Patience সম্পর্কে হাদিস
১১৬ টি প্রামাণিক হাদিস পাওয়া গেছে
সহীহ বুখারী : ২১
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، سَمِعَ سَلاَّمَ بْنَ مِسْكِينٍ، قَالَ سَمِعْتُ ثَابِتًا، يَقُولُ حَدَّثَنَا أَنَسٌ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ خَدَمْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ، فَمَا قَالَ لِي أُفٍّ. وَلاَ لِمَ صَنَعْتَ وَلاَ أَلاَّ صَنَعْتَ.
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি দশটি বছর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি কক্ষনো আমার প্রতি উঃ শব্দটি করেননি। এ কথা জিজ্ঞেস করেননি, তুমি এ কাজ কেন করলে এবং কেন করলে না? [২৭৬৮; মুসলিম ৪৩/১৩, হাঃ ২৩০৯, আহমাদ ১৩০২০] আধুনিক প্রকাশনী- ৫৬০৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৯৯)
সহীহ বুখারী : ২২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ يَقُولُ دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দু'আ কবূল হয়ে থাকে। যদি সে তাড়াহুড়া না করে আর বলে যে, আমি দু'আ করলাম। কিন্তু আমার দু'আ তো কবূল হলো না।[মুসলিম ৪৮/২৪, হাঃ ২৭৩৫, আহমাদ ১৩০০৭]আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৮৮)
সহীহ বুখারী : ২৩
আবু সাঈদ (রা.)
Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أُنَاسًا مِنَ الأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَسْأَلْهُ أَحَدٌ مِنْهُمْ إِلاَّ أَعْطَاهُ حَتَّى نَفِدَ مَا عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُمْ حِينَ نَفِدَ كُلُّ شَىْءٍ أَنْفَقَ بِيَدَيْهِ
" مَا يَكُنْ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ لاَ أَدَّخِرْهُ عَنْكُمْ، وَإِنَّهُ مَنْ يَسْتَعِفَّ يُعِفُّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَلَنْ تُعْطَوْا عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ ".
আবূ সা‘ঈদ খুদ্রী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার আনসারদের কিছু সংখ্যক লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সাহায্য চাইলেন। তাদের যে যা চাইলেন, তিনি তা-ই দিলেন, এমন কি তাঁর কাছে যা কিছু ছিল নিঃশেষ হয়ে গেল। যখন তাঁর দু’হাতে দান করার পর সবকিছু শেষ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ আমার কাছে যা কিছু থাকে, তা থেকে আমি কিছুই সঞ্চয় করি না। অবশ্য যে নিজেকে চাওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়, আল্লাহ্ তাঁকে বাঁচিয়ে রাখেন; আর যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে তিনি তাকে ধৈর্যশীলই রাখেন। আর যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ্ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। সবরের চেয়ে বেশি প্রশস্ত ও কল্যাণকর কিছু কক্ষনো তোমাদের দান করা হবে না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬০২০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬০২৬)
সহীহ বুখারী : ২৪
আয়েশা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي الْفُرَاتِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا، سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الطَّاعُونِ فَقَالَ
" كَانَ عَذَابًا يَبْعَثُهُ اللَّهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ، فَجَعَلَهُ اللَّهُ رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِينَ، مَا مِنْ عَبْدٍ يَكُونُ فِي بَلَدٍ يَكُونُ فِيهِ، وَيَمْكُثُ فِيهِ، لاَ يَخْرُجُ مِنَ الْبَلَدِ، صَابِرًا مُحْتَسِبًا، يَعْلَمُ أَنَّهُ لاَ يُصِيبُهُ إِلاَّ مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ، إِلاَّ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ شَهِيدٍ ".
‘আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি একবার রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেনঃ এটা একটা ‘আযাব। আল্লাহ যার উপর ইচ্ছে তা পাঠান। আল্লাহ এটা মুসলিমের জন্য রহমত করে দিয়েছেন। প্লেগে আক্রান্ত শহরে কোন বান্দা যদি ধৈর্য ধরে বিশ্বাসের সাথে অবস্থান করে, সেখান থেকে বের না হয়, আল্লাহ্ তার জন্য যা লিখেছেন তা ছাড়া কিছুই তাকে স্পর্শ করবে না, সে অবস্থায় সে শহীদের সওয়াব পাবে। [৫৬](আধুনিক প্রকাশনী- ৬১৫৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬১৬৬)
সহীহ বুখারী : ২৫
থাবিত আল-বুনানি (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، يَقُولُ لاِمْرَأَةٍ مِنْ أَهْلِهِ تَعْرِفِينَ فُلاَنَةَ قَالَتْ نَعَمْ. قَالَ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِهَا وَهْىَ تَبْكِي عِنْدَ قَبْرٍ فَقَالَ " اتَّقِي اللَّهَ وَاصْبِرِي ". فَقَالَتْ إِلَيْكَ عَنِّي، فَإِنَّكَ خِلْوٌ مِنْ مُصِيبَتِي. قَالَ فَجَاوَزَهَا وَمَضَى فَمَرَّ بِهَا رَجُلٌ فَقَالَ مَا قَالَ لَكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. قَالَتْ مَا عَرَفْتُهُ قَالَ إِنَّهُ لَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَجَاءَتْ إِلَى بَابِهِ فَلَمْ تَجِدْ عَلَيْهِ بَوَّابًا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا عَرَفْتُكَ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الصَّبْرَ عِنْدَ أَوَّلِ صَدْمَةٍ ".
সাবিত বুনানী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্নু মালিক (রাঃ) -কে তাঁর পরিবারের একজন মহিলাকে এ মর্মে বলতে শুনেছি যে, তুমি কি অমুক মহিলাকে চেন? সে বলল,হ্যাঁ। আনাস (রাঃ) বললেন, একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তখন একটি কবরের পাশে কাঁদছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ আল্লাহ্কে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর। তখন সে বলল, আমার নিকট হতে সরে যাও, কেননা, তুমি আমার বিপদ থেকে মুক্ত। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে অতিক্রম করে চলে গেলেন। এ সময় অপর লোক তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাকে জিজ্ঞেস করল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাকে কি বললেন। মহিলাটি বলল, আমি তো তাঁকে চিনতে পারি নি। লোকটি বলল, ইনিই তো রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি বললেন, পরে সে (মহিলাটি) রসূলুল্লাহ্-এর দরজায় এল। তবে দরজায় কোন দ্বাররক্ষী দেখতে পেল না। তখন সে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! আল্লাহ্র শপথ! আমি আপনাকে চিনতে পারি নি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আঘাতের প্রথম চোটেই ধৈর্য ধারণ করতে হয়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬৮)
সহীহ বুখারী : ২৬
আল হাসান (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ تَغْلِبَ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَالٌ فَأَعْطَى قَوْمًا وَمَنَعَ آخَرِينَ فَبَلَغَهُ أَنَّهُمْ عَتَبُوا فَقَالَ
" إِنِّي أُعْطِي الرَّجُلَ وَأَدَعُ الرَّجُلَ، وَالَّذِي أَدَعُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنَ الَّذِي أُعْطِي، أُعْطِي أَقْوَامًا لِمَا فِي قُلُوبِهِمْ مِنَ الْجَزَعِ وَالْهَلَعِ، وَأَكِلُ أَقْوَامًا إِلَى مَا جَعَلَ اللَّهُ فِي قُلُوبِهِمْ مِنَ الْغِنَى وَالْخَيْرِ مِنْهُمْ عَمْرُو بْنُ تَغْلِبَ ". فَقَالَ عَمْرٌو مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِكَلِمَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُمْرَ النَّعَمِ.
আম্র ইব্নু তাগলিব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে কিছু মাল এল। এ থেকে তিনি এক দলকে দিলেন। অন্য দলটিকে দিলেন না। অতঃপর তাঁর কাছে এ খবর পৌঁছল যে, যারা পেলো না তারা অসন্তুষ্ট হয়েছে। এতে তিনি বললেনঃ আমি একজনকে দেই আবার অন্য জনকে দেই না। কিন্তু যাকে আমি দেই না, সে-ই আমার কাছে বেশী প্রিয় যাকে দেই তার থেকে। এমন কিছু কাওমকে আমি দেই, যাদের হৃদয়ে আছে অস্থিরতা ও দ্বন্দ। আর কিছু কাওমকে আমি মাল না দিয়ে তাদের হৃদয়ে আল্লাহ্ যে অমুখাপেক্ষিতা ও কল্যাণ রেখেছেন তার উপর সোর্পদ করি। এদেরই একজন হলেন, আম্র ইব্নু তাগলিব (রাঃ)। ‘আম্র (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর এ কথার বিনিময়ে আমি একপাল লাল রং এর উটের মালিক হওয়াও অধিক পছন্দ করি না। (আধুনিক প্রকাশনী- ৭০১৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭০২৭)
সহীহ মুসলিম : ২৭
It His Been
Sahih
وَحَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " .
খালাফ ইবনু হিশাম ও আবূ কামিল (রহঃ) ..... আনাস ইবনু সীরীন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, ফজরের সালাতের পূর্বের দু' রাকাআত সালাতে আমি কিরাআত দীর্ঘায়িত করে থাকি- এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী? তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা নফল সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করতেন এবং এক রাকাআত বিতর বা বেজোড় আদায় করতেন। আনাস ইবনু সীরীন বলেন- এ সময় আমি বললামঃ আমি তো আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করছি না। (আমার এ কথা বলার পর) তিনি বললেনঃ তুমি তো মোটা বুদ্ধির লোক দেখছি! তুমি কি আমাকে হাদীসটা (পুরো) বলতে দিবে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা নফল সালাত দু' দু' রাকাআত করে আদায় করতেন এবং পরে এক রাকাআত বিতর বা বেজোড় আদায় করতেন। আর ফজরের সালাতের পূর্বে দু' রাকাআত নফল এমনভাবে আদায় করতেন যেন তিনি ইকামাত' বা তাকবীর শুনতে পাচ্ছেন। খালাফ ইবনু হিশাম তার বর্ণনাতে “ফজরের পূর্বের দু' রাকাআত সালাত সম্পর্কে আপনার মতামত কী” কথাটি উল্লেখ করেছেন। তিনি 'সালাত’ শব্দটি উল্লেখ করেননি। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৬৩১, ইসলামীক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ২৮
It Has Been
Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ،
عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي النَّبِيتِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ
بْنُ جَنَابٍ الْمِصِّيصِيُّ حَدَّثَنَا عِيسَى - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - عَنْ زَكَرِيَّاءَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ
عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي النَّبِيتِ - قَبِيلٍ مِنَ الأَنْصَارِ - فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ
إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّكَ عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ . ثُمَّ تَقَدَّمَ فَقَاتَلَ حَتَّى قُتِلَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم
" عَمِلَ هَذَا يَسِيرًا وَأُجِرَ كَثِيرًا " .
হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় হিশাম ইবনু হাকীম (ইবনু হিযাম) কে সূরাহ আল ফুরকান পড়তে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি পরের অংশটুকু পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে এতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে, আমি তাকে সালাতের মধ্যেই বাঁধা দিতে যাচ্ছিলাম। অবশেষে সালাম ফিরানো পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করলাম। (ইসলামী ফাউন্ডেশন ১৭৭০, ইসলামীক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ২৯
Sahih
حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا فَتَحَ حُنَيْنًا قَسَمَ الْغَنَائِمَ فَأَعْطَى الْمُؤَلَّفَةَ قُلُوبُهُمْ فَبَلَغَهُ أَنَّ الأَنْصَارَ يُحِبُّونَ أَنْ يُصِيبُوا مَا أَصَابَ النَّاسُ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَطَبَهُمْ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَلَمْ أَجِدْكُمْ ضُلاَّلاً فَهَدَاكُمُ اللَّهُ بِي وَعَالَةً فَأَغْنَاكُمُ اللَّهُ بِي وَمُتَفَرِّقِينَ فَجَمَعَكُمُ اللَّهُ بِي " . وَيَقُولُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمَنُّ . فَقَالَ " أَلاَ تُجِيبُونِي " . فَقَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمَنُّ . فَقَالَ " أَمَا إِنَّكُمْ لَوْ شِئْتُمْ أَنْ تَقُولُوا كَذَا وَكَذَا وَكَانَ مِنَ الأَمْرِ كَذَا وَكَذَا " . لأَشْيَاءَ عَدَّدَهَا . زَعَمَ عَمْرٌو أَنْ لاَ يَحْفَظُهَا فَقَالَ " أَلاَ تَرْضَوْنَ أَنْ يَذْهَبَ النَّاسُ بِالشَّاءِ وَالإِبِلِ وَتَذْهَبُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ إِلَى رِحَالِكُمُ الأَنْصَارُ شِعَارٌ وَالنَّاسُ دِثَارٌ وَلَوْلاَ الْهِجْرَةُ لَكُنْتُ امْرَأً مِنَ الأَنْصَارِ وَلَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَشِعْبًا لَسَلَكْتُ وَادِيَ الأَنْصَارِ وَشِعْبَهُمْ إِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي عَلَى الْحَوْضِ " .
সুরায়জ ইবনু ইউনুস (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। হুনায়নের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমাতের মাল মুয়াল্লাফাতুল কুলুব-দের মধ্যে বন্টন করলেন। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, অন্যান্য লোকেরা যেভাবে গনীমাতের মাল পেয়েছে আনসারগণও অনুরূপ পেতে চায়। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশে খুতবাহ দান করলেন। খুতবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেনঃ "হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট, দারিদ্র্য ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাইনি?" তারপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, দারিদ্র্যের অভিশাপ হতে মুক্ত করে ধনী করেছেন। আর তারা বলতেন, আল্লাহ ও তার রসূল অত্যন্ত আমানতদার। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা আমার কথার জবাব দিচ্ছ না কেন? তখন তারা বললেন, অত্যন্ত আমানতদার। (অর্থাৎ তিনি যা করেছেন ঠিক করেছেন এবং এতে আমরা রাযী আছি)। অতঃপর তিনি বললেন, যদি তোমরা এভাবে এভাবে বলতে চাও আর বাস্তবে কাজ এরূপ ও এরূপ হয়। 'আমর (রাযিঃ) বলেন, এই বলে তিনি কতগুলো জিনিসের কথা উল্লেখ করলেন যা আমি মনে রাখতে পারিনি। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা ছাগল ও উট নিয়ে ঘরে ফিরে যাক আর তোমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? তিনি আরো বললেনঃ আনসারগণ হচ্ছে আচ্ছাদন (শরীরের সাথে লেগে থাকা আবরণ) আর অন্য লোকেরা আমাদের থেকে দূরের। যদি হিজরাত না হতো তাহলে আমি আনসারদের মাঠ ও গিরিপথেই যাব। আমার পরে তোমাদেরকে (দেয়ার ব্যাপারে) পিছনে ফেলে রাখা হবে। তখন তোমরা আমার সাথে হাওজের কাছে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩১৪, ইসলামীক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ৩০
Sahih
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنٍ آثَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَاسًا فِي الْقِسْمَةِ فَأَعْطَى الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ وَأَعْطَى عُيَيْنَةَ مِثْلَ ذَلِكَ وَأَعْطَى أُنَاسًا مِنْ أَشْرَافِ الْعَرَبِ وَآثَرَهُمْ يَوْمَئِذٍ فِي الْقِسْمَةِ فَقَالَ رَجُلٌ وَاللَّهِ إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا عُدِلَ فِيهَا وَمَا أُرِيدَ فِيهَا وَجْهُ اللَّهِ . قَالَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَأَتَيْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ - قَالَ - فَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ حَتَّى كَانَ كَالصِّرْفِ ثُمَّ قَالَ " فَمَنْ يَعْدِلُ إِنْ لَمْ يَعْدِلِ اللَّهُ وَرَسُولُهُ " . قَالَ ثُمَّ قَالَ " يَرْحَمُ اللَّهُ مُوسَى قَدْ أُوذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ " . قَالَ قُلْتُ لاَ جَرَمَ لاَ أَرْفَعُ إِلَيْهِ بَعْدَهَا حَدِيثًا .
যুহায়র ইবনু হারব, উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ ও ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ...... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন হুনায়নের যুদ্ধ সংঘটিত হলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল দেয়ার ব্যাপারে কতক লোককে প্রাধান্য দিলেন অর্থাৎ কতক লোককে বেশী দিলেন। সুতরাং তিনি আকরা ইবনু হাবিসকে একশ' উট দিলেন, উয়াইনাকেও অনুরূপ সংখ্যক উট দান করলেন এবং আরবের নেতৃস্থানীয় কিছু লোককেও অগ্রাধিকার দিলেন। এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! এ বণ্টন ইনসাফ ভিত্তিক হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সম্ভষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ আমি এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌছাব। রাবী বলেন, আমি তার কাছে গিয়ে লোকটির উক্তি তাকে শুনালাম। ফলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখমণ্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই যদি সুবিচার না করেন তাহলে কে আর ইনসাফ করবে? তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা মূসা (আঃ) কে রহমত করুন, তাকে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে আর কখনো এ ধরনের কোন ব্যাপার তাকে জানাব না। (কেননা এতে তার কষ্ট হয়)। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩১৫, ইসলামীক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ৩১
Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسْمًا فَقَالَ رَجُلٌ إِنَّهَا لَقِسْمَةٌ مَا أُرِيدَ بِهَا وَجْهُ اللَّهِ - قَالَ - فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَارَرْتُهُ فَغَضِبَ مِنْ ذَلِكَ غَضَبًا شَدِيدًا وَاحْمَرَّ وَجْهُهُ حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنِّي لَمْ أَذْكُرْهُ لَهُ - قَالَ - ثُمَّ قَالَ " قَدْ أُوذِيَ مُوسَى بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ " .
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... 'আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমাতের কিছু মাল বণ্টন করলেন। এক ব্যক্তি বলল, এ বণ্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে এ কথা তাকে চুপে চুপে অবহিত করলাম, এতে তিনি অত্যন্ত রাগাম্বিত হলেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিলাম এ ধরনের কথা তাকে আর কখনো বলব না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ মূসা (আঃ) কে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২৩১৬, ইসলামীক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ৩২
Sahih
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي مُوسَى، بْنُ عُقْبَةَ عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ كِتَابِ، رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى فَكَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ حِينَ سَارَ إِلَى الْحَرُورِيَّةِ يُخْبِرُهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي بَعْضِ أَيَّامِهِ الَّتِي لَقِيَ فِيهَا الْعَدُوَّ يَنْتَظِرُ حَتَّى إِذَا مَالَتِ الشَّمْسُ قَامَ فِيهِمْ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ لاَ تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَاسْأَلُوا اللَّهَ الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ " . ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَمُجْرِيَ السَّحَابِ وَهَازِمَ الأَحْزَابِ اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ " .
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) ..... আবূ নাযর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাদের মধ্য থেকে আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তির যার নাম ছিল 'আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা- চিঠি থেকে বর্ণনা করেছেন। এ চিঠি তিনি লিখেছিলেন উমর ইবনু উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট, যখন তিনি হারুরিয়্যাহ্ (খারিজীদের বিরুদ্ধে) অভিযানে যাচ্ছিলেন। এতে তিনি তাকে অবহিত করেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব যুদ্ধে শক্র বাহিনীর মুখোমুখী হয়েছিলেন তার কোন একযুদ্ধে অপেক্ষা করতে লাগলেন। অবশেষে যখন সূর্য ঢলে পড়ল তখন তিনি সঙ্গীদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে লোকজন তোমরা শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করো না। বরং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তার প্রার্থনা করো। আর যখন তোমরা শত্রুর সামনা-সামনি হয়ে যাও তখন ধৈর্য ধারণ করবে। আর জেনে রেখো যে, জান্নাত তরবারির ছায়াতলে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে দু'আ করলেন, ইয়া আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী এবং শক্রদলকে পরাস্তকারী। তুমি তাদের পরাস্ত করো এবং তাদের উপর আমাদেরকে সাহায্য করো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৩৯২, ইসলামিক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ৩৩
Sahih
حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ الْجَعْدِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي، رَجَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، يَرْوِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ رَأَى مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ فَإِنَّهُ مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ شِبْرًا فَمَاتَ فَمِيتَةٌ جَاهِلِيَّةٌ " .
হাসান ইবনু রাবী' (রহঃ) ..... ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার আমীরের মধ্যে এমন কোন ব্যাপার দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন ধৈর্যের পথ অবলম্বন করে। কেননা যে ব্যক্তি জামা'আত থেকে সামান্য পরিমাণ সরে গেল এবং এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুই বরণ করলো। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৩৭, ইসলামিক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ৩৪
Sahih
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي عُمَرَ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، بْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ نَوْفًا الْبِكَالِيَّ يَزْعُمُ أَنَّ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ صَاحِبَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَيْسَ هُوَ مُوسَى صَاحِبَ الْخَضِرِ عَلَيْهِ السَّلاَمُ . فَقَالَ كَذَبَ عَدُوُّ اللَّهِ سَمِعْتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " قَامَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ خَطِيبًا فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ فَسُئِلَ أَىُّ النَّاسِ أَعْلَمُ فَقَالَ أَنَا أَعْلَمُ . قَالَ فَعَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِ إِذْ لَمْ يَرُدَّ الْعِلْمَ إِلَيْهِ فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ أَنَّ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي بِمَجْمَعِ الْبَحْرَيْنِ هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ قَالَ مُوسَى أَىْ رَبِّ كَيْفَ لِي بِهِ فَقِيلَ لَهُ احْمِلْ حُوتًا فِي مِكْتَلٍ فَحَيْثُ تَفْقِدُ الْحُوتَ فَهُوَ ثَمَّ . فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقَ مَعَهُ فَتَاهُ وَهُوَ يُوشَعُ بْنُ نُونٍ فَحَمَلَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ حُوتًا فِي مِكْتَلٍ وَانْطَلَقَ هُوَ وَفَتَاهُ يَمْشِيَانِ حَتَّى أَتَيَا الصَّخْرَةَ فَرَقَدَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَفَتَاهُ فَاضْطَرَبَ الْحُوتُ فِي الْمِكْتَلِ حَتَّى خَرَجَ مِنَ الْمِكْتَلِ فَسَقَطَ فِي الْبَحْرِ - قَالَ - وَأَمْسَكَ اللَّهُ عَنْهُ جِرْيَةَ الْمَاءِ حَتَّى كَانَ مِثْلَ الطَّاقِ فَكَانَ لِلْحُوتِ سَرَبًا وَكَانَ لِمُوسَى وَفَتَاهُ عَجَبًا فَانْطَلَقَا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمَا وَلَيْلَتِهِمَا وَنَسِيَ صَاحِبُ مُوسَى أَنْ يُخْبِرَهُ فَلَمَّا أَصْبَحَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا - قَالَ - وَلَمْ يَنْصَبْ حَتَّى جَاوَزَ الْمَكَانَ الَّذِي أُمِرَ بِهِ . قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلاَّ الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا . قَالَ مُوسَى ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِي فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا . قَالَ يَقُصَّانِ آثَارَهُمَا حَتَّى أَتَيَا الصَّخْرَةَ فَرَأَى رَجُلاً مُسَجًّى عَلَيْهِ بِثَوْبٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ مُوسَى . فَقَالَ لَهُ الْخَضِرُ أَنَّى بِأَرْضِكَ السَّلاَمُ قَالَ أَنَا مُوسَى . قَالَ مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالَ نَعَمْ . قَالَ إِنَّكَ عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللَّهِ عَلَّمَكَهُ اللَّهُ لاَ أَعْلَمُهُ وَأَنَا عَلَى عِلْمٍ مِنْ عِلْمِ اللَّهِ عَلَّمَنِيهِ لاَ تَعْلَمُهُ . قَالَ لَهُ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَنْ تُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا قَالَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلاَ أَعْصِي لَكَ أَمْرًا . قَالَ لَهُ الْخَضِرُ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلاَ تَسْأَلْنِي عَنْ شَىْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا . قَالَ نَعَمْ . فَانْطَلَقَ الْخَضِرُ وَمُوسَى يَمْشِيَانِ عَلَى سَاحِلِ الْبَحْرِ فَمَرَّتْ بِهِمَا سَفِينَةٌ فَكَلَّمَاهُمْ أَنْ يَحْمِلُوهُمَا فَعَرَفُوا الْخَضِرَ فَحَمَلُوهُمَا بِغَيْرِ نَوْلٍ فَعَمَدَ الْخَضِرُ إِلَى لَوْحٍ مِنْ أَلْوَاحِ السَّفِينَةِ فَنَزَعَهُ فَقَالَ لَهُ مُوسَى قَوْمٌ حَمَلُونَا بِغَيْرِ نَوْلٍ عَمَدْتَ إِلَى سَفِينَتِهِمْ فَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا . قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا قَالَ لاَ تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلاَ تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا ثُمَّ خَرَجَا مِنَ السَّفِينَةِ فَبَيْنَمَا هُمَا يَمْشِيَانِ عَلَى السَّاحِلِ إِذَا غُلاَمٌ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فَأَخَذَ الْخَضِرُ بِرَأْسِهِ فَاقْتَلَعَهُ بِيَدِهِ فَقَتَلَهُ . فَقَالَ مُوسَى أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَاكِيَةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا . قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا قَالَ وَهَذِهِ أَشَدُّ مِنَ الأُولَى . قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَىْءٍ بَعْدَهَا فَلاَ تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا . فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ . يَقُولُ مَائِلٌ . قَالَ الْخَضِرُ بِيَدِهِ هَكَذَا فَأَقَامَهُ . قَالَ لَهُ مُوسَى قَوْمٌ أَتَيْنَاهُمْ فَلَمْ يُضَيِّفُونَا وَلَمْ يُطْعِمُونَا لَوْ شِئْتَ لَتَخِذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا . قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَرْحَمُ اللَّهُ مُوسَى لَوَدِدْتُ أَنَّهُ كَانَ صَبَرَ حَتَّى يُقَصَّ عَلَيْنَا مِنْ أَخْبَارِهِمَا " . قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَانَتِ الأُولَى مِنْ مُوسَى نِسْيَانًا " . قَالَ " وَجَاءَ عُصْفُورٌ حَتَّى وَقَعَ عَلَى حَرْفِ السَّفِينَةِ ثُمَّ نَقَرَ فِي الْبَحْرِ . فَقَالَ لَهُ الْخَضِرُ مَا نَقَصَ عِلْمِي وَعِلْمُكَ مِنْ عِلْمِ اللَّهِ إِلاَّ مِثْلَ مَا نَقَصَ هَذَا الْعُصْفُورُ مِنَ الْبَحْرِ " . قَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَكَانَ يَقْرَأُ وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا . وَكَانَ يَقْرَأُ وَأَمَّا الْغُلاَمُ فَكَانَ كَافِرًا .
আমর ইবনু মুহাম্মাদ নাকিদ, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হান্যালী, উবাইদুল্লাহ ইবনু সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার মাক্কী (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, নাওফ বিকালী বলেন যে, বনী ইসরাঈলের নবী মূসা খাযির (আঃ) এর সঙ্গী মূসা নন। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শক্র মিথ্যারোপ করেছে। আমি উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) হতে শুনেছি, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের মধ্যে বক্তৃতা দিতে দাঁড়ালেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন লোক সর্বাধিক জ্ঞানী? তিনি জবাব দিলেন, "আমি সর্বাধিক জ্ঞানী।" আল্লাহ তা'আলা (এ উত্তরে) তার প্রতি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ করলেন। কেননা, মূসা (আঃ) জ্ঞানকে আল্লাহর প্রতি ন্যস্ত করেননি। তারপর আল্লাহ তার প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করলেন যে, দু'সাগরের মধ্যস্থলে আমার বান্দাদের মাঝে এক বান্দা আছে, যে তোমার তুলনায় বেশি জ্ঞানী। মূসা (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে প্রতিপালক! আমি কিভাবে তার সন্ধান পাব? তাকে বলা হলো, থলের ভেতর একটি মাছ নাও। মাছটি যেখানে হারিয়ে যাবে সেখানেই তাকে পাবে। তারপর তিনি রওনা হলেন। তার সাথে তার খাদিম ইউশা' ইবনু নূনও চললেন এবং মূসা (আঃ) একটি মাছ ব্যাগে নিয়ে নিলেন। তিনি ও তার খাদিম চলতে চলতে একটি চটানে উপস্থিত হলেন। এখানে মূসা (আঃ) শুয়ে পড়লেন। তার সঙ্গীও শুয়ে পড়ল। মাছটি নড়েচড়ে ব্যাগ হতে বের হয়ে সমুদ্রে ঝাপিয়ে পড়ল। এদিকে আল্লাহ তা'আলা পানির গতিরোধ করে দিলেন। এমনকি একটি গর্তের মতো হয়ে গেল এবং মাছটির জন্য একটি সুড়ঙ্গের ন্যায় হয়ে গেল। মূসা (আঃ) ও তার খাদিমের জন্য এটি একটি আশ্চর্যের বিষয় হলো। তারপর তারা আবার দিবা-রাত্রি চললেন। মূসা (আঃ) এর সঙ্গী সংবাদটি দিতে ভুলে গেল। যখন সকাল হলো মূসা (আঃ) তার খাদিমকে বললেন, আমাদের নাশতা বের করো। আমরা তো এ সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদেশকৃত জায়গা অতিক্রম করে না যাওয়া পর্যন্ত তারা ক্লান্ত হননি। খাদিম বলল, আপনি কি জানেন, যখনই আমরা বড় পাথরটার নিকট বিশ্রাম নিয়েছিলাম তখন আমি মাছের কথাটি ভুলে গেলাম? আর শইতানই আমাকে আপনাকে বলার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং বিস্ময়করভাবে মাছটি সমুদ্রে তার নিজের পথ বের করে চলে গেছে। মূসা (আঃ) বললেন, এ স্থানটিই তো আমরা সন্ধান করছি। তারপর দু'জনেই নিজ নিজ পায়ের চিহ্ন অনুকরণ করে বড় পাথর পর্যন্ত পৌছলেন। সেখানে চাদরে আচ্ছাদিত জনৈক লোককে দেখতে পেলেন। মূসা (আঃ) তাকে সালাম দিলেন। খাযির (আঃ) বললেন, তোমাদের এ ভূমিতে সালাম কথেকে আসলো? মূসা (আঃ) বললেন, আমি মূসা। তিনি প্রশ্ন করলেন, বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বললেন, হ্যাঁ। খাযির বললেন, আল্লাহ তার ইলম হতে এমন এক ইলম তোমাকে দিয়েছেন যা আমি জানি না এবং আল্লাহ তার ইলম হতে এমন এক ইলম আমাকে দিয়েছেন যা তুমি জান না। মূসা (আঃ) বললেন, আমি আপনার সঙ্গে থাকতে চাই যেন আপনার মতো ইলম আমাকে দান করেন। খাযির (আঃ) বললেন, তুমি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না। আর কী করেই তুমি ধৈর্য ধারণ করবে, যা সম্বন্ধে তুমি অজ্ঞাত? মূসা (আঃ) বললেন, ইনশাআল্লহ, আপনি আমাকে ধৈর্যশীল অবস্থায় পাবেন। আর আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করব না। খাযির (আঃ) বললেন, আচ্ছা তুমি যদি আমার অনুকরণ করে তবে আমি নিজে কিছু বর্ণনা না করা পর্যন্ত কোন ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞেস করবে না। মূসা (আঃ) বললেন, আচ্ছা। খাযির এবং মূসা (আঃ) দু’জনে সমুদ্রের তীর ধরে পথ চলতে লাগলেন। সামনে দিয়ে একটি নৌকা আসলো। তারা নৌকাওয়ালাকে তাদের তুলে নিতে বললেন। তারা খাযির (আঃ) কে চিনে ফেলল, তাই দু’জনকেই বিনা ভাড়ায় উঠিয়ে নিল। কিছুক্ষণ পর খাযির (আঃ) নৌকার একটি তক্তার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং তা উঠিয়ে ফেললেন। (তা দেখে) মূসা (আঃ) বললেন, তারা তো এমন ব্যক্তি যে, আমাদের বিনা ভাড়ায় উঠিয়ে নিয়েছে; আর আপনি তাদের নৌকাটি ছিদ্র করে দিলেন যাতে নৌকা ডুবে যায়? আপনি তো সাংঘাতিক কাজ করেছেন। খাযির (আঃ) বললেন, আমি কি তোমায় বলিনি যে, তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরে থাকতে সক্ষম হবে না। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি আমার এ ভুল মাফ করে দিবেন। আর আমাকে কঠিন অবস্থায় ফেলবেন না। তারপর নৌকার বাইরে এলেন এবং উভয়ে সমুদ্র তীর ধরে চলতে লাগলেন। হঠাৎ একটি বালকের সম্মুখীন হলেন, যে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলা করছিল। খাযির (আঃ) তার মাথাটা হাত দিয়ে ধরে ছিড়ে ফেলে হত্যা করলেন। মূসা (আঃ) তাকে বললেন, আপনি কোন প্রাণের বিনিময় ব্যতীত একটা নিম্পাপ প্রাণকে শেষ করে দিলেন? আপনি তো বড়ই মন্দ কাজ করলেন। খাযির (আঃ) বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, আমার সঙ্গে তুমি ধৈর্য ধারণ করতে পারবে না এবং এ ভুল প্রথমটার তুলনায় আরো মারাত্মক। মূসা (আঃ) বললেন, হ্যাঁ! তারপর যদি আর কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি তাহলে আমাকে সাথে রাখবেন না। নিঃসন্দেহে আপনার প্রতি আমার ক্রটি চরমে পৌছেছে। তারপর দু’জনেই পথ চলতে লাগলেন এবং একটি গ্রামে পৌছে গ্রামবাসীর নিকট খাদ্য কামনা করলেন। তারা তাদের আতিথেয়তা করতে আপত্তি জানালেন। তারপর তারা একটি দেয়াল পেলেন, যেটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে অর্থাৎ- ঝুঁকে পড়েছে। খাযির (আঃ) আপন হাতে সেটি ঠিক করে সোজা করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আমরা এ গোত্রের নিকট আসলে তারা আমাদের মেহমানদারী করেনি এবং খেতে দেয়নি। আপনি চাইলে এদের কাছ থেকে মজুরি নিতে পারতেন। খাযির (আঃ) বললেন, এবার আমার ও তোমার মাঝে ব্যবধান সূচিত হলো। এখন আমি তোমাকে এসব মর্মার্থ বলছি, যে সবের উপর তুমি ধৈর্যধারণ করতে সক্ষম হওনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ মূসা (আঃ) এর উপর রহম করুন, আমার ইচ্ছা হয় যে, যদি তিনি ধৈর্যধারণ করতেন তাহলে আমাদের নিকট তাদের আরো ঘটনাসমূহের বর্ণনা দেয়া হতো। বর্ণনাকারী বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ প্রথমটা মূসা (আঃ) ভুলবশত করেছিলেন। এ-ও বলেছেন, একটা চড়ুই পাখি এসে নৌকার কিনারে বসে সমুদ্রে চঞ্চু মারল। সে সময় খাযির (আঃ) মূসাকে বলেন, আমার ও তোমার জ্ঞান আল্লাহর জ্ঞানের চেয়ে ততই কম, যতটি সমুদ্রের পানি হতে এ চড়ুইটি কমিয়েছে। সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাযিঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) পড়তেনঃ وَكَانَ أَمَامَهُمْ مَلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ صَالِحَةٍ غَصْبًا (এদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, যে সকল ভাল নৌকা কেড়ে নিত) তিনি আরো পড়তেন, وَكَانَ الْغُلاَمُ فَكَانَ كَافِرًا (আর সে বালকটি কাফির ছিল)। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৪৮, ইসলামিক সেন্টার
সহীহ মুসলিম : ৩৫
Sahih
حَدَّثَنَا أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّهُ بَيْنَمَا مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ فِي قَوْمِهِ يُذَكِّرُهُمْ بِأَيَّامِ اللَّهِ وَأَيَّامُ اللَّهِ نَعْمَاؤُهُ وَبَلاَؤُهُ إِذْ قَالَ مَا أَعْلَمُ فِي الأَرْضِ رَجُلاً خَيْرًا أَوْ أَعْلَمَ مِنِّي . قَالَ فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ إِنِّي أَعْلَمُ بِالْخَيْرِ مِنْهُ أَوْ عِنْدَ مَنْ هُوَ إِنَّ فِي الأَرْضِ رَجُلاً هُوَ أَعْلَمُ مِنْكَ . قَالَ يَا رَبِّ فَدُلَّنِي عَلَيْهِ . قَالَ فَقِيلَ لَهُ تَزَوَّدْ حُوتًا مَالِحًا فَإِنَّهُ حَيْثُ تَفْقِدُ الْحُوتَ . قَالَ فَانْطَلَقَ هُوَ وَفَتَاهُ حَتَّى انْتَهَيَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَعُمِّيَ عَلَيْهِ فَانْطَلَقَ وَتَرَكَ فَتَاهُ فَاضْطَرَبَ الْحُوتُ فِي الْمَاءِ فَجَعَلَ لاَ يَلْتَئِمُ عَلَيْهِ صَارَ مِثْلَ الْكُوَّةِ قَالَ فَقَالَ فَتَاهُ أَلاَ أَلْحَقُ نَبِيَّ اللَّهِ فَأُخْبِرَهُ قَالَ فَنُسِّيَ . فَلَمَّا تَجَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِنْ سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا . قَالَ وَلَمْ يُصِبْهُمْ نَصَبٌ حَتَّى تَجَاوَزَا . قَالَ فَتَذَكَّرَ قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلاَّ الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا . قَالَ ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِي . فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا فَأَرَاهُ مَكَانَ الْحُوتِ قَالَ هَا هُنَا وُصِفَ لِي . قَالَ فَذَهَبَ يَلْتَمِسُ فَإِذَا هُوَ بِالْخَضِرِ مُسَجًّى ثَوْبًا مُسْتَلْقِيًا عَلَى الْقَفَا أَوْ قَالَ عَلَى حَلاَوَةِ الْقَفَا قَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ . فَكَشَفَ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ قَالَ وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمُ مَنْ أَنْتَ قَالَ أَنَا مُوسَى . قَالَ وَمَنْ مُوسَى قَالَ مُوسَى بَنِي إِسْرَائِيلَ . قَالَ مَجِيءٌ مَا جَاءَ بِكَ قَالَ جِئْتُ لِتُعَلِّمَنِي مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا . قَالَ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا . شَىْءٌ أُمِرْتُ بِهِ أَنْ أَفْعَلَهُ إِذَا رَأَيْتَهُ لَمْ تَصْبِرْ . قَالَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلاَ أَعْصِي لَكَ أَمْرًا . قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلاَ تَسْأَلْنِي عَنْ شَىْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا . فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا . قَالَ انْتَحَى عَلَيْهَا . قَالَ لَهُ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا . قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا قَالَ لاَ تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلاَ تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا . فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غِلْمَانًا يَلْعَبُونَ . قَالَ فَانْطَلَقَ إِلَى أَحَدِهِمْ بَادِيَ الرَّأْىِ فَقَتَلَهُ فَذُعِرَ عِنْدَهَا مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ذَعْرَةً مُنْكَرَةً . قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَاكِيَةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُكْرًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ هَذَا الْمَكَانِ " رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى مُوسَى لَوْلاَ أَنَّهُ عَجَّلَ لَرَأَى الْعَجَبَ وَلَكِنَّهُ أَخَذَتْهُ مِنْ صَاحِبِهِ ذَمَامَةٌ . قَالَ إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَىْءٍ بَعْدَهَا فَلاَ تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي عُذْرًا . وَلَوْ صَبَرَ لَرَأَى الْعَجَبَ - قَالَ وَكَانَ إِذَا ذَكَرَ أَحَدًا مِنَ الأَنْبِيَاءِ بَدَأَ بِنَفْسِهِ " رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْنَا وََلَى أَخِي كَذَا رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْنَا - " فَانْطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ لِئَامًا فَطَافَا فِي الْمَجَالِسِ فَاسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ . قَالَ لَوْ شِئْتَ لاَتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا . قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ وَأَخَذَ بِثَوْبِهِ . قَالَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ إِلَى آخِرِ الآيَةِ . فَإِذَا جَاءَ الَّذِي يُسَخِّرُهَا وَجَدَهَا مُنْخَرِقَةً فَتَجَاوَزَهَا فَأَصْلَحُوهَا بِخَشَبَةٍ وَأَمَّا الْغُلاَمُ فَطُبِعَ يَوْمَ طُبِعَ كَافِرًا وَكَانَ أَبَوَاهُ قَدْ عَطَفَا عَلَيْهِ فَلَوْ أَنَّهُ أَدْرَكَ أَرْهَقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا فَأَرَدْنَا أَنْ يُبَدِّلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا . وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلاَمَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ " . إِلَى آخِرِ الآيَةِ .
উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ) আমাদের নিকট রিওয়ায়াত করেছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মূসা (আঃ) একদা তার গোষ্ঠীর সম্মুখে আল্লাহ তা'আলার নিআমাত এবং বালা-মুসীবাত মনে করিয়ে উপদেশ দিচ্ছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলে ফেললেন, দুনিয়াতে আমার তুলনায় উত্তম এবং অধিক জ্ঞানী কোন লোক আছে বলে আমার জানা নেই। আল্লাহ মূসা (আঃ) এর প্রতি ওয়াহী পাঠালেনঃ আমি জানি মূসার চাইতে উত্তম কে বা কার নিকট কল্যাণ রয়েছে। পৃথিবীতে অবশ্যই এক লোক রয়েছে যে, তোমার তুলনায় অধিক জ্ঞানী। মূসা (আঃ) বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তার পথ জানিয়ে দিন। তাকে বলা হলো, লবণাক্ত একটি মাছ সাথে নিয়ে যাও। এ মাছটি যেখানে হারিয়ে যাবে খানেই সে, ব্যক্তি আছে। মূসা (আঃ) এবং তার খাদিম রওনা হলেন, পরিশেষে তারা একটি বড় পাথরের নিকট পৌছলেন। সে সময় মূসা (আঃ) তার সঙ্গীকে রেখে গোপনে চলে গেলেন। তারপর মাছটি ছটফট করে পানিতে নেমে গেল এবং পানিও ছিদ্রের মতো রয়ে গেল, মাছের রাস্তায় সংমিশ্রণ হলো না। মূসা (আঃ) এর খাদিম বললেন, হ্যাঁ, আমি আল্লাহর নবীর সঙ্গে মিলিত হয়ে তাকে এ বিবরণ দিব। তারপরে তিনি ভুলে গেলেন। তারা যখন আরো সম্মুখে চলে গেলেন। তখন মূসা (আঃ) বললেন, আমার নাশতা দাও, এ সফরে তো আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যতক্ষণ তারা এ জায়গাটি ত্যাগ করার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের ক্লান্তি আসেনি। তার সাথীর যখন স্মরণে আসলো তখন বলল, আপনি কি জানেন যখন আমরা পাথরের নিকট আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গেছি। আর শাইতানই আমাকে আপনার নিকট বলার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং অবাক করার মতো মাছটি সমুদ্রে তার রাস্তা করে নিয়েছে। মূসা (আঃ) বললেন, এ-ই তো ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। সুতরাং তারা পথ অনুসরণ করে প্রত্যাবর্তন করলেন। তখন তার খাদিম মাছের জায়গাটি তাকে দেখালো। মূসা (আঃ) বললেন, এ জায়গার বর্ণনাই আমাকে দেয়া হয়েছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর মূসা (আঃ) সন্ধান করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি কাপড়ে ঢাকা খাযির (আঃ) কে গলদেশের উপর চীৎ হয়ে ঘুমানো দেখতে পেলেন। কিংবা অন্য বর্ণনায়, গলদেশের উপর সোজাসুজি। মূসা (আঃ) বললেন, আসসালামু 'আলাইকুম। খাযির (আঃ) মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, ওয়া আলাইকুমুসসালাম, তুমি কে? মূসা (আঃ) বললেন, আমি মূসা। তিনি বললেন, কোন মূসা? মূসা (আঃ) উত্তর দিলেন, বনী ইসরাঈলের মূসা। খাযির (আঃ) বললেন, তোমার এ মহান আগমন কিসের জন্য? মূসা (আঃ) বললেন, আমি এসেছি যেন আপনাকে যে জ্ঞান দান করা হয়েছে তা হতে আপনি আমায় কিছু শিক্ষা দেন। খাযির (আঃ) বললেন, আমার সাথে তুমি ধৈর্য ধরতে পারবে না। আর এমন ব্যাপারে কেমন করে তুমি ধৈর্য ধরবে, যার ইলম তোমাকে দেয়া হয়নি। এরূপ বিষয় হতে পারে যা করতে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তুমি যখন তা দেখবে তখন তুমি ধৈর্য ধারণ করবে না। মূসা (আঃ) বললেন, ইনশাআল্লাহ্ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যেই পাবেন। আর আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না। খাযির (আঃ) বললেন, তুমি যদি আমার অনুগামী হও তবে আমাকে কোন ব্যাপারে জিজ্ঞেস করো না, যতক্ষণ না আমি নিজেই এ ব্যাপারে বর্ণনা করি। তারপর উভয়ই চললেন, পরিশেষে একটি নৌকায় চড়লেন। তখন খাযির (আঃ) নৌকার একাংশ ভেঙ্গে ফেললেন। মূসা (আঃ) তাকে বললেন, আপনি কি নৌকাটি ভেঙ্গে ফেললেন, নৌকারোহীদের ডুবিয়ে ফেলার জন্যে? আপনি তো বড় মারাত্মক কাজ করেছেন। খাযির (আঃ) বললেন, আমি কি তোমাকে বলিনি যে, তুমি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবে না? মূসা (আঃ) বললেন, আমি ভুলে গিয়েছি, আপনি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করবেন না। আমার ব্যাপারটিকে আপনি কঠিন করবেন না। পুনরায় উভয়ে চলতে লাগলেন। এক স্থানে দেখতে পেলেন বালকরা খেলায় লিপ্ত। খাযির (আঃ) অবলীলাক্রমে একটি শিশুর নিকট গিয়ে তাকে হত্যা করলেন। এতে মূসা (আঃ) খুব ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, আপনি প্রাণ বিনিময় ছাড়াই একটি নিষ্পাপ প্রাণকে হত্যা করলেন? আপনি বড়ই নৃশংস কাজ করেছেন। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন আমাদের ও মূসা (আঃ) এর উপর তিনি যদি জলদি না করতেন তাহলে অবাক হওয়ার আরো মতো অনেক ঘটনা দেখতে পেতেন। তবে তিনি খাযির (আঃ) এর সম্মুখে লজ্জিত হয়ে বললেন, তারপর যদি আমি আপনাকে আর কোন কিছু জিজ্ঞেস করি তবে আপনি আমায় সাথে রাখবেন না। সত্যিই আমার ব্যাপার খুবই আপত্তিকর হয়েছে। যদি মূসা (আঃ) ধৈর্য ধরতেন তাহলে আরো বিস্ময়কর ব্যাপার দেখতে পেতেন। যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নবীর বর্ণনা করতেন, প্রথমে নিজকে দিয়ে আরম্ভ করতেন আর বলতেন, আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন এবং আমার অমুক ভাইয়ের উপরও। এভাবে নিজেদের উপর আল্লাহর রহমত কামনা করতেন। অতঃপর দু'জনে চললেন এবং মন্দ লোকদের একটি লোকালয়ে গিয়ে উঠলেন। তারা লোকদের অসংখ্য জায়গায় ঘুরে তাদের নিকট খাবার চাইলেন। তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। তারপর তারা ধ্বসে পড়ার উপক্রম একটা দেয়াল দেখতে পেলেন। খাযির (আঃ) সেটি মেরামত করে দিলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি চাইলে এর বিনিময়ে মজুরি নিতে পারতেন। খাযির (আঃ) বললেন, এখানেই আমার আর তোমার মাঝে সম্পর্কচ্ছেদ। খাযির (আঃ) মূসা (আঃ)-এর বস্ত্র ধরে বললেন, তুমি যেসব বিষয়ের উপর ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছিলে সে সবের ঘটনা বলে দিচ্ছি। নৌকাটি ছিল কিছু গরীব লোকের যারা সমুদ্রে কাজ করত’- আয়াতের শেষ পর্যন্ত পড়লেন। তারপর যখন এটাকে দখল করতে লোক আসলো, তখন ছিদ্রযুক্ত (অচলাবস্থা) দেখে ছেড়ে দিল। অতঃপর নৌকাওয়ালারা একটা কাঠ দ্বারা নৌকাটি মেরামত করে নিলো। আর বালকটি সূচনালগ্নেই ছিল কাফির। তার মা-বাবা তাকে বড়ই আদর করত। সে বড় হলে ওদের দু’জনকেই অবাধ্যতা ও কুফুরীর দিকে নিয়ে যেত। অতএব আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম, আল্লাহ যেন তাদেরকে এর বিনিময়ে আরো উত্তম পবিত্র স্বভাবের ও অধিক স্নেহভাজন ছেলে দান করেন। আর দেয়ালটি ছিল শহরের দু'টো ইয়াতীম বালকের’- আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৯৪৯, ইসলামিক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ৩৬
Sahih
حبان ب. حدثنا موسى. (قال): عبد الله ب. أخبرنا مبارك. (قال): يونس ب. أخبرنا يزيد العيلي. إسحاق ب. إبراهيم الحنظلي، محمد ب. رافع، وعبد بن. وروى حميد أيضاً. (استخدم ابن رافع "حدسناً" وقال الآخرون: أخبرنا عبد الرزاق. قال): أخبرنا معمر. السياق حديث معمر من رواية عبد وابن رافع. وقال يونس ومعمر عن الزهري. (قال الزهري): سعيد بن. المسيب، عروة ب. الزبير، علقمة ب. وقاص، وعبيد الله ب. عبد الله ب. عتبة ب. روى مسعود عن عائشة رضي الله عنها، زوجة النبي صلى الله عليه وسلم، أنه لما قال لها المفترون ما قالوه، وبرأها الله من تهمهم، جاءني جميع الرواة بجزء من حديثها. وكان بعضهم أحفظ حديثها من بعض، فكانت روايته أصح. فحفظت الحديث الذي روته لي عن كل واحد منهم. وتؤيد الأحاديث بعضها بعضًا. وبحسب ما قالته عائشة رضي الله عنها، زوجة النبي صلى الله عليه وسلم، قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أراد أن يخرج في غزوة، كان يقرع بين نسائه، فمن وقعت عليها القرعة خرج معها رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقالت: لقد قرعت بيننا في غزوة كانت ستخوضها، فوقعت عليّ القرعة، فخرجت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم. وكان ذلك بعد نزول آية الحجاب. كنتُ راكبةً على الجمل داخل هودجي، ونزلتُ منه عند وصولنا. ولما انتهى رسول الله صلى الله عليه وسلم من حملته وعاد، وكنا نقترب من المدينة، أعلن عن مسيرة ليلية. فلما أعلن المسيرة، نهضتُ على الفور وسرتُ، حتى أنني سبقتُ الجيش. ولما قضيتُ حاجتي، ذهبتُ إلى أغراضي. لمستُ صدري فرأيتُ أن قلادتي المصنوعة من حبات الزعفران قد انقطعت. فالتفتُّ على الفور وبحثتُ عنها. وقد منعني البحث عنها من المضيّ. أما المجموعة التي حمّلت سرجي فقد حمّلت هودجي وانصرفت. وحمّلته على الجمل الذي كنتُ راكبةً عليه. ظنّوا أنني بداخله أيضًا. قال: في ذلك الوقت، كانت النساء ذوات بشرة فاتحة. لم يكنّ قد سمنّ، ولم تكن أجسادهنّ مغطاة باللحم. كنّ يأكلن القليل من الطعام. حمّل الجمع الهودج على الجمل ورفعوها دون أن يسألوا عن وزنها. كنتُ فتاةً صغيرةً رقيقة. طار الجمل بعيدًا. وجدتُ قلادتي بعد رحيل الجيش. ثم وصلتُ إلى المكان الذي كانوا فيه، فلم أجد أحدًا يناديني أو يجيبني. عدتُ إلى مكاني، ظنًا مني أن الجماعة ستبحث عني وتعود. وبينما كنتُ جالسة، شعرتُ بالنعاس وغفوت. استراح صفوان بن معطل السلام لاحقًا خلف جيش زكوان. وفي نهاية الليل، انطلق في الطريق، وقضى الليلة حيث كنتُ، فرأى خيال شخص نائم. فأتى إليّ على الفور وعرفني؛ بل إنه رآني قبل أن يُفرض عليّ ارتداء الحجاب. ولما عرفني، استيقظتُ على استرجائه. وغطيتُ وجهي على الفور بحجابي. والله، لم ينطق بكلمة. لم أسمع منه شيئًا سوى استرجائه. ثم أنزل جمله، وداس على رجله الأمامية، فركبتُ الجمل. وقادني على جملي وانطلقنا. وأخيرًا، لحقنا بالجيش بعد أن خيّموا حين اشتدّ حرّ الظهيرة. حينها، كان ما قُدّر لي قد تمّ. تولّى عبد الله بن أبيّ بن سلول معظم هذه المهمة. بعد ذلك، وصلنا إلى المدينة المنورة. ولما وصلنا، كنت مريضًا لمدة شهر. كان الناس ينشرون كلام المُفترين. لم أشعر بشيء من ذلك. لكن خلال مرضي، أثار شكوكي عدم رؤيتي نفس اللطف من رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي رأيته من قبل حين كنت مريضًا. كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يدخل، يُسلّم، ثم يقول: [يقول شيئًا]. وهذا أيضًا أثار شكوكي. لكنني لم أشعر بأي ضغينة. أخيرًا، بعد أن شفيت، خرجت. وذهبت معي أم مسته إلى مناسي. كان هذا المكان مرحاضنا. كنا نخرج فقط في الليل. حدث هذا قبل أن نبني المراحيض قرب بيوتنا. كانت عادتنا في المراحيض عادة العرب الأوائل، وكنا نجد صعوبة في بنائها بجوار بيوتنا. مشينا أنا وأم مسته، وهي ابنة أبي رم بن مطلب بن عبدي مناف، وأمها ابنة سحر بن عامر، عمة أبي بكر الصديق. وابن أم مسته هو مسته بن أساسة بن عباد بن مطلفة. وبعد أن قضينا أنا وبنت أبي رم حاجتنا، توجهنا نحو بيتي. فدست أم مسته على نقابها وقالت: "لعنة مسته!" فقلت لها: "يا لكِ من امرأة عظيمة! أتلعنين رجلاً كان في بدر؟" فقالت: "يا امرأة، ألم تسمعي ما قاله؟" فسألتها: "ماذا قال؟" فأخبرتني بما قاله المفترون، فازداد مرضي سوءًا. عندما عدتُ إلى المنزل، دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم وسلم عليّ، ثم سألني: "أتأذنين لي بالذهاب إلى والديّ؟" فقلت: "أردتُ في تلك اللحظة أن أفهم الخبر منهما جيدًا". فأذن لي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فذهبتُ إلى والديّ وقلتُ لأمي: "يا أمي! ما يقول الناس؟" فقالت أمي: "يا ابنتي، اهدئي! والله، ما أقلّ امرأة جميلة متزوجة من رجل يحبها، وإن كان لها أزواج، إلا وتكلمت عليهم بسوء". فقلت: "سبحان الله! هل يقول الناس هذا حقًا؟" ثم بكيتُ تلك الليلة، وقضيتُها أبكي بلا انقطاع، ولم أنم. ثم قضيتُها أبكي مرة أخرى. ولما انقطع الوحي، دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم علي بن أبي طالب وأسامة بن زيد ليستشيراه في أمر فراق أهله. قال أسامة بن زيد، مُظهِرًا معرفته ببراءة أهله ومحبته لهم، لرسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا رسول الله، هؤلاء أهلك، لا نعلم إلا الخير». أما علي بن أبي طالب فقال: «لن يُصيبك الله بضيق، فهناك نساء كثيرات غيرها، ولو سألت الجارية لصدقتك». عندئذٍ دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بريرة وسأله: «بريرة، هل رأيت في عائشة ما يُثير الشك فيك؟» فقال له بريرة: «والله الذي بعثك بالحق، ما رأيت فيه ما أُعيبه، ولكنه شاب يافع، ينام على عجينه الذي يعجنه لأهله، وتأتي الغنم فتأكله». عندئذٍ، قام رسول الله صلى الله عليه وسلم وصعد المنبر، طالباً الاعتذار من عبد الله بن أبي بن سلول. قالت عائشة رضي الله عنها: "بينما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم على المنبر، قال: يا أيها المسلمون! من يقبل اعتذاري من رجل ألحق بأهلي أشد الأذى؟ والله، ما أعلم بأهلي إلا خيراً، إنما دخل عليهم معي." فقام سعد بن معاذ الأنصاري وقال: "أنا أقبل اعتذارك منه يا رسول الله!" فإن كان من قبيلة الأوس، قطعنا عنقه. قال: "إن كان من إخواننا الخزرج، فأصدر الأمر وسنطيعه". ثم قام سعد بن عبادة، وكان شيخ الخزرج ورجلاً صالحاً، إلا أن حماسته أضلته. فقال لسعد بن معاذ: "لقد أخطأت! والله لا تستطيع قتله، ولا أنت قادر على قتله!". ثم قام أسيد بن حضير، وكان ابن عم سعد بن معاذ. فقال لسعد بن عبادة: "لقد أخطأت! والله لا بد أن نقتله. إنك منافق حقاً". «أنتم تقاتلون في سبيل المنافقين». فثارت القبيلتان (الأوس والخزرج)، بل وعزمتا على القتال. وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم واقفًا على المنبر، يُهدئهما حتى سكتتا، فسكت هو أيضًا. قالت عائشة: «بكيتُ ذلك اليوم، ولم تتوقف دموعي، ولم أستطع النوم. ثم بكيتُ في الليلة التالية، ولم تتوقف دموعي، ولم أستطع النوم. ظنّ والداي أن بكائي سيُفطر قلبي. وبينما كانا جالسين بجانبي وأنا أبكي، استأذنت امرأة من الأنصار بالدخول، فأذنتُ لها. فجلست المرأة وبدأت تبكي. وبينما كنا على هذه الحال، دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم وسلم علينا، ثم جلس. لم يكن قد جلس بجانبي منذ أن قيل ما قيل عني، فقد انتظر شهرًا ولم يُوحَ إليه شيء عني». لما جلس رسول الله صلى الله عليه وسلم، تشهد. ثم قال: يا عائشة، إن الأمر هو أنكِ قد أتيتني بتهم كذا وكذا. فإن كنتِ بريئة، برأكِ الله. وإن كنتِ قد ارتكبتِ ذنبًا، فاستغفري الله! توبي إليه! فإن العبد إذا اعترف بذنبه ثم تاب، قبل الله توبته. قالت عائشة: لما فرغ رسول الله صلى الله عليه وسلم من الكلام، انقطعت دموعي، ولم أشعر بقطرة واحدة. فقلت لأبي: أجب عني فيما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم! فقال أبي: والله، ما أدري ما أقول لرسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم قلت لأمي: «أجيبيني عما قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم!» فقلت: «والله ما أدري ما أقول لرسول الله صلى الله عليه وسلم». فقلت، مع أنني كنت صغيرًا لا أعرف الكثير من القرآن: «والله أعلم أنكِ سمعتِ ما قيل، بل ترسخ في حصونكِ وآمنتِ به. ولو قلت لكِ إني بريء - والله يعلم براءتي - لما صدقتني. ولو اعترفت لكِ بشيء - والله يعلم براءتي - لأثبتِ لي. والله ما أجد لكِ مثلاً أضربه لكِ. ولكن كما قال أبو يوسف، فإن أمري من صبر جميل. والله هو الذي يُستعان به فيما قلت». فقال: «ثم انقلبتُ على فراشي». والله، علمتُ في تلك اللحظة أنني بريئة وأن الله سيبرئني. ولكن والله، لم يخطر ببالي أن ينزل الوحي (القرآن) في شأني. لم تكن حالتي النفسية وتوقعاتي توحي بأن الله (جل جلاله وعظمته) سينزل آية عني. بل كنتُ أتوقع أن يرى رسول الله (صلى الله عليه وسلم) رؤيا في منامه، وأن الله سيبرئني من خلالها. والله، لم يكن رسول الله (صلى الله عليه وسلم) قد غادر مجلسه، ولم يخرج أحد من أهل البيت حين أنزل الله (جل جلاله وعظمته) الوحي على نبيه (صلى الله عليه وسلم). فعادت إليه تلك الشدة التي غمرته لحظة الوحي. ومن ثقل الكلمات التي أُنزلت عليه، انهمرت حبات العرق من جبينه في ذلك اليوم البارد. ولما انقضى الوحي، ابتسم رسول الله (صلى الله عليه وسلم). وكانت أولى كلماته: "يا عائشة! قال لي الله: «لقد برأك». فقالت لي أمي: «قم واذهب إليه». فقلت: «والله لا أستطيع الذهاب إليه، ولا أستطيع أن أمدح أحدًا غير الله! فهو الذي أنزل براءتي». فأنزل الله تعالى عشر آيات، بدءًا من سورة النور، الآية 11. هذه الآيات أنزلها الله تعالى بشأن براءتي. فقال أبو بكر، الذي كان ينفق على مستة لقرابتهما وفقرهما: «والله، بعد ما قاله عن عائشة، لن أعطيه شيئًا بعد الآن!». فأنزل الله تعالى الآية: «ولا يحلف أهل البيت والمال على أن لا ينصروا أهل القربى...» حتى الآية الكريمة: «ألا تحبون أن يغفر الله لكم؟». قال ابن موسى: «عبد الله بن...» قال مبارك: "هذه أكثر الآيات رجاءً في كتاب الله". قال بكر: "والله، ليغفر لي الله"، ثم عاد يُطعم مسته كما كان يُطعمه سابقًا، قائلاً: "لن أتوقف عن إطعامه أبدًا". قال: "سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم زوجته زينب بنت جحش عن أمري، فقال: هل كنتِ تعلمين أم ماذا رأيتِ؟ فأجابت: يا رسول الله، إني أحفظ أذني وعيني، والله ما أعلم إلا خيرًا". قال: "ومع ذلك، كانت هي التي تحدتني من زوجات النبي صلى الله عليه وسلم، فحفظها الله بالتقوى والصلاح. فبدأت أختها حنينة بنت جحش تُخاصمها، فماتت مع الذين هلكوا". قال: "هذا ما جاءنا من أمر هذه الأمة!". وفي الحديث، استخدم التعبير التالي: "أغضبه حماسه..."
হিব্বান খ. মূসা আমাদের কাছে বর্ণনা করলেন। (তিনি বললেন) আবদুল্লাহ খ. মোবারক আমাদের জানান। (তিনি বললেন) ইউনুস খ. ইয়াজিদ আল-আয়লি আমাদের জানিয়েছেন। ইসহাক খ. ইব্রাহিম আল-হানযালী, মুহাম্মদ খ. রাফি' এবং আবদ খ. হুমায়দও বর্ণনা করেছেন। (ইবনে রাফি 'হাদ্দেসেনা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন; অন্যরা বলেছেন: আবদ আল-রাজ্জাক আমাদেরকে অবহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: মা'মার আমাদেরকে অবহিত করেছেন। প্রসঙ্গটি আবদ ও ইবনে রাফি'র বর্ণনা থেকে মা'মারের হাদীস। ইউনুস ও মা’মার উভয়েই যুহরী থেকে বলেন। (যুহরী বলেন) সাঈদ খ. মুসায়্যিব, উরওয়া খ. জুবায়ের, আলকামা খ. ওয়াক্কাস ও উবায়দুল্লাহ খ. আবদিল্লাহ খ. উতবা খ. মাসউদ (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন নিন্দুকেরা তাঁকে যা বলেছিল তা বলল এবং আল্লাহ তাঁকে তাদের অভিযোগ থেকে মুক্তি দিলেন, তখন সকল বর্ণনাকারী আমাকে তাঁর হাদিসের একটি অংশ বর্ণনা করেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের চেয়ে তাঁর হাদিসটি ভালোভাবে মুখস্থ করেছিলেন এবং এর বর্ণনাও অধিক নির্ভরযোগ্য ছিল। তিনি তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আমাকে যে হাদিসগুলো বর্ণনা করেছিলেন, আমি সেগুলো মুখস্থ করে নিয়েছি। হাদিসগুলো পরস্পরকে সমর্থন করে। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, নবী (সাঃ)-এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কোনো অভিযানে যেতে চাইতেন, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে লটারি করতেন। যার ওপর লটারি পড়ত, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাঁর সঙ্গে অভিযানে যেতেন। তিনি বলেন: তিনি যে যুদ্ধে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন, তার জন্য আমাদের মধ্যে লটারি করেন এবং লটারিটি আমার ওপর পড়ে। আমিও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বের হয়েছিলাম। পর্দা সংক্রান্ত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর এই ঘটনা ঘটেছিল। আমি আমার পালকির ভেতরে উটের পিঠে চড়েছিলাম এবং আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে তা থেকে নেমেছিলাম। অবশেষে, যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর অভিযান শেষ করে ফিরে এলেন এবং আমরা মদিনার কাছাকাছি পৌঁছলাম, তখন তিনি একটি রাতের অভিযানের ঘোষণা দিলেন। যখন তিনি অভিযানের ঘোষণা দিলেন, আমি সাথে সাথে উঠে হাঁটতে শুরু করলাম, এমনকি সেনাবাহিনীকেও ছাড়িয়ে গেলাম। শৌচকর্ম সেরে আমি আমার জিনিসপত্রের কাছে গেলাম। আমি আমার বুকে হাত দিয়ে দেখলাম যে জাফরানের পুঁতি দিয়ে তৈরি আমার হারটি ভেঙে গেছে। আমি সাথে সাথে ফিরে গিয়ে হারটি খুঁজতে লাগলাম। ওটা খোঁজার জন্যই আমি এগোতে পারছিলাম না। যে দলটি আমার জিন বোঝাই করেছিল, তারাই আমার পালকি বোঝাই করে চলে গিয়েছিল। তারা ওটা আমার চড়া উটের পিঠে চাপিয়ে দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল আমিও ওটার ভেতরেই আছি। তিনি বললেন: সেই সময়ে নারীরা ফর্সা ছিল। তারা মোটা হয়ে যায়নি, তাদের শরীর মাংসে ঢাকা ছিল না। তারা সামান্য খাবার খাচ্ছিল। লোকেরা পালকিগুলো উটের পিঠে চাপিয়ে দিল এবং ওজন নিয়ে কোনো প্রশ্ন না করেই সেগুলো তুলে নিল। আমি ছিলাম এক অল্পবয়সী, কোমল বালিকা। তারা উটটিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার পর আমি আমার হারটি খুঁজে পেলাম। তারপর আমি যেখানে তারা ছিল সেখানে পৌঁছালাম, কিন্তু দেখলাম কেউ আমাকে ডাকছে না বা সাড়াও দিচ্ছে না। আমি যেখানে ছিলাম সেখানে ফিরে গেলাম, এই ভেবে যে লোকেরা আমাকে খুঁজে ফিরে আসবে। সেখানে বসে থাকতে থাকতে আমার ঘুম পেল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। পরে সাফওয়ান ইবনে মু'আত্তাল আল-সুলাম যাকওয়ানের সেনাবাহিনীর পেছনে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। রাতের শেষে তিনি পথে বেরিয়ে পড়লেন, যেখানে আমি ছিলাম সেখানেই রাত কাটালেন এবং একজন ঘুমন্ত ব্যক্তির ছায়া দেখতে পেলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আমার কাছে এলেন এবং আমাকে চিনতে পারলেন; প্রকৃতপক্ষে, আমার উপর পর্দার বাধ্যবাধকতা আরোপ হওয়ার আগেই তিনি আমাকে দেখেছিলেন। যখন তিনি আমাকে চিনতে পারলেন, আমি তাঁর ইস্তিরজা (সুরক্ষার প্রার্থনা) শুনে জেগে উঠলাম। এবং আমি সঙ্গে সঙ্গে আমার পর্দা দিয়ে মুখ ঢেকে নিলাম। আল্লাহর কসম, তিনি আমার সাথে একটি কথাও বলেননি। তাঁর ইস্তিরজা ছাড়া আমি তাঁর কাছ থেকে আর কিছুই শুনিনি। তিনি তাঁর উটকে বসালেন; সেটির সামনের পায়ে পা রাখলেন, এবং আমি উটের পিঠে চড়লাম। আর তিনি আমাকে আমার উটের পিঠে বসিয়ে নিয়ে গেলেন এবং আমরা রওনা হলাম। অবশেষে, যখন দুপুরের প্রচণ্ড গরম পড়ল, তখন সেনাবাহিনী শিবির স্থাপন করার পর আমরা তাদের নাগাল পেলাম। ততক্ষণে, আমার জন্য যা নির্ধারিত ছিল তা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল এই কাজের বেশিরভাগ দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর আমরা মদিনায় পৌঁছালাম। যখন আমরা মদিনায় পৌঁছালাম, আমি এক মাস অসুস্থ ছিলাম। লোকেরা অপবাদকারীদের কথা ছড়াচ্ছিল। এতে আমার কিছু মনে হয়নি। কিন্তু আমার অসুস্থতার সময়, আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর কাছ থেকে সেই একই ধরনের দয়া দেখতে না পাওয়াটা আমাকে সন্দিহান করে তুলেছিল, যা আমি আগে অসুস্থ থাকাকালীন দেখেছিলাম। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কেবল প্রবেশ করতেন, সালাম দিতেন, এবং তারপর বলতেন: [তিনি কিছু একটা বলতেন]। এটাও আমাকে সন্দিহান করে তুলেছিল। কিন্তু আমার মনে কোনো বিদ্বেষ জন্মায়নি। অবশেষে, সুস্থ হওয়ার পর আমি বাইরে গেলাম। উম্মে মিস্তাও আমার সাথে মানাসির দিকে গেলেন। এই জায়গাটা ছিল আমাদের পায়খানা। আমরা শুধু রাতেই বাইরে যেতাম। এই ঘটনাটি ঘটেছিল আমাদের বাড়ির কাছে শৌচাগার তৈরি করার আগে। পায়খানা নিয়ে আমাদের প্রথাটি ছিল আদি আরবদের প্রথা। বাড়ির পাশে শৌচাগার তৈরি করতে আমাদের অসুবিধা হতো। উম্মে মিস্তা আর আমি হাঁটছিলাম। এই মহিলা হলেন আবু রহম ইবনুল মুত্তালিব ইবনুল আবদি মেনাফের কন্যা। তাঁর মা হলেন সাহর ইবনুল আমিরের কন্যা, যিনি আবু বকর আল-সিদ্দিকের ফুফু। উম্মে মিস্তার ছেলে হলেন মিস্তা ইবনুল উসাসা ইবনুল আব্বাদ ইবনুল মুত্তালিফা। তারপর, আমি আর বিনতে আবু রহম শৌচকর্ম সেরে আমার বাড়ির দিকে রওনা হলাম। তখন উম্মে মিস্তা তাঁর ওড়নার উপর পা দিয়ে বললেন: "মিস্তা অভিশপ্ত হোক!" আমি তাকে বললাম: “কী ভয়ানক কথা তুমি বলেছ! তুমি কি বদরের এক ব্যক্তিকে অভিশাপ দিচ্ছ?” সে বলল: “মহিলা, সে কী বলেছে তা তুমি শোনোনি?” আমি জিজ্ঞেস করলাম: “সে কী বলেছে?” এরপর তিনি আমাকে জানালেন, নিন্দুকেরা কী বলেছিল। আর আমার অসুস্থতা বহুগুণ বেড়ে গেল। আমি যখন বাড়ি ফিরলাম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবেশ করলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি আমাকে আমার বাবা-মায়ের কাছে যাওয়ার অনুমতি দেবে?” আমি বললাম, “এই মুহূর্তে আমি তাদের কাছ থেকে খবরটা ভালোভাবে জানতে চাই।” আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে অনুমতি দিলেন। তাই আমি আমার বাবা-মায়ের কাছে গেলাম এবং আমার মাকে বললাম, “ও মা! লোকেরা কী বলছে?” আমার মা বললেন, “ও মা, শান্ত হও! আল্লাহর কসম, এমন সুন্দরী নারী খুব কমই আছে যারা এমন পুরুষকে বিয়ে করে যে তাদের ভালোবাসে, এমনকি তাদের অন্য সঙ্গী থাকলেও তারা তাদের নিন্দা করে না।” আমি বললাম, “সুবহানাল্লাহ! লোকেরা কি সত্যিই এমন কথা বলে?” তারপর সেই রাতে আমি কাঁদলাম। আমি সারা রাত একটানা কেঁদে কাটালাম, আমার চোখ থামল না এবং ঘুমও হলো না। তারপর আমি আবার সারা রাত কাঁদলাম। যখন ওহী আসা বন্ধ হয়ে গেল, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য আলি ইবনে আবি তালিব এবং উসামা ইবনে যায়েদকে ডাকলেন। উসামা ইবনে যায়েদ, তাঁর পরিবারের নির্দোষিতার কথা জানিয়ে এবং তাদের প্রতি তাঁর স্নেহ প্রকাশ করে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! তারা আপনারই পরিবার। আমরা ভালো ছাড়া আর কিছুই জানি না।" আর আলি ইবনে আবি তালিব বললেন: "আল্লাহ আপনাকে কষ্টে ফেলবেন না; সে ছাড়াও আরও অনেক নারী আছে। আপনি যদি দাসীকে জিজ্ঞাসা করেন, সে আপনাকে সত্যিটা বলে দেবে।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বারিরাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন: "বারিরা! তুমি কি আয়েশা সম্পর্কে এমন কিছু দেখেছ যা তোমার মনে সন্দেহের উদ্রেক করতে পারে?" বেরিরা তাকে বললেন: “আমি সেই আল্লাহর কসম করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি তার মধ্যে এমন কিছুই দেখিনি যাতে আমি তার দোষ ধরতে পারি। তবে, সে একজন যুবক, নিতান্তই একজন তরুণ। সে তার পরিবারের জন্য যে আটা মাখে, তার উপরেই ঘুমায় এবং ভেড়া এসে তা খায়।” এই কথা শুনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়ালেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের কাছে ক্ষমা চাইলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন: “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মিম্বরে ছিলেন, তখন তিনি বললেন: ‘হে মুসলিম সম্প্রদায়! যে ব্যক্তি আমার পরিবারের চরম ক্ষতি করেছে, তার কাছে কে আমার ক্ষমা গ্রহণ করবে? আল্লাহর কসম, আমি আমার পরিবার সম্পর্কে ভালো ছাড়া আর কিছুই জানি না। সে তো কেবল আমার সাথেই তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছিল।’” এই কথা শুনে সা'দ ইবনে মু'আয আল-আনসারী উঠে দাঁড়িয়ে বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল, আমি তার কাছ থেকে আপনার ক্ষমা গ্রহণ করব!” "যদি সে আওস গোত্রের হয়, আমরা তার ঘাড় কেটে ফেলব। আর যদি সে আমাদের ভাই খাজরাজদের হয়, তুমি আদেশ দাও, আমরা তোমার আদেশ পালন করব," সে বলল। তারপর সা'দ ইবনে উবাদাহ উঠে দাঁড়াল। এই লোকটি ছিল খাজরাজ গোত্রের সর্দার এবং একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তার অতি উৎসাহ তাকে অজ্ঞ করে তুলেছিল। সে সা'দ ইবনে মু'আযকে বলল: "তুমি ভুল করেছ! আল্লাহর কসম, তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে না, আর তাকে হত্যা করার ক্ষমতাও তোমার নেই!" তারপর উসাইদ ইবনে হুদায়র উঠে দাঁড়াল। এই লোকটি ছিল সা'দ ইবনে মু'আযের চাচাতো ভাই। সে সা'দ ইবনে উবাদাহকে বলল: "তুমি ভুল করেছ! আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই তাকে হত্যা করব। তুমি সত্যিই একজন মুনাফিক।" "তোমরা মুনাফিকদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করছ।" আর দুটি গোত্র (অর্থাৎ আওস ও খাজরাজ) উঠে দাঁড়াল। তারা যুদ্ধ করারও ইচ্ছা পোষণ করল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি তাদের শান্ত করতে থাকলেন, যতক্ষণ না তারা চুপ হয়ে গেল। তিনিও চুপ হয়ে গেলেন। আয়েশা (রা.) বললেন: "সেদিন আমি কেঁদেছিলাম। আমার কান্না থামছিল না, আর আমি ঘুমাতে পারছিলাম না। তারপরের রাতেও আমি আবার কাঁদলাম। আমার কান্না থামছিল না, আর আমি ঘুমাতে পারছিলাম না। আমার মা-বাবা ভেবেছিলেন যে আমার কান্না আমার হৃদয়কে ছিন্নভিন্ন করে দেবে। যখন তারা আমার পাশে বসেছিলেন এবং আমি কাঁদছিলাম, তখন আনসারদের একজন মহিলা ভেতরে আসার অনুমতি চাইলেন। আমি তাকে অনুমতি দিলাম। মহিলাটি বসে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা যখন এই অবস্থায় ছিলাম, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবেশ করলেন এবং আমাদের সালাম দিলেন। তারপর তিনি বসলেন। আমার সম্পর্কে যা বলা হয়েছিল, তারপর থেকে তিনি আর আমার পাশে বসেননি।" তিনি এক মাস অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু আমার সম্পর্কে তাঁর কাছে কিছুই অবতীর্ণ হয়নি। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসলেন, তিনি তাশাহহুদ পাঠ করলেন। তারপর তিনি বললেন: “হে আয়েশা, অবস্থাটা হলো এই যে, তোমার পক্ষ থেকে আমার কাছে অমুক অমুক অভিযোগ এসেছে। তুমি যদি নির্দোষ হও, আল্লাহ তোমাকে খালাস করে দেবেন। আর যদি কোনো পাপ করে থাকো, তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও! তাঁর কাছে তওবা করো! কারণ কোনো বান্দা যদি পাপ স্বীকার করে এবং তারপর তওবা করে, তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।” আয়েশা বললেন: “যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কথা শেষ করলেন, আমার কান্না থেমে গেল। আমি আর এক ফোঁটাও অনুভব করছিলাম না। আমি আমার বাবাকে বললাম: ‘আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বলেছেন, সে ব্যাপারে আমার পক্ষ থেকে উত্তর দিন!’ আমার বাবা বললেন: ‘আল্লাহর কসম, আমি জানি না আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কী বলব।’” (তারপর) আমি আমার মাকে বললাম: ‘আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বলেছেন, সে ব্যাপারে আমার পক্ষ থেকে উত্তর দিন!’” আমি বললাম, আর তিনি উত্তর দিলেন, “আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কী বলব, তা আমি জানি না।” তখন, যদিও আমি ছোট ছিলাম এবং কুরআন সম্পর্কে খুব বেশি জানতাম না, আমি বললাম, “আল্লাহর কসম, আমি ভালোভাবেই বুঝতে পারছি যে যা বলা হয়েছে তা আপনি শুনেছেন। এমনকি তা আপনার দুর্গগুলোতেও গেঁথে গেছে এবং আপনি তা বিশ্বাস করেছেন। আমি যদি আপনাকে বলতাম যে আমি নির্দোষ—আর আল্লাহ জানেন যে আমি নির্দোষ—আপনি আমাকে বিশ্বাস করতেন না। আমি যদি আপনার কাছে কিছু স্বীকার করতাম—আর আল্লাহ জানেন যে আমি নির্দোষ—আপনি আমাকে সমর্থন করতেন। আল্লাহর কসম, আপনার দেওয়ার মতো কোনো উদাহরণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। তবে, ইউসুফের বাবা যেমন বলেছিলেন, আমার বিষয়টি হলো সুন্দর ধৈর্যের। আপনি যা বলেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহই একমাত্র ভরসা।” তিনি বললেন, “তারপর আমি পাশ ফিরে আমার বিছানায় শুয়ে পড়লাম।” আর আল্লাহর কসম, সেই মুহূর্তে আমি জানতাম যে আমি নির্দোষ এবং আল্লাহ আমাকে খালাস দেবেন। কিন্তু আল্লাহর কসম, আমি ভাবিনি যে আমার ব্যাপারে (কুরআনের) ওহী অবতীর্ণ হবে। আমার মনের অবস্থা ও প্রত্যাশা এমন ছিল না যে আল্লাহ (মহিমান্বিত ও সর্বোচ্চ) আমার সম্পর্কে কোনো আয়াত অবতীর্ণ করবেন। বরং আমি আশা করেছিলাম যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমের মধ্যে একটি স্বপ্ন দেখবেন এবং সেই স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে খালাস করে দেবেন। আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মজলিস ত্যাগ করেননি; পরিবারের কেউই বাইরে যাননি যখন আল্লাহ (মহিমান্বিত ও সর্বোচ্চ) তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপর ওহী অবতীর্ণ করলেন। ওহী অবতীর্ণ হওয়ার মুহূর্তে যে তীব্রতা তাঁকে আচ্ছন্ন করেছিল তা ফিরে এল। তাঁর উপর অবতীর্ণ বাণীর ভারে সেই শীতের দিনে তাঁর কপাল থেকে ঘামের ফোঁটা ঝরে পড়ছিল। যখন ওহীর অবস্থা শেষ হলো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাসলেন। তাঁর প্রথম কথা ছিল: "হে আয়েশা!" আল্লাহ তোমাকে খালাস দিয়েছেন।” এই কথা শুনে আমার মা আমাকে বললেন: “ওঠো এবং তার কাছে যাও।” আমি বললাম: “আল্লাহর কসম, আমি তার কাছে যেতে পারব না। আমি আল্লাহ ছাড়া আর কারো প্রশংসা করতে পারি না! তিনিই আমার নির্দোষিতা অবতীর্ণ করেছেন।” অতঃপর আল্লাহ (মহিমান্বিত ও সর্বোচ্চ) সূরা আন-নূরের ১১ নং আয়াত থেকে শুরু করে দশটি আয়াত অবতীর্ণ করলেন। এই আয়াতগুলো আল্লাহ (মহিমান্বিত ও সর্বোচ্চ) আমার নির্দোষিতা সম্পর্কে অবতীর্ণ করেছিলেন। আবু বকর—যিনি আত্মীয়তা ও দারিদ্র্যের কারণে মিসতাকে ভরণপোষণ দিতেন—বললেন: “আল্লাহর কসম, আয়েশা সম্পর্কে সে যা বলেছে, এরপর আমি তাকে আর কখনো কিছুই দেব না!” অতঃপর আল্লাহ (মহিমান্বিত ও সর্বোচ্চ) এই আয়াতটি অবতীর্ণ করলেন, “যারা উচ্চ মর্যাদা ও সম্পদের অধিকারী, তারা যেন এই শপথ না করে যে তারা তাদের আত্মীয়দের সাহায্য করবে না...” থেকে শুরু করে এই মহৎ আয়াত পর্যন্ত, “তুমি কি চাও না যে আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিন?” ইবনে মুসা বলেছেন: “আব্দুল্লাহ ইবনে... মুবারক বললেন, “আল্লাহর কিতাবে এটিই সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক আয়াত।” বকর বললেন, “আল্লাহর কসম, আমি কামনা করি আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করেন,” এবং তিনি মিসতাহকে আগের মতোই জীবিকা দিতে শুরু করলেন, এই বলে যে, “আমি তাকে এটা দেওয়া কখনো বন্ধ করব না।” তিনি বললেন, “আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রী যায়নাব বিনতে জাহশকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন, এই বলে যে, ‘তুমি কি জানতে (অথবা) কী দেখেছ?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার কান ও চোখকে রক্ষা করি। আল্লাহর কসম, আমি ভালো ছাড়া আর কিছুই জানি না।’ তিনি বললেন, ‘অথচ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। আল্লাহ তাকে ধার্মিকতা ও ন্যায়পরায়ণতা দিয়ে রক্ষা করেছিলেন।’ তার বোন, হানিনা বিনতে জাহশ, তার সাথে বিবাদ শুরু করেন এবং তিনি নিহতদের মধ্যে নিহত হন।” তিনি বললেন, “এই উম্মতের ব্যাপার থেকে এটাই আমাদের কাছে এসেছে!” আর হাদিসে তিনি এই অভিব্যক্তিটি ব্যবহার করেছেন, "তার উদ্যম তাকে ক্রুদ্ধ করেছিল..."
সহীহ মুসলিম : ৩৭
Sahih
حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، الأَيْلِيُّ ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، وَالسِّيَاقُ، حَدِيثُ مَعْمَرٍ مِنْ رِوَايَةِ عَبْدٍ وَابْنِ رَافِعٍ قَالَ يُونُسُ وَمَعْمَرٌ جَمِيعًا عَنِ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَعَلْقَمَةُ بْنِ وَقَّاصٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَالَ لَهَا أَهْلُ الإِفْكِ مَا قَالُوا فَبَرَّأَهَا اللَّهُ مِمَّا قَالُوا وَكُلُّهُمْ حَدَّثَنِي طَائِفَةً مِنْ حَدِيثِهَا وَبَعْضُهُمْ كَانَ أَوْعَى لِحَدِيثِهَا مِنْ بَعْضٍ وَأَثْبَتَ اقْتِصَاصًا وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمُ الْحَدِيثَ الَّذِي حَدَّثَنِي وَبَعْضُ حَدِيثِهِمْ يُصَدِّقُ بَعْضًا ذَكَرُوا أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ سَفَرًا أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ فَأَيَّتُهُنَّ خَرَجَ سَهْمُهَا خَرَجَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَهُ - قَالَتْ عَائِشَةُ - فَأَقْرَعَ بَيْنَنَا فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا فَخَرَجَ فِيهَا سَهْمِي فَخَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَلِكَ بَعْدَ مَا أُنْزِلَ الْحِجَابُ فَأَنَا أُحْمَلُ فِي هَوْدَجِي وَأُنْزَلُ فِيهِ مَسِيرَنَا حَتَّى إِذَا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوِهِ وَقَفَلَ وَدَنَوْنَا مِنَ الْمَدِينَةِ آذَنَ لَيْلَةً بِالرَّحِيلِ فَقُمْتُ حِينَ آذَنُوا بِالرَّحِيلِ فَمَشَيْتُ حَتَّى جَاوَزْتُ الْجَيْشَ فَلَمَّا قَضَيْتُ مِنْ شَأْنِي أَقْبَلْتُ إِلَى الرَّحْلِ فَلَمَسْتُ صَدْرِي فَإِذَا عِقْدِي مِنْ جَزْعِ ظَفَارِ قَدِ انْقَطَعَ فَرَجَعْتُ فَالْتَمَسْتُ عِقْدِي فَحَبَسَنِي ابْتِغَاؤُهُ وَأَقْبَلَ الرَّهْطُ الَّذِينَ كَانُوا يَرْحَلُونَ لِي فَحَمَلُوا هَوْدَجِي فَرَحَلُوهُ عَلَى بَعِيرِيَ الَّذِي كُنْتُ أَرْكَبُ وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنِّي فِيهِ - قَالَتْ - وَكَانَتِ النِّسَاءُ إِذْ ذَاكَ خِفَافًا لَمْ يُهَبَّلْنَ وَلَمْ يَغْشَهُنَّ اللَّحْمُ إِنَّمَا يَأْكُلْنَ الْعُلْقَةَ مِنَ الطَّعَامِ فَلَمْ يَسْتَنْكِرِ الْقَوْمُ ثِقَلَ الْهَوْدَجِ حِينَ رَحَلُوهُ وَرَفَعُوهُ وَكُنْتُ جَارِيَةً حَدِيثَةَ السِّنِّ فَبَعَثُوا الْجَمَلَ وَسَارُوا وَوَجَدْتُ عِقْدِي بَعْدَ مَا اسْتَمَرَّ الْجَيْشُ فَجِئْتُ مَنَازِلَهُمْ وَلَيْسَ بِهَا دَاعٍ وَلاَ مُجِيبٌ فَتَيَمَّمْتُ مَنْزِلِي الَّذِي كُنْتُ فِيهِ وَظَنَنْتُ أَنَّ الْقَوْمَ سَيَفْقِدُونِي فَيَرْجِعُونَ إِلَىَّ فَبَيْنَا أَنَا جَالِسَةٌ فِي مَنْزِلِي غَلَبَتْنِي عَيْنِي فَنِمْتُ وَكَانَ صَفْوَانُ بْنُ الْمُعَطَّلِ السُّلَمِيُّ ثُمَّ الذَّكْوَانِيُّ قَدْ عَرَّسَ مِنْ وَرَاءِ الْجَيْشِ فَادَّلَجَ فَأَصْبَحَ عِنْدَ مَنْزِلِي فَرَأَى سَوَادَ إِنْسَانٍ نَائِمٍ فَأَتَانِي فَعَرَفَنِي حِينَ رَآنِي وَقَدْ كَانَ يَرَانِي قَبْلَ أَنْ يُضْرَبَ الْحِجَابُ عَلَىَّ فَاسْتَيْقَظْتُ بِاسْتِرْجَاعِهِ حِينَ عَرَفَنِي فَخَمَّرْتُ وَجْهِي بِجِلْبَابِي وَوَاللَّهِ مَا يُكَلِّمُنِي كَلِمَةً وَلاَ سَمِعْتُ مِنْهُ كَلِمَةً غَيْرَ اسْتِرْجَاعِهِ حَتَّى أَنَاخَ رَاحِلَتَهُ فَوَطِئَ عَلَى يَدِهَا فَرَكِبْتُهَا فَانْطَلَقَ يَقُودُ بِي الرَّاحِلَةَ حَتَّى أَتَيْنَا الْجَيْشَ بَعْدَ مَا نَزَلُوا مُوغِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ فَهَلَكَ مَنْ هَلَكَ فِي شَأْنِي وَكَانَ الَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَاشْتَكَيْتُ حِينَ قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ شَهْرًا وَالنَّاسُ يُفِيضُونَ فِي قَوْلِ أَهْلِ الإِفْكِ وَلاَ أَشْعُرُ بِشَىْءٍ مِنْ ذَلِكَ وَهُوَ يَرِيبُنِي فِي وَجَعِي أَنِّي لاَ أَعْرِفُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللُّطْفَ الَّذِي كُنْتُ أَرَى مِنْهُ حِينَ أَشْتَكِي إِنَّمَا يَدْخُلُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيُسَلِّمُ ثُمَّ يَقُولُ " كَيْفَ تِيكُمْ " . فَذَاكَ يَرِيبُنِي وَلاَ أَشْعُرُ بِالشَّرِّ حَتَّى خَرَجْتُ بَعْدَ مَا نَقِهْتُ وَخَرَجَتْ مَعِي أُمُّ مِسْطَحٍ قِبَلَ الْمَنَاصِعِ وَهُوَ مُتَبَرَّزُنَا وَلاَ نَخْرُجُ إِلاَّ لَيْلاً إِلَى لَيْلٍ وَذَلِكَ قَبْلَ أَنَّ نَتَّخِذَ الْكُنُفَ قَرِيبًا مِنْ بُيُوتِنَا وَأَمْرُنَا أَمْرُ الْعَرَبِ الأُوَلِ فِي التَّنَزُّهِ وَكُنَّا نَتَأَذَّى بِالْكُنُفِ أَنْ نَتَّخِذَهَا عِنْدَ بُيُوتِنَا فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَأُمُّ مِسْطَحٍ وَهِيَ بِنْتُ أَبِي رُهْمِ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ وَأُمُّهَا ابْنَةُ صَخْرِ بْنِ عَامِرٍ خَالَةُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَابْنُهَا مِسْطَحُ بْنُ أُثَاثَةَ بْنِ عَبَّادِ بْنِ الْمُطَّلِبِ فَأَقْبَلْتُ أَنَا وَبِنْتُ أَبِي رُهْمٍ قِبَلَ بَيْتِي حِينَ فَرَغْنَا مِنْ شَأْنِنَا فَعَثَرَتْ أُمُّ مِسْطَحٍ فِي مِرْطِهَا فَقَالَتْ تَعِسَ مِسْطَحٌ . فَقُلْتُ لَهَا بِئْسَ مَا قُلْتِ أَتَسُبِّينَ رَجُلاً قَدْ شَهِدَ بَدْرًا . قَالَتْ أَىْ هَنْتَاهُ أَوَلَمْ تَسْمَعِي مَا قَالَ قُلْتُ وَمَاذَا قَالَ قَالَتْ فَأَخْبَرَتْنِي بِقَوْلِ أَهْلِ الإِفْكِ فَازْدَدْتُ مَرَضًا إِلَى مَرَضِي فَلَمَّا رَجَعْتُ إِلَى بَيْتِي فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ " كَيْفَ تِيكُمْ " . قُلْتُ أَتَأْذَنُ لِي أَنْ آتِيَ أَبَوَىَّ قَالَتْ وَأَنَا حِينَئِذٍ أُرِيدُ أَنْ أَتَيَقَّنَ الْخَبَرَ مِنْ قِبَلِهِمَا . فَأَذِنَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجِئْتُ أَبَوَىَّ فَقُلْتُ لأُمِّي يَا أُمَّتَاهْ مَا يَتَحَدَّثُ النَّاسُ فَقَالَتْ يَا بُنَيَّةُ هَوِّنِي عَلَيْكِ فَوَاللَّهِ لَقَلَّمَا كَانَتِ امْرَأَةٌ قَطُّ وَضِيئَةٌ عِنْدَ رَجُلٍ يُحِبُّهَا وَلَهَا ضَرَائِرُ إِلاَّ كَثَّرْنَ عَلَيْهَا - قَالَتْ - قُلْتُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَقَدْ تَحَدَّثَ النَّاسُ بِهَذَا قَالَتْ فَبَكَيْتُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ حَتَّى أَصْبَحْتُ لاَ يَرْقَأُ لِي دَمْعٌ وَلاَ أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ ثُمَّ أَصَبَحْتُ أَبْكِي وَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ وَأُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ حِينَ اسْتَلْبَثَ الْوَحْىُ يَسْتَشِيرُهُمَا فِي فِرَاقِ أَهْلِهِ - قَالَتْ - فَأَمَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَأَشَارَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالَّذِي يَعْلَمُ مِنْ بَرَاءَةِ أَهْلِهِ وَبِالَّذِي يَعْلَمُ فِي نَفْسِهِ لَهُمْ مِنَ الْوُدِّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هُمْ أَهْلُكَ وَلاَ نَعْلَمُ إِلاَّ خَيْرًا . وَأَمَّا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ لَمْ يُضَيِّقِ اللَّهُ عَلَيْكَ وَالنِّسَاءُ سِوَاهَا كَثِيرٌ وَإِنْ تَسْأَلِ الْجَارِيَةَ تَصْدُقْكَ - قَالَتْ - فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَرِيرَةَ فَقَالَ " أَىْ بَرِيرَةُ هَلْ رَأَيْتِ مِنْ شَىْءٍ يَرِيبُكِ مِنْ عَائِشَةَ " . قَالَتْ لَهُ بَرِيرَةُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنْ رَأَيْتُ عَلَيْهَا أَمْرًا قَطُّ أَغْمِصُهُ عَلَيْهَا أَكْثَرَ مِنْ أَنَّهَا جَارِيَةٌ حَدِيثَةُ السِّنِّ تَنَامُ عَنْ عَجِينِ أَهْلِهَا فَتَأْتِي الدَّاجِنُ فَتَأْكُلُهُ - قَالَتْ - فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ فَاسْتَعْذَرَ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَىٍّ ابْنِ سَلُولَ - قَالَتْ - فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ " يَا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ مَنْ يَعْذِرُنِي مِنْ رَجُلٍ قَدْ بَلَغَ أَذَاهُ فِي أَهْلِ بَيْتِي فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ عَلَى أَهْلِي إِلاَّ خَيْرًا وَلَقَدْ ذَكَرُوا رَجُلاً مَا عَلِمْتُ عَلَيْهِ إِلاَّ خَيْرًا وَمَا كَانَ يَدْخُلُ عَلَى أَهْلِي إِلاَّ مَعِي " . فَقَامَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ الأَنْصَارِيُّ فَقَالَ أَنَا أَعْذِرُكَ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كَانَ مِنَ الأَوْسِ ضَرَبْنَا عُنُقَهُ وَإِنْ كَانَ مِنْ إِخْوَانِنَا الْخَزْرَجِ أَمَرْتَنَا فَفَعَلْنَا أَمْرَكَ - قَالَتْ - فَقَامَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَهُوَ سَيِّدُ الْخَزْرَجِ وَكَانَ رَجُلاً صَالِحًا وَلَكِنِ اجْتَهَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ فَقَالَ لِسَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ كَذَبْتَ لَعَمْرُ اللَّهِ لاَ تَقْتُلُهُ وَلاَ تَقْدِرُ عَلَى قَتْلِهِ . فَقَامَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَهُوَ ابْنُ عَمِّ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَقَالَ لِسَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ كَذَبْتَ لَعَمْرُ اللَّهِ لَنَقْتُلَنَّهُ فَإِنَّكَ مُنَافِقٌ تُجَادِلُ عَنِ الْمُنَافِقِينَ فَثَارَ الْحَيَّانِ الأَوْسُ وَالْخَزْرَجُ حَتَّى هَمُّوا أَنْ يَقْتَتِلُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِ فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّضُهُمْ حَتَّى سَكَتُوا وَسَكَتَ - قَالَتْ - وَبَكَيْتُ يَوْمِي ذَلِكَ لاَ يَرْقَأُ لِي دَمْعٌ وَلاَ أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ ثُمَّ بَكَيْتُ لَيْلَتِي الْمُقْبِلَةَ لاَ يَرْقَأُ لِي دَمْعٌ وَلاَ أَكْتَحِلُ بِنَوْمٍ وَأَبَوَاىَ يَظُنَّانِ أَنَّ الْبُكَاءَ فَالِقٌ كَبِدِي فَبَيْنَمَا هُمَا جَالِسَانِ عِنْدِي وَأَنَا أَبْكِي اسْتَأْذَنَتْ عَلَىَّ امْرَأَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَأَذِنْتُ لَهَا فَجَلَسَتْ تَبْكِي - قَالَتْ - فَبَيْنَا نَحْنُ عَلَى ذَلِكَ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ ثُمَّ جَلَسَ - قَالَتْ - وَلَمْ يَجْلِسْ عِنْدِي مُنْذُ قِيلَ لِي مَا قِيلَ وَقَدْ لَبِثَ شَهْرًا لاَ يُوحَى إِلَيْهِ فِي شَأْنِي بِشَىْءٍ - قَالَتْ - فَتَشَهَّدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ جَلَسَ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ يَا عَائِشَةُ فَإِنَّهُ قَدْ بَلَغَنِي عَنْكِ كَذَا وَكَذَا فَإِنْ كُنْتِ بَرِيئَةً فَسَيُبَرِّئُكِ اللَّهُ وَإِنْ كُنْتِ أَلْمَمْتِ بِذَنْبٍ فَاسْتَغْفِرِي اللَّهَ وَتُوبِي إِلَيْهِ فَإِنَّ الْعَبْدَ إِذَا اعْتَرَفَ بِذَنْبٍ ثُمَّ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ " . قَالَتْ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقَالَتَهُ قَلَصَ دَمْعِي حَتَّى مَا أُحِسُّ مِنْهُ قَطْرَةً فَقُلْتُ لأَبِي أَجِبْ عَنِّي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا قَالَ . فَقَالَ وَاللَّهِ مَا أَدْرِي مَا أَقُولُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لأُمِيِّ أَجِيبِي عَنِّي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ وَاللَّهِ مَا أَدْرِي مَا أَقُولُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ وَأَنَا جَارِيَةٌ حَدِيثَةُ السِّنِّ لاَ أَقْرَأُ كَثِيرًا مِنَ الْقُرْآنِ إِنِّي وَاللَّهِ لَقَدْ عَرَفْتُ أَنَّكُمْ قَدْ سَمِعْتُمْ بِهَذَا حَتَّى اسْتَقَرَّ فِي نُفُوسِكُمْ وَصَدَّقْتُمْ بِهِ فَإِنْ قُلْتُ لَكُمْ إِنِّي بَرِيئَةٌ وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنِّي بَرِيئَةٌ لاَ تُصَدِّقُونِي بِذَلِكَ وَلَئِنِ اعْتَرَفْتُ لَكُمْ بِأَمْرٍ وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنِّي بَرِيئَةٌ لَتُصَدِّقُونَنِي وَإِنِّي وَاللَّهِ مَا أَجِدُ لِي وَلَكُمْ مَثَلاً إِلاَّ كَمَا قَالَ أَبُو يُوسُفَ فَصَبْرٌ جَمِيلٌ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ . قَالَتْ ثُمَّ تَحَوَّلْتُ فَاضْطَجَعْتُ عَلَى فِرَاشِي - قَالَتْ - وَأَنَا وَاللَّهِ حِينَئِذٍ أَعْلَمُ أَنِّي بَرِيئَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ مُبَرِّئِي بِبَرَاءَتِي وَلَكِنْ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنْ يُنْزَلَ فِي شَأْنِي وَحْىٌ يُتْلَى وَلَشَأْنِي كَانَ أَحْقَرَ فِي نَفْسِي مِنْ أَنْ يَتَكَلَّمَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيَّ بِأَمْرٍ يُتْلَى وَلَكِنِّي كُنْتُ أَرْجُو أَنْ يَرَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّوْمِ رُؤْيَا يُبَرِّئُنِي اللَّهُ بِهَا قَالَتْ فَوَاللَّهِ مَا رَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَجْلِسَهُ وَلاَ خَرَجَ مِنْ أَهْلِ الْبَيْتِ أَحَدٌ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَهُ مَا كَانَ يَأْخُذُهُ مِنَ الْبُرَحَاءِ عِنْدَ الْوَحْىِ حَتَّى إِنَّهُ لَيَتَحَدَّرُ مِنْهُ مِثْلُ الْجُمَانِ مِنَ الْعَرَقِ فِي الْيَوْمِ الشَّاتِ مِنْ ثِقَلِ الْقَوْلِ الَّذِي أُنْزِلَ عَلَيْهِ - قَالَتْ - فَلَمَّا سُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَضْحَكُ فَكَانَ أَوَّلَ كَلِمَةٍ تَكَلَّمَ بِهَا أَنْ قَالَ " أَبْشِرِي يَا عَائِشَةُ أَمَّا اللَّهُ فَقَدْ بَرَّأَكِ " . فَقَالَتْ لِي أُمِّي قُومِي إِلَيْهِ فَقُلْتُ وَاللَّهِ لاَ أَقُومُ إِلَيْهِ وَلاَ أَحْمَدُ إِلاَّ اللَّهَ هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ بَرَاءَتِي - قَالَتْ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ} عَشْرَ آيَاتٍ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ بَرَاءَتِي - قَالَتْ - فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى مِسْطَحٍ لِقَرَابَتِهِ مِنْهُ وَفَقْرِهِ وَاللَّهِ لاَ أُنْفِقُ عَلَيْهِ شَيْئًا أَبَدًا بَعْدَ الَّذِي قَالَ لِعَائِشَةَ . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { وَلاَ يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ مِنْكُمْ وَالسَّعَةِ أَنْ يُؤْتُوا أُولِي الْقُرْبَى} إِلَى قَوْلِهِ { أَلاَ تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ} قَالَ حِبَّانُ بْنُ مُوسَى قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ هَذِهِ أَرْجَى آيَةٍ فِي كِتَابِ اللَّهِ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ إِنِّي لأُحِبُّ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لِي . فَرَجَعَ إِلَى مِسْطَحٍ النَّفَقَةَ الَّتِي كَانَ يُنْفِقُ عَلَيْهِ وَقَالَ لاَ أَنْزِعُهَا مِنْهُ أَبَدًا . قَالَتْ عَائِشَةُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلَ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَمْرِي " مَا عَلِمْتِ أَوْ مَا رَأَيْتِ " . فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحْمِي سَمْعِي وَبَصَرِي وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ إِلاَّ خَيْرًا . قَالَتْ عَائِشَةُ وَهِيَ الَّتِي كَانَتْ تُسَامِينِي مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَعَصَمَهَا اللَّهُ بِالْوَرَعِ وَطَفِقَتْ أُخْتُهَا حَمْنَةُ بِنْتُ جَحْشٍ تُحَارِبُ لَهَا فَهَلَكَتْ فِيمَنْ هَلَكَ . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَهَذَا مَا انْتَهَى إِلَيْنَا مِنْ أَمْرِ هَؤُلاَءِ الرَّهْطِ . وَقَالَ فِي حَدِيثِ يُونُسَ احْتَمَلَتْهُ الْحَمِيَّةُ .
(…) আবূ রাবী আল আতাকী, হাসান ইবনু আলী আল হুলওয়ানী ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... যুহরী (রহঃ) থেকে ইউনুস এবং মা'মার এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী ফুলায়হ এর হাদীসে রয়েছে, গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে অজ্ঞতামূলক আচরণ করতে উত্তেজিত করেছিল। মা'মার তার বর্ণনায় যেমন বলেছেন। আর সালিহ-এর হাদীসের মধ্যে ইউনুসের বর্ণনার মতো এতে রয়েছে ---- অর্থাৎ- ‘গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে উত্তেজিত করলো।’ সালিহ-এর হাদীসে এটাও রয়েছে যে, উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘আয়েশা (রাঃ) হাস্সান ইবনু সাবিত (রাযিঃ) কে কটু বাক্য বলার বিষয়টিকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, হাস্সান তো নিম্নোক্ত কবিতা রচনা করেছেন, "আমার পিতা-মাতা, আমার ইযযত সবই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইজ্জত-সম্মানের জন্যে রক্ষাকবচ।" এতে এটাও বর্ধিত রয়েছে যে, আয়েশা (রাঃ) বলেন, যে লোকের ব্যাপারে দোষারোপ করা হয়েছে তিনি বলতেন, সুবহানাল্লাহ আল্লাহর কসম! আমি কক্ষনো কোন মহিলার-আবরণ খুলিনি। অতঃপর তিনি আল্লাহর পথে শাহীদ হন। ইয়াকুব ইবনু ইব্রাহীম-এর হাদীসে রয়েছেঃمُوعِرِينَ فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ কিন্তু আবদুর রাযাক (রহঃ) বলেন, مُوغِرِينَ আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) বলেন, আমি আবদুর বাযযককে مُوغِرِينَ শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, لْوَغْرَةُ অর্থ কঠিন গরম। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৭৬৪, ইসলামিক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ৩৮
Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ أَحَدَ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى يَسْمَعُهُ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّهُ يُشْرَكُ بِهِ وَيُجْعَلُ لَهُ الْوَلَدُ ثُمَّ هُوَ يُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ " . حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ إِلاَّ قَوْلَهُ " وَيُجْعَلُ لَهُ الْوَلَدُ " . فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْهُ .
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ...... আবু মূসা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসের মধ্যে وَيُجْعَلُ لَهُ الْوَلَدُ কথাটি উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮২২, ইসলামিক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ৩৯
Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ أَحَدَ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى يَسْمَعُهُ مِنَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّهُ يُشْرَكُ بِهِ وَيُجْعَلُ لَهُ الْوَلَدُ ثُمَّ هُوَ يُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ " . حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ إِلاَّ قَوْلَهُ " وَيُجْعَلُ لَهُ الْوَلَدُ " . فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْهُ .
(…/...) মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ (রহঃ) ...... আবু মূসা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসের মধ্যে وَيُجْعَلُ لَهُ الْوَلَدُ কথাটি উল্লেখ নেই। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৮২২, ইসলামিক সেন্টার)
সহীহ মুসলিম : ৪০
Sahih
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ الْمُسْتَوْرِدُ الْقُرَشِيُّ عِنْدَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تَقُومُ السَّاعَةُ وَالرُّومُ أَكْثَرُ النَّاسِ " . فَقَالَ لَهُ عَمْرٌو أَبْصِرْ مَا تَقُولُ . قَالَ أَقُولُ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَئِنْ قُلْتَ ذَلِكَ إِنَّ فِيهِمْ لَخِصَالاً أَرْبَعًا إِنَّهُمْ لأَحْلَمُ النَّاسِ عِنْدَ فِتْنَةٍ وَأَسْرَعُهُمْ إِفَاقَةً بَعْدَ مُصِيبَةٍ وَأَوْشَكُهُمْ كَرَّةً بَعْدَ فَرَّةٍ وَخَيْرُهُمْ لِمِسْكِينٍ وَيَتِيمٍ وَضَعِيفٍ وَخَامِسَةٌ حَسَنَةٌ جَمِيلَةٌ وَأَمْنَعُهُمْ مِنْ ظُلْمِ الْمُلُوكِ .
আবদুল মালিক ইবনু শু’আয়ব ইবনু লায়স (রহঃ) ..... মুসতাওরিদ আল কুরাশী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এর নিকট বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, রোমীয়দের সংখ্যা যখন সবচেয়ে বেশী হবে তখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ কথা শুনা মাত্র আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) তাকে বললেন, কি বলছ, চিন্তা-ভাবনা করে বলো। তিনি বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা শুনেছি আমি তাই বর্ণনা করছি। তারপর আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) বললেন, তুমি যদি বলো, তবে সত্যই বলছ। কেননা তাদের মধ্যে চারটি গুণ আছে। প্রথমতঃ ফিতনার সময় তারা সবচেয়ে বেশী ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে থাকে। দ্বিতীয়তঃ মুসীবাতের পর দ্রুত তাদের মধ্যে স্বাভাবিকতা ফিরে আসে। তৃতীয়তঃ যুদ্ধ থেকে পলায়নের পর সর্বপ্রথম তারা আক্রমণ করতে সক্ষম হয় এবং, চতুর্থতঃ মিসকীন, ইয়াতীম ও দুর্বলের জন্য তারা সবচেয়ে বেশী শুভাকাঙ্ক্ষী। অতঃপর পঞ্চমতঃ সুন্দর গুণটি হলো এই যে, তারা শাসকবর্গের অত্যাচারকে অধিক প্রতিহত করে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৭০১৫, ইসলামিক সেন্টার)