অধ্যায় ৩৭
অধ্যায়ে ফিরুন
২৩ হাদিস
০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৩৮
উম্মু সালামাহ (রাঃ
حديث أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الَّذِي يَشْرَبُ فِي إِنَاءِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে সে তো তার উদরে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়। (বুখারী পর্ব ৭৪ অধ্যায় ২৮ হাদীস নং ৫৬৩৪; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৫)
০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৩৯
Bara' Ibn Azib
قال: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بسبع ونهانا عن سبع. وأمرنا: بخدمة المرضى، واتباع الجنائز، وإجابة العاطس، والداعي. وإجابة الدعوات، وإلقاء السلام، ونصرة المظلوم، وتمكين الحالف من أداء يمينه. ونهانا: عن استعمال خواتم الذهب، أو كما يقول، شرب الماء في آنية الفضة، وهو نوع من المشروبات الغازية.
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সাতটি জিনিসের হুকুম দিয়েছেন এবং সাতটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি আমাদের হুকুম দিয়েছেনঃ রোগীর সেবা করতে, জানাযার পেছনে যেতে, হাঁচি দানকারীর জবাব দিতে, দাওয়াতকারীর দাওয়াত গ্রহণ করতে, অধিক অধিক সালাম দিতে, মাযলুমের সাহায্য করতে এবং কসমকারীকে কসম ঠিক রাখার সুযোগ করে দিতে। আর আমাদের তিনি নিষেধ করছেনঃ স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে, কিংবা তিনি বলেছেন, রূপার পাত্রে পানি পান করতে, মায়াসির অর্থাৎ এক জাতীয় নরম ও মসৃন রেশমী কাপড় কালসী অর্থাৎ রেশম মিশ্রিত কাপড় ব্যবহার করতে এবং পাতলা কিংবা মোটা এবং অলঙ্কার খচিত রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে। (বুখারী পর্ব ৭৪ অধ্যায় ২৮ হাদীস নং ৫৬৩৫; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৬)
০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৪০
আবদ আল-রহমান ইবনে আবু লায়লা (রা.)
حديث حُذَيْفَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، أَنَّهُمْ كَانُوا عِنْدَ حُذَيْفَةَ، فَاسْتَسْقَى، فَسَقَاهُ مَجُوسِيٌّ فَلَمَّا وَضَعَ الْقَدَحَ فِي يَدِهِ رَمَاهُ بِهِ، وَقَالَ: لَوْلاَ أَنِّي نَهَيْتُهُ غَيْرَ مَرَّةٍ وَلاَ مَرَّتَيْنِ كَأَنَّهُ يَقُولُ لَمْ أَفْعَلْ هذَا وَلكِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لاَ تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَلاَ الدِّيبَاجَ وَلاَ تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالفِضَّةِ، وَلاَ تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا، فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَنَا فِي الآخِرَةِ
তিনি বলেন, একবার তাঁরা হুযাইফাহ (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাঁকে পানি এনে দিল। সে যখনই পাত্রটি তাঁর হাতে রাখল, তিনি সেটা ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন, আমি যদি একবার বা দু’বারের অধিক তাকে নিষেধ না করতাম, তাহলেও হতো। অর্থাৎ তিনি যেন বলতে চান, তা হলেও আমি এরূপ করতাম না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা রেশম বা রেশম জাত কাপড় পরিধান করো না এবং সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না। কেননা পৃথিবীতে এগুলো কাফিরদের জন্য আর পরকালে তোমাদের জন্য। (বুখারী পর্ব ৭০ অধ্যায় ২৯ হাদীস নং ৫৪২৬; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৭)
০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৪১
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
رأى عمر بن الخطاب (رضي الله عنه) ثوبين من حرير (للبيع) عند باب النبي في المسجد فقال للنبي (صلى الله عليه وسلم): يا رسول الله (صلى الله عليه وسلم)! لو اشتريته يوم الجمعة وكنت تلبسه حين يأتيك الوفد. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يلبسه من ليس له في الآخرة سهم». ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قال فيه. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إني لم أعطكها لباسك. فأعطاها عمر بن الخطاب رضي الله عنه إلى أحد إخوانه بمكة، وكان يومئذ مشركاً. (البخاري
উমার ইব্‌নু খাত্তাব (রাঃ) মাসজিদে নববীর দরজার নিকটে এক জোড়া রেশমী পোষাক (বিক্রি হতে) দেখে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! যদি এটি আপনি খরিদ করতেন আর জুমু‘আহ’র দিন এবং যখন আপনার নিকট প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরিধান করতেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা তো সে ব্যক্তিই পরিধান করে, আখিরাতে যার (মঙ্গলের) কোন অংশ নেই।\nঅতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ ধরনের কয়েক জোড়া পোষাক আসে, তখন তার এক জোড়া তিনি ‘উমার (রাঃ)-কে প্রদান করেন। ‘উমার (রাঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি আমাকে এটি পরিধান করতে দিলেন অথচ আপনি উতারিদের (রেশম) পোষাক সম্পর্কে যা বলার তা তো বলেছিলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তোমাকে এটি নিজের পরিধানের জন্য প্রদান করিনি। ‘উমার ইব্‌নু খাত্তাব (রাঃ) তখন এটি মাক্কায় তাঁর এক ভাইকে দিয়ে দেন, যে তখন মুশরিক ছিল। (বুখারী পর্ব ১১ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ৮৮৬; মুসলিম ৩৭/১, হাঃ ২০৬৮)
০৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৪২
কাতাদাহ (রাঃ)
حديث عُمَرَ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النّهْدِيِّ، قَالَ: أَتَانَا كِتَابُ عُمَرَ مَع عُتْبَةَ بْنِ فَرْقَدٍ، بِأَذْرَبِيجَانَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، نَهى عَنِ الْحَرِيرِ إِلاَّ هكَذَا؛ وَأَشَارَ بِإِصْبَعَيْهِ اللَّتَيْنِ تَلِيَانِ الإِبْهَامَ، قَالَ: فِيمَا عَلِمْنَا، أَنَّهُ يَعْنِي الأَعْلاَمَ
আবূ ‘উসমান নাহদী (রাঃ)-এর থেকে বলেনঃ আমাদের কাছে ‘উমার (রাঃ)-এর থেকে এক পত্র আসে, এ সময় আমরা ‘উত্‌বাহ ইবনু ফারকাদের সঙ্গে আযারবাইজানে অবস্থান করছিলাম। (তাতে লেখা ছিল :) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রেশম ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, তবে এতটুকু এবং ইশারা করলেন, বৃদ্ধ আঙ্গুলের সাথে মিলিত দু’আঙ্গুল দ্বারা (বর্ণনাকারী বলেন :) আমরা বুঝলাম যে (বৈধতার পরিমাণ) জানিয়ে তিনি পাড় ইত্যাদি উদ্দেশ্য করেছেন। (বুখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ২৫ হাদীস নং ৫৮২৮; মুসলিম পর্ব ৩৭/ হাঃ ২০৬৯)
০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৪৫
উকবাহ ইব্‌নু আমির
حديث عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: أُهْدِيَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُّوجُ حَرِيرٍ، فَلَبِسَهُ فَصَلّى فِيهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَنَزَعَهُ نَزْعًا شَدِيدًا كَالْكَارِهِ لَهُ وَقَالَ: لاَ يَنْبَغِي هذَا لِلْمُتَّقِينَ
তিনি বলেনঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একটা রেশমী জুব্বা হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়েছিল। তিনি তা পরিধান করে সলাত আদায় করলেন। কিন্তু সলাত শেষ হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত তা খুলে ফেললেন, যেন তিনি তা পরা অপছন্দ করছিলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্যে এ পোশাক সমীচীন নয়।* (বুখারী পর্ব ৮ অধ্যায় ১৬ হাদীস নং ৩৭৫; মুসলিম ৩৭/১৫, হাঃ ২০৭৫)
০৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৪৬
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
وقد أذن النبي صلى الله عليه وسلم لعبد الرحمن بن عوف والزبير رضي الله عنهما في لبس ثياب الحرير لما في بدنهما من حكة. (البخاري جزء 56، باب 91، حديث رقم 2919؛ مسلم 37/3 ح: 2076)
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু ‘আওফ (রাঃ) ও যুবায়র (রাঃ)-কে তাদের শরীরে চুলকানি থাকায় রেশমী জামা পরিধান করতে অনুমতি দিয়েছিলেন। (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ৯১ হাদীস নং ২৯১৯; মুসলিম ৩৭/৩ হাঃ ২০৭৬)
০৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৪৯
জাবির (রাঃ)
حديث جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هَلْ لَكُمْ مِنْ أَنْمَاطٍ قلْتُ: وَأَنَّى يَكُون لَنَا الأَنْمَاطُ قَالَ: أَمَا إِنَّهُ سَيَكُونُ لَكُمُ الأنْمَاطُ فَأَنَا أَقُولُ لَهَا (يَعْنِي امْرَأَتَهُ) أَخِّرِي عَنِّي أَنْمَاطَكِ فَتَقُولُ: أَلَمْ يَقُلِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّهَا سَتَكُون لَكُمُ الأنْمَاط فَأَدَعُهَا
জাবিরের হাদিস, আল্লাহ্‌ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন, যিনি বলেছেন: নবী, আল্লাহ্‌র নামায ও সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার কি নমুনা আছে? আমি বললাম: কিভাবে আমাদের নিদর্শন থাকতে পারে? তিনি বললেনঃ তোমার নিদর্শন থাকবে। তাই আমি তাকে (অর্থাৎ তার স্ত্রীকে) বলি: আমার কাছ থেকে তোমার নিদর্শনগুলো নিয়ে নাও, এবং সে বলে: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি?
০৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৫৪
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
مسلم 37/11 حديث رقم: 2091)
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি স্বর্ণের আংটি তৈরি করালেন এবং তিনি তা পরিধান করতেন। পরিধানকালে তার পাথরটি হাতের ভিতরের দিকে রাখলেন। তখন লোকেরাও (এরূপ) করল। এরপর তিনি মিম্বরের উপর বসে তা খুলে ফেললেন এবং বললেনঃ আমি এ আংটি পরিধান করেছিলাম। এবং তার পাথর হাতের ভিতরের দিকে রেখেছিলাম। অতঃপর তিনি তা ছুড়ে ফেলে দিলেন। আর বললেনঃ আল্লাহ্‌র কসম! আমি এ আংটি আর কোনদিন পরিধান করব না! তখন লোকেরাও আপন আপন আংটিগুলো খুলে ফেলল। (বুখারী পর্ব ৮৩ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ৬৬৫১; মুসলিম ৩৭/১১ হাদীস নং ২০৯১)
১০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৫৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا انتعل أحدكم نعليه فليبدأ باليمين، وإذا فتحهما فليبدأ بالشمال، حتى تكون القدم اليمنى أول بين القدمين إذا لبسهما، وآخرهما إذا فتحهما. (البخاري
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ জুতা পরিধান করে তখন সে ডান দিক থেকে আরম্ভ করে, আর যখন খোলে তখন সে যেন বাম দিকে আরম্ভ করে, যাতে পরার বেলায় উভয় পায়ের মধ্যে ডান পা প্রথমে হয় এবং খোলার সময় শেষে হয়। (বুখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৩৯ হাদীস নং ৫৮৫৬; মুসলিম ৩৭/১৯, হাঃ ২০৯৭)
১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৬০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يمشي أحدكم بالنعل على قدم واحدة. إما أن تترك كلا الساقين مفتوحتين تمامًا أو ترتدي كلا الساقين. (البخاري الجزء 77 باب 40 حديث رقم 5855؛ مسلم 37/19، ح 2097)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ এক পায়ে জুতা পরে যেন না হাঁটে। হয় উভয় পা সম্পূর্ণ খোলা রাখবে অথবা উভয় পায়ে পরিধান করবে। (বুখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৪০ হাদীস নং ৫৮৫৫; মুসলিম ৩৭/১৯, হাঃ ২০৯৭)
১২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৬২
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن لبس الملابس المعصفرة. (البخاري جزء 77 باب 33 حديث رقم 5846؛ مسلم 37/23، ح 2101)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরুষদের জাফরানী রং-এর কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৩৩ হাদীস নং ৫৮৪৬; মুসলিম ৩৭/২৩, হাঃ ২১০১)
১৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৬৪
আবু তালহা (রাঃ)
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لا تدخل الملائكة بيتا فيه صور الكلاب والدواب. (البخاري جزء 59 باب 7 حديث رقم 3225 ؛ مسلم 37/26 ههه 2106)
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে বাড়িতে কুকুর থাকে আর প্রাণীর ছবি থাকে সেথায় ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ৩২২৫; মুসলিম ৩৭/২৬ হাঃ ২১০৬)
১৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৬৫
আবু তালহা (রাঃ)
رأيت ثم سألت عبيد الله الخولاني (رضي الله عنه) أليس حدثنا الحديث المتعلق بالصورة؟ ثم قال، قال: من الحيوانات؛ لكن ليس حرام أن ترسم شيئاً على القماش، ألم تسمع ذلك؟ قلت لا.
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে বাড়িতে প্রাণীর ছবি থাকে সেখানে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।’ বুস্‌র (রহ.) বলেন, অতঃপর যায়িদ ইব্‌নু খালিদ (রাঃ) রোগাক্রান্ত হন। আমরা তাঁর সেবার জন্য গেলাম। তখন আমরা তাঁর ঘরে একটি পর্দায় কিছু ছবি দেখতে পেলাম। তখন আমি (বুস্‌র) ওবায়দুল্লাহ খাওলানী (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কি আমাদের নিকট ছবি সম্পর্কীত হাদীস বর্ণনা করেননি? তখন তিনি বললেন, তিনি বলেছেন, প্রাণীর; তবে কাপড়ের মধ্যে কিছু অংকণ করা নিষিদ্ধ নয়, তুমি কি তা শুননি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি তা বর্ণনা করেছেন। (বুখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ৩২২৬; মুসলিম ৩৭/২৬ হাঃ ২১০৬)
১৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৬৬
আয়েশা (রাঃ)
فقال: انسحب رسول الله صلى الله عليه وسلم من غزوة (تبوك). لقد علقت ستائر من القماش الرقيق في غرفتي. وكان بها صور كثيرة (للحيوانات). فلما رآه رسول الله صلى الله عليه وسلم مزقه، وقال: إن هؤلاء أشد الناس عذابا يوم القيامة، الذين يشبهون خلق الله. قالت عائشة رضي الله عنها: فنجعل منه مقعداً أو مقعدين. (البخاري ج 77 باب 91).
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (তাবূক যুদ্ধের) সফর থেকে প্রত্যাগমন করলেন। আমি আমার কক্ষে পাতলা কাপড়ের পর্দা টাঙিয়েছিলাম। তাতে ছিল (প্রাণীর) অনেকগুলো ছবি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন এটা দেখলেন, তখন তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ ক্বিয়ামাতের দিন সে সব মানুষের সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে, যারা আল্লাহ্‌র সৃষ্টির (প্রাণীর) অনুরূপ তৈরী করবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেনঃ এরপর আমরা তা দিয়ে একটি বা দু’টি বসার আসন তৈরী করি। (বুখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৯১ হাদীস নং ৫৯৫৪; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৭)
১৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৬৭
উম্ম আল-মু'মিনিন আয়েশা (রাঃ)
وقال أنه اشترى وسادة الصورة. فرآه رسول الله صلى الله عليه وسلم فوقف على الباب ولم يدخل. أستطيع أن أرى نظرة الاستياء على وجهه. فقلت: يا رسول الله (صلى الله عليه وسلم)! أتوب إلى الله ورسوله. ما الجريمة التي ارتكبتها؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما هذه الوسادة؟ قالت عائشة (رضي الله عنها) فقلت اشتريتها لك تم لتجلس على التقنية. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الذين يصنعون هذه الصور يعذبون يوم القيامة. فيقال لهم أحيوا ما خلقتم. وقال أيضا أن الغرفة التي فيها كل هذه الصور مليكة لا تدخل البيت (الرحمة). (البخاري جزء 36 باب 40 حديث رقم 2105 ؛ مسلم 37/26 ح 2107)
তিনি বলেন, তিনি একটি ছবিওয়ালা বালিশ ক্রয় করেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা দেখতে পেয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন, ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব দেখতে পেলাম। তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে তাওবাহ করছি। আমি কী অপরাধ করেছি? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ বালিশের কী ব্যাপার? ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমি এটি আপনার জন্য ক্রয় করেছি, যাতে আপনি টেক লাগিয়ে বসতে পারেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এই ছবি তৈরিকারীদের ক্বিয়ামাতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদের বলা হবে, তোমরা যা তৈরী করেছিলে, তা জীবিত কর। তিনি আরো বলেন, যে ঘরে এ সব ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) মালাইকা প্রবেশ করেন না। (বুখারী পর্ব ৩৬ অধ্যায় ৪০ হাদীস নং ২১০৫; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৭)
১৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৬৮
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ الَّذِينَ يَصْنَعُونَ هذِهِ الصُّوَرَ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يُقَالُ لَهُمْ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যারা এই ছবি তৈরী করে তাদেরকে কিয়ামাত দিবসে শাস্তি প্রদান করা হবে এবং বলা হবে তোমরা যা তৈরী করেছিলে তাতে জীবন দান কর। (বুখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৮৯ হাদীস নং ৫৯৫১; মুসলিম ৩৭/২৬ হাঃ ২১০৮)
১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৬৯
Abdullah Bin Mas'ud
قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: (إن أشد الناس عذابا يوم القيامة المصور). (البخاري جزء 77 باب 89 حديث رقم 5950؛ مسلم 37/26، ح 2109)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, (ক্বিয়ামাতের দিন) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তাদের, যারা ছবি বানায়। (বুখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৮৯ হাদীস নং ৫৯৫০; মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৯)
১৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৭২
আবু বশির আল-আনসারি (রাঃ)
قال: كان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض أسفاره. قال (ربيع) عبد الله، أظنه (أبو بشير الأنصاري) قال إن الناس كانوا في الفراش. ثم بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمر ألا يعلق في عنق بعير إكليل ولا عقد، فإن كان كذلك فقطعه. (في الجاهلية كان يُعلق في عنق البعير نوع من الإكليل لكي لا يُرى البعير، وقد أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بهذا الأمر لإزالة هذا الشبه.) (البخاري جزء 56 باب 139 حديث رقم 3005، مسلم 28/37 ه 2115).
তিনি বলেন, কোন এক সফরে তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ছিলেন। (রাবী) ‘আবদুল্লাহ্ বলেন, আমার মনে হয়, তিনি (আবূ বাশীর আনসারী) বলেছেন যে, মানুষ শয্যায় ছিল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন সংবাদ বহনকারীকে পাঠালেন যে, কোন উটের গলায় যেন ধনুকের রশির মালা কিংবা মালা না ঝুলে, আর ঝুললে তা যেন কেটে ফেলা হয়। (জাহেলী যুগে উটের গলায় এক ধরণের মালা এ উদ্দেশ্যে লটকানো হতো যাতে উট নজর লাগা থেকে রক্ষা পায়। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই ভ্রান্ত ধারণা দূরীকরণের জন্যে এই নির্দেশ প্রদান করেন।) (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ১৩৯ হাদীস নং ৩০০৫; মুসলিম ৩৭/২৮ হাঃ ২১১৫)
২০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৭৫
আবু আল-সাইদ খুদরি (রাঃ)
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: اترك الجلوس على الطريق. فقال الناس ليس لدينا طريق آخر. لأن هذا هو المكان الذي ننهض فيه ونتحدث فيه. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن جلستم ولكنكم أحق الطريق». قالوا وما حق الطريق؟ قال: غض البصر، وكف الأذى، ورد السلام، والأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر. (البخاري جزء 46 باب 22 حديث رقم 2465 ؛ مسلم 37/32 2121)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা রাস্তার উপর বসা ছেড়ে দাও। লোকজন বলল, এ ছাড়া আমাদের কোন পথ নেই। কেননা, এটাই আমাদের উঠাবসার জায়গা এবং এখানেই আমরা কথাবার্তা বলে থাকি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যদি তোমাদের সেখানে বসতেই হয়, তবে রাস্তার হক আদায় করবে। তারা বলল, রাস্তার হক্ব কী? তিনি বললেন, দৃষ্টি অবনমিত রাখা, কষ্ট দেয়া হতে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেয়া, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অন্যায় কাজে নিষেধ করা। (বুখারী পর্ব ৪৬ অধ্যায় ২২ হাদীস নং ২৪৬৫; মুসলিম ৩৭/৩২ ২১২১)
২১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৭৬
আসমা বিন্তে আবু বকর
سألت امرأة النبي صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله! تساقط شعر ابنتي بسبب مرض الربيع. لقد تزوجته. وضع باروكة على رأسه؟ قال: المرأة التي تلبس الباروكة وتلبس الباروكة لعنها الله. (البخاري الجزء 78 باب 85 ​​ها 5941 ؛ مسلم 37/33)
এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এক মেয়ের বসন্ত রোগ হয়ে মাথার চুল পড়ে গেছে। আমি তাকে বিয়ে দিয়েছি। তার মাথায় কি পরচুলা লাগাব? তিনি বলেন, পরচুলা লাগিয়ে দেয় ও পরচুলা লাগিয়ে নেয় এমন নারীকে আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন।(বুখারী পর্ব ৭৮ অধ্যায় ৮৫ হাঃ ৫৯৪১; মুসলিম ৩৭/৩৩)
২২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৭৭
আয়েশা (রাঃ)
قال: امرأة من الأنصار تزوجت ابنتها. لكن شعر رأسه بدأ في الارتفاع. ثم أتت النبي صلى الله عليه وسلم فذكرت الحادثة وقالت: إن زوجي أمرني أن أجعل على رأس ابنتي شعراً صناعياً. دعني أرتدي فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا، لا تفعلوا، فإن الله تعالى لعن النساء اللاتي شعرن على رؤوسهن". (البخاري جزء 67 باب 95 حديث رقم 5205 ؛ مسلم 37/33 ح)
তিনি বলেন, কোন এক আনসারী মহিলা তার মেয়েকে শাদী দিলেন। কিন্তু তার মাথার চুলগুলো উঠে যেতে লাগল। এরপর সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করে বলল, আমার স্বামী আমাকে বলেছে আমি যেন আমার মেয়ের মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করিয়ে দেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না তা করো না, কারণ, আল্লাহ্ তা‘আলা এ ধরনের মহিলাদের ওপর লা‘নত বর্ষণ করে থাকেন, যারা মাথায় কৃত্রিম চুল পরিধান করে। (বুখারী পর্ব ৬৭ অধ্যায় ৯৫ হাদীস নং ৫২০৫; মুসলিম ৩৭/৩৩ হাঃ )
২৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৩৭৯
হুমায়দ ইবনে আবদ আল-রহমান (রাঃ)
حديث مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ حُمَيْدٍ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمنِ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، عَامَ حَجَّ، عَلَى الْمِنْبَرِ، فَتَنَاوَلَ قُصَّةً مِنْ شَعَرٍ، وَكَانَتْ فِي يَدَيْ حَرَسِيٍّ [ص: 45] فَقَالَ: يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَنْهى عَنْ مِثْلِ هذِهِ، وَيَقُولُ: إِنَّمَا هَلَكَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ حِينَ اتَّخَذَهَا نِسَاؤُهُمْ
মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের হাদিস হুমাইদ ইবনে আবদুল রহমানের সূত্রে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানকে হজের বছর মিম্বরে বসে শুনেছিলেন, তাই তিনি চুলের একটি গল্প বলেছিলেন, এবং এটি ছিল দুই প্রহরীর হাতে [পৃ. 45]। তিনি বললেনঃ হে মদীনাবাসী, তোমাদের আলেম কোথায়? আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বরকত দিতে শুনেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ধরনের কাজকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: বনী ইসরাঈল ধ্বংস হয়ে গেল যখন তাদের নারীরা তাদের নিয়ে গেল।