অধ্যায় ১৮
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৮৮
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: قال رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ إِلاَّ جَعَلَ اللهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যতক্ষণ না তাদের নেতারা আল্লাহর কিতাব দ্বারা শাসন করে এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা থেকে তারা বেছে না নেয়, আল্লাহ তাদের মধ্যে তাদের বীরত্ব প্রদর্শন করবেন।
০২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৮৯
فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا عبد الرحمن بن سمرة، لا تطلب الوظيفة العامة، فإن لم تطلبها ساعدت، وإذا طلبتها وهب لك». فيكون ( ولن يكون لك على ذلك نصر من الله ) وإذا حلفت على شيء فرأيت أن غيره أفضل منه فاعمل الذي هو خير وكفر عن يمينك. (البخاري 6722، 7146، مسلم 4370)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “হে আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ! তুমি সরকারী পদ চেয়ো না। কারণ তুমি যদি তা না চেয়ে পাও, তাহলে তাতে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর যদি তুমি তা চাওয়ার কারণে পাও, তাহলে তা তোমাকে সঁপে দেওয়া হবে। (এবং তাতে আল্লাহর সাহায্য পাবে না।) আর যখন তুমি কোন কথার উপর কসম খাবে, অতঃপর তা থেকে অন্য কাজ উত্তম মনে করবে, তখন উত্তম কাজটা কর এবং তোমার কসমের কাফ্ফারা দিয়ে দাও।” (বুখারী ৬৭২২, ৭১৪৬, মুসলিম ৪৩৭০ নং)
০৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৯১
وَعَنهُ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ألا تَسْتَعْمِلُني ؟ فَضَرَبَ بِيَدِهِ عَلَى مَنْكِبِي ثُمَّ قَالَيَا أَبَا ذَرٍّ إنَّكَ ضَعِيفٌ وَإِنَّهَا أَمَانَةٌ وَإنَّهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ خِزْيٌ وَنَدَامَةٌ إِلاَّ مَنْ أخَذَهَا بِحَقِّهَا وَأدَّى الَّذِي عَلَيْهِ فِيهَارواه مسلم
তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহ রসূল! আপনি আমাকে (কোন স্থানের সরকারী) কর্মচারী কেন নিযুক্ত করছেন না?’ তিনি নিজ হাত আমার কাঁধের উপর মেরে বললেন, “হে আবূ যার্র! তুমি দুর্বল এবং (এ পদ) আমানত ও এটা কিয়ামতের দিন অপমান ও অনুতাপের কারণ হবে। কিন্তু যে ব্যক্তি তা হকের সাথে (যোগ্যতার ভিত্তিতে) গ্রহণ করল এবং নিজ দায়িত্ব (যথাযথভাবে) পালন করল (তার জন্য এ পদ লজ্জা ও অনুতাপের কারণ নয়)।” (মুসলিম ৪৮২৩ নং)
০৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৯২
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنك لتطمع الرياسة سريعا، فإنها ستكون سببا للتوبة يوم القيامة، فكم هو خير وشر (في الآخرة)". (البخاري رقم 7148 والنسائي وغيرهما)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা অতি সত্বর নেতৃত্বের লোভ করবে। (কিন্তু স্মরণ রাখো) এটি কিয়ামতের দিন অনুতাপের কারণ হবে। সুতরাং তা কত (ইহলোকে) উৎকৃষ্ট ও (পরলোকে) নিকৃষ্ট বিষয়!” (বুখারী ৭১৪৮ নং, নাসাঈ প্রভৃতি)
০৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৯৩
ذهبت أنا وابنا عمي إلى النبي صلى الله عليه وسلم. فقال أحدهم: يا رسول الله! أعطني بعض الحكم (الإقليمي) من بين جميع الصلاحيات التي أعطاك الله إياها. قال نفس الشيء. فقال: والله إنا لا نعطي هذه الوظيفة لمن يطلب الوظيفة العامة أو يطمع فيها. (البخاري 7149، مسلم 4821)
আমি এবং আমার চাচাতো দু’ভাই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গেলাম। সে দু’জনের মধ্যে একজন বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! মহান আল্লাহ আপনাকে যে সব শাসন-ক্ষমতা দান করেছেন, তার মধ্যে কিছু (এলাকার) শাসনভার আমাকে প্রদান করুন।’ দ্বিতীয়জনও একই কথা বলল। উত্তরে তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম! যে সরকারী পদ চেয়ে নেয় অথবা তার প্রতি লোভ রাখে, তাকে অবশ্যই আমরা এ কাজ দিই না।” (বুখারী ৭১৪৯, মুসলিম ৪৮২১ নং)
০৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৯৪
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (سبعة يظلهم الله في ظله يوم لا ظل إلا ظله: الملك الصالح، الشاب الذي فضل الله شبابه). المنصرف في عبادة العجلة، الشخص الذي قلبه معلق بالمساجد (عقله دائما منجذب إلى المساجد). الشخصان اللذان يقيمان الصداقة والمحبة في سبيل الله؛ أولئك الذين يجتمعون على هذا الحب حتى يده اليسرى لا تعرف. ومن ذكر الله خالياً؛ ففاضت الدموع من عينيه." (البخاري 660، 1423، 6806، مسلم رقم 2427).
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না; (তারা হল,) ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা), সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ আয্যা অজাল্লার ইবাদতে অতিবাহিত হয়, সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদসমূহের সাথে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে।) সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালোবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালোবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়। সেই ব্যক্তি যাকে কোন কুলকামিনী সুন্দরী (অবৈধ যৌন-মিলনের উদ্দেশ্যে) আহবান করে, কিন্তু সে বলে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি।’ সেই ব্যক্তি যে দান ক’রে গোপন করে; এমনকি তার ডান হাত যা প্রদান করে, তা তার বাম হাত পর্যন্তও জানতে পারে না। আর সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তার উভয় চোখে পানি বয়ে যায়।” (বুখারী ৬৬০, ১৪২৩, ৬৮০৬, মুসলিম ২৪২৭ নং)
০৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৯৫
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الذين يتقون عند الله يجلسون على منبر من نور عن يمين الرحمن، ويده اليمنى، أولئك في حكمهم وفي أهليهم وفي سلطانه، واعدلوا من تقودهم». (مسلم رقم: 4825)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর নিকট যারা ন্যায়পরায়ণ তারা দয়াময়ের ডান পার্শ্বে জ্যোতির মিম্বরের উপর অবস্থান করবে। আর তাঁর উভয় হস্তই ডান। (ঐ ন্যায়পরায়ণ তারা) যারা তাদের বিচারে, পরিবারে এবং তার কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বাধীন ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে ন্যায়নিষ্ঠ।” (মুসলিম ৪৮২৫ নং)
০৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৭৯৭
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا حكم القاضي بالحق فأصاب فله أجران، وإذا حكم بالباطل وهو عدل فله أجر واحد". (البخاري 7352، مسلم 4584)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “বিচারক যদি সুবিচারের প্রয়াস রেখে বিচার করে অতঃপর তা সঠিক হয়, তবে তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব। আর সুবিচারের প্রয়াস রেখে যদি বিচারে ভুল করেও বসে, তবে তার জন্যও রয়েছে একটি সওয়াব।” (বুখারী ৭৩৫২, মুসলিম ৪৫৮৪ নং)
০৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮০১
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اقتطع حق امرئ مسلم بيمينه، أوجب الله عليه النار، وحرم عليه الجنة». فقال الناس: وإن كان قليلاً يا رسول الله؟! قال: «وإن كان غصناً من العمود». (مالك، مسلم 370، النسائي، ابن ماجه رقم 2324)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের কসম দ্বারা কোন মুসলিমের অধিকার হরণ করে, সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ দোযখ ওয়াজেব এবং বেহেশ্ত হারাম করে দেন।” লোকেরা বলল, ‘যদিও সামান্য কিছু হয় তাও, হে আল্লাহর রসূল?!’ বললেন, “যদিও বা পিল্লু (গাছের) একটি ডালও হয়।” (মালেক, মুসলিম ৩৭০, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ২৩২৪ নং)
১০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮০৩
وسمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "إن قوما ينفقون مال الله بغير إنفاق فلهم النار يوم القيامة". (البخاري رقم 3118)
তিনি শুনেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয় কিছু লোক আল্লাহর মাল নাহক ব্যয়-বন্টন করবে। সুতরাং তাদের জন্য কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন রয়েছে।” (বুখারী ৩১১৮ নং)
১১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮০৬
قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنِ رَوَاحَةَ لَمَّا بَعَثَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُخْرِصُ عَلَى أَهْلِ خَيْبَرَ ثِمَارَهُمْ وَزُرُوعَهُمْ، فَأَرَادُوْا أَنْ يَرشُّوْهُ لَيَرْفَقُ بِهِمْ فَقَالَ: وَاللهِ لَقَدْ جِئْتُكُمْ مِنْ عِنْدَ أَحَبَّ الخَلْقِ إِليَ وَلَأَنْتُمْ أَبْغَضُ إِلَي مِنْ أَعْدَادِكُمْ مِنَ الْقِرَدَةِ وَالْخَنَازِيْرِ وَمَا يَحْمِلُنِيْ حبي إِيَّاهُ وَبغضي لَكُمْ عَلَى أَنْ لَّا أَعْدِلَ فِيْكُمْ فَقَالُوا: بِهَذَا قَامَتِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ
আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বলেন, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে খায়বারবাসীদের জন্য তাদের ফল ও ফসল বরাদ্দ করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন, তখন তারা তাদের প্রতি সদয় হওয়ার জন্য তাকে ঘুষ দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন: আল্লাহর কসম, আমি এমন সৃষ্টি থেকে এসেছি যা আমি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি, কিন্তু আপনি আমার কাছে আপনার বানরের সংখ্যার চেয়েও বেশি ঘৃণা করেন। এবং শূকর, এবং তাদের প্রতি আমার ভালবাসা এবং আপনার প্রতি আমার ঘৃণা আমাকে নিয়ে আসে যাতে আমি আপনার সাথে ন্যায়বিচার না করি। তারা বললঃ এর দ্বারা আসমান ও যমীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
১২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮০৭
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «(في العصور القديمة) اشترى رجل أرضًا من رجل آخر، فوجد المشتري في الأرض جرة فيها ذهب، فقال مشتري الأرض للبائع: خذ ذهبك، أنا لك». لقد اشتريت الأرض، ولكن ليس الذهب». فقال بائع الأرض: لقد بعت لك الأرض وكل ما فيها. ثم اقترب كلاهما من شخص واحد للحكم. فسألهم القاضي: هل لديكم أطفال؟
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “(প্রাচীনকালে) একটি লোক অন্য ব্যক্তির কাছ হতে কিছু জায়গা ক্রয় করল। ক্রেতা ঐ জায়গায় (প্রোথিত) একটি কলসী পেল, যাতে স্বর্ণ ছিল। জায়গার ক্রেতা বিক্রেতাকে বলল, ‘তোমার স্বর্ণ নিয়ে নাও। আমি তো তোমার জায়গা খরিদ করেছি, স্বর্ণ তো খরিদ করিনি।’ জায়গার বিক্রেতা বলল, ‘আমি তোমাকে জায়গা এবং তাতে যা কিছু আছে সবই বিক্রি করেছি।’ অতঃপর তারা উভয়েই এক ব্যক্তির নিকট বিচার প্রার্থী হল। বিচারক ব্যক্তি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের সন্তান আছে কি?’ তাদের একজন বলল, ‘আমার একটি ছেলে আছে।’ অপরজন বলল, ‘আমার একটি মেয়ে আছে।’ বিচারক বললেন, ‘তোমরা ছেলেটির সাথে মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দাও এবং ঐ স্বর্ণ থেকে তাদের জন্য খরচ কর এবং দান কর।” (বুখারী ৩৪৭২, মুসলিম ৪৫৯৪ নং)
১৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮১২
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله سائل كل راع عن نفقته، وكل راع ووصي عن رعيته وكفالته، هل هم على حق في حقهم، هل أدى حقه أم أهلكه بالتقصير؟» (النسائي 9174، ابن حبان 4492، صحيح الجامع رقم 1774)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক রক্ষককে তার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে এবং প্রত্যেক তত্ত্বাবধায়ক ও অভিভাবককে তার তত্ত্বাবধান ও অভিভাবকত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। যথার্থই কি তারা তাদের কর্তব্য পালন করেছে, অথবা অবহেলা হেতু তা বিনষ্ট করেছে?” (নাসাঈ ৯১৭৪, ইবনে হিব্বান ৪৪৯২, সঃ জামে’১৭৭৪ নং)
১৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮১৪
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في بيتي: «اللهم من ولي من أعمال أمتي فخذلهم فاعذبه، ومن ولي من أعمال أمتي شيئا فشق لهم فاعذبه، ومن ولي من أعمال أمتي شيئا فشق لهم»
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আমার এই ঘরে বলতে শুনেছি, “হে আল্লাহ! যে কেউ আমার উম্মতের কোন কাজের কিছু দায়িত্ব নিয়ে তাদেরকে কষ্টে ফেলবে, তুমি তাকে কষ্টে ফেলো। আর যে কেউ আমার উম্মতের কোন কাজের কিছু দায়িত্ব নিয়ে তাদের সাথে নম্রতা করবে, তুমি তার সাথে নম্রতা করো।” (মুসলিম ৪৮২৬ নং)
১৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮১৫
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (كانت الأنبياء يهدون بني إسرائيل، كلما مات نبي خلفه نبي، ليس نبي بعدي، بل بعدي أكثر). سيكون هناك خلفاء في العدد. فقال الصحابة: يا رسول الله! ماذا تأمرنا؟ قال: «من بايعه أولا فليبايعه». ثم يفي ببيعته. فيطالبون بحقهم، وحقكم يسأل الله. لأن الله تعالى سيسألهم عن مسؤولية الناس". (البخاري 3455، مسلم 4879)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “বানী ইস্রাঈলদের (দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের কাজ) পরিচালনা করতেন নবীগণ। যখনই কোন নবী মারা যেতেন, তখনই অন্য আর এক নবী তাঁর প্রতিনিধি হতেন। (জেনে রাখ) আমার পর কোন নবী নেই, বরং আমার পর অধিক সংখ্যায় খলীফা হবে।” সাহাবীগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদেরকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন?’ তিনি বললেন, “যার নিকট প্রথমে বায়আত করবে, তা পালন করবে। তারপর যার নিকট বায়আত করবে, তা পালন করবে। অতঃপর তাদের অধিকার আদায় করবে এবং তোমাদের অধিকার আল্লাহর কাছে চেয়ে নেবে। কারণ, মহান আল্লাহ তাদেরকে প্রজাপালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।” (বুখারী ৩৪৫৫, মুসলিম ৪৮৭৯ নং)
১৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮১৬
ذهب عياض بن عمرو إلى عبيد الله بن زياد. ثم قال له: يا بني! سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن شر الحاكم الذي يكون صارما على رعيته". لذا ابتعد عن الانضمام إليهم. (أحمد 20913، البخاري؟ مسلم رقم 4838)
আয়েয ইবনে আম্র (রাঃ) উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের নিকট গেলেন। অতঃপর তিনি তাকে বললেন, ‘হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “নিশ্চয় নিকৃষ্টতম শাসক সে, যে প্রজাদের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করে।” সুতরাং তুমি তাদের দলভুক্ত হওয়া থেকে দূরে থাকো।’ (আহমাদ ২০৯১৩, বুখারী ? মুসলিম ৪৮৩৮ নং)
১৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮১৯
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «صنفان من أمتي لا تنال شفاعتي: الدولة الجائرة، وكل مرتد مرتد». (الطبراني 8005، صحيح الجامع رقم 3798)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমার উম্মতের দুই শ্রেণীর লোক আমার সুপারিশ লাভ করতে পারবে না; (বিবেকহীন) অত্যাচারী রাষ্ট্রনেতা এবং প্রত্যেক সত্যত্যাগী অতিরঞ্জনকারী।” (ত্বাবারানী ৮০০৫, সহীহুল জামে’ ৩৭৯৮ নং)
১৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮২০
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «يؤتى بأمير عشرة يوم القيامة مغللين، فإما أن يفكه صلاحه، وإما أن يدفعه ظلمه إلى الهلاك». (أحمد 9573، البيهقي 20002، صحيح الجامع رقم 5695)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে কোন দশ ব্যক্তির আমীরকে কিয়ামতের দিন বেড়ি পরানো অবস্থায় উপস্থিত করা হবে। পরিশেষে হয় তাকে তার (কৃত) ন্যায়পরায়ণতা বেড়ি-মুক্ত করবে, নচেৎ তার (কৃত) অত্যাচারিতা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।” (আহমাদ ৯৫৭৩, বাইহাকী ২০০০২, সহীহুল জামে’ ৫৬৯৫ নং)
১৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮২৩
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (على المسلم السمع والطاعة، أحب ذلك وكره، حتى يؤمر بمعصية، فإذا أمر بمعصية سمع لهم وأطاعهم). الطاعة ليست واجبة." (البخاري 7144، مسلم 4869)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মুসলিমের জন্য (তার শাসকদের) কথা শোনা ও মানা ফরয, তাকে সে কথা পছন্দ লাগুক অথবা অপছন্দ লাগুক; যতক্ষণ না তাকে পাপকাজের নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর যখন তাকে পাপকাজের আদেশ দেওয়া হবে তখন তার কথা শোনা ও মানা ফরয নয়।” (বুখারী ৭১৪৪, মুসলিম ৪৮৬৯ নং)
২০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮২৪
عَنْ عِمْرَانَ بن حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সৃষ্টিকর্তার অবাধ্য হলে তার কোনো আনুগত্য নেই।
২১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮২৫
قال: فلما كنا نبايع رسول الله صلى الله عليه وسلم على السمع والطاعة له، قال: «ما استطعتم». (البخاري 7202، مسلم 4943)
তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট তাঁর কথা শোনার ও আনুগত্য করার উপর বায়আত করছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, “যাতে তোমাদের সাধ্য রয়েছে।” (বুখারী ৭২০২, মুসলিম ৪৯৪৩ নং)
২২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮২৬
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من خلع يديه من طاعة، لقي الله يوم القيامة لا حجة له فيها، ومن مات ولم يبايع مات ميتة جاهلية». (مسلم رقم 4899) وفي رواية أخرى: «من مات مفارقا للجماعة مات ميتة جاهلية». (أحمد رقم 5551، 6423)
তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি (বৈধ কাজে শাসকের) আনুগত্য করা থেকে হাত গুটিয়ে নিল, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে এ অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তার জন্য কোন প্রমাণ থাকবে না। আর যে ব্যক্তি (রাষ্ট্রনেতার হাতে) বায়আত না করে মৃত্যুবরণ করল, সে জাহেলিয়াতের মরা মরল।” (মুসলিম ৪৮৯৯ নং) \nএর অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, “যে (রাষ্ট্রীয়) জামাআত ত্যাগ ক’রে মারা গেল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল।” (আহমাদ ৫৫৫১, ৬৪২৩ নং)
২৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮২৭
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من فارق الجماعة نصف ذراع فقد نزع قيود الإسلام من عنقه». (أي مرفوض من الإسلام) (السنة، ابن أبي عاصم 892، 1053 لا، سمى الألباني الحديث صحيح).
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জামাআত থেকে আধ হাত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে (সরে) গেল, সে আসলে তার ঘাড় থেকে ইসলামের গলরশিকে খুলে ফেলল।” (অর্থাৎ, ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেল।) (আস্-সুন্নাহ, ইবনে আবী আসেম ৮৯২, ১০৫৩ নং, , আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)
২৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮২৮
عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ مَاتَ وَلَيْسَ عَلَيْهِ إِمَامٌ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মারা গেল, অথচ তার কোন ইমাম (রাষ্ট্রীয়-নেতার বায়াত) নেই, সে আসলে জাহেলিয়াতের মরণ মারা গেল।” (ঐ ১০৫৭ নং, আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন)
২৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৩২
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «خيار أئمتكم الذين تحبونهم ويحبونكم، وتصلون عليهم ويصلون عليكم، وشرار أئمتكم الذين تبغضونهم ويبغضونكم، وتلعنوهم ويلعنونكم». قال (راوي الحديث): قلنا: يا رسول الله! أفلا نتمرد عليهم؟ قال: لا ما أقاموا فيكم الصلاة، لا ما أقاموا فيكم الصلاة. (مسلم رقم: 4910-4911)
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট শাসকবৃন্দ তারা, যাদেরকে তোমরা ভালবাস এবং তারাও তোমাদেরকে ভালবাসে, তোমরা তাদের জন্য দু‘আ কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দু‘আ করে। আর তোমাদের নিকৃষ্টতম শাসকবৃন্দ তারা, যাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর এবং তারাও তোমাদেরকে ঘৃণা করে, তোমরা তাদেরকে অভিশাপ কর এবং তারাও তোমাদেরকে অভিশাপ করে।” (হাদীসের বর্ণনাকারী) বলেন, আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করব না?’ তিনি বললেন, “না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে নামায প্রতিষ্ঠা করবে। না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের মধ্যে নামায প্রতিষ্ঠা করবে।” (মুসলিম ৪৯১০-৪৯১১ নং)
২৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৩৫
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ثلاثة طبقات من الناس لا يكلمهم الله يوم القيامة، ولا ينظر إليهم، ولا يزكيهم، ولهم عذاب أليم. (1) أن تكون البادية ماء كثيرة، ولا يدع المسافر يشرب منه. (2) الذي يحلف وهو يبيع الناس سلعة بعد العصر يقول: والله، أخذتها حقها، فيثق المشتري. وهو على العكس (أي كاذب). (3) من لا يبايع رئيس الدولة إلا لمصالح دنيوية. فإذا أعطاه مالاً دنيوياً أوفى (ببيعته)، وإذا لم يدفع لم يفي بالبيعة. (البخاري 7212، مسلم رقم 310)
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তিন শ্রেণীর মানুষের সাথে কিয়ামতের দিনে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (১) যে মরু প্রান্তরে অতিরিক্ত পানির মালিক, কিন্তু সে মুসাফিরকে তা থেকে পান করতে দেয় না। (২) যে আসরের পর অন্য লোকের নিকট সামগ্রী বিক্রয় করতে গিয়ে কসম খেয়ে এই বলে যে, আল্লাহর কসম! এটা আমি এত দিয়ে নিয়েছি। ফলে ক্রেতা তাকে বিশ্বাস করে অথচ সে তার বিপরীত (অর্থাৎ, মিথ্যাবাদী)। আর (৩) যে কেবলমাত্র পার্থিব স্বার্থে রাষ্ট্রনেতার হাতে বায়আত করে। সুতরাং সে যদি তাকে পার্থিব সম্পদ প্রদান করে, তাহলে সে (তার বায়আত) পূর্ণ করে। আর যদি প্রদান না করে, তাহলে বায়আত পূর্ণ করে না।” (বুখারী ৭২১২, মুসলিম ৩১০ নং)
২৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৩৬
سأل سلمة بن يزيد الجعفي رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا نبي الله! قل لو ولي علينا حاكم فطالبنا بحقهم وحرمنا حقنا. فماذا تأمر في هذا الأمر؟ فابتعد عنه. فلما سأل مرة أخرى، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اسمعوا وأطيعوا، فإن عليهم حقا ما أمروا به (أي العدل والقسط)، وعليك ما استأمنتم عليه". (مسلم رقم: 4888-4889)
সালামাহ ইবনে য়্যাযীদ জু’ফী আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আপনি বলুন, যদি আমাদের উপর (অসৎ) শাসক নিযুক্ত হয় এবং আমাদের কাছে তাদের অধিকার চায় ও আমাদেরকে আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখে। অতএব এ ব্যাপারে আপনি কী নির্দেশ দেন?’ তিনি তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পুনরায় তিনি জিজ্ঞাসা করলে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তোমরা (তাদের) কথা শুনো এবং (তাদের) আনুগত্য করো। কারণ তাদের দায়িত্বে তা রয়েছে, যা তাদের উপর চাপানো হয়েছে (অর্থাৎ সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা) এবং তোমাদের দায়িত্বে তা রয়েছে, যা তোমাদের উপর অর্পণ করা হয়েছে (অর্থাৎ নেতা ও শাসকের আনুগত্য)।” (মুসলিম ৪৮৮৮-৪৮৮৯ নং)
২৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৩৭
قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات مرة خطبة تأثرت بها قلوبنا، وذرفت أعيننا، فقلنا: يا رسول الله، إن هذه موعظة مودع، فأعطنا آخر النصيحة. قال: أوصيكم بتقوى الله والسمع له والطاعة. حتى لو أصبح الزنجي (الإفريقي الأسود) هو القائد عليك. (فمن يعيش منكم بعدي) فإن كان كذلك فإنه يرى اختلافا كثيرا أو اختلافا، فتتمسكوا بسنتي وطريقة الخلفاء الراشدين الراشدين، وتتمسكوا بها بأسنانكم، وتنجو من البدع في الدين، لأن كل بدعة فساد. (أبو داود 4609، الترمذي 2676، ابن ماجه 42)
তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এমন মর্মস্পর্শী বক্তৃতা শুনালেন যে, তাতে অন্তর ভীত হল এবং চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে গেল। সুতরাং আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ যেন বিদায়ী ভাষণ মনে হচ্ছে। তাই আপনি আমাদেরকে অন্তিম উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, “আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি এবং (রাষ্ট্রনেতার) কথা শোনার ও তার আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি; যদিও তোমাদের উপর কোন নিগ্রো (আফ্রিকার কৃষ্ণকায় অধিবাসী) রাষ্ট্রনেতা হয়। (স্মরণ রাখ) তোমাদের মধ্যে যে আমার পর জীবিত থাকবে, সে অনেক মতভেদ বা অনৈক্য দেখবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত ও সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদ্বীনের রীতিকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাঁত দিয়ে মজবূত ক’রে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনে নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।” (আবু দাঊদ ৪৬০৯, তিরমিযী ২৬৭৬, ইবনে মাজাহ ৪২ নং)
২৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৩৮
وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ مَسعُودٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إنَّهَا سَتَكُونُ بَعْدِي أثَرَةٌ وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ تَأمُرُ مَنْ أدْرَكَ مِنَّا ذَلِكَ ؟ قَالَ تُؤَدُّونَ الحَقَّ الَّذِي عَلَيْكُمْ وَتَسْأَلُونَ اللهَ الَّذِي لَكُمْ متفقٌ عليه
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমার পর স্খেচ্ছাচারী শাসন হবে এবং অন্যান্য (আপত্তিকর) ব্যাপার সকল প্রকাশ পাবে, যা তোমরা অপছন্দ করবে।” সাহাবীরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে যে এ যুগ পাবে, তাকে আপনি কী আদেশ দিচ্ছেন?’ তিনি বললেন, “তোমাদের প্রতি যে হক রয়েছে, তা তোমরা আদায় করবে এবং তোমাদের যে হক (শাসকের উপর রয়েছে), তা আল্লাহর কাছে চেয়ে নেবে।” (বুখারী ৩৬০৩, মুসলিম ৪৮৮১ নং)
৩০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৪০
«الإمام مثل الدرع، يحارب من ورائه، وبه ينجي نفسه، فإن أمر بتقوى الله وعدل أجر عليه، وإن فعل خلاف ذلك فهو آثم». على رقبته." (البخاري 2957، مسلم 4878)
“ইমাম (রাষ্টনায়ক) তো ঢাল স্বরূপ; যার আড়ালে থেকে যুদ্ধ করা হয় এবং যার সাহায্যে নিজেকে বাঁচানো যায়। সুতরাং সে যদি আল্লাহ-ভীরুতার আদেশ দেয় এবং ন্যায়পরায়ণ হয়, তাহলে এর বিনিময়ে সে সওয়াবের অধিকারী হবে। নচেৎ সে যদি এর বিপরীত কর্ম করে তবে তার পাপ তার ঘাড়ে।” (বুখারী ২৯৫৭, মুসলিম ৪৮৭৮ নং)
৩১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৪২
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من مات عاصيا للأمير مفارقا للجماعة مات ميتة جاهلية». يغضب لتحيز أو تعصب أو دعوة إلى محاباة عمياء أو مساعدة على محاباة عمياء، فإذا قتل كان قتله قتل جهل. ومن قتل نفسا فلم يأذن بقتل مؤمنه، ولم يوف بعهده، فليس ذلك من حزبي ولست من حزبه». (مسلم رقم: 4892)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি শাসকের আনুগত্য থেকে বের হয়ে এবং জামাআত থেকে পৃথক হয়ে মারা যাবে সে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের মরণ মরবে।\nযে ব্যক্তি অন্ধ ফিতনার পতাকাতলে (হক-নাহক না জেনেই) যুদ্ধ করবে, অন্ধ পক্ষপাতিত্ব বা গোঁড়ামির ফলে ক্রুদ্ধ হবে অথবা অন্ধ পক্ষপাতিত্বের প্রতি আহবান করবে অথবা অন্ধ পক্ষপাতিত্বকে সাহায্য করবে, অতঃপর সে খুন হলে তার খুন জাহেলিয়াতের খুন।\nআর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের বিরুদ্ধে তরবারি বের করে ভালো-মন্দ সকল মানুষকে হত্যা করবে এবং তার মুমিনকেও হত্যা করতে ছাড়বে না, চুক্তিবদ্ধ মানুষের চুক্তিও পূরণ করবে না, সে ব্যক্তি আমার দলভুক্ত নয় এবং আমিও তার দলভুক্ত নই।” (মুসলিম ৪৮৯২ নং)
৩২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৪৩
عَنِ الْحَارِثِ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَا آمُرُكُمْ بِخَمْسٍ اللهُ أَمَرَنِي بِهِنَّ بِالْجَمَاعَةِ وَبِالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَالْهِجْرَةِ وَالْجِهَادِ فِي سَبِيلِ اللهِ فَإِنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنْ الْجَمَاعَةِ قِيدَ شِبْرٍ فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الْإِسْلَامِ مِنْ عُنُقِهِ إِلَى أَنْ يَرْجِعَ وَمَنْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ فَهُوَ مِنْ جُثَا جَهَنَّمَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى؟ قَالَ وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ فَادْعُوا الْمُسْلِمِينَ بِمَا سَمَّاهُمْ الْمُسْلِمِينَ الْمُؤْمِنِينَ عِبَادَ اللهِ عَزَّ وَجَلّ
আল-হারিস আল-আশআরী-এর সূত্রে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আমি তোমাদেরকে পাঁচটি কাজের আদেশ দিচ্ছি। আল্লাহ আমাকে তা করতে আদেশ করেছেন জামাতে, শ্রবণে এবং আনুগত্যের সাথে।" এবং হিজরত এবং আল্লাহর পথে জিহাদ, কারণ যে ব্যক্তি দল থেকে এক ইঞ্চিও দূরে সরে যায় সে তার গলা থেকে ইসলামের বাঁধন খুলে ফেলে। যতক্ষণ না সে প্রত্যাবর্তন করে এবং যে ব্যক্তি প্রাক-ইসলামী যুগের দাওয়াত দেয় সে জাহান্নামের হাঁটু থেকে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল, তিনি রোজা ও নামায পড়লেও? তিনি বললেন, “এবং যদি সে রোজা রাখে, নামায পড়ে এবং দাবি করে যে সে একজন মুসলিম, তাহলে মুসলমানদেরকে সে বলে ডাকবে, যা সে বলেছে, ঈমানদার মুসলমান, সর্বশক্তিমান আল্লাহর বান্দা।
৩৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৪৫
وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم في الخطبة: «الجماعة رحمة، والفرقة عذاب». (مسند أحمد، كتاب السنة، الشيباني 895، صحيح الجامع رقم 3109)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবায় বলেছেন, “জামাআত (ঐক্য) হল রহমত এবং বিচ্ছিন্নতা হল আযাব।” (মুসনাদে আহমাদ, কিতাবুস সুন্নাহ, শায়বানী ৮৯৫, সহীহুল জামে’ ৩১০৯ নং)
৩৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৪৬
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله يحب لكم ثلاثا ويكره ثلاثا، ويختار لكم أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئا أجمعين». اعتصموا بحبل الله (القرآن أو الدين) وأطيعوا من ولاه الله عليكم. وهو لك كلام لا أساس له (أو التحدث أمام الجمهور)، وطرح المزيد من الأسئلة (غير الضرورية) (أو طرح أكثر من اللازم) والثروة. يكره التبذير." (مسلم رقم: 4578)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য ৩টি কাজ পছন্দ করেন এবং ৩টি কাজ অপছন্দ করেন। তিনি তোমাদের জন্য এই পছন্দ করেন যে, তোমরা তাঁর ইবাদত কর এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করো না, সকলে একতাবদ্ধ হয়ে আল্লাহর রশি (কুরআন বা দ্বীন) কে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং আল্লাহ তোমাদের উপর যাকে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন তার আনুগত্য কর। আর তিনি তোমাদের জন্য ভিত্তিহীন বাজে কথা বলা (বা জনরবে থাকা), অধিক (অনাবশ্যক) প্রশ্ন করা (অথবা প্রয়োজনের অধিক চাওয়া) এবং ধন-মাল বিনষ্ট (অপচয়) করাকে অপছন্দ করেন।” (মুসলিম ৪৫৭৮ নং)
৩৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৪৭
عن عَرْفَجَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّهُ سَتَكُونُ هَنَاتٌ وَهَنَاتٌ فَمَنْ أَرَادَ أَنْ يُفَرِّقَ أَمْرَ هَذِهِ الأُمَّةِ وَهْىَ جَمِيعٌ فَاضْرِبُوهُ بِالسَّيْفِ كَائِنًا مَنْ كَانَ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “অদূর ভবিষ্যতে বড় ফিতনা ও ফাসাদের প্রার্দুভাব ঘটবে। সুতরাং যে ব্যক্তি এই উম্মতের ঐক্য ও সংহতিকে (নষ্ট করে) বিচ্ছিন্নতা আনতে চাইবে সে ব্যক্তিকে তোমরা তরবারি দ্বারা হত্যা করে ফেলো; তাতে সে যেই হোক না কেন।” (মুসলিম ৪৯০২ নং)
৩৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৪৯
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عمرو قَالَ قَالَ رسول الله وَمَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَدِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ إِنِ اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَ الآخَرِ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো ইমামের আনুগত্য করে এবং তাকে তার হাতের লেনদেন এবং তার হৃদয়ের ফল দেয়, সে যেন সামর্থ্য থাকলে তার আনুগত্য করে এবং যদি অন্য একজন আসে। তার সাথে বিবাদ হয়, তাই অন্যের শিরশ্ছেদ কর
৩৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৫০
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا تسأل عن ثلاثة: المفارق للجماعة، والمخالف لإمامه، والذي مات وهو عاصي). (كتب السنة، الشيباني أرقام 89، 900، 1060، الألباني يسمي الحديث صحيحا)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তিন ব্যক্তি প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাই করো না (তারা ধ্বংস হবে); যে ব্যক্তি জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, যে ব্যক্তি তার ইমাম (নেতার) অবাধ্য হয় এবং যে ব্যক্তি নাফরমান হয়ে মারা যায়।” (কিতাবুস সুন্নাহ, শায়বানী ৮৯, ৯০০, ১০৬০ নং, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)
৩৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৫৩
قال النبي صلى الله عليه وسلم: ""في شدة وفرحك، وفي حبك وكراهتك، أطيعه وإن آثر عليك غيرك، وأخذ مالك، وضربك على ظهرك"." (كتب (السنة، الشيباني رقم: 1026، الألباني يسمي الحديث صحيحا.)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমার কষ্ট ও আনন্দের সময়, পছন্দ ও অপছন্দের সময়, (রাজা) তোমার উপর আর কাউকে অগ্রাধিকার দিলে, তোমার ধন-সম্পদ হরণ করে নিলে এবং তোমার পিঠে চাবুক মারলেও তুমি তাঁর কথা মেনে চল এবং আনুগত্য কর।” (কিতাবুস সুন্নাহ, শায়বানী ১০২৬ নং, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
৩৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৫৪
فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم الأنصار ذات يوم فقال: "--- ثم سترون ظلمًا، فلا تلقوني، فاصبروا". (كتاب السنة الشيباني رقم 1102)
একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনসারগণকে ডেকে বললেন, “---অতঃপর, অচিরে তোমরা (তোমাদের নেতাদের) অন্যায়-অবিচার (তোমাদের উপরে অন্যদেরকে প্রাধান্য দিতে) দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া (মৃত্যু) পর্যন্ত ধৈর্য অবলম্বন করো।” (কিতাবুস সুন্নাহ, শায়বানী ১১০২ নং)
৪০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৫৫
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اتقوا ربكم الله، وأقموا الصلوات الخمس، وصوموا رمضان، وأتووا زكاة أموالكم، وأطيعوا ولايتكم، تدخلون جنة ربكم". (أحمد 22514، الترمذي رقم 616)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় কর, পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় কর, রমযানের সিয়াম রাখ, তোমাদের মালের যাকাত প্রদান কর এবং তোমাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আনুগত্য কর, তাহলে তোমাদের প্রতিপালকের জান্নাতে প্রবেশাধিকার লাভ করবে।” (আহমাদ ২২৫১৪, তিরমিযী ৬১৬ নং)
৪১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৫৬
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ثلاث لا يخونهن قلب مسلم: (الأولى) خالصة لله، (الثانية) طلب الخير لعامة المسلمين، (الثالثة) التصاق المسلمين بالجماعة، لأن دعوتهم تحيط بهم أجمعين". (كتب السنة، الشيباني 94، 1085، 1087، مشكاة، تحقيق الصح 228)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তিনটি বিষয় এমন আছে, যাতে কোন মুসলিমের হৃদয় খিয়ানত করতে পারে না। (এক) নির্ভেজালভাবে আল্লাহর জন্য আমল করা। (দুই) সাধারণ মুসলিমদের (নেতাদের) জন্য কল্যাণ কামনা করা। (তিন) মুসলিমদের জামাআতকে আঁকড়ে ধরে থাকা। কেননা, তাঁদের (ঐক্যবদ্ধতার) আহবান তাঁদের সকলকে পরিবেষ্টন করে রাখে।” (কিতাবুস সুন্নাহ, শায়বানী ৯৪, ১০৮৫, ১০৮৭, মিশকাত, তাহক্বীক্ব-সহ ২২৮ নং)
৪২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৫৯
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «اجتمعوا ولا تفرقوا مائة، فإن الشيطان صاحب الواحد وهو أبعد الاثنين، ومن أراد خير الجنة فليدخل في الجماعة». (كتب (السنة، الشيباني 88، سمى الألباني الحديث صحيح)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা জামাআতবদ্ধ হও এবং শতধা-বিভক্ত হয়ো না। কারণ শয়তান একাকীর সাথী হয় এবং দু’জন থেকে অধিক দূরে থাকে। আর যে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ জান্নাত্ চায়, সে ব্যক্তির উচিত, জামাআতে শামিল হওয়া।” (কিতাবুস সুন্নাহ, শায়বানী ৮৮, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)
৪৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৬১
عَنْ زِيَادِ بْنِ كُسَيْبٍ الْعَدَوِيِّ قَالَ : كُنْتُ مَعَ أَبِي بَكْرَةَ تَحْتَ مِنْبَرِ ابْنِ عَامِرٍ وَهُوَ يَخْطُبُ وَعَلَيْهِ ثِيَابٌ رِقَاقٌ فَقَالَ أَبُو بِلاَلٍ : انْظُرُوا إِلَى أَمِيرِنَا يَلْبَسُ ثِيَابَ الْفُسَّاقِ فَقَالَ أَبُو بَكْرَةَ : اسْكُتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ أَهَانَ سُلْطَانَ اللهِ فِي الأَرْضِ أَهَانَهُ اللهُ
যিয়াদ বিন কুসাইব আল-আদাভীর কর্তৃত্বে, যিনি বলেছেন: আমি আবু বকরার সাথে ইবনে আমিরের মিম্বরের নীচে ছিলাম, যখন তিনি খুতবা দিচ্ছিলেন, পাতলা পোশাক পরা, এবং আবু বিলাল বললেন: দেখুন আমাদের আমিরকে অনৈতিক পোশাক পরা। আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ চুপ থাক। আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি পৃথিবীতে আল্লাহর কর্তৃত্বের অবমাননা করেছে সে আল্লাহকে অপমান করেছে।
৪৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৬২
عَنْ رِبْعِىِّ بْنِ حِرَاشٍ قَالَ: انْطَلَقْتُ إِلَى حُذَيْفَةَ بِالْمَدَائِنِ لَيَالِيَ سَارَ النَّاسُ إِلَى عُثْمَانَ فَقَالَ يَا رِبْعِيُّ مَا فَعَلَ قَوْمُكَ؟ قَالَ قُلْتُ عَنْ أَيِّ بَالِهِمْ تَسْأَلُ؟ قَالَ: مَنْ خَرَجَ مِنْهُمْ إِلَى هَذَا الرَّجُلِ؟ فَسَمَّيْتُ رِجَالًا فِيمَنْ خَرَجَ إِلَيْهِ فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ وَاسْتَذَلَّ الْإِمَارَةَ لَقِيَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا وَجْهَ لَهُ عِنْدَهُ
যে রাতে লোকেরা উষমান বিন আফফান (রাঃ) এর নিকটে গেল, সেই রাতে আমি মাদায়েনে হুযাইফা বিন য়্যামানের কাছে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, ‘তোমার সম্প্রদায়ের ব্যাপার কী?’ আমি বললাম, ‘আপনি তাদের কোন্ ব্যাপার প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করছেন?’ তিনি বললেন, ‘ওদের মধ্যে কে কে ঐ ব্যক্তির (উষমানের) নিকট (বিদ্রোহীরূপে) গেছে?’ আমি যারা গেছে তাদের মধ্যে কিছু লোকের নাম করলাম। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হবে এবং আমীরকে অপমান করবে, আল্লাহ আয্যা অজাল্লার সাথে সাক্ষাতের সময় তাঁর নিকট সে ব্যক্তির কোন মুখ থাকবে না।” (আহমাদ ২৩২৮৩, হাকেম ৪০৯, তিনি এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী এতে একমত। অবশ্য তাঁর বর্ণনায় আছে,) “সাক্ষাতের সময় তার বাঁচার কোন দলীল ও হুজ্জত থাকবে না।”
৪৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৬৪
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من فعل واحدة من الخمس كان وكيلا على الله، ومن عاد مريضا، أو خرج بجنازة، أو خرج غزا، أو كرم، فإنه يحضر الأمير للحاجة، أو يجلس في بيته، حتى يأمن الناس منه ويسلم هو من الناس». (أحمد 2093، الطبراني 16485، أبو يعلى، ابن حبان 372، ابن خزيمة 1495، السنة، ابن أبي عاصم 1021، صحيح الترغيب 1268، رقم 3471)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ৫টির ১টি করবে, সে আল্লাহ আযযা অজাল্লার যামানতে হবে; যে কোন রোগীকে সাক্ষাৎ করবে, অথবা জানাযার সাথে বের হবে, অথবা যোদ্ধা হয়ে বের হয়ে যাবে, অথবা সম্মান ও শ্রদ্ধা করার উদ্দেশ্যে নেতার নিকট উপস্থিত হবে, অথবা নিজ ঘরে বসে থাকবে ফলে মানুষ তার থেকে এবং সে মানুষ থেকে নিরাপদ থাকবে।” (আহমাদ ২২০৯৩, ত্বাবারানী ১৬৪৮৫, আবূ য়্যা’লা, ইবনে হিব্বান ৩৭২, ইবনে খুযাইমা ১৪৯৫, আস্ সুন্নাহ, ইবনে আবী আসেম ১০২১, সঃ তারগীব ১২৬৮, ৩৪৭১ নং)
৪৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৬৫
قال فلما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم أن فارس قد دفعوا ملكهم إلى ابنة كسرى قال: «لن تنجح تلك الأمة التي ملكها رجل واحد». سلمت أيديهم إلى النساء." (البخاري 4425، 7099)
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট যখন এ খবর পৌঁছল যে, পারস্যবাসিগণ তাদের রাজক্ষমতা কেসরা (রাজ) কন্যার হাতে তুলে দিয়েছে, তখন তিনি বললেন, “সে জাতি কোন দিন সফলকাম হতে পারে না, যে জাতি তাদের শাসন ক্ষমতা একজন নারীর হাতে তুলে দেয়।” (বুখারী ৪৪২৫, ৭০৯৯)
৪৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৬৬
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إني أخاف فرقة الأئمة الذين يضلون أمتي". (أحمد 22393، أبو داود 4254، الترمذي رقم 2229)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমি আমার উম্মতের উপর ভ্রষ্টকারী ইমাম (আলেম ও নেতা প্রভৃতি)র দলকেই ভয় করি।” (আহমাদ ২২৩৯৩, আবূ দাঊদ ৪২৫৪, তিরমিযী ২২২৯ নং)
৪৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৬৭
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ رسول الله ُصَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم (إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ قَرَأَ الْقُرْآنَ حَتَّى إِذَا رُئِيَتْ بَهْجَتُهُ عَلَيْهِ وَكَانَ رِدْءاً لِلإِسْلاَمِ انْسَلَخَ مِنْهُ وَنَبَذَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ وَسَعَى عَلَى جَارِهِ بِالسَّيْفِ وَرَمَاهُ بِالشِّرْكِ) قال : قلت : يا نبي الله أيهما أولى بالشرك المرمي أم الرامي ؟ قال : ( بل الرامي)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমি যে সকল বিষয় তোমাদের জন্য আশঙ্কা করি, তার মধ্যে এমন এক ব্যক্তি, যে কুরআন পড়েছে। পরিশেষে যখন তার মধ্যে কুরআনের মনোহারিত্ব দেখা গেল এবং সে ইসলামের একজন সহায়ক হয়ে গড়ে উঠল, তখন সে তা হতে অপসৃত হল তা নিজ পশ্চাতে নিক্ষেপ করল, নিজ প্রতিবেশীর উপর তরবারি তুলে ধরতে উদ্যত হল এবং তাকে ‘মুশরিক’ বলে অপবাদ দিল।” সাহাবী হুযাইফা ইবনুল য়্যামান বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! ওদের উভয়ের মধ্যে তরবারির যোগ্য কে? অপবাদদাতা, নাকি যাকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে সে?’ উত্তরে তিনি বললেন, “বরং অপবাদদাতা।” (ইবনে হিব্বান ৮১, সিঃ সহীহাহ ৩২০১ নং)
৪৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৬৮
وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقسم الفضة من ثياب بلال بجرانة في طريق عودته من حنين. فقال رجل: يا محمد! أنت توزع بشكل عادل، هذا التوزيع غير عادل!' فسمع النبي صلى الله عليه وسلم ذلك فقال: "بئسًا، إذا لم أقسم فمن سينصف؟ إذا لم أعدل، سأفشل وأعاني". فقال عمر (رضي الله عنه): ائذن لي. أنا هو فلنضرب عنق المنافق. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن له أصحابا يقرؤون القرآن، لا يمر القرآن في حناجرهم، يخرجون من الإسلام كما يخرج السهم من الصياد". (البخاري 3610، مسلم رقم 2496)
একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুনাইন থেকে ফেরার পথে জিইর্রানাতে মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিলালের কাপড় থেকে নিয়ে চাঁদি বিতরণ করছিলেন। এক ব্যক্তি বলে উঠল, ‘হে মুহাম্মাদ! আপনি ন্যায়ভাবে বন্টন করুন। ঐ বন্টন ন্যায্য হচ্ছে না!’ মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার এ কথা শুনে বললেন, “দূর হতভাগা! আমি ন্যায্য বন্টন না করলে আর কে করবে? ইনসাফ না করলে আমি ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হব।” উমার (রাঃ) বললেন, ‘আমাকে অনুমতি দিন। আমি ঐ মুনাফিকের গর্দানটি উড়িয়ে দিই।’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “ওর কিছু সহচর আছে, যারা কুরআন পড়ে। কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালী পার হয় না। তারা ইসলাম থেকে ঐভাবে বের হয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকার ভেদ ক’রে বের হয়ে যায়।” (বুখারী ৩৬১০, মুসলিম ২৪৯৬ নং)
৫০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৮৭০
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الهدية إلى أمير الدولة خيانة».
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু বলেন, “রাষ্ট্রনেতাকে দেওয়া হাদিয়া হল খেয়ানত (করা মাল)।” (ত্বাবারানী ১১৩২৪, সহীহুল জামে’ ৭০৫৪ নং)