অধ্যায় ১৭
অধ্যায়ে ফিরুন
৫৬ হাদিস
০১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৮৭
আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র আ'স
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُمَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلاَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْراً رواه مسلم
তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার দরুন তার উপর দশটি রহমত (করুণা) অবতীর্ণ করবেন।” (মুসলিম ৮৭৫ নং)
০২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৮৯
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قرأ علي الدارود مرة واحدة، صلى الله عليه عشر صلوات، وحط عنه عشر خطيئات، ورفعه به عشر درجات». (النسائي 1297)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে, (তার বিনিময়ে) সেই ব্যক্তির উপর আল্লাহ দশটি রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি পাপ মোচন করেন এবং তাকে দশটি মর্যাদায় উন্নীত করেন।” (নাসাঈ ১২৯৭)
০৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৯১
Abu Umamah
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "--- كلما زاد الرجل علي صلاة كان أقرب إلي في المنزلة". (البيهقي، صحيح الترغيب رقم: 1673)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “---যে ব্যক্তি যত বেশী আমার উপর দরূদ পাঠ করবে, সে ব্যক্তি (বেহেশতী) মর্যাদায় তত বেশী আমার নিকটবর্তী হবে।” (বাইহাক্বী, সহীহ তারগীব ১৬৭৩ নং)
০৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৯২
ইবনু মাসউদ (রাঃ)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا أقرب إلي يوم القيامة من جميع الناس عليّ أفضل النعم". (الترمذي رقم 484، حسن، صحيح الترغيب 1668، صحيح الموارد رقم 2027)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের চাইতে আমার বেশী নিকটবর্তী হবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আমার উপর দরূদ পড়বে।” (তিরমিযী ৪৮৪ নং, হাসান, সঃ তারগীব ১৬৬৮, সঃ মাওয়ারিদ ২০২৭ নং)
০৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৯৩
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من أخطأ في الصلاة علي فقد أخطأ في طريق الجنة". (ابن ماجه 908، الطبراني 12648، صحيح الترغيب رقم 1682)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর দরূদ পড়তে ভুল করল, সে আসলে বেহেশ্তের পথ ভুল করল।” (ইবনে মাজাহ ৯০৮, ত্বাবারানী ১২৬৪৮, সহীহ তারগীব ১৬৮২ নং)
০৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৯৪
আওস ইবনে আওস
رسول الله! سوف تموت (بعد الموت). في هذه الحالة، كيف سيتم عرض بركاتنا عليك؟ قال: «إن الله حرم أكل أجساد الأنبياء على الأرض». (لأن أجسادهم قديمة (أبو داود رقم 1533، السند الصافي)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলির মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুমআর দিন। সুতরাং ঐ দিন তোমরা আমার উপর অধিকমাত্রায় দরূদ পড়। কেননা, তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।” লোকেরা বলল, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি তো (মারা যাওয়ার পর) পচে-গলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের দরূদ কিভাবে আপনার কাছে পেশ করা হবে?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ পয়গম্বরদের দেহসমূহকে খেয়ে ফেলা মাটির উপর হারাম ক’রে দিয়েছেন।” (বিধায় তাঁদের শরীর আবহমান কাল ধরে অক্ষত থাকবে।) (আবু দাঊদ ১৫৩৩ নং, বিশুদ্ধ সানাদ)
০৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৯৫
মালিক বিন হাসান বিন মালিক বিন হুয়ারিশ তার পিতা
عن مَالِكُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَعِدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمِنْبَرَ فَلَمَّا رَقِيَ عَتَبَةً قَالَ: \"آمِينَ\": ثمَّ رقى أُخْرَى فقَالَ: \"آمِينَ\" ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً ثَالِثَةً فَقَالَ: \"آمين\" ثمَّ قَالَ: \"أَتَانِي جِبْرِيل صلى الله عَلَيْهِمَا فقَالَ يَا مُحَمَّدُ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يغْفر لَهُ فَأَبْعَده الله فَقلت آمِينَ قَالَ وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَدخل النَّار فَأَبْعَده الله فَقلت آمين قَالَ وَمَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَأَبْعَدَهُ الله قُلْ آمِيْن فَقُلْتُ آمِينَ
মালিক বিন আল-হাসান বিন মালিক বিন আল-হুওয়াইথের কর্তৃত্বে, তার পিতার কর্তৃত্বে, তার পিতামহের কর্তৃত্বে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, যিনি বলেছিলেন: আল্লাহর রসূল, আল্লাহর দোয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক, তিনি মিম্বরে আরোহণ করার সময় তিনি বলেছিলেন: "আরেমান।" তারপর তিনি আরেক দোরগোড়ায় আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমেন।" তারপর তিনি তৃতীয় প্রান্তে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমেন," তারপর তিনি বললেন: "জিব্রাইল, ঈশ্বরের প্রার্থনা এবং শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আমার কাছে এসেছিলেন।" তাদের উপর, এবং তিনি বললেন, "হে মুহাম্মাদ, যে ব্যক্তি রমজানকে উপলব্ধি করে এবং এর জন্য ক্ষমা করা হয় না, আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দেবেন।" আমি বললাম, আমিন। তিনি বললেন, "আর যে ব্যক্তি রমজান বা তার একটিকে উপলব্ধি করে জাহান্নামে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তাকে তাড়িয়ে দেবেন।" তাই আমি বললাম, আমিন। তিনি বললেন, "আর যার সান্নিধ্যে তোমার কথা বলা হয়, সে তোমার জন্য দোয়া করে না, তাহলে আল্লাহ তাকে দূরে রাখবেন।" বলুন, "আমেন", তাই আমি বললাম, "আমেন।"
০৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৯৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
(الترمذي رقم 3545، حسن)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই অভিশাপ দিলেন যে, “সেই ব্যক্তির নাক ধূলা-ধূসরিত হোক, যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হল, অথচ সে (আমার নাম শুনেও) আমার প্রতি দরূদ পড়ল না।” (অর্থাৎ, ‘স্বাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম’ বলল না।) (তিরমিযী ৩৫৪৫ নং, হাসান)
০৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৯৭
রাবি
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تجعلوا قبري عيدًا».
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা আমার কবরকে উৎসব কেন্দ্রে পরিণত করো না (যেমন কবর-পূজারীরা উরস ইত্যাদির মেলা লাগিয়ে ক’রে থাকে)। তোমরা আমার প্রতি দরূদ পেশ কর। কারণ, তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের পেশকৃত দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।” (আবূ দাঊদ ২০৪৪ নং, বিশুদ্ধ সূত্রে, সহীহুল জামে’ ৭২২৬ নং)
১০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬৯৯
সুহাইল
فقلت: لا أريد أن آكل. فقال: ما لي رأيتك عند القبر؟ قلت: سلمت على النبي صلى الله عليه وسلم. قال: «إذا دخلت المسجد فسلم». لعنة اليهود. لأنهم اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد». (هنا في هذا الأمر) أنت وأهل أندولوس متساوون. (سنن سعيد بن منصور ، رواه الأحكام ، الألباني ص 220)
একদা (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নাতির ছেলে) হাসান বিন হাসান বিন আলী আমাকে কবরের নিকট দেখলেন। তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন। সেই সময় তিনি ফাতেমার বাড়িতে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। আমি উপস্থিত হলে তিনি বললেন, ‘এসো খানা খাও।’ আমি বললাম, ‘খাবার ইচ্ছা নেই।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘কী ব্যাপার যে, আমি তোমাকে কবরের পাশে দেখলাম?’ আমি বললাম, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সালাম দিলাম।’ তিনি বললেন, ‘যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দেবে।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা আমার কবরকে ঈদ বানিয়ে নিয়ো না। তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়ে নিয়ো না। তোমরা যেখানেই থাক, সেখান থেকেই আমার উপর দরূদ পাঠ কর। কারণ তোমাদের দরূদ আমার নিকট (ফেরেশতার মাধ্যমে) পৌঁছে যায়। আল্লাহ ইয়াহুদকে অভিশাপ করুন। কারণ তারা তাদের নবীগণের কবরসমূহকে মসজিদ (সিজদা ও নামাযের স্থান) বানিয়ে নিয়েছে।” (এ ব্যাপারে এখানে) তোমরা এবং উন্দুলুসের লোকেরা সমান।’ (সুনান সাঈদ বিন মানসূর, আহকামুল জানায়েয, আলবানী ২২০পৃঃ)
১১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭০০
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّ لِلهِ عَزَّ وَجَلَّ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ফেরেশতাগণ পৃথিবীতে ভ্রমণ করছেন যারা আমার জাতিকে শান্তি বার্তা দেন।"
১২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭০৪
উমার ও আলী
«كل دعاء معلق بين السماء والأرض لا يصعد ولا يقبل حتى يصلى على النبي». (الترمذي 486، الطبراني، صحيح الترغيب 1675، رقم 1676)
‘প্রত্যেক দুআ ততক্ষণ পর্যন্ত আসমান ও যমীনের মাঝে লটকে থাকে, (আকাশে ওঠে না বা আল্লাহর কাছে কবুল হয় না) যতক্ষণ না নবীর উপর দরূদ পাঠ করা হয়।’ (তিরমিযী ৪৮৬, ত্বাবারানী, সহীহ তারগীব ১৬৭৫, ১৬৭৬ নং)
১৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭১১
সাহাবীগণ
قال: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! من هو أحق بالفضل مني؟ قال: أمك. قال: ثم من؟ قال: أمك. قال: ثم يا أبت، ثم الذي هو أقرب إليك. (مسلم رقم: 6665)
তিনি বলেন, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার কাছ থেকে সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশী হকদার কে?’ তিনি বললেন, “তোমার মা।” সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, “তোমার মা।” সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, “তোমার মা।” সে বলল, ‘তারপর কে?’ তিনি বললেন, “তোমার বাপ।” (বুখারী ৫৯৭১, মুসলিম ৬৬৬৪ নং)\nঅন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘হে আল্লাহর রসূল! সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশী হকদার কে?’ তিনি বললেন, “তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার বাপ, তারপর যে তোমার সবচেয়ে নিকটবর্তী।” (মুসলিম ৬৬৬৫ নং)
১৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭১৩
মালিক বিন হাসান বিন মালিক বিন হুয়ারিশ তার পিতা
عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَعِدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمِنْبَرَ فَلَمَّا رَقِيَ عَتَبَةً قَالَ: \"آمِينَ\": ثمَّ رقى أُخْرَى فقَالَ: \"آمِينَ\" ثُمَّ رَقِيَ عَتَبَةً ثَالِثَةً فَقَالَ: \"آمين\" ثمَّ قَالَ: \"أَتَانِي جِبْرِيلُ صَلَّى الله عَلَيْهِمَا فقَالَ يَا مُحَمَّدُ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يغْفر لَهُ فَأَبْعَده الله فَقلت آمِينَ قَالَ وَمَنْ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَدخل النَّار فَأَبْعَده الله فَقلت آمين قَالَ وَمَنْ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ فَأَبْعَدَهُ الله قُلْ آمِيْن فَقُلْتُ آمِين\"
মালিক বিন আল-হাসান বিন মালিক বিন আল-হুওয়াইথের কর্তৃত্বে, তার পিতার কর্তৃত্বে, তার পিতামহের কর্তৃত্বে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, যিনি বলেছিলেন: আল্লাহর রসূল, আল্লাহ তাকে বরকত দান করুন এবং তাকে শান্তি দান করুন, তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন, যখন তিনি একটি চৌকাঠে উঠলেন, তিনি বললেন: "আমেন।" তারপর তিনি আরেক দোরগোড়ায় আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমেন।" তারপর তিনি তৃতীয় প্রান্তে আরোহণ করলেন এবং বললেন: "আমেন," তারপর তিনি বললেন: "সে আমার কাছে এসেছিল।" জিব্রাইল তাদের উভয়ের উপর ঈশ্বরের প্রার্থনা হোক, এবং তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ, যে রমজানে পৌঁছায় এবং ক্ষমা করা হয় না, আল্লাহ তাকে দূরে সরিয়ে দেবেন, এবং আমি বললাম, "আমিন।" তিনি বললেন, "আর যে ব্যক্তি রমজানে পৌঁছাবে বা তাদের মধ্যে একটি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" তাই ঈশ্বর তাকে পাঠিয়ে দিলেন, এবং আমি বললাম, "আমিন।" তিনি বললেন, "এবং যে ব্যক্তি আপনার জন্য প্রার্থনা করে না এমন ব্যক্তির সামনে আপনাকে উল্লেখ করা হবে, আল্লাহ তাকে দূরে রাখবেন। বলুন, "আমীন" এবং আমি বললাম, "আমিন।"
১৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭১৪
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ثلاثة لا ينظر الله إليهم يوم القيامة: العاق لوالديه، والزانية، والشاة، (الذي تصمت امرأته وابنته وأخته من الأخلاق والقذارة ولا تعوق)، وثلاثة لا يدخلون الجنة: الابن العاق لوالديه، والسكران مدمن الخمر، والمعطي الذي يتفاخر ويتفاخر بعده» العطاء." (أحمد 6180، النصائر الكبرى 2343، الحاكم 2562، صحيح الجامع رقم 3071)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তিন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়ে দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষবেশিনী বা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী মহিলা এবং মেড়া পুরুষ; (যে তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনের চরিত্রহীনতা ও নোংরামিতে চুপ থাকে এবং বাধা দেয় না।)\nআর তিন ব্যক্তি বেহেশ্তে যাবে না; পিতা-মাতার নাফরমান ছেলে, মদপানে অভ্যাসী মাতাল এবং দান করার পর যে বলে ও গর্ব করে বেড়ায় এমন খোঁটাদানকারী ব্যক্তি।” (আহমাদ ৬১৮০, নাসাঈর কুবরা ২৩৪৩, হাকেম ২৫৬২, সহীহুল জামে’ ৩০৭১ নং)
১৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭১৫
Abdullah Bin Amr Bin Al As
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : أقبلَ رَجُلٌ إِلَى نَبيِّ الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ : أُبَايِعُكَ عَلَى الهِجْرَةِ وَالجِهَادِ أَبْتَغي الأَجْرَ مِنَ الله تَعَالَى قَالَفَهَلْ لَكَ مِنْ وَالِدَيْكَ أحَدٌ حَيٌّ؟ قَالَ : نَعَمْ بَلْ كِلاهُمَا قَالَفَتَبْتَغي الأجْرَ مِنَ الله تَعَالَى ؟ قَالَ : نَعَمْ قَالَفارْجِعْ إِلَى وَالِدَيْكَ فَأحْسِنْ صُحْبَتَهُمَا متفقٌ عليه وهذا لَفْظُ مسلِم \nوَفِيْ رِوَايَةٍ لَهُمَا : جَاءَ رَجُلٌ فَاسْتَأذَنَهُ في الجِهَادِ فقَالَأحَيٌّ وَالِداكَ ؟ قَالَ : نَعَمْ قَالَ فَفيهِمَا فَجَاهِدْ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস-এর সূত্রে, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর নবীর কাছে এলেন এবং বললেন: আমি হিজরত এবং জিহাদের জন্য আপনার কাছে আমার আনুগত্যের অঙ্গীকার করছি। আপনি কি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে পুরস্কার চান? আপনার বাবা-মায়ের একজন বেঁচে আছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে উভয়েই বললেনঃ তুমি কি আল্লাহর কাছে প্রতিদান চাও? এখানে আসো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের সাথে ভালো ব্যবহার কর। একমত, এবং এটি একটি মুসলিম শব্দ। এবং তাদের বর্ণনায় আছে: এক ব্যক্তি এসে জিহাদে লিপ্ত হওয়ার অনুমতি চাইলেন। তাই তিনি বললেন, তোমার বাবা-মা কি বেঁচে আছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ উভয়ে তিনি সংগ্রাম করেছেন।
১৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭১৬
মুআবিয়া বিন জাহেমাহ সুলামী
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ جَاهِمَةَ السَّلَمِيِّ أَنَّ جَاهِمَةَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَدْتُ أَنْ أَغْزُوَ وَقَدْ جِئْتُ أَسْتَشِيرُكَ فَقَالَ هَلْ لَكَ مِنْ أُمٍّ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَالْزَمْهَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ تَحْتَ رِجْلَيْهَا
একদা জাহেমাহ (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি জিহাদ করব মনস্থ করেছি, তাই আপনার নিকট পরামর্শ নিতে এসেছি।’ এ কথা শুনে তিনি বললেন, “তোমার মা আছে কি?” জাহেমাহ (রাঃ) বললেন, ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন, “তাহলে তুমি তার খিদমতে অবিচল থাক। কারণ, তার পদতলে তোমার জান্নাত রয়েছে।” (আহমাদ ১৫৫৩৮, নাসাঈ ৩১০৪, ইবনে মাজাহ ২৭৮১, বাইহাক্বী ১৮২৮৮, হাকেম ২৫০২ নং)
১৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭২০
মু'আয বিন জাবাল (রাঃ)
قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، علمني عملاً أدخل به الجنة، قال: لا تشرك بالله شيئاً، ولو كنت
তিনি বলেন, “একদা এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন আমল শিখিয়ে দেন; যা করলে আমি জান্নাত প্রবেশ করতে পারব।’ তিনি বললেন, “তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক (অংশী) করো না; যদিও তোমাকে সে ব্যাপারে শাস্তি দেওয়া হয় এবং পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। তোমার মাতা-পিতার আনুগত্য কর; যদিও তারা তোমাকে তোমার ধন-সম্পদ এবং সমস্ত কিছু থেকে দূর করতে চায়। আর ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করো না; কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করে তার উপর থেকে আল্লাহর দায়িত্ব উঠে যায়।” (ত্বাবারানীর আউসাত্ব ৭৯৫৬, সহীহ তারগীব ৫৬৯ নং)
১৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭২২
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আমর (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «في رضا الوالدين رضوان الله تعالى، وفي سخطهما سخطه». (الترمذي 1899، الحاكم 7249، البزار 2394، الطبراني، السلسلة (صحيح رقم 516)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে রয়েছে আল্লাহ তাবারাকা অতাআলার সন্তুষ্টি, আর তাদের অসন্তুষ্টিতে রয়েছে তাঁর অসন্তুষ্টি।” (তিরমিযী ১৮৯৯, হাকেম ৭২৪৯, বাযযার ২৩৯৪, ত্বাবারানী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৫১৬ নং)
২০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭২৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! لقد ارتكبت العديد من الذنوب (الكبيرة). هل لدي أي توبة (كفارة)؟ قال: هل لك والدان؟ فقال الرجل: لا. هو مرة أخرى
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে আরজ করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি অনেক (বড়) গোনাহ করে ফেলেছি। আমার কি কোন তওবাহ (প্রায়শ্চিত্ত) আছে?’ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার মা-বাপ আছে কি?” লোকটি বলল, ‘জী না।’ তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তাহলে তোমার খালা আছে কি?” লোকটি বলল, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, “তাহলে তুমি তার সেবাযত্ন কর।” (আহমাদ ৪৬২৪, তিরমিযী ১৯০৪, ইবনে হিব্বান ৪৩৫, হাকেম ৭২৬১ নং)
২১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭২৬
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আমর (রাঃ)
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ الكَبَائِرُ : الإشْرَاكُ بِاللهِ وَعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ وَقَتْلُ النَّفْس وَاليَمِينُ الغَمُوسُرواه البخاري
আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনে আস (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “কাবীরাহ গুনাহসমূহ হচ্ছে, আল্লাহর সাথে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, প্রাণ হত্যা করা এবং মিথ্যা কসম খাওয়া।” (বুখারী ৬৬৭৫, ৬৮৭০ নং)
২২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭২৮
আবু ঈসা মুগীরা ইবনে শুবাহ (রা.)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إن الله قد حرَّم عليكم (ثلاثاً: عقوق الأم، وعف الحق، وسؤال غير الحق، وأن تضع الابنة حية، وهو يكره لكم (ثلاثة خصال)، واللغو الذي لا أساس له، وكثرة السؤال، وإضاعة المال). (البخاري 5975، مسلم 4580)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্য (তিনটি কর্মকে) হারাম করেছেন; মায়ের অবাধ্যাচরণ করা, অধিকার প্রদানে বিরত থাকা ও অনধিকার কিছু প্রার্থনা করা এবং কন্যা জীবন্ত প্রোথিত করা। আর তিনি তোমাদের জন্য অপছন্দ করেছেন (তিনটি কর্ম); ভিত্তিহীন বাজে কথা বলা (বা জনরবে থাকা), অধিক (অনাবশ্যক) প্রশ্ন করা (অথবা প্রয়োজনের অধিক চাওয়া) এবং ধন-মাল বিনষ্ট (অপচয়) করা।” (বুখারী ৫৯৭৫, মুসলিম ৪৫৮০ নং)
২৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭২৯
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «اثنتان عقوبتهما في الدنيا: البغي، وعقوق الوالدين». (الحكيم 7350، صحيح الجامع رقم 2810)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “দুটি (পাপ) দরজা এমন রয়েছে, যার শাস্তি দুনিয়াতেই তরান্বিত করা হয়; বিদ্রোহ ও পিতা-মাতার অবাধ্যাচরণ।” (হাকেম ৭৩৫০, সহীহুল জামে’ ২৮১০ নং)
২৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৩১
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
ولما توفيت أم سعد بن عبادة غاب. ثم قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله! توفيت والدتي أثناء غيابي. والآن إذا تبرعت منه بشيء فهل يستفيد؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "نعم". قال سعد: فإني أشهدك أني أعطيت حديقة مخارفي باسمه. (البخاري رقم 2756 الخ)
সা’দ বিন উবাদাহর মা যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার অনুপস্থিত থাকা কালে আমার আম্মা মারা গেছেন। এখন যদি তাঁর পক্ষ থেকে কিছু দান করি, তাহলে তিনি উপকৃত হবেন কি?’ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হ্যাঁ হবে।” সা’দ বললেন, ‘তাহলে আমি আপনাকে সাক্ষ্য রেখে বলছি যে, আমার মিখরাফের বাগান তাঁর নামে সদকাহ করলাম।’ (বুখারী ২৭৫৬ নং প্রমুখ)
২৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৩৩
কাতাদাহ (রাঃ)
عَنْ قَتَادَةَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ خَثْعَمَ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ قَالَ: قُلْتُ: أَنْتَ الَّذِي تَزْعُمُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ؟ قَالَ: ্রنَعَمْগ্ধ. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: ্রإِيمَانٌ بِاللَّهِগ্ধ. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ثُمَّ مَهْ؟ قَالَ: ্রثُمَّ صِلَةُ الرَّحِمِগ্ধ. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَبْغَضُ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: ্রالْإِشْرَاكُ بِاللَّهِগ্ধ. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ثُمَّ مَهْ؟ قَالَ: ্রثُمَّ قَطِيعَةُ الرَّحِمِগ্ধ. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ثُمَّ مَهْ؟ قَالَ: ্রثُمَّ الْأَمْرُ بِالْمُنْكَرِ وَالنَّهْيِ عَنِ الْمَعْرُوفِগ্ধ
আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, তারপর কি? তিনি বললেনঃ তাহলে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, কোন কাজটি আমি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপছন্দ করি? তিনি বললেনঃ “আল্লাহর সাথে শরীক করা। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, তারপর কি? তিনি বললেনঃ তাহলে পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করা। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল, তারপর কি? তিনি বললেনঃ “অতঃপর মন্দ কাজের আদেশ করা এবং সৎকাজে নিষেধ করা
২৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৩৪
আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ)
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلاَمٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُيَا أيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلاَمَ وَأطْعِمُوا الطَّعَامَ وَصِلُوا الأرْحَامَ وَصَلُّوا والنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُوا الجَنَّةَ بِسَلاَمرواه الترمذي وقالحديث حَسَنٌ صَحِيْحٌ
আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “হে লোক সকল, সালাম ছড়িয়ে দাও, খাদ্য সরবরাহ কর এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা কর। লোকেরা যখন ঘুমাচ্ছিল তখন তারা প্রার্থনা করল৷ তুমি শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল-তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত, যিনি বলেছেন এটি একটি ভাল এবং সহীহ হাদীস।
২৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৩৭
আয়েশা (রা)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الصداقة معلقة بالعرش، تقول: من وصلني وصل الله إليه، ومن فرقني وصله الله». عزل." (البخاري 5989، مسلم رقم 6683، كلام مسلم)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “জ্ঞাতিবন্ধন আরশে ঝুলন্ত আছে এবং সে বলছে, ‘যে আমাকে অবিচ্ছিন্ন রাখবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে অবিচ্ছিন্ন রাখবেন। আর যে আমাকে বিচ্ছিন্ন করবে, আল্লাহ তাঁর সম্পর্ক তার সাথে বিচ্ছিন্ন করবেন।” (বুখারী ৫৯৮৯, মুসলিম ৬৬৮৩ নং, শব্দাবলী মুসলিমের)
২৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৩৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
فقال رجل: يا رسول الله! لدي بعض الأقارب، أحافظ عليهم، فينقطعون. أنا أعاملهم بشكل جيد، وهم يعاملونني بشكل سيء. أنا أعاني عندما يعانون، ويعاملونني مثل الأحمق. قال: «إذا كان الأمر كذلك فاحثوا في وجوههم الرماد» أي: هم مذنبون بهذا الفعل، وسيكون لكم من الله ظهير عليهم ما دمتم على ذلك. (مسلم رقم: 6689)
এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার কিছু আত্মীয় আছে, আমি তাদের সাথে আত্মীয়তা বজায় রাখি, আর তারা ছিন্ন করে। আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, আর তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। তারা কষ্ট দিলে আমি সহ্য করি, আর তারা আমার সাথে মূর্খের আচরণ করে।’ তিনি বললেন, “যদি তা-ই হয়, তাহলে তুমি যেন তাদের মুখে গরম ছাই নিক্ষেপ করছ (অর্থাৎ, এ কাজে তারা গোনাহগার হয়।) এবং তোমার সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাহায্যকারী থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এর উপর অনড় থাকবে।” (মুসলিম ৬৬৮৯ নং)
২৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৪১
উকবাহ বিন আমের (রাঃ)
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ""الزم من قطعك، واعف عمن حرمك، واعفو عمن ظلمك"." (أحمد 17452،
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমার সঙ্গে যে আত্মীয়তা ছিন্ন করেছে, তুমি তার সাথে তা বজায় কর, তোমাকে যে বঞ্চিত করেছে, তুমি তাকে প্রদান কর এবং যে তোমার প্রতি অন্যায়াচরণ করেছে, তুমি তাকে ক্ষমা ক'রে দাও।” (আহমাদ ১৭৪৫২, হাকেম ৭২৮৫, ত্বাবারানী ১৪২৫৮, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৮০৭৯, সিঃ সহীহাহ ৮৯১ নং)
৩০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৪৪
আয়েশা (রা)
وعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صِلَةُ الرَّحِمِ وَحُسْنُ الخُلُقِ وَحُسْنُ الْجِوَارِ يُعَمِّرْنَ الدِّيَارَ وَيَزِدْنَ فِي الأَعْمَارِ
আয়েশা (রাঃ) এর সূত্রে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, সদাচরণ এবং উত্তম প্রতিবেশীতা গৃহকে জনবহুল করে এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।"
৩১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৪৬
আমর বিন সাহল (রাঃ)
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "صلة الرحم تؤدي إلى المال والوئام وطول العمر". (الطبراني الكبير 1721، الأوسطة 7810، صحيح الجامع رقم 3768)
আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় রাখাতে সম্পদ বৃদ্ধি হয়, পরিজনের মধ্যে সম্প্রীতি থাকে এবং আয়ুষ্কাল বেড়ে যায়।” (ত্বাবারানীর কাবীর ১৭২১, আওসাত্ব ৭৮১০, সহীহুল জামে ৩৭৬৮ নং)
৩২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৪৯
উম্মুল মু’মেনীন মায়মূনাহ বিনতে হারেষ (রাঃ)
وأعتق إحدى جواريه دون أن يستأذن النبي صلى الله عليه وسلم. فلما كان النهار، وكان دور النبي صلى الله عليه وسلم في الذهاب إليه، قالت ميمونة: يا رسول الله! أنا هل تفهم أنني أطلقت سراح جاريتي؟ قال: هل فعلت هذا؟ قالت ميمونة: نعم، نعم. قال: «إذا أعطيت الجارية لأعمامك فإنك تزد أجرا». (البخاري 2592، 2594، مسلم رقم 2364)
তিনি তাঁর একটি ক্রীতদাসীকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুমতি না নিয়েই মুক্ত করলেন। অতঃপর যখন ঐ দিন এসে পৌঁছল, যেদিন তাঁর কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যাওয়ার পালা, তখন মায়মূনাহ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি যে আমার ক্রীতদাসীকে মুক্ত ক’রে দিয়েছি, আপনি কি তা বুঝতে পেরেছেন?’ তিনি বললেন, “তুমি কি (সত্যিই) এ কাজ করেছ?” মায়মূনা বললেন, ‘জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, “তুমি যদি ক্রীতদাসীটিকে তোমার মামাদেরকে দিতে, তাহলে তুমি বেশী সওয়াব পেতে।” (বুখারী ২৫৯২, ২৫৯৪, মুসলিম ২৩৬৪ নং )
৩৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৫১
সালমান ইবনে আমের
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "--- الصدقة على المسكين أجر، والصدقة على ذي الرحم لها أجران: الصدقة وصلة الرحم". (الترمذي 658، لاحظ أن الجزء الأول من الحديث غير صحيح).
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “---মিসকীনকে সাদকাহ করলে সাদকাহ (করার সওয়াব) হয়। আর আত্মীয়কে সাদকাহ করলে দু’টি সওয়াব হয় ঃ সাদকাহ করার ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার।” (তিরমিযী ৬৫৮, উল্লেখ্য যে, হাদীসের প্রথম অংশ সহীহ নয় বলে উল্লেখ করা হয়নি।)
৩৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৫২
বর্ণনাকারী (RA)
وَعَن أَبي سُفيَانَ صَخرِ بنِ حَربٍ في حَديثِهِ الطويل في قِصَّةِ هِرَقْلَ: أنَّ هِرَقْلَ قَالَ لأَبِي سُفْيَانَ: فَمَاذَا يَأمُرُكُمْ بِهِ؟ يَعْنِي النَّبيّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ: قُلْتُ: يَقُولُ اعْبُدُوا اللهَ وَحْدَهُ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيئاً، واتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ وَيَأمُرُنَا بِالصَّلاةِ وَالصِّدْقِ والعَفَافِ والصِّلَةِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
হেরাক্লিয়াসের কাহিনী সম্পর্কে আবু সুফিয়ান সাখর বিন হারব তার দীর্ঘ হাদিসে বর্ণনা করেছেন: হেরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে বললেন: তিনি আপনাকে কী করতে আদেশ করেন? অর্থ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি বললাম: তিনি বলেছেন, "তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না, এবং তোমাদের পিতারা যা বলে তা ত্যাগ কর" এবং তিনি আমাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দেন। এবং সততা, সতীত্ব এবং ন্যায়পরায়ণতা সম্মত হয়
৩৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৫৩
সাহাবী
وَعَن أَبي سُفيَانَ صَخرِ بنِ حَربٍ في حَديثِهِ الطويل في قِصَّةِ هِرَقْلَ: أنَّ هِرَقْلَ قَالَ لأَبِي سُفْيَانَ: فَمَاذَا يَأمُرُكُمْ بِهِ؟ يَعْنِي النَّبيّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ: قُلْتُ: يَقُولُ اعْبُدُوا اللهَ وَحْدَهُ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيئاً، واتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ وَيَأمُرُنَا بِالصَّلاةِ وَالصِّدْقِ والعَفَافِ والصِّلَةِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আমি নবুঅতের শুরুর দিকে মক্কায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকটে এলাম এবং বললাম, ‘আপনি কী?’ তিনি বললেন, “আমি নবী।” আমি বললাম, ‘নবী কী?’ তিনি বললেন, “আমাকে মহান আল্লাহ প্রেরণ করেছেন।” আমি বললাম, ‘কি নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেছেন?’ তিনি বললেন, “জ্ঞাতিবন্ধন অক্ষুণ্ণরাখা, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা, আল্লাহকে একক উপাস্য মানা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়ে।---” (এ হাদীস অন্যত্রে উল্লিখিত হয়েছে।)
৩৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৫৪
আবু জার (রাঃ)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إنكم ستفتحون قريبا منطقة يذكر فيها القيراط). \nوفي رواية أخرى: ""ستفتحون مصر قريباً وهي أرض المروءة (الصوت) (تلك العملة شائعة هناك). أحسنوا إلى أهلها، فإن لهم ذمة (حق وكرامة) وقرابة".\nوفي رواية أخرى: ""فإذا فتحتموها فاذا فتحتموها""
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা অদূর ভবিষ্যতে এমন এক এলাকা জয় করবে, যেখানে ক্বীরাত্ব (এক দীনারের ২০ ভাগের একভাগ স্বর্ণমুদ্রা) উল্লেখ করা হয়।” \nঅন্য এক বর্ণনায় আছে, “তোমরা অচিরে মিসর জয় করবে এবং এটা এমন ভূখণ্ড যেখানে ক্বীরাত্ব (শব্দ) সচরাচর বলা হয়। (সেখানে ঐ মুদ্রা প্রচলিত।) তোমরা তার অধিবাসীদের সাথে ভাল ব্যবহার করো। কেননা, তাদের প্রতি (আমাদের) দায়িত্ব (অধিকার ও মর্যাদা) এবং আত্মীয়তা রয়েছে।”\nঅন্য এক বর্ণনায় আছে, “সুতরাং যখন তোমরা তা জয় করবে, তখন তার অধিবাসীর প্রতি সদ্ব্যবহার করো। কেননা, তাদের প্রতি (আমাদের) দায়িত্ব (অধিকার ও মর্যাদা) এবং আত্মীয়তা রয়েছে।” অথবা বললেন, “দায়িত্ব (অধিকার ও মর্যাদা) এবং বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।” (মুসলিম ৬৬৫৭-৬৬৫৮ নং)
৩৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৫৮
আবূ মুহাম্মাদ জুবাইর ইবনে মুত্বইম (রাঃ)
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يدخل الجنة سارق". ويقول سفيان في وصفه: أي قاطع الرحم. (البخاري 5984، مسلم برقم 6684-6685، الترمذي)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” সুফিয়ান তাঁর বর্ণনায় বলেন, অর্থাৎ, “আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী।” (বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ৬৬৮৪-৬৬৮৫ নং, তিরমিযী)
৩৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৫৯
আবু বাকরাহ (রাঃ)
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ""ليس هناك ذنب أحق من البغي وقطيعة الرحم، يعجل الله به الظالم في الدنيا، ويدخره للآخرة"." يحفظ." (أحمد 20374، 20399، الآداب المفرد للبخاري 29، أبو داود 4904، الترمذي 2511، ابن ماجه 4211، حكيم 3359، ابن حبان 455، صحيح الجامع رقم 5704)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যুলুমবাজী ও (রক্তের) আত্মীয়তা ছিন্ন করা ছাড়া এমন উপযুক্ত আর কোন পাপাচার নেই যার শাস্তি পাপাচারীর জন্য দুনিয়াতেই আল্লাহ অবিলম্বে প্রদান করে থাকেন এবং সেই সাথে আখেরাতের জন্যও জমা করে রাখেন।” (আহমাদ ২০৩৭৪, ২০৩৯৯, বুখারীর আল-আদাবুল মুফরাদ ২৯, আবূ দাউদ ৪৯০৪, তিরমিযী ২৫১১, ইবনে মাজাহ ৪২১১, হাকেম ৩৩৫৯, ইবনে হিব্বান ৪৫৫, সহীহুল জামে’ ৫৭০৪ নং)
৩৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৬১
ইবনে উমার ও আয়েশা
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما زال جبريل يعظني في الجار، حتى إني ظننت أنه سيورثه». (البخاري 6014-6015، مسلم رقم 6854)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “জিব্রাইল আমাকে সব সময় প্রতিবেশী সম্পর্কে অসিয়ত ক’রে থাকেন। এমনকি আমার মনে হল যে, তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারেস বানিয়ে দেবেন।” (বুখারী ৬০১৪-৬০১৫, মুসলিম ৬৮৫৪ নং)
৪০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৬২
আবু জার (রাঃ)
وأمر صلى الله عليه وسلم: (إذا طبخت مرقة فزد عليها الماء، ثم اوصلها إلى بيت جارك على عادتك). (مسلم رقم: 6855-6856)
একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হে আবূ যার্র! যখন তুমি ঝোল (ওয়ালা তরকারি) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বেশী কর এবং তোমার প্রতিবেশীদের খেয়াল রাখ।” \nঅন্য এক বর্ণনায় আবূ যার্র বলেন, আমাকে আমার বন্ধু (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)) অসিয়ত ক’রে বলেছেন যে, “যখন তুমি ঝোল (ওয়ালা তরকারী) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বেশী কর। অতঃপর তোমার প্রতিবেশীর বাড়িতে রীতিমত পৌঁছে দাও।” (মুসলিম ৬৮৫৫-৬৮৫৬ নং)
৪১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৬৩
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «والذي نفسي بيده لا يؤمن عبد حتى يعمل لجاره أو لأخيه ما يعمل لنفسه». (مسلم رقم 180) .
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! কোন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত (পূর্ণ) মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার প্রতিবেশী অথবা (কোন) ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করেছে, যা সে নিজের জন্য করে।” (মুসলিম ১৮০ নং)
৪২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৬৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما آمن بي من بات شبعانًا وجاره جائع إلى جنبه وهو يعلم». (البزار، الطبراني 750، صحيح الجامع رقم 5505)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সে আমার প্রতি ঈমান আনে নি, যে ব্যক্তি পরিতৃপ্ত হয়ে রাত্রিযাপন করে, অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে এবং এ কথা সে জানে।” (বাযযার, ত্বাবারানী ৭৫০, সহীহুল জামে ৫৫০৫ নং)
৪৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৬৬
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يشتد إيمان عبد حتى يشتد قلبه، ولا يشتد قلبه حتى يشتد لسانه، ولا يدخل الجنة من لا يأمن جاره بوائقه». (أحمد 13048، الطبراني رقم 10401)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কোন বান্দার ঈমান দুরস্ত হয় না; যতক্ষণ পর্যন্ত না তার হৃদয় দুরস্ত হয় এবং তার হৃদয়ও দুরস্ত হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত না তার জিহ্বা দুরস্ত হয়। আর সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা না পায়।” (আহমাদ ১৩০৪৮, ত্বাবারানী ১০৪০১ নং)
৪৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৬৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
لا يأمن من الأذى." \nوفي رواية لمسلم: لا يدخل الجنة من لا يأمن جاره بوائقه. (البخاري 6016، مسلم 181)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়।” জিজ্ঞেস করা হল, ‘কোন্ ব্যক্তি? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকে না।” \nমুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না। (বুখারী ৬০১৬, মুসলিম ১৮১ নং)
৪৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৬৯
সাহাবীগণ
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يمنع جار جاره أن يبني على جداره خشبا. فقال أبو هريرة رضي الله عنه: ما لي أرسلك إلى الرسول صلى الله عليه وسلم؟
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেওয়ালে কাঠ (বাঁশ ইত্যাদি) গাড়তে নিষেধ না করে। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, ‘কী ব্যাপার আমি তোমাদেরকে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরাতে দেখছি! আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমি এ (সুন্নাহ) কে তোমাদের ঘাড়ে নিক্ষেপ করব (অর্থাৎ এ কথা বলতে থাকব)।’ (বুখারী ২৪৬৩, মুসলিম ৪২১৫ নং)
৪৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৭২
আবূ শুরায়হ খুযায়ী
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليحسن إلى جاره، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليحسن إلى ضيفه، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليحسن إلى ضيفه». من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيراً أو ليصمت». (مسلم رقم 185، بعض كلام البخاري)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহেমানের খাতির করে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, অথবা নীরব থাকে।” (মুসলিম ১৮৫ নং, কিছু শব্দ বুখারীর)
৪৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৭৩
আব্দুর রহমান বিন আবী কুরাদ
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إذا أردت أن يحبك الله ورسوله، رد الأمانة إلى صاحبها، وصدق، وحسن إلى جارك". (الأوسط للطبراني ٦٥١٧،
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যদি তোমরা চাও যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমাদেরকে ভালোবাসবেন, তাহলে তোমরা আমানত তার মালিককে প্রত্যর্পণ কর, সত্য কথা বল এবং তোমাদের প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার কর।” (ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৬৫১৭, সহীহুল জামে ১৪০৯ নং)
৪৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৭৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اجتنب الحرام والحرام تكن أعظم الناس عبادة، وارض بما آتاك الله تكن أعظم الناس". ستكون غنياً وأحسن إلى جارك تكن مؤمناً. أحب للناس ما تحبه لنفسك تكن مسلما. ولا تكثر الضحك، فإن كثرة الضحك تميت القلب» (أحمد).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিষিদ্ধ ও হারাম জিনিস থেকে বেঁচে থাক, তাহলে তুমি মানুষের মধ্যে সব চেয়ে বড় আবেদ (ইবাদতকারী) গণ্য হবে। আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন, তাতেই পরিতুষ্ট থাক, তবে তুমিই মানুষের মধ্যে সব চেয়ে বড় ধনী হবে। প্রতিবেশীর প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে তুমি একজন (খাঁটি) মু’মিন বিবেচিত হবে। মানুষের জন্যও তা-ই পছন্দ কর, যা তুমি নিজের জন্য পছন্দ কর, তাহলে তুমি একজন (খাঁটি) মুসলিম গণ্য হবে। আর খুব বেশী হাসবে না, কারণ, অধিক হাসি অন্তরকে মেরে দেয়।” (আহমাদ ৮০৯৫, তিরমিযী ২৩০৫, সহীহুল জামে ৪৫৮০, ৭৮৩৩ নং)
৪৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৭৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
فقال رجل: يا رسول الله! ويقال إن مثل هذه المرأة تكثر من الصلاة والصيام والتصدق؛ ولكنه يؤذي جاره بلسانه (بالفحش أو البذاءة). (ما رأيك فيه؟) قال: "هو في النار". سوف اذهب." فقال الرجل مرة أخرى: يا رسول الله! ويقال إن مثل هذه المرأة قليلة الصلاة والصوم والصدقة. ولكن لا يؤذي جاره بلسانه (بالفحش أو البذاءة). (ما رأيك فيه؟) قال: يدخل الجنة. (أحمد 9675، ابن حبان 5764، الحكيم 7305، صحيح الترغيب رقم 2560)
এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা বেশী বেশী (নফল) নামায পড়ে, সিয়াম রাখে ও দান-খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। (তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি বললেন, “সে দোযখে যাবে।” লোকটি আবার বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! অমুক মহিলা অল্প (নফল) নামায পড়ে, সিয়াম রাখে ও দান-খয়রাত করে বলে উল্লেখ করা হয়; কিন্তু সে নিজ জিভ দ্বারা (অসভ্য কথা বলে বা গালি দিয়ে) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না। (তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি বললেন, “সে বেহেশ্তে যাবে।” (আহমাদ ৯৬৭৫, ইবনে হিব্বান ৫৭৬৪, হাকেম ৭৩০৫, সহীহ তারগীব ২৫৬০ নং)
৫০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৭৮
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم خَيْرُ الأَصْحَابِ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى خَيْرُهُمْ لِصَاحِبِهِ وَخَيرُ الجِيرَانِ عِنْدَ الله تَعَالَى خَيْرُهُمْ لِجَارِهِرواه الترمذي وَقالَ حديث حسن))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আল্লাহর নিকট সেই প্রতিবেশী সর্বোত্তম, যে তার প্রতিবেশীর দৃষ্টিতে সর্বাধিক উত্তম।” (আহমাদ ৬৫৬৬, তিরমিযী ১৯৪৪, ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান, হাকেম, সিঃ সহীহাহ ১০৩ নং)