অধ্যায় ২২
অধ্যায়ে ফিরুনحديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَلَ خَيْبَرَ بِشَطْرِ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا مِنْ ثَمَرٍ أَوْ زَرْعٍ، فَكَانَ يُعْطِي أَزْوَاجَهُ مِائَةَ وَسْقٍ: ثَمَانُونَ وَسْقَ تَمْرٍ، وَعِشْرُونَ وَسْقَ شَعِيرٍ؛ فَقَسَمَ عُمَرُ خَيْبَرَ فَخَيَّرَ أَزْوَاجَ النَبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُقْطِعَ لَهُنَّ مِنَ الْمَاءِ وَالأَرْضِ أَوْ يُمْضِيَ لَهُنَّ، فَمِنْهُنَّ مَنِ اخْتَارَ الأَرْضَ وَمِنْهُنَّ مَنِ اخْتَارَ الْوَسْقَ، وَكَانَتْ عَائِشَةُ اخْتَارَتِ الأَرْضَ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারবাসীদেরকে উৎপাদিত ফল বা ফসলের অর্ধেক ভাগের শর্তে জমি বর্গা দিয়েছিলেন। তিনি নিজের সহধর্মিণীদেরকে একশ’ ওয়াসাক দিতেন, এর মধ্যে ৮০ ওয়াসাক খুরমা ও ২০ ওয়াসাক যব। ‘উমার (রাঃ) (তাঁর খিলাফতকালে খায়বারের) জমি বণ্টন করেন। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণীদের ইখতিয়ার দিলেন যে, তাঁরা জমি ও পানি নিবেন, না কি তাদের জন্য ওটাই চালু থাকবে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যামানায় ছিল। তখন তাদের কেউ জমি নিলেন আর কেউ ওয়াসাক নিতে রাজী হলেন। ‘আয়িশাহ (রাঃ) জমিই নিয়েছিলেন। (বুখারী পর্ব ৪১ : /৮, হা: ২৩২৮; মুসলিম ২২/১, হাঃ ১৫৫১)
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أيما مسلم يغرس غرسا مثمرة، أو يزرع زرعا، فيأكل منه طير أو إنسان أو ذو أربع، كان له صدقة». والحديث مروي عن (عليه السلام). (البخاري ج41: /1، ه: 2320، ومسلم 2/2، ه: 1553)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে কোন মুসলিম ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোন ফসল ফলায় আর তা হতে পাখি কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায় তবে তা তার পক্ষ হতে সদাকাহ্ বলে গণ্য হবে।\nমুসলিম (রহ.) ..... আনাস (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। (বুখারী পর্ব ৪১ : /১, হা: ২৩২০; মুসলিম ২২/২, হাঃ ১৫৫৩)
نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيع الفاكهة قبل أن تتلون. وسئل ما معنى اللون؟ قال وهو يرتدي اللون الأحمر. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: انظروا إذا
আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রং ধারণ করার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। জিজ্ঞেস করা হল, রং ধারণ করার অর্থ কী? তিনি বললেন, লাল বর্ণ ধারণ করা। পরে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দেখ, যদি আল্লাহ্ তা‘আলা ফল ধরা বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের কেউ (বিক্রেতা) কিসের বদলে তার ভাইয়ের মাল (ফলের মূল্য) নিবে? (বুখারী পর্ব ৩৪: /৮৭, হা: ২১৯৮; মুসলিম ২২/৩, হাঃ ১৫৫৫)
وكان يقول: لا والله! لن أفعل ذلك. فأتاهما رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: أين الذي يحلف بالله لا يعمل عملا صالحا؟ فقال: يا رسول الله! أنا ما يحب
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার দরজায় ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পেলেন; দু’জন তাদের আওয়াজ উচ্চ করেছিল। তাদের একজন আরেকজনের নিকট ঋণের কিছু মাফ করে দেয়ার এবং সহানুভূতি দেখানোর অনুরোধ করেছিল। আর অপর ব্যক্তি বলছিল, ‘না, আল্লাহ্র কসম! আমি তা করব না।’ আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের দু’জনের কাছে এলেন এবং বললেন, সৎ কাজ করবে না বলে যে আল্লাহ্র নামে কসম করেছে, সে ব্যক্তিটি কোথায়? সে বলল, ‘হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি। সে যা পছন্দ করবে তার জন্য তা-ই হবে।’ (বুখারী পর্ব ৫৩: /১০, হা: ২৭০৫; মুসলিম ২২/৪, হাঃ ১৫৫৭)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقي روح رجل كان قبلك ملكا، فيقول: هل عملت عملا صالحا؟» قال الرجل: كنت آمر عبادي أن أعطي شعبة (رضي الله عنه) روى مثل هذا عن عبد الملك (رضي الله عنه). وروى أبو عوانة رضي الله عنه عن عبد الملك رضي الله عنه كنت أنظر إلى الأثرياء وأعفو عن المسكين، وروى نعيم بن أبي هند عن ربعي رضي الله عنه أنني كنت صاحب مال. قبلت وغفرت للمحتاجين. (البخاري ج34:/17، ه: 2077؛ مسلم 22/6، ه: 1560)
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির রূহের সাথে ফেরেশতা সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন নেক কাজ করেছ? লোকটি উত্তর দিল, আমি আমার কর্মচারীদের আদেশ করতাম যে, তারা যেন সচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় এবং তার উপর পীড়াপীড়ি না করে। রাবী বলেন, তিনি বলেছেন, ফেরেশতারাও তাঁকে ক্ষমা করে দেন।\nআবু মালিক (রহ.) রিব্ঈ ইবনু হিরাশ (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি সচ্ছল ব্যক্তির জন্য সহজ করতাম এবং অভাবগ্রস্তকে অবকাশ দিতাম। শু‘বাহ্ (রহ.) আবদুল মালিক (রহ.) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন। আবু আওয়ানাহ (রহ.) আবদুল মালিক (রহ.) সূত্রে বর্ণনা করেন, আমি সচ্ছলকে অবকাশ দিতাম এবং অভাবগ্রস্তকে মাফ করে দিতাম এবং নু‘আইম ইবনু আবু হিন্দ (রহ.) রিব্ঈ (রহ.) সূত্রে বলেন, আমি সচ্ছল ব্যক্তি হতে গ্রহণ করতাম এবং অভাবগ্রস্তকে ক্ষমা করে দিতাম। (বুখারী পর্ব ৩৪: /১৭, হা: ২০৭৭; মুসলিম ২২/৬, হাঃ ১৫৬০)
روي عن النبي صلى الله عليه وسلم . وقال إن رجل أعمال كان يعطي القروض للناس. وكان إذا رأى محتاجاً قال لعباده سامحوه عسى الله أن يغفر لنا. فيغفر الله تعالى له أن يفعل ذلك (البخاري جزء 34: /18، ه: 2078؛ مسلم 22/6، ه: 1562).
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যবসায়ী লোকদের ঋণ দিত। কোন অভাবগ্রস্তকে দেখলে সে তার কর্মচারীদের বলত, তাকে ক্ষমা করে দাও, হয়তো আল্লাহ্ তা‘আলা আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। এর ফলে আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দেন। (বুখারী পর্ব ৩৪: /১৮, হা: ২০৭৮; মুসলিম ২২/৬, হাঃ ১৫৬২)
1564)
আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। যখন তোমাদের কাউকে (ঋণ পরিশোধের জন্যে) কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয়। (বুখারী পর্ব ৩৮: /১, হা: ২২৮৮; মুসলিম ২২/৭, হাঃ ১৫৬৪)
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يحبس فضل الماء حتى لا ينبت العشب. (البخاري ج42:/2، ه: 2353، ومسلم 22/8، ه: 1566)
আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ঘাস উৎপাদন হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রুখে রাখা যাবে না। (বুখারী পর্ব ৪২: /২, হা: ২৩৫৩; মুসলিম ২২/৮, হাঃ ১৫৬৬)
نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ثمن الكلب وعن بيع الزنا وعن أجر العدة. (البخاري ج34:/113،ه:2237،مسلم 22/9،ه:1567)
আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক (গ্রহণ করা) হতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী পর্ব ৩৪: /১১৩, হা: ২২৩৭; মুসলিম ২২/৯, হাঃ ১৫৬৭)
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلاَبِ
আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنِ اقْتَنَى كَلْبًا إِلاَّ كَلْبَ مَاشِيَةٍ، أَوْ ضَارٍ، نَقَصَ مِنْ عَمَلِهِ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি শিকারী কুকুর কিংবা পশু রক্ষাকারী কুকুর ব্যতীত অন্য কোন কুকুর পোষে, সেই ব্যক্তির আমলের সাওয়াব থেকে প্রত্যহ দুই কীরাত পরিমাণ কমে যায়। (বুখারী পর্ব ৭২: /৬, হাদীস নং ৫৪৮১; মুসলিম হাঃ ১৫৭৪)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اقتنى كلبا في غير زرع أو حماية دابة، نقص من عمله كل يوم قيراط». (البخاري باب 41:
তিনি বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি শস্য ক্ষেতের পাহারা কিংবা পশুর হিফাযতের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে কুকুর পোষে, প্রতিদিন তার নেক আমল হতে এক কীরাত পরিমাণ কমতে থাকবে। (বুখারী পর্ব ৪১: /৩, হা: ২৩২২; মুসলিম ২২/১০, হাঃ ১৫৭৫)
حديث سُفْيَانَ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنِ اقْتَنَى كَلْبًا لاَ يُغْنِي عَنْهُ زَرْعًا وَلاَ ضَرْعًا، نَقَصَ كلَّ يَوْمٍ مِنْ عَمَلِهِ قِيرَاطٌ
সুফিয়ান ইবনে আবী যুহায়রের হাদীস, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি এমন একটি কুকুর পালন করবে যা তার ফসল বা থলি প্রতিস্থাপন করতে পারে না, সে তার একদিনের কাজ এক কিরাত।
تم استجوابه حول التبرع برسوم زراعة القرن. ثم قال: وضع رسول الله صلى الله عليه وسلم قرناً. ووضع أبو طيبة عليه قرونا. ثم أعطاه طعامين. فهي له فإذا ناقشت ذلك مع المالك خفضوا منه مقدار الأجر. وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن خير ما تداويتم به القرن وبط البحر». باستخدام خشب الصندل. وقال أيضاً: لا تؤذوا أولادكم بالضغط على ألسنتهم وأكفهم. بل يجب عليك استخدام خشب الصندل (الدخان). (البخاري ج 76: /13، ه: 5696؛ مسلم 22/11، ه: 1577)
তাঁকে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক দানের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিঙ্গা লাগিয়েছেন। আবু তাইবা তাঁকে শিঙ্গা লাগায়। এরপর তিনি তাকে দু’ সা‘ খাদ্যবস্তু প্রদান করেন। সে তার মালিকের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করলে তারা তাঁর থেকে পারিশ্রমিকের পরিমাণ লাঘব করে দেয়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ তোমরা যে সকল জিনিসের দ্বারা চিকিৎসা কর, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হল শিঙ্গা লাগানো এবং সামুদ্রিক চন্দন কাঠ ব্যবহার করা। তিনি আরো বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের শিশুদের জিহবা, তালু টিপে কষ্ট দিও না। বরং তোমরা চন্দন কাঠ (ধোঁয়া) ব্যবহার করাও। (বুখারী পর্ব ৭৬: /১৩, হা: ৫৬৯৬; মুসলিম ২২/১১, হাঃ ১৫৭৭)
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَمَّا أُنْزِلَ الآيَاتُ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي الرِّبَا، خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَقَرَأَهُنَّ عَلَى النَّاسِ، ثُمَّ حَرَّمَ تِجَارَةَ الْخَمْرِ
আয়েশা (রাঃ) এর হাদিস, যিনি বলেন: যখন সূরা আল-বাকারাহ থেকে সুদ সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয়েছিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে গিয়ে লোকদের কাছে শুনিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি মদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করলেন
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ، عَامَ الْفَتْحِ، وَهُوَ بِمَكَّةَ: إِنَّ اللهَ وَرَسُولَهُ حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ وَالْخِنْزِيرِ وَالأَصْنَامِ [ص: 150] فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ شُحُومَ الْمَيْتَةِ فَإِنَّهَا يُطْلَى بِهَا السُّفُنُ، وَيُدْهَنُ بِهَا الْجُلُودُ، وَيَسْتَصْبِحُ بِهَا النَّاسُ فَقَالَ: لاَ، هُوَ حَرَامٌ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عِنْدَ ذلِكَ: قَاتَلَ اللهُ الْيهُودَ، إِنَّ اللهَ لَمَّا حَرَّمَ شُحُومَهَا جَمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَهُ
তিনি আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মাক্কাহ বিজয়ের বছর মাক্কাহ্’য় অবস্থানকালে বলতে শুনেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শরাব, মৃত জন্তু, শূকর ও মূর্তি কেনা-বেচা হারাম করে দিয়েছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহ্র রাসূল! মৃত জন্তুর চর্বি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তা দিয়ে তো নৌকায় প্রলেপ দেয়া হয় এবং চামড়া তৈলাক্ত করা হয় আর লোকে তা দ্বারা চেরাগ জ্বালিয়ে থাকে। তিনি বললেন, না, তাও হারাম। তারপর আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আল্লাহ্ তা‘আলা ইয়াহূদীদের বিনাশ করুন। আল্লাহ্ যখন তাদের জন্য মৃতের চর্বি হারাম করে দেন, তখন তারা তা গলিয়ে বিক্রি করে মূল্য ভোগ করে। আবু আসিম (রহ.) ....... আতা (রহ.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির (রাঃ)-কে (হাদীসটি) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করতে শুনেছি। (বুখারী পর্ব ৩৪: /১১২, হা: ২২৩৬; মুসলিম ২২/১৩, হাঃ ১৫৮১)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قاتل الله اليهود. فالدهون محرمة عليهم. يبيعونه (بالذوبان) ويتمتعون بثمنه. (البخاري ج34:/103، ه: 2224، مسلم 22/13، ه: 1583)
আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা ইয়াহূদীদের বিনাশ করুন। তাদের জন্য চর্বি হারাম করা হয়েছে। তারা তা (গলিয়ে) বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। (বুখারী পর্ব ৩৪: /১০৩, হা: ২২২৪; মুসলিম ২২/১৩, হাঃ ১৫৮৩)
قال: سألت البراء بن عازب وزيد بن أرقم رضي الله عنهما عن القن؟ فقالا: هو خير مني. فقالا: حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم في الفضة شراء الذهب وبيعه. (البخاري ج34:/80، ه: 2180-2181، مسلم 22/16، ه: 1589)
তিনি বলেন, আমি বারা ইবনু ‘আযিব ও যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)-কে সার্ফ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তাঁরা উভয়ে (একে অপরের সম্পর্কে) বললেন, ইনি আমার চেয়ে উত্তম। এরপর উভয়েই বললেন, আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাকীতে রূপার বিনিময়ে সোনা কেনা বেচা করতে বারণ করেছেন। (বুখারী পর্ব ৩৪: /৮০, হা: ২১৮০-২১৮১; মুসলিম ২২/১৬, হাঃ ১৫৮৯)
قال: نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن بيع الفضة بالفضة، وبيع الذهب بالذهب إلا بسواء، وأباح بيع الذهب بالفضة، وبيع الفضة بالذهب برغبتنا. مسموح به (البخاري جزء 34: / 81، ه: 2182؛ مسلم 22/ 16، ها: 1590)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমান সমান ছাড়া রূপার বদলে রূপার ক্রয়-বিক্রয় এবং সোনার বদলে সোনার ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি রূপার বিনিময়ে সোনার বিক্রয়ে এবং সোনার বিনিময়ে রূপার বিক্রয়ে আমাদের ইচ্ছে অনুযায়ী অনুমতি দিয়েছেন। (বুখারী পর্ব ৩৪: /৮১, হা: ২১৮২; মুসলিম ২২/১৬, হাঃ ১৫৯০)
استخلف رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا في خيبر. فلما جاء بتمر يقال له جنيب، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أهذا كله تمر خيبر؟» فيباع الخلطة بالدراهم، ويشتري الجنيب التمر بالدراهم. (البخاري ج34:/89، ه: 2201-2202، مسلم 22/18، ه: 1593)
আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে খায়বারে তহসীলদার নিযুক্ত করেন। সে জানীব নামক (উত্তম) খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, খায়বারের সব খেজুর কি এ রকমের? সে বলল, না, আল্লাহ্র কসম, হে আল্লাহ্র রাসূল! এরূপ নয়, বরং আমরা দু’ সা’ এর পরিবর্তে এ ধরনের এক সা’ খেজুর নিয়ে থাকি এবং তিন সা’ এর পরিবর্তে এক দু’ সা’। তখন আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এরূপ করবে না। বরং মিশ্রিত খেজুর দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিরহাম দিয়ে জানীব খেজুর ক্রয় করবে। (বুখারী পর্ব ৩৪: /৮৯, হা: ২২০১-২২০২; মুসলিম ২২/১৮, হাঃ ১৫৯৩)
وأعطينا تمرًا مختلطًا، وكنا نبيعه بالصاعين بدلًا من الصاعين. قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا تبيعوا صاعين بدل صاع، ودرهمين بدل درهم. (البخاري جزء 34: /20، ه: 2080؛ (مسلم 22/ 19، ه 1595)
আমাদের মিশ্রিত খেজুর দেয়া হতো, আমরা তা দু’ সা‘-এর পরিবর্তে তার দু’ সা‘ বিক্রি করতাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এক সা‘-এর পরিবর্তে দু’ সা‘ এবং এক দিরহামের পরিবর্তে দু’ দিরহাম বিক্রি করবে না। (বুখারী পর্ব ৩৪: /২০, হা: ২০৮০; মুসলিম ২২/১৯, হাঃ ১৫৯৫)
اشترى مني رسول الله صلى الله عليه وسلم جملا بأوكيتين ودرهم أو درهمين، فلما وصل إلى مكان يقال له سرار، أمر بنحر بقرة. ثم يتم ذلك و
আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট নিকট হতে একটি উট দু’ উকিয়া ও এক দিরহাম কিংবা দু’ দিরহাম দ্বারা কিনে নেন এবং তিনি যখন সিরার নামক স্থানে পৌঁছেন, তখন একটি গাভী যব্হ করার নির্দেশ দেন। অতঃপর তা যব্হ করা হয় এবং সকলে তার গোশ্ত আহার করে। আর যখন তিনি মাদীনাহ্য় উপস্থিত হলেন তখন আমাকে মাসজিদে প্রবেশ করে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে আদেশ করলেন এবং আমাকে উটের মূল্য পরিশোধ করে দিলেন। (বুখারী পর্ব ৫৬: /১৯৯, হা: ৩০৮৯; মুসলিম ২২/২১, হাঃ ৭১৫)
جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم يستدين منه فغلظ في كلامه. وحاول الصحابة تأديبه. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: دعه. لأن للدائنين الحق في التحدث بقسوة. فقال: أعطه جملاً مثل عمره. قالوا يا رسول الله! انها غير موجودة. هناك إبل أفضل من هذه. فقال أعطني إياها. إن خيركم ذلك الدين أفضل على السداد. (البخاري جزء 40: /6، ه: 2306، ومسلم 22/22، ه: 1601)
এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে পাওনার জন্য তাগাদা দিতে এসে রূঢ় ভাষায় কথা বলতে লাগল। এতে সাহাবীগণ তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলেন। তখন আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারদের কড়া কথা বলার অধিকার রয়েছে। তারপর তিনি বললেন, তার উটের সমবয়সী একটি উট তাকে দিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! এটা নেই। এর চেয়ে উত্তম উট রয়েছে। তিনি বললেন, তাই দিয়ে দাও। তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোৎকৃষ্ট, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় উত্তম। (বুখারী পর্ব ৪০: /৬, হা: ২৩০৬; মুসলিম ২২/২২, হাঃ ১৬০১)
حديث عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْتَرَى طَعَامًا مِنْ يَهُودِيٍّ إِلَى أَجَلٍ، وَرَهَنَهُ دِرْعًا مِنْ حَدِيدٍ
আয়েশার হাদিস, যে নবী, ঈশ্বরের প্রার্থনা এবং সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি ইহুদির কাছ থেকে খাবার কিনেছিলেন এবং লোহার ঢাল হিসাবে বন্ধক রেখেছিলেন।
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يمنع جار جاره أن يدفن سارية في جداره". فقال أبو هريرة رضي الله عنه: الذي حدث، أرى أنك تهاون بهذا الحديث. والله أنا دائما
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোন প্রতিবেশি যেন তার প্রতিবেশিকে তার দেয়ালে খুঁটি পুঁততে নিষেধ না করে। তারপর আবু হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, কী হল, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস হতে উদাসীন দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহ্র কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস বলতে থাকব। (বুখারী পর্ব ৪৬: /২০, হা: ২৪৬৩; মুসলিম ২২/২৯, হাঃ ১৬০৯)
حديث سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نفَيْلٍ، أَنَّهُ خَاصَمَتْه أَرْوى فِي حَقِّ، زَعَمَتْ أَنَّهُ انْتَقَصَهُ لَهَا، إِلَى مَرْوَانَ، فَقَالَ سَعِيدٌ: أَنَا أَنْتَقِصُ مِنْ حَقِّهَا شَيْئًا أَشْهدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقولُ: مَنْ أَخَذَ شِبْرًا مِنَ الأَرْضِ ظلْمًا فَإِنَّهُ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ
‘আরওয়া’ নামক এক মহিলা এক সাহাবীর (সা‘ঈদের) বিরুদ্ধে মারওয়ানের নিকট তার ঐ পাওনার ব্যাপারে মামলা দায়ের করল, যা তার ধারণায় তিনি নষ্ট করেছেন। ব্যাপার শুনে সা‘ঈদ (রাঃ) বললেন, আমি কি তার সামান্য হকও নষ্ট করতে পারি? আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জুলুম করে অন্যের এক বিঘত যমীনও আত্মসাৎ করে, কিয়ামতের দিন সাত তবক যমীনের শিকল তার গলায় পরিয়ে দেয়া হবে। ইব্নু আবুয যিনাদ (রহ.) হিশাম (রহ.) থেকে, তিনি তাঁর পিতা নিকট হতে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি (হিশামের পিতা ‘উরওয়াহ) (রাঃ) বলেন, সা‘ঈদ ইব্নু যায়দ (রাঃ) আমাকে বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম (তখন তিনি এ হাদীস বর্ণনা করেন)। (বুখারী পর্ব ৫৯: /২, হা: ৩১৯৮; মুসলিম ২২/৩০, হাঃ ১৬১০)
وحدث خلاف بينه وبين بعض الناس. فلما ذكر لعائشة رضي الله عنها قالت: يا أبا سلمة! كن حذرا من الأرض. لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من أخذ أرضاً بغير حق علق في عنقه سبعة أطنان من الأرض) (البخاري جزء 46:/13، ه: 2453، ومسلم 22/30، ه: 1612).
তাঁর এবং কয়েকজন লোকের মধ্যে একটি বিবাদ ছিল। ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, হে আবু সালামাহ! জমির ব্যাপারে সতর্ক থাক। কেননা, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে নিয়ে নেয়, (কিয়ামাতের দিন) এর সাত তবক জমি তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে। (বুখারী পর্ব ৪৬: /১৩, হা: ২৪৫৩; মুসলিম ২২/৩০, হাঃ ১৬১২)