অধ্যায় ৩৯
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪০০
قال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا سلمت عليكم اليهود، فقولوا لأحدهم: سلم عليك. ثم ستقول "Walaika" ردًا على ذلك. (البخاري ج 79 باب 22 حديث رقم 6257 ؛ مسلم 39/4 ، ح 2164)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ইয়াহূদী তোমাদের সালাম করলে তাদের কেউ অবশ্যই বলবেঃ আস্সামু আলাইকা। তখন তোমরা জবাবে ‘ওয়াআলাইকা’ বলবে। (বুখারী পর্ব ৭৯ অধ্যায় ২২ হাদীস নং ৬২৫৭; মুসলিম ৩৯/৪, হাঃ ২১৬৪)
০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪০১
حديث عَائِشَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: دَخَلَ رَهْطٌ مِنَ الْيَهُودِ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا: السَّامُ عَلَيْكَ فَفَهِمْتُهَا، فَقُلْتُ: عَلَيْكُمُ السَّامُ وَاللَّعْنَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَهْلاً، يَا عَائِشَةُ فَإِنَّ اللهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الأَمْرِ كُلِّهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَوَ لَمْ تَسْمَعْ مَا قَالوا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَقَدْ قُلْتُ: وَعَلَيْكُمْ
আয়েশার হাদিস, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, যিনি বলেছিলেন: ইহুদীদের একটি দল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশ করল এবং বলল: আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, তাই আমি বললাম: আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর অভিশাপ। অতঃপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে আয়েশা, অপেক্ষা কর, কারণ আল্লাহ সকল বিষয়ে দয়া পছন্দ করেন। এ সব, তাই আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি শুনতে পাননি তারা কি বলেছে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি বললামঃ তোমার উপর
০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪০২
ومر على قوم من الصبيان فسلم عليهم وقال إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يفعل مثل ذلك. (البخاري الجزء 79 الباب 15 الحديث رقم 6247؛ مسلم 39/5، ح 2168)
একবার তিনি একদল শিশুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাদের সালাম করে বললেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও তা করতেন। (বুখারী পর্ব ৭৯ অধ্যায় ১৫ হাদীস নং ৬২৪৭; মুসলিম ৩৯/৫, হাঃ ২১৬৮)
০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪০৪
حديث عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاء فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ، يَا رَسولَ اللهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ: الحَمْوُ المَوْتُ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মহিলাদের নিকট একাকী যাওয়া থেকে বিরত থাক। এক আনসার জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! দেবরদের ব্যাপারে কি নির্দেশ? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর তো মৃত্যুতুল্য। (বুখারী পর্ব ৬৭ অধ্যায় ১১২ হাদীস নং ৫২৩২; মুসলিম ৩৯/৮, হাঃ ২১৭২)
০৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪০৮
حديث أُمِّ سَلَمَةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَعِنْدِي مُخَنَّثٌ، فَسَمِعَهُ يَقُولُ لِعَبْدِ اللهِ بْنِ أُمَيَّةَ: يَا عَبْدَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ فَتَحَ اللهُ عَلَيْكُمُ الطَّائِفَ غَدًا، [ص: 57] فَعَلَيْكَ بِابْنَةِ غَيْلاَنَ، فَإِنَّهَا تَقْبِلُ بِأَرْبَعٍ، وَتدْبِرُ بِثَمَانٍ وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يَدْخُلَنَّ هؤُلاَءِ عَلَيْكُنَّ
উম্মে সালামার হাদিস, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে প্রবেশ করলেন, এবং আমার কাছে একজন সৌখিন লোক ছিল, তখন তিনি তাকে আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়াকে বলতে শুনেছেন: হে আবদুল্লাহ, তুমি কি দেখেছ? আগামীকাল যদি ঈশ্বর আপনার জন্য তায়েফ জয় করেন, [পৃ. 57] অতঃপর তুমি গাইলানের কন্যার কাছে যাও, কারণ সে চারটি নিয়ে এগিয়ে আসে এবং ফিরে যায়। আটের জন্য, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এই লোকেরা আপনার কাছে প্রবেশ করবে না।
০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪১০
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا كان في مكان ثلاثة فلا يسكت عشرة منهم إلا الثالث. (البخاري جزء 79 باب 45 حديث رقم 6288 ومسلم جزء 39/ه 2183)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যদি কোথাও তিনজন লোক থাকে তবে তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে দ’জনে মিলে চুপে চুপে কথা বলবে না। (বুখারী পর্ব ৭৯ অধ্যায় ৪৫ হাদীস নং ৬২৮৮ ; মুসলিম পর্ব ৩৯/হাঃ ২১৮৩)
০৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪১১
قال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا كنتم ثلاثة في مكان فلا يكلم بعضكم بعضا إلا واحدا. سوف يجعله حزينا. وإذا خالطت الناس فلا بأس بذلك. (البخاري الجزء 79 باب 47 حديث رقم 6290 ؛ (مسلم 39/15، ح 2184)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোথাও তোমরা তিনজনে থাকো, তখন একজনকে বাদ দিয়ে দু’জনে কানে-কানে কথা বলবে না। এতে তার মনে দুঃখ হবে। তোমরা মানুষের মধ্যে মিশে গেলে তবে তা করাতে দোষ নেই। (বুখারী পর্ব ৭৯ অধ্যায় ৪৭ হাদীস নং ৬২৯০; মুসলিম ৩৯/১৫, হাঃ ২১৮৪)
০৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪১৫
وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أتى على المريض أو إذا قدم عليه المريض قال: أذهب الوجع. يا رب الناس اشف أنت الشافي وحدك. غير شفاؤك فلا شفاؤك . لا تعطي شفاءً لا يغادر ولو قليل من السقم. (البخاري الجزء 75 باب 20 حديث رقم 5675 ؛ مسلم 39/19 ح 2191)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিয়ম ছিল, তখন যখন কোন রোগীর কাছে আসতেন কিংবা তাঁর নিকট যখন কোন রোগীকে আনা হত, তখন তিনি বলতেনঃ কষ্ট দূর করে দাও। হে মানুষের রব, শেফা দান কর, তুমিই একমাত্র শেফাদানকারী। তোমার শেফা ব্যতীত অন্য কোন শেফা নেই। এমন শেফা না দান কর যা সামান্য রোগকেও অবশিষ্ট না রাখে। (বুখারী পর্ব ৭৫ অধ্যায় ২০ হাদীস নং ৫৬৭৫; মুসলিম ৩৯/১৯, হাঃ ২১৯১)
০৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪১৬
حديث عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ، إِذَا اشْتَكَى، يَقْرَأُ عَلَى نَفْسِهِ بِالْمَعَوِّذَاتِ، وَيَنْفُثُ فَلَمَّا اشْتَدَّ وَجَعُهُ كُنْتُ أَقْرَأُ عَلَيْهِ، وَأَمَسَحُ بِيَدِهِ، رَجَاءَ بَرَكَتِهَا
আয়েশার হাদিস, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর বরকত বর্ষণ করতেন, তিনি যখন অভিযোগ করতেন তখন তিনি নিজের কাছে ভূত-পতঙ্গ পাঠ করতেন এবং যখন তাঁর ব্যথা তীব্র হয়ে উঠত তখন তিনি নাক ফুঁকতেন। আমি তাঁর কাছে পাঠ করতাম এবং তাঁর আশীর্বাদের আশায় তাঁর হাত স্পর্শ করতাম।
১০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪১৭
حديث عَائِشَةَ عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّهُ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الرُّقْيَةِ مِنَ الْحُمَةِ فَقَالَتْ: رَخَّصَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرُّقْيَةَ مِنْ كُلِّ ذِي حُمَةٍ
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের কারণে ঝাড়-ফুঁক গ্রহণের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সব রকমের বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে ঝাড়-ফুঁক গ্রহণের জন্য অনুমতি দিয়েছেন। (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ৩৭ হাদীস নং ৫৭৪১; মুসলিম ৩৯/২১ হাঃ ২১৯৩)
১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪১৯
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَوْ أَمَرَ أَنْ يُسْتَرْقَى منَ الْعَيْنِ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আদেশ করেছেন কিংবা তিনি বলেছেন, নজর লাগার জন্য ঝাড়ফুঁক করতে। (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ৩৫ হাদীস নং ৫৭৩৮; মুসলিম ৩৯/৮, হাঃ ২১৯৫)
১২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪২০
رأى النبي صلى الله عليه وسلم فتاة في بيته وفي وجهها حبر أسود. ثم قال: اضربوه فإنه مبتلى بالشر. (البخاري جزء 76، باب 35، حديث رقم 5739؛ مسلم 39/21، ح 2197)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঘরে একটি মেয়েকে দেখলেন যে, তার চেহারায় কালিমা রয়েছে। তখন তিনি বললেনঃ তাকে ঝাড়ফুঁক করাও, কেননা তার উপর (বদ) নযর লেগেছে। (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ৩৫ হাদীস নং ৫৭৩৯; মুসলিম ৩৯/২১, হাঃ ২১৯৭)
১৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪২২
قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: إن كان في أدوائكم شيء ينفع، ففي النفخ في القرون، أو شرب العسل، أو إحراقهما بالنار. لكنه كذلك
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের ঔষধসমূহের কোনটির মধ্যে যদি কল্যাণ বিদ্যমান থেকে থাকে তাহলে তা রয়েছে শিঙ্গাদানের মধ্যে কিংবা মধু পানের মধ্যে কিংবা আগুনের দ্বারা ঝলসিয়ে দেয়ার মধ্যে। তবে তা রোগ অনুযায়ী হতে হবে। আর আমি আগুন দ্বারা দাগ দেয়াকে পছন্দ করি না। (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ৪ হাদীস নং ৫৬৮৩; মুসলিম ৩৯/২৬, হাঃ ২২০৫)
১৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪২৩
قال: فأخذ النبي صلى الله عليه وسلم القرن وأعطى صاحبه أجره. (البخاري جزء 37 باب 18 حديث رقم 2278؛ مسلم 39/26، ح 1202)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিঙ্গা নিয়েছিলেন এবং শিঙ্গা প্রয়োগকারীকে তার মজুরী দিয়েছিলেন। (বুখারী পর্ব ৩৭ অধ্যায় ১৮ হাদীস নং ২২৭৮; মুসলিম ৩৯/২৬, হাঃ ১২০২)
১৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪২৫
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «الحمى في حر جهنم فأبردوها بالماء». (البخاري 59/10 حديث: 3264؛ مسلم 39/26 حديث: 2209)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, জ্বর হয় জাহান্নামের উত্তাপ থেকে, কাজেই তোমরা পানি দিয়ে তা ঠান্ডা কর। (বুখারী ৫৯/১০ হাদীসঃ ৩২৬৪; মুসলিম ৩৯/২৬ হাঃ ২২০৯)
১৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪২৬
حديث أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، كَانَتْ، إِذَا أُتِيَتْ بِالْمَرْأَةِ قَدْ حُمَّتْ تَدْعُو لَهَا، أَخَذَتِ الْمَاءَ فَصَبَّتْهُ بَيْنَهَا وَبَيْنَ جَيْبِهَا قَالَتْ: وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَأْمُرُنَا أَنْ نَبْرُدَهَا بِالْمَاءِ
আসমা বিন্ত আবূ বকর (রাঃ)-এর নিকট যখন কোন জ্বরাক্রান্ত মহিলাকে দু’আর জন্য আনা হত, তখন তিনি পানি হাতে নিয়ে সেই মহিলার জামার ফাঁক দিয়ে তার গায়ে ছিটিয়ে দিতেন এবং বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের আদেশ দিতেন, আমরা যেন পানি দিয়ে জ্বর ঠাণ্ডা করে দেই। (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ২৮ হাদীস নং ৫৭২৪; মুসলিম ৩৯/২৬, হাঃ ২২১১)
১৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪২৭
حديث رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: الْحُمَّى مِنْ فَوْحِ جَهَنَّمَ، فَابْرُدُوهَا بِالْمَاءِ
রাফি’ বিন খাদিজের হাদিস, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: জ্বর জাহান্নামের দুর্গন্ধ থেকে আসে, তাই পানি দিয়ে ঠান্ডা করুন।
১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪২৮
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَدَدْنَاهُ فِي مَرَضِهِ، فَجَعَلَ يُشِيرُ إِلَيْنَا أَنْ لاَ تَلُدُّونِي فَقُلْنَا: كَرَاهِيَةُ الْمَرِيضِ لِلدَّوَاءِ فَلَمَّا أَفَاقَ، قَالَ: أَلَمْ أَنْهَكُمْ أَنْ تَلدُّونِي قُلْنَا: كَرَاهِيَةَ الْمَرِيضِ لِلدَّوَاءِ فَقَالَ لاَ يَبْقَى أَحَدٌ فِي الْبَيْتِ إِلاَّ لُدَّ وَأَنَا أَنْظرُ، إِلاَّ الْعَبَّاسَ، فَإِنَّهُ لَمْ يَشْهَدْكُمْ
আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রোগাক্রান্ত অবস্থায় তাঁর মুখে ঔষধ ঢেলে দিলাম। তিনি ইশারায় আমাদেরকে তাঁর মুখে ঔষধ ঢালতে নিষেধ করলেন। আমরা বললাম, এটা ঔষধের প্রতি রোগীদের স্বাভাবিক বিরক্তিবোধ। যখন তিনি সুস্থবোধ করলেন তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের ওষুধ সেবন করাতে নিষেধ করিনি? আমরা বললাম, আমরা মনে করেছিলাম এটা ঔষধের প্রতি রোগীর সাধারণ বিরক্তিভাব। তখন তিনি বললেন, ‘আব্বাস ব্যতীত বাড়ির প্রত্যেকের মুখে ঔষধ ঢাল তা আমি দেখি। কেননা সে তোমাদের মাঝে উপস্থিত নেই। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৮৪ হাদীস নং ৪৪৫৮; মুসলিম ৩৯/২৭, হাঃ ২২১৩)
১৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৩০
قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «إنكم أيها الهنود لتستعملون هذا الصندل». لأن فيه سبعة أنواع من العلاج (الشفاء). ويستنشق (الدخان) من الأنف لآلام القصبة الهوائية، ويزيل الالتهاب الرئوي، ويمكن تناوله أيضًا (البخاري جزء 73 باب 10 حديث رقم 5692، مسلم 28/39 ه 2214)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা ভারতীয় এই চন্দন কাঠ ব্যবহার করবে। কেননা তার মধ্যে সাত ধরনের চিকিৎসা (নিরাময়) রয়েছে। শ্বাসনালীর ব্যথার জন্য এর (ধোঁয়া) নাক দিয়ে টেনে নেয়া যায়, নিউমোনিয়া দূর করার জন্যও তা সেবন করা যায়। (বুখারী পর্ব ৭৩ অধ্যায় ১০ হাদীস নং ৫৬৯২; মুসলিম ৩৯/২৮ হাঃ ২২১৪)
২০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৩২
عندما يموت أحد أفراد أسرته، تأتي النساء ويجتمعن. ثم عندما غادر الجميع باستثناء أقاربه وخاصة النساء المقربات، أمر بطهي "تلفينا" (وجبة مصنوعة من الدقيق والعسل وما إلى ذلك) على الموقد. إنه ملتوي. ثم يحضر "السريد" (طبق مصنوع من شرائح الخبز بين اللحم) ويسكب فوقه التلبينة. قال: كلوا منه. لأني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: التلبينة في قلب المريض.
তাঁর পরিবারের কোন ব্যক্তি মারা গেলে মহিলারা এসে সমবেত হলো। তারপর তাঁর আত্মীয়রা ও বিশেষ ঘনিষ্ঠ মহিলারা ব্যতীত বাকী সবাই চলে গেলে, তিনি ডেগে ‘তালবীনা’ (আটা, মধু ইত্যাদি সংযোগে তৈরি খাবার) পাকাতে নির্দেশ দিলেন। তা পাকানো হলো। এরপর ‘সারীদ’ (গোশতের মধ্যে রুটি টুকরো করে দিয়ে তৈরী খাবার) প্রস্তুত করা হলো এবং তাতে তালবীনা ঢালা হলো। তিনি বললেনঃ তোমরা এ থেকে খাও। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, ‘তালবীনা’ রুগ্ন ব্যক্তির চিত্তে প্রশান্তি এনে দেয় এবং শোক দুঃখ কিছুটা লাঘব করে। (বুখারী পর্ব ৭০ অধ্যায় ২৪ হাদীস নং ৫৪১৭; মুসলিম ৩৯/৩০, হাঃ ২২১৬)
২১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৩৪
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الطاعون عقوبة». التي أصابت أمة من بني إسرائيل أو الذين من قبلكم. عندما تسمع بالطاعون في مكان ما فلا تذهب إليه. وإذا وقع الطاعون في المكان الذي تقيم فيه، فلا تخرج هرباً من ذلك المكان. وقال أبو نصر (رضي الله عنه): لا تتركوا المنطقة بهدف الفرار. ولكن يمكنك الذهاب لأسباب أخرى، فلا توجد مشكلة. (البخاري الجزء 60 باب 54 حديث رقم 3473 ؛ مسلم
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, প্লেগ একটি আযাব। যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের উপর পতিত হয়েছিল অথবা তোমাদের পূর্বে যারা ছিল। তোমরা যখন কোন স্থানে প্লেগের ছড়াছড়ি শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়ো না। আর যখন প্লেগ এমন জায়গায় দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছো, তখন সে স্থান হতে পালানোর লক্ষ্যে বের হয়ো না। আবূ নযর (রহ.) বলেন, পলায়নের লক্ষ্যে এলাকা ত্যাগ করো না। তবে অন্য কারণে যেতে পার, তাতে বাধা নেই। (বুখারী পর্ব ৬০ অধ্যায় ৫৪ হাদীস নং ৩৪৭৩; মুসলিম ৩৯/৩২ হাঃ ২২১৮)
২২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৩৬
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا عدوى، ولا تأخير سفر، ولا تأخير بومة. فقال أعرابي: يا رسول الله (صلى الله عليه وسلم)! إذن هذا هو جملي
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রোগের কোন সংক্রমণ নেই, সফরের কোন কুলক্ষণ নেই, পেঁচার মধ্যেও কোন কুলক্ষণ নেই। তখন এক বেদুঈন বললঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তাহলে আমার উটের এ অবস্থা হয় কেন? সেগুলো যখন চারণ ভূমিতে থাকে তখন সেগুলো যেন মুক্ত হরিণের পাল। এমন অবস্থায় চর্মরোগা উট এসে সেগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং এগুলোকেও চর্ম রোগাক্রান্ত করে ফেলে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাহলে প্রথমটিকে চর্ম রোগাক্রান্ত কে করেছে? (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ২৫ হাদীস নং ৫৭১৭; মুসলিম ৩৯/৩৩, হাঃ ২২২০)
২৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৩৭
وسمع أبا هريرة رضي الله عنه يقول: قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا تلبسوا جملاً مريضاً على جمل سليم. (البخاري جزء 76 باب 53 حديث رقم 5771؛ مسلم 39/33، ح 2221)
তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কেউ যেন কখনও রোগাক্রান্ত উট সুস্থ উটের সাথে না রাখে। (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ৫৩ হাদীস নং ৫৭৭১; মুসলিম ৩৯/৩৩, হাঃ ২২২১)
২৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৩৮
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا عدوى ولا خير ولا شر، وأنا أحب الفاكهة. سأل الصحابة: ما الفال؟ قال : خير . (البخاري جزء 76 باب 54 حديث رقم 5776؛ مسلم 39/34، ها 2224)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (রোগের মধ্যে) কোন সংক্রমণ নেই এবং শুভ-অশুভ নেই আর আমার নিকট ‘ফাল’ পছন্দনীয়। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘ফাল’ কী? তিনি বললেনঃ উত্তম কথা। (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ৫৪ হাদীস নং ৫৭৭৬; মুসলিম ৩৯/৩৪, হাঃ ২২২৪)
২৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৪০
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ليس في العدوى خير أو شر ما يقال. ومن بين الأشياء الثلاثة المشؤومة النساء والبيوت والحيوانات. (البخاري الجزء 76 باب 43 حديث رقم 5753 ؛ مسلم 39/34 ، ح 2225)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ছোঁয়াচে ও শুভ-অশুভ বলতে কিছু নেই। অমঙ্গল তিন বস্তুর মধ্যে নারী, ঘর ও জানোয়ার। (বুখারী পর্ব ৭৬ অধ্যায় ৪৩ হাদীস নং ৫৭৫৩; মুসলিম ৩৯/৩৪, হাঃ ২২২৫)
২৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৪১
حديث سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: \" إِنْ كَانَ فِي شَيْءٍ، فَفِي المَرْأَةِ، وَالفَرَسِ، وَالمَسْكَنِ \"
সাহল বিন সাদ আল-সাঈদীর হাদিস, আল্লাহ্ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন: আল্লাহ্র রসূল, আল্লাহ্র নামায ও সালাম তিনি বলেছেন: "যদি তা কোন কিছুর মধ্যে থাকে, তবে মহিলা এবং ঘোড়ার মধ্যে। এবং বাসস্থান"
২৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৪৩
كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في غار. وفي ذلك الوقت نزلت عليه سورة والمرسلة. كنا نستقبله من فمه. أثناء قراءة هذه السورة رسول الله صلى الله عليه وسلم. (سلام) كان فمه مبللاً، وفجأة خرج ثعبان. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اقتلوه". فقال عبد الله: فركضنا إليها، فسبقتنا الحية. يقول الراوي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قد سلمت من أذاك كما سلمت من أذاها». (البخاري الجزء 65 سورة (77) والمرسلات باب 1 حديث رقم 4931؛ مسلم 39/37، ح 2234)
এক গুহার মধ্যে আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে ছিলাম। এমন সময় তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হলো সূরাহ ওয়াল মুরসলঅহ। আমরা তাঁর মুখ থেকে সেটা গ্রহণ করছিলাম। এ সূরাহর তিলাওয়াতে তখনও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখ সিক্ত ছিল, হঠাৎ একটি সাপ বেরিয়ে এল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তোমরা ওটাকে মেরে ফেল।” ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমরা সেদিকে দৌড়ে গেলাম, কিন্তু সাপটি আমাদের আগে চলে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ওটা তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল যেমনি তোমরা এর অনিষ্ট হতে বেঁচে গেলে। (বুখারী পর্ব ৬৫ সূরা (৭৭) ওয়াল-মুরসালাত অধ্যায় ১ হাদীস নং ৪৯৩১; মুসলিম ৩৯/৩৭, হাঃ ২২৩৪)
২৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৪৪
وأخبرته أم شرقي (رضي الله عنها) أن النبي (ص) أمره بقتل حرباء أو سحلية ماصة للدماء. (البخاري الجزء 59 الباب 15 الحديث رقم 3307 ؛ مسلم 39/38هه 2237)
উম্মু শারকি (রহ.) তাঁকে খবর দিয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে গিরগিটি বা রক্তচোষা জাতীয় টিকটিকি হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ১৫ হাদীস নং ৩৩০৭; মুসলিম ৩৯/৩৮ হাঃ ২২৩৭)
২৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৪৭
ولم يتركه ليعيش على أكل حشرات الأرض. (البخاري الجزء 60 باب 54 حديث رقم 3482 ؛ مسلم 39/40 ه 2242)
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেয়া হয়েছিল। সে বিড়ারটিকে বেঁধে রেখেছিল। সে অবস্থায় বিড়ালটি মরে যায়। মহিলাটি ঐ কারণে জাহান্নামে গেল। কেননা সে বিড়ালটিকে খানা-পিনা কিছুই করাইনি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে সে যমীনের পোকা-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত। (বুখারী পর্ব ৬০ অধ্যায় ৫৪ হাদীস নং ৩৪৮২; মুসলিম ৩৯/৪০ হাঃ ২২৪২)