Forgiveness সম্পর্কে হাদিস

৪৯০ টি প্রামাণিক হাদিস পাওয়া গেছে

সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬১
আয়েশা (রাঃ)
Sahih
أَخْبَرَنَا ​عَمْرُو ​بْنُ ​عَلِيٍّ، ‌قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، ح وَأَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ ‏"‏ ‏.‏ زَادَ عَمْرٌو فِي حَدِيثِهِ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَرَاهِيَةُ لِقَاءِ اللَّهِ كَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ كُلُّنَا نَكْرَهُ الْمَوْتَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ذَاكَ عِنْدَ مَوْتِهِ إِذَا بُشِّرَ بِرَحْمَةِ اللَّهِ وَمَغْفِرَتِهِ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ وَأَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَإِذَا بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ وَكَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ ‏"‏ ‏.‏
আমর ​ইবনু ​আলী ​এবং ‌হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) ... আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর সে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহ তা’আলাও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। আমর (রহঃ) তার হাদীসে এ অংশটূকু বৃদ্ধি করেছেন। বলা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করাতো মৃত্যুকে অপছন্দ করা অথচ আমরা সকলেই তো মৃত্যুকে অপছন্দ করে থাকি। তিনি বললেন, এ হল তার মৃত্যুকালীন অবস্থা, যখন তাকে আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত এবং রহমতের সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন সে আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করে আর আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যখন তাকে আল্লাহ তা'আলার আযাবের দুঃসংবাদ দেয়া হয়, তখন সে আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করে আর আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।
আয়েশা (রাঃ) সুনানে আন-নাসায়ী #১৮৩৮ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬২
আবু সালামাহ ও ইবনুল মুসায়্যাব (রা.)
Sahih
أَخْبَرَنَا ‌أَبُو ​دَاوُدَ، ​قَالَ ​حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، وَابْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَعَى لَهُمُ النَّجَاشِيَّ صَاحِبَ الْحَبَشَةِ الْيَوْمَ الَّذِي مَاتَ فِيهِ وَقَالَ ‏ "‏ اسْتَغْفِرُوا لأَخِيكُمْ ‏"‏ ‏.‏
আবূ ‌দাঊদ ​(রহঃ) ​... ​আবূ সালামা ও ইবনু মুসায়্যাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, হাবশার বাদশাহ নাজাশী যেদিন মৃত্যুবরণ করেন সেদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যূ সংবাদ দিয়ে বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের গুনাহ মার্জনার প্রার্থনা কর।
আবু সালামাহ ও ইবনুল মুসায়্যাব (রা.) সুনানে আন-নাসায়ী #১৮৭৯ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬৩
It Was
Sahih
أَخْبَرَنَا ​عَمْرُو ​بْنُ ‌عَلِيٍّ، ‌قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا مَاتَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ جَاءَ ابْنُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَعْطِنِي قَمِيصَكَ حَتَّى أُكَفِّنَهُ فِيهِ وَصَلِّ عَلَيْهِ وَاسْتَغْفِرْ لَهُ ‏.‏ فَأَعْطَاهُ قَمِيصَهُ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ إِذَا فَرَغْتُمْ فَآذِنُونِي أُصَلِّي عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ فَجَذَبَهُ عُمَرُ وَقَالَ قَدْ نَهَاكَ اللَّهُ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَنَا بَيْنَ خِيرَتَيْنِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏{‏ اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ ‏}‏ فَصَلَّى عَلَيْهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ‏{‏ وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ ‏}‏ فَتَرَكَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِمْ ‏.‏
আমর ​ইবনু ​আলী ‌(রহঃ) ‌... আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই এর মৃত্যু হল তার ছেলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, আপনি আমাকে স্বীয় কুর্তাটা দিয়ে দিন যাতে আমি তা দিয়ে তাকে কাফন দিতে পারি এবং তার জানাজা পড়িয়ে দিন এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বীয় জামা দিয়ে দিলেন। তারপর বললেন যখন তোমরা অবসর হও আমাকে সংবাদ দিও আমি তার জানাজা পড়াব। উমর (রাঃ) তাকে টেনে নিয়ে বললেন, আপনাকে তো আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের জানাজা পড়তে নিষেধ করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন মুনাফিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বা না করার ব্যাপারে আমাকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি তার জানাজা পড়লেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেনঃوَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ অর্থাৎ (তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তার জন্য জানাজার সালাত পড়বেনা এবং আর তার কবরের পাশে দড়াবেন না) এরপর তিনি মুনাফিকদের জানাজা পড়া ছেড়ে দিলেন।
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #১৯০০ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬৪
It Was
Sahih
أَخْبَرَنَا ​مُحَمَّدُ ​بْنُ ​عَبْدِ ‌اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، قَالَ حَدَّثَنَا حُجَيْنُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ لَمَّا مَاتَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىِّ ابْنِ سَلُولَ دُعِي لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَثَبْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُصَلِّي عَلَى ابْنِ أُبَىٍّ وَقَدْ قَالَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا كَذَا وَكَذَا أُعَدِّدُ عَلَيْهِ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ‏"‏ أَخِّرْ عَنِّي يَا عُمَرُ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا أَكْثَرْتُ عَلَيْهِ قَالَ ‏"‏ إِنِّي قَدْ خُيِّرْتُ فَاخْتَرْتُ فَلَوْ عَلِمْتُ أَنِّي لَوْ زِدْتُ عَلَى السَّبْعِينَ غُفِرَ لَهُ لَزِدْتُ عَلَيْهَا ‏"‏ ‏.‏ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ انْصَرَفَ فَلَمْ يَمْكُثْ إِلاَّ يَسِيرًا حَتَّى نَزَلَتِ الآيَتَانِ مِنْ بَرَاءَةَ ‏{‏ وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ ‏}‏ فَعَجِبْتُ بَعْدُ مِنْ جُرْأَتِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏
মুহাম্মাদ ​ইবনু ​আব্দুল্লাহ ​(রহঃ) ‌... উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আব্দুল্লাহ ইবনু উবাইর মৃত্যু হল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তার উপর জানাজার সালাত আদায় করার জন্য ডাকা হল। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন তখন আমি তার দিকে দ্রুত গিয়ে বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি ইবনু উবাইর উপর জানাজার সালাত আদায় করবেন? অথচ সে অমুক, অমুক দিন এরূপ বলেছিল। আমি গুনে গুনে বললাম, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে উমর! আমা হতে সরে যাও, আমি যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর পীড়াপীড়ি করতে লাগলাম তখন তিনি বললেন, আমাকে এখতিয়ার দেওয়া হলে আমি ইস্তিগফারকেই গ্রহণ করেছি। যদি আমি জানতাম যে, আমি সত্তর বারের বেশী ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করা হবে তাহলে আমি সত্তরবারের বেশীই ক্ষমা চাইতাম। অতঃপর তিনি তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন, তারপরে ফিরে গেলেন। কিছুক্ষণ পর সূরা বারাআতের দুটি আয়াত অবতীর্ণ হল, وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ অর্থাৎ “তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার উপর জানাজার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশেও দাঁড়াবেন না”। তারা আল্লাহ তা’আলার এবং তদীয় রাসুলের নাফরমানী করেছে এবং তারা নাফরমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, আমি পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমার সেদিনের সাহসিকতায় আশ্চার্যান্বিত হয়ে গিয়েছিলাম। আল্লাহ ও তার রাসুলই অধিক জ্ঞাত।
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #১৯৬৬ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬৫
It Was
Sahih
أَخْبَرَنَا ‌قُتَيْبَةُ، ‌قَالَ ​حَدَّثَنَا ‌مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ ‏:‏ زَارَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْرَ أُمِّهِ فَبَكَى وَأَبْكَى مَنْ حَوْلَهُ وَقَالَ ‏:‏ ‏ "‏ اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فِي أَنْ أَسْتَغْفِرَ لَهَا فَلَمْ يُؤْذَنْ لِي، وَاسْتَأْذَنْتُ فِي أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأَذِنَ لِي، فَزُورُوا الْقُبُورَ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُكُمُ الْمَوْتَ ‏"‏ ‏.‏
কুতায়বা ‌(রহঃ) ‌... ​আবূ ‌হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাতার কবর যিয়ারত করার সময় ক্রন্দন করলেন, তার আশ পাশের সবাইও ক্রন্দন করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আম্মার মাগাফিরাতের অনুমতি চাইলাম কিন্তু আমাকে তার অনুমতি প্রদান করা হল না। অতঃপর তার কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তার অনুমতি দেওয়া হয়। তাই তোমরা কবর যিয়ারত কর, কেননা তা তোমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #২০৩৪ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬৬
সা'ঈদ বিন আল-মুসায়্যাব (রাঃ)
Sahih
أَخْبَرَنَا ‌مُحَمَّدُ ‌بْنُ ​عَبْدِ ​الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ ثَوْرٍ - عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ ‏:‏ لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ دَخَلَ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدَهُ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ فَقَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَىْ عَمِّ قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ كَلِمَةً أُحَاجُّ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ ‏:‏ يَا أَبَا طَالِبٍ أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ‏.‏ فَلَمْ يَزَالاَ يُكَلِّمَانِهِ حَتَّى كَانَ آخِرُ شَىْءٍ كَلَّمَهُمْ بِهِ عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏ لأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ مَا لَمْ أُنْهَ عَنْكَ ‏"‏ ‏.‏ فَنَزَلَتْ ‏{‏ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ ‏}‏ وَنَزَلَتْ ‏{‏ إِنَّكَ لاَ تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ ‏}‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ‌ইবনু ‌আব্দুল ​আ'লা ​(রহঃ) ... সাঈদ এর পিতা মুসায়্যাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ তালিবের মৃত্যু সমপুস্থিত হল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন এবং সে সময় তার সামনে আবূ জাহল এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়াও ছিল। তিনি বললেন, হে চাচাজান। আপনি। একবার বলুন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) আমি আপনার জন্য তাই নিয়ে আল্লাহর নিকটে যথাসাধ্য চেষ্টা চালাব (সুপারিশ কবর)। তখন আবূ জাহল এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়্যা বলল, হে আবূ তালিব, আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে সরে যাবেন? তারা সর্বক্ষণই এ কথা বলতে থাকল। শেষ পর্যন্ত তার মুখ থেকে শেষ শব্দ যা বের হয়েছিল তা ছিল আমি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মে থেকেই মৃত্যুবরণ করছি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য বললেন, আমি আপনার জন্য অবশ্যই অবশ্যই মাগফিরাত চাইব যতক্ষন না আমাকে নিষেধ করা হয়। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃمَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ আর এ আয়াতও অবতীর্ণ হলঃ إِنَّكَ لاَ تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ
সা'ঈদ বিন আল-মুসায়্যাব (রাঃ) সুনানে আন-নাসায়ী #২০৩৫ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬৭
It Was
Hasan
أَخْبَرَنَا ‌إِسْحَاقُ ​بْنُ ‌مَنْصُورٍ، ‌قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ ‏:‏ سَمِعْتُ رَجُلاً، يَسْتَغْفِرُ لأَبَوَيْهِ وَهُمَا مُشْرِكَانِ فَقُلْتُ ‏:‏ أَتَسْتَغْفِرُ لَهُمَا وَهُمَا مُشْرِكَانِ فَقَالَ أَوَلَمْ يَسْتَغْفِرْ إِبْرَاهِيمُ لأَبِيهِ ‏.‏ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَنَزَلَتْ ‏{‏ وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لأَبِيهِ إِلاَّ عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ ‏}‏ ‏.‏
ইসহাক ‌ইবনু ​মানসুর ‌(রহঃ) ‌... আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে শুনলাম যে, সে তার পিতা মাতার জন্য মাগফিরাত চাচ্ছে অথচ তারা মুশরিক। তখন আমি তাকে বললাম, তুমি তাদের জন্য মাগফিরাত চাচ্ছ অথচ তারা মুশরিক। তখন সে বললো, ইবরাহীম (আঃ) কি স্বীয় পিতার জন্য মাগফিরাত চাননি? এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলাম এবং ঘটনা তার কাছে উল্লেখ করলাম। তখন এ আয়াত অবর্তীর্ণ হলঃ وَمَا كَانَ اسْتِغْفَارُ إِبْرَاهِيمَ لأَبِيهِ إِلاَّ عَنْ مَوْعِدَةٍ وَعَدَهَا إِيَّاهُ
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #২০৩৬ Hasan
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬৮
মুহাম্মাদ বিন কায়েস বিন মাখরামাহ (রহ.)
Sahih
أَخْبَرَنَا ‌يُوسُفُ ​بْنُ ‌سَعِيدٍ، ​قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تُحَدِّثُ قَالَتْ ‏:‏ أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ عَنِّي وَعَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قُلْنَا ‏:‏ بَلَى ‏.‏ قَالَتْ ‏:‏ لَمَّا كَانَتْ لَيْلَتِي الَّتِي هُوَ عِنْدِي تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم انْقَلَبَ فَوَضَعَ نَعْلَيْهِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، وَبَسَطَ طَرَفَ إِزَارِهِ عَلَى فِرَاشِهِ، فَلَمْ يَلْبَثْ إِلاَّ رَيْثَمَا ظَنَّ أَنِّي قَدْ رَقَدْتُ، ثُمَّ انْتَعَلَ رُوَيْدًا وَأَخَذَ رِدَاءَهُ رُوَيْدًا، ثُمَّ فَتَحَ الْبَابَ رُوَيْدًا وَخَرَجَ رُوَيْدًا وَجَعَلْتُ دِرْعِي فِي رَأْسِي وَاخْتَمَرْتُ وَتَقَنَّعْتُ إِزَارِي، وَانْطَلَقْتُ فِي إِثْرِهِ حَتَّى جَاءَ الْبَقِيعَ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَأَطَالَ، ثُمَّ انْحَرَفَ فَانْحَرَفْتُ، فَأَسْرَعَ فَأَسْرَعْتُ، فَهَرْوَلَ فَهَرْوَلْتُ، فَأَحْضَرَ فَأَحْضَرْتُ وَسَبَقْتُهُ فَدَخَلْتُ، فَلَيْسَ إِلاَّ أَنِ اضْطَجَعْتُ فَدَخَلَ فَقَالَ ‏:‏ ‏"‏ مَا لَكِ يَا عَائِشَةُ حَشْيَا رَابِيَةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ ‏:‏ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ لَتُخْبِرِنِّي أَوْ لَيُخْبِرَنِّي اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ فَأَنْتِ السَّوَادُ الَّذِي رَأَيْتُ أَمَامِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ ‏:‏ نَعَمْ، فَلَهَزَنِي فِي صَدْرِي لَهْزَةً أَوْجَعَتْنِي، ثُمَّ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَظَنَنْتِ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ ‏:‏ مَهْمَا يَكْتُمُ النَّاسُ فَقَدْ عَلِمَهُ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ فَإِنَّ جِبْرِيلَ أَتَانِي حِينَ رَأَيْتِ وَلَمْ يَدْخُلْ عَلَىَّ وَقَدْ وَضَعْتِ ثِيَابَكِ فَنَادَانِي، فَأَخْفَى مِنْكِ فَأَجَبْتُهُ فَأَخْفَيْتُهُ مِنْكِ، فَظَنَنْتُ أَنْ قَدْ رَقَدْتِ وَكَرِهْتُ أَنْ أُوقِظَكِ، وَخَشِيتُ أَنْ تَسْتَوْحِشِي، فَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَ الْبَقِيعَ فَأَسْتَغْفِرَ لَهُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ ‏:‏ كَيْفَ أَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ قُولِي السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، يَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ ‏"‏ ‏.‏
ইউসুফ ‌ইবনু ​সাঈদ ‌(রহঃ) ​... মুহাম্মাদ ইবনু কায়স ইবনু মাখরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন, আমি কি তোমাদের আমার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি ঘটনার কথা বলব না? আমরা বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই বলবেন। তিনি বললেন, একরাত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে ছিলেন। তিনি এশার সালাতের পর বিছানায় আসলেন, স্বীয় পাদুকাদ্বয় নিজ পায়ের কাছে রাখলেন এবং পরিধেয় কাপড়ের একাংশ বিছানার উপর বিছালেন। কিছুক্ষণ পরেই যখন তিনি মনে করলেন যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, তখন তিনি অতি সন্তর্পণে জুতা পরিধান করলেন, আস্তে আস্তে স্বীয় চাদরখানা উঠিয়ে নিলেন এবং নিঃশব্দে দরজা খুলে বের হয়ে গেলেন। তখন আমিও স্বীয় চাঁদরখানা নিজ মাথায় রাখলাম ওড়না ও কাপড় পরিধান করে তার পিছু পিছু চললাম। তিনি বাকী নামক কবরস্থানে আসলেন এবং তিনবার স্বীয় হস্তদ্বয় লম্বা করে উত্তলন করলেন। অতঃপর তিনি ফিরে চললে আমিও ফিরে চললাম। তিনি দ্রুত হাটতে লাগলে আমিও দ্রুত হাটতে লাগলাম। তিনি আরও একটু দ্রুতগতিতে চললে আমিও আরও একটু দ্রুত গতিতে চলতে লাগলাম। তিনি দৌড়াতে লাগলে আমিও দ্রুত দৌড়াতে লাগলাম। আমি তার পূর্বে ঘরে প্রবেশ করে গেলাম এবং তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন এবং বললেন, হে আয়িশা! তোমার কি হল যে, তোমার নিঃশ্বাস এত জোরে জোরে বের হচ্ছে, পেট ফুলে উঠছে? আমি বললাম, ও কিছু নয়। তিনি বললেন, হায় তুমি হয় আমাকে এ ব্যাপারে অবগত করবে না হয় আল্লাহ তা'আলা যিনি সর্ববিষয়ে জ্ঞাত তিনি আমাকে জানিয়ে দিবেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক। অতঃপর আমি তাঁকে পূর্ণ ঘটনা ব্যক্ত করলাম। তিনি বললেন, আমার সম্মুখে যাকে আমি দেখেছিলাম সেকি তুমিই ছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি আমার বক্ষে এমনভাবে আঘাত করলেন যে, তাতে আমি ব্যাথা অনূভব করলাম। অতপর তিনি বললেনঃ তুমি কি মনে কর যে, আল্লাহ এবং তার রাসুল তোমার উপর অন্যায় আচরণ করবে? আমি বললাম, মানুষ যখন কিছু গোপন করে তা আল্লাহ নিশ্চয়ই জানেন। তিনি বললেন- যখন তুমি দেখেছিলে তখন জিবরাঈল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন। তোমার গায়ে কাপড় ঠিক ছিল না। বিধায় তিনি আমার কাছে আসেন নি বরং তোমা হতে আড়ালে থেকে আমাকে ডাক দিয়েছিলেন। আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তোমা থেকে তা গোপন রাখলাম। আমি মনে করেছিলাম যে, তুমি ঘুমিয়ে ছিলে। আমি তোমার নিদ্রা ভঙ্গ করা অপন্দনীয় মনে করলাম। আমি আশংকাও করলাম যে, হয়ত তুমি ভয় পাবে। তিনি আমাকে বাকী নামক কবরস্থানে গিয়ে কবরবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললেন। (আয়িশা বলেন,) আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কিরূপ বলব? তিনি বললেন তুমি বলবেঃ السَّلاَمُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، يَرْحَمُ اللَّهُ الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنَّا وَالْمُسْتَأْخِرِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ
মুহাম্মাদ বিন কায়েস বিন মাখরামাহ (রহ.) সুনানে আন-নাসায়ী #২০৩৭ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬৯
It Was
Sahih
أَخْبَرَنَا ​قُتَيْبَةُ، ‌قَالَ ‌حَدَّثَنَا ​سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ ‏:‏ لَمَّا مَاتَ النَّجَاشِيُّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ "‏ اسْتَغْفِرُوا لَهُ ‏"‏ ‏.‏
কুতায়বা ​(রহঃ) ‌... ‌আবূ ​হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হাবশার অধিপতি নাজাশী (রহঃ) মৃত্যুবরণ করলেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তার জন্য ইস্তিগফার কর (ক্ষমা প্রার্থনা কর)।
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #২০৪১ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭০
It Was
Sahih
أَخْبَرَنَا ​أَبُو ‌دَاوُدَ، ​قَالَ ‌حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، وَابْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُمَا ‏:‏ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَعَى لَهُمُ النَّجَاشِيَّ صَاحِبَ الْحَبَشَةِ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَقَالَ ‏:‏ ‏ "‏ اسْتَغْفِرُوا لأَخِيكُمْ ‏"‏ ‏.‏
আবূ ​দাঊদ ‌(রহঃ) ​... ‌আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাবশার অধিপতি নাজাশী যেদিন মৃত্যুবরণ করেছিলেন সেদিনই তাঁর মৃত্যু সংবাদ আমাদের দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, তোমরা তোমাদের ভাই এর জন্য ইস্তিগফার কর।
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #২০৪২ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭১
উসমা বিন যায়েদ (রাঃ)
Sahih Isnaad
أَخْبَرَنَا ‌يَعْقُوبُ ‌بْنُ ​إِبْرَاهِيمَ، ‌قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ دَخَلَ هُوَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْبَيْتَ فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَجَافَ الْبَابَ - وَالْبَيْتُ إِذْ ذَاكَ عَلَى سِتَّةِ أَعْمِدَةٍ - فَمَضَى حَتَّى إِذَا كَانَ بَيْنَ الأُسْطُوَانَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تَلِيَانِ بَابَ الْكَعْبَةِ جَلَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَسَأَلَهُ وَاسْتَغْفَرَهُ ثُمَّ قَامَ حَتَّى أَتَى مَا اسْتَقْبَلَ مِنْ دُبُرِ الْكَعْبَةِ فَوَضَعَ وَجْهَهُ وَخَدَّهُ عَلَيْهِ وَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَسَأَلَهُ وَاسْتَغْفَرَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى كُلِّ رُكْنٍ مِنْ أَرْكَانِ الْكَعْبَةِ فَاسْتَقْبَلَهُ بِالتَّكْبِيرِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّسْبِيحِ وَالثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ وَالْمَسْأَلَةِ وَالاِسْتَغْفَارِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ مُسْتَقْبِلَ وَجْهِ الْكَعْبَةِ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ ‏ "‏ هَذِهِ الْقِبْلَةُ هَذِهِ الْقِبْلَةُ ‏"‏ ‏.‏
ইয়াকুব ‌ইবন ‌ইবরাহীম ​(রহঃ) ‌... উসামা ইবন যায়ীদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা'বা গৃহে প্রবেশ করলেন। বিলাল (রাঃ)-কে আদেশ করলে তিনি দরজা বন্ধ করে দিলেন, সে সময় কা'বা ঘর ছয়টি স্তম্ভের উপর ছিল। তিনি যেতে যেতে যখন কা'বা ঘরের দরজা সংলগ্ন স্তম্ভদ্বয়ের মধ্যে পৌঁছলেন, তখন আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন। তাঁর নিকট প্রার্থনা করলেন এবং ক্ষমা চাইলেন। তারপর কা'বার প্রত্যেক স্তম্ভের কাছে গেলেন এবং সে সবের সামনে তাকবীর তাহলীল এবং তাসবীহ পাঠ করলেন। এরপর কা'বার পেছনের দিকে এসে সামনে দাঁড়ালেন, সেখানে ললাট ও গাল রাখলেন এবং আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন এবং তাঁর নিকট চাইলেন ও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। এরপর তিনি বের হয়ে কা'বার দিকে মুখ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর প্রত্যাবর্তন করে বললেনঃ এই কিবলা, এই কিবলা।
উসমা বিন যায়েদ (রাঃ) সুনানে আন-নাসায়ী #২৯১৪ Sahih Isnaad
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭২
It Was
Sahih
أَخْبَرَنَا ​قُتَيْبَةُ، ​قَالَ ‌حَدَّثَنَا ​عَبْثَرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم التَّشَهُّدَ فِي الصَّلاَةِ وَالتَّشَهُّدَ فِي الْحَاجَةِ قَالَ التَّشَهُّدُ فِي الْحَاجَةِ ‏ "‏ أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ‏"‏ ‏.‏ وَيَقْرَأُ ثَلاَثَ آيَاتٍ ‏.‏
কুতায়বা ​(রহঃ) ​... ‌আবদুল্লাহ্ ​(রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নামাযের তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন, আর বিবাহ ইত্যাদি দরকারের সময়ের তাশাহহুদও শিক্ষা দিতেন, তিনি বলেন, প্রয়োজনের তাশাহহুদ হলোঃ الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ এরপর তিনটি আয়াত পাঠ করা।
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #৩২৭৭ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৩
হাম্মাদ বিন যায়েদ (রাঃ)
Daif
أَخْبَرَنَا ‌عَلِيُّ ‌بْنُ ​نَصْرِ ‌بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ لأَيُّوبَ هَلْ عَلِمْتَ أَحَدًا قَالَ فِي أَمْرِكِ بِيَدِكِ أَنَّهَا ثَلاَثٌ غَيْرَ الْحَسَنِ فَقَالَ لاَ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ غَفْرًا إِلاَّ مَا حَدَّثَنِي قَتَادَةُ عَنْ كَثِيرٍ مَوْلَى ابْنِ سَمُرَةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ ثَلاَثٌ ‏"‏ ‏.‏ فَلَقِيتُ كَثِيرًا فَسَأَلْتُهُ فَلَمْ يَعْرِفْهُ فَرَجَعْتُ إِلَى قَتَادَةَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ نَسِيَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ ‏.‏
আলী ‌ইবন ‌নসর ​ইবন ‌আলী (রহঃ) ... হাম্মাদ ইবন যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আইয়ূব (রাঃ)-কে বললাম, তুমি কি কাউকেও (أَمْرِكِ بِيَدِكِ) অৰ্থাৎ "তোমরা ব্যাপার তোমার হাতে" বলায় তাতে তিনি তালাক বলতে শুনেছ- হাসান ব্যতীত? তিনি বললেনঃ না। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহু ক্ষমা কর। কাতাদা আবু সালাম (রাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, এরূপ বললে- তিন তালাক হয়ে যাবে। এরপর আমি কাছীর (রহঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি তাকে চিনতে পারলেন না। এরপর আমি কাতাদা (রহঃ)-এর নিকট ফিরে আসলাম এবং তাকে এ সংবাদ দিলাম। তিনি বললেনঃ সে ভুলে গেছে। আবু আবদুর রহমান বলেন, এটা মুনকার হাদীস।
হাম্মাদ বিন যায়েদ (রাঃ) সুনানে আন-নাসায়ী #৩৪১০ Daif
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৪
আয়েশা (রাঃ)
Sahih
أَخْبَرَنَا ​سُلَيْمَانُ ‌بْنُ ​دَاوُدَ، ​قَالَ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ قَيْسٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَنِّي قُلْنَا بَلَى ‏.‏ قَالَتْ لَمَّا كَانَتْ لَيْلَتِي انْقَلَبَ فَوَضَعَ نَعْلَيْهِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ وَوَضَعَ رِدَاءَهُ وَبَسَطَ إِزَارَهُ عَلَى فِرَاشِهِ وَلَمْ يَلْبَثْ إِلاَّ رَيْثَمَا ظَنَّ أَنِّي قَدْ رَقَدْتُ ثُمَّ انْتَعَلَ رُوَيْدًا وَأَخَذَ رِدَاءَهُ رُوَيْدًا ثُمَّ فَتَحَ الْبَابَ رُوَيْدًا وَخَرَجَ وَأَجَافَهُ رُوَيْدًا وَجَعَلْتُ دِرْعِي فِي رَأْسِي فَاخْتَمَرْتُ وَتَقَنَّعْتُ إِزَارِي وَانْطَلَقْتُ فِي إِثْرِهِ حَتَّى جَاءَ الْبَقِيعَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَأَطَالَ الْقِيَامَ ثُمَّ انْحَرَفَ وَانْحَرَفْتُ فَأَسْرَعَ فَأَسْرَعْتُ فَهَرْوَلَ فَهَرْوَلْتُ فَأَحْضَرَ فَأَحْضَرْتُ وَسَبَقْتُهُ فَدَخَلْتُ وَلَيْسَ إِلاَّ أَنِ اضْطَجَعْتُ فَدَخَلَ فَقَالَ ‏"‏ مَا لَكِ يَا عَائِشُ رَابِيَةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سُلَيْمَانُ حَسِبْتُهُ قَالَ حَشْيَا قَالَ ‏"‏ لَتُخْبِرِنِّي أَوْ لَيُخْبِرَنِّي اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ قَالَ ‏"‏ أَنْتِ السَّوَادُ الَّذِي رَأَيْتُ أَمَامِي ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ - قَالَتْ - فَلَهَدَنِي لَهْدَةً فِي صَدْرِي أَوْجَعَتْنِي ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَظَنَنْتِ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ مَهْمَا يَكْتُمِ النَّاسُ فَقَدْ عَلِمَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ - قَالَ - فَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَتَانِي حِينَ رَأَيْتِ وَلَمْ يَكُنْ يَدْخُلُ عَلَيْكِ وَقَدْ وَضَعْتِ ثِيَابَكِ فَنَادَانِي فَأَخْفَى مِنْكِ فَأَجَبْتُهُ وَأَخْفَيْتُهُ مِنْكِ وَظَنَنْتُ أَنَّكِ قَدْ رَقَدْتِ فَكَرِهْتُ أَنْ أُوقِظَكِ وَخَشِيتُ أَنْ تَسْتَوْحِشِي فَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَ أَهْلَ الْبَقِيعِ فَأَسْتَغْفِرَ لَهُمْ ‏"‏ ‏.‏ خَالَفَهُ حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ فَقَالَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ ‏.‏
সুলায়মান ​ইবন ‌দাউদ ​(রহঃ) ​... মুহাম্মদ ইবন কায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমার ব্যাপারে কি তোমাদেরকে বর্ণনা করব না? আমরা বললাম, কেন করবেন না? তিনি বললেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামআমার পালার রাতে (ইশার সালাত আদায়ের পর) ফিরে আসলেন। তারপর তার জুতা পায়ের দিকে রাখলেন, তাঁর চাদর রেখে দিলেন এবং তাঁর একটি লুঙ্গি বিছানার উপর বিছালেন। তারপর তিনি মাত্র এতটুকু সময় অবস্থান করলেন যতক্ষণে তাঁর ধারণা হল যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। তারপর উঠে আস্তে করে জুতা পরলেন এবং আস্তে করে তার চাদর নিলেন। তারপর আস্তে করে দরজা খুললেন এবং বের হয়ে আস্তে দরজা চাপিয়ে দিলেন। আর আমি মাথার উপর দিয়ে কামিজটি পরিধান করলাম, ওড়না পরলাম এবং চাদরটি গায়ে আবৃত করলাম ও তার পিছনে চললাম, তিনি বাকীতে আসলেন এবং তিনবার হাত উঠালেন ও বহুক্ষণ দাঁড়ালেন, তারপর ফিরে আসছিলেন। আমিও ফিরে আসছিলাম। তিনি একটু তীব্রগতিতে চললেন, আমিও তীব্রগতিতে চললাম, তিনি দৌড়ালেন, আমিও দৌড়ালাম। তিনি পৌছে গেলেন, তবে আমি তার আগে পৌছে গেলাম। ঘরে প্রবেশ করেই শুয়ে পড়লাম। তিনিও প্রবেশ করলেন এবং বললেনঃ হে আয়েশা! কি হয়েছে তোমার পেট যে ফুলে গেছে। বর্ণনাকারী সুলায়মান বলেন, ইবন ওয়াহাব (رابية) এর পরিবর্তে (حشيا) দ্রুত চলার কারণে হাঁপিয়ে ওঠা শব্দটি বলেছেন বলে ধারণা করছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঘটনা কি বল, নচেৎ আল্লাহ্ যিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত, তিনিই আমাকে খবর দিবেন। আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার প্রতি উৎসর্গ হোক এবং ঘটনাটির বর্ণনা দিলাম। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমিই সেই (ছায়ামূর্তি) যা আমি আমার সামনে দেখছিলাম? আমি বললাম, হ্যাঁ। আয়েশা (রাঃ) বললেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বক্ষে একটি মুষ্ঠাঘাত করলেন যা আমাকে ব্যথা দিল। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি ধারণা করেছ আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর যুলুম করবে? আয়েশ্ম (রাঃ) বললেন, লোক যতই গোপন করুক না কেন, আল্লাহ্ তা নিশ্চিত জানেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয়ই তুমি যখন আমাকে দেখছিলে তখন জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন। তুমি যে (শুয়ে যাওয়ায়) কাপড় খুলে ফেলেছ। তাই জিবরীল (আঃ) প্রবেশ করেননি। তোমার থেকে গোপন করে আমাকে ডাকলেন, আমিও তোমার থেকে গোপন করে উত্তর দিলাম। মনে করলাম, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ। তোমাকে জাগিয়ে দেওয়াটা পছন্দ করলাম না এবং এ ভয়ও ছিল যে, (আমি চলে যাওয়ার কারণে) তুমি নিঃসঙ্গতা বােধ করবে। জিবরীল (আঃ) আমাকে নির্দেশ দিলে বাকীতে অবস্থানকারীদের কাছে যাই এবং তাদের রব্বের কাছে তাদের জন্য ক্ষমা চাই।
আয়েশা (রাঃ) সুনানে আন-নাসায়ী #৩৯৬৩ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৫
আয়েশা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ​يُوسُفُ ​بْنُ ‌سَعِيدِ ‌بْنِ مُسْلَّمٍ الْمِصِّيصِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تُحَدِّثُ قَالَتْ أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ عَنِّي وَعَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قُلْنَا بَلَى ‏.‏ قَالَتْ لَمَّا كَانَتْ لَيْلَتِي الَّتِي هُوَ عِنْدِي تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم انْقَلَبَ فَوَضَعَ نَعْلَيْهِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ وَوَضَعَ رِدَاءَهُ وَبَسَطَ طَرَفَ إِزَارِهِ عَلَى فِرَاشِهِ فَلَمْ يَلْبَثْ إِلاَّ رَيْثَمَا ظَنَّ أَنِّي قَدْ رَقَدْتُ ثُمَّ انْتَعَلَ رُوَيْدًا وَأَخَذَ رِدَاءَهُ رُوَيْدًا ثُمَّ فَتَحَ الْبَابَ رُوَيْدًا وَخَرَجَ وَأَجَافَهُ رُوَيْدًا وَجَعَلْتُ دِرْعِي فِي رَأْسِي وَاخْتَمَرْتُ وَتَقَنَّعْتُ إِزَارِي فَانْطَلَقْتُ فِي إِثْرِهِ حَتَّى جَاءَ الْبَقِيعَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَأَطَالَ الْقِيَامَ ثُمَّ انْحَرَفَ فَانْحَرَفْتُ فَأَسْرَعَ فَأَسْرَعْتُ فَهَرْوَلَ فَهَرْوَلْتُ فَأَحْضَرَ فَأَحْضَرْتُ وَسَبَقْتُهُ فَدَخَلْتُ فَلَيْسَ إِلاَّ أَنِ اضْطَجَعْتُ فَدَخَلَ فَقَالَ ‏"‏ مَا لَكِ يَا عَائِشَةُ حَشْيَا رَابِيَةً ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لَتُخْبِرِنِّي أَوْ لَيُخْبِرَنِّي اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي فَأَخْبَرْتُهُ الْخَبَرَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَنْتِ السَّوَادُ الَّذِي رَأَيْتُهُ أَمَامِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ نَعَمْ - قَالَتْ - فَلَهَدَنِي فِي صَدْرِي لَهْدَةً أَوْجَعَتْنِي ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَظَنَنْتِ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ مَهْمَا يَكْتُمِ النَّاسُ فَقَدْ عَلِمَهُ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ - قَالَ - فَإِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَتَانِي حِينَ رَأَيْتِ وَلَمْ يَكُنْ يَدْخُلُ عَلَيْكِ وَقَدْ وَضَعْتِ ثِيَابَكِ فَنَادَانِي فَأَخْفَى مِنْكِ فَأَجَبْتُهُ فَأَخْفَيْتُ مِنْكِ فَظَنَنْتُ أَنْ قَدْ رَقَدْتِ وَخَشِيتُ أَنْ تَسْتَوْحِشِي فَأَمَرَنِي أَنْ آتِيَ أَهْلَ الْبَقِيعِ فَأَسْتَغْفِرَ لَهُمْ ‏"‏ ‏.‏ رَوَاهُ عَاصِمٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ عَنْ عَائِشَةَ عَلَى غَيْرِ هَذَا اللَّفْظِ ‏.‏
ইউসুফ ​ইবন ​সাঈদ ‌(রহঃ) ‌... মুহাম্মদ ইবন কায়স ইবন মাখরামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আমার ব্যাপারে কি তোমাদের কাছে বর্ণনা করব না? আমরা বললাম, করবেন না কেন? তিনি বললেনঃ যে রাতে তাঁর অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমার কাছে থাকার কথা, সেই রাত যখন আসল, তিনি (ইশার সালাত আদায়ের পর) ফিরে আসলেন। তারপর তাঁর জুতাগুলো পায়ের দিকে রাখলেন। চাদর খুলে রাখলেন। ইযারের এক পার্শ্ব বিছানার উপর বিছালেন। তারপর মাত্র এতটুকু সময় অবস্থান করলেন, যতক্ষণে তার ধারণা হল আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। তারপর আস্তে করে জুতা পরলেন, আস্তে চাদর নিলেন, তারপর আস্তে করে দরজা খুললেন এবং আস্তে করে বের হলেন এবং আস্তে করে দরজা বন্ধ করলেন। আর আমি মাথার দিক থেকে আমার কামিজটি পরিধান করলাম, ওড়না পরলাম, চাদরটি গায়ে দিয়ে আবৃত হলাম, তারপর তার পিছনে চলতে লাগলাম। তিনি বাকী পর্যন্ত আসলেন এবং তিনবার হাত উঠালেন, বহুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন, তারপর ফিরে আসছিলেন। আমিও ফিরে আসছিলাম, তিনি তীব্রগতিতে হাঁটলে আমিও তীব্র গতিতে চললাম। তিনি একটু দৌড়ে চললেন, আমিও একটু দৌড়ে চললাম। পরিশেষে তিনি বাড়িতে পৌছে গেলেন। তবে আমি তার একটু আগে পৌছলাম। ঘরে প্রবেশ করেই শুয়ে গেলাম। তিনিও প্রবেশ করলেন এবং বললেনঃ হে আয়েশা! তোমার কি হয়েছে, পেট ফোলা দেখা যাচ্ছে ও হাঁপাচ্ছ যে? আয়েশা (রাঃ) বললেন, না তো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হয় তুমি আমাকে বলবে, নয়ত আমাকে সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত সত্তা জানিয়ে দিবেনই। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার পিতামাতা আপনার উপর উৎসর্গ হোক এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘটনাটি খুলে বললাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমিই সেই ছায়ামূর্তি যা আমি আমার আগে আগে দেখছিলাম। আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বলেন, তখন তিনি আমার বুকের উপর এমন এক মুষ্ঠাঘাত করলেন, যা আমাকে ব্যথা দিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি মনে করেছ যে, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর যুলুম করবেন? আয়েশা (রাঃ) বললেন, লোক যতই গোপন করুক না কেন, আল্লাহ্ তা নিশ্চিত জানেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর বললেন, তুমি যখন আমাকে দেখছিলে তখন জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসেছিলেন, তখন তুমি পোশাক রেখে দিয়েছিলে বলে জিবরীল (আঃ) প্রবেশ করেনি। তিনি তোমার থেকে গোপন করে আমাকে ডাকলেন, আমিও তোমাকে না শুনিয়ে উত্তর দিলাম। আমি ধারণা করলাম, তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ এবং শংকিত ছিলাম যে, (তোমাকে জাগিয়ে দিলে একাকীত্ব অনুভব করার কারণে) তুমি ভয় পাবে। জিবরীল (আঃ) আমাকে বাকীতে অবস্থানকারীদের (মৃত ব্যক্তিদের) কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেন, যেন তাদের জন্য ক্ষমা চাই।
আয়েশা (রাঃ) সুনানে আন-নাসায়ী #৩৯৬৪ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৬
It Was
Daif
أَخْبَرَنَا ‌سُوَيْدُ ‌بْنُ ​نَصْرٍ، ‌قَالَ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُبَارَكِ - عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ زُرَارَةَ بْنِ كُرَيْمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو الْبَاهِلِيُّ - قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَذْكُرُ، أَنَّهُ سَمِعَ جَدَّهُ الْحَارِثَ بْنَ عَمْرٍو، يُحَدِّثُ أَنَّهُ لَقِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ الْعَضْبَاءِ فَأَتَيْتُهُ مِنْ أَحَدِ شِقَّيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي اسْتَغْفِرْ لِي ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ غَفَرَ اللَّهُ لَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَتَيْتُهُ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ أَرْجُو أَنْ يَخُصَّنِي دُونَهُمْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَغْفِرْ لِي ‏.‏ فَقَالَ بِيَدِهِ ‏"‏ غَفَرَ اللَّهُ لَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ النَّاسِ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْعَتَائِرُ وَالْفَرَائِعُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ مَنْ شَاءَ عَتَرَ وَمَنْ شَاءَ لَمْ يَعْتِرْ وَمَنْ شَاءَ فَرَّعَ وَمَنْ شَاءَ لَمْ يُفَرِّعْ فِي الْغَنَمِ أُضْحِيَتُهَا ‏"‏ ‏.‏ وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ إِلاَّ وَاحِدَةً ‏.‏
সুওয়াদ ‌ইবন ‌নসর ​(রহঃ) ‌... হারিস ইবন আমর (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে বিদায় হজ্জের সময় সাক্ষাত করেন, তখন তিনি তাঁর আযবা নামক উটনীর উপর সওয়ার ছিলেন। আমি তাঁর একদিকে এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক। আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। এরপর আমি বিশেষভাবে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে অন্যদিক দিয়ে তাঁর কাছে এসে বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তখন তিনি তাঁর হাত দ্বারা ইশারা করে বলেছেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। তখন উপস্থিত লোকদের এক ব্যক্তি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ‘আতীরা এবং ফারার ব্যাপারে আপনি কি বলেন? তিনি বললেনঃ যার ইচ্ছা আতীরা কর, আর যার ইচ্ছা করবে না। আর যার ইচ্ছা ফারা করবে, যার ইচ্ছা করবে না, কিন্তু বকরীর কুরবানী ওয়াজিব। তখন তিনি তাঁর একটি আঙ্গুল ব্যতীত সবগুলো আঙ্গুল গুটিয়ে নেন।
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #৪২২৬ Daif
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৭
ইয়াহইয়া বিন জুররাহ আল-সাহমী (রহঃ)
Daif
أَخْبَرَنِي ‌هَارُونُ ‌بْنُ ​عَبْدِ ​اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زُرَارَةَ السَّهْمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّهِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو، ح وَأَنْبَأَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ زُرَارَةَ السَّهْمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّهِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ لَقِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأُمِّي اسْتَغْفِرْ لِي ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ غَفَرَ اللَّهُ لَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ الْعَضْبَاءِ ثُمَّ اسْتَدَرْتُ مِنَ الشِّقِّ الآخَرِ وَسَاقَ الْحَدِيثَ ‏.‏
হারূন ‌ইবন ‌আবদুল্লাহ ​(রহঃ) ​... হারিস ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে মিলিত হই, তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের সকলকে ক্ষমা করুন। তখন তিনি তাঁর আযবা নামক উটনীর উপর উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর আমি অন্যদিকে ঘুরে গেলাম ... হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করলাম।
ইয়াহইয়া বিন জুররাহ আল-সাহমী (রহঃ) সুনানে আন-নাসায়ী #৪২২৭ Daif
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৮
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
أَخْبَرَنَا ‌حُمَيْدُ ​بْنُ ‌مَسْعَدَةَ، ‌وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ ذَكَرَ أَنَسٌ أَنَّ عَمَّتَهُ، كَسَرَتْ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ فَقَضَى نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقِصَاصِ فَقَالَ أَخُوهَا أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ أَتُكْسَرُ ثَنِيَّةُ فُلاَنَةَ لاَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ تُكْسَرُ ثَنِيَّةُ فُلاَنَةَ ‏.‏ قَالَ وَكَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ سَأَلُوا أَهْلَهَا الْعَفْوَ وَالأَرْشَ فَلَمَّا حَلَفَ أَخُوهَا - وَهُوَ عَمُّ أَنَسٍ وَهُوَ الشَّهِيدُ يَوْمَ أُحُدٍ - رَضِيَ الْقَوْمُ بِالْعَفْوِ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ ‏"‏ ‏.‏
হুমায়দ ‌ইবন ​মাস'আদা ‌ও ‌ইসমাঈল (রহঃ) ... হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) বলেছেনঃ তার ফুফু এক বালিকার দাঁত ভেঙেছিল; তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিসাসের আদেশ দেন। তার ভাই আনাস ইবন নাযর জিজ্ঞাসা করলোঃ অমুকের দাঁত কি ভাঙা হবে? যিনি আপনাকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন, তাঁর শপথ করে বলছিঃ কখনও তার দাঁত ভাঙা যাবে না। তারা এর পূর্বেই ঐ বালিকার ওয়ারিসদেরকে বলে রেখেছিল যে, তাকে ক্ষমা করে দাও অথবা দিয়াত নাও। যখন তার ভাই আনাস ইবন নাযরের চাচা, যিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন শপথ করলেন, তখন তার ওয়ারিসরা তাকে ক্ষমা করতে রাযী হয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কোন কোন বান্দা এমন রয়েছে, যদি সে আল্লাহর উপর ভরসা করে শপথ করে বসে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার শপথ সত্যে পরিণত করে দেন।
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সুনানে আন-নাসায়ী #৪৭৫৬ Sahih
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৯
It Was
Daif
أَخْبَرَنِي ​مُحَمَّدُ ‌بْنُ ‌عَلِيِّ ‌بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ حَدَّثَنِي الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كُنَّا نَقْعُدُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ فَإِذَا قَامَ قُمْنَا فَقَامَ يَوْمًا وَقُمْنَا مَعَهُ حَتَّى لَمَّا بَلَغَ وَسَطَ الْمَسْجِدِ أَدْرَكَهُ رَجُلٌ فَجَبَذَ بِرِدَائِهِ مِنْ وَرَائِهِ - وَكَانَ رِدَاؤُهُ خَشِنًا - فَحَمَّرَ رَقَبَتَهُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ احْمِلْ لِي عَلَى بَعِيرَىَّ هَذَيْنِ فَإِنَّكَ لاَ تَحْمِلُ مِنْ مَالِكَ وَلاَ مِنْ مَالِ أَبِيكَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ لاَ وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لاَ أَحْمِلُ لَكَ حَتَّى تُقِيدَنِي مِمَّا جَبَذْتَ بِرَقَبَتِي ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الأَعْرَابِيُّ لاَ وَاللَّهِ لاَ أُقِيدُكَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ يَقُولُ لاَ وَاللَّهِ لاَ أُقِيدُكَ ‏.‏ فَلَمَّا سَمِعْنَا قَوْلَ الأَعْرَابِيِّ أَقْبَلْنَا إِلَيْهِ سِرَاعًا فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏"‏ عَزَمْتُ عَلَى مَنْ سَمِعَ كَلاَمِي أَنْ لاَ يَبْرَحَ مَقَامَهُ حَتَّى آذَنَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِرَجُلٍ مِنَ الْقَوْمِ ‏"‏ يَا فُلاَنُ احْمِلْ لَهُ عَلَى بَعِيرٍ شَعِيرًا وَعَلَى بَعِيرٍ تَمْرًا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ انْصَرِفُوا ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মদ ​ইবন ‌আলী ‌ইবন ‌মায়মূন (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মসজিদে উপবিষ্ট থাকতাম। তিনি যখন দাঁড়াতেন আমরাও দাঁড়াতাম। একদিন তিনি দাঁড়ালে আমরাও তাঁর সাথে দাঁড়ালাম। যখন তিনি মসজিদের মধ্যস্থলে পৌঁছলেন, তখন এক ব্যক্তি এসে তার চাদর ধরে তাঁর পিছন দিকে টানলো। তাঁর চাদরখানা ছিল মোটা, এতে তাঁর ঘাড় লাল হয়ে গেল। সেই ব্যক্তি বললোঃ হে মুহাম্মদ! আমার এই উষ্ট্রদ্বয়কে খাদ্যদ্রব্য দ্বারা বােঝাই করে দিন। কেননা আপনি তো আপনার মাল হতে বা আপনার পিতার মাল হতে দিচ্ছেন না। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ না, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি তোমাকে কখনও দেব না, যতক্ষণ না তুমি আমার ঘাড় টানা-হেঁচড়া করার বদলা নিতে না দাও। তখন ঐ গ্রাম্য লোকটি বললোঃ আল্লাহর শপথ! আমি কখনও আপনাকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে দেব না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ তিনবার বললেন; আর ঐ গ্রাম্য লোকটিও বলতে থাকলো যে, আল্লাহর কসম! আমি এর বদলা নিতে দেব না। আমরা যখন লোকটির কথা শুনলাম, দৌড়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ যে আমার কথা শুনেছে, তাকে আমি আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, কেউ যেন ততক্ষণ নিজ স্থান হতে না নড়ে, যতক্ষণ না আমি আদেশ দেই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের একজনকে বলেনঃ হে অমুক! তুমি তার এক উটকে যব এবং অন্য উটকে খেজুর দ্বারা বােঝাই করে দাও। পরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা চলে যাও।
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #৪৭৭৬ Daif
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৮০
It Was
Sahih
قَالَ ​الْحَارِثُ ​بْنُ ‌مِسْكِينٍ ​قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ الْقِصَاصُ وَلَمْ تَكُنْ فِيهِمُ الدِّيَةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏{‏ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالأُنْثَى بِالأُنْثَى ‏}‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏{‏ فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَىْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ‏}‏ فَالْعَفْوُ أَنْ يَقْبَلَ الدِّيَةَ فِي الْعَمْدِ وَاتِّبَاعٌ بِمَعْرُوفٍ يَقُولُ يَتَّبِعُ هَذَا بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ بِإِحْسَانٍ وَيُؤَدِّي هَذَا بِإِحْسَانٍ ‏{‏ ذَلِكَ تَخْفِيفٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ ‏}‏ مِمَّا كُتِبَ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ إِنَّمَا هُوَ الْقِصَاصُ لَيْسَ الدِّيَةَ ‏.‏
হারিস ​ইবন ​মিসকীন ‌(রহঃ) ​... ইবন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে কিসাসের বিধান ছিল, কিন্তু দিয়াতের বিধান ছিল না, তখন আল্লাহ্ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ كُتِبَ عَلَيْكُمْ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنْثَى بِالْأُنْثَى إِلَى قَوْلِهِ فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ অর্থঃ নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের উপর কিসাস ফরয করা হলো আযাদের বদলে আযাদ এবং দাসের পরিবর্তে দাস, নারীর পরিবর্তে নারী। আর যাকে তার ভাইয়ের পক্ষ হতে কিছুটা ক্ষমা করা হয়, সে যেন উত্তমরূপে তার দেয় আদায় করে।” ক্ষমা করার অর্থ এই যে, নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত গ্রহণ করবে, আর ক্ষমাকারীগণ আইনমত চলবে। আর হত্যাকারী উত্তমরূপে দিয়াত আদায় করবে। “এটা তোমাদের রবের পক্ষ হতে ভার লাঘব এবং রহমত।” কেননা, তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর কেবল কিসাসই বিধেয় ছিল; দিয়াতের বিধান ছিল না।
It Was সুনানে আন-নাসায়ী #৪৭৮১ Sahih