পবিত্রতা
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মুয়াত্তা মালিক # ২/৩২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ نَعَمْ . فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدِهِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ ثُمَّ ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ .
রেওয়ায়ত ১. ইয়াহইয়া মাযনী (রহঃ)-এর পিতা আবদুল্লাহ্ ইবন যায়দ ইবন আসিম (রাঃ)-কে বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে ওযু করিতেন আপনি আমাকে দেখাইতে পারেন কি? আবদুল্লাহ ইবন যায়দ (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ পারি। তারপর তিনি পানি আনাইলেন এবং তাহার হাতের উপর পানি ঢালিলেন। তিনি দুই দুইবার তাহার উভয় হাত ধুইলেন, তারপর কুলি করিলেন ও নাক পরিষ্কার করিলেন তিনবার। তারপর মুখমণ্ডলকে তিনবার ধুইলেন, তারপর কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধুইলেন দুই দুইবার। পরে দুই হাত দ্বারা শির মসেহ করিলেন, দুই হাত দিয়া সম্মুখ হইতে আরম্ভ করিয়া পিছনের দিকে নিলেন এবং পিছনের দিক হইতে আরম্ভ করিয়া সামনের দিকে আনিলেন। মসেহ আরম্ভ করিলেন মাথার সামনের দিক হইতে। অতঃপর উভয় হাত মাথার পিছনের দিকে নিয়া গেলেন। তারপর উভয় হাত ফিরাইলেন এবং যে স্থান হইতে আরম্ভ করিয়াছিলেন, পুনরায় সেই স্থানেই ফিরাইয়া আনিলেন। তারপর তাহার দুই পা ধুইলেন।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ২/৩৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ مَاءً ثُمَّ لِيَنْثِرْ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ " .
রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ওযু করে, তখন সে যেন তাহার নাকে পানি দেয়, তারপর নাক পরিষ্কার করে, আর যে কুলুখ গ্রহণ করে সে যেন বেজোড় কুলুখ নেয়।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ২/৩৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْثِرْ وَمَنِ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ " .
রেওয়ায়ত ৩. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ওযু করে সে যেন নাক পরিষ্কার করে আর যে কুলুখ নেয় সে বেজোড় নেবে।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ২/৩৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ، قَدْ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ مَاتَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ أَسْبِغِ الْوُضُوءَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ " .
রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ) উপস্থিত হইলেন, যেদিন সা'দ ইবন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) ইন্তিকাল করিয়াছেন সেদিন। তারপর তিনি ওযুর পানি চাহিলেন। আয়েশা (রাঃ) তাহাকে বললেনঃ পূর্ণরূপে ওযু কর, কারণ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি (وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ) “পায়ের গিটসমূহের জন্য ধ্বংস নরকাগ্নির।”
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ২/৩৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ طَحْلاَءَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَتَوَضَّأُ بِالْمَاءِ لِمَا تَحْتَ إِزَارِهِ . قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ تَوَضَّأَ فَنَسِيَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ قَبْلَ أَنْ يَتَمَضْمَضَ أَوْ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَغْسِلَ وَجْهَهُ فَقَالَ أَمَّا الَّذِي غَسَلَ وَجْهَهُ قَبْلَ أَنْ يَتَمَضْمَضَ فَلْيُمَضْمِضْ وَلاَ يُعِدْ غَسْلَ وَجْهِهِ وَأَمَّا الَّذِي غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ قَبْلَ وَجْهِهِ فَلْيَغْسِلْ وَجْهَهُ ثُمَّ لِيُعِدْ غَسْلَ ذِرَاعَيْهِ حَتَّى يَكُونَ غَسْلُهُمَا بَعْدَ وَجْهِهِ إِذَا كَانَ ذَلِكَ فِي مَكَانِهِ أَوْ بِحَضْرَةِ ذَلِكَ . قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ نَسِيَ أَنْ يَتَمَضْمَضَ وَيَسْتَنْثِرَ حَتَّى صَلَّى قَالَ لَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يُعِيدَ صَلاَتَهُ وَلْيُمَضْمِضْ وَيَسْتَنْثِرْ مَا يَسْتَقْبِلُ إِنْ كَانَ يُرِيدُ أَنْ يُصَلِّيَ .
রেওয়ায়ত ৮. মালিক (রহঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি ভুলবশত কুলি করে নাই অথবা নাক পরিষ্কার করে নাই, এই অবস্থায় সে নামায পড়িয়াছে। উত্তরে তিনি বলিলেনঃ সে লোকের পক্ষে নামায পুনরায় পড়িতে হইবে না। সে পরে অন্য নামায পড়িতে ইচ্ছা করিলে তবে কুলি করিয়া লইবে এবং নাক পরিষ্কার করিবে।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ২/৩৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَهُ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهَا فِي وَضُوئِهِ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ " .
রেওয়ায়ত ৯. আবূ হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ ঘুম হইতে জাগ্রত হইলে ওযুর পাত্রে হাত দেওয়ার পূর্বে তাহার হাত ধুইয়া লইবে, কেননা সে অবগত নহে তাহার হাত কোথায় রাত্রি যাপন করিয়াছে।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ২/৩৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ إِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ مُضْطَجِعًا فَلْيَتَوَضَّأْ .
ইয়াহিয়া আমাকে মালিক থেকে জায়েদ ইবন আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন, "যদি আপনি ঘুমিয়ে পড়েন তবে অবশ্যই (নামাযের আগে) ওজু করবেন।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ২/৩৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ تَفْسِيرَ، هَذِهِ الآيَةِ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} أَنَّ ذَلِكَ إِذَا قُمْتُمْ مِنَ الْمَضَاجِعِ . يَعْنِي النَّوْمَ . قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّهُ لاَ يَتَوَضَّأُ مِنْ رُعَافٍ وَلاَ مِنْ دَمٍ وَلاَ مِنْ قَيْحٍ يَسِيلُ مِنَ الْجَسَدِ وَلاَ يَتَوَضَّأُ إِلاَّ مِنْ حَدَثٍ يَخْرُجُ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ دُبُرٍ أَوْ نَوْمٍ .
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের ফয়সালা এই- নাক দিয়া রক্ত প্রবাহিত হইলে, শরীর হইতে খুন নির্গত হইলে এবং পুজ বহির্গত হইলে ওযু করিতে হইবে না। হাদস (حدث) যাহাতে ওযু নষ্ট হয়, এর কারণে ওযু করিতে হইবে; যাহা বাহির হয় গুহ্যদ্বার অথবা জননেন্দ্রীয় হইতে অথবা নিদ্রার কারণে। নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবন উমর (রাঃ) বসা অবস্থায় ঘুমাইতেন। অতঃপর ওযু না করিয়া নামায পড়িতেন।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يَنَامُ جَالِسًا ثُمَّ يُصَلِّي وَلاَ يَتَوَضَّأُ .
ইয়াহিয়া আমার থেকে মালেক থেকে নাফিহাত থেকে বর্ণনা করেছেন ইবনে উমর বসে ঘুমাতেন এবং অজু না করে সালাত আদায় করতেন।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ، - مِنْ آلِ بَنِي الأَزْرَقِ - عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، - وَهُوَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ - أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْكَبُ الْبَحْرَ وَنَحْمِلُ مَعَنَا الْقَلِيلَ مِنَ الْمَاءِ فَإِنْ تَوَضَّأْنَا بِهِ عَطِشْنَا أَفَنَتَوَضَّأُ بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ الطَّهُورُ مَاؤُهُ الْحِلُّ مَيْتَتُهُ " .
রেওয়ায়ত ১২. মুগীরা ইবন আবী বুরদা (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসিয়া বলিলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সাগরে আরোহণ করি (নৌকা বা জাহাজে আরোহণ করি) আর আমাদের সঙ্গে অল্প পানি বহন করি। যদি আমরা সেই পানি দ্বারা ওযু করি তবে আমরা পিপাসিত থাকিব। তাই সমুদ্রের পানি দ্বারা আমরা ওযু করিব কি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিলেনঃ সাগরের পানি অতি পবিত্র। ইহার মৃত জীব হালাল।
১১
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ حُمَيْدَةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ فَرْوَةَ، عَنْ خَالَتِهَا، كَبْشَةَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ - وَكَانَتْ تَحْتَ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ - أَنَّهَا أَخْبَرَتْهَا أَنَّ أَبَا قَتَادَةَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَسَكَبَتْ لَهُ وَضُوءًا فَجَاءَتْ هِرَّةٌ لِتَشْرَبَ مِنْهُ فَأَصْغَى لَهَا الإِنَاءَ حَتَّى شَرِبَتْ قَالَتْ كَبْشَةُ فَرَآنِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَتَعْجَبِينَ يَا ابْنَةَ أَخِي قَالَتْ فَقُلْتُ نَعَمْ . فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّهَا لَيْسَتْ بِنَجَسٍ إِنَّمَا هِيَ مِنَ الطَّوَّافِينَ عَلَيْكُمْ أَوِ الطَّوَّافَاتِ " .
রেওয়ায়ত ১৩. কাবসা বিনতে কা'ব ইবন মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবূ কাতাদা (রাঃ) তাহার নিকট আসিলেন। কাব্সা তাহার জন্য ওযুর পানি ঢালিতেছিলেন। এমন সময় একটি বিড়াল উহা হইতে পানি পান করার জন্য আসিল। আবূ কাতাদা পানির পাত্র ইহার জন্য কাত করিলেন, বিড়াল পানি পান করিল। কাবসা বলেনঃ তিনি আমাকে দেখিলেন আমি খুব বিস্ময়ের সহিত তাহার দিকে দেখিতেছি। তাই তিনি বলিলেনঃ হে ভাতিজী! তুমি কি আশ্চর্যবোধ করিতেছ? আমি (উত্তরে) বলিলামঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ বিড়াল নাপাক নহে, উহা তোমাদের আশেপাশে যাহারা অধিক ঘোরাফেরা করে, তাহাদের অন্তর্ভুক্ত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বিড়ালের মুখে নাজাসত (নাপাকী) না থাকিলে উহার মুখ (পাত্রে) দেওয়াতে কোন ক্ষতি নাই।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، خَرَجَ فِي رَكْبٍ فِيهِمْ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ حَتَّى وَرَدُوا حَوْضًا فَقَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ لِصَاحِبِ الْحَوْضِ يَا صَاحِبَ الْحَوْضِ هَلْ تَرِدُ حَوْضَكَ السِّبَاعُ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَا صَاحِبَ الْحَوْضِ لاَ تُخْبِرْنَا فَإِنَّا نَرِدُ عَلَى السِّبَاعِ وَتَرِدُ عَلَيْنَا .
রেওয়ায়ত ১৪. ইয়াহইয়া ইবন আবদুর রহমান ইবন হাতিব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এক কাফেলার সহিত বাহির হইলেন। কাফেলায় আমর ইবন আস (রাঃ)-ও শরীক ছিলেন। তাহারা একটি জলাধারের নিকট অবতরণ করিলেন। জলাধারের মালিককে আমর ইবন আস বলিলেনঃ হে জলাধারের মালিক! আপনার জলাধারে চতুষ্পদ জন্তু অবতরণ করে কি? উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) জলাধারের মালিককে বলিলেনঃ আপনি (এই বিষয়ে) আমাদিগকে খবর দিবেন না। কারণ আমরা চতুষ্পদ জন্তুসমূহের নিকট বিচরণ করি এবং তাহারাও আমাদের কাছে বিচরণ করে।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ إِنْ كَانَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَتَوَضَّئُونَ جَمِيعًا .
রেওয়ায়ত ১৫. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে নারী-পুরুষ একত্রে ওযু করিতেন।
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أُمِّ وَلَدٍ، لإِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهَا سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ أُطِيلُ ذَيْلِي وَأَمْشِي فِي الْمَكَانِ الْقَذِرِ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُطَهِّرُهُ مَا بَعْدَهُ " .
রেওয়ায়ত ১৬. ইবরাহীম ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রহঃ)-এর উম্মে-ওয়ালাদ (তাহার নাম হুমায়দা বলা হইয়াছে) হইতে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে-সালমা (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন, আমি একজন স্ত্রীলোক। আমি আমার কাপড়ের ঝুল লম্বা রাখি আর আমি কোন কোন সময় চলাফেরা করি আবর্জনাযুক্ত স্থান দিয়া। উম্মে সালমা (রাঃ) বলিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেনঃ কাপড়ের ঝুলকে আবর্জনাযুক্ত রাস্তার পরবর্তী স্থান পবিত্র করিয়া দিবে।
১৫
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ رَأَى رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ يَقْلِسُ مِرَارًا وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَلاَ يَنْصَرِفُ وَلاَ يَتَوَضَّأُ حَتَّى يُصَلِّيَ . قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ قَلَسَ طَعَامًا هَلْ عَلَيْهِ وُضُوءٌ فَقَالَ لَيْسَ عَلَيْهِ وُضُوءٌ وَلْيَتَمَضْمَضْ مِنْ ذَلِكَ وَلْيَغْسِلْ فَاهُ .
রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি রবী’আ ইবন আবদুর রহমানকে কয়েকবার উদর হইতে পানি বমি করিতে দেখিয়াছেন, তখন তিনি ছিলেন মসজিদে। তিনি অতঃপর নামায আদায় করা পর্যন্ত মসজিদ হইতে বাহিরেও যাইতেন না এবং ওযুও করিতেন না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইয়াছে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি খাদ্যবস্তু বমি করিয়াছে, তাহার জন্য ওযু ওয়াজিব হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ তাহার জন্য ওযু ওয়াজিব নহে, ইহার জন্য সে কুলি করিবে এবং তাহার মুখ ধুইবে।
১৬
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، حَنَّطَ ابْنًا لِسَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ وَحَمَلَهُ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِكٌ هَلْ فِي الْقَىْءِ وُضُوءٌ قَالَ لاَ وَلَكِنْ لِيَتَمَضْمَضْ مِنْ ذَلِكَ وَلْيَغْسِلْ فَاهُ وَلَيْسَ عَلَيْهِ وُضُوءٌ .
রেওয়ায়ত ১৮. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) সাঈদ ইবন যায়দ-এর এক (মৃত) পুত্রকে হানূত[1] লাগাইলেন এবং তাহার লাশ বহন করিলেন, অতঃপর ওযু না করিয়া মসজিদে প্রবেশ করিয়া তিনি নামায পড়িলেন। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ বমি করিলে ওযু করিতে হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ না। তবে ইহার জন্য কুলি করিবে এবং তাঁহার মুখ ধুইবে। তাহার উপর ওযু ওয়াজিব নহে।
১৭
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكَلَ كَتِفَ شَاةٍ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .
রেওয়ায়ত ১৯. আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাগের কাঁধের গোশত আহার করার পর ওযু না করিয়া নামায পড়িলেন।
১৮
মুয়াত্তা মালিক # ২/৪৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، مَوْلَى بَنِي حَارِثَةَ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ النُّعْمَانِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، خَرَجَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ خَيْبَرَ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالصَّهْبَاءِ - وَهِيَ مِنْ أَدْنَى خَيْبَرَ - نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَعَا بِالأَزْوَادِ فَلَمْ يُؤْتَ إِلاَّ بِالسَّوِيقِ فَأَمَرَ بِهِ فَثُرِّيَ فَأَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَكَلْنَا ثُمَّ قَامَ إِلَى الْمَغْرِبِ فَمَضْمَضَ وَمَضْمَضْنَا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .
রেওয়ায়ত ২০. সুওয়ায়দ ইবন নুমান (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে খায়বরের যুদ্ধের বৎসর বাহির হইলেন। যখন তাহার সাহ্বা (صهباء) নামক স্থানে পৌছিলেন- উহা খায়বরের ঢালু অংশে অবস্থিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তথায়) অবতরণ করিলেন, তারপর আসর নামায পড়িলেন। অতঃপর সফরে আহারের জন্য রাখা খাদ্যবস্তু এবং উহার পাত্রসমূহ আনিতে বলিলেন, তাহার নিকট ছাতু ছাড়া অন্য কিছু উপস্থিত করা হইল না। তিনি নির্দেশ দিলেন, উহা গুলান হইল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহার করিলেন, আমরাও আহার করিলাম। অতঃপর মাগরিবের নামাযের জন্য উঠিলেন এবং কুলি করিলেন, আমরাও কুলি করিলাম। তারপর তিনি নামায পড়িলেন, অথচ আর ওযু করিলেন না।
১৯
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهُدَيْرِ، أَنَّهُ تَعَشَّى مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .
রেওয়ায়ত ২১. রবী’আ ইবন আবদুল্লাহ্ ইবন হুদায়র (রহঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর সহিত সন্ধ্যাকালীন আহার করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন, আর ওযু করিলেন না।
২০
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، أَكَلَ خُبْزًا وَلَحْمًا ثُمَّ مَضْمَضَ وَغَسَلَ يَدَيْهِ وَمَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .
রেওয়ায়ত ২২. উসমান ইবন আফফান (রাঃ) রুটি-গোশত আহার করিলেন, তারপর কুলি করিলেন, উভয় হাত ধুইলেন এবং হস্তদ্বয় দ্বারা মুখমণ্ডল মসেহ করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন অথচ পুনরায় ওযু করিলেন না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি জানিতে পারিয়াছেন যে, আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) এবং আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) আগুনে জ্বাল দেওয়া খাদ্যবস্তু আহার করিয়া ওযু করিতেন না।
২১
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَا لاَ يَتَوَضَّآنِ مِمَّا مَسَّتِ النَّارُ .
ইয়াহিয়া আমার কাছে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শুনেছেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব এবং আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রান্না করা খাবার খেয়ে ওজু করতেন না।
২২
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنِ الرَّجُلِ، يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ يُصِيبُ طَعَامًا قَدْ مَسَّتْهُ النَّارُ أَيَتَوَضَأُ قَالَ رَأَيْتُ أَبِي يَفْعَلُ ذَلِكَ وَلاَ يَتَوَضَّأُ .
রেওয়ায়ত ২৩. ইয়াহইয়াহ্ ইবন সাঈদ (রহঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন আমির ইবন রবী'আ (রহঃ)-এর নিকট একটি প্রশ্ন করিলেন এমন এক লোক সম্পর্কে, যে নামাযের জন্য ওযু করিয়া আগুনে রন্ধন করা খাদ্যবস্তু আহার করিল, সে কি ওযু করিবে? তিনি বলিলেনঃ আমার পিতাকে দেখিয়াছি তিনি এইরূপ রাধা খাদ্য খাইতেন ও ওযু করিতেন না।
২৩
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫৪
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ، يَقُولُ رَأَيْتُ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ أَكَلَ لَحْمًا ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .
রেওয়ায়ত ২৪. আবূ নঈম ওহাব ইবন কায়সান (রহঃ) জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ আমি আবু বকর সিদীক (রাঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি গোশত খাইলেন, অতঃপর নামায পড়িলেন অথচ ওযু করিলেন না।
২৪
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دُعِيَ لِطَعَامٍ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ خُبْزٌ وَلَحْمٌ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَصَلَّى ثُمَّ أُتِيَ بِفَضْلِ ذَلِكَ الطَّعَامِ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ .
রেওয়ায়ত ২৫. মুহাম্মদ ইবন মুনকাদির হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (খানার জন্য) দাওয়াত করা হইল, তাহার সমীপে রুটি-গোশত পেশ করা হইল। তিনি উহা হইতে আহার করিলেন, তারপর অযু করিলেন ও নামায পড়িলেন। অতঃপর সেই খাদ্যের অবশিষ্ট তাহার নিকট আনা হইল। তিনি উহা হইতে আহার করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন, আর ওযু করিলেন না।
২৫
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَدِمَ مِنَ الْعِرَاقِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو طَلْحَةَ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ فَقَرَّبَ لَهُمَا طَعَامًا قَدْ مَسَّتْهُ النَّارُ فَأَكَلُوا مِنْهُ فَقَامَ أَنَسٌ فَتَوَضَّأَ فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ مَا هَذَا يَا أَنَسُ أَعِرَاقِيَّةٌ فَقَالَ أَنَسٌ لَيْتَنِي لَمْ أَفْعَلْ . وَقَامَ أَبُو طَلْحَةَ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ فَصَلَّيَا وَلَمْ يَتَوَضَّآ .
রেওয়ায়ত ২৬. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) ইরাক হইতে আগমন করিলেন। তাহার নিকট আবূ তালহা ও উবাই ইবন কা'ব (রাঃ) আগমন করিলেন। আগুনে রন্ধন করা হইয়াছে এরূপ খাদ্য তাহাদের উভয়ের নিকট পেশ করা হইল। সকলে উহা হইতে আহার করিলেন, অতঃপর আনাস (রাঃ) উঠিলেন এবং ওযু করিলেন। (ইহা দেখিয়া) আবূ তালহা ও উবাই ইবন কা'ব (রাঃ) বলিলেনঃ হে আনাস! ইহা কি? ইহা কি ইরাকী আমল? আনাস (রাঃ) বলিলেনঃ আমি যদি ইহা না করিতাম (তবে ভাল হইত)। আবু তালহা ও উবাই ইবন কা'ব (রাঃ) উঠিলেন এবং নামায পড়িলেন, তাহারা ওযু করিলেন না।
২৬
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ الاِسْتِطَابَةِ فَقَالَ " أَوَلاَ يَجِدُ أَحَدُكُمْ ثَلاَثَةَ أَحْجَارٍ " .
রেওয়ায়ত ২৭. উরওয়াহ্ ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইস্তিতাবা[1] সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করা হইল। তিনি বলিলেনঃ তোমাদের একজন কি তিনটি পাথরও পায় না (যদ্বারা সে পবিত্রতা লাভ করিতে সক্ষম হয়?)
২৭
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْمَقْبُرَةِ فَقَالَ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ وَدِدْتُ أَنِّي قَدْ رَأَيْتُ إِخْوَانَنَا " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَسْنَا بِإِخْوَانِكَ قَالَ " بَلْ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأْتُوا بَعْدُ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ يَأْتِي بَعْدَكَ مِنْ أُمَّتِكَ قَالَ " أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ لِرَجُلٍ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ فِي خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَهُ " . قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ وَأَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ فَلاَ يُذَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِي كَمَا يُذَادُ الْبَعِيرُ الضَّالُّ أُنَادِيهِمْ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ فَيُقَالُ إِنَّهُمْ قَدْ بَدَّلُوا بَعْدَكَ فَأَقُولُ فَسُحْقًا فَسُحْقًا فَسُحْقًا " .
রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত – রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদ) কবরস্থানের দিকে গমন করিলেন। তিনি সেখানে পৌছার পর বলিলেনঃ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ “তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। হে মু’মিন সম্প্রদায়ের বাসস্থানে (অর্থাৎ গোরস্তানে) বসবাসকারিগণ! আমরা তোমাদের সহিত মিলিত হইব, ইনশাআল্লাহ।” আমার আকাঙ্ক্ষা, যদি আমার ভাইদিগকে দেখিতাম! তাহারা বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার ভাই নই কি? তিনি বলিলেনঃ তোমরা আমার আসহাব, আমার ভাই তাহারা যাহারা এখনও (ইহজগতে) আসেন নাই। আমি তাহদের অগ্রদূত হইব হাওযের নিকট। তাহারা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার উম্মতের মধ্যে যাহারা আপনার পরে আগমন করিবে আপনি তাহাদের পরিচয় পাইবেন কিভাবে? তিনি বলিলেনঃ তোমরা আমাকে বল দেখি, যদি কোন ব্যক্তির কাছে পায়ে ও ললাটে সাদা চিহ্নযুক্ত ঘোড়া থাকে এবং সেগুলি গাঢ় কাল রং-এর ঘোড়ার সহিত একত্র থাকে, তবে সেই ব্যক্তি কি তাহার (সাদা চিহ্নযুক্ত) ঘোড়া চিনিতে পারবে না? তাহারা বলিলেনঃ হ্যা, ইয়া রাসূলাল্লাহ! চিনিতে পরিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমার উম্মতকে আমি চিনিতে পারিব। কারণ তাহারা ওযুর দরুন রোজ কিয়ামতে জ্যোতির্ময় চেহারা এবং জ্যোতির্ময় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়া উপস্থিত হইবে। আমি হাওযে তাহদের অগ্রদূত থাকিব। দলভ্রষ্ট উটকে যেরূপ তাড়াইয়া দেওয়া হয়, আমার হাওয হইতে কাহাকেও অদ্রুপ তাড়াইয়া দেওয়া হইলে আমি তাহাকে আহবান করিবঃ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ أَلاَ هَلُمَّ - ওহে (আমার নিকট) আস, (আমার নিকট) আস, (আমার নিকট) আস। তারপর আমাকে বলা হইবেঃ ইহারা (আপনার সুন্নতকে) আপনার পরে পরিবর্তন করিয়াছে। আমি বলিবঃ فَسُحْقًا فَسُحْقًا فَسُحْقًا -তবে দূর হও, দূর হও, দূর হও।
২৮
মুয়াত্তা মালিক # ২/৫৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حُمْرَانَ، مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، جَلَسَ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَجَاءَ الْمُؤَذِّنُ فَآذَنَهُ بِصَلاَةِ الْعَصْرِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ لأُحَدِّثَنَّكُمْ حَدِيثًا لَوْلاَ أَنَّهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنِ امْرِئٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلاَةَ إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلاَةِ الأُخْرَى حَتَّى يُصَلِّيَهَا " .
রেওয়ায়ত ২৯. হুমরান (রহঃ) (حُمْرَان) হইতে বর্ণিত, উসমান ইবন আফফান (রাঃ) (একদা) মাকাইদ (مَقَاعِد) বৈঠকখানায় বসিলেন। মুয়াযযিন আসিয়া তাহাকে আসরের নামাযের সংবাদ দিলেন। তিনি পানি আনাইলেন, তারপর ওযু করিলেন এবং বলিলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট একটি হাদীস বয়ান করিব। কিতাবুল্লাহর (কুরআনের) একটি আয়াত যদি না থাকিত তবে আমি তোমাদের নিকট হাদীস বয়ান করিতাম না। অতঃপর বললেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি ওযূ করে আর সে তাহার ওযূকে উত্তমরূপে সমাধা করার পর নামায আদায় করে, তার (পাপ) মার্জনা করা হবে অর্থাৎ পরবর্তী নামায সমাপ্ত করা পর্যন্ত অর্থাৎ পরবর্তী নামায আদায় করলেই এই মার্জনা পাওয়া যাবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমার ধারণা, উসমান (রাঃ) যেই আয়াতের কথা বলিয়াছেন তাহা এইঃ أَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِين সালাত কায়েম করবে দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রজনীর প্রথমাংশে। নিশ্চয় সৎকর্ম অসৎ কর্ম মিটাইয়া দেয়। (সূরা হুদঃ)
২৯
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ فَتَمَضْمَضَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ فِيهِ وَإِذَا اسْتَنْثَرَ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ أَنْفِهِ فَإِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ وَجْهِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَشْفَارِ عَيْنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ يَدَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ يَدَيْهِ فَإِذَا مَسَحَ بِرَأْسِهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رَأْسِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ أُذُنَيْهِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتِ الْخَطَايَا مِنْ رِجْلَيْهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِ رِجْلَيْهِ - قَالَ - ثُمَّ كَانَ مَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ وَصَلاَتُهُ نَافِلَةً لَهُ " .
রেওয়ায়ত ৩০. আবদুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মুমিন বান্দা যখন ওযু করে এবং কুলি করে, তাহার মুখ হইতে পাপসমূহ বাহির হইয়া যায়। সে যখন মুখমণ্ডল ধৌত করে তাহার মুখমণ্ডল হইতে তখন পাপসমূহ বাহির হইয়া যায়। এমনকি চক্ষুদ্বয়ের পালকের নিচ হইতেও গুনাহ বাহির হইয়া যায়। তারপর যখন সে তাহার উভয় হাত ধোয় তখন পাপসমূহ হস্তদ্বয় হইতে বাহির হইয়া যায়; এমনকি তাহার উভয় হাতের নখসমূহের নিচ হইতেও গুনাহ বাহির হইয়া যায়। অতঃপর যখন সে তাহার মাথা মসেহ করে তাহার পাপসমূহ তখন তাহার মাথা হইতে বাহির হইয়া যায়; এমনকি তাহার উভয় কান হইতেও বাহির হইয়া যায়। যখন সে তাহার উভয় পা ধোয় তখন পাপসমূহ তাহার উভয় পা হইতে বাহির হইয়া যায়; এমনকি তাহার উভয় পায়ের সকল নখের নিচ হইতেও গুনাহ বাহির হইয়া যায়। তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিয়াছেনঃ অতঃপর সেই ব্যক্তির মসজিদে গমন এবং নামায পড়া তাহার জন্য নফল (অতিরিক্ত সওযাবের বস্তু)-স্বরূপ হয়।
৩০
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ - أَوِ الْمُؤْمِنُ - فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَتْ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ - فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَتْ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلاَهُ مَعَ الْمَاءِ - أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ - حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ " .
রেওয়ায়ত ৩১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন মু'মিন বান্দা ওযু করে এবং তাহার মুখমণ্ডল ধোয় তখন তাহার মুখমণ্ডল হইতে সকল গুনাহ যাহা দেখার দরুন অর্জিত হইয়াছে, বাহির হইয়া যায়; পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ কাতরার (ফোঁটা) সঙ্গে অথবা (ইহার সমার্থবোধক) অনুরূপ কোন বাক্য। তারপর যখন সে তাহার উভয় হাত ধোয় তখন তাহার হস্তদ্বয় হইতে হস্তদ্বয় দ্বারা অর্জিত সকল পাপ বাহির হইয়া যায়। পানির সঙ্গে অথবা (বলিয়াছেন) পানির শেষ কাতরার সঙ্গে; এমনকি সে যাবতীয় পাপ হইতে পবিত্র হইয়া যায়।
৩১
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَانَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَالْتَمَسَ النَّاسُ وَضُوءًا فَلَمْ يَجِدُوهُ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِوَضُوءٍ فِي إِنَاءٍ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ الإِنَاءِ يَدَهُ ثُمَّ أَمَرَ النَّاسَ يَتَوَضَّئُونَ مِنْهُ - قَالَ أَنَسٌ - فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَنْبُعُ مِنْ تَحْتِ أَصَابِعِهِ فَتَوَضَّأَ النَّاسُ حَتَّى تَوَضَّئُوا مِنْ عِنْدِ آخِرِهِمْ .
রেওয়ায়ত ৩২. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন সময় দেখিলাম যখন আসরের নামাযের সময় নিকটবর্তী। লোকজন ওযুর জন্য পানি তালাশ করিলেন, কিন্তু তাহারা পানি পাইলেন না। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি পাত্রে কিছু পানি আনা হইল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত সেই পাত্রে রাখিলেন। তারপর লোকজনকে উহা হইতে ওযু করার নির্দেশ দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি হযরতের অঙ্গুলিসমূহের নিচ হইতে পানি নির্গত হইতে দেখিলাম, লোকজন ওযু করিলেন। এমনকি তাহাদের (দলের) সর্বশেষ ব্যক্তিও ওষু করিলেন।
৩২
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدَنِيِّ الْمُجْمِرِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ خَرَجَ عَامِدًا إِلَى الصَّلاَةِ فَإِنَّهُ فِي صَلاَةٍ مَادَامَ يَعْمِدُ إِلَى الصَّلاَةِ وَإِنَّهُ يُكْتَبُ لَهُ بِإِحْدَى خُطْوَتَيْهِ حَسَنَةٌ وَيُمْحَى عَنْهُ بِالأُخْرَى سَيِّئَةٌ فَإِذَا سَمِعَ أَحَدُكُمُ الإِقَامَةَ فَلاَ يَسْعَ فَإِنَّ أَعْظَمَكُمْ أَجْرًا أَبْعَدُكُمْ دَارًا . قَالُوا لِمَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ مِنْ أَجْلِ كَثْرَةِ الْخُطَا .
রেওয়ায়ত ৩৩. নুআয়ম ইবন আবদুল্লাহ মুজমির (রহঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে এবং তাহার ওযুকে উত্তমরূপে সম্পাদন করিয়াছে, অতঃপর নামাযের উদ্দেশ্যে বাহির হইয়াছে, সে নামাযে থাকিবে (সওয়াবের দিক দিয়া নামাযে বলিয়া গণ্য হইবে) যতক্ষণ নামাযের নিয়ত রাখিবে এবং তাহার জন্য প্রতিটি প্রথম পদ উত্তোলনে একটি করিয়া নেকী লেখা হইবে, আর প্রতিটি দ্বিতীয় পদ উত্তোলনের পরিবর্তে তাহার পাপ মোচন করিয়া দেওয়া হইবে। তাই তোমাদের কেউ ইকামত শুনিতে পাইলে দৌড়াইবে না, কারণ তোমাদের মধ্যে সেই লোকই বেশি সওয়াবের অধিকারী যাহার ঘর মসজিদ হইতে অধিক দূরে। শ্রোতারা বলিলেনঃ এইরূপ কেন, হে আবু হুরায়রা? তিনি বলিলেনঃ কদমের আধিক্যের কারণে।
৩৩
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يُسْأَلُ عَنِ الْوُضُوءِ، مِنَ الْغَائِطِ بِالْمَاءِ فَقَالَ سَعِيدٌ إِنَّمَا ذَلِكَ وُضُوءُ النِّسَاءِ .
রেওয়ায়ত ৩৪. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) শুনিয়াছেন যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল, মল-মূত্র ত্যাগের কারণে পানি দ্বারা ইস্তিন্জা (মল-মূত্র ত্যাগের পর বিশেষ স্থান ধৌত করা) করা সম্পর্কে। সাঈদ (রহঃ) বললেনঃ ইহা অবশ্য মেয়েদের ইস্তিন্জা।
৩৪
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ " .
রেওয়ায়ত ৩৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কাহারও পাত্র হইতে কুকুর আহার করিলে, তবে অবশ্যই উহাকে সাতবার ধুইবে।
৩৫
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْمَلُوا وَخَيْرُ أَعْمَالِكُمُ الصَّلاَةُ وَلاَ يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ إِلاَّ مُؤْمِنٌ " .
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট হাদীস পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যে শরীয়ত তোমাদের জন্য নির্ধারিত করা হইয়াছে উহার উপর তোমরা দৃঢ়তার সহিত থাক, পূর্ণ ইস্তিকামাত বা দৃঢ়তার সামর্থ্যও তো তোমাদের নাই। কাজ করিতে থাক। তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল নামায। মু'মিন ব্যতীত অন্য কেউ ওযুর যথাযোগ্য হিফাযত (ওযুতে যাহিরী ও বাতেনী পরিচ্ছন্নতা অর্জনের প্রতি লক্ষ্য রাখার নাম মুহাফিযাত) করে না।
৩৬
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَأْخُذُ الْمَاءَ بِأَصْبُعَيْهِ لأُذُنَيْهِ .
রেওয়ায়ত ৩৭. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার উভয় কানের জন্য দুই আঙুল দ্বারা পানি লইতেন।
৩৭
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬৮
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ، سُئِلَ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْعِمَامَةِ فَقَالَ لاَ حَتَّى يُمْسَحَ الشَّعْرُ بِالْمَاءِ .
রেওয়ায়ত ৩৮. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ আনসারী (রাঃ)-কে মসহ আলাল ইসাবাহ (পাগড়ির উপর হাত বুলাইয়া যাওয়া) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল। তিনি বলিলেনঃ না, (ইহা যথেষ্ট নহে) যতক্ষণ পানি দ্বারা চুল মসেহ করা না হয়।
৩৮
মুয়াত্তা মালিক # ২/৬৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانَ يَنْزِعُ الْعِمَامَةَ وَيَمْسَحُ رَأْسَهُ بِالْمَاءِ .
রেওয়ায়ত ৩৯. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) বলেনঃ আবু উরওয়াহ ইবন যুবাইর (রহঃ) পাগড়ি খুলিয়া ফেলিতেন এবং পানি দ্বারা মাথা মসেহ করিতেন।
৩৯
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّهُ رَأَى صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ امْرَأَةَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ تَنْزِعُ خِمَارَهَا وَتَمْسَحُ عَلَى رَأْسِهَا بِالْمَاءِ وَنَافِعٌ يَوْمَئِذٍ صَغِيرٌ . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْعِمَامَةِ وَالْخِمَارِ فَقَالَ لاَ يَنْبَغِي أَنْ يَمْسَحَ الرَّجُلُ وَلاَ الْمَرْأَةُ عَلَى عِمَامَةٍ وَلاَ خِمَارٍ وَلْيَمْسَحَا عَلَى رُءُوسِهِمَا . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ تَوَضَّأَ فَنَسِيَ أَنْ يَمْسَحَ عَلَى رَأْسِهِ حَتَّى جَفَّ وَضُوءُهُ قَالَ أَرَى أَنْ يَمْسَحَ بِرَأْسِهِ وَإِنْ كَانَ قَدْ صَلَّى أَنْ يُعِيدَ الصَّلاَةَ .
রেওয়ায়ত ৪০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যখন তিনি বালক তখন আবু উবায়দার কন্যা, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর স্ত্রী, সফিয়া (صفية)-কে তাহার ওড়না নামাইয়া পানি দ্বারা মসেহ করিতে তিনি দেখিয়াছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ পাগড়ি ও ওড়নার উপর মসেহ করা সম্পর্কে মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলে তিনি বলিলেনঃ কোন পুরুষ কোন নারীর পক্ষে (যথাক্রমে) পাগড়ি কিংবা ওড়নার উপর মসেহ করা জায়েয নহে। তাহারা উভয়েই তাহাদের মাথা মসেহ করিবে। মালিক (রহঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে কিন্তু মাথা মসেহ করিতে ভুলিয়া গিয়াছে, (এই অবস্থায়) তাহার ওযুর অঙ্গসমূহ শুকাইয়া গিয়াছে, এখন সে কি করিবে? তিনি উত্তরে বলিলেনঃ আমার মতে সে তাহার মাথা মসেহ করিবে। আর যদি সে (মসেহ ব্যতীত) ওযু দ্বারা নামায পড়িয়া থাকে তবে সে নামায পুনরায় পড়িবে।
৪০
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ زِيَادٍ، مِنْ وَلَدِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَهَبَ لِحَاجَتِهِ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ - قَالَ الْمُغِيرَةُ - فَذَهَبْتُ مَعَهُ بِمَاءٍ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَكَبْتُ عَلَيْهِ الْمَاءَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثُمَّ ذَهَبَ يُخْرِجُ يَدَيْهِ مِنْ كُمَّىْ جُبَّتِهِ فَلَمْ يَسْتَطِعْ مِنْ ضِيقِ كُمَّىِ الْجُبَّةِ فَأَخْرَجَهُمَا مِنْ تَحْتِ الْجُبَّةِ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يَؤُمُّهُمْ وَقَدْ صَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّكْعَةَ الَّتِي بَقِيَتْ عَلَيْهِمْ فَفَزِعَ النَّاسُ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَحْسَنْتُمْ " .
রেওয়ায়ত ৪১. মুগীরা ইবন শু’বা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্ৰস্ৰাব-পায়খানার প্রয়োজনে বাহিরে গেলেন। মুগীরা বলেন, আমি পানি লইয়া তাহার সঙ্গে গমন করিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহার প্রয়োজন পূর্ণ করিয়া) আসিলেন, আমি তাহার হস্তদ্বয়ের উপর পানি ঢালিলাম, তিনি তাহার মুখমণ্ডল ধুইলেন। তারপর তাহার হস্তদ্বয জুব্বার আস্তিন হইতে বাহির করিতে চেষ্টা করিলেন। জুব্বার আস্তিনের সংকীর্ণতার দরুন তিনি (বাহির করিতে) সক্ষম হইলেন না। তাই জুব্বার নিচ দিয়া উভয় হাত বাহির করিলেন, তারপর দুই হাত ধুইলেন, মাথা মসেহ করলেন এবং মোজার উপর মসেহ করিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তশরীফ আনিলেন, তখন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) (লোকের) ইমামতি করিতেছিলেন, তিনি এক রাকাত সমাপ্তও করিয়াছেন। যেই এক রাকাত তাঁহাদের অবশিষ্ট ছিল, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদের সহিত সেই রাকাত পড়িলেন। লোকজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিয়া (তাহার অনুপস্থিতিতে নামায আরম্ভ করায় বেআদবী হইয়াছে ভাবিয়া) ঘাবড়াইয়া গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার নামায সমাপ্ত করার পর বলিলেনঃ তোমরা ভাল করিয়াছ।
৪১
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَدِمَ الْكُوفَةَ عَلَى سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَهُوَ أَمِيرُهَا فَرَآهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ سَلْ أَبَاكَ إِذَا قَدِمْتَ عَلَيْهِ فَقَدِمَ عَبْدُ اللَّهِ فَنَسِيَ أَنْ يَسْأَلَ عُمَرَ عَنْ ذَلِكَ حَتَّى قَدِمَ سَعْدٌ فَقَالَ أَسَأَلْتَ أَبَاكَ فَقَالَ لاَ . فَسَأَلَهُ عَبْدُ اللَّهِ فَقَالَ عُمَرُ إِذَا أَدْخَلْتَ رِجْلَيْكَ فِي الْخُفَّيْنِ وَهُمَا طَاهِرَتَانِ فَامْسَحْ عَلَيْهِمَا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَإِنْ جَاءَ أَحَدُنَا مِنَ الْغَائِطِ فَقَالَ عُمَرُ نَعَمْ وَإِنْ جَاءَ أَحَدُكُمْ مِنَ الْغَائِطِ .
রেওয়ায়ত ৪২. সা'দ ইবন ওয়াক্কাস (রাঃ) যখন কূফার আমীর ছিলেন তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) কূফায় সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর নিকট আসিলেন এবং তাহাকে মোজার উপর মসেহ করিতে দেখিলেন। ইবন উমর (রাঃ) তাহার এই মসেহ-এর প্রতি অস্বীকৃতি জানাইলেন। সা'দ (রাঃ) তাঁহাকে বলিলেনঃ আপনার পিতার নিকট গেলে ইহা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিবেন। আবদুল্লাহ্ (রাঃ) (মদীনায়) আগমন করিলেন; কিন্তু তাহার পিতাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিতে ভুলিয়া গেলেন। সা'দ পরে (মদীনায়) আসিলেন এবং ইবন উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলেনঃ আপনার পিতার নিকট সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিয়াছেন কি? তিনি বলিলেনঃ না। অতঃপর আবদুল্লাহ (রাঃ) তাহার পিতাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করিলেন। উমর (রাঃ) উত্তরে বলিলেন; যদি মোজাদ্বয়ের মধ্যে তোমার উভয় পা পবিত্র অবস্থায় (ওযুর পরে) ঢুকাও তবে (পুনরায় ওযুর সময়) তুমি মোজার উপর মসেহ কর। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলিলেনঃ আমাদের এক ব্যক্তি পায়খানা-প্রস্রাব হইতে আসিলে তাহার জন্যও কি এই হুকুম? উমর (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, তোমাদের কেউ মলমূত্র ত্যাগ করিয়া আসিলে তাহার জন্যও এই হুকুম।
৪২
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، بَالَ فِي السُّوقِ ثُمَّ تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَمَسَحَ رَأْسَهُ ثُمَّ دُعِيَ لِجَنَازَةٍ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهَا حِينَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا .
রেওয়ায়ত ৪৩. নাফি’ হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বাজারে (প্রস্রাবের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে) প্রস্রাব করিলেন। তারপর অযু করিলেন এবং তাহার মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধুইলেন এবং মাথা মসেহ করিলেন। তারপর তিনি মসজিদে প্রবেশ করার পর তাহাকে জানাযার নামায পড়াইবার জন্য আহ্বান করা হইল, তিনি মোজার উপর মসেহ করিলেন, তারপর জানাযার নামায পড়িলেন।
৪৩
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رُقَيْشٍ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ أَتَى قُبَا فَبَالَ ثُمَّ أُتِيَ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَمَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ ثُمَّ جَاءَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى . قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ تَوَضَّأَ وُضُوءَ الصَّلاَةِ ثُمَّ لَبِسَ خُفَّيْهِ ثُمَّ بَالَ ثُمَّ نَزَعَهُمَا ثُمَّ رَدَّهُمَا فِي رِجْلَيْهِ أَيَسْتَأْنِفُ الْوُضُوءَ فَقَالَ لِيَنْزِعْ خُفَّيْهِ وَلْيَغْسِلْ رِجْلَيْهِ وَإِنَّمَا يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ مَنْ أَدْخَلَ رِجْلَيْهِ فِي الْخُفَّيْنِ وَهُمَا طَاهِرَتَانِ بِطُهْرِ الْوُضُوءِ وَأَمَّا مَنْ أَدْخَلَ رِجْلَيْهِ فِي الْخُفَّيْنِ وَهُمَا غَيْرُ طَاهِرَتَيْنِ بِطُهْرِ الْوُضُوءِ فَلاَ يَمْسَحْ عَلَى الْخُفَّيْنِ . قَالَ وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ تَوَضَّأَ وَعَلَيْهِ خُفَّاهُ فَسَهَا عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ حَتَّى جَفَّ وَضُوءُهُ وَصَلَّى قَالَ لِيَمْسَحْ عَلَى خُفَّيْهِ وَلْيُعِدِ الصَّلاَةَ وَلاَ يُعِيدُ الْوُضُوءَ . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ غَسَلَ قَدَمَيْهِ ثُمَّ لَبِسَ خُفَّيْهِ ثُمَّ اسْتَأْنَفَ الْوُضُوءَ فَقَالَ لِيَنْزِعْ خُفَّيْهِ ثُمَّ لْيَتَوَضَّأْ وَلْيَغْسِلْ رِجْلَيْهِ .
রেওয়ায়ত ৪৪. সাঈদ ইবন আবদুর রহমান ইবন রুকাইশ আশআরী (রহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি কোবা আসিলেন, তারপর প্রস্রাব করিলেন। অতঃপর তাহার নিকট পানি আনা হইলে তিনি ওযু করিলেন, মুখমণ্ডল ধুইলেন, হস্তদ্বয় ধুইলেন কনুই পর্যন্ত, মাথা মসেহ করিলেন, আর মোজার উপর মসেহ করিলেন, তারপর মসজিদে আসিলেন এবং নামায পড়িলেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে নামাযের ওযুর মত, অতঃপর তাহার মোজা পরিধান করিয়াছে। তারপর সে প্রস্রাব করিয়াছে। তারপর মোজা বাহির করিয়া লইয়াছে। অতঃপর মোজা উভয় পায়ে পরিধান করিয়াছে। সেই ব্যক্তি ওযু পুনরায় করিবে কি? তিনি বলিলেনঃ সে মোজা বাহির করিয়া লইবে। তারপর ওযু করিবে এবং উভয় পা ধুইবে। যে লোক উভয় পা মোজায় ওযুর মত পবিত্রাবস্থায় দাখিল করিয়াছে, সেই লোক মোজায় মসেহ করিতে পারবে। আর যে ওযুর মত পবিত্রাবস্থায় উভয় পা মোজায় দাখিল করে নাই সে মোজা মসেহ করিবে না। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক লোক সম্পর্কে, যে ব্যক্তি ওযু করিয়াছে তাহার পরিধানে মোজা থাকা অবস্থায়, কিন্তু সে মোজায় মসেহ করিতে তুলিয়া গিয়াছে। (এই অবস্থায়) তাহার ওযু (ওয়ূর অঙ্গসমূহ) শুকাইয়া গিয়াছে এবং সে নামায পড়িয়াছে। (তাহার হুকুম কি ) তিনি বলিলেনঃ সেই ব্যক্তি মোজার উপর মসেহ করিবে এবং নামায পুনরায় পড়িবে, ওযু পুনরায় করিতে হইবে না। মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক লোক সম্পর্কে, যে তাহার দুই পা (প্রথমে) ধুইয়াছে, তারপর মোজা পরিধান করিয়াছে, অতঃপর ওযু শুরু করিয়াছে। তিনি বলিলেনঃ সে মোজা খুলিয়া ফেলিবে, তারপর ওযু করিবে এবং (যথারীতি) উভয় পা ধুইবে।
৪৪
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّهُ رَأَى أَبَاهُ يَمْسَحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ قَالَ وَكَانَ لاَ يَزِيدُ إِذَا مَسَحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ عَلَى أَنْ يَمْسَحَ ظُهُورَهُمَا وَلاَ يَمْسَحُ بُطُونَهُمَا .
ইয়াহিয়া আমার কাছে মালিক থেকে হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি তার পিতাকে তার চামড়ার মোজার উপর মুছতে দেখেছেন। তিনি বললেন, "যখন তিনি তার মোজার উপর দিয়ে মুছাতেন, তিনি কখনই উপরের অংশগুলি মুছতেন না এবং তিনি নীচের অংশগুলি মুছতেন না।
৪৫
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ كَيْفَ هُوَ فَأَدْخَلَ ابْنُ شِهَابٍ إِحْدَى يَدَيْهِ تَحْتَ الْخُفِّ وَالأُخْرَى فَوْقَهُ ثُمَّ أَمَرَّهُمَا . قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ وَقَوْلُ ابْنِ شِهَابٍ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ فِي ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ৪৫. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি তাহার পিতাকে মোজার উপর মসেহ করিতে দেখিয়াছেন। তিনি মোজা মসেহ করার সময় ইহার অতিরিক্ত কিছু করিতেন না; মোজার উপরের অংশে মসেহ করিতেন, তলদেশ মসেহ করিতেন না। মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেনঃ মোজা মসেহ কিরূপে সম্পাদন করিতে হয়? ইবন শিহাব তাহার এক হাত মোজার নিচে দাখিল করিলেন এবং অপর হাত মোজার উপর স্থাপন করিলেন। অতঃপর উভয় হাত মসেহ-এর জন্য চালিত করিলেন। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ মোজা মসেহ-এর ব্যাপারে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইবন শিহাবের মতামত আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।
৪৬
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا رَعَفَ انْصَرَفَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ رَجَعَ فَبَنَى وَلَمْ يَتَكَلَّمْ .
রেওয়ায়ত ৪৬. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যখন আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর নাক দিয়া রক্ত বাহির হইত, তখন নামায হইতে তিনি ফিরিয়া যাইতেন। অতঃপর ওযু করিতেন এবং পুনরায় আসিয়া অবশিষ্ট নামায পড়িতেন, আর তিনি (এই অবস্থায়) কথা বলিতেন না।
৪৭
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَ يَرْعُفُ فَيَخْرُجُ فَيَغْسِلُ الدَّمَ عَنْهُ ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَبْنِي عَلَى مَا قَدْ صَلَّى .
রেওয়ায়ত ৪৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নাক দিয়া রক্ত নির্গত হইলে তিনি বাহির হইতেন এবং রক্ত পরিষ্কার করিতেন, তারপর প্রত্যাবর্তন করিয়া নামায যতটুকু পড়িয়াছেন উহার (উপর ভিত্তি করিয়া) অবশিষ্ট নামায পড়িতেন।
৪৮
মুয়াত্তা মালিক # ২/৭৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّهُ رَأَى سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ رَعَفَ وَهُوَ يُصَلِّي فَأَتَى حُجْرَةَ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأُتِيَ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ رَجَعَ فَبَنَى عَلَى مَا قَدْ صَلَّى .
রেওয়ায়ত ৪৮. ইয়াযিদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন কুসাইত লাইসী (রহঃ) বলেনঃ তিনি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে দেখিয়াছেন, তিনি যখন নামায পড়িতেছিলেন তখন তাহার নাক দিয়া রক্ত বাহির হইল তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী উম্মু সালমার হুজরায় আসিলেন। তাহার জন্য পানি আনা হইল, তিনি ওযু করিলেন, তারপর প্রত্যাবর্তন করিলেন এবং নামায যতটুকু বাকি ছিল তাহা আদায় করিলেন।
৪৯
মুয়াত্তা মালিক # ২/৮০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الأَسْلَمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ سَعِيدَ
ইয়াহিয়া আমাকে বর্ণনা করেছেন যে আবদ আর-রহমান ইবনে হারমালা আল-আসলামী বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাবকে দেখেছি তার নাক থেকে রক্ত ঝরছিল এবং তার নাক থেকে রক্ত বের হওয়ার কারণে তার আঙ্গুলগুলো লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি ওযু না করেই সালাত আদায় করেছিলেন।
৫০
মুয়াত্তা মালিক # ২/৮১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمُجَبَّرِ، أَنَّهُ رَأَى سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَخْرُجُ مِنْ أَنْفِهِ الدَّمُ حَتَّى تَخْتَضِبَ أَصَابِعُهُ ثُمَّ يَفْتِلُهُ ثُمَّ يُصَلِّي وَلاَ يَتَوَضَّأُ .
রেওয়ায়ত ৫০. আবদুর রহমান ইবন মুজাব্বার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ)-কে দেখিয়াছেন, তাহার নাক হইতে রক্ত প্রবাহিত হইতেছে, এমনকি (সেই রক্তে) তাহার আঙুলসমূহ রঞ্জিত হইয়া গিয়াছে। অতঃপর তিনি নাক মোচড়াইলেন, তারপর নামায পড়িলেন, অথচ ওযু করিলেন না।