অধ্যায় ২০
অধ্যায়ে ফিরুন
৬৮ হাদিস
০১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯০১
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بعثت بالسيف أعبد الله لا شريك له، وجعل رزقي تحت ظل رمحي، وجعل الخزي والعار على من خالف أمري». فمن اتخذ مثل الأمة فهو منهم». (أحمد 5114-5115، 5667، شعبول مان 98، صح جامع رقم 2831)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমি (কিয়ামতের পূর্বে) তরবারি-সহ প্রেরিত হয়েছি, যাতে শরীকবিহীনভাবে আল্লাহর ইবাদত হয়। আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বর্শার ছায়াতলে। অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” (আহমাদ ৫১১৪-৫১১৫, ৫৬৬৭, শুআবুল মান ৯৮, সঃ জামে’ ২৮৩১ নং)
০২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯০২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي العمل أفضل؟ قال: "أن تؤمن بالله ورسوله". قيل: ثم ماذا؟ قال: "الجهاد في سبيل الله". فسأل مرة أخرى، قيل: ثم ماذا؟ قال: «الحج المبرور». (البخاري 26 ، 1519 ، مسلم رقم 258)
তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা হল, ‘সর্বোত্তম কাজ কী?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারপর কী?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হল, ‘অতঃপর কী?’ তিনি বললেন, “মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।” (বুখারী ২৬, ১৫১৯, মুসলিম ২৫৮ নং)
০৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯০৩
আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ العَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالَى ؟ قَالَ الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا قُلْتُ : ثُمَّ أيُّ ؟ قَالَبِرُّ الوَالِدَيْنِ قُلْتُ : ثُمَّ أَيُّ ؟ قَالَ الجِهَادُ فِي سَبيلِ اللهِ متفقٌ عليه
তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! মহান আল্লাহর নিকট কোন্ কাজটি সর্বাধিক প্রিয়?’ তিনি বললেন, “যথা সময়ে নামায আদায় করা।” আমি নিবেদন করলাম, ‘তারপর কোন্‌টি?’ তিনি বললেন, “মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা।” আমি আবার নিবেদন করলাম, ‘তারপর কোন্টি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” (বুখারী ৫২৭, ২৭৮২ নং, মুসলিম ২৬২ নং, তিরমিযী, নাসাঈ)
০৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯০৬
আবু আইয়ুব আল-আনসারী (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لغدوة في سبيل الله أو مساءة خير مما تطلع عليه الشمس وتغرب". (مسلم رقم: 4985)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের) একটি সকাল অথবা সন্ধ্যা সেই (বিশ্বজাহান) অপেক্ষা উত্তম যার উপর সূর্য উদিত ও অস্তমিত হয়েছে।” (মুসলিম ৪৯৮৫ নং)
০৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯০৮
নু'আইম বিন হাম্মার (রাঃ)
عَنْ نُعَيْمِ بْنِ هَمَّارٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قال أفْضَلُ الشُّهَدَاءِ الَّذِينَ يُقاتِلُونَ في الصَّفِّ الأَوَّلِ فلا يَلْفِتُونَ وُجُوهَهُمْ حَتَّى يُقْتَلُوا أُولَئِكَ يَتَلبَّطُونَ في الغُرَفِ العُلَى مِنَ الجَنَّةِ يَضْحَكُ إلَيْهِمْ رَبُّكَ فإذا ضَحِكَ رَبُّكَ إلى عَبْدٍ في مَوْطِنٍ فلا حِسابَ عَلَيْهِ
নুয়াইম ইবনে হামারের সূত্রে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি বলেছেন: সর্বোত্তম শহীদ তারা যারা প্রথম কাতারে লড়াই করে এবং তাদের হত্যা না করা পর্যন্ত তাদের মুখ ফিরিয়ে নেয় না যে তারা জান্নাতের সর্বোচ্চ কক্ষে ঘুরে বেড়ায় এবং আপনার রব তাদের দেখে হাসেন। কাজেই তোমার রব যদি কোনো বাসস্থানে কোনো বান্দাকে উপহাস করেন, তার কোনো হিসাব নেই। অ্যাটিক
০৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯১১
সাহ্ল ইবনে সা’দ সায়েদী (রাঃ)
وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللهِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا وَمَوْضِعُ سَوْطِ أَحَدِكُمْ مِنَ الجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا وَالرَّوْحَةُ يَرُوحُهَا العَبْدُ في سَبِيلِ اللهِ تَعَالَى أَوِ الغَدْوَةُ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا عَلَيْهَا متفقٌ عليه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর রাহে একদিন সীমান্ত প্রহরায় রত থাকা, পৃথিবী ও ভূ-পৃষ্ঠের যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা উত্তম। আর তোমাদের কারো একটি বেত্র পরিমাণ জান্নাতের স্থান, দুনিয়া তথা তার পৃষ্ঠস্থ যাবতীয় বস্তু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আর তোমাদের কোন ব্যক্তির আল্লাহর পথে (জিহাদ কল্পে) এক সকাল অথবা এক সন্ধ্যা গমন করা পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।” (বুখারী ২৮৯২, মুসলিম ৪৯৮২-৪৯৮৩ নং)
০৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯১৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «من مات في سبيل الله وهو يدفع الله عنه عمل، وما كان يعمل في حياته رزقه». فيأمن من كل فتنة، ويأمنه الله من كل أهوال، ويبعثه يوم القيامة». (أحمد 9244، ابن ماجه 2767، صحيح الجامع رقم 6544)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি (শত্রু সীমান্তে) প্রতিরক্ষার কাজে রত থাকা অবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় মারা যাবে, সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তার সেই আমল জারী রাখবেন; যা সে জীবিতাবস্থায় করত, তার রুজীও জারী করা হবে, (কবরের) সকল প্রকার ফিতনা হতে সে নিরাপদে থাকবে, আর আল্লাহ তাকে মহাত্রাস থেকে নির্বিঘ্নে রেখে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করবেন।” (আহমাদ ৯২৪৪, ইবনে মাজাহ ২৭৬৭, সহীহুল জামে’ ৬৫৪৪ নং)
০৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯১৬
ফাজালাহ বিন উবাইদ (রাঃ)
وَعَنْ فَضَالَةَ بنِ عُبَيْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَكُلُّ مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلاَّ المُرَابِطَ فِي سَبيلِ اللهِ فَإِنَّهُ يُنْمَى لَهُ عَمَلهُ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ وَيُؤَمَّنُ فِتْنَةَ القَبْرِرواه أَبُو داود والترمذي، وقال : حديث حَسَنٌ صَحِيْحٌ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “প্রতিটি মৃত্যুগামী ব্যক্তির পরলোকগমনের পর তার কর্মধারা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় পাহারা রত ব্যক্তির নয়। কেননা, তার আমল কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করা হবে এবং সে কবরের পরীক্ষা থেকে নিষ্কৃতি পাবে।” (আবূ দাঊদ ২৫০২, তিরমিযী ১৬২১ নং, হাসান সহীহ)
০৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯১৭
উসমান ইবনু আফফান (রাঃ)
وَعَن عُثمَانَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُول اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولرِبَاطُ يَوْمٍ في سَبيلِ اللهِ خَيْرٌ مِنْ ألْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنَ المَنَازِلِرواه الترمذي وقالحديث حَسَنٌ صَحِيْحٌ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “আল্লাহর পথে একদিন সীমান্তে পাহারা দেওয়া, অন্যত্র হাজার দিন পাহারা দেওয়া অপেক্ষা উত্তম।” (তিরমিযী ১৬৬৭ নং, তিনি বলেন, হাদীসটি উত্তম ও বিশুদ্ধ)
১০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯২০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من جرح في سبيل الله، والله أعلم بمن جرح في سبيله، جاء يوم القيامة يسيل من جرحه دم، لونه كالدم، وريحه مثل المسك». (البخاري 2803، مسلم 1876)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জখমী হয়- আর আল্লাহই অধিক জানেন কে তাঁর রাস্তায় জখমী হয় - সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যখন তার ঐ জখম হতে ফিন্কি ধরে রক্ত প্রবাহমান থাকবে; (রক্তের) রঙ তো হবে রক্তের মতই, কিন্তু তার গন্ধ হবে কস্তুরীর।” (বুখারী ২৮০৩ , মুসলিম ১৮৭৬ নং)
১১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯২২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: كان أحد أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقطع الطريق بين الجبلين. كان هناك نبع مياه عذبة صغير على هذا الطريق. لذلك أبهرته. فقال: لو اعتزلت الناس كنت أسكن هذا الطريق الجبلي، (فهو خير)! ولكني لا أفعل ذلك إلا بإذن رسول الله صلى الله عليه وسلم. فذكر ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم. قال: "فلا تفعلوا، لأن بقاء أحدكم في سبيل الله خير من أن يصلي في بيته سبعين سنة، ألا تريدون أن يغفر الله لكم ويدخلكم الجنة؟ فقاتلوا في سبيل الله" (العلم).
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর একজন সাহাবী একটি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী পথ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। সে পথে ছিল একটি ছোট মিষ্টি পানির ঝর্ণা। সুতরাং তা তাঁকে মুগ্ধ ’রে তুলল। তিনি বললেন, ‘আমি যদি লোকদের থেকে পৃথক হয়ে এই পাহাড়ী পথে বসবাস করতাম, (তাহলে ভাল হত)! তবে এ কাজ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুমতি ব্যতীত কখনই করব না।’ সুতরাং তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট এ কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন, “এরূপ করো না। কারণ, আল্লাহর রাস্তায় তোমাদের কোন ব্যক্তির (জিহাদ উপলক্ষ্যে) অবস্থান করা, নিজ ঘরে সত্তর বছর ব্যাপী নামায পড়া অপেক্ষা উত্তম। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা ক’রে দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করান? অতএব আল্লাহর রাহে লড়াই কর। (জেনে রেখো,) যে ব্যক্তি আল্লাহর রাহে দু’বার উটনী দোহানোর মধ্যবর্তী সময় পরিমাণ জিহাদ করবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।” (তিরমিযী ১৬৫০ নং, হাসান সূত্রে)
১২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯২৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مثل المجاهد في سبيل الله - والله أعلم بمن يجاهد في سبيله - كمثل الصائم القائم، وقد حق الله للمجاهد في سبيله إذا قبض أن يدخله الجنة، أو يرده سالما بأجر ومال». (البخاري رقم 2787)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদকারীর উপমা -আর আল্লাহই অধিক জানেন কে তাঁর পথে জিহাদ করে- (অবিরত নফল) সিয়াম ও নামায পালনকারীর মত। আর আল্লাহ তাঁর পথে জিহাদকারীকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তার প্রাণহরণ করলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, নচেৎ সওয়াব ও যুদ্ধলব্ধ সম্পদের সাথে তাকে নিরাপদে (স্বগৃহে) ফিরিয়ে আনবেন।” (বুখারী ২৭৮৭ নং)
১৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯২৫
আল-রাবি (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لحياة رجل ملك فرسا في سبيل الله خير من حياة الناس جميعا، يطير على فرس عند صوت الحرب، أو يطير على ظهره خوف عدو». يركب (بسرعة سريعة) ويسعى للاستشهاد أو الموت في مكانه المحتمل. أو ذلك الشخص (الحياة أفضل) الذي يبقى مع قطيعه من الماعز على قمة جبل أو في وسط واد. يصلي كعادته، ويؤتي الزكاة، والموت ينخرط في عبادة ربه. وهذا الرجل هو أفضل مكان بين الناس. (مسلم رقم: 4997)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহর পথে ঘোড়ার লাগাম ধারক ব্যক্তির জীবন, সমস্ত লোকের জীবন চাইতে উত্তম, যে ব্যক্তি যুদ্ধধ্বনি শোনামাত্র ঘোড়ার পিঠে চড়ে উড়ে চলে অথবা কোন শত্রুর ভয় দেখা মাত্র তার পিঠে চড়ে (দ্রুত বেগে) উড়ে যায় এবং শাহাদত অথবা মৃত্যু তার (স্ব স্ব) স‎ম্ভাব্য স্থানে সন্ধান করতে থাকে। কিংবা সেই ব্যক্তির (জীবন সর্বোত্তম) যে তার ছাগলের পাল নিয়ে পর্বতশিখরে বা কোন উপত্যকার মাঝে অবস্থান করে। যথারীতি নামায আদায় করে, যাকাত দেয় এবং আমরণ স্বীয় প্রভুর উপাসনায় প্রবৃত্ত থাকে। লোকেদের মধ্যে এ ব্যক্তি উত্তম অবস্থায় রয়েছে।” (মুসলিম ৪৯৯৭ নং)
১৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯২৬
বর্ণনাকারী
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن في الجنة مائة درجة أعدها الله للمجاهدين في سبيل الله، ما بين الدرجتين كما بين السماء والأرض». (البخاري رقم: 2790)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে একশ’টি স্তর আছে, যা আল্লাহর রাহে জিহাদকারীদের জন্য মহান আল্লাহ প্রস্তুত ক’রে রেখেছেন। দুই স্তরের মাঝখানের ব্যবধান আসমান-যমীনের মধ্যবর্তীর দূরত্বসম।” (বুখারী ২৭৯০ নং)
১৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯২৮
আবু বকর ইবনে আবু মুসা আশআরী (রা.)
قال: سمعت أبي رضي الله عنه يقول هذا - وهو بين يدي العدو - فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن أبواب الجنة تحت ظل السيف". فسمع ذلك رجل خشن المظهر، فقام فقال: يا أبا موسى! هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول هذا؟ قال: نعم. ثم التفت إلى أصحابه فقال: السلام عليكم، ثم استل سيفه. فكسر الغمد وتقدم نحو العدو بالسيف وضرب العدو واستشهد في النهاية. (مسلم رقم: 5025)
তিনি বলেন, আমি আমার পিতা (রাঃ) কে এ কথা বলতে শুনেছি---যখন তিনি শত্রুর সামনে বিদ্যমান ছিলেন---আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিঃসন্দেহে জান্নাতের দ্বারসমূহ তরবারির ছায়াতলে রয়েছে।” এ কথা শুনে রুক্ষ বেশধারী জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলে উঠল, ‘হে আবূ মূসা! আপনি কি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ কথা বলতে শুনেছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। অতঃপর সে তার সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেল এবং বলল, তোমাদেরকে বিদায়ী সালাম জানাচ্ছি।’ অতঃপর সে তার তরবারির খাপটি ভেঙ্গে দিয়ে (নগ্ন) তরবারিটি নিয়ে শত্রুর দিকে অগ্রসর হল এবং শত্রুকে আঘাত ক’রে অবশেষে সে শহীদ হয়ে গেল। (মুসলিম ৫০২৫ নং)
১৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯২৯
আবু আব্বাস আবদ আল-রহমান ইবনে জাবর (রা.)
وقال صلى الله عليه وسلم: (لا تمس النار عبداً اغبرت قدماه في سبيل الله). (البخاري 907، رقم 2811)
রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে বান্দার পদযুগল আল্লাহর পথে ধূলিমলিন হবে, তাকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না।” (বুখারী ৯০৭, ২৮১১ নং)
১৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৩০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يدخل النار من بكى من خشية الله حتى يعود اللبن إلى الثدي، (أي كما يستحيل أن يعود اللبن إلى الثدي، كذلك يستحيل أن يدخل النار» مستحيل)، ولا يجتمع غبار سبيل الله ودخان جهنم على عبد واحد». (الترمذي 1633، رقم 2311، حسن صحيح)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “সেই ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না, যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কাঁদে; যতক্ষণ না দুধ স্তনে ফিরে না গেছে। (অর্থাৎ, দুধ স্তনে ফিরে যাওয়া যেমন অসম্ভব, তেমনি তার জাহান্নামে প্রবেশ করাও অসম্ভব।) আর একই বান্দার উপর আল্লাহর পথের ধূলা ও জাহান্নামের ধুঁয়া একত্র জমা হবে না।” (তিরমিযী ১৬৩৩, ২৩১১ নং, হাসান সহীহ)
১৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৩১
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من يقتل كافرا على حق، لا يجتمع هو وذلك الكافر في النار، ولا يجتمع غبار سبيل الله وحر جهنم في قلب مؤمن، ليس مثل ذلك». لا يمكن أن يجتمع الإيمان والعنف في قلب الخادم. (النسائي 3109، كبير الطبراني 144، سواجر 410، بيكبير شعب الإيمان 6609، ابن حبان 4606)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে মুসলিম কোন কাফেরকে হত্যা ক’রে নিজেও সঠিক পথে চলেছে, সে এবং ঐ কাফের জাহান্নামে একত্রিত হবে না। কোন মু’মিনের অন্তরে আল্লাহর পথের ধুলা এবং জাহান্নামের উত্তাপ একত্রিত হবে না। অনুরূপ কোন বান্দার অন্তরে ঈমান ও হিংসা একত্রিত হতে পারে না।” (নাসাঈ ৩১০৯, ত্বাবারানীর কাবীর ১৪৪, স্বাগীর ৪১০, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৬৬০৯, ইবনে হিব্বান ৪৬০৬ নং)
১৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৩২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا يجتمع غبار سبيل الله وتراب النار في بطن عبد، ولا يجتمع البخل والإيمان في قلب عبد". (أحمد 7480، أدب البخاري 281، النسائي 3110، صحيح الجامع رقم 7616)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “কোনও বান্দার পেটে আল্লাহর রাস্তার ধুলো আর দোযখের ধুঁয়ো একত্রিত হবে না। আর কৃপণতা ও ঈমান কোন বান্দার অন্তরে একত্রিত হতে পারে না।” (আহমাদ ৭৪৮০ , বুখারীর আদাব ২৮১, নাসাঈ ৩১১০ , সহীহুল জামে' ৭৬১৬ নং)
২০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৩৩
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «عينان لا تمس النارهما: عين بكت من خشية الله، وعين ساهرة في سبيل الله». (الترمذي رقم 1639، حسن)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি যে, “দুই প্রকার চক্ষুকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। আল্লাহর ভয়ে যে চক্ষু ক্রন্দন করে। আর যে চক্ষু আল্লাহর পথে প্রহরায় রত থাকে।” (তিরমিযী ১৬৩৯ নং, হাসান)
২১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৩৪
আবু 'উমামাহ (রাঃ)
الأثر على الطريق والآخر الأثر الناتج عن أداء شيء من فرائض الله (الجهاد والصلاة والحج والصيام وغيرها). (الترمذي 1669، الطبراني 7843)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন “দুটি বিন্দু ও চিহ্ন অপেক্ষা অন্য কিছুই আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় নয়; আল্লাহর ভয়ে কান্নার এক বিন্দু অশ্রু এবং আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদে) বহানো একবিন্দু রক্ত। আর দুটি চিহ্নের একটি হল, আল্লাহর রাস্তায় (চলার) চিহ্ন এবং অপরটি হল, আল্লাহর ফরযসমূহের কোন ফরয (জিহাদ, নামায, হজ্জ, সিয়াম প্রভৃতি) পালন করার ফলে পড়া (পায়ের বা ক্ষতের) চিহ্ন।” (তিরমিযী ১৬৬৯, ত্বাবারানী ৭৮৪৩ নং)
২২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৩৫
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ""إذا تتجرون بالعينة وتكتفون بالزراعة والعيش على أذناب البقر، وتتركون الجهاد، بعث الله عليكم ذلاً لا ينزعه الله عن قلوبكم حتى ترجعوا إلى دينكم"." (أحمد 5562، أبو داود 3464، البيهقي رقم 10484)
আমি শুনেছি, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন তোমরা ‘ঈনাহ’ ব্যবসা করবে এবং গরুর লেজ ধরে কেবল চাষ-বাস নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে, আর জিহাদ ত্যাগ করে বসবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর এমন হীনতা চাপিয়ে দেবেন; যা তোমাদের হৃদয় থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত দূর করবেন না; যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের দ্বীনের প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছ।” (আহমাদ ৫৫৬২, আবু দাঊদ ৩৪৬৪, বাইহাকী ১০৪৮৪ নং)
২৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৩৬
আবু বাকরাহ (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يكون قوم يزرعون بذيل البقرة، ويكرهون الجهاد، فيهلكون». (أبو داود 4306، مشكاة رقم 5432)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “----- এক জাতি হবে যারা গরুর লেজ ধরে চাষবাস করবে এবং জিহাদে বিমুখতা প্রকাশ করবে, তারা হবে ধ্বংস।” (আবূ দাঊদ ৪৩০৬, মিশকাত ৫৪৩২ নং)
২৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৩৭
আবু উমামা (রাঃ)
ورأى أبو أمامة (رضي الله عنه) بعض أدوات الحراثة والحراثة، فقال: سمعت النبي (صلى الله عليه وسلم) يقول: (ليدخلن الله دار قوم يدخلون دار هذا الشيء). (البخاري 2321، أوسط الطبراني 8921 رقم)
আবূ উমামা (রাঃ) ফাল ও হাল-চাষের কিছু সাজ-সরঞ্জাম দেখে বললেন, আমি শুনেছি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে জাতির ঘরে এই জিনিস প্রবেশ করবে, সেই জাতির ঘরে আল্লাহ লাঞ্ছনা প্রবিষ্ট করবেন।” (বুখারী ২৩২১, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৮৯২১ নং)
২৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৩৮
শাওবান (রহ.)
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يُوشِكُ الأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا فَقَالَ قَائِلٌ وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ قَالَ بَلْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ كَثِيرٌ وَلَكِنَّكُمْ غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ اللهُ فِى قُلُوبِكُمُ الْوَهَنَ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا الْوَهَنُ قَالَ حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ
সাওবানের কর্তৃত্ব সম্পর্কে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল, আল্লাহর দোয়া এবং সালাম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জাতিগুলি আপনার বিরুদ্ধে আবেদন করতে চলেছে, যেমন ভক্ষণকারীরা তাদের বাটি নিয়ে বিতর্ক করে।" কেউ বললো, "কে? সেদিন আমরা কম হব। তিনি বললেন, "বরং সেদিন তোমরা অনেক হবে, কিন্তু জলস্রোতের ময়লার মতো নোংরা হবে। এবং ঈশ্বর তা মানুষের অন্তর থেকে মুছে দেবেন।” আপনার শত্রুকে আপনার কাছ থেকে ভয় করা উচিত, এবং ঈশ্বর আপনার হৃদয়ে দুর্বলতা নিক্ষেপ করুন। কেউ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, দুর্বলতা কী? তিনি বলেছিলেন, "দুনিয়ার প্রেম এবং মৃত্যু ঘৃণা।"
২৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৪৩
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
وجاء شاب من أسلم فقال: يا رسول الله! أريد أن أقوم بالجهاد؛ ولكن ليس لدي معدات له. قال: اذهب إلى فلان، فإنه قد أعد العدة، وهو مريض. منتهي." فأتاها فقال: سلم عليك الرسول صلى الله عليه وسلم، وقال: أعطيني العدة التي أعددتها للحرب، فقال: يا فلان! حسنًا، أعطي كل المعدات التي أعددتها لغرض الحرب. ولا تمنعوا منه شيئاً (بل أعطوه كله). قسم الله! فإن منعتم منه شيئا لم يبارك لكم فيه. (مسلم رقم: 5010)
আসলাম গোত্রের এক যুবক এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি জিহাদ করতে চাচ্ছি; কিন্তু তার জন্য আমার কোন সাজ-সরঞ্জাম নেই।’ তিনি বললেন, “তুমি অমুকের নিকট যাও। কারণ, সে (যুদ্ধের জন্য) সাজ-সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছিল; কিন্তু (ভাগ্যক্রমে) সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।” সুতরাং সে তার কাছে এসে বলল, ‘রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাকে সালাম পেশ করেছেন এবং বলেছেন যে, তুমি আমাকে ঐসব সাজ-সরঞ্জাম দিয়ে দাও, যা তুমি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলে।’ সে (স্বীয় স্ত্রীকে) বলল, ‘হে অমুক! ওকে ঐ সমস্ত সরঞ্জাম দিয়ে দাও, যেগুলি আমি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করেছিলাম। আর ওর মধ্য হতে কোন কিছু রেখে নিও না (বরং সমস্ত দিয়ে দাও)। আল্লাহর শপথ! তুমি তার মধ্য হতে কোন জিনিস আটকে রাখলে, তোমার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে না।’ (মুসলিম ৫০১০ নং)
২৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৪৫
বারা' ইবনে আজিব (রাঃ)
وَعَن البَرَاءِ قَالَ : أَتَى النَّبيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم رَجُلٌ مُقَنَّعٌ بِالحَدِيدِ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ أُقَاتِلُ أَوْ أُسْلِمُ؟ قَالَأَسْلِمْ ثُمَّ قَاتِلْ فَأَسْلَمَ ثُمَّ قَاتَلَ فَقُتِلَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَمِلَ قَلِيلاً وَأُجِرَ كَثِيراً متفقٌ عليه وهذا لفظ البخاري
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট লোহার শিরস্ত্রাণ পরা অবস্থায় এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আগে জিহাদ করব, না ইসলাম গ্রহণ করব?’ তিনি বললেন, “আগে ইসলাম গ্রহণ কর, তারপর জিহাদ কর।” সুতরাং সে ইসলাম গ্রহণ ক’রে জিহাদে প্রবৃত্ত হল এবং শহীদ হয়ে গেল। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “লোকটি কাজ তো অল্প করল; কিন্তু পারিশ্রমিক প্রচুর পেল।” (বুখারী ২৮০৮, মুসলিম ৫০২৩ নং, শব্দগুলি বুখারীর)
২৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৪৬
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "ما من أحد بعد دخوله الجنة يحب أن يرجع إلى الدنيا وهو يحرص على أن يملك كل ما ظهر عليها، إلا الشهيد لما ناله من الكرامة والشرف". وبعد أن تشهدها ترجع إلى الدنيا وتتمنى أن تستشهد عشر مرات. (البخاري 2817، مسلم رقم 4976)\nوفي رواية: ""إنه يشتهي ذلك بعد أن يرى فضل الشهادة قد حصل"." (البخاري رقم 2795)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কোন ব্যক্তি এমন নেই যে, জান্নাতে যাওয়ার পর এই লোভে জগতে ফিরে আসা পছন্দ করবে যে, ধরা পৃষ্ঠে যা কিছু আছে সবারই সে মালিক হয়ে যাবে। কিন্তু শহীদ (তা করবে। কেননা,) সে প্রাপ্ত মর্যাদা ও সম্মান প্রত্যক্ষ ক’রে ইহজগতে ফিরে এসে দশবার শহীদ হতে কামনা করবে।” (বুখারী ২৮১৭, মুসলিম ৪৯৭৬ নং)\nঅন্য বর্ণনানুযায়ী “সে প্রাপ্ত শাহাদাতের ফযীলত দেখে এ বাসনা করবে।” (বুখারী ২৭৯৫ নং)
২৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৪৭
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «يغفر الله للشهداء جميع ذنوبهم إلا الدين». (مسلم رقم 4991)\nوفي رواية: «الشهادة في سبيل الله تكفر الخطايا كلها إلا الدين». (رقم 4992)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “ঋণ ছাড়া শহীদের সকল গোনাহ আল্লাহ মাফ ক’রে দেবেন।” (মুসলিম ৪৯৯১ নং)\nএর অন্য এক বর্ণনায় আছে, “আল্লাহর পথে শাহাদত বরণ ঋণ ব্যতীত সমস্ত পাপকে মোচন করে দেয়।” (ঐ ৪৯৯২ নং)
৩০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৪৮
মিকদাম বিন মাদিকারিব কিন্দি (রহ.)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: للشهيد عند الله تعالى ست خيرات: مع أول قطرة من دمه تغفر له ذنوبه، ويظهر مقعده في الجنة، وينجو من عذاب القبر، وينجو من عذاب يوم القيامة، ويأمن من الرعب، ويلبس حلية الإيمان، ويزوج سنينة الحوري، وتقبل شفاعته في 70 من عائلته." (أحمد 17182، الترمذي 1663، ابن ماجه 2799، صحيح الترمذي 1358)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মহান আল্লাহর নিকট শহীদের জন্য রয়েছে ৬টি দান; তার রক্তের প্রথম ক্ষরণের সাথে তার পাপ ক্ষমা করা হবে, জান্নাতে তার বাসস্থান দেখানো হবে, কবরের আযাব থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হবে, কিয়ামতের মহাত্রাস থেকে নিরাপত্তা পাবে, ঈমানের অলঙ্কার পরিধান করবে, সুনয়না হুরীদের সাথে তার বিবাহ দেওয়া হবে এবং তার নিজ পরিজনের মধ্যে ৭০ জনের জন্য তার সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে।” (আহমাদ ১৭১৮২, তিরমিযী ১৬৬৩, ইবনে মাজাহ ২৭৯৯, সহীহ তিরমিযী ১৩৫৮ নং)
৩১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৫০
জাবের (রা)
قال: فقال رجل: يا رسول الله! إذا استشهدت أين سيكون مكاني؟ قال: في الجنة. (عند سماع ذلك) ألقى كفيه وشارك في المعركة واستشهد في النهاية. (مسلم رقم: 5022)
তিনি বলেন, একটি লোক বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি আমি শহীদ হয়ে যাই, তাহলে আমার স্থান কোথায় হবে?’ তিনি বললেন, “জান্নাতে।” সে (এ কথা শুনে) তার হাতের খেজুরগুলি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হল এবং অবশেষে শহীদ হয়ে গেল। (মুসলিম ৫০২২ নং)
৩২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৫৪
মাসরুক
عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ سَأَلْنَا عَبْدَ اللهِ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ (وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِى سَبِيلِ اللهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ) قَالَ أَمَا إِنَّا قَدْ سَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ أَرْوَاحُهُمْ فِى جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ لَهَا قَنَادِيلُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ تَسْرَحُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شَاءَتْ ثُمَّ تَأْوِى إِلَى تِلْكَ الْقَنَادِيلِ فَاطَّلَعَ إِلَيْهِمْ رَبُّهُمُ اطِّلاَعَةً فَقَالَ هَلْ تَشْتَهُونَ شَيْئًا قَالُوا أَىَّ شَىْءٍ نَشْتَهِى وَنَحْنُ نَسْرَحُ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ شِئْنَا فَفَعَلَ ذَلِكَ بِهِمْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا رَأَوْا أَنَّهُمْ لَنْ يُتْرَكُوا مِنْ أَنْ يُسْأَلُوا قَالُوا يَا رَبِّ نُرِيدُ أَنْ تَرُدَّ أَرْوَاحَنَا فِى أَجْسَادِنَا حَتَّى نُقْتَلَ فِى سَبِيلِكَ مَرَّةً أُخْرَى فَلَمَّا رَأَى أَنْ لَيْسَ لَهُمْ حَاجَةٌ تُرِكُوا
মাসরুকের সূত্রে, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহকে এই আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম (এবং যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে করবেন না, বরং তাদের পালনকর্তার কাছে জীবিত। তারা প্রদান করা হবে।" তিনি বললেন, "অবশ্যই, আমরা এটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি।" তিনি বললেন, "তাদের আত্মা সবুজ পাখির পেটে রয়েছে যা তারা লণ্ঠন থেকে সংযুক্ত করেছে। অতঃপর তাদের রব তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমরা কি চাইছি যখন আমরা যেখানে চাই সেখানেই চলে যাব, এবং যখন তারা দেখল যে, তারা যেন আমাদের কাছে ফিরে আসে। যে তাদের কোন প্রয়োজন ছিল না, তারা পিছিয়ে ছিল।
৩৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৫৫
সামুরাহ (রা)
وَعَن سَمُرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتيَانِي فَصَعِدَا بِي الشَّجرةَ فَأَدْخَلاَنِي دَاراً هِيَ أَحْسَنُ وَأَفضَلُ لَمْ أَرَ قَطُّ أحْسَنَ مِنْهَا قَالاَ : أَمَّا هَذِهِ الدَّارُ فَدَارُ الشُّهَدَاءِ رواه البخاري وَهُوَ بعض من حَدِيثٌ طَوِيلٌ فِيهِ أَنْوَاعٌ مِنَ الْعِلْمِ سَيَأتِي فِي بَابِ تَحْرِيْمِ الْكذب إنْ شاء الله تَعَالَى
সামুরাহ (রাঃ) এর সূত্রে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আজ রাতে আমি দু’জন লোককে দেখলাম যারা আমার কাছে এসেছিল এবং আমাকে গাছটি তুলে নিয়েছিল এবং আমাকে আরও ভাল ঘরে নিয়ে গিয়েছিল।” এবং ভাল, আমি এর চেয়ে ভাল কিছু দেখিনি। তারা বললঃ এই ঘরের কথা, এটা শহীদদের ঘর। আল-বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, এবং এটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ যেখানে মিথ্যার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জ্ঞানের প্রকারভেদ আসবে, আল্লাহ ইচ্ছা করেন।
৩৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৫৭
জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : جِيءَ بِأَبِي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَدْ مُثِّلَ بِهِ فَوُضِعَ بَيْنَ يَدَيْهِ ؛ فَذَهَبْتُ أَكْشِفُ عَنْ وَجْهِهِ فَنَهَانِي قَوْمِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَا زَالتِ المَلائِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا متفقٌ عليه
তিনি বলেন, আমার পিতাকে (উহুদ যুদ্ধের দিন) তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছেদন হেতু বিকৃত অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট নিয়ে আসা হল এবং তাঁর সামনে রাখা হল। আমি পিতার চেহারা খুলতে গেলাম; কিন্তু আমাকে আমার আপনজনরা নিষেধ করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “ওকে ফিরিশতাবর্গ নিজেদের ডানাসমূহ দিয়ে সর্বদা ছায়া করছিল।” (বুখারী ১২৯৩, মুসলিম ৬৫০৮-৬৫০৯ নং)
৩৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৫৮
সাহল বিন হুনাইফ (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سأل الله الشهادة وهو صادق النية، بلغه الله منازل الشهداء، وإن مات على فراشه». (مسلم رقم: 5039)
রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সত্য নিয়্যাতে আল্লাহর কাছে শাহাদত প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌঁছিয়ে দেবেন; যদিও সে নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।” (মুসলিম ৫০৩৯ নং)
৩৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৬০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن ألم الشهادة كما يجد أحدكم ألم قرصة النملة أو قرصتها». (الترمذي رقم 1668، حسن صحيح)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “শহীদ হত্যার আঘাত ঠিক সেইরূপ অনুভব করে, যেরূপ তোমাদের কেউ চিমটি কাটার বা পিপীলিকার কামড়ের আঘাত অনুভব করে।” (তিরমিযী ১৬৬৮ নং, হাসান সহীহ)
৩৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৬১
আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাঃ)
وفي أحد أيام لقاء العدو انتظر الرسول صلى الله عليه وسلم (أي تأخر القتال). فلما غربت الشمس قام في الناس فقال: أيها الناس قد لقيتم العدو. لا تتمنى وتطلب الحماية من الله. ولكن عندما تواجه العدو، قاتل بإصرار. واعلموا أن الجنة تحت ظل السيف». ثم دعا: يا منزل الكتاب، ومجري السحاب، وهزم الأعداء! اهزمهم وساعدنا عليهم». (البخاري 2965، 2966، 3025، مسلم رقم 4640)
শত্রুর সাথে মোকাবেলার কোন এক দিনে, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপেক্ষা করলেন (অর্থাৎ যুদ্ধ করতে বিলম্ব করলেন)। অবশেষে যখন সূর্য ঢলে গেল, তখন তিনি লোকেদের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা শত্রুর সঙ্গে সাক্ষাৎ (যুদ্ধ) কামনা করো না এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাও। কিন্তু যখন শত্রুর সাথে সামনা-সামনি হয়ে যাবে, তখন তোমরা দৃঢ়তার সাথে যুদ্ধ কর। আর জেনে নাও যে, জান্নাত তরবারির ছায়ার নীচে রয়েছে।” অতঃপর তিনি দু’আ করলেন, “হে কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘ সঞ্চালনকারী এবং শত্রুসকলকে পরাজিতকারী! তুমি তাদেরকে পরাজিত কর এবং তাদের মুকাবিলায় আমাদেরকে সাহায্য কর।” (বুখারী ২৯৬৫, ২৯৬৬, ৩০২৫, মুসলিম ৪৬৪০ নং)
৩৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৬৩
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قاتل يدعو بهذا الدعاء: "اللهم أنت أجودي أنسويري، بك أهلو أبيك أصلو أبيك عقبة".\nذلك يا الله! أنت قوتي وأنت سندي. لك: أنا أتخذ الحيلة (العدائية) بالخمر، وأهاجم العدو بمساعدتك، وأشن الحرب بمساعدتك. (أبو داود 2634، الترمذي رقم 3584، حسن)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন যুদ্ধ করতেন, তখন এই দু‘আ পড়তেন, “আল্লা-হুম্মা আন্তা আযুদী অনাস্বীরী, বিকা আহূলু অবিকা আসুলু অবিকা উক্বা-তিল।”\nঅর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমিই আমার বাহুবল এবং তুমিই আমার মদদগার। তোমার মদদেই আমি (শত্রুঘ্ন) কৌশল গ্রহণ করি, তোমারই সাহায্যে দুশমনের উপর আক্রমণ করি এবং তোমারই সাহায্যে যুদ্ধ চালাই। (আবূ দাঊদ ২৬৩৪, তিরমিযী ৩৫৮৪ নং, হাসান)
৩৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৬৪
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
وكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا خاف من أحد يقول هذا الدعاء: "اللهم إنا نجالوكا في نوريهيم أنوو بك من شروريهيم". إنا نواجههم ومن شرهم أعوذ بك. (أبو داود 1539، النسائي الكبرى رقم 3631، المصادر الصرفة)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোন (শত্রুদলের) ভয় করতেন, তখন এই দু‘আ বলতেন, “আল্লা-হুম্মা ইন্না নাজ্আলুকা ফী নুহূরিহিম অনাঊযু বিকা মিন শুরূরিহিম।”\nঅর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমরা তোমাকে ওদের মুখোমুখি করছি এবং ওদের অনিষ্টকারিতা থেকে তোমার নিকট পানাহ চাচ্ছি। (আবূ দাউদ ১৫৩৯, নাসাঈর কুবরা ৩৬৩১ নং, বিশুদ্ধ সূত্রে)
৪০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৬৬
উরওয়াহ বারেকি (রাঃ)
وَعَن عُرْوَةَ البَارِقِيِّ أَنَّ النَّبيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ الخَيْلُ مَعقُودٌ في نَوَاصِيهَا الخَيْرُ إِلَى يَومِ القِيَامَةِ : الأَجْرُ وَالمَغْنَمُ متفقٌ عليه
উরওয়াহ আল-বারিকীর কর্তৃত্বে যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ রয়েছে: পুরস্কার ও গনীমতের উপর একমত।
৪১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৬৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من ظل فرسا في سبيل الله إيمانا بالله وصدقا بوعده، كان الفرس راضيا، مبللا بالماء، بوله وخزانته، مثل عمله يوم القيامة». (البخاري رقم: 2853)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে ও তাঁর প্রতিশ্রুতিকে সত্য ভেবে আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া বেঁধে রাখে (পালন করে), সে ঘোড়ার (আহার পূর্বক) তৃপ্ত হওয়া, পান যোগে সিক্ত হওয়া, তার পেশাব ও পায়খানা কিয়ামতের দিনে তার (নেকীর) পাল্লায় (ওজন) হবে।” (বুখারী ২৮৫৩ নং)
৪২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৬৮
আবু মাসউদ (রাঃ)
جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بزمام فقال: هذا في سبيل الله. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هذا لك يوم القيامة، بسبعمائة من الإبل، كل واحدة منها ملجمة". (مسلم رقم: 5005)
একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কাছে লাগামযুক্ত উটনী নিয়ে হাজির হল এবং বলল, ‘এটি আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য দান করা হল)।’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “কিয়ামতের দিনে তোমার জন্য এর বিনিময়ে সাতশ’টি উটনী হবে; যার প্রত্যেকটি লাগামযুক্ত হবে।” (মুসলিম ৫০০৫ নং)
৪৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৬৯
উকবাহ ইবন আমের জুহানি (রাঃ)
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يخطب على المنبر يقول: (وَأَعِدُوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ) أي اجمعوا ما استطعتم من قوة على العدو. (سورة الأنفال الآية 60) قال: "اعلموا أن الغضب قوة. اعلموا أن الغضب قوة. اعلموا أن الغضب قوة". (مسلم رقم: 5055)
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে মিম্বরের উপর খুৎবা দেওয়ার সময় এ কথা বলতে শুনেছি যে, (মহান আল্লাহ বলেছেন,) وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ অর্থাৎ, তোমরা শত্রুদের বিরুদ্ধে যথাসাধ্য শক্তি সঞ্চয় কর। (সূরা আনফাল ৬০ আয়াত) এর ব্যাখ্যায় বললেন, “জেনে রাখ, ক্ষেপণই হল শক্তি। জেনে রাখ, ক্ষেপণই হল শক্তি। জেনে রাখ, ক্ষেপণই হল শক্তি।” (মুসলিম ৫০৫৫ নং)
৪৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৭০
আল-রাবি (রাঃ)
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: (إنكم ستصيبون بلادا كثيرة، ويكفيكم الله، فليلعب أحدكم بسهمه). دون إظهار عدم القدرة (على الممارسة)." (مسلم رقم: 5056)
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “অচিরেই তোমাদের জন্য অনেক ভূখণ্ড জয়লাভ হবে এবং (শত্রুদের বিরুদ্ধে) আল্লাহই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হবেন। কাজেই তোমাদের কেউ যেন, তার তীর নিয়ে (অবসর সময়ে) খেলতে (অভ্যাস করতে) অক্ষমতা প্রদর্শন না করে।” (মুসলিম ৫০৫৬ নং)
৪৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৭২
সালামাহ ইবন আকওয়া (রাঃ)
مر النبي صلى الله عليه وسلم على قوم يرمون فقال: "يا بني إسماعيل، ارموا السهام فإن أباكم (إسماعيل) كان راميا". (البخاري رقم: 2899، 3373، 3507)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তীর নিক্ষেপে রত একদল লোকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় বললেন, “হে ইসমাঈলের সন্তানেরা! তোমরা তীর নিক্ষেপ কর। কারণ, তোমাদের (আদি) পিতা (ইসমাঈল) তীরন্দাজ ছিলেন।” (বুখারী ২৮৯৯, ৩৩৭৩, ৩৫০৭ নং)
৪৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৭৩
আমর বিন আবাসাহ (রাঃ)
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من رمى بسهم في سبيل الله كان له مثل تحرير رقبة». (أبو داود 3967، الترمذي 1638، حسن صحيح)
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একটি তীর নিক্ষেপ করে, তার জন্য একটি গোলাম আযাদ করার সমান নেকী হয়।” (আবূ দাঊদ ৩৯৬৭, তিরমিযী ১৬৩৮ নং, হাসান সহীহ)
৪৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৭৮
আবু 'উমামাহ (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من صام يومًا في سبيل الله، حفر الله بينه وبين جهنم ثقبًا كما بين السماء والأرض». (الترمذي رقم 1624، حسن صحيح)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সিয়াম রাখবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মধ্যে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যেকার দূরত্বসম একটি গর্ত খনন ক’রে দেবেন।” (তিরমিযী ১৬২৪ নং, হাসান সহীহ)
৪৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৮২
আব্দুল্লাহ ইবনে আম্র ইবনে আ-স (রাঃ)
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَا مِنْ غَازِيَةٍ أَوْ سَرِيّةٍ تَغْزُو فَتَغْنَمُ وَتَسْلَمُ إِلاَّ كَانُوا قَدْ تَعَجَّلُوا ثُلُثَيْ أُجُورهُمْ وَمَا مِنْ غَازِيَةٍ أَوْ سَرِيّةٍ تُخْفِقُ وَتُصَابُ إِلاَّ تَمَّ لَهُمْ أُجُورهُمْرواه مسلم
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে যোদ্ধাদল বা সেনাবাহিনী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করল এবং গনীমতের সম্পদ অর্জন করল তথা নিরাপদে বাড়ি ফিরে এল, সে দল বা বাহিনী স্বীয় প্রতিদানের (নেকীর) তিন ভাগের দু’ভাগ (পার্থিব জীবনেই) সত্বর লাভ ক’রে নিল (এবং একভাগ পরকালে পাবে)। আর যে সেনাদল লড়াই করল এবং গনীমতের মালও পেল না এবং শহীদ বা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল, সে সেনাদল (পরকালে) পূর্ণ প্রতিদান অর্জন করবে।” (মুসলিম ৫০৩৪-৫০৩৫, আবূ দাঊদ ২৪৯৯ নং)
৪৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৮৪
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «فضل الرجوع من الجهاد مثل الجهاد». (أبو داود رقم: 2489، أوتام سند)\nأي أن فضل الرجوع من الجهاد هو مثل الجهاد. (فإن الفراغ والراحة في سبيل الجهاد).
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “জিহাদ থেকে প্রত্যাবর্তন করার নেকীও জিহাদে লিপ্ত থাকার মতই।” (আবূ দাঊদ ২৪৮৯ নং, উত্তম সানাদ)\nঅর্থাৎ, জিহাদ থেকে ফিরে আসার নেকীও জিহাদের মতই। (যেহেতু সে অবসর ও বিশ্রাম জিহাদের স্বার্থেই হয়।)
৫০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৯৮৫
সায়েব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)
قال: «لما رجع النبي صلى الله عليه وسلم من غزوة تبوك استقبله الناس (صغارًا وكبارًا ونساءً)، واستقبلته أيضًا ومعي أطفال صغار في مكان يقال له «سانية العدى» (على أطراف المدينة المنورة).» (أبو داود رقم: 2781، في سند خالص باللفظ) وفي البخاري، قال السائب رضي الله عنه: خرجنا مع الصبيان إلى موضع يقال له "سانية الأداء" للسلام عليه. (البخاري رقم 3083)
তিনি বলেন, “যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাবূক অভিযান হতে ফিরে এলেন, তখন তাঁকে (আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকল) মানুষ স্বাগত জ্ঞাপন করেছিল। আমিও ছোট শিশুদের সাথে (মদীনার উপকণ্ঠে অবস্থিত) ‘সানিয়াতুল অদা’ নামক স্থানে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলাম।” (আবূ দাঊদ ২৭৮১ নং, উক্ত শব্দে শুদ্ধ সানাদে)\nবুখারীতে আছে, সায়েব (রাঃ) বলেন, “আমরা ছোট ছোট ছেলেদের সঙ্গে ‘সানিয়াতুল অদা’ নামক স্থানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম।” (বুখারী ৩০৮৩ নং)