অধ্যায় ৩
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
তারগীব ওয়া তাহরীব # ০/১
(صحيح) عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ :\"مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ\". رواه البخاري ومسلم وابن ماجه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেনঃ “আল্লাহ যার কল্যান চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।” [১] \n(বুখারী, মুসলিম ও ইবনু মাজাহ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।)\n(হাসান লি গাইরিহী) হাদীছটি ত্বাবারানীও [কাবীর গ্রন্থে] বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনার বাক্য এরকমঃ\nআমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একথা বলতে শুনেছিঃ \nيَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا الْعِلْمُ بِالتَّعَلُّمِ، وَالْفِقْهُ بِالتَّفَقُّهِ، وَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَإِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ\"\n“হে লোক সকল! শিক্ষার্জনের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করা যায়, গবেষণার মাধ্যমেই ফিক্বাহ অর্জন করা যায়। আর আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের ফিক্বহ (গভীর জ্ঞান) দান করেন। إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ {আল্লাহকে তো তাঁর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই ভয় করে চলে।}(সূরা ফাতেরঃ ২৮)
০২
তারগীব ওয়া তাহরীব # ০/২
(صحيح) وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ غَيْرَهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ. \nثَلاثٌ لاَ يَغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ: إِخْلاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ، وَمُنَاصَحَةُ وُلاةِ الأَمْرِ وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ. \nوَمَنْ كَانَتْ الدُّنْيَا نِيَّتُهُ فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَمْرَهُ، وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ، وَمَنْ نِيَّتُهُ كَانَتْ الآخِرَةَ جَمَعَ اللَّهُ لَهُ شَمْلَهُ، وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا رَاغِمَةً. رواه ابن حبان في صحيحه والبيهقي بتقديم وتأخير وروى صدره إلى قوله ليس بفقيه أبو داود والترمذي وحسنه والنسائي وابن ماجه بزيادة عليهما
জায়েদ বিন থাবিটের কর্তৃত্বের উপর তিনি বলেছিলেন: আমি ঈশ্বরের রাসূলকে শুনেছি, ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ করুন এবং তাকে শান্তি দান করুন, তিনি বলেন: ঈশ্বর এমন একজন মানুষকে আশীর্বাদ করুন যিনি আমাদের কাছ থেকে একটি হাদিস শুনেছেন এবং এটি অন্য কাউকে জানান, তাই সম্ভবত একজন বাহক জুরিসপ্রুডেন্স এমন কাউকে যিনি তার চেয়ে বেশি জ্ঞানী, এবং সম্ভবত তার জন্য তার ইচ্ছাকৃত ব্যক্তি, তার জন্য তার ইচ্ছাকৃত, ঈশ্বরের জন্য তার ইচ্ছাকৃত, তার জন্য তার ইচ্ছাকৃত, তার জন্য তার ইচ্ছাকৃত একটি ইচ্ছাকৃত নয়। \nThree জিনিস যে একজন মুসলিমের হৃদয়কে অবহেলা করা উচিত নয়। ইবনে হিব্বান তাঁর সাহিহ ও আল-বায়াকিতে বর্ণিত, অগ্রাধিকার ও বিলম্বের সাথে বর্ণনা করা হয়েছিল এবং তিনি না বলা পর্যন্ত তাঁর বুক বর্ণনা করা হয়েছিল, “তিনি আইনজ্ঞ নন। আবু দাউদ, আল-তিরমিহি, তার হাসান, আল-নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ, তাদের একটি সংযোজন সহ।
০৩
তারগীব ওয়া তাহরীব # ০/৩
(حسن ) وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيْسَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا، وَيَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا. رواه أحمد بإسناد حسن والطبراني والحاكم
তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর নিকট এলাম। তখন তিনি একটি লাল চাদরে হেলান দেয়া অবস্থায় মসজিদে নববীতে বসে ছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার নিকট এসেছি, উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন করব। তিনি বললেনঃ “তালেবে ইলম স্বাগতম। নিশ্চয় ফেরেশতাগণ জ্ঞানাম্বেষণকারীকে ঘিরে রাখেন এবং ডানাগুলো দ্বারা তাকে ছায়া দান করেন। অতঃপর সে যা অম্বেষণ করে তার ভালবাসায় তারা একে অপরের উপর সওয়ার হয়ে দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌছে যায়।”\n(আহমাদ, ত্বাবরানী উত্তম সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছের উপরোক্ত বাক্যগুলো তুবরানী থেকে গৃহিত। হাদীছটি আরো বর্ণনা করেছেন ইবনু হিব্বান ও হাকেম। হাকেম বলেন, তার সনদ সহীহ। হাদীছটি অনুরূপভাবে ইবনে মাজাহ সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছন।)
০৪
তারগীব ওয়া তাহরীব # ০/৭
(صحيح لغيره) (68) وَعَنْ حذيفَةَ بْنَ الْيَمَانِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : فَضْلُ الْعِلْمِ خَيْرٌمِنْ فَضْلِ الْعِبَادَةِ، وخَيْرُ دِينِكُمُ الْوَرَعُ . رواه الطبراني في الأوسط والبزار بإسناد حسن
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “ইবাদতের মর্যাদার চেয়ে বিদ্যার মর্যাদা অনেক বেশী। তোমাদের দ্বীনের মাঝে সর্বোত্তম বিষয় হল পরহেযগারিতা।” \n(ত্বাবরানী আওসাত গ্রন্থে ও উত্তম সনদে বাযযার হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
০৫
তারগীব ওয়া তাহরীব # ০/৯
إنه كلام الله: (قوا أنفسكم وأهليكم النار). (سورة التحريم: 6) يقول في تفسيرها: "وعلموا أهليكم الخير". \n(رواه الحاكم موقوف)
তিনি আল্লাহর বাণীঃ (আরবি) “তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।” (সূরা তাহরীমঃ ৬) এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ “তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দান কর।” \n(হাকেম মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন)
০৬
তারগীব ওয়া তাহরীব # ০/১২
(حسن )وَعَنْ جُنْدُبِ بن عَبْدِ اللَّهِ الأَزْدِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ صَاحِبِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قاَلَ: مَثَلُ الَّذِي يُعَلِّمُ النَّاسَ الْخَيْرَ ويَنْسَى نَفْسَهُ كَمَثَلِ السِّرَاجِ يُضِيءُ لِلنَّاسِ ويُحْرِقُ نَفْسَهُ. الحديث رواه الطبراني في الكبير
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “যে ব্যক্তি শুধুমাত্র কল্যাণ শিক্ষা লাভ বা শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে সমজিদে গমণ করবে, তাকে পরিপূর্ণরূপে হজ্জ পালনকারীর ন্যায় প্রতিদান দেয়া হবে।”\n(ত্বাবরানী কাবীর গ্রন্থে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
০৭
তারগীব ওয়া তাহরীব # ০/১৩
وكان يمر ذات يوم بسوق المدينة المنورة. ثم وقف في السوق فقال: يا أهل السوق! ما الذي منعك؟ قالوا وما هو يا أبا هريرة؟ قال: هناك توزيع ميرة رسول الله صلى الله عليه وسلم. هل أنت هنا؟ لماذا لا تذهب إلى هناك وتشارك؟ قالوا: وأين هو؟ قال : في المسجد . ولما سمعوا ذلك اندفعوا إلى هناك. وبقي أبو هريرة قائما حتى رجعوا أخيرا. ثم قال لهم: ماذا فعلتم؟ قالوا: ع أبو هريرة! ذهبنا ودخلنا المسجد. ولكن لم أرى أي شيء يتم توزيعه؟ فقال لهم أبو هريرة: ما رأيتم أحداً في المسجد؟ قالوا: نعم، رأينا قوما يصلون، وبعضهم يقرأون القرآن، وبعضهم يصلي، وبعضهم يقرأ القرآن ويتناقشون مع بعضهم البعض حول الحلال والحرام. فقال لهم أبو هريرة: ويحك، هذا ميراث محمد صلى الله عليه وسلم. \n(رواية الحديث في الطبراني سند تمام [كتاب الوسطى]). فعل.)
তিনি একদা মদীনার বাজার অতিক্রম করছিলেন। তখন বাজারে দাঁড়িয়ে বললেনঃ হে বাজারের লোক সকল! কিসে তোমাদেরকে অপারগ করল? তারা বলল, উহা কি হে আবু হুরায়রা? তিনি বললেনঃ ওখানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মীরাছ বন্টন হচ্ছে আর তোমরা এখানে? তোমরা সেখানে গিয়ে কিছু অংশ নাও না কেন? তারা বললঃ উহা কোথায়? তিনি বললেনঃ মসজিদে। একথা শুনে তারা সেখানে ছুটে গেল। আর আবু হুরায়রা দাঁড়িয়ে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত তারা ফিরে এল। তারপর তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা কি করলে? তারা বললঃ হে আবু হুরায়রা! আমরা গিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলাম। কিন্তু কোন কিছু বন্টন হচ্ছে তা তো দেখলাম না? আবু হুরায়রা তাদেরকে বললেনঃ তোমরা মসজিদে কাউকে দেখতে পাওনি? তারা বললঃ হ্যাঁ, আমরা দেখেছি কিছু লোক নামায আদায় করছে, কিছু লোক কুরআন পাঠ করছে, কিছু লোক হালাল-হারামের বিষয়ে পরস্পরে আলোচনা করছে। তখন আবু হুরায়রা তাদেরকে বললেনঃ আফসোস তোমাদের জন্যে ওটাই তো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মীরাছ (উত্তরাধিকার)। \n(ত্বাবরানী উত্তম সনদে [আওসাত্ব গ্রন্থে] হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।)
০৮
তারগীব ওয়া তাহরীব # ০/১৫
(صحيح) ورواه البيهقي وغيره من حديث معاذ بن جبل عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال ماَ تُزاَلُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنْ عُمْرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَ أَبْلَاهُ وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ وَعَنْ عِلْمِهِ ماَذَا عَمِلَ فِيْهِ؟
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ “সাতটি আমলের ছোয়াব বান্দার মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় তার জন্য জারি থাকে। যে ব্যক্তি কাউকে বিদ্যা শিক্ষা দিবে, অথবা নদী খনন করবে, অথবা কুপ খনন করবে, অথবা খেজুর গাছ লাগিয়ে যাবে, অথবা মসজিদ তৈরী করবে, অথবা পবিত্র কুরআনের উত্তরাধিকার রেখে যাবে অথবা এমন সন্তান রেখে যাবে যে মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।” (এসকল নেক কাজের ছোয়াব মৃত্যুর পরও লাভ করতে থাকবে।) \n(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন বাযযার ও আবু নাঈম [হিলইয়া গ্রন্থে], আরো বর্ণনা করেছেন বায়হাকী]