অধ্যায় ৩২
অধ্যায়ে ফিরুন
৩৩ হাদিস
০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৩০
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَغَارَ عَلَى بَنِي الْمُصْطَلِقِ وَهُمْ غَارُّونَ، وَأَنْعَامُهُمْ تُسْقَى عَلَى الْمَاءِ، فَقَتَلَ مُقَاتِلَتَهُمْ، وَسَبَى ذَرَارِيَّهُمْ، وَأَصَابَ يَوْمَئِذٍ جُوَيْرِيَةَ وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ فِي ذَلِكَ الْجَيْشِ
আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের হাদিস যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু আল-মুস্তালিককে আক্রমণ করেছিলেন যখন তারা অভিযান করছিল যখন তাদের গবাদি পশুকে পানি দেওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি তাদের হত্যা করেছিলেন। তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করেন, তাদের বংশধরদের বন্দী করেন এবং সেদিন জুওয়াইরিয়াকে আক্রমণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর সেই বাহিনীতে ছিলেন।
০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৩২
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «خذوا اليسر، ولا تعسروا، وبشروا الناس، ولا تفسدوا». (البخاري الجزء 3 باب 11 حديث رقم 69 ؛ مسلم 3/32 هـ 1734)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা সহজ পন্থা অবলম্বন কর, কঠিন পন্থা অবলম্বন করো না, মানুষকে সুসংবাদ দাও, বিরক্তি সৃষ্টি করো না। (বুখারী পর্ব ৩ অধ্যায় ১১ হাদীস নং ৬৯; মুসলিম ৩২/৩ হাঃ ১৭৩৪)
০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৩৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ترفع راية يوم القيامة لمن نكث نذره. وسيقال إن هذا علامة على خيانة ابن فلان. (البخاري جزء 78 باب 99 حديث رقم 6178 ؛ مسلم 32/4 ، هه 1765)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিজ্ঞা ভঙ্গকারীর জন্য ক্বিয়ামাত দিবসে একটা পতাকা স্থাপন করা হবে। আর বলা হবে যে, এটা অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসঘাতকতার নিদর্শন। (বুখারী পর্ব ৭৮ অধ্যায় ৯৯ হাদীস নং ৬১৭৮; মুসলিম ৩২/৪, হাঃ ১৭৬৫)
০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৩৪
আবদুল্লাহ ইব্‌নু মাস'ঊদ
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يُنْصَبُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُعْرَفُ بِهِ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, প্রত্যেক ওয়া‘দা ভঙ্গকারীর জন্য ক্বিয়ামাতের দিন একটি পতাকা হবে এবং তা দিয়ে তার পরিচয় দেয়া হবে। (বুখারী পর্ব ৫৮ অধ্যায় ২২ হাদীস নং ৩১৮৬-৩১৮৭; মুসলিম ৩২/৪ হাঃ ১৭৩৬)
০৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৩৫
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْحَرْبُ خُدْعَةٌ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যুদ্ধ হচ্ছে কৌশল।’ (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ১৫৭ হাদীস নং ৩০৩০; মুসলিম ৩২/৫ হাঃ ১৭৩৯)
০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৩৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: سمى النبي صلى الله عليه وسلم الحرب إستراتيجية. (البخاري الجزء 56 باب 157 حديث رقم 3029 ؛ مسلم 32/5 هـ 1740)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুদ্ধকে কৌশল নামে অভিহিত করেছেন। (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ১৫৭ হাদীস নং ৩০২৯; মুসলিম ৩২/৫ হাঃ ১৭৪০)
০৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৩৯
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ امْرَأَةً وُجِدَتْ، فِي بَعْضِ مَغَازِي النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، مَقْتُولَةً؛ فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَتْلَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ
আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের হাদিস, যে নবীর কিছু অভিযানের সময় একজন মহিলাকে খুন করা হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর উপর বরকত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে শান্তি দান করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী ও শিশুদের হত্যার নিন্দা করেছেন।
০৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৪১
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وقال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم أحرق نخلاً لبني نذير في مكان يقال له البويري وقطع بعضاً منه. فنزلت في هذا: «النخل الذي قطعتموه أو ثبتتم على سوقه فبإذن الله» (سورة الحشر 59/5). (البخاري جزء 64 باب 14 حديث رقم 4031 ؛ مسلم 32/10 ها 1746)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বুওয়াইরাই নামক জায়গায় বনু নাযীর গোত্রের যে খেজুর গাছ ছিল তার কিছু জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং কিছু কেটে ফেলেছিলেন। এ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়ঃ “তোমরা যে খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলেছ অথবা যেগুলো কান্ডের উপর ঠিক রেখে দিয়েছ, তা তো আল্লাহ্‌রই অনুমতিক্রমে” (সূরাহ হাশর ৫৯/৫)। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ১৪ হাদীস নং ৪০৩১; মুসলিম ৩২/১০, হাঃ ১৭৪৬)
০৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৪৪
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُنَفِّلُ بَعْضَ مَنْ يَبْعَثُ مِنَ السَّرَايَا لأَنْفُسِهِمْ خَاصَّةً، سِوَى قِسْمِ عَامَّةِ الْجَيْشِ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত কোন কোন সেনা দলে কোন কোন ব্যক্তিকে সাধারণ সৈন্যদের প্রাপ্য অংশের চেয়ে অতিরিক্ত দান করতেন। (বুখারী পর্ব ৫৭ অধ্যায় ১৫ হাদীস নং ৩১৩৫; মুসলিম ৩২/১২, হাঃ ১৭৫০)
১০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৪৬
আবদুর রহমান ইব্‌নু 'আওফ
حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُنَفِّلُ بَعْضَ مَنْ يَبْعَثُ مِنَ السَّرَايَا لأَنْفُسِهِمْ خَاصَّةً، سِوَى قِسْمِ عَامَّةِ الْجَيْشِ
ইবনে উমরের হাদিস যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেনাবাহিনীর সাধারণ বিভাগ ব্যতীত নিজের জন্য বিশেষভাবে পাঠানো কিছু সংস্থাকে প্রেরণ করতেন।
১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৪৭
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
قال: أموال بني النذير أعطاها الله لرسوله صلى الله عليه وسلم فيا. ولم يسوق فيها المسلمون خيلاً ولا راكبين. ولهذا السبب فهو لرسول الله صلى الله عليه وسلم.
তিনি বলেন, বনূ নযীরের সম্পদ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ‘ফায়’ হিসেবে দান করেছিলেন। এতে মুসলিমগণ অশ্ব বা সাওয়ারী চালনা করেনি। এ কারণে তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। এ সম্পদ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবারকে এক বছরের খরচ দিয়ে দিতেন এবং বাকী আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদের প্রস্তুতির জন্য হাতিয়ার ও ঘোড়া ইত্যাদিতে ব্যয় করতেন। (বুখারী পর্ব ৩৪ অধ্যায় ৮০ হাদীস নং ২৯০৪; মুসলিম ৩২/১৫ হাঃ ১৭৫৭)
১২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৪৯
আয়েশা (রাঃ)
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لا وارث لنا. كل ما نتركه وراءنا سيكون صدقة. (البخاري ج 85 باب 3 حديث رقم 6730 ؛ مسلم 32/16 هـ 1757)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমাদের কোন উত্তরাধিকারী হবে না। আমরা যা কিছু রেখে যাব সবই হবে সদাকাহ স্বরূপ। (বুখারী পর্ব ৮৫ অধ্যায় ৩ হাদীস নং ৬৭৩০; মুসলিম ৩২/১৬ হাঃ ১৭৫৭)
১৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৫১
উম্ম আল-মু'মিনিন আয়েশা (রাঃ)
حديث عَائِشَةَ، أَنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ إِلَى بَكْرٍ يَسْأَلْنَهُ مِيرَاثَهُنَّ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: أَلَيْسَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ نَورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ
আয়েশার হাদিস, যে নবীর স্ত্রীরা মারা যান, যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমানকে বকরের কাছে পাঠাতে চেয়েছিলেন। তারা তাকে তাদের উত্তরাধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর রসূল কি বলেননি যে, আমাদের কোন উত্তরাধিকার নেই, যতক্ষণ না আমরা তা ছেড়ে দিই?
১৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৫২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليس ورثتي في ذهب، وما بقي بعد نفقة أزواجي وخدمي مما تركت فهو صدقة».
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আমার উত্তরাধিকারীরা কোন স্বর্ণ মুদ্রা ভাগাভাগি করবে না, বরং আমি যা কিছু রেখে গেলাম তা থেকে আমার স্ত্রীদের খরচ এবং কর্মচারীদের পারিশ্রমিক দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সদাকাহ।’ (বুখারী পর্ব ৫৫ অধ্যায় ৩২ হাদীস নং ২৭৭৬; মুসলিম ৩২/১৬ হাঃ ১৭৬০)
১৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৫৬
আবু আল-সাইদ খুদরি (রাঃ)
قال: لما خرج يهود بني قريظة من حصن سعد بن معاذ رضي الله عنه أرسل إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم. وكان بالقرب من مكان الحادث. ثم كان سعد على ظهر حمار فصعد. فلما اقترب قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ثبتوا أميركم». فجاء فجلس عند رسول الله صلى الله عليه وسلم. فقال له: قد وافقوا على قولك. فقال سعد (رضي الله عنه): أنا أحكم بقتل من استطاع منهم القتال، وسبي النساء والأطفال. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقد قضى الله تعالى في ذلك».
তিনি বলেন, যখন বনী কুরায়যার ইয়াহূদীরা সা‘দ ইব্‌নু মাআয (রাঃ)-এর ফায়সালা মুতাবিক দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসে, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ডেকে পাঠান। আর তিনি তখন ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন। তখন সা‘দ একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি কাছে আসলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা ‘তোমাদের নেতার প্রতি দণ্ডায়মান হও।’ তিনি এসে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, ‘এরা তোমার ফায়সালায় রাজী হয়েছে। সা‘দ (রাঃ) বলেন, ‘আমি এ রায় ঘোষণা করছি যে, তাদের মধ্য নিকট হতে যারা যুদ্ধ করতে পারে তাদেরকে হত্যা করা হবে এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করা হবে।’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘তুমি তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলার ফয়সালার মত ফয়সালাই করেছ।’ (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ১৬৮ হাদীস নং ৩০৪৩; মুসলিম ৩২/২২ হাঃ ১৭৬৮)
১৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৫৯
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
قال: أخبرنا النبي صلى الله عليه وسلم في طريق رجوعنا من الأحزاب: أن لا يصلي أحد العصر قبل أن يصل إلى بني قريظة. فلما جاء وقت العصر قال بعضهم: لسنا هناك، ولن أصلي عندما أصل. وقال بعضهم: سوف نصلي الصلاة، لم يقصد منعنا (بل قصد الإسراع في الذهاب).
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আহযাব যুদ্ধ হতে ফিরার পথে আমাদেরকে বললেন, বনূ কুরাইযা এলাকায় পৌঁছার পূর্বে কেউ যেন ‘আসর সলাত আদায় না করে। কিন্তু অনেকের রাস্তাতেই আসরের সময় হয়ে গেল, তখন তাদের কেউ কেউ বললেন, আমরা সেখানে না পৌঁছে সলাত আদায় করব না। আবার কেউ কেউ বললেন, আমরা সলাত আদায় করে নেব, আমাদের নিষেধ করার এ উদ্দেশ্য ছিল না (বরং উদ্দেশ্য ছিল তাড়াতাড়ি যাওয়া) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এ কথা উল্লেখ করা হলে, তিনি তাঁদের কারোর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেননি। (বুখারী পর্ব ১২ অধ্যায় ৫ হাদীস নং ৯৪৬; মুসলিম ৩২/২৩, হাঃ ১৭৭০)
১৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৬২
আব্দুল্লাহ ইবন মুগাফফাল (রাঃ)
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا مُحَاصِرِينَ قَصْرَ خَيْبَرَ، فَرَمَى إِنْسَانٌ بِجِرَابٍ فِيهِ شَحْمٌ، فَنَزَوْتُ لآخُذَهُ، فَالْتَفَتُّ فَإِذَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَحْيَيْتُ مِنْهُ
তিনি বলেন, আমরা খাইবার দূর্গ অবরোধ করেছিলাম। কোন এক লোক একটি থলে ফেলে দিল; তাতে ছিল চর্বি। আমি তা নিতে উদ্যত হলাম। হঠাৎ দেখি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে আছেন। এতে আমি লজ্জিত হয়ে পড়লাম। (বুখারী পর্ব ৫৭ অধ্যায় ২০ হাদীস নং ৩১৫৩; মুসলিম ৩২/২৫ হাঃ ১৭৭২)
১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৬৪
বারা (রহ.)
حديث الْبَرَاءِ، وَسَأَلَهُ رَجُلٌ: أَكُنْتُمْ فَرَرْتُمْ يَا أَبَا عُمَارَةَ يَوْمَ حُنَيْنٍ قَالَ: لاَ، وَاللهِ مَا وَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلكِنَّهُ خَرَجَ شُبَّانُ أَصْحَابِهِ وَأَخِفَّاؤُهُمْ حُسَّرًا لَيْسَ بِسِلاَحٍ، فَأَتَوْا قَوْمًا رُمَاةً، جَمْعَ هَوَازِنَ وَبَنِي نَصْرٍ، مَا يَكَادُ يَسْقُطُ لَهُمْ سَهْمٌ، فَرَشَقُوهُمْ رَشْقًا مَا يَكَادُونَ يُخْطِئُون فَأَقْبَلُوا هُنَالِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ الْبَيْضَاءِ وَابْنُ عَمِّهِ، أَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ يَقُودُ بِهِ؛ فَنَزَلَ وَاسْتَنْصَرَ؛ ثُمَّ قَالَ: أَنَا النَّبِيُّ لاَ كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبْ ثُمَّ صَفَّ أَصْحَابَهُ
তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আবূ উমারা! হুনায়নের দিন আপনারা কি পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না, আল্লাহ্‌র কসম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পলায়ন করেননি। বরং তাঁর কিছু সংখ্যক নওজোয়ান সাহাবী হাতিয়ার ছাড়াই অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বানূ হাওয়াযিন ও বানূ নাসর গোত্রের সুদক্ষ তীরন্দাজদের সম্মুখীন হন। তাদের কোন তীরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। তারা এদের প্রতি এমনভাবে তীর বর্ষণ করল যে, তাদের কোন তীরই ব্যর্থ হয়নি। সেখান থেকে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তাঁর সাদা খচ্চরটির পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবূ সুফ্ইয়ান ইব্‌নু হারিস ইব্‌নু ‘আবদুল মুত্তালিব তাঁর লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি নামেন এবং আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম), এক কথা মিথ্যা নয়। আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের পুত্র। অতঃপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন। (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ৯৭ হাদীস নং ২৯৩০; মুসলিম ৩২/২৮ হাঃ ১৭৭৬)
১৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৬৭
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
قال: لما دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة، وكان حول الكعبة ثلاثمائة وستون صنما. وظل النبي صلى الله عليه وسلم يضرب الأصنام بعصاه ويقول: «جاء الحق وزهق الباطل» (سورة بني الإسراء 17/ 81). (البخاري جزء 46 باب 32 حديث رقم 2478؛ مسلم 32/32، هه 1781)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন (বিজয়ীর বেশে) মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন কা‘বা শরীফের চারপাশে তিনশ’ ষাটটি মূর্তি ছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের হাতের লাঠি দিয়ে মূর্তিগুলোকে আঘাত করতে থাকেন আর বলতে থাকেনঃ “সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)” (সূরাহ বানী ইসরা ১৭/৮১)। (বুখারী পর্ব ৪৬ অধ্যায় ৩২ হাদীস নং ২৪৭৮; মুসলিম ৩২/৩২, হাঃ ১৭৮১)
২০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৬৮
বারা' ইবনে আজিব (রাঃ)
حديث الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: لَمَّا صَالَحَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهْلَ الْحُدَيْبِيَةِ، كَتَبَ عَلِيٌّ بَيْنَهُمْ كِتَابًا، فَكَتَبَ: مُحَمَّدٌّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ: لاَ تَكْتُبْ مُحَمَّدٌ رَسُول اللهِ، لَوْ كُنْتَ رَسُولاً لَمْ نُقَاتِلْكَ، فَقَالَ لِعَلِيٍّ: امْحُهُ فَقَالَ عَلِيٌّ: مَا أَنَا بِالَّذِي أَمْحَاهُ فَمَحَاهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ، وَصَالَحَهُمْ عَلَى أَنْ يَدْخُلَ هُوَ وَأَصْحَابُهُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ، وَلاَ يَدْخُلُوهَا إِلاَّ بِجُلُبَّانِ السِّلاَحِ فَسَأَلُوهُ: مَا جُلُبَّانُ السِّلاَحِ فَقَالَ: الْقِرَابُ بِمَا فِيهِ
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদাইবিয়াহ্‌তে (মক্কাহ্‌বাসীদের সঙ্গে) সন্ধি করার সময় ‘আলী (রাঃ) উভয় পক্ষের মাঝে এক চুক্তিপত্র লিখলেন। তিনি লিখলেন, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। মুশরিকরা বলল, ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’ লিখবে না। আপনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলে আপনার সঙ্গে লড়াই করতাম না?’ তখন তিনি ‘আলীকে বললেন, ‘ওটা মুছে দাও’। ‘আলী(রাঃ) বললেন, ‘আমি তা মুছব না।’ তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ হাতে তা মুছে দিলেন এবং এই শর্তে তাদের সঙ্গে সন্ধি করলেন যে, তিনি এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীরা তিন দিনের জন্য মাক্কায় প্রবেশ করবেন এবং জুলুব্বান جُلُبَّانُ السِّلاَحِ ব্যতীত অন্য কিছু নিয়ে প্রবেশ করবেন না। তারা জিজ্ঞেস করল, جُلُبَّانُ السِّلاَحِ মানে কী? তিনি বললেন, ‘জুলুব্বান’ মানে ভিতরে তরবারিসহ খাপ।’ (বুখারী পর্ব ৫৩ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ২৬৯৮; মুসলিম ৩২/৩৪ হাঃ ১৭৮৩)
২১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৭০
সাহল (রাঃ)
وسئل عن جرح رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم أحد؟ قال: جرح وجه النبي (صلى الله عليه وسلم)، وكُسرت سنتاه، وانكسرت خوذته، وكانت فاطمة (رضي الله عنها) تغسل الدم، وعلي (رضي الله عنه) يصب الماء. ولما رأى أن الدم يكثر أخذ بساطاً وأحرقه حتى صار رماداً ووضعه على الجرح. ثم توقف النزيف. (البخاري الجزء 56 باب 85 ​​حديث رقم 2911؛ مسلم 32/37، هه 1790)
তাকে উহূদের দিনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আঘাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখমণ্ডল আহত হল এবং তাঁর সামনের দু’টি দাঁত ভেঙ্গে গেল, তাঁর মাথার শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে গেল। ফাতিমাহ (রাঃ) রক্ত ধুচ্ছিলেন আর ‘আলী (রাঃ) পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। তিনি যখন দেখতে পেলেন যে, রক্ত পড়া বাড়ছেই, তখন একটি চাটাই নিয়ে তা পুড়িয়ে ছাই করলেন এবং তা ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলেন। অতঃপর রক্ত পড়া বন্ধ হল। (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ৮৫ হাদীস নং ২৯১১; মুসলিম ৩২/৩৭, হাঃ ১৭৯০)
২২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৭২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: وأشار رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى أسنانه، وقال: «لقد اشتد غضب الله على القوم الذين عاملوا نبيهم صلى الله عليه وسلم بهذه الطريقة، ورسول الله صلى الله عليه وسلم».
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দন্তের প্রতি ইশারা করে বলছেন, যে সম্প্রদায় তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)র সঙ্গে এরূপ আচরণ করেছে তাদের প্রতি আল্লাহ্‌র গযব অত্যন্ত ভয়াবহ এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে ব্যক্তিকে আল্লাহ্‌র পথে হত্যা করেছেন তার প্রতিও আল্লাহ্‌র গযব অত্যন্ত ভয়ানক। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ২৪ হাদীস নং ৪০৭৩; মুসলিম ৩২/৩৮, হাঃ ১৭৯৩)
২৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৭৫
জুনদাব বিন সুফিয়ান (রাঃ)
حديث جُنْدُبِ بْنِ سُفْيَانَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي بَعْضِ الْمَشَاهِدِ، وَقَدْ دَمِيَتْ إِصْبَعُهُ، فَقَالَ: هَلْ أَنْتِ إِلاَّ إِصْبَعٌ دَمِيتِ وَفِي سَبِيلِ اللهِ مَا لَقِيتِ
জুন্দুব ইবনে সুফিয়ানের হাদীস, যে আল্লাহর রাসূল তাকে আশীর্বাদ করুন এবং তাকে শান্তি দান করুন, কিছু দৃশ্যে ছিলেন, এবং তার আঙুল রক্তাক্ত ছিল, তাই তিনি বলেছিলেন: আপনি কি অন্য কেউ, কিন্তু আপনি আপনার আঙুল রক্তাক্ত করেছেন, এবং ঈশ্বরের পথে আপনি কিছুই খুঁজে পাননি ।
২৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৭৯
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: (يوم بدر) قال النبي صلى الله عليه وسلم: هل يرى أحد ما حدث لأبي جهل؟ ثم خرج ابن مسعود فوجد ابني عفراء قد ضرباه ضربا حتى سقط على الأرض وهو في حالة ذهول. مسلم 32/ 41، هـ 1800)
তিনি বলেছেন, (বাদরের দিন) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আবূ জাহলের কী অবস্থা হল কেউ তা দেখতে পার কি? তখন ইব্‌নু মাস‘ঊদ (রাঃ) বের হলেন এবং দেখতে পেলেন যে, ‘আফরার দুই পুত্র তাকে এমনিভাবে মেরেছে যে, মুমূর্ষু অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। রাবী বলেনঃ ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু মাস‘ঊদ (রাঃ) তার দাড়ি ধরে বললেন, তুমিই কি আবূ জাহল? আবূ জাহল বললঃ সেই লোকটির চেয়ে উত্তম আর কেউ আছে কি যাকে তার গোত্রের লোকেরা হত্যা করল অথবা বলল তোমরা যাকে হত্যা করলে? (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৮ হাদীস নং ৩৯৬২; মুসলিম ৩২/৪১, হাঃ ১৮০০)
২৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৮২
সালামাহ ইবন আকওয়া (রাঃ)
حديث أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزَا خَيْبَرَ فَصَلَّيْنَا عِنْدَهَا صَلاَةَ الْغَدَاةِ بِغَلَسٍ، فَرَكِبَ نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَكِبَ أَبُو طَلْحَةَ وَأَنَا رَدِيفُ أَبِي طَلْحَةَ فَأَجْرَى نَبِيُّ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي زُقَاقِ خَيْبَرَ وَإِنَّ رُكْبَتِي لَتَمَسُّ فَخِذَ نَبِيِّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ حَسَرَ الإِزَارَ عَنْ فَخْذِهِ حَتَّى إِنِّي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِ فَخِذَ نَبِيِّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا دَخَلَ الْقَرْيَةَ، قَالَ: [ص: 233] اللهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ قَالَهَا ثَلاَثًا قَالَ: وَخَرَجَ الْقَوْمُ إِلَى أَعْمَالِهِمْ، فَقَالُوا: مُحَمَّدٌ وَالْخَمِيسُ (يَعْنِي الْجَيْشَ) قَالَ: فَأَصَبْنَاهَا عَنْوَةً
আনাসের হাদিস, আল্লাহর রসূল, আল্লাহর দোয়া ও সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার আক্রমণ করেছিলেন, এবং তারপর আমরা একটি আসন নিয়ে সকালের নামায পড়লাম, তাই আল্লাহর নবী, আল্লাহর প্রার্থনা ও সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ার হয়ে গেলেন। আবু তালহা সওয়ার হয়েছিলাম এবং আমি আবু তালহার সঙ্গী ছিলাম, তাই আমরা খায়বারের গলিতে আল্লাহর নবীর কাছে ছুটে যাই। সতর্ককারীরা এটি তিনবার বলেছেন। তিনি বললেন: এবং লোকেরা তাদের কাজে বেরিয়ে গেল এবং তারা বলল: মুহাম্মাদ ও আল-খামিস (অর্থাৎ সেনাবাহিনী)। তিনি বললেনঃ তাই আমরা জোর করে আঘাত করলাম।
২৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৮৩
বারা (রহ.)
قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يحمل التراب يوم الأحزاب. وبياض بطنه غطى الأرض. وكان حينها يقرأ: (اللهم): لولا أنت ما اهتدينا،\nكنت لا أتصدق ولا أصلي\nفأنزل علينا السلام\nوثبت أقدامنا إذا واجهنا العدو\nلقد خالفونا\nوكلما أرادوا فتنة امتنعنا عنها. (البخاري، باب 56).
তিনি বলেন, আহযাবের দিন আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি যে, তিনি মাটি বহন করছেন। আর তাঁর পেটের শুভ্রতা মাটি ঢেকে ফেলেছে। সে সময় তিনি আবৃত্তি করছিলেন, (হে আল্লাহ্) ঃ\nআপনি না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না;\nসদাকাহ দিতাম না এবং সলাত আদায় করতাম না।\nতাই আমাদের উপর শান্তি নাযিল করুন।\nযখন আমরা শত্র সম্মুখীন হই তখন আমাদের পা সুদৃঢ় করুন।\nওরা আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে।\nতারা যখনই কোন ফিতনা সৃষ্টি করতে চায় তখনই আমরা তা থেকে বিরত থাকি। (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ৩৪ হাদীস নং ২৮৩৭; মুসলিম ৩২/৪৪ হাঃ ১৮০৩)
২৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৮৪
সাহল (রাঃ)
حديث سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: جَاءَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحنُ نَحْفِرُ الْخَنْدَقَ وَنَنْقُلُ التُّرَابَ عَلَى أَكْتَادِنَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:\nاللهُمَّ لاَ عَيْشَ إِلاَّ عَيْشُ الآخِرَهْفَاغْفِرْ لِلْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ
তিনি বলেন, আমরা যখন পরিখা খনন করে আমাদের স্কন্ধে করে মাটি বহন করছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই আসল জীবন। মুহাজির ও আনসারদেরকে আপনি মাফ করে দিন। (বুখারী পর্ব ৬৩ অধ্যায় ৯ হাদীস নং ৩৭৯৭; মুসলিম ৩২/৪৪, হাঃ নং ১৮০৪)
২৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৮৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اللهم! والحياة الآخرة هي الحياة الحقيقية. يا الله! أحسن إلى الأنصار والمهاجرين. (البخاري جزء 63 باب 9 حديث رقم 3795؛ مسلم 32/44، ح 1805)
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, হে আল্লাহ্! আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন। হে আল্লাহ্! আনসার ও মুহাজিরদের কল্যাণ করুন। (বুখারী পর্ব ৬৩ অধ্যায় ৯ হাদীস নং ৩৭৯৫; মুসলিম ৩২/৪৪, হাঃ ১৮০৫)
২৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৮৬
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: وكانت الأنصار يقرؤون يوم خند: «نحن قوم بايعوا على يدي محمد على الجهاد ما بقينا». عن رسول الله (صلى الله عليه وسلم).
তিনি বলেন, আনসারগণ খন্দকে যুদ্ধের দিন আবৃত্তি করছিলেনঃ \n“আমরাই হচ্ছি সে সকল ব্যক্তি, যারা মুহাম্মাদের হাতে জিহাদ করার উপর বায়আত গ্রহণ করেছি,\n জিহাদ করার উপর-যতদিন আমরা বেঁচে থাকব।”\nআল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উত্তর দিয়ে বললেনঃ \nহে আল্লাহ্! পরকালের সুখ হচ্ছে প্রকৃত সুখ; \nতাই তুমি আনসার ও মুহাজিরদেরকে সম্মানিত কর। \n(বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ১১০ হাদীস নং ২৯৬১; মুসলিম ৩২/৪৪, হাঃ ১৮০৫)
৩০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৮৯
Abu Ishaq
وفيما عدا ذلك جهر بالقراءات وصلى ركعتين. (البخاري الجزء 15 الباب 15 الحديث رقم 1022؛ مسلم 32/49، ح 1225)
‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ইয়াযীদ আনসারী (রাঃ) বের হলেন এবং, বারাআ ইব্‌নু ‘আযিব ও যায়দ ইব্‌নু আরকাম (রাঃ) ও তাঁর সঙ্গে বের হলেন। তিনি মিম্বার ছাড়াই পায়ের উপরে দাঁড়িয়ে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টির জন্য দু‘আ করলেন। অতঃপর ইস্তিগফার করে আযান ও ইকামাত ব্যতীত সশব্দে কিরাআত পড়ে দু‘ রাক‘আত সলাত আদায় করেন। (বুখারী পর্ব ১৫ অধ্যায় ১৫ হাদীস নং ১০২২; মুসলিম ৩২/৪৯, হাঃ ১২২৫)
৩১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৯০
Abu Ishaq
قال: كنت إلى جانب زيد بن أرقم. ثم سئل كم غزوة النبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: تسعة عشر. وسئل مرة أخرى كم حرب كانت معه؟ قال: في السابعة عشرة. قلت: هؤلاء
তিনি বলেন, আমি যায়দ ইব্‌নু আরকামের পাশে ছিলাম। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কয়টি যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, ঊনিশটি। আবার জিজ্ঞেস করা হল কয়টি যুদ্ধে তাঁর সঙ্গে ছিলেন? তিনি বললেন, সতেরটিতে। বললাম, এসব যুদ্ধের কোন্টি সর্বপ্রথম সংঘটিত হয়েছিল? তিনি বললেন, ‘উশায়র বা ‘উশাইরাহ। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ১ হাদীস নং ৩৯৪৯; মুসলিম ৩২/৩৫, হাঃ ১২৫৪)
৩২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৯১
বুরাইদাহ (রা)
حديث بُرَيْدَةَ، أَنَّهُ غَزَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِتَّ عَشْرَةَ غَزْوَة
তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ষোলটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৯০ হাদীস নং ৪৪৭৩; মুসলিম ৩২/৪৯, হাঃ ১৮১৪)
৩৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১১৯২
সালামাহ ইবন আকওয়া (রাঃ)
حديث سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعَ غَزَوَاتٍ، وَخَرَجْتُ فِيمَا يَبْعَثُ مِنَ الْبُعُوثِ تِسْعَ غَزَوَاتٍ: مَرَّةً عَلَيْنَا أَبُو بَكْرٍ، وَمَرَّةً عَلَيْنَا أُسَامَةُ
সালামাহ বিন আল-আকওয়া'র হাদিস, যিনি বলেছেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে সাতটি যুদ্ধ করেছি এবং তিনি যে মিশনে পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে আমি নয়টি যুদ্ধ করেছি: একবার। আবু বকর আমাদের উপর এবং একবার আমাদের উপর ওসামা।