অধ্যায় ৪৩
অধ্যায়ে ফিরুন
৪০ হাদিস
০১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৭৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
"قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ""إنما حالي وحال الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بيتاً فزينه وزيَّنه، وترك لبنة فارغة من جانب واحد، فيمر عليه الناس، فيتساءلون لماذا لم توضع اللبنة في هذا المكان؟ قال النبي صلى الله عليه وسلم: أنا تلك اللبنة، وأنا آخر الأنبياء صلى الله عليه وسلم"" (البخاري جزء 61 باب 18 حديث رقم 111). 3535؛ مسلم 43/ 7 هـ 2286).
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা এমন, এক ব্যক্তি যেন একটি গৃহ নির্মাণ করল, তাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক পাশে একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন এর চারপাশে ঘুরে আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হল না কেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমিই সে ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ১৮ হাদীস নং ৩৫৩৫; মুসলিম ৪৩/৭ হাঃ ২২৮৬)
০২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৭৫
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
حديث جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَثَلِي وَمَثَلُ الأَنْبِيَاءِ كَرَجُلٍ بَنى دَارًا فَأَكْمَلَهَا وَأَحْسَنَهَا إِلاَّ مَوْضِعَ لَبِنَةٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَدْخُلُونَهَا وَيَتَعَجَّبُونَ وَيَقُولُونَ: لَوْلاَ مَوُضِعُ اللَّبِنَةِ
জাবির ইবনে আবদুল্লাহর হাদিস থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার দৃষ্টান্ত এবং নবীদের দৃষ্টান্ত এমন একজন ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর তৈরি করে তা সম্পূর্ণ করে এবং উন্নত করে, একটি স্থান ছাড়া। একটি ইট, এবং লোকেরা এতে প্রবেশ করতে শুরু করে এবং বিস্ময় প্রকাশ করে এবং বলে: যদি এটি ইটের অবস্থান না হত।
০৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৭৬
জুনডুব (রা)
حديث جُنْدَبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: أَنَا فَرَطكُمْ عَلَى الْحَوْضِ
জুনদুবের হাদিস, যিনি বলেছেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি: আমি তোমাকে বেসিনের উপর ঢেলে দেব।
০৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৭৭
সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
قال: فقال النبي صلى الله عليه وسلم: أنا قبلك على حافة الحوض. ومن يمر بي يشرب ماء البيت. ومن شربه فلا يظمأ بعده أبداً. مما لا شك فيه أن بعض المجتمع قبلي (المنزل). سوف تظهر سأعرفهم وسيعرفونني. فيكون بيني وبينهم سد. (البخاري ج 81 باب 53 حديث رقم 6583 ؛ مسلم 43/9 ه 2291)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি তোমাদের আগে হাউযের ধারে পৌঁছব। যে আমার নিকট দিয়ে অতিক্রম করবে, সে হাউযের পানি পান করবে। আর যে পান করবে সে আর কখনও পিপাসার্ত হবে না। নিঃসন্দেহে কিছু সম্প্রদায় আমার সামনে (হাউযে) উপস্থিত হবে। আমি তাদেরকে চিনতে পারব আর তারাও আমাকে চিনতে পারবে। এরপর আমার এবং তাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেয়া হবে। (বুখারী পর্ব ৮১ অধ্যায় ৫৩ হাদীস নং ৬৫৮৩; মুসলিম ৪৩/৯ হাঃ ২২৯১)
০৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৭৮
আবু আল-সাইদ খুদরি (রাঃ)
فقال النبي صلى الله عليه وسلم: فأقول هم أمتي. فيقال إنك لا تدري ما أحدثوا من بعدك. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: فأقول: انصرف! من اتبعني فإنهم من الدين قد تغيروا بينهم، فهم بعيدون من رحمة الله. (البخاري جزء 81 باب 53 حديث رقم 6584؛ مسلم 43/9، ح 2290، 2291)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি তখন বলব যে এরা তো আমারই উম্মাত। তখন বলা হবে, তুমি তো জান না তোমার পরে এরা কি সব নতুন নতুন কীর্তি করেছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন তখন আমি বলব, দূর হও! আমার পরে যারা দ্বীনের মাঝে পরিবর্তন এনেছ তারা আল্লাহ্‌র রহমত থেকে দূর হও। (বুখারী পর্ব ৮১ অধ্যায় ৫৩ হাদীস নং ৬৫৮৪; মুসলিম ৪৩/৯, হাঃ ২২৯০, ২২৯১)
০৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৮১
উকবাহ বিন আমির (রাঃ)
حديث عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَتْلَى أُحُدٍ، بَعْدَ ثَمَانِي سِنِينَ، كَالْمُوَدِّعِ لِلأَحْيَاءِ وَالأَمْوَاتِ، ثُمَّ طَلَعَ الْمِنْبَرَ، فَقَالَ: إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ، وَأَنَا عَلَيْكُمْ شَهِيدٌ، وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الْحَوْضُ، وَإِنِّي لأَنْظُرُ إِلَيْهِ مِنْ مَقَامِي هذَا، وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشى عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا، وَلكِنِّي أَخْشى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا، أَنْ تَنَافَسُوهَا
তিনি বলেন, আট বছর পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদের শহীদদের জন্য (কবরস্থানে) এমনভবে দু‘আ করলেন যেমন কোন বিদায় গ্রহণকারী জীবিত ও মৃতদের জন্য দু‘আ করেন। তারপর তিনি (ফিরে এসে) মিম্বারে উঠে বললেন, আমি তোমাদের অগ্রে প্রেরিত এবং আমিই তোমাদের সাক্ষীদাতা। এরপর হাউযে কাউসারের ধারে তোমাদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটবে। আমার এ স্থান থেকেই আমি হাউযে কাউসার দেখতে পাচ্ছি। তোমরা শির্‌কে জড়িয়ে যাবে আমি এ ভয় করি না। তবে আমার আশঙ্কা হয় যে, তোমরা দুনিয়ায় সুখ-শান্তি লাভে প্রতিযোগিতা করবে। (বুখারী পর্ব ৬৪ অধ্যায় ১৭ হাদীস নং ৪০৪২; মুসলিম ৪৩/৯, হাঃ ২২৯৬)
০৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৮২
Abdullah Bin Mas'ud
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: أَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ، وَلَيُرْفَعَنَّ رِجَالٌ مِنْكُمْ، ثُمَّ لَيُخْتَلَجُنَّ دُونِي، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ أَصْحَابى فَيُقَالُ: إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ
তিনি বলেন, আমি তোমাদের আগে হাউয-এর কাছে গিয়ে পৌঁছব। আর (ঐ সময়) তোমাদের কতিপয় লোককে নিঃসন্দেহে আমার সামনে উঠানো হবে। আবার আমার সামনে থেকে তাদেরকে পৃথক করে নেয়া হবে। তখন আমি আরয করব, প্রভু হে! এরা তো আমার উম্মাত। তখন বলা হবে, তোমার পরে এরা কী কীর্তি করেছে তাতো তুমি জান না। (বুখারী পর্ব ৮১ অধ্যায় ৫৩ হাদীস নং ৬৫৭৬; মুসলিম ৪৩/৯, হাঃ ২২৯৭)
০৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৮৩
হারিসাহ ইব্‌নু ওয়াহ্ব
حديث حارِثَةَ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَذَكَرَ الْحَوْضَ فَقَالَ كَمَا بَيْنَ الْمَدِينَةِ وَصَنْعَاءَ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হাউযে কাউসারের আলোচনা করতে শুনেছি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেনঃ হাউযে কাউসার মাদীনাহ এবং সান‘আ নামক স্থানের মধ্যকার দূরত্বের মতো। (বুখারী পর্ব ৮১ অধ্যায় ৫৩ হাদীস নং ৬৫৯১; মুসলিম ৪৩/৯ হাঃ ২২৯৮)
০৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৮৪
বর্ণনাকারী (RA)
حديث فَقَالَ لَهُ الْمُسْتَوْرِدُ، أَلَمْ تَسْمَعْهُ قَالَ الأَوَانِي قَالَ: لاَ قَالَ الْمُسْتَوْرِدُ: [ص: 98] تُرَى فِيهِ الآنِيَةُ مِثْلَ الْكَوَاكِبِ أخرجهما البخاري في: 81 كتاب الرقاق: 53 باب في الحوض وقول الله تعالى (إنا أعطيناك الكوثر)
তখন মুসতাওরিদ তাঁকে বললেন যে, ‘আল আওয়ানী’ যে বলেছেন তা কি তুমি শুননি? তিনি বললেন, না। মুসতাওরিদ বললেন, এর পাত্রগুলো তারকারাজির মত পরিলক্ষিত হবে। (বুখারী পর্ব ৮১ অধ্যায় ৫৩ হাদীস নং ৬৫৯২; মুসলিম ৪৩/৯, হাঃ ২২৯৮)
১০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৮৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم والذي نفسي بيده لأخرجن (يوم القيامة) أقواما من بيتي (الكوثر) كما يخرج الغريب من البعير. (البخاري الجزء 42 الباب 10 الحديث رقم 2367 ؛
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি নিশ্চয়ই (কিয়ামাতের দিন) আমার হাউয (কাউসার) হতে কিছু লোকদেরকে এমনভাবে তাড়াব, যেমন অপরিচিত উট হাউয হতে তাড়ানো হয়। (বুখারী পর্ব ৪২ অধ্যায় ১০ হাদীস নং ২৩৬৭; মুসলিম ৪৩/৯, হাঃ ২৩০২)
১১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৯১
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَجْوَدَ النَّاسِ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكونُ فِي رَمَضَانَ، حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ وَكَانَ يَلْقَاهُ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ، فَيُدَارِسُهُ القُرْآنَ فَلَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ
ইবনে আব্বাসের হাদিস, যিনি বলেছেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উদার ছিলেন এবং তিনি রমজানে সবচেয়ে উদার ছিলেন, যখন জিব্রাইল তাঁর সাথে দেখা করেছিলেন, এবং তিনি রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং তিনি তাঁর সাথে কুরআন অধ্যয়ন করতেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণের চেয়েও বেশি উদার
১২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৯২
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: خدمت النبي صلى الله عليه وسلم عشر سنين. لكنه لم يقل لي كلمة واحدة. لم تسأل هذا لماذا فعلت هذا ولماذا لا؟ (البخاري جزء 78 باب 39 حديث رقم 6038؛ مسلم 43/13، ها 2309)
তিনি বলেন, আমি দশ বছর পর্যন্ত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খিদমত করেছি। কিন্তু তিনি কখনো আমার প্রতি উঃ শব্দ বলেননি। এ কথা জিজ্ঞেস করেননি, তুমি এ কাজ কেন করলে এবং কেন করলে না? (বুখারী পর্ব ৭৮ অধ্যায় ৩৯ হাদীস নং ৬০৩৮; মুসলিম ৪৩/১৩, হাঃ ২৩০৯)
১৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৯৩
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
فلما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة أخذ أبو طلحة رضي الله عنه بيدي، فأخذني إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم! أنس فتى حذر. نرجو أن يرضيك. قال أنس رضي الله عنه: خدمته حاضرا وفي سفر. بالله! لم يخبرني أبدًا عن العمل الذي قمت به، لماذا فعلته بهذه الطريقة؟ وهذا من أجل العمل الذي لم أقم به
যখন রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনায় আগমন করলেন, তখন আবূ ত্বলহা (রাঃ) আমার হাতে ধরে আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গেলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আনাস একজন হুঁশিয়ার ছেলে। সে যেন আপনার খেদমত করে। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি মুকীম এবং সফরকালে তাঁর খেদমত করেছি। আল্লাহ্‌র কসম! যে কাজ আমি করে নিয়েছি এর জন্য তিনি আমাকে কোন দিন এ কথা বলেননি, এটা এরূপ কেন করেছ? আর যে কাজ আমি করিনি এর জন্যও এ কথা বলেননি, এটা এরূপ কেন করনি? (বুখারী পর্ব ৮৭ অধ্যায় ২৭ হাদীস নং ৬৯১১; মুসলিম ৪৩/১৩ হাঃ ২৩০৯)
১৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৯৪
জাবির (রাঃ)
حديث جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: مَا سُئِل النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ قَطُّ، فَقَالَ: لاَ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এমন কোন জিনিসই চাওয়া হয়নি, যার উত্তরে তিনি ‘না’ বলেছেন। (বুখারী পর্ব ৭৮ অধ্যায় ৩৯ হাদীস নং ৬০৩৪; মুসলিম ৪৩/১৪ হাঃ ২৩১১)
১৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৯৫
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ)
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: إذا جاء عرض البحرين لأعطينك الكثير. ولكن بضائع البحرين لم تصل إلا بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم. ولما وصلت البضاعة إلى البحرين، أُعلن أمر أبي بكر رضي الله عنه، من كان له عهد أو دين على النبي صلى الله عليه وسلم فليأتني. فذهبت إليه فقلت إن النبي صلى الله عليه وسلم قال ليعطيني الكثير. ثم
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, যদি বাহরাইনের মাল এসে যায় তাহলে আমি তোমাকে এতো এতো দিব। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাত পর্যন্ত বাহরাইনের মাল এসে পৌঁছায়নি। পরে যখন বাহরাইনের মাল পৌঁছল, আবূ বকর (রাঃ)-এর আদেশে ঘোষণা করা হল, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যার অনুকূলে কোন প্রতিশ্রতি বা ঋণ রয়েছে সে যেন আমার নিকট আসে। আমি তার নিকট গিয়ে বললাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এতো এতো দিবেন বলেছিলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) আমাকে এক অঞ্জলি ভরে দিলেন, আমি তা গণনা করলাম এতে পাঁচ শ’ ছিল। তারপর তিনি বললেন, এর দ্বিগুণ নিয়ে যাও। (বুখারী পর্ব ৩৯ অধ্যায় ৩ হাদীস নং ২২৯৬; মুসলিম ৪৩/১৪, হাঃ ২৩১৪)
১৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৯৭
আয়েশা (রাঃ)
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: تقَبِّلُونَ الصِّبْيَانَ فَمَا نُقَبِّلُهُمْ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَوَ أَمْلِكُ لَكَ أَنْ نَزَعَ اللهُ مِنْ قَلْبِكَ الرَّحْمَةَ
আয়েশার হাদিস, যিনি বলেছেন: একজন বেদুইন নবীর কাছে এসেছিল, আল্লাহ তাকে শান্তি দিন এবং বললেন: আপনি কি বাচ্চাদের চুম্বন করেন, কিন্তু আমরা তাদের চুম্বন করি না। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ও সালাম: অথবা আমি তোমার জন্য আশা করি যে, আল্লাহ তোমার অন্তর থেকে করুণা দূর করবেন।
১৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৪৯৯
জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ)
حديث جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ لاَ يَرْحَمُ لاَ يُرْحَمُ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (সৃষ্টির প্রতি) দয়া করে না, (স্রষ্টার পক্ষ থেকে) তার প্রতি দয়া করা হবে না। (বুখারী পর্ব ৭৮ অধ্যায় ২৭ হাদীস নং ৬০১৩; মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৯)
১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫০২
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: كنت في زيارة رسول الله صلى الله عليه وسلم. وكان معه عبد أسود اسمه أنجاشاه. كانت تغني. فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا أنجاشاه! هلاكك تركب الجمل مثل الجرة الزجاجية
তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক সফরে ছিলাম। তাঁর সঙ্গে তখন আনজাশাহ নামের এক কালো গোলাম ছিল। সে পুঁথি গাইছিল। রসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে বললেনঃ ওহে আনজাশাহ! তোমার সর্বনাশ। তুমি উটটিকে কাঁচপাত্র সদৃশ সওয়ারীদের নিয়ে ধীরে চালাও। (বুখারী, পর্ব ৭৮ : আদব-আচার, অধ্যায় ৯৫, হাদিস ৬১৬১; মুসলিম পর্ব ৪৩ : ফাযায়েল অধ্যায় ১৮, হাদিস ২৩২৩)
১৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫০৩
আয়েশা (রাঃ)
وكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا ترك أحد الأمرين أخذ أيسرهما إذا لم يكن إثما. وبقي بعيدًا عن الخطيئة. النبي صلى الله عليه وسلم عن نفسه لم ينتقم قط. ولكن إذا انتهكت حدود الله فإنه ينتقم لإرضاء الله. (البخاري، ج 61، باب 23، حديث رقم 3560؛ مسلم ج 43، الفضائل باب 20، ه 2327).
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যখনই দু’টি জিনিসের একটি গ্রহণের স্বাধীনতা দেয়া হত, তখন তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন যদি তা গুনাহ না হত। গুনাহ হতে তিনি অনেক দূরে অবস্থান করতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তবে আল্লাহ্‌র সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে আল্লাহ্‌কে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রতিশোধ নিতেন। (বুখারী, পর্ব ৬১ অধ্যায় ২৩ হাদীস নং ৩৫৬০; মুসলিম পর্ব ৪৩; ফাযায়েল অধ্যায় ২০;হাঃ ২৩২৭
২০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫০৪
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: ما مسست شيئا ألين ولا أغلظ من كف النبي صلى الله عليه وسلم. وما شممت قط أطيب من ريح جسد النبي صلى الله عليه وسلم. (البخاري باب 61 باب 23 حديث رقم 3561 ؛ مسلم الحلقة 43 ;)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতের তালুর চেয়ে মোলায়েম কোন নরম ও গরদকেও আমি স্পর্শ করি নি। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শরীরের সুঘ্রাণ অপেক্ষা অধিক সুঘ্রাণ আমি কখনো পাইনি। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ২৩ হাদীস নং ৩৫৬১; মুসলিম পর্ব ৪৩;)
২১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫০৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
وكان يخزنه في قارورة ثم يمزجه في طيب يسمى "السك". \n\nوروى الربيع أنه لما حضرت وفاة أنس بن مالك أوصاني: أن يمزج من تلك السكة طيبه. فإذا هو ممزوج في طيبه. (البخاري جزء 79 باب 41 حديث رقم 6281)
তিনি বলেন, উম্মু সুলায়ম (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য চামড়ার বিছানা বিছিয়ে দিতেন এবং তিনি সেখানেই ঐ চামড়ার বিছানার উপর কায়লুলা করতেন। এরপর তিনি যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন তিনি তাঁর শরীরের কিছুটা ঘাম ও চুল সংগ্রহ করতেন এবং তা একটা শিশির মধ্যে জমাতেন এবং পরে ‘সুক্ক’ নামীয় সুগন্ধির মধ্যে মিশাতেন। \n\nরাবী বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনু মালিক-এর ওফাতের সময় ঘনিয়ে আসলে, তিনি আমাকে অসিয়ত করলেনঃ যেন ঐ সুক্ক থেকে কিছুটা তাঁর সুগন্ধির মধ্যে মিশিয়ে দেয়া হয়। সুতরাং তা তাঁর সুগন্ধির মধ্যে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল। (বুখারী পর্ব ৭৯ অধ্যায় ৪১ হাদীস নং ৬২৮১)
২২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫০৬
উম্ম আল-মু'মিনিন আয়েশা (রাঃ)
حديث عَائِشَةَ، أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ الْحارثَ بْنَ هِشَامٍ رضي الله عنه، سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْيُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَحْيَانًا يَأْتِينِي مِثْلَ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ، وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ، فَيُفْصَمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ عَنْهُ مَا قَالَ وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِي الْمَلَكُ رَجُلاً فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةَ: وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ فَيَفْصِمُ عَنْهُ، وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا
হারিস ইব্‌নু হিশাম (রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনার নিকট ওয়াহী কিরূপে আসে?’ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ [কোন কোন সময় তা ঘণ্টা বাজার মত আমার নিকট আসে। আর এটি-ই আমার উপর সবচেয়ে বেদনাদায়ক হয় এবং তা শেষ হতেই ফেরেশতা যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই, আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সাথে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই।] ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তীব্র শীতের সময় ওয়াহী নাযিলরত অবস্থায় তাঁকে দেখেছি। ওয়াহী শেষ হলেই তাঁর ললাট হতে ঘাম ঝরে পড়ত। (বুখারী পর্ব ১ অধ্যায় ২ হাদীস নং ২; মুসলিম ৪৩/২৩, হাঃ ২৩৩৩)
২৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫০৮
বারা (রা)
حديث الْبَرَاءِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَحْسَنَ النَّاسِ وَجْهًا، وَأَحْسَنَهُ خَلُقًا، لَيْسَ بِالطَّوِيلِ الْبَائِنِ وَلاَ بِالْقَصِيرِ
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা ছিল মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর এবং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম আখলাকের অধিকারী। তিনি বেশি লম্বাও ছিলেন না এবং বেঁটেও ছিলেন না। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ৪৩ হাদীস নং ৩৫৪৯; মুসলিম ৪৩/২৫ হাঃ২৩৩৭)
২৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫০৯
কাতাদাহ (রাঃ)
حديث أَنَسٍ، قَالَ: كَانَ شَعَرُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجِلاً لَيْسَ بِالسَّبِطِ وَلاَ الْجَعْدِ، بَيْنَ أُذُنَيْهِ وَعَاتِقِهِ
তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চুল মধ্যম ধরনের ছিল- না একেবারে সোজা লম্বা, না অতি কোঁকড়ান। আর তা ছিল দু’কান ও দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত। (বুখারী পর্ব ৭৭ অধ্যায় ৬৮ হাদীস নং ৫৯০৫; মুসলিম ৪৩/২৬ হাঃ২৩৩৮)
২৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫১২
আবু যুহাইফা (রাঃ)
قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فرأيت شعرة بيضاء في لحيته تحت شفته السفلى. (البخاري ج61 باب 23 حديث رقم 3545 ؛ مسلم 43/29هه 2342)
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি আর তাঁর নীচ ঠোঁটের নিম্নভাগে দাড়িতে সামান্য সাদা চুল দেখেছি। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ২৩ হাদীস নং ৩৫৪৫; মুসলিম ৪৩/২৯ হাঃ ২৩৪২)
২৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫১৩
আবু যুহাইফা (রাঃ)
قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم. وكان الحسن بن علي (رضي الله عنه) مثله. (البخاري جزء 61 باب 23 حديث رقم 3544 ؛ مسلم 43/29 ح:2342)
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দেখেছি। হাসান ইব্‌নু ‘আলী (রাঃ) ছিলেন তাঁরই সদৃশ। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ২৩ হাদীস নং ৩৫৪৪; মুসলিম ৪৩/২৯ হাঃ২৩৪২)
২৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫১৪
Sa'ib Bin Yazid
ذهبت بي عمتي إلى النبي (صلى الله عليه وسلم) فقالت: يا رسول الله (صلى الله عليه وسلم)! ابنة أخي مريضة. فمسح رسول الله صلى الله عليه وسلم رأسي ودعا لي. ثم توضأ. فشربت من ماء وضوئه. ثم وقفت خلفه. ثم رأيت خاتم النبوة بين كتفيه. لقد كان مثل نداء الستار. (البخاري الجزء 4 باب 40 الحديث رقم 190 ؛
আমার খালা আমাকে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার ভাগিনা অসুস্থ’। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং বরকতের দু‘আ করলেন। অতঃপর উযূ করলেন। আমি তাঁর উযুর (অবশিষ্ট) পানি পান করলাম। তারপর তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তখন আমি তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যস্থলে নুবূওয়াতের মোহর দেখতে পেলাম। তা ছিল পর্দার ঘুণ্টির মত। (বুখারী পর্ব ৪ অধ্যায় ৪০ হাদীস নং ১৯০; মুসলিম ৪৩/৩০, হাঃ ২৩৪৫)
২৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫১৫
রাবিয়াহ ইবনে আবু আবদ আল-রহমান (রা.)
حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ يَصِفُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: كَانَ رَبْعَةً مِنَ الْقَوْمِ، لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلاَ بِالْقَصِيرِ، أَزْهَرَ اللَّوْنِ، لَيْسَ بِأَبْيَضَ أَمْهَقَ، وَلاَ آدَمَ، لَيْسَ بِجَعْدٍ قَطَطٍ، وَلاَ سَبْطٍ رَجِلٍ؛ أُنْزِلَ عَلَيْهِ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعِينَ، فَلَبِثَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ يُنْزَلُ عَلَيْهِ، وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ، وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعَرَةً بَيْضَاءَ
তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনা দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকেদের মধ্যে মাঝারি গড়নের ছিলেন- বেশি লম্বাও ছিলেন না বা বেঁটেও ছিলে না। তাঁর শরীরের রং গোলাপী ধরনের ছিল, ধবধবে সাদাও নয় কিংবা তামাটে বর্ণেরও নয়। মাথার চুল কোঁকড়ানোও ছিল না, আবার একেবারে সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর উপর ওয়াহী নাযিল হওয়া শুরু হয়। প্রথম দশ বছর মাক্কায় অবস্থানকালে ওয়াহী যথারীতি নাযিল হতে থাকে। অতঃপর দশ বছর মাদীনায় কাটান। অতঃপর তাঁর মৃত্যুর সময় তখন তাঁর মাথা ও দাড়িতে কুড়িটি সাদা চুলও ছিল না। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ২৩ হাদীস নং ৩৫৪৭; মুসলিম ৪৩/৩১ হাঃ ২৩৩৮)
২৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫১৬
আয়েশা (রাঃ)
ولما توفي النبي صلى الله عليه وسلم وكان عمره ثلاثا وستين سنة. (البخاري ج61 باب 19 حديث رقم 3536 ؛ مسلم 43/32هه 2349)
যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মৃত্যু হয় তখন তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ১৯ হাদীস নং ৩৫৩৬; মুসলিম ৪৩/৩২ হাঃ ২৩৪৯)
৩০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫১৭
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَكَثَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بِمَكَّةَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ، وَتُوُفِّيَ وَهُوَ ابْنُ ثَلاَثٍ وَسِتِّينَ
ইবনে আব্বাসের হাদিস, যিনি বলেছেন: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় তেরো দিন অবস্থান করেন এবং তিনি তেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
৩১
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫১৮
যুবায়র ইব্‌নু মুতঈম
حديث جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِي خَمْسَةُ أَسْمَاءٍ؛ أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَحْمَدُ، وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللهُ بِي الْكُفْرَ، وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يَحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِي، وَأَنَا الْعَاقِبُ
জুবায়ের বিন মুতিমের হাদিস, আল্লাহ্‌ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন, যিনি বলেছেন: আল্লাহ্‌র রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমার পাঁচটি নাম আছে; আমি মুহাম্মাদ ও আহমাদ, এবং আমিই সেই মুছে ফেলার যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ কুফর মুছে দেন, এবং আমি সেই একত্রকারী যার পায়ে মানুষ সমবেত হবে এবং আমি আকিব।
৩২
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫১৯
আয়েশা (রাঃ)
قال: إن النبي صلى الله عليه وسلم عمل شيئاً بنفسه ورخص فيه لغيره. ومع ذلك، امتنع بعض الناس عن ذلك. فلما بلغ هذا الخبر النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الله".
তিনি বলেন, একবার নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে কোন কাজ করলেন এবং অন্যদের তা করার অনুমতি দিলেন। তথাপি একদল লোক তা থেকে বিরত রইল। এ খবর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি ভাষণ দিলেন এবং আল্লাহ্‌র প্রশংসার পর বললেনঃ কিছু লোকের কী হয়েছে, তারা এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে চায়, যা আমি নিজে করছি। আল্লাহ্‌র কসম! আমি আল্লাহ্‌র সম্পর্কে তাদের চেয়ে অধিক জ্ঞাত এবং আমি তাঁকে তাদের চেয়ে অনেক অধিক ভয় করি। (বুখারী পর্ব ৭৮ অধ্যায় ৭২ হাদীস নং ৬১০১; মুসলিম ৪৩/৩৫, হাঃ ২৩৫৬)
৩৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫২০
আব্দুল্লাহ ইবনু আয-যুবাইর (রাঃ)
وقال إن رجلاً من الأنصار تشاجر مع الزبير عند النبي (ص) في ماء نهر هرر الذي كان يسقي به النخل. فقال الأنصاري: اترك ماء القناة حتى يسيل فأبى جبير أن يعطيه. فلما تشاجرا في ذلك عند النبي صلى الله عليه وسلم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم للزبير: يا زبير! اروي أرضك (أولاً). بعد ذلك أطلق الماء لجارك. فغضب الأنصاري من ذلك وقال: هو ابن عمك. فظهرت علامات السخط على وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم قال: يا يبير! أنت تسقي أرضك بنفسك ثم تحبس الماء حتى يصل إلى السد. (البخاري جزء 42 باب 6 حديث رقم 2359 ؛ مسلم 43/36 ه 2357)
তিনি বলেন, এক আনসারী নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে যুবাইর (রাঃ)-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল যে পানি দ্বারা খেজুর বাগান সিঞ্চন করত। আনসারী বলল, নালার পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা (প্রবাহিত থাকে) কিন্তু যুবাইর (রাঃ) তা দিতে অস্বীকার করেন। তারা দু’জনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুবাইর(রাঃ)-কে বললেন, হে যুবাইর! তোমার যমীনে (প্রথমে) সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, সে তো আপনার ফুফাতো ভাই। এতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন, হে যুবাইর! তুমি নিজের জমি সিঞ্চন কর। এরপর পানি আটকে রাখ, যাতে তা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। (বুখারী পর্ব ৪২ অধ্যায় ৬ হাদীস নং ২৩৫৯; মুসলিম ৪৩/৩৬ হাঃ ২৩৫৭)
৩৪
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫২৫
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
من؟' قال: أبوك حذافة. فقام رجل فقال: يا رسول الله! من هو والدي؟ قال: أبوك شيبر داس سالم.
তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা অধিক হয়ে যাওয়ায় তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদেরকে বললেনঃ ‘তোমরা আমার নিকট যা ইচ্ছে প্রশ্ন কর।’ এক ব্যক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফাহ।’ আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হল শায়বার দাস সালিম।’ তখন ‘উমার(রাঃ) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ ‘হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট তাওবাহ করছি।’ (বুখারী পর্ব ৩ অধ্যায় ২৮ হাদীস নং ৯২; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৬০)
৩৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫২৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: ليأتين عليك زماناً يعتبر أهلك لقائي أحب إليهم من أن يكون لهم مال. (البخاري جزء 61 باب 25 حديث رقم 3589؛ مسلم 43/39 حديث رقم 2526)
তিনি বলেছেন, তোমাদের নিকট এমন যুগ আসবে যখন তোমাদের পরিবার-পরিজনরা, ধন-সম্পদের অধিকারী হওয়ার চেয়েও আমার সাক্ষাৎ পাওয়া তার নিকট অত্যন্ত প্রিয় বলে গণ্য করবে। (বুখারী পর্ব ৬১ অধ্যায় ২৫ হাদীস নং ৩৫৮৯; মুসলিম ৪৩/৩৯ হাদীস নং ২৫২৬)
৩৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫২৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
2365)
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমি মারিয়ামের পুত্র ‘ঈসার অধিক ঘনিষ্ঠ। আর নবীগণ পরস্পর আল্লাতী ভাই। আমার ও তার মাঝখানে কোন নবী নেই। (বুখারী পর্ব ৬০ অধ্যায় ৪৮ হাদীস নং ৩৪৪২; মুসলিম ৪৩/৪০ হাঃ ২৩৬৫)
৩৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫২৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ما من ابن آدم إلا يمسه الشيطان عند ولادته". يبكي بسبب مس الشيطان عند ولادته. ولكن مريم وابنها (عيسى) (ع) استثناء.
আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, এমন কোন আদাম সন্তান নেই, যাকে জন্মের সময় শয়তান স্পর্শ করে না। জন্মের সময় শয়তানের স্পর্শের কারণেই সে চিৎকার করে কাঁদে। তবে মারইয়াম এবং তাঁর ছেলে (ঈসা) (‘আ.) এর ব্যতিক্রম। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ্ বলেন, [“হে আল্লাহ্! নিশ্চয় আমি আপনার নিকট তাঁর এবং তাঁর বংশধরদের জন্য বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।] (বুখারী পর্ব ৬০ অধ্যায় ৪৪ হাদীস নং ৩৪৩১; মুসলিম ৪৩/৪০ হাঃ ২৩৬৬)
৩৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৩০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله (صلى الله عليه وسلم): اختتن النبي إبراهيم (ع) بسلاح الكتبة وهو ابن ثمانين سنة. (البخاري ج60 باب 8 حديث رقم 3356 ؛ مسلم 43/41هه 2370)
তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নবী ইব্‌রাহীম (‘আ.) সূত্রধরদের অস্ত্র দিয়ে নিজের খাতনা করেছিলেন যখন তার বয়স ছিল আশি বছর। (বুখারী পর্ব ৬০ অধ্যায় ৮ হাদীস নং ৩৩৫৬; মুসলিম ৪৩/৪১ হাঃ ২৩৭০)
৩৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৩৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: أرسل ملك الموت إلى موسى (ع). فلما جاء إليه لطمه موسى (عليه السلام). (ففقأت عيناه) ثم التفت ملكول موت إلى ربه وقال: لقد بعثت إلى عبد يريد أن يموت. لا، فرد الله عينيه، وأمر، ارجع فأخبره، يضع يده على ظهر ثور، فيجعل له بكل فرو غطته يده حياة سنة. فسمع موسى (ع) ذلك فقال: يا رب! ماذا سيحدث بعد ذلك؟ قال الله: ثم الموت. فقال موسى (ع) : فليكن الآن . ثم رمى حجرا ودعا الله تعالى أن يصل به إلى بيت المقدس. ربيع
তিনি বলেন, মালাকুল মাওতকে মূসা (‘আ.)-এর নিকট পাঠানো হল। তিনি তাঁর নিকট আসলে, মূসা (‘আ.) তাঁকে চপেটাঘাত করলেন। (যার ফলে তাঁর চোখ বেরিয়ে গেল।) তখন মালাকুল মাওত তাঁর প্রতিপালকের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন, আমাকে এমন এক বান্দার কাছে পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। তখন আল্লাহ্ তাঁর চোখ ফিরিয়ে দিয়ে হুকুম করলেন, আবার গিয়ে তাঁকে বল, তিনি একটি ষাঁড়ের পিঠে তাঁর হাত রাখবেন, তখন তাঁর হাত যতটুকু আবৃত করবে, তার সম্পূর্ণ অংশের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে তাঁকে এক বছর করে আয়ু দান করা হবে। মূসা (‘আ.) এ শুনে বললেন, হে আমার রব! অতঃপর কী হবে? আল্লাহ্ বললেনঃ অতঃপর মৃত্যু। মূসা (‘আ.) বললেন, তা হলে এখনই হোক। তখন তিনি একটি পাথর নিক্ষেপ করলে যতদূর যায় বাইতুল মাক্বদিসের ততটুকু নিকটবর্তী স্থানে তাঁকে পৌঁছে দেয়ার জন্য আল্লাহ্ তা‘আলার কাছে নিবেদন করলেন। রাবী বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি সেখানে থাকলে অবশ্যই পথের পাশে লাল বালুর টিলার নিকটে তাঁর ক্ববর তোমাদের দেখিয়ে দিতাম। (বুখারী পর্ব ২৩ অধ্যায় ৬৮ হাদীস নং ১৩৩৯; মুসলিম ৪৩/৪২ হাঃ ২৩৭২)
৪০
আল-লু'লু ওয়াল মারজান # ০/১৫৩৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
وقال إن شخصين أساءوا إلى بعضهما البعض. وكان أحدهما مسلماً والآخر يهودياً. فقال الرجل المسلم: والذي فضل على محمد صلى الله عليه وسلم في العالمين كافة. فقال اليهودي: والذي أعطى موسى (عليه السلام) خير العالمين. وفي هذا الوقت رفع الرجل المسلم يده وصفع وجه اليهودي. وفي هذا ذهب اليهودي إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وحائل المسلم بينه وبينه. (سوف أرى) موسى (ع) آخذ جانب واحد من العرش. ولا أدري هل أغمي عليه وأفاق قبلي أم كان ممن عافاه الله من الإغماء. (البخاري جزء 44 باب 1 حديث رقم 2411 ومسلم باب 43 ها 2373)
তিনি বলেন, দু’ ব্যক্তি একে অপরকে গালি দিয়েছিল। তাদের একজন ছিল মুসলিম, অন্যজন ইয়াহূদী। মুসলিম লোকটি বলল, তাঁর কসম, যিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সমস্ত জগতের মধ্যে ফাযীলাত প্রদান করেছেন। আর ইয়াহূদী লোকটি বলল, সে সত্তার কসম, যিনি মূসা (‘আ.)-কে সমস্ত জগতের মধ্যে ফাযীলাত দান করেছেন। এ সময় মুসলিম ব্যক্তি নিজের হাত উঠিয়ে ইয়াহূদীর মুখে চড় মারল। এতে ইয়াহূদী ব্যক্তিটি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে গিয়ে তার এবং মুসলিম ব্যক্তিটির মধ্যে যা ঘটেছিল, তা তাঁকে অবহিত করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা আমাকে মূসা (‘আ.)-এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। কারণ কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তাদের সাথে আমিও বেহুঁশ হয়ে পড়ব। তারপর সকলের আগে আমার হুঁশ আসবে, তখন (দেখতে পাব) মূসা (‘আ) আরশের একপাশ ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, তিনি বেহুঁশ হয়ে আমার আগে হুঁশে এসেছেন অথবা আল্লাহ তা‘আলা যাঁদেরকে বেহুঁশ হওয়া হতে রেহাই দিয়েছেন, তিনি তাঁদের মধ্যে ছিলেন। (বুখারী পর্ব ৪৪ অধ্যায় ১ হাদীস নং ২৪১১; মুসলিম ৪৩ অধ্যায়, হাঃ ২৩৭৩)