অধ্যায় ১৩
অধ্যায়ে ফিরুন
৩০ হাদিস
০১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৪৮৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كل أمتي في الجنة إلا من أبى». قيل: يا رسول الله! من سيرفض (مرة أخرى للذهاب إلى الجنة)؟ قال: "من تبعني فهو في الجنة". سيذهب، ومن عصاني فقد دخل الجنة». (البخاري 7280) .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে যাবে; কিন্তু সে নয় যে অস্বীকার করবে।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হে আল্লাহর রসূল! (জান্নাতে যেতে আবার) কে অস্বীকার করবে?’ তিনি বললেন, “যে আমার অনুসরণ করবে, সে জান্নাতে যাবে এবং যে আমার অবাধ্যতা করবে, সেই জান্নাত যেতে স্বীকার করবে।” (বুখারী ৭২৮০)
০২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৪৯০
আন-নু'মান ইবনে বশির (রাঃ)
عَنْ أَبِي عَبدِ الله النُّعمَانِ بنِ بَشِير رَضِيَ اللهُ عَنْهُما قَالَ : سَمِعتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يقول لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ متفقٌ عليه\nوَفِيْ رِوَايَةٍ لمسلم : كَانَ رَسُول الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يُسَوِّي صُفُوفَنَا حَتَّى كأنَّما يُسَوِّي بِهَا القِدَاحَ حَتَّى إِذَا رَأَى أَنَّا قَدْ عَقَلْنَا عَنْهُ ثُمَّ خَرَجَ يَوماً فقامَ حَتَّى كَادَ أنْ يُكَبِّرَ فرأَى رَجلاً بَادياً صَدْرُهُ فَقَالَ عِبَادَ الله لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ
আবু আবদুল্লাহ আল-নুমান বিন বশীর থেকে, আল্লাহ তাদের উভয়ের উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি: “তোমাদের সারি সোজা হোক, নতুবা আল্লাহ তোমাদের মুখমন্ডলের মধ্যে পার্থক্য করবেন তাতে একমত\nআর মুসলিমের একটি বর্ণনায়: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আশীর্বাদ করতেন, যতক্ষণ না তিনি আমাদের শান্তির মর্যাদা সোজা করতেন।
০৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৪৯৩
জাবের (রা)
عَن جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَثَلِي وَمَثَلُكُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ أوْقَدَ نَاراً فَجَعَلَ الجَنَادِبُ والفَرَاشُ يَقَعْنَ فِيهَا وَهُوَ يَذُبُّهُنَّ عَنْهَا وَأَنَا آخذٌ بحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ وَأنْتُمْ تَفَلَّتُونَ مِنْ يَدَيَّ رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমার ও তোমাদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মত যে আগুন প্রজ্বলিত করল। অতঃপর তাতে উচ্চুঙ্গ ও পতঙ্গ পড়তে আরম্ভ করল, আর সে ব্যক্তি তা হতে তাদেরকে বাধা দিতে লাগল। আমিও তোমাদের কোমর ধরে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাচ্ছি, আর তোমরা আমার হাত থেকে ছুটে গিয়ে (জাহান্নামের আগুনে) পতিত হচ্ছ।” (মুসলিম ৬০৯৮, বুখারী ৬৪৮৩)
০৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৪৯৫
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «مثلي الذي بعثني الله به أن رجلاً أتى قومه فقال: يا شعبي أنا شعبي». إني أرى في هاتين العينين جماعة من جنود العدو وأنا لكم نذير مبين. لذا أسرعوا، أسرعوا. فلما سمع ذلك بعض أمته قبل كلامه وهربوا بين عشية وضحاها، وهم مثل من أطاعني واتبع ما جئت به، ومثل من عصاني وكذب ما جئت به. (البخاري 6482، مسلم 6094، مشكاة 148)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমার এবং যে জিনিস দিয়ে আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হল এই যে, এক ব্যক্তি নিজ সম্প্রদায়ের নিকট এসে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি আমার এই দু’চোখে একদল শত্রুসৈন্য দেখে আসছি এবং আমি হচ্ছি তোমাদের জন্য একজন স্পষ্ট সতর্ককারী। সুতরাং তোমরা (বাঁচার জন্য) তাড়াতাড়ি কর, তাড়াতাড়ি কর।’এ কথা শুনে তার সম্প্রদায়ের কিছু লোক তার কথা মেনে নিয়ে রাতারাতি পলায়ন করল এবং এতে তারা ধীরে-সুস্থে যেতে পারল, আর (শত্রুর কবল থেকে) মুক্তিও পেল। পক্ষান্তরে অন্য একদল লোক তার সেই কথাকে মিথ্যা মনে করল। ফলে তারা নিজ নিজ ঘরে রাত্রিবাস করল। কিন্তু ভোর হতেই শত্রুসৈন্য তাদের উপর আক্রমণ চালিয়ে তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিল। এই হল সেই ব্যক্তির উদাহরণ, যে আমার আনুগত্য করে আমি যা আনয়ন করেছি তার অনুসরণ করে এবং সেই ব্যক্তির উদাহরণ, যে আমার অবাধ্য হয় এবং আমার আনীত সত্য বিষয়কে মিথ্যায়ন করে।”(বুখারী ৬৪৮২, মুসলিম ৬০৯৪, মিশকাত ১৪৮)
০৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৪৯৮
আ’বেস ইবনে রাবীআহ্ (রাঃ)
وعَن عَابِسِ بنِ رَبِيعَةَ قَالَ: رَأيْتُ عُمَرَ بنَ الخَطَّابِ يُقَبِّلُ الحَجَرَ - يَعْنِي : الأسْوَدَ - وَيَقُولُ: إني أَعْلَمُ أنَّكَ حَجَرٌ مَا تَنْفَعُ وَلاَ تَضُرُّ، وَلَولا أنِّي رَأيْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আবিস বিন রাবিয়াহ (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আমি ওমর বিন আল-খাত্তাবকে পাথরটিকে চুম্বন করতে দেখেছি - অর্থ: কালোটি - এবং বলছেন: আমি জানি যে আপনি এমন একটি পাথর যা আপনার উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না এবং আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে না দেখতাম, যেমন আমি আপনাকে চুম্বন করেছি। একমত।
০৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৪৯৯
আদী বিন হাতিম (রাঃ)
أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي عنقي صليب من ذهب. فلما رأى ذلك قال: يا عدي، أخرج هذا الصنم من جسدك. سمعته يقرأ هذه الآية من سورة التوبة: "إنهم لله" (قال عدي نعم، قال: "هذه عبادتهم") (الترمذي 3095).
একদা আমি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এলাম, তখন আমার গলায় স্বর্ণের ক্রুশ ছিল। তা দেখে তিনি বললেন, “হে আদী! তোমার দেহ থেকে এই প্রতিমা খুলে ফেলো।” আমি শুনলাম তিনি সূরা তওবার এই আয়াত পাঠ করলেন, যার অর্থ, “তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের পন্ডিত-পুরোহিতদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। (তাওবাহঃ ৩১) (আমি বললাম, আল্লাহ তো ইবাদতের কথা বলেছেন। কিন্তু ওরা তো পাদরীদের ইবাদত করত না।) তিনি বললেন, “ওরা তাদের ইবাদত করত না। কিন্তু তারা যা হালাল বলত, ওরা তাই হালাল এবং যা হারাম বলত, তাই হারাম বলে মেনে নিত।”(আদী বললেন, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, “এটাই হল তাদের ইবাদত করা।”) (তিরমিযী ৩০৯৫)
০৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫০০
মিকদাম বিন মা’দিকারিব
عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ أَلاَ إِنِّى أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ أَلاَ يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلاَلٍ فَأَحِلُّوهُ وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ ألاَ وَإنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ الله فَهُوَ مِثلُ مَا حَرَّم الله
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “শোন! আমাকে কুরআন দান করা হয়েছে এবং তারই সাথে তারই মতো (সুন্নাহ) দান করা হয়েছে। শোন! সম্ভবতঃ নিজ গদিতে বসে থাকা কোন পরিতৃপ্ত লোক বলবে, ‘তোমরা এই কুরআনের অনুসরণ কর; তাতে যা হালাল পাও, তাই হালাল মনে কর এবং তাতে যা হারাম পাও, তাই হারাম মনে কর। ---সতর্ক হও! আল্লাহর রসূল যা হারাম করেন, তাও আল্লাহর হারাম করার মতোই।”(আবূ দাঊদ ৪৬০৬, ইবনে মাজাহ ১২, দারেমী ৫৮৬, মিশকাত ১৬৩)
০৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫০৩
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ مَسعُودٍ قَالَ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ شَافِعٌ مُشَفِّعٌ مَنِ اتَّبِعَهُ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ وَمَنْ تَرَكَهُ أَوْ أَعْرَضَ عَنْهُ أَوْ كَلِمَةً نَحْوُهَا زَجَّ فِيْ قَفَاهُ إِلَى النَّارِ
তিনি বলেন, “এই কুরআন (কিয়ামতে) সুপারিশকারী; এর সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে। যে ব্যক্তি এর অনুসরণ করবে সে তাকে জান্নাতের প্রতি পথপ্রদর্শন করে নিয়ে যাবে। আর যে তাকে বর্জন করবে অথবা তার থেকে বিমুখ হবে তাকে ঘাড়-ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” (বাযযার হাদীসটিকে মওকূফ; সাহাবীর নিজস্ব উক্তি রূপে বর্ণনা করেছেন। অবশ্য তিনি জাবের (রাঃ) কর্তৃক উক্ত হাদীসটিকেই মরফূ’(রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উক্তি) রূপে বর্ণনা করেছেন। সহীহ তারগীব ৪৩, ১৪২৩)
০৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫০৪
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আমর (রাঃ)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لِكُلِّ عَمَلٍ شِرَّةٌ وَلِكُلِّ شِرَّةٍ فَتْرَةٌ فَمَنْ كَانَتْ فَتْرَتُهُ إِلَى سُنَّتِي فَقَدْ أَفْلَحَ وَمَنْ كَانَتْ إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ فَقَدْ هَلَكَ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “প্রত্যেক কর্মের উদ্যম আছে এবং প্রত্যেক উদ্যমের আছে নিরুদ্যমতা। সুতরাং যার নিরুদ্যমতা আমার সুন্নাহর গন্ডির ভিতরেই থাকে সে হেদায়াতপ্রাপ্ত হয় এবং যার নিরুদ্যমতা এ ছাড়া অন্য কিছুতে (সুন্নাত বর্জনে) অতিক্রম করে সে ধ্বংস হয়ে যায়।” (ইবনে আবী আসেম, ইবনে হিব্বান, আহমাদ ৬৯৫৮, ত্বাহাবী, সহীহ তারগীব ৫৬)
১০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫০৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
جاء ثلاثة نفر إلى بيت أزواج النبي صلى الله عليه وسلم. وسألوا عن عبادة النبي صلى الله عليه وسلم. فلما أخبروا به استصغروه وقالوا: أين النبي صلى الله عليه وسلم منا؟ وقد غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر. (لذلك نحن بحاجة إلى أن نصلي أكثر منه). فقال أحدهم: سأصلي الليل كله بقية حياتي. بالله! إني أخاف الله أكثر منك، وأخافه أكثر منك. ولكن أنا (نافل) أصوم وأفطر وأصلي وأنام. ويتزوجون النساء . فمن رغب عن سنتي فهو مني
তিন ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রীদের বাসায় এলেন। তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। অতঃপর যখন তাঁদেরকে এর সংবাদ দেওয়া হল তখন তাঁরা যেন তা অল্প মনে করলেন এবং বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর তুলনা কোথায়? তাঁর তো আগের ও পরের সমস্ত গোনাহ মোচন করে দেওয়া হয়েছে। (সেহেতু আমাদের তাঁর চেয়ে বেশী ইবাদত করা প্রয়োজন)।’সুতরাং তাঁদের মধ্যে একজন বললেন, ‘আমি সারা জীবন রাতভর নামায পড়ব।’ দ্বিতীয়জন বললেন, ‘আমি সারা জীবন সিয়াম রাখব, কখনো সিয়াম ছাড়ব না।’ তৃতীয়জন বললেন, ‘আমি নারী থেকে দূরে থাকব, জীবনভর বিয়েই করব না।’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের নিকট এলেন এবং বললেন, “তোমরা এই এই কথা বলেছ? শোনো! আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে বেশী আল্লাহকে ভয় করি, তার ভয় অন্তরে তোমাদের চেয়ে বেশী রাখি। কিন্তু আমি (নফল) সিয়াম রাখি এবং সিয়াম ছেড়েও দিই, নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই। আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাত হতে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” (বুখারী ৫০৬৩, মুসলিম ৩৪৬৯)
১১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫০৬
আল-ইরবাদ ইবনু সারিয়াহ (রাঃ)
عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنَ سَارِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا لَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ
আল-ইরবাদ বিন সারিয়াহ-এর সূত্রে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল, আল্লাহর দোয়া ও সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি তোমাকে আল-বায়দায় রেখে এসেছি। এর রাত তার দিনের মত এবং এর থেকে কিছু বিচ্যুত হয় না। আমার পরে ধ্বংস হওয়ার কেউ থাকবে না
১২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫১০
যায়দ বিন আরকাম
وقف رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم على جانب خزان يقال له "خُم" بين مكة والمدينة ليخطب. فقال بعد الثناء على الله والثناء عليه: ""أيها الناس، اسمعوا، أنا رجل، اقبلوا كتاب الله وتمسكوا به"." (মুসলিম ৬৩৭৮)
একদিন মক্কা-মদীনার মধ্যপথে ‘খুম’ নামক জলাশয়ের ধারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। সুতরাং তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করে ওয়ায-নসীহত করার পর বললেন,\n“অতঃপর হে লোক সকল! শোনো, আমি একজন মানুষ মাত্র, শীঘ্রই (আমার নিকট) আমার প্রতিপালকের দূত আসবেন এবং আমি (আল্লাহর নিকট যাওয়ার জন্য) তাঁর ডাকে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী (গুরুত্বপূর্ণ) বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি। তার মধ্যে একটি আল্লাহর কিতাব, যাতে হিদায়াত ও আলো রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ কর এবং তা মযবুত করে ধারণ কর।” (মুসলিম ৬৩৭৮)
১৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫১৪
আব্দুল্লাহ বিন সারজিস (রাঃ)
ذات مرة قال عمر (رضي الله عنه) وهو يقبل هزار أسود: والله! أقبلك ولكني أعلم أنه لا يمكنك فعل أي خير أو ضرر. ولكن لولا أني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقبل.
একদা উমার (রাঃ) হাজারে আসওয়াদকে চুম্বন দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ‘আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে চুমা দিচ্ছি। অথচ আমি জানি যে, তুমি কোন উপকার করতে পার না, অপকারও না। তবে যদি আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে চুম্বন দিতে না দেখতাম, তাহলে আমি তোমাকে চুম্বন দিতাম না।’ (মুসলিম ৩১২৮, বুখারী ১৫৯৭, ১৬১০)
১৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫১৫
জাবের (রা)
فقال له (صلى الله عليه وسلم): تعال يا عبد الله بن مسعود. (أبو داود 1093، الحكيم 1/423، البيهقي 3/218)
একদা জুমআর দিন আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুতবা দেওয়ার জন্য খাড়া হলেন। এমন সময় আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) মসজিদে এলেন। তিনি সকলকে বসতে আদেশ করলে তা শুনেই ইবনে মাসঊদ (রাঃ) দরজার উপরেই বসে গেলেন। তা দেখে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, “(ভিতরে) এস হে আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ!” (আবূ দাঊদ ১০৯৩, হাকেম ১/৪২৩, বাইহাক্বী ৩/২১৮)
১৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫১৬
বারো (RA)
عَنْ الْبَرَاءِ َأَنَّ النبي صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم صَلَّى أَوَّلَ صَلَاةٍ قِبل مكة صَلَاةَ الْعَصْرِ وَصَلَّى مَعَهُ قَوْمٌ فَخَرَجَ رَجُلٌ مِمَّنْ صَلَّى مَعَهُ فَمَرَّ عَلَى أَهْلِ مَسْجِدٍ وَهُمْ رَاكِعُونَ فَقَالَ أَشْهَدُ بِاللهِ لَقَدْ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قِبَلَ مَكَّةَ فَدَارُوا كَمَا هُمْ قِبَلَ الْبَيْتِ
তাই তারা বাড়ির সামনের মতো ঘুরে দাঁড়াল
১৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫১৭
বর্ণনাকারী (RA)
وكان يراقب في الاستسلام. فقال: والله! وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سعل وقع في يد أحدهم فيأخذه فيمسح به وجهه وجلده. وعندما أصدر أي أمر، كانوا يسارعون إلى إطاعة أوامره. وكان إذا توضأ كان وضوئه يقاتل من أجل الماء. وخفضوا أصواتهم إليه عندما تكلم. ولم ينظروا إليه بنفس الطريقة. فرجع عروة إلى أصحابه فقال يا قوم! كثيرا ما ذهبت إلى بلاط الملك، ذهبت إلى بلاط قيصر وكسرى والنجاشي. ولكن بالله! وما رأيت ملكًا أثنت عليه رعيته كما أثنى أتباع محمد (صلى الله عليه وسلم) على محمد! (البخاري 2732) .
হুদাইবিয়্যার সন্ধির সময় মক্কার কুরাইশদের প্রতিনিধি দল ও মুসলিমদের মাঝে কথাবার্তা ও টানাপোড়েন চলছিল। সেই অবস্থায় উরওয়াহ বিন মাসঊদ সাক্বাফী মুসলিমদের আচরণ সচক্ষে দর্শন করছিলেন। মুসলিমরা তাঁদের নবীর সাথে কী ব্যবহার করছে, তা তিনি সন্তর্পণে লক্ষ্য করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কফ ফেলতেই তা ওদের কারো হাতে পড়ছিল এবং সে তা নিয়ে নিজের চেহারা ও চামড়ায় মেখে নিচ্ছিল। তিনি কোন আদেশ করলে তারা তাঁর আদেশ পালনে তৎপর ছিল। তিনি উযূ করলে তাঁর উযূর পানি নেওয়ার জন্য মারামারি করছিল। তিনি কথা বললে তারা নিজেদের আওয়াজ তাঁর কাছে নিচু করে নিচ্ছিল। অতি সমীহতে তাঁর প্রতি তারা এক দৃষ্টে তাকাচ্ছিল না।’\nউরওয়াহ নিজ সঙ্গীদের কাছে ফিরে এসে বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! অনেক রাজা-বাদশার দরবারে গেছি, ক্বাইসার, কিসরা ও নাজাশীর দরবারে গেছি। কিন্তু আল্লাহর কসম! কোন রাজাকে দেখিনি, তার প্রজারা তাকে তেমন সমীহ করে, যেমন সমীহ করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসারীরা মুহাম্মাদের! (বুখারী ২৭৩২)
১৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫১৯
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
فلما رأى الصحابة وهم يلقحون النخل. أي أن الثور يأخذ أغصان الشجرة ويربطها بأغصان الشجرة الأنثوية. فقال: لا أرى فائدة من ذلك، حتى لو لم تفعل ذلك فإن التمر سينمو. وسماع تعليقاته تركه الصحابة. ولكن عندما تم حصاد التمر، وجد أن التمر لا يتغذى؛ ونتيجة لذلك، لم يكن محصوله جيدا. فرآه فقال: ما الأمر لماذا لا يثمر تمرك؟ قالوا بما أنك نهيت عن التلقيح فلا تفعله ফলে ফলন هذا اليوم. قال: فظننت ذلك، وأنت أعلم بأمر دنياك، فإن كان خيرا فافعله. (মুসলিম ২৩৬১-২৩৬৩)
একদা তিনি সাহাবাদেরকে দেখলেন, তাঁরা খেজুর মোছার পরাগ-মিলন সাধন করছেন; অর্থাৎ, ষাঁড়া গাছের মোছা নিয়ে মাদা গাছের মোছার সাথে বেঁধে দিচ্ছেন। তিনি বললেন, “আমার মনে হয় ঐরূপ করাতে কোন লাভ নেই। ঐরূপ না করলেও খেজুর ফলবে।” তাঁর এ মন্তব্য শুনে সাহাবাগণ তা ত্যাগ করলেন। কিন্তু খেজুর ফলার সময় দেখা গেল, খেজুর পরিপুষ্ট হয়নি; ফলে তার ফলনও ভালো হয়নি। তিনি তা দেখে বললেন, “কী ব্যাপার, তোমাদের খেজুরের ফলন নেই কেন?” তাঁরা বললেন, যেহেতু আপনি পরাগ-মিলন ঘটাতে নিষেধ করেছিলেন, সেহেতু তা না করার ফলে ফলন কম হয়েছে। তিনি বললেন, “আমি ওটা ধারণা করে বলেছিলাম। তোমরা তোমাদের পার্থিব বিষয় সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখ। অতএব তা ভালো হলে, তোমরা তা করতে পার।” (মুসলিম ২৩৬১-২৩৬৩)
১৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫২৯
মু'আবিয়াহ (রাঃ)
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِى سُفْيَانَ أَنَّهُ قَامَ فِينَا فَقَالَ أَلاَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَامَ فِينَا فَقَالَ أَلاَ إِنَّ مَنْ قَبْلَكُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ افْتَرَقُوا عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَإِنَّ هَذِهِ الْمِلَّةَ سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ ثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِى النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِى الْجَنَّةِ وَهِىَ الْجَمَاعَةُ
তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে দন্ডায়মান হয়ে বললেন, “শোনো! তোমাদের পূর্বে যে কিতাবধারী জাতি ছিল তারা ৭২ ফির্কায় বিভক্ত হয়েছিল। আর এই উম্মত বিভক্ত হবে ৭৩ ফির্কায়; এদের মধ্যে ৭২টি ফির্কাহ হবে জাহান্নামী আর একটি মাত্র জান্নাতী। আর ঐ ফির্কাটি হল (আহলে) জামাআত। (আহমাদ ১৬৯৩৭, আবূ দাঊদ ৪৫৯৯)
১৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৩০
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ও মুআবিয়া (রা.)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، والنصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة، كلها في النار إلا واحدة». ولما سئل قال: هم الجماعة. وفي رواية أخرى: «سأكون أنا وأصحابي على المبدأ الذي نحن عليه». (سنن أربع، مشكاة 171-172، السلسلة الصحيحة 203، 1492). الجزء الأخير من الحديث المذكور، أَقْوَامٌ تَجَارَى بِهِمْ تِلْكَ الأَهْوَاءُ كَمَا يَتَجَارَى الْكَلْبُ لِصَاحِبِهِ لاَ يَبْقَى مِنْهُ عِرْقٌ وَلاَ مَفْصِلٌ إِلا دخَلَهُ. والذي سيكون متفاعلًا، مثل داء الكلب داخل الإنسان الذي عضه كلب، فينفذ منه كل عرق ومفاصل. (أبو داود 4599، الحاكم 443، الطبراني، صحيح الترغيب 49)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “ইয়াহুদী একাত্তর দলে এবং খ্রিষ্টান বাহাত্তর দলে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে। আর এই উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। যার মধ্যে একটি ছাড়া বাকী সব কটি জাহান্নামে যাবে।”অতঃপর ঐ একটি দল প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বললেন, “তারা হল জামাআত।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “আমি ও আমার সাহাবা যে মতাদর্শের উপর আছি তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।” (সুনান আরবাআহ, মিশকাত ১৭১-১৭২, সিলসিলাহ সহীহাহ ২০৩, ১৪৯২) । উক্ত হাদীসেরই শেষাংশ,\n\nوَإِنَّهُ سَيَخْرُجُ مِنْ أُمَّتِى أَقْوَامٌ تَجَارَى بِهِمْ تِلْكَ الأَهْوَاءُ كَمَا يَتَجَارَى الْكَلْبُ لِصَاحِبِهِ لاَ يَبْقَى مِنْهُ عِرْقٌ وَلاَ مَفْصِلٌ إِلاَّ دَخَلَهُ \n\n“আমার উম্মতের কয়েকটি সম্প্রদায় বের হবে, যাদের মাঝে ঐ খেয়াল-খুশী প্রতিক্রিয়াশীল হবে, যেমন কুকুরে কামড় দেওয়া লোকের ভিতরে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিক্রিয়াশীল হয়। প্রত্যেক \nশিরা-উপশিরা ও জোড়ে-জোড়ে তা প্রবেশ করে।” (আবূ দাঊদ ৪৫৯৯, হাকেম ৪৪৩, ত্বাবারানী, সঃ তারগীব ৪৯)
২০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৩১
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
قال ا بْنِ مَسْعُودٍ الجَمَاعَة مَا وَافَقَ الحَقَّ وَإن كُنتَ وَحدَك
ইবনে মাসউদ বলেন: দলটি সত্যের সাথে একমত নয়, যদিও আপনি একা থাকেন।
২১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৩২
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
قال: خط لنا الرسول صلى الله عليه وسلم بيده. ثم قال: "هذا صراط الله المستقيم". ثم خط خطوطا عن يمين ذلك الخط وعن يساره، وقال: هذه طرق مختلفة، واحد على آخر هذه الطرق، إن الشيطان هو الذي يدعو الناس إلى ذلك الطريق. ثم تلا قول الله تعالى: "وإن هذا صراطي المستقيم فاتبعوه ولا تتبعوا السبل، فإن فعلتم يفرق بكم عن سبيله كذلك أمركم الله بالحذر" (الأنعام 153).
তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের জন্য স্বহস্তে একটি রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি বললেন, “এটি আল্লাহর সরল পথ।” অতঃপর ঐ রেখার ডাইনে ও বামে কতকগুলি রেখা টেনে বললেন, “এগুলি বিভিন্ন পথ। এই পথগুলির প্রত্যেটির উপর একটি করে শয়তান আছে; যে ঐ পথের প্রতি মানুষকে আহ্বান করে।”অতঃপর তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণী পাঠ করলেন,\nঅর্থাৎ, এবং নিশ্চয় এটি আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ কর এবং বিভিন্ন পথের অনুসরণ করো না। করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করবে। এ ভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা সাবধান হও।(সূরা আনআম ১৫৩)।\n(আহমাদ ৪১৪২, নাসাঈ কুবরা ১১১৭৪, হাকেম ৩২৪১, মিশকাত ১/৫৯)
২২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৩৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
لحفنة من الناس." (مسلم 389) .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “নিশ্চয় ইসলাম (প্রবাসীর মত অসহায়) অল্পসংখ্যক মানুষ নিয়ে শুরুতে আগমন করেছে এবং অনুরূপ অল্প সংখ্যক মানুষ নিয়েই ভবিষ্যতে প্রত্যাগমন করবে, যেমন শুরুতে আগমন করেছিল। সুতরাং সুসংবাদ ঐ মুষ্টিমেয় লোকেদের জন্য।” (মুসলিম ৩৮৯)
২৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৩৫
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.)
كنا عند الرسول صلى الله عليه وسلم فدعا فقال: "مرحبا بتلك القلة من الناس". قيل: ومن القلائل؟ يا رسول الله! قال: هؤلاء كثيرون قلة من الشرفاء بين الناس غير الشرفاء. هناك أشخاص عصاة أكثر من الأشخاص المخلصين. (আহমদ ৬৬৫০)
একদা আমরা রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকটে ছিলাম, তিনি দু’আ করে বললেন, “কল্যাণ ঐ (প্রবাসীর মত অসহায়) মুষ্টিমেয় লোকেদের জন্য।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘(প্রবাসীর মত অসহায়) অল্প সংখ্যক লোক কারা? হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, “যারা বহু অসৎ লোকের মাঝে অল্পসংখ্যক সৎলোক। তাদের অনুগত লোকের চেয়ে অবাধ্য লোকের সংখ্যা অধিক।” (আহমাদ ৬৬৫০)
২৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৩৬
শাওবান (রহ.)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ستظهر طائفة من أمتي على الحق أبدا، حتى يأتي أمر الله، لا يضرهم من خذلهم). (مسلم 5059) .
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমার উম্মতের মধ্যে এক দল চিরকাল হক (সত্যের) উপর বিজয়ী থাকবে, আল্লাহর আদেশ (কিয়ামতের পূর্বমুহূর্ত) আসা পর্যন্ত, যারা তাদেরকে পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।” (মুসলিম ৫০৫৯)
২৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৩৭
শাওবান (রহ.)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تلحق قبائل من أمتي بالمشركين، وتعبد قبائل من أمتي الأصنام». (أبو داود 4254)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কিয়ামত আসবে না, যে পর্যন্ত না আমার উম্মতের কিছু গোত্র মুশরিকদের সাথে মিলিত হবে এবং আমার উম্মতের কিছু গোত্র মূর্তিপূজা করবে।” (আবূ দাঊদ ৪২৫৪)
২৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৩৮
মুআবিয়া বিন ক্বুর্রাহ
عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِذَا فَسَدَ أَهْلُ الشَّامِ فَلَا خَيْرَ فِيكُمْ وَلَنْ تَزَالَ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ
মুআবিয়া বিন ক্বুর্রাহ নিজ পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “শামবাসী অসৎ হয়ে গেলে তোমাদের মধ্যে কোন মঙ্গল নেই। আর চিরকালের জন্য আমার উম্মতের একটি দল সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে, কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে উপেক্ষাকারীরা তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না।” (আহমাদ ১৫৫৯৭)
২৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৩৯
ইরবায বিন সারিয়াহ
عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنَ سَارِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّممَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِى فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِى وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ
আল-ইরবাদ বিন সারিয়াহ (রহঃ) থেকে তিনি বলেনঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে আমার পরে বেঁচে থাকবে সে অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে, তাই আমার সুন্নাতকে মেনে চল। এবং সৎপথে পরিচালিত খলিফাদের সুন্নাত, এটিকে মেনে চলুন এবং এটিকে আপনার গুড় দিয়ে কামড় দিন এবং নতুন উদ্ভাবিত বিষয় থেকে সাবধান থাকুন, কারণ, প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয় একটি বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত একটি ত্রুটি।
২৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৪০
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَمَسِّكُ بِسُنَّتِي عِنْدَ اخْتِلَافِ أُمَّتِي كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে মেনে চলে যখন আমার জাতি দ্বিমত পোষণ করে, সে এমন ব্যক্তি যে আঙ্গুরে লেগে থাকে।
২৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৪২
সা'দ বিন আবি আক্কাস (রাঃ)
«سألت ربي ثلاثًا، فأعطاني اثنتين ولم يعطني واحدة، وسألته أن لا يهلك أمتي بجوع فأعطانيها، قلت: هو.
একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলিয়া থেকে আগমন করলেন। অতঃপর বনী মুআবিয়ার মসজিদে প্রবেশ করে দু’রাকআত নামায পড়লেন। আমরাও তাঁর সাথে নামায পড়লাম। তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিকট সুদীর্ঘ দু’আ করলেন। অতঃপর ঘুরে বসে বললেন, “আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তিনটি জিনিস প্রার্থনা করলাম। কিন্তু তিনি আমাকে দু’টি জিনিস দান করলেন এবং একটি জিনিস দিলেন না। আমি প্রার্থনা করলাম, তিনি যেন আমার উম্মতকে দুর্ভিক্ষ-কবলিত করে ধ্বংস না করেন, তিনি আমাকে তা দিলেন। আমি চাইলাম, তিনি যেন আমার উম্মতকে বন্যা-কবলিত করে ডুবিয়ে ধ্বংস না করেন, তিনি আমাকে তা দিলেন। আমি চাইলাম, তিনি যেন আমার উম্মতের মাঝে গৃহদ্বন্দ্ব না রাখেন, তিনি আমাকে তা দিলেন না।” (মুসলিম ৭৪৪২, মিশকাত ৩/২৫০)
৩০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৪৩
খাব্বাব বিন আরাত্ত (রাঃ)
عَنْ خَبَّابِ بْنِ الأَرَتِّ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاَةً فَأَطَالَهَا فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّيْتَ صَلاَةً لَمْ تَكُنْ تُصَلِّيهَا؟ قَالَ: أَجَلْ إِنَّهَا صَلاَةُ رَغْبَةٍ وَرَهْبَةٍ إِنِّي سَأَلْتُ اللَّهَ فِيهَا ثَلاَثًا فَأَعْطَانِي اثْنَتَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً، سَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُهْلِكَ أُمَّتِي بِسَنَةٍ فَأَعْطَانِيهَا، وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَعْطَانِيهَا، وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُذِيقَ بَعْضَهُمْ بَأْسَ بَعْضٍ فَمَنَعَنِيهَا.\nوَفِيْ رِوَايَةٍ وَسَأَلْتُهُ أَنْ لَا يَلْبِسَهُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَهُمْ بَأْسَ بَعْضٍ فَمَنَعَنِيهَا
খাব্বাব বিন আল-আর্ট থেকে তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সালাত আদায় করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা দীর্ঘায়িত করেছিলেন। তারা বললঃ হে আল্লাহর রসূল, আপনি কি এমন সালাত আদায় করেছেন যা আপনি আগে করেননি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, এটা ইচ্ছা ও ভয়ের প্রার্থনা। আমি ঈশ্বরকে তিনটি জিনিসের জন্য জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু তিনি আমাকে দুটি দিয়েছেন এবং একটি আমার থেকে বিরত রেখেছেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম। আমার জাতি যেন এমন সুন্নাহ দ্বারা ধ্বংস না হয় যা তিনি আমাকে দিয়েছেন। আমি তাকে তাদের ব্যতীত অন্য কোন শত্রুকে তাদের উপর কর্তৃত্ব করতে না দিতে বলেছিলাম এবং তিনি আমাকে তা দিয়েছিলেন। আমি তাকে আস্বাদন না করতে বলেছিলাম এবং একটি বর্ণনায়, আমি তাকে বলেছিলাম যে তারা তাদের দলমত পোষাক না করবে এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের আগ্রাসনের স্বাদ পাবে, তাই তিনি এটিকে বাধা দিলেন।