Neighbor সম্পর্কে হাদিস
২৩১ টি প্রামাণিক হাদিস পাওয়া গেছে
বুলুঘ আল-মারাম : ১৪১
আবু জার (রাঃ)
Sahih
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا طبختم طعاماً فزيدوا عليه ماءً وتذكروا جاركم. (أي: تذكروا دائماً وحرصوا على مشاركته مع جاركم). [1575]
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন তরকারী রান্না করবে তখন তাতে পানি বেশি দিয়ে প্রতিবেশীর খবরগিরি করবে। (অর্থাৎ প্রতিবেশীকে দিয়ে খাওয়ার ব্যাপারে সর্বদা সচেতন ও সচেষ্ট থাকবে। [১৫৭৫]
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪২
আব্দুল্লাহ ইবনু আয-যুবাইর (রাঃ)
Sahih
وقال إن رجلاً من الأنصار تشاجر مع الزبير عند النبي (ص) في ماء نهر هرر الذي كان يسقي به النخل. فقال الأنصاري: اترك ماء القناة حتى يسيل فأبى جبير أن يعطيه. فلما تشاجرا في ذلك عند النبي صلى الله عليه وسلم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للزبير: يا زبير! اروي أرضك (أولاً). بعد ذلك أطلق الماء لجارك. فغضب الأنصاري من ذلك وقال: هو ابن عمك. فظهرت علامات السخط على وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم قال: يا يبير! أنت تسقي أرضك بنفسك ثم تحبس الماء حتى يصل إلى السد. (البخاري جزء 42 باب 6 حديث رقم 2359 ؛ مسلم 43/36 ه 2357)
তিনি বলেন, এক আনসারী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল যে পানি দ্বারা খেজুর বাগান সিঞ্চন করত। আনসারী বলল, নালার পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা (প্রবাহিত থাকে) কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা দিতে অস্বীকার করেন। তারা দু’জনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবাইর(রাঃ)-কে বললেন, হে যুবাইর! তোমার যমীনে (প্রথমে) সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন, হে যুবাইর! তুমি নিজের জমি সিঞ্চন কর। এরপর পানি আটকে রাখ, যাতে তা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। (বুখারী পর্ব ৪২ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ২৩৫৯; মুসলিম ৪৩/৩৬ হাঃ ২৩৫৭)
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৪৩
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
Sahih
قال: كنت نازلاً مع النبي صلى الله عليه وسلم بالجوار الذي بين مكة والمدينة. وكان معه بلال رضي الله عنه. ثم جاء أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ألم تفي بما وعدتني؟ فقال له: «اقبل البشارة». قال: اقبل البشرى، كما أخبرتني بذلك مراراً. ثم التفت إلى أبي موسى وبلال مغضبا، وقال: لقد رد الرجل البشرى. كلاهما التقطا الوعاء وفعلا حسب التعليمات. ثم اتصلت بوالدتي
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট মাক্কাহ ও মাদীনাহ্র মধ্যবর্তী জিরানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম। তখন বিলাল (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। এমন সময়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা পূরণ করবেন না? তিনি তাঁকে বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল, সুসংবাদ গ্রহণ কর কথাটি তো আপনি আমাকে অনেকবারই বলেছেন। তখন তিনি ক্রোধ ভরে আবূ মূসা ও বিলাল (রাঃ)-এর দিকে ফিরে বললেন, লোকটি সুসংবাদ ফিরিয়ে দিয়েছে। তোমরা দু’জন তা গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা তা গ্রহণ করলাম। এরপর তিনি এক পাত্র পানি আনতে বললেন। তিনি এর মধ্যে নিজের উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুয়ে কুল্লি করলেন। তারপর বললেন, তোমরা উভয়ে এ থেকে পান করো এবং নিজেদের মুখমণ্ডল ও বুকে ছিটিয়ে দাও। আর সুসংবাদ গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে পাত্রটি তুলে নিয়ে নির্দেশ মত কাজ করলেন। এমন সময় উম্মু সালামাহ (রাঃ) পর্দার আড়াল থেকে ডেকে বললেন, তোমাদের মায়ের জন্যও অতিরিক্ত কিছু রাখ। কাজেই তাঁরা এ থেকে অতিরিক্ত কিছু তাঁর [উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর] জন্য রাখলেন। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৫৭ হাদীস নং ৪৩২৮; মুসলিম ৪৪/৩৬ হাঃ ২৪৯৭)
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৪
আয়েশা (রা)
Sahih
وعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صِلَةُ الرَّحِمِ وَحُسْنُ الخُلُقِ وَحُسْنُ الْجِوَارِ يُعَمِّرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الأَعْمَارِ
আয়েশা (রাঃ) এর সূত্রে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, সদাচরণ এবং উত্তম প্রতিবেশীতা গৃহকে জনবহুল করে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।"
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৫
ইবনে উমার ও আয়েশা
Sahih
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما زال جبريل يعظني في الجار، حتى إني ظننت أنه سيورثه». (البخاري 6014-6015، مسلم رقم 6854)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “জিব্রাইল আমাকে সব সময় প্রতিবেশী সম্পর্কে অসিয়ত ক’রে থাকেন। এমনকি আমার মনে হল যে, তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারেস বানিয়ে দেবেন।” (বুখারী ৬০১৪-৬০১৫, মুসলিম ৬৮৫৪ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৬
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «والذي نفسي بيده لا يؤمن عبد حتى يعمل لجاره أو لأخيه ما يعمل لنفسه». (مسلم رقم 180) .
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! কোন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার প্রতিবেশী অথবা (কোন) ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করেছে, যা সে নিজের জন্য করে।” (মুসলিম ১৮০ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৭
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما آمن بي من بات شبعانًا وجاره جائع إلى جنبه وهو يعلم». (البزار، الطبراني 750، صحيح الجامع رقم 5505)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সে আমার প্রতি ঈমান আনে নি, যে ব্যক্তি পরিতৃপ্ত হয়ে রাত্রিযাপন করে, অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে এবং এ কথা সে জানে।” (বাযযার, ত্বাবারানী ৭৫০, সহীহুল জামে ৫৫০৫ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৮
আব্দুর রহমান বিন আবী কুরাদ
Sahih
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إذا أردت أن يحبك الله ورسوله، رد الأمانة إلى صاحبها، وصدق، وحسن إلى جارك". (الأوسط للطبراني ٦٥١٧،
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যদি তোমরা চাও যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমাদেরকে ভালোবাসবেন, তাহলে তোমরা আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ কর, সত্য কথা বল এবং তোমাদের প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার কর।” (ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৬৫১৭, সহীহুল জামে ১৪০৯ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৪৯
উকবা বিন আমের (রা)
Sahih
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "يوم القيامة أول جارين يشكون". (أحمد 17372، الطبراني 14252، 14268، صحيح الترغيب رقم 2557)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন প্রথম বাদী-প্রতিবাদী হবে দুই প্রতিবেশী।” (আহমাদ ১৭৩৭২, ত্বাবারানী ১৪২৫২, ১৪২৬৮, সহীহ তারগীব ২৫৫৭ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৫০
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
Sahih
عن عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَىُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ عِنْدَ اللهِ؟ قَالَ أَنْ تَدْعُوَ لِلهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قَالَ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ مَخَافَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قَالَ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ أَنْ تُزَانِىَ حَلِيلَةَ جَارِكَ গ্ধ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقَهَا وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِى حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বীকে ডাকবে অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বললেনঃ তারপর কি? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ছেলেকে এই ভয়ে হত্যা কর যে সে তোমার সাথে খাওয়াবে। তিনি বললেনঃ তারপর কি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রী ব্যভিচার করে, তাই সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার আকীদা প্রকাশ করলেন এবং যারা তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্যকে ডাকবে না এবং তারা কোন আত্মাকে হত্যা করবে না যা আল্লাহ হারাম করেছেন, ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি ছাড়া, তারা ব্যভিচার করবে না। আর যে তা করবে তার গুনাহ হবে।
হাদিস সংগ্রহ : ১৫১
সামুরাহ ইবনে জুনদুব
Sahih
عن عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَىُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ عِنْدَ اللهِ؟ قَالَ أَنْ تَدْعُوَ لِلهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قَالَ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ مَخَافَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قَالَ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ أَنْ تُزَانِىَ حَلِيلَةَ جَارِكَ গ্ধ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقَهَا وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِى حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেনঃ তুমি আল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বীকে ডাকবে অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি বললেনঃ তারপর কি? তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ছেলেকে এই ভয়ে হত্যা কর যে সে তোমার সাথে খাওয়াবে। তিনি বললেনঃ তারপর কি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রী তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে, তাই সর্বশক্তিমান ও মহান আল্লাহ তার বিশ্বাস প্রকাশ করলেন এবং যারা তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্যকে ডাকবে না এবং তারা কোন আত্মাকে হত্যা করবে না যা আল্লাহ হারাম করেছেন, ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি ছাড়া, তারা ব্যভিচার করবে না। আর যে তা করবে তার গুনাহ হবে।
হাদিস সংগ্রহ : ১৫২
আবু জার (রাঃ)
Sahih
وأمر صلى الله عليه وسلم: (إذا طبخت مرقة فزد عليها الماء، ثم اوصلها إلى بيت جارك على عادتك). (مسلم رقم: 6855-6856)
একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আবূ যার্র! যখন তুমি ঝোল (ওয়ালা তরকারি) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বেশী কর এবং তোমার প্রতিবেশীদের খেয়াল রাখ।” \nঅন্য এক বর্ণনায় আবূ যার্র বলেন, আমাকে আমার বন্ধু (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)) অসিয়ত ক’রে বলেছেন যে, “যখন তুমি ঝোল (ওয়ালা তরকারী) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বেশী কর। অতঃপর তোমার প্রতিবেশীর বাড়িতে রীতিমত পৌঁছে দাও।” (মুসলিম ৬৮৫৫-৬৮৫৬ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৩
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
Sahih
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يشتد إيمان عبد حتى يشتد قلبه، ولا يشتد قلبه حتى يشتد لسانه، ولا يدخل الجنة من لا يأمن جاره بوائقه». (أحمد 13048، الطبراني رقم 10401)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কোন বান্দার ঈমান দুরস্ত হয় না; যতক্ষণ পর্যন্ত না তার হৃদয় দুরস্ত হয় এবং তার হৃদয়ও দুরস্ত হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত না তার জিহ্বা দুরস্ত হয়। আর সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা না পায়।” (আহমাদ ১৩০৪৮, ত্বাবারানী ১০৪০১ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
لا يأمن من الأذى." \nوفي رواية لمسلم: لا يدخل الجنة من لا يأمن جاره بوائقه. (البخاري 6016، مسلم 181)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়।” জিজ্ঞেস করা হল, ‘কোন্ ব্যক্তি? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকে না।” \nমুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না। (বুখারী ৬০১৬, মুসলিম ১৮১ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৫
সাহাবীগণ
Sahih
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يمنع جار جاره أن يبني على جداره خشبا. فقال أبو هريرة رضي الله عنه: ما لي أرسلك إلى الرسول صلى الله عليه وسلم؟
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেওয়ালে কাঠ (বাঁশ ইত্যাদি) গাড়তে নিষেধ না করে। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, ‘কী ব্যাপার আমি তোমাদেরকে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরাতে দেখছি! আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমি এ (সুন্নাহ) কে তোমাদের ঘাড়ে নিক্ষেপ করব (অর্থাৎ এ কথা বলতে থাকব)।’ (বুখারী ২৪৬৩, মুসলিম ৪২১৫ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৬
আবূ শুরায়হ খুযায়ী
Sahih
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليحسن إلى جاره، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليحسن إلى ضيفه، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليحسن إلى ضيفه». من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيراً أو ليصمت». (مسلم رقم 185، بعض كلام البخاري)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহেমানের খাতির করে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, অথবা নীরব থাকে।” (মুসলিম ১৮৫ নং, কিছু শব্দ বুখারীর)
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اجتنب الحرام والحرام تكن أعظم الناس عبادة، وارض بما آتاك الله تكن أعظم الناس". ستكون غنياً وأحسن إلى جارك تكن مؤمناً. أحب للناس ما تحبه لنفسك تكن مسلما. ولا تكثر الضحك، فإن كثرة الضحك تميت القلب» (أحمد).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিষিদ্ধ ও হারাম জিনিস থেকে বেঁচে থাক, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সব চেয়ে বড় আবেদ (ইবাদতকারী) গণ্য হবে। আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন, তাতেই পরিতুষ্ট থাক, তবে তুমিই মানুষের মধ্যে সব চেয়ে বড় ধনী হবে। প্রতিবেশীর প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে তুমি একজন (খাঁটি) মু’মিন বিবেচিত হবে। মানুষের জন্যও তা-ই পছন্দ কর, যা তুমি নিজের জন্য পছন্দ কর, তাহলে তুমি একজন (খাঁটি) মুসলিম গণ্য হবে। আর খুব বেশী হাসবে না, কারণ, অধিক হাসি অন্তরকে মেরে দেয়।” (আহমাদ ৮০৯৫, তিরমিযী ২৩০৫, সহীহুল জামে ৪৫৮০, ৭৮৩৩ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
Sahih
فقال رجل: يا رسول الله! ويقال إن مثل هذه المرأة تكثر من الصلاة والصيام والتصدق؛ ولكنه يؤذي جاره بلسانه (بالفحش أو البذاءة). (ما رأيك فيه؟) قال: "هو في النار". سوف اذهب." فقال الرجل مرة أخرى: يا رسول الله! ويقال إن مثل هذه المرأة قليلة الصلاة والصوم والصدقة. ولكن لا يؤذي جاره بلسانه (بالفحش أو البذاءة). (ما رأيك فيه؟) قال: يدخل الجنة. (أحمد 9675، ابن حبان 5764، الحكيم 7305، صحيح الترغيب رقم 2560)
এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা বেশী বেশী (নফল) নামায পড়ে, সিয়াম রাখে ও দান-খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। (তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি বললেন, “সে দোযখে যাবে।” লোকটি আবার বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা অল্প (নফল) নামায পড়ে, সিয়াম রাখে ও দান-খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। (তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি বললেন, “সে বেহেশ্তে যাবে।” (আহমাদ ৯৬৭৫, ইবনে হিব্বান ৫৭৬৪, হাকেম ৭৩০৫, সহীহ তারগীব ২৫৬০ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৫৯
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
Sahih
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم خَيْرُ الأَصْحَابِ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ وَخَيرُ الجِيرَانِ عِنْدَ الله تَعَالَى خَيْرُهُمْ لِجَارِهِرواه الترمذي وَقالَ حديث حسن))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আল্লাহর নিকট সেই প্রতিবেশী সর্বোত্তম, যে তার প্রতিবেশীর দৃষ্টিতে সর্বাধিক উত্তম।” (আহমাদ ৬৫৬৬, তিরমিযী ১৯৪৪, ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান, হাকেম, সিঃ সহীহাহ ১০৩ নং)
হাদিস সংগ্রহ : ১৬০
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
Sahih
قال رجل لرسول الله صلى الله عليه وسلم: كيف لي أن أعرف هل عملت خيرا أم شرا؟ قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إذا سمعت جارك يقول: قد أسأت فقد أسأت، وإذا سمعت من جارك أنك أسأت فقد أسأت). (أحمد 3808، ابن ماجه 4222-4223، الطبراني 10280، صحيح الجامع رقم 610)
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলল, ‘আমি ভালো কাজ করেছি, না মন্দ কাজ করেছি, তা কীভাবে জানতে পারব?’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “যখন তুমি তোমার প্রতিবেশীর মুখে বলতে শুনবে যে, তুমি ভাল কাজ করেছ, তাহলে তুমি (সত্যই) ভাল কাজ করেছ। আর যখন তুমি তোমার প্রতিবেশীর মুখে বলতে শুনবে যে, তুমি মন্দ কাজ করেছ, তাহলে তুমি (সত্যই) মন্দ কাজ করেছ।” (আহমাদ ৩৮০৮, ইবনে মাজাহ ৪২২২-৪২২৩, ত্বাবারানী ১০২৮০, সহীহুল জামে ৬১০ নং)