অধ্যায় ১৯
অধ্যায়ে ফিরুন
৩৪ হাদিস
০১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৯৮
আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসেম আল-মাযিনী (রাঃ)
حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ: سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ يُحَدِّثُهُ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ قَالَ: رَأَيْتُهُ - قُلْتُ لِابْنِ عُيَيْنَةَ: النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: نَعَمْ مُسْتَلْقِيًا، وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى
আমি নবী (সাঃ)-কে তাঁর এক পা অপর পায়ের উপর রেখে শায়িত অবস্থায় দেখেছি। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, তাহাবী)
০২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১১৯৯
মিসওয়ার -র কন্যা উম্মু বাকর
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أُمِّ بَكْرٍ بِنْتِ الْمِسْوَرِ، عَنْ أَبِيهَا قَالَ: رَأَيْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ مُسْتَلْقِيًا، رَافِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى\n---\n[قال الشيخ الألباني] : \nضعيف الإسناد موقوفا
তিনি বলেন, আমি আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ)-কে তার এক পায়ের উপর অপর পা তুলে শুয়ে থাকতে দেখেছি।
০৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২০০
ইবনে তিখফা আল-গিফফারী (রাঃ)
أخبره والده أنه\nعضو في جماعة أصحاب صوفا. قال: كنت نائماً في المسجد الليلة. جاءني غريب وأنا مضطجع ومستغرق في النوم. فهزني برجله وقال: لقد سخط الله على هذا الكذب. فرفعت رأسي فإذا النبي صلى الله عليه وسلم قائم عند رأسي. -(أبو داود، النسائي، ابن ماجه، أحمد)
তার পিতা তাকে অবহিত করেন যে,তিনি\nছিলেন আসহাবে সুফফার সদস্য। তিনি বলেন, একদা শেষ রাতে আমি মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। আমি উপুড় হয়ে ঘুমে বিভোর অবস্থায় একজন আগন্তুক আমার নিকট এলেন। তিনি আমাকে তাঁর পায়ের সাহায্যে নাড়া দিয়ে বলেনঃ ওঠে, এই উপুড় হয়ে শোয়ায় আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। আমি মাথা তুলে দেখি যে, নবী (সাঃ) আমার শিয়রে দাঁড়িয়ে। -(আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)
০৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২০২
সালেম
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا يأكل أحدكم ولا يشرب بشماله؟ لأن الشيطان يأكل ويشرب بشماله. قال الربيع: وزاد فيه نافع: أن لا يأخذ شيئا بشماله، ولا يعطي شيئا بشماله. -(مسلم وأبو داود والترمذي)
তিনি বলেন, নবী (সাঃ) বলেছেনঃ কেউ যেন তার বাম হাতে পানাহার না করে? কেননা শয়তান তার বাম হাতে পানাহার করে। রাবী বলেন, নাফে (র) তাতে আরো যোগ করেন যে, বাম হাতে কিছু গ্রহণও করবে না এবং বাম হাত দ্বারা কিছু দিবেও না। -(মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী)
০৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২০৩
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
وعندما يجلس الإنسان ينبغي أن يبقى حذاءه (مفتوحا) بجانبه. وهذا هو حكم السنة. (أبو داود)
কোন ব্যক্তি যখন বসবে তখন তার জুতাজোড়া তার পাশেই (খুলে) রাখবে। এটাই সুন্নাত নিয়ম। (আবু দাউদ)
০৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২০৪
আবু উমামা (রাঃ)
تلاعب
তোমাদের কারো স্ত্রী তার জন্য বিছানা পাতার পর শয়তান এসে তাতে খড়কুটা, নুড়িপাথর বা অন্য কিছু ছড়িয়ে দেয় যাতে সে তার স্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট হয়। সে (তার বিছানায়) এগুলো দেখতে পেলে যেন তার স্ত্রীর উপর অসন্তুষ্ট না হয়। কারণ এটা শয়তানের কারসাজি।
০৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২০৫
আবদ আল-রহমান ইবনে আলী (রাঃ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عُمَرُ - رَجُلٌ مِنْ بَنِي حَنِيفَةَ هُوَ ابْنُ جَابِرٍ - عَنْ وَعْلَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَثَّابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ بَاتَ عَلَى ظَهْرِ بَيْتٍ لَيْسَ عَلَيْهِ حِجَابٌ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ» . قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: فِي إِسْنَادِهِ نَظَرٌ
নবী (সাঃ) বলেনঃ কেউ বেষ্টনীবিহীন ছাদে রাতে ঘুমালে (এবং কোন দুর্ঘটনা ঘটলে) তার সম্পর্কে (আল্লাহর) কোন যিম্মাদারি নাই। (আবু দাউদ হা/৫০৪১)
০৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২০৭
A Companion Of The Holy Prophet
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عِمْرَانَ، عَنْ زُهَيْرٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: \" مَنْ بَاتَ عَلَى إِنْجَارٍ فَوَقَعَ مِنْهُ فَمَاتَ، بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ، وَمَنْ رَكِبَ الْبَحْرَ حِينَ يَرْتَجُّ - يَعْنِي: يَغْتَلِمُ - فَهَلَكَ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ \"
নবী (সাঃ) বলেন কেউ উন্মুক্ত ছাদে ঘুমালে এবং তা থেকে পতিত হয়ে নিহত হলে তার ব্যাপারে কোন দায়দায়িত্ব নাই। কেউ ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ অবস্থায় সমুদ্রভ্রমণে গিয়ে নিহত হলে তার ব্যাপারেও কোন দায়দায়িত্ব নাই। (আহমাদ)
০৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২০৮
আবু মুসা আশআরী রা
وجلس النبي صلى الله عليه وسلم في بئر في وسط الجدران الأربعة معلق رجليه على حافتها. -(البخاري ومسلم ومسند أبو عوا النسائي)
নবী (সাঃ) চার দেয়ালের অভ্যন্তরে এক কূপের\nমধ্যে তার পদদ্বয় ঝুলিয়ে দিয়ে এর বেষ্টনীর উপর বসেছিলেন। -(বুখারী, মুসলিম, মুসনাদ আবু আওয়া নাসাঈ)
১০
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২০৯
মুসলিম ইবনে আবু মারিয়াম (রাঃ)
وكان ابن عمر رضي الله عنه يقول إذا خرج من بيته: «اللهم سلمني وآمن مني».
ইবনে উমার (রাঃ) তার ঘর থেকে বাইরে\nরওয়ানা হওয়ার সময় বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপদ রাখো এবং আমার থেকে (অন্যদেরও) নিরাপদ রাখো”।
১১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২১১
শিহাব ইবনে আববাদ আল-আসারী (রহ.)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ أَبُو يَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ، التُّكْلَانُ عَلَى اللَّهِ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ»
মুহাম্মাদ বিন আল-সালত আবু ইয়া’লা আমাদেরকে বলেছেন: হাতেম বিন ইসমাইল আমাদেরকে বলেছেন, আবদুল্লাহ বিন হুসাইন বিন আতা থেকে, সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তার পিতার সূত্রে, আবু হুরায়রার সূত্রে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সূত্রে, আল্লাহ তাঁর উপর বরকত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে শান্তি দান করুন, যখন তিনি তাঁর ঘর ছেড়ে যেতেন তখন তিনি বলতেন: “
১২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২১৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يزال يقول هذا الدعاء في الصباح والمساء: "اللهم إني أسألك العافية في الدنيا والآخرة، اللهم إني أسألك ديني ودنياي وأهلي ومالي". أدعو الله من أجل السلامة. يا الله! أخفي خجلي وحوّل خوفي إلى أمان. يا الله! احفظني من أمامي ومن خلفي وعن يميني وعن شمالي ومن فوقي. أنا أكون
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সকালে ও সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে কখনো এই দোয়া পড়া ত্যাগ করতেন নাঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আমার দীন, আমার দুনিয়া, আমার পরিবার ও আমার সম্পদের নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমার লজ্জাস্থানকে গোপন রাখো এবং আমার ভয়কে নিরাপত্তায় পরিণত করো। হে আল্লাহ! আমাকে হেফাজত করো আমার সম্মুখভাগ থেকে, আমার পশ্চাদভাগ থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আমি তোমার মহানত্বের উসীলায় আমার নিচের দিক থেকে আমাকে ধ্বসিয়ে দেয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। -(আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
১৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২১৮
হুযাইফা (রাঃ)
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، وَأَبُو نُعَيْمٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ قَالَ: «بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا» ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ مِنْ مَنَامِهِ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ»
নবী (সাঃ) ঘুমানোর ইচ্ছা করলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই মরি ও বাচি”। তিনি তাঁর ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বলতেনঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদেরকে আমাদের মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন এবং তার নিকটই প্রত্যাবর্তন”।-(বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
১৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২২০
জাবের (রা)
وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا ينام حتى يقرأ سورة "ألم تنخل" (سورة السجدة - 32) وتبارك الله باديهل الملك (سورة الملك - 67). (الترمذي)\nقال أبو الزبير (رضي الله عنه): هذه السورة أكثر من سائر سور القرآن بسبعين مرة. استحقاق الكرامة. ومن قرأ هذه السورة كتب له سبعون حسنة، وزادت درجاته سبعين درجة، وغفرت له سبعين ذنبا. -(النسائي، الدارمي، الحاكم، ابن أبي شيبة)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সূরা আলিফ-লাম-মীম তানখীল (সূরা সাজদা-৩২) ও তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক (সূরা মূলক-৬৭) না পড়া পর্যন্ত ঘুমাতেন না। (তিরমিযী)\nআবুয যুবাইর (র) বলেন, এই সূরাদ্বয় কুরআন মজীদের অন্যসব সূরার তুলনায় সত্তর গুণ সওয়াবের মর্যাদা লাভের অধিকারী। কোন ব্যক্তি এই সূরাদ্বয় পড়লে তার জন্য এর বিনিময়ে সত্তরটি নেকী লেখা হয়, এর উসীলায় তার মর্যাদা সত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং এর দ্বারা তার সত্তরটি গুনাহ মাফ করা হয়। -(নাসাঈ, দারিমী, হাকিম, ইবনে আবু শায়বাহ)
১৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২২৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا آوى أحدكم إلى فراشه فلينزع إزاره وليهز به فراشه. لأنه لا يعلم ما وقع على فراشه في غيابه. ثم يرقد على جنبه الأيمن ويقول:
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ঘুমাতে বিছানায় আশ্রয় নিলে সে যেন তার ভেতরের পরিধেয় বস্ত্র খুলে তা দ্বারা বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে তার বিছানায় কি পতিত হয়েছে। অতঃপর সে ডান কাতে শুয়ে যেন বলে, “তোমার নামে আমার পার্শ্বদেশ (বিছানায়) রাখলাম। তুমি আমার আত্মা আটক করে রেখে দিলে তার প্রতি দয়া করো, আর তাকে ছেড়ে দিলে তাকে হেফাজত করো, যেভাবে তুমি হেফাজত করে থাকো তোমার সৎকর্মপরায়ণ লোকদের”। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ, আবু আওয়ানা, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান)
১৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২২৪
বারাআ ইবনে আযেব
ليس هناك مكان آخر للفرار إليه والخلاص إلا أنت. آمنت بالكتاب الذي أنزلت وبالنبي الذي أرسلته». قال النبي صلى الله عليه وسلم: من دعا بهذا الدعاء في الليل ثم مات فقد مات على دين الإسلام. -(البخاري، مسلم، أبو داود، الترمذي)
নবী (সাঃ) বিছানাগত হয়ে ডান কাতে শুয়ে যেতেন, অতঃপর বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমার মুখ তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমাকে তোমার নিকট সোপর্দ করলাম এবং তোমার রহমাতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় সহকারে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। তোমার থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ছাড়া আর কোন ঠিকানা নাই। তুমি যে কিতাব নাযিল করেছে এবং যে নবী পাঠিয়েছে আমি তার উপর ঈমান এনেছি”। নবী (সাঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি রাতে এই দোয়া পড়লে, অতঃপর মারা গেলে সে দ্বীন ইসলামের উপর মারা গেলো। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী)
১৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২২৮
বারা (রা)
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنَامَ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدِّهِ الْأَيْمَنِ، وَيَقُولُ: «اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ» .
কাবিসা বিন উকবা আমাদেরকে বলেছেন: সুফিয়ান আমাদেরকে আবূ ইসহাকের সূত্রে, আল বারা'র সূত্রে বলেছেন, তিনি বলেছেন: যখনই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমাতেন এবং ডান গালের নিচে হাত রেখে বলতেন: “হে আল্লাহ, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন সেদিন আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন।”
১৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৩০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا جاء أحدكم إلى فراشه، فلينفض فراشه بإزار ثوبه، وليذكر اسم الله. لأنه لا يعلم ما وقع على فراشه في غيابه. وإذا نام على فراشه فليضطجع على أذنه اليمنى ويقول: قدوس ربي، باسمك وضعت جنبي وباسمك أرفعه، إن أبقيت نفسي فاغفر له، وإن أطلقته فاحفظه كما أنت لك. حفظ العباد الصالحين." (البخاري، مسلم، الدارمي، ابن حبان)
নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার বিছানায় ঘুমাতে এলে সে যেন তার পরিধেয় বস্ত্রের নিম্নাংশ দ্বারা তার বিছানাটা ঝেড়ে নেয় এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে। কারণ সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে তার বিছানায় কি পতিত হয়েছে। সে যখন বিছানায় শোবে তখন যেন তার ডান কাতে শোয় এবং বলে, “আমার প্রতিপালক মহাপবিত্র। তোমার নামে আমার পার্শ্বদেশ বিছানায় রাখলাম এবং তোমার নামে তা উঠাবো। যদি তুমি আমার জান রেখে দাও তবে তাকে ক্ষমা করো। আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবে তার হেফাজত করো, যেরূপ তুমি তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের হেফাজত করে থাকো”।-(বুখারী, মুসলিম, দারিমী, ইবনে হিব্বান)
১৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৩২
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا نام الرجل من الليل ولم يأخذ الدهن من طعامه، فإن كان به ضرر فليلوم نفسه.
নবী (সাঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি খাদ্যের চর্বি হাত থেকে দূর না করে রাতে ঘুমালে এবং তাতে তার কোন ক্ষতি হলে সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে।
২০
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৩৫
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
جاء فأر وسحب ساليتا شيراج بعيدًا. فلما لحقته فتاة قال النبي صلى الله عليه وسلم: اتركها. فجر الفأر السرير ووضعه على السجادة التي كان النبي صلى الله عليه وسلم يجلس عليها. فاحترق درهم من مساحة الحصير فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أطفئوا مصابيحكم قبل أن تناموا. لأن الشيطان سوف يفعل مثل هذه الأفعال السيئة ويحرقك. (أبو داود، الحاكم، ابن حبان)
একটি ইঁদুর এসে চেরাগের সলিতা টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। একটি বালিকা তার পিছু ধাওয়া করলে নবী (সাঃ) বলেনঃ একে ত্যাগ করো। ইঁদুর সলিতাটি টেনে নিয়ে এসে যে চাটাইয়ে নবী (সাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন তার উপর রেখে দিলো। ফলে চাটাইয়ের এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা পুড়ে গেলো। তাই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ তোমরা ঘুমানোর পূর্বে\nতোমাদের বাতিগুলো নিভিয়ে দিও। কারণ শয়তান অনুরূপ অপকর্ম করবে এবং তোমাদের অগ্নিদগ্ধ করবে। (আবু দাউদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
২১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৩৬
আবু সাঈদ
ذات ليلة استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم. فأخذ فأراً فتيل المصباح وصعد معه إلى سطح البيت ليشعل النار في بيتهم، فلعنه النبي صلى الله عليه وسلم وأحل قتله ولو على المحرم. - (ابن ماجه، الحاكم، الطحاوي)
এক রাতে নবী (সাঃ) জাগ্রত হলেন। তখন একটি ইঁদুর বাতির সলিতা নিলো এবং তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়ার জন্য সেটি সলিতাসহ ঘরের ছাদে উঠলো।\nতাই নবী (সাঃ) এটিকে অভিসম্পাত করলেন এবং ইহরামধারী ব্যক্তির জন্যও এটি হত্যা করা হালাল ঘোষণা করলেন। -(ইবনে মাজাহ, হাকিম, তাহাবী)
২২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৩৮
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وقال عمر (رضي الله عنه): النار عدوك. لذا احذر من ذلك. فكان ابن عمر رضي الله عنه يطفئ نار أهله قبل أن ينام بالليل.
উমার (রাঃ) বলেছেনঃ আগুন (তোমাদের) শত্রু। অতএব তা থেকে সতর্ক থাকো। তাই ইবনে উমার (রাঃ) রাতে ঘুমানোর পূর্বে তার পরিবারের আগুন নিভিয়ে দিতেন।
২৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৩৯
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: لا تتركوا بيوتكم مشتعلة. لأنه عدو.
তিনি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের ঘরসমূহে আগুন জ্বলিয়ে রেখে দিও না। কেননা তা দুশমন।
২৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৪৩
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَعْقَاعُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِيَّاكُمْ وَالسَّمَرَ بَعْدَ هُدُوءِ اللَّيْلِ، فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي مَا يَبُثُّ اللَّهُ مِنْ خَلْقِهِ، غَلِّقُوا الْأَبْوَابَ، وَأَوْكُوا السِّقَاءَ، وَأَكْفِئُوا الْإِنَاءَ، وَأَطْفِئُوا الْمَصَابِيحَ»
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা গভীর রাত পর্যন্ত গল্প-গুজবে মশগুল থেকে না। কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে, আল্লাহ তাঁর কতক সৃষ্টিকুল রাতে স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে ছড়িয়ে দেন। তোমরা (রাতের বেলা) ঘরের দরজাগুলো বন্ধ রাখো, পানপাত্রের মুখ বেঁধে রাখো, পাত্রসমূহ ঢেকে রাখো এবং আলো নিভিয়ে দাও।
২৫
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৪৪
জাবের (রা)
حَدَّثَنَا عَارِمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُفُوًا صِبْيَانَكُمْ حَتَّى تَذْهَبَ فَحْمَةُ - أَوْ فَوْرَةُ - الْعِشَاءِ، سَاعَةَ تَهَبُّ الشَّيَاطِينُ»
নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা রাতের সূচনায় অন্ধকার দূর না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের শিশুদের সামলিয়ে রাখো। এই সময় শয়তানেরা (চতুর্দিকে) ছড়িয়ে পড়ে। (মুসলিম হা/৫০৮২)
২৬
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৪৫
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
- كان يكره القتال بين الحيوانات. - (الترمذي، أبو داود)
তিনি পশুদের মধ্যে পরস্পর লড়াই বাধানো অপছন্দ করতেন। -(তিরমিযী, আবু দাউদ)
২৭
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৪৬
জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ: حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَقِلُّوا الْخُرُوجَ بَعْدَ هُدُوءٍ، فَإِنَّ لِلَّهِ دَوَابَّ يَبُثُّهُنَّ، فَمَنْ سَمِعَ نُبَاحَ الْكَلْبِ، أَوْ نُهَاقَ حِمَارٍ، فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، فَإِنَّهُمْ يَرَوْنَ مَا لَا تَرَوْنَ»
আবদুল্লাহ ইবনে সালেহ আমাদেরকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: আল-লায়ছ আমাকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: খালেদ ইবনে ইয়াজিদ আমাকে বলেছেন, সাঈদ ইবনে আবি হিলালের সূত্রে, সাঈদ ইবনে যিয়াদের সূত্রে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনি প্রায়শই বলেছিলেন যে, "আল্লাহর দরবারে প্রায়ই পশু কম হয়েছে।" তাদের চারপাশে ছড়িয়ে দিন। সুতরাং যে কেউ কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনতে পায় বা গাধার ডাক শুনতে পায়, সে যেন অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়, কারণ তারা তা দেখে যা তুমি দেখতে পাও না।
২৮
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৪৭
জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا سمعتم نباح الكلاب ونهيق الحمير، فاستعينوا بالله. لأنهم يرون (شيئا) لا تراه. (في الليل) اذكر اسم الله وأغلق أبواب البيت. لأن الشيطان لا يستطيع أن يفتح الباب المغلق بذكر اسم الله. وتغطي أفواه الأباريق، وتربط أفواه المشكاوى (أوعية الماء المصنوعة من الجلد) وتضع الأوعية رأسًا على عقب. (أبو داود)
নবী (সাঃ) বলেনঃ রাতের বেলা তোমরা যখন কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দ এবং গাধার ডাক শোনতে পাও তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কারণ এরা (এমন কিছু) দেখতে পায় যা তোমরা দেখতে পাও না। (রাতের বেলা) তোমরা আল্লাহর নাম স্মরণ করে ঘরের দরজাসমূহ বন্ধ করো। কারণ আল্লাহর নাম স্মরণ করে বন্ধকৃত দরজা শয়তান খোলতে পারে না। তোমরা কলসিগুলোর মুখ ঢেকে দাও, মশকের (চামড়ার তৈরী পানির পাত্র) মুখ বেঁধে দাও এবং পাত্রগুলো উপুড় করে রেখে দাও। (আবু দাউদ)
২৯
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৪৮
জাবের (রা)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَا: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ قَالَ: حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ الْهَادِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ ابْنُ الْهَادِ: وَحَدَّثَنِي شُرَحْبِيلُ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَقِلُّوا الْخُرُوجَ بَعْدَ هُدُوءٍ، فَإِنَّ لِلَّهِ خَلْقًا يَبُثُّهُمْ، فَإِذَا سَمِعْتُمْ نُبَاحَ الْكِلَابِ أَوْ نُهَاقَ الْحَمِيرِ، فَاسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ»
তিনি নবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাত শান্তভাব ধারণ করার পর তোমরা কমই বাইরে বের হবে। কারণ (এ সময়) আল্লাহ তাঁর কতক সৃষ্টিকে (স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে) ছড়িয়ে দেন। অতএব তোমরা কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ ও গাধার ডাক শোনতে পেলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো।
৩০
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৫০
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ)
ولما لعن رجل حشرة عند النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا تلعنها. لأنه أيقظ نبيا من الأنبياء للصلاة. (مسند أبو يعلى، الطبراني، البيجار)
এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-এর সামনে বুরগূছকে (পাখাহীন এক প্রকার ক্ষুদ্র কীট) গালি দিলে তিনি বলেনঃ একে অভিশাপ দিও না। কারণ সে নবীগণের মধ্যকার একজন নবীকে নামাযের জন্য জাগ্রত করেছিল। (মুসনাদ আবু ইয়ালা, তাবারানী, বাযযার)
৩১
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৫১
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
وكان ناس من قريش يجلسون على باب دار ابن مسعود. وكان إذا سقط الظل يقول قم. والآن ما تبقى من اليوم ينتمي إلى الشيطان. ثم يقوم من مر به. قال رافي قائلا في مثل هذه الحالة
কুরাইশ বংশের কতক লোক প্রায়ই ইবনে মাসউদ (রাঃ)-র বাড়ির দরজায় বসতেন। ছায়া ঢলে পড়লে তিনি বলতেন, তোমরা উঠে যাও। এখন দিনের যা অবশিষ্ট আছে তা শয়তানের। অতঃপর তিনি যার নিকট দিয়েই যেতেন তাকে (বসা থেকে) উঠিয়ে দিতেন। রাবী বলেন, এমতাবস্থায় বলা হলো, এ হলো বনু হাসহাসের মুক্তদাস, সে কবিতা আবৃত্তি করে। তিনি তাকে ডেকে এনে বলেন, তুমি কিরূপ বলো? সে বললো, “সালমাকে যদি তুমি প্রেমিকা বানিয়ে থাকো তবে তাকে বিদায় দাও। বার্ধক্য ও ইসলাম মানুষকে প্রতিহত করতে যথেষ্ট”। তিনি বলেন, যথেষ্ট হয়েছে, তুমি সত্য বলেছো, সত্য বলেছো। (ইসা বাযযার)
৩২
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৫২
সায়েব ইবনে ইয়াখীদ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَحْشِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ: كَانَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَمُرُّ بِنَا نِصْفَ النَّهَارِ - أَوْ قَرِيبًا مِنْهُ - فَيَقُولُ: قُومُوا فَقِيلُوا، فَمَا بَقِيَ فَلِلشَّيْطَانِ
আলী বিন আবদুল্লাহ আমাদেরকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: আবদ আল-রাজ্জাক আমাদেরকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: মুয়াম্মার আমাদেরকে বলেছেন, সাঈদ বিন আব্দুল রহমান আল-জাহশীর সূত্রে, আবু বকর বিন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন হাযমের সূত্রে, আল-সাইব বিন ইয়াযিদের সূত্রে, যিনি বলেছিলেন: ওমর, আল্লাহ আমাদেরকে খুব শীঘ্রই অতিবাহিত করবেন বা তার উপর সন্তুষ্ট হবেন।
৩৩
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৫৪
সাবিত
قال أنس رضي الله عنه: قبل تحريم الخمر كان الشراب المصنوع من التمر والشعير مشروب أهل المدينة. كنت أسقي أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم الخمر في بيت أبي طلحة رضي الله عنه. فجاء رجل فقال: قد حرمت الخمر، فلم يقل أحد منهم: متى أو نستفسر؟ قالوا: يا أنس! اسكب النبيذ. ثم انطلقوا إلى أم سليم رضي الله عنهم فبردوا واغتسلوا. ثم دهنتهم أم سليم رضي الله عنها بالطيب
আনাস (রাঃ) বলেন, শরাব হারাম হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত খেজুর ও বার্লির তৈরী শরাবই ছিল মদীনাবাসীদের আকর্ষণীয় পানীয়। আমি আবু তালহা (রাঃ)-র বাড়িতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাহাবীদের শরাব পরিবেশন করছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে বললো, শরাব হারাম ঘোষিত হয়েছে। তাদের কেউই (একথা শুনে) বলেননি, কখন অথবা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখি? তারা বলেন, হে আনাস! শরাব ঢেলে ফেলে দাও। অতঃপর তারা উম্মে সুলাইম (রাঃ)-র এখানে গেলেন, ঠাণ্ডা বা শান্ত হলেন এবং গোসল করলেন। অতঃপর উম্মু সুলাইম (রাঃ) তাদের মাখার জন্য সুগন্ধি দেন। অতঃপর তারা নবী (সাঃ)-এর নিকট গিয়ে জানতে পারলেন, লোকটি যা খবর দিয়েছিল তাই সত্য। আনাস (রাঃ) বলেন, তারা আর কখনো শরাব পান করেননি। (বুখারী, মুসলিম)
৩৪
আদাবুল মুফরাদ # ০/১২৫৫
খাওয়াত ইবনে জুবাইর
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ خَوَّاتِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ: نَوْمُ أَوَّلِ النَّهَارِ خُرْقٌ، وَأَوْسَطُهُ خُلْقٌ، وَآخِرُهُ حُمْقٌ
মুহাম্মাদ ইবনু মুকাতিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বলেছেন: আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বলেছেন: মিস’র আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাবিত ইবনে উবাইদ থেকে, ইবনে আবী লায়লার সূত্রে, খাওওয়াত ইবনে জুবায়ের (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: দিনের শুরুতে ঘুমানো হল ন্যাকড়া, মানুষের মধ্যভাগ হল দিনের উত্তম এবং মধ্যবর্তী সময়।