ الْقَاسِمَ، كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ أَنْ يَغْدُوَ، إِلَى الْمُصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১১. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) বলেন, তাহার পিতা কাসিম (রহঃ) ঈদগাহে গমনের পূর্বে চার রাকাআত নামায পড়িতেন।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ১০/৪৪০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي يَوْمَ الْفِطْرِ قَبْلَ الصَّلاَةِ فِي الْمَسْجِدِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১২. উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, তাহার পিতা যুবায়র (রাঃ) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাযের পূর্বে মসজিদে নামায পড়িতেন।