হুদূদ
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০০
حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَتِ الْيَهُودُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرُوا لَهُ أَنَّ رَجُلاً مِنْهُمْ وَامْرَأَةً زَنَيَا فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأْنِ الرَّجْمِ " . فَقَالُوا نَفْضَحُهُمْ وَيُجْلَدُونَ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ كَذَبْتُمْ إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ . فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا فَوَضَعَ أَحَدُهُمْ يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ ثُمَّ قَرَأَ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ ارْفَعْ يَدَكَ فَرَفَعَ يَدَهُ فَإِذَا فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ فَقَالُوا صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ . فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَا . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يَحْنِي عَلَى الْمَرْأَةِ يَقِيهَا الْحِجَارَةَ .
রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, ইহুদীদের একদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিল, তাহাদের একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোক ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করিলেন : রজম বা প্রস্তরাঘাতের ব্যাপারে তাওরাতে কি আদেশ রহিয়াছে? তাহারা বলিলঃ আমরা ব্যভিচারকারীকে লজ্জিত করি এবং বেত্ৰাঘাত করিয়া থাকি। আবদুল্লাহ ইবন সালাম বলিলেন, তোমরা মিথ্যা বলিতেছ। তাওরাতে প্রস্তরাঘাতের শাস্তি রহিয়াছে। তাওরাত আনয়ন কর, উহা পড়িয়া দেখ। অতঃপর তাহারা তাওরাত খুলিল এক ব্যক্তি বেত্রাঘাতের উপর হাত রাখিয়া পূর্বাপর অবশিষ্ট আয়াত পড়িয়া শুনাইল। আবদুল্লাহ ইবন সালাম তাহাকে বলিলঃ তোমার হাত উঠাও তো। সে তাহার হাত উঠাইলে দেখা গেল উহাতে প্রস্তরাঘাতের আয়াত রহিয়াছে। অতঃপর সকল ইহুদীই স্বীকার করিল যে, আবদুল্লাহ ইবন সালাম ঠিকই বলিয়াছে তাওরাতে প্রস্তাঘাতের আয়াত বিদ্যমান রহিয়াছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয়কে প্রস্তরাঘাতের আদেশ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশে উভয়কে প্রস্তরাঘাত করা হইল। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ আমি দেখিলাম, পুরুষটি ঐ নারীকে আঘাত হইতে রক্ষা করিতে তাহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল অর্থ পুরুষ নিজে প্রস্তরাঘাত সহ্য করিয়াও ঐ নারীকে প্রস্তরাঘাত হইতে রক্ষা করিতে যাইয়া তাহার উপর উপুড় হইয়া পড়িয়ছিল।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০১
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَسْلَمَ جَاءَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَقَالَ لَهُ إِنَّ الأَخِرَ زَنَا . فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ هَلْ ذَكَرْتَ هَذَا لأَحَدٍ غَيْرِي فَقَالَ لاَ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ فَتُبْ إِلَى اللَّهِ وَاسْتَتِرْ بِسِتْرِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ . فَلَمْ تُقْرِرْهُ نَفْسُهُ حَتَّى أَتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لأَبِي بَكْرٍ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ مِثْلَ مَا قَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ تُقْرِرْهُ نَفْسُهُ حَتَّى جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ إِنَّ الأَخِرَ زَنَا فَقَالَ سَعِيدٌ فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا أَكْثَرَ عَلَيْهِ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَهْلِهِ فَقَالَ " أَيَشْتَكِي أَمْ بِهِ جِنَّةٌ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَصَحِيحٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبِكْرٌ أَمْ ثَيِّبٌ " . فَقَالُوا بَلْ ثَيِّبٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَ .
রেওয়ায়ত ২. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রহঃ) বলেন, আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, এই অধম ব্যক্তি[1] ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে। আবু বকর (রাঃ) তাহাকে বলিলেন, আমাকে ব্যতীত অন্য কাহারও নিকট ইহা প্রকাশ কর নাই তো? সে ব্যক্তি বলিলঃ না। তিনি বলিলেনঃ আল্লাহর নিকট তওবা কর আর আল্লাহর পর্দার আড়ালে লুকাইয়া থাক। কেননা আল্লাহ তা’আলা স্বীয় বান্দাদের তওবা গ্রহণ করিয়া থাকেন। কিন্তু ইহাতে তাহার প্রবোধ হইল না। সে অতঃপর উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইল এবং আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট যেরূপ বর্ণনা করিয়াছিল তদ্রুপ বর্ণনা করিল। উমরও তাহাকে ঐরপই বলিলেন, যেরূপ আবু বকর (রাঃ) বলিয়াছিলেন। ইহাতেও তাহার মনে প্রবোধ মানিল না। অগত্যা সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট আসিয়া বলিলঃ এই হতভাগা ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে। সাঈদ বলেনঃ ইহা শ্রবণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা হইতে মুখ ফিরাইয়া লইলেন। সে ব্যক্তি তাহার নিকট তিনবার এইরূপ বলিল। তিনবারই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহা হইতে মুখ ফিরাইয়া লইলেন। অতঃপর যখন সে বলিতেই থাকিল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার পরিবারের নিকট লোক পাঠাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন : এ ব্যক্তি কি রোগাক্রান্ত? এ ব্যক্তি উন্মাদ তো হইয়া যায় নাই? তাহারা বলিলেনঃ এই ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ রহিয়াছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, তাহার বিবাহ হইয়াছে কি? রাবী বলেন, উপস্থিত লোকগণ বলিলঃ তাহার বিবাহ হইয়াছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। অতঃপর তাহার সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তরাঘাতের আদেশ করিলে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০২
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ يُقَالُ لَهُ هَزَّالٌ " يَا هَزَّالُ لَوْ سَتَرْتَهُ بِرِدَائِكَ لَكَانَ خَيْرًا لَكَ " . قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ فِي مَجْلِسٍ فِيهِ يَزِيدُ بْنُ نُعَيْمِ بْنِ هَزَّالٍ الأَسْلَمِيِّ فَقَالَ يَزِيدُ هَزَّالٌ جَدِّي وَهَذَا الْحَدِيثُ حَقٌّ .
রেওয়ায়ত ৩. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে যাহার নাম হাযযাল ছিল, বলিলেন, “হে হাযযাল, যদি তুমি ঐ খবরটি (মাইয়ের ব্যভিচারের খবর) গোপন রাখিতে তাহা হইলে উহা তোমার জন্য ভালই হইত।” ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ (রহঃ) বলেনঃ আমি এক সময় এক সভাস্থলে এই ঘটনা বর্ণনা করিলাম। তথায় ইয়াযীদ ইবনে নুয়াইম ইবনে হাযযালও উপস্থিত ছিল। তখন ইয়াযীদ বলিলঃ হাযযাল আমার পিতামহ ছিলেন। এই হাদীস সত্য।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০৩
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ . أَنَّ رَجُلاً اعْتَرَفَ عَلَى نَفْسِهِ بِالزِّنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَشَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَمِنْ أَجْلِ ذَلِكَ يُؤْخَذُ الرَّجُلُ بِاعْتِرَافِهِ عَلَى نَفْسِهِ
রেওয়ায়ত ৪. ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময়ে এক ব্যক্তি নিজে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কথা চারিবার স্বীকার করিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আদেশে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল। ইবনে শিহাব বলেনঃ এজন্যই কোন ব্যক্তি নিজ অপরাধ করিলে উহা দ্বারা তাহার শাস্তি হইয়া থাকে।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০৪
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ زَيْدِ بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، زَيْدِ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا زَنَتْ وَهِيَ حَامِلٌ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اذْهَبِي حَتَّى تَضَعِي " . فَلَمَّا وَضَعَتْ جَاءَتْهُ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اذْهَبِي حَتَّى تُرْضِعِيهِ " . فَلَمَّا أَرْضَعَتْهُ جَاءَتْهُ فَقَالَ " اذْهَبِي فَاسْتَوْدِعِيهِ " . قَالَ فَاسْتَوْدَعَتْهُ ثُمَّ جَاءَتْ فَأَمَرَ بِهَا فَرُجِمَتْ .
রেওয়ায়ত ৫. আবদুল্লাহ ইবনে আবী মুলাইকা (রহঃ) বলেনঃ এক স্ত্রীলোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হইয়া ব্যভিচারের কথা স্বীকার করিল। সে মহিলা তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ তোমার সন্তান প্রসবের পর আসিও। অতঃপর ঐ স্ত্রীলোকটি প্রসবের পর আসিল। এবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ এখন যাও, সন্তানের দুধ ছাড়া হলে আসিও। সন্তানের দুধ ছাড়ানোর পর ঐ মহিলাটি আবার আসিল। এবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেন, যাও, এই সন্তানকে কাহারও তত্ত্বাবধানে রাখিয়া আস। সে তাহাকে কাহারও তত্ত্বাবধানে রাখিয়া আসিল। অতঃপর তাহার আদেশে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০৫
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحَدُهُمَا يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَقَالَ الآخَرُ وَهُوَ أَفْقَهُهُمَا أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَائْذَنْ لِي أَنْ أَتَكَلَّمَ . قَالَ " تَكَلَّمْ " . فَقَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَا بِامْرَأَتِهِ فَأَخْبَرَنِي أَنَّ عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَبِجَارِيَةٍ لِي ثُمَّ إِنِّي سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ مَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا الرَّجْمُ عَلَى امْرَأَتِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ " أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ أَمَّا غَنَمُكَ وَجَارِيَتُكَ فَرَدٌّ عَلَيْكَ " . وَجَلَدَ ابْنَهُ مِائَةً وَغَرَّبَهُ عَامًا وَأَمَرَ أُنَيْسًا الأَسْلَمِيَّ أَنْ يَأْتِيَ امْرَأَةَ الآخَرِ فَإِنِ اعْتَرَفَتْ رَجَمَهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا .
রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) ও খালিদ জুহানী (রাঃ) বলেনঃ দুই ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া হইয়া তাহারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হইল। তাহাদের একজন বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ আল্লাহর কিতাবের আইন অনুসারে আমাদের মীমাংসা করিয়া দিন। দ্বিতীয় ব্যক্তি খুব চতুর ছিল, বলিতে লাগিল : ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আল্লাহর কিতাব অনুসারে মীমাংসা করুন এবং আমাকে কথা বলিতে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি কি বলিতে চাও বল। সে বলিলঃ আমার ছেলে এই ব্যক্তির এখানে চাকর ছিল। সে এ ব্যক্তির স্ত্রীর সহিত ব্যভিচার করিয়াছে। অনেকে বলিলঃ তোমার ছেলেকে প্রস্তরাঘাত করা হইবে। আমি তাহার পক্ষ হইতে একশত বকরী এবং একটি দাসী ক্ষতিপূরণ হিসাবে দান করিলাম। অতঃপর আমি আলিমদের নিকট জিজ্ঞাসা করিলাম। তাহারা বলিলেনঃ তোমার ছেলেকে একশত বেত্ৰাঘাত করা হইবে এবং এ বৎসরের জন্য নির্বাসন দেওয়া হইবে। আর তাহার স্ত্রীকে প্রস্তরাঘাত করা হইবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আল্লাহর কিতাব অনুসারেই আমি তোমাদের ফয়সালা করিব। তোমার বকরী ও দাসী তুমি ফেরত লইয়া যাও। ইহা তোমার মাল। অতঃপর তাহার ছেলেকে একশত বেত্ৰাঘাত লাগান হইল আর এক বৎসরের জন্য দেশ ত্যাগের আদেশ দিলেন এবং আনীস আসলামীকে দ্বিতীয় ব্যক্তির স্ত্রীকে হাযির করিতে নির্দেশ দেওয়া হইল। সেই স্ত্রীলোক অপরাধ স্বীকার করিলে তাহাকে প্রস্তারাঘাত করিতে বলা হইল। স্ত্রীলোকটি অপরাধ স্বীকার করায় তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত হাদীসে যে ‘আসীফ' (العسيف) শব্দ রহিয়াছে, উহার অর্থ ভৃত্য।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০৬
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَأَيْتَ لَوْ أَنِّي وَجَدْتُ مَعَ امْرَأَتِي رَجُلاً أَأُمْهِلُهُ حَتَّى آتِيَ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " .
রেওয়ায়ত ৭. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, সা’দ ইবন উবাদা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমি আমার স্ত্রীর নিকট কোন ব্যক্তিকে পাই, তবে কি চারজন সাক্ষী আনা পর্যন্ত তাহাকে সময় দিব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হ্যাঁ। সা'দ বলিলেনঃ আমি ঐ আল্লাহর শপথ করিয়া বলিতেছি, যিনি আপনাকে নবী করিয়া পাঠাইয়াছেন, আমি তো তাহাকে দেখামাত্র তলোয়ার দ্বারা দ্বিখণ্ডিত করিয়া ফেলিব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে আনসারগণ, তোমাদের নেতা কি বলিতেছে শোন, সে তাহাকে বড় আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মনে করে। আমি তো তাহা অপেক্ষা আত্মমর্যাদাসম্পন্ন আর আল্লাহ তা’আলা আমা অপেক্ষা অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০৭
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ الرَّجْمُ فِي كِتَابِ اللَّهِ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ إِذَا أُحْصِنَ إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ الْحَبَلُ أَوْ الاِعْتِرَافُ .
রেওয়ায়ত ৮. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, আল্লাহর কিতাবে প্রস্তরাঘাতের যে বিধান রহিয়াছে উহা বাস্তব সত্য। যে ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় সে পুরুষ হউক অথবা নারী যদি বিবাহিত হয় আর চারজন সাক্ষী পাওয়া যায় অথবা তাহার পেটে বাচ্চা হয় বা স্বীকার করে, তবে প্রস্তরাঘাত করা হইবে।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০৮
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، أَتَاهُ رَجُلٌ وَهُوَ بِالشَّامِ فَذَكَرَ لَهُ أَنَّهُ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً فَبَعَثَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَبَا وَاقِدٍ اللَّيْثِيَّ إِلَى امْرَأَتِهِ يَسْأَلُهَا عَنْ ذَلِكَ فَأَتَاهَا وَعِنْدَهَا نِسْوَةٌ حَوْلَهَا فَذَكَرَ لَهَا الَّذِي قَالَ زَوْجُهَا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَأَخْبَرَهَا أَنَّهَا لاَ تُؤْخَذُ بِقَوْلِهِ وَجَعَلَ يُلَقِّنُهَا أَشْبَاهَ ذَلِكَ لِتَنْزِعَ فَأَبَتْ أَنْ تَنْزِعَ وَتَمَّتْ عَلَى الاِعْتِرَافِ فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ فَرُجِمَتْ .
রেওয়ায়ত ৯. আবু ওয়াকিদ পাঠনী (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) যখন সিরিয়ায় ছিলেন এক ব্যক্তি তাহাকে বলিলঃ আমি আমার স্ত্রীর নিকট এক ব্যক্তিকে পাইলাম। উমর (রাঃ) আবু ওয়াকিদ লাইসীকে ঐ স্ত্রীলোকটির নিকট জিজ্ঞাসা করিতে পাঠাইলেন। আবু ওয়াকিদ তাহার নিকট যাইয়া দেখিলেন আরও কয়েকজন নারী বসিয়া আছে। আবু ওয়াকিদ স্ত্রীলোকটির নিকট তাহার স্বামী উমর (রাঃ)-এর নিকট যাহা বর্ণনা করিয়াছে তাহা বলিলেন। তিনি ইহাও বলিলেনঃ তোমার স্বামীর কথায় তোমাকে শাস্তি দেওয়া হইবে না, যদি না তুমি স্বীকার কর। অতঃপর আরও এই জাতীয় নানা কথা তাহাকে শিখাইতে লাগিলেন, যাহাতে সে স্বীকার না করে। কিন্তু সে ইহা মানিল না, বরং ব্যভিচারের কথা স্বীকার করিল। অতঃপর উমর (রাঃ)-এর আদেশে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইল।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫০৯
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ لَمَّا صَدَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مِنْ مِنًى أَنَاخَ بِالأَبْطَحِ ثُمَّ كَوَّمَ كَوْمَةً بَطْحَاءَ ثُمَّ طَرَحَ عَلَيْهَا رِدَاءَهُ وَاسْتَلْقَى ثُمَّ مَدَّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ اللَّهُمَّ كَبِرَتْ سِنِّي وَضَعُفَتْ قُوَّتِي وَانْتَشَرَتْ رَعِيَّتِي . فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مُضَيِّعٍ وَلاَ مُفَرِّطٍ . ثُمَّ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ سُنَّتْ لَكُمُ السُّنَنُ وَفُرِضَتْ لَكُمُ الْفَرَائِضُ وَتُرِكْتُمْ عَلَى الْوَاضِحَةِ إِلاَّ أَنْ تَضِلُّوا بِالنَّاسِ يَمِينًا وَشِمَالاً وَضَرَبَ بِإِحْدَى يَدَيْهِ عَلَى الأُخْرَى ثُمَّ قَالَ إِيَّاكُمْ أَنْ تَهْلِكُوا عَنْ آيَةِ الرَّجْمِ أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ لاَ نَجِدُ حَدَّيْنِ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَقَدْ رَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمْنَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْلاَ أَنْ يَقُولَ النَّاسُ زَادَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى . لَكَتَبْتُهَا الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ . فَإِنَّا قَدْ قَرَأْنَاهَا . قَالَ مَالِكٌ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ فَمَا انْسَلَخَ ذُو الْحِجَّةِ حَتَّى قُتِلَ عُمَرُ رَحِمَهُ اللَّهُ . قَالَ يَحْيَى سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ قَوْلُهُ الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ يَعْنِي الثَّيِّبَ وَالثَّيِّبَةَ فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ . حَدَّثَنِي مَالِكٌ أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنِ الَّذِي يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ عَلَيْهِ الرَّجْمُ أَحْصَنَ أَوْ لَمْ يُحْصِنْ .
রেওয়ায়ত ১০. সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বর্ণনা করেন, উমর (রাঃ) যখন মিনা হইতে প্রত্যাবর্তন (২৩ হিজরী) করিলেন তখন তিনি (মক্কার অনতিদূরে) আবতাহ নাম স্থানে তাহার উট বসাইলেন। আর এদিকে কতকগুলি পাথর একত্র করিলেন। উহার উপর একখানা চাদর রাখিয়া চিৎ হইয়া শুইয়া পড়িলেন। অতঃপর আকাশের দিকে স্বীয় হস্তদ্বয় উত্তোলন করিয়া বলিতে লাগিলেনঃ হে আল্লাহ! আমার অনেক বয়স হইয়াছে। শক্তি রহিত হইয়া গিয়াছে, প্রজাবৃন্দ অনেক হইয়া গিয়াছে। এ সময় আপনি আমাকে আপনার সন্নিধানে ডাকিয়া লউন, যাহাতে আমা দ্বারা আপনার কোন আদেশ অমান্য না হইয়া যায় এবং আপনার ইবাদতে অনিচ্ছা প্রকাশ হইয়া পড়ে। অতঃপর তিনি মদীনা চলিয়া গেলেন, মদীনার লোকদের সম্মুখে খুতবা দিতে যাইয়া বলিলেনঃ হে উপস্থিত ভ্রাতৃবৃন্দ তোমাদের সম্মুখে সমস্ত পথই প্রকাশ হইয়া পড়িয়াছে; যত রকম ফরয কাজ ছিল সমস্তই নির্ধারিত হইয়া গিয়াছে। তোমরা পরিষ্কার সোজা পথে চালিত হইয়াছ। এখন তোমরা পথ ভুলিয়া যেন এদিক-ওদিক বিপথগামী না হইয়া যাও। তিনি তাহার এক হাত অন্য হাতের উপর রাখিয়া বলিলেনঃ দেখ, তোমরা প্রস্তরাঘাতের আয়াতটি ভুলিয়া যাইও না। কেহ যেন না বলে, আমরা আল্লাহর কিতাবে প্রস্তরাঘাতের আয়াত দেখিতেছি না। দেখ আল্লাহর রাসূল প্রস্তরাঘাত করিয়াছেন। ঐ আল্লাহর কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ রহিয়াছে, যদি মানুষ এ কথা না বলিত যে, উমর আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্ত করিয়াছে তাহা হইলে আমি (الشَّيْخُ وَالشَّيْخَةُ فَارْجُمُوهُمَا الْبَتَّةَ) (অর্থাৎ যখন বিবাহিত পুরুষ অথবা নারী ব্যভিচার করে তবে তাহদেরকে প্রস্তরাঘাত কর) আয়াতটি কুরআনে লিখাইয়া দিতাম। আমরা এই আয়াত পাঠ করিয়াছি। অতঃপর উহার তিলাওয়াত রহিত হইয়া গিয়াছে (কিন্তু ইহার হুকুম কিয়ামত পর্যন্ত থাকিবে)। সাঈদ বলেন, অতঃপর যিলহজ্জ মাস শেষ না হইতেই উমর (রাঃ) নিহত হইলেন।
১১
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১০
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، أُتِيَ بِامْرَأَةٍ قَدْ وَلَدَتْ فِي سِتَّةِ أَشْهُرٍ فَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُرْجَمَ فَقَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ لَيْسَ ذَلِكَ عَلَيْهَا إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ {وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلاَثُونَ شَهْرًا} وَقَالَ {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلاَدَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ} فَالْحَمْلُ يَكُونُ سِتَّةَ أَشْهُرٍ فَلاَ رَجْمَ عَلَيْهَا . فَبَعَثَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فِي أَثَرِهَا فَوَجَدَهَا قَدْ رُجِمَتْ .
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, উসমান (রাঃ)-এর নিকট একটি স্ত্রীলোককে আনা হইয়াছিল, ছয় মাসেই যাহার সন্তান প্রসব হইয়াছে। উসমান (রাঃ) তাহাকে প্রস্তরাঘাত করার আদেশ দিয়া দিলেন। আলী (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ তাহার উপর প্রস্তরাঘাত করা যাইবে না। কেননা আল্লাহ তা'আলা (وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلاَثُونَ شَهْرًا) “সন্তানের মাতৃগর্ভে অবস্থান এবং মাতৃস্তন ছাড়াইবার সময় ৩০ মাস।” অন্য আয়াতে বলা হইয়াছেঃ “মা তাহার সন্তানকে পূর্ণ দুই বৎসর দুধ দান করিবে। (অতএব ৩০ মাস হইতে ২৪ মাস বাদ দিলে ৬ মাস থাকে) তাহা হইলে সন্তানের মাতৃউদরে অবস্থানকাল ৬ মাস হইল। অতএব তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা যাইতে পারে না। ইহা শুনিয়া উসমান (রাঃ) তাহার নিকট লোক পাঠাইয়া দিলেন। তাহারা যাইয়া দেখিল, ততক্ষণে তাহাকে প্রস্তরাঘাত করা হইয়াছে। আলী (রাঃ)-এর এই ইজতিহাদ দ্বারা সন্তানের মাতৃউদরে অবস্থান সর্বদা ছয় মাস অনিবার্য হইয়া পড়ে, অথচ তাহা হইল সর্বনিম্ন সময়, বরং এই আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, পৌনে দুই বৎসর স্তন দানের এবং নয় মাস উদরে অবস্থানের সময় যে উহা পূর্ণ করিতে চায়। কেননা স্তন দান দুই বৎসরের অতিরিক্ত হওয়া প্রমাণিত নহে। মালিক (রহঃ) ইবন শিহাবকে জিজ্ঞাসা করিলেন, পুং মৈথুন করিলে তাহার শাস্তি কি? তিনি বলিলেন, তাহাকেও প্রস্তরাঘাত করিতে হইবে, সে বিবাহিত হউক বা অবিবাহিত।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১১
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ رَجُلاً، اعْتَرَفَ عَلَى نَفْسِهِ بِالزِّنَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَوْطٍ فَأُتِيَ بِسَوْطٍ مَكْسُورٍ فَقَالَ " فَوْقَ هَذَا " . فَأُتِيَ بِسَوْطٍ جَدِيدٍ لَمْ تُقْطَعْ ثَمَرَتُهُ فَقَالَ " دُونَ هَذَا " . فَأُتِيَ بِسَوْطٍ قَدْ رُكِبَ بِهِ وَلاَنَ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجُلِدَ ثُمَّ قَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ آنَ لَكُمْ أَنْ تَنْتَهُوا عَنْ حُدُودِ اللَّهِ مَنْ أَصَابَ مِنْ هَذِهِ الْقَاذُورَاتِ شَيْئًا فَلْيَسْتَتِرْ بِسِتْرِ اللَّهِ فَإِنَّهُ مَنْ يُبْدِي لَنَا صَفْحَتَهُ نُقِمْ عَلَيْهِ كِتَابَ اللَّهِ " .
রেওয়ায়ত ১২. যায়দ ইবন আসলাম (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময়ে এক ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়াছে বলিয়া স্বীকার করিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার জন্য একটি বেত্র আনাইতে চাহিলে তাহার নিকট একটি নূতন বেত্র আনা হইল যাহার মাথা এখনও কাটা হয় নাই। তিনি বলিলেনঃ ইহা হইতে নরম একটি লও। অতঃপর একটি ভাঙ্গা বেত্র আনা হইল। তিনি বলিলেনঃ ইহা হইতে শক্ত একটি বেত্র আনয়ন কর। অতঃপর এমন একটি বেত্র আনা হইল যাহা বাহনে ব্যবহার করা হইয়াছে তজ্জন্য নরম হইয়া গিয়াছে। অতঃপর তাহার আদেশে তাহাকে বেত্ৰাঘাত করা হইল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এখন সময় আসিয়াছে তোমরা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা হইতে ফিরিয়া আসিবে। যদি কেহ এইরূপ কোন কিছু করিয়া বসে তবে তাহাকে আল্লাহর পর্দার আড়ালে লুকাইয়া থাকা উচিত। যে ব্যক্তি স্বীয় পর্দা উন্মোচন করিবে তবে আমরা তাহার উপর আল্লাহর কিতাবের নির্ধারিত শাস্তি জারি করিব।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১২
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ وَقَعَ عَلَى جَارِيَةٍ بِكْرٍ فَأَحْبَلَهَا ثُمَّ اعْتَرَفَ عَلَى نَفْسِهِ بِالزِّنَا وَلَمْ يَكُنْ أَحْصَنَ فَأَمَرَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ فَجُلِدَ الْحَدَّ ثُمَّ نُفِيَ إِلَى فَدَكَ .
রেওয়ায়ত ১৩. সফীয়া বিনত আবূ উরায়দ (রাঃ) বর্ণনা করেন, আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হইল। সে একটি কুমারী বালিকার সহিত ব্যভিচারে লিপ্ত হইয়া তাহাকে গর্ভবতী করিয়াছিল। অতঃপর সে ব্যভিচারের কথা স্বীকার করিল। সে বিবাহিত ছিল না। আবু বকর (রাঃ) তাহাকে কোড়া লাগাইবার আদেশ করিলেন। ইহার পর ঐ লোকটি ফিদক নামক স্থানে চলিয়া গেল। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি ব্যভিচারের কথা স্বীকার করার পর আবার অস্বীকার করিয়া বলে যে, আমি ব্যভিচার করি নাই, তাহা হইলে তাহা হইতে শাস্তি রহিত হইয়া যাইবে। কেননা ব্যভিচারের শাস্তির জন্য হয় চারিজন উপযুক্ত সাক্ষী হইবে, না হয় তাহার স্বীকারোক্তি হইতে হইবে যাহার উপর সে শাস্তির সময় পর্যন্ত স্থির থাকে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার দেশের উলামার মত হইল যে, যদি গোলাম ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তবে তাহাকে দেশান্তরিত করা হইবে না।
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১৩
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الأَمَةِ إِذَا زَنَتْ وَلَمْ تُحْصِنْ فَقَالَ " إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا ثُمَّ بِيعُوهَا وَلَوْ بِضَفِيرٍ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ لاَ أَدْرِي أَبَعْدَ الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ .
রেওয়ায়ত ১৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) ও যায়দ ইবন খালিদ জুহানী (রাঃ) বলেনঃ কেহ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অবিবাহিতা দাসী সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিল যে, যদি সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তবে তাহার বিধান কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যদি সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে তাহাকে বেত্ৰাঘাত করিতে হইবে। তিনবার তিনি এইরূপ বললেন। অতঃপর তাহাকে বিক্রয় করিয়া ফেল, যদি তাহার মূল্য একটি রশির তুল্যও হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব বলেন, তিনি কি তিনবারের পর এ কথা বলিয়াছেন, না চারিবারের পর, তাহা আমার স্মরণ নাই।
১৫
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১৪
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدًا، كَانَ يَقُومُ عَلَى رَقِيقِ الْخُمُسِ وَأَنَّهُ اسْتَكْرَهَ جَارِيَةً مِنْ ذَلِكَ الرَّقِيقِ فَوَقَعَ بِهَا فَجَلَدَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَنَفَاهُ وَلَمْ يَجْلِدِ الْوَلِيدَةَ لأَنَّهُ اسْتَكْرَهَهَا .
রেওয়ায়ত ১৫. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, গনীমতের এক-পঞ্চমাংশের মালের মধ্যে যে সকল দাসদাসী ছিল তাহাদের মধ্যে এক দাস ও এক দাসীর সহিত বলপূর্বক ব্যভিচার করিয়াছিল। উমর (রাঃ) তাহাকে বেত্ৰাঘাত করিয়া তাড়াইয়া দিলেন, (কিন্তু) তিনি দাসীকে প্রহার করিলেন না। কারণ তাহার উপর বল প্রয়োগ করা হইয়াছিল।
১৬
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১৫
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيَّ قَالَ أَمَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فِي فِتْيَةٍ مِنْ قُرَيْشٍ فَجَلَدْنَا وَلاَئِدَ مِنْ وَلاَئِدِ الإِمَارَةِ خَمْسِينَ خَمْسِينَ فِي الزِّنَا .
রেওয়ায়ত ১৬. আবদুল্লাহ ইবন আইয়্যাস ইবন আবি রবিয়া মাখযুমী (রহঃ) বলেনঃ উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আমাকে এবং আরও কতিপয় কুরাইশী যুবককে ব্যভিচারের দায়ে প্রহার করিতে আদেশ দিলে আমরা ব্যভিচারের শাস্তি হিসাবে বায়তুলমালের দাসীদেরকে পঞ্চাশ পঞ্চাশ বেত্ৰাঘাত করিতাম।
১৭
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১৬
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، أَنَّهُ قَالَ جَلَدَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَبْدًا فِي فِرْيَةٍ ثَمَانِينَ . قَالَ أَبُو الزِّنَادِ فَسَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ أَدْرَكْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَعُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ وَالْخُلَفَاءَ هَلُمَّ جَرًّا فَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا جَلَدَ عَبْدًا فِي فِرْيَةٍ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ .
রেওয়ায়ত ১৭. আবূ যিনাদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) এক দাসকে অপবাদের শাস্তি হিসাবে আশিটি বেত্ৰাঘাত করিয়াছিলেন। আবূ যিনাদ বলেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিলাম। তিনি বলিলেন, আমি উমর ও উসমান (রাঃ)-কে এবং তাহাদের পর অপর দুই খলীফাকে দেখিয়াছি কেহই কোন দাসকে অপবাদের শাস্তি হিসাবে চল্লিশ বেত্রাঘাতের বেশি মারেন নাই।
১৮
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১৭
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ زُرَيْقِ بْنِ حَكِيمٍ الأَيْلِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، يُقَالُ لَهُ مِصْبَاحٌ اسْتَعَانَ ابْنًا لَهُ فَكَأَنَّهُ اسْتَبْطَأَهُ فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ لَهُ يَا زَانٍ . قَالَ زُرَيْقٌ فَاسْتَعْدَانِي عَلَيْهِ فَلَمَّا أَرَدْتُ أَنْ أَجْلِدَهُ قَالَ ابْنُهُ وَاللَّهِ لَئِنْ جَلَدْتَهُ لأَبُوأَنَّ عَلَى نَفْسِي بِالزِّنَا . فَلَمَّا قَالَ ذَلِكَ أَشْكَلَ عَلَىَّ أَمْرُهُ فَكَتَبْتُ فِيهِ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ - وَهُوَ الْوَالِي يَوْمَئِذٍ - أَذْكُرُ لَهُ ذَلِكَ فَكَتَبَ إِلَىَّ عُمَرُ أَنْ أَجِزْ عَفْوَهُ . قَالَ زُرَيْقٌ وَكَتَبْتُ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَيْضًا أَرَأَيْتَ رَجُلاً افْتُرِيَ عَلَيْهِ أَوْ عَلَى أَبَوَيْهِ وَقَدْ هَلَكَا أَوْ أَحَدُهُمَا . قَالَ فَكَتَبَ إِلَىَّ عُمَرُ إِنْ عَفَا فَأَجِزْ عَفْوَهُ فِي نَفْسِهِ وَإِنِ افْتُرِيَ عَلَى أَبَوَيْهِ وَقَدْ هَلَكَا أَوْ أَحَدُهُمَا فَخُذْ لَهُ بِكِتَابِ اللَّهِ إِلاَّ أَنْ يُرِيدَ سِتْرًا . قَالَ يَحْيَى سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ وَذَلِكَ أَنْ يَكُونَ الرَّجُلُ الْمُفْتَرَى عَلَيْهِ يَخَافُ إِنْ كُشِفَ ذَلِكَ مِنْهُ أَنْ تَقُومَ عَلَيْهِ بَيِّنَةٌ فَإِذَا كَانَ عَلَى مَا وَصَفْتُ فَعَفَا جَازَ عَفْوُهُ .
রেওয়ায়ত ১৮. যুরাইক ইবন হাকিম (রহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি, যাহার নাম মিসবাহ, স্বীয় ছেলেকে কোন কাজে ডাকিলেন। সে আসিতে বিলম্ব করিল। যখন আসিল তখন মিসবাহ বলিলঃ হে ব্যভিচারী। যুরাইক বলেনঃ ঐ ছেলেটি আমার নিকট ফরিয়াদ করিল। আমি যখন তাহার পিতাকে শাস্তি দিতে চাহিলাম, সে বলিতে লাগিল, যদি তুমি আমার পিতাকে বেত্ৰাঘাত কর, তাহা হইলে আমি ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করিব। ইহা শুনিয়া আমি অস্থির হইলাম আর এই ঝগড়ার ফয়সালা করা কষ্টকর হইয়া পড়িল। আমি উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-কে লিখিলাম। ঐ সময় তিনি মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন। উমর ইবনে আবদুল আযীয (রহঃ) উত্তরে লিখিলেনঃ ছেলেকে ক্ষমা কর। যুরাইক বলেনঃ আমি উমরকে ইহাও লিখিলাম, যদি কোন ব্যক্তি কাহাকেও অথবা তাহার পিতাকে অথবা তাহার মাতাকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয় আর তাহার মাতাপিতা মৃত্যুবরণ করে অথবা তাহাদের একজন মৃত্যুবরণ করিয়া থাকে, তখন উমর (রাঃ) উত্তরে লিখিলেন, যাহাকে অপবাদ দেওয়া হইয়াছে যদি সে ক্ষমা করে, তবে ক্ষমা ঠিকই হইবে। হ্যাঁ, যদি তাহার মাতাপিতা উভয়ে অথবা কোন একজন মৃত্যুবরণ করিয়া থাকে, তবে আল্লাহর কিতাবের বিধান মতে তাহার শাস্তি হইবে। হ্যাঁ, যদি ছেলে স্বীয় পিতার অবস্থা লুকাইবার জন্য ক্ষমা করে তবে ক্ষমা বৈধ হইবে।
১৯
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১৮
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ فِي رَجُلٍ قَذَفَ قَوْمًا جَمَاعَةً أَنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلاَّ حَدٌّ وَاحِدٌ . قَالَ مَالِكٌ وَإِنْ تَفَرَّقُوا فَلَيْسَ عَلَيْهِ إِلاَّ حَدٌّ وَاحِدٌ . حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الرِّجَالِ، مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ الأَنْصَارِيِّ ثُمَّ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ عَنْ أُمِّهِ، عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ رَجُلَيْنِ، اسْتَبَّا فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِلآخَرِ وَاللَّهِ مَا أَبِي بِزَانٍ وَلاَ أُمِّي بِزَانِيَةٍ . فَاسْتَشَارَ فِي ذَلِكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ قَائِلٌ مَدَحَ أَبَاهُ وَأُمَّهُ وَقَالَ آخَرُونَ قَدْ كَانَ لأَبِيهِ وَأُمِّهِ مَدْحٌ غَيْرُ هَذَا نَرَى أَنْ تَجْلِدَهُ الْحَدَّ . فَجَلَدَهُ عُمَرُ الْحَدَّ ثَمَانِينَ . قَالَ مَالِكٌ لاَ حَدَّ عِنْدَنَا إِلاَّ فِي نَفْىٍ أَوْ قَذْفٍ أَوْ تَعْرِيضٍ يُرَى أَنَّ قَائِلَهُ إِنَّمَا أَرَادَ بِذَلِكَ نَفْيًا أَوْ قَذْفًا فَعَلَى مَنْ قَالَ ذَلِكَ الْحَدُّ تَامًّا . قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّهُ إِذَا نَفَى رَجُلٌ رَجُلاً مِنْ أَبِيهِ فَإِنَّ عَلَيْهِ الْحَدَّ وَإِنْ كَانَتْ أُمُّ الَّذِي نُفِيَ مَمْلُوكَةً فَإِنَّ عَلَيْهِ الْحَدَّ .
রেওয়ায়ত ১৯. উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি এক কথায়ই অনেক লোকের উপর ব্যভিচারের অপবাদ দেয়, যেমন বলিলঃ তোমরা সকলে ব্যভিচারী অথবা হে ব্যভিচারীর দল, তাহা হইলে তাহার উপর অপবাদের এক শাস্তিই হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি তাহারা পৃথকও হইয়া যায় তবুও একই শাস্তি হইবে। আমারা বিন্তে আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, উমর (রাঃ)-এর সময় দুই ব্যক্তির মধ্যে গালমন্দ হইল। একজন অপরজনকে বলিল, আল্লাহর কসম, আমার পিতা বদকার ছিল না, আমার মাও বদকার ছিল না। উমর (রাঃ) এ ব্যাপারে পরামর্শ করিলেন। এক ব্যক্তি বলিল, ইহাতে সে মন্দ কি বলিল। সে তো স্বীয় মাতাপিতার ভালই বর্ণনা করিল। অন্যরা বলিল, তাহার পিতার কি এই গুণ অবশিষ্ট ছিল যে, বর্ণনা করিবে? আমাদের মতে তাহাকে অপবাদের শাস্তি দিতে হইবে। অবশেষে উমর (রাঃ) তাহাকে আশি বেত্ৰাঘাত লাগাইলেন। (কেননা তাহার এই কথায় অন্যের মাতাপিতার উপর অপবাদ ছিল। আবু হানীফা ও শাফেয়ীর মতে শাস্তি অনিবার্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে অপবাদ, অস্বীকার ও ইশারায় গালি ছাড়া অন্য কোন কথায় শাস্তি অনিবার্য হয় না।) মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার মতে যদি কেহ কাহাকেও তাহার পিতার বংশের অস্বীকার করে তাহা হইলে শাস্তি ওয়াজিব হইবে, তাহার মা দাসী হইলেও।
২০
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫১৯
وقال المالك: إذا جامع الشريك جارية عامة فلا حد له. والآن يصبح الولد المولود لها قرابة، وعلى الشركاء الآخرين دفع نصيبهم بقيمة الجارية، وتكون الجارية له. هذا هو الترتيب وفقا لنا. قال السيد: إذا أذن إنسان في أن يجامع جاريته فإن ذلك إذا جامعها فعليه ثمن العبد سواء كانت حاملا أو غير حامل، ولا حد، فإذا حملت ثبت نسب الولد منها.
মালিক বলেন, সঙ্গী যদি কোনো সাধারণ দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করে তাহলে তার কোনো সীমা নেই। এখন যে ছেলেটি জন্মগ্রহণ করবে সে তার সাথে সম্পর্কিত হবে এবং অন্যান্য অংশীদারদেরকে দাসীর মূল্য অনুযায়ী তাদের অংশ দিতে হবে এবং দাসীটি তারই হবে। এটি আমাদের মতে আদেশ। মনিব বললেন, "যদি কোন ব্যক্তি তার দাসীর সাথে সহবাসের অনুমতি দেয়, সেই ব্যক্তি যদি তার সাথে সহবাস করে তবে তাকে দাসীর মূল্য দিতে হবে সে গর্ভবতী হোক বা না হোক, তবে কোন সীমা থাকবে না। যদি সে গর্ভবতী হয় তবে তার থেকে সন্তানের পিতা-মাতা প্রমাণিত হবে।
২১
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২০
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ لِرَجُلٍ خَرَجَ بِجَارِيَةٍ لاِمْرَأَتِهِ مَعَهُ فِي سَفَرٍ فَأَصَابَهَا فَغَارَتِ امْرَأَتُهُ . فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ وَهَبَتْهَا لِي . فَقَالَ عُمَرُ لَتَأْتِينِي بِالْبَيِّنَةِ أَوْ لأَرْمِيَنَّكَ بِالْحِجَارَةِ . قَالَ فَاعْتَرَفَتِ امْرَأَتُهُ أَنَّهَا وَهَبَتْهَا لَهُ .
রেওয়ায়ত ২০. রবীআ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর দাসীকে সঙ্গে লইয়া সফরে যাত্রা করিল। তথায় সে তাহার সহিত সহবাস করিয়া বসিল। স্ত্রী হিংসার বশবর্তী হইয়া উমর (রাঃ)-এর নিকট বলিয়া দিল। উমর (রাঃ) তাহাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিলে সে বলিলঃ আমার স্ত্রী এই দাসীটি আমাকে দান করিয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি দানের সাক্ষী আন, না হয় তোমাকে প্রস্তরাঘাত করা হইবে। তখন স্ত্রীলোকটি বলিল, আমি তাহাকে দান করিয়াছি।
২২
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২১
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَطَعَ فِي مِجَنٍّ ثَمَنُهُ ثَلاَثَةُ دَرَاهِمَ .
রেওয়ায়ত ২১. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢালের মূল্যের বিনিময়ে যাহার মূল্য তিন দিরহাম ছিল হাত কাটার আদেশ করিয়াছেন।
২৩
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ الْمَكِّيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ قَطْعَ فِي ثَمَرٍ مُعَلَّقٍ وَلاَ فِي حَرِيسَةِ جَبَلٍ " فَإِذَا آوَاهُ الْمُرَاحُ أَوِ الْجَرِينُ فَالْقَطْعُ فِيمَا يَبْلُغُ ثَمَنَ الْمِجَنِّ .
রেওয়ায়ত ২২. আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান মক্কী (রহঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, গাছে যে ফল বুলিতেছে অথবা যে ছাগল পাহাড়ে উঠিয়া আছে উহা চুরি করিলে হাত কাটা যাইবে না। যখন ছাগল ঘরে আসে অথবা ফল শুকাইবার জন্য রাখা হয়, অতঃপর উহাকে কেহ চুরি করে, তখন হাত কাটা যাইবে, যদি উহার মূল্য ঢালের মূল্যের সমান হয়। (ইহা ঐ সময়ে প্রযোজ্য যখন ছাগলের কোন রক্ষক না থাকে এবং উহাদের নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে)।
২৪
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ سَارِقًا، سَرَقَ فِي زَمَانِ عُثْمَانَ أُتْرُجَّةً فَأَمَرَ بِهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ أَنْ تُقَوَّمَ فَقُوِّمَتْ بِثَلاَثَةِ دَرَاهِمَ مِنْ صَرْفِ اثْنَىْ عَشَرَ دِرْهَمًا بِدِينَارٍ فَقَطَعَ عُثْمَانُ يَدَهُ .
রেওয়ায়ত ২৩. উমরা বিনতে আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, উসমান (রাঃ)-এর সময় এক ব্যক্তি একটি উত্রজ (স্বর্ণনির্মিত শিশুদের গলার জাব) চুরি করিয়াছিল। উসমান (রাঃ) তাহার মূল্য বার দিরহাম ধার্য করিলেন। উসমান (রাঃ) ইহার জন্য তাহার হাত কাটিয়াছিলেন।
২৫
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا طَالَ عَلَىَّ وَمَا نَسِيتُ " الْقَطْعُ فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا " .
রেওয়ায়ত ২৪. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এখনও এত বেশি দিন হয় নাই, আমিও ভুলি নাই। চোরের হাত এক-চতুর্থাংশ দীনার বা তদূর্ধ্বের জন্য কাটা যাইবে।
২৬
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجَتْ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَكَّةَ وَمَعَهَا مَوْلاَتَانِ لَهَا وَمَعَهَا غُلاَمٌ لِبَنِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَبَعَثَتْ مَعَ الْمَوْلاَتَيْنِ بِبُرْدٍ مُرَجَّلٍ قَدْ خِيطَ عَلَيْهِ خِرْقَةٌ خَضْرَاءُ قَالَتْ فَأَخَذَ الْغُلاَمُ الْبُرْدَ فَفَتَقَ عَنْهُ فَاسْتَخْرَجَهُ وَجَعَلَ مَكَانَهُ لِبْدًا أَوْ فَرْوَةً وَخَاطَ عَلَيْهِ فَلَمَّا قَدِمَتِ الْمَوْلاَتَانِ الْمَدِينَةَ دَفَعَتَا ذَلِكَ إِلَى أَهْلِهِ فَلَمَّا فَتَقُوا عَنْهُ وَجَدُوا فِيهِ اللِّبْدَ وَلَمْ يَجِدُوا الْبُرْدَ فَكَلَّمُوا الْمَرْأَتَيْنِ فَكَلَّمَتَا عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ كَتَبَتَا إِلَيْهَا وَاتَّهَمَتَا الْعَبْدَ فَسُئِلَ الْعَبْدُ عَنْ ذَلِكَ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَتْ بِهِ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُطِعَتْ يَدُهُ وَقَالَتْ عَائِشَةُ الْقَطْعُ فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا .
রেওয়ায়ত ২৫. আমরা বিন্তে আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত আছে, উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) মক্কাভিমুখে যাত্রা করিলেন। তাহার সঙ্গে তাহার দুইটি দাসীও ছিল, যাহাদেরকে মুক্ত করিয়া দেওয়া হইয়াছে। আর আবদুল্লাহ ইবন আবু বকরের একজন দাসও তাঁহার সহিত ছিল। তিনি ঐ দাসীদের হাতে মক্কা হইতে একখানা চাদর পাঠাইলেন যাহাতে পুরুষের ছবি অঙ্কিত ছিল এবং উহাকে একখানা সবুজ কাপড়ে জড়াইয়া সেলাই করিয়া দেওয়া হইয়াছিল। ঐ দাসটি ঐ সেলাই খুলিয়া উহা হইতে চাদর বাহির করিয়া লইল আর তদস্থলে একটা চামড়া রাখিয়া উহাকে পুনরায় সেলাই করিয়া দিল। দাসীদ্বয় মদীনায় আসিয়া উহার মালিকের নিকট উহা অর্পণ করিল। তাহারা উহা খুলিয়া দেখিল চাদরের পরিবর্তে একখানা চামড়া, পরে ঐ দাসীদের নিকট জিজ্ঞাসা করা হইলে তাহারা আয়েশা (রাঃ)-র নিকট লিখিয়া দিল যে, উহা ঐ দাস লইয়া গিয়াছে। যখন ঐ দাসকে প্রশ্ন করা হইল সে স্বীকার করিল। অতঃপর আয়েশা (রাঃ)-এর আদেশে তাহার হাত কাটা হইল। আয়েশা (রাঃ) বলেন, দীনারের চতুর্থাংশ বা তদূর্ধ্বের পরিবর্তে হাত কর্তন করা হইবে।”[1] মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে যদি চোর তিন দিরহাম বা তদূর্ধ্ব মূল্যের মাল চুরি করে, তখন তাহার হাত কর্তন করা অনিবার্য হইয়া পড়ে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢালের বিনিময়ে হাত কর্তনের আদেশ দিয়াছেন, যাহার মূল্য তিন দিরহাম ছিল। উসমান (রাঃ) একটি সাতরানজের বিনিময়ে হাত কাটিয়াছিলেন যাহার মূল্য তিন দিরহাম ছিল। সমস্ত মতের মধ্যে এই মতই উত্তম বলিয়া গণ্য ।
২৭
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২৬
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدًا، لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ سَرَقَ وَهُوَ آبِقٌ فَأَرْسَلَ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ - وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ - لِيَقْطَعَ يَدَهُ فَأَبَى سَعِيدٌ أَنْ يَقْطَعَ يَدَهُ وَقَالَ لاَ تُقْطَعُ يَدُ الآبِقِ السَّارِقِ إِذَا سَرَقَ . فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فِي أَىِّ كِتَابِ اللَّهِ وَجَدْتَ هَذَا ثُمَّ أَمَرَ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَقُطِعَتْ يَدُهُ .
রেওয়ায়ত ২৬. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত আছে, ইবন উমর (রাঃ)-এর একটি দাস পলাইয়া গেল, সে চুরি করিয়াছিল। ইবন উমর (রাঃ) তাহাকে মদীনার গভর্নর সাঈদ ইবন আসের নিকট হাত কর্তনের জন্য পাঠাইয়া দিলেন। সাঈদ ইহা মানিলেন না। তিনি বলিলেন, পলাতক দাসের হাত কর্তন করা হইবে না। ইবন উমর (রাঃ) বললেন, তুমি আল্লাহর কোন কিতাবে ইহা পাইয়াছ অতঃপর ইবন উমরের আদেশে তাহার হাত কাটা হইল।
২৮
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زُرَيْقِ بْنِ حَكِيمٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، أَخَذَ عَبْدًا آبِقًا قَدْ سَرَقَ قَالَ فَأَشْكَلَ عَلَىَّ أَمْرُهُ - قَالَ - فَكَتَبْتُ فِيهِ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ وَهُوَ الْوَالِي يَوْمَئِذٍ - قَالَ - فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّنِي كُنْتُ أَسْمَعُ أَنَّ الْعَبْدَ الآبِقَ إِذَا سَرَقَ وَهُوَ آبِقٌ لَمْ تُقْطَعْ يَدُهُ - قَالَ - فَكَتَبَ إِلَىَّ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ نَقِيضَ كِتَابِي يَقُولُ كَتَبْتَ إِلَىَّ أَنَّكَ كُنْتَ تَسْمَعُ أَنَّ الْعَبْدَ الآبِقَ إِذَا سَرَقَ لَمْ تُقْطَعْ يَدُهُ وَأَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} . فَإِنْ بَلَغَتْ سَرِقَتُهُ رُبُعَ دِينَارٍ فَصَاعِدًا فَاقْطَعْ يَدَهُ . وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، وَعُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، كَانُوا يَقُولُونَ إِذَا سَرَقَ الْعَبْدُ الآبِقُ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ قُطِعَ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ الأَمْرُ الَّذِي لاَ اخْتِلاَفَ فِيهِ عِنْدَنَا أَنَّ الْعَبْدَ الآبِقَ إِذَا سَرَقَ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ قُطِعَ .
রেওয়ায়ত ২৭. যুরায়ক ইবন হাকিম (রহঃ) একজন পলাতক গোলামকে ধরিয়া ফেলিলেন যে চুরি করিয়াছিল। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিচার করা আমার জন্য কষ্টসাধ্য ছিল। আমি তজ্জন্য উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-কে লিখিলাম, আমি শুনিতেছি যখন পলাতক কোন দাস চুরি করে, তখন তাহার হাত কাটা যাইবে না। তিনি বলেনঃ উমর (রাঃ) আমার লেখার হাওলা দিয়া উত্তরে লিখিলেন : তুমি লিখিয়াছ, তুমি শুনিয়াছ, পলাতক দাস চুরি করিলে তাহার হাত কাটা যাইবে না, অথচ আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং বলিতেছেনঃ চোর পুরুষ হউক বা নারী হউক তাহার হাত কাট। ইহা তাহার ঐ কাজের শাস্তি আর আল্লাহর পক্ষ হইতে আযাব। আল্লাহ ক্ষমতাবান হেকমতওয়ালা। যদি ঐ দাস এক দীনারের চতুর্থাংশ বা তদূর্ধ্ব চুরি করে, তবে তাহার হাত কাটিয়া ফেল। কেননা আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ السَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالاً مِنَ اللَّهِ কাসেম ইবন মুহাম্মদ, সালেম ইবন আবদুল্লাহ ও উরওয়া ইবন যুবায়ের (রহঃ) বলেনঃ যদি পলাতক দাস সেই পরিমাণ মাল চুরি করে যাহাতে হাত কাটা ওয়াজিব হয়, তবে তাহার হাত কাটা যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মধ্যে ইহাতে কোন মতপার্থক্য নাই।
২৯
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجَتْ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَكَّةَ وَمَعَهَا مَوْلاَتَانِ لَهَا وَمَعَهَا غُلاَمٌ لِبَنِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَبَعَثَتْ مَعَ الْمَوْلاَتَيْنِ بِبُرْدٍ مُرَجَّلٍ قَدْ خِيطَ عَلَيْهِ خِرْقَةٌ خَضْرَاءُ قَالَتْ فَأَخَذَ الْغُلاَمُ الْبُرْدَ فَفَتَقَ عَنْهُ فَاسْتَخْرَجَهُ وَجَعَلَ مَكَانَهُ لِبْدًا أَوْ فَرْوَةً وَخَاطَ عَلَيْهِ فَلَمَّا قَدِمَتِ الْمَوْلاَتَانِ الْمَدِينَةَ دَفَعَتَا ذَلِكَ إِلَى أَهْلِهِ فَلَمَّا فَتَقُوا عَنْهُ وَجَدُوا فِيهِ اللِّبْدَ وَلَمْ يَجِدُوا الْبُرْدَ فَكَلَّمُوا الْمَرْأَتَيْنِ فَكَلَّمَتَا عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ كَتَبَتَا إِلَيْهَا وَاتَّهَمَتَا الْعَبْدَ فَسُئِلَ الْعَبْدُ عَنْ ذَلِكَ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَتْ بِهِ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُطِعَتْ يَدُهُ وَقَالَتْ عَائِشَةُ الْقَطْعُ فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا .
তিনি আমাকে মালিকের সূত্রে, আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে হাযমের সূত্রে, আমরা বিনতে আবদুল রহমানের সূত্রে বলেছেন যে, তিনি বলেন, আয়েশা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী থেকে বের হয়েছিলেন, মক্কায় গিয়েছিলেন, তার দুই মহিলা দাসীকে নিয়ে এসেছিলেন এবং তার সাথে বনু আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর-এর একটি ছেলেকে নিয়ে তাকে পাঠানো হয়েছিল। দুই মহিলা একটি সবুজ কাপড়ের চারপাশে শিলাবৃষ্টি দিয়ে বসে ছিলেন যার উপর একটি সবুজ রাগ সেলাই করা ছিল। তিনি বললেন, "অতঃপর বালকটি শিলাবৃষ্টিটি নিয়ে তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তাই সে তা বের করে তার জায়গায় রাখল।" একজন মানুষের মানি বা পশম, এবং সে তার উপর সেলাই করেছিল। যখন দুই প্রভু মদিনায় এসেছিলেন, তখন তারা এটি সেখানকার লোকদের দিয়েছিলেন এবং যখন তারা এটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন, তখন তারা এতে এটি পেয়েছিলেন। তারা কোন ঠাণ্ডা পায়নি, তাই তারা দুই মহিলার সাথে কথা বলেছিল এবং তারা নবীর স্ত্রী আয়েশার সাথে কথা বলেছিল, আল্লাহ তাকে শান্তি দান করেন, অথবা তারা তাকে চিঠি লিখে বান্দাকে অভিযুক্ত করেছিল, তাই তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। সে সম্পর্কে বান্দা, তাই সে স্বীকার করল, তাই নবীর স্ত্রী আয়েশা রা. তার হাত কেটে ফেলা হলো, আয়েশা বললেনঃ কেটে ফেলো এক চতুর্থাংশ দিনার বা তার বেশি...
৩০
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫২৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ، أَنَّ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ، قِيلَ لَهُ إِنَّهُ مَنْ لَمْ يُهَاجِرْ هَلَكَ . فَقَدِمَ صَفْوَانُ بْنُ أُمَيَّةَ الْمَدِينَةَ فَنَامَ فِي الْمَسْجِدِ وَتَوَسَّدَ رِدَاءَهُ فَجَاءَ سَارِقٌ فَأَخَذَ رِدَاءَهُ فَأَخَذَ صَفْوَانُ السَّارِقَ فَجَاءَ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَسَرَقْتَ رِدَاءَ هَذَا " . قَالَ نَعَمْ . فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تُقْطَعَ يَدُهُ فَقَالَ لَهُ صَفْوَانُ إِنِّي لَمْ أُرِدْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هُوَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَهَلاَّ قَبْلَ أَنْ تَأْتِيَنِي بِهِ " .
রেওয়ায়ত ২৮. সফওয়ান ইবন আবদুল্লাহ ইবন সফওয়ান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কেহ সফওয়ান ইবন উমাইয়া (রাঃ)-কে বলিল, যে ব্যক্তি হিজরত করে নাই সে ধ্বংস হউক। অতঃপর সফওয়ান আগমন করিয়া স্বীয় চাদর মাথার নিচে রাখিয়া মসজিদে নববীতে শুইয়া পড়িল। ইত্যবসরে এক চোর তাহার চাদর চুরি করিল। সফওয়ান চোরকে ধরিয়া ফেলিল, তাহাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খিদমতে লইয়া গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোরকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি সফওয়ানের চাদর চুরি করিয়াছ? সে বলিল, হ্যাঁ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার হস্ত কর্তনের আদেশ দিলেন। সফওয়ান বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার এই নিয়ত ছিল না। আমি তাহাকে চাদরখানা সদকা করিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমার নিকট তাহাকে আনার পূর্বে তোমার এ কথা বলা উচিত ছিল।
৩১
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫৩০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ، لَقِيَ رَجُلاً قَدْ أَخَذَ سَارِقًا وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يَذْهَبَ بِهِ إِلَى السُّلْطَانِ فَشَفَعَ لَهُ الزُّبَيْرُ لِيُرْسِلَهُ فَقَالَ لاَ حَتَّى أَبْلُغَ بِهِ السُّلْطَانَ . فَقَالَ الزُّبَيْرُ إِذَا بَلَغْتَ بِهِ السُّلْطَانَ فَلَعَنَ اللَّهُ الشَّافِعَ وَالْمُشَفِّعَ .
রেওয়ায়ত ২৯. রবীআ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যুবাইর ইবন আওয়াম এক ব্যক্তিকে দেখিল, সে চোরকে ধরিয়া বিচারকের নিকট লইয়া যাইতেছে। যুবাইর বলিলঃ উহাকে ছাড়িয়া দাও। সে বলিলঃ বিচারকের নিকট না নিয়া আমি তাহাকে ছাড়িব না। যুবাইর বলিলঃ তুমি তাহাকে বিচারকের নিকট লইয়া গেলে সুপারিশকারী ও সুপারিশ মান্যকারীর উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।
৩২
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫৩১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ أَقْطَعَ الْيَدِ وَالرِّجْلِ قَدِمَ فَنَزَلَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَشَكَا إِلَيْهِ أَنَّ عَامِلَ الْيَمَنِ قَدْ ظَلَمَهُ فَكَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَيَقُولُ أَبُو بَكْرٍ وَأَبِيكَ مَا لَيْلُكَ بِلَيْلِ سَارِقٍ . ثُمَّ إِنَّهُمْ فَقَدُوا عِقْدًا لأَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ امْرَأَةِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَطُوفُ مَعَهُمْ وَيَقُولُ اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِمَنْ بَيَّتَ أَهْلَ هَذَا الْبَيْتِ الصَّالِحِ . فَوَجَدُوا الْحُلِيَّ عِنْدَ صَائِغٍ زَعَمَ أَنَّ الأَقْطَعَ جَاءَهُ بِهِ فَاعْتَرَفَ بِهِ الأَقْطَعُ أَوْ شُهِدَ عَلَيْهِ بِهِ فَأَمَرَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ فَقُطِعَتْ يَدُهُ الْيُسْرَى وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لَدُعَاؤُهُ عَلَى نَفْسِهِ أَشَدُّ عِنْدِي عَلَيْهِ مِنْ سَرِقَتِهِ . قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الَّذِي يَسْرِقُ مِرَارًا ثُمَّ يُسْتَعْدَى عَلَيْهِ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلاَّ أَنْ تُقْطَعَ يَدُهُ لِجَمِيعِ مَنْ سَرَقَ مِنْهُ إِذَا لَمْ يَكُنْ أُقِيمَ عَلَيْهِ الْحَدُّ فَإِنْ كَانَ قَدْ أُقِيمَ عَلَيْهِ الْحَدُّ قَبْلَ ذَلِكَ ثُمَّ سَرَقَ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ قُطِعَ أَيْضًا .
রেওয়ায়ত ৩০. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ইয়ামান হইতে মদীনায় আগমন করিল, যাহার এক হাত এক পা কাটা ছিল। আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইয়া সে বলিতে লাগিল, বিচারক আমার উপর অত্যাচার করিয়াছে। এই ইয়ামানী ব্যক্তি রাত্রে নামায পড়িত। আবু বকর (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ আল্লাহর কসম, তোমার রাত চোরের রাত নহে। ঘটনাক্রমে আসমা (রাঃ)-এর একখানা হার হারাইয়া গেল, অন্যান্য লোকের সহিত ঐ পঙ্গু লোকটিও উহা তালাশ করিতেছিল আর বলিতেছিল, হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি এই সম্ভ্রান্ত পরিবারের হার চুরি করিয়াছে তাহাকে ধ্বংস কর। অবশেষে এক স্বর্ণকারের দোকানে উক্ত হার পাওয়া গেল। স্বর্ণকার বলিলঃ ইহা তো আমাকে ঐ পঙ্গু লোকটি দিয়াছে। অতঃপর ঐ পঙ্গু লোকটি হয় স্বীকার করিয়াছে অথবা সাক্ষীর সাক্ষ্য দ্বারা সাব্যস্ত হইয়াছে যে, এ কাজ ঐ ব্যক্তিরই। আবু বকর (রাঃ)-এর আদেশে ঐ পঙ্গু লোকটির বাম হাত কাটা গেল। আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম, এই লোকটি যে নিজের উপর বদ দোয়া করিতেছিল উহা তাহার চুরি হইতেও আমার নিকট কঠিন মনে হইতেছিল। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, যদি কোন ব্যক্তি কয়েকবার চুরি করে, তৎপর সে ধৃত হয়, তবে এই কয়েক বারের পরিবর্তে শুধু এক হাতই কাটা যাইবে।
৩৩
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫৩২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا الزِّنَادِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَامِلاً لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخَذَ نَاسًا فِي حِرَابَةٍ وَلَمْ يَقْتُلُوا أَحَدًا فَأَرَادَ أَنْ يَقْطَعَ أَيْدِيَهُمْ أَوْ يَقْتُلَ فَكَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي ذَلِكَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ لَوْ أَخَذْتَ بِأَيْسَرِ ذَلِكَ . قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ الأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الَّذِي يَسْرِقُ أَمْتِعَةَ النَّاسِ الَّتِي تَكُونُ مَوْضُوعَةً بِالأَسْوَاقِ مُحْرَزَةً قَدْ أَحْرَزَهَا أَهْلُهَا فِي أَوْعِيَتِهِمْ وَضَمُّوا بَعْضَهَا إِلَى بَعْضٍ إِنَّهُ مَنْ سَرَقَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا مِنْ حِرْزِهِ فَبَلَغَ قِيمَتُهُ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ فَإِنَّ عَلَيْهِ الْقَطْعَ كَانَ صَاحِبُ الْمَتَاعِ عِنْدَ مَتَاعِهِ أَوْ لَمْ يَكُنْ لَيْلاً ذَلِكَ أَوْ نَهَارًا . قَالَ مَالِكٌ فِي الَّذِي يَسْرِقُ مَا يَجِبُ عَلَيْهِ فِيهِ الْقَطْعُ ثُمَّ يُوجَدُ مَعَهُ مَا سَرَقَ فَيُرَدُّ إِلَى صَاحِبِهِ إِنَّهُ تُقْطَعُ يَدُهُ . قَالَ مَالِكٌ فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ كَيْفَ تُقْطَعُ يَدُهُ وَقَدْ أُخِذَ الْمَتَاعُ مِنْهُ وَدُفِعَ إِلَى صَاحِبِهِ فَإِنَّمَا هُوَ بِمَنْزِلَةِ الشَّارِبِ يُوجَدُ مِنْهُ رِيحُ الشَّرَابِ الْمُسْكِرِ وَلَيْسَ بِهِ سُكْرٌ فَيُجْلَدُ الْحَدَّ . قَالَ وَإِنَّمَا يُجْلَدُ الْحَدَّ فِي الْمُسْكِرِ إِذَا شَرِبَهُ وَإِنْ لَمْ يُسْكِرْهُ وَذَلِكَ أَنَّهُ إِنَّمَا شَرِبَهُ لِيُسْكِرَهُ فَكَذَلِكَ تُقْطَعُ يَدُ السَّارِقِ فِي السَّرِقَةِ الَّتِي أُخِذَتْ مِنْهُ وَلَوْ لَمْ يَنْتَفِعْ بِهَا وَرَجَعَتْ إِلَى صَاحِبِهَا وَإِنَّمَا سَرَقَهَا حِينَ سَرَقَهَا لِيَذْهَبَ بِهَا . قَالَ مَالِكٌ فِي الْقَوْمِ يَأْتُونَ إِلَى الْبَيْتِ فَيَسْرِقُونَ مِنْهُ جَمِيعًا فَيَخْرُجُونَ بِالْعِدْلِ يَحْمِلُونَهُ جَمِيعًا أَوِ الصُّنْدُوقِ أَوِ الْخَشَبَةِ أَوْ بِالْمِكْتَلِ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِمَّا يَحْمِلُهُ الْقَوْمُ جَمِيعًا إِنَّهُمْ إِذَا أَخْرَجُوا ذَلِكَ مِنْ حِرْزِهِ وَهُمْ يَحْمِلُونَهُ جَمِيعًا فَبَلَغَ ثَمَنُ مَا خَرَجُوا بِهِ مِنْ ذَلِكَ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ - وَذَلِكَ ثَلاَثَةُ دَرَاهِمَ فَصَاعِدًا - فَعَلَيْهِمُ الْقَطْعُ جَمِيعًا . قَالَ وَإِنْ خَرَجَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ بِمَتَاعٍ عَلَى حِدَتِهِ فَمَنْ خَرَجَ مِنْهُمْ بِمَا تَبْلُغُ قِيمَتُهُ ثَلاَثَةَ دَرَاهِمَ فَصَاعِدًا فَعَلَيْهِ الْقَطْعُ وَمَنْ لَمْ يَخْرُجْ مِنْهُمْ بِمَا تَبْلُغُ قِيمَتُهُ ثَلاَثَةَ دَرَاهِمَ فَلاَ قَطْعَ عَلَيْهِ . قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّهُ إِذَا كَانَتْ دَارُ رَجُلٍ مُغْلَقَةً عَلَيْهِ لَيْسَ مَعَهُ فِيهَا غَيْرُهُ فَإِنَّهُ لاَ يَجِبُ عَلَى مَنْ سَرَقَ مِنْهَا شَيْئًا الْقَطْعُ حَتَّى يَخْرُجَ بِهِ مِنَ الدَّارِ كُلِّهَا وَذَلِكَ أَنَّ الدَّارَ كُلَّهَا هِيَ حِرْزُهُ فَإِنْ كَانَ مَعَهُ فِي الدَّارِ سَاكِنٌ غَيْرُهُ وَكَانَ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ يُغْلِقُ عَلَيْهِ بَابَهُ وَكَانَتْ حِرْزًا لَهُمْ جَمِيعًا فَمَنْ سَرَقَ مِنْ بُيُوتِ تِلْكَ الدَّارِ شَيْئًا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ فَخَرَجَ بِهِ إِلَى الدَّارِ فَقَدْ أَخْرَجَهُ مِنْ حِرْزِهِ إِلَى غَيْرِ حِرْزِهِ وَوَجَبَ عَلَيْهِ فِيهِ الْقَطْعُ . قَالَ مَالِكٌ وَالأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْعَبْدِ يَسْرِقُ مِنْ مَتَاعِ سَيِّدِهِ أَنَّهُ إِنْ كَانَ لَيْسَ مِنْ خَدَمِهِ وَلاَ مِمَّنْ يَأْمَنُ عَلَى بَيْتِهِ ثُمَّ دَخَلَ سِرًّا فَسَرَقَ مِنْ مَتَاعِ سَيِّدِهِ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ فَلاَ قَطْعَ عَلَيْهِ وَكَذَلِكَ الأَمَةُ إِذَا سَرَقَتْ مِنْ مَتَاعِ سَيِّدِهَا لاَ قَطْعَ عَلَيْهَا . وَقَالَ فِي الْعَبْدِ لاَ يَكُونُ مِنْ خَدَمِهِ وَلاَ مِمَّنْ يَأْمَنُ عَلَى بَيْتِهِ فَدَخَلَ سِرًّا فَسَرَقَ مِنْ مَتَاعِ امْرَأَةِ سَيِّدِهِ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ إِنَّهُ تُقْطَعُ يَدُهُ . قَالَ وَكَذَلِكَ أَمَةُ الْمَرْأَةِ إِذَا كَانَتْ لَيْسَتْ بِخَادِمٍ لَهَا وَلاَ لِزَوْجِهَا وَلاَ مِمَّنْ تَأْمَنُ عَلَى بَيْتِهَا فَدَخَلَتْ سِرًّا فَسَرَقَتْ مِنْ مَتَاعِ سَيِّدَتِهَا مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ فَلاَ قَطْعَ عَلَيْهَا . قَالَ مَالِكٌ وَكَذَلِكَ أَمَةُ الْمَرْأَةِ الَّتِي لاَ تَكُونُ مِنْ خَدَمِهَا وَلاَ مِمَّنْ تَأْمَنُ عَلَى بَيْتِهَا فَدَخَلَتْ سِرًّا فَسَرَقَتْ مِنْ مَتَاعِ زَوْجِ سَيِّدَتِهَا مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ أَنَّهَا تُقْطَعُ يَدُهَا . قَالَ مَالِكٌ وَكَذَلِكَ الرَّجُلُ يَسْرِقُ مِنْ مَتَاعِ امْرَأَتِهِ أَوِ الْمَرْأَةُ تَسْرِقُ مِنْ مَتَاعِ زَوْجِهَا مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ إِنْ كَانَ الَّذِي سَرَقَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِنْ مَتَاعِ صَاحِبِهِ فِي بَيْتٍ سِوَى الْبَيْتِ الَّذِي يُغْلِقَانِ عَلَيْهِمَا وَكَانَ فِي حِرْزٍ سِوَى الْبَيْتِ الَّذِي هُمَا فِيهِ فَإِنَّ مَنْ سَرَقَ مِنْهُمَا مِنْ مَتَاعِ صَاحِبِهِ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ فَعَلَيْهِ الْقَطْعُ فِيهِ . قَالَ مَالِكٌ فِي الصَّبِيِّ الصَّغِيرِ وَالأَعْجَمِيِّ الَّذِي لاَ يُفْصِحُ أَنَّهُمَا إِذَا سُرِقَا مِنْ حِرْزِهِمَا أَوْ غَلْقِهِمَا فَعَلَى مَنْ سَرَقَهُمَا الْقَطْعُ وَإِنْ خَرَجَا مِنْ حِرْزِهِمَا وَغَلْقِهِمَا فَلَيْسَ عَلَى مَنْ سَرَقَهُمَا قَطْعٌ . قَالَ وَإِنَّمَا هُمَا بِمَنْزِلَةِ حَرِيسَةِ الْجَبَلِ وَالثَّمَرِ الْمُعَلَّقِ . قَالَ مَالِكٌ وَالأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الَّذِي يَنْبِشُ الْقُبُورَ أَنَّهُ إِذَا بَلَغَ مَا أَخْرَجَ مِنَ الْقَبْرِ مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ فَعَلَيْهِ فِيهِ الْقَطْعُ . وَقَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ أَنَّ الْقَبْرَ حِرْزٌ لِمَا فِيهِ كَمَا أَنَّ الْبُيُوتَ حِرْزٌ لِمَا فِيهَا . قَالَ وَلاَ يَجِبُ عَلَيْهِ الْقَطْعُ حَتَّى يَخْرُجَ بِهِ مِنَ الْقَبْرِ .
রেওয়ায়ত ৩১. আবু যিনাদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ)-এর একজন কর্মচারী ডাকাতির দায়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করিলেন। কিন্তু কাহাকেও হত্যা করেন নাই। এ কর্মচারী ইচ্ছা করিলেন তাহাদের হস্ত কর্তন করিতে অথবা তাহাদেরকে হত্যা করিতে। কিন্তু কোনটি করা ঠিক হইবে সাব্যস্ত করিয়া অবশেষে এ ব্যাপারটি উমর (রাঃ)-কে লিখিয়া জানাইলেন। উমর (রাঃ) উত্তরে লিখিলেন, যদি তুমি সহজ শাস্তি প্রদান কর তবে তাহাই উত্তম হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে যদি কোন ব্যক্তি বাজারের সামগ্ৰী হইতে এক-চতুর্থাংশ দীনারের সমমানের মাল চুরি করে যাহা উহার মালিক একটি পাত্রে রাখিয়াছে এবং একটিকে অন্যটির সহিত মিলাইয়া রাখিয়াছে, তবে চোরের হাত কাটা যাইবে, ঐ মালের মালিক তথায় উপস্থিত থাকুক অথবা না থাকুক, দিনে চুরি হইয়া থাকুক অথবা রাত্রে। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি চুরি করে এমন কিছু যাহার মূল্য দীনারের এক-চতুর্থাংশ। অতঃপর সে ধরা পড়ে উহা মালের প্রকৃত মালিককে প্রত্যর্পণ করে, তবুও তাহার হাত কাটা যাইবে। ইহার উদাহরণ এইরূপঃ যেমন কোন ব্যক্তি কোন মাদক দ্রব্য পান করিল, যাহার গন্ধ তাহার মুখ হইতে নিঃসৃত হইতেছে, কিন্তু মাতাল হইতেছে না, তবে তাহার উপর শাস্তির আদেশ জারি হইবে। কেননা সে ব্যক্তি উহা মাদকতার জন্যই খাইয়াছিল যদিও সে মাতাল হয় নাই। তদ্রুপ চোরও মাল লইয়া যাওয়ার জন্যই চুরি করিয়াছিল, যদিও লইয়া যাইতে সক্ষম হয় নাই। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যদি কতিপয় ব্যক্তি কোন ঘরে চুরি করার নিমিত্তে প্রবেশ করে আর তথা হইতে একটি বাক্স বা কাষ্ঠ অথবা টুকরি সকলে মিলিয়া উঠাইয়া লয় যদি উহার মূল্য এক দীনারের এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ হয় তাহা হইলে ঐ সকল ব্যক্তির হাত কাটিতে হইবে। যদি প্রত্যেকে পৃথক পৃথক মাল লইয়া বাহির হয়, তবে যাহার এক-চতুর্থাংশ দীনারের পরিমাণ হয় তাহার হাত কাটা যাইবে। আর যাহার মাল এই পরিমাণের না হইবে তাহার হাত কাটা যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মত এই যে, যদি কোন ঘরে শুধু একজন লোকই থাকে আর ঐ ঘর হইতে চোর কোন দ্রব্য চুরি করে, কিন্তু ঘরের বাহিরে লইয়া যাইতে সক্ষম না হয় তবে তাহার হাত কর্তন করা হইবে না, যতক্ষণ না ঐ মাল ঘরের বাহিরে লইয়া যায়। যদি ঘরে পৃথক পৃথক কয়েকটি কামরা থাকে আর প্রতি কামরায় লোক থাকে, এমতাবস্থায় যদি চোর কোন কামরা হইতে কাহারও মাল চুরি করিয়া কামরার বাহিরে লইয়া যায়, কিন্তু ঘরের বাহিরে লইয়া যায় নাই, তবুও তাহার হাত কাটা হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে যে দাস-দাসী ঘরে যাতায়াত করে আর তাহার প্রভু তাহার উপর পূর্ণ নির্ভরশীল থাকে, যদি সে স্বীয় প্রভুর কোন মাল চুরি করে তাহা হইলে তাহার হাত কাটিতে হইবে না। এইরূপে যে দাস বা দাসী ঘরে যাতায়াত করে না, আর প্রভু তাহার উপর নির্ভরও করে না, সেও যদি স্বীয় প্রভুর মাল চুরি করিয়া থাকে তবে তাহার হাত কাটিতে হইবে না। যদি ঐ দাস বা দাসী স্বীয় প্রভুর স্ত্রীর মাল অথবা স্বীয় প্রভুর স্বামীর মাল চুরি করে তাহা হইলেও তাহার হাত কাটিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অনুরূপভাবে যদি স্বামী স্ত্রীর এমন মাল চুরি করে যাহা যেই ঘরে তাহারা উভয়ে অবস্থান করে সেই ঘরে রক্ষিত নহে, বরং অন্য কোন ঘরে রক্ষিত অথবা স্ত্রী স্বীয় স্বামীর এমন মাল চুরি করে যাহা অন্য ঘরে রহিয়াছে তাহা হইলে হাত কাটিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ বালক-বালিকা অথবা কোন বিদেশী ব্যক্তি যে এই দেশের কথা বলিতে পারে না যদি কোন চোর ইহাদের ঘর হইতে চুরি করে তাহা হইলে হাত কাটিতে হইবে। যদি রাস্তা হইতে অথবা ঘরের বাহির হইতে লইয়া যায় তাহা হইলে হাত কাটিতে হইবে না। ইহাদের হুকুম পাহাড়ের ছাগল ও গাছের লটকানো ফলের মতো হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কবর খুলিয়া দীনারের চতুর্থাংশ পরিমাণ মাল চুরি করিয়া নেয় তবে চোরের হাত কাটা হইবে। কেননা কবরও ঘরের মতো একটি রক্ষিত স্থান। কিন্তু যতক্ষণ না কাফন কবর হইতে বাহির করিয়া আনিবে ততক্ষণ হাত কাটিতে হইবে না।
৩৪
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫৩৩
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، أَنَّ عَبْدًا، سَرَقَ وَدِيًّا مِنْ حَائِطِ رَجُلٍ فَغَرَسَهُ فِي حَائِطِ سَيِّدِهِ فَخَرَجَ صَاحِبُ الْوَدِيِّ يَلْتَمِسُ وَدِيَّهُ فَوَجَدَهُ فَاسْتَعْدَى عَلَى الْعَبْدِ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ فَسَجَنَ مَرْوَانُ الْعَبْدَ وَأَرَادَ قَطْعَ يَدِهِ فَانْطَلَقَ سَيِّدُ الْعَبْدِ إِلَى رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلاَ كَثَرٍ " . وَالْكَثَرُ الْجُمَّارُ . فَقَالَ الرَّجُلُ فَإِنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ أَخَذَ غُلاَمًا لِي وَهُوَ يُرِيدُ قَطْعَهُ وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ تَمْشِيَ مَعِيَ إِلَيْهِ فَتُخْبِرَهُ بِالَّذِي سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَمَشَى مَعَهُ رَافِعٌ إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَقَالَ أَخَذْتَ غُلاَمًا لِهَذَا فَقَالَ نَعَمْ . فَقَالَ فَمَا أَنْتَ صَانِعٌ بِهِ قَالَ أَرَدْتُ قَطْعَ يَدِهِ . فَقَالَ لَهُ رَافِعٌ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلاَ كَثَرٍ " . فَأَمَرَ مَرْوَانُ بِالْعَبْدِ فَأُرْسِلَ .
রেওয়ায়ত ৩২. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হিব্বান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক দাস একটি বাগান হইতে একটি খেজুরের চারা চুরি করিয়া স্বীয় প্রভুর বাগানে রোপণ করিল। পরে ঐ বাগানের মালিক তাহার চারার অন্বেষণে বাহির হইল এবং ঐ বাগানে আসিয়া তাহার চারা পাইল। সেই ব্যক্তি ঐ দাসের ব্যাপারে মারওয়ানের নিকট নালিশ করিল। মারওয়ান ঐ দাসকে ডাকিয়া বন্দী করিল এবং তাহার হস্ত কর্তনের ইচ্ছা করিল। ঐ দাসের প্রভু রাফি ইবন খাদীজের নিকট উপস্থিত হইয়া আনুপূর্বিক সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিল। রাফি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শ্রবণ করিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন, ফল কিংবা কোন চারা গাছের জন্য হাত কাটা হইবে না। সে বলিল, মারওয়ান আমার দাসকে বন্দী করিয়া রাখিয়াছে এবং তাহার হাত কাটিতে চায়। আমার ইচ্ছা আপনি আমার সহিত মারওয়ানের নিকট যাইয়া তাহাকে এই হাদীসটি শোনাইয়া দিন। অবশেষে রাফি তাহার সহিত মারওয়ানের নিকট গেলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি তাহার দাসকে বন্দী করিয়া রাখিয়াছ? মারওয়ান বলিলঃ হ্যাঁ, রাফি বললেন, কি করিবে? মারওয়ান বলিল, তাহার হাত কাটিয়া ফেলিব। রাফি বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট শুনিয়াছি, তিনি বলিয়াছেনঃ ফল ও চারা গাছের জন্য হাত কাটা যাইবে না। ইহা শুনিয়া মারওয়ান ঐ গোলামকে ছাড়িয়া দিতে আদেশ করিল।
৩৫
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫৩৪
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْحَضْرَمِيِّ، جَاءَ بِغُلاَمٍ لَهُ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ لَهُ اقْطَعْ يَدَ غُلاَمِي هَذَا فَإِنَّهُ سَرَقَ . فَقَالَ لَهُ عُمَرُ مَاذَا سَرَقَ فَقَالَ سَرَقَ مِرْآةً لاِمْرَأَتِي ثَمَنُهَا سِتُّونَ دِرْهَمًا . فَقَالَ عُمَرُ أَرْسِلْهُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ قَطْعٌ خَادِمُكُمْ سَرَقَ مَتَاعَكُمْ .
রেওয়ায়ত ৩৩. সায়িব ইবন ইয়াযীদ হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হাযরামী (রাঃ) স্বীয় দাসকে উমর (রাঃ)-এর নিকট নিয়া আসিল এবং বলিল, আপনি আমার এই দাসের হাত কাটিয়া ফেলুন। কেননা সে চুরি করিয়াছে। তিনি বলিলেন, কি চুরি করিয়াছে? তিনি বলিলেন, সে আমার স্ত্রীর আয়না চুরি করিয়াছে, যাহার মূল্য হইবে ষষ্ঠ দিরহাম। উমর (রাঃ) বললেন, তাহাকে ছাড়িয়া দাও, তাহার হাত কাটা যাইবে না। সে তোমার চাকর ছিল, তোমার মাল চুরি করিয়াছে।
৩৬
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫৩৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ، أُتِيَ بِإِنْسَانٍ قَدِ اخْتَلَسَ مَتَاعًا فَأَرَادَ قَطْعَ يَدِهِ فَأَرْسَلَ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ لَيْسَ فِي الْخُلْسَةِ قَطْعٌ .
রেওয়ায়ত ৩৪. ইবন শিহাব বর্ণিত, মারওয়ানের নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হইল, যে ব্যক্তি কাহারও মাল অপহরণ করিয়া লইয়া গিয়াছে। মারওয়ান তাহার হাত কাটিতে মনস্থ করিল। অতঃপর ইহার বিধান জিজ্ঞাসা করিবার জন্য যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে পাঠাইল। তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তি কাহারও মাল অপহরণ করে তাহার হাত কাটা হইবে না।
৩৭
মুয়াত্তা মালিক # ৪১/১৫৩৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، أَنَّهُ أَخَذَ نَبَطِيًّا قَدْ سَرَقَ خَوَاتِمَ مِنْ حَدِيدٍ فَحَبَسَهُ لِيَقْطَعَ يَدَهُ فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ عَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَوْلاَةً لَهَا يُقَالُ لَهَا أُمَيَّةُ قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَجَاءَتْنِي وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَىِ النَّاسِ فَقَالَتْ تَقُولُ لَكَ خَالَتُكَ عَمْرَةُ يَا ابْنَ أُخْتِي أَخَذْتَ نَبَطِيًّا فِي شَىْءٍ يَسِيرٍ ذُكِرَ لِي فَأَرَدْتَ قَطْعَ يَدِهِ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَتْ فَإِنَّ عَمْرَةَ تَقُولُ لَكَ لاَ قَطْعَ إِلاَّ فِي رُبُعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا . قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَأَرْسَلْتُ النَّبَطِيَّ . قَالَ مَالِكٌ وَالأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا فِي اعْتِرَافِ الْعَبِيدِ أَنَّهُ مَنِ اعْتَرَفَ مِنْهُمْ عَلَى نَفْسِهِ بِشَىْءٍ يَقَعُ الْحَدُّ وَالْعُقُوبَةُ فِيهِ فِي جَسَدِهِ . فَإِنَّ اعْتِرَافَهُ جَائِزٌ عَلَيْهِ وَلاَ يُتَّهَمُ أَنْ يُوقِعَ عَلَى نَفْسِهِ هَذَا . قَالَ مَالِكٌ وَأَمَّا مَنِ اعْتَرَفَ مِنْهُمْ بِأَمْرٍ يَكُونُ غُرْمًا عَلَى سَيِّدِهِ فَإِنَّ اعْتِرَافَهُ غَيْرُ جَائِزٍ عَلَى سَيِّدِهِ . قَالَ مَالِكٌ لَيْسَ عَلَى الأَجِيرِ وَلاَ عَلَى الرَّجُلِ يَكُونَانِ مَعَ الْقَوْمِ يَخْدُمَانِهِمْ إِنْ سَرَقَاهُمْ قَطْعٌ لأَنَّ حَالَهُمَا لَيْسَتْ بِحَالِ السَّارِقِ وَإِنَّمَا حَالُهُمَا حَالُ الْخَائِنِ وَلَيْسَ عَلَى الْخَائِنِ قَطْعٌ . قَالَ مَالِكٌ فِي الَّذِي يَسْتَعِيرُ الْعَارِيَةَ فَيَجْحَدُهَا إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ قَطْعٌ وَإِنَّمَا مَثَلُ ذَلِكَ مَثَلُ رَجُلٍ كَانَ لَهُ عَلَى رَجُلٍ دَيْنٌ فَجَحَدَهُ ذَلِكَ فَلَيْسَ عَلَيْهِ فِيمَا جَحَدَهُ قَطْعٌ . قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا فِي السَّارِقِ يُوجَدُ فِي الْبَيْتِ قَدْ جَمَعَ الْمَتَاعَ وَلَمْ يَخْرُجْ بِهِ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ قَطْعٌ وَإِنَّمَا مَثَلُ ذَلِكَ كَمَثَلِ رَجُلٍ وَضَعَ بَيْنَ يَدَيْهِ خَمْرًا لِيَشْرَبَهَا فَلَمْ يَفْعَلْ فَلَيْسَ عَلَيْهِ حَدٌّ وَمِثْلُ ذَلِكَ رَجُلٌ جَلَسَ مِنِ امْرَأَةٍ مَجْلِسًا وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُصِيبَهَا حَرَامًا فَلَمْ يَفْعَلْ وَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِكَ مِنْهَا فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَيْضًا فِي ذَلِكَ حَدٌّ . قَالَ مَالِكٌ الأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّهُ لَيْسَ فِي الْخُلْسَةِ قَطْعٌ بَلَغَ ثَمَنُهَا مَا يُقْطَعُ فِيهِ أَوْ لَمْ يَبْلُغْ .
রেওয়ায়ত ৩৫. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম এক নিবাতী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিল, যে লোহার আংটি চুরি করিয়াছে। তাহাকে হাত কাটিতে ধরিয়া রাখিল। উমরা বিনতে আবদুর রহমান (রাঃ) তাহার উমাইয়া নামক মুক্ত দাসীকে আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট পাঠাইলেন। আবু বকর (রাঃ) বলিলেনঃ আমি কয়েকজন লোকের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম। ইত্যবসরে ঐ দাসী আমার নিকট আসিয়া বলিতে লাগিল, আপনার খালা উমরা বলিয়াছেন, ভাগনে তুমি অল্প কিছু মালের জন্য একজন গ্রাম্য লোককে আটকাইয়া রাখিয়াছ আর তাহার হাত কাটিতে চাহিতেছ? আমি বলিলাম, হ্যাঁ। সে বলিল, উমরা বলিয়াছেন যে, এক-চতুর্থাংশ দীনারের বিনিময়েই হাত কাটা হইয়া থাকে। অতঃপর আমি তাহাকে ছাড়িয়া দিলাম। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি কোন দাস এইরূপ কোন অন্যায় স্বীকার করে, যাহাতে তাহার উপর হাদ্দ জারি হয় অথবা শাস্তি বর্তায় যাহা তাহার দৈহিক ক্ষতি সাধন করে, (যথাঃ হাত কাটা যায়), তবে তাহা বৈধ। তাহাকে এই দোষারোপ করা হইবে না যে, সে তাহার প্রভুর অনিষ্ট সাধনের নিমিত্ত এই ধরনের অপরাধ স্বীকার করিয়াছে, প্রকৃতপক্ষে সে উহা করে নাই। মালিক (রহঃ) বলেন, কোন দাস যদি এইরূপ কোন অন্যায় স্বীকার করে যাহার জন্য তাহার প্রভুকে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে হয় এইভাবে যে, প্রভুকে তাহার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, তবে তাহার এই স্বীকারোক্তি বৈধ ধরা যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, যদি কোন শ্রমিক অথবা অন্য কোন ব্যক্তি যে এমন সব লোকের মধ্যে থাকে, যাহাদের সে খিদমত করে সে তাহাদের কোন বস্তু চুরি করিলে হাত কাটা যাইবে না। কেননা সে খেয়ানতকারীর মতো হইল। আর খেয়ানতকারী ব্যক্তির হাত কাটা হয় না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কাহারও কোন দ্রব্য চাহিয়া নেয়, অতঃপর তাহা অস্বীকার করে, তবে তাহার হাত কাটা হইবে না। ইহার উদাহরণ এইরূপঃ যেমন কেহ কাহারও নিকট হইতে ঋণ লইয়া তাহা অস্বীকার করিল তখন তাহার হাত কাটা হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহা একটি সর্বসম্মত বিধান যে, যদি চোর ঘরে ঢুকিয়া মাল একত্র করিয়া নেয় কিন্তু উহা ঘর হইতে বাহির করিল না, তাহা হইলে তাহার হাত কাটা হইবে না। ইহার উদাহরণ এইরূপঃ যেমন কাহারও সম্মুখে পান করিবার জন্য মদ রাখা আছে, কিন্তু সে এখনও উহা পান করে নাই; এমতাবস্থায় তাহাকে মদ্য পানের শাস্তি দেওয়া হইবে না। উহার উদাহরণ এইরূপও হইতে পারে, যেমন কেহ কোন স্ত্রীলোকের নিকট সহবাস করিতে উপবেশন করিল, কিন্তু তাহার লজ্জাস্থানে স্বীয় লজ্জাস্থান প্রবেশ করায় নাই, এমতাবস্থায় তাহার উপর ব্যভিচারের শাস্তি বর্তিবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট একটি সর্বসম্মত বিধান এই যে, ছিনাইয়া লইলে হাত কাটা হইবে না, যদিও ঐ দ্রব্যের মূল্য এক দীনারের চতুর্থাংশ বা তাহার চাইতে অধিক হয়।