Patience সম্পর্কে হাদিস
১১৬ টি প্রামাণিক হাদিস পাওয়া গেছে
সুনান আবু দাউদ : ৪১
আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস; বা মুজিবাহ আল-বাহিলিয়ার চাচা
Daif
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْ مُجِيبَةَ الْبَاهِلِيَّةِ، عَنْ أَبِيهَا، أَوْ عَمِّهَا أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ انْطَلَقَ فَأَتَاهُ بَعْدَ سَنَةٍ وَقَدْ تَغَيَّرَتْ حَالَتُهُ وَهَيْئَتُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا تَعْرِفُنِي قَالَ " وَمَنْ أَنْتَ " . قَالَ أَنَا الْبَاهِلِيُّ الَّذِي جِئْتُكَ عَامَ الأَوَّلِ . قَالَ " فَمَا غَيَّرَكَ وَقَدْ كُنْتَ حَسَنَ الْهَيْئَةِ " . قَالَ مَا أَكَلْتُ طَعَامًا إِلاَّ بِلَيْلٍ مُنْذُ فَارَقْتُكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِمَ عَذَّبْتَ نَفْسَكَ " . ثُمَّ قَالَ " صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ " . قَالَ زِدْنِي فَإِنَّ بِي قُوَّةً . قَالَ " صُمْ يَوْمَيْنِ " . قَالَ زِدْنِي . قَالَ " صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " . قَالَ زِدْنِي . قَالَ " صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ " . وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ الثَّلاَثَةِ فَضَمَّهَا ثُمَّ أَرْسَلَهَا .
বাহিলিয়্যাহ গোত্রীয় ‘মুজীবা’ নাম্নী নামক জনৈক মহিলা থেকে তার পিতা অথবা চাচার সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি (পিতা অথবা চাচা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দেখা করে চলে যান। অতঃপর এক বছর পরে তিনি আসেন। তখন তার মারাত্মক স্বাস্থ্যহানি ঘটেছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে চিনতে পারেননি? তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কে? তিনি বললেন, আমি ঐ বাহিলী, আমি গত বছর এসেছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি কারণে তোমার এরূপ পরিবর্তন ঘটলো, অথচ তুমি তো সুন্দর স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলে? আমি বললাম, আমি আপনার নিকট থেকে বিদায় নেয়ার পর থেকে রাত ছাড়া আহার করিনি (দিনে অনবরত সাওম রেখেছি)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি তোমার নফসকে কেন এরূপ কষ্ট দিয়েছো? অতঃপর তিনি বললেনঃ ধৈর্যের মাস (রমাযান) এবং প্রতি মাসে একটি করে সওম রাখো। তিনি বললেন, আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন, কেননা আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বললেনঃ দু‘দিন সওম রাখো। লোকটি বললেন, আরো আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ (প্রতি মাসে) তিনটি সওম রাখো। লোকটি বললেন, আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি হারাম মাসগুলোতে সওম রাখো এবং সওম বর্জনও করো। তুমি হারাম মাসগুলোতে সওম রাখো এবং সওম বর্জনও করো। তুমি হারাম মাসগুলোতে সওম রাখো এবং সওম বর্জনও করো। একথা বলে তিনি তিনটি আঙ্গুল একত্র করার পর তা ফাঁক করে দিলেন।[1] দুর্বল।
সুনান আবু দাউদ : ৪২
সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ)
Daif
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، سُلَيْمَانَ بْنِ سَمُرَةَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمَّى خَيْلَنَا خَيْلَ اللَّهِ إِذَا فَزِعْنَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا إِذَا فَزِعْنَا بِالْجَمَاعَةِ وَالصَّبْرِ وَالسَّكِينَةِ وَإِذَا قَاتَلْنَا .
সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনার পর বললেন, ‘আমরা যখন ভীত হয়ে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঘোড়াকে আল্লাহর ঘোড়া নামে ডাকতেন। আর ‘আমরা ভীত হয়ে পড়লে বা যুদ্ধে লিপ্ত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সংঘবদ্ধ থাকতে, ধৈর্য ধরতে এবং ধীরস্থির অবলম্বনের আদেশ দিতেন।
সুনান আবু দাউদ : ৪৩
Sahih
حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ - يَعْنِي ابْنَ مَعْمَرٍ وَكَانَ كَاتِبًا لَهُ - قَالَ كَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى حِينَ خَرَجَ إِلَى الْحَرُورِيَّةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَيَّامِهِ الَّتِي لَقِيَ فِيهَا الْعَدُوَّ قَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ لاَ تَتَمَنَّوْا لِقَاءَ الْعَدُوِّ وَسَلُوا اللَّهَ تَعَالَى الْعَافِيَةَ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاصْبِرُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ ظِلاَلِ السُّيُوفِ " . ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَمُجْرِيَ السَّحَابِ وَهَازِمَ الأَحْزَابِ اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنَا عَلَيْهِمْ " .
‘উমার ইবনু ‘উবাইদুল্লাহর মুক্তদাস সালিম আবুন নাদর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি ‘উমারের সচিব ছিলেন। তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) হারূরার যুদ্ধে রওয়ানা হলে ‘আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ‘আওফা (রাঃ) তাকে পত্র লিখে জানালেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন কোন যুদ্ধে শত্রুর সম্মুখীন হয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ ‘‘হে লোকসকল! তোমরা শত্রুবাহিনীর সাক্ষাৎ কামনা করো না, বরং আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। যখন তোমরা শত্রুর সাথে সংঘষে লিপ্ত হবে, ধৈর্য ধারণ করবে। আর জেনে রাখো, তরবারির ছায়ার নীচে জান্নাত।’’ অতঃপর তিনি বললেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আপনি কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনকারী এবং শত্রুবাহিনীকে পর্যুদস্তকারী, আপনি তাদেরকে পরাজিত করুন এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।’’
সুনান আবু দাউদ : ৪৪
মালিক বিন আওস বিন আল-হাদাথান (রা.)
Sahih
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ الْمَعْنَى، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ أَرْسَلَ إِلَىَّ عُمَرُ حِينَ تَعَالَى النَّهَارُ فَجِئْتُهُ فَوَجَدْتُهُ جَالِسًا عَلَى سَرِيرٍ مُفْضِيًا إِلَى رِمَالِهِ فَقَالَ حِينَ دَخَلْتُ عَلَيْهِ يَا مَالُ إِنَّهُ قَدْ دَفَّ أَهْلُ أَبْيَاتٍ مِنْ قَوْمِكَ وَإِنِّي قَدْ أَمَرْتُ فِيهِمْ بِشَىْءٍ فَاقْسِمْ فِيهِمْ . قُلْتُ لَوْ أَمَرْتَ غَيْرِي بِذَلِكَ . فَقَالَ خُذْهُ . فَجَاءَهُ يَرْفَأُ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَلْ لَكَ فِي عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَالزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ نَعَمْ . فَأَذِنَ لَهُمْ فَدَخَلُوا ثُمَّ جَاءَهُ يَرْفَأُ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَلْ لَكَ فِي الْعَبَّاسِ وَعَلِيٍّ قَالَ نَعَمْ . فَأَذِنَ لَهُمْ فَدَخَلُوا فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا - يَعْنِي عَلِيًّا - فَقَالَ بَعْضُهُمْ أَجَلْ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنَهُمَا وَارْحَمْهُمَا . قَالَ مَالِكُ بْنُ أَوْسٍ خُيِّلَ إِلَىَّ أَنَّهُمَا قَدَّمَا أُولَئِكَ النَّفَرَ لِذَلِكَ . فَقَالَ عُمَرُ رَحِمَهُ اللَّهُ اتَّئِدَا . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أُولَئِكَ الرَّهْطِ فَقَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . قَالُوا نَعَمْ . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَالْعَبَّاسِ رضى الله عنهما فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . فَقَالاَ نَعَمْ . قَالَ فَإِنَّ اللَّهَ خَصَّ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم بِخَاصَّةٍ لَمْ يَخُصَّ بِهَا أَحَدًا مِنَ النَّاسِ فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى { وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُسَلِّطُ رُسُلَهُ عَلَى مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ } وَكَانَ اللَّهُ أَفَاءَ عَلَى رَسُولِهِ بَنِي النَّضِيرِ فَوَاللَّهِ مَا اسْتَأْثَرَ بِهَا عَلَيْكُمْ وَلاَ أَخَذَهَا دُونَكُمْ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْخُذُ مِنْهَا نَفَقَةَ سَنَةٍ أَوْ نَفَقَتَهُ وَنَفَقَةَ أَهْلِهِ سَنَةً وَيَجْعَلُ مَا بَقِيَ أُسْوَةَ الْمَالِ . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أُولَئِكَ الرَّهْطِ فَقَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمُونَ ذَلِكَ قَالُوا نَعَمْ . ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى الْعَبَّاسِ وَعَلِيٍّ رضى الله عنهما فَقَالَ أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ هَلْ تَعْلَمَانِ ذَلِكَ قَالاَ نَعَمْ . فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجِئْتَ أَنْتَ وَهَذَا إِلَى أَبِي بَكْرٍ تَطْلُبُ أَنْتَ مِيرَاثَكَ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ وَيَطْلُبُ هَذَا مِيرَاثَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَحِمَهُ اللَّهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّهُ لَصَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ فَوَلِيَهَا أَبُو بَكْرٍ فَلَمَّا تُوُفِّيَ أَبُو بَكْرٍ قُلْتُ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوَلِيُّ أَبِي بَكْرٍ فَوَلِيتُهَا مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ أَلِيَهَا فَجِئْتَ أَنْتَ وَهَذَا وَأَنْتُمَا جَمِيعٌ وَأَمْرُكُمَا وَاحِدٌ فَسَأَلْتُمَانِيهَا فَقُلْتُ إِنْ شِئْتُمَا أَنْ أَدْفَعَهَا إِلَيْكُمَا عَلَى أَنَّ عَلَيْكُمَا عَهْدَ اللَّهِ أَنْ تَلِيَاهَا بِالَّذِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلِيهَا فَأَخَذْتُمَاهَا مِنِّي عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ جِئْتُمَانِي لأَقْضِيَ بَيْنَكُمَا بِغَيْرِ ذَلِكَ وَاللَّهِ لاَ أَقْضِي بَيْنَكُمَا بِغَيْرِ ذَلِكَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ فَإِنْ عَجَزْتُمَا عَنْهَا فَرُدَّاهَا إِلَىَّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِنَّمَا سَأَلاَهُ أَنْ يَكُونَ يُصَيِّرُهُ بَيْنَهُمَا نِصْفَيْنِ لاَ أَنَّهُمَا جَهِلاَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ " . فَإِنَّهُمَا كَانَا لاَ يَطْلُبَانِ إِلاَّ الصَّوَابَ . فَقَالَ عُمَرُ لاَ أُوقِعُ عَلَيْهِ اسْمَ الْقَسْمِ أَدَعُهُ عَلَى مَا هُوَ عَلَيْهِ .
মালিক ইবনু আওস ইবনুল হাসাদান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দিনের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর ‘উমার (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি তার কাছে গিয়ে দেখি, তিনি খেজুরের ছোবরার তৈরী একটি তক্তপোষের উপর বসে আছেন। আমি তার কাছে উপস্থিত হলে তিনি বললেন, হে মালিক! তোমার সম্প্রদায়ের কিছু লোক আমার কাছে এসেছে। আমি কিছু জিনিস তাদেরকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সেগুলো তুমি তাদের মধ্যে বণ্টন করে দিবে। আমি বললাম, আপনি যদি আমি ছাড়া অন্য কাউকে বণ্টনের দায়িত্ব দিতেন। তিনি বললেন, এটা নাও (বণ্টন করো)। খাদেম ইয়ারফা এসে বললো, হে আমীরুল মু‘মিনীন! উসমান ইবনু আফফান (রাঃ), ‘আব্দুর রাহমান ইবনু আওফ (রাঃ), যুবায়র ইবনুল আওয়ান (রাঃ) এবং সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) আপনার সাক্ষাতপ্রার্থী। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকে আসতে বলো। সুতরাং তারা এলেন। ইয়ারফা আবার এসে বললো, হে আমীরুল মু‘মিনীন! আল-আব্বাস ও আলী (রাঃ) ভিতরে আসার অনুমতি প্রার্থী। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকে আসতে দাও। তারাও প্রবেশ করলেন। আল আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু‘মিনীন! আমার ও আলীর মাঝে ফায়সালা করুন এবং তাদের শান্তি বিধান করুন। মালিক ইবনু আওস (রাঃ) বলেন, আমার মনে হলো, তারা দু’জনে এ জন্যই উসমান (রাঃ) ও তার সঙ্গীদের এখানে আগে পাঠিয়েছেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন, ধৈর্য ধরো শান্ত হও। অতঃপর তিনি উপস্থিত লোকদের লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের সেই মহান আল্লাহর শপথ দিচ্ছি, যাঁর নির্দেশে আসমান-যমীন সুপ্রতিষ্ঠিত। আপনাদের কি জানা আছে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘‘আমরা (নবীগণ) কোনো উত্তরাধিকার রেখে যাই না। ‘আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকাহ গণ্য’’? তারা সকলে বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি আলী ও আব্বাসকে বললেন, আপনাদের উভয়কে সেই মহান আল্লাহর শপথ করে জিজ্ঞেস করছি, যাঁর নির্দেশে আসমান-যমীন অস্তিত্বমান! আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আমাদের (নবীদের) কোনো উত্তরাধিকার নেই, ‘আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকাহ গণ্য’’? ‘উমার (রাঃ) বলেন, মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন, যা অন্য কাউকে দেননি। মহান আল্লাহ বলেন, আর যা কিছু আল্লাহ তাদের (ইয়াহুদীদের) থেকে তাঁর রাসূলের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন, তার জন্য তোমরা ঘোড়া ও উট পরিচালিত করনি। বরং আল্লাহ তাঁর রাসূলদেরকে যার উপর ইচ্ছা কর্তৃত্ব দান করেছেন। আর আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান’’[সুরাহ আল-হাশরঃ ৬] মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বনূ নাযীর গোত্রের সম্পদ ফাই হিসেবে দান করেন। আল্লাহর শপথ! এ সম্পদের ব্যাপারে তিনি তোমাদের উপর কাউকে অগ্রাধিকার দেননি এবং তিনি তোমাদের বাদ দিয়ে অন্য কাউকেও দেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পদ থেকে তার পরিবারের এক বছরের ভরণ পোষণের পরিমাণ নিতেন এবং অবশিষ্ট সম্পদ মুসলিমদের কল্যাণে ব্যায় করতেন। ‘উমার (রাঃ) উপস্থিত লোকদেরকে আবার বললেন, আমি আপনাদেরকে সেই মহান আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, যাঁর নির্দেশে আসমান-যমীন সুপ্রতিষ্ঠিত! আপনারা কি এসব জানেন? তারা বললেন, হ্যাঁ, অতঃপর তিনি আল আব্বাস ও আলী (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আমি আপনাদের উভয়কে আল্লাহর শপথ দিয়ে বলছি, যাঁর নির্দেশে আসমান-যমীন সুপ্রতিষ্ঠিত! আপনাদের কি এসব বিষয়ে জানা আছে? তারা উভয়ে বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, এখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিনিধি। আপনি এবং ইনি (আলী) আবূ বাকর (রাঃ)-এর নিকট আসলেন। আপনি আপনার ভ্রাতুস্পুত্রের পরিত্যক্ত সম্পদের আপনার মীরাস দাবী করলেন এবং ইনি তার শ্বশুরের সম্পদের স্ত্রীর মীরাস দাবী করলেন। আবূ বাকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আমাদের (নবীদের) কোনো ওয়ারিস নেই, ‘আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকাহ হিসেবে গণ্য।’’ আল্লাহ জানেন, আবূ বাকর ছিলেন সত্যবাদী, কল্যাণকামী, হিদায়াতপ্রাপ্ত ও সত্যের অনুসারী। তিনি উক্ত সম্পদের মুতাওয়াল্লী হন। পরবর্তীতে আবূ বাকর (রাঃ) মারা গেলে আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তরসূরি এবং আবূ বাকর (রাঃ)-এর প্রতিনিধি। আল্লাহর ইচ্ছায় আমি এখন এ সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক। আপনি এবং ইনি আমার নিকট এসেছেন। আপনাদেরকে উভয়ের উদ্দেশ্য এ কথা একই। আমি আপনাদের কাছে তা অর্পণ করতে পারি। শর্ত হলো, আপনারা আল্লাহর ওয়াদা মেনে চলবেন এবং এ সম্পদের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসৃত নীতি অনুসরণ করবেন। উক্ত শর্তে সেগুলো আপনারা আমার কাছ থেকে নিয়েছিলেন। পরে আবার আমার নিকট এসেছেন। আপনারা চাচ্ছেন, এখন আমি পূর্বের ফায়সালার বিপরীত ফায়সালা প্রদান করি। আল্লাহর শপথ! কিয়ামত পর্যন্ত আমি এর বিপরীত করবো না। আপনারা এ দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে এ দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত করুন। আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আর আব্বাস (রাঃ) ও আলী (রাঃ) এ সম্পত্তির দায়িত্বভার তাদের উভয়ের মধ্যে বণ্টন করতে ‘উমার (রাঃ)-এর নিকট আবেদন করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, ‘‘‘আমরা যা রেখে যাই তাতে উত্তরাধিকার হবে না। বরং তা সাদাকাহ হিসেবে গণ্য।’’ এ হাদীস তাদের উভয়ের অজানা ছিলো না। বরং তারাও সত্যের অনুসন্ধানেই ছিলেন। এ জন্যই ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি এ সম্পদ ভাগ করবো না, বরং একে এর পূর্বাবস্থায়ই রাখবো।
সুনান আবু দাউদ : ৪৫
Sahih Isnaad
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَنَّ الْحَكَمَ بْنَ نَافِعٍ، حَدَّثَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، - وَكَانَ أَحَدَ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ تِيبَ عَلَيْهِمْ - وَكَانَ كَعْبُ بْنُ الأَشْرَفِ يَهْجُو النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَيُحَرِّضُ عَلَيْهِ كُفَّارَ قُرَيْشٍ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَأَهْلُهَا أَخْلاَطٌ مِنْهُمُ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ يَعْبُدُونَ الأَوْثَانَ وَالْيَهُودُ وَكَانُوا يُؤْذُونَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ فَأَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ نَبِيَّهُ بِالصَّبْرِ وَالْعَفْوِ فَفِيهِمْ أَنْزَلَ اللَّهُ { وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ } الآيَةَ فَلَمَّا أَبَى كَعْبُ بْنُ الأَشْرَفِ أَنْ يَنْزِعَ عَنْ أَذَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ أَنْ يَبْعَثَ رَهْطًا يَقْتُلُونَهُ فَبَعَثَ مُحَمَّدَ بْنَ مَسْلَمَةَ وَذَكَرَ قِصَّةَ قَتْلِهِ فَلَمَّا قَتَلُوهُ فَزِعَتِ الْيَهُودُ وَالْمُشْرِكُونَ فَغَدَوْا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا طُرِقَ صَاحِبُنَا فَقُتِلَ . فَذَكَرَ لَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الَّذِي كَانَ يَقُولُ وَدَعَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَنْ يَكْتُبَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ كِتَابًا يَنْتَهُونَ إِلَى مَا فِيهِ فَكَتَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْمُسْلِمِينَ عَامَّةً صَحِيفَةً .
‘আব্দুর রাহমান ইবনু ‘আব্দুল্লাহ ইবনু কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। কা‘ব ইবনু মালিক (রাঃ) ছিলেন ঐ তিনজনের অন্যতম যাদের তওবা কবূল হয়। কা‘ব ইবনু আশরাফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে কুরাইশ কাফিরদের উত্তেজিত করতো এবং উসকানি দিতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার যখন হিজরাত করে মদীনায় আসেন, তখন সেখানে সব ধরণের লোকেরা বসবাস করতো। তাদের মধ্যে কিছু ছিলো মুসলিম, কিছু মূর্তিপূজারী মুশরিক এবং কিছু ইয়াহুদী সম্প্রদায়ভুক্ত। ইয়াহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের কষ্ট দিতো। মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে ধৈর্য ধারণ ও উদারতা প্রদর্শনের নির্দেশ দেন। তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ ‘‘তোমরা আহলে কিতাব ও মুশরিকদের কাছ থেকে বহু কষ্টদায়ক কথা শুনতে পাবে।’’[সূরা আলে ইমরানঃ ১৮৬] কা‘ব ইবনু আশরাফ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দেয়া থেকে রিবত থাকতে অস্বীকার করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করতে সা‘দ ইবনু মু‘আয (রাঃ)-কে একটি দল প্রেরণের নির্দেশ দেন। অতঃপর বর্ণনাকারী তার হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেনঃ কা‘ব ইবনু আশরাফকে হত্যা করা হলে ইয়াহুদী ও মুশরিকরা ভীত হয়ে পড়লো। সকালবেলা তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, রাতের বেলা কিছু লোক আমাদের সাথীর কাছে এসে তাকে হত্যা করেছে। কা‘ব ইবনু আশরাফ যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতো তিনি তাদেরকে তা জানান। তারপর ইয়াহুদী ও মুশরিকদেরকে তাদের বিরোধী আচরণ বর্জনের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মধ্যে ও তাদের মধ্যে একটি চুক্তি করতে আহবান জানালেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের, তাদের ও সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে একটি চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন।
সুনান আবু দাউদ : ৪৬
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَتَى نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى امْرَأَةٍ تَبْكِي عَلَى صَبِيٍّ لَهَا فَقَالَ لَهَا " اتَّقِي اللَّهَ وَاصْبِرِي " . فَقَالَتْ وَمَا تُبَالِي أَنْتَ بِمُصِيبَتِي فَقِيلَ لَهَا هَذَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . فَأَتَتْهُ فَلَمْ تَجِدْ عَلَى بَابِهِ بَوَّابِينَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَعْرِفْكَ فَقَالَ " إِنَّمَا الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الأُولَى " . أَوْ " عِنْدَ أَوَّلِ صَدْمَةٍ " .
আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার কাছে যান। মহিলাটি তার ছেলের মৃত্যুশোকে কাঁদছিলো। তিনি তাকে বললেনঃ আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধরো। মহিলাটি বললো, তুমি তো আমার মতো বিপদগ্রস্ত হওনি। তাকে বলা হলো, ইনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। পরে মহিলাটি তাঁর বাড়িতে এলো, কিন্তু দরজায় কোনো দারোয়ান দেখলো না। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তখন আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেনঃ প্রকৃত ধৈর্য বিপদের প্রথম দিকেই।
সুনান আবু দাউদ : ৪৭
উবাই বিন কা'ব (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنْ حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَعَا بَدَأَ بِنَفْسِهِ وَقَالَ " رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى مُوسَى لَوْ صَبَرَ لَرَأَى مِنْ صَاحِبِهِ الْعَجَبَ وَلَكِنَّهُ قَالَ { إِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَىْءٍ بَعْدَهَا فَلاَ تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِي } " . طَوَّلَهَا حَمْزَةُ .
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দু‘আ করতেন তখন প্রথমে নিজের জন্য দু‘আ করতেন এবং বলতেনঃ আমাদের উপর এবং মূসার উপর আল্লাহর রহমত। যদি তিনি ধৈর্য ধারণ করতেন, তাহলে তিনি তার সঙ্গী (খিযির) থেকে আশ্চর্যকর জিনিস দেখতে পেতেন। বরং তিনি ধৈর্য না ধরে বলেনঃإِنْ سَأَلْتُكَ عَنْ شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِنْ لَدُنِّي। ক্বারী হামযাহ শব্দটি দীর্ঘ করে পাঠ করেন।[1] সহীহ।
সুনান আবু দাউদ : ৪৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Hasan Sahih
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَشْكُو جَارَهُ فَقَالَ " اذْهَبْ فَاصْبِرْ " . فَأَتَاهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا فَقَالَ " اذْهَبْ فَاطْرَحْ مَتَاعَكَ فِي الطَّرِيقِ " . فَطَرَحَ مَتَاعَهُ فِي الطَّرِيقِ فَجَعَلَ النَّاسُ يَسْأَلُونَهُ فَيُخْبِرُهُمْ خَبَرَهُ فَجَعَلَ النَّاسُ يَلْعَنُونَهُ فَعَلَ اللَّهُ بِهِ وَفَعَلَ وَفَعَلَ فَجَاءَ إِلَيْهِ جَارُهُ فَقَالَ لَهُ ارْجِعْ لاَ تَرَى مِنِّي شَيْئًا تَكْرَهُهُ .
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তিনি বললেনঃ যাও ধৈর্য ধরো। অতঃপর সে দু’ বা তিনবার এভাবে এসে অভিযোগ করলে তিনি বললেনঃ তুমি গিয়ে তোমার জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলে রাখো। অতঃপর সে তার জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলে রাখলে লোকেরা তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করতে লাগলো এবং সে তাদেরকে তার প্রতিবেশীর খবর জানাতে থাকলো। লোকেরা তাকে অভিশাপ দিতে লাগলো, আল্লাহ তোমার প্রতি এরূপ এরূপ করুন। তার প্রতিবেশী তার নিকট এসে তাকে বললো, তুমি ফিরে যাও। ভবিষ্যতে তুমি আমার পক্ষ থেকে এরূপ কিছুর পুনরাবৃত্তি দেখবে না।[1] হাসান সহীহ।
সুনানে আন-নাসায়ী : ৪৯
It Was
Sahih
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ ثَابِتٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
" الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الأُولَى " .
আমর ইবনু আলী (রহঃ) ... সাবিত (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ধৈর্যধারন করা হল প্রথম বিপদের সময়ে।
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫০
আমর বিন সাঈদ বিন আবি হুসাইন আমাদেরকে তা (রাঃ) বলেছেন
Hasan
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ أَنْبَأَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ شُعَيْبٍ، كَتَبَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ يُعَزِّيهِ بِابْنٍ لَهُ هَلَكَ وَذَكَرَ فِي كِتَابِهِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ يُحَدِّثُ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
" إِنَّ اللَّهَ لاَ يَرْضَى لِعَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ إِذَا ذَهَبَ بِصَفِيِّهِ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ فَصَبَرَ وَاحْتَسَبَ وَقَالَ مَا أُمِرَ بِهِ بِثَوَابٍ دُونَ الْجَنَّةِ " .
সুওয়ায়দ ইবনু নাসর (রহঃ) ... আমর ইবনু সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমর ইবনু শুআয়ব (রাঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমানের এক ছেলের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করার জন্য তার কাছে একখানা চিঠি লিখেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি তার পিতাকে তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, পৃথিবীর কোন প্রিয়জন মারা যাওয়ার পর যখন মু'মিন ব্যক্তি ধৈর্যধারণ করে এবং সওয়াবের আশা রাখে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য কোন সওয়াব দিয়ে সন্তুষ্ট হন না। তিনি আরো বলেছেন, জান্নাত ছাড়া অন্য কোন সওয়াবের নির্দেশ দেওয়া হয় না।
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫১
It Was
Sahih
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ
" شَهْرُ الصَّبْرِ وَثَلاَثَةُ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ " .
যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ধৈর্যের মাস হল রমযান মাস আর প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন করা সারা বছর সওম পালন করার সমতুল্য।
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫২
আবদ আল-রহমান বিন ঘানম (রাঃ)
Sahih
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ مُسَاوِرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سَلاَّمٍ، عَنْ أَخِيهِ، زَيْدِ بْنِ سَلاَّمٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ عَنْ جَدِّهِ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، أَنَّ أَبَا مَالِكٍ الأَشْعَرِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ شَطْرُ الإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلأُ الْمِيزَانَ وَالتَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ يَمْلأُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَالصَّلاَةُ نُورٌ وَالزَّكَاةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ " .
ঈসা ইবন মুসাবির (রহঃ) ... আবু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচিত বলেছেনঃ উত্তমভাবে ওষু করা ঈমানের অর্ধেক। আর আলহামদুলিল্লাহ মীযানকে পরিপূর্ণ করে ফেলবে, তাসবীহ এবং তাকবীর আসমান এবং যমীনসমূহকে পরিপূর্ণ করে ফেললে। সালাত হল আলো আর যাকাত হল দলীল, ধৈর্য (সাওমা) হল নূর এবং কুরআন হল তোমার পক্ষের অথবা বিপক্ষের প্রমাণ।
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫৩
আবু সা'ঈদ আল খুদরি (রাঃ)
Sahih
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَاسًا، مِنَ الأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَاهُمْ ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ قَالَ
" مَا يَكُونُ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَمَنْ يَصْبِرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ وَمَا أُعْطِيَ أَحَدٌ عَطَاءً هُوَ خَيْرٌ وَأَوْسَعُ مِنَ الصَّبْرِ " .
কুতায়াবা (রহঃ) ... আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, কিছুসংখ্যক আনসারী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ভিক্ষা চাইলে তিনি তাদেরকে ভিক্ষা দিলেন। অতঃপর আবার চাইলে আবারও দিলেন এমনিভাবে তাঁর কাছে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেলে তিনি বললেন, আমার কাছে কোন কিছু থেকে থাকলে তোমাদেরকে নিশ্চয় দিতাম। এখন আমার কাছে আর দেওয়ার মত কিছুই নেই। যে ব্যক্তি ভিক্ষা থেকে দূরে থাকতে চায় আল্লাহ্ তা'আলা তাকে দূরেই রাখেন। আর যে ব্যক্তি ধৈৰ্যধারণ করে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দেন। কাউকে ধৈর্য থেকে উত্তম কোন জিনিস দান করা হয়নি।
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫৪
It Was
Hasan Sahih
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قَاتَلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي سَيِّئَاتِي قَالَ " نَعَمْ " . ثُمَّ سَكَتَ سَاعَةً قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ آنِفًا " . فَقَالَ الرَّجُلُ هَا أَنَا ذَا . قَالَ " مَا قُلْتَ " . قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي سَيِّئَاتِي قَالَ " نَعَمْ إِلاَّ الدَّيْنَ سَارَّنِي بِهِ جِبْرِيلُ آنِفًا " .
মুহাম্মদ ইবন বাশশার (রহঃ) ... আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে উপবেশন করে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যশীল হয়ে সওয়াবের নিয়তে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হই, পিছপা না হই, তাহলে কি আল্লাহ তাআলা আমরা সব পাপ মার্জনা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকলেন, পরে বললেনঃ প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? লোকটি বললোঃ এই যে, আমি এখানে। তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছিলে? সে বললোঃ আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় ধৈর্যসহকারে ইখলাসের সংগে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ করি, পিছু না হটি- সওয়াবের আশা রাখি, তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, ঋণ ব্যতীত। এইমাত্র জিবরীল (আঃ) আমাকে তা বলে গেলেন আমার কানে কানে।
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫৫
আব্দুল্লাহ বিন আবি কাতাদাহ (রাঃ)
Sahih
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَاىَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ نَادَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَمَرَ بِهِ فَنُودِيَ لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَيْفَ قُلْتَ " . فَأَعَادَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ إِلاَّ الدَّيْنَ كَذَلِكَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ " .
মুহাম্মদ ইবন সালামা ও হারিছ ইবন মিসকীন (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা (তার পিতা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললোঃ আমি যদি ধৈর্যের সাথে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে, পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করি, তাহলে কি আল্লাহ আমার সব পাপ ক্ষমা করে দিবেন? রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। যখন সে ব্যক্তি প্রস্থান করলো, তখন রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন অথবা ডাকতে বললেন। তাকে ডাকা হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি কি বললে? লোকটি তার বক্তব্য তার নিকট পুনরায় ব্যক্ত করলো। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, তবে ঋণ ব্যতীত; জিবরীল (আঃ) আমাকে এরূপ বললেন।
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫৬
আব্দুল্লাহ বিন আবি কাতাদাহ (রাঃ)
Sahih
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ قَيْسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ ضَرَبْتُ بِسَيْفِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلاً غَيْرَ مُدْبِرٍ حَتَّى أُقْتَلَ أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَاىَ قَالَ " نَعَمْ " . فَلَمَّا أَدْبَرَ دَعَاهُ فَقَالَ " هَذَا جِبْرِيلُ يَقُولُ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ عَلَيْكَ دَيْنٌ " .
আব্দুল জব্বার ইবন আ'লা (রহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবন 'আবু কাতাদা তার পিতা কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি আমার এ তলোয়ার দিয়ে ধৈর্যসহকারে সওয়াবের নিয়তে সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে শহীদ হই; তাহলে কি আমার পাপসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি চলে গেলে তাকে ডেকে বললেনঃ ইনি হলেন জিবরীল, তিনি বলছেন- তোমার উপর ঋণ থাকলে তা ব্যতীত।
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫৭
আব্দুল্লাহ ইবনু আয-যুবাইর (রাঃ)
Sahih
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، قَدِمَ رَكْبٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَمِّرِ الْقَعْقَاعَ بْنَ مَعْبَدٍ. وَقَالَ عُمَرُ رضى الله عنه بَلْ أَمِّرِ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ. فَتَمَارَيَا حَتَّى ارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا فَنَزَلَتْ فِي ذَلِكَ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَىِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} حَتَّى انْقَضَتِ الآيَةُ {وَلَوْ أَنَّهُمْ صَبَرُوا حَتَّى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ}.
হাসান ইবন মুহাম্মদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তামীম গোত্রের একদল আরোহী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলে আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কা'কা' ইবন মা'বাদকে শাসক নিযুক্ত করুন; উমর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আকরা ইবন হাবিসকে নিযুক্ত করুন। পরে তাঁরা বাদানুবাদে লিপ্ত হলে তাদের শব্দ উঁচু হয়ে গেল। তখন এই আয়াত নাযিল হলোঃ হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের সামনে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না। ..... যদি তারা আপনার বের হওয়া পর্যন্ত সবর করতো, তবে তাদের জন্য উত্তম হতো। (হুজুরাতঃ ১–৫)।
জামি আত-তিরমিযী : ৫৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
" إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَأْتُوهَا وَأَنْتُمْ تَسْعَوْنَ وَلَكِنِ ائْتُوهَا وَأَنْتُمْ تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَجَابِرٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْمَشْىِ إِلَى الْمَسْجِدِ فَمِنْهُمْ مَنْ رَأَى الإِسْرَاعَ إِذَا خَافَ فَوْتَ التَّكْبِيرَةِ الأُولَى حَتَّى ذُكِرَ عَنْ بَعْضِهِمْ أَنَّهُ كَانَ يُهَرْوِلُ إِلَى الصَّلاَةِ . وَمِنْهُمْ مَنْ كَرِهَ الإِسْرَاعَ وَاخْتَارَ أَنْ يَمْشِيَ عَلَى تُؤَدَةٍ وَوَقَارٍ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ وَقَالاَ الْعَمَلُ عَلَى حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنْ خَافَ فَوْتَ التَّكْبِيرَةِ الأُولَى فَلاَ بَأْسَ أَنْ يُسْرِعَ فِي الْمَشْىِ .
মুহাম্মাদ ইবনু আবদ আল-মালিক ইবন আবি আল-শাওয়ারেব আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবন জুরাই আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, আমাদেরকে মুয়াম্মার বর্ণনা করেছেন, আল-যুহরী থেকে, আবূ সালামার সূত্রে, আবূ কিতেনের সূত্রে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্ তাঁর উপর রহমত কায়েম করেছেন এবং সালাত কায়েম করার অনুমতি দিয়েছেন। আপনি দৌড়াচ্ছেন, কিন্তু আপনি যখন এটিতে যান আপনি প্রশান্তির সাথে হাঁটবেন, তাই আপনি যা কিছু অতিক্রম করবেন, প্রার্থনা করুন এবং আপনি যা মিস করবেন তা সম্পূর্ণ করুন।" এবং আবু কাতাদা, উবাই ইবনে কাব, এবং উবাই সাঈদ, যায়েদ ইবনে সাবিত, জাবির এবং আনাস থেকে। আবূ ঈসা (রাঃ) বলেনঃ মসজিদে হেঁটে যাওয়ার ব্যাপারে জ্ঞানীরা মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের মতামত ছিল যে একটি তাড়াহুড়ো করা উচিত। যদি তিনি ভয় পেতেন, তবে তিনি প্রথম তাকবীর মিস করতেন, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে কারো কারো সূত্রে জানা যায় যে তিনি নামাযের জন্য ছুটে আসছেন। আর তাদের মধ্যে এমন লোক ছিল যারা তাড়াহুড়ো করাকে অপছন্দ করেছিল এবং তিনি ধৈর্য ও মর্যাদার সাথে চলার পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং এটি আহমদ ও ইসহাক বলেছেন এবং তারা বলেছেন, "আবু হুরায়রার হাদিস অনুযায়ী আমল কর।" এবং ইসহাক বললেন, "যদি সে ভয় পায় তবে সে মিস করবে।" প্রথম তাকবীর, তার দ্রুত হাঁটতে দোষ নেই।
জামি আত-তিরমিযী : ৫৯
নুবাইহ বিন ওয়াহব (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْمَرٍ، اشْتَكَى عَيْنَيْهِ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَسَأَلَ أَبَانَ بْنَ عُثْمَانَ فَقَالَ اضْمِدْهُمَا بِالصَّبِرِ فَإِنِّي سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، يَذْكُرُهَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ
" اضْمِدْهُمَا بِالصَّبِرِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ بَأْسًا أَنْ يَتَدَاوَى الْمُحْرِمُ بِدَوَاءٍ مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ طِيبٌ .
ইবনু আবী উমর আমাদেরকে বলেছেন, সুফিয়ান ইবনু উয়ায়না আমাদেরকে বলেছেন, আইয়ুব ইবনু মূসার সূত্রে, নাবীহ ইবনু ওয়াহবের সূত্রে যে, ওমর ইবনু উবাইদ আল্লাহ ইবনু মুয়াম্মার ইহরাম অবস্থায় তাঁর চক্ষু চড়কগাছ হয়েছিল, তখন তিনি আবান ইবনু উসমানকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তিনি বললেন, আমি উমান ইবনু উসমান (রাঃ)-এর বর্ণনার জন্য তাদের ব্যান্ডেজ কর। আল্লাহ্র রসূল, আল্লাহ্র দোয়া ও সালাম তিনি বলেন, “তাদেরকে ধৈর্যের সাথে সম্বোধন কর। আবূ ঈসা (রাঃ) বলেন, “এটি একটি উত্তম ও সহীহ হাদীস। যখন জ্ঞানী ব্যক্তিরা ইহরাম অবস্থায় কোনো হাজীর ওষুধ খাওয়ার মধ্যে কোনো খারাপ কিছু না দেখেন, যদি না এর মধ্যে ভালো কিছু থাকে, তখন এটি অনুসরণ করা উচিত।
জামি আত-তিরমিযী : ৬০
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Isnaad Hasan
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ
" الصَّبْرُ فِي الصَّدْمَةِ الأُولَى " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আমাদের কাছে কুতাইবা বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আল-লায়ত বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনু আবী হাবীব থেকে, সাদ ইবনু সিনান থেকে, আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।
"প্রথম ধাক্কার সময় ধৈর্য ধরুন।" আবূ ঈসা (রাঃ) বলেনঃ এই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি অদ্ভুত হাদীস।