জামা'আতে সালাত
অধ্যায়ে ফিরুন
৩৯ হাদিস
০১
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৮৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلاَةَ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ একা নামায পড়া অপেক্ষা জামাআতে নামায পড়ায় সাতাইশ গুণ ফযীলত বেশি।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৮৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ أَحَدِكُمْ وَحْدَهُ بِخَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের একজনের একা একা নামায পড়া হইতে জামা'আতে নামায পড়া পঁচিশ গুণ উত্তম।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৮৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِحَطَبٍ فَيُحْطَبَ ثُمَّ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَيُؤَذَّنَ لَهَا ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيَؤُمَّ النَّاسَ ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ
রেওয়ায়ত ৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আমি মনস্থ করিয়াছি কিছু কাঠ যোগাড় করার নির্দেশ প্রদান করি। তারপর নামাযের জন্য আযান বলার হুকুম করি। তারপর নামাযের জন্য আযান দেওয়া হউক। পরে কোন একজনকে (নামায়ে) ইমামতি করার জন্য ঠিক করিয়া দেই। তারপর যেসব লোক নামাযের জন্য বাহির হয় নাই তাহাদের নিকট যাই ও তাহাদের গৃহে আগুন ধরাইয়া দেই। আল্লাহর কসম, যাহার হাতে আমার প্রাণ, যদি তাহদের এক ব্যক্তি জানিতে পারিত যে, ভাল মোটা হাড্ডি জুটিবে অথবা দুইটি ভাল ক্ষুর পাইবে তবে সে অবশ্য ইশার নামাযে হাজির হইত।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، قَالَ أَفْضَلُ الصَّلاَةِ صَلاَتُكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ إِلاَّ صَلاَةَ الْمَكْتُوبَةِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৪. যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ) বলিয়াছেনঃ নামাযের মধ্যে তোমাদের গৃহের নামাযই উত্তম, কেবল ফরয নামায ব্যতীত।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْمُنَافِقِينَ شُهُودُ الْعِشَاءِ وَالصُّبْحِ لاَ يَسْتَطِيعُونَهُمَا ‏"‏ ‏.‏ أَوْ نَحْوَ هَذَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৫. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আমাদের আর মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য হইল ইশা ও ফজরের নামাযে উপস্থিত হওয়া। তাহারা ঐ দুই নামাযে হাজির হইতে পারে না অথবা অনুরূপ কোন বাক্য বলিয়াছেন।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ إِذْ وَجَدَ غُصْنَ شَوْكٍ عَلَى الطَّرِيقِ فَأَخَّرَهُ فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ ‏"‏ الشُّهَدَاءُ خَمْسَةٌ الْمَطْعُونُ وَالْمَبْطُونُ وَالْغَرِقُ وَصَاحِبُ الْهَدْمِ وَالشَّهِيدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ ‏"‏ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لاَسْتَبَقُوا إِلَيْهِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি যখন কোন পথ দিয়া যাইতেছিল, তখন পথিমধ্যে কাটাযুক্ত (বৃক্ষের) শাখা দেখিতে পাইয়া সে উহা অপসারিত করিল। আল্লাহ্ তা'আলা তাহার এই কার্য গ্রহণ করিলেন এবং তাহার গুনাহ্ মাফ করিয়া দিলেন। [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরও বলিয়াছেন, শহীদ পাঁচ প্রকারঃ (১) প্লেগাক্রান্ত (বা মহামারীতে মৃত), (২) পেটের পীড়ায় মৃত, (৩) যে পানিতে ডুবিয়া মরিয়াছে, (৪) ভূমিকম্পে কিছু চাপা পড়িয়া যাহার মৃত্যু হইয়াছে এবং (৫) আল্লাহর পথে যে ব্যক্তি শহীদ হইয়াছেন।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، فَقَدَ سُلَيْمَانَ بْنَ أَبِي حَثْمَةَ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ وَأَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ غَدَا إِلَى السُّوقِ - وَمَسْكَنُ سُلَيْمَانَ بَيْنَ السُّوقِ وَالْمَسْجِدِ النَّبَوِيِّ - فَمَرَّ عَلَى الشِّفَاءِ أُمِّ سُلَيْمَانَ فَقَالَ لَهَا لَمْ أَرَ سُلَيْمَانَ فِي الصُّبْحِ فَقَالَتْ إِنَّهُ بَاتَ يُصَلِّي فَغَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ لأَنْ أَشْهَدَ صَلاَةَ الصُّبْحِ فِي الْجَمَاعَةِ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أَقُومَ لَيْلَةً ‏.‏
ইয়াহিয়া আমার কাছে মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন ইবনে শিহাব থেকে আবূ বকর ইবনে সুলায়মান ইবনে আবি হাতমা থেকে যে উমর ইবনে আল খাত্তাব সুলায়মান ইবনে আবি হাতমাকে নামাযে মিস করেছেন। সকালে তিনি বাজারে গেলেন, সুলায়মানের বাড়ি বাজার ও মসজিদে নববীর মাঝখানে ছিল। তিনি সুলায়মানের মা আশ-শিফাকে অতিক্রম করলেন এবং তাকে বললেন, "আমি সুলায়মানকে দেখতে পাইনি।" তিনি উত্তর দিলেন, "তিনি নামাজে রাত কাটিয়েছেন এবং তার চোখ তাকে কাটিয়ে উঠল। উমর বললেন, "আমি সারা রাত নামাজে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে সুবহাতে উপস্থিত থাকতে চাই।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ إِلَى صَلاَةِ الْعِشَاءِ فَرَأَى أَهْلَ الْمَسْجِدِ قَلِيلاً فَاضْطَجَعَ فِي مُؤَخَّرِ الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُ النَّاسَ أَنْ يَكْثُرُوا فَأَتَاهُ ابْنُ أَبِي عَمْرَةَ فَجَلَسَ إِلَيْهِ فَسَأَلَهُ مَنْ هُوَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ مَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ فَأَخْبَرَهُ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ مَنْ شَهِدَ الْعِشَاءَ فَكَأَنَّمَا قَامَ نِصْفَ لَيْلَةٍ وَمَنْ شَهِدَ الصُّبْحَ فَكَأَنَّمَا قَامَ لَيْلَةً ‏.‏
রেওয়ায়ত ৭. আবু বকর ইবন সুলায়মান ইবন আবি হাসমা (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) একদিন সুলায়মান ইবন আবি হাসমাকে ফজরের নামাযে উপস্থিত পান নাই। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বাজারের দিকে গমন করিলেন। আর সুলায়মানের বাসগৃহ বাজার ও মসজিদের মাঝপথে অবস্থিত। তিনি সুলায়মানের জননী শিফা’-এর নিকট গমন করিলেন। তারপর তাহাকে বলিলেনঃ আমি ফজরের নামাযে সুলায়মানকে দেখিলাম না যে? তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ সে রাত্রে জাগ্রত থাকিয়া নামায পড়িয়াছিল, পরে ঘুমাইয়া পড়িয়াছে। (ইহা শুনিয়া) উমর (রাঃ) বললেনঃ ফজরের নামাযের জামাআতে হাজির হওয়া আমার নিকট সারারাত (নফল) নামায পড়া হইতে পছন্দনীয়। আবদুর রহমান ইবন আবি আমরা আনসারী (রহঃ) হইতে বর্ণিত— উসমান ইবন আফফান (রাঃ) একবার ইশার নামাযে আসিলেন এবং মসজিদে অল্প মুসল্লি দেখিতে পাইলেন। তারপর তিনি অধিক লোক আসার অপেক্ষায় মসজিদের শেষভাগে শুইলেন। অত:পর তাহার নিকট ইবন আবি আমরা আসিলেন এবং তাহার কাছে বসিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তুমি কে? তিনি পরিচয় দিলেন। আবার তিনি জিজ্ঞাসা করিলেনঃ তুমি কি পরিমাণ কুরআন কণ্ঠস্থ করিয়াছ? তিনি তাহা জানাইলেন। তারপর উসমান (রাঃ) বলিলেন, যে ব্যক্তি ইশার নামাযে উপস্থিত হয়, সে যেন অধরাত্রি নামায পড়িল, আর যে ফজরের নামায পড়িল সে যেন পূর্ণ রাত্রি নামায় পড়িল।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي الدِّيلِ يُقَالُ لَهُ بُسْرُ بْنُ مِحْجَنٍ عَنْ أَبِيهِ، مِحْجَنٍ أَنَّهُ كَانَ فِي مَجْلِسٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُذِّنَ بِالصَّلاَةِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى ثُمَّ رَجَعَ وَمِحْجَنٌ فِي مَجْلِسِهِ لَمْ يُصَلِّ مَعَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَ النَّاسِ أَلَسْتَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَكِنِّي قَدْ صَلَّيْتُ فِي أَهْلِي ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ إِذَا جِئْتَ فَصَلِّ مَعَ النَّاسِ وَإِنْ كُنْتَ قَدْ صَلَّيْتَ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৮. বুসূর ইবন মিহজন (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মজলিসে ছিলেন। তখন নামাযের আযান দেওয়া হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিস হইতে উঠিলেন এবং নামায পড়িলেন। (নামাযের পর) পুনরায় মজলিসে প্রত্যাবর্তন করিলেন। মিহজন (কিন্তু) তাহার স্থানে বসা রহিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে প্রশ্ন করিলেনঃ লোকের সাথে নামায পড়িতে তোমাকে কোন জিনিস বারণ করিল? তুমি কি মুসলিম নও? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (আমি মুসলিম), তবে আমি আমার ঘরে নামায পড়িয়া আসিয়াছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ তুমি নামায (ঘরে) পড়িয়া থাকিলেও যখন (মসজিদে) আস তখন পুনরায় লোকের সাথে নামায পড়িবে।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَقَالَ إِنِّي أُصَلِّي فِي بَيْتِي ثُمَّ أُدْرِكُ الصَّلاَةَ مَعَ الإِمَامِ أَفَأُصَلِّي مَعَهُ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ نَعَمْ ‏.‏ فَقَالَ الرَّجُلُ أَيَّتَهُمَا أَجْعَلُ صَلاَتِي فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ أَوَذَلِكَ إِلَيْكَ إِنَّمَا ذَلِكَ إِلَى اللَّهِ يَجْعَلُ أَيَّتَهُمَا شَاءَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৯. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করিলঃ আমি ঘরে নামায পড়ি, যদি পরে ইমামের সহিত নামায পাই, তবে কি আমি পুনরায় তাহার সহিত নামায পড়িব? (জবাবে) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ হ্যাঁ। সেই ব্যক্তি বলিলঃ কোন নামাযকে আমি (ফরয) গণ্য করিব? ইবন উমর (রাঃ) বললেনঃ উহা কি আমার বলার বিষয়? সে হইল আল্লাহর ব্যাপার, তিনি যে নামাযকে (ফরয) গণ্য করিতে পারেন।
১১
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ فَقَالَ إِنِّي أُصَلِّي فِي بَيْتِي ثُمَّ آتِي الْمَسْجِدَ فَأَجِدُ الإِمَامَ يُصَلِّي أَفَأُصَلِّي مَعَهُ فَقَالَ سَعِيدٌ نَعَمْ ‏.‏ فَقَالَ الرَّجُلُ فَأَيُّهُمَا صَلاَتِي فَقَالَ سَعِيدٌ أَوَأَنْتَ تَجْعَلُهُمَا إِنَّمَا ذَلِكَ إِلَى اللَّهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১০. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি ঘরে নামায পড়ি, মসজিদে আসিয়া পরে যদি ইমামকে নামাযে পাই তবে আমি কি তাহার সহিত নামায পড়িব? সাঈদ (রহঃ) বললেনঃ হ্যাঁ। সেই ব্যক্তি তাহার নিকট জিজ্ঞাসা করিলেনঃ উভয় নামাযের কোনটিকে আমি (ফরয) নামায গণ্য করি? সাঈদ (রহঃ) তাহাকে বলিলেনঃ তাহা কি তুমি করিবে? উহা তো আল্লাহর কাজ।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَفِيفٍ السَّهْمِيِّ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي أَسَدٍ أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ فَقَالَ إِنِّي أُصَلِّي فِي بَيْتِي ثُمَّ آتِي الْمَسْجِدَ فَأَجِدُ الإِمَامَ يُصَلِّي أَفَأُصَلِّي مَعَهُ فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ نَعَمْ فَصَلِّ مَعَهُ فَإِنَّ مَنْ صَنَعَ ذَلِكَ فَإِنَّ لَهُ سَهْمَ جَمْعٍ أَوْ مِثْلَ سَهْمِ جَمْعٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১১. বনু আসাদ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আবূ আইয়ুব আনুসারী (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন, আমি আমার ঘরে নামায পড়ি, তারপর মসজিদে আসি, তখন যদি ইমামকে নামাযে পাই তবে কি আমি তাহার সহিত নামায পড়িব? আবু আইয়ূব (রাঃ) বলিলেনঃ তুমি তাহার সহিত নামায পড়, কেননা যে ব্যক্তি এইরূপ করিবে সে জামাআতের সওয়াব অথবা জামাআতের তুল্য সওয়াব পাইবে।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ৮/২৯৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ مَنْ صَلَّى الْمَغْرِبَ أَوِ الصُّبْحَ ثُمَّ أَدْرَكَهُمَا مَعَ الإِمَامِ فَلاَ يَعُدْ لَهُمَا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَلاَ أَرَى بَأْسًا أَنْ يُصَلِّيَ مَعَ الإِمَامِ مَنْ كَانَ قَدْ صَلَّى فِي بَيْتِهِ إِلاَّ صَلاَةَ الْمَغْرِبِ فَإِنَّهُ إِذَا أَعَادَهَا كَانَتْ شَفْعًا ‏.‏
রেওয়ায়ত ১২. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি মাগরিব এবং ফজরের নামায পড়ে, অতঃপর ঐ নামাযদ্বয় ইমামের সাথে পায়, তবে সেই নামায (ইমামের সঙ্গে) পুনরায় তাহাকে পড়িতে হইবে না। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি নামায ঘরে পড়িয়াছে, তাহার ইমামের সহিত (পুনরায়) নামায পড়াতে কোন ক্ষতি নাই। তবে মাগরিবের নামায ইহার ব্যতিক্রম, কারণ মাগরিবের নামায পুনরায় পড়িলে জোড় নামায হইয়া যাইবে।
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ بِالنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ فَإِنَّ فِيهِمُ الضَّعِيفَ وَالسَّقِيمَ وَالْكَبِيرَ وَإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِنَفْسِهِ فَلْيُطَوِّلْ مَا شَاءَ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেহ (ইমাম নিযুক্ত হইয়া) লোকদের নামায পড়াইলে, সে যেন নামায সংক্ষিপ্ত পড়ে, কেননা তাহাদের মধ্যে আছে রুগ্ন, দুর্বল ও বৃদ্ধ ব্যক্তি। আর কেহ একা নামায পড়িলে সে যত ইচ্ছা লম্বা করিতে পারিবে।
১৫
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّهُ قَالَ قُمْتُ وَرَاءَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فِي صَلاَةٍ مِنَ الصَّلَوَاتِ وَلَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ غَيْرِي فَخَالَفَ عَبْدُ اللَّهِ بِيَدِهِ فَجَعَلَنِي حِذَاءَهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৪. নাফি (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি (পাঞ্জেগানা) নামাযসমূহের কোন এক নামাযে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর পশ্চাতে দাঁড়াইয়াছিলাম। তাহার সহিত আমি ভিন্ন আর কেহ ছিল না। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পিছনে হাত বাড়াইয়া আমাকে ধরিয়া ডান পার্শ্বে তাহার বরাবরে দাঁড় করাইয়া দিলেন।
১৬
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ رَجُلاً، كَانَ يَؤُمُّ النَّاسَ بِالْعَقِيقِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَنَهَاهُ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَإِنَّمَا نَهَاهُ لأَنَّهُ كَانَ لاَ يُعْرَفُ أَبُوهُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৫. ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত- এক ব্যক্তি ‘আকিক’ নামক স্থানে লোকের ইমামতি করিত। উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) লোক প্রেরণ করিয়া তাহাকে ইমামতি করিতে নিষেধ করিলেন। মালিক (রহঃ) বললেনঃ তাহাকে তিনি নিষেধ করিয়াছেন এই কারণে যে, তাহার পিতার পরিচয় ছিল না।
১৭
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ فَجُحِشَ شِقُّهُ الأَيْمَنُ فَصَلَّى صَلاَةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ وَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏ "‏ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৬. আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ঘোড়ায় আরোহণ করিয়াছিলেন। অতঃপর ঘোড়া হইতে পড়িয়া তাহার ডান পার্শ্বের (কিছু অংশ) ছড়িয়া গিয়াছিল। ফলে (পাঞ্জেগানা) নামাযসমূহের কোন এক নামায তিনি বসিয়া পড়িয়াছেন। আমরাও তাহার পিছনে বসিয়া নামায পড়িলাম। নামায শেষে তিনি বলিলেনঃ অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হইয়াছে। কাজেই ইমাম দাঁড়াইয়া নামায পড়িলে তোমরাও দাঁড়াইয়া নামায পড়, ইমাম রুকুতে গেলে তোমরাও রুকুতে যাও, ইমাম মাথা উঠাইলে তোমরাও মাথা তোল। ইমাম যখন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) বলেন, তোমরা বল (رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) আর ইমাম বসিয়া নামায পড়িলে তোমরা সকলেই বসিয়া নামায পড়।
১৮
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ شَاكٍ فَصَلَّى جَالِسًا وَصَلَّى وَرَاءَهُ قَوْمٌ قِيَامًا فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنِ اجْلِسُوا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏ "‏ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) বসিয়া নামায করিলেন। যখন (নামায সমাপ্ত করিয়া) ফিরিলেন তিনি বলিলেনঃ ইমাম অবশ্য অনুসরণ করার জন্যই নিযুক্ত করা হইয়াছে। তাই ইমাম রুকূ করিলে তোমাও রুকূ কর, ইমাম উঠিলে তোমরাও উঠ, আর ইমাম বসিয়া নামায পড়িলে তোমরাও সকলে বসিয়া নামায পড়।
১৯
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ فِي مَرَضِهِ فَأَتَى فَوَجَدَ أَبَا بَكْرٍ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَاسْتَأْخَرَ أَبُو بَكْرٍ فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ كَمَا أَنْتَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ فَكَانَ أَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ وَكَانَ النَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلاَةِ أَبِي بَكْرٍ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৮. উরওয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার অসুস্থাবস্থায় ঘর হইতে বাহির হইলেন এবং মসজিদে আগমন করিলেন। আবু বকর (রাঃ)-কে লোকের ইমামতি করিতে দেখিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখিয়া আবূ বকর (রাঃ) পিছু হটতে চেষ্টা করিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার প্রতি ইশারা করিলেন- তুমি যেইভাবে আছ সেইভাবে থাক। অতঃপর তিনি আবু বকর (রাঃ)-এর পার্শ্বে বসিলেন। আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর নামাযকে অনুসরণ করিয়া নামায পড়িতেছিলেন, আর অন্য মুসল্লিগণ নামায পড়িতেছিলেন আবু বকর (রাঃ)-এর নামাযকে অনুসরণ করিয়া।
২০
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ مَوْلًى، لِعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ - أَوْ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ صَلاَةُ أَحَدِكُمْ وَهُوَ قَاعِدٌ مِثْلُ نِصْفِ صَلاَتِهِ وَهُوَ قَائِمٌ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১৯. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের কাহারও নামায যাহা সে বসা অবস্থায় পড়িয়াছে (সওয়াবের বেলায়) তাহার দাঁড়াইয়া পড়া নামাযের অর্ধেকের সমতুল্য।
২১
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ قَالَ لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ نَالَنَا وَبَاءٌ مِنْ وَعْكِهَا شَدِيدٌ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ وَهُمْ يُصَلُّونَ فِي سُبْحَتِهِمْ قُعُودًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ صَلاَةُ الْقَاعِدِ مِثْلُ نِصْفِ صَلاَةِ الْقَائِمِ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২০. আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রাঃ) বর্ণনা করেন- আমরা যখন মদীনায় আসিলাম তখন মদীনার মহামারীরূপী প্রচণ্ড জ্বর আমাদেরও আক্রমণ করিয়া বসিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিকট আগমন করিলেন, তখন তাহারা (সাহাবীগণ) তাহদের নফল নামায বসিয়া পড়িতেছিলেন। (ইহা দেখিয়া) তিনি ইরশাদ করিলেনঃ বসিয়া নামায আদায়কারীর নামায (সওয়াবের বেলায়) দাঁড়াইয়া আদায়কারীর নামাযের অর্ধেকের মত।
২২
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ السَّهْمِيِّ، عَنْ حَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا قَطُّ حَتَّى كَانَ قَبْلَ وَفَاتِهِ بِعَامٍ فَكَانَ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا وَيَقْرَأُ بِالسُّورَةِ فَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ২১. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী হাফসা (রাঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনও নফল নামায বসিয়া পড়িতে দেখি নাই। কিন্তু তাহার ওফাতের মাত্র এক বৎসর পূর্ব হইতে তিনি নফল নামায বসিয়া পড়িতেন এবং তরতীবের (স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে পাঠ করা) সাথে সূরা তিলাওয়াত করিতেন। ফলে (পঠিত) সূরা অনেক বড় মনে হইত সেই সূরা হইতে যেই সূরা (প্রকৃতপক্ষে) এই সূরা হইতে লম্বা।
২৩
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩০৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا لَمْ تَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي صَلاَةَ اللَّيْلِ قَاعِدًا قَطُّ حَتَّى أَسَنَّ فَكَانَ يَقْرَأُ قَاعِدًا حَتَّى إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَقَرَأَ نَحْوًا مِنْ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً ثُمَّ رَكَعَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২২. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ বয়স বেশি না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাত্রির নামায (তাহাজ্জুদ) বসিয়া পড়িতে দেখেন নাই। (বয়ঃবৃদ্ধির পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসিয়া নামায পড়িতেন। তবে যখন রুকু করিতে মনস্থ করিতেন, তখন দাঁড়াইয়া যাইতেন এবং তারপর অন্তত ত্রিশ-চল্লিশ আয়াত তিলাওয়াত করিতেন, তারপর রুকূ করিতেন।
২৪
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْمَدَنِيِّ، وَعَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي جَالِسًا فَيَقْرَأُ وَهُوَ جَالِسٌ فَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ مَا يَكُونُ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ ثُمَّ صَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৩. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসিয়া নামায পড়িতেন। তিনি বসা অবস্থায়ই কিরাআত (কুরআন পাঠ) করিতেন। যখন তাহার ত্রিশ-চল্লিশ আয়াতের মত পড়া অবশিষ্ট থাকিত তখন তিনি দাঁড়াইয়া যাইতেন, তারপর দাঁড়ানো অবস্থায়ই কিরাআত পাঠ করিতেন, অতঃপর রুকু ও সিজদা করিতেন। দ্বিতীয় রাকাআতেও তিনি অনুরূপ করিতেন।
২৫
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، وَسَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، كَانَا يُصَلِّيَانِ النَّافِلَةَ وَهُمَا مُحْتَبِيَانِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রহঃ) বলেন- তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উরওয়া ইবন যুবায়র (রাঃ) ও সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) তাহারা উভয়েই নফল নামায বসিয়া পড়িতেন ‘ইহতিবা’ এর অবস্থায়। (ইহতিবা হইল দুই হাঁটুকে পেটের সঙ্গে লাগাইয়া হাত দ্বারা বেড়ি করিয়া বসা।)
২৬
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، مَوْلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهُ قَالَ أَمَرَتْنِي عَائِشَةُ أَنْ أَكْتُبَ لَهَا مُصْحَفًا ثُمَّ قَالَتْ إِذَا بَلَغْتَ هَذِهِ الآيَةَ فَآذِنِّي ‏{‏حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ‏}‏ فَلَمَّا بَلَغْتُهَا آذَنْتُهَا فَأَمْلَتْ عَلَىَّ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ قَالَتْ عَائِشَةُ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৫. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর মাওলা (مولى) আবূ ইউনুস বর্ণনা করেন, আমাকে আয়েশা (রাঃ) তাহার জন্য একটি (مصحف) মুসহাফ (কুরআন মাজীদ) লিখিবার নির্দেশ দিলেন। ইহাও বললেনঃ যখন তুমি (‏حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ‏) এই আয়াতে পৌছ, তখন আমাকে অবহিত করবে। আমি যখন উক্ত আয়াতে পৌছিলাম, উহাকে খবর দিলাম। তিনি তারপর এইভাবে লিখাইলেনঃ (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ) অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি ইহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে শুনিয়াছি।
২৭
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ رَافِعٍ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أَكْتُبُ مُصْحَفًا لِحَفْصَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَتْ إِذَا بَلَغْتَ هَذِهِ الآيَةَ فَآذِنِّي ‏{‏حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ‏}‏ فَلَمَّا بَلَغْتُهَا آذَنْتُهَا فَأَمْلَتْ عَلَىَّ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৬. আমর ইবন নাফি’ (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি হাফসা (রাঃ)-এর জন্য মুসহাফ (কুরআন পাক) লিখিতাম, তিনি আমাকে বলিলেন, যখন তুমি (‏حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ) এই আয়াতে পৌছ, তখন আমাকে খবর দিও। আমি ঐ আয়াতে পৌছিলে তাহাকে জানাইলাম; তখন তিনি আমার দ্বারা (এইরূপ) লিখাইলেনঃ (حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ)
২৮
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنِ ابْنِ يَرْبُوعٍ الْمَخْزُومِيِّ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، يَقُولُ الصَّلاَةُ الْوُسْطَى صَلاَةُ الظُّهْرِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৭. ইবন ইয়ারবু মাখযুমী (রহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী নামায) হইল যোহরের নামায।
২৯
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَا يَقُولاَنِ الصَّلاَةُ الْوُسْطَى صَلاَةُ الصُّبْحِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَقَوْلُ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ فِي ذَلِكَ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৮. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আলী ইবন আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেনঃ সালাতুল উসতা হইল ফজরের নামায। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এ বিষয়ে অন্যান্য উক্তির মধ্যে আমার নিকট আলী ইবন আবি তালিব ও আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর উক্তিই পছন্দনীয়।
৩০
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُشْتَمِلاً بِهِ فِي بَيْتِ أُمِّ سَلَمَةَ وَاضِعًا طَرَفَيْهِ عَلَى عَاتِقَيْهِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ২৯. উমর ইবন আবি সালমা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে উম্মু সালমা (রাঃ)-এর ঘরে এক কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়িতে দেখিয়াছেন, তিনি তখন চাদরের বাম প্রান্তকে বাম বগলের নিচের দিক দিয়া উঠাইয়া ডান কাধের উপর রাখিতেন এবং চাদরের ডান প্রান্তকে ডান বগলের নিচের দিকে দিয়া উঠাইয়া বাম কাধের উপর রাখিতেন, তাহাতে চাদরের দুই প্রান্ত দুই কাঁধের উপর পড়িয়া থাকিত।
৩১
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ سَائِلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاَةِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أَوَلِكُلِّكُمْ ثَوْبَانِ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩০. আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, জনৈক প্রশ্নকারী এক কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়া যায় কিনা সেই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করিয়াছিল; রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (উত্তরে) বললেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কাছে কি দুইটি করিয়া কাপড় আছে?
৩২
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ أَبُو هُرَيْرَةَ هَلْ يُصَلِّي الرَّجُلُ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ فَقَالَ نَعَمْ ‏.‏ فَقِيلَ لَهُ هَلْ تَفْعَلُ أَنْتَ ذَلِكَ فَقَالَ نَعَمْ إِنِّي لأُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَإِنَّ ثِيَابِي لَعَلَى الْمِشْجَبِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩১. সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইয়াছেঃ কোন ব্যক্তি এক কাপড়ে নামায পড়িতে পারে কি? তিনি (উত্তরে) বলিলেনঃ হ্যাঁ। আবার তাহাকে জিজ্ঞাসা করা হইলঃ আপনি কি ইহা করেন? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, আমি এক কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়ি, অথচ আমার অনেক কাপড় আলনায় রাখা থাকে।
৩৩
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩১৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، كَانَ يُصَلِّي فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩২. মালিক (রহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, জাবির ইন আবদুল্লাহ (রাঃ) এককাপড়ে নামায পড়িতেন।
৩৪
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩২০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، كَانَ يُصَلِّي فِي الْقَمِيصِ الْوَاحِدِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৩. রবী’আ ইবন আবি আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে বর্ণিত, মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম একটি মাত্র কোর্তা পরিধান করিয়া নামায পড়িতেন।
৩৫
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩২১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ لَمْ يَجِدْ ثَوْبَيْنِ فَلْيُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُلْتَحِفًا بِهِ فَإِنْ كَانَ الثَّوْبُ قَصِيرًا فَلْيَتَّزِرْ بِهِ ‏"‏ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৪. জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ দুই কাপড় যাহার না থাকে সে এক কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়িবে এবং উপরে-নিচে মুড়ি দিয়া লইবে। আর কাপড় ছোট হইলে লুঙ্গির মত পরিধান করিবে। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি এক কোর্তা পরিধান করিয়া নামায পড়ে, তাহার জন্য আমার মতে ইহা ভাল যে, তাহার উভয় গর্দানে কোন কাপড় অথবা পাগড়ির কিছু অংশ রাখিয়া দিবে।
৩৬
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩২২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تُصَلِّي فِي الدِّرْعِ وَالْخِمَارِ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৫. মালিক (রহঃ) বর্ণনা করেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) কামিজ ও সরবন্দ পরিধান করিয়া নামায পড়িতেন।
৩৭
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩২৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ قُنْفُذٍ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّهَا سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاذَا تُصَلِّي فِيهِ الْمَرْأَةُ مِنَ الثِّيَابِ فَقَالَتْ تُصَلِّي فِي الْخِمَارِ وَالدِّرْعِ السَّابِغِ إِذَا غَيَّبَ ظُهُورَ قَدَمَيْهَا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৬. মুহাম্মদ ইবন যায়দের মাতা (রহঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী উম্মে সালমা (রাঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছেনঃ মেয়েরা কি কি কাপড় পরিধান করিয়া নামায পড়িবে? তিনি বলিয়াছেনঃ যাহা উভয় পায়ের উপরিভাগ আবৃত করিয়া ফেলে, এইরূপ পূর্ণ জামা ও সরবন্দ পরিধান করিয়া নামায পড়িবে।
৩৮
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩২৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الثِّقَةِ، عِنْدَهُ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَسْوَدِ الْخَوْلاَنِيِّ، وَكَانَ، فِي حَجْرِ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ مَيْمُونَةَ كَانَتْ تُصَلِّي فِي الدِّرْعِ وَالْخِمَارِ لَيْسَ عَلَيْهَا إِزَارٌ ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৭. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী মায়মুনা (রাঃ)-এর পালক সন্তান উবায়দুল্লাহ খাওলানী (রহঃ) বর্ণনা করেন যে, মায়মুনা (রাঃ) জামা ও সরবন্দ পরিধান করিয়া নামায পড়িতেন। অথচ তাহার গায়ে ইযার থাকিত না।
৩৯
মুয়াত্তা মালিক # ৮/৩২৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ امْرَأَةً، اسْتَفْتَتْهُ فَقَالَتْ إِنَّ الْمِنْطَقَ يَشُقُّ عَلَىَّ أَفَأُصَلِّي فِي دِرْعٍ وَخِمَارٍ فَقَالَ نَعَمْ إِذَا كَانَ الدِّرْعُ سَابِغًا ‏.‏
রেওয়ায়ত ৩৮. হিশাম ইবন উরওয়াহ (রহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তাহার নিকট জনৈক মহিলা এই মর্মে ফতওয়া জিজ্ঞাসা করিলঃ যদি কোমরবন্দ বাঁধিতে অসুবিধা হয়, তবে আমি শুধু জামা ও সরবন্দ পরিধান করিয়া নামায পড়িতে পারি কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যদি জামা পূর্ণাঙ্গ হয় (অর্থাৎ পা ঢাকিয়া লয়)।