তাহাজ্জুদ
অধ্যায়ে ফিরুন
৩৩ হাদিস
০১
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৫৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ رَجُلٍ، عِنْدَهُ رِضًا أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَا مِنِ امْرِئٍ تَكُونُ لَهُ صَلاَةٌ بِلَيْلٍ يَغْلِبُهُ عَلَيْهَا نَوْمٌ إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَجْرَ صَلاَتِهِ وَكَانَ نَوْمُهُ عَلَيْهِ صَدَقَةً ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১. আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে কোন নফল নামায পড়িতে অভ্যস্ত কিন্তু তাহার উপর ঘুমের প্রভাববশত সে নামায আদায় করিতে পারে নাই, তবে আল্লাহ্ তা'আলা তাহাকে তাহার নামাযের সওয়াব প্রদান করিবেন, আর নিদ্রা হইবে তাহার জন্য সদকা (অর্থাৎ নামাযের জন্য তাহাকে হিসাব দিতে হইবে না, উপরন্তু নিয়ত করার সওয়াবও পাইবে।)
০২
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৫৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أَنَامُ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرِجْلاَىَ فِي قِبْلَتِهِ فَإِذَا سَجَدَ غَمَزَنِي فَقَبَضْتُ رِجْلَىَّ فَإِذَا قَامَ بَسَطْتُهُمَا ‏.‏ قَالَتْ وَالْبُيُوتُ يَوْمَئِذٍ لَيْسَ فِيهَا مَصَابِيحُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে ঘুমাইয়া থাকিতাম, আমার দুই পা তাহার কিবলার স্থলে থাকিত। (অবস্থা এই ছিল) তিনি যখন সিজদায় যাইতেন আমাকে চাপ দিতেন, তখন আমি আমার পা দুইটিকে গুটাইয়া লইতাম; যখন তিনি দাঁড়াইতেন আমার পা দুইটিকে আবার লম্বা করিয়া দিতাম। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] বলেন, সেইকালে ঘরগুলিতে বাতি ছিল না।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৫৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لاَ يَدْرِي لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبُّ نَفْسَهُ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ নামাযে তন্দ্রাচ্ছন্ন হইয়া পড়িলে সে যেন বসিয়া পড়ে, যতক্ষণ তন্দ্রা ছুটিয়া না যায়। কেননা তোমাদের কেউ তন্দ্রাবস্থায় নামায পড়িলে, বলা যায় না, হয়তো সে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করিতে গিয়া নিজের নফসকে মন্দ বলিয়া ফেলিবে।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৫৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ امْرَأَةً مِنَ اللَّيْلِ تُصَلِّي فَقَالَ ‏"‏ مَنْ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَقِيلَ لَهُ هَذِهِ الْحَوْلاَءُ بِنْتُ تُوَيْتٍ لاَ تَنَامُ اللَّيْلَ ‏.‏ فَكَرِهَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى عُرِفَتِ الْكَرَاهِيَةُ فِي وَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لاَ يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا اكْلَفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا لَكُمْ بِهِ طَاقَةٌ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪. ইসমাইল ইবন আবি হাকিম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈকা স্ত্রীলোককে রাত্রিবেলা নামায পড়িতে শুনিলেন। তিনি বলিলেনঃ ইনি (স্ত্রীলোকটি) কে? (উত্তরে) তাহাকে বলা হইলঃ স্ত্রীলোকটি হাওলা বিনতে তুয়াইত। সে সারারাত্রি ঘুমায় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহাতে অসন্তুষ্ট হইলেন, এমন কি তাহার চেহারা (মুবারক)-এর উপর নারাজি ভাব প্রকাশ পাইল। অতঃপর তিনি ফরমাইলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা পরিশ্রান্ত হন না, যতক্ষণ তোমরা পরিশ্রাত্ত না হও। ততটুকু আমলই কর যতটুকু করার সামর্থ্য রাখ।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৫৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ مَا شَاءَ اللَّهُ حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ أَيْقَظَ أَهْلَهُ لِلصَّلاَةِ يَقُولُ لَهُمُ الصَّلاَةَ الصَّلاَةَ ثُمَّ يَتْلُو هَذِهِ الآيَةَ ‏{‏وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلاَةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لاَ نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى‏}‏
রেওয়ায়ত ৫. আসলাম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) রাত্রে যতক্ষণ আল্লাহ তাওফীক দিতেন নামায পড়িতেন। অতঃপর যখন প্রত্যুষের সময় হইত তিনি ঘরের লোকজনকে জাগাইয়া দিতেন। তাহাদের উদ্দেশ্যে বলিতেন, আস-সালাত, আস-সালাত (নামায, নামায)। অতঃপর কুরআন মজীদের এই আয়াতটি তিলাওয়াত করিতেনঃ (وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَىٰ) এবং তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও ও উহাতে অবিচলিত থাক, আমি তোমার নিকট কোন জীবনোপকরণ চাহি না; আমিই তোমাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য। (সূরা ত্ব-হাঃ)
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৫৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، كَانَ يَقُولُ يُكْرَهُ النَّوْمُ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثُ بَعْدَهَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিটক রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিতেনঃ ইশা (নামায)-এর পূর্বে নিদ্রা এবং পরে আলাপ করা মাকরূহ।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ صَلاَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى يُسَلِّمُ مِنْ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিতেনঃ দিনের কি রাত্রির (নফল) নামায দুই-দুই রাকাআতই। প্রতি দুই রাকাআত পর সালাম ফিরাইবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এই বিষয়ে আমার সিদ্ধান্তও অনুরূপ।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ مِنْهَا بِوَاحِدَةٍ فَإِذَا فَرَغَ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে এগার রাকাআত নামায পড়িতেন, তন্মধ্যে এক রাকাআত বিতর আদায় করিতেন, নামায শেষ করিলে তিনি ডান কাতে শয়ন করিয়া বিশ্রাম করিতেন।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ فَقَالَ ‏ "‏ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَىَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৯. আবূ সালমা ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রহঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছেনঃ রমযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায কেমন হইত? (উত্তরে) তিনি বলিলেনঃ রমযান কি গাইর-রমযান রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাত্রির নামায) এগার রাকাআতের উপর বর্ধিত করিতেন না। তিনি চারি রাকাআত পড়িতেন, তুমি উহার দৈর্ঘ ও সৌন্দর্য সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করিও না। অতঃপর চারি রাকাআত পড়িতেন, তুমি উহার দৈর্ঘ ও সৌন্দর্য সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করিও না। অতঃপর তিন রাকাআত পড়িতেন। আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ অতঃপর আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আপনি যে বিতরের পূর্বে ঘুমান? (উত্তরে) তিনি ফরমাইলেনঃ হে আয়েশা, (মনে রাখিও) আমর চক্ষুদ্ৰয় ঘুমায় বটে কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِاللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ يُصَلِّي إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ بِالصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১০. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রিবেলা তের রাকাআত নামায পড়িতেন। অতঃপর যখন ফজরের আযান শুনিতেন, তখন হালকা দুই রাকাআত নামায পড়িতেন।
১১
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَاتَ لَيْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - وَهِيَ خَالَتُهُ - قَالَ فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ - أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ - اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي - قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ - فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي وَأَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَوْتَرَ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى أَتَاهُ الْمُؤَذِّنُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১১. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি তাঁহার খালা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী মায়মুনা (রাঃ)-এর নিকট রাত্রি যাপন করিতেছিলেন। তিনি বলিয়াছেনঃ আমি বিছানার প্রস্থে শুইয়াছিলাম আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাহার পরিবার শুইয়াছিলেন বিছানার দৈর্ঘে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমাইয়া পড়িলেন। তারপর অর্ধ রাত্রি অতিবাহিত হওয়ার কিছু পূর্বে অথবা পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হইলেন এবং বসিলেন, তারপর চেহারা (মুবারক)-এ হাত সঞ্চালন করিয়া ঘুমের আমেজ দূর করিলেন। অতঃপর সূরা আল-ইমরানের শেষের দশটি আয়াত তিলাওয়াত করিলেন। পরে একটি ঝুলানো পুরাতন মশক বা পাত্রের দিকে দণ্ডায়মান হইলেন, সেখান থেকে পানি লইয়া ওযু করিলেন। এবং উত্তমরূপে ওযু করিলেন, অতঃপর নামায পড়িতে দাঁড়াইলেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ (ইহা দেখিয়া) আমিও দাঁড়াইলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে মত ওযু করিয়াছিলেন সেই মত ওযু করিলাম। অতঃপর তাহার পার্শ্বে দাঁড়াইলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার ডান হাত আমার মাথার উপর রাখিলেন এবং আমার ডান কান ধরিয়া উহাকে মলিতে আরম্ভ করিলেন, অতঃপর তিনি দুই রাকাআত পড়িলেন, তারপর দুই রাকাআত, আবার দুই রাকাআত, আবার দুই রাকাআত, আবার দুই রাকাআত, আবার দুই রাকাআত পড়িলেন। তারপর বিতর পড়িয়া বিশ্রাম করিলেন মুয়াযযিন আসা পর্যন্ত। (মুয়াযযিন আযান দিলেন) তিনি সংক্ষিপ্ত দুই রাকাআত (নামায) পড়িলেন, তারপর বাহির হইয়া ফজরের নামায পড়িলেন।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَهُ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ لأَرْمُقَنَّ اللَّيْلَةَ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَتَوَسَّدْتُ عَتَبَتَهُ - أَوْ فُسْطَاطَهُ - فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ثُمَّ أَوْتَرَ فَتِلْكَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ‏.‏
রেওয়ায়ত ১২. যায়দ ইবন খালিদ জুহানি (রাঃ) বলিয়াছেনঃ (একবার মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করিলাম) অবশ্যই রাসূলুল্লাহ দুই রাকাআত এর নামায কিরূপ হয় অদ্য রাত্রে আমি তাহা অবলোকন করিব। (এই মনস্থ করিয়া) আমি তাহার দরজায় অথবা তাঁবুতে ঠেস দিয়া বসিয়া রহিলাম; অতঃপর রাসূলুল্লাহ দুই রাকাআত দাঁড়াইলেন, আর দীর্ঘ- অনেক দীর্ঘ দুই রাকাআত নামায পড়িলেন, তারপর পূর্বের দুই রাকাআতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত দুই রাকাআত পড়িলেন। তারপর দুই রাকাআত পড়িলেন পূর্বের দুই রাকাআত হইতে সংক্ষিপ্ত, তারপর দুই রাকাআত পড়িলেন, এই দুই রাকাআত পূর্বের দুই রাকাআত অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। তারপর পূর্বের দুই রাকাআতের তুলনায় সংক্ষিপ্ত দুই রাকাআত পড়িলেন। সর্বশেষ বিতর পড়িলেন-এই হইল তের রাকাআত।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে সালাতুল লায়ল (তাহাজ্জুদের নামায) সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ফরমাইলেনঃ সালাতুল-লায়ল' দুই-দুই রাকাআত। অতঃপর যদি প্রভাত হওয়ার আশংকা হয় তবে এক রাকাআত পড়িবে, ইহা আদায়কৃত নামাযগুলিকে তাহার জন্য বিতর-এ (বিজোড়) পরিণত করবে।
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ بَنِي كِنَانَةَ يُدْعَى الْمُخْدَجِيَّ سَمِعَ رَجُلاً، بِالشَّامِ يُكَنَّى أَبَا مُحَمَّدٍ يَقُولُ إِنَّ الْوِتْرَ وَاجِبٌ ‏.‏ فَقَالَ الْمُخْدَجِيُّ فَرُحْتُ إِلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَاعْتَرَضْتُ لَهُ وَهُوَ رَائِحٌ إِلَى الْمَسْجِدِ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِي قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ فَقَالَ عُبَادَةُ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى الْعِبَادِ فَمَنْ جَاءَ بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْهُنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ فَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৪. আবদুল্লাহ ইবন মুহায়রীয (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কেনানা গোত্রের এক ব্যক্তি, যাহাকে মুখদাজী বলা হইত, তিনি শাম দেশের এক ব্যক্তিকে (যাহার উপনাম আবু মুহাম্মদ) বলিতে শুনিয়াছেন যে, বিতর-এর নামায ওয়াজিব। মুখদাজী বলিলেনঃ আমি উবাদা ইবন সামিত (রাঃ)-এর নিকট গেলাম, তিনি তখন মসজিদে গমন করিতেছিলেন। আমি তাহার পথ আটকাইয়া দাঁড়াইলাম। অতঃপর আবু মুহাম্মদ যাহা বলিয়াছেন তাহাকে উহার খবর দিলাম। উবাদা (রাঃ) বলিলেনঃ আবু মুহাম্মদ অসত্য বলিয়াছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছিঃ আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করিয়াছেন। যে ব্যক্তি উহা আদায় করিবে এবং তুচ্ছ ধারণা করিয়া উহার কোন প্রকার হক নষ্ট করিবে না, তাহার জন্য আল্লাহর নিকট এই প্রতিজ্ঞা রহিল যে, তিনি তাহাকে বেহেশতে প্রবেশ করাইবেন। আর যে উহা আদায় করিবে না, তাহার প্রতি আল্লাহর কোন অঙ্গীকার থাকিবে না। তিনি ইচ্ছা করিলে তাহাকে শাস্তি দিবেন এবং ইচ্ছা করিলে তাহাকে জান্নাতেও দাখিল করিতে পারেন।
১৫
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ كُنْتُ أَسِيرُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بِطَرِيقِ مَكَّةَ - قَالَ سَعِيدٌ - فَلَمَّا خَشِيتُ الصُّبْحَ نَزَلْتُ فَأَوْتَرْتُ ثُمَّ أَدْرَكْتُهُ فَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَيْنَ كُنْتَ فَقُلْتُ لَهُ خَشِيتُ الصُّبْحَ فَنَزَلْتُ فَأَوْتَرْتُ ‏.‏ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَلَيْسَ لَكَ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ ‏.‏ فَقُلْتُ بَلَى وَاللَّهِ ‏.‏ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوتِرُ عَلَى الْبَعِيرِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৫. সাঈদ ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে মক্কার পথে ভ্রমণ করিতেছিলাম। সাঈদ (রহঃ) বর্ণনা করিলেনঃ যখন প্রভাত হওয়ার আশংকা করিলাম, তখন বিতর পড়িলাম এবং (তাড়াতাড়ি) আসিয়া তাহার সাথে একত্র হইলাম। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তুমি (এতক্ষণ) কোথায় ছিলে ? আমি (উত্তরে) তাহাকে বলিলামঃ ভোর হইতেছে আশংকা করিয়া নিচে নামিয়া বিতর পড়িয়ছি। ইহা (শুনিয়া) আবদুল্লাহ্ (রাঃ) বললেনঃ তোমার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (কাজের মধ্যে) আদর্শ নাই কি ? আমি বলিলামঃ আল্লাহর কসম, হ্যাঁ আছে। তিনি বলিলেনঃ (মনে রাখ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের উপর বিতর পড়িতেন।
১৬
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৬৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ، فِرَاشَهُ أَوْتَرَ وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يُوتِرُ آخِرَ اللَّيْلِ قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ فَأَمَّا أَنَا فَإِذَا جِئْتُ فِرَاشِي أَوْتَرْتُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৬. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন- আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) শয্যা গ্রহণের ইচ্ছা করিলে বিতর পড়িয়া লইতেন। আর উমর (রাঃ) শেষ রাত্রে বিতর পড়িতেন। সাঈদ ইবন মুসায়্যাব বলেন, (আমার অভ্যাস হইল এই) আমি যখন শয্যা গ্রহণ করিতে আসি তখন বিতর পড়িয়া লই।
১৭
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ عَنِ الْوِتْرِ أَوَاجِبٌ هُوَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَوْتَرَ الْمُسْلِمُونَ ‏.‏ فَجَعَلَ الرَّجُلُ يُرَدِّدُ عَلَيْهِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَقُولُ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَوْتَرَ الْمُسْلِمُونَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট বর্ণনা পৌঁছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে বিতর (নামায) ওয়াজিব কিনা জিজ্ঞাসা করিলেন। (উত্তরে) তিনি বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর পড়িয়াছেন এবং মুসলিমগণও বিতর পড়িয়াছেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ (প্রশ্নকারী) সেই ব্যক্তিটি বারবার তাহাকে জিজ্ঞাসা করিতেছিলেনঃ বিতর ওয়াজিব কি না? (উত্তরে) আবদুল্লাহ (রাঃ) বারবার ইহাই বলিয়াছেন।
১৮
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تَقُولُ مَنْ خَشِيَ أَنْ يَنَامَ حَتَّى يُصْبِحَ فَلْيُوتِرْ قَبْلَ أَنْ يَنَامَ وَمَنْ رَجَا أَنْ يَسْتَيْقِظَ آخِرَ اللَّيْلِ فَلْيُؤَخِّرْ وِتْرَهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৮. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত- তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যাহার এই আশংকা থাকে যে, সে ভোর হওয়া পর্যন্ত ঘুমাইবে, তবে সে ঘুমের পূর্বেই বিতর পড়িয়া লইবে। আর যে ব্যক্তি শেষ রাত্রে জাগিবার ভরসা রাখে সে বিতর পরে (শেষ রাত্রে) পড়িবে।
১৯
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بِمَكَّةَ وَالسَّمَاءُ مُغِيمَةٌ فَخَشِيَ عَبْدُ اللَّهِ الصُّبْحَ فَأَوْتَرَ بِوَاحِدَةٍ ثُمَّ انْكَشَفَ الْغَيْمُ فَرَأَى أَنَّ عَلَيْهِ لَيْلاً فَشَفَعَ بِوَاحِدَةٍ ثُمَّ صَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فَلَمَّا خَشِيَ الصُّبْحَ أَوْتَرَ بِوَاحِدَةٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৯. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নাফি (রহঃ) বলিয়াছেনঃ তিনি মক্কার পথে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন। তখন আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাই আবদুল্লাহ (ইবন উমর) (রাঃ) ভোর হওয়ার আশংকা করিলেন এবং এক রাকাআত বিতর পড়িয়া লইলেন। অতঃপর মেঘ দূরীভূত হইলে তিনি দেখিলেন এখনও রাত্রি কিছু অবশিষ্ট আছে। তখন তিনি আর এক রাকাআত দ্বারা জোড় (নামায) করিয়া নিলেন। অতঃপর দুই-দুই রাকাআত করিয়া আরও নামায পড়িলেন। যখন প্রভাত নিকটবর্তী মনে করিলেন তখন এক রাকাআত বিতর পড়িয়া লইলেন।
২০
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يُسَلِّمُ بَيْنَ الرَّكْعَتَيْنِ وَالرَّكْعَةِ فِي الْوِتْرِ حَتَّى يَأْمُرَ بِبَعْضِ حَاجَتِهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২০. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বিতর-এর এক রাকাআত এবং তৎপূর্বের দুই রাকাআতের মাঝখানে সালাম ফিরাইতেন। এমন কি তাহার প্রয়োজনীয় বিষয়ে নির্দেশও প্রদান করিতেন।
২১
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، كَانَ يُوتِرُ بَعْدَ الْعَتَمَةِ بِوَاحِدَةٍ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَلَيْسَ عَلَى هَذَا الْعَمَلُ عِنْدَنَا وَلَكِنْ أَدْنَى الْوِتْرِ ثَلاَثٌ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২১. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) ইশার পর এক রাকাআত বিতর পড়িতেন। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহার (এক রাকাআত বিতরের) উপর আমাদের আমল নাই। বরং সর্বনিম্ন বিতর-এর সংখ্যা তিন রাকাআত।
২২
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ صَلاَةُالمغرب وتر صلاة النهار ‏.‏ قال مالك من أوتر أول الليل ثم نام ثم قام فبدا له أن يصلي فليصل مثنى مثنى فهو أحب ما سمعت إلى ‏
রেওয়ায়ত ২২. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, মাগরিবের নামায হইল দিনের বিতর। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রির প্রথমভাগে বিতর পড়িয়া ঘুমাইয়াছেন, অতঃপর জাগিয়াছেন, তখন তাহার নামায পড়িবার ইচ্ছা হইল। তবে তিনি দুই দুই রাকাআত করিয়া পড়িবেন। আমি (এই নামায সম্বন্ধে) যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার পছন্দনীয়।
২৩
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ الْبَصْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، رَقَدَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَقَالَ لِخَادِمِهِ انْظُرْ مَا صَنَعَ النَّاسُ ‏.‏ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ قَدْ ذَهَبَ بَصَرُهُ ‏.‏ فَذَهَبَ الْخَادِمُ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ قَدِ انْصَرَفَ النَّاسُ مِنَ الصُّبْحِ ‏.‏ فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ فَأَوْتَرَ ثُمَّ صَلَّى الصُّبْحَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৩. সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) এক রাত্র ঘুমাইলেন। জাগ্রত হওয়ার পর খাদিমকে বলিলেনঃ দেখিয়া আস লোকজন কি করিয়াছে। সেই সময় তাহার দৃষ্টিশক্তি চলিয়া গিয়াছিল। খাদিম গেল এবং প্রত্যাবর্তন করিয়া বলিলঃ লোকজন ফজরের নামায হইতে প্রত্যাবর্তন করিয়াছে। তারপর আবদুল্লাহ্ (রাঃ) দাঁড়াইয়া বিতর পড়িলেন, তারপর ফজর-এর নামায পড়িলেন।
২৪
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَعُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ، وَالْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، قَدْ أَوْتَرُوا بَعْدَ الْفَجْرِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রহঃ) বর্ণনা করেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস, উবাদা ইবন সামিত (রাঃ), কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রাঃ), আবদুল্লাহ ইবন আমির ইবন রাবীআ (রহঃ) (তাহারা প্রত্যেকেই) ভোর হওয়ার পর বিতর পড়িয়াছেন।
২৫
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ مَا أُبَالِي لَوْ أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ وَأَنَا أُوتِرُ، ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৫. আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যদি ফজরের নামায আরম্ভ হইয়া যায় এবং আমি তখন বিতর পড়িতেছি, ইহাতে আমি উৎকণ্ঠা বোধ করি না।
২৬
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৭৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ يَؤُمُّ قَوْمًا فَخَرَجَ يَوْمًا إِلَى الصُّبْحِ فَأَقَامَ الْمُؤَذِّنُ صَلاَةَ الصُّبْحِ فَأَسْكَتَهُ عُبَادَةُ حَتَّى أَوْتَرَ ثُمَّ صَلَّى بِهِمُ الصُّبْحَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৬. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উবাদা ইবন সামিত (রহঃ) এক সম্প্রদায়ের ইমামতি করিতেন। একদিন ফজর পড়িতে গমন করিলেন, তখন মুয়াযযিন ফজরের নামায-এর ইকামত বলিতে লাগিলেন, উবাদা তাহাকে বিরত করিলেন, অতঃপর (প্রথমে) বিতর পড়িলেন। (তারপর) তাহাদের ফজরের নামায পড়াইলেন।
২৭
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৮০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، يَقُولُ إِنِّي لأُوتِرُ وَأَنَا أَسْمَعُ الإِقَامَةَ، أَوْ بَعْدَ الْفَجْرِ ‏.‏ يَشُكُّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ أَىَّ ذَلِكَ قَالَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৭. মালিক (রহঃ) আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি আবদুল্লাহ্ ইবন আমীর ইবন রবী'আ (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, (অনেক সময় এমনও হয়) আমি বিতর পড়ি, এমতাবস্থায় আমি ইকামত শুনিতে পাইতেছি অথবা (তিনি বলিয়াছেন) ফজরের পর। আবদুর রহমান (রহঃ) কোনটি বলিয়াছেন সেই বিষয়ে রবী'আ (রহঃ) দ্বিধা প্রকাশ করিয়াছেন।
২৮
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৮১
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، يَقُولُ إِنِّي لأُوتِرُ بَعْدَ الْفَجْرِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَإِنَّمَا يُوتِرُ بَعْدَ الْفَجْرِ مَنْ نَامَ عَنِ الْوِتْرِ وَلاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يَتَعَمَّدَ ذَلِكَ حَتَّى يَضَعَ وِتْرَهُ بَعْدَ الْفَجْرِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৮. আবদুর রহমান ইবন কাসিম (রহঃ) তাহার পিতা কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ আমি ফজরের পর বিতর পড়ি। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি ঘুমের কারণে বিতর পড়িতে পারে নাই, সে-ই ফজরের পর বিতর পড়িতে পারে। ইচ্ছাপূর্বক কাহারও পক্ষে এরূপ করা ঠিক নহে যে, সে বিতরের নামায রাখিয়া দিবে এবং ফজরের পরে পড়িবে।
২৯
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৮২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ حَفْصَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ عَنِ الأَذَانِ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ تُقَامَ الصَّلاَةُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৯. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, যখন মুয়াযযিন ফজরের নামাযের জন্য আযান দিয়া নীরব হইতেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্ষিপ্ত দুই রাকাআত নামায পড়িতেন। আর ইহা হইত ফজরের নামায আরম্ভ হইবার পূর্বে।
৩০
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৮৩
وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُخَفِّفُ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ حَتَّى إِنِّي لأَقُولُ أَقَرَأَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ أَمْ لاَ
রেওয়ায়ত ৩০. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দুই রাকাআত (সুন্নত) খুবই সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করিতেন, এমন কি আমি (মনে মনে) বলিতাম, তিনি সূরা ফাতিহা পড়িয়াছেন, না পড়েন নাই।
৩১
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৮৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعَ قَوْمٌ الإِقَامَةَ، فَقَامُوا يُصَلُّونَ فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏ "‏ أَصَلاَتَانِ مَعًا أَصَلاَتَانِ مَعًا ‏"‏ ‏.‏ وَذَلِكَ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩১. আবূ সালমা ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এক সম্প্রদায় ইকামত শুনিলেন, (শোনার পর) তাহারা (ফজরের সুন্নত) নামায পড়িতে দাঁড়াইয়া গেলেন। এমন সময়ে তাহাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করিলেন। তিনি (ইহা দেখিয়া) বলিলেনঃ দুই নামায এক সঙ্গে! দুই নামায এক সঙ্গে! ইহা ফজরের নামাযের ঘটনা, ফজরের পূর্বের দুই রাকাআত সম্পর্কে ইহা বলা হইয়াছে।
৩২
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৮৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، فَاتَتْهُ رَكْعَتَا الْفَجْرِ فَقَضَاهُمَا بَعْدَ أَنْ طَلَعَتِ الشَّمْسُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩২. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) ফজরের দুই রাকাআত (সুন্নত) পড়িতে পারেন নাই। তিনি উক্ত দুই রাকাআত নামায সূর্যোদয়ের পর কাযা পড়িলেন।
৩৩
মুয়াত্তা মালিক # ৭/২৮৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَّهُ صَنَعَ مِثْلَ الَّذِي صَنَعَ ابْنُ عُمَرَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৩. ইবন উমর (রাঃ) যেরূপ (দুই রাকাআত সুন্নত কাযা) করিয়াছেন কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রাঃ)-ও সেইরূপ কাযা পড়িয়াছেন।