তালাক
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَتِي مِائَةَ تَطْلِيقَةٍ فَمَاذَا تَرَى عَلَىَّ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ طَلُقَتْ مِنْكَ لِثَلاَثٍ وَسَبْعٌ وَتِسْعُونَ اتَّخَذْتَ بِهَا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا .
রেওয়ায়ত ১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট বলিল, আমি আমার স্ত্রীকে একশত তালাক দিয়াছি। আমার সম্পর্কে এ বিষয়ে আপনার কি অভিমত? ইবন আব্বাস (রাঃ) তাহাকে বলিলেনঃ তিন তালাক দ্বারা তুমি তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়াছ। অবশিষ্ট সাতানব্বই তালাক দ্বারা তুমি আল্লাহর আয়াতকে বিদ্রুপ করিয়াছ।
০২
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَتِي ثَمَانِيَ تَطْلِيقَاتٍ . فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ فَمَاذَا قِيلَ لَكَ قَالَ قِيلَ لِي إِنَّهَا قَدْ بَانَتْ مِنِّي . فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ صَدَقُوا مَنْ طَلَّقَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ فَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ لَهُ وَمَنْ لَبَسَ عَلَى نَفْسِهِ لَبْسًا جَعَلْنَا لَبْسَهُ مُلْصَقًا بِهِ لاَ تَلْبِسُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَنَتَحَمَّلَهُ عَنْكُمْ هُوَ كَمَا يَقُولُونَ .
রেওয়ায়ত ২. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমি আমার স্ত্রীকে দুইশত তালাক দিয়াছি। ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিলেনঃ তোমাকে কি বলা হইয়াছে? সে বলিল, আমাকে জানান হইয়াছে যে, আমার স্ত্রী আমার নিকট হইতে পৃথক হইয়া গিয়াছে। ইবন মাসউদ (রাঃ) বলিলেনঃ মুফতীগণ ঠিকই বলিয়াছেন। যে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক তালাক প্রদান করে তাহার হুকুম আল্লাহ্ বর্ণনা করিয়াছেন। আর যে ব্যক্তি নিজের প্রতি কোন প্রকার সন্দেহজনক আচরণ করে আমরা তাহার সন্দেহ তাহার উপরই আরোপ করিব। তোমরা নিজেদের প্রতি সন্দেহজনক আচরণ করিও না, যাহাতে তোমাদের জন্য আমাদের বিপদে পড়িতে হয়। মুফতীগণ যাহা বলিয়াছেন উহাই ফতওয়া (সিদ্ধান্ত)।
০৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ لَهُ الْبَتَّةُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فِيهَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَقُلْتُ لَهُ كَانَ أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ يَجْعَلُهَا وَاحِدَةً . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ لَوْ كَانَ الطَّلاَقُ أَلْفًا مَا أَبْقَتِ الْبَتَّةُ مِنْهَا شَيْئًا مَنْ قَالَ الْبَتَّةَ فَقَدْ رَمَى الْغَايَةَ الْقُصْوَى .
রেওয়ায়ত ৩. আবু বকর ইবন হাযম (রহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবন আবদুল আযীয (রহঃ) তালাক-ই আল-বাত্তা সম্পর্কে লোকে কি বলে অর্থাৎ সাহাবা ও তাঁহাদের পরবর্তী উলামাগণের এ বিষয়ে কি অভিমতঃ ইহা আবু বকর ইবন হাযমের নিকট জানিতে চাহিলে আবু বকর বলিলেনঃ আবান ইবন উসমান উহাকে এক তালাক গণ্য করিতেন। উমর ইবন আবদুল আযীয বলিলেনঃ তিনের পরিবর্তে তালাক এক হাজার হইলেও তালাক-ই আল-বাত্তা উহার একটিও অবশিষ্ট রাখিবে না। যে ব্যক্তি আল-বাত্তা বলিল, সে শেষ সীমানায় তীর নিক্ষেপ করিল।
০৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ، كَانَ يَقْضِي فِي الَّذِي يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ أَنَّهَا ثَلاَثُ تَطْلِيقَاتٍ . قَالَ مَالِكٌ وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ فِي ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ৪. ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, কেউ নিজের স্ত্রীকে তালাক-ই আল-বাত্তা দিলে মারওয়ান ইবন হাকাম (রহঃ) উহাতে তিন তালাক হইয়াছে বলিয়া ফতওয়া দিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে যাহা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার নিকট পছন্দীয়।
০৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّهُ كُتِبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ مِنَ الْعِرَاقَ أَنَّ رَجُلاً قَالَ لاِمْرَأَتِهِ حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى عَامِلِهِ أَنْ مُرْهُ يُوَافِينِي بِمَكَّةَ فِي الْمَوْسِمِ فَبَيْنَمَا عُمَرُ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ إِذْ لَقِيَهُ الرَّجُلُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ عُمَرُ مَنْ أَنْتَ فَقَالَ أَنَا الَّذِي أَمَرْتَ أَنْ أُجْلَبَ عَلَيْكَ . فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَسْأَلُكَ بِرَبِّ هَذِهِ الْبَنِيَّةِ مَا أَرَدْتَ بِقَوْلِكَ حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ لَوِ اسْتَحْلَفْتَنِي فِي غَيْرِ هَذَا الْمَكَانِ مَا صَدَقْتُكَ أَرَدْتُ بِذَلِكَ الْفِرَاقَ . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ هُوَ مَا أَرَدْتَ .
রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, ইরাক হইতে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট লেখা হইল যে, এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে বলিয়াছে حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ [তোমার রজ্জ্ব তোমার ঘাড়ে]। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহার নিযুক্ত ইরাকের প্রশাসকের নিকট পত্র লিখিলেন-হজ্জ মওসুমে সেই ব্যক্তিকে আমার সহিত মিলিত হইতে নির্দেশ দাও। উমর যখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ করিয়াছিলেন তখন এক ব্যক্তি তাহার সম্মুখে আসিয়া সালাম করিল। উমর বলিলেনঃ তুমি কে? সেই ব্যক্তি বলিল, আমি সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তিকে আপনার নিকট (হজ্জ মওসুমে) উপস্থিত হইতে নির্দেশ প্রদান করিয়াছিলেন। তারপর উমর (রাঃ) বলিলেনঃ এই (পবিত্র কাবা) গৃহের মালিকের কসম দিয়া তোমাকে আমি প্রশ্ন করিতেছি যে, তুমি তোমার সেই বক্তব্য حَبْلُكِ عَلَى غَارِبِكِ এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য করিয়াছ? সেই ব্যক্তি বলিল, এই স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও আপনি আমাকে হলফ করাইলে আমি সত্য কথা বলিতাম না। আমি (এই বক্তব্য দ্বারা স্ত্রীকে) বিদায় (দেওয়া)-এর নিয়্যত করিয়াছি। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলিলেন, তুমি যাহা নিয়্যত করিয়াছ তাহাই।
০৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، كَانَ يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ أَنْتِ عَلَىَّ حَرَامٌ إِنَّهَا ثَلاَثُ تَطْلِيقَاتٍ . قَالَ مَالِكُ وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে “তুমি আমার জন্য হারাম” এরূপ বলিয়াছে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ) বলিয়াছেন যে, উহা তিন তালাক গণ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম।
০৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ فِي الْخَلِيَّةِ وَالْبَرِيَّةِ إِنَّهَا ثَلاَثُ تَطْلِيقَاتٍ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا .
রেওয়ায়ত ৭. নাফি হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, ‘বারিয়্যা’ এবং ‘খালিয়্যা’ উভয় শব্দের প্রত্যেকটির দ্বারা তিন তালাক প্রযোজ্য হইবে।
০৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، . أَنَّ رَجُلاً، كَانَتْ تَحْتَهُ وَلِيدَةٌ لِقَوْمٍ فَقَالَ لأَهْلِهَا شَأْنَكُمْ بِهَا . فَرَأَى النَّاسُ أَنَّهَا تَطْلِيقَةٌ وَاحِدَةٌ .
রেওয়ায়ত ৮. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত-কোন এক গোত্রের দাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিল। সে ব্যক্তি উক্ত দাসীর অভিভাবকদের বলিল, আপনারা তাহার দায়িত্বভার গ্রহণ করুন। ইহা দ্বারা লোকেরা এক তালাক প্রদান করিয়াছে বলিয়া অনুমান করিলেন।
০৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ، يَقُولُ فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ بَرِئْتِ مِنِّي وَبَرِئْتُ مِنْكِ إِنَّهَا ثَلاَثُ تَطْلِيقَاتٍ بِمَنْزِلَةِ الْبَتَّةِ . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ أَنْتِ خَلِيَّةٌ أَوْ بَرِيَّةٌ أَوْ بَائِنَةٌ إِنَّهَا ثَلاَثُ تَطْلِيقَاتٍ لِلْمَرْأَةِ الَّتِي قَدْ دَخَلَ بِهَا وَيُدَيَّنُ فِي الَّتِي لَمْ يَدْخُلْ بِهَا أَوَاحِدَةً أَرَادَ أَمْ ثَلاَثًا فَإِنْ قَالَ وَاحِدَةً أُحْلِفَ عَلَى ذَلِكَ وَكَانَ خَاطِبًا مِنَ الْخُطَّابِ لأَنَّهُ لاَ يُخْلِي الْمَرْأَةَ الَّتِي قَدْ دَخَلَ بِهَا زَوْجُهَا وَلاَ يُبِينُهَا وَلاَ يُبْرِيهَا إِلاَّ ثَلاَثُ تَطْلِيقَاتٍ وَالَّتِي لَمْ يَدْخُلْ بِهَا تُخْلِيهَا وَتُبْرِيهَا وَتُبِينُهَا الْوَاحِدَةُ . قَالَ مَالِكٌ وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ .
রেওয়ায়ত ৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে বলিলঃ “আমার তোমা হইতে দায়িত্বমুক্ত হইয়াছি। তুমিও আমা হইতে দায়িত্বমুক্ত।” ইহা দ্বারা তালাকাই আল-বাত্তা-এর মতো তিন তালাক প্রযোজ্য হইবে। যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে বলিলঃ (أَنْتِ خَلِيَّةٌ أَوْ بَرِيَّةٌ) “তুমি দায়মুক্ত” (أَنْتِ بَائِنَةٌ) “তুমি আমা হইতে পৃথক।” মালিক (রহঃ) বলেনঃ সে স্ত্রী যাহার সঙ্গে সহবাস করা হইয়াছে এইরূপ হইলে তবে তাহার স্বামীর উপরিউক্ত বাক্যগুলির দ্বারা তাহার উপর তিন তালাক বর্তাইবে। আর যদি সেই স্ত্রী এমন হয় যাহার সহিত সহবাস করা হয়নি, তবে ধর্মত স্বামীকে বিশ্বাস করা হইবে এবং তাহার নিকট জিজ্ঞাসা করা হইবে-সে উপরিউক্ত বাক্যগুলি দ্বারা এক তালাক উদ্দেশ্য করিয়াছে, না তিন তালাক। যদি সে এক তালাক উদ্দেশ্য করিয়াছে বলিয়া প্রকাশ করে তাহা হইলে এই বিষয়ে সেই ব্যক্তিকে হলফ দেওয়া হইবে। (যেহেতু স্বামীর উক্তির দ্বারা স্ত্রীর প্রতি এক তালাক বায়েন প্রযোজ্য হইয়াছে, তাই পুনর্বিবাহ ছাড়া স্বামী সেই স্ত্রীকে গ্রহণ করিতে পারবে না) তাই সে বিবাহের প্রস্তাবকারী হিসাবে অন্য লোকদের মতো একজন বলিয়া পণ্য হইবে। ইহার কারণ এই যে, যে স্ত্রীর সহিত সঙ্গম করা হইয়াছে সেই স্ত্রী তিন তালাক ছাড়া দায়িত্বমুক্ত বা স্বামী হইতে পৃথক হইবে না। আর যাহার সহিত সঙ্গম হয় নাই সেই স্ত্রী এক তালাক দ্বারা দায়িত্বমুক্ত ও পৃথক হইয়া যায়। মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এ বিষয়ে যাহা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার নিকট উত্তম।
১০
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৫৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنِّي جَعَلْتُ أَمْرَ امْرَأَتِي فِي يَدِهَا فَطَلَّقَتْ نَفْسَهَا فَمَاذَا تَرَى فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أُرَاهُ كَمَا قَالَتْ . فَقَالَ الرَّجُلُ لاَ تَفْعَلْ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ . فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ أَنَا أَفْعَلُ أَنْتَ فَعَلْتَهُ .
রেওয়ায়ত ১০. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, হে আবু আবদুর রহমান। আমি আমার স্ত্রীর হস্তে তাহার অধিকার ন্যস্ত করিয়াছি। সে নিজকে তালাক প্রদান করিয়াছে; এই বিষয়ে আপনার কি অভিমত? ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ আমার মতে যেমন বলিয়াছে তেমন হইবে। সে ব্যক্তি বলিল, হে আবু আবদুর রহমান! এইরূপ করবেন না। ইবন উমর বলিলেনঃ আমি করিতেছি, না তুমি করিয়াছ (অর্থাৎ স্ত্রীর হাতে ক্ষমতা প্রদান করিলে কেন?)
১১
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ إِذَا مَلَّكَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَالْقَضَاءُ مَا قَضَتْ بِهِ إِلاَّ أَنْ يُنْكِرَ عَلَيْهَا وَيَقُولَ لَمْ أُرِدْ إِلاَّ وَاحِدَةً فَيَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ وَيَكُونُ أَمْلَكَ بِهَا مَا كَانَتْ فِي عِدَّتِهَا .
রেওয়ায়ত ১১. নাফি’ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেন, যদি কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করে তবে (এক বা একাধিক তালাকের ব্যাপারে) স্ত্রীর ফয়সালাই ফয়সালা। হ্যাঁ, সে যদি উহা অস্বীকার করে এবং বলে, আমি এক তালাক ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করি নাই এবং সেই মতে সে হলফ করিয়াও বলে, তবে ইদ্দতের সময়ের মধ্যে স্ত্রীর অধিক হকদার বিবেচিত হইবে স্বামী (অর্থাৎ ইচ্ছা করিলে স্বামী স্ত্রীকে ফিরাইয়া লইতে পারিবে)।
১২
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، كَانَ جَالِسًا عِنْدَ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ فَأَتَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَتِيقٍ وَعَيْنَاهُ تَدْمَعَانِ فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ مَا شَأْنُكَ فَقَالَ مَلَّكْتُ امْرَأَتِي أَمْرَهَا فَفَارَقَتْنِي . فَقَالَ لَهُ زَيْدٌ مَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ قَالَ الْقَدَرُ . فَقَالَ زَيْدٌ ارْتَجِعْهَا إِنْ شِئْتَ فَإِنَّمَا هِيَ وَاحِدَةٌ وَأَنْتَ أَمْلَكُ بِهَا .
রেওয়ায়ত ১২. খারিজা ইবন যায়দ ইবন সাবিত (রহঃ) বলেনঃ তিনি যায়দ ইবন সাবিত (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন। এই সময় তাহার নিকট মুহাম্মদ ইবন আবী আতীক আসিলেন। তাহার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত ছিল, যায়দ তাহার উদ্দেশ্যে বলিলেনঃ তোমার ব্যাপার কি? তিনি বলিলেনঃ আমার স্ত্রীকে আমি ক্ষমতা প্রদান করিয়াছিলাম। সে আমাকে পরিত্যাগ করিয়াছে। যায়দ বলিলেনঃ এইরূপ ক্ষমতা কি জন্য প্রদান করিলে? তিনি বলিলেনঃ তকদীর। যায়দ বলিলেনঃ তুমি স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যদি তোমার ইচ্ছা হয়, কারণ উহা এক তালাক মাত্র। তুমি সেই স্ত্রীর অধিক হকদার।
১৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ ثَقِيفٍ مَلَّكَ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَقَالَتْ أَنْتَ الطَّلاَقُ فَسَكَتَ ثُمَّ قَالَتْ أَنْتَ الطَّلاَقُ فَقَالَ بِفِيكِ الْحَجَرُ . ثُمَّ قَالَتْ أَنْتَ الطَّلاَقُ فَقَالَ بِفِيكِ الْحَجَرُ . فَاخْتَصَمَا إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ فَاسْتَحْلَفَهُ مَا مَلَّكَهَا إِلاَّ وَاحِدَةً وَرَدَّهَا إِلَيْهِ . قَالَ مَالِكٌ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَكَانَ الْقَاسِمُ يُعْجِبُهُ هَذَا الْقَضَاءُ وَيَرَاهُ أَحْسَنَ مَا سَمِعَ فِي ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ وَأَحَبُّهُ إِلَىَّ .
রেওয়ায়ত ১৩. কাসিম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবী বকর (রহঃ) হইতে বর্ণিত-সাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে (তালাকের) ক্ষমতা প্রদান করিল। সেই স্ত্রী বলিল, তোমাকে তালাক। স্বামী চুপ রহিল। স্ত্রী পুনরায় বলিল, তোমাকে তালাক। সে ব্যক্তি বলিলঃ তোমার মুখে প্রস্তর (পতিত হউক)। স্ত্রী পুনরায় বলিলঃ তোমাকে তালাক। সে বলিলঃ তোমার মুখে পাথর। উভয়ে বিচার প্রার্থী হইয়া মারওয়ান ইবন হাকামের নিকট উপস্থিত হইল। মারওয়ান স্বামীর নিকট হইতে এই বিষয়ে হলফ তলব করিল যে, সে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা প্রয়োগের দ্বারা এক তালাক ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে নাই। অতঃপর স্ত্রীকে তাহার নিকট ফিরাইয়া দিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ‘আবদুর রহমান (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কাসেম (রহঃ) এই ফয়সালা খুব পছন্দ করিতেন এবং এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছেন তন্মধ্যে ইহাকে উত্তম বলিয়া গণ্য করিতেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই সর্বোত্তম এবং আমার নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়।
১৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا خَطَبَتْ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ قُرَيْبَةَ بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ فَزَوَّجُوهُ ثُمَّ إِنَّهُمْ عَتَبُوا عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَقَالُوا مَا زَوَّجْنَا إِلاَّ عَائِشَةَ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَجَعَلَ أَمْرَ قُرَيْبَةَ بِيَدِهَا فَاخْتَارَتْ زَوْجَهَا فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَلاَقًا .
রেওয়ায়েত ১৪. কাসেম ইবন মুহাম্মদ ইবন আবী বকর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আবী বকর (রাঃ)-এর জন্য কুরায়যা বিনত আবী উমাইয়ার বিবাহের প্রস্তাব করিলেন, (কন্যা কর্তৃপক্ষ) তাহার নিকট বিবাহ দিলেন। তারপর (কোন কারণে) তাহারা আবদুর রহমানের উপর অসন্তুষ্ট হইলেন এবং তাহারা বলিলেন, আমরা আয়েশা (রাঃ)-এর কারণে বিবাহে সম্মত হইয়াছি। আয়েশা (রাঃ) আবদুর রহমানের নিকট লোক প্রেরণ করিলেন এবং তাঁহাদের বক্তব্য অবহিত করিলেন। আবদুর রহমান কুরায়যার বিষয় কুরায়যার উপর ন্যস্ত করিলেন। কুরায়যা (রাঃ) তাহার স্বামীকে গ্রহণ করিলেন ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হইল না।
১৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَوَّجَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُنْذِرَ بْنَ الزُّبَيْرِ - وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ غَائِبٌ بِالشَّامِ - فَلَمَّا قَدِمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ وَمِثْلِي يُصْنَعُ هَذَا بِهِ وَمِثْلِي يُفْتَاتُ عَلَيْهِ فَكَلَّمَتْ عَائِشَةُ الْمُنْذِرَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ الْمُنْذِرُ فَإِنَّ ذَلِكَ بِيَدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ . فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَا كُنْتُ لأَرُدَّ أَمْرًا قَضَيْتِيهِ فَقَرَّتْ حَفْصَةُ عِنْدَ الْمُنْذِرِ وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَلاَقًا .
রেওয়ায়ত ১৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাঃ) আবদুর রহমানের কন্যা হাফসাকে মুনযির ইবন যুবায়র-এর নিকট বিবাহ দিলেন। আবদুর রহমান ছিলেন তখন সিরিয়াতে (তিনি তাই এই বিবাহে অনুপস্থিত ছিলেন)। আবদুর রহমান যখন সিরিয়া হইতে প্রত্যাবর্তন করিলেন (এবং এই বিবাহের সংবাদ অবগত হইলেন) তিনি বলিলেন, আমার মতো লোকের সহিত ইহা করা হইল, আমার ব্যাপারে আমাকে উপেক্ষা করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইল। অতঃপর আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) মুনযির ইবন যুবায়র-এর সহিত আলোচনা করিলেন। মুনযির বলিলেনঃ আবদুর রহমানের হাতেই ইহার (এই বিবাহ বহাল রাখা না রাখার) ক্ষমতা রহিয়াছে। আবদুর রহমান বলিলেনঃ যেই ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছেন আমি উহাকে রদ করিব না, তাই হাফসা মুনযিরের কাছেই রহিলেন এবং ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হয় নাই।
১৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، وَأَبَا، هُرَيْرَةَ سُئِلاَ عَنِ الرَّجُلِ، يُمَلِّكُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَتَرُدُّ ذَلِكَ إِلَيْهِ وَلاَ تَقْضِي فِيهِ شَيْئًا فَقَالاَ لَيْسَ ذَلِكَ بِطَلاَقٍ .
ইয়াহিয়া আমাকে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শুনেছেন যে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও আবু হুরায়রাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার স্ত্রীকে নিজের উপর ক্ষমতা দিয়েছিল এবং সে তার সাথে কিছু না করেই তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। তারা বলেছিল যে ডিভোর্স হয়নি। (অর্থাৎ পুরুষের তার স্ত্রীকে নিজের উপর ক্ষমতা প্রদান করাকে তার পক্ষ থেকে তালাকের ইচ্ছা হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি)
১৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ إِذَا مَلَّكَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَلَمْ تُفَارِقْهُ وَقَرَّتْ عِنْدَهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلاَقٍ . قَالَ مَالِكٌ فِي الْمُمَلَّكَةِ إِذَا مَلَّكَهَا زَوْجُهَا أَمْرَهَا ثُمَّ افْتَرَقَا وَلَمْ تَقْبَلْ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَلَيْسَ بِيَدِهَا مِنْ ذَلِكَ شَىْءٌ وَهُوَ لَهَا مَا دَامَا فِي مَجْلِسِهِمَا .
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর এবং আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি স্ত্রীকে তাহার নিজের বিষয়ে ইখতিয়ার দিয়াছে। স্ত্রী উক্ত ক্ষমতা স্বামীর দিকে ফিরাইয়া দিয়াছে এবং এই ব্যাপারে নিজে ক্ষমতা প্রয়োগ করে নাই। (ইহার কি হুকুম) তাহারা উভয়ে বলিলেন, ইহা তালাক নহে। সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে তাহার (বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারে) ক্ষমতা প্রদান করিলে সে যদি স্বামীকে ত্যাগ না করে এবং তাহার স্ত্রীরূপে বহাল থাকে, তবে উহা তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যেই স্ত্রীলোকের প্রতি তাহার স্বামী ক্ষমতা অর্পণ করিল, অতঃপর তাহারা উভয়ে মজলিস ত্যাগ করিয়া পৃথক হইয়া গেল। স্ত্রী সেই ক্ষমতা গ্রহণ করে নাই। তবে সেই স্ত্রীর হাতে আর কোন ক্ষমতা থাকিবে না। তাহার হাতে ততক্ষণ ক্ষমতা থাকিবে যতক্ষণ তাহারা সেই মজলিস ত্যাগ না করে।
১৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا آلَى الرَّجُلُ مِنِ امْرَأَتِهِ لَمْ يَقَعْ عَلَيْهِ طَلاَقٌ وَإِنْ مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ حَتَّى يُوقَفَ فَإِمَّا أَنْ يُطَلِّقَ وَإِمَّا أَنْ يَفِيءَ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ الأَمْرُ عِنْدَنَا .
রেওয়ায়ত ১৭. আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ) বলিতেন, কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর ব্যাপারে ঈলা করিলে উহাতে তালাক হইবে না। যদি ঈলার পর চার মাস অতিবাহিত হয় (সে কিছু না করে), তবে তাহাকে বন্দী করা হইবে, হয়ত সে তালাক দিবে নতুবা ঈলা হইতে ফিরিয়া আসিবে (অর্থাৎ স্ত্রীকে গ্রহণ করিয়া কসমের কাফফারা দিবে)। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট ইহাই সিদ্ধান্ত।
১৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ أَيُّمَا رَجُلٍ آلَى مِنِ امْرَأَتِهِ فَإِنَّهُ إِذَا مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ وُقِفَ حَتَّى يُطَلِّقَ أَوْ يَفِيءَ وَلاَ يَقَعُ عَلَيْهِ طَلاَقٌ إِذَا مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ حَتَّى يُوقَفَ .
ইয়াহিয়া আমাকে মালিক থেকে নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেছেন, "যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস থেকে বিরত থাকার মানত করে এবং চার মাস অতিবাহিত হয় তখন তাকে অবশ্যই তার উদ্দেশ্য ঘোষণা করতে হবে এবং হয় সে তালাকপ্রাপ্ত হবে অথবা সে তার মানত প্রত্যাহার করবে। চার মাস অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক হবে না এবং সে বিরত থাকবে।
২০
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৬৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، وَأَبَا، بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَا يَقُولاَنِ فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنِ امْرَأَتِهِ إِنَّهَا إِذَا مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ فَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَلِزَوْجِهَا عَلَيْهَا الرَّجْعَةُ مَا كَانَتْ فِي الْعِدَّةِ .
রেওয়ায়ত ১৮. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ কেউ স্ত্রীর সহিত ঈলা করিলে তবে চার মাস অতিবাহিত হইলে তাহাকে বন্দী করা হইবে, যাবৎ তালাক না দেয় অথবা কসম ভঙ্গ করিয়া কাফফারা আদায় করে স্ত্রীকে গ্রহণ করিবে। চার মাস অতিবাহিত হইলে তাহাকে বন্দী না করা পর্যন্ত তালাক প্রযোজ্য হইবে না। ইবন শিহাব (রহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব এবং আবদুর রহমান ইবন আবু বকর (রাঃ) তাহারা উভয়ে বলিতেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করিয়াছে, চার মাস অতিবাহিত হইলে উহা এক তালাক গণ্য হইবে। ইদ্দতের ভিতর সে ব্যক্তি স্ত্রীর দিকে রুজু’ (উহাকে গ্রহণ) করিতে পারবে।
২১
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ، كَانَ يَقْضِي فِي الرَّجُلِ إِذَا آلَى مِنِ امْرَأَتِهِ أَنَّهَا إِذَا مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ فَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَلَهُ عَلَيْهَا الرَّجْعَةُ مَا دَامَتْ فِي عِدَّتِهَا . قَالَ مَالِكٌ وَعَلَى ذَلِكَ كَانَ رَأْىُ ابْنِ شِهَابٍ . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنِ امْرَأَتِهِ فَيُوقَفُ فَيُطَلِّقُ عِنْدَ انْقِضَاءِ الأَرْبَعَةِ الأَشْهُرِ ثُمَّ يُرَاجِعُ امْرَأَتَهُ أَنَّهُ إِنْ لَمْ يُصِبْهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا فَلاَ سَبِيلَ لَهُ إِلَيْهَا وَلاَ رَجْعَةَ لَهُ عَلَيْهَا إِلاَّ أَنْ يَكُونَ لَهُ عُذْرٌ مِنْ مَرَضٍ أَوْ سِجْنٍ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنَ الْعُذْرِ فَإِنَّ ارْتِجَاعَهُ إِيَّاهَا ثَابِتٌ عَلَيْهَا فَإِنْ مَضَتْ عِدَّتُهَا ثُمَّ تَزَوَّجَهَا بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ إِنْ لَمْ يُصِبْهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ وَقَفَ أَيْضًا فَإِنْ لَمْ يَفِئْ دَخَلَ عَلَيْهِ الطَّلاَقُ بِالإِيلاَءِ الأَوَّلِ إِذَا مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ لأَنَّهُ نَكَحَهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَلاَ عِدَّةَ لَهُ عَلَيْهَا وَلاَ رَجْعَةَ . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنِ امْرَأَتِهِ فَيُوقَفُ بَعْدَ الأَرْبَعَةِ الأَشْهُرِ فَيُطَلِّقُ ثُمَّ يَرْتَجِعُ وَلاَ يَمَسُّهَا فَتَنْقَضِي أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا إِنَّهُ لاَ يُوقَفُ وَلاَ يَقَعُ عَلَيْهِ طَلاَقٌ وَإِنَّهُ إِنْ أَصَابَهَا قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا كَانَ أَحَقَّ بِهَا وَإِنْ مَضَتْ عِدَّتُهَا قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا فَلاَ سَبِيلَ لَهُ إِلَيْهَا وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنِ امْرَأَتِهِ ثُمَّ يُطَلِّقُهَا فَتَنْقَضِي الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ قَبْلَ انْقِضَاءِ عِدَّةِ الطَّلاَقِ قَالَ هُمَا تَطْلِيقَتَانِ إِنْ هُوَ وُقِفَ وَلَمْ يَفِئْ وَإِنْ مَضَتْ عِدَّةُ الطَّلاَقِ قَبْلَ الأَرْبَعَةِ الأَشْهُرِ فَلَيْسَ الإِيلاَءُ بِطَلاَقٍ وَذَلِكَ أَنَّ الأَرْبَعَةَ الأَشْهُرِ الَّتِي كَانَتْ تُوقَفُ بَعْدَهَا مَضَتْ وَلَيْسَتْ لَهُ يَوْمَئِذٍ بِامْرَأَةٍ . قَالَ مَالِكٌ وَمَنْ حَلَفَ أَنْ لاَ يَطَأَ امْرَأَتَهُ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى يَنْقَضِيَ أَكْثَرُ مِنَ الأَرْبَعَةِ الأَشْهُرِ فَلاَ يَكُونُ ذَلِكَ إِيلاَءً وَإِنَّمَا يُوقَفُ فِي الإِيلاَءِ مَنْ حَلَفَ عَلَى أَكْثَرَ مِنَ الأَرْبَعَةِ الأَشْهُرِ فَأَمَّا مَنْ حَلَفَ أَنْ لاَ يَطَأَ امْرَأَتَهُ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ أَوْ أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ فَلاَ أَرَى عَلَيْهِ إِيلاَءً لأَنَّهُ إِذَا دَخَلَ الأَجَلُ الَّذِي يُوقَفُ عِنْدَهُ خَرَجَ مِنْ يَمِينِهِ وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ وَقْفٌ . قَالَ مَالِكٌ مَنْ حَلَفَ لاِمْرَأَتِهِ أَنْ لاَ يَطَأَهَا حَتَّى تَفْطِمَ وَلَدَهَا فَإِنَّ ذَلِكَ لاَ يَكُونُ إِيلاَءً .
রেওয়ায়ত ৩৫. আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর প্রতি লিআন করিয়াছে এবং ছেলের নসবকে অস্বীকার করিয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহদের উভয়কে পৃথক করিয়া দিয়াছেন এবং স্ত্রীকে ছেলেটি প্রদান করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আল্লহ তা'আলা ইরশাদ করিয়াছেনঃ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُن لَّهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ أَرْبَعُ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَتَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ وَيَدْرَأُ عَنْهَا الْعَذَابَ أَن تَشْهَدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِن كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ অর্থঃ এবং যাহারা নিজদিগের স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাহাদিগের কোন সাক্ষী নাই, তাহাদিগের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হইবে যে, সে আল্লাহর নামে চারিবার শপথ করিয়া বলিবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবারে বলিবে, সে মিথ্যাবাদী হইলে তাহার উপর নামিয়া আসিবে আল্লাহর লা'নত। তবে স্ত্রীর শাস্তি রহিত হইবে যদি সে চারিবার আল্লাহর নামে শপথ করিয়া সাক্ষ্য দেয় যে, তাহার স্বামীই মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবারে বলে, ‘তাহার স্বামী সত্যবাদী হইলে তাহার নিজের উপর নামিয়া আসিবে আল্লাহর গযব’। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট বিধান হইল এই, লি'আনকারী তাহারা পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইবে না, যদি স্বামী মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়, তবে তাহাকে শাস্তি (হদ্দ প্রয়োগ) দেওয়া হইবে এবং ছেলেকে তাহার সহিত যুক্ত করা হইবে। স্ত্রী সেই স্বামীর নিকট আর কখনো ফিরিয়া যাইবে না। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের নিকট ইহাই নিয়ম যাহাতে কোন প্রকার মতানৈক্য বা সন্দেহ নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে বায়েন তালাক দেয় যাহাতে স্ত্রীর দিকে তাহার রুজু করার অধিকার থাকে না, তারপর স্ত্রীর গর্ভ অস্বীকার করে, তবে তাহাকে লি'আন করিতে হইবে। যদি স্ত্রী অন্তঃসত্ত্ব হয় এবং স্ত্রীর গর্ভধারণ সেই ব্যক্তির পক্ষ হইতে হওয়ারই সম্ভাবনা অধিক থাকে এবং স্ত্রীও উহার দাবি করে। অবশ্য যদি তালাকের পর এইরূপ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত না হয় যাহাতে স্বামী হইতে গর্ভধারণের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। যাহাতে এই গর্ভধারণ উক্ত স্বামী দ্বারা হইয়াছে বলিয়া অনুমান করা যায় না। আমাদের নিকট ইহাই হুকুম আর ইহাই আমি বিজ্ঞ আলিমদের নিকট হইতে শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তখন কোন ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করিল। তিন তালাক দেওয়ার পর স্ত্রী যখন অন্তঃসত্ত্বা অথচ সে ব্যক্তি এই গর্ভধারণ তাহার পক্ষ হইতে হইয়াছে বলিয়া স্বীকারও করে, তারপর সে ধারণা করে যে, সে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পূর্বে যিনা করিতে দেখিয়াছে, তবে তাহাকে শাস্তি দেওয়া হইবে (অর্থাৎ তাহার উপর ইসলামী বিধানমতে হদ্দ জারি করা হইবে) সে লি’আন করিবে না। আর যদি তিন তালাক দেওয়ার পর সেই স্ত্রীর গর্ভধারণ (তাহার পক্ষ হইতে হওয়ার ব্যাপার) সে অস্বীকার করে সে লিআন করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি এরূপই শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যিনার অপবাদারোপ করা এবং লিআন-এর ব্যাপারে ক্রীতদাস ও স্বাধীন ব্যক্তির হুকুম একই। অর্থাৎ এই দুই ব্যাপারে ক্রীতদাসের হুকুমত আযাদ ব্যক্তির মতো। কিন্তু নিজের ক্রীতদাসীর প্রতি অপবাদ দিলে মনিবের উপর হদ জারি হইবে না অর্থাৎ মনিবকে শাস্তি দেওয়া হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ মুসলিম ক্রীতদাসী, খ্রীস্টান ও ইহুদী স্বাধীন স্ত্রীলোক স্বাধীন মুসলিম স্বামীর প্রতি লি'আন করিবে, যদি সেই মুসলিম ইহাদের কাহাকেও বিবাহ করে এবং তাহার সহিত সহবাস করিয়া থাকে। কারণ আল্লাহ কুরআনুল করীমে ইরশাদ করিয়াছেনঃ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ “যাহারা স্ত্রীগণের প্রতি অপবাদ দেয়”। উপরিউক্ত মহিলাগণও স্ত্রীর অন্তর্ভুক্ত। (তাই উহাদিগের প্রতি অপবাদ আরোপ করিলে লি’আন করিতে হইবে।) মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহাই সিদ্ধান্ত। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন মুসলিম আযাদ নারীকে অথবা মুসলিম ক্রীতদাসীকে অথবা আযাদ খ্রীস্টান অথবা ইহুদী নারীকে কোন ক্রীতদাস বিবাহ করিলে সে স্ত্রীর সহিত লি'আন করিতে পারবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর সহিত লি'আন করিয়াছে, অতঃপর সে উহা হইতে ফিরিয়া আসে (রুজু করে) এবং মিথ্যা বলিয়াছে বলিয়া স্বীকার করে, একবার অথবা দুইবার কসম খাওয়ার পর পঞ্চমবারের লা'নত উচ্চারণ না করা পর্যন্ত। সে যদি লি'আন সমাপ্ত করার পূর্বে রুজু করে তবে তাহাকে হদ্দ লাগানো (শান্তি দেওয়া) হইবে এবং তাহদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্ত্রীকে তালাক দিয়াছে। অতঃপর তিন মাস অতিবাহিত হইবার পর স্ত্রী বলিলঃ আমি অন্তঃসত্ত্বা। মালিক (রহঃ) বলেন, এমতাবস্থায় তাহার স্বামী গর্ভ ধারণের স্বীকৃতি প্রদান না করিলে তবে লি‘আন করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসী স্ত্রীর সহিত তাহার স্বামী লি’আন করিয়াছে, অতঃপর সে ক্রীতদাসীকে খরিদ করিয়াছে, তবে সে মালিক হইলেও ইহার সহিত সহবাস করিতে পারিবে না। কারণ নিয়ম হইতেছে, পরস্পর লি'আনকারী কখনও একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন (রুজু) করিতে পারে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত সংগত হওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সহিত লি'আন করিলে তবে সে মহরের অর্ধেক পাইবে।
২২
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ أَيُّمَا رَجُلٍ آلَى مِنِ امْرَأَتِهِ فَإِنَّهُ إِذَا مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ وُقِفَ حَتَّى يُطَلِّقَ أَوْ يَفِيءَ وَلاَ يَقَعُ عَلَيْهِ طَلاَقٌ إِذَا مَضَتِ الأَرْبَعَةُ الأَشْهُرِ حَتَّى يُوقَفَ .
তিনি আমাকে মালিকের সূত্রে, নাফির সূত্রে, আবদুল্লাহ ইবনে উমরের সূত্রে বলেছেন যে, তিনি বলতেন, “যখনই কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে নিজেকে উৎসর্গ করে, যদি সে চলে যায়, সে তালাক না দেওয়া পর্যন্ত বা পরিশোধ না করা পর্যন্ত চার মাস স্থগিত থাকে এবং স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত চার মাস অতিবাহিত হলে তার উপর তালাক সংঘটিত হয় না।
২৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ إِيلاَءِ الْعَبْدِ، فَقَالَ هُوَ نَحْوُ إِيلاَءِ الْحُرِّ وَهُوَ عَلَيْهِ وَاجِبٌ وَإِيلاَءُ الْعَبْدِ شَهْرَانِ .
মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-এর নিকট ক্রীতদাসের ঈলা সম্বন্ধে প্রশ্ন করিয়াছেন, তিনি বলিলেনঃ ক্রীতদাসের ঈলা আযাদ ব্যক্তির ঈলার মতো। সেই ঈলা তাহার উপর ওয়াজিব হইবে। আর ক্রীতদাসের ঈলা-র সময় হইতেছে দুই মাস।
২৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭৩
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، أَنَّهُ سَأَلَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ عَنْ رَجُلٍ، طَلَّقَ امْرَأَةً إِنْ هُوَ تَزَوَّجَهَا فَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ إِنَّ رَجُلاً جَعَلَ امْرَأَةً عَلَيْهِ كَظَهْرِ أُمِّهِ إِنْ هُوَ تَزَوَّجَهَا فَأَمَرَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِنْ هُوَ تَزَوَّجَهَا أَنْ لاَ يَقْرَبَهَا حَتَّى يُكَفِّرَ كَفَّارَةَ الْمُتَظَاهِرِ .
রেওয়ায়ত ২০. সাঈদ ইবন আমর ইবন সুলায়মান যুরাকী (রহঃ) বলেনঃ তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যে লোক স্ত্রীকে বলিলঃ আমি তোমাকে বিবাহ করিলে তুমি তালাক। কাসিম ইবন মুহাম্মদ বলিলেনঃ এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলার সহিত এই বলিয়া যিহার[1] করিল, তাহার জন্য সে তাহার মাতার পিঠের তুল্য, যদি সে তাহাকে বিবাহ করে। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) সেই ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন যে, যদি সে তাহাকে বিবাহ করে তবে যিহারকারীর মতো কাফফার না দেওয়া পর্যন্ত সে যেন ঐ স্ত্রীর নিকট না যায়।
২৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ عَنْ رَجُلٍ تَظَاهَرَ مِنِ امْرَأَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَنْكِحَهَا فَقَالاَ إِنْ نَكَحَهَا فَلاَ يَمَسَّهَا حَتَّى يُكَفِّرَ كَفَّارَةَ الْمُتَظَاهِرِ .
রেওয়ায়ত ২১. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, এক ব্যক্তি কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) এবং সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যেই ব্যক্তি এক স্ত্রীলোকের সহিত যিহার করিয়াছে তাহাকে বিবাহ করার পূর্বে। তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ যদি সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে তবে সে যিহারের কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত উক্ত স্ত্রীকে স্পর্শও করিবে না।
২৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ فِي رَجُلٍ تَظَاهَرَ مِنْ أَرْبَعَةِ نِسْوَةٍ لَهُ بِكَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ إِنَّهُ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلاَّ كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ . وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مِثْلَ ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ وَعَلَى ذَلِكَ الأَمْرُ عِنْدَنَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كَفَّارَةِ الْمُتَظَاهِرِ {فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا }. {فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا} . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يَتَظَاهَرُ مِنِ امْرَأَتِهِ فِي مَجَالِسَ مُتَفَرِّقَةٍ قَالَ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلاَّ كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ فَإِنْ تَظَاهَرَ ثُمَّ كَفَّرَ ثُمَّ تَظَاهَرَ بَعْدَ أَنْ يُكَفِّرَ فَعَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ أَيْضًا . قَالَ مَالِكٌ وَمَنْ تَظَاهَرَ مِنِ امْرَأَتِهِ ثُمَّ مَسَّهَا قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلاَّ كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ وَيَكُفُّ عَنْهَا حَتَّى يُكَفِّرَ وَلْيَسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ . قَالَ مَالِكٌ وَالظِّهَارُ مِنْ ذَوَاتِ الْمَحَارِمِ مِنَ الرَّضَاعَةِ وَالنَّسَبِ سَوَاءٌ . قَالَ مَالِكٌ وَلَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ ظِهَارٌ . قَالَ مَالِكٌ فِي قَوْلِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى {وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا}. قَالَ سَمِعْتُ أَنَّ تَفْسِيرَ ذَلِكَ أَنْ يَتَظَاهَرَ الرَّجُلُ مِنِ امْرَأَتِهِ ثُمَّ يُجْمِعَ عَلَى إِمْسَاكِهَا وَإِصَابَتِهَا فَإِنْ أَجْمَعَ عَلَى ذَلِكَ فَقَدْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ الْكَفَّارَةُ وَإِنْ طَلَّقَهَا وَلَمْ يُجْمِعْ بَعْدَ تَظَاهُرِهِ مِنْهَا عَلَى إِمْسَاكِهَا وَإِصَابَتِهَا فَلاَ كَفَّارَةَ عَلَيْهِ . قَالَ مَالِكٌ فَإِنْ تَزَوَّجَهَا بَعْدَ ذَلِكَ لَمْ يَمَسَّهَا حَتَّى يُكَفِّرَ كَفَّارَةَ الْمُتَظَاهِرِ . قَالَ مَالِكٌ فِي الرَّجُلِ يَتَظَاهَرُ مِنْ أَمَتِهِ إِنَّهُ إِنْ أَرَادَ أَنْ يُصِيبَهَا فَعَلَيْهِ كَفَّارَةُ الظِّهَارِ قَبْلَ أَنْ يَطَأَهَا . قَالَ مَالِكٌ لاَ يَدْخُلُ عَلَى الرَّجُلِ إِيلاَءٌ فِي تَظَاهُرِهِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ مُضَارًّا لاَ يُرِيدُ أَنْ يَفِيءَ مِنْ تَظَاهُرِهِ
রেওয়ায়ত ২২. যে ব্যক্তি তাহার চার পত্নীর সহিত একবাক্যে যিহার করিয়াছে, সে ব্যক্তি সম্পর্কে উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) বলিয়াছেনঃ সেই ব্যক্তিকে একটি মাত্র কাফফারা দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) রবি'আ ইবন আবদুর রহমান (রহঃ) হইতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করিয়াছেন। মালিক (রহঃ) বলেন, এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলা তাহার কিতাবে যিহারের কাফফারা সম্পর্কে ইরশাদ করিয়াছেন যে, স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে সে একটি ক্রীতদাস আযাদ করবে। যে ইহার সামর্থ রাখে না, সে স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে একাধারে দুই মাস রোযা পালন করবে। আর যে ব্যক্তি ইহারও ক্ষমতা রাখে না সে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি একাধিক মজলিসে স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে, সে ব্যক্তির উপর কেবলমাত্র একটি কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব হইবে। যদিও সে যিহার করিয়া কাফফারা দিয়াছে এবং কাফফারা দেওয়ার পর পুনরায় যিহার করিয়াছে তবে তাহার উপর (পুনরায়) কাফফারা জরুরী হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে এবং কাফফারা দেওয়ার পূর্বে স্ত্রীকে স্পর্শ করিয়াছে, সে ব্যক্তির উপর একটি মাত্র কাফফারা ওয়াজিব হইবে। কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত স্ত্রী হইতে বিরত থাকিবে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাহিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহাই সর্বোত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যিহারের ব্যাপারে মাহরম (যাহাদের সহিত বিবাহ হারাম এমন নিকট আত্মীয়) সে দুধপান বা বংশগত যেভাবে হউক না কেন সবাই এক সমান। মালিক (রহঃ) আল্লাহর বাণী উদ্ধৃত করিয়া বলেনঃ وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا “যাহারা নিজেদের স্ত্রীগণের সহিত যিহার করে, অতঃপর যাহা তাহারা বলিয়াছে উহা হইতে প্রত্যাবর্তন করে।” ইহার তফসীর হইতেছে এই— কোন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে। অতঃপর তাহার স্ত্রীকে রাখা এবং তাহার সহিত সংগত হওয়ার সংকল্প করিয়াছে, সে যদি তাহার স্ত্রীকে রাখা সংগত হওয়ার সংকল্প করে তবে তাহার উপর কাফফারা ওয়াজিব হইবে। আর যদি সে স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং যিহার করার পর তাহাকে রাখা এবং সংগত হওয়ার সংকল্প না করে তবে তাহার উপর কাফফারা ওয়াজিব হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি ইহার পর সে স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করে তবে যিহারের কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত উহার সহিত মিলিত হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি দাসীর সহিত যিহার করিয়াছে সে যদি উহার সহিত সহবাস করিতে করে তবে সহবাসের পূর্বে তাহাকে যিহারের কাফফারা দিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির প্রতি যিহারে ঈলা শামিল করা হইবে না। কিন্তু সেই লোক যদি স্ত্রীর ক্ষতি সাধনকারী হয়; যিহার হইতে ফিরিবার ইচ্ছা তাহার না থাকে তবে উহা স্বতন্ত্র ব্যাপার।
২৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭৬
وعن صفوان بن سليمان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من عال يتيم نفسه أو غيره وقام على أمره فإن اجتنب الظلم كان هكذا معي في الجنة». قال وأظهر إصبعيه السبابة والوسطى. ولمالك وثيقة أخرى في هذا الموضوع في مسلم: وله وثيقة أخرى في مسلم: مسلم، الزهد، 53/2، رقم:42 وانظر أيضاً. البخاري، أديب
সুলাইমানের পুত্র সাফওয়ান (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি তার নিজের বা অন্য কারো এতিমের দেখাশোনা করে এবং তার কাজকর্ম চালায়, যদি সে অন্যায় পরিহার করে, সে বেহেশতে আমার সাথে (পাশাপাশি) হবে”। তিনি বলেন এবং তার তর্জনী এবং মধ্যমা আঙুল দেখান. এই বিষয়ে মুসলিমে মালিকের আরেকটি দলিল রয়েছে: মুসলিমে তার আরেকটি দলিল রয়েছে: মুসলিম, জুহদ, 53/2, নং:42 আরও দেখুন। বুখারী, এদেব
২৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلاً، يَسْأَلُ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ عَنْ رَجُلٍ، قَالَ لاِمْرَأَتِهِ كُلُّ امْرَأَةٍ أَنْكِحُهَا عَلَيْكِ مَا عِشْتِ فَهِيَ عَلَىَّ كَظَهْرِ أُمِّي . فَقَالَ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ يُجْزِئُهُ عَنْ ذَلِكَ عِتْقُ رَقَبَةٍ .
রেওয়ায়ত ২৩. হিশাম ইবন উরওয়া (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি জনৈক লোককে উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিতে শুনিয়াছেন এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে নিজের স্ত্রীকে বলিয়াছে, “তুমি বাঁচিয়া থাকা পর্যন্ত তোমার উপর যে কোন স্ত্রীলোককে আমি বিবাহ করি, সে আমার জন্য আমার জননীর পিঠের তুল্য।” উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) বললেনঃ এই উক্তির জন্য একটি ক্রীতদাসকে আযাদ করিলেই যথেষ্ট হইবে।
২৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ ظِهَارِ الْعَبْدِ، فَقَالَ نَحْوُ ظِهَارِ الْحُرِّ . قَالَ مَالِكٌ يُرِيدُ أَنَّهُ يَقَعُ عَلَيْهِ كَمَا يَقَعُ عَلَى الْحُرِّ . قَالَ مَالِكٌ وَظِهَارُ الْعَبْدِ عَلَيْهِ وَاجِبٌ وَصِيَامُ الْعَبْدِ فِي الظِّهَارِ شَهْرَانِ . قَالَ مَالِكٌ فِي الْعَبْدِ يَتَظَاهَرُ مِنِ امْرَأَتِهِ إِنَّهُ لاَ يَدْخُلُ عَلَيْهِ إِيلاَءٌ وَذَلِكَ أَنَّهُ لَوْ ذَهَبَ يَصُومُ صِيَامَ كَفَّارَةِ الْمُتَظَاهِرِ دَخَلَ عَلَيْهِ طَلاَقُ الإِيلاَءِ قَبْلَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صِيَامِهِ .
রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাব (রহঃ)-কে দাসের যিহার সম্পর্কে প্রশ্ন করিয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ ক্রীতদাসের যিহার আযাদ ব্যক্তির যিহারের মতো। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহার উদ্দেশ্য হইতেছে যিহারের দ্বারা আযাদ ব্যক্তির উপর যাহা বৰ্তাইবে ক্রীতদাসের উপরও তাহাই বর্তাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ক্রীতদাসের যিহার তাহার উপর ওয়াজিব হইবে। যিহারের ব্যাপারে ক্রীতদাস দুই মাস সিয়াম পালন করিবে। যে ক্রীতদাস নিজের স্ত্রীর সহিত যিহার করিয়াছে, সে উহার উপর ঈলা ঢুকাইতে পারবে না, কারণ সে যিহারের কাফফারা রোযা পালন করিলে তাহার রোযা হইতে অবকাশ পাওয়ার পূর্বেই স্ত্রীর উপর ঈলা'-এর তালাক প্রযাজ্য হইবে (কারণ, তাহার মতে ক্রীতদাসের ঈলার সময় দুই মাস)।
৩০
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৭৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ فِي بَرِيرَةَ ثَلاَثُ سُنَنٍ فَكَانَتْ إِحْدَى السُّنَنِ الثَّلاَثِ أَنَّهَا أُعْتِقَتْ فَخُيِّرَتْ فِي زَوْجِهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ " . وَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْبُرْمَةُ تَفُورُ بِلَحْمٍ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ خُبْزٌ وَأُدْمٌ مِنْ أُدْمِ الْبَيْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلَمْ أَرَ بُرْمَةً فِيهَا لَحْمٌ " . فَقَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَكِنْ ذَلِكَ لَحْمٌ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ وَأَنْتَ لاَ تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ عَلَيْهَا صَدَقَةٌ وَهُوَ لَنَا هَدِيَّةٌ " .
রেওয়ায়ত ২৫. কাসিম ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) হইতে বর্ণিত-আয়েশা উম্মুল মু'মিনীন (রাঃ) বলিয়াছেনঃ বরীরা (রাঃ) সম্পর্কে তিনটি আহকাম জারি করা হইয়াছিল। তিনটির সুন্নত বা আহকামের একটি ছিলঃ তাহাকে আযাদ করা হয় এবং তাহাকে আযাদীর পর স্বামীর সহিত থাকার ব্যাপারে ইখতিয়ার প্রদান করা হয়। (দ্বিতীয় সুন্নত এই) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে কর্তা আযাদ করিবে সেই সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে। (তৃতীয় সুন্নত এই)-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বরীরা (রাঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করিলেন। তখন ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হইতেছিল। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-র খিদমতে রুটি এবং গৃহে মওজুদ ব্যঞ্জন উপস্থিত করা হইল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ আমি কি ডেকচিতে গোশত সিদ্ধ হইতে দেখি নাই? (তবে আমার নিকট গোশত পেশ না করার কারণ কি?) তাহারা বলিলেনঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তবে উহা ছিল এমন গোশত যাহা বরীরাকে সদকা স্বরূপ দেওয়া হইয়াছিল। আপনি তো সদকার বস্তু আহার করেন না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উহা বীরার জন্য ছিল সদকা কিন্তু (বরীরা মালিক হওয়ার পর) উহা আমাদের জন্য হইতেছে হাদিয়া।
৩১
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮০
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ فِي الأَمَةِ تَكُونُ تَحْتَ الْعَبْدِ فَتَعْتِقُ إِنَّ الأَمَةَ لَهَا الْخِيَارُ مَا لَمْ يَمَسَّهَا . قَالَ مَالِكٌ وَإِنْ مَسَّهَا زَوْجُهَا فَزَعَمَتْ أَنَّهَا جَهِلَتْ أَنَّ لَهَا الْخِيَارَ فَإِنَّهَا تُتَّهَمُ وَلاَ تُصَدَّقُ بِمَا ادَّعَتْ مِنَ الْجَهَالَةِ وَلاَ خِيَارَ لَهَا بَعْدَ أَنْ يَمَسَّهَا .
রেওয়ায়ত ২৬. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলিতেনঃ কোন ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী থাকিলে অতঃপর সেই ক্রীতদাসীকে (মালিক কর্তৃক) আযাদ করা হইলে তবে স্বামী তাহার সহিত সহবাস না করা পর্যন্ত (বিবাহে থাকা না থাকার ব্যাপারে) ক্রীতদাসীর ইখতিয়ার থাকিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি তাহার স্বামী তাহার সহিত সহবাস করার পরে সে ধারণা করে যে, ইখতিয়ারের সম্পর্কে সে অজ্ঞ ছিল তবে তাহাকে সত্যবাদিনী মনে করা হইবে না, তাহার অজ্ঞতার দাবি গ্রহণযোগ্য হইবে না, সহবাসের পর তাহার ইখতিয়ারও অবশিষ্ট থাকিবে না।
৩২
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮১
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ مَوْلاَةً، لِبَنِي عَدِيٍّ يُقَالُ لَهَا زَبْرَاءُ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عَبْدٍ وَهِيَ أَمَةٌ يَوْمَئِذٍ فَعَتَقَتْ قَالَتْ فَأَرْسَلَتْ إِلَىَّ حَفْصَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَدَعَتْنِي فَقَالَتْ إِنِّي مُخْبِرَتُكِ خَبَرًا وَلاَ أُحِبُّ أَنْ تَصْنَعِي شَيْئًا إِنَّ أَمْرَكِ بِيَدِكِ مَا لَمْ يَمْسَسْكِ زَوْجُكِ فَإِنْ مَسَّكِ فَلَيْسَ لَكِ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ . قَالَتْ فَقُلْتُ هُوَ الطَّلاَقُ ثُمَّ الطَّلاَقُ ثُمَّ الطَّلاَقُ . فَفَارَقَتْهُ ثَلاَثًا .
রেওয়ায়ত ২৭. উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) হইতে বর্ণিত, বনী আদী (بنى عدى) কর্তৃক আযাদীপ্রাপ্ত জনৈক ক্রীতদাসী যাহার নাম যাবরা ছিল, সে উরওয়া ইবন যুবায়রের নিকট ব্যক্ত করিয়াছে যে, সে জনৈক ক্রীতদাসের স্ত্রী ছিল তখন সে (নিজেও) ক্রীতদাসী ছিল। পরে তাহাকে মুক্তি প্রদান করা হয়। সে বলিল, অতঃপর নবীপত্নী হাফসা (রাঃ) আমাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন এবং বলিলেনঃ আমি তোমাকে একটি সংবাদ বলিব, তুমি তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত নিবে তাহা আমি পছন্দ করি না। তোমার স্বামী তোমার সাথে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত তোমার অধিকার তোমারই উপর ন্যস্ত থাকিবে। তবে তোমার স্বামী তোমার সহিত মিলিত হইলে তোমার কোন অধিকার থাকিবে না। সে বলিল, ইহার উত্তরে আমি বলিলাম, আমি তাহাকে তালাক দিলাম, পুনরায় তালাক, পুনরায় তালাক, তাহাকে তিন তালাক দিয়া পরিত্যাগ করিল।
৩৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮২
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَبِهِ جُنُونٌ أَوْ ضَرَرٌ فَإِنَّهَا تُخَيَّرُ فَإِنْ شَاءَتْ قَرَّتْ وَإِنْ شَاءَتْ فَارَقَتْ . قَالَ مَالِكٌ فِي الأَمَةِ تَكُونُ تَحْتَ الْعَبْدِ ثُمَّ تَعْتِقُ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا أَوْ يَمَسَّهَا إِنَّهَا إِنِ اخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَلاَ صَدَاقَ لَهَا وَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَذَلِكَ الأَمْرُ عِنْدَنَا .
রেওয়ায়ত ২৯. মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাসী কোন ক্রীতদাসের অধীনে থাকা অবস্থায় তাহার সঙ্গে সঙ্গম বা তাহাকে স্পর্শ করার পূর্বে স্বাধীন হইয়া যায় এবং নিজের স্বাধীন অধিকার নিজে গ্রহণ করিয়া লয় তবে সে মোহর পাইবে না। আর ইহা এক তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। মাসয়ালা আমাদের নিকটও তাহাই।
৩৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ إِذَا خَيَّرَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ فَاخْتَارَتْهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلاَقٍ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ . قَالَ مَالِكٌ فِي الْمُخَيَّرَةِ إِذَا خَيَّرَهَا زَوْجُهَا فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَقَدْ طَلُقَتْ ثَلاَثًا وَإِنْ قَالَ زَوْجُهَا لَمْ أُخَيِّرْكِ إِلاَّ وَاحِدَةً فَلَيْسَ لَهُ ذَلِكَ . وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُهُ . قَالَ مَالِكٌ وَإِنْ خَيَّرَهَا فَقَالَتْ قَدْ قَبِلْتُ وَاحِدَةً وَقَالَ لَمْ أُرِدْ هَذَا وَإِنَّمَا خَيَّرْتُكِ فِي الثَّلاَثِ جَمِيعًا أَنَّهَا إِنْ لَمْ تَقْبَلْ إِلاَّ وَاحِدَةً أَقَامَتْ عِنْدَهُ عَلَى نِكَاحِهَا وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِرَاقًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى .
রেওয়ায়ত ৩০. মালিক (রহঃ) ইবন শিহাব (রহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন যে, যখন কোন পুরুষ তাহার স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে এবং স্ত্রী নিজেকেই গ্রহণ করে তাহা হইলে ইহা তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই উত্তম। মালিক (রহঃ) অধিকার প্রাপ্ত মহিলা সম্পর্কে বলেনঃ যখন কোন মহিলাকে তাহার স্বামী অধিকার প্রদান করে, অতঃপর সেই স্ত্রী নিজ সত্তাকেই গ্রহণ করে তাহা হইলে ইহা তিন তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। আর যদি স্বামী বলে যে, তোমাকে শুধুমাত্র এক তালাকের অধিকার প্রদান করিতেছি, তবে এইরূপ কথা বলার অধিকার স্বামীর নাই। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহাই উত্তম এই ব্যাপারে যাহা আমি শুনিয়াছি। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি স্ত্রীকে অধিকার প্রদান করে, অতঃপর স্ত্রী বলিল, আমি এক তালাক গ্রহণ করিলাম এবং স্বামী বলিলঃ আমি এইরূপ ইচ্ছা করি নাই স্বরং আমি তোমাকে পূর্ণ তিন তালাকের অধিকার প্রদান করিয়াছি। স্ত্রী যদি এক তালাক ব্যতীত গ্রহণ না করে তবে সে এই স্বামীর বিবাহে থাকিবে। এই অবস্থায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিবে না।
৩৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ عَنْ حَبِيبَةَ بِنْتِ سَهْلٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الصُّبْحِ فَوَجَدَ حَبِيبَةَ بِنْتَ سَهْلٍ عِنْدَ بَابِهِ فِي الْغَلَسِ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ هَذِهِ " . فَقَالَتْ أَنَا حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " مَا شَأْنُكِ " . قَالَتْ لاَ أَنَا وَلاَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ . لِزَوْجِهَا فَلَمَّا جَاءَ زَوْجُهَا ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذِهِ حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ قَدْ ذَكَرَتْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَذْكُرَ " . فَقَالَتْ حَبِيبَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُلُّ مَا أَعْطَانِي عِنْدِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ " خُذْ مِنْهَا " . فَأَخَذَ مِنْهَا وَجَلَسَتْ فِي بَيْتِ أَهْلِهَا .
রেওয়ায়ত ৩১. হাবীব বিনত সাহল আনসারী (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি সাবিত ইবন কায়স ইবন সাম্মাসের স্ত্রী ছিলেন। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের জন্য বাহির হইলেন। এমন সময় হাবীবা বিনত সাহালকে প্রভাতে আপন গৃহের দ্বারে উপস্থিত পাইলেন। রাসূলুল্লাৰ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, কে হে? তিনি বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হাবীবা বিনত সাহল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ কি ব্যাপার তোমার? তিনি বলিলেনঃ আমি আর আমার স্বামী সাবিত ইবন কায়স-এর সঙ্গে একত্রে থাকিতে চাহি না। তাহার স্বামী সাবিত ইবন কায়স আসিলে পর রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে বলিলেনঃ হাবীব বিনত সাহল আল্লাহর ইচ্ছায় তোমার বিষয়ে যাহা বলার বলিয়াছে। হাবীবা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে যাহা আমাকে দিয়াছে উহা আমার নিকট রহিয়াছে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবিতকে উদ্দেশ করিয়া বলিলেনঃ হাবীবা হইতে (বাগান) গ্রহণ কর। সে তাহার নিকট হইতে উহা গ্রহণ করিল এবং হাবীবা তাহার পরিজনের নিকট চলিয়া গেলেন।
৩৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮৫
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ مَوْلاَةٍ، لِصَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ . أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا بِكُلِّ شَىْءٍ لَهَا فَلَمْ يُنْكِرْ ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ . قَالَ مَالِكٌ فِي الْمُفْتَدِيَةِ الَّتِي تَفْتَدِي مِنْ زَوْجِهَا أَنَّهُ إِذَا عُلِمَ أَنَّ زَوْجَهَا أَضَرَّ بِهَا وَضَيَّقَ عَلَيْهَا وَعُلِمَ أَنَّهُ ظَالِمٌ لَهَا مَضَى الطَّلاَقُ وَرَدَّ عَلَيْهَا مَالَهَا . قَالَ فَهَذَا الَّذِي كُنْتُ أَسْمَعُ وَالَّذِي عَلَيْهِ أَمْرُ النَّاسِ عِنْدَنَا . قَالَ مَالِكٌ لاَ بَأْسَ بِأَنْ تَفْتَدِيَ الْمَرْأَةُ مِنْ زَوْجِهَا بِأَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهَا .
রেওয়ায়ত ৩২. সাফিয়্যা বিনত আবু উবাইদ-এর জনৈকা ক্রীতদাসী যাহাকে মুক্তি দেওয়া হইয়াছে, সে তাহার স্বামী হইতে (খুলা) বিচ্ছেদ গ্রহণ করিয়াছে। তাহার নিকট যে সম্পদ ছিল উহার বিনিময়ে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) ইহার প্রতি অস্বীকৃতি জানাইলেন না। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রী (বিচ্ছেদের বিনিময়ে) স্বামীকে মাল প্রদান করিয়াছে, যদি প্রকাশ পায় যে, স্বামী তাহার ক্ষতি সাধন করিয়াছে এবং (দুর্ব্যবহার করিয়া মাল প্রদানে) তাহাকে বাধ্য করিয়াছে। এবং আরও প্রকাশিত হয় যে, সে স্ত্রীর প্রতি জুলুমকারী ছিল, তবে তালাক প্রযোজ্য হইবে এবং স্ত্রীর মাল স্ত্রীকে ফেরত দেওয়া হইবে। মালিক (রহঃ) বলেন, ইহা আমি শুনিয়াছি, আমাদের মতে ইহাই লোকের মধ্যে প্রচলিত নিয়ম। মালিক (রহঃ)-এর মতে স্বামী যাহা দিয়াছে তাহা হইতে অধিক মাল বিচ্ছেদের ফিদয়া স্বরূপ স্ত্রী কর্তৃক প্রদান করিতে কোন ক্ষতি নাই।
৩৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮৬
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رُبَيِّعَ بِنْتَ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، جَاءَتْ هِيَ وَعَمُّهَا إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا فِي زَمَانِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَبَلَغَ ذَلِكَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فَلَمْ يُنْكِرْهُ . وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عِدَّتُهَا عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ .
ইয়াহিয়া আমাকে মালিক থেকে নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন যে রুবাইয়ি বিনতে মুয়াবিদ ইবনে আফরা তার চাচাকে নিয়ে আবদুল্লাহ ইবনে উমরের কাছে এসেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন যে তিনি উসমান ইবনে আফফানের সময়ে ক্ষতিপূরণের জন্য তার স্বামীকে তালাক দিয়েছিলেন এবং তিনি এটি শুনেছিলেন এবং অস্বীকার করেননি। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, তার ইদ্দা হল তালাকপ্রাপ্তা মহিলার ইদ্দা
৩৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ، وَابْنَ، شِهَابٍ كَانُوا يَقُولُونَ عِدَّةُ الْمُخْتَلِعَةِ مِثْلُ عِدَّةِ الْمُطَلَّقَةِ ثَلاَثَةُ قُرُوءٍ . قَالَ مَالِكٌ فِي الْمُفْتَدِيَةِ إِنَّهَا لاَ تَرْجِعُ إِلَى زَوْجِهَا إِلاَّ بِنِكَاحٍ جَدِيدٍ فَإِنْ هُوَ نَكَحَهَا فَفَارَقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا عِدَّةٌ مِنَ الطَّلاَقِ الآخَرِ وَتَبْنِي عَلَى عِدَّتِهَا الأُولَى . قَالَ مَالِكٌ وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ إِذَا افْتَدَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ زَوْجِهَا بِشَىْءٍ عَلَى أَنْ يُطَلِّقَهَا فَطَلَّقَهَا طَلاَقًا مُتَتَابِعًا نَسَقًا فَذَلِكَ ثَابِتٌ عَلَيْهِ فَإِنْ كَانَ بَيْنَ ذَلِكَ صُمَاتٌ فَمَا أَتْبَعَهُ بَعْدَ الصُّمَاتِ فَلَيْسَ بِشَىْءٍ .
রেওয়ায়ত ৩৩. নাফি' (রহঃ) হইতে বর্ণিত, রুবাইয়ে বিনত মুয়াব্বিয ইবন আফরা (রাঃ) তাহার ফুফুসহ আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) সমীপে উপস্থিত হইলেন এবং তাহাকে জ্ঞাত করিলেন যে, তিনি তাহার স্বামীর নিকট হইতে খুলা তালাক গ্রহণ করিয়াছেন। উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর খিলাফতকালে উসমান ইবন আফফান (রাঃ) উহা অবগত হইলেন এবং উহা বহাল রাখিলেন। আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রাঃ) বলিলেনঃ খুলা গ্রহণ করিবার ইদ্দত তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীলোকের ইদ্দতের মতো। মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব, সুলায়মান ইবন ইয়াসার ও ইবন শিহাব (রহঃ) তাহারা সকলেই বলিতেনঃ খুলা' তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীলোকের ইদ্দত তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীলোকের মতো তিন ঋতু। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রীলোক মালের বিনিময়ে তালাক গ্রহণ করিয়াছে, সে নূতন বিবাহ ছাড়া স্বামীর নিকট যাইবে না। যদি স্বামী সেই স্ত্রীলোককে বিবাহ করে এবং স্পর্শ করার পূর্বে তালাক প্রদান করে তবে স্ত্রীলোকের জন্য পরবর্তী তালাকের ইদ্দত পালন করিতে হইবে না। প্রথম তালাকের ইদ্দতের সময় পূর্ণ করিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে যাহা আমি শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই সর্বোত্তম। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে স্ত্রী স্বামীকে এই শর্তে মাল প্রদান করিল যে, সে তাহাকে তালাক দিবে; অতঃপর সে একাধারে (তিন তালাক) প্রয়োগ করিল, তবে এই সব তালাকই প্রযোজ্য হইবে। আর যদি তালাকের মাঝখানে নীরবতা পাওয়া যায়, তবে নীরবতার পর যেই তালাক দিয়াছে উহা গ্রহণযোগ্য হইবে না।
৩৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮৮
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُوَيْمِرًا الْعَجْلاَنِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ الأَنْصَارِيِّ فَقَالَ لَهُ يَا عَاصِمُ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ سَلْ لِي يَا عَاصِمُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ جَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَاصِمٌ لِعُوَيْمِرٍ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْأَلَةَ الَّتِي سَأَلْتُهُ عَنْهَا . فَقَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَهُ عَنْهَا . فَأَقْبَلَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسْطَ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أُنْزِلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا " . قَالَ سَهْلٌ فَتَلاَعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ تَلاَعُنِهِمَا قَالَ عُوَيْمِرٌ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا . فَطَلَّقَهَا ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللَّهِ . وَقَالَ مَالِكٌ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَتْ تِلْكَ بَعْدُ سُنَّةَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ .
রেওয়ায়ত ৩৪. আসিম ইবন আদী আনসার (রাঃ)-এর নিকট ওয়াইমির আজলানী (রাঃ) আগমন করিলেন এবং তাহাকে বললেনঃ হে আসিম! এক ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত ভিন্ন ব্যক্তিকে (অবৈধ কর্মে লিপ্ত) পাইল। সে ঐ ব্যক্তিকে বধ করিবে কি? যাহার ফলে প্রতিশোধ স্বরূপ (কিসাস) নিহত ব্যক্তির সম্প্রদায়ের লোকেরা তাহাকে হত্যা করিবে অথবা অন্য কিরূপ করিবে? হে আসিম; আপনি এই বিষয়ে আমার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট প্রশ্ন করুন। আসিম এই ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সকল প্রশ্নকে অপছন্দ করিলেন এবং তজ্জন্য তাহাকে তিরস্কার করিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে যাহা শুনিলেন উহা আসিমের নিকট অতি ভারী মনে হইল। আসিম যখন পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করিলেন, তাহার নিকট তখন উওয়াইমির উপস্থিত হইলেন এবং বলিলেন, হে আসিম! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে কি বলিয়াছেন? আসিম বলিলেনঃ আপনি আমার নিকট কোন ভাল বিষয় নিয়া আসেন নাই। আমি যে মাসআলার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম না পছন্দ করিয়াছেন। উওয়াইমির বলিলেনঃ এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে প্রশ্ন না করিয়া আমি ক্ষান্ত হইব না। তারপর উওয়াইমির অগ্রসর হইলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমীপে উপস্থিত হইলেন এবং লোকের মাঝখানে আসন গ্রহণ করিলেন। তারপর বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি কি হুকুম দেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি তাহার স্ত্রীর সহিত অন্য লোককে দেখিতে পাইল, সে কি উক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করিবে? ফলে, কিসাসস্বরূপ লোকেরা তাহাকেও হত্যা করিবে? অথবা সে ব্যক্তি অন্য কিরূপ করিবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেনঃ তোমার এবং তোমার স্ত্রীর বিষয়ে আয়াত নাযিল হইয়াছে, তুমি যাও তাহাকে নিয়া আস। সাহল বলেনঃ তারপর তাহারা উভয়ে লি’আন করিল, অন্য লোকজনের সাথে আমিও তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম। তাহারা উভয়ে লি'আন হইতে অবসর গ্রহণ করার পর উওয়াইমির বলিলেন, এই ঘটনার পর যদি আমি এই স্ত্রীকে রাখি তবে আমি তাহার সম্বন্ধে মিথ্যাবাদী বলিয়া গণ্য হইব। তারপর স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে কোন নির্দেশ দেওয়ার পূর্বে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেন, এই ঘটনার পর লি'আনকারীদের জন্য এক হুকুম নির্ধারিত রহিয়াছে।
৪০
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৮৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، لاَعَنَ امْرَأَتَهُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَانْتَفَلَ مِنْ وَلَدِهَا فَفَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْمَرْأَةِ .
ইয়াহইয়া আমার কাছে মালেক থেকে নাফিক থেকে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তার স্ত্রীকে অভিসম্পাত করেছিল এবং তার সন্তানকে অস্বীকার করেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের আলাদা করে দিলেন এবং শিশুটিকে মহিলাকে দিয়ে দিলেন। মালেক বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, 'যে সব পুরুষ তাদের স্ত্রীদেরকে অভিযুক্ত করে কিন্তু নিজেরা ছাড়া আর কোনো সাক্ষী নেই তাদের সাক্ষ্য হল আল্লাহর কাছে চারবার সাক্ষ্য দেওয়া যে সে সত্যবাদী, এবং পঞ্চমবার যে, তার উপর আল্লাহর অভিশাপ হবে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়। সে শাস্তি এড়াবে যদি সে চারবার মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় এবং চারবার মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়। তার উপর আল্লাহর গজব হবে, যদি সে সত্য বলে।'' (সূরা ২৪ আয়াত ৬) মালেক বলেন, "আমাদের কাছে সুন্নাহ হল যে, যারা একে অপরকে অভিশাপ দেয়, তাদের কখনোই পুনরায় বিয়ে করা যাবে না। যদি লোকটি নিজেকে মিথ্যাবাদী বলে, (অর্থাৎ তার অভিযোগ ফিরিয়ে নেয়), তাহলে তাকে বেত্রাঘাত করা হয়, এবং তাকে সন্তান দেওয়া হয়, এবং তার স্ত্রী তার কাছে ফিরে যেতে পারে না। আমাদের মধ্যে এই সুন্নত সম্পর্কে কোন সন্দেহ বা বিরোধ নেই।" মালিকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন একজন ব্যক্তি বলেছেন, "মালিক তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। বিবাহবিচ্ছেদ যার দ্বারা সে তার কাছে ফিরে যেতে পারে না, এবং তারপর সে যে সন্তানকে বহন করছে তার পিতৃত্বকে অস্বীকার করে, যখন সে দাবি করে যে সে পিতা, এবং সময় অনুসারে এটি সম্ভব যে সে এমন হবে, তাকে অবশ্যই তাকে অভিশাপ দিতে হবে এবং শিশুটি তার হিসাবে স্বীকৃত হবে না।" মালেক বললেন, আমাদের মধ্যে তাই করা হয় এবং আমি জ্ঞানীদের কাছ থেকে শুনেছি। মালিক বলেছেন যে একজন ব্যক্তি যে তার স্ত্রীকে গর্ভবতী অবস্থায় তিনবার তালাক দেওয়ার পরে তাকে অভিযুক্ত করেছিল এবং সে প্রথমে বাবা হিসাবে স্বীকার করেছিল কিন্তু পরে দাবি করেছিল যে সে তার থেকে আলাদা হওয়ার আগে তাকে ব্যভিচার করতে দেখেছিল, তাকে বেত্রাঘাত করা হয়েছিল এবং তাকে অভিশাপ দেয়নি। যদি সে তার সন্তানকে তিনবার তালাক দেওয়ার পর তার পিতৃত্ব অস্বীকার করে এবং সে আগে তা গ্রহণ না করে, তাহলে সে তাকে অভিশাপ দেয়। মালিক বললেন, আমি যা শুনেছি তাই। মালিক বলেন, "অভিযোগ করা এবং পারস্পরিক অভিশাপ (লিয়ান) আহ্বান করার ক্ষেত্রে ক্রীতদাস স্বাধীন ব্যক্তির মতো একই অবস্থানে রয়েছে। সে লিয়ানে কাজ করে যেভাবে স্বাধীন পুরুষ কাজ করে যদিও নারী-দাসীকে অপবাদ দেওয়ার জন্য কোন হাদ প্রয়োগ করা হয়নি।" মালিক বলেন, "মুসলিম ক্রীতদাসী এবং খ্রিস্টান ও ইহুদি স্বাধীন মহিলারাও লিয়্যান করে যখন একজন স্বাধীন মুসলিম তাদের একজনকে বিয়ে করে এবং তার সাথে সহবাস করে। এর কারণ হল আল্লাহ - তিনি বরকতময় ও মহান তিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন, 'যারা তাদের স্ত্রীদেরকে দোষারোপ করে,' এবং তারা তাদের স্ত্রীদের জন্য যা বলেছিল যে মালিক তার স্ত্রীর সাথে এটিই করেছে। এবং তারপর থেমে গেল এবং এক বা দুই শপথের পর নিজেকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং পঞ্চমটিতে সে নিজেকে অভিশাপ দেয়নি, তাকে বেত্রাঘাত করতে হয়েছিল, তবে তাদের বিচ্ছেদ করতে হবে না মালিক বললেন যে, যদি একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দেয় এবং তারপরে তিন মাস পর মহিলাটি বলে যে, "আমি গর্ভবতী" এবং সে স্বামীকে অস্বীকার করেছিল যে সে মালিকের স্ত্রীকে বিয়ে করেছে তার উপর লিয়ন করা এবং তারপর তাকে কেনা, তার সাথে সঙ্গম করা উচিত নয়, যদিও সে তার মালিক ছিল এমন একটি দম্পতি যা পরস্পরকে লিয়ানে অভিশাপ দিয়েছিল তা হল যে তারা কখনই একে অপরের কাছে ফিরে আসবে না যে, যখন একজন পুরুষ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহের আগে তার মূল্য অর্ধেক ছিল।
৪১
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯০
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، كَانَ يَقُولُ فِي وَلَدِ الْمُلاَعَنَةِ وَوَلَدِ الزِّنَا أَنَّهُ إِذَا مَاتَ وَرِثَتْهُ أُمُّهُ حَقَّهَا فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى وَإِخْوَتُهُ لأُمِّهِ حُقُوقَهُمْ وَيَرِثُ الْبَقِيَّةَ مَوَالِي أُمِّهِ إِنْ كَانَتْ مَوْلاَةً وَإِنْ كَانَتْ عَرَبِيَّةً وَرِثَتْ حَقَّهَا وَوَرِثَ إِخْوَتُهُ لأُمِّهِ حُقُوقَهُمْ وَكَانَ مَا بَقِيَ لِلْمُسْلِمِينَ . قَالَ مَالِكٌ وَبَلَغَنِي عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، مِثْلُ ذَلِكَ . وَعَلَى ذَلِكَ أَدْرَكْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا
রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তাঁহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, যে স্ত্রীলোক ও তাহার স্বামীর মধ্যে লি'আন অনুষ্ঠিত হইয়াছে সেই স্ত্রীলোকের সন্তান এবং জারজ সন্তানের ব্যাপারে উরওয়া ইবন যুবায়র (রহঃ) বলিতেনঃ সেই সন্তানের মৃত্যু হইলে তাহার মাতা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তাহার নির্ধারিত অংশ পাইবে এবং তাহার ভগ্নিগণও তাহাদের অংশ পাইবে। অবশিষ্ট যাহা থাকে তাহা পাইবে তাহার জননীকে যে আযাদ করিয়াছে সে, যদি সে আযাদ স্ত্রীলোক হয়। আর যদি সে স্ত্রীলোক আরবী (আযাদ) হয় তবে সে তাহার অংশ পাইবে। এবং তাহার ভগ্নিগণও তাহদের অংশ পাইবে। অবশিষ্ট মাল মুসলিমদের কল্যাণের জন্যে (বায়তুলমালে) থাকিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ সুলায়মান ইবন ইয়াসারের নিকট হইতেও আমার নিকট অনুরূপ রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমাদের শহরবাসী আলিমগণকেও আমি এই ফায়সালার উপর পাইয়াছি।
৪২
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯১
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُوَيْمِرًا الْعَجْلاَنِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ الأَنْصَارِيِّ فَقَالَ لَهُ يَا عَاصِمُ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ سَلْ لِي يَا عَاصِمُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ جَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَاصِمٌ لِعُوَيْمِرٍ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْأَلَةَ الَّتِي سَأَلْتُهُ عَنْهَا . فَقَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَهُ عَنْهَا . فَأَقْبَلَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسْطَ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
" قَدْ أُنْزِلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا " . قَالَ سَهْلٌ فَتَلاَعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ تَلاَعُنِهِمَا قَالَ عُوَيْمِرٌ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا . فَطَلَّقَهَا ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللَّهِ . وَقَالَ مَالِكٌ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَتْ تِلْكَ بَعْدُ سُنَّةَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ .
" قَدْ أُنْزِلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا " . قَالَ سَهْلٌ فَتَلاَعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ تَلاَعُنِهِمَا قَالَ عُوَيْمِرٌ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا . فَطَلَّقَهَا ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللَّهِ . وَقَالَ مَالِكٌ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَتْ تِلْكَ بَعْدُ سُنَّةَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ .
ইয়াহিয়া আমাকে বলেছেন, মালিকের সূত্রে, ইবনে শিহাবের সূত্রে, সাহল ইবনে সাদ আল-সাঈদী তাকে জানিয়েছেন যে উওয়াইমির আল আজলানি আসিম ইবনে উদয় আল আনসারীর কাছে এসে তাকে বললেন: হে আসিম, তুমি কি এমন একজনকে দেখেছ যে তার স্ত্রীর সাথে একজন পুরুষকে পেয়েছে? তার কি তাকে হত্যা করা উচিত এবং আপনার তাকে হত্যা করা উচিত, না সে এটি কীভাবে করবে? আমাকে জিজ্ঞেস কর, হে অসীম। এ বিষয়ে আল্লাহর রসূল, আল্লাহর দোয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক। আসিম আল্লাহর রসূলকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। আল্লাহ্র রসূল, আল্লাহ্র দোয়া ও সালাম তাঁর উপর অহংকারী হওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলো অপছন্দ করতেন এবং তাকে তিরস্কার করতেন। আসিম আল্লাহ্র রসূল থেকে শুনতে পাননি, আল্লাহ্ তাঁর উপর বরকত বর্ষণ করুন। আসিম যখন তার পরিবারের কাছে ফিরে এলেন, তখন উওয়াইমার তার কাছে এসে বললেন, হে আসিম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে কি বলেছেন? আসিম উওয়াইমিরকে বললেন, "তুমি আমার কাছে ভালো কিছু নিয়ে এসেছ না। আমি তাকে যে প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেছি তা আল্লাহর রসূল তাকে ঘৃণা করেন।" উওয়াইমির বললেন, আল্লাহর কসম, যতক্ষণ না আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব ততক্ষণ আমি শেষ করব না। তাই উওয়াইমির চলতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসেন। তিনি লোকদের সালাম দিয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি এমন একজনকে দেখেছেন যে একজন পুরুষকে তার স্ত্রীর সাথে পেয়েছে? তার কি তাকে মেরে ফেলা উচিত এবং আপনি তাকে হত্যা করবেন বা কিভাবে করবেন? তাই আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তাঁর উপর বরকত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে শান্তি বর্ষিত করুন: “এটি আপনার এবং আপনার সঙ্গী সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং যাও এবং এটি নিয়ে আস। সাহল (রাঃ) বলেন, আমি যখন রাসূলের বাড়িতে ছিলাম তখন আমরা প্রেমে পড়েছিলাম। খোদা, আল্লাহর দোয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, এবং যখন তারা অভিশাপ দেওয়া শেষ করল, তখন উওয়াইমার বললেন, "আমি তাকে মিথ্যা বলেছি, হে আল্লাহর রসূল, যদি আমি তাকে ধরতে পারি।" তাই এর আগে তিনি তাকে তিনবার তালাক দিয়েছিলেন। আল্লাহর রাসূল তাকে আদেশ করেন। মালিক বলেন, ইবনে শিহাব বলেছেন, "এটি ছিল আল-মুত্তালামিনীনের সুন্নাতের পর।"
৪৩
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯২
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِيَاسِ بْنِ الْبُكَيْرِ، أَنَّهُ قَالَ طَلَّقَ رَجُلٌ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يَنْكِحَهَا فَجَاءَ يَسْتَفْتِي فَذَهَبْتُ مَعَهُ أَسْأَلُ لَهُ فَسَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالاَ لاَ نَرَى أَنْ تَنْكِحَهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَكَ . قَالَ فَإِنَّمَا طَلاَقِي إِيَّاهَا وَاحِدَةٌ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ إِنَّكَ أَرْسَلْتَ مِنْ يَدِكَ مَا كَانَ لَكَ مِنْ فَضْلٍ .
রেওয়ায়ত ৩৭. মুহাম্মদ ইবন ইয়াস ইবন বুকাইর (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়াছে, তারপর সেই স্ত্রীকে সে বিবাহ করার ইচ্ছা করিল। তাই সে ফতোয় জিজ্ঞাসা করিতে আসিল। ফতোয়া জিজ্ঞাসা করার জন্য আমিও তাহার সহিত গমন করিলাম। অতঃপর এই বিষয়ে আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট সে জিজ্ঞাসা করিল। তাহারা উভয়ে বলিলেনঃ তোমার জন্য উহাকে বিবাহ করার কোন পথ দেখি না, যতক্ষণ না তুমি ছাড়া অন্য স্বামীর পাণি সে গ্রহণ করে। সে বলিলঃ আমি উহাকে একত্রে তিন তালাক দিয়াছি। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলিলেন, তোমার হাতে এই ব্যাপারে যতদূর ক্ষমতা ছিল তুমি উহা পূর্ণভাবে প্রয়োগ করিয়া ফেলিয়াছ।
৪৪
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯৩
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ يَسْأَلُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا قَالَ عَطَاءٌ فَقُلْتُ إِنَّمَا طَلاَقُ الْبِكْرِ وَاحِدَةٌ . فَقَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ إِنَّمَا أَنْتَ قَاصٌّ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلاَثَةُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ .
রেওয়ায়ত ৩৮. আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রাঃ) এর নিকট এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করিতে আসিল, যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বে তিন তালাক দিয়াছে। আতা বলিলেন, কুমারীর জন্য হইতেছে এক তালাক। তখন আবদুল্লাহ্ ইবন আমর আমাকে বলিলঃ তুমি তো হইলে একজন বক্তা (ফতোয়া দেওয়া তোমার কাজ নহে)। এক তালাক তাহাকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাহাকে হারাম করিবে যাবৎ সে (স্ত্রী) অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।
৪৫
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯৪
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ وَعَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ فَجَاءَهُمَا مُحَمَّدُ بْنُ إِيَاسِ بْنِ الْبُكَيْرِ فَقَالَ إِنَّ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَمَاذَا تَرَيَانِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ إِنَّ هَذَا الأَمْرَ مَا لَنَا فِيهِ قَوْلٌ فَاذْهَبْ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ فَإِنِّي تَرَكْتُهُمَا عِنْدَ عَائِشَةَ فَسَلْهُمَا ثُمَّ ائْتِنَا فَأَخْبِرْنَا . فَذَهَبَ فَسَأَلَهُمَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لأَبِي هُرَيْرَةَ أَفْتِهِ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَدْ جَاءَتْكَ مُعْضِلَةٌ . فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلاَثَةُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ . وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ مِثْلَ ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ وَعَلَى ذَلِكَ الأَمْرُ عِنْدَنَا وَالثَّيِّبُ إِذَا مَلَكَهَا الرَّجُلُ فَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا إِنَّهَا تَجْرِي مَجْرَى الْبِكْرِ الْوَاحِدَةُ تُبِينُهَا وَالثَّلاَثُ تُحَرِّمُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ .
রেওয়ায়ত ৩৯. মু'আবিয়া ইবন আবি আইয়াশ আনসারী (রাঃ) আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) ও আসিম ইবন উমর (রাঃ)-এর সহিত বসা ছিলেন। এমন সময় তাহদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইয়াস ইবন বুকাইর উপস্থিত হইলেন এবং বলিলেনঃ এক বেদুঈন ব্যক্তি তাহার স্ত্রীকে সঙ্গমের পূর্বে তিন তালাক দিয়াছে সেই ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি? আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র বলিলেনঃ এই বিষয়ে আমাদের নিকট কোন রেওয়ায়ত পৌছে নাই, তাই তুমি আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাঃ)-র নিকট গমন কর এবং তাঁহাদের উভয়ের নিকট প্রশ্ন কর। আমি তাহদের উভয়কে আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ)-র নিকট দেখিয়া আসিয়াছি। তাহাদের নিকট হইতে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করার পর আমার কাছে আসিয়া বলিয়া যাইবে। মুহাম্মদ ইবন ইয়াস সেখানে গেলেন এবং উভয়কে প্রশ্ন করিলেন। ইবন আব্বাস আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে বলিলেন, হে আবূ হুরায়রা! আপনি ফতোয়া বলুন। আপনার নিকট কঠিন মাসআলা উপস্থিত হইয়াছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেনঃ এক তালাক স্ত্রীকে স্বামী হইতে পৃথক করিবে (বিচ্ছেদ ঘটাইবে), তিন তালাক তাহাকে হারাম করিয়া দিবে যাবৎ সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে। ইবন আব্বাসও অনুরূপ বলিলেন। মালিক (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তও অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ অকুমারী (ثيبة) নারীর কেহ মালিক হইলে এবং উহার সহিত সংগত না হইলে তবে তালাকের ব্যাপারে তাহারও কুমারীর মতো মাসআলা হইবে। এক তালাক তাহাকে পৃথক করিবে এবং তিন তালাক তাহাকে হারাম করিবে যাবৎ সে অন্য স্বামীর পাণি গ্রহণ না করে।
৪৬
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ، - قَالَ وَكَانَ أَعْلَمَهُمْ بِذَلِكَ - وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ وَهُوَ مَرِيضٌ فَوَرَّثَهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ مِنْهُ بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهَا .
রেওয়ায়ত ৪০. আবু সালমা ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাঃ) হইতে বর্ণিত, আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) তাঁহার স্ত্রীকে আল-বাত্তা (পূর্ণ) তালাক প্রদান করিলেন। তখন তিনি পীড়িত ছিলেন। সেই স্ত্রীকে উসমান (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন আওফের সম্পদ হইতে মীরাস দিলেন ইদ্দত সমাপ্তির পর।
৪৭
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯৬
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنِ الأَعْرَجِ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، وَرَّثَ نِسَاءَ ابْنِ مُكْمِلٍ مِنْهُ وَكَانَ طَلَّقَهُنَّ وَهُوَ مَرِيضٌ .
রেওয়ায়ত ৪১. আরজ (রহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবন মুকমিলের পত্নীগণকে তাহার সম্পত্তি হইতে উসমান ইবন আফফান (রাঃ) মীরাস দিয়াছেন ইবন- মুকমিল? উহাদিগকে তালাক দিয়াছিলেন পীড়িত অবস্থায়।
৪৮
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯৭
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ رَبِيعَةَ بْنَ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، يَقُولُ بَلَغَنِي أَنَّ امْرَأَةَ، عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ سَأَلَتْهُ أَنْ يُطَلِّقَهَا فَقَالَ إِذَا حِضْتِ ثُمَّ طَهُرْتِ فَآذِنِينِي فَلَمْ تَحِضْ حَتَّى مَرِضَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فَلَمَّا طَهُرَتْ آذَنَتْهُ فَطَلَّقَهَا الْبَتَّةَ أَوْ تَطْلِيقَةً لَمْ يَكُنْ بَقِيَ لَهُ عَلَيْهَا مِنَ الطَّلاَقِ غَيْرُهَا وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ يَوْمَئِذٍ مَرِيضٌ فَوَرَّثَهَا عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ مِنْهُ بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهَا .
রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি রবী"আ ইবন আবী আবদির রহমানকে বলিতে শুনিয়াছেন, তিনি বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, ‘আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-এর এক স্ত্রী তাহার নিকট তালাক চাহিলেন। তিনি বলেনঃ তোমার মাসিক ঋতুর পর তুমি যখন পবিত্র হও তখন আমাকে অবগত করিও। তাহার ঋতু আসার পূর্বে আবদুর রহমান ইবন আওফ অসুস্থ হইয়া পড়িলেন। সে যখন ঋতু হইতে পবিত্র হইল তখন আবদুর রহমান ইবন আওফকে খবর দিল। তিনি স্ত্রীকে আল-বাত্তা তালাক দিলেন অথবা এমন তালাক দিলেন যেই তালাক দেওয়ার পরে আর কোন তালাক দেওয়ার অবকাশ থাকে না। ‘আবদুর রহমান ইবন আওফ তখন পীড়িত ছিলেন। অতঃপর ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর উসমান (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন আওফের সম্পদ হইতে স্ত্রীকে মীরাস দিলেন।
৪৯
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯৮
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، قَالَ كَانَتْ عِنْدَ جَدِّي حَبَّانَ امْرَأَتَانِ هَاشِمِيَّةٌ وَأَنْصَارِيَّةٌ فَطَلَّقَ الأَنْصَارِيَّةَ وَهِيَ تُرْضِعُ فَمَرَّتْ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ هَلَكَ عَنْهَا وَلَمْ تَحِضْ فَقَالَتْ أَنَا أَرِثُهُ لَمْ أَحِضْ فَاخْتَصَمَتَا إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَقَضَى لَهَا بِالْمِيرَاثِ فَلاَمَتِ الْهَاشِمِيَّةُ عُثْمَانَ فَقَالَ هَذَا عَمَلُ ابْنِ عَمِّكِ هُوَ أَشَارَ عَلَيْنَا بِهَذَا يَعْنِي عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ .
রেওয়ায়ত ৪৩. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন হাবান (রহঃ) বলেনঃ আমার দাদা হাব্বানের ছিল দুই পত্নী। একজন হাশিমী বংশের, অপর জন আনসার গোত্রের। তারপর তিনি আনসারী স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তখন সেই স্ত্রী সন্তানকে দুধপান করাইতেছিল। এইরূপে এক বৎসর অতিবাহিত হইলে পর হাব্বান ইন্তিকাল করেন। তাহার স্ত্রী আর ঋতুমতী হয় নাই। স্ত্রী দাবি করিল যে, আমি তাহার মীরাস (সম্পদের অংশ) পাইব। আমার মাসিক ঋতু আসে নাই। বিবাদ লইয়া উভয় পত্নী উসমান ইবন আফফান (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হইল। উসমান (রাঃ) আনসারী পত্নীর জন্য মীরাস প্রদানের ফয়সালা দিলেন। ইহাতে হাশিমীয় পত্নী উসমান (রাঃ)-কে দোষারোপ[1] করিলেন। তিনি বলিলেনঃ ইহা তোমার চাচাতো ভাই-এর ফয়সালা। তিনি আমাদিগকে ইহার ইঙ্গিত দিয়াছেন। চাচাতো ভাই হইলেন ‘আলী ইবন আবী তালিব (রাঃ)।
৫০
মুয়াত্তা মালিক # ২৯/১১৯৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ، يَقُولُ إِذَا طَلَّقَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا وَهُوَ مَرِيضٌ فَإِنَّهَا تَرِثُهُ . قَالَ مَالِكٌ وَإِنْ طَلَّقَهَا وَهُوَ مَرِيضٌ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَلَهَا نِصْفُ الصَّدَاقِ وَلَهَا الْمِيرَاثُ وَلاَ عِدَّةَ عَلَيْهَا وَإِنْ دَخَلَ بِهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا فَلَهَا الْمَهْرُ كُلُّهُ وَالْمِيرَاثُ الْبِكْرُ وَالثَّيِّبُ فِي هَذَا عِنْدَنَا سَوَاءٌ .
রেওয়ায়ত ৪৪. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবন শিহাবকে বলিতে শুনিয়াছেন, কোন ব্যক্তি পীড়িতাবস্থায় স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তবে সে (স্বামীর) মীরাস পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি তাহার পীড়িত অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয় তাহার সহিত সংগত হওয়ার পূর্বে তবে সে স্ত্রী মহরের অর্ধেক পাইবে এবং সে (স্বামীর) মীরাস পাইবে, তাহার ইদ্দত পালন করিতে হইবে না। আর যদি সে স্ত্রীর সহিত সংগত হইয়া থাকে তারপর তালাক দেয় তবে সে পূর্ণ মহর-এর হকদার হইবে এবং মীরাসও পাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কুমারী এবং অকুমারী এই ব্যাপারে আমাদের মতে সমান।