অধ্যায় ১১
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২০৫
عَنِ البَرَاءِ بنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بعِيَادَةِ الْمَريضِ وَاتِّبَاعِ الجَنَازَةِ وَتَشْمِيتِ العَاطِسِ وَإبْرَارِ الْمُقْسِمِ وَنَصْرِ المَظْلُومِ وَإجَابَةِ الدَّاعِي وَإفْشَاءِ السَّلاَمِ متفقٌ عَلَيْهِ
আল-বারা বিন আযিবের কর্তৃত্বে, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল, আল্লাহর দোয়া ও শান্তি আমাদেরকে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে, জানাযার শোভাযাত্রার অনুসরণ করতে এবং যে হাঁচি দেয় তার প্রশংসা করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিভাজনকারীকে ন্যায়সঙ্গত করা, নিপীড়িতকে সাহায্য করা, প্রার্থনাকারীকে সাড়া দেওয়া এবং সালাম জানানোর ব্যাপারে একমত।
০২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২০৬
وقال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «حق المسلم على المسلم خمس: رد السلام، وعيادة المريض، واتباع الجنازة، وإجابة الدعوة، وتشميته» . (البخاري 1240، مسلم 5777)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “এক মুসলমানের অধিকার অপর মুসলমানের উপর পাঁচটি ঃ সালামের জবাব দেওয়া, রুগীকে দেখতে যাওয়া, জানাযার সঙ্গে যাওয়া, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচলে তার জবাব দেওয়া।” (বুখারী ১২৪০, মুসলিম ৫৭৭৭)
০৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২১০
عَنْ جَابِرِ بْنِ عبد الله رَضِيَ اللهُ عَنْهُما قال : سَمِعتُ النَّبيَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول مَن عَاد مَريضاً خَاضَ فِي الرَّحمَةِ حَتى إِذا قَعدَ استَقَرَّ فِيهَا
তিনি শুনেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোগীকে সাক্ষাৎ করতে যায়, সে আসলে রহমতে বিচরণ করতে থাকে। অতঃপর সে যখন (রোগীর নিকটে) বসে যায়, তখন রহমতে স্থিতিশীল হয়ে যায়।” (আল-আদাবুল মুফরাদ ৫২২)
০৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২১১
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من لقي مريضا فسأله، أو لقي أخاه، ناداه مناد، فيقول: طبت، وطاب سفرك، وجعل مقعدك في قصر الجنة). (الترمذي 2008، مصادر حسن أو غريب، ابن ماجه 1443، ابن حبان 2961)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন রোগীকে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞাসাবাদ করে অথবা তার কোন লিল্লাহী ভাইকে সাক্ষাৎ করে, সে ব্যক্তিকে এক (গায়বী) আহবানকারী আহবান ক’রে বলে, ‘সুখী হও তুমি, সুখকর হোক তোমার ঐ যাত্রা (সাক্ষাতের জন্য যাওয়া)। আর তোমার স্থান হোক জান্নাতের প্রাসাদে।” (তিরমিযী ২০০৮, হাসান বা গরীব সূত্রে, ইবনে মাজাহ ১৪৪৩, ইবনে হিব্বান ২৯৬১)
০৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২১২
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من أصبح يستغفر لمسلمٍ أصبح يصلي عليه سبعون ألف ملك حتى يمسي، ومن أصبح يستغفر لكوشالً، تمنى له سبعون ألف ملك حتى يصبح، وقُدرت له ثمار الجنة» (الترمذي 969، حسن).
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “যে কোন মুসলিম অন্য কোন (অসুস্থ) মুসলিমকে সকাল বেলায় কুশল জিজ্ঞাসা করতে যাবে, তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফিরিশতা কল্যাণ কামনা করবেন। আর যদি সে সন্ধ্যা বেলায় তাকে কুশল জিজ্ঞাসা করতে যায়, তাহলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফিরিশতা তার মঙ্গল কামনা করেন। আর তার জন্য জান্নাতের মধ্যে পাড়া ফল নির্ধারিত হয়। (তিরমিযী ৯৬৯, হাসান)
০৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২১৩
قال النبي صلى الله عليه وسلم: (لا تدخلوا مكاناً إذا سمعتم بالطاعون، وإذا وقع وأنتم فيه فلا تخرجوا منه). (البخاري 5728، مسلم 5905-5906)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কোন স্থানে প্লেগ রোগ চলছে শুনলে সেখানে প্রবেশ করো না। আর সেখানে তোমাদের থাকাকালে তা শুরু হলে সেখান হতে বের হয়ে যেয়ো না।” (বুখারী ৫৭২৮, মুসলিম ৫৯০৫-৫৯০৬)
০৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২১৪
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُا : أنَّ النَّبيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم كَانَ إِذَا اشْتَكَى الإنْسَانُ الشَّيْءَ مِنْهُ أَوْ كَانَتْ بِهِ قَرْحَةٌ أَوْ جُرْحٌ قَالَ النَّبيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بِأُصْبُعِهِ هكَذا وَوَضَعَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَة الرَّاوي سَبَّابَتَهُ بِالأَرْضِ ثُمَّ رَفَعَها وَقَالَ بِسمِ اللهِ، تُرْبَةُ أرْضِنَا، بِرِيقَةِ بَعْضِنَا، يُشْفَى بِهِ سَقِيمُنَا، بِإِذْنِ رَبِّنَا متفقٌ عَلَيْهِ
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্ তার উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি কোন বিষয়ে অভিযোগ করতেন বা আলসার বা ক্ষত পেতেন, তিনি বলতেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আঙুল দিয়ে তাকে শান্তি দান করুন, এবং বর্ণনাকারী সুফিয়ান বিন উয়ায়নাহ তার তর্জনীটি মাটিতে রাখলেন এবং আমাদের নামটি মাটিতে তুলে দিলেন, তারপর তিনি বললেন: একে অপরের লালা, আমাদের অসুস্থ আমাদের পালনকর্তার অনুমতি সঙ্গে, এটি দ্বারা আরোগ্য করা হবে. একমত।
০৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২১৫
وكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا عاد مريضا في أهله وضع يده اليمنى على موضع الألم ودعا بهذا الدعاء: ""أذبيل باء، ربانا، إشفي أنتاش شافي، لا شفاء إلا شفاء أوق، شفاء لا يوجا سقباما"." \nأي يا الله! سيد الناس! أنت تزيل المعاناة وتمنح الشفاء. (منذ) أنت الشافي. هدية الشفاء الخاصة بك هي هدية الشفاء الحقيقية. أنت تعالج المرض بطريقة تقضي على المرض. (البخاري 5675، 5743، 5750 مسلم 5836-5839)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপন পরিবারের কোন রোগী-দর্শন করার সময় নিজের ডান হাত তার ব্যথার স্থানে ফিরাতেন এবং এ দু‘আটি পড়তেন, \n“আযহিবিল বা’স, রাব্বান্না-স, ইশফি আন্তাশ শা-ফী, লা শিফা-আ ইল্লা শিফা-উক, শিফা-আল লা য়্যুগা-দিরু সাক্বামা।” \nঅর্থাৎ, হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর। (যেহেতু) তুমি রোগ আরোগ্যকারী। তোমারই আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্য দান। তুমি এমনভাবে রোগ নিরাময় কর, যেন তা রোগকে নির্মূল ক’রে দেয়। (বুখারী ৫৬৭৫, ৫৭৪৩, ৫৭৫০ মুসলিম ৫৮৩৬-৫৮৩৯)
০৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২১৬
فقال لثابت (رحمه الله): ألا أكتسحك بتعويذة رسول الله (صلى الله عليه وسلم)؟ قال ثابت: بلى. وقرأ أنس (رضي الله عنه) هذا الدعاء: \n"اللهم ربنا مجيب باس إشفي أنتاش شافي لا شافي إلا أنت شفاء لا يوجا ديرو". سقبامة." \nأي يا الله! سيد الناس! أنت تزيل المعاناة وتمنح الشفاء. (منذ) أنت الشافي. فلا شفاء إلا أنت . تعالج الأمراض كأنها أمراض تزيلها. (البخاري 5742) .
তিনি সাবেত (রাহিমাহুল্লাহ) কে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মন্ত্র দ্বারা ঝাড়ফুঁক করব না?’ সাবেত বললেন, ‘অবশ্যই।’ আনাস (রাঃ) এই দু‘আ পড়লেন, \n“আল্লাহুম্মা রাব্বান্না-স, মুযহিবাল বা’স, ইশফি আন্তাশ শা-ফী, লা শা-ফিয়া ইল্লা আন্ত্, শিফা-আল লা য়্যুগা-দিরু সাক্বামা।” \nঅর্থাৎ, হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক! তুমি কষ্ট দূর কর এবং আরোগ্য দান কর। (যেহেতু) তুমি রোগ আরোগ্যকারী। তুমি ছাড়া আরোগ্যকারী আর কেউ নেই। তুমি এমনভাবে রোগ নিরাময় কর, যেন তা রোগকে নির্মূল ক’রে দেয়। (বুখারী ৫৭৪২)
১০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২১৭
جاءني رسول الله صلى الله عليه وسلم (وأنا مريض) فقال: "اللهم أرح سعداً، اللهم أرح سعداً، اللهم أرح سعداً". (البخاري 5659، مسلم 4302)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আমার অসুস্থ অবস্থায়) আমাকে দেখা করতে এসে বললেন, “হে আল্লাহ! সা’দকে রোগমুক্ত কর, হে আল্লাহ! সা’দকে রোগমুক্ত কর। হে আল্লাহ! সা’দকে রোগমুক্ত কর।” (বুখারী ৫৬৫৯, মুসলিম ৪৩০২)
১১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২২০
ذهب النبي صلى الله عليه وسلم إلى أعرابي مكروب. وكان النبي صلى الله عليه وسلم يقول للمريض الذي يذهب لزيارته: "لا باء، طهرون إن شاء الله". \nأي لا ضرر ولا ضرار، خالصا من الذنوب. سيكون في ان شاء الله . (البخاري 3616، 5656، 5662)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক পীড়িত বেদুঈনের সাক্ষাতে গেলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে রোগীকেই সাক্ষাৎ করতে যেতেন, তাকে বলতেন, \n“লা-বা’স, ত্বাহুরুন ইনশাআল্লাহ।” \nঅর্থাৎ, কোন ক্ষতি নেই, (গোনাহ থেকে) পবিত্র হবে ইন শাআল্লাহ। (বুখারী ৩৬১৬, ৫৬৫৬, ৫৬৬২)
১২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২২৩
خرج علي بن أبي طالب (رضي الله عنه) من عند رسول الله (ص) في مرضه الذي مات فيه. فقال الناس: يا أبا الحسن! ما هو رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ هل استيقظ في حالة جيدة؟ فقال: الحمد لله، استيقظ سليماً. (البخاري 4447، 6266)
আলী ইবনে আবী ত্বালেব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট হতে তাঁর সেই অসুস্থ অবস্থায় বের হলেন, যাতে তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন। অতঃপর লোকেরা বলল, ‘হে হাসানের পিতা! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কী অবস্থায় সকাল করলেন?’ তিনি বললেন, ‘আলহামদু লিল্লাহ, তিনি ভাল অবস্থায় সকাল করলেন।’ (বুখারী ৪৪৪৭, ৬২৬৬)
১৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২২৬
جاءني رسول الله صلى الله عليه وسلم لأني قد اشتد بي الألم. فقلت: ترى حالي وأنا رجل غني. ووريثيتي هي ابنتي الوحيدة.---'
আমার (দৈহিক) যন্ত্রণা প্রচন্ড ভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে সাক্ষাৎ করতে এলেন। আমি বললাম, ‘আমার কী অবস্থা আপনি তা দেখছেন এবং আমি একজন ধনবান মানুষ। আর আমার উত্তরাধিকারী আমার একমাত্র কন্যা।---’ অতঃপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণনা করলেন। (বুখারী ১২৯৫, ৩৯৩৬, মুসলিম ৪২৯৬)
১৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২২৯
كَيْفَ أَصْبَحْتَ قَالَ أَصْبَحْتُ بِنِعْمَةٍ فَقَالَ لَهُ شَدَّادٌ أَبْشِرْ بِكَفَّارَاتِ السَّيِّئَاتِ وَحَطِّ الْخَطَايَا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ إِنِّي إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبْدًا مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنًا فَحَمِدَنِي عَلَى مَا ابْتَلَيْتُهُ فَإِنَّهُ يَقُومُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ مِنْ الْخَطَايَا وَيَقُولُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا قَيَّدْتُ عَبْدِي وَابْتَلَيْتُهُ وَأَجْرُوا لَهُ كَمَا كُنْتُمْ تُجْرُونَ لَهُ وَهُوَ صَحِيحٌ
একদা শাদ্দাদ বিন আউস ও সুনাবিহী এক রোগীকে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,\n‘আজ সকালে তুমি কেমন আছ?’ লোকটি বলল, ‘(আল্লাহর) নিয়ামতে আছি।’ শাদ্দাদ বললেন, ‘পাপসমূহ মাফ হয়ে যাওয়া এবং গোনাহসমূহ ঝরে যাওয়ার সুসংবাদ নাও। আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ আয্যা অজাল্ল্ বলেন, “আমি যখন আমার কোন মুমিন বান্দাকে (রোগ-বালা দিয়ে) পরীক্ষা করি এবং সে ঐ রোগ-বালাতে আমার প্রশংসা করে, তখন সে তার ঐ বিছানা থেকে সেই দিনকার মত নিষ্পাপ হয়ে ওঠে, যেদিন তার মা তাকে ভূমিষ্ঠ করেছিল।” রব্ব তাবারাকা অতাআলা (কিরামান কাতেবীনকে) বলেন, “আমি আমার বান্দাকে (অনেক আমল থেকে) বিরত রেখেছি এবং রোগগ্রস্ত করেছি। সুতরাং তোমরা তার জন্য সেই আমলের সওয়াব লিখতে থাক, যে আমলের সওয়াব তার সুস্থ অবস্থায় লিখতে।” (আহমাদ ১৭১১৮, সহীহ তারগীব ৩৪২৩)
১৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৩০
سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا ذات يوم: كيف أصبحت يا فلان؟ فقال الرجل: أحمدك الله يا رسول الله! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ذلك الذي أردت منك». (كبير الطبراني 1475، الأوسط 4377، السلسلة صحيح 2952)
একদা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আজ সকালে তুমি কেমন আছ হে অমুক?” লোকটি বলল, ‘আমি আপনার নিকট আল্লাহর প্রশংসা করি হে আল্লাহর রসূল!’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আমি তোমার নিকট থেকে এটাই চেয়েছিলাম।” (ত্বাবারানীর কাবীর ১৪৭৫, আওসাত্ব ৪৩৭৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৯৫২)
১৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৩১
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما يصيب المؤمن من بلاء من مرض أو غيره، إلا حط الله عنه سيئاته كما تحط الشجرة ورقها». (البخاري 5660، 5667، مسلم 6724)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কোন মুমিনকে যখনই কোন রোগ অথবা অন্য কিছুর মাধ্যমে কষ্ট পৌঁছে, তখনই আল্লাহ তার বিনিময়ে তার পাপরাশিকে ঝরিয়ে দেন; যেমন বৃক্ষ তার পত্রাবলীকে ঝরিয়ে থাকে।” (বুখারী ৫৬৬০, ৫৬৬৭, মুসলিম ৬৭২৪)
১৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৩২
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم دَخَلَ عَلَى أُمِّ السَّائِبِ أَو أُمِّ المُسَيّبِ فَقَالَ مَا لَكِ يَا أُمَّ السَّائِبِ ـ أَو يَا أُمَّ المُسَيَّبِ ـ تُزَفْزِفِينَ ؟ قَالَتْ : الحُمَّى لاَ بَارَكَ اللهُ فِيهَا فَقَالَ لاَ تَسُبِّي الحُمَّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الكِيْرُ خَبَثَ الحَدِيدِ رواه مسلم
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল সায়েব বা উম্মুল মুসায়্যাবের কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, উম্মুল সায়েব বা উম্মুল মুসাইয়্যাব তোমার কি হয়েছে? বিয়ে করছেন? তিনি বললেন: জ্বর, ঈশ্বর যেন ভালো করেন। তিনি বললেন, জ্বর দূর করো না, কেননা তা আদম সন্তানের পাপ দূর করে যেমন কেটলি পাপ দূর করে। মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত লোহার স্ল্যাগ
১৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৩৩
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لاَ تُكْرِهُوا مَرْضَاكُمْ عَلَى الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ فَإِنَّ اللهَ يُطْعِمُهُمْ وَيَسْقِيهِمْ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা তোমাদের রোগীদেরকে পানাহারের জন্য বাধ্য করো না। যেহেতু (তারা না খেলেও) মহান আল্লাহ তাদেরকে পানাহার করিয়ে থাকেন।” (তিরমিযী ২০৪০, ইবনে মাজাহ ৩৪৪৪, হাকেম ১২৯৬, বাইহাক্বী ২০০৬৭, সহীহুল জামে’ ৭৪৩৯)
১৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৩৫
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "ما من داء إلا أنزل الله له شفاء" (ابن ماجه 3438، صحيح الجامع 5558).
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “এমন কোন রোগ নেই, আল্লাহ যার ওষুধ অবতীর্ণ করেন নি। (ইবনে মাজাহ ৩৪৩৮, সহীহুল জামে ৫৫৫৮)
২০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৩৮
وعن عطَاء بن أبي رَباحٍ قَالَ : قَالَ لي ابنُ عَباسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُما : ألاَ أُريكَ امْرَأةً مِنْ أَهْلِ الجَنَّة؟ فَقُلْتُ: بَلَى قَالَ: هذِهِ المَرْأةُ السَّودَاءُ أتَتِ النَّبيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَتْ : إنّي أُصْرَعُ، وإِنِّي أتَكَشَّفُ فادْعُ الله تَعَالَى لي قَالَ إنْ شئْتِ صَبَرتِ وَلَكِ الجَنَّةُ وَإنْ شئْتِ دَعَوتُ الله تَعَالَى أنْ يُعَافِيكِ فَقَالَتْ : أَصْبِرُ فَقَالَتْ: إنِّي أتَكَشَّفُ فَادعُ الله أنْ لا أَتَكَشَّف فَدَعَا لَهَا مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
আতা ইবনে আবী রাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রাঃ) আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি আমাকে বললেনঃ আমি কি তোমাকে জান্নাতবাসীদের একজন মহিলা দেখাব না? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বলেন: এই কালো মহিলা নবীর কাছে এসেছিলেন, আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং বলেছিলেন: আমার মৃগীরোগ আছে এবং আমি অনাবৃত, তাই আমার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তিনি বললেনঃ তুমি ইচ্ছা করলে ধৈর্য ধরতে পার। জান্নাত তোমার, তুমি যদি চাও আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে তোমাকে সুস্থ করার জন্য প্রার্থনা করেছিলাম, এবং তিনি বললেন: ধৈর্য ধর। তিনি বললেনঃ আমি অনাবৃত, তাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর যেন আমি অনাবৃত না হই। তিনি তার জন্য দোয়া করলেন। একমত।
২১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৩৯
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «الفطر في المن، وماؤه شفاء من العيون». (البخاري - مسلم)
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “ছত্রাক ‘মান্না’ -এর অন্তর্ভুক্ত আর এর রস চক্ষুরোগ নিরাময়কারী।” (বুখারী-মুসলিম)
২২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৪০
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خير سرمكم الإشمد، يرفع شعر الجفون، وينور البصر». (بيار 8811، صح ترجيب 2105)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সুর্মা হল ইষমিদ। তা চোখের পাতায় লোম উদ্গত করে এবং দৃষ্টিশক্তি উজ্জ্বল করে।” (বায্যার ৮৮১১, সঃ তারগীব ২১০৫)
২৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৪২
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ مَاتَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ وُقِيَ فِتْنَةَ الْقَبْرِ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি শুক্রবার বা জুমার রাতে মারা যায় সে ফিতনা থেকে রক্ষা পায়।
২৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৪৩
عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ الْكِنْدِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّ لِلشَّهِيدِ عِنْدَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ سِتَّ خِصَالٍ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ فِي أَوَّلِ دَفْعَةٍ مِنْ دَمِهِ وَيَرَى قَالَ الْحَكَمُ وَيُرَى مَقْعَدَهُ مِنْ الْجَنَّةِ وَيُحَلَّى حُلَّةَ الْإِيمَانِ وَيُزَوَّجَ مِنْ الْحُورِ الْعِينِ وَيُجَارَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَيَأْمَنَ مِنْ الْفَزَعِ الْأَكْبَرِ قَالَ الْحَكَمُ يَوْمَ الْفَزَعِ الْأَكْبَرِ وَيُوضَعَ عَلَى رَأْسِهِ تَاجُ الْوَقَارِ الْيَاقُوتَةُ مِنْهُ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَيُزَوَّجَ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً مِنْ الْحُورِ الْعِينِ وَيُشَفَّعَ فِي سَبْعِينَ إِنْسَانًا مِنْ أَقَارِبِه
আল-মিকদাম বিন মাদি কারিব আল-কিন্দির সূত্রে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল, আল্লাহর দোয়া ও সালাম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মহান আল্লাহর কাছে শহীদের ছয়টি গুণ রয়েছে যা তাকে ক্ষমা করা উচিত। তার জন্য তার রক্তের প্রথম ব্যাচে, এবং সে বিচারক যা বলে তা দেখবে, এবং সে জান্নাতে তার আসন দেখতে পাবে, এবং তাকে ঈমানের পোশাকে অলঙ্কৃত করা হবে, এবং তাকে সুন্দর ফর্সা চোখের সাথে বিবাহ করা হবে এবং সে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাবে এবং সবচেয়ে বড় আতঙ্ক থেকে নিরাপদ থাকবে। আল-হাকিম বলেছেন: সবচেয়ে বড় আতঙ্কের দিনে এবং তার মাথায় একটি মুকুট পরানো হবে। যার কাছে একটি রুবি আছে সে দুনিয়া এবং তার মধ্যে যা আছে তার চেয়ে উত্তম। তিনি সুন্দরী কুমারীদের মধ্য থেকে বাহাত্তরটি স্ত্রীকে বিয়ে করতে পারেন এবং তিনি সত্তর জনের জন্য সুপারিশ করতে পারেন। একজন মানুষ, তার এক আত্মীয়
২৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৪৪
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أيكم تعتبر شهيدا؟» فقال الجميع: يا رسول الله! ومن قُتل في سبيل الله فهو شهيد. قال: "فهو لأمتي". وأعداد الشهداء قليلة جداً». فقالوا كلهم: ولكن من هم يا رسول الله؟ قال: «من قتل في سبيل الله فهو شهيد، ومن مات في سبيل الله فهو شهيد، ومن مات بالطاعون فهو شهيد، ومن مات على البطن فهو شهيد، ومن مات على الماء فهو شهيد». فغرق فمات شهيداً» (أحمد 8092 وغيره، مسلم 5050).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কাকে কাকে তোমরা শহীদ বলে গণ্য কর?” সকলে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদে) নিহত হয় সেই ব্যক্তি শহীদ। তিনি বললেন, “তাহলে তো আমার উম্মতের শহীদ-সংখ্যা নেহাতই কম।” সকলে বলল, ‘তবে তারা আর কারা, হে আল্লাহর রসূল?’ বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (জিহাদে) নিহত হয় সে শহীদ, যে আল্লাহর পথে (গাজী হয়ে) মারা যায় সে শহীদ, যে প্লেগরোগে মারা যায় সে শহীদ, যে পেটের পীড়ায় মারা যায় সে শহীদ এবং যে পানিতে ডুবে মারা যায় সেও শহীদ।” (আহমাদ ৮০৯২ প্রভৃতি, মুসলিম ৫০৫০)
২৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৪৬
عَنْ جَابِرِ بْنِ عتيك قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم الشَّهَادَةُ سَبْعٌ سِوَى الْقَتْلِ فِى سَبِيلِ اللهِ الْمَطْعُونُ شَهِيدٌ وَالْغَرِقُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ ذَاتِ الْجَنْبِ شَهِيدٌ وَالْمَبْطُونُ شَهِيدٌ وَصَاحِبُ الْحَرِيقِ شَهِيدٌ وَالَّذِى يَمُوتُ تَحْتَ الْهَدْمِ شَهِيدٌ وَالْمَرْأَةُ تَمُوتُ بِجُمْعٍ شَهِيدٌ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর পথে (জিহাদে) নিহত হওয়া ছাড়া আরো সাত ব্যক্তি শহীদ হয়; প্লেগ রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ, ডুবে গিয়ে ব্যক্তি মৃত শহীদ, প্লুরিসি রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পেটের রোগে মৃত ব্যক্তি শহীদ, পুড়ে গিয়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ, চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ এবং সে মহিলাও শহীদ যে সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা যায়।” (আহমাদ ২৩৭৫৩, আবু দাউদ ৩১১৩, নাসাঈ ১৮৪৬, হাকেম ১৩০০, ত্বাবারানী ১৭৫৫, সহীহ আবু দাউদ ২৬৬৮) \n“-----ক্ষয় রোগের ফলে মরণ শহীদের মরণ।” (মাজমাউয যাওয়াইদ ২/৩১৭, ৫/ ৩০১)
২৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৪৯
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أكثروا ذكر الموت". (الترمذي 2307، النسائي 1824، ابن ماجه 4258، الحاكم 7909)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আনন্দনাশক বস্তু অর্থাৎ, মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ কর।” (তিরমিযী ২৩০৭, নাসাঈ ১৮২৪, ইবনে মাজাহ ৪২৫৮, হাকেম ৭৯০৯)
২৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৫০
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أكثروا ذكر الموت". لأن من ذكرها في وقت الأزمات هانت عليه الأزمة، ومن ذكرها في وقت السعادة أصبحت السعادة على الفرد مريرة. (بيهكبير شعب الإيمان 10560، ابن حبان 2993، صحيح الجامع 1210-1211)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আনন্দনাশক বস্তু অর্থাৎ, মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ কর।” কারণ, যে ব্যক্তি কোন সঙ্কটে তা স্মরণ করবে, সে ব্যক্তির জন্য সে সঙ্কট সহজ হয়ে যাবে এবং যে ব্যক্তি তা কোন সুখের সময়ে স্মরণ করবে, সে ব্যক্তির জন্য সুখ তিক্ত হয়ে উঠবে।” (বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১০৫৬০, ইবনে হিব্বান ২৯৯৩, সহীহুল জামে’ ১২১০-১২১১)
২৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৫২
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اذكر الموت في صلاتك، فإن الرجل إذا ذكر الموت في صلاته فقد زين صلاته، وتصل كالذي لا يظن أنه غير ذلك". يمكن أن يصلي. ابتعد عن كل عمل يقتضي منك الاستغفار. (مسند الفردوس، السلسلة الصحيحة 1421، صحيح الجامع 849)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তুমি তোমার নামাযে মরণকে স্মরণ কর। কারণ, মানুষ যখন তার নামাযে মরণকে স্মরণ করে, তখন যথার্থই সে তার নামাযকে সুন্দর করে। আর তুমি সেই ব্যক্তির মত নামায পড়, যে মনে করে না যে, এ ছাড়া সে অন্য নামায পড়তে পারবে। তুমি প্রত্যেক সেই কর্ম থেকে দূরে থাক, যা ক’রে তোমাকে (অপরের নিকটে) ক্ষমা চাইতে হয়। (মুসনাদে ফিরদাঊস, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৪২১, সহীহুল জামে’ ৮৪৯)
৩০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৫৩
جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: أوصني باختصار. (إلى الآخر) للاستغفار. وكن محبطًا تمامًا مما لدى الناس. (البخاري تاريخ، ابن ماجه 4171، أحمد 5/412، البيهقي، السلسلة الصحيحة 401)
এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ‘আমাকে সংক্ষেপে কিছু উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, “যখন তুমি তোমার নামাযে দাঁড়াবে তখন (মরণ পথের পথিকের বিদায় নেওয়ার সময়) শেষ নামায পড়ার মত নামায পড়। এমন কথা বলো না, যা বলে (অপরের নিকট) ক্ষমা চাইতে হয়। আর লোকেদের হাতে যা আছে তা থেকে সম্পূর্ণভাবে নিরাশ হয়ে যাও।” (বুখারী তারীখ, ইবনে মাজাহ ৪১৭১ , আহমাদ ৫/৪১২, বাইহাক্বী, সিলসিলাহ সহীহাহ ৪০১)
৩১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৫৭
وفي عام الوداع جاءني رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا مريضة. في ذلك الوقت كان جسدي يعاني من ألم شديد. فقلت: يا رسول الله! لقد وصل تهيجي (الجسدي) إلى مرحلة حادة - والتي تراها بأم عينيك. وأنا رجل غني. لكن وريثي هي ابنتي الوحيدة. فهل أتنازل عن ثلثي ثروتي؟ قال: لا. قلت: فالنصف يا رسول الله. قال: لا. قلت: فالثلث؟ قال: «الثلث والثلث كثير، فإنك إن تترك ورثتك أغنياء خير من أن تتركهم فقراء وهم قوم». سوف نتواصل. (وتذكر) ما أنفقت من شيء تبتغي به وجه الله فلك فيه عوض. حتى الطعام الذي تجعله في فم امرأتك لك فيه عوض» (البخاري 1295، 3936، مسلم 4296).
বিদায় হজ্জ্বের বছর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার রুগ্ন অবস্থায় আমাকে দেখা করতে এলেন। সে সময় আমার শরীরে চরম ব্যথা ছিল। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার (দৈহিক) জ্বালা-যন্ত্রণা কঠিন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে--যা আপনি স্বচক্ষে দেখছেন। আর আমি একজন ধনী মানুষ; কিন্তু আমার উত্তরাধিকারী বলতে আমার একমাত্র কন্যা। তাহলে আমি কি আমার মাল-সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ দান করে দেব?’ তিনি বললেন, “না।” আমি বললাম, ‘তাহলে অর্ধেক মাল হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “না।” আমি বললাম, ‘তাহলে কি এক তৃতীয়াংশ দান করতে পারি?’ তিনি বললেন, “এক তৃতীয়াংশ (দান করতে পার), তবে এক তৃতীয়াংশও অনেক। কারণ এই যে, তুমি যদি তোমার উত্তরাধিকারীদের ধনবান অবস্থায় ছেড়ে যাও, তাহলে তা এর থেকে ভাল যে, তুমি তাদেরকে কাঙ্গাল করে ছেড়ে যাবে এবং তারা লোকের কাছে হাত পাতবে। (মনে রাখ,) আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তুমি যা ব্যয় করবে তোমাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে। এমনকি তুমি যে গ্রাস তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তারও তুমি বিনিময় পাবে।” (বুখারী ১২৯৫, ৩৯৩৬, মুসলিম ৪২৯৬)
৩২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৫৯
قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إن الله تعالى لا يأذن لرجل أخر موته حتى يبلغ ستين سنة). (البخاري 6419) \nيقول العلماء: لن يكون هناك في هذا العصر فرصة أخرى لتقديم الاعتراضات.
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির জন্য কোন ওজর পেশ করার অবকাশ রাখেন না (অর্থাৎ, ওজর গ্রহণ করবেন না), যার মৃত্যুকে তিনি এত পিছিয়ে দিলেন যে, সে ৬০ বছর বয়সে পৌঁছল।” (বুখারী ৬৪১৯) \nউলামাগণ বলেন, ‘এই বয়সে পৌঁছে গেলে ওজর-আপত্তি পেশ করার আর কোন সুযোগ থাকবে না।’
৩৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৬১
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : كَانَ عُمَرُ يُدْخِلُنِي مَعَ أَشْيَاخِ بَدرٍ فَكَأَنَّ بَعْضَهُمْ وَجَدَ في نفسِهِ فَقَالَ : لِمَ يَدْخُلُ هَذَا معنا ولَنَا أبْنَاءٌ مِثلُهُ فَقَالَ عُمَرُ : إنَّهُ مَنْ حَيثُ عَلِمْتُمْ فَدعانِي ذاتَ يَومٍ فَأدْخَلَنِي مَعَهُمْ فَمَا رَأيتُ أَنَّهُ دَعَاني يَومَئذٍ إلاَّ لِيُرِيَهُمْ قَالَ : مَا تَقُولُونَ في قَولِ الله : إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ: فَقَالَ بعضهم : أُمِرْنَا نَحْمَدُ اللهَ وَنَسْتَغْفِرُهُ إِذَا نَصَرنَا وَفَتحَ عَلَيْنَا وَسَكتَ بَعْضُهُمْ فَلَمْ يَقُلْ شَيئاً فَقَالَ لي : أَكَذلِكَ تقُولُ يَا ابنَ عباسٍ ؟ فقلت : لا قَالَ : فَمَا تَقُولُ ؟ قُلْتُ : هُوَ أجَلُ رَسُولِ الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أعلَمَهُ لَهُ، قَالَ إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ وَذَلِكَ عَلاَمَةُ أجَلِكَ فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّاباً فَقَالَ عُمَرُ مَا أعلَمُ مِنْهَا إلاَّ مَا تَقُولُ رواه البخاري
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: ওমর আমাকে বদরের শায়েখদের সাথে নিয়ে আসতেন, এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে নিজেদের মধ্যে পেয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: এই ব্যক্তি কেন আমাদের সাথে প্রবেশ করল? আমাদেরও তার মত ছেলে আছে, ওমর বললেনঃ তুমি এখান থেকেই শিখেছ। তাই তিনি একদিন আমাকে ডেকে তাদের সাথে ঢুকতে দিলেন। আমি দেখিনি যে সে সেদিন আমাকে ডেকেছিল তাদের দেখানো ছাড়া। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্র বাণীঃ যখন আল্লাহ্র বিজয় ও বিজয় আসবে সে সম্পর্কে তুমি কি বল? তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছিল: আমাদেরকে আল্লাহর প্রশংসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যখন আমাদের বিজয় ও বিজয় দেওয়া হবে তখন তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ চুপ করে রইল। فَلَمْ يَقُلْ شَيئاً فَقَالَ لي : أَكَذلِكَ تقُولُ يَا ابنَ عباسٍ ؟ فقلت : لا قَالَ : فَمَا تَقُولُ ؟ قُلْتُ : هُوَ أجَلُ رَسُولِ الله صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ এবং সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি তাকে সালাম দিল। তিনি বলেছিলেন, "যখন ঈশ্বরের বিজয় এবং বিজয় আসে এবং এটি আপনার মৃত্যুর লক্ষণ, তখন আপনার প্রভুর প্রশংসার মহিমা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, কারণ তিনি অনুতপ্ত ছিলেন" এবং তিনি বলেছিলেন। ওমর, সে যা বলে তা ছাড়া আমি তার সম্পর্কে কিছুই জানি না। আল-বুখারী থেকে বর্ণিত
৩৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৬৩
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إذا أراد الله بعبد خيراً استعمله". سأل الناس: "كيف تستخدمه؟" قال: "قبل الموت توفيق له من الحسنات". (أحمد 12036، الترمذي 2142، الحكيم 1257)\nوفي رواية: "إذا أراد الله برجل خيراً غسله". قيل: وكيف تغسله؟ فقال: قبل الموت توفيقه من الحسنات، ثم توفه. (رواية الطبراني 4656)\nوقد نزل في كلمة واحدة من هذا الحديث: (إذا أراد الله بعبد خيراً أحله).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ কারো সাথে কল্যাণের ইচ্ছা রাখলে তাকে ব্যবহার ক’রে নেন।” লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ‘ব্যবহার ক’রে নেন কিভাবে?’ তিনি বললেন, “মৃত্যুর পূর্বে তাকে নেক আমলের তাওফীক দেন।” (আহমাদ ১২০৩৬, তিরমিযী ২১৪২, হাকেম ১২৫৭)\nঅন্য এক বর্ণনায় আছে, “আল্লাহ কারো সাথে কল্যাণের ইচ্ছা রাখলে তাকে ধুয়ে নেন।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘ধুয়ে নেন কিভাবে?’ তিনি বললেন, “মৃত্যুর পূর্বে তাকে নেক আমলের তাওফীক দেন। অতঃপর তার উপর তার মৃত্যু ঘটান।” (ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৪৬৫৬)\nপ্রকাশ থাকে যে, এ হাদীসের এক শব্দে আছে, “আল্লাহ কারো সাথে কল্যাণের ইচ্ছা রাখলে তাকে মধুময় করে নেন।”
৩৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৬৪
أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يموت بثلاثة يقول: "لا يموتن أحدكم إلا وهو حسن نية الله". (مسلم 7412، ابن ماجه 4167)
তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তিকালের তিনদিন পূর্বে তাঁকে বলতে শুনেছেন, “আল্লাহর প্রতি সুধারণা না রেখে তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই মৃত্যুবরণ না করে।” (মুসলিম ৭৪১২, ইবনে মাজাহ ৪১৬৭)
৩৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৬৬
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يقول الله تعالى: أنا كعبد يذكرني، وأنا معه إذا ذكرني، والله إن الله تعالى ليجازيك على توبة عبده». أكثر سعادة من الرجل الذي يستعيد مركبته المفقودة في الصحراء. ومن تحرك إلي ذراعا تحركت إليه ذراعا. ومن مشى إليَّ ذراعاً مشيت إليه ذراعين، وإذا مشى إليَّ ركضت إليه». (البخاري 7805، مسلم 7128)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, ‘আমি সেইরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে। আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বেশি খুশী হন, যে তার মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া বাহন ফিরে পায়। আর যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।” (বুখারী ৭৮০৫ , মুসলিম ৭১২৮)
৩৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৬৭
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يقول الله تعالى: أؤيد ظن عبدي (أي إذا ظن أن الله سيغفر له ويقبل توبته وينقذه من الخطر فعلت ذلك)، ابق معي إذا ذكرني، فإذا ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي، وإذا ذكرني في مجلس ذكرته في مجلس من هو خير منهم. (الملائكة)." (البخاري 7405، مسلم 6981، 7008)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার পাশে থাকি। (অর্থাৎ, সে যদি ধারণা রাখে যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন, তার তওবা কবুল করবেন, বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করবেন, তাহলে তাই করি।) আর আমি তার সাথে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। সুতরাং সে যদি তার মনে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে আমার মনে স্মরণ করি, সে যদি কোন সভায় আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের (ফিরিশতাদের) সভায় স্মরণ করি।” (বুখারী ৭৪০৫, মুসলিম ৬৯৮১, ৭০০৮)
৩৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৬৮
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا يتمنين أحدكم الموت، فإنه إن كان محسنا ليزداد حسناته، وإن كان أثما ليتوب). (البخاري 5673، 7235) وفي رواية أخرى لمسلم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (لا يتمنين أحدكم الموت، ولا يدعو عليه أحد قبل أن يأتيه، فإنه إذا مات انقطع عمله، ولا يزيد المؤمن في عمره إلا الخير). (مسلم 6995)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে পুণ্যবান হলে সম্ভবতঃ সে পুণ্য বৃদ্ধি করবে। আর পাপী হলে (পাপ থেকে) তাওবাহ করতে পারবে।” (বুখারী ৫৬৭৩, ৭২৩৫)\nমুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং তা আসার পূর্বে কেউ যেন তার জন্য দু‘আ না করে। কারণ, সে মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ মু’মিনের আয়ু কেবল মঙ্গলই বৃদ্ধি করবে।” (মুসলিম ৬৯৯৫)
৩৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৬৯
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يتمنين أحدكم الموت من خطر، فإن كان لا بد فليقل: اللهم أحيني ما كانت الحياة خيرا لي». ودعني أموت؛ إذا كان الموت خيراً لي». (البخاري 6351، مسلم 6990)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ কোন বিপদে পড়ার কারণে যেন মরার আকাঙ্ক্ষা না করে। আর যদি তা করতেই হয়, তাহলে সে যেন বলে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে জীবিত রাখ; যে পর্যন্ত জীবিত থাকাটা আমার জন্য মঙ্গলময় হয়। আর আমাকে মরণ দাও; যদি মরণ আমার জন্য মঙ্গলময় হয়।” (বুখারী ৬৩৫১,মুসলিম ৬৯৯০)
৪০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৭০
قال: ذهبنا إلى خباب بن أرت المريض. في ذلك الوقت أحرق سبع مرات (لشفاء جسده). فقال: إن أصحابنا الذين ماتوا قد وصلوا إلى درجة أن الدنيا ليس لها جزاء على أعمالهم. لم أستطع تقليله. ولقد حصلنا على ما لا نجد مكانًا نخزنه فيه إلا الأرض. ولولا نهانا النبي صلى الله عليه وسلم عن تمني الموت لدعوت بالموت. (قال قيس) ثم أتيناه مرة أخرى. ثم كان يبني سور بيته. قال: «إن المسلم يؤجر في جميع نفقته إلا ما ينفقه في الأرض». (البخاري 5672، مسلم 6993) مفردات البخاري)
তিনি বলেন, আমরা অসুস্থ খাব্বাব বিন আরাত্ (রাঃ) কে দেখা করতে গেলাম। সে সময় তিনি (তাঁর দেহে চিকিৎসার জন্য) সাতবার দেগেছিলেন। তিনি বললেন, ‘আমাদের সাথীরা যাঁরা (পূর্বেই) মারা গেছেন তাঁরা এমতাবস্থায় চলে গেছেন যে, দুনিয়া তাদের আমলের সওয়াবে কোন রকম কমতি করতে পারেনি। আর আমরা এমন (সম্পদ) লাভ করেছি, যা মাটি ছাড়া অন্য কোথাও রাখার জায়গা পাচ্ছি না। যদি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে মৃত্যু-কামনা করতে নিষেধ না করতেন, তাহলে (রোগ-যন্ত্রণার কারণে) আমি মৃত্যুর জন্য দু‘আ করতাম।’ (কাইস বলেন,) অতঃপর আমরা অন্য এক সময় তাঁর কাছে এলাম। তখন তিনি তাঁর (বাড়ির) দেওয়াল তৈরী করছিলেন। তিনি বললেন, ‘মুসলিম ব্যক্তিকে তার সকল প্রকার ব্যয়ের উপর সওয়াব দান করা হয়, তবে এ মাটিতে ব্যয়কৃত জিনিস ব্যতীত।’ (বুখারী ৫৬৭২, মুসলিম ৬৯৯৩ শব্দাবলী বুখারীর)
৪১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৭১
فلما أصاب عم رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاه. فلما تمنى العباس الموت، قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا عم، لا تتمن الموت، فإنك إن كنت رجلا صالحا، وطال عمرك، ستكثر من الخير، ذلك الذي لك". ميمون وإذا كنت خاطئًا وحصلت على المزيد من الحياة، فسوف تحصل على فرصة للتوبة من الذنب، فذلك خير لك. فلا تتمنين الموت." (الحاكم 1254، رواه الأحكام، الألباني ج4 ص، الحديث صحيح)
‘আল্লাহর রসূলের চাচা পীড়িত হলে তিনি তাঁর নিকট এলেন। আব্বাস মৃত্যুকামনা প্রকাশ করলে আল্লাহর রসূল তাঁকে বললেন, “হে চাচাজান! মৃত্যু কামনা করেন না। কারণ, আপনি নেক লোক হলে এবং হায়াত বেশী পেলে বেশী-বেশী নেকী করে নিতে পারবেন; যা আপনার জন্য মঙ্গলময়। আর গোনাহগার হলে এবং বেশী হায়াত পেলে আপনি গোনাহ থেকে তওবা করার সুযোগ পাবেন, সুতরাং তাও আপনার জন্য মঙ্গলময়। অতএব মৃত্যুকামনা করেন না।” (হাকেম ১২৫৪, আহকামুল জানায়েয, আলবানী ৪পৃঃ, হাদীসটি সহীহ)
৪২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৭৪
جاء ثلاثة نفر من بني عزرة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأسلموا. ثم بدأوا يعيشون تحت إشراف طلحة. ذات مرة أرسل النبي صلى الله عليه وسلم رجالاً للقتال. وانضم إليه أحدهم واستشهد. ثم لما بعثوا الناس في سرية أخرى انضم إليهم الثاني فاستشهد. ومات الثالث على السرير.\nقال الطوالحة: ثم رأيت ذات ليلة هؤلاء الثلاثة في المنام مات واحد منهم على السرير. هناك الأول، ثم هناك الشهيد اللاحق، والشهيد الأول هو الأخير. فلما شككت في ذلك ذهبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "ما في هذا منكر؟ هو عند الله". "ما من أحد أفضل من المؤمن، يُعطى أكبر سنا في الإسلام للتسبيح والتكبير والتهليل". (أحمد 1401)
বানী উযরার তিন ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করল। অতঃপর তারা ত্বালহার তত্ত্বাবধানে বাস করতে লাগল। এক সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধে কিছু লোক প্রেরণ করলেন। তাদের মধ্যে একজন লোকে তাতে যোগদান ক’রে শহীদ হয়ে গেল। তারপর আরো এক অভিযানে লোক পাঠালে তাদের মধ্যে দ্বিতীয়জন যোগ দিয়ে শহীদ হয়ে গেল। আর তৃতীয়জন বিছানায় মৃত্যুবরণ করল।\nত্বালহা বলেন, ‘অতঃপর এক রাতে আমি ঐ তিনজনকে স্বপ্নে দেখি, ওদের মধ্যে যে বিছানায় মারা গেছে সে সবার আগে আছে, অতঃপর যে পরে শহীদ হয়েছে সে আছে এবং সর্বপ্রথম যে শহীদ হয়েছে সে সবার শেষে রয়েছে। এতে আমার সন্দেহ হলে আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট গিয়ে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, “এতে আপত্তিকর কি আছে? আল্লাহর নিকট সেই মু’মিন অপেক্ষা উত্তম কেউ নয়, যাকে ইসলামে তার তসবীহ, তকবীর ও তহলীলের জন্য বেশি বয়স দেওয়া হবে।” (আহমাদ ১৪০১)
৪৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৭৬
عَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : سَمِعْتُ النَّبيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَهُوَ مُسْتَنِدٌ إلَيَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وارْحَمْنِي وأَلْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الأَعْلَى متفقٌ عَلَيْهِ
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, আল্লাহ্ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনেছি, আল্লাহ্ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করেন, তিনি আমার উপর হেলান দিয়ে বলতেন, হে আল্লাহ্, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমার সাথে যোগ দিন। সর্বোচ্চ সঙ্গী দ্বারা, রাজি
৪৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৭৭
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من كان آخر كلامه لا إله إلا الله دخل الجنة). (أحمد 2034، 2127، أبو داود 3118، الحكيم 1299، صحيح الجامع 6479)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তির শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে (অর্থাৎ এই কালেমা পড়তে পড়তে যার মৃত্যু হবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আহমাদ ২২০৩৪, ২২১২৭, আবূ দাঊদ ৩১১৮, হাকেম ১২৯৯, সহীহুল জামে’ ৬৪৭৯)
৪৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৭৮
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ أَسْنَدْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِلَى صَدْرِي فَقَالَ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
হুযায়ফা (রাঃ) এর সূত্রে, তিনি বলেন: আমি নবীকে হেলান দিয়েছিলাম, আল্লাহ তাঁর উপর শান্তি বর্ষণ করুন, আমার বুকের উপর, এবং তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি বলে যে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, আল্লাহর মুখের সন্ধান করে, তাকে এটি দ্বারা সীলমোহর করা হবে," সে প্রবেশ করবে। জান্নাত, এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর মুখের সন্ধানে একটি দিন রোজা রাখে তার জান্নাতে প্রবেশের জন্য এটি দ্বারা সিলমোহর করা হবে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর মুখের সন্ধানে দান করে তার দ্বারা সিলমোহর করা হবে। এর কারণে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে
৪৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৭৯
عَن جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلَى مَا مَاتَ عَلَيهِرواه مسلم
জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক বান্দাকে পুনরুত্থিত করা হবে যার জন্য সে মারা গেছে। মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।
৪৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৮০
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ذكر جهالكم لا إله إلا الله». (مسلم
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্মরণ করিয়ে দাও।” (মুসলিম
৪৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৮১
عَنْ الْمُسَيَّبِ قَالَ لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ جَاءَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَوَجَدَ عِنْدَهُ أَبَا جَهْلٍ وَعَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِى أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَا عَمِّ قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ كَلِمَةً أَشْهَدُ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللهِ فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِى أُمَيَّةَ يَا أَبَا طَالِبٍ أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَعْرِضُهَا عَلَيْهِ وَيُعِيدُ لَهُ تِلْكَ الْمَقَالَةَ حَتَّى قَالَ أَبُو طَالِبٍ آخِرَ مَا كَلَّمَهُمْ هُوَ عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَأَبَى أَنْ يَقُولَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ
আল-মুসায়্যাবের সূত্রে, তিনি বলেন, যখন আবু তালিবের মৃত্যু ঘনিয়ে আসছিল, তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে এসে দেখতে পেলেন যে আবু জাহেল এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া ইবনুল মুগিরা প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আল্লাহর কাছে এমন কোন কথা নেই যা বলে আমি যেতে পারি না। তুমি।" আল্লাহ, তাই আবু জাহেল এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবি উমাইয়া বললেন: হে আবু তালিব, তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম ত্যাগ কর? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে শান্তি দান করুন, তিনি থামলেন না, তিনি তাঁর কাছে পেশ করলেন এবং সেই নিবন্ধটি তাঁর কাছে ফিরিয়ে দিলেন যতক্ষণ না আবু তালিব তাদের সাথে শেষ কথাটি বলেছিলেন যে তিনি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম অনুসরণ করছেন। তিনি এ কথা বলতে অস্বীকার করলেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই।
৪৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৮৪
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللهِ أَحَبَّ اللهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللهِ كَرِهَ اللهُ لِقَاءَهُ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَكَراهِيَةُ المَوتِ فَكُلُّنَا نَكْرَهُ المَوتَ ؟ قَالَلَيْسَ كَذَلِكَ وَلَكِنَّ المُؤْمِنَ إِذَا بُشِّرَ بِرَحْمَةِ اللهِ وَرِضْوَانِهِ وَجَنَّتِهِ أَحَبَّ لِقَاءَ اللهِ فَأَحَبَّ اللهُ لِقَاءَهُ وَإِنَّ الكَافِرَ إِذَا بُشِّرَ بِعَذابِ اللهِ وَسَخَطهِ كَرِهَ لِقَاءَ اللهِ وَكَرِهَ اللهُ لِقَاءَهُ رواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” এ কথা শুনে আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! তার মানে কি মরণকে অপছন্দ করা? আমরা তো সকলেই মরণকে অপছন্দ করি।’ তিনি বললেন, “ব্যাপারটি এরূপ নয়। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, (মৃত্যুর সময়) মু’মিনকে যখন আল্লাহর করুণা, তাঁর সন্তুষ্টি তথা জান্নাতের সুসংবাদ শুনানো হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভকেই পছন্দ করে, আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর কাফেরের (অন্তিমকালে) যখন তাকে আল্লাহর আযাব ও তাঁর অসন্তুষ্টির সংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ অপছন্দ করে। আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” (বুখারী ৬৫০৭, মুসলিম ৬৯৯৮)
৫০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২৮৫
عن بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَمُوتُ بِعَرَقِ الْجَبِينِ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মুমিনের মৃত্যুকালে তার কপালে ঘাম ঝরে।” (তিরমিযী ৯৮২, নাসাঈ ১৮২৭, ইবনে মাজাহ ১৪৫২, আহমাদ ৫/৩৫০, ৩৫৭, ৩৬০, হাকেম ১/৩৬১, ইবনে হিব্বান ৭৩০ প্রমুখ)