অধ্যায় ৪৪
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৪৩
حديث جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمِ، قَالَ: أَتَتِ امْرَأَةٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهَا أَنْ تَرْجِع إِلَيْهِ قَالَتْ: أَرَأَيْتَ إِنْ جِئْتُ وَلَمْ أَجِدْكَ كَأَنَّهَا تَقولُ: الْمَوْتَ قَالَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ: إِنْ لَمْ تَجِدِيني فَأْتِي أَبَا بَكْرٍ
জুবায়ের বিন মুতিমের হাদিস, যিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী এসেছিলেন এবং তিনি তাকে তাঁর কাছে ফিরে আসার নির্দেশ দেন। মেয়েটি বললঃ আমি এসে তোমাকে না পেলে কি ভাববে? যেন সে বলছে: মৃত্যু। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমাকে না পেলে আবু বকরের কাছে যাও।
০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৪৬
حديث أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ عَلَيَّ، وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ، مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثُدِيَّ، وَمِنْهَا مَا دُونَ ذَلِكَ وَعُرِضَ عَلَيَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: الدِّينَ
তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর লাশ খাটের উপর রাখা হল। খাটটি কাঁধে তোলে নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত লোকজন তা ঘিরে দু’আ পাঠ করছিল। আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। হঠাৎ একজন আমার স্কন্ধে হাত রাখায় আমি চমকে উঠলাম। চেয়ে দেখলাম, তিনি ‘আলী। তিনি ‘উমার (রাঃ)-এর জন্য আল্লাহ্র অশেষ রহমতের দু‘আ করছিলেন। তিনি বলছিলেন, হে ‘উমার! আমার জন্য আপনার চেয়ে বেশি প্রিয় এমন কোন ব্যক্তি আপনি রেখে যাননি, যাঁর কালের অনুসরণ করে আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করব। আল্লাহ্র কসম। আমার এ বিশ্বাস যে আল্লাহ্ আপনাকে আপনার সঙ্গীদ্বয়ের সঙ্গে রাখবেন। আমার মনে আছে, আমি অনেকবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বকর ও ‘উমার গেলাম। আমি, আবূ বকর ও ‘উমার প্রবেশ করলাম এবং আমি, আবূ বকর ও ‘উমার বাহির হলাম ইত্যাদি। (বুখারী পর্ব ৬২ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ৩৬৮৫; মুসলিম ৪৪/২ হাঃ ২৩৮৯)
০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৪৮
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُنِي عَلَى قَلِيبٍ، عَلَيْهَا دَلْوٌ فَنَزَعْتُ مِنْهَا مَا شَاءَ اللهُ ثُمَّ أَخَذَهَا ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ فَنَزَعَ بِهَا ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ وَفِي نَزعِهِ ضَعْفٌ، وَاللهُ يَغْفرُ لَهُ ضَعْفَهُ ثُمَّ اسْتَحَالَتْ غَرْبًا، [ص: 127] فَأَخَذَهَا ابْنُ الْخَطَابِ، فَلَمْ أَرَ عَبْقَرِيًّا مِنَ النَّاسِ يَنْزِعُ نَزْعَ عُمَرَ، حَتَّى ضَرَبَ النَّاسُ بَعَطَنٍ
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস, যিনি বলেছেন: আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: আমি যখন ঘুমাচ্ছিলাম, তখন আমি তার উপর একটি বালতির উপরে শুয়ে থাকতে দেখেছি, তাই আমি তার থেকে যা চেয়েছিলেন তা সরিয়ে ফেললাম। অতঃপর ইবনে আবি কুহাফা তা গ্রহণ করেন এবং এর সাথে একটি বা দুটি গুনাহ করেন, কিন্তু তার অপসারণে দুর্বলতা ছিল এবং আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। এটি দুর্বল হয়ে পড়ে, তারপর এটি পশ্চিমে চলে যায়, [পৃ. 127] সুতরাং ইবনুল খাত্তাব এটি গ্রহণ করেছেন। আমি ওমরের মতো শক্তিশালী লোকদের মধ্যে এমন প্রতিভা দেখিনি, যতক্ষণ না তিনি মানুষকে অভিশাপ দিয়েছিলেন।
০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৪৯
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ذات يوم وأنا نائم. رأيت في المنام نفسي على حافة بئر ومعي دلو أستقي من البئر ما شاء الله. ثم أخذ ابن أبي قحافة الدلو فرفع دلوا أو دلوين من الماء. وكان لديه بعض الضعف في الرفع. الله يغفر له ضعفه. ثم أخذ عمر بن الخطاب الدلو بيده. زاد حجم الدلو في يديه. الماء فلم أر قط رجلاً في قوة وشجاعة مثل عمر. وفي النهاية استقر الناس في منازلهم. (البخاري جزء 62 باب 5 حديث رقم 3664 ومسلم جزء 44/2 ه 2392)
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, একবার আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে আমি আমাকে এমন একটি কূপের কিনারায় দেখতে পেলাম যেখানে বালতিও রয়েছে, আমি কূপ হতে পানি উঠালাম যে পরিমাণ আল্লাহ্ ইচ্ছে করলেন। অতঃপর বালতিটি ইব্নু আবূ কুহাফা নিলেন এবং এক বা দু’বালতি পানি উঠালেন। তার উঠানোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। আল্লাহ্ তার দুর্বলতাকে ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর ‘উমার ইব্নু খাত্তাব বালতিটি তার হাতে নিলেন। তার হাতে বালতিটির আয়তন বেড়ে গেল। পানি উঠানোতে আমি ‘উমারের মত শক্তিশালী বাহাদুর ব্যক্তি কাউকে দেখিনি। শেষে মানুষ নিজ নিজ আবাসে অবস্থান নিল। (বুখারী পর্ব ৬২ অধ্যায় ৫ হাদীস নং ৩৬৬৪; মুসলিম পর্ব ৪৪/২ হাঃ ২৩৯২)
০৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৫০
قال النبي صلى الله عليه وسلم: رأيت في المنام أني أستقي من الماء بدلواً كبيراً على جانب البئر. ثم جاء أبو بكر رضي الله عنه فأخذ دلواً أو دلوين من الماء. ولكن ضعفه كان في استقاء الماء عفا الله عنه. وبعد ذلك جاء عمر بن الخطاب (رضي الله عنه). أصبح الدلو أكبر في يده. لم يسبق لي أن رأيت رجلاً قوياً يرفع الماء بقوة مثله. حتى الناس يستريحون في المنزل ويشربون الماء برضا. (البخاري الجزء 52 الباب 6 الحديث رقم 3682 ؛ مسلم
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, একটি কুপের পাড়ে বড় বালতি দিয়ে পানি তুলছি। তখন আবূ বকর(রাঃ) এসে এক বালতি বা দু’বালতি পানি তুললেন। তবে পানি তোলার মধ্যে তাঁর দুর্বলতা ছিল, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। অতঃপর ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) এলেন। বালতিটি তাঁর হাতে গিয়ে বড় আকার ধারণ করল। তাঁর মত এমন দৃঢ়ভাবে পানি উঠাতে আমি কোন তাকৎওয়ালাকেও দেখেনি। এমনকি লোকেরা তৃপ্তির সাথে পানি পান করে গৃহে বিশ্রাম নিল। (বুখারী পর্ব ৫২ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ৩৬৮২; মুসলিম ৪৪/২ হাঃ ২৩৯৩)
০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৫১
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: دخلت الجنة فرأيت قصرا فقلت: قصر من هذا؟ فقالوا (الملائكة): هذا القصر لعمر بن الخطاب (رضي الله عنه). دخلت عليه أريد ولكن [قال لعمر الذي كان هناك] كبرياءك منعني من الدخول هناك. فلما سمع ذلك عمر (رضي الله عنه) قال: يا نبي الله (صلى الله عليه وسلم)! قد يضحي والداي من أجلك! هل لي (عمر) أن أعبر عن احترامي لنفسي في حالتك؟ (البخاري ج67 باب 107 حديث رقم 5226 ؛ مسلم 44/2هه 2394)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি জান্নাতে প্রবেশ করে একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার প্রাসাদ? তাঁরা (ফেরেশতাগণ) বললেন, এ প্রাসাদটি ‘উমার ইব্নু খাত্তাব (রাঃ)-এর। আমি তার মধ্যে প্রবেশ করতে চাইলাম; কিন্তু [তিনি সেখানে উপস্থিত ‘উমার (রাঃ)-এর উদ্দেশে বললেন] তোমার আত্মমর্যাদাবোধ আমাকে সেখানে প্রবেশে বাধা দিল। এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনার ক্ষেত্রেও আমি (‘উমার) আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করব? (বুখারী পর্ব ৬৭ অধ্যায় ১০৭ হাদীস নং ৫২২৬; মুসলিম ৪৪/২ হাঃ ২৩৯৪)
০৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৫৯
حديث سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: جَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بَيْتَ فَاطِمَةَ، فَلَمْ يَجِدْ علِيًّا فِي الْبَيْتِ فَقَالَ: أَيْنَ ابْنُ عَمِّكِ قَالَتْ: كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ شَيْءٌ، فَغَاضَبَنِي، فَخَرَجَ، فَلَمْ يَقِلْ عِنْدِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لإِنْسَانٍ: انْظُرْ أَيْنَ هُوَ فَجَاءَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ هُوَ فِي الْمَسْجِدِ رَاقِدٌ فَجَاءَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ مُضْطَجِعٌ، قَدْ سَقَطَ رِدَاؤُهُ عَنْ شِقِّهِ، وَأَصَابَهُ تُرَابٌ فَجَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْسَحُهُ عَنْهُ، وَيَقُولُ: قُمْ أَبا تُرَابٍ قُمْ أَبَا تُرَابٍ
সাহল বিন সাদ-এর হাদিস, যিনি বলেছেন: আল্লাহর রসূল, আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে শান্তি দান করুন, ফাতিমার বাড়িতে এসেছিলেন, কিন্তু তিনি আলীকে বাড়িতে পাননি। তিনি বললেনঃ তোমার চাচাতো ভাই কোথায়? সে বললঃ সে ছিল। আমার এবং তার মধ্যে কিছু ছিল, তাই তিনি আমার উপর রাগান্বিত হয়েছিলেন, তাই তিনি চলে গেলেন এবং বললেন না, "আমার কিছু আছে।" অতঃপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে বললেনঃ দেখ।
০৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৬১
قال: (ليلة) أصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم مستيقظا. فلما قدم المدينة تمنى أن يحرسني في الليل رجل صالح من أصحابي. في مثل هذه الأوقات نحن صوت الأسلحة
তিনি বলেন, (এক রাতে) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জেগে কাটান। অতঃপর তিনি যখন মাদীনায় এলেন এই আকাঙক্ষা প্রকাশ করলেন যে, আমার সাহাবীদের মধ্যে কোন যোগ্য ব্যক্তি যদি রাতে আমার পাহারায় থাকত। এমন সময় আমরা অস্ত্রের শব্দ শুনতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ইনি কে? ব্যক্তিটি বলল, আমি সা‘দ ইব্নু আবূ ওয়াক্কাস, আপনার পাহারার জন্য এসেছি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে গেলেন। (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ৭০ হাদীস নং ২৮৮৫; মুসলিম ৪৪/৫ হাঃ ২৪১০)
০৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৬২
قال: ولم أر النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ذبح أبويه عن أحد غير سعد. فسمعته يقول: ارمي بالسهم، فداءك بأبي. (صحيح البخاري 2905، مسلم 2412)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সা’দ (রাঃ) ব্যতীত আর কারো জন্য তাঁর পিতা-মাতাকে উৎসর্গ করার কথা বলতে দেখিনি। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, ‘তুমি তীর নিক্ষেপ কর, তোমার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ (ফিদা) হোক।’ (সহিহ বুখারি ২৯০৫, মুসলিম ২৪১২)
১০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৬৩
قال: جمع لي النبي صلى الله عليه وسلم يوم أحد والديه (فداك أبي). (البخاري جزء 62 باب 15 حديث رقم 3725؛ مسلم 44/5 ح: 2411)
তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার জন্য তাঁর মাতা-পিতাকে একত্র করেছিলেন, (তোমার উপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক)। (বুখারী পর্ব ৬২ অধ্যায় ১৫ হাদীস নং ৩৭২৫; মুসলিম ৪৪/৫ হাঃ ২৪১১)
১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৬৫
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة الخندق: «من يأتيني بخبر العدو؟» فقال الزبير (رضي الله عنه): أنا. فقال: من يأتي بخبر عدوي؟ قال: سأحضر. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن لكل نبي ناصرًا، ومساعدي الزبير». (البخاري باب 56 باب 40 حديث رقم 2846 ؛ مسلم 44/6 ها 2415)
তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘কে আমাকে শত্রু পক্ষের খবরাখবর এনে দিবে?’ যুবাইর (রাঃ) বললেন, ‘আমি আনব।’ তিনি আবার বললেন, ‘আমার শত্রু পক্ষের খবরাখবর কে এনে দিবে?’ যুবায়র (রাঃ) আবারও বললেন, ‘আমি আনব।’ অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘প্রত্যেক নবীরই সাহায্যকারী থাকে আর আমার সাহায্যকারী যুবাইর।’ (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ৪০ হাদীস নং ২৮৪৬; মুসলিম ৪৪/৬ হাঃ ২৪১৫)
১২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৬৬
حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ أَمِينًا، وَإِنَّ أَمِينَنَا، أَيَّتُهَا الأُمَّةَ، أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ
আনাস বিন মালিকের হাদিস, যে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: প্রত্যেক জাতির একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি রয়েছে এবং হে জাতি, আমাদের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলেন আবু উবাইদাহ বিন সার্জন।
১৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৬৮
قال، قال النبي صلى الله عليه وسلم استهداف أهل نجران؛ سأرسل شخصًا سيكون مخلصًا حقًا. عند سماع ذلك، بدأ الصحابة كرم ينتظرون بفارغ الصبر. ثم أرسل (صلى الله عليه وسلم) أبا عبيدة (رضي الله عنه). (البخاري جزء 62 باب 21 حديث رقم 3745؛ مسلم جزء 44 ح: 2420)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজরানবাসীকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন; আমি এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাব যিনি হবেন প্রকৃতই বিশ্বস্ত। একথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করতে লাগলেন। পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ ‘উবাইদাহ(রাঃ)-কে পাঠালেন। (বুখারী পর্ব ৬২ অধ্যায় ২১ হাদীস নং ৩৭৪৫; মুসলিম পর্ব ৪৪ হাঃ ২৪২০)
১৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৭০
قال: رأيت الحسن على منكب النبي صلى الله عليه وسلم. فقال (عليه السلام) حينئذ: اللهم! أنا أحب ذلك، أنت تحب ذلك أيضا. (البخاري جزء 62 باب 22 حديث رقم 3749 ؛ مسلم
তিনি বলেন, আমি হাসানকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্কন্ধের উপর দেখেছি। সে সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, হে আল্লাহ্! আমি একে ভালবাসি, তুমিও তাকে ভালবাস। (বুখারী পর্ব ৬২ অধ্যায় ২২ হাদীস নং ৩৭৪৯; মুসলিম পর্ব ৪৪ হাঃ ২৪২২)
১৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৭১
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْثًا، وَأَمَّرَ عَلَيْهِمْ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ، فَطَعَنَ بَعْضُ النَّاسِ فِي إِمَارَتِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنْ تَطْعُنُوا فِي إِمَارَتِهِ فَقَدْ كُنْتُمْ تَطْعُنُونَ فِي إِمَارَةِ أَبِيهِ مِنْ قَبْلُ، وَايْمُ اللهِ إِنْ كَانَ لَخَلِيقًا لِلإِمَارَةِ، وَإِنْ كَانَ لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ، وَإِنَّ هذَا لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ بَعْدَهُ
আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের হাদিসে বলা হয়েছে: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি প্রতিনিধিদল পাঠালেন এবং উসামা বিন যায়েদ তাদের নেতৃত্বে নিযুক্ত হলেন, কিন্তু কিছু লোক তার নেতৃত্বে বিতর্ক করলো, তাই নবী বললেন যে, তুমি তার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ কর, যেমন তুমি তার পিতার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছিলে। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, তিনি যদি আমিরাতের যোগ্য হন, যদিও তিনি আমার কাছে মানুষের সবচেয়ে প্রিয় এবং এটি তার জন্য যে তার পরে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
১৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৭২
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ ابْنُ الزُّبَيْرِ لاِبْنِ جَعْفَرٍ رضي الله عنهما: أَتَذْكُرُ إِذْ تَلَقَّيْنَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَأنْتَ وَابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ: نَعَمْ فَحَمَلَنَا وَتَركَك
আবদুল্লাহ ইবনে জাফরের হাদিস ইবনে জাফর ইবনুল জুবায়ের ইবনে জাফরকে বলেন, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন: আমার মনে আছে যখন আমরা আল্লাহর রাসূলের সাথে সাক্ষাত করেছি, আমি, আপনি এবং ইবনে আব্বাস রা. তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাই সে আমাদের বহন করে তোমাকে ছেড়ে চলে গেছে
১৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৭৪
سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: مريم بنت عمران خير النساء، وخديجة خير النساء. (البخاري الجزء 60 باب 45 حديث رقم 3432 ؛ مسلم 44/12 ح: 2430)
আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, সমগ্র নারীদের মধ্যে ইমরানের কন্যা মারইয়াম হলেন সর্বোত্তম আর নারীদের সেরা হলেন খাদীজাহ (রাঃ)। (বুখারী পর্ব ৬০ অধ্যায় ৪৫ হাদীস নং ৩৪৩২; মুসলিম ৪৪/১২ হাঃ ২৪৩০)
১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৭৮
حديث عَائِشَةَ، قَالَتِ: اسْتَأْذَنَتْ هَالَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ، أُخْتُ خَدِيجَةَ، عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَرَف اسْتِئْذَانَ خَدِيجَةَ، فَارْتَاعَ لِذلِكَ، فَقَالَ: اللهُمَّ هَالَة قَالَتْ: فَغِرْتُ فَقُلْتُ: مَا تَذْكُرُ مِنْ عَجُوزٍ مِنْ عَجَائِزِ قرَيْشٍ، حَمْرَاءَ الشِّدْقَيْنِ، هَلَكَتْ فِي الدَّهْرِ، قَدْ أَبْدَلَكَ اللهُ خَيْرًا مِنْهَا
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্য কোন স্ত্রীর প্রতি এতটুকু ঈর্ষা করিনি যতটুকু খাদীজাহ (রাঃ)-এর প্রতি করেছি। অথচ আমি তাঁকে দেখিনি। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কথা বেশি সময় আলোচনা করতেন। কোন কোন সময় বকরী যবহ করে গোশতের পরিমাণ বিবেচনায় হাঁড়-মাংসকে ছোট ছোট টুকরা করে হলেও খাদীজাহ (রাঃ)-এর বান্ধবীদের ঘরে পৌঁছে দিতেন। আমি কোন সময় ঈর্ষা ভরে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতাম, মনে হয়, খাদীজাহ (রাঃ) ছাড়া দুনিয়াতে যেন আর কোন নারী নাই। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন, হাঁ। তিনি এমন ছিলেন, এমন ছিলেন, তাঁর গর্ভে আমার সন্তানাদি জন্মেছিল। (বুখারী পর্ব ৬৩ অধ্যায় ২০ হাদীস নং ৩৮১৮; মুসলিম ৪৪/১২, হাঃ নং ২৪৩৫)
১৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৮২
حديث عَائِشَةَ، أَنَّ النَّاسَ كَانُوا يَتَحَرَّوْنَ بِهَدَايَاهُمْ يَوْمَ عَائِشَةَ [ص: 142] يَبْتَغُونَ بِهَا، أَوْ يَبْتَغُونَ بِذَلِكَ، مَرْضَاةَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আয়েশার হাদিস যে, লোকেরা আয়েশার দিনে তাদের উপহারের সন্ধান করছিল [পৃ. 142] আল্লাহর রসূলকে সন্তুষ্ট করার জন্য তাদের সন্ধান করা বা এর দ্বারা অনুসন্ধান করা। ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ করুন এবং তাকে শান্তি দান করুন
২০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৮৩
2441، 2442)
লোকেরা তাদের হাদিয়া পাঠাবার ব্যাপারে ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর জন্য নির্ধারিত দিনের অপেক্ষা করত। এতে তারা রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করত। (বুখারী পর্ব ৫১ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ২৫৭৪; মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪১, ২৪৪২)
২১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৮৪
حديث عَائِشَةَ، أَنَّهَا سَمِعَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَصْغَتْ إِلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ، وَهُوَ مُسْنِدٌ إِلَيَّ ظَهْرَهُ يَقُولُ: اللهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارحَمْنِي وَأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ
আয়েশার হাদিস, যে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে শুনেছিলেন এবং তিনি মৃত্যুর আগে তাঁর কথা শুনেছিলেন, যখন তিনি আমার দিকে পিঠ ঠেকিয়ে বলেছিলেন: হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে একজন সঙ্গীর সাথে যুক্ত করুন।
২২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৮৫
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: كُنْتُ أَسْمَعُ أَنَّهُ لاَ يَمُوتُ نَبِيٌّ حَتَّى يُخَيَّرَ بَيْنَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ فَسَمِعْت النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، وَأَخَذَتْهُ بُحَّةٌ، يَقُولُ: (مَعَ الَّذِين أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ) الآيَةَ فَظَننْتُ أَنَّهُ خُيِّرَ
আয়েশার হাদিস, তিনি বলেন: আমি শুনেছিলাম যে একজন নবী ততক্ষণ পর্যন্ত মারা যায় না যতক্ষণ না তাকে দুনিয়া এবং আখেরাতের মধ্যে একটি পছন্দ দেওয়া হয়, তাই আমি নবীকে শুনেছি যে তিনি তাঁর অসুস্থতায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি কড়াকড়ি দ্বারা আক্রান্ত হন। তিনি বলেন: (আল্লাহ যাদেরকে দান করেছেন তাদের সাথে) আয়াতটি, তাই আমি ভেবেছিলাম এটি ভাল।
২৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৮৬
وسمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول في وجعه: «مع الذين أنعم الله عليهم [الأنبياء والصديقين والشهداء]» (سورة النساء 4/69). ثم فكرت أن أطلب منه أن يختار واحدًا أيضًا وقد كان (البخاري جزء 64 باب 84 حديث رقم 4435؛ مسلم 44/13، ه 2444)
তিনি বলেন, আমি এ কথা শুনেছিলাম যে, কোন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা যান না যতক্ষণ না তাঁকে বলা হয় দুনিয়া বা আখিরাতের একটি বেছে নিতে। যে রোগে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইন্তিকাল করেন সে রোগে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় বলতে শুনেছি-তাঁদের সঙ্গে যাঁদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা নি‘আমত প্রদান করেছেন [তাঁরা হলেন- নবী (‘আ.)-গণ, সিদ্দীকগণ এবং শহীদগণ।] (সূরাহ আন-নিসা ৪/৬৯)। তখন আমি ধারণা করলাম যে, তাঁকেও একটি বেছে নিতে বলা হয়েছে। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৮৪ হাদীস নং ৪৪৩৫; মুসলিম ৪৪/১৩, হাঃ ২৪৪৪)
২৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৮৮
حديث عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانَ إِذَا خَرَجَ، أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ فَطَارَتِ الْقُرْعَةُ لِعَائِشَةَ وَحَفْصَةَ وَكَانَ النَبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ بِاللَّيْلِ سَارَ مَعَ عَائِشَةَ يَتَحَدَّثُ فَقَالَتْ حَفْصَةُ: أَلاَ تَرْكَبِينَ اللَّيْلَةَ بَعِيرِي وَأَرْكَبُ بَعِيرَكَ تَنْظُرِينَ وَأَنْظُرُ فَقَالَتْ: بَلَى فَرَكِبَتْ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى جَمَلِ عَائِشَةَ، وَعَلَيْهِ حَفْصَةُ، فَسَلَّمَ عَلَيْهَا، ثُمَّ سَارَ حَتَّى نَزَلوا وَافْتَقَدَتْهُ عَائِشَةُ فَلَمَّا نَزَلُوا، جَعَلَتْ رِجْلَيْهَا بَيْنَ الإِذخِرِ، وَتَقُولُ: يَا رَبِّ سَلِّطْ عَلَيَّ عَقْرَبًا أَوْ حَيَّةً تَلْدَغُنِي، وَلاَ أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقُولَ لَهُ شَيْئًا
আয়েশা (রাঃ) এর হাদিস, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাইরে যেতেন, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে লটা ফেলতেন, এবং আয়েশা ও হাফসার জন্য লট পড়ে যেত এবং নবী প্রার্থনা করতেন যে আল্লাহ তাঁর উপর বরকত দান করুন এবং তাঁকে শান্তি দান করুন। যখন তিনি রাতে ছিলেন, তিনি আয়েশার সাথে কথা বলছিলেন, এবং হাফসা বললেন: আপনি কি আজ রাতে আমার উটে চড়বেন না? আর আমি তোমার উটে চড়ব আর তুমি দেখবে আর আমি দেখব। তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাই তিনি আরোহণ করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাফসাকে নিয়ে আয়েশার উটের কাছে এলেন। অতঃপর তিনি তাকে সালাম করলেন, তারপর তিনি হেঁটে গেলেন যতক্ষণ না তারা নামল এবং আয়েশা তাকে মিস করল। যখন তারা নামল, তখন তিনি তার পা ইধখিরের মাঝে রেখে বললেন: হে প্রভু, আমাকে শক্তি দিন।
২৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৮৯
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن منزلة عائشة رضي الله عنها من النساء كمنزلة الصف من الطعام». (البخاري الجزء 62 باب 30 حديث رقم 3770 ؛ مسلم 4/13 ح: 2446)
তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমি বলতে শুনেছি, ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মর্যাদা নারীদের উপর এমন যেমন সারীদের মর্যাদা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের উপর। (বুখারী পর্ব ৬২ অধ্যায় ৩০ হাদীস নং ৩৭৭০; মুসলিম ৪/১৩ হাঃ ২৪৪৬)
২৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৯৩
قال: أرسل علي (رضي الله عنه) ابنة أبي جهل يخطبها. فلما سمعت فاطمة (ع) هذا الخبر أتت إلى رسول الله (صلى الله عليه وآله) فقالت: إن أهل قبيلتك يظنون أنك تحترم بناتك. لا تغضب. علي مستعد للزواج من ابنة أبي جهل. واستعد رسول الله صلى الله عليه وسلم لإلقاء الخطبة. (قال المسور) فلما قرأ الحمد وسناء سمعته يقول: أنا أبو العاص بن زوجت ابنتي للربيع. ما قاله لي كان صحيحا. وفاطمة قطعتي؛ أنا لا أحب أن يعاني أبدًا. والله إن ابنة رسول الله وبنت عدو الله في نفس الشخص، ألا يستطيع علي أن يتراجع عن خطبته. (البخاري جزء 62 باب 16 حديث رقم 3729 ؛ مسلم 44/15 ح: 2449)
তিনি বলেন, আবূ জেহেলের কন্যাকে ‘আলী (রাঃ) বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে পাঠালেন। ফাতিমাহ (রাঃ) এ খবর শুনতে পেয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এসে বললেন, আপনার গোত্রের লোকজন মনে করে যে, আপনি আপনার মেয়েদের সম্মানে রাগান্বিত হন না। ‘আলী তো আবূ জেহেলের কন্যাকে বিবাহ করতে প্রস্তুত। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুত্বা দিতে প্রস্তুত হলেন। (মিস্ওয়ার বলেন) তিনি যখন হামদ ও সানা পাঠ করেন, তখন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, আমি আবূল ‘আস ইব্নু রাবির নিকট আমার মেয়েকে শাদী দিয়েছিলোম। সে আমার সঙ্গে যা বলেছে সত্যই বলেছে। আর ফাতিমাহ আমার টুক্রা; তাঁর কোন কষ্ট হোক তা আমি কখনও পছন্দ করি না। আল্লাহ্র কসম, আল্লাহ্র রাসূলের মেয়ে এবং আল্লাহ্র দুশমনের মেয়ে একই লোকের নিকট একত্রিত হতে পারে না। ‘আলী (রাঃ) তাঁর বিবাহের প্রস্তাব উঠিয়ে নিলেন। (বুখারী পর্ব ৬২ অধ্যায় ১৬ হাদীস নং ৩৭২৯; মুসলিম ৪৪/১৫ হাঃ ২৪৪৯)
২৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৯৫
حديث أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّ جَبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِنْدَهُ أُمُّ سَلَمَةَ فَجَعَلَ يُحَدِّثُ، ثُمَّ قَامَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لأُمِّ سَلَمَةَ: مَنْ هذَا قَالَ، قَالَتْ: هذَا دِحْيَةُ قَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ: ايْمُ اللهِ مَا حَسِبْتُهُ إِلاَّ إِيَّاهُ، حَتَّى سَمِعْتُ خُطْبَةَ نَبِيِّ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُخْبِرُ جِبْرِيلَ
উসামা বিন যায়েদের হাদিস যে, জিব্রাইল (আঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসলেন এবং উম্মে সালামাহ তাঁর সাথে ছিলেন এবং তিনি কথা বলতে শুরু করলেন, তারপর তিনি উঠে গেলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামাকে বললেনঃ ইনি কে? সে বললঃ এই দিহ্যা। উম্মে সালামা (রাঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি তার কথা চিন্তা করিনি। তিনি ব্যতীত, যতক্ষণ না আমি আল্লাহর নবীর খুতবা না শুনি, আল্লাহ তাঁর উপর বরকত বর্ষণ করুন এবং জিব্রাইলকে বললেন
২৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৯৬
قالت زوجة نبي للنبي (صلى الله عليه وسلم): أينا أول من يلقاك (بعد الموت)؟ قال: أطولكم يداً. بدأوا في قياس أيديهم من خلال عصا الخيزران. أثبتت أيدي سودا أنها أطول من أيادي الآخرين. لاحقًا [أولاً عندما ماتت زينب (رضي الله عنها)] فهمنا أن طول اليد يعني الصدقة. كانت [زينب (رضي الله عنها)] أول من لقيه (صلى الله عليه وسلم) وأعطت أحب القيام (البخاري جزء 24 باب 11 حديث رقم 1420؛ مسلم 44/17، ها 2452)
কোন নবী সহধর্মিনী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেনঃ আমাদের মধ্য হতে সবার পূর্বে (মৃত্যুর পর) আপনার সাথে কে মিলিত হবে? তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা। তাঁরা একটি বাঁশের কাঠির মাধ্যমে হাত মেপে দেখতে লাগলেন। সওদার হাত সকলের হাতের চেয়ে লম্বা বলে প্রমাণিত হল। পরে [সবার আগে যায়নাব (রাঃ)-এর মৃত্যু হলে] আমরা বুঝলাম হাতের দীর্ঘতার অর্থ দানশীলতা। তিনি [যায়নাব (রাঃ)] আমাদের মধ্যে সবার আগে তাঁর (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে মিলিত হন এবং তিনি দান করতে ভালবাসতেন। (বুখারী পর্ব ২৪ অধ্যায় ১১ হাদীস নং ১৪২০; মুসলিম ৪৪/১৭, হাঃ ২৪৫২)
২৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬০০
قال: والله! لا إله إلا هو . وهو أعلم بكل سورة نزلت في كتاب الله أين نزلت، وبكل آية فيما نزلت. أتمنى أن أعرف ذلك الشخص
তিনি বলেন, আল্লাহ্র কসম! যিনি ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, আল্লাহ্র কিতাবে অবতীর্ণ প্রতিটি সূরাহ সম্পর্কেই আমি জানি যে, তা কোথায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রতিটি আয়াত সম্পর্কেই আমি জানি যে, তা কোন্ ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি যদি জানতাম যে, কোন ব্যক্তি আল্লাহ্র কিতাব সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত এবং সেখানে ঊট পৌঁছতে পারে, তাহলে সওয়ার হয়ে সেখানে পৌঁছে যেতাম। (বুখারী পর্ব ৬৬ অধ্যায় ৮ হাদীস নং ৫০০২; মুসলিম ৪৪/২২, হাঃ ২৪৬৩)
৩০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬০১
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: ذُكِرَ عَبْدُ اللهِ عِنْدَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، فَقَالَ: ذَاكَ رَجُلٌ لاَ أَزَالُ أُحِبُّهُ بَعْدَ مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقولُ: اسْتَقْرِئوا الْقُرْآنَ مِنْ أَرْبَعَةٍ: مِنْ عَبْدِ اللهِ مَسْعُودٍ (فَبَدَأَ بِهِ) ، وَسَالِم مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ، وَأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘আম্র (রাঃ)-এর মজলিসে ‘আবদুল্লাহ ইব্নু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর আলোচনা হলে তিনি বললেন, আমি এই লোককে ঐদিন হতে অত্যন্ত ভালবাসি যেদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা চার ব্যক্তি হতে কুরআন শিক্ষা কর, ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু মাস‘ঊদ- সর্বপ্রথম তাঁর নাম বললেন আবূ হুযাইফাহ (রাঃ)-এর মুক্ত গোলাম সালিম, উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) ও মু‘আয ইব্নু জাবাল (রাঃ) থেকে। উবাই (রাঃ) ও মু‘আয (রাঃ) এ দু’জনের কার নাম আগে বলেছিলেন সেটুকু আমার স্মরণ নেই। (বুখারী পর্ব ৬২ অধ্যায় ২৬ হাদীস নং ৩৭৫৮; মুসলিম ৪৪/২২ হাঃ ২৪৬৪)
৩১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬০৩
قال النبي صلى الله عليه وسلم لأبي بن كعب (رضي الله عنه): إن الله أمرني أن أقرأ عليك سورة البينة. وسأل أبي بن كعب رضي الله عنه: هل سماني الله؟ النبي (صلى الله عليه وسلم)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ)-কে বললেন, আল্লাহ “সূরা বায়্যিনাহ” তোমাকে পড়ে শুনানোর জন্য আমাকে আদেশ করেছেন। উবাই ইব্নু কা‘ব (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ কি আমার নাম করেছেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হাঁ। তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। (বুখারী পর্ব ৬৩ অধ্যায় ১৬ হাদীস নং ৩৮০৯; মুসলিম ৪৪/২৩, হাঃ নং ২৪৬৪)
৩২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬০৪
حديث جَابِرٍ رضي الله عنه: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: اهْتَزَّ الْعَرْشُ لِمَوْتِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: সাদ বিন মুয়াদের মৃত্যুতে সিংহাসন কেঁপে উঠেছিল।
৩৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬০৬
قال: أعطى النبي صلى الله عليه وسلم برداً من حرير. لكنه نهى عن استخدام الأقمشة الحريرية. وكان الرفاق سعداء. ثم قال ذلك الوجود! والذي بيده حياة محمد سعد بن محمد في الجنة
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে একটি রেশমী জুব্বা হাদিয়া দেয়া হল। অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। এতে সাহাবীগণ খুশী হলেন। তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, জান্নাতে সা‘দ ইবনু মু‘আযের রুমালগুলো এর চেয়ে উৎকৃষ্ট। (বুখারী পর্ব ৫১ অধ্যায় ২৮ হাদীস নং ২৬১৫; মুসলিম ৪৪/২৪ হাঃ ২৪৬৯)
৩৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬০৯
حديث جَرِيرٍ رضي الله عنه، قَالَ: مَا حَجَبَنِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنْذُ أَسْلَمْتُ، وَلاَ رَآنِي إِلاَّ تَبَسَّمَ فِي وَجْهِي وَلَقَدْ شَكَوْتُ إِلَيْهِ أَنِّي لاَ أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ، فَضَرَبَ بِيَدِهِ فِي صَدْرِي، وَقَالَ: اللهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا
জারীরের হাদিস, আল্লাহ্ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন, যিনি বলেছেন: আমি ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে নবী, আল্লাহ্র দোয়া ও সালাম আমাকে অবরুদ্ধ করেননি, এবং তিনি আমাকে আমার মুখে হাসি ছাড়া দেখেননি এবং আমি তাঁর কাছে অভিযোগ করেছি যে আমি ঘোড়ায় দাঁড়াইনি, এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, তাঁকে একজন পথপ্রদর্শক বানিয়ে দিন।
৩৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬১১
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، دَخَلَ الْخَلاَءَ، فَوَضَعْتُ لَهُ وَضُوءًا، قَالَ: مَنْ وَضَعَ هذَا فَأُخْبِرَ فَقَالَ: اللهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
ইবনে আব্বাসের হাদিস, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টয়লেটে প্রবেশ করলেন এবং আমি তাঁর জন্য ওযু করলাম। তিনি বললেন: যে এটা পরলো তাকে জানানো হলো, এবং সে বলল: হে আল্লাহ। ধর্মে তার আইনশাস্ত্র
৩৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬১৩
قال: يا رسول الله (صلى الله عليه وسلم)! أنس (رضي الله عنه) عبدكم فادعو الله له. ودعا: اللهم! أكثر ماله وولده، وبارك فيما أعطيته (البخاري الجزء 80 الفصل 47 الحديث رقم 6378-6379، مسلم 44/31، ح 2480، 2481)
তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আনাস (রাঃ) আপনার খাদিম, আপনি আল্লাহ্র নিকট তার জন্য দু‘আ করুন। তিনি দু‘আ করলেনঃ হে আল্লাহ! আপনি তার মাল ও সন্তান বাড়িয়ে দিন, আর আপনি তাকে যা কিছু দিয়েছেন তাতে বারাকাত দান করুন। (বুখারী পর্ব ৮০ অধ্যায় ৪৭ হাদীস নং ৬৩৭৮-৬৩৭৯; মুসলিম ৪৪/৩১, হাঃ ২৪৮০, ২৪৮১)
৩৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬১৭
حديث حَسَّانِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ سَعِيدٍ بْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ: مَرَّ عُمَرُ فِي الْمَسْجِدِ وَحَسَّانُ يُنْشِدُ، فَقَالَ: كُنْتُ أُنْشِدُ فِيهِ، وِفِيهِ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْكَ ثُمَّ الْتَفَت إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ، فَقَالَ: أَنْشُدُكَ بِاللهِ أَسَمِعْتَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: أَجِبْ عَنِّي، اللهُمَّ أَيِّدْهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ قَالَ: نَعَمْ
তিনি বলেন, একদা ‘উমার (রাঃ) মাসজিদে নববীতে আগমন করেন, তখন হাস্সান ইব্নু সাবিত (রাঃ) কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। তখন তিনি বললেন, এখানে আপনার চেয়ে উত্তম ব্যক্তির উপস্থিতিতেও আমি কবিতা আবৃত্তি করতাম। অতঃপর তিনি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি; আপনি কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন যে, “তুমি আমার পক্ষ হতে জবাব দাও। হে আল্লাহ! আপনি তাকে রুহুল কুদুস [জিবরীল (‘আ.)] দ্বারা সাহায্য করুন।” তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ।* [মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করতে হাস্সান সাবিত (রাঃ)-এর প্রতি উমার (রাঃ) আপত্তি করাতে তিনি আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)-কে সাক্ষী হিসেবে পেশ করলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর উপস্থিতিতেও মাসজিদে কবিতা আবৃত্তি করেছেন।](বুখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ৩২১২; মুসলিম ৪৪/৪৩ হাঃ ২৪৮৫)
৩৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬১৮
حديث الْبَرَاءِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحَسَّانَ: اهْجُهُمْ أَوْ هَاجِهِمْ وَجِبرِيلُ مَعَكَ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাস্সান (রাঃ)-কে বলেছেন, তুমি তাদের কুৎসা বর্ণনা কর অথবা তাদের কুৎসার জবাব দাও। তোমার সঙ্গে জিবরীল (‘আ.) আছেন। (বুখারী পর্ব ৫৯ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ৩২১৩; মুসলিম ৪৪/৪৩ হাঃ ২৪৮৬)
৩৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬১৯
حديث عَائِشَةَ عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: ذَهَبْتُ أَسُبُّ حَسَّانَ عِنْدَ عَائِشَةَ، فَقَالَتْ: لاَ تَسُبُّهُ، فَإِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তিনি বলেন ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর সম্মুখে হাস্সান (রাঃ)-কে তিরস্কার করতে উদ্যত হলে, তিনি আমাকে বললেন, তাকে গালি দিও না। সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরফ হতে কবিতার মাধ্যমে শত্রুর কথার আঘাত প্রতিহত করত। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ১৬ হাদীস নং ৩৫৩১; মুসলিম ৪৪/৪৩ হাঃ ২৪৮৯)
৪০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬২১
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: اسْتَأْذَنَ حَسَّانُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هِجَاءِ الْمُشْرِكِينَ قَالَ: كَيْفَ بِنَسَبِي فَقَالَ حَسَّانٌ: لأَسُلَّنَّكَ مِنْهُمْ كَمَا تُسَلُّ الشَّعَرَةُ مِنَ الْعَجِينِ
আয়েশার হাদিস, যিনি বলেছেন: হাসান নবীকে জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ তাকে শান্তি দান করুন, মুশরিকদের ব্যঙ্গ করার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ আমার বংশ কেমন? হাসান বললেন: আমি তাদের কাছ থেকে তোমাকে উপহাস করব যেমন আমি আটা থেকে চুল টানা
৪১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬২৪
قال: كنت نازلاً مع النبي صلى الله عليه وسلم بالجوار الذي بين مكة والمدينة. وكان معه بلال رضي الله عنه. ثم جاء أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ألم تفي بما وعدتني؟ فقال له: «اقبل البشارة». قال: اقبل البشرى، كما أخبرتني بذلك مراراً. ثم التفت إلى أبي موسى وبلال مغضبا، وقال: لقد رد الرجل البشرى. كلاهما التقطا الوعاء وفعلا حسب التعليمات. ثم اتصلت بوالدتي
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট মাক্কাহ ও মাদীনাহ্র মধ্যবর্তী জিরানা নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম। তখন বিলাল (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। এমন সময়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এক বেদুঈন এসে বলল, আপনি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তা পূরণ করবেন না? তিনি তাঁকে বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর। সে বলল, সুসংবাদ গ্রহণ কর কথাটি তো আপনি আমাকে অনেকবারই বলেছেন। তখন তিনি ক্রোধ ভরে আবূ মূসা ও বিলাল (রাঃ)-এর দিকে ফিরে বললেন, লোকটি সুসংবাদ ফিরিয়ে দিয়েছে। তোমরা দু’জন তা গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা তা গ্রহণ করলাম। এরপর তিনি এক পাত্র পানি আনতে বললেন। তিনি এর মধ্যে নিজের উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুয়ে কুল্লি করলেন। তারপর বললেন, তোমরা উভয়ে এ থেকে পান করো এবং নিজেদের মুখমণ্ডল ও বুকে ছিটিয়ে দাও। আর সুসংবাদ গ্রহণ কর। তাঁরা উভয়ে পাত্রটি তুলে নিয়ে নির্দেশ মত কাজ করলেন। এমন সময় উম্মু সালামাহ (রাঃ) পর্দার আড়াল থেকে ডেকে বললেন, তোমাদের মায়ের জন্যও অতিরিক্ত কিছু রাখ। কাজেই তাঁরা এ থেকে অতিরিক্ত কিছু তাঁর [উম্মু সালামাহ (রাঃ)-এর] জন্য রাখলেন। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৫৭ হাদীস নং ৪৩২৮; মুসলিম ৪৪/৩৬ হাঃ ২৪৯৭)
৪২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬২৬
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إذا جاء أهل الأشعرية بليل فأنا أعرفهم بصوت تلاوتهم القرآن، وأعرف بيوتهم بصوت قراءة القرآن ليلاً، وإن كنت أعرفهم بصوت قراءة القرآن ليلاً».
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আশ‘আরী গোত্রের লোকেরা রাতের বেলায় এলেও আমি তাদেরকে তাদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ দিয়েই চিনতে পারি এবং রাতের বেলায় তাদের কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনেই আমি তাদের বাড়িঘর চিনতে পারি যদিও আমি দিবাভাগে তাদেরকে নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করতে দেখিনি। হাকীম ছিলেন আশ‘আরীদের একজন। যখন তিনি কোন দল কিংবা (বর্ণনাকারী বলেছেন) কোন দুশমনের মুখোমুখী হতেন তখন তিনি তাদেরকে বলতেন, আমার সাথীরা তোমাদের বলেছেন, যেন তোমরা তাঁদের জন্য অপেক্ষা কর। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ৩৯ হাদীস নং ৪২৩২; মুসলিম ৪৪/৩৯, হাঃ ২৪৯৯)
৪৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬২৭
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «كان الأشعري إذا احتاجوا في الجهاد، أو نقص أهلهم بالمدينة الطعام، جمعوا كل ما عندهم في ثوب». ثم يقيسونها بالجرة ويتقاسمونها بالتساوي فيما بينهم. ولذلك فهم لي وأنا لهم. (البخاري جزء 47 باب 1 حديث رقم 2486 ؛ مسلم 44/39 ه 2500)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আশ‘আরী গোত্রের লোকেরা যখন জিহাদে গিয়ে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে বা মদীনাতেই তাদের পরিবার পরিজনদের খাবার কম হয়ে যায়, তখন তারা তাদের যা কিছু সম্বল থাকে, তা একটা কাপড়ে জমা করে। তারপর একটা পাত্র দিয়ে মেপে তা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নেয়। কাজেই তারা আমার এবং আমি তাদের। (বুখারী পর্ব ৪৭ অধ্যায় ১ হাদীস নং ২৪৮৬; মুসলিম ৪৪/৩৯ হাঃ ২৫০০)
৪৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬৩২
قال: جاءت امرأة من الأنصار إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعها ابنها. فكلمه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: والذي نفسي بيده، إن الناس لأحب الناس إلي. قال هذا مرتين. (البخاري ج 63 باب 5 حديث رقم 3786 ومسلم ج 44 حديث رقم 2509)
তিনি বলেন, একজন আনসারী মহিলা তার শিশুসহ রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হাযির হলেন। রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সঙ্গে কথা বললেন এবং বললেন, ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, লোকদের মধ্যে তোমরাই আমার সবচেয়ে প্রিয়জন। কথাটি তিনি দু’বার বললেন। (বুখারী পর্ব ৬৩ অধ্যায় ৫ হাদীস নং ৩৭৮৬; মুসলিম পর্ব ৪৪ হাঃ নং ২৫০৯)
৪৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬৩৩
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: الأنصار أقرب الناس إلي وأوثقهم. سيزداد عدد السكان وسيقل عددهم. فتقبل حسناتهم واغفر سيئاتهم. (البخاري، ج 63، باب 11).
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আনসারগণ আমার অতি আপনজন ও বিশ্বস্ত লোক। লোকসংখ্যা বাড়তে থাকবে আর তাদের সংখ্যা কমতে থাকবে। তাই তাদের নেক্কারদের নেক ‘আমালগুলো কবূল কর এবং তাদের ভুল-ত্রুটি মাফ করে দাও। (বুখারী পর্ব ৬৩ অধ্যায় ১১ হাদীস নং ৩৮০১; মুসলিম ৪৪/৪৩, হাঃ নং ২৫১০)
৪৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬৩৪
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: خير القبائل بني النجار، ثم بني عبد الأشهل، ثم بني الحارث بن الخزرج، ثم بني ساعدة والأنصار. هناك خير في كل القبائل. فلما سمع سعد ذلك قال:
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম গোত্র হল বানূ নাজ্জার, তারপর বানূ ‘আবদুল আশহাল তারপর বনূ হারিস ইব্নু খাযরাজ তারপর বানূ সায়িদা এবং আনসারদের সকল গোত্রের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে। এ শুনে সা‘দ (রাঃ) বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্যদেরকে আমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন? তখন তাকে বলা হল; তোমাদেরকে তো অনেক গোত্রের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। (বুখারী পর্ব ৬৩ অধ্যায় ৭ হাদীস নং ৩৭৮৯; মুসলিম ৪৪/৪৪, হাঃ নং ২৫১১)
৪৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬৩৫
قال: كنت مع جرير بن عبد الله (رضي الله عنه) في سفر. لقد كرهني. مع أنه أكبر من أنس (رضي الله عنه). وقال جرير رضي الله عنه: لقد رأيت عمل الأنصار وأحترمهم كلما لقيتهم. (البخاري، الحلقة 56، الباب 71، حديث رقم 2888؛ مسلم 44/45 هـ 2513)
তিনি বলেন, এক সফরে আমি জারীর ইব্নু ‘আবদুল্লাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমার খেদমত করতেন। যদিও তিনি আনাস (রাঃ)-এর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। জারীর (রাঃ) বলেন, আমি আন্সরদের এমন কিছু কাজ দেখেছি, যার কারণে তাদের কাউকে পেলেই সম্মান করি। (বুখারী পর্ব ৫৬ অধ্যায় ৭১ হাদীস নং ২৮৮৮; মুসলিম ৪৪/৪৫ হাঃ ২৫১৩)
৪৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬৩৭
حديث ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ عَلَى الْمِنْبَرِ: غِفَارُ، غَفَرَ اللهُ لَهَا وَأَسْلَمُ، سَالَمَهَا اللهُ وَعُصَيَّةُ، عَصَتِ اللهَ وَرَسُولَهُ
ইবনে উমরের হাদিস যে আল্লাহর রসূল, আল্লাহ তার উপর আশীর্বাদ করুন এবং তাকে শান্তি দিন, মিম্বরে বলেছিলেন: ক্ষমাকারী, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তাকে শান্তি দিন, আল্লাহ তাকে শান্তি দিন এবং অবাধ্যতা করুন, সে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিল। এবং তাঁর রাসূল সা
৪৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬৩৯
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «لأسلم وجيفر ومزينة وجحنة أو بعض جهينة أو بعض مزينة أفضل عند الله أو يوم القيامة من بني أسد وتميم وهوازن وغطفان».
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আসলাম, গিফার এবং মুযাইনাহ ও জুহানাহ গোত্রের কিছু অংশ অথবা জুহাইনাহর কিছু অংশ কিংবা মুযায়নাহর কিছু অংশ আল্লাহ্র নিকট অথবা বলেছেন কিয়ামতের দিন আসাদ, তামীম, হাওয়াযিন ও গাত্ফান গোত্র চেয়ে উত্তম বলে বিবেচিত হবে। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ১১ হাদীস নং ৩৫২৩; মুসলিম ৪৪/৪৭ হাঃ ২৫২১)
৫০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৬৪৩
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تغرمون الناس». خيار أهل الجاهلية في الأيام صالحون حتى بعد الإسلام إذا اكتسبوا العلم الديني وكنتم في أمور الحكم والسلطان. وخير الناس أكثرهم تجرداً في هذا الأمر. وشر الناس الرجل ذو الوجهين الذي يتكلم بطريقة إلى جماعة وبالأخرى إلى جماعة أخرى. (البخاري الجزء 61، الباب 1، الحديث رقم 1000).
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা মানুষকে ঋণির মত পাবে। আইয়্যামে জাহিলীয়্যাতের উত্তম ব্যক্তিগণ ইসলাম গ্রহণের পরও তারা উত্তম যখন তারা দীনী জ্ঞান অর্জন করে আর তোমরা শাসন ও কর্তৃত্বের ব্যাপারে লোকদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তিকে পাবে যে এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে সবচেয়ে অধিক অনাসক্ত।\nআর মানুষের মধ্যে সব থেকে নিকৃষ্ট ঐ দু’মুখী ব্যক্তি যে একদলের সঙ্গে এক ভাবে কথা বলে অপর দলের সঙ্গে আরেকভাবে কথা বলে। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ১ হাদীস নং ৩৪৯৩-৩৪৯৪; মুসলিম ৪৪/৪৮ হাঃ ২৫২৬)