সিয়াম
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ رَمَضَانَ فَقَالَ " لاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ " .
রেওয়ায়ত ১. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযার উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা রাখিও না। আর চাঁদ না দেখিয়া রোযা খুলিও না। যদি তোমাদের উপর (আকাশ) মেঘাচ্ছন্ন হয়, তবে রোযা খোলার জন্য অন্য দিন হিসাব করিয়া নিও।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ فَلاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ " .
রেওয়ায়ত ২. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ মাস উনত্রিশ দিনেরও হয়, যদি (আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার কারণে) তোমাদের উপর চাঁদ পর্দাবৃত করা হয়, তবে উহার জন্য দিন গণনা করিও।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ رَمَضَانَ فَقَالَ " لاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلاَثِينَ " .
রেওয়ায়ত ৩. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের উল্লেখ করিলেন। (এই প্রসঙ্গে) তিনি বলিলেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখিয়া রোযা রাখিও না এবং চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা খুলিও না। আর যদি আকাশ তোমাদের উপর মেঘাচ্ছাদিত হয়, তবে সংখ্যা ত্রিশ পূর্ণ করিও।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْهِلاَلَ، رُئِيَ فِي زَمَانِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ بِعَشِيٍّ فَلَمْ يُفْطِرْ عُثْمَانُ حَتَّى أَمْسَى وَغَابَتِ الشَّمْسُ . قَالَ يَحْيَى سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ فِي الَّذِي يَرَى هِلاَلَ رَمَضَانَ وَحْدَهُ أَنَّهُ يَصُومُ لاَ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يُفْطِرَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّ ذَلِكَ الْيَوْمَ مِنْ رَمَضَانَ . قَالَ وَمَنْ رَأَى هِلاَلَ شَوَّالٍ وَحْدَهُ فَإِنَّهُ لاَ يُفْطِرُ لأَنَّ النَّاسَ يَتَّهِمُونَ عَلَى أَنْ يُفْطِرَ مِنْهُمْ مَنْ لَيْسَ مَأْمُونًا وَيَقُولُ أُولَئِكَ إِذَا ظَهَرَ عَلَيْهِمْ قَدْ رَأَيْنَا الْهِلاَلَ وَمَنْ رَأَى هِلاَلَ شَوَّالٍ نَهَارًا فَلاَ يُفْطِرْ وَيُتِمُّ صِيَامَ يَوْمِهِ ذَلِكَ فَإِنَّمَا هُوَ هِلاَلُ اللَّيْلَةِ الَّتِي تَأْتِي . قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ إِذَا صَامَ النَّاسُ يَوْمَ الْفِطْرِ - وَهُمْ يَظُنُّونَ أَنَّهُ مِنْ رَمَضَانَ - فَجَاءَهُمْ ثَبَتٌ أَنَّ هِلاَلَ رَمَضَانَ قَدْ رُئِيَ قَبْلَ أَنْ يَصُومُوا بِيَوْمٍ وَأَنَّ يَوْمَهُمْ ذَلِكَ أَحَدٌ وَثَلاَثُونَ فَإِنَّهُمْ يُفْطِرُونَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ أَيَّةَ سَاعَةٍ جَاءَهُمُ الْخَبَرُ غَيْرَ أَنَّهُمْ لاَ يُصَلُّونَ صَلاَةَ الْعِيدِ إِنْ كَانَ ذَلِكَ جَاءَهُمْ بَعْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ .
রেওয়ায়ত ৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)-এর আমলে বিকালে চাঁদ দৃষ্ট হয়। কিন্তু উসমান (রাঃ) সন্ধ্যা হওয়া ও সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত ইফতার করেন নাই। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি মালিক (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি রমযানের চাঁদ একাই দেখিয়াছে সে নিজে রোযা রাখিবে, তাহার জন্য রোযা ভঙ্গ করা সমীচীন নহে। কারণ সে জানে যে, উহা রমযান মাস। আর যে শাওয়ালের চাঁদ একা দেখিয়াছে, সে রোযা ভঙ্গ করিবে না, কারণ লোকে (এই বলিয়া) অপবাদ দিবে যে, আমাদের একজন রোযা রাখে নাই। পক্ষাত্তরে যাহারা নির্ভরযোগ্য নহে তেমন ব্যক্তিদের খেয়াল হইলে তবে তাহারা বলিবে, আমরা অবশ্য চাঁদ দেখিয়াছি। আর যে ব্যক্তি দিনে শাওয়ালের চাঁদ দেখিতে পায়, সে রোযা ইফতার করিবে না বরং সেই দিনের রোযা পূর্ণ করিবে, কারণ উহা আগামী রাতের চাঁদ। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি মালিক (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যদি লোকে ঈদের দিন রোযা রাখে এবং তাহারা উহাকে রোযার দিন বলিয়া মনে করে, তৎপর একজন বিশ্বস্ত লোক আসিয়া তাহাদিগকে বলে, রমযানের চাঁদ তাহাদের রোযার একদিন পূর্বে দেখা গিয়াছে, আর তাহদের এই দিবস হইতেছে একত্রিশের, তবে যেই মুহুর্তে তাহদের নিকট খবর পৌছে সেই মুহুর্তেই তাহারা রোযা ভাঙিয়া ফেলিবে। অবশ্য তাহারা সেই খবর সূর্য হেলিবার পর পাইলে সেই দিন তাহারা ঈদের নামায পড়িবে না।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لاَ يَصُومُ إِلاَّ مَنْ أَجْمَعَ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ .
রেওয়ায়ত ৫. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ যে ফজরের পূর্বে নিয়ত করে নাই, সে রোষা রাখিবে না। ইবন শিহাব (রহঃ) কর্তৃক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) ও হাফসা (রাঃ) হইতে অনুরূপ (মত) বর্ণনা করা হইয়াছে।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَائِشَةَ، وَحَفْصَةَ، زَوْجَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ ذَلِكَ .
ইয়াহিয়া আমাকে মালেক থেকে ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আয়েশা ও হাফসা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীগণও বলেছেন যে,
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ " .
রেওয়ায়ত ৬. সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ সর্বদা লোক মঙ্গলের উপর থাকিবে যতদিন ইফতার সত্বর করিবে।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ " .
ইয়াহিয়া আমার সাথে আল-বার রহমান ইবনে হারমালা আল-আসলা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, "আল্লাহর রাসূল (সা.) -কে ইরশাদ হয়েছে, "যতক্ষণ না তারা দ্রুত রোজা ভঙ্গ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ ভালো থাকবে।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، وَعُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، كَانَا يُصَلِّيَانِ الْمَغْرِبَ حِينَ يَنْظُرَانِ إِلَى اللَّيْلِ الأَسْوَدِ قَبْلَ أَنْ يُفْطِرَا ثُمَّ يُفْطِرَانِ بَعْدَ الصَّلاَةِ وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ .
রেওয়ায়ত ৮. হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) এবং উসমান ইবন আফফান (রাঃ) উভয়ে মাগরিবের নামায পড়িতেন, এমন সময় তখন তাহারা রাত্রির অন্ধকার দেখিতে পাইতেন। (আর ইহা হইত) ইফতার করার পূর্বে। অতঃপর তাহারা (উভয়ে) ইফতার করিতেন। আর ইহা হইত রমযান মাসে।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৩৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، مَوْلَى عَائِشَةَ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى الْبَابِ وَأَنَا أَسْمَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُصْبِحُ جُنُبًا وَأَنَا أُرِيدُ الصِّيَامَ . فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " وَأَنَا أُصْبِحُ جُنُبًا وَأَنَا أُرِيدُ الصِّيَامَ فَأَغْتَسِلُ وَأَصُومُ " . فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَسْتَ مِثْلَنَا قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ . فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَعْلَمَكُمْ بِمَا أَتَّقِي " .
রেওয়ায়ত ৯. আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিলঃ তখন তিনি দরজায় দণ্ডায়মান ছিলেন, আর আমি শুনিতেছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জানাবত অবস্থায় আমার ফজর হয় অথচ আমি রোযা রাখিতে ইচ্ছা করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমারও জানাবত অবস্থায় ফজর হয়, অথচ আমি রোযা রাখিবার ইচ্ছা করি। তাই আমি গোসল করি এবং রোযা রাখি। তখন লোকটি তাহার নিকট আরয করিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি অবশ্য আমাদের মত নহেন। আল্লাহ্ আপনার অতীত ও ভবিষ্যত ক্রটিসমূহ মার্জনা করিয়াছেন। ইহাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হইলেন এবং বলিলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি আর আমি তাকওয়ার বিষয়ে তোমাদের অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত।
১১
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، وَأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمَا قَالَتَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ جِمَاعٍ غَيْرِ احْتِلاَمٍ فِي رَمَضَانَ ثُمَّ يَصُومُ .
রেওয়ায়ত ১০. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা ও উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বপ্নদোষে নহে স্ত্রী সহবাসের কারণে রমযানে জানাবত অবস্থায় ফজর হইত, অতঃপর তিনি রোযা রাখিতেন।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، يَقُولُ كُنْتُ أَنَا وَأَبِي، عِنْدَ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ - وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ - فَذُكِرَ لَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ مَنْ أَصْبَحَ جُنُبًا أَفْطَرَ ذَلِكَ الْيَوْمَ . فَقَالَ مَرْوَانُ أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ لَتَذْهَبَنَّ إِلَى أُمَّىِ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ فَلَتَسْأَلَنَّهُمَا عَنْ ذَلِكَ فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَذَهَبْتُ مَعَهُ حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ فَسَلَّمَ عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّا كُنَّا عِنْدَ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَذُكِرَ لَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ مَنْ أَصْبَحَ جُنُبًا أَفْطَرَ ذَلِكَ الْيَوْمَ . قَالَتْ عَائِشَةُ لَيْسَ كَمَا قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ أَتَرْغَبُ عَمَّا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ لاَ وَاللَّهِ . قَالَتْ عَائِشَةُ فَأَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ جِمَاعٍ غَيْرِ احْتِلاَمٍ ثُمَّ يَصُومُ ذَلِكَ الْيَوْمَ . قَالَ ثُمَّ خَرَجْنَا حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَسَأَلَهَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَتْ مِثْلَ مَا قَالَتْ عَائِشَةُ . قَالَ فَخَرَجْنَا حَتَّى جِئْنَا مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ فَذَكَرَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَا قَالَتَا فَقَالَ مَرْوَانُ أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ لَتَرْكَبَنَّ دَابَّتِي فَإِنَّهَا بِالْبَابِ فَلْتَذْهَبَنَّ إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ فَإِنَّهُ بِأَرْضِهِ بِالْعَقِيقِ فَلْتُخْبِرَنَّهُ ذَلِكَ . فَرَكِبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَرَكِبْتُ مَعَهُ حَتَّى أَتَيْنَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَتَحَدَّثَ مَعَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ سَاعَةً ثُمَّ ذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ لاَ عِلْمَ لِي بِذَاكَ إِنَّمَا أَخْبَرَنِيهِ مُخْبِرٌ .
রেওয়ায়ত ১১. আবু বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমি ও আমার পিতা মারওয়ানের নিকট ছিলাম, মারওয়ান তখন মদীনার শাসনকর্তা। তাহার নিকট উল্লেখ করা হয় যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন- যে ব্যক্তির জানাবত অবস্থায় ফজর হয়, তাহার সেই দিনের রোযা নষ্ট হইয়াছে। মারওয়ান বলিলেন, হে আবদুর রহমান! আমি তোমাদের কসম দিতেছি যে, তুমি অবশ্যই উম্মুল মুমিনীনদ্বয় আয়েশা (রাঃ) ও উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট গমন কর এবং এ বিষয়ে উভয়কে প্রশ্ন কর। অতঃপর আবদুর রহমান গেলেন, আমিও সঙ্গে ছিলাম। আবদুর রহমান তাহাকে সালাম জানাইলেন এবং বলিলেনঃ হে উম্মুল মুমিনীন! আমরা মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট ছিলাম, তাহার নিকট আলোচিত হয় যে, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিয়াছেন- যে ব্যক্তির জানাবত অবস্থায় ফজর হইয়াছে সে সেই দিনের রোযা ভঙ্গ করিয়াছে। আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ আবু হুরায়রা যেমন বলিয়াছেন, (মাসআলা) তেমন নহে। হে আবদুর রহমান! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাহা করিয়াছেন তুমি কি উহা হইতে বিমুখ। হইতে চাও? আবদুর রহমান বলিলেনঃ না, আল্লাহর কসম, (তা হয় না)। আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতেছি যে, তিনি স্বপ্লদোষে নহে, সহবাসের কারণে জানাবত অবস্থায় ফজর করিতেন। অতঃপর সেই দিনের রোযা রাখতেন। (রাবী) বলেনঃ তারপর আমরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট হইতে বাহির হইলাম এবং উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম এবং এই বিষয়ে তাহাকে প্রশ্ন করিলাম। আয়েশা (রাঃ) যেমন বলিয়াছেন তিনিও তেমন বলিলেন। অতঃপর আমরা প্রস্থান করিলাম এবং মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট উপস্থিত হইলাম। তাহারা উভয়ে যাহা বর্ণনা করিয়াছেন আবদুর রহমান মারওয়ানের নিকট তাহা উল্লেখ করিলেন। অতঃপর মারওয়ান বলিলেনঃ আমি তোমাকে কসম দিতেছি, হে আবু মুহাম্মদ, আমার সওয়ার দরজায় (উপস্থিত) রহিয়াছে, তুমি উহার উপর সওয়ার হইয়া অবশ্যই আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট গমন কর। তিনি তাহার (নিজস্ব) ভূমিতে আকীক নামক স্থানে অবস্থান করিতেছেন। নিশ্চয়ই এই খবরটি তাহাকে পৌছাইয়া দাও। আবদুর রহমান সওয়ার হইলেন, আমি তাহার সহিত আরোহণ করিলাম। অতঃপর আমরা আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট আসিলাম। আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর সহিত আবদুর রহমান কিছুক্ষণ কথা বললেন। তারপর এই বিষয়ে তাহার সহিত আলোচনা করিলেন। ইহার পর আবু হুরায়রা (রাঃ) বলিলেনঃ এই বিষয়ে আমার জানা নাই, আমাকে খবরদাতা খবর দিয়াছেন।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمَا قَالَتَا إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ جِمَاعٍ غَيْرِ احْتِلاَمٍ ثُمَّ يَصُومُ .
রেওয়ায়ত ১২. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা ও উম্মে সালমা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্বপ্নদোষ ব্যতীত সহবাসের কারণে জানাবত অবস্থায় ফজর হইত, অতঃপর তিনি রোযা রাখতেন।
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَجُلاً، قَبَّلَ امْرَأَتَهُ وَهُوَ صَائِمٌ فِي رَمَضَانَ فَوَجَدَ مِنْ ذَلِكَ وَجْدًا شَدِيدًا فَأَرْسَلَ امْرَأَتَهُ تَسْأَلُ لَهُ عَنْ ذَلِكَ فَدَخَلَتْ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهَا فَأَخْبَرَتْهَا أُمُّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ فَرَجَعَتْ فَأَخْبَرَتْ زَوْجَهَا بِذَلِكَ فَزَادَهُ ذَلِكَ شَرًّا وَقَالَ لَسْنَا مِثْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهُ يُحِلُّ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا شَاءَ . ثُمَّ رَجَعَتِ امْرَأَتُهُ إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَوَجَدَتْ عِنْدَهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لِهَذِهِ الْمَرْأَةِ " . فَأَخْبَرَتْهُ أُمُّ سَلَمَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَّ أَخْبَرْتِيهَا أَنِّي أَفْعَلُ ذَلِكَ " . فَقَالَتْ قَدْ أَخْبَرْتُهَا فَذَهَبَتْ إِلَى زَوْجِهَا فَأَخْبَرَتْهُ فَزَادَهُ ذَلِكَ شَرًّا وَقَالَ لَسْنَا مِثْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهُ يُحِلُّ لِرَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم مَا شَاءَ . فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " وَاللَّهِ إِنِّي لأَتْقَاكُمْ لِلَّهِ وَأَعْلَمُكُمْ بِحُدُودِهِ " .
রেওয়ায়ত ১৩. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রমযান মাসে রোযা অবস্থায় তাহার স্ত্রীকে চুমু খাইলেন এবং ইহাতে খুবই অনুতপ্ত হইলেন। অতঃপর এই বিষয়ে প্রশ্ন করার জন্য তাহার স্ত্রীকে পাঠাইলেন। সে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রাঃ)-এর কাছে গমন করিল এবং সেই বিষয় তাহার নিকট উল্লেখ করিল। উম্মে সালমা (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ রোযা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও চুমা দিয়া থাকেন। সে তাহার স্বামীর নিকট প্রত্যাবর্তন করিয়া এই খবর তাহাকে জানাইল। কিন্তু তাহার পেরেশানী আরো বৃদ্ধি পাইল। তিনি বলিলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত নহি। আল্লাহ্ তাহার রসূলের জন্য যাহা ইচ্ছা হালাল করেন। তারপর তাহার স্ত্রী পুনরায় উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট গমন করিল। (এইবার) উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এই স্ত্রীলোকটির ব্যাপার কি? উম্মে সালমা (রাঃ) তাহাকে বিষয়টি জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমিও উহা করি, তুমি এই স্ত্রীলোককে এই খবর দাও নাই কেন? উম্মে সালমা (রাঃ) বলিলেন, আমি তাহাকে এই খবর দিয়াছি। অতঃপর তাহার স্বামীর নিকট গিয়া সেই খবর বলিয়াছে। ইহাতে তাহার চিন্তা আরো বৃদ্ধি পাইয়াছে এবং তিনি বলিয়াছেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত নহি। আল্লাহ্ তাহার রসূলের জন্য যাহা ইচ্ছা হালাল করেন। ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হইলেন এবং বলিলেনঃ আমি অবশ্য তোমাদের অপেক্ষা আল্লাহকে অধিক ভয় করি এবং তাহার সীমানাসমূহকে তোমাদের অপেক্ষা অধিক জানি।
১৫
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُقَبِّلُ بَعْضَ أَزْوَاجِهِ وَهُوَ صَائِمٌ . ثُمَّ ضَحِكَتْ .
রেওয়ায়ত ১৪. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার কোন এক সহধর্মিণীকে চুমু খাইতেন, অথচ তিনি রোযাদার। তারপর তিনি হাসিতেন।
১৬
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ عَاتِكَةَ ابْنَةَ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ، - امْرَأَةَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - كَانَتْ تُقَبِّلُ رَأْسَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَهُوَ صَائِمٌ فَلاَ يَنْهَاهَا .
রেওয়ায়ত ১৫. উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর স্ত্রী আতিকা বিনত সাঈদ (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর মাথায় চুমু খাইতেন, অথচ তিনি রোযাদার। তবুও তিনি তাহাকে নিষেধ করিতেন না।
১৭
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ أَنَّ عَائِشَةَ بِنْتَ طَلْحَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا، كَانَتْ عِنْدَ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ عَلَيْهَا زَوْجُهَا هُنَالِكَ وَهُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَهُوَ صَائِمٌ فَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَدْنُوَ مِنْ أَهْلِكَ فَتُقَبِّلَهَا وَتُلاَعِبَهَا فَقَالَ أُقَبِّلُهَا وَأَنَا صَائِمٌ قَالَتْ نَعَمْ .
রেওয়ায়ত ১৬. আয়েশা বিনত তালহা (রহঃ) বলেন- তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ছিলেন। সেখানে তাহার স্বামী প্রবেশ করিলেন। তিনি হইলেন আবদুল্লাহ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)। তিনি রোযাদার ছিলেন। আয়েশা (রাঃ) তাহাকে বলিলেন, তোমাকে তোমার পরিবারের নিকট যাইতে এবং তাহাকে চুমু খাইতে ও তাহার সহিত খেল-তামাশা করিতে কিসে বাধা দিয়াছে? তিনি বলিলেন, আমি তাহাকে চুমু খাই কিরূপে, আমি যে রোযাদার। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] বলেন, হ্যাঁ (রোযাদার হইয়াও তাহা করিতে পার)।
১৮
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَسَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، كَانَا يُرَخِّصَانِ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ .
রেওয়ায়ত ১৭. আবু হুরায়রা ও সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) রোযাদারের জন্য চুমু খাওয়ার অনুমতি দিতেন।
১৯
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ إِذَا ذَكَرَتْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ تَقُولُ وَأَيُّكُمْ أَمْلَكُ لِنَفْسِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
রেওয়ায়ত ১৮. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) যখন উল্লেখ করিতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুমু খাইতেন, তখন [তিনি আয়েশা (রাঃ)] বলিতেন, তোমাদের চাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক ক্ষমতা রাখেন নিজের নফসের উপর। উরওয়াহ ইবন যুবায়র (রহঃ) বলেনঃ রোযাদারের জন্য চুমু খাওয়া কোন মঙ্গলের দিকে আহবান করে বলিয়া আমি মনে করি না।
২০
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৪৯
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ قَالَ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ قَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ لَمْ أَرَ الْقُبْلَةَ لِلصَّائِمِ تَدْعُو إِلَى خَيْرٍ .
ইয়াহিয়া বলেন যে মালিক বলেছেন যে হিশাম ইবনে উরওয়া ইবনে আয-জুবায়ের বলেছেন, "আমি মনে করি না যে চুম্বন রোজাদারদের জন্য কল্যাণের দিকে দাওয়াত দেয়।
২১
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، سُئِلَ عَنِ الْقُبْلَةِ، لِلصَّائِمِ فَأَرْخَصَ فِيهَا لِلشَّيْخِ وَكَرِهَهَا لِلشَّابِّ .
রেওয়ায়ত ১৯. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে রোযাদারের চুমু খাওয়ার বিষয় প্রশ্ন করা হয়। তিনি বৃদ্ধের জন্য অনুমতি দেন। আর যুবকের জন্য মাকরূহ বলেন।
২২
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَنْهَى عَنِ الْقُبْلَةِ، وَالْمُبَاشَرَةِ، لِلصَّائِمِ .
রেওয়ায়ত ২০. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) রোযাদারের জন্য চুমু খাওয়া এবং স্ত্রীর সহিত মিলিত হওয়াকে নিষেধ করিতেন।
২৩
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ فِي رَمَضَانَ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ الْكَدِيدَ ثُمَّ أَفْطَرَ فَأَفْطَرَ النَّاسُ وَكَانُوا يَأْخُذُونَ بِالأَحْدَثِ فَالأَحْدَثِ مِنْ أَمْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
রেওয়ায়ত ২১. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় বৎসরে রমযান মাসে মক্কার দিকে সফরে বাহির হইলেন এবং রোযা রাখিলেন। কাদীদ নামক স্থানে পৌছিলে পর তিনি রোযা ভঙ্গ করিলেন এবং তাহার সাথে অন্যরাও রোযা ভঙ্গ করিলেন। আর তাহারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হুকুম হইতে যাহা সদ্য অতঃপর যাহা অতি সদ্য তাহা গ্রহণ করিতেন। (অর্থাৎ যে কোন নূতন হুকুম পাওয়া বা শোনামাত্রই গ্রহণ করিতেন)।
২৪
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ النَّاسَ فِي سَفَرِهِ عَامَ الْفَتْحِ بِالْفِطْرِ وَقَالَ " تَقَوَّوْا لِعَدُوِّكُمْ " . وَصَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ الَّذِي حَدَّثَنِي لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْعَرْجِ يَصُبُّ الْمَاءَ عَلَى رَأْسِهِ مِنَ الْعَطَشِ أَوْ مِنَ الْحَرِّ ثُمَّ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ طَائِفَةً مِنَ النَّاسِ قَدْ صَامُوا حِينَ صُمْتَ - قَالَ - فَلَمَّا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْكَدِيدِ دَعَا بِقَدَحٍ فَشَرِبَ فَأَفْطَرَ النَّاسُ .
রেওয়ায়ত ২২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জনৈক সাহাবী হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয় বৎসর তাহার সফরে সাহাবীগণকে রোযা খুলিতে নির্দেশ দিলেন এবং বলিলেন, তোমরা তোমাদের শক্রদের জন্য শক্তি সঞ্চয় কর, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে রোযা রাখিলেন। আবু বকর ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন তিনি বলিয়াছেনঃ আমি আরজ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিজের মাথায় পানি ঢালিতে দেখিয়াছি, পিপাসায় অথবা প্রচণ্ড গরমের কারণে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হইল, আপনি রোযা রাখিয়াছেন বলিয়া একদল লোক (এখনও) রোযা রাখিয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাদীদে পৌছিলেন, তখন তিনি পেয়ালা চাহিলেন এবং (পানি অথবা দুধ) পান করিলেন, তারপর সাহাবীগণ রোযা ভঙ্গ করিলেন।
২৫
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَلَمْ يَعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ .
রেওয়ায়ত ২৩. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমরা রমযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করিয়াছি। অতঃপর কোন রোযাদার রোযাভঙ্গকারীর উপর দোষারোপ করেন নাই এবং কোন রোযাভঙ্গকারীও কোন রোযাদারের উপর দোষারোপ করেন নাই।
২৬
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫৫
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَسْلَمِيَّ، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ أَصُومُ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " .
রেওয়ায়ত ২৪. হামযা ইবন আমর আসলামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি প্রায়ই রোযা রাখি। আমি কি সফরে রোযা রাখিব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁহাকে বলিলেনঃ তুমি ইচ্ছা করিলে রোযা রাখ, আর ইচ্ছা করিলে রোযা ছাড়।
২৭
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ لاَ يَصُومُ فِي السَّفَرِ .
রেওয়ায়ত ২৫. নাফি (রহঃ) হইতে বর্ণিত- আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) রমযানে প্রবাসে রোযা রাখতেন না।
২৮
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ فِي رَمَضَانَ وَنُسَافِرُ مَعَهُ فَيَصُومُ عُرْوَةُ وَنُفْطِرُ نَحْنُ فَلاَ يَأْمُرُنَا بِالصِّيَامِ .
রেওয়ায়ত ২৬. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) বলেনঃ উরওয়াহ (রহঃ) রমযানে সফর করিতেন, আমরাও তাহার সাথে সফর করিতাম। অতঃপর উরওয়াহ (রহঃ) রোযা রাখিতেন কিন্তু আমরা রোযা রাখিতাম না, তিনি আমাদিগকে রোযা রাখিতে বলিতেন না।
২৯
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، كَانَ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ فِي رَمَضَانَ فَعَلِمَ أَنَّهُ دَاخِلٌ الْمَدِينَةَ مِنْ أَوَّلِ يَوْمِهِ دَخَلَ وَهُوَ صَائِمٌ . قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِكٌ مَنْ كَانَ فِي سَفَرٍ فَعَلِمَ أَنَّهُ دَاخِلٌ عَلَى أَهْلِهِ مِنْ أَوَّلِ يَوْمِهِ وَطَلَعَ لَهُ الْفَجْرُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ دَخَلَ وَهُوَ صَائِمٌ . قَالَ مَالِكٌ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ فِي رَمَضَانَ فَطَلَعَ لَهُ الْفَجْرُ وَهُوَ بِأَرْضِهِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ فَإِنَّهُ يَصُومُ ذَلِكَ الْيَوْمَ . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يَقْدَمُ مِنْ سَفَرِهِ وَهُوَ مُفْطِرٌ وَامْرَأَتُهُ مُفْطِرَةٌ حِينَ طَهُرَتْ مِنْ حَيْضِهَا فِي رَمَضَانَ أَنَّ لِزَوْجِهَا أَنْ يُصِيبَهَا إِنْ شَاءَ .
রেওয়ায়ত ২৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) রমযানে যদি সফরে থাকিতেন, তবে তিনি যদি জানিতেন যে, তিনি মদীনায় দিনের প্রথম দিকে প্রবেশ করিবেন, তবে তিনি রোযা অবস্থায় (মদীনায়) প্রবেশ করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি রমযানে সফরে থাকে অতঃপর জানিতে পারে যে, সে নিজের পরিজনের মধ্যে দিনের প্রথমদিকে প্রবেশ করিবে এবং প্রবেশ করার পূর্বে ফজর হয়, তবে সে রোযা অবস্থায় প্রবেশ করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আর যে ব্যক্তি রমযানে সফরে বাহির হইতে ইচ্ছা করে এবং স্বীয় (আবাস) ভূমিতে থাকিতেই ফজর হয়, তাহার বাহির হওয়ার পূর্বে সেই দিনের রোযা রাখিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি রোযা না রাখা অবস্থায় সফর হইতে ফিরিয়াছে, আর তাহার স্ত্রীও রোযা রাখে নাই (ঋতুমতী বলিয়া), এখন রমযানের মধ্যে ঋতু হইতে পাক হইয়াছে, তবে তাহার স্বামী ইচ্ছা করিলে (রোযার দিনে) তাহার সহিত সহবাস করিতে পারে (কারণ উভয়ে রোযা অবস্থায় নহে)।
৩০
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৫৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُكَفِّرَ بِعِتْقِ رَقَبَةٍ أَوْ صِيَامِ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ أَوْ إِطْعَامِ سِتِّينَ مِسْكِينًا . فَقَالَ لاَ أَجِدُ . فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقِ تَمْرٍ . فَقَالَ " خُذْ هَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَحَدٌ أَحْوَجَ مِنِّي . فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ ثُمَّ قَالَ " كُلْهُ " .
রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- এক ব্যক্তি রমযানের রোযা ভঙ্গ করিয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে একটি ক্রীতদাস আযাদ করার নির্দেশ দিলেন অথবা একনাগাড়ে দুই মাস রোযা রাখার অথবা ষাটজন মিসকিনকে আহার দেওয়ার জন্য বলিলেন। লোকটি বলিলঃ আমি সামর্থ রাখি না। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন ইহা গ্রহণ কর এবং সদকা কর। লোকটি বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমা হইতে অধিক মুহতাজ আমি পাই না। (এই কথা শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসিলেন, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনের দন্ত মুবারক প্রকাশিত হইল। অতঃপর বলিলেনঃ ইহা তুমি খাও।
৩১
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضْرِبُ نَحْرَهُ وَيَنْتِفُ شَعْرَهُ وَيَقُولُ هَلَكَ الأَبْعَدُ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَمَا ذَاكَ " . فَقَالَ أَصَبْتُ أَهْلِي وَأَنَا صَائِمٌ فِي رَمَضَانَ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُعْتِقَ رَقَبَةً " . فَقَالَ لاَ . فَقَالَ " هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُهْدِيَ بَدَنَةً " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَاجْلِسْ " . فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقِ تَمْرٍ فَقَالَ " خُذْ هَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ " . فَقَالَ مَا أَحَدٌ أَحْوَجَ مِنِّي . فَقَالَ " كُلْهُ وَصُمْ يَوْمًا مَكَانَ مَا أَصَبْتَ " . قَالَ مَالِكٌ قَالَ عَطَاءٌ فَسَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ كَمْ فِي ذَلِكَ الْعَرَقِ مِنَ التَّمْرِ فَقَالَ مَا بَيْنَ خَمْسَةَ عَشَرَ صَاعًا إِلَى عِشْرِينَ .
রেওয়ায়ত ২৯. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, জনৈক বেদুঈন বুক চাপড়াইতে চাপড়াইতে এবং চুল টানিতে টানিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসিল। সে বলিতেছিলঃ (পুণ্য হইতে) দূরবর্তী ধ্বংস হইয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ সে কি? সে বলিলঃ আমি স্ত্রীর সহিত রমযানে সহবাস করিয়াছি অথচ আমি রোযাদার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইহা শুনিয়া) বলিলেনঃ তুমি একটি গোলাম আযাদ করার শক্তি রাখ কি? সে বলিলঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ একটি উট হাদয় স্বরূপ পাঠাইবার সামর্থ রাখ কি? সে বলিলঃ না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি বস। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক টুকরি খেজুর আনা হইল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ইহা লও এবং সদকা কর। লোকটি বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমা অপেক্ষা অধিক মুহতাজ কাহাকেও আমি পাই না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ইহা তুমি খাও এবং স্ত্রী সহবাসের কাফফারাস্বরূপ একদিন রোযা রাখ। মালিক (রহঃ) বলেন, আতা খোরাসানী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলাম, সেই টুকরিতে কত খেজুর ছিল? তিনি বলিলেনঃ পনের ছা’ হইতে বিশ ছা’ পর্যন্ত।[1]ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আহলে ইলমকে (বিজ্ঞ উলামা) বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি রমযানের কাযা (করিতে গিয়া) দিনে তাহার স্ত্রীর সহিত সহবাস অথবা অন্য কারণে রোযা ভঙ্গ করিয়া ফেলে, তাহার উপর কাফফারা (ওয়াজিব) হইবে না। যে কাফফারার কথা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে বর্ণিত হইয়াছে, উহা সেই ব্যক্তি সম্বন্ধে যে ব্যক্তি রমযান মাসে আপন স্ত্রীর সহিত দিনে সহবাস করিয়াছে। অবশ্য সেই ব্যক্তির উপর সেই দিনের কাযা (ওয়াজিব) হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাই সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় যাহা আমি এই ব্যাপারে শুনিয়াছি।
৩২
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَحْتَجِمُ وَهُوَ صَائِمٌ - قَالَ - ثُمَّ تَرَكَ ذَلِكَ بَعْدُ فَكَانَ إِذَا صَامَ لَمْ يَحْتَجِمْ حَتَّى يُفْطِرَ .
রেওয়ায়ত ৩০. নাফি' (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) সিঙ্গি লাগাইতেন অথচ তিনি রোযাদার। তিনি বলেনঃ অতঃপর তিনি উহা ছাড়িয়া দেন। তৎপর তিনি যখন রোযা রাখিতেন, ইফতার না করা পর্যন্ত সিঙ্গি লাগাইতেন না।
৩৩
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَا يَحْتَجِمَانِ وَهُمَا صَائِمَانِ .
রেওয়ায়ত ৩১. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) উভয়ে সিঙ্গি লাগাইতেন অথচ তাহারা রোযাদার।
৩৪
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَحْتَجِمُ وَهُوَ صَائِمٌ ثُمَّ لاَ يُفْطِرُ . قَالَ وَمَا رَأَيْتُهُ احْتَجَمَ قَطُّ إِلاَّ وَهُوَ صَائِمٌ . قَالَ مَالِكٌ لاَ تُكْرَهُ الْحِجَامَةُ لِلصَّائِمِ إِلاَّ خَشْيَةً مِنْ أَنْ يَضْعُفَ وَلَوْلاَ ذَلِكَ لَمْ تُكْرَهْ وَلَوْ أَنَّ رَجُلاً احْتَجَمَ فِي رَمَضَانَ ثُمَّ سَلِمَ مِنْ أَنْ يُفْطِرَ لَمْ أَرَ عَلَيْهِ شَيْئًا وَلَمْ آمُرْهُ بِالْقَضَاءِ لِذَلِكَ الْيَوْمِ الَّذِي احْتَجَمَ فِيهِ لأَنَّ الْحِجَامَةَ إِنَّمَا تُكْرَهُ لِلصَّائِمِ لِمَوْضِعِ التَّغْرِيرِ بِالصِّيَامِ فَمَنِ احْتَجَمَ وَسَلِمَ مِنْ أَنْ يُفْطِرَ حَتَّى يُمْسِيَ فَلاَ أَرَى عَلَيْهِ شَيْئًا وَلَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءُ ذَلِكَ الْيَوْمِ .
রেওয়ায়ত ৩২. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি সিঙ্গি লাগাইতেন অথচ তিনি রোযাদার। অতঃপর এই কারণে রোযা ভঙ্গ করিতেন না। হিশাম বলেন, আমি তাহাকে রোযাদার অবস্থা ছাড়া কখনো সিঙ্গি লাগাইতে দেখি নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ রোযাদারের সিঙ্গি লাগান মাকরূহ নহে কিন্তু দুর্বল হইয়া পড়ার ভয় হইলে মাকরূহ, দুর্বল না হইলে ইহা মাকরূহ হইবে না। আর যদি কোন ব্যক্তি রমযানে সিঙ্গি লাগায়, অতঃপর রোযা ভঙ্গ করা হইতে বিরত থাকে, আমি তাহার জন্য কোন কিছু (লাগিবে বলিয়া) মনে করি না এবং যেদিন সিঙ্গি লাগাইয়াছে সেই দিনের রোযা কাযা করার হুকুমও করি না। কেননা রোযার ক্ষতির আশংকায় রোযাদারের জন্য সিঙ্গি লাগান মাকরূহ করা হইয়াছে। ফলে যে ব্যক্তি লাগাইয়াছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত রোযা ইফতার করা হইতে বিরত রহিয়াছে আমি তাহার জন্য কোন দোষ মনে করি না এবং তাহার উপর সেই দিনের (রোযার) কাযাও প্রয়োজন হইবে না।
৩৫
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ هُوَ الْفَرِيضَةَ وَتُرِكَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ .
রেওয়ায়ত ৩৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আশুরা দিবস এমন একটি দিবস ছিল, যেই দিবসে জাহিলিয়া যুগে কুরাইশগণ রোযা রাখিত। জাহিলিয়া যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও সেই দিবসে রোযা রাখতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আসিলে পর তিনি সেই রোযা রাখলেন এবং লোকদিগকেও সেই দিনের রোযা রাখতে হুকুম করিলেন। অতঃপর যখন রমযানের রোযা ফরয হইল, উহাই ফরয হিসাবে রহিল। আশুরা দিবসের রোযা ছাড়িয়া দেওয়া হইল। অতঃপর যে ইচ্ছা করিত ঐ দিবসে রোযা রাখিত, আর যে ইচ্ছা করিত না সে উহা ছাড়িয়া দিত।
৩৬
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، يَوْمَ عَاشُورَاءَ عَامَ حَجَّ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِهَذَا الْيَوْمِ " هَذَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ وَلَمْ يُكْتَبْ عَلَيْكُمْ صِيَامُهُ وَأَنَا صَائِمٌ فَمَنْ شَاءَ فَلْيَصُمْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيُفْطِرْ " .
রেওয়ায়ত ৩৪. হুমায়দ ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি হজ্জের সালে[1] আশুরা দিবসে মুয়াবিয়া ইবন আবু সুফইয়ান (রাঃ)-কে মিম্বরের উপর বলিতে শুনিয়াছেন, হে মদীনাবাসী! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি এই দিবস সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি ইহা আশুরা দিবস; তোমাদের উপর এই (দিবসের) রোযা ফরয করা হয় নাই। আমি রোযা রাখিয়াছি, তোমরা যে ইচ্ছা কর রোযা রাখিতে পার, আর যাহার ইচ্ছা রোযা ছাড়িয়া দাও।
৩৭
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، أَرْسَلَ إِلَى الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ أَنَّ غَدًا، يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَصُمْ وَأْمُرْ أَهْلَكَ أَنْ يَصُومُوا .
রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) হারিস ইবন হিশাম (রাঃ)-এর নিকট খবর পাঠাইয়াছেন, কাল আশুরা দিবস, তুমি নিজেও রোযা রাখ এবং পরিবার-পরিজনকেও রোযা রাখিতে বল।
৩৮
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الأَضْحَى .
রেওয়ায়ত ৩৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই দিবসে রোযা নিষেধ করিয়াছেন- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন।
৩৯
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَهْلَ الْعِلْمِ، يَقُولُونَ لاَ بَأْسَ بِصِيَامِ الدَّهْرِ إِذَا أَفْطَرَ الأَيَّامَ الَّتِي نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامِهَا وَهِيَ أَيَّامُ مِنًى وَيَوْمُ الأَضْحَى وَيَوْمُ الْفِطْرِ فِيمَا بَلَغَنَا . قَالَ وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ فِي ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ৩৭. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি আহলে ইলমকে (বিজ্ঞ উলামা) বলিতে শুনিয়াছেন, সর্বদা রোযা রাখতে কোন দোষ নাই, যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দিবসে রোযা রাখিতে নিষেধ করিয়াছেন সেই সব দিবসে রোযা রাখা হইতে বিরত থাকে। আর সেই সব দিবস হইল- মিনা-এর দিনগুলি, ফিতর ও আযহা দিবস। আমাদের নিকট এই বিষয়ে যাহা পৌছিয়াছে এবং এই ব্যাপারে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা হইতেছে সর্বাপেক্ষা আমার পছন্দনীয়।
৪০
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৬৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْوِصَالِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ فَقَالَ " إِنِّي لَسْتُ كَهَيْئَتِكُمْ إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى " .
রেওয়ায়ত ৩৮. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনবরত রাত্রেও কিছু না খাইয়া রেযা রাখিতে নিষেধ করিয়াছেন। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যে অনবরত রোযা রাখেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি অবশ্য তোমাদের মত নহি। আমাকে আহার ও পানীয় দেওয়া হয়।
৪১
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ " . قَالُوا فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنِّي لَسْتُ كَهَيْئَتِكُمْ إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي " .
রেওয়ায়ত ৩৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমরা অনবরত রোযা রাখা হইতে নিজদিগকে বাঁচাও। তোমরা অনবরত রোযা রাখা হইতে নিজদিগকে বাঁচাও। সাহাবীগণ বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তবে আপনি যে অনবরত রোযা রাখেন! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি তোমাদের মত নহি। আমি রাত্রি যাপন করি (এই অবস্থায়) যে, আমার প্রভু আমাকে আহার দান করেন এবং পানীয় দান করেন।
৪২
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭১
الحديث 40. قال يحيى (رضي الله عنه): سمعت مالكا (رضي الله عنه) يقول فيمن فرض عليه صيام شهرين متتابعين في قتل خطأ أو ظهار[1]. وبعد ذلك كان يجد صعوبة في الإفطار، فإن شفي وتمكن من الصيام فأفضل ما سمعت أنه لا يجوز له تأخيره. ويقضي بقية صيامه على ما أتمه من صيام قبله. وكذلك المرأة التي وجب عليها الصيام لقتل غير متعمد، فلا تصوم إذا حاضت في منتصف صومها. لكن إذا نضجت فلا يؤخر الصيام، ويكون بقية الصيام على ما كان قد صامه من قبل. ولا يجوز لمن فرض عليه صيام شهرين متتابعين على حكم الكتاب إلا الوجع والحيض. فلا يجوز لمثل هذا الإنسان أن يفطر بعد بدء الرحلة. كما جاء في القرآن الكريم: "فمن كان منكم مريضاً أو على سفر فليصم يوماً آخر". قال يحيى - رضي الله عنه - قال مالك - رضي الله عنه -: وهذا أحسن ما سمعت لي في هذا الباب.
রেওয়ায়ত ৪০. ইয়াইয়া (রহঃ) বলেন, আমি মালিক (রহঃ)-কে বলতে শুনিয়াছি, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তির উপর ধারাবাহিকরূপে দুই মাসের রোযা ফরয হইয়াছে- ভুলে হত্যা অথবা যিহার[1] করা বাবদ। অতঃপর তাহার কোন কঠিন পীড়া হইয়াছে যদ্দরুন রোযা ভাঙিতে হইয়াছে। সে যদি আরোগ্য লাভ করে এবং রোযা রাখিতে সক্ষম হয়, তবে আমি (এই ব্যাপারে) যাহা শুনিয়াছি, তন্মধ্যে উত্তম হইল- সেই ব্যক্তির জন্য ইহাতে বিলম্ব করা জায়েয নহে। তাহার যে রোযা পূর্বে গত হইয়াছে, উহার উপর ভিত্তি করিয়া সে অবশিষ্ট রোযা রাখিবে। তদ্রুপ ভুলে হত্যার কারণে যে নারীর উপর রোযা ওয়াজিব হইয়াছে, সে তাহার রোযার মাঝখানে ঋতুমতী হইলে রোযা রাখিবে না। তবে পাক হইলে পর সে রোযা রাখিতে বিলম্ব করিবে না এবং যে রোযা পূর্বে রাখিয়াছে উহার উপর ভিত্তি করিয়া অবশিষ্ট রোযা রাখিবে। আল্লাহর কিতাবের বিধান মুতাবিক যাহার উপর দুই মাসের রোযা ধারাবাহিকভাবে রাখা ওয়াজিব হইয়াছে, তাহার জন্য পীড়াজনিত ব্যাপার ও ঋতুস্রাব ব্যতীত রোযা ভঙ্গ করা জায়েয নহে। এইরূপ ব্যক্তির জন্য সফর আরম্ভ করিয়া রোযা ভঙ্গ করারও অনুমতি নাই। যেরূপ কুরআনুল করীমে ইরশাদ করা হইয়াছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রুগ্ন থাকে কিংবা সফরে থাকে, তবে সে অন্য দিন রোযা রাখিবে।ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এই ব্যাপারে যাহা শুনিয়াছি, তাহার মধ্যে ইহাই আমার কাছে সর্বাপেক্ষা উত্তম।
৪৩
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭২
قَالَ مَالِكٌ وَبَلَغَنِي عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، مِثْلُ ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ نَذْرٌ مِنْ رَقَبَةٍ يُعْتِقُهَا أَوْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ بَدَنَةٍ فَأَوْصَى بِأَنْ يُوَفَّى ذَلِكَ عَنْهُ مِنْ مَالِهِ فَإِنَّ الصَّدَقَةَ وَالْبَدَنَةَ فِي ثُلُثِهِ وَهُوَ يُبَدَّى عَلَى مَا سِوَاهُ مِنَ الْوَصَايَا إِلاَّ مَا كَانَ مِثْلَهُ وَذَلِكَ أَنَّهُ لَيْسَ الْوَاجِبُ عَلَيْهِ مِنَ النُّذُورِ وَغَيْرِهَا كَهَيْئَةِ مَا يَتَطَوَّعُ بِهِ مِمَّا لَيْسَ بِوَاجِبٍ وَإِنَّمَا يُجْعَلُ ذَلِكَ فِي ثُلُثِهِ خَاصَّةً دُونَ رَأْسِ مَالِهِ لأَنَّهُ لَوْ جَازَ لَهُ ذَلِكَ فِي رَأْسِ مَالِهِ لأَخَّرَ الْمُتَوَفَّى مِثْلَ ذَلِكَ مِنَ الأُمُورِ الْوَاجِبَةِ عَلَيْهِ حَتَّى إِذَا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ وَصَارَ الْمَالُ لِوَرَثَتِهِ سَمَّى مِثْلَ هَذِهِ الأَشْيَاءِ الَّتِي لَمْ يَكُنْ يَتَقَاضَاهَا مِنْهُ مُتَقَاضٍ فَلَوْ كَانَ ذَلِكَ جَائِزًا لَهُ أَخَّرَ هَذِهِ الأَشْيَاءَ حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ مَوْتِهِ سَمَّاهَا وَعَسَى أَنْ يُحِيطَ بِجَمِيعِ مَالِهِ فَلَيْسَ ذَلِكَ لَهُ .
রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি এক মাসের রোযার মানত করিয়াছে, তাহার জন্য নফল রোযা রাখা জায়েয কিনা? সাঈদ (রহঃ) বললেনঃ নফলের পূর্বে মানতের (রোযা) আরম্ভ করবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতেও আমার নিকট এইরূপ রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তির মৃত্যু হইয়াছে অথচ তাহার উপর মানত রহিয়াছে গোলাম আযাদ করার অথবা সদকা প্রদানের অথবা কুরবানী করার। ফলে সে তাহার সম্পদ হইতে সেই মানত পূর্ণ করার অসিয়ত করিয়াছে। তবে সদকা এবং কুরবানী তাহার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ হইতে পূর্ণ করা হইবে। মানতকে অন্যান্য নফল অসিয়তের উপর অগ্রাধিকার প্রদান করা হইবে। তবে যদি অন্য অসিয়ত ও মানতের মত (ওয়াজিব) হয়। কারণ নফল কাজ বা নফল কাজের অসিয়ত ওয়াজিব অসিয়ত ও মানতের সমতুল্য নহে। মানত ইত্যাদি মৃত ব্যক্তির সকল সম্পদ হইতে আদায় না করিয়া এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ হইতে আদায় করা হইবে। যদি তাহার জন্য ইহা বৈধ হয়, তবে মুতাওয়াফফী (মৃত্যুর সন্নিকটে পৌছিয়াছে এমন ব্যক্তি) তাহার উপর ওয়াজিব বিষয়গুলিকে পিছাইয়া রাখিবে। এমতাবস্থায় যখন তাহার মৃত্যু উপস্থিত হইবে, তখন তাহার সম্পদের মালিক হইবে তাহার ওয়ারিসগণ, বিশেষত ঐ সকল বিষয় যেসব বিষয়ে তাহার পক্ষ হইতে তাকীদ করিবার জন্য তেমন কোন ব্যক্তি না থাকে। (স্বভাবতই ওয়ারিসগণ ঐসব মানত বা অসিয়ত পূর্ণ করিতে আগ্রহী হইবে না)। সকল সম্পদ হইতে ঐসব আদায় করা তাহার জন্য জায়েয হইলে সে এই সকল ব্যাপারে বিলম্ব করিবে। যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হইবে তখন সে উহা প্রকাশ করবে। হয়তো ঐ সকল (প্রকাশিত দাবি-দাওয়া) পূরণে তাহার সমস্ত সম্পত্তিই নিঃশেষ হইয়া যাইবে, তাহার জন্য ইহা জায়েয নহে।
৪৪
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يُسْأَلُ هَلْ يَصُومُ أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ، أَوْ يُصَلِّي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ، فَيَقُولُ لاَ يَصُومُ أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ، وَلاَ يُصَلِّي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ.
রেওয়ায়ত ৪৩. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ একজন আর একজনের পক্ষে রোযা রাখিবে কি? অথবা একজন অন্যজনের পক্ষে নামায পড়িবে কি? তিনি উত্তরে বলিলেনঃ একজন আর একজনের পক্ষে রোযা রাখিবে না এবং একে অপরের পক্ষে নামাযও পড়িবে না।
৪৫
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَخِيهِ، خَالِدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، أَفْطَرَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي رَمَضَانَ فِي يَوْمٍ ذِي غَيْمٍ وَرَأَى أَنَّهُ قَدْ أَمْسَى وَغَابَتِ الشَّمْسُ . فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ طَلَعَتِ الشَّمْسُ . فَقَالَ عُمَرُ الْخَطْبُ يَسِيرٌ وَقَدِ اجْتَهَدْنَا . قَالَ مَالِكٌ يُرِيدُ بِقَوْلِهِ الْخَطْبُ يَسِيرٌ الْقَضَاءَ فِيمَا نُرَى - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - وَخِفَّةَ مَؤُونَتِهِ وَيَسَارَتِهِ يَقُولُ نَصُومُ يَوْمًا مَكَانَهُ .
রেওয়ায়ত ৪৪. খালিদ ইবন আসলাম (রহঃ) বর্ণনা করেন- উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) রমযান মাসে মেঘাচ্ছন্ন এক দিনে ইফতার করিলেন। তিনি মনে করিলেন যে, সন্ধ্যা হইয়াছে এবং সূর্য ডুবিয়াছে। অতঃপর এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলঃ হে আমিরুল মুমিনীন সূর্য উদিত হইয়াছে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বললেনঃ বিষয়টির সমাধান সহজ, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উমর (রাঃ) ইহার দ্বারা আমাদের মতে কাযা মুরাদ নিয়াছেন। (আল্লাহ্ সর্বজ্ঞানী) তাহার উক্তি ‘বিষয়টির সমাধান সহজ’ ইহাতে মেহনতের স্বল্পতা ও ইহা সহজ হওয়াই তিনি বুঝাইতে চাহিয়াছেন। তিনি বলেনঃ ইহার পরিবর্তে আর একদিন রোযা রাখিব।
৪৬
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ يَصُومُ قَضَاءَ رَمَضَانَ مُتَتَابِعًا مَنْ أَفْطَرَهُ مِنْ مَرَضٍ أَوْ فِي سَفَرٍ .
রেওয়ায়ত ৪৫. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ যে ব্যক্তি সফর অথবা পীড়ার কারণে রোযা রাখে নাই, সে রমযানের রোযা রাখিবে একাধারে।
৪৭
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَأَبَا، هُرَيْرَةَ اخْتَلَفَا فِي قَضَاءِ رَمَضَانَ فَقَالَ أَحَدُهُمَا يُفَرِّقُ بَيْنَهُ . وَقَالَ الآخَرُ لاَ يُفَرِّقُ بَيْنَهُ . لاَ أَدْرِي أَيَّهُمَا قَالَ يُفَرِّقُ بَيْنَهُ .
রেওয়ায়ত ৪৬. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত-আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাঃ) তাহারা উভয়ে রমযানের কাযা সম্পর্কে ইখতিলাফ (মতপার্থক্য) করিয়াছেন। একজন বলিয়াছেন, কায রোযা পৃথক পৃথক রাখা হইবে। আর একজন বলিয়াছেন, পৃথক পৃথক রাখা যাইবে না (অর্থাৎ একাধারে রাখিতে হইবে)। তাঁহাদের উভয়ের মধ্যে কে বলিয়াছেন পৃথক করা যাইবে, কে বলিয়াছেন পৃথক করা যাইবে না, তাহা আমার (নির্দিষ্ট) জানা নাই।
৪৮
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنِ اسْتَقَاءَ وَهُوَ صَائِمٌ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ وَمَنْ ذَرَعَهُ الْقَىْءُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ .
রেওয়ায়ত ৪৭. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেনঃ যে রোযা অবস্থায় স্বেচ্ছায় বমি করে, তাহার উপর কায ওয়াজিব হইবে। আর যাহার অনিচ্ছাকৃত বমি হয়, তাহাকে করিতে হইবে না।
৪৯
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يُسْأَلُ عَنْ قَضَاءِ، رَمَضَانَ فَقَالَ سَعِيدٌ أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ لاَ يُفَرَّقَ قَضَاءُ رَمَضَانَ وَأَنْ يُوَاتَرَ . قَالَ يَحْيَى سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ فِيمَنْ فَرَّقَ قَضَاءَ رَمَضَانَ فَلَيْسَ عَلَيْهِ إِعَادَةٌ وَذَلِكَ مُجْزِئٌ عَنْهُ وَأَحَبُّ ذَلِكَ إِلَىَّ أَنْ يُتَابِعَهُ . قَالَ مَالِكٌ مَنْ أَكَلَ أَوْ شَرِبَ فِي رَمَضَانَ سَاهِيًا أَوْ نَاسِيًا أَوْ مَا كَانَ مِنْ صِيَامٍ وَاجِبٍ عَلَيْهِ أَنَّ عَلَيْهِ قَضَاءَ يَوْمٍ مَكَانَهُ .
রেওয়ায়ত ৪৮. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) শুনিয়াছেন- সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে রমযানের কাযা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইলে তিনি বলিতেনঃ আমার নিকট পছন্দনীয় হইতেছে রমযানের কাযাকে পৃথক না করিয়া একাধারে রাখা। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি রমযানের কাযা পৃথক পৃথক করিয়া রাখিয়াছে সেই ব্যক্তিকে রোযা পুনরায় রাখিতে হইবে না। সেই রোযাই তাহার পক্ষে যথেষ্ট হইবে। কিন্তু আমার নিকট একাধারে রাখাই পছন্দনীয়। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমি মালিক (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা অথবা অন্য কোন ওয়াজিব রোযায় ভুলবশত আহার করে অথবা পান করে তাহাকে সেই দিনের পরিবর্তে অন্য একদিন কাযা করিতে হইবে।
৫০
মুয়াত্তা মালিক # ১৮/৬৭৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ قَيْسٍ الْمَكِّيِّ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ قَالَ كُنْتُ مَعَ مُجَاهِدٍ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَجَاءَهُ إِنْسَانٌ فَسَأَلَهُ عَنْ صِيَامِ أَيَّامِ الْكَفَّارَةِ أَمُتَتَابِعَاتٍ أَمْ يَقْطَعُهَا قَالَ حُمَيْدٌ فَقُلْتُ لَهُ نَعَمْ يَقْطَعُهَا إِنْ شَاءَ . قَالَ مُجَاهِدٌ لاَ يَقْطَعُهَا فَإِنَّهَا فِي قِرَاءَةِ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مُتَتَابِعَاتٍ . قَالَ مَالِكٌ وَأَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ يَكُونَ مَا سَمَّى اللَّهُ فِي الْقُرْآنِ يُصَامُ مُتَتَابِعًا . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنِ الْمَرْأَةِ تُصْبِحُ صَائِمَةً فِي رَمَضَانَ فَتَدْفَعُ دَفْعَةً مِنْ دَمٍ عَبِيطٍ فِي غَيْرِ أَوَانِ حَيْضِهَا ثُمَّ تَنْتَظِرُ حَتَّى تُمْسِيَ أَنْ تَرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَلاَ تَرَى شَيْئًا ثُمَّ تُصْبِحُ يَوْمًا آخَرَ فَتَدْفَعُ دَفْعَةً أُخْرَى وَهِيَ دُونَ الأُولَى ثُمَّ يَنْقَطِعُ ذَلِكَ عَنْهَا قَبْلَ حَيْضَتِهَا بِأَيَّامٍ فَسُئِلَ مَالِكٌ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي صِيَامِهَا وَصَلاَتِهَا قَالَ مَالِكٌ ذَلِكَ الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ فَإِذَا رَأَتْهُ فَلْتُفْطِرْ وَلْتَقْضِ مَا أَفْطَرَتْ فَإِذَا ذَهَبَ عَنْهَا الدَّمُ فَلْتَغْتَسِلْ وَتَصُومُ . وَسُئِلَ عَمَّنْ أَسْلَمَ فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ هَلْ عَلَيْهِ قَضَاءُ رَمَضَانَ كُلِّهِ أَوْ يَجِبُ عَلَيْهِ قَضَاءُ الْيَوْمِ الَّذِي أَسْلَمَ فِيهِ فَقَالَ لَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءُ مَا مَضَى وَإِنَّمَا يَسْتَأْنِفُ الصِّيَامَ فِيمَا يُسْتَقْبَلُ وَأَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ يَقْضِيَ الْيَوْمَ الَّذِي أَسْلَمَ فِيهِ .
রেওয়ায়ত ৪৯. মালিক (রহঃ) বর্ণনা করেন- হুমায়দ ইবন কায়েস মক্কী (রহঃ) বলিয়াছেন যে, আমি মুজাহিদ (রহঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বায়তুল্লাহ্ তওয়াফ করিতেছিলেন। এমন সময় তাহার নিকট একজন লোক আসিল এবং কাফফারার রোযা সম্পর্কে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল। উহা একাধারে রাখিতে হইবে, না আলাদা আলাদা রাখিতে পরিবে? হুমায়দ (রহঃ) বলিলেনঃ ইচ্ছা করিলে আলাদা আলাদা রাখিতে পারিবে। মুজাহিদ (রহঃ) বলিলেনঃ আলাদা আলাদা রাখিবে না, কারণ উবাই ইবন কা'ব (রাঃ)-এর কিরাআতে রহিয়াছে (ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مُتَتَابِعَاتٍ) অর্থাৎ তিন দিন একাধারে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমার নিকট পছন্দনীয় হইল, আল্লাহ্ তা'আলা কুরআনে যেরূপ নির্ধারিত করিয়াছেন সেইরূপ একাধারে রোযা রাখা। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক স্ত্রীলোক সম্পর্কে, যে স্ত্রীলোকের রমযানে ফজর হইয়াছে রোযাবস্থায়। হঠাৎ তাহার তাজা রক্ত বাহির হইল, ঋতুর নির্দিষ্ট সময় ছাড়া। অতঃপর সে লক্ষ্য রাখিবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেইরূপ রক্ত দেখার জন্য কিন্তু কিছুই দেখিল না। অন্য একদিন ফজরে হঠাৎ আর এক দফা রূক্ত বাহির হইল কিন্তু ইহা পূর্বের তুলনায় কম। অতঃপর কয়েক দিন তাহার হায়েযের পূর্ব পর্যন্ত উহ বন্ধ রহিল। সেই স্ত্রীলোক নিজের নামায ও রোযার বিষয়ে কি কৱিবে? ইহার উত্তরে মালিক (রহঃ) বলেন, সেই রক্ত হয়েযে গণ্য হইবে। যখন উহা দেখিবে রোযা ছাড়িয়া দিবে এবং সেই রোযা পরে কাযা করিবে। তাহার রক্ত বন্ধ হইয়া গেলে সে গোসল করিবে এবং রোযা রাখিবে। মালিক (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি রমযানের শেষ দিন মুসলিম হইল, তাহাকে রমযানের সকল রোযা করিতে হইবে কি? এবং যেদিন মুসলিম হইয়াছে সেই দিনের (রোযার) কাযা তাহার উপর ওয়াজিব হইবে কি? মালিক (রহঃ) প্রশ্নের উত্তরে বলিলেনঃ তাহাকে বিগত রোযা কাযা করতে হইবে না। সে আগামীতে রোযা আরম্ভ করিবে, যেদিন মুসলিম হইয়াছে সেই দিনের রোযা রাখাটা আমার নিকট পছন্দনীয়।