অধ্যায় ১৫
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৯৩
قال: بايعنا رسول الله صلى الله عليه وسلم على أن نطيعه تمام الطاعة في السراء والضراء، وفي الرخاء والعسر، وإذا قدمنا. له ضد زعيم الدولة
তিনি বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এই মর্মে বাইয়াত করলাম যে, দুঃখে-সুখে, আরামে ও কষ্টে এবং আমাদের উপর (অন্যদেরকে) প্রাধান্য দেওয়ার অবস্থায় আমরা তাঁর পূর্ণ আনুগত্য করব। রাষ্ট্রনেতার বিরুদ্ধে তার নিকট থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার লড়াই করব না; যতক্ষণ না তোমরা (তার মধ্যে) প্রকাশ্য কুফরী দেখ, যে ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে দলীল রয়েছে। আর আমরা সর্বদা সত্য কথা বলব এবং আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করব না।’ (বুখারী ৭২০০, মুসলিম ৪৮৭৪)
০২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৯৪
عَن أُمِّ المُؤمِنِينَ أُمِّ سَلَمَةَ هِندِ بِنتِ أَبي أُمَيَّةَ حُذَيفَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَإنَّهُ يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ فَتَعرِفُونَ وتُنْكِرُونَ فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ وَمَنْ أنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، أَلاَ نُقَاتِلهم؟ قَالَ لاَ، مَا أَقَامُوا فيكُمُ الصَّلاةَ رواه مسلم
মুমিনদের জননী উম্মে সালামাহ হিন্দ, আবি উমাইয়া হুযায়ফাহ এর কন্যা, আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন, নবীর কর্তৃত্বে, আল্লাহর দোয়া ও সালাম তাঁর উপর, তিনি বলেছিলেন, "এটি আপনার উপর ব্যবহার করা হবে।" রাজকুমারগণ, তোমরা চিনতে পারো এবং অস্বীকার কর, সুতরাং যে একে ঘৃণা করে সে মুক্ত হয়ে যায়, আর যে অস্বীকার করে সে নিরাপদ, কিন্তু যে সন্তুষ্ট হয় এবং তা অনুসরণ করে, তারা বলে: হে রসূল আল্লাহ, আমাদের কি তাদের সাথে যুদ্ধ করা উচিত নয়? তিনি বললেন, না, যতক্ষণ না তারা তোমাদের মধ্যে সালাত কায়েম করবে। মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
০৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৯৬
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «قول الحق عند ملك جائر أعظم الجهاد». (أبو داود 4346، الترمذي 2174، ابن ماجه 4011)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “অত্যাচারী বাদশাহর নিকট হক কথা বলা সর্বশ্রেষ্ঠ জিহাদ।” (আবূ দাঊদ ৪৩৪৬, তিরমিযী ২১৭৪, ইবনে মাজাহ ৪০১১)
০৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৯৮
عَنِ النُّعمَانِ بنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَثَلُ القَائِمِ في حُدُودِ اللهِ وَالوَاقعِ فِيهَا، كَمَثَلِ قَومٍ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ فَصَارَ بَعْضُهُمْ أعْلاها وَبَعْضُهُمْ أَسْفَلَهَا، وَكَانَ الَّذِينَ في أَسْفَلِهَا إِذَا اسْتَقَوا مِنَ المَاءِ مَرُّوا عَلَى مَنْ فَوْقهُمْ فَقَالُوا: لَوْ أنَّا خَرَقْنَا في نَصِيبِنَا خَرْقاً وَلَمْ نُؤذِ مَنْ فَوقَنَا، فَإِنْ تَرَكُوهُمْ وَمَا أرَادُوا هَلَكُوا جَمِيعاً، وَإنْ أخَذُوا عَلَى أيدِيهِمْ نَجَوا وَنَجَوْا جَمِيعاً رواه البخاري
আল-নুমান বিন বাশীর থেকে, আল্লাহ তাদের উভয়ের উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বরাতে, আল্লাহ্র দোয়া ও সালাম তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সীমারেখার মধ্যে অবস্থান করে এবং তাদের মধ্যে পড়ে তার উদাহরণ হল সেই লোকের মত যারা জাহাজের উপর তীর নিক্ষেপ করেছিল, এবং তাদের মধ্যে কেউ তার উপরে ছিল এবং তাদের মধ্যে কেউ নীচের দিকে ছিল, যখন তারা পানির উপর দিয়ে গিয়েছিল, তখন তারা পানির উপরে ছিল। তারা বললো: যদি আমরা আমাদের অংশে সীমা লঙ্ঘন করতাম এবং আমাদের উপরোক্ত লোকদের ক্ষতি না করতাম, তবে তারা যদি তাদের ত্যাগ করত এবং না চাইত তবে তারা সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে, যদিও তারা বেঁচে গিয়েছিল এবং তারা সকলেই আল-বুখারী বর্ণনা করেছেন
০৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৯৯
عَن أُمِّ المُؤمِنِينَ أُمِّ الحَكَمِ زَينَبَ بِنتِ جَحشٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُا : أن النَّبيّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم دَخَلَ عَلَيْهَا فَزِعاً يَقُولُ لا إلهَ إلاّ الله وَيلٌ للْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ اليَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأجُوجَ وَمَأجُوجَ مِثلَ هذِهِ وحلّق بأُصبُعيهِ الإبهامِ وَالَّتِي تَلِيهَا فَقُلتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ ؟ قَالَ نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الخَبَثُ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
মুমিনদের মা, উম্মুল-হাকাম, জয়নাব বিনতে জাহশ, ঈশ্বর তার উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন: নবী, ঈশ্বরের প্রার্থনা এবং শান্তি তার উপর ভয়ে প্রবেশ করে বললেন: ঈশ্বর ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। আরবদের মন্দ থেকে আফসোস। আজ, ফাতহা এ রকম ইয়াজুজ ও মাগোজের ধ্বংসাবশেষের কাছে এসে তার দুই আঙ্গুল, বুড়ো আঙুল ও পরের দিকে প্রদক্ষিণ করল এবং আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল ধ্বংস হয়ে গেলেন, কিন্তু আমাদের মধ্যে ধার্মিক কে আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি অনেক বিদ্বেষ থাকে, তাতে রাজি।
০৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬০১
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لكل واحد منكم صدقة كل يوم من كل مفصل، فكل تسبيح صدقة، وكل تحميد صدقة، وكل تهليل صدقة، وكل تكبيرة صدقة وأمر بالمعروف). والنهي عن المنكر صدقة، ويجزئ بدل هذه المنكرات ركعتان من الششت». (مسلم 1704) .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের মধ্যে প্রত্যেকের প্রত্যেক (হাড়ের) জোড়ের পক্ষ থেকে প্রাত্যহিক (প্রদেয়) সাদকাহ রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেক তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ বলা) সাদকাহ, প্রত্যেক তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ বলা) সাদকাহ, প্রত্যেক তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা) সাদকাহ, প্রত্যেক তাকবীর (আল্লাহু আকবার বলা) সাদকাহ এবং ভাল কাজের আদেশ প্রদান ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকাহ। এ সব কাজের পরিবর্তে চাশতের দু’রাক্আত নামায যথেষ্ট হবে।” (মুসলিম ১৭০৪)
০৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬০২
فقال بعض الصحابة: يا رسول الله! أصبح الأغنياء أكثر فضيلة. يصلون كما نصلي، ويصومون كما نصوم، ويتصدقون من فضلهم. قال: "أليس قد أعطاك الله شيئا تصدق به؟ إن كل تسبيحة صدقة، وكل تكبيرة صدقة، وكل تهليلة صدقة، وأمر بالمعروف صدقة، ونهي عن المنكر صدقة، وزواجك صدقة". فقال الصحابة: يا رسول الله! إذا كتم أحدنا شهوته الجنسية بجماع زوجته فهل يكون ذلك فضيلة له؟ (بلى.) وكذلك إذا كظم شهوته حلالاً كان ذلك فضيلة له. (مسلم 2376) .
কিছু সাহাবা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! ধনীরাই তো বেশী নেকীর অধিকারী হয়ে গেল। তারা নামায পড়ছে যেমন আমরা নামায পড়ছি, তারা সিয়াম রাখছে যেমন আমরা রাখছি এবং (আমাদের চেয়ে তারা অতিরিক্ত কাজ এই করছে যে,) নিজেদের প্রয়োজন-অতিরিক্ত মাল থেকে তারা সাদকাহ করছে।’ তিনি বললেন, “আল্লাহ কি তোমাদের জন্য সাদকাহ করার মত জিনিস দান করেননি? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক তাসবীহ সাদকাহ, প্রত্যেক তাকবীর সাদকাহ, প্রত্যেক তাহলীল সাদকাহ, ভাল কাজের নির্দেশ দেওয়া সাদকাহ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকাহ এবং তোমাদের স্ত্রী-মিলন করাও সাদকাহ।” সাহাবাগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ স্ত্রী-মিলন করে নিজের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে, তবে এতেও কি তার পুণ্য হবে?’ তিনি বললেন, “কী রায় তোমাদের, যদি কেউ অবৈধভাবে যৌন-মিলন করে, তাহলে কি তার পাপ হবে? (নিশ্চয় হবে।) অনুরূপ সে যদি বৈধভাবে (স্ত্রী-মিলন করে) নিজের কামক্ষুধা নিবারণ করে, তাহলে তাতে তার পুণ্য হবে।” (মুসলিম ২৩৭৬)
০৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬০৪
رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم خاتما من ذهب في يد رجل. ثم نزعها فرمى بها وقال: «يأخذ أحدكم قطعة من نار طوعا فيجعلها في يده». ثم ذهب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقيل للرجل: خذ خاتمك وانتفع به. قال: لا. بالله! لا ألتقط ما رمي رسول الله صلى الله عليه وسلم أبدا. (مسلم 5593)
রাসূলুল্লাহ একটি লোকের হাতে সোনার আংটি দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি তা খুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেন, “তোমাদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় আগুনের টুকরা নিয়ে তা স্বহস্তে রাখতে চায়!” অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চলে গেলে সেই লোকটিকে বলা হল, ‘তুমি তোমার আংটিটা তুলে নাও এবং (তা বিক্রি করে অথবা উপঢৌকন দিয়ে) তার দ্বারা উপকৃত হও।’ সে বলল, ‘না। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা ফেলে দিয়েছেন, তা আমি কখনই তুলে নেব না।’ (মুসলিম ৫৫৯৩)
০৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬০৫
عَن حُذَيفَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ وَالَّذِي نَفْسي بِيَدِهِ لَتَأْمُرُنَّ بِالمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنْ المُنْكَرِ أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللهُ أنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَاباً مِنْهُ ثُمَّ تَدْعُوْنَهُ فَلا يُسْتَجَابُ لَكُمْ رواه الترمذي، وَقالَ حديث حسن
হুযায়ফাহ (রাঃ) এর সূত্রে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে, তিনি বলেন, “যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ, আপনি অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবেন এবং অন্যায়কে নিষেধ করবেন, নতুবা আল্লাহ শীঘ্রই তাঁর কাছ থেকে আপনার উপর আযাব পাঠাবেন, তারপর আপনি তাকে ডাকবেন, কিন্তু আপনার প্রার্থনার সাড়া দেওয়া হবে না, যা আল-নাইরহী বলেছে, এটি একটি উত্তম হাদীস দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।
১০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬০৬
أيها الناس! تقرأ هذه الآية: "يا أيها الذين آمنوا عليكم أنفسكم إن اهتديتم لا يضركم من ضل". (سورة المائدة 105) ولكني رسول الله صلى الله عليه وسلم. سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إذا رأى الناس الظالم فلم يأخذوا بيده، أخذهم الله أجمعين إلى عذابه». (أبو داود 4340، الترمذي 2168، 3057، النصائر الكبرى 11157، ابن ماجه 4005)
‘হে লোক সকল! তোমরা এই আয়াত পড়ছ, “হে মু’মিনগণ! তোমাদের আত্মরক্ষা করাই কর্তব্য। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।” (সূরা মায়েদাহ ১০৫) কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “যখন লোকেরা অত্যাচারীকে (অত্যাচার করতে) দেখবে এবং তার হাত ধরে না নেবে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের সকলকে (আমভাবে) তার শাস্তির কবলে নিয়ে নেবেন।” (আবূ দাউদ ৪৩৪০, তিরমিযী ২১৬৮, ৩০৫৭, নাসাঈর কুবরা ১১১৫৭, ইবনে মাজাহ ৪০০৫)
১১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬০৭
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا ابتغى قوم منكرات مختلفة، كان منهم من يستطيع أن يمنعه، فإن لم ينهه، كثر عذابه» (أحمد 4/364، أبو داود 4339، ابن ماجه 4009، ابن حبان، صحيح أبو داود). 3646)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে সম্প্রদায় যখন বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত হয়, তখন তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি থাকে, যার বাধা দেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি তারা তাদেরকে বাধা না দেয় (এবং ঐ পাপাচরণ বন্ধ না করে), তাহলে (তাদের জীবদ্দশাতেই) মহান আল্লাহ তাদেরকে ব্যাপকভাবে তাঁর কোন শাস্তি ভোগ করান।” (আহমাদ ৪/৩৬৪, আবূ দাউদ ৪৩৩৯, ইবনে মাজাহ ৪০০৯, ইবনে হিব্বান, সহীহ আবূ দাউদ ৩৬৪৬)
১২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬১৩
The Messenger of Allah (peace and blessings of Allah be upon him) said, "Whoever calls (someone) to the right path, he will receive the same good deeds for him as those who do good. It will not diminish their good deeds. And whoever calls (someone) to the wrong path, his
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি (কাউকে) সৎপথের দিকে আহবান করবে, সে তার প্রতি আমলকারীদের সমান নেকী পাবে। এটা তাদের নেকীসমূহ থেকে কিছুই কম করবে না। আর যে ব্যক্তি (কাউকে) ভ্রষ্টতার দিকে আহবান করবে, তার উপর তার সমস্ত অনুসারীদের গোনাহ চাপবে। এটা তাদের গোনাহ থেকে কিছুই কম করবে না।” (মুসলিম ৬৯৮০ প্রমুখ)
১৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬১৫
قال: كان ابن مسعود رضي الله عنه ينصحنا في كل خميس. فقال له رجل: يا أبا عبد الرحمن! أتمنى أن تعظنا كل يوم (سيكون أفضل). قال: اذكر امنعني من هذا. صحيح أنني أكره أن أزعجك. وأنا أراقبكم في الوعظ كما شاهدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم مخافة أن نؤذينا.
তিনি বলেন, ইবনে মাসঊদ (রাঃ) প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে আমাদেরকে নসীহত শুনাতেন। একটি লোক তাঁকে নিবেদন করল, ‘হে আবূ আব্দুর রহমান! আমার বাসনা এই যে, আপনি আমাদেরকে যদি প্রত্যেক দিন নসীহত শুনাতেন (তো ভাল হত)।’তিনি বললেন, ‘স্মরণে রাখবে, আমাকে এতে বাধা দিচ্ছে এই যে, আমি তোমাদেরকে বিরক্ত করতে অপছন্দ করি। আমি নসীহতের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি ঠিক ঐভাবে লক্ষ্য রাখছি, যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের বিরক্ত হবার আশংকায় উক্ত বিষয়ে আমাদের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন।’(অর্থাৎ মাঝে-মধ্যে বিশেষ প্রয়োজন মাফিক নসীহত শুনাতেন।) (বুখারী ৭০, ৬৪১১, মুসলিম ৭৩০৫-৭৩০৭)
১৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬১৯
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «يؤتى بالرجل يوم القيامة، ثم يلقى في النار، فيخرج نبضه، فيدور مثل الحمار». العجلة تدور حولها. فيجتمع إليه أهل النار فيقولون له: يا فلان! لماذا لديك هذا الشرط؟ ألا تأمرون بالمعروف وتنهون عن المنكر؟ فيقول: بالتأكيد. أوصيك بالأعمال الصالحة. ولكن أنا نفسي لن أفعل وأمنع الأفعال الشريرة؛ لكنني سأفعل ذلك بنفسي!" (البخاري 3267، مسلم 7674)
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে আনা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। সেখানে তার নাড়ি-ভুঁড়ি বের হয়ে যাবে এবং সে তার চারিপাশে এমনভাবে ঘুরতে থাকবে, যেমন গাধা তার চাকির চারিপাশে ঘুরতে থাকে। তখন জাহান্নামীরা তার কাছে একত্রিত হয়ে তাকে বলবে, ‘ওহে অমুক! তোমার এ অবস্থা কেন? তুমি না (আমাদেরকে) সৎ কাজের আদেশ, আর অসৎ কাজে বাধা দান করতে?’ সে বলবে, ‘অবশ্যই। আমি (তোমাদেরকে) সৎকাজের আদেশ দিতাম; কিন্তু আমি তা নিজে করতাম না এবং অসৎ কাজে বাধা দান করতাম; অথচ আমি নিজেই তা করতাম!” (বুখারী ৩২৬৭, মুসলিম ৭৬৭৪)
১৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬২০
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "مررت ليلة المعراج بقوم يقطعون شفاههم بمقاريض من نار، فقلت: يا جبريل، من هم؟" قال: هم حديث أمتك؛ الذين نسوا أنفسهم وأمروا الناس بالمعروف وهم يدرسون الكتاب أفلا يعقلون». (أحمد 12211، 12856 الخ، ابن حبان 53، أوسط الطبراني 2832، بيكبير شعب الإيمان 1773، أبو يعلى 3992، صحيح الترغيب 125)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আমি মি’রাজের রাতে এমন একদল লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি যারা আগুনের কাঁচি দ্বারা নিজেদের ঠোঁট কাটছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে জিবরীল! ওরা কারা?’ তিনি বললেন, ‘ওরা আপনার উম্মতের বক্তাদল; যারা নিজেদের বিস্মৃত হয়ে মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দিত, অথচ ওরা কিতাব (গ্রন্থ) অধ্যয়ন করত, তবে কি ওরা বুঝত না।” (আহমাদ ১২২১১, ১২৮৫৬ প্রভৃতি, ইবনে হিব্বান ৫৩, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ২৮৩২, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১৭৭৩, আবূ য়্যা’লা ৩৯৯২, সহীহ তারগীব ১২৫)
১৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬২৪
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من سن سنة حسنة فله أجر ما دامت كذلك في حياته وبعد مماته حتى تترك، ومن عمل سيئة». وعلى من فعل العادة إثم محقق حتى يتخلى عن تلك العادة (أو الفعل). ومن مات وهو في خدمة جنود الدفاع إلى أن يبعث يوم القيامة فإن جنوده يستمر أجره. (الطبراني الكبير 17645، صحيح الترغيب 62)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন ভালো রীতি প্রবর্তন করে তার জন্য নির্দিষ্ট সওয়াব রয়েছে, যতদিন সেই রীতির উপর আমল হতে থাকবে; তার জীবনকালে এবং তার মৃত্যুর পরেও; যতক্ষণ না তা বর্জিত হয়েছে। আর যে ব্যক্তি কোন মন্দ রীতির প্রচলন করে তার জন্য রয়েছে তার নির্দিষ্ট পাপ, যতক্ষণ না সে রীতি (বা কর্ম) বর্জন করা হয়েছে। আবার যে ব্যক্তি প্রতিরক্ষা-বাহিনীর কার্যে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে সে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত তার ঐ প্রতিরক্ষা-বাহিনীর কাজের সওয়াব জারী থাকে। (ত্বাবারানীর কাবীর ১৭৬৪৫, সহীহ তারগীব ৬২)
১৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৬২৫
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (من قتل نفسا مظلوما كان عليه من إثمه ابن آدم الأول، لأنه أول من سن القتل). (البخاري 3335، مسلم 4473، الترمذي 2673، النسائي 3985، ابن ماجه 2616)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে কোন প্রাণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হবে, তার পাপের একটা অংশ আদমের প্রথম সন্তান (কাবীল)এর উপর বর্তাবে। কেননা, সে হত্যার রীতি সর্বপ্রথম চালু করেছে।” (বুখারী ৩৩৩৫, মুসলিম ৪৪৭৩, তিরমিযী ২৬৭৩, নাসাঈ ৩৯৮৫, ইবনে মাজাহ ২৬১৬)