বিবাহ
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১০৯১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَخْطُبُ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ " .
রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেন, কেউ যেন তাহার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১০৯২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَخْطُبُ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ " .
রেওয়ায়ত ২. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন-রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কেউ যেন তাহার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে (আল্লাহ সর্বজ্ঞ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের বাণী, “কেউ যেন তাহার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।” ইহার ব্যাখ্যা এই— যদি কোন পুরুষ কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, মহিলাটি তার প্রস্তাবের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং উভয়ে একটি নির্দিষ্ট মোহরের উপর ঐকমত্যে পৌছে। উভয়ে এই ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উপর রাযী হইয়াছে এবং উক্ত মহিলা তাহাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাবকারীর উপর শর্ত করিয়াছে। এমতাবস্থায় পুরুষের পক্ষে তাহার ভাইয়ের এই প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেওয়া নিষেধ। এক ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিল। কিন্তু উক্ত মহিলা তাহার এই প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করে নাই এবং তাহার দিকে আকৃষ্টও হয় নাই। এরূপ মহিলার বিবাহের জন্য কেউ প্রস্তাব দিবে না। এই হাদীসের অর্থ ইহা নহে। কারণ ইহাতে লোকের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টির দরজা উন্মুক্ত হইবে।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১০৯৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي قَوْلِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى {وَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنْتُمْ فِي أَنْفُسِكُمْ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَكِنْ لاَ تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلاَّ أَنْ تَقُولُوا قَوْلاً مَعْرُوفًا} أَنْ يَقُولَ الرَّجُلُ لِلْمَرْأَةِ وَهِيَ فِي عِدَّتِهَا مِنْ وَفَاةِ زَوْجِهَا إِنَّكِ عَلَىَّ لَكَرِيمَةٌ وَإِنِّي فِيكِ لَرَاغِبٌ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَائِقٌ إِلَيْكِ خَيْرًا وَرِزْقًا وَنَحْوَ هَذَا مِنَ الْقَوْلِ .
রেওয়ায়ত ৩. “স্ত্রীলোকদের নিকট তোমরা ইঙ্গিতে বিবাহ প্রস্তাব করিলে অথবা তোমাদের অন্তরে গোপন রাখিলে তোমাদের কোন পাপ নাই।” আল্লাহ জানেন যে, তোমরা তাহাদের সম্বন্ধে আলোচনা করিবে; কিন্তু বিধিমত কথাবার্তা ব্যতীত গোপনে তাহাদের নিকট কোন অঙ্গীকার করিও না। (বাকারাঃ ২৩৫) আবদুর রহমান ইবন কাসেম (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিতেন, “আল্লাহ্ তা'আলার এই বাণীর ব্যাখ্যা এই — কোন পুরুষ কর্তৃক কোন মহিলাকে তার স্বামীর ওফাতের ইদ্দত পালনের সময়ে এইরূপ বলা – “তুমি আমার নিকট সম্মানিত,” “আমি তোমাকে পছন্দ করি” “আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয়ই তোমার জন্য মঙ্গল ও জীবিকা প্রেরণ করিবেন।” আরও এই জাতীয় উক্তি।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১০৯৪
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا " .
রেওয়ায়ত ৪. আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত-রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করিয়াছেনঃ আইয়্যেম[1] তাহার ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হকদার এবং কুমারীর বিবাহের ব্যাপারে তাহার অনুমতি লইতে হইবে। চুপ থাকাই হইতেছে তাহার অনুমতি।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১০৯৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لاَ تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ إِلاَّ بِإِذْنِ وَلِيِّهَا أَوْ ذِي الرَّأْىِ مِنْ أَهْلِهَا أَوِ السُّلْطَانِ .
রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেন, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ অভিভাবক বা উক্ত পরিবারের বুদ্ধিমান ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি ব্যতীত কোন মহিলাকে যেন বিবাহ দেওয়া না হয় না।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১০৯৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، كَانَا يُنْكِحَانِ بَنَاتِهِمَا الأَبْكَارَ وَلاَ يَسْتَأْمِرَانِهِنَّ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ الأَمْرُ عِنْدَنَا فِي نِكَاحِ الأَبْكَارِ . قَالَ مَالِكٌ وَلَيْسَ لِلْبِكْرِ جَوَازٌ فِي مَالِهَا حَتَّى تَدْخُلَ بَيْتَهَا وَيُعْرَفَ مِنْ حَالِهَا .
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসেম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ও সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রাঃ) তাহারা উভয়ে নিজেদের কুমারী কন্যাদিগকে তাহাদের অনুমতি না লইয়া বিবাহ দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কুমারীদের বিবাহের ব্যাপারে আমাদের নিকটও ইহা পছন্দনীয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্বামীর গৃহে না আসা (স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করা) এবং তাহার যোগ্যতার যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কুমারী মেয়ে তাহার সম্পদের উপর ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী হয় না।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১০৯৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، وَسَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، كَانُوا يَقُولُونَ فِي الْبِكْرِ يُزَوِّجُهَا أَبُوهَا بِغَيْرِ إِذْنِهَا إِنَّ ذَلِكَ لاَزِمٌ لَهَا .
রেওয়ায়ত ৭. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাসেম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) সালিম ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) তাহারা সকলেই কুমারীর ব্যাপারে বলিতেন, তাহার পিতা তাহার অনুমতি না চাহিয়া তাহাকে বিবাহ দিলে সে বিবাহ প্রযোজ্য হইবে।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১০৯৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، . أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ وَهَبْتُ نَفْسِي لَكَ فَقَامَتْ قِيَامًا طَوِيلاً فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَوِّجْنِيهَا إِنْ لَمْ تَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ عِنْدَكَ مِنْ شَىْءٍ تُصْدِقُهَا إِيَّاهُ " . فَقَالَ مَا عِنْدِي إِلاَّ إِزَارِي هَذَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ أَعْطَيْتَهَا إِيَّاهُ جَلَسْتَ لاَ إِزَارَ لَكَ فَالْتَمِسْ شَيْئًا " . فَقَالَ مَا أَجِدُ شَيْئًا . قَالَ " الْتَمِسْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ " . فَالْتَمَسَ فَلَمْ يَجِدْ شَيْئًا . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ شَىْءٌ " . فَقَالَ نَعَمْ مَعِي سُورَةُ كَذَا وَسُورَةُ كَذَا . لِسُوَرٍ سَمَّاهَا . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَنْكَحْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ " .
রেওয়ায়ত ৮. সাহল ইবন সা'দ সায়িদী (রাঃ) হইতে বর্ণিত—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট একজন মহিলা আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমি আমার সত্তাকে আপনার জন্য হিবা (দান) করিলাম। ইহা বলার পর সে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করিল। অতঃপর এক ব্যক্তি দাঁড়াইয়া বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার প্রয়োজন না থাকিলে এই মহিলাকে আমার সঙ্গে বিবাহ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, এই মহিলাকে মোহরানা বাবদ দিবার মতো তোমার কিছু আছে কি? লোকটি বলিল, আমার নিকট আমার এই তাহবন্দ (পরিচ্ছদ-লুঙ্গি অথবা পায়জামা) ব্যতীত আর কিছু নাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমার এই তাহবন্দ উহাকে প্রদান করিলে তোমার নিকট কোন পরিচ্ছদ থাকিবে না। তাই তুমি অন্য কিছু তালাশ কর। সে ব্যক্তি বলিল, আমি কিছু পাইব না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তুমি একটি লোহার আংটিও পাও কিনা দেখ। সে তালাশ করিল। কিন্তু কিছুই পাইল না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেন, কুরআনের কিছু অংশ তোমার জানা আছে কি? সে সূরার নাম উল্লেখ করিয়া বলিল, অমুক অমুক সূরা আমার কণ্ঠস্থ আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, কুরআন শরীফের যে কয়টি সূরা তোমার কণ্ঠস্থ আছে সেইগুলির বিনিময়ে (সম্মানে) এই মহিলাকে আমি তোমার নিকট বিবাহ দিলাম।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১০৯৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَبِهَا جُنُونٌ أَوْ جُذَامٌ أَوْ بَرَصٌ فَمَسَّهَا فَلَهَا صَدَاقُهَا كَامِلاً وَذَلِكَ لِزَوْجِهَا غُرْمٌ عَلَى وَلِيِّهَا . قَالَ مَالِكٌ وَإِنَّمَا يَكُونُ ذَلِكَ غُرْمًا عَلَى وَلِيِّهَا لِزَوْجِهَا إِذَا كَانَ وَلِيُّهَا الَّذِي أَنْكَحَهَا هُوَ أَبُوهَا أَوْ أَخُوهَا أَوْ مَنْ يُرَى أَنَّهُ يَعْلَمُ ذَلِكَ مِنْهَا فَأَمَّا إِذَا كَانَ وَلِيُّهَا الَّذِي أَنْكَحَهَا ابْنَ عَمٍّ أَوْ مَوْلًى أَوْ مِنَ الْعَشِيرَةِ مِمَّنْ يُرَى أَنَّهُ لاَ يَعْلَمُ ذَلِكَ مِنْهَا فَلَيْسَ عَلَيْهِ غُرْمٌ وَتَرُدُّ تِلْكَ الْمَرْأَةُ مَا أَخَذَتْهُ مِنْ صَدَاقِهَا وَيَتْرُكُ لَهَا قَدْرَ مَا تُسْتَحَلُّ بِهِ .
রেওয়ায়ত ৯. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত—উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন মহিলাকে বিবাহ করিল যেই মহিলার পাগলামি, কুষ্ঠ ও শ্বেত রোগ রহিয়াছে, উক্ত ব্যক্তি সেই মহিলার সাথে সহবাস করিলে সে মহিলা পূর্ণ মোহরানার হকদার হইবে এবং উক্ত মহিলার অভিভাবকের উপর সেই মোহরানার অর্থদণ্ড বর্তাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক, যে তাহাকে বিবাহ দিয়াছে তাহার পিতা বা ভাই অথবা এমন কোন আত্মীয় হয়, যে মহিলার রোগের খবর জানে, তবে তাহার স্বামীকে মোহরানার অর্থ ফেরত দিতে হইবে। পক্ষান্তরে যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক তাহার চাচাত ভাই অথবা তাহার আযাদকৃত গোলাম অথবা তাহার গোত্রের অন্য কোন লোক হয়, যাহার সম্পর্কে ধারণা করা যায় যে, সে তাহার রোগের খবর জানে না। তবে তাহার উপর অর্থদণ্ড বর্তাইবে না। উক্ত মহিলা মোহরানার নিম্নতম পরিমাণ অর্থ রাখিয়া মোহরানার অবশিষ্ট অংশ স্বামীকে ফেরত দিবে।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَةَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، - وَأُمُّهَا بِنْتُ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ - كَانَتْ تَحْتَ ابْنٍ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَمَاتَ وَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا وَلَمْ يُسَمِّ لَهَا صَدَاقًا فَابْتَغَتْ أُمُّهَا صَدَاقَهَا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ لَيْسَ لَهَا صَدَاقٌ وَلَوْ كَانَ لَهَا صَدَاقٌ لَمْ نُمْسِكْهُ وَلَمْ نَظْلِمْهَا . فَأَبَتْ أُمُّهَا أَنْ تَقْبَلَ ذَلِكَ فَجَعَلُوا بَيْنَهُمْ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَقَضَى أَنْ لاَ صَدَاقَ لَهَا وَلَهَا الْمِيرَاثُ .
রেওয়ায়ত ১০. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উবায়দুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর কন্যা আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-এর পুত্রের স্ত্রী ছিলেন এবং তাহার মাতা ছিলেন যায়দ ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর কন্যা। তাহার সহিত তলব সহবাসের পূর্বে তাহার স্বামীর মৃত্যু হইল। অথচ তাহার মহর ধার্যকৃত ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর তাহার মাতা মোহরানা দাবি করিলেন। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেন, তিনি মহর পাইবেন না। যদি তাহার পাওনা থাকিত, তবে আমরা অবশ্যই দিতাম এবং তাহার হক আদায় করিতে কোন প্রকার ক্রটি করিতাম না। কন্যার মাতা এই কথা মানিলেন না। যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) তাহাদের উভয়ের মীমাংসাকারী নিযুক্ত হইলেন। তিনি রায় দিলেন যে, কন্যা মোহরানা পাইবেন না। তিনি স্বামীর সম্পদে উত্তরাধিকারিণী হইবেন।
১১
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، كَتَبَ فِي خِلاَفَتِهِ إِلَى بَعْضِ عُمَّالِهِ أَنَّ كُلَّ مَا اشْتَرَطَ الْمُنْكِحُ - مَنْ كَانَ أَبًا أَوْ غَيْرَهُ - مِنْ حِبَاءٍ أَوْ كَرَامَةٍ فَهُوَ لِلْمَرْأَةِ إِنِ ابْتَغَتْهُ . قَالَ مَالِكٌ فِي الْمَرْأَةِ يُنْكِحُهَا أَبُوهَا وَيَشْتَرِطُ فِي صَدَاقِهَا الْحِبَاءَ يُحْبَى بِهِ إِنَّ مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ يَقَعُ بِهِ النِّكَاحُ فَهُوَ لاِبْنَتِهِ إِنِ ابْتَغَتْهُ وَإِنْ فَارَقَهَا زَوْجُهَا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَلِزَوْجِهَا شَطْرُ الْحِبَاءِ الَّذِي وَقَعَ بِهِ النِّكَاحُ . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يُزَوِّجُ ابْنَهُ صَغِيرًا لاَ مَالَ لَهُ إِنَّ الصَّدَاقَ عَلَى أَبِيهِ إِذَا كَانَ الْغُلاَمُ يَوْمَ تَزَوَّجَ لاَ مَالَ لَهُ وَإِنْ كَانَ لِلْغُلاَمِ مَالٌ فَالصَّدَاقُ فِي مَالِ الْغُلاَمِ إِلاَّ أَنْ يُسَمِّيَ الأَبُ أَنَّ الصَّدَاقَ عَلَيْهِ وَذَلِكَ النِّكَاحُ ثَابِتٌ عَلَى الاِبْنِ إِذَا كَانَ صَغِيرًا وَكَانَ فِي وِلاَيَةِ أَبِيهِ . قَالَ مَالِكٌ فِي طَلاَقِ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا وَهِيَ بِكْرٌ فَيَعْفُوَ أَبُوهَا عَنْ نِصْفِ الصَّدَاقِ إِنَّ ذَلِكَ جَائِزٌ لِزَوْجِهَا مِنْ أَبِيهَا فِيمَا وَضَعَ عَنْهُ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ فِي كِتَابِهِ {إِلاَّ أَنْ يَعْفُونَ} فَهُنَّ النِّسَاءُ اللاَّتِي قَدْ دُخِلَ بِهِنَّ {أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ} فَهُوَ الأَبُ فِي ابْنَتِهِ الْبِكْرِ وَالسَّيِّدُ فِي أَمَتِهِ . قَالَ مَالِكٌ وَهَذَا الَّذِي سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ وَالَّذِي عَلَيْهِ الأَمْرُ عِنْدَنَا . قَالَ مَالِكٌ فِي الْيَهُودِيَّةِ أَوِ النَّصْرَانِيَّةِ تَحْتَ الْيَهُودِيِّ أَوِ النَّصْرَانِيِّ فَتُسْلِمُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا أَنَّهُ لاَ صَدَاقَ لَهَا . قَالَ مَالِكٌ لاَ أَرَى أَنْ تُنْكَحَ الْمَرْأَةُ بِأَقَلَّ مِنْ رُبْعِ دِينَارٍ وَذَلِكَ أَدْنَى مَا يَجِبُ فِيهِ الْقَطْعُ .
রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তাহার খিলাফতকালে জনৈক কর্মকর্তার নিকট এই মর্মে পত্র লিখিলেন যে, বিবাহ প্রদানকারী তিনি পিতা হউক বা অন্য কেহ স্বামীর নিকট হইতে কোন প্রকার উপঢৌকন বা সম্মানীর শর্ত করিয়া থাকিলে স্ত্রী দাবি করিলে সে উহা পাইবে। মালিক (রহঃ) সেই মহিলা সম্পর্কে বলেন, যে মহিলাকে তাহার পিতা বিবাহ দিয়াছে এবং কন্যার মোহরানাতে কন্যার পিতা নিজের জন্য কিছু উপঢৌকনের শর্ত করিয়াছে। তবে যেই সব শর্তে বিবাহ সংঘটিত হইয়াছে, সেই সব প্রাপ্য হইবে কন্যার, যদি সে দাবি করে। আর যদি তাহার স্বামী সহবাসের পূর্বে তাহাকে তালাক দেয় তবে শর্তকৃত উপঢৌকন হইতে স্বামী অর্ধেক পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাহার অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্রকে বিবাহ দেয়, যে পুত্র কোন সম্পদের মালিক নয়। বিবাহ অনুষ্ঠানে যদি সে পুত্র সম্পদের মালিক না থাকে তবে মহর ওয়াজিব হইবে তাহার পিতার উপর। আর যদি পুত্র সম্পদের মালিক থাকে তবে পিতা স্বয়ং মহর-এর দায়িত্ব গ্রহণ না করিয়া থাকে তবে পুত্রের সম্পদ হইতে মহর আদায় করিতে হইবে। কেননা পুত্র পিতার কর্তৃত্বাধীন থাকিলে এবং পুত্র অপ্রাপ্ত বয়স্ক হইলে এই বিবাহ পুত্রের জন্য অপরিহার্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি সহবাসের পূর্বে তাহার কুমারী স্ত্রীকে তালাক দিল। কন্যার পিতা তাহার কন্যার অর্ধেক মহর মাফ করিয়া দিল। কন্যার পিতা যে পরিমাণ মহর মাফ করিয়া দিল সে পরিমাণ মহর না দেওয়া স্বামীর জন্য বৈধ হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উপরিউক্ত মাস'আলার দলীল এই যে, আল্লাহ তা'আলা কুরআনুল করীমে ইরশাদ করিয়াছেন (إِلاَّ أَنْ يَعْفُونَ) “যদি না স্ত্রী মাফ করিয়া দেয়।” ইহাতে ঐ সকল স্ত্রীলোকের কথা বলা হইয়াছে যাহাঁদের সহিত তাহাদের স্বামীগণ সহবাস করিয়াছে। (أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ) অথবা যাহার হাতে বিবাহ বন্ধন রহিয়াছে সে মাফ করিয়া দেয়।[1] আয়াতে উল্লিখিত “যাহার হাতে বিবাহ বন্ধন রহিয়াছে” দ্বারা উদ্দেশ্য হইতেছে, কুমারী কন্যার পিতা এবং ক্রীতদাসীর মালিক যাহাদের হাতে বিবাহ বন্ধনের অধিকার রহিয়াছে।” মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে আমি এইরূপ শুনিয়াছি এবং আমাদের মদীনাবাসীর আমলও অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহুদী অথবা খ্রিস্টান মহিলা ইহুদী অথবা খ্রিস্টান স্বামীর বিবাহ বন্ধনে থাকিলে এবং ইহুদী অথবা খ্রিস্টান মহিলা স্বামীর সহিত সহবাসের পূর্বে মুসলিম হইলে তবে মহর তাহদের প্রাপ্য হইবে না । মালিক (রহঃ) বলেনঃ দীনার-এর এক-চতুর্থাংশের কম পরিমাণ মহর-এর বিনিময়ে মহিলাকে বিবাহ দেওয়া আমি বৈধ মনে করি না। এই পরিমাণই হইতেছে সর্বনিম্ন পরিমাণ, যাহাতে চোরের হাত কাটা হয়।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَضَى فِي الْمَرْأَةِ إِذَا تَزَوَّجَهَا الرَّجُلُ أَنَّهُ إِذَا أُرْخِيَتِ السُّتُورُ فَقَدْ وَجَبَ الصَّدَاقُ .
রেওয়ায়ত ১২. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ফায়সালা দিয়াছেন যে, কোন মহিলাকে কোন পুরুষ বিবাহ করিলে এবং বিবাহের পর (স্বামী-স্ত্রী গৃহাভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর) পর্দা টাঙ্গান হইলে তবে স্বামীর উপর মহর ওয়াজিব হইবে।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، كَانَ يَقُولُ إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بِامْرَأَتِهِ فَأُرْخِيَتْ عَلَيْهِمَا السُّتُورُ فَقَدْ وَجَبَ الصَّدَاقُ .
ইয়াহিয়া আমার কাছে মালেক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যায়েদ ইবনে সাবিত বলেছেন, "যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তার সাথে সহবাস করে তখন কনের দাম বাধ্যতামূলক হয়।
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، كَانَ يَقُولُ إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بِالْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا صُدِّقَ الرَّجُلُ عَلَيْهَا وَإِذَا دَخَلَتْ عَلَيْهِ فِي بَيْتِهِ صُدِّقَتْ عَلَيْهِ . قَالَ مَالِكٌ أَرَى ذَلِكَ فِي الْمَسِيسِ إِذَا دَخَلَ عَلَيْهَا فِي بَيْتِهَا فَقَالَتْ قَدْ مَسَّنِي وَقَالَ لَمْ أَمَسَّهَا صُدِّقَ عَلَيْهَا فَإِنْ دَخَلَتْ عَلَيْهِ فِي بَيْتِهِ فَقَالَ لَمْ أَمَسَّهَا وَقَالَتْ قَدْ مَسَّنِي صُدِّقَتْ عَلَيْهِ .
রেওয়ায়ত ১৩. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিতেনঃ কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করার পর পর্দা টাঙ্গানো হইলে তাহার মহরানা ওয়াজিব হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিতেন— কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত স্ত্রীর গৃহে মিলিত হইলে সঙ্গম সম্পর্কে স্বামীর কথাই সত্য বলিয়া গণ্য হইবে। আর যদি স্ত্রী স্বামীর গৃহে আগমন করে এবং মিলিত হয় সেই ক্ষেত্রে স্ত্রীর কথাই গ্রাহ্য করা হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি, উহা হইতেছে স্পর্শ করার ব্যাপার স্বামী স্ত্রীর গৃহে তাহার সহিত মিলিত হইলে তবে স্ত্রী যদি বলে, “সে আমাকে স্পর্শ (সহবাস) করিয়াছে” আর স্বামী বলে, “আমি তাহাকে স্পর্শ করি নাই।” এমতাবস্থায় স্বামীর দাবি বিশ্বাসযোগ্য হইবে। পক্ষান্তরে যদি স্ত্রী স্বামীর গৃহে মিলিত হয়, অতঃপর (সহবাসের ব্যাপারে) স্বামী দাবি করে, “আমি তাহাকে স্পর্শ করি নাই।” স্ত্রী দাবি করে, “আমাকে সে স্পর্শ করিয়াছে।” এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি বিশ্বাসযোগ্য হইবে।
১৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ تَزَوَّجَ أُمَّ سَلَمَةَ وَأَصْبَحَتْ عِنْدَهُ قَالَ لَهَا " لَيْسَ بِكِ عَلَى أَهْلِكِ هَوَانٌ إِنْ شِئْتِ سَبَّعْتُ عِنْدَكِ وَسَبَّعْتُ عِنْدَهُنَّ وَإِنْ شِئْتِ ثَلَّثْتُ عِنْدَكِ وَدُرْتُ " . فَقَالَتْ ثَلِّثْ .
রেওয়ায়ত ১৪. আবদুর রহমান ইবন হারিস ইবন হিশাম মাখযুমী (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উম্মুল মু'মিনীন) উম্মে সালামাহ্ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন এবং উম্মে সালামাই [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট রাত্রি যাপন করিয়া] ফজর করিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ “তোমার স্বামীর নিকট তোমার মর্যাদা কম নহে। তুমি ইচ্ছা করিলে আমি তোমার নিকট এক সপ্তাহ অবস্থান করিব এবং অন্যান্য স্ত্রীর নিকটও এক এক সপ্তাহ করিয়া অবস্থান করিব। আর যদি তুমি ইচ্ছা কর আমি তোমার নিকট তিনদিন অবস্থান করিব আর অন্যান্য স্ত্রীর নিকট পর্যায়ক্রমে অবস্থান করিব। উম্মে সালামাহ্ (রাঃ) বলিলেনঃ আমার নিকট তিনদিন অবস্থান করুন।
১৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لِلْبِكْرِ سَبْعٌ وَلِلثَّيِّبِ ثَلاَثٌ .
রেওয়ায়ত ১৫. হুমাইদ তাবীল (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলিতেনঃ (অবস্থানের হক) কুমারীর জন্য সাত দিন, আর অকুমারীর জন্য তিন দিন। মালিক (রহঃ) বলেন, মদীনাবাসীদের আমলও অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেন, নতুন স্ত্রী ব্যতীত যদি কোন ব্যক্তির স্ত্রী থাকে, তবে যে স্ত্রীকে (সদ্য) বিবাহ করিয়াছে সেই স্ত্রীর (নির্দিষ্ট বিশেষ) দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সেই উভয়ের মধ্যে সমান সমান পালা ভাগ করবে। আর (সদ্য) বিবাহিতা স্ত্রীর নিকট যে কয়দিন অবস্থান করিয়াছে পালা বন্টনের মধ্যে সেই দিনগুলি হিসাব করা হইবে না।
১৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، سُئِلَ عَنِ الْمَرْأَةِ، تَشْتَرِطُ عَلَى زَوْجِهَا أَنَّهُ لاَ يَخْرُجُ بِهَا مِنْ بَلَدِهَا فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ يَخْرُجُ بِهَا إِنْ شَاءَ . قَالَ مَالِكٌ فَالأَمْرُ عِنْدَنَا ذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا شَرَطَ الرَّجُلُ لِلْمَرْأَةِ وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ عِنْدَ عُقْدَةِ النِّكَاحِ أَنْ لاَ أَنْكِحَ عَلَيْكِ وَلاَ أَتَسَرَّرَ إِنَّ ذَلِكَ لَيْسَ بِشَىْءٍ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ فِي ذَلِكَ يَمِينٌ بِطَلاَقٍ أَوْ عِتَاقَةٍ فَيَجِبُ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَيَلْزَمُهُ .
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল, কোন স্ত্রীলোক স্বামীর উপর এই শর্ত আরোপ করিয়াছে যে, স্বামী তাহাকে নিজ শহর হইতে বাহির করিবে না। উত্তরে সাঈদ ইবন মুসায়্যাব বললেনঃ স্বামী ইচ্ছা করিলে উহাকে তাহার শহরের বাহিরে নিতে পারিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত এই, যদি বিবাহ বন্ধন স্থির করার সময় পুরুষ মহিলার জন্য এই শর্ত মানিয়া লয়, “আমি তোমার উপর অন্য বিবাহ করিব না-এবং কোন ক্রীতদাসীও রাখিব না”-এইরূপ শর্ত অর্থহীন। কিন্তু এইরূপ করিলে স্ত্রীর তালাক এবং ক্রীতদাসীর আযাদ হওয়ার কথা যুক্ত করা হয়, তবে সেই শর্ত স্বামীর উপর ওয়াজিব হইবে এবং (শর্ত লঙ্ঘন করিলে) তালাক ও আযাদী প্রযোজ্য হইবে।
১৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ رِفَاعَةَ الْقُرَظِيِّ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الزَّبِيرِ، أَنَّ رِفَاعَةَ بْنَ سِمْوَالٍ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَمِيمَةَ بِنْتَ وَهْبٍ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثًا فَنَكَحَتْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ فَاعْتَرَضَ عَنْهَا فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَمَسَّهَا فَفَارَقَهَا فَأَرَادَ رِفَاعَةُ أَنْ يَنْكِحَهَا - وَهُوَ زَوْجُهَا الأَوَّلُ الَّذِي كَانَ طَلَّقَهَا - فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَهَاهُ عَنْ تَزْوِيجِهَا وَقَالَ " لاَ تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ " .
রেওয়ায়ত ১৭. যুবাইর ইবন আবদুর রহমান ইবন যবীর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রিফা'আ ইবন সিমওয়াল (রহঃ) তাহার স্ত্রী তামীম বিনতে ওয়াহবকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সময়ে তিন তালাক দিলেন। অতঃপর তামীম আবদুর রহমান ইবন যীরকে বিবাহ করিলেন। কিন্তু তাহার সহিত মিলিত হইতে বিপত্তি ঘটিল যদ্দরুন আবদুর রহমান তাহাকে স্পর্শ করিতে পারিল না। তাই তিনি তামীমাকে ত্যাগ করিলেন। অতঃপর রিফা'আ তাহাকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিলেন। এই রিফা'আ তাহার প্রথম স্বামী যিনি তাহাকে তালাক দিয়াছিলেন। রিফা'আ এই বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিকট উত্থাপন করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তামীমাকে বিবাহ করিতে তাহাকে নিষেধ করিলেন এবং বলিলেন لاَ تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ “(অন্য স্বামী) সহবাস না করা পর্যন্ত তামীমা তোমার জন্য হালাল হইবে না।”
১৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১০৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا سُئِلَتْ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ فَتَزَوَّجَهَا بَعْدَهُ رَجُلٌ آخَرُ فَطَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا هَلْ يَصْلُحُ لِزَوْجِهَا الأَوَّلِ أَنْ يَتَزَوَّجَهَا فَقَالَتْ عَائِشَةُ لاَ حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَهَا .
রেওয়ায়ত ১৮. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে তাহার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়াছে। তারপর তাহাকে অন্য এক ব্যক্তি বিবাহ করিয়াছে। কিন্তু সে তাহাকে স্পর্শ (সহবাস) করার পূর্বেই তালাক দিয়াছে। এই অবস্থাতে প্রথম স্বামীর জন্য তাহাকে পুনরায় বিবাহ বৈধ হবে কি? আয়েশা (রাঃ) বলিলেনঃ না, তাহাকে স্পর্শ (সহবাস) না করা পর্যন্ত বৈধ হবে না।
২০
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ ثُمَّ تَزَوَّجَهَا بَعْدَهُ رَجُلٌ آخَرُ فَمَاتَ عَنْهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا هَلْ يَحِلُّ لِزَوْجِهَا الأَوَّلِ أَنْ يُرَاجِعَهَا فَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ لاَ يَحِلُّ لِزَوْجِهَا الأَوَّلِ أَنْ يُرَاجِعَهَا . قَالَ مَالِكٌ فِي الْمُحَلِّلِ إِنَّهُ لاَ يُقِيمُ عَلَى نِكَاحِهِ ذَلِكَ حَتَّى يَسْتَقْبِلَ نِكَاحًا جَدِيدًا فَإِنْ أَصَابَهَا فِي ذَلِكَ فَلَهَا مَهْرُهَا .
রেওয়ায়ত ১৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, কাশেম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে তিন তালাক দিল, ইহার পর অন্য এক ব্যক্তি তাহাকে বিবাহ করিল। স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বেই সে ব্যক্তির মৃত্যু হইল। এইরূপ অবস্থাতে তাহার প্রথম স্বামীর পক্ষে তাহাকে পুনরায় গ্রহণ করা হালাল হইবে কি? কাশেম ইবন মুহাম্মদ বলিলেনঃ প্রথম স্বামীর পক্ষে সেই স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করা হালাল হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ পূর্ব স্বামী যে স্ত্রীকে তালাক দিয়াছে সেই স্বামীর জন্য স্ত্রীকে হালাল করার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি বিবাহ করিবে তাহার সেই বিবাহ ভাঙ্গিয়া দেওয়া হইবে। এবং (হালাল করার নিয়ত ছাড়া) নূতনভাবে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিবে। কিন্তু (উপরিউক্ত অবৈধ বিবাহে) যদি সে স্ত্রীর সহিত সহবাস করিয়া থাকে তবে স্ত্রী মহর পাইবে।
২১
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১১
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُجْمَعُ بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَعَمَّتِهَا وَلاَ بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَخَالَتِهَا " .
রেওয়ায়ত ২০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ কোন নারীকে তাহার ফুফুর সহিত এবং কোন নারীকে তাহার খালার সহিত বিবাহে একত্র করা যাইবে না অর্থাৎ একই পুরুষ এইরূপ দুই নারীকে এক সঙ্গে দুই স্ত্রীরূপে গ্রহণ করিবে না।
২২
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ يُنْهَى أَنْ تُنْكَحَ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا أَوْ عَلَى خَالَتِهَا وَأَنْ يَطَأَ الرَّجُلُ وَلِيدَةً وَفِي بَطْنِهَا جَنِينٌ لِغَيْرِهِ .
রেওয়ায়ত ২১. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিতেন, কোন নারীকে তাহার ফুফু কিংবা খালার সঙ্গে একই পুরুষের স্ত্রী হইতে নিষেধ করিতে হইবে। আরো নিষেধ করা হইবে, কোন ব্যক্তিকে এমন দাসীর সহিত সহবাস করা হইতে, যে দাসীর গর্ভে অন্য পক্ষের সন্তান রহিয়াছে।
২৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১৩
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ عَنْ رَجُلٍ، تَزَوَّجَ امْرَأَةً ثُمَّ فَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا هَلْ تَحِلُّ لَهُ أُمُّهَا فَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ لاَ الأُمُّ مُبْهَمَةٌ لَيْسَ فِيهَا شَرْطٌ وَإِنَّمَا الشَّرْطُ فِي الرَّبَائِبِ .
রেওয়ায়ত ২২. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) বলেন, যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি একজন মহিলাকে বিবাহ করিয়াছে। অতঃপর তাহার সহিত সহবাস করার পূর্বে উহাকে তালাক দিয়াছে। উক্ত ব্যক্তির জন্য সেই মহিলার মাতাকে বিবাহ করা বৈধ হইবে কি? উত্তরে যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিলেনঃ না, বৈধ হইবে না। কারণ জননীর ব্যাপারে (কুরআনুল করীমে) কোন শর্ত আরোপ করা হয় নাই। বরং শর্ত রহিয়াছে স্ত্রীর সৎ কন্যাদের ব্যাপারে।
২৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ غَيْرِ، وَاحِدٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، اسْتُفْتِيَ وَهُوَ بِالْكُوفَةِ عَنْ نِكَاحِ الأُمِّ، بَعْدَ الاِبْنَةِ إِذَا لَمْ تَكُنْ الاِبْنَةُ مُسَّتْ فَأَرْخَصَ فِي ذَلِكَ ثُمَّ إِنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَسَأَلَ عَنْ ذَلِكَ فَأُخْبِرَ أَنَّهُ لَيْسَ كَمَا قَالَ وَإِنَّمَا الشَّرْطُ فِي الرَّبَائِبِ فَرَجَعَ ابْنُ مَسْعُودٍ إِلَى الْكُوفَةِ فَلَمْ يَصِلْ إِلَى مَنْزِلِهِ حَتَّى أَتَى الرَّجُلَ الَّذِي أَفْتَاهُ بِذَلِكَ فَأَمَرَهُ أَنْ يُفَارِقَ امْرَأَتَهُ . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ تَكُونُ تَحْتَهُ الْمَرْأَةُ ثُمَّ يَنْكِحُ أُمَّهَا فَيُصِيبُهَا إِنَّهَا تَحْرُمُ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ وَيُفَارِقُهُمَا جَمِيعًا وَيَحْرُمَانِ عَلَيْهِ أَبَدًا إِذَا كَانَ قَدْ أَصَابَ الأُمَّ فَإِنْ لَمْ يُصِبِ الأُمَّ لَمْ تَحْرُمْ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ وَفَارَقَ الأُمَّ . وَقَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يَتَزَوَّجُ الْمَرْأَةَ ثُمَّ يَنْكِحُ أُمَّهَا فَيُصِيبُهَا إِنَّهُ لاَ تَحِلُّ لَهُ أُمُّهَا أَبَدًا وَلاَ تَحِلُّ لأَبِيهِ وَلاَ لاِبْنِهِ وَلاَ تَحِلُّ لَهُ ابْنَتُهَا وَتَحْرُمُ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ . قَالَ مَالِكٌ فَأَمَّا الزِّنَا فَإِنَّهُ لاَ يُحَرِّمُ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ لأَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ {وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ} فَإِنَّمَا حَرَّمَ مَا كَانَ تَزْوِيجًا وَلَمْ يَذْكُرْ تَحْرِيمَ الزِّنَا فَكُلُّ تَزْوِيجٍ كَانَ عَلَى وَجْهِ الْحَلاَلِ يُصِيبُ صَاحِبُهُ امْرَأَتَهُ فَهُوَ بِمَنْزِلَةِ التَّزْوِيجِ الْحَلاَلِ فَهَذَا الَّذِي سَمِعْتُ وَالَّذِي عَلَيْهِ أَمْرُ النَّاسِ عِنْدَنَا .
মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন নারীর সহিত ব্যভিচার করিয়াছে সেই কারণে সেই ব্যক্তির উপর (শরীয়তের বিধান মতে) শাস্তিও প্রয়োগ করা হইয়াছে। সেই ব্যক্তি সেই মহিলার কন্যাকে বিবাহ করিতে পারবে এবং সে ব্যক্তি যাহার সহিত ব্যভিচার করিয়াছে ইচ্ছা করিলে সে মহিলার সহিত তাহার পুত্রের বিবাহ দিতে পারিবে। ইহা এইজন্য যে, উক্ত ব্যক্তি এই মহিলার সহিত হারাম পন্থায় সহবাস করিয়াছে। আর আল্লাহ তা'আলা যে মহিলার কন্যার বিবাহকে হারাম করিয়াছেন তাহা হইল সেই মহিলা যাহার সহিত হালাল পন্থায় অথবা সন্দেহযুক্ত বিবাহ বন্ধনে মিলিত হইয়াছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ (وَلَا تَنكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاءِ) যে সকল স্ত্রীলোককে তোমাদের পিতৃপুরুষগণ বিবাহ করিয়াছে তোমরা সে সকল স্ত্রীলোকদের বিবাহ করিও না। (সূরা নিসাঃ ২২) মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি কোন মহিলাকে তাহার ইদ্দতের সময়ে বৈধ বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করিল এবং তাহার সহিত সহবাসও করিল, তবে তাহার ছেলের জন্য সে মহিলাকে বিবাহ করা হারাম হইবে। ইহা এইজন্য যে, তাহার পিতা সেই মহিলাকে হালাল পন্থায় বিবাহ করিয়াছে যাহাতে তাহার উপর কোন প্রকার শাস্তি প্রয়োগ করা হয় না। এই বিবাহে যে সন্তান জন্ম লাভ করবে সে সন্তানও তাহার পিতার বলিয়া গণ্য হইবে। যদ্রুপ পুত্রের জন্য উক্ত মহিলাকে বিবাহ করা হারাম, যে মহিলার সহিত তাহার পিতা উহার ইদ্দতের সময় বিবাহ করিয়াছে ও তাহার সহিত সহবাস করিয়াছে, তদ্রুপ পিতার জন্যও উক্ত স্ত্রীলোকের কন্যাকে বিবাহ করা হারাম যে কন্যার মাতার সহিত সে সহবাস করিয়াছে।
২৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الشِّغَارِ وَالشِّغَارُ أَنْ يُزَوِّجَ الرَّجُلُ ابْنَتَهُ عَلَى أَنْ يُزَوِّجَهُ الآخَرُ ابْنَتَهُ لَيْسَ بَيْنَهُمَا صَدَاقٌ .
রেওয়ায়ত ২৪. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকাহ শিগারকে নিষিদ্ধ করিয়াছেন। শিগার হইতেছে, কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে এই শর্তে অন্যের নিকট বিবাহ দিতেছে যে, কন্যার জামাতা ব্যক্তিটি তাহার আপন কন্যাকে ঐ ব্যক্তির নিকট (যাহার কন্যাকে সে নিজে বিবাহ করিয়াছে তাহার নিকট অর্থাৎ শশুরের নিকট) বিবাহ দিবে। আর এতদুভয়ের মধ্যে কোন মহরও ধার্য করা হয় নাই।
২৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَمُجَمِّعٍ، ابْنَىْ يَزِيدَ بْنِ جَارِيَةَ الأَنْصَارِيِّ عَنْ خَنْسَاءَ بِنْتِ خِدَامٍ الأَنْصَارِيَّةِ، أَنَّ أَبَاهَا، زَوَّجَهَا وَهِيَ ثَيِّبٌ فَكَرِهَتْ ذَلِكَ فَأَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّ نِكَاحَهُ .
রেওয়ায়ত ২৫. ইয়াযিদ ইবন জারিয়াহ আনসারী (রাঃ)-এর উভয় পুত্র আবদুর রহমান ও মুজাম্মি’ (রহঃ) হানসা বিনতে খিজাম (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন অকুমারী (সাইয়্যিবা) ছিলেন তখন তাহার পিতা তাহাকে বিবাহ দিলেন। তিনি এ বিবাহকে পছন্দ করিলেন না। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের সমীপে আসিলেন (এবং তাহার অসন্তুষ্টির কথা জানাইলেন)। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার এই বিবাহকে রদ করিয়া দিলেন।
২৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، أُتِيَ بِنِكَاحٍ لَمْ يَشْهَدْ عَلَيْهِ إِلاَّ رَجُلٌ وَامْرَأَةٌ فَقَالَ هَذَا نِكَاحُ السِّرِّ وَلاَ أُجِيزُهُ وَلَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ فِيهِ لَرَجَمْتُ .
রেওয়ায়ত ২৬. আবূ যুবাইর মক্কী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এমন একটি বিবাহের ঘটনা উপস্থিত করা হইল, যে বিবাহে একজন পুরুষ ও একজন নারী ব্যতীত অন্য কোন সাক্ষী ছিল না। তিনি বলিলেনঃ ইহা গোপন বিবাহ। আমি ইহাকে জায়েয বলি না। যদি আমার এ সিদ্ধান্ত আমি পূর্বে প্রকাশ করিতাম তবে আমি তোমাকে শাস্তি (রজম) দিতাম।
২৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَعَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ طُلَيْحَةَ الأَسَدِيَّةَ، كَانَتْ تَحْتَ رُشَيْدٍ الثَّقَفِيِّ فَطَلَّقَهَا فَنَكَحَتْ فِي عِدَّتِهَا فَضَرَبَهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَضَرَبَ زَوْجَهَا بِالْمِخْفَقَةِ ضَرَبَاتٍ وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا ثُمَّ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ فِي عِدَّتِهَا فَإِنْ كَانَ زَوْجُهَا الَّذِي تَزَوَّجَهَا لَمْ يَدْخُلْ بِهَا فُرِّقَ بَيْنَهُمَا ثُمَّ اعْتَدَّتْ بَقِيَّةَ عِدَّتِهَا مِنْ زَوْجِهَا الأَوَّلِ ثُمَّ كَانَ الآخَرُ خَاطِبًا مِنَ الْخُطَّابِ وَإِنْ كَانَ دَخَلَ بِهَا فُرِّقَ بَيْنَهُمَا ثُمَّ اعْتَدَّتْ بَقِيَّةَ عِدَّتِهَا مِنَ الأَوَّلِ ثُمَّ اعْتَدَّتْ مِنَ الآخَرِ ثُمَّ لاَ يَجْتَمِعَانِ أَبَدًا . قَالَ
রেওয়ায়ত ২৭. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তুলায়হা আসদিয়া রুশাইদ ছকফী (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাহাকে তালাক দিলেন। তারপর তুলায়হা ইদ্দতের ভিতরে বিবাহ করিলেন। এই কারণে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহাকে এবং তাহার স্বামীকে কয়েকটি চাবুক মারিলেন এবং উভয়কে পৃথক করিয়া দিলেন। তারপর উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, যে স্ত্রীলোক ইদ্দতের ভিতর বিবাহ করিয়াছে, বিবাহকারী তাহার সেই স্বামী যদি তাহার সহিত সহবাস না করিয়া থাকে তবে উভয়কে পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে। তারপর স্ত্রীলোকটি প্রথম স্বামীর পক্ষের অসম্পূর্ণ ইদ্দত পূর্ণ করবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী স্বাভাবিক নিয়মে বিবাহের প্রস্তাবকারীগণের মধ্যে একজন প্রস্তাবকারী হিসাবে গণ্য হইবে। আর যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি তাহার সহিত সহবাস করিয়া থাকে তবে উভয়কে পৃথক করা হইবে। তারপর প্রথম স্বামীর (পক্ষের) অবশিষ্ট ইদ্দত পূর্ণ করিবে। আর তাহারা (দ্বিতীয় স্বামী ও স্ত্রী) উভয়ে আর কখনো মিলিত হইতে পারিবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ সেই স্ত্রীলোক মহর-এর হকদার হইবে। কারণ তাহার সঙ্গে (বিবাহের মাধ্যমে) সহবাস করা হইয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের সিদ্ধান্ত হইল, স্বামীর মৃত্যু হইয়াছে, এমন স্বাধীন নারী চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। আর তাহার হয়েযের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় গর্ভধারণের আশংকা দেখা দিলে সে নারী সন্দেহমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ করিবে না।
২৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১১৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرُ، سُئِلاَ عَنْ رَجُلٍ، كَانَتْ تَحْتَهُ امْرَأَةٌ حُرَّةٌ فَأَرَادَ أَنْ يَنْكِحَ عَلَيْهَا أَمَةً فَكَرِهَا أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَهُمَا .
রেওয়ায়ত ২৮. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস ও আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তির নিকট আযাদ স্ত্রী ছিল, এমতাবস্থায় সে দাসীকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিল। উত্তরে তাহারা উভয়ে বলিলেন, আযাদ স্ত্রী[1] ও দাসীকে স্ত্রী হিসাবে একত্র করাকে আমরা পছন্দ করি না।
৩০
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لاَ تُنْكَحُ الأَمَةُ عَلَى الْحُرَّةِ إِلاَّ أَنْ تَشَاءَ الْحُرَّةُ فَإِنْ طَاعَتِ الْحُرَّةُ فَلَهَا الثُّلُثَانِ مِنَ الْقَسْمِ . قَالَ مَالِكٌ وَلاَ يَنْبَغِي لِحُرٍّ أَنْ يَتَزَوَّجَ أَمَةً وَهُوَ يَجِدُ طَوْلاً لِحُرَّةٍ وَلاَ يَتَزَوَّجَ أَمَةً إِذَا لَمْ يَجِدْ طَوْلاً لِحُرَّةٍ إِلاَّ أَنْ يَخْشَى الْعَنَتَ وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ فِي كِتَابِهِ {وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلاً أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ} وَقَالَ {ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ} قَالَ مَالِكٌ وَالْعَنَتُ هُوَ الزِّنَا .
মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহুদী ও খ্ৰীষ্টান ক্রীতদাসীকে বিবাহ করা হালাল নহে। কারণ আল্লাহ্ তাআলা কিতাবে ইরশাদ করিয়োছেনঃ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ এবং মু'মিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের পূর্বে যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে, তাহদের সচ্চরিত্রা নারী তোমাদের জন্য বৈধ করা হইল (সূরা মায়িদাঃ ৫)। উহারা হইতেছেন ইহুদী ও খ্রিস্টান আযাদ মহিলাগণ ।” আল্লাহ্ তা'আলা আরো ইরশাদ করেনঃ وَمَن لَّمْ يَسْتَطِعْ مِنكُمْ طَوْلًا أَن يَنكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُم مِّن فَتَيَاتِكُمُ الْمُؤْمِنَاتِ “তোমাদের মধ্যে কাহারও স্বাধীন ঈমানদার নারী বিবাহের সামর্থ্য না থাকিলে তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত ঈমানদার নারী বিবাহ করিবে।” (সূরা নিসাঃ ২৫) ইহারা হইলেন মুমিনা ক্রীতদাসিগণ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের মতে মু'মিন ক্রীতদাসিগণকেই আল্লাহ তা'আলা হালাল করিয়াছেন। যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে (ইহুদী ও খ্রিস্টান) তাহাদের ক্রীতদাসিগণকে (আল্লাহ তা'আলা) হালাল করেন নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহুদী ও খ্রিস্টান ক্রীতদাসগণের খরিদসূত্রে মালিক হইলে তবে মালিকদের জন্য উহারা হালাল হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রয়সূত্রে মালিক হইলেও অগ্নিপূজারী দাসীর সহিত সহবাস করা হালাল নহে।
৩১
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يُطَلِّقُ الأَمَةَ ثَلاَثًا ثُمَّ يَشْتَرِيهَا إِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لَهُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ .
রেওয়ায়ত ৩০. যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিতেন, যে ব্যক্তি দাসী স্ত্রীকে (তাহার স্ত্রী থাকা অবস্থায়) তিন তালাক প্রদান করে, পরে সে উহাকে ক্রয় করিয়া লয়; সেই দাসী সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না, যাবত সে দাসী (ইদ্দতের পর) অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে (অর্থাৎ প্রথমাবস্থায় অন্যের দাসী ও তাহার স্ত্রী ছিল, পরে সে তালাক দিয়া উহাকে ক্রয় করিয়া লইয়াছে)।
৩২
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، سُئِلاَ عَنْ رَجُلٍ، زَوَّجَ عَبْدًا لَهُ جَارِيَةً فَطَلَّقَهَا الْعَبْدُ الْبَتَّةَ ثُمَّ وَهَبَهَا سَيِّدُهَا لَهُ هَلْ تَحِلُّ لَهُ بِمِلْكِ الْيَمِينِ فَقَالاَ لاَ تَحِلُّ لَهُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ .
রেওয়ায়ত ৩১. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হইল, যে ব্যক্তি তাহার এক ক্রীতদাসের নিকট তাহার দাসীকে বিবাহ দিয়াছে। অতঃপর ক্রীতদাস (স্বামী) উহাকে তিন তালাক দিয়াছে। তারপর সেই দাসীকে তাহার কর্তা হিবা (দান) করিলেন তালাকদাতা ক্রীতদাসের নিকট। তবে দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার কারণে এই দাসী সেই ক্রীতদাসের জন্য হালাল হইবে কি? তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ না, যাবৎ স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে।
৩৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ رَجُلٍ، كَانَتْ تَحْتَهُ أَمَةٌ مَمْلُوكَةٌ فَاشْتَرَاهَا وَقَدْ كَانَ طَلَّقَهَا وَاحِدَةً فَقَالَ تَحِلُّ لَهُ بِمِلْكِ يَمِينِهِ مَا لَمْ يَبُتَّ طَلاَقَهَا فَإِنْ بَتَّ طَلاَقَهَا فَلاَ تَحِلُّ لَهُ بِمِلْكِ يَمِينِهِ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يَنْكِحُ الأَمَةَ فَتَلِدُ مِنْهُ ثُمَّ يَبْتَاعُهَا إِنَّهَا لاَ تَكُونُ أُمَّ وَلَدٍ لَهُ بِذَلِكَ الْوَلَدِ الَّذِي وَلَدَتْ مِنْهُ وَهِيَ لِغَيْرِهِ حَتَّى تَلِدَ مِنْهُ وَهِيَ فِي مِلْكِهِ بَعْدَ ابْتِيَاعِهِ إِيَّاهَا . قَالَ مَالِكٌ وَإِنِ اشْتَرَاهَا وَهِيَ حَامِلٌ مِنْهُ ثُمَّ وَضَعَتْ عِنْدَهُ كَانَتْ أُمَّ وَلَدِهِ بِذَلِكَ الْحَمْلِ فِيمَا نُرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ .
রেওয়ায়ত ৩২. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব যুহরী (রহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যাহার অধীনে (বিবাহ সূত্রে) অন্যের ক্রীতদাসী ছিল, পরে সে উহাকে ক্রয় করিয়াছে (ক্রয় করার পূর্বে) সে উহাকে এক তালাক দিয়াছিল। (এখন তাহার জন্য উক্ত স্ত্রীলোকটি হালাল হইবে কি?) ইবন শিহাব (রহঃ) বলিলেনঃ (মিলকে য়ামীন) ক্রয়ের মাধ্যমে দাস-দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার দ্বারা সেই দাসী উক্ত ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে তিন তালাক না দেওয়া পর্যন্ত। আর যদি দিয়া থাকে তবে তাহার জন্য উক্ত দাসী মিলকে য়ামীনের দ্বারা হালাল হইবে না, যাবৎ সে স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি (অন্যের) ক্রীতদাসীকে বিবাহ করে এবং তাহার সন্তান জন্মে। অতঃপর সেই দাসীকে সে ক্রয় করে। সন্তান হওয়ার দারুন এই ক্রীতদাসী তাহার উম্মে ওয়ালাদ[1] হইবে না। কারণ সে অন্যের ক্রীতদাসী। তবে উহাকে ক্রয় করার পর তাহার (এই) মালিকের স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সেই ক্রীতদাসী সন্তান জন্ম দিলে উম্মে ওয়ালাদ হইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি উক্ত ক্রীতদাসকে ক্রয় করে এবং সেই দাসী তাহার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা হয়। অতঃপর তাহারই স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সে সন্তান জন্ম দেয় তবে আমাদের মতে গর্ভ ধারণের কারণে এই দাসী উম্মে ওয়ালাদ বলিয়া গণ্য হইবে। আল্লাহ্ই ভাল জানেন।
৩৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، سُئِلَ عَنِ الْمَرْأَةِ، وَابْنَتِهَا، مِنْ مِلْكِ الْيَمِينِ تُوطَأُ إِحْدَاهُمَا بَعْدَ الأُخْرَى فَقَالَ عُمَرُ مَا أُحِبُّ أَنْ أَخْبُرَهُمَا جَمِيعًا . وَنَهَى عَنْ ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ৩৩. উবায়দুল্লাহ্ ইবন আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন স্ত্রীলোক ও তাহার কন্যা সম্পর্কে, যাহাদের উভয়কে ক্রয়সূত্রে মালিক হইয়া পর্যায়ক্রমে সহবাস করা হইয়াছে। উমর (রাঃ) বলিলেন, উভয়কে একত্র করিয়া সহবাস করাকে আমি পছন্দ করি না। তিনি এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন।
৩৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ عَنِ الأُخْتَيْنِ، مِنْ مِلْكِ الْيَمِينِ هَلْ يُجْمَعُ بَيْنَهُمَا فَقَالَ عُثْمَانُ أَحَلَّتْهُمَا آيَةٌ وَحَرَّمَتْهُمَا آيَةٌ فَأَمَّا أَنَا فَلاَ أُحِبُّ أَنْ أَصْنَعَ ذَلِكَ . قَالَ فَخَرَجَ مِنْ عِنْدِهِ فَلَقِيَ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَوْ كَانَ لِي مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ ثُمَّ وَجَدْتُ أَحَدًا فَعَلَ ذَلِكَ لَجَعَلْتُهُ نَكَالاً . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أُرَاهُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ .
রেওয়ায়ত ৩৪. কাবীসা ইবন যুয়াইব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে এমন দুই বোন সম্পর্কে প্রশ্ন করিল, যে দুই বোনের ক্রয়সূত্রে (কেহ) মালিক হইয়াছে। এমতাবস্থায় উভয়ের সঙ্গ সংগত হওয়া যাইবে কি? উসমান (রাঃ) বলিলেনঃ উভয়ের সংগত হওয়া (কুরআনুল করীমের) এক আয়াত অনুযায়ী হালাল করা হইয়াছে। আবার অন্য আয়াত অনুযায়ী ইহাকে হারাম করা হইয়াছে। তাই আমি ইহাকে (দুই বোনের সঙ্গে একত্রে সংগত হওয়া) পছন্দ করি না। প্রশ্নকারী ব্যক্তি তাহার নিকট হইতে প্রস্থান করার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের অন্য একজন সাহাবীর সঙ্গে সাক্ষাত হইল। তখন সে এই বিষয়ে তাহার নিকট প্রশ্ন করিল। তিনি বলিলেনঃ লোকের উপর যদি আমার অধিকার থাকিত তবে কাহাকেও এইরূপ করিতে পাইলে আমি তাহাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতাম! ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি এই সাহাবী আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ)। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যুবাইর ইবন আওয়াম (রাঃ) হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত তাহার নিকট পৌছিয়াছে।
৩৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ، مِثْلُ ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ فِي الأَمَةِ تَكُونُ عِنْدَ الرَّجُلِ فَيُصِيبُهَا ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُصِيبَ أُخْتَهَا إِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لَهُ حَتَّى يُحَرِّمَ عَلَيْهِ فَرْجَ أُخْتِهَا بِنِكَاحٍ أَوْ عِتَاقَةٍ أَوْ كِتَابَةٍ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ يُزَوِّجُهَا عَبْدَهُ أَوْ غَيْرَ عَبْدِهِ .
রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ) বলেনঃ জনৈক ব্যক্তির নিকট এক ক্রীতদাসী আছে। সে উহার সহিত সংগত হইয়া থাকে। অতঃপর সেই দাসীর বোনের সহিত সংগত হইতে ইচ্ছা করিল। ইহা সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না যাবৎ ইহার বোন তাহার জন্য হারাম না হয়; (পূর্ববর্তী বোনকে) অন্যের নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে অথবা আযাদ করিয়া দিয়া অথবা এই ধরনের অন্য কোন উপায় কিংবা এই দাসীকে তাহার ক্রীতদাস অথবা অন্য কাহারও নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে।
৩৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، وَهَبَ لاِبْنِهِ جَارِيَةً فَقَالَ لاَ تَمَسَّهَا فَإِنِّي قَدْ كَشَفْتُهَا .
ইয়াহিয়া আমাকে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি শুনেছেন যে উমর ইবনুল খাত্তাব তার ছেলেকে একটি দাসী দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, "তাকে স্পর্শ করো না, কারণ আমি তাকে উন্মোচন করেছি।
৩৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْمُجَبَّرِ، أَنَّهُ قَالَ وَهَبَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ لاِبْنِهِ جَارِيَةً قَالَ لاَ تَقْرَبْهَا فَإِنِّي قَدْ أَرَدْتُهَا فَلَمْ أَنْشَطْ إِلَيْهَا .
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহার পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন। এবং বলিয়া দিলেন, তুমি ইহাকে স্পর্শ (সহবাস) করিও না। কারণ আমি উহার পর্দা উন্মোচন করিয়াছি (অর্থাৎ সহবাস করিয়াছি)। আবদুর রহমান ইবন মুজাববার[1] (রহঃ) বলেনঃ মালিক ইবন আবদুল্লাহ্ (রহঃ) তাহার এক পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন এবং তিনি পুত্রকে বলিয়া দিলেন, তুমি ইহার নিকট গমন (সহবাস) করিও না, কারণ আমি উহার সাথে সংগত হওয়ার ইচ্ছা করিয়াছি। সুতরাং আমি তোমাকে উহার সহিত মিলিত হওয়ার অনুমতি দিতে পারি না।
৩৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১২৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ أَبَا نَهْشَلِ بْنَ الأَسْوَدِ، قَالَ لِلْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ إِنِّي رَأَيْتُ جَارِيَةً لِي مُنْكَشِفًا عَنْهَا وَهِيَ فِي الْقَمَرِ فَجَلَسْتُ مِنْهَا مَجْلِسَ الرَّجُلِ مِنِ امْرَأَتِهِ فَقَالَتْ إِنِّي حَائِضٌ فَقُمْتُ فَلَمْ أَقْرَبْهَا بَعْدُ أَفَأَهَبُهَا لاِبْنِي يَطَؤُهَا فَنَهَاهُ الْقَاسِمُ عَنْ ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ৩৭. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু নাহশল ইবন আসওয়াদ, কাসেম ইবন মুহম্মদ (রহঃ)-কে বলিলেন, আমার এক দাসীকে জ্যোৎস্না রাত্রিতে পরিচ্ছদ খোলা অবস্থায় দেখিয়াছি। সংগত হওয়ার উদ্দেশ্যে কোন পুরুষ তাহার স্ত্রীর নিকট যেভাবে বসে আমিও উহার নিকট সেইরূপ বসিলাম। সে দাসী বলিল, আমি ঋতুমতী। ইহা শুনিয়া আমি তাহার সহিত সংগত হইলাম না। এখন আমি উহাকে সহবাসের জন্য আমার পুত্রকে দান করিতে পারি কিন্তু কাসেম তাহাকে এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন।
৪০
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي عَبْلَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ، أَنَّهُ وَهَبَ لِصَاحِبٍ لَهُ جَارِيَةً ثُمَّ سَأَلَهُ عَنْهَا فَقَالَ قَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَهَبَهَا لاِبْنِي فَيَفْعَلَ بِهَا كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ عَبْدُ الْمَلِكِ لَمَرْوَانُ كَانَ أَوْرَعَ مِنْكَ وَهَبَ لاِبْنِهِ جَارِيَةً ثُمَّ قَالَ لاَ تَقْرَبْهَا فَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ سَاقَهَا مُنْكَشِفَةً .
রেওয়ায়ত ৩৮. ইবরাহীম ইবন আবি 'আবলা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল মালিক ইবন মারওয়ান তাহার এক সঙ্গীকে একটি দাসী দান করিলেন। তারপর তাহার নিকট উহার অবস্থা জিজ্ঞাসা করিলেন। উত্তরে তিনি বলিলেনঃ[1] আমি উহা আমার পুত্রকে দান করিতে ইচ্ছা করিয়াছি। সে উহার সহিত এমন (অর্থাৎ সহবাস) করিবে। আবদুল মালিক বলিলেনঃ মারওয়ান তোমার তুলনায় অধিক সাবধানী ছিলেন। তিনি তাহার পুত্রকে একটি দাসী দান করিলেন। অতঃপর বলিয়া দিলেন, তুমি ইহার নিকট গমন (সহবাস) করিও না। কারণ, আমি উহার হাঁটু অনাবৃত অবস্থায় দেখিয়াছি।
৪১
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ الْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ هُنَّ أُولاَتُ الأَزْوَاجِ وَيَرْجِعُ ذَلِكَ إِلَى أَنَّ اللَّهَ حَرَّمَ الزِّنَا .
রেওয়ায়ত ৩৯. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) বলেনঃ কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত (وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ) সাধ্বী রমণীগণ “ইহারা হইলেন ঐ সকল নারী যাহাদের স্বামী আছে।” ইহা দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, আল্লাহ তা'আলা ব্যভিচারকে হারাম করিয়াছেন।
৪২
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، وَبَلَغَهُ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَّهُمَا كَانَا يَقُولاَنِ إِذَا نَكَحَ الْحُرُّ الأَمَةَ فَمَسَّهَا فَقَدْ أَحْصَنَتْهُ . قَالَ مَالِكٌ وَكُلُّ مَنْ أَدْرَكْتُ كَانَ يَقُولُ ذَلِكَ تُحْصِنُ الأَمَةُ الْحُرَّ إِذَا نَكَحَهَا فَمَسَّهَا فَقَدْ أَحْصَنَتْهُ . قَالَ مَالِكٌ يُحْصِنُ الْعَبْدُ الْحُرَّةَ إِذَا مَسَّهَا بِنِكَاحٍ وَلاَ تُحْصِنُ الْحُرَّةُ الْعَبْدَ إِلاَّ أَنْ يَعْتِقَ وَهُوَ زَوْجُهَا فَيَمَسَّهَا بَعْدَ عِتْقِهِ فَإِنْ فَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يَعْتِقَ فَلَيْسَ بِمُحْصَنٍ حَتَّى يَتَزَوَّجَ بَعْدَ عِتْقِهِ وَيَمَسَّ امْرَأَتَهُ . قَالَ مَالِكٌ وَالأَمَةُ إِذَا كَانَتْ تَحْتَ الْحُرِّ ثُمَّ فَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ تَعْتِقَ فَإِنَّهُ لاَ يُحْصِنُهَا نِكَاحُهُ إِيَّاهَا وَهِيَ أَمَةٌ حَتَّى تُنْكَحَ بَعْدَ عِتْقِهَا وَيُصِيبَهَا زَوْجُهَا فَذَلِكَ إِحْصَانُهَا وَالأَمَةُ إِذَا كَانَتْ تَحْتَ الْحُرِّ فَتَعْتِقُ وَهِيَ تَحْتَهُ قَبْلَ أَنْ يُفَارِقَهَا فَإِنَّهُ يُحْصِنُهَا إِذَا عَتَقَتْ وَهِيَ عِنْدَهُ إِذَا هُوَ أَصَابَهَا بَعْدَ أَنْ تَعْتِقَ . وَقَالَ مَالِكٌ وَالْحُرَّةُ النَّصْرَانِيَّةُ وَالْيَهُودِيَّةُ وَالأَمَةُ الْمُسْلِمَةُ يُحْصِنَّ الْحُرَّ الْمُسْلِمَ إِذَا نَكَحَ إِحْدَاهُنَّ فَأَصَابَهَا .
রেওয়ায়ত ৪০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) ও কাসেম ইবন মুহম্মদ (রহঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, স্বাধীন ব্যক্তি কোন দাসীকে বিবাহ করিলে, অতঃপর উহার সহিত সহবাস করিলে ইহার দ্বারা সে মুহসান (محصن) বলিয়া গণ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি যে সকল বিজ্ঞজনের সাক্ষাত পাইয়াছি তাহারা বলিতেন, ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তিকে মুহসান (محصن) করে যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাস স্বাধীন মহিলাকে মুহসানা বানায় যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয়। কিন্তু স্বাধীন নারী ক্রীতদাসকে অদ্রুপ করে না। কিন্তু ক্রীতদাস তাহার স্বামী যদি তাহাকে আযাদ করিয়া দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী হিসাবে সে তাহার সহিত সহবাস করে তবে সে মুহসান (محصن) হইবে। আর যদি মুক্ত হওয়ার পূর্বে সে স্ত্রীকে পৃথক করিয়া দেয় তবে সে মুহসানা হইবে না যাবৎ মুক্ত হওয়ার পর উহাকে বিবাহ না করে এবং উহার সহিত সংগত না হয়। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তির স্ত্রীরূপে রহিয়াছে তাহার মুক্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী তাহাকে তালাক দিলে উক্ত বিবাহ সে ক্রীতদাসীকে মুহসানা করিবে না। অবশ্য মুক্তি পাওয়ার পর তাহাকে বিবাহ করিয়া তাহার সহিত সংগত হইলে সে মুহসানা (সধবা) হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসী যদি আযাদ ব্যক্তির স্ত্রী হয় এবং তাহার নিকট থাকাকালীন তৎকর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার পূর্বে সে দাসত্ব হইতে মুক্ত হয় তবে সে মুহসানার (সধবা) অন্তর্ভুক্ত হইবে। এই ব্যাপারে শর্ত এই যে, উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে মুক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং ইহার পর তাহার স্বামী তাহার সহিত সহবাস করে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ খ্রিস্টান ও ইহুদী স্বাধীন নারী এবং মুসলিম ক্রীতদাসী এই তিনজনের একজনকে যদি কোন আযাদ মুসলিম ব্যক্তি বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সংগত হয় তবে সে স্ত্রী লোক মুহসানা, (সধবা) হইে।
৪৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَالْحَسَنِ، ابْنَىْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ أَبِيهِمَا، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ أَكْلِ لُحُومِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ .
রেওয়ায়ত ৪১. ‘আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খায়বর দিবসে মুত'আ বিবাহ করিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং তিনি গৃহপালিত গাধার গোশত আহার করিতেও নিষেধ করিয়াছেন।
৪৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ خَوْلَةَ بِنْتَ حَكِيمٍ، دَخَلَتْ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَتْ إِنَّ رَبِيعَةَ بْنَ أُمَيَّةَ اسْتَمْتَعَ بِامْرَأَةٍ فَحَمَلَتْ مِنْهُ . فَخَرَجَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَزِعًا يَجُرُّ رِدَاءَهُ فَقَالَ هَذِهِ الْمُتْعَةُ وَلَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ فِيهَا لَرَجَمْتُ .
রেওয়ায়ত ৪২. খাওলা বিনত হাকিম (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর খিদমতে উপস্থিত হইয়া বলিলেনঃ রবি'আ ইবন উমাইয়া (রাঃ) এক মুওয়াল্লাদা[1] নারীকে মুত’আ বিবাহ করেন এবং সে নারী গর্ভবতী হয়। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) ইহা শুনিয়া ঘাবড়াইয়া গেলেন এবং আপন চাদর টানিতে টানিতে বাহির হইলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ মুত’আ নিষিদ্ধ। লোকদের মধ্যে যদি এ বিষয়ে আমি পূর্বে ঘোষণা করিতাম তবে এই (মুত’আর কারণে) ব্যভিচারীর প্রতি রজম (প্রস্তর নিক্ষেপ) করিতাম।
৪৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يَقُولُ يَنْكِحُ الْعَبْدُ أَرْبَعَ نِسْوَةٍ . قَالَ مَالِكٌ وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ وَالْعَبْدُ مُخَالِفٌ لِلْمُحَلِّلِ إِنْ أَذِنَ لَهُ سَيِّدُهُ ثَبَتَ نِكَاحُهُ وَإِنْ لَمْ يَأْذَنْ لَهُ سَيِّدُهُ فُرِّقَ بَيْنَهُمَا وَالْمُحَلِّلُ يُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا عَلَى كُلِّ حَالٍ إِذَا أُرِيدَ بِالنِّكَاحِ التَّحْلِيلُ . قَالَ مَالِكٌ فِي الْعَبْدِ إِذَا مَلَكَتْهُ امْرَأَتُهُ أَوِ الزَّوْجُ يَمْلِكُ امْرَأَتَهُ إِنَّ مِلْكَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ يَكُونُ فَسْخًا بِغَيْرِ طَلاَقٍ وَإِنْ تَرَاجَعَا بِنِكَاحٍ بَعْدُ لَمْ تَكُنْ تِلْكَ الْفُرْقَةُ طَلاَقًا . قَالَ مَالِكٌ وَالْعَبْدُ إِذَا أَعْتَقَتْهُ امْرَأَتُهُ إِذَا مَلَكَتْهُ وَهِيَ فِي عِدَّةٍ مِنْهُ لَمْ يَتَرَاجَعَا إِلاَّ بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ .
রেওয়ায়ত ৪৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি রবী'আ ইবন আবু আবদুর রহমান (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, ক্রীতদাস চারটি বিবাহ করিতে পারে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের বিবাহ এবং মুহাল্লিল-এর বিবাহের মধ্যে পার্থক্য রহিয়াছে। কারণ ক্রীতদাসের মালিক যদি বিবাহের অনুমতি দেয় তবে তাহার বিবাহ বৈধ হইবে। আর যদি মালিক তাহার বিবাহের অনুমতি না দেয় তবে তাহাদের উভয়কে (স্বামী ও স্ত্রী) পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে। পক্ষান্তরে মুহাল্লিল ও তাহার স্ত্রীকে সর্বাবস্থায় পৃথক করিয়া দেওয়া হইবে যদি সে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করিয়া থাকে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি তাহার মালিক হয় অথবা স্বামী স্ত্রীর মালিক হয় এমতাবস্থায় স্বামী তাহার স্ত্রীর অথবা স্ত্রী তাহার স্বামীর মালিক হওয়ার ফলে তালাক ছাড়াই তাহাদের বিবাহ ভঙ্গ হইয়া যাইবে। আর যদি তাহারা উভয়ে নূতন বিবাহের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে তবে তাহাদের পূর্ববর্তী পৃথকীকরণ তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি ক্রীতদাসকে মুক্ত করিয়া দেয় এমতাবস্থায় যে, সে তাহার মালিক হইয়াছে, তখন স্ত্রী (বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে) ইদ্দতের মধ্যে রহিয়াছে, তবে তাহারা উভয়ে নূতন বিবাহ ছাড়া একে অপরের দিকে প্রত্যাবর্তন করিতে পারবে না (অর্থাৎ নূতনভাবে বিবাহ করিতে হইবে)।
৪৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩৬
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ نِسَاءً، كُنَّ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسْلِمْنَ بِأَرْضِهِنَّ وَهُنَّ غَيْرُ مُهَاجِرَاتٍ وَأَزْوَاجُهُنَّ حِينَ أَسْلَمْنَ كُفَّارٌ مِنْهُنَّ بِنْتُ الْوَلِيدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ . وَكَانَتْ تَحْتَ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ فَأَسْلَمَتْ يَوْمَ الْفَتْحِ وَهَرَبَ زَوْجُهَا صَفْوَانُ بْنُ أُمَيَّةَ مِنَ الإِسْلاَمِ فَبَعَثَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْنَ عَمِّهِ وَهْبَ بْنَ عُمَيْرٍ بِرِدَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَانًا لِصَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ وَدَعَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الإِسْلاَمِ وَأَنْ يَقْدَمَ عَلَيْهِ فَإِنْ رَضِيَ أَمْرًا قَبِلَهُ وَإِلاَّ سَيَّرَهُ شَهْرَيْنِ فَلَمَّا قَدِمَ صَفْوَانُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرِدَائِهِ نَادَاهُ عَلَى رُءُوسِ النَّاسِ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ هَذَا وَهْبَ بْنَ عُمَيْرٍ جَاءَنِي بِرِدَائِكَ وَزَعَمَ أَنَّكَ دَعَوْتَنِي إِلَى الْقُدُومِ عَلَيْكَ فَإِنْ رَضِيتُ أَمْرًا قَبِلْتُهُ وَإِلاَّ سَيَّرْتَنِي شَهْرَيْنِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " انْزِلْ أَبَا وَهْبٍ " . فَقَالَ لاَ وَاللَّهِ لاَ أَنْزِلُ حَتَّى تُبَيِّنَ لِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَلْ لَكَ تَسِيرُ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ " . فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِبَلَ هَوَازِنَ بِحُنَيْنٍ . فَأَرْسَلَ إِلَى صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ يَسْتَعِيرُهُ أَدَاةً وَسِلاَحًا عِنْدَهُ فَقَالَ صَفْوَانُ أَطَوْعًا أَمْ كَرْهًا فَقَالَ " بَلْ طَوْعًا " . فَأَعَارَهُ الأَدَاةَ وَالسِّلاَحَ الَّتِي عِنْدَهُ ثُمَّ خَرَجَ صَفْوَانُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ كَافِرٌ فَشَهِدَ حُنَيْنًا وَالطَّائِفَ وَهُوَ كَافِرٌ وَامْرَأَتُهُ مُسْلِمَةٌ وَلَمْ يُفَرِّقْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ حَتَّى أَسْلَمَ صَفْوَانُ وَاسْتَقَرَّتْ عِنْدَهُ امْرَأَتُهُ بِذَلِكَ النِّكَاحِ .
রেওয়ায়ত ৪৪. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে স্ত্রীলোকেরা তাহদের নিজের শহরে থাকিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিতেন। তাহারা মদীনার দিকে হিজরত করিতে পারিতেন না। তাহারা মুসলিম হইতেন অথচ তাহাদের স্বামীগণ কাফের রহিয়াছে। এইরূপ স্ত্রীলোকের মধ্যে ছিলেন ওলীদ ইবন মুগীরার কন্যা। তিনি সফওয়ান ইবন উমাইয়ার স্ত্রী ছিলেন, মক্কা বিজয়ের সময় তিনি মুসলিম হইলেন। আর তাহার স্বামী সফওয়ান ইবন উমাইয়া ইসলাম কবুল না করিয়া পলায়ন করিল। সফওয়ানকে নিরাপত্তা প্রদানের প্রতীক স্বরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে পবিত্র চাদরসহ সফওয়ানের চাচাতো ভাই ওহাব ইবন উমায়রকে প্রেরণ করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাকে ইসলামের দিকে আহবান করিলেন এবং তাহার নিকট আসিতে বলিলেন, যদি সে খুশীতে মুসলিম হয়, তবে উহা গ্রহণ করা হইবে, নতুবা তাহাকে দুই মাস সময় দেওয়া হইবে। সফওয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের চাদর লইয়া আগমন করিল এবং লোকসম্মুখে চিৎকার করিয়া বলিল, হে মুহাম্মদ, এই যে ওহাব ইবন উমায়র, সে আপনার চাদর লইয়া আমার নিকট গিয়াছিল এবং সে বলিয়াছে, আপনি আমাকে আপনার নিকট আসিতে আহবান জানাইয়াছেন, আমি যদি খুশীতে মুসলিম হই, উহা গ্রহণ করা হইবে। নতুবা আপনি আমাকে দুই মাস সময় দিবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ হে আবূ ওহাব (ইহা সফওয়ানের কুনিয়ত), তুমি (উটের পিঠ হইতে) অবতরণ কর। সফওয়ান বলিল, না নামিব না। আল্লাহর কসম, যাবৎ আপনি ব্যাখ্যা না করিবেন (ইহা সত্য কিনা)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ বরং তোমাকে চার মাস সময় দেওয়া হইবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনায়নের হাওয়াযিন গোত্রের দিকে (অভিযানে) বাহির হইলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফওয়ানের দিকে লোক প্রেরণ করিলেন তাহার নিকট যে সকল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র ছিল সেগুলি (আরিয়ত) ধার স্বরূপ দেওয়ার জন্য। সফওয়ান বলিল, বাধ্যতামূলক না স্বেচ্ছায়? তিনি [রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিলেনঃ (বাধ্যতামূলক নহে) বরং খুশীতে। সে তাহার নিকট যাহা ছিল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিল। অতঃপর (মক্কা হইতে) হুনায়ন-এর দিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে বাহির হইল। সে তখনও কাফের। তারপর হুনায়ন ও তায়েফ-এর অভিযানে শরীক হইল, সে তখনও কাফের আর তার স্ত্রী মুসলিম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফওয়ান ও তাহার স্ত্রীকে পৃথক করেন নাই। পরে সফওয়ান মুসলিম হইলেন। তাহার স্ত্রীকে তাহার নিকট রাখা হইল সেই (আগের) বিবাহে।
৪৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ بَيْنَ إِسْلاَمِ صَفْوَانَ وَبَيْنَ إِسْلاَمِ امْرَأَتِهِ نَحْوٌ مِنْ شَهْرٍ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَلَمْ يَبْلُغْنَا أَنَّ امْرَأَةً هَاجَرَتْ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَزَوْجُهَا كَافِرٌ مُقِيمٌ بِدَارِ الْكُفْرِ إِلاَّ فَرَّقَتْ هِجْرَتُهَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ زَوْجِهَا إِلاَّ أَنْ يَقْدَمَ زَوْجُهَا مُهَاجِرًا قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا .
রেওয়ায়ত ৪৫. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ সফওয়ানের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও তাহার স্ত্রীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মধ্যে ব্যবধান ছিল অন্তত এক মাসের। ইবন শিহাব (রহঃ) বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক আল্লাহ ও তাহার রাসূলের দিকে হিজরত করিলে এবং তাহার স্বামী কাফের অবস্থায় দারুল কুফরে থাকিলে তবে তাহার হিজরত তাহার ও তাহার স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করিবে। তবে যদি তাঁহার স্বামী ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে হিজরত করে (এমতাবস্থায় স্ত্রী তাহারই থাকিবে)।
৪৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ أُمَّ حَكِيمٍ بِنْتَ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، وَكَانَتْ، تَحْتَ عِكْرِمَةَ بْنِ أَبِي جَهْلٍ فَأَسْلَمَتْ يَوْمَ الْفَتْحِ وَهَرَبَ زَوْجُهَا عِكْرِمَةُ بْنُ أَبِي جَهْلٍ مِنَ الإِسْلاَمِ حَتَّى قَدِمَ الْيَمَنَ فَارْتَحَلَتْ أُمُّ حَكِيمٍ حَتَّى قَدِمَتْ عَلَيْهِ بِالْيَمَنِ فَدَعَتْهُ إِلَى الإِسْلاَمِ فَأَسْلَمَ وَقَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَثَبَ إِلَيْهِ فَرِحًا وَمَا عَلَيْهِ رِدَاءٌ حَتَّى بَايَعَهُ فَثَبَتَا عَلَى نِكَاحِهِمَا ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ وَإِذَا أَسْلَمَ الرَّجُلُ قَبْلَ امْرَأَتِهِ وَقَعَتِ الْفُرْقَةُ بَيْنَهُمَا إِذَا عُرِضَ عَلَيْهَا الإِسْلاَمُ فَلَمْ تُسْلِمْ لأَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ فِي كِتَابِهِ {وَلاَ تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ}.
রেওয়ায়ত ৪৬. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, হারিস ইবন হিশামের কন্যা উম্মে হাকীম ইকরাম ইবন আবু জাহলের স্ত্রী ছিল। উম্মে হাকীম মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম ধর্ম কবুল করেন। তাহার স্বামী ইকরামা ইবন আবু জাহল ইসলাম গ্রহণ না করিয়া পলায়ন করিয়া ইয়ামনের দিকে চলিয়া যায়। উম্মে হাকীম ইয়ামনে গিয়া তাহার স্বামীর নিকট উপস্থিত হন এবং তাহাকে ইসলামের দিকে আহবান জানান। ইকরামা ইসলাম কবুল করেন এবং মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের খিদমতে উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে দেখিয়া আনন্দে এত দ্রুত উঠিলেন যে, তাহার পবিত্র দেহ তখন চাদরে আবৃত রহিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইকরামার বায়’আত গ্রহণ করিলেন এবং স্বামী স্ত্রী উভয়ের পূর্ব বিবাহ বহাল রাখিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রীর পূর্বে কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করিলে অতঃপর স্ত্রীকে ইসলামের দিকে আহবান করিলে সে যদি মুসলিম না হয় তবে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হইয়া যাইবে। কারণ আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করিতেছেনঃ (وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ) তোমরা অবিশ্বাসী নারদিগের সহিত দম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখিও না।” (সূরা মুমতাহিনাঃ)
৪৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৩৯
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبِهِ أَثَرُ صُفْرَةٍ فَسَأَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ تَزَوَّجَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَمْ سُقْتَ إِلَيْهَا " . فَقَالَ زِنَةَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ " .
রেওয়ায়ত ৪৭. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমীপে আবদুর রহমান ইবন আউফ ইবন আউফ (রাঃ) উপস্থিত হইলেন। তাহার (দেহে ও বস্ত্রে) হলুদ বর্ণের সুগন্ধি দ্রব্যের চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। আবদুর রহমান ইবন আউফ তাহাকে জানাইলেন তিনি জনৈক আনসার মেয়েলোককে বিবাহ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি উহাকে কত মহর প্রদান করিয়াছ ? তিনি বলিলেনঃ এক নাওয়া (نَوَاةٍ) খেজুরের বীচি পরিমাণ স্বর্ণ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ ওয়ালীমা[1] কর একটি বকরী দিয়া হইলেও।
৫০
মুয়াত্তা মালিক # ২৮/১১৪০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّهُ قَالَ لَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُولِمُ بِالْوَلِيمَةِ مَا فِيهَا خُبْزٌ وَلاَ لَحْمٌ .
রেওয়ায়ত ৪৮. ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (এমনও) ওয়ালীমা করিতেন যে, তাহাতে রুটি ও গোশত থাকিত না।