Charity সম্পর্কে হাদিস

৯৪২ টি প্রামাণিক হাদিস পাওয়া গেছে

সহীহ বুখারী : ১৮১
আয়েশা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ‌عَبْدُ ​اللَّهِ ​بْنُ ‌مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ، وَالْعَبَّاسَ ـ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ ـ أَتَيَا أَبَا بَكْرٍ يَلْتَمِسَانِ مِيرَاثَهُمَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُمَا حِينَئِذٍ يَطْلُبَانِ أَرْضَيْهِمَا مِنْ فَدَكَ، وَسَهْمَهُمَا مِنْ خَيْبَرَ‏.‏ فَقَالَ لَهُمَا أَبُو بَكْرٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ، إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ مِنْ هَذَا الْمَالِ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لاَ أَدَعُ أَمْرًا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُهُ فِيهِ إِلاَّ صَنَعْتُهُ‏.‏ قَالَ فَهَجَرَتْهُ فَاطِمَةُ، فَلَمْ تُكَلِّمْهُ حَتَّى مَاتَتْ‏.‏
আয়েশা ‌(রাঃ) ​থেকে ​বর্ণিতঃ ‌একবার ফাতিমাহ ও ‘আব্বাস (রাঃ) আবূ বাক্‌র সিদ্দীক (রাঃ)- এর কাছে আসলেন তাদের ওয়ারিশ চাওয়ার জন্য। তাঁরা তখন তাদের ফাদাকের জমি এবং খায়বারের অংশ দাবি করছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭০) তখন আবূ বাক্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তখন আবূ বকর (রাঃ) তাঁদেরকে বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছি তিনি বলেছেনঃ আমরা যা কিছু (সম্পদ) ছেড়ে যাই কেউ তার ওয়ারিশ হবে না, সবই সদাকাহ্‌। এ মাল থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর পরিবার ভোগ করবেন। আবূ বকর (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্‌র কসম! রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে আমি এতে যেভাবে করতে দেখেছি, তা সেভাবেই করব, কোন ব্যতিক্রম করব না। রাবী বলেন, অতঃপর থেকে ফাতিমাহ (রাঃ) তাঁকে ত্যাগ করেছিলেন, মৃত্যু পর্যন্ত তার সঙ্গে কথা বলেন নি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭০)
আয়েশা (রাঃ) সহীহ বুখারী #৬৭২৬ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৮২
আয়েশা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ‌إِسْمَاعِيلُ ​بْنُ ​أَبَانَ، ​أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ‏"‏‏.‏
আয়েশা ‌(রাঃ) ​থেকে ​বর্ণিতঃ ​যে, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমরা যা কিছু (সম্পদ) রেখে যাই, কেউ তার ওয়ারিশ হয় না, সব সদাকাহ।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭১)
আয়েশা (রাঃ) সহীহ বুখারী #৬৭২৭ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৮৩
মালিক বিন আউস (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​يَحْيَى ‌بْنُ ‌بُكَيْرٍ، ‌حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ،، وَكَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ ذَكَرَ لِي مِنْ حَدِيثِهِ ذَلِكَ، فَانْطَلَقْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ انْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى عُمَرَ فَأَتَاهُ حَاجِبُهُ يَرْفَأُ فَقَالَ هَلْ لَكَ فِي عُثْمَانَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ وَالزُّبَيْرِ وَسَعْدٍ قَالَ نَعَمْ‏.‏ فَأَذِنَ لَهُمْ، ثُمَّ قَالَ هَلْ لَكَ فِي عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ قَالَ نَعَمْ‏.‏ قَالَ عَبَّاسٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا‏.‏ قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ‏"‏‏.‏ يُرِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَفْسَهُ‏.‏ فَقَالَ الرَّهْطُ قَدْ قَالَ ذَلِكَ‏.‏ فَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ فَقَالَ هَلْ تَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَلِكَ قَالاَ قَدْ قَالَ ذَلِكَ‏.‏ قَالَ عُمَرُ فَإِنِّي أُحَدِّثُكُمْ عَنْ هَذَا الأَمْرِ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ كَانَ خَصَّ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْفَىْءِ بِشَىْءٍ لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا غَيْرَهُ، فَقَالَ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏قَدِيرٌ‏}‏ فَكَانَتْ خَالِصَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاللَّهِ مَا احْتَازَهَا دُونَكُمْ، وَلاَ اسْتَأْثَرَ بِهَا عَلَيْكُمْ، لَقَدْ أَعْطَاكُمُوهُ وَبَثَّهَا فِيكُمْ، حَتَّى بَقِيَ مِنْهَا هَذَا الْمَالُ، فَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْ هَذَا الْمَالِ نَفَقَةَ سَنَتِهِ، ثُمَّ يَأْخُذُ مَا بَقِيَ فَيَجْعَلُهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ، فَعَمِلَ بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَيَاتَهُ، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمُونَ ذَلِكَ قَالُوا نَعَمْ‏.‏ ثُمَّ قَالَ لِعَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمَانِ ذَلِكَ قَالاَ نَعَمْ‏.‏ فَتَوَفَّى اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَبَضَهَا فَعَمِلَ بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ تَوَفَّى اللَّهُ أَبَا بَكْرٍ فَقُلْتُ أَنَا وَلِيُّ وَلِيِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَبَضْتُهَا سَنَتَيْنِ أَعْمَلُ فِيهَا مَا عَمِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ جِئْتُمَانِي وَكَلِمَتُكُمَا وَاحِدَةٌ، وَأَمْرُكُمَا جَمِيعٌ، جِئْتَنِي تَسْأَلُنِي نَصِيبَكَ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ، وَأَتَانِي هَذَا يَسْأَلُنِي نَصِيبَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا فَقُلْتُ إِنْ شِئْتُمَا دَفَعْتُهَا إِلَيْكُمَا بِذَلِكَ، فَتَلْتَمِسَانِ مِنِّي قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ، فَوَاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ، لاَ أَقْضِي فِيهَا قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، فَإِنْ عَجَزْتُمَا فَادْفَعَاهَا إِلَىَّ، فَأَنَا أَكْفِيكُمَاهَا‏.‏
মালিক ​ইবনু ‌আউস ‌ইবনু ‌হাদাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ মুহাম্মাদ ইবনু যুবায়র ইবনু মুতঈম আমার কাছে (মালিক ইবনু আউস ইবনু হাদাসান)-এর পক্ষ থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, আমি মালিক ইবনু আউস (রাঃ)-এর কাছে গেলাম এবং ঘটনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, আমি ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট গিয়েছিলাম। এমন সময় তাঁর দারোয়ান ইয়ারফা তাঁর কাছে গিয়ে বলল, আপনি ‘উসমান, ‘আবদুর রাহমান, যুবায়র ও সা‘দ (রাঃ)-কে ভিতরে আসার অনুমতি দিবেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি তাঁদেরকে অনুমতি দিলেন। এরপর সে ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আপনি ‘আলী ও ‘আববাস (রাঃ)-কে ভিতরে আসার অনুমতি দিবেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ‘আববাস (রাঃ) বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার এবং এর মাঝে মীগোশতা করে দিন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলি-যাঁর হুকুমে আকাশ ও যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে- আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, আমরা কাউকে উত্তরাধিকারী করি না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ । রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দ্বারা নিজেকেই উদ্দেশ্য করেছিলেন। দলের লোকেরা বলল, তিনি তাই বলেছেন। এরপর তিনি ‘আলী ও ‘আববাস (রাঃ)-এর দিকে মুখ করে বললেন, আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছিলেন? তাঁরা উভয়ে জবাব দিলেন, তিনি তা বলেছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এখন আমি এ সম্পর্কে আপনাদের কাছে বর্ণনা করছি যে, এ ফায় (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত ধনসম্পদ)-এর ব্যাপারে তাঁর রাসূলকে বিশেষত্ব প্রদান করেছেন, যা আর অন্য কাউকে করেননি। (আল্লাহ্) বলেনঃ {مَا أَفَاءَ اللهُ عَلٰى رَسُوْلِهِ} থেকে {قَدِيْرٌ} পর্যন্ত তিলাওয়াত করে শোনালেন। এবং বললেন, এটা তো ছিল বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য। আল্লাহর কসম! তিনি আপনাদের ছাড়া অন্য কারও জন্য এ মাল সংরক্ষণ করেননি। আর আপনাদের ছাড়া অন্য কাউকে এতে প্রাধান্য দেননি। এ মাল তো আপনাদেরই তিনি দিয়ে গিয়েছেন এবং আপনাদের মাঝেই বণ্টন করেছেন। শেষে এ মালটুকু বাকী ছিল। তখন তিনি তাঁর পরিবার-পরিজনের বছরের ভরণ-পোষণের জন্য এ থেকে খরচ করতেন। এরপর যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর মাল হিসেবে (তাঁর রাস্তায়) খরচ করতেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পূর্ণ জীবনকালেই এমন করে গেছেন। আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, এটা কি আপনারা জানেন? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি ‘আলী (রাঃ) ও ‘আববাস (রাঃ)- কে বললেন, আমি আপনাদের দু’জনকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আপনারা কি এ কথাগুলো জানেন? তাঁরা উভয়েই বললেন, হ্যাঁ। এরপর আল্লাহ্ তাঁর নাবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-মৃত্যু দিলেন তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওলী। অতঃপর তিনি উক্ত সম্পদ হস্তগত করলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে তা কাজে লাগিয়েছিলেন তিনিও তা সেভাবে কাজে লাগালেন। এরপর আল্লাহ্ আবূ বাকর (রাঃ)-এর মৃত্যু দিলেন। তখন আমি বললাম, আমি আল্লাহর রাসূলের ওলীর ওলী। আমি এ সম্পদ হস্তগত করলাম এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবূ বাকর (রাঃ) এ সম্পদ যেভাবে ব্যবহার করেছিলেন দু’বছর যাবত আমি এ সম্পদ সেভাবেই ব্যবহার করে আসছি। এরপর আপনারা দু’জন আমার কাছে আসলেন আর আপনাদের উভয়ের কথা এক এবং ব্যাপারটিও অনুরূপ। (হে ‘আববাস (রাঃ) আপনি আপনার ভাতিজার থেকে আপনার প্রাপ্য অংশ আমার কাছে চাচ্ছেন। আর ‘আলী (রাঃ) আমার কাছে তাঁর স্ত্রীর অংশ যা তাঁর পিতা থেকে তার প্রাপ্য আমার কাছে চাচ্ছেন। সুতরাং আমি বলছি, আপনারা ইচ্ছে করলে আমি আপনাদেরকে এটা দিয়ে দেব। এরপর কি আপনারা অন্য কোন ফায়সালা আমার কাছে চাইবেন? ঐ আল্লাহর কসম! যাঁর হুকুমে আকাশ ও যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে, আমি এ ফায়সালা ছাড়া ক্বিয়ামাত পর্যন্ত অন্য কোন ফায়সালা দিতে পারব না। আপনারা এ সম্পদের ব্যবস্থাপনায় অক্ষম হলে তা আমার কাছে ফিরিয়ে দিবেন, আপনাদের পক্ষ থেকে এ সম্পদের ব্যবস্থাপনায় আমিই যথেষ্ট। [২৯০৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭২)
মালিক বিন আউস (রাঃ) সহীহ বুখারী #৬৭২৮ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৮৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​إِسْمَاعِيلُ، ‌قَالَ ‌حَدَّثَنِي ​مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دِينَارًا، مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمُؤْنَةِ عَامِلِي فَهْوَ صَدَقَةٌ ‏"‏‏.‏
আবূ ​হুরাইরাহ ‌(রাঃ) ‌থেকে ​বর্ণিতঃ যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার রেখে যাওয়া সম্পত্তির দীনার বন্টিত হবে না। আমার রেখে যাওয়া সম্পত্তি সবই সাদাকা- আমার স্ত্রীদের এবং আমার কর্মচারীদের খরচ বাদ দিয়ে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭৩)
আবু হুরায়রা (রাঃ) সহীহ বুখারী #৬৭২৯ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৮৫
উরওয়া (রা)
Sahih
حَدَّثَنَا ​عَبْدُ ‌اللَّهِ ​بْنُ ‌مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها أَنَّ أَزْوَاجَ، النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ يَسْأَلْنَهُ مِيرَاثَهُنَّ‏.‏ فَقَالَتْ عَائِشَةُ أَلَيْسَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ‏"‏‏.‏
নাবী ​(সাল্লাল্লাহু ‌'আলাইহি ​ওয়া ‌সাল্লাম)- এর সহধর্মিণী 'আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে, নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীগণ আবূ বাক্‌র সিদ্দীক (রাঃ)- এর কাছে নিজেদের প্রাপ্য উত্তরাধিকার চাওয়ার জন্য ‘উসমান (রাঃ)- কে পাঠানোর ইচ্ছা করলেন। তখন 'আয়েশা (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি বলেননি যে, আমরা কাউকে ওয়ারিশ বানাই না, আমরা যা রেখে যাই সবই সাদাকাহ্‌।[৪০৩৪; মুসলিম ৩২/১৬, হাঃ ১৭৫৮, আহমাদ ২৫১৭৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭৪)
উরওয়া (রা) সহীহ বুখারী #৬৭৩০ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৮৬
সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​الْحُمَيْدِيُّ، ​حَدَّثَنَا ‌سُفْيَانُ، ​حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَرِضْتُ بِمَكَّةَ مَرَضًا، فَأَشْفَيْتُ مِنْهُ عَلَى الْمَوْتِ، فَأَتَانِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالاً كَثِيرًا، وَلَيْسَ يَرِثُنِي إِلاَّ ابْنَتِي، أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَىْ مَالِي قَالَ ‏"‏ لاَ ‏"‏‏.‏ قَالَ قُلْتُ فَالشَّطْرُ قَالَ ‏"‏ لاَ ‏"‏‏.‏ قُلْتُ الثُّلُثُ قَالَ ‏"‏ الثُّلُثُ كَبِيرٌ إِنَّكَ إِنْ تَرَكْتَ وَلَدَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَتْرُكَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ، وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً إِلاَّ أُجِرْتَ عَلَيْهَا، حَتَّى اللُّقْمَةَ تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ ‏"‏‏.‏ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَأُخَلَّفُ عَنْ هِجْرَتِي فَقَالَ ‏"‏ لَنْ تُخَلَّفَ بَعْدِي فَتَعْمَلَ عَمَلاً تُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ، إِلاَّ ازْدَدْتَ بِهِ رِفْعَةً وَدَرَجَةً، وَلَعَلَّ أَنْ تُخَلَّفَ بَعْدِي حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ، لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ يَرْثِي لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ ‏"‏‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ وَسَعْدُ بْنُ خَوْلَةَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ‏.‏
সা’দ ​ইব্‌নু ​আবূ ‌ওয়াক্কাস ​(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একবার আমি মক্কায় এমন অসুস্থ হয়ে পড়লাম যে মরণের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সেবা শুশ্রূষা করার জন্য আমার কাছে আসলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার অনেক ধন-সম্পদ আছে। আর আমার এক মেয়ে ব্যতীত আর কোন উত্তরাধিকারী নেই। আমি কি আমার মালের দু’তৃতীয়াংশ দান করে দেব? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে কি অর্ধেক দান করব? তিনি বললেনত, না। আমি বললাম, এক-তৃতীয়াংশ কি দান করব? তিনি বললেনঃ এক-তৃতীয়াংশ তো অনেক। তুমি তোমার সন্তানকে সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাবে সেটাই উত্তম তাকে এমন অভাবগ্রস্ত রেখে যাওয়ার চেয়ে যে অবস্থায় সে মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষে করবে। তুমি (পরিবার-পরিজনের জন্য) যা খরচ করবে তার বিনিময় তোমাকে দেয়া হবে। এমন কি যে লোকমাটি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তারও বিনিময় দেয়া হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমি কি আমার হিজরাত (এর পুণ্য) থেকে পেছনে পড়ে যাব? তিনি বললেনঃ তুমি কক্ষনো আমার পেছনে পড়ে থাকবে না, তুমি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য যে ‘আমলই করবে তাতে তোমার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি হবে। সম্ভবত তুমি আমার পরেও জীবিত থাকবে। এমন কি তোমার দ্বারা অনেক গোত্র উপকৃত হবে এবং অন্যেরা হবে ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু সা’দ ইব্‌নু খাওলা (রাঃ)- এর জন্য আফসোস! মক্কাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। সে কারণে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। সুফ্‌ইয়ান (রহঃ) বলেন, সা’দ ইব্‌নু খাওলা (রাঃ) বনূ আমির ইব্‌নু লুআই সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৬৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭৭)
সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) সহীহ বুখারী #৬৭৩৩ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৮৭
আয়েশা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​حَفْصُ ​بْنُ ​عُمَرَ، ​حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ اشْتَرَيْتُ بَرِيرَةَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اشْتَرِيهَا، فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏‏.‏ وَأُهْدِيَ لَهَا شَاةٌ فَقَالَ ‏"‏ هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ، وَلَنَا هَدِيَّةٌ ‏"‏‏.‏ قَالَ الْحَكَمُ وَكَانَ زَوْجُهَا حُرًّا، وَقَوْلُ الْحَكَمِ مُرْسَلٌ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَأَيْتُهُ عَبْدًا‏.‏
আয়েশা ​(রাঃ) ​থেকে ​বর্ণিতঃ ​তিনি বলেন, আমি বারীরা (নামক এক দাসীকে)- কে কিনতে চাইলাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি তাকে কিনে নাও। কারণ, তার পরিত্যক্ত সম্পদের মালিকানা তার হবে যে তাকে আযাদ করবে। বারীরাকে (একদা একটি বক্‌রী) সদাকাহ দেয়া হল। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটি তার জন্য সদাকাহ আর আমাদের জন্য হাদিয়া বা উপঢৌকন। [৯১] হাকাম বলেন, বারীরার স্বামী ছিল একজন আযাদ ব্যক্তি। আবূ ‘আবদুল্লাহ্‌ [ইমাম বুখারী (রহঃ)] বলেন, হাকামের বর্ণনা মুরসাল। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি তাকে (অর্থাৎ বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬২৮৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৯৫)
আয়েশা (রাঃ) সহীহ বুখারী #৬৭৫১ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৮৮
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ‌عَلِيُّ ‌بْنُ ​عَبْدِ ‌اللَّهِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ الْجَرْمِيُّ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَفَرٌ مِنْ عُكْلٍ، فَأَسْلَمُوا فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ، فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَأْتُوا إِبِلَ الصَّدَقَةِ، فَيَشْرَبُوا مِنْ أَبْوَالِهَا وَأَلْبَانِهَا، فَفَعَلُوا فَصَحُّوا، فَارْتَدُّوا وَقَتَلُوا رُعَاتَهَا وَاسْتَاقُوا، فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمْ فَأُتِيَ بِهِمْ، فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ، ثُمَّ لَمْ يَحْسِمْهُمْ حَتَّى مَاتُوا‏.‏
আনাস ‌(রাঃ) ‌থেকে ​বর্ণিতঃ ‌তিনি বলেন, উক্‌ল গোত্রের একদল লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর নিকট হাজির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করল। কিন্তু মাদীনাহ্‌র আবহাওয়া তাদের অনুকূল হল না। তাই তিনি তাদেরকে সদাকাহ্‌র উটপালের কাছে গিয়ে সেগুলোর প্রস্রাব ও দুধপান করার আদেশ করলেন। তারা তা-ই করল। ফলে তারা সুস্থ হয়ে গেল। শেষে তারা দ্বীন ত্যাগ করে উটপালের রাখালদেরকে হত্যা করে সেগুলো নিয়ে চলল। এদিকে তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠালেন। তাদেরকে (ধরে) আনা হল। আর তাদের হাত-পা কাটলেন ও লোহার শলাকা দিয়ে তাদের চোখগুলো ফুঁড়ে দিলেন। কিন্তু তাদের ক্ষতস্থানে লোহা পুড়ে দাগ দিলেন না। শেষতক তারা মারা গেল। [১০২](আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৪৬)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সহীহ বুখারী #৬৮০২ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৮৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ‌مُحَمَّدُ ​بْنُ ​سَلاَمٍ، ‌أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي ظِلِّهِ، يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ إِمَامٌ عَادِلٌ، وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ فِي خَلاَءٍ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسْجِدِ، وَرَجُلاَنِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ إِلَى نَفْسِهَا قَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ‏.‏ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا، حَتَّى لاَ تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا صَنَعَتْ يَمِينُهُ ‏"‏‏.‏
আবূ ‌হুরাইরাহ ​(রাঃ) ​থেকে ‌বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সাত রকমের লোক, যাদেরকে আল্লাহ্‌ ক্বিয়ামাতের দিন তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া হবে না। ১. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ্‌; ২. আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাতে লিপ্ত যুবক; ৩. এমন যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌কে নির্জনে স্মরণ করে আর তার চোখ দু’টি অশ্রুসিক্ত হয়; ৪. এমন ব্যক্তি যার অন্তর মাসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে; ৫. এমন দু’ব্যক্তি যারা আল্লাহ্‌র উদ্দেশে পরস্পর ভালোবাসা রাখে; ৬. এমন ব্যক্তি যাকে কোন সম্ভ্রান্ত রূপসী নারী নিজের দিকে ডাকল আর সে বলল, আমি আল্লাহ্‌কে ভয় করি; ৭.এমন ব্যক্তি যে সদাকাহ করল আর এমনভাবে করল যে, তার বাম হাত জানে না যে তার ডান হাত কী করে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫০)
আবু হুরায়রা (রাঃ) সহীহ বুখারী #৬৮০৬ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯০
আয়েশা (রাঃ)
Sahih
وَقَالَ ‌اللَّيْثُ ​عَنْ ​عَمْرِو ‌بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَتَى رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ قَالَ احْتَرَقْتُ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مِمَّ ذَاكَ ‏"‏‏.‏ قَالَ وَقَعْتُ بِامْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ‏.‏ قَالَ لَهُ ‏"‏ تَصَدَّقْ ‏"‏‏.‏ قَالَ مَا عِنْدِي شَىْءٌ‏.‏ فَجَلَسَ وَأَتَاهُ إِنْسَانٌ يَسُوقُ حِمَارًا وَمَعَهُ طَعَامٌ ـ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَا أَدْرِي مَا هُوَ ـ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ أَيْنَ الْمُحْتَرِقُ ‏"‏‏.‏ فَقَالَ هَا أَنَا ذَا‏.‏ قَالَ ‏"‏ خُذْ هَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ ‏"‏‏.‏ قَالَ عَلَى أَحْوَجَ مِنِّي مَا لأَهْلِي طَعَامٌ قَالَ ‏"‏ فَكُلُوهُ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَدِيثُ الأَوَّلُ أَبْيَنُ قَوْلُهُ ‏"‏ أَطْعِمْ أَهْلَكَ ‏"‏‏.‏
লায়স ‌(রহঃ) ​– ​এর ‌সূত্রে 'আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে, এক লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে মাসজিদে আসল। তখন সে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ তা কার সঙ্গে? সে বলল, আমি রমাযানের ভিতর আমার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করে ফেলেছি। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তুমি সদাকাহ কর। সে বলল, আমার কাছে কিছুই নেই। সে বসে থাকল। এমন সময় এক লোক একটি গাধা হাঁকিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে এল। আর তার সঙ্গে ছিল খাদ্যদ্রব্য। ‘আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি জানি না, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) – এর কাছে কী আসল? অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ ধ্বংসপ্রাপ্ত লোকটি কোথায়? সে বলল, এই তো আমি। তিনি বললেনঃ এগুলো নিয়ে সদাকাহ করে দাও। সে বলল, আমার চেয়ে অধিক অভাবী লোকদের (ভিতর সাদকা করব)? আমার পরিবারের কাছে সামান্য খাবারও নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে তোমরাই খাও।[১৯৩৫; মুসলিম ১৩/১৪, হাঃ ১১১২](আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৬৪)
আয়েশা (রাঃ) সহীহ বুখারী #৬৮২২ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯১
হারিথা বিন ওয়াহব (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ‌مُسَدَّدٌ، ‌حَدَّثَنَا ‌يَحْيَى، ‌عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنَا مَعْبَدٌ، سَمِعْتُ حَارِثَةَ بْنَ وَهْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ تَصَدَّقُوا، فَسَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَمْشِي الرَّجُلُ بِصَدَقَتِهِ، فَلاَ يَجِدُ مَنْ يَقْبَلُهَا ‏"‏‏.‏ قَالَ مُسَدَّدٌ حَارِثَةُ أَخُو عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ لأُمِّهِ‏ قَالَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ.
হারিসা ‌ইব্‌নু ‌ওয়াহ্‌ব ‌(রাঃ) ‌থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা সাদাকা কর। কেননা, শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যে মানুষ সদাকাহ নিয়ে ঘোরাফেরা করবে কিন্তু সদাকাহ গ্রহণ করে এমন কাউকে পাবে না। মুসাদ্দাদ (রহঃ) বলেন, হারিসা 'উবাইদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু 'উমার (রাঃ)-এর বৈপিত্রেয় ভাই। [১৬৪](আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬২১ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৩৫)
হারিথা বিন ওয়াহব (রাঃ) সহীহ বুখারী #৭১২০ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯২
আব্দুল্লাহ বিন আল-সাদি (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​أَبُو ‌الْيَمَانِ، ​أَخْبَرَنَا ​شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ ابْنُ أُخْتِ، نَمِرٍ أَنَّ حُوَيْطِبَ بْنَ عَبْدِ الْعُزَّى، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ السَّعْدِيِّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، قَدِمَ عَلَى عُمَرَ فِي خِلاَفَتِهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَلَمْ أُحَدَّثْ أَنَّكَ تَلِي مِنْ أَعْمَالِ النَّاسِ أَعْمَالاً، فَإِذَا أُعْطِيتَ الْعُمَالَةَ كَرِهْتَهَا‏.‏ فَقُلْتُ بَلَى‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ مَا تُرِيدُ إِلَى ذَلِكَ قُلْتُ إِنَّ لِي أَفْرَاسًا وَأَعْبُدًا، وَأَنَا بِخَيْرٍ، وَأَرِيدُ أَنْ تَكُونَ عُمَالَتِي صَدَقَةً عَلَى الْمُسْلِمِينَ‏.‏ قَالَ عُمَرُ لاَ تَفْعَلْ فَإِنِّي كُنْتُ أَرَدْتُ الَّذِي أَرَدْتَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي‏.‏ حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالاً فَقُلْتُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِهِ، فَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلاَ سَائِلٍ فَخُذْهُ، وَإِلاَّ فَلاَ تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ ‏"‏
আবদুল্লাহ্ ​ইব্‌নু ‌সা’দী ​(রহঃ) ​থেকে বর্ণিতঃ তিনি বর্ণনা করেন যে, ‘উমর (রাঃ) -এর খিলাফাত সময়ে তিনি একবার তাঁর কাছে আসলেন। তখন ‘উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন- আমাকে কি এ সম্পর্কে জানানো হয়নি যে তুমি জনগণের অনেক দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাক। কিন্তু যখন তোমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়া হয়, তখন তুমি সেটা নেয়াকে অপছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। ‘উমর (রাঃ) বললেন, কী কারণে তুমি এরূপ কর। আমি বললাম, আমার অনেক ঘোড়া ও গোলাম আছে এবং আমি ভাল অবস্থায় আছি। কাজেই আমি চাই যে, আমার পারিশ্রমিক সাধারণ মুসলমানদের জন্য সদাকাহ হিসাবে গণ্য হোক। ‘উমর (রাঃ) বললেন, এরকম করো না। কেননা, আমিও তোমার মত এরকম ইচ্ছে পোষণ করতাম। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আমাকে কিছু দিতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার প্রয়োজন বেশি তাকে দিন। এতে একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার হতে এ মালের প্রয়োজন যার অধিক তাকে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা নিয়ে মালদার হও এবং বৃদ্ধি করে তা থেকে সদাকাহ কর। আর এ মাল ধনের যা কিছু তোমার নিকট এভাবে আসে, তুমি যার অধিকারী নও বা প্রার্থী নও তা গ্রহণ করো। তা না হলে তার পিছনে নিজেকে নিয়োজিত করো না। (১৭৩)(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৪ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৭)
আব্দুল্লাহ বিন আল-সাদি (রাঃ) সহীহ বুখারী #৭১৬৩ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
Sahih
وَعَنِ ​الزُّهْرِيِّ، ​قَالَ ‌حَدَّثَنِي ‌سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُعْطِينِي الْعَطَاءَ فَأَقُولُ أَعْطِهِ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنِّي‏.‏ حَتَّى أَعْطَانِي مَرَّةً مَالاً فَقُلْتُ أَعْطِهِ مَنْ هُوَ أَفْقَرُ إِلَيْهِ مِنِّي‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ خُذْهُ فَتَمَوَّلْهُ وَتَصَدَّقْ بِهِ، فَمَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلاَ سَائِلٍ فَخُذْهُ، وَمَا لاَ فَلاَ تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ ‏"‏‏.‏
যুহরী ​‘আবদুল্লাহ্ ​ইব্‌নু ‌‘উমর ‌(রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যুহরী ‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) সূত্রে বলেন, তিনি ‘উমর (রাঃ) -কে বলতে শুনেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে যখন কিছু দান করতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার অধিক প্রয়োজন তাকে দিন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা লও এবং বাড়িয়ে তা থেকে সদাকাহ কর। আর এ রকম মালের যা কিছু তোমার কাছে এমন অবস্থায় আসে যে তুমি তার আশা কর না এবং প্রার্থীও নও তাহলে তা গ্রহণ কর। তবে যা এভাবে আসবে না নিজেকে তার অনুসারী বানাবে না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬৪ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৭)
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) সহীহ বুখারী #৭১৬৪ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯৪
Al-Bara' Bin 'azib
Sahih
حَدَّثَنَا ‌عَبْدَانُ، ​أَخْبَرَنِي ‌أَبِي، ‌عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَنْقُلُ مَعَنَا التُّرَابَ يَوْمَ الأَحْزَابِ، وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ وَارَى التُّرَابُ بَيَاضَ بَطْنِهِ يَقُولُ ‏ "‏ لَوْلاَ أَنْتَ مَا اهْتَدَيْنَا نَحْنُ، وَلاَ تَصَدَّقْنَا وَلاَ صَلَّيْنَا، فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا، إِنَّ الأُلَى وَرُبَّمَا قَالَ الْمَلاَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَا، إِذَا أَرَادُوا فِتْنَةً أَبَيْنَا ‏"‏ أَبَيْنَا يَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ‏.‏
বারাআ ‌ইব্‌নু ​‘আযিব ‌(রাঃ) ‌থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সঙ্গে মাটি উঠাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে দেখতে পেলাম, মাটি তাঁর পেটের শুভ্রতাকে ঢেকে ফেলেছে। তিনি বলেছিলেনঃ (হে আল্লাহ!) যদি আপনি না করতেন তাহলে আমরা হিদায়াত পেতাম না এবং আমরা দান-সদকা করতাম না, আর আমরা সালাত ও পড়তাম না। অতএব আপনি আমাদের উপর শান্তি নাযিল করুন।--- প্রথম দলটি, কখনো বলতেন, একদল লোক আমাদের উপর যুল্‌ম করেছে।--- যখন তারা ফিত্‌নার ইচ্ছে করে আমরা তা প্রত্যখ্যান করি। ‘প্রত্যাখ্যান করি’- উচ্চৈঃস্বরে বলতেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭২৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৪২)
Al-Bara' Bin 'azib সহীহ বুখারী #৭২৩৬ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯৫
মালিক বিন আউস আল-নাসরি (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​عَبْدُ ‌اللَّهِ ‌بْنُ ​يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسٍ النَّصْرِيُّ، وَكَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ ذَكَرَ لِي ذِكْرًا مِنْ ذَلِكَ فَدَخَلْتُ عَلَى مَالِكٍ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ انْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى عُمَرَ أَتَاهُ حَاجِبُهُ يَرْفَا فَقَالَ هَلْ لَكَ فِي عُثْمَانَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ وَالزُّبَيْرِ وَسَعْدٍ يَسْتَأْذِنُونَ‏.‏ قَالَ نَعَمْ‏.‏ فَدَخَلُوا فَسَلَّمُوا وَجَلَسُوا‏.‏ فَقَالَ هَلْ لَكَ فِي عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ‏.‏ فَأَذِنَ لَهُمَا‏.‏ قَالَ الْعَبَّاسُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ الظَّالِمِ‏.‏ اسْتَبَّا‏.‏ فَقَالَ الرَّهْطُ عُثْمَانُ وَأَصْحَابُهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنَهُمَا وَأَرِحْ أَحَدَهُمَا مِنَ الآخَرِ‏.‏ فَقَالَ اتَّئِدُوا أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ‏"‏‏.‏ يُرِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَفْسَهُ‏.‏ قَالَ الرَّهْطُ قَدْ قَالَ ذَلِكَ‏.‏ فَأَقْبَلَ عُمَرُ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَلِكَ‏.‏ قَالاَ نَعَمْ‏.‏ قَالَ عُمَرُ فَإِنِّي مُحَدِّثُكُمْ عَنْ هَذَا الأَمْرِ، إِنَّ اللَّهَ كَانَ خَصَّ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْمَالِ بِشَىْءٍ لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا غَيْرَهُ، فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ ‏{‏مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ‏}‏ الآيَةَ، فَكَانَتْ هَذِهِ خَالِصَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ وَاللَّهِ مَا احْتَازَهَا دُونَكُمْ وَلاَ اسْتَأْثَرَ بِهَا عَلَيْكُمْ، وَقَدْ أَعْطَاكُمُوهَا وَبَثَّهَا فِيكُمْ، حَتَّى بَقِيَ مِنْهَا هَذَا الْمَالُ، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَتِهِمْ مِنْ هَذَا الْمَالِ، ثُمَّ يَأْخُذُ مَا بَقِيَ فَيَجْعَلُهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ، فَعَمِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ حَيَاتَهُ، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمُونَ ذَلِكَ فَقَالُوا نَعَمْ‏.‏ ثُمَّ قَالَ لِعَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ أَنْشُدُكُمَا اللَّهَ هَلْ تَعْلَمَانِ ذَلِكَ قَالاَ نَعَمْ‏.‏ ثُمَّ تَوَفَّى اللَّهُ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَبَضَهَا أَبُو بَكْرٍ فَعَمِلَ فِيهَا بِمَا عَمِلَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَنْتُمَا حِينَئِذٍ ـ وَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ ـ تَزْعُمَانِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ فِيهَا كَذَا، وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنَّهُ فِيهَا صَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ، ثُمَّ تَوَفَّى اللَّهُ أَبَا بَكْرٍ فَقُلْتُ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ‏.‏ فَقَبَضْتُهَا سَنَتَيْنِ أَعْمَلُ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ جِئْتُمَانِي وَكَلِمَتُكُمَا عَلَى كَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ وَأَمْرُكُمَا جَمِيعٌ، جِئْتَنِي تَسْأَلُنِي نَصِيبَكَ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ، وَأَتَانِي هَذَا يَسْأَلُنِي نَصِيبَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا فَقُلْتُ إِنْ شِئْتُمَا دَفَعْتُهَا إِلَيْكُمَا، عَلَى أَنَّ عَلَيْكُمَا عَهْدَ اللَّهِ وَمِيثَاقَهُ تَعْمَلاَنِ فِيهَا بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِمَا عَمِلَ فِيهَا أَبُو بَكْرٍ وَبِمَا عَمِلْتُ فِيهَا مُنْذُ وَلِيتُهَا، وَإِلاَّ فَلاَ تُكَلِّمَانِي فِيهَا‏.‏ فَقُلْتُمَا ادْفَعْهَا إِلَيْنَا بِذَلِكَ‏.‏ فَدَفَعْتُهَا إِلَيْكُمَا بِذَلِكَ، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ هَلْ دَفَعْتُهَا إِلَيْهِمَا بِذَلِكَ قَالَ الرَّهْطُ نَعَمْ‏.‏ فَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ هَلْ دَفَعْتُهَا إِلَيْكُمَا بِذَلِكَ‏.‏ قَالاَ نَعَمْ‏.‏ قَالَ أَفَتَلْتَمِسَانِ مِنِّي قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ فَوَالَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ لاَ أَقْضِي فِيهَا قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، فَإِنْ عَجَزْتُمَا عَنْهَا فَادْفَعَاهَا إِلَىَّ، فَأَنَا أَكْفِيكُمَاهَا‏.‏
ইব্‌নু ​শিহাব ‌(রহঃ) ‌থেকে ​বর্ণিতঃ তিনি বলেন, মালিক ইব্‌নু আওস নাযরী (রহঃ) আমাকে এ হাদীসটি বর্ননা করেছেন। অবশ্য মুহাম্মাদ ইব্‌নু যুবায়র ইব্‌নু মুতঈম এ সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলেন। পরে আমি মালিকের নিকট যাই এবং তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তখন তিনি বলেন, ‘উমর (রাঃ) - এর সঙ্গে দেখা করার জন্য রওনা হয়ে তার কাছে হাজির হলাম। এমন সময় তার দ্বাররক্ষক ইয়ারফা এসে বলল, ‘উসমান, ‘আবদুর রহমান, যুবায়র এবং সা’দ (রাঃ) আসতে চাচ্ছেন। আপনার অনুমতি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর তাঁরা প্রবেশ করলেন এবং সালাম দিয়ে আসনে বসলেন। দ্বাররক্ষক (আবার) বলল, ‘আলী এবং ‘আব্বাসের ব্যাপারে আপনার অনুমতি আছে কি? তিনি তাদের দু’জনকে অনুমতি দিলেন। ‘আব্বাস (রাঃ) এসে বললেনঃ হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার ও সীমাংঘনকারীর মাঝে ফায়সালা করে দিন। এবং তারা পরস্পরে গালমন্দ করলেন। তখন দলটি বললেন, ‘উসমান ও তাঁর সঙ্গীরা, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ দু’জনের মাঝে ফায়সালা করে দিয়ে একজনকে অন্যজন হতে শাস্তি দিন। ‘উমর (রাঃ) বললেন, আপনারা একটু ধৈর্য ধারন করুন। আমি আপনাদেরকে সেই আল্লাহ্‌র কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি যার হুকুমে আসমান ও যমীন নিজ স্থানে বিদ্যমান, আপনারা কি এ কথা জানেন যে রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেনঃ আমাদের সস্পদ ওয়ারিশদের মাঝে বন্টিত হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা হিসাবে গণ্য হয়? এ কথা দ্বারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজেকেই বুঝিয়েছিলেন। দলের সবাই বললেন, হ্যাঁ তিনি এ কথা বলেছিলেন। তারপর ‘উমর (রাঃ) ‘আলী ও ‘আব্বাস (রাঃ) - এর দিকে ফিরে বললেন, আপনাদের দু’জনকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, আপনারা কি জানেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলেছিলেন? তাঁরা দু’জনেই আল্লাহ্‌র কসম দিয়ে বললেন, হ্যাঁ। ‘উমর (রাঃ) বললেন, আমি আপনাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি যে, আল্লাহ তা’আলা এ সম্পদের একাংশ তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’র নির্ধারিত করে দিয়েছিলেন, অপর কারো জন্য দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আল্লাহ ইয়াহুদীদের নিকট হতে তার রসূলকে যে ফায় দিয়েছেন তার জন্য তোমরা ঘোড়া কিংবা উটে চড়ে যুদ্ধ করনি.....(৫৯ : ৬)। কাজেই এ সম্পদ একমাত্র রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’র জন্যই নির্দিষ্ট ছিল। তারপর আল্লাহর কসম! তিনি আপনাদেরকে বাদ দিয়ে এককভাবে নিজের জন্য তা সঞ্চিত করে রাখেননি, কিংবা এককভাবে আপনাদেরকেও দিয়ে দেননি। বরং তিনি আপনাদের সকলকেই তা থেকে দিয়েছেন এবং সকলের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। অবশেষে তা থেকে এ পরিমান সস্পদ অবশিষ্ট রয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ সম্পদ থেকে তার পরিবারের জন্য তাদের বছরের খরচ দিতেন। এরপর যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর মাল যে পথে ব্যয় হয় সে পথে খরচের জন্য রেখে দিতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবিত অবস্থায় এমন করতেন। আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি! আপনারা কি এ ব্যাপারে জ্ঞাত আছেন? সকলেই বললেন, হ্যাঁ। তারপর ‘আলী (রাঃ) ও ‘আব্বাস (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাদের দু’জনকে জিজ্ঞেস করছি! আপনারা কি এ সম্পর্কে জ্ঞাত আছেন? তারা দু’জনেই বললেন, হ্যাঁ। এরপর আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে মৃত্যু দিলেন। তখন আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্থলাভিষিক্ত। কাজেই তিনি সে সম্পদ অধিগ্রহণ করলেন এবং রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে খাতে এ সম্পদ খরচ করতেন তিনিও ঠিক সেভাবেই ব্যয় করতেন। আপনারা তখন ছিলেন। তারপর ‘আলী (রাঃ) ও ‘আব্বাস (রাঃ) - এর দিকে ফিরে বললেন, আপনারা দু’জন তখনও মনে করতেন যে আবূ বকর (রাঃ) এ ব্যাপারে এরূপ ছিলেন। আল্লাহ জানেন তিনি এ ব্যাপারে সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ, সত্যনিষ্ঠ ও হক্কের অনুসারী ছিলেন। তারপর আল্লাহ তা’আলা আবূ বকর (রাঃ) - কেও মৃত্যু দিলেন। তখন আমি বললাম, এখন আমি আবূ বাকর ও রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর স্থলাভিষিক্ত। সুতরাং দু’বছর আমি তা আমার তত্ত্বাবধানে রাখলাম এবং আবূ বকর (রাঃ) ও রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা যে খাতে খরচ করতেন, আমিও তেমন করতে লাগলাম। তারপর আপনারা দু’জন আমার কাছে এলেন। আপনাদের দু’জনের একই কথা ছিল, দাবিও ছিল একই। আপনি এসেছিলেন নিজের ভাতিজার থেকে নিজের অংশ আদায় করে নেওয়ার দাবি নিয়ে, আর ইনি (‘আলী) এসেছিলেন তাঁর স্ত্রীর পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত অংশ আদায় করে নেওয়ার দাবি নিয়ে। আমি বললাম যদি আপনারা চান তাহলে আমি আপনাদেরকে তা দিয়ে দিতে পারি, তরে এ শর্তে যে, আপনারা আল্লাহর নামে এই ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হবেন যে, এ সস্পদ রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ বকর (রাঃ) যে ভাবে খরচ করতেন এবং আমি এর দায়িত্ব নেয়ার পর যেভাবে তা খরচ করেছি, আপনারাও তেমনিভাবে ব্যায় করবেন। তখন আপনারা দু’জনে বলেছিলেন, এ শর্তেই আপনি তা আমাদের হাতে দিয়ে দিন। ফলে আমি তা আপনাদের কাছে দিয়ে দিয়েছিলাম। আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাদেরকে জিজ্ঞেস করছি! আমি কি সেই শর্তাধীনে এদের কাছে সে সম্পদ দিয়ে দেইনি? সকলেই বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি ‘আলী (রাঃ) ও ‘আব্বাস (রাঃ) - এর দিকে তাকিয়ে বললেন, আল্লাহর কসম দিয়ে আপনাদের দু’জনকে জিজ্ঞেস করছি! আমি কি ঐ শর্তাধীনে আপনাদেরকে সে সস্পদ দিয়ে দেইনি? তারা দু’জনে বললেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, আপনারা কি আমার নিকট হতে এর ভিন্ন কোন ফয়সালা পেতে চান? সে সঁত্তার কসম করে বলছি, যার হুকুমে আকাশ ও যমীন নিজ স্থানে বিরাজমান, ক্বিয়ামতের পূর্বে আমি এ বিষয়ে নতুন কোন ফয়সালা করব না। যদি আপনারা এর তত্ত্বাবধানে অক্ষম হন, তাহলে তা আমার নিকট সোর্পদ করুন। আপনাদের দু’জনের বদলে আমি একাই এর তত্ত্বাবধানের জন্য যথেষ্ট।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৭৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮০৭)
মালিক বিন আউস আল-নাসরি (রাঃ) সহীহ বুখারী #৭৩০৫ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯৬
আব্দুর রহমান বিন আবিস (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​مُحَمَّدُ ​بْنُ ‌كَثِيرٍ، ​أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَشَهِدْتَ الْعِيدَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ وَلَوْلاَ مَنْزِلَتِي مِنْهُ مَا شَهِدْتُهُ مِنَ الصِّغَرِ، فَأَتَى الْعَلَمَ الَّذِي عِنْدَ دَارِ كَثِيرِ بْنِ الصَّلْتِ فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ، وَلَمْ يَذْكُرْ أَذَانًا وَلاَ إِقَامَةً، ثُمَّ أَمَرَ بِالصَّدَقَةِ فَجَعَلَ النِّسَاءُ يُشِرْنَ إِلَى آذَانِهِنَّ وَحُلُوقِهِنَّ، فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَتَاهُنَّ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏.‏
আবদুর ​রহমান ​ইবনু ‌আবিস ​(রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) - কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল; আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সঙ্গে কোন ঈদে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। যদি তাঁর কাছে আমার বিশেষ একটা মর্যাদা না থাকতো তবে এত অল্প বয়সে তাঁর কাছে যাওয়ার সুযোগ পেতাম না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাসীর ইবনু সালাতের বাড়ির নিকটের পতাকার নিকট আসলেন। এরপর ঈদের সালাত পড়লেন। তারপর খুৎবা দিলেন। রাবী আযান এবং ইকামত-এর উল্লেখ করেননি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদেরকে সদকা প্রদানের নির্দেশ দিলেন। নারীরা তাদের কান ও গলার (অলঙ্কারের) দিকে ইশারা করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলাল (রাঃ) (তাদের কাছে যাবার) হুকুম করলেন। বিলাল (রাঃ) (অলঙ্কারাদি নিয়ে) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)‘র কাছে ফিরে আসলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮২৬)
আব্দুর রহমান বিন আবিস (রাঃ) সহীহ বুখারী #৭৩২৫ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
وَقَالَ ‌خَالِدُ ​بْنُ ​مَخْلَدٍ ‌حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ، وَلاَ يَصْعَدُ إِلَى اللَّهِ إِلاَّ الطَّيِّبُ، فَإِنَّ اللَّهَ يَتَقَبَّلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهِ كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ، حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ ‏"‏‏.‏ وَرَوَاهُ وَرْقَاءُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ وَلاَ يَصْعَدُ إِلَى اللَّهِ إِلاَّ الطَّيِّبُ ‏"‏‏.‏
খালিদ ‌ইব্‌নু ​মাখলাদ ​(রহঃ) ‌..... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক তার হালাল ও পবিত্র উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণও দান করে, আল্লাহ্ তা তাঁর ডান হাত দ্বারা কবূল করেন। আর পবিত্র ও হালাল বস্তু ব্যতীত আল্লাহ্‌র দিকে কোন কিছু আগে গিয়ে পৌঁছে না। তারপর এটি তার মালিকের জন্য লালন-পালন ও পরিচর্যা করতে থাকে, তোমরা যেমন ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন-পালন করতে থাক। অবশেষে তা পর্বতের মত বিরাট আকার ধারণ করে। [মুসলিম ১২/১৯, হাঃ ১০১৪, আহমাদ ১০৯৪৫] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১২ মধ্যমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮১১ মধ্যমাংশ) ওয়ারকা (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ্ তা'আলার দিকে পবিত্র জিনিস ব্যতীত কোন কিছুই গমন করতে পারে না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯১২ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯২৪ শেষাংশ)
আবু হুরায়রা (রাঃ) সহীহ বুখারী #৭৪৩০ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ‌أَبُو ​الْيَمَانِ، ​أَخْبَرَنَا ​شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، أَنَّ الأَعْرَجَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏"‏ نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏‏.‏ وَبِهَذَا الإِسْنَادِ ‏"‏ قَالَ اللَّهُ أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ ‏"‏‏.‏
হাদীসটির ‌এ ​সনদে ​আরো ​আছে যে, আল্লাহ্ বলেনঃ তুমি খরচ কর, তাহলে আমিও তোমার ওপর খরচ করব। [৪৬৮৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৭ শেষাংশ)
আবু হুরায়রা (রাঃ) সহীহ বুখারী #৭৪৯৫ Sahih
সহীহ বুখারী : ১৯৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​أَبُو ‌الْيَمَانِ، ‌أَخْبَرَنَا ‌شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، أَنَّ الأَعْرَجَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏"‏ نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏‏.‏ وَبِهَذَا الإِسْنَادِ ‏"‏ قَالَ اللَّهُ أَنْفِقْ أُنْفِقْ عَلَيْكَ ‏"‏‏.‏
আবূ ​হুরায়রা ‌(রাঃ) ‌থেকে ‌বর্ণিতঃ তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছেন। আমরা (পৃথিবীতে) সর্বশেষে আগমনকারী, তবে ক্বিয়ামাতের দিন অগ্রগামী। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৭ প্রথমাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৭ প্রথমাংশ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদীসটির এ সনদে আরো আছে যে, আল্লাহ বলেনঃ তুমি খরচ কর, তাহলে আমিও তোমার ওপর খরচ করব। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৭৭ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৮৭ শেষাংশ)
আবু হুরায়রা (রাঃ) সহীহ বুখারী #৭৪৯৬ Sahih
সহীহ বুখারী : ২০০
আদী বিন হাতিম (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​عَلِيُّ ‌بْنُ ‌حُجْرٍ، ‌أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلاَّ سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ، لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ تَرْجُمَانٌ، فَيَنْظُرُ أَيْمَنَ مِنْهُ فَلاَ يَرَى إِلاَّ مَا قَدَّمَ مِنْ عَمَلِهِ، وَيَنْظُرُ أَشْأَمَ مِنْهُ فَلاَ يَرَى إِلاَّ مَا قَدَّمَ، وَيَنْظُرُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَلاَ يَرَى إِلاَّ النَّارَ تِلْقَاءَ وَجْهِهِ، فَاتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ ‏"‏‏.‏ قَالَ الأَعْمَشُ وَحَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ عَنْ خَيْثَمَةَ مِثْلَهُ وَزَادَ فِيهِ ‏"‏ وَلَوْ بِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ ‏"‏‏.‏
আদী ​ইব্‌নু ‌হাতিম ‌(রাঃ) ‌থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তার রবব অতি সত্বর কথা বলবেন। তার ও আল্লাহর মাঝখানে কোন তর্জমাকারী থাকবে না। এরপর সে তাকাবে ডান দিকে, তখন তার আগের ‘আমাল ব্যতীত সে আর কিছু দেখবে না। আবার তাকাবে বাম দিকে, তখনো আগের ‘আমাল ব্যতীত আর কিছু সে দেখবে না। আর সামনে তাকাবে তখন সে জাহান্নাম ব্যতীত আর কিছুই দেখতে পাবে না। কাজেই জাহান্নামকে ভয় কর এক টুকরো খেজুরের বিনিময়ে হলেও। বর্ণনাকারী আ‘মাশ (রহ.)......খায়সামা (রহ.) থেকে অনুরূপই বর্ণনা দিয়েছেন। তবে তিনি وَلَوْ بِكَلِمَةٍ طَيِّبَةٍ ‘‘যদি পবিত্র কথার বদলেও হয়’’ কথাটুকু যোগ করেছেন। [১৪১৩; মুসলিম ১২/১৯, হাঃ ১০১৬, আহমাদ ১৮২৭৪] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৯৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০৪)
আদী বিন হাতিম (রাঃ) সহীহ বুখারী #৭৫১২ Sahih