Mercy সম্পর্কে হাদিস
৯৪২ টি প্রামাণিক হাদিস পাওয়া গেছে
সহীহ বুখারী : ১০১
উসামা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، سَمِعْتُ أَبَا عُثْمَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ أُسَامَةَ، أَنَّ ابْنَةً لِرَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَتْ إِلَيْهِ وَمَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَسَعْدٌ وَأُبَىٌّ أَنَّ ابْنِي قَدِ احْتُضِرَ فَاشْهَدْنَا. فَأَرْسَلَ يَقْرَأُ السَّلاَمَ وَيَقُولُ " إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَمَا أَعْطَى وَكُلُّ شَىْءٍ عِنْدَهُ مُسَمًّى فَلْتَصْبِرْ وَتَحْتَسِبْ ". فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ تُقْسِمُ عَلَيْهِ، فَقَامَ وَقُمْنَا مَعَهُ، فَلَمَّا قَعَدَ رُفِعَ إِلَيْهِ، فَأَقْعَدَهُ فِي حَجْرِهِ وَنَفْسُ الصَّبِيِّ تَقَعْقَعُ، فَفَاضَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَعْدٌ مَا هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " هَذَا رَحْمَةٌ يَضَعُهَا اللَّهُ فِي قُلُوبِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ، وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ ".
উসামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার উসামাহ ইবনু যায়দ, সা‘দ ও ‘উবাই (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক কন্যা তাঁর কাছে খবর পাঠালেন যে, আমার পুত্র মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। কাজেই তিনি যেন আমাদের নিকট আসেন। তিনি সালামের সঙ্গে এ কথা বলে পাঠালেন যে, আল্লাহ যা দান করেন আর যা নিয়ে নেন সব কিছুই আল্লাহর জন্য। আর সব কিছুই আল্লাহর নিকট নির্ধারিত আছে। অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সাওয়াবের আশা কর। এরপর তাঁর কন্যা কসম দিয়ে আবার খবর পাঠালেন। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে দাঁড়ালাম। (সেখানে গিয়ে) তিনি যখন বসলেন, শিশুটিকে তাঁর সামনে আনা হল। তিনি তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসালেন, আর শিশুটির শ্বাস নিঃশেষ হয়ে আসছিল। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দু‘চোখ অশ্র“ প্রবাহিত করল। তখন সা‘দ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ কী ব্যাপার? তিনি বললেনঃ এ হল রহমত, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তার মনের ভিতরে দিয়ে থাকেন। আর আল্লাহ কেবলমাত্র তাঁর দয়ালু বান্দাদের ওপরই দয়া করে থাকেন। [৬৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২০০)
সহীহ বুখারী : ১০২
সালামা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا الْمَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى خَيْبَرَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْهُمْ أَسْمِعْنَا يَا عَامِرُ مِنْ هُنَيْهَاتِكَ. فَحَدَا بِهِمْ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنِ السَّائِقُ " قَالُوا عَامِرٌ. فَقَالَ " رَحِمَهُ اللَّهُ ". فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلاَّ أَمْتَعْتَنَا بِهِ. فَأُصِيبَ صَبِيحَةَ لَيْلَتِهِ فَقَالَ الْقَوْمُ حَبِطَ عَمَلُهُ، قَتَلَ نَفْسَهُ. فَلَمَّا رَجَعْتُ وَهُمْ يَتَحَدَّثُونَ أَنَّ عَامِرًا حَبِطَ عَمَلُهُ، فَجِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ فَدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، زَعَمُوا أَنَّ عَامِرًا حَبِطَ عَمَلُهُ. فَقَالَ " كَذَبَ مَنْ قَالَهَا، إِنَّ لَهُ لأَجْرَيْنِ اثْنَيْنِ، إِنَّهُ لَجَاهِدٌ مُجَاهِدٌ، وَأَىُّ قَتْلٍ يَزِيدُهُ عَلَيْهِ ".
সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে খায়বারের পথে রওয়ানা হলাম। তথন তাদের এক ব্যক্তি বলল, হে আমির! তোমরা আমাদেরকে উট চালনার কিছু গান শোনাও। সে তাদেরকে তা গেয়ে শোনাল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ চালকটি কে? তারা বলল, আমির। তিনি বললেন আল্লাহ্ তাকে রহম করুন। তারা বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদেরকে তার থেকে দীর্ঘকাল উপকার লাভের সুযোগ করে দিন। পরদিন সকালে আমির নিহত হল। তখন লোকেরা বললে লাগল তার ‘আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে, সে নিজেকে হত্যা করেছে। যখন আমি ফিরলাম, আর লোকেরা বলাবলি করছিল যে, আমিরের ‘আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে, তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম এবং বললাম, হে আল্লাহ্র নবী! আমার পিতা-মাতা আপনার প্রতি কুরবান। তাদের ধারণা, আমিরের আমল নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বললেনঃযে এ কথা বলেছে মিথ্যা বলেছে। কারণ, আমিরের জন্য দ্বিগুণ পুরষ্কার। কারণ সে আল্লাহ্র পথে সাধ্যমত চেষ্টা করেছ, অন্য কোন্ প্রকারের হত্যা তাকে এর চেয়ে অধিক পুরষ্কারের অধিকারী করত? (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪২৪)
সহীহ বুখারী : ১০৩
খারিজা বিন যায়েদ বিন সাবিত (রা.)
Sahih
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أُمِّ الْعَلاَء ِ ـ وَهْىَ امْرَأَةٌ مِنْ نِسَائِهِمْ بَايَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَتْ طَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ فِي السُّكْنَى حِينَ اقْتَرَعَتِ الأَنْصَارُ عَلَى سُكْنَى الْمُهَاجِرِينَ، فَاشْتَكَى فَمَرَّضْنَاهُ حَتَّى تُوُفِّيَ، ثُمَّ جَعَلْنَاهُ فِي أَثْوَابِهِ فَدَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ، فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ. قَالَ " وَمَا يُدْرِيكِ ". قُلْتُ لاَ أَدْرِي وَاللَّهِ. قَالَ " أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ، إِنِّي لأَرْجُو لَهُ الْخَيْرَ مِنَ اللَّهِ، وَاللَّهِ مَا أَدْرِي وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ مَا يُفْعَلُ بِي وَلاَ بِكُمْ ". قَالَتْ أُمُّ الْعَلاَءِ فَوَاللَّهِ لاَ أُزَكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ. قَالَتْ وَرَأَيْتُ لِعُثْمَانَ فِي النَّوْمِ عَيْنًا تَجْرِي، فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " ذَاكِ عَمَلُهُ يَجْرِي لَهُ "
উম্মুল ‘আলা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যিনি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতে বায়‘আত করেছিলেন তিনি তাদের একজন। তিনি বলেন, যখন মুহাজিরদের বাসস্থান নির্ধারণের জন্য আনসারগণ লটারী দিলেন, তখন আমাদের ঘরে বসবাসের জন্য ‘উসমান ইব্নু মাযউন (রাঃ) আমাদের ভাগে পড়েন। তিনি রোগগ্রস্ত হয়ে পড়লে আমরা তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করি। অবশেষে তিনি মারা যান। এরপর আমরা তাকে তার কাপড় দিয়েই কাফন পরিয়ে দেই। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ঘরে আসলেন। আমি বললাম, হে আবূ সাঈব! তোমার ওপর আল্লাহ্র রহমত হোক। তোমার বেলায় আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ্ তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তিনি বললেনঃতুমি কী করে জানলে? আমি বললাম, আল্লাহ্র কসম! আমি জানি না। তিনি বললেনঃতার তো মৃত্যু হয়ে গেছে, আমি তার জন্য আল্লাহ্র পক্ষ থেকে কল্যাণই আশা করছি। আল্লাহ্র কসম! আমি আল্লাহ্র রসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না যে, আমার সঙ্গে এবং তোমাদের সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে? উম্মুল আলা (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমি আর কক্ষনো কারো পবিত্রতার প্রত্যয়ন করব না। উম্মুল আলা (রাঃ) বলেন, আমি স্বপ্নে ‘উসমান (রাঃ)-এর জন্য প্রবাহিত ঝর্ণা দেখেছি। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)–এর কাছে এসে সেটা বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃএটা তাঁর ‘আমাল’ তার জন্য জারি থাকবে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৪৫)
সহীহ বুখারী : ১০৪
Abu Sa'id Al-Khudri added that the Prophet further
Sahih
قَالَ أَبُو حَازِمٍ فَسَمِعَنِي النُّعْمَانُ بْنُ أَبِي عَيَّاشٍ، وَأَنَا أُحَدِّثُهُمْ، هَذَا فَقَالَ هَكَذَا سَمِعْتَ سَهْلاً، فَقُلْتُ نَعَمْ. قَالَ وَأَنَا أَشْهَدُ، عَلَى أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ لَسَمِعْتُهُ يَزِيدُ فِيهِ قَالَ
" إِنَّهُمْ مِنِّي. فَيُقَالُ إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا بَدَّلُوا بَعْدَكَ فَأَقُولُ سُحْقًا سُحْقًا لِمَنْ بَدَّلَ بَعْدِي ".
আবূ হাযিম (রহঃ) বলেন, আমি হাদীস বর্ণনা করছিলাম, এমন সময় নু’মান ইব্নু আবূ আয়াস আমার নিকট হতে এ হাদীসটি শুনে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি সাহ্ল থেকে হাদীসটি এরূপ শুনেছেন। আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন সে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আবূ সা’ঈদ খুদ্রী (রাঃ) - কে এ হাদীসে অতিরিক্ত বলতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লালাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বলবেনঃ এরা তো আমারই অনুসারী। তখন বলা হবে, আপনি নিশ্চয় জানেন না যে, আপনার পরে এরা দ্বীনের মধ্যে কি পরিবর্তন করেছে। এ শুনে আমি বলব, যারা আমার পরে পরিবর্তন করেছে, তারা দূর হোক, দূর হোক।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৪)
সহীহ বুখারী : ১০৫
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ " اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ فِي الأَخِيرَةِ ". ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا ". فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ {لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ}.
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে ফাজ্রের সালাতের শেষে রুকু’ থেকে মাথা উঠানোর সময় বলতে শুনেছেন, (আরবী) (হে আমাদের প্রতিপালক! সমস্ত প্রশংসা কেবলমাত্র আপনারই জন্য। তিনি আরো বললেন, হে আল্লাহ্! আপনি অমুক অমুক লোকের উপর অভিশাপ দিন। তখন আল্লাহ্ নাজিল করলেনঃ “আল্লাহ তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন - এ ব্যাপারে তোমার কিছু করার নেই। কেননা তারা হচ্ছে যালিম” - (সূরাহ আলু ‘ইমরান ৩/১২৮)। [৪০৬৯] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৪৫)
সহীহ বুখারী : ১০৬
উসামা বিন যাইদ (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ رَسُولُ إِحْدَى بَنَاتِهِ يَدْعُوهُ إِلَى ابْنِهَا فِي الْمَوْتِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ارْجِعْ فَأَخْبِرْهَا أَنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ، وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَىْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى، فَمُرْهَا فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ ". فَأَعَادَتِ الرَّسُولَ أَنَّهَا أَقْسَمَتْ لَتَأْتِيَنَّهَا، فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَامَ مَعَهُ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، فَدُفِعَ الصَّبِيُّ إِلَيْهِ وَنَفْسُهُ تَقَعْقَعُ كَأَنَّهَا فِي شَنٍّ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " هَذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللَّهُ فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ، وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ ".
উসামাহ ইব্নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, এক সময় আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট ছিলাম। এমন সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কোন এক কন্যার পক্ষ থেকে একজন সংবাদবাহক এসে তাঁকে জানাল যে, তাঁর মেয়ের পুত্রের মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদবাহককে বলে দিলেন, তুমি ফিরে যাও এবং তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ্ যা নিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি যা দিয়ে রেখেছেন সবেরই তিনি মালিক। তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট। কাজেই তাকে গিয়ে ধৈর্য ধরতে এবং প্রতিফল পাওয়ার আশা করতে বল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মেয়ে আবার সংবাদ বাহককে পাঠালেন। সে এসে বলল, আপনাকে তাঁর কাছে যাবার জন্য তিনি কসম দিয়ে বলেছেন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন, তাঁর সঙ্গে সা’দ ইব্নু ‘উবাদাহ (রাঃ), মু’আয ইব্নু জাবাল (রাঃ) -ও দাঁড়ালেন। এরপর শিশুটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট দেয়া হল। তখন শিশুটির শ্বাস এভাবে দুর্বল হয়ে আসছিল, যেন তা একটি মশ্কে আছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর চোখ ভিজে গেল। সা’দ ইব্নু ‘উবাদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল (এটা কী?) তিনি বললেনঃ এটিই রহম-দয়ামায়া, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তাঁর রহম-দিল বান্দাদের উপরই দয়া করে থাকেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৮৭৩)
সহীহ বুখারী : ১০৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ فِي كِتَابِهِ ـ هُوَ يَكْتُبُ عَلَى نَفْسِهِ، وَهْوَ وَضْعٌ عِنْدَهُ عَلَى الْعَرْشِ ـ إِنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন মাখলূক সৃষ্টি করলেন, তখন তা তাঁর কিতাবে লিখলেন এবং তিনি আপন সত্তা বিষয়ে লিখছেন, যা তাঁর কাছে আরশের উপর রক্ষিত আছে, "আমার রহমত আমার গযবকে পরাভূত করেছে।"(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৮৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯০০)
সহীহ বুখারী : ১০৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" إِنَّ اللَّهَ لَمَّا قَضَى الْخَلْقَ كَتَبَ عِنْدَهُ فَوْقَ عَرْشِهِ إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন সকল মাখলূক সৃষ্টি করার কাজ শেষ করলেন, তখন তাঁর আরশের ওপর তাঁরই কাছে লিখে রাখলেন, “আমার রহমত আমার গযব থেকে এগিয়ে গেছে।”(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯০৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯১৭)
সহীহ বুখারী : ১০৯
আতা' বিন ইয়াজিদ আল-লাইথি (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّاسَ، قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ تُضَارُّونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ". قَالُوا لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " فَهَلْ تُضَارُّونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ ". قَالُوا لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ كَذَلِكَ، يَجْمَعُ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ شَيْئًا فَلْيَتَّبِعْهُ. فَيَتْبَعُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الشَّمْسَ الشَّمْسَ، وَيَتْبَعُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الْقَمَرَ الْقَمَرَ، وَيَتْبَعُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الطَّوَاغِيتَ الطَّوَاغِيتَ، وَتَبْقَى هَذِهِ الأُمَّةُ فِيهَا شَافِعُوهَا ـ أَوْ مُنَافِقُوهَا شَكَّ إِبْرَاهِيمُ ـ فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ. فَيَقُولُونَ هَذَا مَكَانُنَا حَتَّى يَأْتِيَنَا رَبُّنَا فَإِذَا جَاءَنَا رَبُّنَا عَرَفْنَاهُ فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ فِي صُورَتِهِ الَّتِي يَعْرِفُونَ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ. فَيَقُولُونَ أَنْتَ رَبُّنَا. فَيَتْبَعُونَهُ وَيُضْرَبُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَىْ جَهَنَّمَ، فَأَكُونُ أَنَا وَأُمَّتِي أَوَّلَ مَنْ يُجِيزُهَا، وَلاَ يَتَكَلَّمُ يَوْمَئِذٍ إِلاَّ الرُّسُلُ، وَدَعْوَى الرُّسُلِ يَوْمَئِذٍ اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ. وَفِي جَهَنَّمَ كَلاَلِيبُ مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، هَلْ رَأَيْتُمُ السَّعْدَانَ ". قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " فَإِنَّهَا مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَعْلَمُ مَا قَدْرُ عِظَمِهَا إِلاَّ اللَّهُ، تَخْطَفُ النَّاسَ بِأَعْمَالِهِمْ، فَمِنْهُمُ الْمُوبَقُ بَقِيَ بِعَمَلِهِ، أَوِ الْمُوثَقُ بِعَمَلِهِ، وَمِنْهُمُ الْمُخَرْدَلُ أَوِ الْمُجَازَى أَوْ نَحْوُهُ، ثُمَّ يَتَجَلَّى حَتَّى إِذَا فَرَغَ اللَّهُ مِنَ الْقَضَاءِ بَيْنَ الْعِبَادِ وَأَرَادَ أَنْ يُخْرِجَ بِرَحْمَتِهِ مَنْ أَرَادَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَمَرَ الْمَلاَئِكَةَ أَنْ يُخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا، مِمَّنْ أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَرْحَمَهُ مِمَّنْ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، فَيَعْرِفُونَهُمْ فِي النَّارِ بِأَثَرِ السُّجُودِ، تَأْكُلُ النَّارُ ابْنَ آدَمَ إِلاَّ أَثَرَ السُّجُودِ، حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ أَثَرَ السُّجُودِ، فَيَخْرُجُونَ مِنَ النَّارِ قَدِ امْتُحِشُوا، فَيُصَبُّ عَلَيْهِمْ مَاءُ الْحَيَاةِ فَيَنْبُتُونَ تَحْتَهُ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ، ثُمَّ يَفْرُغُ اللَّهُ مِنَ الْقَضَاءِ بَيْنَ الْعِبَادِ، وَيَبْقَى رَجُلٌ مُقْبِلٌ بِوَجْهِهِ عَلَى النَّارِ هُوَ آخِرُ أَهْلِ النَّارِ دُخُولاً الْجَنَّةَ فَيَقُولُ أَىْ رَبِّ اصْرِفْ وَجْهِي عَنِ النَّارِ، فَإِنَّهُ قَدْ قَشَبَنِي رِيحُهَا وَأَحْرَقَنِي ذَكَاؤُهَا. فَيَدْعُو اللَّهَ بِمَا شَاءَ أَنْ يَدْعُوَهُ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ هَلْ عَسَيْتَ إِنْ أُعْطِيتَ ذَلِكَ أَنْ تَسْأَلَنِي غَيْرَهُ. فَيَقُولُ لاَ وَعِزَّتِكَ لاَ أَسْأَلُكَ غَيْرَهُ، وَيُعْطِي رَبَّهُ مِنْ عُهُودٍ وَمَوَاثِيقَ مَا شَاءَ، فَيَصْرِفُ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ، فَإِذَا أَقْبَلَ عَلَى الْجَنَّةِ وَرَآهَا سَكَتَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ ثُمَّ يَقُولُ أَىْ رَبِّ قَدِّمْنِي إِلَى باب الْجَنَّةِ. فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ أَلَسْتَ قَدْ أَعْطَيْتَ عُهُودَكَ وَمَوَاثِيقَكَ أَنْ لاَ تَسْأَلَنِي غَيْرَ الَّذِي أُعْطِيتَ أَبَدًا، وَيْلَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ. فَيَقُولُ أَىْ رَبِّ. وَيَدْعُو اللَّهَ حَتَّى يَقُولَ هَلْ عَسَيْتَ إِنْ أُعْطِيتَ ذَلِكَ أَنْ تَسْأَلَ غَيْرَهُ. فَيَقُولُ لاَ وَعِزَّتِكَ لاَ أَسْأَلُكَ غَيْرَهُ، وَيُعْطِي مَا شَاءَ مِنْ عُهُودٍ وَمَوَاثِيقَ، فَيُقَدِّمُهُ إِلَى باب الْجَنَّةِ، فَإِذَا قَامَ إِلَى باب الْجَنَّةِ انْفَهَقَتْ لَهُ الْجَنَّةُ فَرَأَى مَا فِيهَا مِنَ الْحَبْرَةِ وَالسُّرُورِ، فَيَسْكُتُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ ثُمَّ يَقُولُ أَىْ رَبِّ أَدْخِلْنِي الْجَنَّةَ. فَيَقُولُ اللَّهُ أَلَسْتَ قَدْ أَعْطَيْتَ عُهُودَكَ وَمَوَاثِيقَكَ أَنْ لاَ تَسْأَلَ غَيْرَ مَا أُعْطِيتَ ـ فَيَقُولُ ـ وَيْلَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ. فَيَقُولُ أَىْ رَبِّ لاَ أَكُونَنَّ أَشْقَى خَلْقِكَ فَلاَ يَزَالُ يَدْعُو حَتَّى يَضْحَكَ اللَّهُ مِنْهُ فَإِذَا ضَحِكَ مِنْهُ قَالَ لَهُ ادْخُلِ الْجَنَّةَ. فَإِذَا دَخَلَهَا قَالَ اللَّهُ لَهُ تَمَنَّهْ. فَسَأَلَ رَبَّهُ وَتَمَنَّى حَتَّى إِنَّ اللَّهَ لَيُذَكِّرُهُ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا، حَتَّى انْقَطَعَتْ بِهِ الأَمَانِيُّ قَالَ اللَّهُ ذَلِكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ ". قَالَ عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ لاَ يَرُدُّ عَلَيْهِ مِنْ حَدِيثِهِ شَيْئًا حَتَّى إِذَا حَدَّثَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ " ذَلِكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ ". قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ " وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ مَعَهُ ". يَا أَبَا هُرَيْرَةَ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ مَا حَفِظْتُ إِلاَّ قَوْلَهُ " ذَلِكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ ". قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ أَشْهَدُ أَنِّي حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلَهُ " ذَلِكَ لَكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ ". قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَذَلِكَ الرَّجُلُ آخِرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولاً الْجَنَّةَ.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা (সহাবাগণ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রববকে দেখতে পাব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের কি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি আবার বললেনঃ মেঘহীন আকাশে সূর্য দেখতে তোমাদের কি অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহর রাসূল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সেরকমই আল্লাহকে দেখতে পাবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ লোকদেরকে একত্রিত করে বলবেন, যে যার ‘ইবাদাত করছিলে সে যেন তার অনুসরণ করে। তারপর যারা সূর্যের ‘ইবাদত করত, সূর্যের অনুসরণ করবে। যারা চন্দ্রের ‘ইবাদাত করত, তারা চন্দ্রের অনুসরণ করবে। আর যারা তাগুতদের পূজা করত, তারা তাদের অনুসরণ করবে। বাকী থাকবে এই উম্মাত। এদের মধ্যে এদের সুপারিশকারীরাও থাকবে অথবা রাবী বলেছেন, মুনাফিকরাও থাকবে। এখানে বর্ণনাকারী ইবরাহীম (রহ.) সন্দেহ পোষণ করেছেন। তারপর আল্লাহ্ তাদের কাছে এসে বলবেনঃ আমিই তোমাদের রব। তখন তারা বলবে, যতক্ষণ আমাদের রব আমাদের কাছে না আসবেন, ততক্ষণ আমরা এ স্থানেই থাকব। আমাদের রব যখন আসবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারব। তারপর আল্লাহ্ এমন এক সুরতে তাদের কাছে আসবেন, যে সুরতে তারা তাঁকে চিনবে। তখন তিনি বলবেন, তোমাদের রব আমিই। তারা বলে উঠবে হাঁ, আপনিই আমাদের রব। তারপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে। এরপর জাহান্নামের উপর পুল কায়িম করা হবে। যারা পুল পার হবে, আমি এবং আমার উম্মাত তাদের মধ্যে প্রথম থাকব। সেদিন একমাত্র রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউই কথা বলতে পারবে না। আর রাসূলগণেরও আবেদন হবে শুধু আল্লাহুম্মা সাল্লিম, সাল্লিম (আয় আল্লাহ্! নিরাপদে রাখুন, নিরাপদে রাখুন)। এবং জাহান্নামে সাদান-এর কাঁটার মত আঁকড়া থাকবে। তোমরা দেখেছ কি সাদান-এর কাঁটা? সহাবাগণ বললেন, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহান্নামের সে কাঁটাগুলো এ সাদান-এর কাঁটার মত। হ্যাঁ, তবে সেগুলো যে কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ্ই জানেন। ওসব কাঁটা মানুষকে তাদের আমলের অনুপাতে বিদ্ধ করবে। কতিপয় মানুষ থাকবে ঈমানদার, তারা তাদের আমলের কারণে নিরাপদ থাকবে। আর কেউ কেউ তার ‘আমলের কারণে ধ্বংস হবে। কাউকে নিক্ষেপ করা হবে, আর কাউকে প্রতিদান দেয়া হবে। কিংবা সেরকমই কিছু রাবী বলেছেন। তারপর (আল্লাহ্) প্রকাশিত হবেন। তিনি বান্দাদের বিচার শেষ করে যখন আপন রহমতে কতক জাহান্নামবাসীকে বের করতে চাইবেন, তখন তিনি তাদের মধ্যকার শির্ক হতে মুক্তদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দেয়ার জন্য ফেরেশ্তাদেরকে আদেশ দেবেন। তারাই হচ্ছে ওসব বান্দা যাদের উপর আল্লাহ রহমত করবেন, যারা সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। সিজদার চিহ্ন দ্বারা তাদেরকে ফেরেশ্তারা চিনতে পারবেন। সিজদার চিহ্নগুলো ছাড়া সে সব আদম সন্তানের সারা দেহ জাহান্নামের আগুন ভসমীভূত করে দেবে। সিজদার চিহ্নগুলো জ্বালিয়ে দেয়া আল্লাহ্ জাহান্নামের উপর হারাম করে দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তাদের ওপর ঢালা হবে সঞ্জীবনীর পানি। এর ফলে নিম্নভাগ থেকে তারা এমনভাবে সজীব হয়ে ওঠবে, প্লাবনের পানিতে বীজ মাটি থেকে যেভাবে গজিয়ে ওঠে। এরপর আল্লাহ্ বান্দাদের বিচার কাজ শেষ করবেন। এদের মধ্য থেকে একজন বাকী থেকে যাবে, যে জাহান্নামের দিকে মুখ করে থাকবে। জাহান্নামীদের মধ্যে এই হচ্চে সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমার চেহারাটা জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দাও। কেননা, জাহান্নামের (দুর্গন্ধযুক্ত) হাওয়া আমাকে অস্থির করে তুলছে এবং এর শিখা আমাকে জ্বালাচ্ছে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছা মুতাবিক তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে। তারপর আল্লাহ্ বলবেন, তোমার প্রার্থিত বস্ত্ত যদি তোমাকে দেয়া হয়, তবে অন্য কিছু চাইবে না তো? তখন সে বলবে, না, তোমার ইয্যতের শপথ করে বলছি, তা ব্যতীত আমি আর কিছু চাইব না। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক তাঁকে বহু অঙ্গীকার ও‘য়াদা দেবে। ফলে আল্লাহ্ তার চেহারা জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে দেবেন। যখন সে জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে এবং জান্নাতকে দেখবে, সে আল্লাহর ইচ্ছা মোতাবেক যতক্ষণ চুপ থাকার চুপ থেকে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতের দ্বার পর্যন্ত এগিয়ে দাও। আল্লাহ্ তখন তাকে বলবেন, তুমি কি বহু ও‘য়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে তোমাকে যা দেয়া হবে, তা ব্যতীত আর কিছুই তুমি কখনো চাইবে না। সর্বনাশ তোমার, হে আদম সন্তান! কতই না ও‘য়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব সে আল্লাহকে ডাকতে থাকবে। আল্লাহ্ তখন তাকে বলবেন, আচ্ছা, এটি যদি তোমাকে দেয়া হয়, আর কিছু তো চাইবে না? সে বলবে, তোমার ইয্যতের কসম! সেটি ব্যতীত আমি আর কিছুই চাইব না। তারপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ও‘য়াদা ও অঙ্গীকার দেবে আর আল্লাহ্ তাকে জান্নাতের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিবেন। যখন সে জান্নাতের দরজার কাছে দাঁড়াবে, তখন তার জন্য জান্নাত উন্মুক্ত হয়ে যাবে, তখন সে এর মধ্যকার আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসের প্রাচুর্য দেখতে পাবে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী চুপ থেকে পরে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আল্লাহ্ বলবেনঃ তুমি কি আমাকে এই ও‘য়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে, তোমাকে যা দেয়া হবে, সেটা ব্যতীত আর কিছুর প্রার্থনা করবে না? সর্বনাশ তোমার! হে বানী আদম! কতই না ও‘য়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমি তোমার সৃষ্টিকুলের মধ্যে নিকৃষ্টতর হতে চাই না। তখন সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকবে। অবশেষে আল্লাহ্ এতে হেসে দেবেন। আল্লাহ্ তার অবস্থার জন্য হেসে তাকে নির্দেশ দেবেন, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে জান্নাতে প্রবেশ করলে আল্লাহ্ তাকে বলবেনঃ এবার তুমি চাও। সে তখন রবের কাছে চাইবে এবং আকাঙ্ক্ষা জানাবে। সর্বশেষে আল্লাহ্ নিজে তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলবেন, এটা, ওটা চাও। এতে তার আবেদন-আকাঙ্ক্ষা শেষ হলে আল্লাহ বলবেনঃ তোমাকে ওগুলো দেয়া হল, সঙ্গে সঙ্গে সে পরিমাণ আরো দেয়া হল। [৮০৬] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
সহীহ বুখারী : ১১০
আতা' বিন ইয়াজিদ আল-লাইথি (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّاسَ، قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ تُضَارُّونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ". قَالُوا لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " فَهَلْ تُضَارُّونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ ". قَالُوا لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ كَذَلِكَ، يَجْمَعُ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ شَيْئًا فَلْيَتَّبِعْهُ. فَيَتْبَعُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الشَّمْسَ الشَّمْسَ، وَيَتْبَعُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الْقَمَرَ الْقَمَرَ، وَيَتْبَعُ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ الطَّوَاغِيتَ الطَّوَاغِيتَ، وَتَبْقَى هَذِهِ الأُمَّةُ فِيهَا شَافِعُوهَا ـ أَوْ مُنَافِقُوهَا شَكَّ إِبْرَاهِيمُ ـ فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ. فَيَقُولُونَ هَذَا مَكَانُنَا حَتَّى يَأْتِيَنَا رَبُّنَا فَإِذَا جَاءَنَا رَبُّنَا عَرَفْنَاهُ فَيَأْتِيهِمُ اللَّهُ فِي صُورَتِهِ الَّتِي يَعْرِفُونَ فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ. فَيَقُولُونَ أَنْتَ رَبُّنَا. فَيَتْبَعُونَهُ وَيُضْرَبُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَىْ جَهَنَّمَ، فَأَكُونُ أَنَا وَأُمَّتِي أَوَّلَ مَنْ يُجِيزُهَا، وَلاَ يَتَكَلَّمُ يَوْمَئِذٍ إِلاَّ الرُّسُلُ، وَدَعْوَى الرُّسُلِ يَوْمَئِذٍ اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ. وَفِي جَهَنَّمَ كَلاَلِيبُ مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، هَلْ رَأَيْتُمُ السَّعْدَانَ ". قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " فَإِنَّهَا مِثْلُ شَوْكِ السَّعْدَانِ، غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَعْلَمُ مَا قَدْرُ عِظَمِهَا إِلاَّ اللَّهُ، تَخْطَفُ النَّاسَ بِأَعْمَالِهِمْ، فَمِنْهُمُ الْمُوبَقُ بَقِيَ بِعَمَلِهِ، أَوِ الْمُوثَقُ بِعَمَلِهِ، وَمِنْهُمُ الْمُخَرْدَلُ أَوِ الْمُجَازَى أَوْ نَحْوُهُ، ثُمَّ يَتَجَلَّى حَتَّى إِذَا فَرَغَ اللَّهُ مِنَ الْقَضَاءِ بَيْنَ الْعِبَادِ وَأَرَادَ أَنْ يُخْرِجَ بِرَحْمَتِهِ مَنْ أَرَادَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ أَمَرَ الْمَلاَئِكَةَ أَنْ يُخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا، مِمَّنْ أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَرْحَمَهُ مِمَّنْ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، فَيَعْرِفُونَهُمْ فِي النَّارِ بِأَثَرِ السُّجُودِ، تَأْكُلُ النَّارُ ابْنَ آدَمَ إِلاَّ أَثَرَ السُّجُودِ، حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ أَثَرَ السُّجُودِ، فَيَخْرُجُونَ مِنَ النَّارِ قَدِ امْتُحِشُوا، فَيُصَبُّ عَلَيْهِمْ مَاءُ الْحَيَاةِ فَيَنْبُتُونَ تَحْتَهُ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ، ثُمَّ يَفْرُغُ اللَّهُ مِنَ الْقَضَاءِ بَيْنَ الْعِبَادِ، وَيَبْقَى رَجُلٌ مُقْبِلٌ بِوَجْهِهِ عَلَى النَّارِ هُوَ آخِرُ أَهْلِ النَّارِ دُخُولاً الْجَنَّةَ فَيَقُولُ أَىْ رَبِّ اصْرِفْ وَجْهِي عَنِ النَّارِ، فَإِنَّهُ قَدْ قَشَبَنِي رِيحُهَا وَأَحْرَقَنِي ذَكَاؤُهَا. فَيَدْعُو اللَّهَ بِمَا شَاءَ أَنْ يَدْعُوَهُ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ هَلْ عَسَيْتَ إِنْ أُعْطِيتَ ذَلِكَ أَنْ تَسْأَلَنِي غَيْرَهُ. فَيَقُولُ لاَ وَعِزَّتِكَ لاَ أَسْأَلُكَ غَيْرَهُ، وَيُعْطِي رَبَّهُ مِنْ عُهُودٍ وَمَوَاثِيقَ مَا شَاءَ، فَيَصْرِفُ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ، فَإِذَا أَقْبَلَ عَلَى الْجَنَّةِ وَرَآهَا سَكَتَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ ثُمَّ يَقُولُ أَىْ رَبِّ قَدِّمْنِي إِلَى باب الْجَنَّةِ. فَيَقُولُ اللَّهُ لَهُ أَلَسْتَ قَدْ أَعْطَيْتَ عُهُودَكَ وَمَوَاثِيقَكَ أَنْ لاَ تَسْأَلَنِي غَيْرَ الَّذِي أُعْطِيتَ أَبَدًا، وَيْلَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ. فَيَقُولُ أَىْ رَبِّ. وَيَدْعُو اللَّهَ حَتَّى يَقُولَ هَلْ عَسَيْتَ إِنْ أُعْطِيتَ ذَلِكَ أَنْ تَسْأَلَ غَيْرَهُ. فَيَقُولُ لاَ وَعِزَّتِكَ لاَ أَسْأَلُكَ غَيْرَهُ، وَيُعْطِي مَا شَاءَ مِنْ عُهُودٍ وَمَوَاثِيقَ، فَيُقَدِّمُهُ إِلَى باب الْجَنَّةِ، فَإِذَا قَامَ إِلَى باب الْجَنَّةِ انْفَهَقَتْ لَهُ الْجَنَّةُ فَرَأَى مَا فِيهَا مِنَ الْحَبْرَةِ وَالسُّرُورِ، فَيَسْكُتُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَسْكُتَ ثُمَّ يَقُولُ أَىْ رَبِّ أَدْخِلْنِي الْجَنَّةَ. فَيَقُولُ اللَّهُ أَلَسْتَ قَدْ أَعْطَيْتَ عُهُودَكَ وَمَوَاثِيقَكَ أَنْ لاَ تَسْأَلَ غَيْرَ مَا أُعْطِيتَ ـ فَيَقُولُ ـ وَيْلَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مَا أَغْدَرَكَ. فَيَقُولُ أَىْ رَبِّ لاَ أَكُونَنَّ أَشْقَى خَلْقِكَ فَلاَ يَزَالُ يَدْعُو حَتَّى يَضْحَكَ اللَّهُ مِنْهُ فَإِذَا ضَحِكَ مِنْهُ قَالَ لَهُ ادْخُلِ الْجَنَّةَ. فَإِذَا دَخَلَهَا قَالَ اللَّهُ لَهُ تَمَنَّهْ. فَسَأَلَ رَبَّهُ وَتَمَنَّى حَتَّى إِنَّ اللَّهَ لَيُذَكِّرُهُ يَقُولُ كَذَا وَكَذَا، حَتَّى انْقَطَعَتْ بِهِ الأَمَانِيُّ قَالَ اللَّهُ ذَلِكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ ". قَالَ عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ لاَ يَرُدُّ عَلَيْهِ مِنْ حَدِيثِهِ شَيْئًا حَتَّى إِذَا حَدَّثَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ " ذَلِكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ ". قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ " وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ مَعَهُ ". يَا أَبَا هُرَيْرَةَ. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ مَا حَفِظْتُ إِلاَّ قَوْلَهُ " ذَلِكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ ". قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ أَشْهَدُ أَنِّي حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَوْلَهُ " ذَلِكَ لَكَ وَعَشَرَةُ أَمْثَالِهِ ". قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَذَلِكَ الرَّجُلُ آخِرُ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولاً الْجَنَّةَ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, লোকেরা (সহাবাগণ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! ক্বিয়ামাতের দিন আমরা কি আমাদের রব্বকে দেখতে পাব? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের কি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহ্র রসূল! তিনি আবার বললেনঃ মেঘহীন আকাশে সূর্য দেখতে তোমাদের কি অসুবিধা হয়? সবাই বলে উঠলেন, না, হে আল্লাহ্র রসূল। তখন রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা সেরকমই আল্লাহ্কে দেখতে পাবে। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ লোকদের একত্রিত করে বলবেন, যে যার ‘ইবাদাত করছিলে সে যেন তার অনুসরণ করে। তারপর যারা সূর্যের ‘ইবাদাত করত, সূর্যের অনুসরণ করবে। যারা চন্দ্রের ‘ইবাদাত করত, তারা চন্দ্রের অনুসরণ করবে। আর যারা তাগুতের পূজা করত, তারা তাদের অনুসরণ করবে। বাকী থাকবে এই উম্মাত। এদের মধ্যে এদের সুপারিশকারীরাও থাকবে অথবা রাবী বলেছেন, মুনাফিকরাও থাকবে। এখানে বর্ণনাকারী ইব্রাহীম (রহঃ) সন্দেহ পোষণ করেছেন। তারপর আল্লাহ্ তাদের কাছে এসে বলবেনঃ আমিই তোমাদের রব। তখন তারা বলবে, যতক্ষন আমাদের রব আমাদের কাছে না আসবেন, ততক্ষণ আমরা এ স্থানেই থাকব। আমাদের রব যখন আসবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারব। তারপর আল্লাহ্ এমন এক সুরতে তাদের কাছে আসবেন, যে সুরতে তারা তাঁকে চিনবে। তখন তিনি বলবেন, তোমাদের রব আমিই। তারা বলে উঠবে হাঁ, আপনিই আমাদের রব। তারপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে। এরপর জাহান্নামের উপর পুল কায়িম করা হবে। যারা পুল পার হবে, আমি এবং আমার উম্মাত তাদের মধ্যে প্রথম থাকব। সেদিন একমাত্র রসূলগণ ব্যতীত আর কেউই কথা বলতে পারবে না। আর রসূলগনেরও আবেদন হবে শুধু আল্লাহুম্মা সাল্লিম, সাল্লিম (আয় আল্লাহ্! নিরাপদে রাখুন, নিরাপদে রাখুন)। এবং জাহান্নামে সাদান-এর কাঁটার মত আঁকড়া থাকবে। তোমরা দেখেছ কি সাদান-এর কাঁটা? সহাবাগণ বললেন, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রসূল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ জাহান্নামের সে কাঁটাগুলো এ সাদান-এর কাঁটার মত। হ্যাঁ, তবে সেগুলো যে কত বড় হবে তা একমাত্র আল্লাহ্ই জানেন। ওসব কাঁটা মানুষকে তাদের আমলের অনুপাতে বিদ্ধ করবে। কতিপয় মানুষ থাকবে ঈমানদার, তারা তাদের আমলের কারণে নিরাপদ থাকবে। আর কেউ কেউ তার ‘আমালের কারণে ধ্বংস হবে। কাউকে নিক্ষেপ করা হবে, আর কাউকে প্রতিদান দেয়া হবে। কিংবা সেরকমই কিছু রাবী বলেছেন। তারপর (আল্লাহ্) প্রকাশিত হবেন। তিনি বান্দাদের বিচার শেষ করে যখন আপন রহমতে কতক জাহান্নামবাসীকে বের করতে চাইবেন, তখন তিনি তাদের মধ্যকার শির্ক হতে মুক্তদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দেয়ার জন্য ফেরেশ্তাদেরকে আদেশ দেবেন। তারাই হচ্ছে ওসব বান্দা যাদের উপর আল্লাহ রহমত করবেন, যারা সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। সাজদাহ্র চিহ্ন দ্বারা তাদেরকে ফেরেশ্তারা চিনতে পারবেন। সাজদাহ্র চিহ্নগুলো ছাড়া সে সব আদাম সন্তানের সারা দেহ জাহান্নামের আগুন ভস্মীভূত করে দেবে। সাজদাহ্র চিহ্নগুলো জ্বালিয়ে দেয়া আল্লাহ্ জাহান্নামের উপর হারাম করে দিয়েছেন। অতঃপর তাদেরকে আগুনে দগ্ধ অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। তাদের ওপর ঢালা হবে সঞ্জীবনীর পানি। এর ফলে নিম্নভাগ থেকে তারা এমনভাবে সজীব হয়ে ওঠবে, প্লাবনের পানিতে বীজ মাটি থেকে যেভাবে গজিয়ে ওঠে। এরপর আল্লাহ্ বান্দাদের বিচার কাজ শেষ করবেন। এদের মধ্য থেকে একজন বাকী থেকে যাবে, যে জাহান্নামের দিকে মুখ করে থাকবে। জাহান্নামীদের মধ্যে এই হচ্ছে সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমার চেহারাটা জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দাও। কেননা, জাহান্নামের (দুর্গন্ধযুক্ত) হাওয়া আমাকে অস্থির করে তুলছে এবং এর শিখা আমাকে জ্বালাচ্ছে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছা মুতাবিক তাঁর কাছে প্রার্থনা করবে। তারপর আল্লাহ্ বলবেন, তোমরা প্রার্থিত বস্তু যদি তোমাকে দেয়া হয়, তবে অন্য কিছু চাইবে না তো? তখন সে বলবে, না, তোমার ইয্যতের শপথ করে বলছি, তা ব্যতীত আমি আর কিছু চাইব না। তখন সে আল্লাহ্র ইচ্ছা মোতাবেক তাঁকে বহু অঙ্গীকার ও’য়াদা দেবে। ফলে আল্লাহ্ তার চেহারা জাহান্নাম থেকে ফিরিয়ে দেবেন। যখন সে জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে এবং জান্নাতকে দেখবে, সে আল্লাহ্র ইচ্ছা মোতাবেক যতক্ষণ চুপ থাকার চুপ থেকে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতের দ্বার পর্যন্ত এগিয়ে দাও। আল্লাহ্ তখন তাকে বলবেন, তুমি কি বহু ও’য়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে তোমাকে যা দেয়া হবে, তা ব্যতীত আর কিছুই তুমি কখনো চাইবে না। সর্বনাশ তোমার, হে আদাম সন্তান! কতই না ও’য়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব সে আল্লাহকে ডাকতে থাকবে। আল্লাহ্ তখন তাকে বলবেন, আচ্ছা, এটি যদি তোমাকে দেয়া হয়, আর কিছু তো চাইবে না? সে বলবে, তোমার ইয্যতের কসম! সেটি ব্যতীত আমি আর কিছুই চাইব না। তারপর আল্লাহ্র ইচ্ছানুযায়ী ও’য়াদা ও অঙ্গীকার দেবে আর আল্লাহ্ তাকে জান্নাতের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিবেন। যখন সে জান্নাতের দরজার কাছে দাঁড়াবে, তখন তার জন্য জান্নাত উন্মুক্ত হয়ে যাবে, তখন সে এর মধ্যকার আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসের প্রাচুর্য দেখতে পাবে। তখন সে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী চুপ থেকে পরে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করায়ে দিন। আল্লাহ্ বলবেনঃ তুমি কি আমাকে এই ও’য়াদা ও অঙ্গীকার দাওনি যে, তোমাকে যা দেয়া হবে, সেটা ব্যতীত আর কিছুর প্রার্থনা করবে না? সর্বনাশ তোমার! হে বানী আদাম! কতই না ও’য়াদা ভঙ্গকারী তুমি। তখন সে বলবে, হে আমার রব! আমি তোমার সৃষ্টিকুলের মধ্যে নিকৃষ্টতর হতে চাই না। তখন সে আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করতে থাকবে। অবশেষে আল্লাহ্ এতে হেসে দেবেন। আল্লাহ্ তার অবস্থার জন্য হেসে তাকে নির্দেশ দেবেন, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। সে জান্নাতে প্রবেশ করলে আল্লাহ্ তাকে বলবেনঃ এবার তুমি চাও। সে তখন রবের কাছে চাইবে এবং আকাঙ্ক্ষা জানাবে। সর্বশেষে আল্লাহ্ নিজে তাকে স্বরণ করিয়ে দিয়ে বলবেন, এটা, ওটা চাও। এতে তার আবেদন-আকাঙ্ক্ষা শেষ হলে আল্লাহ বলবেনঃ তোমাকে ওগুলো দেয়া হল, সঙ্গে সঙ্গে সে পরিমান আরো দেয়া হল। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৩১)
আত্বা ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ ‘আত্বা ইব্নু ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) যখন হাদীসটির বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) -ও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি আবূ হুরায়রা (রাঃ) -এর এ বর্ণিত হাদীসের কোথাও প্রতিবাদ করলেন না। বর্ণনার শেষাংশে এসে আবূ হুরায়রা (রাঃ) যখন বর্ণনা করলেন, “আল্লাহ্ তাকে বলবেন, ওসব তোমাকে দেয়া হলো, আরো তার সমপরিমান তার সঙ্গে দেয়া হল” তখন আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) প্রতিবাদ করে বললেন, হে আবূ হুরায়রা (রাঃ), রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তার সঙ্গে আরো দশগুন। তখন আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আমি সংরক্ষন করেছি এভাবে- ওসব তোমাকে দেয়া হলো, আর এ সঙ্গে আরো এক গুন দেয়া হল। আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট হতে এভাবে সংরক্ষন করেছি- ও সবই তোমাকে দেয়া হলো, এর সঙ্গে তোমাকে দেয়া হলো আরো দশ গুন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এই হচ্ছে জান্নাতে প্রবেশকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯২০ শেষাংশ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৩১)
সহীহ বুখারী : ১১১
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" اخْتَصَمَتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ إِلَى رَبِّهِمَا فَقَالَتِ الْجَنَّةُ يَا رَبِّ مَا لَهَا لاَ يَدْخُلُهَا إِلاَّ ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَسَقَطُهُمْ. وَقَالَتِ النَّارُ ـ يَعْنِي ـ أُوثِرْتُ بِالْمُتَكَبِّرِينَ. فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِي. وَقَالَ لِلنَّارِ أَنْتِ عَذَابِي أُصِيبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمَا مِلْؤُهَا ـ قَالَ ـ فَأَمَّا الْجَنَّةُ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَظْلِمُ مِنْ خَلْقِهِ أَحَدًا، وَإِنَّهُ يُنْشِئُ لِلنَّارِ مَنْ يَشَاءُ فَيُلْقَوْنَ فِيهَا فَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ. ثَلاَثًا، حَتَّى يَضَعَ فِيهَا قَدَمَهُ فَتَمْتَلِئُ وَيُرَدُّ بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَتَقُولُ قَطْ قَطْ قَطْ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়েই স্বীয় রবের নিকট অভিযোগ করল। জান্নাত বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার ব্যপারটি কী যে তাতে শুধু নিঃস্ব ও নিম্ন শেণীর লোকেরাই প্রবেশ করবে। এদিকে জাহান্নামও অভিযোগ করল অর্থাৎ আপনি শুধুমাত্র অহংকারীদেরকেই আমাতে প্রাধান্য দিলেন। আল্লাহ্ জান্নাতকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি আমার রহমত। জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব। আমি যাকে চাইব, তোমাকে দিয়ে শাস্তি পৌঁছাব। তোমাদের উভয়কেই পূর্ণ করা হবে। তবে আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টির কারো উপর যুলুম করবেন না। তিনি জাহান্নামের জন্য নিজ ইচ্ছানুযায়ী নতুন সৃষ্টি সৃষ্টি করবেন। তাদেরকে যখন জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তখন জাহান্নাম বলবে, আরো অতিরিক্ত আছে কি? জাহান্নামে আরো নিক্ষেপ করা হবে, তখনো বলবে, আরো অতিরিক্ত আছে কি? এভাবে তিনবার বলবে। অবশেষে আল্লাহ্ তাঁর পা জাহান্নামে প্রবেশ করিয়ে দিলে তা পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। তখন জাহান্নামের একটি অংশ অন্য অংশকে এ উত্তর করবে- আর নয়, আর নয়, আর নয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৪১)
সহীহ বুখারী : ১১২
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" لَيُصِيبَنَّ أَقْوَامًا سَفْعٌ مِنَ النَّارِ بِذُنُوبٍ أَصَابُوهَا عُقُوبَةً، ثُمَّ يُدْخِلُهُمُ اللَّهُ الْجَنَّةَ بِفَضْلِ رَحْمَتِهِ يُقَالُ لَهُمُ الْجَهَنَّمِيُّونَ ". وَقَالَ هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةٌ حَدَّثَنَا أَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কতকগুলো সম্প্রদায় তাদের গুনাহের কারণে শাস্তি হিসেবে জাহান্নামের আগুনে পৌছবে। অতঃপর আল্লাহ্ নিজ রাহমাতে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেবেন। তাদেরকে ‘জাহান্নামী’ বলা হবে।
হাম্মাম (রহঃ)....আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৪২)
সহীহ বুখারী : ১১৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" لَمَّا قَضَى اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ عِنْدَهُ فَوْقَ عَرْشِهِ، إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা যখন (সৃষ্টির) কাজ সম্পন্ন করলেন, তখন তাঁর নিকট তাঁর আরশের ওপর লিখে দিলেন, “আমার রহমত আমার ক্রোধকে ছাড়িয়ে গেছে”।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৪৫)
সহীহ বুখারী : ১১৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" لاَ يَقُلْ أَحَدُكُمُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ، ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ، ارْزُقْنِي إِنْ شِئْتَ، وَلْيَعْزِمْ مَسْأَلَتَهُ، إِنَّهُ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ، لاَ مُكْرِهَ لَهُ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ এভাবে দু’আ করো না, হে আল্লাহ্! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। তুমি চাইলে আমার প্রতি রহম কর। তুমি চাইলে আমাকে রিয্ক দাও। বরং দু’আ প্রার্থী খুবই দৃঢ়তার সঙ্গে দু’আ করবে কেননা, তিনি যা চান তাই করেন। তাকে বাধ্য করার কেউ নেই।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৬৯)
সহীহ বুখারী : ১১৫
আবু সাঈদ (রা.)
Sahih
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، سَمِعْتُ أَبِي، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْغَافِرِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " أَنَّهُ ذَكَرَ رَجُلاً فِيمَنْ سَلَفَ ـ أَوْ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ قَالَ كَلِمَةً يَعْنِي ـ أَعْطَاهُ اللَّهُ مَالاً وَوَلَدًا ـ فَلَمَّا حَضَرَتِ الْوَفَاةُ قَالَ لِبَنِيهِ أَىَّ أَبٍ كُنْتُ لَكُمْ قَالُوا خَيْرَ أَبٍ. قَالَ فَإِنَّهُ لَمْ يَبْتَئِرْ ـ أَوْ لَمْ يَبْتَئِزْ ـ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا، وَإِنْ يَقْدِرِ اللَّهُ عَلَيْهِ يُعَذِّبْهُ، فَانْظُرُوا إِذَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي حَتَّى إِذَا صِرْتُ فَحْمًا فَاسْحَقُونِي ـ أَوْ قَالَ فَاسْحَكُونِي ـ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ رِيحٍ عَاصِفٍ فَأَذْرُونِي فِيهَا " فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَأَخَذَ مَوَاثِيقَهُمْ عَلَى ذَلِكَ وَرَبِّي، فَفَعَلُوا ثُمَّ أَذْرَوْهُ فِي يَوْمٍ عَاصِفٍ، فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ كُنْ. فَإِذَا هُوَ رَجُلٌ قَائِمٌ. قَالَ اللَّهُ أَىْ عَبْدِي مَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ فَعَلْتَ مَا فَعَلْتَ قَالَ مَخَافَتُكَ أَوْ فَرَقٌ مِنْكَ قَالَ فَمَا تَلاَفَاهُ أَنْ رَحِمَهُ عِنْدَهَا ـ وَقَالَ مَرَّةً أُخْرَى فَمَا تَلاَفَاهُ غَيْرُهَا ـ ". فَحَدَّثْتُ بِهِ أَبَا عُثْمَانَ فَقَالَ سَمِعْتُ هَذَا مِنْ سَلْمَانَ غَيْرَ أَنَّهُ زَادَ فِيهِ أَذْرُونِي فِي الْبَحْرِ. أَوْ كَمَا حَدَّثَ.
حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، وَقَالَ، لَمْ يَبْتَئِرْ. وَقَالَ خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، وَقَالَ، لَمْ يَبْتَئِزْ. فَسَّرَهُ قَتَادَةُ لَمْ يَدَّخِرْ.
আবূ সা‘ঈদ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগের যুগের এক লোক সম্পর্কে আলোচনা করলেন। অথবা তিনি বলেছেন, তোমাদের আগে যারা ছিলেন তাদের এক লোক। তিনি তার ব্যাপারে বললেন, অর্থাৎ আল্লাহ্ তাকে সম্পদ ও সন্তান দান করলেন। যখন তার মৃত্যু হাজির হল তখন সে তার সন্তানদেরকে বলল, আমি তোমাদের জন্য কেমন পিতা ছিলাম? তারা বলল, উত্তম পিতা। তখন সে বলল, সে আল্লাহর কাছে কোন নেক ‘আমাল রেখে যেতে পারেনি। এখানে لَمْ يَبْتَئِرْ কিংবা لَمْ يَبْتَئِزْ বলা হয়েছে। অতএব, আল্লাহ্ (তার উপর) সমর্থ হলে, অবশ্যই তাকে আযাব দিবেন। অতএব তোমরা লক্ষ্য রাখবে, আমার মওত হলে তোমরা আমাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেবে। এরপর যখন আমি কয়লা হয়ে যাব, তখন ছাই করে ফেলবে। বর্ণনাকারী এখানে فَاسْحَقُونِي কিংবা فاسْحَكُوْنِي বলেছেন। তারপর যেদিন প্রচন্ড বাতাসের দিন হবে সেদিন বাতাসে ছড়িয়ে দেবে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ পিতা এ বিষয়ে ছেলেদের নিকট থেকে ও‘য়াদা নিল। আমার রবেবর শপথ! ছেলেরা তাই করল। এক প্রচন্ড বাতাসের দিনে তাকে ছড়িয়ে দিল। তারপর মহান আল্লাহ্ নির্দেশ দিলেন। তুমি অস্তিত্বে এসে যাও তক্ষুণি সে উঠে দাঁড়াল। মহান আল্লাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আমার বান্দাহ্! তুমি যা করেছ তা কেন করলে? সে উত্তর দিল, তোমার ভয়ে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এর বিনিময়ে তাকে ক্ষমা করে দিলেন। রাবী আবার অন্য বর্ণনায় বলেছেনঃ আল্লাহ্ ক্ষমা দ্বারাই এর বিনিময় দিলেন।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীস আবূ উসমানের কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আমি হাদীসটি সালমান (রাঃ) থেকে শুনেছি। তবে তিনি এটুকু যোগ করেছেন, اَذْرُونِي فِي الْبَحْر আমাকে সমুদ্রে ছড়িয়ে দাও।
রাবী বলেন, কিংবা তিনি বলেছেন, অথবা যেমন তিনি বর্ণনা করেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৯৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৯৯৯)
মুতামির (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি لَمْ يَبْتَئِرْ - বর্ণনা করেছেন। [৩৪৭৮]
খালীফা (রহ.) মুতামির থেকে لَمْ يَبْتَئِزْ বর্ণনা করেছেন। ক্বাতাদাহ (রহ.) এ সবের বিশ্লেষণ করেছেন لَمْ يَدَّخِرْ অর্থাৎ ‘সঞ্চয় করেনি’ দ্বারা। (আধুনিক প্রকাশনী- নাই, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০০০)
সহীহ বুখারী : ১১৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
وَقَالَ لِي خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، سَمِعْتُ أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" لَمَّا قَضَى اللَّهُ الْخَلْقَ كَتَبَ كِتَابًا عِنْدَهُ غَلَبَتْ ـ أَوْ قَالَ سَبَقَتْ ـ رَحْمَتِي غَضَبِي. فَهْوَ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ যখন তাঁর মাখলূকাত সৃষ্টি করলেন, তাঁর কাছে একটি কিতাব লিপিবদ্ধ রাখলেন। “আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে’ এটি তাঁর কাছে আরশের ওপর আছে।(আধুনিক প্রকাশনী- অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- অনুচ্ছেদ)
সহীহ বুখারী : ১১৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي غَالِبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، أَنَّ أَبَا رَافِعٍ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ
" إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ الْخَلْقَ إِنَّ رَحْمَتِي سَبَقَتْ غَضَبِي. فَهْوَ مَكْتُوبٌ عِنْدَهُ فَوْقَ الْعَرْشِ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার আগে একটি লেখা লিখে রেখেছেন। তা হলো “আমার গযবের উপর আমার রহমত অগ্রগামী হয়েছে”, এটি তাঁরই নিকটে আরশের ওপর লেখা আছে। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০৪৪)
সহীহ মুসলিম : ১১৮
Sahih
اعلموا! وفقكم الله. من استطاع التمييز بين الأحاديث الصحيحة والضعيفة، وعرف الرواة الموثوقين والمتهمين (أي الذين اتُهموا بالكذب وغيره)، وجب عليه ألا يروي إلا الحديث الصحيح الأصل، الذي لم يُفصح عن خطئه، وأن يتجنب روايات المتهمين أو المتشددين من أهل البدع. ودليل ذلك قول الله تعالى: "يا أيها الذين آمنوا إن جاءكم فاسق بالخبر فتحققوا منه أن تضلوا قوماً بجهالة فتندموا غداً على ما كنتم تعملون". وقال الله تعالى: "واستشهدوا على رجلين أو رجل وامرأتين من اختياركم" (أي الذين عُرفوا بالصدق والخير)، وقال: "دعا الله تعالى إلى شهداء صالحين". يتضح من هذه الآيات أن قول المعتدي غير موثوق، وكذلك يتضح من الحديث الشريف أنه لا يجوز رواية حديث باطل (يحتمل أن يكون باطلاً)، كما هو واضح من القرآن، وهذا الحديث هو نفسه الحديث المشهور المروي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من روى عني حديثًا وظن أنه باطل فهو كاذب». روى الإمام مسلم رحمه الله بسنده عن سيدنا سمرة بن جندب رضي الله عنه وسيدنا مغيرة بن شعبة رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أي نفس الحديث المذكور أعلاه: من روى عني حديثًا وظن أنه باطل فهو كاذب).
জেনে রাখুন! আল্লাহ আপনাকে সাফল্য দান করুন। যার সহীহ ও দুর্বল হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা আছে এবং যে বিশ্বস্ত ও অভিযুক্ত বর্ণনাকারীদের (যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ রয়েছে, ইত্যাদি) চেনে, তার জন্য এটা ফরজ যে, সে কেবল সেই হাদীসটিই বর্ণনা করবে যার উৎস সহীহ এবং যার বর্ণনাকারীদের কোনো দোষ প্রকাশ পায়নি। আর বিদআতিদের মধ্যে যারা অভিযুক্ত অথবা একগুঁয়ে, তাদের বর্ণনা পরিহার করাও তার জন্য ফরজ। আর আমরা যা বলেছি তার প্রমাণ হলো, মহান আল্লাহ বলেছেন: “হে মুমিনগণ! যদি কোনো দুষ্ট ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নিও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলে যাও এবং পরকালে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করো।” দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “এবং তোমাদের পছন্দ অনুযায়ী দুইজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীকে সাক্ষী হিসেবে ডাকো” (সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য, অর্থাৎ যারা সত্যবাদী ও সৎ বলে পরিচিত)। এবং তিনি বলেছেন: “আল্লাহ তাআলা দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে ডাকলেন।” সুতরাং এই আয়াতগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, সীমালঙ্ঘনকারীর কথা নির্ভরযোগ্য নয় এবং একইভাবে হাদিস শরীফ থেকেও এটা স্পষ্ট যে, মিথ্যা (এবং মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন) কোনো বর্ণনা করা সঠিক নয়, যেমনটি কুরআন থেকে সুস্পষ্ট। আর সেই হাদিসটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সেই বিখ্যাত হাদিসটিরই অনুরূপ, যেখানে তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করে এবং মনে করে যে তা মিথ্যা, তবে সে মিথ্যাবাদী।” ইমাম মুসলিম (রহ.) তাঁর সনদসহ সাইয়্যিদুনা সামুরাই বিন জুনদুব (রা.) এবং সাইয়্যিদুনা মুগিরাহ বিন শু’বাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (অর্থাৎ উপরে বর্ণিত সেই একই হাদিস যে, যে ব্যক্তি আমার থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করে এবং মনে করে যে তা মিথ্যা, তাহলে সে মিথ্যাবাদী)।
সহীহ মুসলিম : ১১৯
Sahih
روى جرير بن عبد الحميد (رحمه الله): "لقيت جابر بن يزيد الجوفي ولم آخذ منه أي حديث؛ كان يؤمن بالعودة [العودة، وهو اعتقاد الرافضة بشأن عودة علي]".
জারির বিন আব্দুল হামিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমার জাবির বিন ইয়াযিদ আল-জু’ফীর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং আমি তার থেকে কোনো হাদিস গ্রহণ করিনি; তিনি আলীর প্রত্যাবর্তনে [আর-রাজ’আহ, যা আলীর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কিত রাফিদা সম্প্রদায়ের একটি বিশ্বাস] বিশ্বাস করতেন।”
সহীহ মুসলিম : ১২০
It Is
Sahih
حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" لاَ تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ أَبِيهِ فَهُوَ كُفْرٌ " .
মুহাম্মদ বিন রাফি’ এবং হাজ্জাজ বিন আশ-শাইর থেকে বর্ণিত: তাঁরা বলেন: “আব্দুর রাযযাক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মা’মার বলেছেন: ‘আমি আইয়ুবকে আব্দুল করিম—অর্থাৎ আবু উমাইয়া—ব্যতীত অন্য কারো সম্পর্কে নিন্দা করতে দেখিনি।’ অতঃপর তিনি তার নাম উল্লেখ করে বললেন, আল্লাহ তার উপর রহম করুন: ‘সে বিশ্বাসযোগ্য নয়—সে আমাকে ইকরিমার একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল এবং তারপর [হাদিসটি বর্ণনা করার সময়] বলেছিল, “আমি ইকরিমার কাছ থেকে শুনেছি।”’”