কুরবানীর পশু
অধ্যায়ে ফিরুন
১৪ হাদিস
০১
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০২৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ فَيْرُوزَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ مَاذَا يُتَّقَى مِنَ الضَّحَايَا فَأَشَارَ بِيَدِهِ وَقَالَ ‏"‏ أَرْبَعًا ‏"‏ ‏.‏ وَكَانَ الْبَرَاءُ يُشِيرُ بِيَدِهِ وَيَقُولُ يَدِي أَقْصَرُ مِنْ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا وَالْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا وَالْعَجْفَاءُ الَّتِي لاَ تُنْقِي ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১. বারা ইবন আযিব (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল, কি ধরনের পশু কুরবানী করা উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন অঙ্গুলি দ্বারা গুণিয়া বলিলেনঃ চারি ধরনের পশু হইতে বিরত থাকা উচিত। বারা ইবন আযিব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের অনুকরণে অঙ্গুলি গুণিয়া এই হাদীস বর্ণনা করিতেন। বলিতেন, আমার হাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের হাত হইতে ছোট । *এমন খোড়া যাহা হাটিতে অক্ষম। *এমন কানা যাহা সকলেই ধরিতে পারে। * স্পষ্ট রোগা। *এমন কৃশ যাহার হাড্ডির মগজ পর্যন্ত শুকাইয়া গিয়াছে।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০২৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَتَّقِي مِنَ الضَّحَايَا وَالْبُدْنِ الَّتِي لَمْ تُسِنَّ وَالَّتِي نَقَصَ مِنْ خَلْقِهَا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, মুসান্না[1] নয় বা অঙ্গহীন এবং কম বয়সের পশুর কুরবানী করা হইতে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বিরত থাকিতেন।মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে এই বিষয়টি আমার অধিক প্রিয়।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، ضَحَّى مَرَّةً بِالْمَدِينَةِ ‏.‏ قَالَ نَافِعٌ فَأَمَرَنِي أَنْ أَشْتَرِيَ لَهُ كَبْشًا فَحِيلاً أَقْرَنَ ثُمَّ أَذْبَحَهُ يَوْمَ الأَضْحَى فِي مُصَلَّى النَّاسِ ‏.‏ قَالَ نَافِعٌ فَفَعَلْتُ ثُمَّ حُمِلَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَحَلَقَ رَأْسَهُ حِينَ ذُبِحَ الْكَبْشُ وَكَانَ مَرِيضًا لَمْ يَشْهَدِ الْعِيدَ مَعَ النَّاسِ ‏.‏ قَالَ نَافِعٌ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَقُولُ لَيْسَ حِلاَقُ الرَّأْسِ بِوَاجِبٍ عَلَى مَنْ ضَحَّى ‏.‏ وَقَدْ فَعَلَهُ ابْنُ عُمَرَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, একবার আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) মদীনায় কুরবানী করেন। আমাকে বলিলেনঃ শিংওয়ালা একটি ছাগল খরিদ করিয়া ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহে নিয়া যবেহ কর। আমি তাহাই করিলাম। যবেহকৃত ছাগলটি তাহার নিকট পাঠাইয়া দেওয়া হইল। তিনি তখন তাহার মাথার চুল কাটিলেন। সেই সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন। ঈদের জামাতে হাজির হইতে পারেন নাই। নাফি (রহঃ) বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন কুরবানীদাতার উপর মাথা মুন্ডন ওয়াজিব নহে। তবে তিনি নিজে মাথা মুন্ডন করিয়াছেন।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ أَبَا بُرْدَةَ بْنَ نِيَارٍ، ذَبَحَ ضَحِيَّتَهُ قَبْلَ أَنْ يَذْبَحَ، رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الأَضْحَى فَزَعَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يَعُودَ بِضَحِيَّةٍ أُخْرَى ‏.‏ قَالَ أَبُو بُرْدَةَ لاَ أَجِدُ إِلاَّ جَذَعًا يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ وَإِنْ لَمْ تَجِدْ إِلاَّ جَذَعًا فَاذْبَحْ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪. বুশাইর ইবন ইয়াসার (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবু বুরদা ইবন নিয়ার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কুরবানী করিবার আগেই কুরবানী করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে পুনরায় কুরবানী করিতে নির্দেশ দেন। আবু বুরদা বলিলেন, আমার নিকট এক বৎসরের একটি বকরী ব্যতীত আর কিছুই নাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ এটিকেই কুরবানী দিয়া দাও ।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، أَنَّ عُوَيْمِرَ بْنَ أَشْقَرَ، ذَبَحَ ضَحِيَّتَهُ قَبْلَ أَنْ يَغْدُوَ، يَوْمَ الأَضْحَى وَأَنَّهُ ذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يَعُودَ بِضَحِيَّةٍ أُخْرَى ‏.‏
রেওয়ায়ত ৫. আব্বাদ ইবন তামীম (রহঃ) হইতে বর্ণিত উয়াইমির ইবন আশকর (রহঃ) ইয়াউমুল আযহাতে (যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে) ঈদের নামাযের পূর্বে কুরবানী করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এই কথা উল্লেখ করা হইলে তিনি তাহাকে পুনরায় কুরবানী করিতে নির্দেশ দেন।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ ثُمَّ قَالَ بَعْدُ ‏ "‏ كُلُوا وَتَصَدَّقُوا وَتَزَوَّدُوا وَادَّخِرُوا ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৬. জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করিয়াছিলেন। পরে বলিলেনঃ তোমরা নিজেরা উহা খাও, পাথেয় হিসাবে ব্যবহার কর এবং (ভবিষ্যতের জন্য) রাখিয়া দাও।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَاقِدٍ، أَنَّهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَالَتْ صَدَقَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ دَفَّ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ حَضْرَةَ الأَضْحَى فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ادَّخِرُوا لِثَلاَثٍ وَتَصَدَّقُوا بِمَا بَقِيَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَدْ كَانَ النَّاسُ يَنْتَفِعُونَ بِضَحَايَاهُمْ وَيَجْمِلُونَ مِنْهَا الْوَدَكَ وَيَتَّخِذُونَ مِنْهَا الأَسْقِيَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ‏"‏ وَمَا ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ كَمَا قَالَ ‏.‏ قَالُوا نَهَيْتَ عَنْ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلاَثٍ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِنَّمَا نَهَيْتُكُمْ مِنْ أَجْلِ الدَّافَّةِ الَّتِي دَفَّتْ عَلَيْكُمْ فَكُلُوا وَتَصَدَّقُوا وَادَّخِرُوا ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৭. আবদুল্লাহ ইবন ওয়াকিদ (রহঃ) বর্ণনা করেন, তিন দিনের পর কুরবানীর গোশত খাইতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করিয়াছেন। আবদুল্লাহ ইবন আবু বকর (রহঃ) বলেনঃ এই কথা আমি আমরা বিনত আবদুর রহমানকে গিয়া শুনাইলাম। তিনি বলিলেনঃ ‘আবদুল্লাহ সত্য বলিয়াছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট শুনিয়াছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময় একবার ঈদুল আযহার দিন কিছু সংখ্যক বেদুঈন আসেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তিন দিনের মতো গোশত রাখিয়া বাকীটা খয়রাত করিয়া দাও। ইহার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বলা হইল, পূর্বে লোকেরা কুরবানীর জন্তু দ্বারা ফায়দা লাভ করিত। ইহার চর্বি রাখিয়া দিত এবং চামড়া দ্বারা মশক বানাইয়া রাখিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমরা কি বলিতে চাও? বলা হইলঃ আপনি তিন দিনের অতিরিক্ত কুরবানীর গোশত রাখিতে নিষেধ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ কিছু অভাবী লোক গ্রাম হইতে আসিয়া পড়িয়াছিল, তাই তিন দিনের অতিরিক্ত গোশত রাখিতে আমি নিষেধ করিয়াছিলাম। এখন তোমরা উহা খাও, খয়রাত কর এবং জমা করিয়া রাখিয়া দাও।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ فَقَدَّمَ إِلَيْهِ أَهْلُهُ لَحْمًا ‏.‏ فَقَالَ انْظُرُوا أَنْ يَكُونَ هَذَا مِنْ لُحُومِ الأَضْحَى ‏.‏ فَقَالُوا هُوَ مِنْهَا ‏.‏ فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ أَلَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا فَقَالُوا إِنَّهُ قَدْ كَانَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَكَ أَمْرٌ ‏.‏ فَخَرَجَ أَبُو سَعِيدٍ فَسَأَلَ عَنْ ذَلِكَ فَأُخْبِرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ نَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الأَضْحَى بَعْدَ ثَلاَثٍ فَكُلُوا وَتَصَدَّقُوا وَادَّخِرُوا وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ الاِنْتِبَاذِ فَانْتَبِذُوا وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا وَلاَ تَقُولُوا هُجْرًا ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي لاَ تَقُولُوا سُوءًا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) একবার সফর হইতে ফিরিবার পর পরিবারের লোকেরা তাহার সামনে গোশত পেশ করেন। তিনি ইহা দেখিয়া বলিলেনঃ ইহা কুরবানীর গোশত নহে তো? তাহারা বলিলেনঃ হ্যাঁ কুরবানীর। আবু সাঈদ (রাঃ) বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহা নিষেধ করেন নাই কি? তাহারা বলিলেনঃ আপনি যাওয়ার পর এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য হুকুম প্রদান করিয়াছেন। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) এই বিষয়টি ভাল করিয়া অনুসন্ধান করিয়া দেখার উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া পড়েন। তখন তিনি জানিতে পারেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তিন দিন পর কুরবানীর গোশত খাইতে আমি তোমাদিগকে নিষেধ করিয়াছিলাম। এখন তোমরা তা খাও, খয়রাত কর এবং জমা করিয়া রাখ। তোমাদিগকে আমি কতিপয় পাত্রে নবীয করিতে নিষেধ করিয়াছিলাম, এখন যে কোন পাত্রে ইচ্ছা তোমরা তাহা বানাইতে পার, তবে (মনে রাখিও) সকল নেশা সৃষ্টিকারী বস্তু হারাম। কবর যিয়ারত করিতে তোমাদিগকে আমি নিষেধ করিয়াছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করিতে যাইতে পার, তবে মুখে যেন কোন মন্দ কথা উচ্চারিত না হয়।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ الْبَدَنَةَ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ ‏.‏
ইয়াহিয়া আবু'জ-জুবায়ের আল-মাক্কি থেকে আমার সাথে সম্পর্কিত যে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বলেছিলেন, "আমরা আল্লাহর রাসূলের কাছে বলি দিয়েছি, আল্লাহ তাকে আশীর্বাদ করুন এবং তাকে শান্তি দান করুন, হুদাবিয়ার বছরে, সাত জনের মধ্যে একটি উট এবং সাত জনের মধ্যে একটি গরু।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ صَيَّادٍ، أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ أَخْبَرَهُ قَالَ كُنَّا نُضَحِّي بِالشَّاةِ الْوَاحِدَةِ يَذْبَحُهَا الرَّجُلُ عَنْهُ وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ ثُمَّ تَبَاهَى النَّاسُ بَعْدُ فَصَارَتْ مُبَاهَاةً ‏.‏
রেওয়ায়ত ১০. উমারা ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলেনঃ আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন, আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) তাহাকে বলিয়াছেনঃ আমরা এক এক পরিবারের তরফ হইতে এক একটি বকরী কুরবানী করিতাম। পরে লোকজন গর্ব ও অহংকারের বশবর্তী হইয়া পরিবারের প্রত্যেকের তরফ হইতে এক একটি বকরী কুরবানী করা শুরু করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে সবচাইতে ভাল বর্ণনা যাহা আমি শুনিয়াছি, তাহা হইল এক ব্যক্তি নিজের এবং পরিবারের অন্যদের তরফ হইতে নিজস্ব একটি উট, গরু বা বকরী কুরবানী করিতে পারিবে এবং সওয়াবের মধ্যে অন্যদেরকেও শামিল করিয়া নিবে। কিন্তু একটি উট, গরু বা বকরী খরিদ করিয়া অন্য কাহাকে ইহার কুরবানীতে শরীক করা অর্থাৎ শরীকদের নিকট হইতে টাকা নিয়া তদনুসারে তাহাদের গোশত দেওয়া মাকরূহ। আমরা শুনিয়াছি কুরবানীতে শরীক লওয়া যাইতে পারে না বরং এক পরিবারের পক্ষ হইতে এক একটি কুরবানী করিলেই চলিবে।
১১
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ مَا نَحَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ وَعَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ إِلاَّ بَدَنَةً وَاحِدَةً أَوْ بَقَرَةً وَاحِدَةً ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ لاَ أَدْرِي أَيَّتَهُمَا قَالَ ابْنُ شِهَابٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ) বর্ণনা করেন, ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পরিবারের পক্ষ হইতে কখনো একটি উট বা গরুর অতিরিক্ত কিছু কুরবানী করেন নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) একটি উটের কথা উল্লেখ করিয়াছিলেন কিংবা একটি গরুর কথা উল্লেখ করিয়াছিলেন তাহা স্পষ্ট আমার স্মরণ নাই ।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৩৯
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ الأَضْحَى يَوْمَانِ بَعْدَ يَوْمِ الأَضْحَى ‏.‏ وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، مِثْلُ ذَلِكَ ‏
রেওয়ায়ত ১২. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ ঈদুল আযহা দিবসের পর মাত্র দুই দিন কুরবানী করা দুরস্ত রহিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেন: ‘আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) হইতেও তাহার নিকট অনুরূপ রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৪০
وعن نافع أن عبد الله بن عمر لم يضح قط على ما تحمل المرأة في بطنها. قال مالك: «الأضحية سنة وليست فريضة، ولست لمن يقدر على هذه السنة فيتركها». الموطأ بسم الله الرحمن الرحيم الكتاب 24 كتاب الذبائح الفصل الأول ذكر اسم الله على ما يذبح
নাফে' বর্ণনা করেছেন যে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর কখনোই একজন মহিলা তার গর্ভে যা বহন করে তার নামে কুরবানী করেননি। মালেক বললেন: কোরবানি একটি সুন্নাত, বাধ্যবাধকতা নয় এবং আমি এমন একজনের পক্ষে নই যে এই সুন্নাত পালন করতে সক্ষম এবং তবুও সে এটিকে অবহেলা করে। মুয়াত্তা আল্লাহর নামে ক্লেমেন্ট দয়াময় বই 24 জবাই করা জন্তুর বইয়ের অধ্যায় এক ব্যক্তি যা জবাই করে তার উপর আল্লাহর নাম উল্লেখ করে
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৩/১০৪১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، لَمْ يَكُنْ يُضَحِّي عَمَّا فِي بَطْنِ الْمَرْأَةِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ الضَّحِيَّةُ سُنَّةٌ وَلَيْسَتْ بِوَاجِبَةٍ وَلاَ أُحِبُّ لأَحَدٍ مِمَّنْ قَوِيَ عَلَى ثَمَنِهَا أَنْ يَتْرُكَهَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩. নাফি' (রহঃ) বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) গর্ভস্থ সন্তানের পক্ষ হইতে কুরবানী করিতেন না। মালিক (রহঃ) বলেন, কুরবানী করা সুন্নাত (মুয়াক্কাদা)। ইহা ওয়াজিব নহে। যে কুরবানী ক্রয় করিতে সামর্থ্য রাখে, তাহার পক্ষে কুরবানী না করা আমি পছন্দ করি না।