প্রতিবেশী সম্পর্কে হাদিস

২৩৩ টি প্রামাণিক হাদিস পাওয়া গেছে

আল-আদাব আল-মুফরাদ : ১৪১
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
حَدَّثَنَا ‌عِصَامُ ​بْنُ ‌خَالِدٍ، ​قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَرْطَاةُ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ، يَعْنِي أَبَا عَامِرٍ الْحِمْصِيَّ، قَالَ‏:‏ كَانَ ثَوْبَانُ يَقُولُ‏:‏ مَا مِنْ رَجُلَيْنِ يَتَصَارَمَانِ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ، فَيَهْلِكُ أَحَدُهُمَا، فَمَاتَا وَهُمَا عَلَى ذَلِكَ مِنَ الْمُصَارَمَةِ، إِلاَّ هَلَكَا جَمِيعًا، وَمَا مِنْ جَارٍ يَظْلِمُ جَارَهُ وَيَقْهَرُهُ، حَتَّى يَحْمِلَهُ ذَلِكَ عَلَى أَنْ يَخْرُجَ مِنْ مَنْزِلِهِ، إِلاَّ هَلَكَ‏.‏
ইসসাম ‌বিন ​খালেদ ‌আমাদেরকে ​বলেছেন, তিনি বলেছেন: আরত বিন আল-মুন্দির আমাদেরকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: আমি শুনেছি, যার অর্থ আবু আমের আল-হোমসি, তিনি বলেন: সাওবান ছিলেন তিনি বলেন: যদি দু'জন লোক তিন দিনের বেশি লড়াই করে এবং তাদের একজন মারা যায় এবং সংঘর্ষের ফলে তারা সেই অবস্থায় মারা যায়, তবে তারা উভয়ই মারা যায়। তাদের সকলেই, এবং এমন কোন প্রতিবেশী নেই যে তার প্রতিবেশীকে অত্যাচার ও অত্যাচার করে, যতক্ষণ না এটি তাকে তার বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করে, তবে সে ধ্বংস হয়ে যায়।
আবু হুরায়রা (রাঃ) আল-আদাব আল-মুফরাদ #১২৭ Sahih
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
وقال ​رسول ‌الله ​صلى ‌الله عليه وسلم: "لا يمنع جار جاره أن يدفن سارية في جداره". فقال أبو هريرة رضي الله عنه: الذي حدث، أرى أنك تهاون بهذا الحديث. والله أنا دائما
রাসূলুল্লাহ ​(সাল্লাল্লাহু ‌‘আলাইহি ​ওয়া ‌সাল্লাম) বলেছেন, কোন প্রতিবেশি যেন তার প্রতিবেশিকে তার দেয়ালে খুঁটি পুঁততে নিষেধ না করে। তারপর আবু হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, কী হল, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস হতে উদাসীন দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহ্‌র কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস বলতে থাকব। (বুখারী পর্ব ৪৬: /২০, হা: ২৪৬৩; মুসলিম ২২/২৯, হাঃ ১৬০৯)
আবু হুরায়রা (রাঃ) আল-লু'লু ওয়াল মারজান #১০৩৮ Sahih
বুলুঘ আল-মারাম : ১৪৩
আবু জার (রাঃ)
Sahih
قال: ‌قال ‌رسول ‌الله ‌صلى الله عليه وسلم: إذا طبختم طعاماً فزيدوا عليه ماءً وتذكروا جاركم. (أي: تذكروا دائماً وحرصوا على مشاركته مع جاركم). [1575]
তিনি ‌বলেন, ‌রাসূলুল্লাহ ‌(সাল্লাল্লাহু ‌‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন তরকারী রান্না করবে তখন তাতে পানি বেশি দিয়ে প্রতিবেশীর খবরগিরি করবে। (অর্থাৎ প্রতিবেশীকে দিয়ে খাওয়ার ব্যাপারে সর্বদা সচেতন ও সচেষ্ট থাকবে। [১৫৭৫]
আবু জার (রাঃ) বুলুঘ আল-মারাম #১৪৬৫ Sahih
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪৪
আব্দুল্লাহ ইবনু আয-যুবাইর (রাঃ)
Sahih
وقال ​إن ‌رجلاً ​من ‌الأنصار تشاجر مع الزبير عند النبي (ص) في ماء نهر هرر الذي كان يسقي به النخل. فقال الأنصاري: اترك ماء القناة حتى يسيل فأبى جبير أن يعطيه. فلما تشاجرا في ذلك عند النبي صلى الله عليه وسلم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للزبير: يا زبير! اروي أرضك (أولاً). بعد ذلك أطلق الماء لجارك. فغضب الأنصاري من ذلك وقال: هو ابن عمك. فظهرت علامات السخط على وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم قال: يا يبير! أنت تسقي أرضك بنفسك ثم تحبس الماء حتى يصل إلى السد. (البخاري جزء 42 باب 6 حديث رقم 2359 ؛ مسلم 43/36 ه 2357)
তিনি ​বলেন, ‌এক ​আনসারী ‌নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল যে পানি দ্বারা খেজুর বাগান সিঞ্চন করত। আনসারী বলল, নালার পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা (প্রবাহিত থাকে) কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা দিতে অস্বীকার করেন। তারা দু’জনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবাইর(রাঃ)-কে বললেন, হে যুবাইর! তোমার যমীনে (প্রথমে) সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন, হে যুবাইর! তুমি নিজের জমি সিঞ্চন কর। এরপর পানি আটকে রাখ, যাতে তা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। (বুখারী পর্ব ৪২ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ২৩৫৯; মুসলিম ৪৩/৩৬ হাঃ ২৩৫৭)
আব্দুল্লাহ ইবনু আয-যুবাইর (রাঃ) আল-লু'লু ওয়াল মারজান #১৫২০ Sahih
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪৫
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
Sahih
قال: ‌كنت ‌نازلاً ​مع ‌النبي صلى الله عليه وسلم بالجوار الذي بين مكة والمدينة. وكان معه بلال رضي الله عنه. ثم جاء أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ألم تفي بما وعدتني؟ فقال له: «اقبل البشارة». قال: اقبل البشرى، كما أخبرتني بذلك مراراً. ثم التفت إلى أبي موسى وبلال مغضبا، وقال: لقد رد الرجل البشرى. كلاهما التقطا الوعاء وفعلا حسب التعليمات. ثم اتصلت بوالدتي
তিনি ‌বলেন, ‌আমি ​নবী ‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট মাক্কাহ ও মাদীনাহ্‌র মধ্যবর্তী জিরানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম। তখন বিলাল (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। এমন সময়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা পূরণ করবেন না? তিনি তাঁকে বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল, সুসংবাদ গ্রহণ কর কথাটি তো আপনি আমাকে অনেকবারই বলেছেন। তখন তিনি ক্রোধ ভরে আবূ মূসা ও বিলাল (রাঃ)-এর দিকে ফিরে বললেন, লোকটি সুসংবাদ ফিরিয়ে দিয়েছে। তোমরা দু’জন তা গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা তা গ্রহণ করলাম। এরপর তিনি এক পাত্র পানি আনতে বললেন। তিনি এর মধ্যে নিজের উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুয়ে কুল্লি করলেন। তারপর বললেন, তোমরা উভয়ে এ থেকে পান করো এবং নিজেদের মুখমণ্ডল ও বুকে ছিটিয়ে দাও। আর সুসংবাদ গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে পাত্রটি তুলে নিয়ে নির্দেশ মত কাজ করলেন। এমন সময় উম্মু সালামাহ (রাঃ) পর্দার আড়াল থেকে ডেকে বললেন, তোমাদের মায়ের জন্যও অতিরিক্ত কিছু রাখ। কাজেই তাঁরা এ থেকে অতিরিক্ত কিছু তাঁর [উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর] জন্য রাখলেন। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৫৭ হাদীস নং ৪৩২৮; মুসলিম ৪৪/৩৬ হাঃ ২৪৯৭)
আবু মূসা আশআরী (রাঃ) আল-লু'লু ওয়াল মারজান #১৬২৪ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৬
আয়েশা (রা)
Sahih
وعَنْ ​عَائِشَةَ ​أَنَّ ​النَّبِيَّ ​صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صِلَةُ الرَّحِمِ وَحُسْنُ الخُلُقِ وَحُسْنُ الْجِوَارِ يُعَمِّرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الأَعْمَارِ
আয়েশা ​(রাঃ) ​এর ​সূত্রে, ​নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, সদাচরণ এবং উত্তম প্রতিবেশীতা গৃহকে জনবহুল করে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।"
আয়েশা (রা) হাদিস সংগ্রহ #১৭৪৪ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৭
ইবনে উমার ও আয়েশা
Sahih
فقال ​رسول ‌الله ​صلى ​الله عليه وسلم: «ما زال جبريل يعظني في الجار، حتى إني ظننت أنه سيورثه». (البخاري 6014-6015، مسلم رقم 6854)
রাসূলুল্লাহ ​(সাল্লাল্লাহু ‌‘আলাইহি ​ওয়াসাল্লাম) ​বলেছেন, “জিব্রাইল আমাকে সব সময় প্রতিবেশী সম্পর্কে অসিয়ত ক’রে থাকেন। এমনকি আমার মনে হল যে, তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারেস বানিয়ে দেবেন।” (বুখারী ৬০১৪-৬০১৫, মুসলিম ৬৮৫৪ নং)
ইবনে উমার ও আয়েশা হাদিস সংগ্রহ #১৭৬১ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৮
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
فقال ​النبي ​صلى ‌الله ​عليه وسلم: «والذي نفسي بيده لا يؤمن عبد حتى يعمل لجاره أو لأخيه ما يعمل لنفسه». (مسلم رقم 180) .
নবী ​(সাল্লাল্লাহু ​‘আলাইহি ‌ওয়াসাল্লাম) ​বলেছেন, “সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! কোন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার প্রতিবেশী অথবা (কোন) ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করেছে, যা সে নিজের জন্য করে।” (মুসলিম ১৮০ নং)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হাদিস সংগ্রহ #১৭৬৩ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৯
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
قال ​رسول ​الله ​صلى ‌الله عليه وسلم: «ما آمن بي من بات شبعانًا وجاره جائع إلى جنبه وهو يعلم». (البزار، الطبراني 750، صحيح الجامع رقم 5505)
রাসূলুল্লাহ ​(সাল্লাল্লাহু ​‘আলাইহি ​ওয়াসাল্লাম) ‌বলেছেন, “সে আমার প্রতি ঈমান আনে নি, যে ব্যক্তি পরিতৃপ্ত হয়ে রাত্রিযাপন করে, অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে এবং এ কথা সে জানে।” (বাযযার, ত্বাবারানী ৭৫০, সহীহুল জামে ৫৫০৫ নং)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হাদিস সংগ্রহ #১৭৬৫ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫০
আব্দুর রহমান বিন আবী কুরাদ
Sahih
قال ​النبي ​صلى ​الله ​عليه وسلم: "إذا أردت أن يحبك الله ورسوله، رد الأمانة إلى صاحبها، وصدق، وحسن إلى جارك". (الأوسط للطبراني ٦٥١٧،
নবী ​(সাল্লাল্লাহু ​‘আলাইহি ​ওয়াসাল্লাম) ​বলেছেন, “যদি তোমরা চাও যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমাদেরকে ভালোবাসবেন, তাহলে তোমরা আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ কর, সত্য কথা বল এবং তোমাদের প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার কর।” (ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৬৫১৭, সহীহুল জামে ১৪০৯ নং)
আব্দুর রহমান বিন আবী কুরাদ হাদিস সংগ্রহ #১৭৭৩ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫১
উকবা বিন আমের (রা)
Sahih
قال ‌النبي ‌صلى ‌الله ‌عليه وسلم: "يوم القيامة أول جارين يشكون". (أحمد 17372، الطبراني 14252، 14268، صحيح الترغيب رقم 2557)
রাসূলুল্লাহ ‌(সাল্লাল্লাহু ‌‘আলাইহি ‌ওয়াসাল্লাম) ‌বলেছেন, “কিয়ামতের দিন প্রথম বাদী-প্রতিবাদী হবে দুই প্রতিবেশী।” (আহমাদ ১৭৩৭২, ত্বাবারানী ১৪২৫২, ১৪২৬৮, সহীহ তারগীব ২৫৫৭ নং)
উকবা বিন আমের (রা) হাদিস সংগ্রহ #১৭৮৫ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫২
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
Sahih
عن ​عَبْدِ ‌اللهِ ​قَالَ ‌قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَىُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ عِنْدَ اللهِ؟ قَالَ أَنْ تَدْعُوَ لِلهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قَالَ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ مَخَافَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قَالَ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ أَنْ تُزَانِىَ حَلِيلَةَ جَارِكَ গ্ধ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقَهَا وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِى حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
আবদুল্লাহ ​(রা) ‌থেকে ​বর্ণিত, ‌তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বীকে ডাকবে অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বললেনঃ তারপর কি? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ছেলেকে এই ভয়ে হত্যা কর যে সে তোমার সাথে খাওয়াবে। তিনি বললেনঃ তারপর কি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রী ব্যভিচার করে, তাই সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার আকীদা প্রকাশ করলেন এবং যারা তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্যকে ডাকবে না এবং তারা কোন আত্মাকে হত্যা করবে না যা আল্লাহ হারাম করেছেন, ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি ছাড়া, তারা ব্যভিচার করবে না। আর যে তা করবে তার গুনাহ হবে।
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ) হাদিস সংগ্রহ #১৬৫২ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৩
সামুরাহ ইবনে জুনদুব
Sahih
عن ​عَبْدِ ‌اللهِ ​قَالَ ​قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَىُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ عِنْدَ اللهِ؟ قَالَ أَنْ تَدْعُوَ لِلهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قَالَ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ مَخَافَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قَالَ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ أَنْ تُزَانِىَ حَلِيلَةَ جَارِكَ গ্ধ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقَهَا وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِى حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
আবদুল্লাহ ​(রা) ‌থেকে ​বর্ণিত, ​তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বীকে ডাকবে অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বললেনঃ তারপর কি? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ছেলেকে এই ভয়ে হত্যা কর যে সে তোমার সাথে খাওয়াবে। তিনি বললেনঃ তারপর কি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রী তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে, তাই সর্বশক্তিমান ও মহান আল্লাহ তার বিশ্বাস প্রকাশ করলেন এবং যারা তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্যকে ডাকবে না এবং তারা কোন আত্মাকে হত্যা করবে না যা আল্লাহ হারাম করেছেন, ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি ছাড়া, তারা ব্যভিচার করবে না। আর যে তা করবে তার গুনাহ হবে।
সামুরাহ ইবনে জুনদুব হাদিস সংগ্রহ #১৬৫৩ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৪
আবু জার (রাঃ)
Sahih
وأمر ‌صلى ​الله ‌عليه ​وسلم: (إذا طبخت مرقة فزد عليها الماء، ثم اوصلها إلى بيت جارك على عادتك). (مسلم رقم: 6855-6856)
একদা ‌রাসূলুল্লাহ ​(সাল্লাল্লাহু ‌‘আলাইহি ​ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আবূ যার্র! যখন তুমি ঝোল (ওয়ালা তরকারি) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বেশী কর এবং তোমার প্রতিবেশীদের খেয়াল রাখ।” \nঅন্য এক বর্ণনায় আবূ যার্র বলেন, আমাকে আমার বন্ধু (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)) অসিয়ত ক’রে বলেছেন যে, “যখন তুমি ঝোল (ওয়ালা তরকারী) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বেশী কর। অতঃপর তোমার প্রতিবেশীর বাড়িতে রীতিমত পৌঁছে দাও।” (মুসলিম ৬৮৫৫-৬৮৫৬ নং)
আবু জার (রাঃ) হাদিস সংগ্রহ #১৭৬২ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
قال ‌رسول ​الله ​صلى ‌الله عليه وسلم: «لا يشتد إيمان عبد حتى يشتد قلبه، ولا يشتد قلبه حتى يشتد لسانه، ولا يدخل الجنة من لا يأمن جاره بوائقه». (أحمد 13048، الطبراني رقم 10401)
রাসূলুল্লাহ ‌(সাল্লাল্লাহু ​‘আলাইহি ​ওয়াসাল্লাম) ‌বলেছেন, “কোন বান্দার ঈমান দুরস্ত হয় না; যতক্ষণ পর্যন্ত না তার হৃদয় দুরস্ত হয় এবং তার হৃদয়ও দুরস্ত হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত না তার জিহ্বা দুরস্ত হয়। আর সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা না পায়।” (আহমাদ ১৩০৪৮, ত্বাবারানী ১০৪০১ নং)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হাদিস সংগ্রহ #১৭৬৬ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
لا ​يأمن ​من ‌الأذى." ‌\nوفي رواية لمسلم: لا يدخل الجنة من لا يأمن جاره بوائقه. (البخاري 6016، مسلم 181)
নবী ​(সাল্লাল্লাহু ​‘আলাইহি ‌ওয়াসাল্লাম) ‌বলেছেন, “আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়।” জিজ্ঞেস করা হল, ‘কোন্ ব্যক্তি? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকে না।” \nমুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না। (বুখারী ৬০১৬, মুসলিম ১৮১ নং)
আবু হুরায়রা (রাঃ) হাদিস সংগ্রহ #১৭৬৭ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৭
সাহাবীগণ
Sahih
وقال ​رسول ​الله ‌صلى ​الله عليه وسلم: لا يمنع جار جاره أن يبني على جداره خشبا. فقال أبو هريرة رضي الله عنه: ما لي أرسلك إلى الرسول صلى الله عليه وسلم؟
রাসূলুল্লাহ ​(সাল্লাল্লাহু ​‘আলাইহি ‌ওয়াসাল্লাম) ​বলেছেন, কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেওয়ালে কাঠ (বাঁশ ইত্যাদি) গাড়তে নিষেধ না করে। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, ‘কী ব্যাপার আমি তোমাদেরকে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরাতে দেখছি! আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমি এ (সুন্নাহ) কে তোমাদের ঘাড়ে নিক্ষেপ করব (অর্থাৎ এ কথা বলতে থাকব)।’ (বুখারী ২৪৬৩, মুসলিম ৪২১৫ নং)
সাহাবীগণ হাদিস সংগ্রহ #১৭৬৯ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৮
আবূ শুরায়হ খুযায়ী
Sahih
قال ​النبي ​صلى ​الله ‌عليه وسلم: «من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليحسن إلى جاره، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليحسن إلى ضيفه، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليحسن إلى ضيفه». من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيراً أو ليصمت». (مسلم رقم 185، بعض كلام البخاري)
নবী ​(সাল্লাল্লাহু ​‘আলাইহি ​ওয়াসাল্লাম) ‌বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহেমানের খাতির করে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, অথবা নীরব থাকে।” (মুসলিম ১৮৫ নং, কিছু শব্দ বুখারীর)
আবূ শুরায়হ খুযায়ী হাদিস সংগ্রহ #১৭৭২ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
قال ​رسول ​الله ​صلى ​الله عليه وسلم: "اجتنب الحرام والحرام تكن أعظم الناس عبادة، وارض بما آتاك الله تكن أعظم الناس". ستكون غنياً وأحسن إلى جارك تكن مؤمناً. أحب للناس ما تحبه لنفسك تكن مسلما. ولا تكثر الضحك، فإن كثرة الضحك تميت القلب» (أحمد).
রাসূলুল্লাহ ​(সাল্লাল্লাহু ​‘আলাইহি ​ওয়াসাল্লাম) ​বলেছেন, “নিষিদ্ধ ও হারাম জিনিস থেকে বেঁচে থাক, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সব চেয়ে বড় আবেদ (ইবাদতকারী) গণ্য হবে। আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন, তাতেই পরিতুষ্ট থাক, তবে তুমিই মানুষের মধ্যে সব চেয়ে বড় ধনী হবে। প্রতিবেশীর প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে তুমি একজন (খাঁটি) মু’মিন বিবেচিত হবে। মানুষের জন্যও তা-ই পছন্দ কর, যা তুমি নিজের জন্য পছন্দ কর, তাহলে তুমি একজন (খাঁটি) মুসলিম গণ্য হবে। আর খুব বেশী হাসবে না, কারণ, অধিক হাসি অন্তরকে মেরে দেয়।” (আহমাদ ৮০৯৫, তিরমিযী ২৩০৫, সহীহুল জামে ৪৫৮০, ৭৮৩৩ নং)
আবু হুরায়রা (রাঃ) হাদিস সংগ্রহ #১৭৭৪ Sahih
হাদিস সংগ্রহ : ১৬০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
فقال ‌رجل: ‌يا ‌رسول ‌الله! ويقال إن مثل هذه المرأة تكثر من الصلاة والصيام والتصدق؛ ولكنه يؤذي جاره بلسانه (بالفحش أو البذاءة). (ما رأيك فيه؟) قال: "هو في النار". سوف اذهب." فقال الرجل مرة أخرى: يا رسول الله! ويقال إن مثل هذه المرأة قليلة الصلاة والصوم والصدقة. ولكن لا يؤذي جاره بلسانه (بالفحش أو البذاءة). (ما رأيك فيه؟) قال: يدخل الجنة. (أحمد 9675، ابن حبان 5764، الحكيم 7305، صحيح الترغيب رقم 2560)
এক ‌ব্যক্তি ‌বলল, ‌‘হে ‌আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা বেশী বেশী (নফল) নামায পড়ে, সিয়াম রাখে ও দান-খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। (তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি বললেন, “সে দোযখে যাবে।” লোকটি আবার বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা অল্প (নফল) নামায পড়ে, সিয়াম রাখে ও দান-খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। (তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি বললেন, “সে বেহেশ্তে যাবে।” (আহমাদ ৯৬৭৫, ইবনে হিব্বান ৫৭৬৪, হাকেম ৭৩০৫, সহীহ তারগীব ২৫৬০ নং)
আবু হুরায়রা (রাঃ) হাদিস সংগ্রহ #১৭৭৭ Sahih