অধ্যায় ১৮
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৪৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِي قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: أُوذِنَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ بِجِنَازَةٍ، قَالَ: فَكَأَنَّهُ تَخَلَّفَ حَتَّى أَخَذَ الْقَوْمُ مَجَالِسَهُمْ، ثُمَّ جَاءَ مَعَهُ، فَلَمَّا رَآهُ الْقَوْمُ تَسَرَّعُوا عَنْهُ، وَقَامَ بَعْضُهُمْ عَنْهُ لِيَجْلِسَ فِي مَجْلِسِهِ، فَقَالَ: لَا، إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «خَيْرُ الْمَجَالِسِ أَوْسَعُهَا» ، ثُمَّ تَنَحَّى فَجَلَسَ فِي مَجْلِسٍ وَاسِعٍ
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)-কে একটি জানাযার খবর দেয়া হলো। তিনি বিলম্ব করলেন। লোকজন এসে নিজ নিজ জায়গায় বসে গেলো। অতঃপর তিনি এলেন। তারা তাকে আসতে দেখেই তাড়াহুড়া করলো এবং কতক লোক দাঁড়িয়ে গেলো, যাতে তিনি তাদের স্থানে বসেন। তিনি বলেন, না। আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ প্রশস্ত স্থানের বৈঠক উত্তম। অতঃপর তিনি একটু অগ্রসর হয়ে এক প্রশস্ত স্থানে বসলেন। (দারিমী, তিরমিযী)
০২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৫১
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا يقيمن أحدكم أحدا من مجلسه فيجلس فيه بنفسه». بل ينبغي عليك أن تتمدد وتجلس في مكان واسع. - (مسلم، البخاري، الدارمي، أبو أواناسائي، ابن حبان)
নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন অপর ব্যক্তিকে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে নিজে সেখানে না বসে। বরং তোমরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে জায়গা প্রশস্ত করে বসো। -(মুসলিম, বুখারী, দারিমী, আবু আওয়ানাসাঈ, ইবনে হিব্বান)
০৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৫২
فلما قدمنا مجلس النبي صلى الله عليه وسلم، من منا جلس حيث كان مكانا. (أبو داود، الترمذي، النسائي)
আমরা নবী (সাঃ)-এর মজলিসে এসে যেখানে জায়গা (খালি) পাওয়া যেতো, আমাদের যে কেউ সেখানে বসে যেতো। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)
০৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৫৩
قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا يحل لرجل أن يجلس بين اثنين إلا بإذنهما. (أبو داود، الترمذي، أحمد)
নবী (সাঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তির জন্য দুইজনের মাঝে তাদের অনুমতি ছাড়া ফাঁক করে বসা হালাল নয়। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)
০৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৫৬
قال ابن عباس (رضي الله عنه): أصحابي من أكرم الناس عندي. (النسائي، ابن حبان)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ লোকজনের মধ্যে আমার সহযোগীরাই আমার নিকট অধিক সম্মানের পাত্র। (নাসাঈ, ইবনে হিব্বান)
০৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৫৯
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ قَالَ: حَدَّثَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ: حَدَّثَنِي زُرَارَةُ بْنُ كَرِيمِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرٍو السَّهْمِيُّ، أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ عَمْرٍو السَّهْمِيَّ حَدَّثَهُ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِمِنًى - أَوْ بِعَرَفَاتٍ - وَقَدْ أَطَافَ بِهِ النَّاسُ، وَيَجِيءُ الْأَعْرَابُ، فَإِذَا رَأَوْا وَجْهَهُ قَالُوا: هَذَا وَجْهٌ مُبَارَكٌ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اسْتَغْفِرْ لِي، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا» ، فَدُرْتُ فَقُلْتُ: اسْتَغْفِرْ لِي، قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا» ، فَدُرْتُ فَقُلْتُ: اسْتَغْفِرْ لِي، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا» ، فَذَهَبَ يَبْزُقُ، فَقَالَ بِيَدِهِ فَأَخَذَ بِهَا بُزَاقَهُ، وَمَسَحَ بِهِ نَعْلَهُ، كَرِهَ أَنْ يُصِيبَ أَحَدًا مِنْ حَوْلِهِ
আরাফাতে - লোকেরা এর চারপাশে প্রদক্ষিণ করেছে, এবং বেদুইনরা আসে, এবং যখন তারা তার চেহারা দেখে তারা বলে: এটি একটি বরকতময় মুখ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেনঃ হে ঈশ্বর আমাদের ক্ষমা করুন। আমি মুখ ফিরিয়ে বললাম: আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেনঃ হে ঈশ্বর আমাদের ক্ষমা করুন। আমি মুখ ফিরিয়ে বললাম: আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেন: "হে ঈশ্বর, আমাদের ক্ষমা করুন," তাই তিনি থুথু দিতে গেলেন, এবং তিনি তার হাত দিয়ে বললেন, এবং তিনি তার থুথু নিয়ে এটি দিয়ে তার জুতা মুছলেন। তিনি তার চারপাশের কাউকে সংক্রামিত করতে ঘৃণা করতেন।
০৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৬০
يفعل). سألوا يا رسول الله! ما هي مطالب اللقاء؟ قال: إرشاد ابن السبيل إلى مقصده، ورد السلام، وكف البصر، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر. (أبو داود، ابن حبان)
নবী (সাঃ) বহিরাঙ্গিনায় (বা রাস্তায়) সভা অনুষ্ঠান বা বৈঠকাদি করতে নিষেধ করেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরে বসে থাকা তো আমাদের জন্য কষ্টকর। তিনি বলেনঃ যদি তোমরা বহিরাঙ্গনে (বা রাস্তায়) বসো তবে বৈঠকের দাবি পূরণ করো (বা কর্তব্য পালন করো)। তারা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! বৈঠকের দাবি কি? তিনি বলেনঃ পথভোলা লোককে তার গন্তব্য পথ বলে দেয়া, (পথচারীদের) সালামের জবাব দেয়া, চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজে বাধা দেয়া। (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান)
০৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৬৪
نهى النبي صلى الله عليه وسلم أن يقوم الرجل من مجلسه ويجلس فيه آخر. (البخاري، مسلم، أبو داود، الترمذي، أحمد) وفي شرف ابن عمر (رضي الله عنه) أنه كان إذا قام أحد من مكانه لم يجلس في مكانه. (مسلم)
কোন ব্যক্তিকে স্বস্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে অপর ব্যক্তিকে সেখানে বসতে নবী (সাঃ) নিষেধ করেছেন। (বুখারী,মুসলিম,আবু দাউদ,তিরমিযী,আহমাদ) ইবনে উমার (রাঃ)-র সম্মানে কেউ স্বস্থান থেকে উঠে দাঁড়ালে তিনি তার সেই জায়গায় বসতেন না। (মুসলিম)
০৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৬৬
سمع أبا هريرة (رضي الله عنه) يصف خلق النبي (ص). كان متوسط البنية، طويل القامة تقريبًا، ذو بشرة فاتحة اللون، شعر اللحية أسود، وسيم الوجه، طويل الحاجبين، عريض الذراعين، عريض الأرداف، وكانت قدماه مسطحة تمامًا، ولم يكن هناك ثقوب في راحتيه. عندما نظر إلى شخص ما، أدار جسده كله وأدار جسده كله إلى الوراء. ولم أرى أحداً مثله قبله ولا بعده.
তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দৈহিক গঠন বর্ণনা করতে শুনেছেন। তাঁর দেহের গড়ন ছিল মধ্যম আকৃতির, প্রায় দীর্ঘকায়, অত্যন্ত গৌরবর্ণের, দাড়ির চুল কালো, সুন্দর মুখাবয়ব, লম্বা ভ্রুযুগল, বাহুদ্বয় চওড়া, প্রশস্ত গণ্ডদেশ, পদদ্বয় সম্পূর্ণ সমতল, তার তালুতে গর্ত ছিলো না। কারো প্রতি তাকালে সমস্ত শরীর ঘুরিয়ে তাকাতেন এবং সমস্ত শরীরে পশ্চাদমুখী হতেন। আমি তাঁর আগে কিংবা পরে আর কাউকে তার অনুরূপ দেখিনি।
১০
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৬৭
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ لِي عُمَرُ: إِذَا أَرْسَلْتُكَ إِلَى رَجُلٍ، فَلَا تُخْبِرْهُ بِمَا أَرْسَلْتُكَ إِلَيْهِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يُعِدُّ لَهُ كِذْبَةً عِنْدَ ذَلِكَ
তিনি বলেন, উমার (রাঃ) আমাকে বললেন, আমি তোমাকে কারো নিকট পাঠালে তুমি (অপরকে) অবহিত করো না যে, কেন আমি তোমাকে তার নিকট পাঠিয়েছি। অন্যথায় শয়তান ঐ সময় তার জন্য মিথ্যা রচনা করবে।
১১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৬৮
حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: كَانَ يَكْرَهُ أَنْ يُحِدَّ الرَّجُلُ النَّظَرَ إِلَى أَخِيهِ، أَوْ يُتْبِعَهُ بَصَرَهُ إِذَا قَامَ مِنْ عِنْدِهِ، أَوْ يَسْأَلَهُ: مِنْ أَيْنَ جِئْتَ، وَأَيْنَ تَذْهَبُ؟
কোন ব্যক্তির দিকে তীর্যক দৃষ্টিতে তাকানো অথবা সে উঠে চলে গেলে তার দিকে নজরদারি করা অথবা তাকে জিজ্ঞেস করা, তুমি কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাবে ইত্যাকার আচরণ দূষণীয়।
১২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৬৯
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ زُبَيْدٍ قَالَ: مَرَرْنَا عَلَى أَبِي ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ أَقْبَلْتُمْ؟ قُلْنَا: مِنْ مَكَّةَ، أَوْ مِنَ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ، قَالَ: هَذَا عَمَلُكُمْ؟ قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: أَمَا مَعَهُ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ؟ قُلْنَا: لَا، قَالَ: اسْتَأْنِفُوا الْعَمَلَ
আবূ নুআইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: যুহায়র আমাদের কাছে আবূ ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবন জুবাইদ থেকে, তিনি বলেছেন: আমরা আল-রাবদা নামক স্থানে আবু যারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তিনি বললেনঃ কোথা থেকে? আপনি কি গ্রহণ করেছেন? আমরা বললামঃ মক্কা থেকে নাকি প্রাচীন ঘর থেকে। তিনি বললেনঃ এটা কি তোমার কাজ? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তার সাথে কি কোন বেচা-বিক্রি নেই? আমরা বললামঃ না, তিনি বললেনঃ আবার কাজ শুরু কর
১৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৭০
قال النبي صلى الله عليه وسلم: من صور صورة أضطر إلى أن ينفخ فيها الحياة ويعذب، ولن يستطيع أن ينفخ فيها أبدا. بين حبتين من القمح رجل يحلم حلماً كاذباً، سيضطر إلى الطاعة ويعاقب، مع أنه قد لا يطيع أبداً. ومن استمع بأذنه إلى طائفة وهم يكرهون ما يسمع، صب بين أذنيه الرصاص السائل الساخن. (البخاري، مسلم، النسائي، الدارمي، أحمد، ابن حبان).
নবী (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি (বিচরণশীল প্রাণীর) প্রতিকৃতি নির্মাণ করে তাকে তাতে প্রাণ সঞ্চার করার জন্য বাধ্য করা হবে এবং শাস্তি দেয়া হবে, যদিও সে কখনো তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না। যে ব্যক্তি মনগড়া স্বপ্ন বলবে তাকে দুটি গমের দানার মধ্যে গিঠ দিতে বাধ্য করা হবে এবং শাস্তি দেয়া হবে, যদিও সে কখনো তাতে গিঠ দিতে পারবে না। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা কান লাগিয়ে শোনে, অথচ তারা তার শ্রবণ অপছন্দ করে, তার দুই কানের মধ্যে উত্তপ্ত তরল সীসা ঢেলে দেয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
১৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৭১
ذهب والدي إلى معاوية ممثلا. كنت صغيرا حينها. فلما دخل عليه قال مرحبا مرحبا. كان هناك شخص يجلس على الأريكة بالقرب منه. فقال يا أمير المؤمنين! مرحبا بكم في هذا الشخص الذي تسمونه مرحبا قال؟ قال: هو سيد أهل المشرق. هذا هشام بن الأسود (رضي الله عنه). فقلت من هذا؟ فقال الناس: هذا عبد الله بن عمرو بن العاص (رضي الله عنه). فقلت له: يا أبا فلان! الدجال سيظهر من أين؟ قال: أنت من تلك الناحية، فلم أجد أهل بلد قط أكثر فضولاً للبعيد، وأغفلاً للقريب من أهل تلك البلدة. ثم قال: يخرج من العراق كثير الزرع والنخل. (الطبراني)
আমার পিতা প্রতিনিধি হিসাবে মুআবিয়া (রাঃ)-র নিকট গেলেন। আমি তখন তরুণ। তিনি তার নিকট প্রবেশ করলে তিনি বলেন, মারহাবা মারহাবা। তার নিকটেই এক ব্যক্তি সোফায় বসা ছিল। তিনি বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এই ব্যক্তি কে যাকে আপনি মারহাবা বলে স্বাগত জানালেন? তিনি বলেন, ইনি প্রাচ্যবাসীর নেতা। ইনি হায়ছাম ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ)। আমি বললাম, ইনি কে? লোকজন বললো, ইনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাঃ)। আমি তাকে বললাম, হে অমুকের পিতা! দাজ্জাল কোথা থেকে আত্মপ্রকাশ করবে? তিনি বলেন, তুমি যে এলাকার বাসিন্দা সেই এলাকার লোকদের চেয়ে দূরবর্তী বিষয় সম্পর্কে অধিক জিজ্ঞাসাকারী এবং নিকটবর্তী বিষয় অধিক ত্যাগকারী আমি আর কোন এলাকার লোককে পাইনি। অতঃপর তিনি বলেন, গাছপালা ও খেজুর বৃক্ষ সমৃদ্ধ ইরাক থেকে সে আত্মপ্রকাশ করবে। (তাবারানী)
১৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৭২
جلست على الفراش مع ابن عباس.
আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ)-র সাথে গদিতে বসেছি।
১৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৭৩
كنت أصعد وأنزل مع ابن عباس (رضي الله عنه). كان يجعلني أجلس على فراشه. فقال لي لا تبق بالقرب مني سأعطيك جزءا من مالي. لذلك مكثت معه لمدة شهرين. (البخاري، مسلم)
আমি ইবনে আব্বাস (রাঃ)-র সাথে উঠা-বসা করতাম। তিনি আমাকে তার গদিতে বসাতেন। তিনি আমাকে বলেন, তুমি আমার নিকট অবস্থান করে যাবত না আমি তোমাকে আমার মালের একটি অংশ দান করি। অতএব আমি তার নিকট দুই মাস অবস্থান করলাম। (বুখারী, মুসলিম)
১৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৭৪
حَدَّثَنَا عُبَيْدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ أَبُو خَلْدَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، وَهُوَ مَعَ الْحَكَمِ أَمِيرٌ بِالْبَصْرَةِ عَلَى السَّرِيرِ، يَقُولُ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلَاةِ، وَإِذَا كَانَ الْبَرْدُ بَكَّرَ بِالصَّلَاةِ\n---\n[قال الشيخ الألباني] : \nحسن الإسناد والمرفوع منه صحيح
আমাদের কাছে উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে ইউনুস ইবনু বুকাইর বর্ণনা করেছেন, বলেছেন: খালেদ ইবনু দিনার আবূ খালদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আনাস ইবনু মালিককে শুনেছি, আর তিনি আল-হাকামের সাথে ছিলেন। বসরার একজন আমীর তার বিছানায় ছিলেন, তিনি বলেছিলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাপ শীতল হলে নামায পড়তেন এবং যখন নামাযের প্রথম দিকে ঠাণ্ডা হত তখন নামায পড়তেন\n---\n[শেখ আল-আলবানী বলেন]:\nপ্রচারের চেইনটি ভাল এবং এর থেকে সংক্রমণের চেইনটি সত্য।
১৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৭৫
دخلت عند النبي صلى الله عليه وسلم. وكان يرقد على محفة مصنوعة من حبال من سعف النخيل. وكان تحت رأسه وسادة من جلد مملوءة لحاء النخل. لم يكن هناك قطعة قماش بين شاربايا وجسده. فدخل عليه عمر (رضي الله عنه) فبكى. فقال له النبي (ص): يا عمر! ما الذي جعلك تبكي؟ قال: قسم الله! أنا أبكي لأنني أعلم أن مكانتك في نظر الله أعلى بكثير من مكانة قيصر وقيصر. إنهم من هذا العالم الأرضي، منغمسين في متع لا نهاية لها. ويا رسول الله! أرى حالتك بأم عيني! فقال النبي صلى الله عليه وسلم: يا عمر! ألا ترضون أن لهم نعيم الدنيا ولنا نعيم الآخرة؟ قلت: بلى يا رسول الله! قال: الأمر هكذا. (مسند أحمد، ابن حبان)
আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি খেজুর পাতার দড়ির তৈরী একটি চারপায়ার উপর শায়িত ছিলেন। তার মাথার নিচে ছিল খেজুর গাছের বাকল ভর্তি একটি চামড়ার বালিশ। চারপায়া ও তার দেহের মাঝখানে কোন কাপড় বিছানো ছিলো না। উমার (রাঃ) তার নিকট প্রবেশ করে কেঁদে দিলেন। নবী (সাঃ) তাকে বলেনঃ হে উমার! তোমাকে কিসে কাঁদালো? তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি এজন্যই কাদছি যে, আমি জানি আল্লাহর কাছে আপনার মর্যাদা (পারস্য রাজ) কিসরা ও (রোমসম্রাট) কাইজারের চেয়ে অনেক উর্দ্ধে। তারা এই পার্থিব জগতের কতো অফুরন্ত ভোগবিলাসের মধ্যে ডুবে আছে। আর হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অবস্থা তো আমি স্বচক্ষে দেখছি! নবী (সাঃ) বলেনঃ হে উমার! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে না যে, তাদের জন্য দুনিয়ার ভোগসামগ্ৰী আর আমাদের জন্য আখেরাতের ভোগসামগ্ৰী? আমি বললাম, অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ বিষয়টি এরূপই। (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
১৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৭৬
ذهبت إلى النبي (ص). كان يلقي خطابا. فقلت يا رسول الله! ويأتي مسافر يريد أن يسأل عن دينه. ولا يعرف ما هو دينه؟ علق خطابه على الفور وجاء أمامي. أ
আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট গিয়ে পৌঁছলাম। তিনি তখন ভাষণ দিচ্ছিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজন মুসাফির এসেছে, সে তার দ্বীন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চায়। সে জানে না তার দ্বীন কি? তিনি তৎক্ষণাৎ তার ভাষণ স্থগিত রেখে আমার সামনে এলেন। একটি কুরছি (চেয়ার) আনা হলো, আমার ধারণামতে এর পায়াগুলো ছিল লোহার। অধস্তন রাবী হুমাইদ (র) বলেন, মনে হয় পায়াগুলো ছিল কালো কাঠের এবং তিনি তাকে লোহা ধারণা করেছেন। নবী (সাঃ) তাতে বসলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যা শিখিয়েছেন তা তাকে শিখালেন। অতঃপর তিনি তার অসমাপ্ত ভাষণ সমাপ্ত করলেন। (মুসলিম, নাসাঈ, দূলাবী)
২০
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৭৭
رأيت ابن عمر (رضي الله عنه) جالسا على فراش البصر وعليه ثوب أحمر. -(تحابي)
আমি ইবনে উমার (রাঃ)-কে লাল রং-এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় বাসর রাতের খাটের উপর বসা দেখেছি। -(তাহাবী)
২১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৭৮
وَعَنْ أَبِيهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ: رَأَيْتُ أَنَسًا جَالِسًا عَلَى سَرِيرٍ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى
আমি আনাস (রাঃ)-কে তার এক পা অপর পায়ের উপর রেখে গদিতে বসা অবস্থায় দেখেছি। -(তাহাবী)
২২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৮০
حبان)
যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা কান লাগিয়ে শোনে, অথচ তারা এটা পছন্দ করে নাসাঈ, তার কানের মধ্যে গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি মনগড়া স্বপ্ন বলবে তাকে গমের দানায় গিঠ দিতে বাধ্য করা হবে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, দারিমী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
২৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৮১
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا كَانُوا ثَلَاثَةً، فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ»
ইসমাইল আমাদেরকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: মালিক আমাকে নাফির সূত্রে, আবদুল্লাহর সূত্রে বলেছেন যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি তারা তিনজন হয়, তবে "তৃতীয় ছাড়া দুইজন একে অপরের সাথে কথা বলে না।"
২৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৮২
حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ قَالَ: حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ، فَإِنَّهُ يُحْزِنُهُ ذَلِكَ» .
নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা তিনজন একত্র হলে একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনে আলাদা হয়ে গোপন আলাপ করো না। কারণ তা তাকে মনক্ষুণ্ন করবে। (বুখারী,মুসলিম,আবু দাউদ,ইবনে মাজাহ)
২৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৮৫
ولا ضرر إذا اجتمع الأربعة (في محادثات سرية فردية).
তারা চারজন একত্র হলে (দু’জনের স্বতন্ত্র গোপন আলাপে) কোন ক্ষতি নাই।
২৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৮৬
فجلست عند عبد الله بن سلام. يقول أنك تجلس بجواري ولكن حان الوقت لأستيقظ. قلت: إنها رغبتك. فقام ومضى معه حتى وصل إلى الباب.
আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ)-র নিকট বসলাম। তিনি বলেন, তুমি আমার পাশে এসে বসেছে অথচ আমার উঠে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমি বললাম, তা আপনার ইচ্ছা। অতএব তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তিনি দরজায় পৌছা পর্যন্ত তার সাথে সাথে গেলাম।
২৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৮৭
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي قَيْسٌ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ جَاءَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ، فَقَامَ فِي الشَّمْسِ، فَأَمَرَهُ فَتَحَوَّلَ إِلَى الظِّلِّ
মুসাদ্দাদ আমাদেরকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া আমাদেরকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: ইসমাইল ইবনে আবি খালেদ আমাদেরকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: কায়েস আমাকে তার পিতার সূত্রে বলেছেন যে তিনি এসেছিলেন এবং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন তিনি রোদে দাঁড়ালেন, অতঃপর তিনি তাকে ছায়ার দিকে যেতে বললেন।
২৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৯০
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى أَبِيهِ، فَأَلْقَى لَهُ قَطِيفَةً فَجَلَسَ عَلَيْهَا
নবী (সাঃ) তার পিতার নিকট এলে তিনি তার জন্য নরম গদি পেতে দেন। তিনি তার উপর বসেন।
২৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৯১
حَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حَسَّانَ الْعَنْبَرِيُّ قَالَ: حَدَّثَتْنِي جَدَّتَايَ صَفِيَّةُ بِنْتُ عُلَيْبَةَ، وَدُحَيْبَةُ بِنْتُ عُلَيْبَةَ - وَكَانَتَا رَبِيبَتَيْ قَيْلَةَ - أَنَّهُمَا أَخْبَرَتْهُمَا قَيْلَةُ قَالَتْ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاعِدًا الْقُرْفُصَاءَ، فَلَمَّا رَأَيْتُ النَّبِيَّ الْمُتَخَشِّعَ فِي الْجِلْسَةِ أُرْعِدْتُ مِنَ الْفَرَقِ
আমি নবী (সাঃ)-কে তাঁর দুই হাঁটু খাড়া করে তা দুই হাতে বেড় দিয়ে ধরে নিতম্বের উপর বসা অবস্থায় দেখেছি। নবী (সাঃ)-কে এরূপ বিনীতভাবে বসা অবস্থায় দেখে আমি ভীত-কম্পিত হলাম। (আবু দাউদ হা/৪৮৪৭)
৩০
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৯২
أتيت النبي صلى الله عليه وسلم فرأيته جالسا على أربع. (تهجيب كمال، اصطياب)
আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে তাকে চার জানু হয়ে বসা অবস্থায় দেখলাম। (তাহযীবুল কামাল, ইসতীআব)
৩১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৯৩
ورأى علي بن عبد الله بن عباس (رضي الله عنه) جالساً على أربع، واضعاً إحدى رجليه على الأخرى، أي: اليمنى على اليسرى.
তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)-র পুত্র আলীকে তার এক পা অপর পায়ের উপর অর্থাৎ ডান পা বাম পায়ের উপর রেখে চার জানু হয়ে বসা অবস্থায় দেখেছেন।
৩২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৯৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ: رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَجْلِسُ هَكَذَا مُتَرَبِّعًا، وَيَضَعُ إِحْدَى قَدَمَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى
মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সুফিয়ান আমাদের কাছে ইমরান ইবনু মুসলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেনঃ আমি আনাস ইবনু মালিককে এমনভাবে বসে থাকতে দেখেছি এবং এক পা অন্যটির উপর রেখেছিলেন।
৩৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৯৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي قُرَّةُ بْنُ مُوسَى الْهُجَيْمِيُّ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ جَابِرٍ الْهُجَيْمِيِّ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْتَبٍ فِي بُرْدَةٍ، وَإِنَّ هُدَّابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَوْصِنِي، قَالَ: «عَلَيْكَ بِاتِّقَاءِ اللَّهِ، وَلَا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا، وَلَوْ أَنْ تُفْرِغَ لِلْمُسْتَسْقِي مِنْ دَلْوِكَ فِي إِنَائِهِ، أَوْ تُكَلِّمَ أَخَاكَ وَوَجْهُكَ مُنْبَسِطٌ، وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الْإِزَارِ، فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ، وَلَا يُحِبُّهَا اللَّهُ، وَإِنِ امْرُؤٌ عَيَّرَكَ بِشَيْءٍ يَعْلَمُهُ مِنْكَ فَلَا تُعَيِّرْهُ بِشَيْءٍ تَعْلَمُهُ مِنْهُ، دَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ، وَأَجْرُهُ لَكَ، وَلَا تَسُبَّنَّ شَيْئًا» ، قَالَ: فَمَا سَبَبْتُ بَعْدُ دَابَّةً وَلَا إِنْسَانًا
আমি নবী (সাঃ)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি একটি চাদর মুড়ি দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। চাদরের ঝালর তাঁর পায়ের পাতার উপর ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ “তুমি অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করবে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৎকাজকেও তুচ্ছজান করো নাসাঈ, তা যদি তোমার বালতি থেকে পানি প্রার্থীর পাত্রে পানি ঢেলে দেয়ার মত নগণ্য কাজও হয় অথবা হাস্যোজ্জ্বল মুখে তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার আলাপ-আলোচনাও হয়। পায়ের গোছার নিচে পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে দেয়া থেকে সাবধান হও। কারণ তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। কোন ব্যক্তি যদি তার জ্ঞাত তোমার কোন ত্রুটির কারণে তোমাকে গালি দেয়, তবে তুমি তোমার জ্ঞাত তার কোন ত্রুটির কারণে তাকে গালি দিও না। তার কর্মের পরিণতি ভোগের জন্য তাকে ছেড়ে দাও এবং তার সওয়াব পাবে তুমি । তুমি কোন কিছুকে গালি দিও না”। রাবী বলেন, পরে আমি কখনো পশু বা মানুষ কাউকে গালি দেইনি। -(আবু দাউদ, আহমাদ, হাকিম)