১০২ হাদিস
০১
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩২৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فِي سَفَرِهِ إِلَى تَبُوكَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার তাবুক সফরকালে যোহর ও আসরের নামায একত্রে পড়িয়াছিলেন।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩২৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُمْ، خَرَجُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ تَبُوكَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ - قَالَ - فَأَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ دَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ إِنَّكُمْ سَتَأْتُونَ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَيْنَ تَبُوكَ وَإِنَّكُمْ لَنْ تَأْتُوهَا حَتَّى يَضْحَى النَّهَارُ فَمَنْ جَاءَهَا فَلاَ يَمَسَّ مِنْ مَائِهَا شَيْئًا حَتَّى آتِيَ ‏"‏ ‏.‏ فَجِئْنَاهَا وَقَدْ سَبَقَنَا إِلَيْهَا رَجُلاَنِ وَالْعَيْنُ تَبِضُّ بِشَىْءٍ مِنْ مَاءٍ فَسَأَلَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ هَلْ مَسِسْتُمَا مِنْ مَائِهَا شَيْئًا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالاَ نَعَمْ ‏.‏ فَسَبَّهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَهُمَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ ثُمَّ غَرَفُوا بِأَيْدِيهِمْ مِنَ الْعَيْنِ قَلِيلاً قَلِيلاً حَتَّى اجْتَمَعَ فِي شَىْءٍ ثُمَّ غَسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهِ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ أَعَادَهُ فِيهَا فَجَرَتِ الْعَيْنُ بِمَاءٍ كَثِيرٍ فَاسْتَقَى النَّاسُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يُوشِكُ يَا مُعَاذُ إِنْ طَالَتْ بِكَ حَيَاةٌ أَنْ تَرَى هَا هُنَا قَدْ مُلِئَ جِنَانًا ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২. আবুত তুফায়েল আমির ইবন ওয়াসিলা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, মুআয ইবন জবল (রাঃ) তাহাকে বলিয়াছেনঃ তাহারা তাবুকের যুদ্ধের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফরে বাহির হইলেন। (সেই সফরে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়িতেন। (মুআয) বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন নামাযে দেরি করিলেন, অতঃপর তিনি আগমন করিলেন এবং যোহর ও আসর একত্রে পড়িলেন। আবার ভিতরে গেলেন, পুনরায় বাহির হইলেন, তারপর মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়িলেন। অতঃপর বলিলেনঃ তোমরা আগামীকাল ইনশাআল্লাহ তবুকের ঝর্ণার কাছে পৌছিয়া যাইবে। তোমরা দিনের প্রথমাংশেই সেইখানে পৌছিবে। যে অগ্রে সেই স্থানে পৌছে, আমি না আসা পর্যন্ত সেই ব্যক্তি যেন উহার সামান্যতম পানিও স্পর্শ না করে। অতঃপর আমরা সেখানে পৌছিলাম। কিন্তু আমাদের আগেভাগে সেখানে দুইজন লোক পৌছিয়া গিয়াছিল। আর ঝর্ণা হইতে অতি সামান্য পানি নির্গত হইতেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত ব্যক্তিদ্বয়কে জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তোমরা কি ইহার পানি হইতে কিছু স্পর্শ করিয়াছ? তাহারা উভয়ে হ্যাঁসূচক উত্তর দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদিগকে অনেক তিরস্কার করিলেন এবং আল্লাহর যতটুকু ইচ্ছা ততটুকু তাহদের সম্পর্কে বলিলেন। তারপর তাহারা আঁজলা ভরিয়া অল্প অল্প করিয়া কিছু পানি কোন এক পাত্রে জমা করিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পানিতে তাহার উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুইলেন এবং সেই পানি ঝর্ণায় নিক্ষেপ করিলেন যদ্দরুন ঝর্ণ হইতে ফল্গুধারার মত অনেক পানি উঠিতে লাগিল। লোকজন ঝর্ণা হইতে পানি পান করিয়া তৃষ্ণা নিবারণ করিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে মুআয, সম্ভবত তুমি দীর্ঘায়ু লাভ করিবে এবং তুমি এ ঝর্ণার পানি দ্বারা এই স্থানের অনেক বাগবাগিচায় পূর্ণভাবে পানি সেচ হইতে দেখিবে।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩২৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَجِلَ بِهِ السَّيْرُ يَجْمَعُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যদি (কোন কারণবশত) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্রুত ভ্রমণ করিতে হইত, তবে তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়িতেন।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩২৯
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلاَ سَفَرٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, ভয়-ভীতিজনিত কোন কারণ ছাড়া এবং সফর ব্যতিরেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যোহর ও আসর একসঙ্গে এবং মাগরিব ও ইশা এক সঙ্গে পড়াইয়াছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমার মতে ইহা বৃষ্টির জন্য ছিল।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا جَمَعَ الأُمَرَاءُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فِي الْمَطَرِ جَمَعَ مَعَهُمْ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৫. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আমীরগণ বর্ষণকালে মাগরিব ও ইশার নামাযকে একত্রে পড়িলে আবদুল্লাহু ইবন উমর (রাঃ) তাহাদের সঙ্গে (উক্ত দুই ওয়াক্তের) নামায একত্রে পড়িতেন।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ سَأَلَ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ هَلْ يُجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فِي السَّفَرِ فَقَالَ نَعَمْ لاَ بَأْسَ بِذَلِكَ أَلَمْ تَرَ إِلَى صَلاَةِ النَّاسِ بِعَرَفَةَ
ইয়াহিয়া আমার কাছে মালেক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, "তুমি কি সফরে যোহর ও আসরের সাথে যোগ দিতে পারবে?" তিনি বললেন, হ্যাঁ, এতে কোনো ক্ষতি নেই, আপনি কি লোকদের আরাফার নামাজ পড়তে দেখেননি?
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَسِيرَ يَوْمَهُ جَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَسِيرَ لَيْلَهُ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৬. ইবন শিহাব (রহঃ) সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেনঃ সফরে যোহর ও আসরকে পর্যায়ক্রমে একত্রে পড়া যায় কিনা? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইহাতে কোন দোষ নাই, আরাফাতে লোকজনের নামাযের প্রতি (যাহা এক সঙ্গে পড়া হয়) তুমি কি লক্ষ কর নাই? আলী ইবন হুসায়ন (রাঃ) বলতেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনে সফরের ইচ্ছা করিলে যোহর ও আসর একযোগে পড়িতেন। আর রাত্রে সফরের ইচ্ছা করিলে মাগরিব ও ইশা একত্রে পড়িতেন।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ آلِ خَالِدِ بْنِ أَسِيدٍ أَنَّهُ سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّا نَجِدُ صَلاَةَ الْخَوْفِ وَصَلاَةَ الْحَضَرِ فِي الْقُرْآنِ وَلاَ نَجِدُ صَلاَةَ السَّفَرِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ يَا ابْنَ أَخِي إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ بَعَثَ إِلَيْنَا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم وَلاَ نَعْلَمُ شَيْئًا فَإِنَّمَا نَفْعَلُ كَمَا رَأَيْنَاهُ يَفْعَلُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৭. খালিদ ইবন আসীদ (রহঃ)-এর বংশের জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করিলেনঃ হে আবূ আবদুর রহমান। আমরা সালাতুল খওফ (ভয়জনিত অবস্থায় নামায) ও সালাতুল হাযর (মুকীম অবস্থায় নামায)-এর উল্লেখ কুরআনে পাই, কিন্তু সালাতুস সফর (সফরের নামাযের কথা তো কুরআনে) পাই না? আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ হে আমার ভাতিজা আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের নিকট যখন মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রেরণ করিয়াছেন, তখন আমরা কিছু জানিতাম না, ফলে আমরা তাহাকে যেরূপ করিতে দেখিয়াছি সেরূপ করিয়া থাকি।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ وَزِيدَ فِي صَلاَةِ الْحَضَرِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮. নবী করীম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, সফরে এবং হাযরে (মুকীম থাকাকালীন) দুই-দুই রাকাআতই ফরয করা হয়, অতঃপর সফরের নামায পূর্বাবস্থায় বাকি রাখা হয়, আবাসের নামাযে বৃদ্ধি করা হয়।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ لِسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ مَا أَشَدَّ مَا رَأَيْتَ أَبَاكَ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ فِي السَّفَرِ فَقَالَ سَالِمٌ غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَنَحْنُ بِذَاتِ الْجَيْشِ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ بِالْعَقِيقِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৯. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেনঃ আপনি আপনার পিতাকে সফরে মাগরিবের নামায সর্বাধিক কতটুকু বিলম্বে পড়িতে দেখিয়াছেন? তখন সালিম (রহঃ) বলিলেনঃ আমরা যখন যাতুল-জায়শ নামক স্থানে, তখন সূর্যস্ত হয়, তিনি মাগরিবের নামায আকীক নামক স্থানে গিয়া পড়িয়াছেন। (দুই স্থানের দূরত্ব ৭ মাইল)
১১
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا خَرَجَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا قَصَرَ الصَّلاَةَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১০. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে বাহির হইলে যুলহুলায়ফা[1] নামক স্থানে নামায কসর পড়িতেন।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ رَكِبَ إِلَى رِيمٍ فَقَصَرَ الصَّلاَةَ فِي مَسِيرِهِ ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ نَحْوٌ مِنْ أَرْبَعَةِ بُرُدٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১১. সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) বর্ণনা করেন- তাহার পিতা সওয়ারীতে আরোহণ করিয়া রীম[1] নামক স্থানে যান এবং তিনি এতটুকু পথ ভ্রমণে নামায কসর পড়িয়াছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, উক্ত স্থানটির দূরত্ব অন্তত চার বরীদ[2] হইবে।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩৮
حَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، رَكِبَ إِلَى ذَاتِ النُّصُبِ فَقَصَرَ الصَّلاَةَ فِي مَسِيرِهِ ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَبَيْنَ ذَاتِ النُّصُبِ وَالْمَدِينَةِ أَرْبَعَةُ بُرُدٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১২. সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সওয়ার হইয়া যাতুন-নুসুব (ذات النصب) নামক স্থানের দিকে গমন করিলেন। তিনি তাহার এই পরিমাণ যাত্রায় নামায কসর পড়িলেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, যাতুন-নুসুব ও মদীনার মধ্যে ব্যবধান হইল চার বরীদ।
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৩৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ إِلَى خَيْبَرَ فَيَقْصُرُ الصَّلاَةَ ‏.‏
ইয়াহিয়া আমার কাছে মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন নাফি থেকে ইবনে উমর থেকে যে তিনি খায়বার যেতেন এবং নামায সংক্ষিপ্ত করতেন।
১৫
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقْصُرُ الصَّلاَةَ فِي مَسِيرِهِ الْيَوْمَ التَّامَّ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) খায়বরের দিকে সফর করিতেন এবং নামায কসর পড়িতেন। সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পূর্ণ একদিনের সফরে কসর পড়িতেন।
১৬
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ الْبَرِيدَ فَلاَ يَقْصُرُ الصَّلاَةَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৪. নাফি' (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে এক বরীদ সফর করিতেন কিন্তু নামায কসর পড়িতেন না।
১৭
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَ يَقْصُرُ الصَّلاَةَ فِي مِثْلِ مَا بَيْنَ مَكَّةَ وَالطَّائِفِ وَفِي مِثْلِ مَا بَيْنَ مَكَّةَ وَعُسْفَانَ وَفِي مِثْلِ مَا بَيْنَ مَكَّةَ وَجُدَّةَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ أَرْبَعَةُ بُرُدٍ وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا تُقْصَرُ إِلَىَّ فِيهِ الصَّلاَةُ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ لاَ يَقْصُرُ الَّذِي يُرِيدُ السَّفَرَ الصَّلاَةَ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ بُيُوتِ الْقَرْيَةِ وَلاَ يُتِمُّ حَتَّى يَدْخُلَ أَوَّلَ بُيُوتِ الْقَرْيَةِ أَوْ يُقَارِبُ ذَلِكَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৫. মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) মক্কা হইতে তায়েফ অথবা মক্কা হইতে উসফান বা মক্কা হইতে জিদ্দার সমান দূরত্বের স্থানে সফরে বাহির হইলে কসর পড়িতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বর্ণনা করেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, উক্ত পথের দূরত্ব চার বরীদ পরিমাণ। তিনি আরও বলিয়াছেন যে, নামায কসর পড়ার জন্য এতটুকু ব্যবধান বা দূরত্ব (مسافت) আমার নিকট পছন্দনীয়। মালিক (রহঃ) আরও বলেন, যে ব্যক্তি সফরের নিয়ত করে, সে যতক্ষণ নিজের পল্লীর গৃহাদি ছাড়িয়া না যাইবে, ততক্ষণ নামায কসর পড়িবে না। অনুরূপ ফেরার পথেও যতক্ষণ নিজ গ্রামের সর্বপ্রথম গৃহ বা উহার নিকটতম স্থান পর্যন্ত না পৌছিবে নামায পূর্ণ পড়িবে না।
১৮
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ أُصَلِّي صَلاَةَ الْمُسَافِرِ مَا لَمْ أُجْمِعْ مُكْثًا وَإِنْ حَبَسَنِي ذَلِكَ اثْنَتَىْ عَشْرَةَ لَيْلَةً ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৬. সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলিতেনঃ আমি যতক্ষণ অবস্থান করার নিয়ত না করি ততক্ষণ মুসাফিরের মত নামায পড়িতে থাকি, যদিও বা এই অবস্থায় বার রাত্রি পর্যন্ত আবদ্ধ থাকি।
১৯
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، أَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ لَيَالٍ يَقْصُرُ الصَّلاَةَ إِلاَّ أَنْ يُصَلِّيَهَا مَعَ الإِمَامِ فَيُصَلِّيهَا بِصَلاَتِهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৭. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবন উমর (রাঃ) মক্কায় দশ রাত্রি পর্যন্ত অবস্থান করিয়াছিলেন এবং নামায কসর পড়িয়াছিলেন। কেবল ইমামের সাথে নামায পড়িলে তখন ইমামের নামাযের মতই পড়িতেন।
২০
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، قَالَ مَنْ أَجْمَعَ إِقَامَةً أَرْبَعَ لَيَالٍ وَهُوَ مُسَافِرٌ أَتَمَّ الصَّلاَةَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ ‏.‏ وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ صَلاَةِ الأَسِيرِ فَقَالَ مِثْلُ صَلاَةِ الْمُقِيمِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ مُسَافِرًا ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৮. আতা খোরাসানী (রহঃ) সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি চারি রাত্রি পর্যন্ত ইকামতের নিয়ত করিবে মুসাফির হওয়া সত্ত্বেও সে নামায পূর্ণই পড়িবে। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা আমার পছন্দনীয় বটে। মালিক (রহঃ)-কে কয়েদীদের নামায সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলিলেনঃ মুকীমের মতই নামায পড়িবে, কিন্তু যদি সে মুসাফির হয় (তবে কসর পড়িবে)।
২১
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، كَانَ إِذَا قَدِمَ مَكَّةَ صَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ يَا أَهْلَ مَكَّةَ أَتِمُّوا صَلاَتَكُمْ فَإِنَّا قَوْمٌ سَفْرٌ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৯. সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তাহার পিতা আবদুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) যখন মক্কায় আসিতেন তখন তাহাদিগকে দুই রাকাআত নামায পড়াইতেন। (নামায শেষে) বলিতেনঃ হে মক্কাবাসীরা! তোমরা তোমাদের নামায পূর্ণ কর, কেননা আমরা মুসাফির। আসলাম তাহার পিতা হইতে, তিনি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হইতে অনুরূপ রেওয়ায়ত বর্ণনা করিয়াছেন।
২২
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏
ইয়াহিয়া আমার কাছে মালিকের কাছ থেকে জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে তার পিতা থেকে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে একই কথা বর্ণনা করেছেন।
২৩
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يُصَلِّي وَرَاءَ الإِمَامِ بِمِنًى أَرْبَعًا فَإِذَا صَلَّى لِنَفْسِهِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২০. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) ইমামের ইকতিদা করিয়া নামায পড়িলে মিনাতে চারি রাকাআত পড়িতেন। আর একা পড়িলে তখন দুই রাকাআতই পড়িতেন।
২৪
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৪৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ صَفْوَانَ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَعُودُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ صَفْوَانَ فَصَلَّى لَنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقُمْنَا فَأَتْمَمْنَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ২১. ইবন শিহাব (রহঃ) সাফওয়ান ইবন আবদুল্লাহ ইবন সাফওয়ান (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবন সাফওয়ানকে দেখিতে আসিলেন যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন, তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) আমাদের দুই রাকাআত নামায পড়াইলেন। অতঃপর তিনি প্রস্থান করিলেন আর আমরা নামায পূর্ণ করিলাম।
২৫
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُصَلِّي مَعَ صَلاَةِ الْفَرِيضَةِ فِي السَّفَرِ شَيْئًا قَبْلَهَا وَلاَ بَعْدَهَا إِلاَّ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ كَانَ يُصَلِّي عَلَى الأَرْضِ وَعَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সফরে ফরয নামাযের সহিত অন্য কোন নামায পড়িতেন না, আগেও না, পরেও না। অবশ্য তিনি মধ্যরাত্রে মৃত্তিকার উপর নামায পড়িতেন, আর পড়িতেন তাহার উটের হাওদার উপর, উট যে দিকেই মুখ করিয়া থাকুক না কেন।
২৬
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، وَعُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، وَأَبَا، بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانُوا يَتَنَفَّلُونَ فِي السَّفَرِ ‏.‏ قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنِ النَّافِلَةِ فِي السَّفَرِ فَقَالَ لاَ بَأْسَ بِذَلِكَ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, কাসিম ইবন মুহাম্মদ, উরওয়াহ ইবন যুবায়র, আবূ বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ)- তাহারা সকলেই সফরে নফল নামায পড়িতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ)-কে সফরে নফল পড়া সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইলে তিনি বলিয়াছেনঃ দিনে হোক বা রাত্রে হোক, নফল নামায পড়াতে কোন ক্ষতি নাই। তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, কতিপয় আহলে ইলম সফরে নফল পড়িতেন।
২৭
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، قَالَ بَلَغَنِي عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَرَى ابْنَهُ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَتَنَفَّلُ فِي السَّفَرِ فَلاَ يُنْكِرُ عَلَيْهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমার নিকট নাফি' (রহঃ) হইতে রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহার ছেলে উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ)-কে সফরে নফল পড়িতে দেখিতেন, অথচ তিনি নিষেধ করিতেন না।
২৮
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِي الْحُبَابِ، سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهُوَ عَلَى حِمَارٍ وَهُوَ مُتَوَجِّهٌ إِلَى خَيْبَرَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৫. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটি গাধার উপর নামায পড়িতে দেখিয়াছি, তখন গাধাটির মুখ ছিল খায়বরের দিকে।
২৯
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ فِي السَّفَرِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَفْعَلُ ذَلِكَ ‏.‏
ইয়াহইয়া আমার কাছে মালেক থেকে আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের সময় তার পাহাড়ে বসে সালাত পড়তেন, যে দিকেই মুখ করা হতো। আবদুল্লাহ ইবনে দীনার বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমরও তা করতেন
৩০
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فِي السَّفَرِ وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى حِمَارٍ وَهُوَ مُتَوَجِّهٌ إِلَى غَيْرِ الْقِبْلَةِ يَرْكَعُ وَيَسْجُدُ إِيمَاءً مِنْ غَيْرِ أَنْ يَضَعَ وَجْهَهُ عَلَى شَىْءٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৬. আবদুল্লাহ ইবন দীনার (রহঃ) কর্তৃক আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে তাহার সওয়ারীর উপর নামায পড়িতেন সওয়ারী যে দিকেই মুখ করুক না কেন। আবদুল্লাহ্ ইবন দীনার (রহঃ) বলিয়াছেন- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-ও তাহা করিতেন। ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে সফরে গাধার পিঠে নামায পড়িতে দেখিয়ছি অথচ গাধটির মুখ কিবলার দিকে ছিল না, তিনি রুকূ-সিজদা করিতেন ইশারায়, তাহার ললাট কোন কিছুর উপর রাখিতেন না।
৩১
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ، مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَامَ الْفَتْحِ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ مُلْتَحِفًا فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৭. আকীল ইবন আবি তালিব (রাঃ)-এর মাওলা আবূ মুররা (রহঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, উম্মুহানী বিনত আবি তালিব (রাঃ) আবূ মুররার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আট রাকাআত নামায পড়িয়াছেন। তখন তাহার পরিধানে (সর্বাঙ্গে জড়ানো অবস্থায়) একটি মাত্র কাপড় ছিল।
৩২
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ أَنَّ أَبَا مُرَّةَ، مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ، تَقُولُ ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ ابْنَتُهُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ - قَالَتْ - فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ ‏"‏ مَنْ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ أُمُّ هَانِئٍ بِنْتُ أَبِي طَالِبٍ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ مَرْحَبًا بِأُمِّ هَانِئٍ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ قَامَ فَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ مُلْتَحِفًا فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَعَمَ ابْنُ أُمِّي عَلِيٌّ أَنَّهُ قَاتِلٌ رَجُلاً أَجَرْتُهُ فُلاَنُ بْنُ هُبَيْرَةَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ يَا أُمَّ هَانِئٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ أُمُّ هَانِئٍ وَذَلِكَ ضُحًى ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৮. উম্মুহানী বিনতে আবি তালিব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি মক্কা বিজয়ের সালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে গমন করিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গোসল করিতে দেখিলাম। তাহার কন্যা ফাতিমা (রাঃ) একটি কাপড় দিয়া তাহার জন্য পর্দা করিয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ আমি গিয়া তাহার উদ্দেশ্যে আসসালামু আলাইকুম বললাম। তিনি ফরমাইলেন, ইনি কে? আমি বললামঃ আবু তালিবের কন্যা উম্মুহানী। তখন তিনি বললেনঃ উম্মুহনীর জন্য মারহাবা (খোশ আমদেদ)। তিনি যখন গোসল সমাপ্ত করিলেন, একটি মাত্র কাপড় জড়াইয়া আট রাকাআত নামায পড়িলেন। নামায হইতে প্রত্যাবর্তন করিলে আমি বলিলামঃ আমার ভাই আলী (রাঃ) বলিয়াছেন, সে এমন এক ব্যক্তিকে কতল করিবে, যাহাকে আমি আশ্রয় দিয়াছি। সে হইতেছে হুবায়রার সন্তান 'অমুক (তাবরানীর মতে সে হুবাইরার চাচাত ভাই)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে ‘উম্মুহানী, তুমি যাহাকে আশ্রয় দিয়াছ, আমিও তাহাকে আশ্রয় দিলাম। উম্মুহানী বলেন, সময়টি ছিল চাশতের।
৩৩
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي سُبْحَةَ الضُّحَى قَطُّ وَإِنِّي لأُسَبِّحُهَا وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَدَعُ الْعَمَلَ وَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يَعْمَلَهُ خَشْيَةَ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ النَّاسُ فَيُفْرَضَ عَلَيْهِمْ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৯. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনও চাশতের নামায পড়িতে দেখি নাই, আমি কিন্তু চাশতের নামায পড়ি। ব্যাপার হইল এই যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক আমলকে পছন্দ করা সত্ত্বেও বর্জন করিতেন এই ভয়ে যে, লোকেরা তাহার উপর আমল করিতে থাকিবে, পরে তাহা ফরয হইয়া যাইবে।
৩৪
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৫৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تُصَلِّي الضُّحَى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ تَقُولُ لَوْ نُشِرَ لِي أَبَوَاىَ مَا تَرَكْتُهُنَّ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩০. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করা হইয়াছে যে, তিনি চাশতের নামায আট রাকাআত পড়িতেন ও বলিতেনঃ আমার মা-বাবাকে জিন্দা করিয়া পাঠানো হইলেও আমি এই আট রাকাআতকে ছাড়িব না।
৩৫
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَدَّتَهُ، مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ قُومُوا فَلأُصَلِّيَ لَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَنَسٌ فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا قَدِ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ فَنَضَحْتُهُ بِمَاءٍ فَقَامَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفَفْتُ أَنَا وَالْيَتِيمُ وَرَاءَهُ وَالْعَجُوزُ مِنْ وَرَائِنَا فَصَلَّى لَنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩১. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নানী মুলায়কা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খানার দাওয়াত করিয়াছিলেন। তিনি তাহা হইতে আহার করিলেন, তারপর ফরমাইলেনঃ তোমরা দাঁড়াও, আমি তোমাদের জন্য (খায়র ও বরকতের উদ্দেশ্যে) নামায পড়িব। আনাস (রাঃ) বলিলেনঃ আমি আমাদের একটি চাটাই-এর দিকে গেলাম, যাহা দীর্ঘদিন ব্যবহারের দরুন একেবারে কাল হইয়া গিয়াছিল। আমি উহাতে পানি ছিটাইয়া উহা পরিষ্কার করিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াইলেন। আমি এবং ইয়াতিম তাহার পিছনের সারিতে দাঁড়াইলাম। আর বৃদ্ধ (নানী) দাঁড়াইলেন আমাদের পিছনের সারিতে। তিনি আমাদের জন্য (দু'আর উদ্দেশ্যে) দুই রাকাআত নামায পড়িলেন; অতঃপর আমাদের গৃহ ত্যাগ করিলেন।
৩৬
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِالْهَاجِرَةِ فَوَجَدْتُهُ يُسَبِّحُ فَقُمْتُ وَرَاءَهُ فَقَرَّبَنِي حَتَّى جَعَلَنِي حِذَاءَهُ عَنْ يَمِينِهِ فَلَمَّا جَاءَ يَرْفَأُ تَأَخَّرْتُ فَصَفَفْنَا وَرَاءَهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩২. উবায়দুল্লাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন উতবা ইবন মাসউদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন— তিনি বলিয়াছেন, আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিলাম, সময়টা ছিল দুপুর। আমি তখন তাহাকে নফল নামায অবস্থায় পাইলাম, তাই আমি তাহার পিছনে দাঁড়াইলাম। তারপর তিনি আমাকে নিকটে আনিলেন এবং তাহার ডান পার্শ্বে তাহার বরাবর আমাকে দাঁড় করাইলেন। তারপর (يرفأ) ইয়ারফা (উমরের খাদেম) আসিলে আমি পিছনে সরিয়া আসিলাম। তারপর আমরা উভয়েই তাহার পিছনে কাতার করিয়া দাঁড়াইলাম।
৩৭
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلاَ يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلْيَدْرَأْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৩. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যখন তোমরা কেউ নামায পড়, তবে সে সময় তাহার সামনে দিয়া কাহাকেও হাটিতে দিবে না বরং যথাসাধ্য তাহাকে বারণ করবে। এতদসত্ত্বেও যদি সে বিরত না হয়, তবে শক্তি প্রয়োগ করবে। কেননা সে অবশ্যই দুষ্ট লোক।
৩৮
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ، أَرْسَلَهُ إِلَى أَبِي جُهَيْمٍ يَسْأَلُهُ مَاذَا سَمِعَ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَارِّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي فَقَالَ أَبُو جُهَيْمٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو النَّضْرِ لاَ أَدْرِي أَقَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৪. বুসর ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যায়দ ইবন খালিদ জুহনী (রাঃ) তাহাকে আবু জুহায়ম (রাঃ)-এর নিকট ইহা জিজ্ঞাসা করার উদ্দেশ্যে পাঠাইলেন যে, তিনি মুসল্লির সামনে দিয়া চলাচলকারী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে কি শুনিয়াছেন। আবু জুহায়ম (রাঃ) বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ যদি মুসল্লি ব্যক্তির সম্মুখ দিয়া চলাচলকারী জানিত যে, ইহার জন্য তাহার কি পরিণাম হইবে, তবে সে নিশ্চিত মনে করিত যে, মুসল্লি ব্যক্তির সামনে দিয়া চলাচল করা অপেক্ষা তাহার পক্ষে সঠিকভাবে চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা অধিক শ্রেয়। আবু নাযর বলেনঃ আমি বলিতে পারিতেছি না, তিনি চল্লিশ দিন, না চল্লিশ মাস, না চল্লিশ বৎসর বলিয়াছিলেন।
৩৯
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ كَعْبَ الأَحْبَارِ، قَالَ لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يُخْسَفَ بِهِ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৫. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কাব-এ আহবার (রহঃ) বলিয়াছেনঃ মুসল্লির সামনে দিয়া চলাচলকারী যদি জানিত যে, তার পরিণাম কি, তবে সামনে দিয়া হাটিয়া যাওয়ার চাইতে মাটিতে বসিয়া যাওয়া তাহার পক্ষে উত্তম হইত।
৪০
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَمُرَّ، بَيْنَ أَيْدِي النِّسَاءِ وَهُنَّ يُصَلِّينَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মেয়েরা যখন নামায পড়ে তখন তাহাদের সম্মুখ দিয়া চলাকে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) অপছন্দ করিতেন না।
৪১
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ لاَ يَمُرُّ بَيْنَ يَدَىْ أَحَدٍ وَلاَ يَدَعُ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৭. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) (তিনি নিজে) কাহারও সম্মুখ দিয়া চলাচল করিতেন না এবং অন্য কাহাকেও তাহার সামনে দিয়া চলিতে দিতেন না।
৪২
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ أَقْبَلْتُ رَاكِبًا عَلَى أَتَانٍ - وَأَنَا يَوْمَئِذٍ قَدْ نَاهَزْتُ الاِحْتِلاَمَ - وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي لِلنَّاسِ بِمِنًى فَمَرَرْتُ بَيْنَ يَدَىْ بَعْضِ الصَّفِّ فَنَزَلْتُ فَأَرْسَلْتُ الأَتَانَ تَرْتَعُ وَدَخَلْتُ فِي الصَّفِّ فَلَمْ يُنْكِرْ ذَلِكَ عَلَىَّ أَحَدٌ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৮. আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি একটি গাধীর উপর সওয়ার হইয়া আসিলাম। আমি সেই সময় সাবালগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সে উপনীত হইয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মিনাতে লোকদের নামায পড়াইতেছিলেন। আমি কোন একটি কাতারের মাঝ দিয়া চলিলাম, তারপর (সওয়ারী হইতে) অবতরণ করিয়া গাধীকে চরিবার জন্য ছাড়িয়া দিলাম এবং আমি কাতারে শামিল হইলাম। ইহার জন্য আমাকে কেউ কোন তিরস্কার করেন নাই।
৪৩
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، كَانَ يَمُرُّ بَيْنَ يَدَىْ بَعْضِ الصُّفُوفِ وَالصَّلاَةُ قَائِمَةٌ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَأَنَا أَرَى ذَلِكَ وَاسِعًا إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَبَعْدَ أَنْ يُحْرِمَ الإِمَامُ وَلَمْ يَجِدِ الْمَرْءُ مَدْخَلاً إِلَى الْمَسْجِدِ إِلاَّ بَيْنَ الصُّفُوفِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৯. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নামায কায়েম আছে, এমন অবস্থায় সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) কোন কোন সময় কাতারের মাঝ দিয়া চলাচল করিতেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যদি নামায আদায় হইয়া যায় এবং ইমাম নিয়ত করিয়া ফেলেন, তখন কোন ব্যক্তি কাতারের মাঝ দিয়া ব্যতীত অন্য কোন রাস্তায় মসজিদে প্রবেশ করিতে (নামাযে শামিল হওয়ার জন্য) না পারিলে, তাহার জন্য এ ব্যাপারে (কাতারের মধ্য দিয়া প্রবেশ করার) অবকাশ আছে বলিয়া আমি মনে করি।
৪৪
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৬৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ لاَ يَقْطَعُ الصَّلاَةَ شَىْءٌ مِمَّا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪০. মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মুসল্লির সম্মুখ দিয়া যাহা কিছু চলাচল করে, তাহা নামায নষ্ট করে না। এইরূপ বলিয়াছেন আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ)। সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ মুসল্লির সামনে দিয়া যাহা কিছু চলাচল করে উহার কোনটাই নামাযকে নষ্ট করে না।
৪৫
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৭০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ لاَ يَقْطَعُ الصَّلاَةَ شَىْءٌ مِمَّا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي ‏.‏
ইয়াহিয়া আমার কাছে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, ইবনে শিহাব থেকে সালিম ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলতেন, নামাযরত ব্যক্তির সামনে থেকে যে জিনিস চলে যায় তাতে তার নামায ভঙ্গ হয় না।
৪৬
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৭১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَسْتَتِرُ بِرَاحِلَتِهِ إِذَا صَلَّى ‏.‏
ইয়াহিয়া আমাকে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শুনেছেন যে আবদুল্লাহ ইবনে উমর সালাতের সময় তিনি যে পশুতে চড়েছিলেন তা সুত্র হিসাবে ব্যবহার করতেন।
৪৭
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৭২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، كَانَ يُصَلِّي فِي الصَّحْرَاءِ إِلَى غَيْرِ سُتْرَةٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) উটের পিঠের হাড় দ্বারা সুতরা করিতেন। হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তিনি সুতরা সামনে না করিয়া মরুভূমিতে নামায পড়িতেন। (কারণ সেখানে লোকজনের চলাচল তেমন ছিল না।)
৪৮
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৭৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْقَارِئِ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ إِذَا أَهْوَى لِيَسْجُدَ مَسَحَ الْحَصْبَاءَ لِمَوْضِعِ جَبْهَتِهِ مَسْحًا خَفِيفًا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪২. আবু জাফর কারী (রহঃ) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে দেখিয়াছি, তিনি সিজদার জন্য যখন নত হইতেন, তখন তাহার কপাল রাখার স্থান হইতে খুব হালকাভাবে হাত বুলাইয়া কাঁকর সরাইতেন।
৪৯
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৭৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا ذَرٍّ، كَانَ يَقُولُ مَسْحُ الْحَصْبَاءِ مَسْحَةً وَاحِدَةً وَتَرْكُهَا خَيْرٌ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪৩. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবু যর (রাঃ) বলিতেনঃ কাঁকর সরাইবার জন্য মাত্র একবার হাত বুলানো যায়। তবে উহা হইতে বিরত থাকাটা লাল বর্ণের উট অপেক্ষাও উত্তম।
৫০
মুয়াত্তা মালিক # ৯/৩৭৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، كَانَ يَأْمُرُ بِتَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ فَإِذَا جَاءُوهُ فَأَخْبَرُوهُ أَنْ قَدِ اسْتَوَتْ كَبَّرَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪৪. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) সফ (কাতারসমূহ) বরাবর করার নির্দেশ দিতেন। যখন এই কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিরা তাহার নিকট আসিত এবং সফসমূহ বরাবর হইয়াছে বলিয়া তাহাকে জানাইত, তখন তিনি তকবীর বলিতেন।