অধ্যায় ১৬
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৬৭
لا حرج أن الله يعلم ما تبدون وما تكتمون» (سورة النور: 29). قال ابن عباس رضي الله عنهما: الأمر بهذه الآية الأخيرة استثناء من الأمر الذي قبله. (الطبري)
(মহান আল্লাহর বাণী)ঃ “তোমরা নিজেদের ঘর ব্যতীত অন্য ঘরে প্রবেশ করো নাসাঈ, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি গ্রহণ করো এবং ঘরবাসীদের সালাম দাও” (সূরা নূর : ২৭)। মহান আল্লাহর বাণীঃ “বসতিহীন যে ঘরে তোমাদের জিনিসপত্র রয়েছে তাতে তোমাদের প্রবেশ করায় কোন আপত্তি নাই। তোমরা যা প্রকাশ করো এবং যা গোপন করো তা আল্লাহ জানেন” (সূরা নূর : ২৯)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, এই শেষোক্ত আয়াতের নির্দেশ পূর্বোক্ত আয়াতের নির্দেশের ব্যতিক্রম। (তাবারী)
০২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৬৮
(قوله تعالى: «فليستأذنك الذين ملكوا يمينك») سورة النور: 58. فقال: هذا الأمر للرجال وليس للنساء.
(আল্লাহর বাণী) “তোমাদের ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে তারা যেন তোমাদের অনুমতি প্রার্থনা করে” (সূরা নূর : ৫৮) । তিনি বলেন, এই নির্দেশ পুরুষদের জন্য, নারীদের জন্য নয়।
০৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৬৯
وكان إذا كان له أولاد فرق بينهم (بيشة النسائي). ولم يستطع أن يدخلها دون إذن.
তার কোন সন্তান বালা হলেই তিনি তাঁকে পৃথক (বিছা নাসাঈ) করে দিতেন। সে অনুমতি ব্যতীত তার নিকট প্রবেশ করতে পারতো না।
০৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৭২
دخلت غرفة أمي مع والدي. لقد تبعته عندما دخل. فرجع فضرب صدري بقوة وأجلسني على فخذي، ثم قال: دخلت بغير استئذان؟
আমি আমার পিতার সাথে আমার মায়ের ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি ভেতরে প্রবেশ করলে আমিও তার অনুসরণ করলাম। তিনি পেছনে ফিরে আমার বুকে সজোরে আঘাত করে আমাকে আমার নিতম্বের উপর বসিয়ে দিলেন, অতঃপর বলেন, অনুমতি না নিয়েই তুমি প্রবেশ করলে?
০৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৭৩
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: يَسْتَأْذِنُ الرَّجُلُ عَلَى وَلَدِهِ، وَأُمِّهِ - وَإِنْ كَانَتْ عَجُوزًا - وَأَخِيهِ، وَأُخْتِهِ، وَأَبِيهِ\n---\n[قال الشيخ الألباني] : \nضعيف الإسناد موقوفا
যে কোন ব্যক্তি তার সন্তানের নিকট এবং মায়ের নিকট অনুমতি চাইবে, তিনি বৃদ্ধা হলেও, ভাইবনে মাজাহ, বোন ও পিতার নিকটও প্রবেশানুমতি চাইবে।
০৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৭৫
سوف يطلب الناس الإذن من والديهم وإخوتهم. (الطبري)
মানুষ তার পিতা-মাতা ও ভাই-বোনের নিকট প্রবেশানুমতি চাইবে। (তাবারী)
০৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৭৮
وإذا دخل أحد دون أن يسلم، تقول، حتى يأتي بالمفتاح، أي حتى يسلم. (المؤنث يمكن أن يكون مفتوحا)
কেউ সালাম না দিয়ে প্রবেশ করলে তুমি বলো, সে চাবি নিয়ে না আসা পর্যন্ত অর্থাৎ সালাম না দেয়া পর্যন্ত। (খোলা যাবে নাসাঈ)
০৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৭৯
قال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا اطلع رجل في بيتك فرميته بحصاة فلا جناح عليك أن تصيب عينه. -(البخاري، مسلم، أبو داود، النسائي، أحمد)
নবী (সাঃ) বলেনঃ যদি কোন লোক তোমার ঘরের মধ্যে উঁকি মেরে দেখে এবং তুমি তার প্রতি কংকর নিক্ষেপ করো, তা তার চোখে বিদ্ধ হলে তাতে তোমার কোন দোষ হবে না। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ)
০৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৮০
وكان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي قائما. ثم ينظر الرجل إلى غرفته. فأخذ السهم من جعبته وصوبه نحو عينيه. -(البخاري، مسلم، الترمذي، النسائي، أبو داود)
নবী (সাঃ) দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁর ঘরের মধ্যে উঁকি মেরে তাকায়। তিনি তাঁর তুণীর থেকে তীর তুলে নিয়ে তার দুই চোখ বরাবর তাক করেন। -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আবু দাউদ)
১০
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৮১
أطلع رجل من باب بيت النبي . وكان النبي صلى الله عليه وسلم يمشط رأسه بمشط من حديد. فرآه النبي فقال: لو كنت أعلم أنك تنظر إلي لضربت عينيك بهذا المشط. فعلت (البخاري، مسلم، الترمذي، النسائي)
এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-এর ঘরের দরজা দিয়ে ভেতরে উঁকি দিলো। নবী (সাঃ) তখন লোহার একটি চিরুনী দিয়ে তাঁর মাথা আচড়াচ্ছিলেন। নবী (সাঃ) তাকে দেখে বলেনঃ আমি যদি জানতে পারতাম যে, তুমি (উঁকি মেরে) আমাকে দেখছো, তাহলে আমি এই চিরুনী দিয়ে তোমার চোখে আঘাত করতাম। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)
১১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৮২
وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا جُعِلَ الْإِذْنُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ»
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কানকে দৃষ্টির জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।"
১২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৮৫
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: إِذَا دُعِيَ الرَّجُلُ فَقَدْ أُذِنَ لَهُ\n---\n[قال الشيخ الألباني] : \nصحيح الإسناد موقوفا
সুলাইমান বিন হারব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বলেছেন: শুবাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, আবু আল-আহওয়াসের সূত্রে, আবদুল্লাহর সূত্রে, তিনি বলেছেন: যদি একজন লোককে ডাকা হয়, তবে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল\n---\n[শেখ আল-আলবানী বলেন]:\nএকটি শৃঙ্খল, তবে সূচনামূলক।
১৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৮৬
قال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا دعا أحدكم وجاء بالرسول فأذن له. -(البخاري، وأبو داود، والبزار، وابن حبان)
নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমাদের কাউকে ডাকা হলে এবং সে বার্তাবাহকের সাথে আগমন করলে সেটাই তার জন্য অনুমতি। -(বুখারী, আবু দাউদ, বাযযার, ইবনে হিব্বান)
১৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৮৯
وإذا اقترب أحد يريد الاستئذان فلا ينبغي له أن يقف مقابل الباب، بل يقف قليلاً عن اليمين أو عن اليسار. فالأفضل أن يؤذن له وإلا فإنه يرجع. (أبو داود، أحمد)
কেউ প্রবেশানুমতি প্রার্থনার অভিপ্রায়ে আগমন করলে সে যেন দরজার মুখামুখি না দাঁড়ায়, বরং একটু ডানে বা বাঁয়ে সরে দাঁড়াবে। তাকে অনুমতি দেয়া হলে তো ভালো, অন্যথায় সে ফিরে যাবে। (আবু দাউদ, আহমাদ)
১৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৯০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ شُرَيْحٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ وَاهِبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْمَعَافِرِيَّ يَقُولُ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَدِمْتُ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَاسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ، فَقَالُوا لِي: مَكَانَكَ حَتَّى يَخْرُجَ إِلَيْكَ، فَقَعَدْتُ قَرِيبًا مِنْ بَابِهِ، قَالَ: فَخَرَجَ إِلَيَّ فَدَعَا بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ مَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ، فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، أَمِنَ الْبَوْلِ هَذَا؟ قَالَ: مِنَ الْبَوْلِ، أَوْ مِنْ غَيْرِهِ
তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-র নিকট এসে তার সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করলাম। লোকজন আমাকে বললো, তিনি বের হয়ে না আসা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। আমি তার ঘরের দরজার কাছাকাছি বসে থাকলাম। রাবী বলেন, তিনি আমার নিকট বের হয়ে এসে পানি নিয়ে ডাকলেন। তিনি উযু করলেন, অতঃপর তার মোজাদ্বয়ের উপর মাসেহ করলেন। আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! পেশাবের পর এই উযু? তিনি বলেন, পেশাব ইত্যাদির পর এই উযু (করা ভালো)।
১৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৯১
وكان باب النبي صلى الله عليه وسلم يطرق بالمسامير. (موعد أبو نعيم بأصبهان)
নবী (সাঃ)-এর দরজাসমূহ (অনুমতি চেয়ে) নখ দ্বারা খটখট করা হতো। (আবু নাঈমের তারীখ ইসবাহান)
১৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৯৩
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من دخل بصره فلا يحل له. (أبو داود، الترمذي، أحمد)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ কারো দৃষ্টি (ভেতরে) চলে গেলে তার জন্য অনুমতি নাই। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)
১৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৯৬
فاستأذن عمر (رضي الله عنه) من النبي (ص) وقال: السلام على رسول الله، السلام عليكم، هل يستطيع عمر أن يدخل الداخل؟
উমার (রাঃ) নবী (সাঃ)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে বলেন, আসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম, উমার কি ভেতরে প্রবেশ করতে পারে?
১৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৯৭
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي دَيْنٍ كَانَ عَلَى أَبِي، فَدَقَقْتُ الْبَابَ، فَقَالَ: «مَنْ ذَا؟» فَقُلْتُ: أَنَا، قَالَ: «أَنَا، أَنَا؟» ، كَأَنَّهُ كَرِهَهُ
আমি জাবের (র)-কে বলতে শুনেছি, আমার পিতার রেখে যাওয়া কিছু ঋণের ব্যাপারে আলোচনার জন্য আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট এলাম। আমি দরজায় করাঘাত করলে তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ কে? আমি বললাম, আমি। তিনি বলেনঃ আমি, আমি। তিনি যেন জবাবটি অপছন্দ করলেন। (বুখারী, মুসলিম)
২০
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৯৮
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْمَسْجِدِ، وَأَبُو مُوسَى يَقْرَأُ، فَقَالَ: «مَنْ هَذَا؟» فَقُلْتُ: أَنَا بُرَيْدَةُ، جُعِلْتُ فِدَاكَ، فَقَالَ: «قَدْ أُعْطِيَ هَذَا مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ»
আলী ইবনুল হাসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-হুসাইন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ তার পিতার সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বের হলেন এবং আবূ মূসা পাঠ করছিলেন, তখন তিনি বললেন: "এটি কে?" আমি বললামঃ আমি বুরাইদা, আমি তোমার মুক্তিপণ হতে পারি। তিনি বললেনঃ এটাকে দাউদের বংশের গীত থেকে একটি গীত দেওয়া হয়েছে।
২১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১০৯৯
حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الْفَرَّاءِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُدْعَانَ قَالَ: كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، فَاسْتَأْذَنَ عَلَى أَهْلِ بَيْتٍ، فَقِيلَ: ادْخُلْ بِسَلَامٍ، فَأَبَى أَنْ يَدْخُلَ عَلَيْهِمْ
ইসমাঈলের বাদশাহ আমাদের বললেন, "আমরা ইসরায়েলের সাথে আমার পিতা জাফর সম্পর্কে এবং কাফেরদের সাথে পরম করুণাময়ের দাস বেন জাদ'আন সম্পর্কে কথা বলেছিলাম।" তিনি বলেন, আমি উমর (রাঃ)-এর পুত্র আল্লাহর বান্দার কাছে ছিলাম এবং তিনি বীতের পরিবারের কাছে অনুমতি চাইলেন। তিনি বললেন, শান্তিতে প্রবেশ কর। তিনি তাদের সঙ্গে প্রবেশ করতে অস্বীকার করেন।
২২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১০১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ نَذِيرٍ قَالَ: اسْتَأْذَنَ رَجُلٌ عَلَى حُذَيْفَةَ فَاطَّلَعَ وَقَالَ: أَدْخُلُ؟ قَالَ حُذَيْفَةُ: أَمَّا عَيْنُكَ فَقَدْ دَخَلَتْ، وَأَمَّا اسْتُكَ فَلَمْ تَدْخُلْ\n---\n[قال الشيخ الألباني] : \nصحيح\n\nوَقَالَ رَجُلٌ: أَسْتَأْذِنُ عَلَى أُمِّي؟ قَالَ: إِنْ لَمْ تَسْتَأْذِنْ رَأَيْتَ مَا يَسُوؤُكَ\n---\n[قال الشيخ الألباني] : \nحسن
এক ব্যক্তি হুযায়ফা (রাঃ)-র নিকট প্রবেশানুমতি চেয়ে ভেতর বাড়িতে উঁকি মারলো এবং বললো, আমি কি প্রবেশ করতে পারি? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, তোমার চোখ তো প্রবেশ করেছে, বাকি আছে তোমার (দেহের) নিম্নাংশ। অতএব তুমি প্রবেশ করো না। এক ব্যক্তি বললো, আমাকে কি আমার মায়ের অনুমতি নিতে হবে? হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, তুমি যদি অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করে তবে হয়তো অবাঞ্ছিত কিছু দেখবে।
২৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১০২
جاء أعرابي إلى بيت النبي صلى الله عليه وسلم فاطلع من الباب. فالتقط سهماً أو عصا مدببة ووجهه نحو البدوي ليفقأ عينيه. فغادر. قال: لو بقيت أنا عينك لأفجرها (النسائي، التحاكيم)
এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বাড়িতে এসে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারলো। তিনি একটি তীর বা সুচালো কাঠ তুলে নিলেন এবং বেদুইনের চোখ ফুঁড়ে দেয়ার জন্য তা তার দিকে তাক করলেন। অতএব সে চলে গেলো। তিনি বলেনঃ তুমি যদি স্থির থাকতে তবে আমি তোমার চোখ ফুড়ে দিতাম। (নাসাঈ,তাহাকিম)
২৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১০৩
وقال عمر بن الخطاب (رضي الله عنه): من دخل الغرفة بعينيه قبل أن يؤذن له فقد أثم.
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তিকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তার চক্ষুদ্বয় ঘরের কামরায় প্রবেশ করালে সে পাপাচারে লিপ্ত হলো।
২৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১০৪
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ الْعَلَاءِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَالِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ شُرَيْحٍ، أَنَّ أَبَا حَيٍّ الْمُؤَذِّنَ حَدَّثَهُ، أَنَّ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ مُسْلِمٍ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى جَوْفِ بَيْتٍ حَتَّى يَسْتَأْذِنَ، فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ دَخَلَ. وَلَا يَؤُمُّ قَوْمًا فَيَخُصُّ نَفْسَهُ بِدَعْوَةٍ دُونَهُمْ حَتَّى يَنْصَرِفَ. وَلَا يُصَلِّي وَهُوَ حَاقِنٌ حَتَّى يَتَخَفَّفَ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: أَصَحُّ مَا يُرْوَى فِي هَذَا الْبَابِ هَذَا الْحَدِيثُ.\n---\n[قال الشيخ الألباني] : \nصحيح دون جملة الإمامة
নবী (সাঃ) বলেনঃ কোন মুসলমান ব্যক্তির জন্য অনুমতি না নিয়ে কারো ঘরের অভ্যন্তরে তাকানো হালাল নয়। তাই করলে সে যেন ঘরে প্রবেশ করলো। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, তার জন্য তাদেরকে বাদ দিয়ে বিশেষভাবে শুধু নিজের জন্য দোয়া করে শেষ করা সমীচীন নয়। কোন ব্যক্তির জন্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন চেপে রেখে এবং তা থেকে মুক্ত না হয়ে নামায পড়া হালাল নয়। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)
২৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১০৫
كان الله كفيلاً لمن خرج إلى المسجد. وكان الله على من يمضي في سبيل الله كفيلاً. -(أبو داود، الحاكم، ابن حبان)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তির প্রত্যেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর যিম্মায় থাকে। সে বেঁচে থাকলে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট এবং মারা গেলে বেহেশতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি নিজের ঘরে সালাম দিয়ে প্রবেশ করে তার জন্য মহামহিম আল্লাহ যামিন হন। যে ব্যক্তি মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হলো তার জন্যও আল্লাহ যামিন হন। যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (জিহাদে) রওয়ানা হলো তার জন্যও আল্লাহ যামিন হন। -(আবু দাউদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
২৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১০৭
حَدَّثَنَا خَلِيفَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: \" إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عِنْدَ دُخُولِهِ، وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَبِيتَ لَكُمْ وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ، وَإِنْ لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشَاءَ \"
তিনি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ কোন লোক তার ঘরে প্রবেশকালে এবং তার আহার গ্রহণকালে মহামহিম আল্লাহকে স্মরণ করলে, শয়তান (তার সাঙ্গপাঙ্গকে) বলে, তোমরা রাত যাপনের স্থান ও রাতের আহার থেকে বঞ্চিত হলে। সে তার ঘরে প্রবেশকালে আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান বলে, তোমরা রাত কাটানোর জায়গা পেয়ে গেলে। সে তার আহার গ্রহণকালে আল্লাহকে স্মরণ না করলে শয়তান বলে, তোমাদের রাত কাটানোর জায়গা এবং রাতের আহার উভয়ের ব্যবস্থা হয়ে গেলো। -(মুসলিম, হাকিম, ইবনে হিব্বান, আবু আওয়া নাসাঈ)
২৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১০৮
وصلنا إلى أنس بن مالك. كان يجلس وحيدا في شرفة منزله. سلم عليه شريكي وقال هل يمكنني الدخول؟ فقال أنس (رضي الله عنه): ادخل. إنه مكان لا يحتاج فيه أحد إلى طلب الإذن بالدخول. عندما تم تقديم الطعام، تناولناه. أحضر الموزع قدرًا كبيرًا من حلوى النبي (شراب التمر). شربه وجعلنا نشرب أيضًا.
আমরা আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)-র নিকট আসলাম। তিনি নিঃসঙ্গভাবে তার দহলিজে বসা ছিলেন। আমার সঙ্গী তাকে সালাম দিয়ে বলেন, আমি কি প্রবেশ করতে পারি? আনাস (রাঃ) বলেন, প্রবেশ করো। এটা এমন জায়গা যেখানে কারো প্রবেশানুমতি চাওয়ার প্রয়োজন নাই। আমাদের জন্য খাদ্য পরিবেশন করা হলে আমরা তা আহার করলাম। পরিবেশক মিষ্টি নবীযের (খেজুরের শরবত) বিরাট পাত্র নিয়ে এলো। তিনি তা পান করলেন এবং আমাদেরও পান করালেন ।
২৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১০৯
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ لَا يَسْتَأْذِنُ عَلَى بُيُوتِ السُّوقِ
আবূ নুআইম আমাদেরকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: সুফিয়ান আমাদেরকে বলেছেন, ইবনে আউনের সূত্রে, মুজাহিদের সূত্রে, তিনি বলেছেন: ইবনে উমর বাজারের বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি চাননি।
৩০
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১১০
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصِ بْنُ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَسْتَأْذِنُ فِي ظُلَّةِ الْبَزَّازِ
ইবনে উমার (রাঃ) বস্ত্র ব্যবসায়ীদের শামিয়ানায় প্রবেশের জন্য অনুমতি চাইতেন।
৩১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১১২
فكتب أبو موسى (رضي الله عنه) إلى الرحبان وسلم عليه. فقيل له إنه كافر فهل تسلم عليه؟ قال إنه كتب لي وسلم علي. لقد أجبت عليه.
আবু মূসা (রাঃ) রাহবানকে চিঠি লিখলেন এবং তাকে\nসালাম জানালেন। তাকে বলা হলো, সে তো কাফের, তাকে আপনি সালাম দিলেন? তিনি বলেন, সে আমাকে চিঠি লিখেছে এবং আমাকে সালাম দিয়েছে। আমি এর জবাব দিয়েছি।
৩২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১১৩
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: إني أتوجه غداً إلى منطقة اليهود. لذلك لا تستقبلهم أولاً. عندما يسلمون عليك، سوف تحييهم.
নবী (সাঃ) বলেনঃ আমি আগামী কাল সকালে ইহুদীদের এলাকায় যাচ্ছি। অতএব তোমরা তাদেরকে প্রথমে সালাম দিবে না। তারা তোমাদের সালাম দিলে তোমরা বলবে, তোমাদের প্রতিও।
৩৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১১৪
قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا تبدأوا بالسلام على أهل الكتاب. اجعلهم يسيرون على الجانب الضيق من الطريق. - (مسلم، الترمذي، أبو داود، أبو أواناسائي، الذهبي، ابن حبان)
নবী (সাঃ) বলেনঃ আহলে কিতাব সম্প্রদায়কে তোমরা আগে সালাম দিবে না। তোমরা তাদেরকে রাস্তার সংকীর্ণ দিকে পথ চলতে বাধ্য করো। -(মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, আবু আওয়ানাসাঈ, তাহাবী, ইবনে হিব্বান)
৩৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১১৬
مر يهودي على النبي صلى الله عليه وسلم فقال: السلام عليك. فلما رد أصحابه السلام قال: قال: مت. وعندما تم القبض على اليهودي اعترف. قال: أنت كما قال، فأجب بذلك. - (مسلم، أبو داود، النسائي، أبو آوى النسائي)
এক ইহুদী নবী (সাঃ)-এর নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় বলে, আসসামু আলাইকুম (তোদের মরণ হোক)। তাঁর সাহাবীগণ সালামের উত্তর দিলে তিনি বলেনঃ সে তো বলেছে, তোদের মরণ হোক। ইহুদীকে গ্রেপ্তার করা হলে সে স্বীকারোক্তি করে। তিনি বলেনঃ সে যেভাবে বলেছে তোমরা তদনুরূপ উত্তর দাও। -(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, আবু আওয়া নাসাঈ)
৩৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১১৭
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا سلم عليك أحد من ملة اليهود، فليقل: توفيت. لذلك أنت تقول أيضًا دع نفسك تموت. (البخاري، مسلم، الدارمي، النسائي)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ ইহুদী সম্প্রদায়ের কেউ তোমাদের কখনো সালাম দিলে অবশ্যই সে বলে, তোর মরণ হোক। অতএব তোমরাও বলো, তোরই মরণ হোক। (বুখারী, মুসলিম, দারিমী, নাসাঈ)
৩৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১১৯
ذهب النبي (صلى الله عليه وسلم) إلى المريض سعد بن عبادة (رضي الله عنه) راكبًا على حمار، وقد فدك ثوب منشور على رحلته، وأسامة بن زيد (رضي الله عنه) جالس خلفه. واقترب من جمع من الناس، وكان عبد الله بن أبي بن سلول حاضرا أيضا، وكان ذلك قبل إسلام عدو الله هذا. وكان المسلمون والمشركون والمشركون حاضرين في الاجتماع. لقد استقبلهم. (البخاري، مسلم، الترمذي)
নবী (সাঃ) জিনপোষের উপর ফাদাকের তৈরী চাদর বিছানো গাধার পিঠে সওয়ার হয়ে এবং উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ)-কে তার পেছনে বসিয়ে অসুস্থ সাদ ইবনে উবাদা (রাঃ)-কে দেখতে গেলেন। তিনি এক জনসমাবেশের নিকট গিয়ে পৌছলেন, যেখানে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলও উপস্থিত ছিল। এটা আল্লাহর এই দুশমনের ইসলাম গ্রহণের আগেকার ঘটনা। উক্ত জনসভায় মুসলমান, মুশরিক ও মূর্তিপূজক সকলেই উপস্থিত ছিল। তিনি তাদের সালাম দেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী)
৩৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১২২
قال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا لقيتم المشركين في الطريق فلا تبدأوا بالسلام عليهم، وتجبروهم على السير في ضيق الطريق. - (مسلم، الترمذي، أبو داود، الذهبي، أبو أواناسي، ابن حبان)
নবী (সাঃ) বলেনঃ চলার পথে মুশরিকদের সাথে তোমাদের সাক্ষাত হলে তোমরা আগে তাদেরকে সালাম দিবে না এবং তাদেরকে রাস্তার সংকীর্ণ পথে চলতে বাধ্য করো। -(মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, তাহাবী, আবু আওয়ানাসাঈ, ইবনে হিব্বান)
৩৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১২৪
ولو قال لي فرعون بارك الله فيك لقلت أنت أيضا وإن هلك فرعون.
ফিরাউনও যদি আমাকে বলতো, আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তবে আমিও বলতাম, তোমাকেও, যদিও ফেরাউন ধ্বংস হয়েছে।
৩৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১২৬
مر ابن عمر رضي الله عنهما بنصراني فسلم عليه. كما أنها ترد تحيته. وبعد ذلك أُخبر أنه مسيحي. فلما علم رجع وقال ردوا علي السلام.
ইবনে উমার (রাঃ) এক খৃস্টান ব্যক্তির নিকট দিয়ে যেতে তাকে সালাম দেন। সেও তার সালামের জবাব দেয়। পরে তাকে অবহিত করা হলো যে, সে খৃষ্টান। তিনি তা জানতে পেরে ফিরে গিয়ে বলেন, আমার সালাম ফেরত দাও।