অধ্যায় ১৪
অধ্যায়ে ফিরুন
২৯ হাদিস
০১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৪৬
ইবনু মাসউদ (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من حسود إلا اثنان: من آتاه الله مالا وقدر على إنفاقه في الحق، ومن آتاه الله الحكمة».
তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “কেবল দু’জন ব্যক্তি ঈর্ষার পাত্র। সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তাকে তা সৎপথে ব্যয় করার শক্তিও দিয়েছেন। আর সেই লোক যাকে আল্লাহ জ্ঞান-বুদ্ধি দান করেছেন, যার বদৌলতে সে বিচার-ফায়সালা ক’রে থাকে ও তা অপরকে শিক্ষা দেয়।” (বুখারী ৭৩, ১৪০৯, মুসলিম ১৯৩৩)
০২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৪৭
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
فتفقه في دين الله، ونفعه الله بما أرسلت به من الهدى والعلم. فعلم (نفسه) وعلم (غيره). وهذا مثل من لم يرفع رأسه في ذلك، ولم يقبل هدى الله الذي أرسلت به» (البخاري 79، مسلم 6093).
রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে সরল পথ ও জ্ঞান দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে তা ঐ বৃষ্টি সদৃশ যা যমীনে পৌঁছে। অতঃপর তার উর্বর অংশ নিজের মধ্যে শোষণ করে। অতঃপর তা ঘাস এবং প্রচুর শাক-সব্জি উৎপন্ন করে। এবং তার এক অংশ চাষের অযোগ্য (খাল জমি); যা পানি আটকে রাখে। ফলে আল্লাহ তাআলা তার দ্বারা মানুষকে উপকৃত করেন। সুতরাং তারা তা হতে পান করে এবং (পশুদেরকে) পান করায়, জমি সেচে ও ফসল ফলায়। তার আর এক অংশ শক্ত সমতল ভূমি; যা না পানি শোষণ করে, না ঘাস উৎপন্ন করে। এই দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির যে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে জ্ঞানার্জন করল এবং আমি যে হিদায়াত ও জ্ঞান দিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তার দ্বারা আল্লাহ তাকে উপকৃত করলেন। সুতরাং সে (নিজেও) শিক্ষা করল এবং (অপরকেও) শিক্ষা দিল। আর এই দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তিরও যে এ ব্যাপারে মাথাও উঠাল না এবং আল্লাহর সেই হিদায়াতও গ্রহণ করল না, যা দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি।” (বুখারী ৭৯, মুসলিম ৬০৯৩)
০৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৪৮
সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
خاطب النبي صلى الله عليه وسلم علياً (رضي الله عنه) (في غزوة خيبر) فقال: «والله لئن يهدي الله بك رجلاً واحداً خير من الجمل الأحمر (أثمن بلاد العرب).» (البخاري 3009، 3701، 4210، مسلم).
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (খায়বার যুদ্ধের সময়) আলী (রাঃ) কে সম্বোধন করে বললেন, “আল্লাহর শপথ! তোমার দ্বারা একটি মানুষকেও যদি আল্লাহ সৎপথ দেখান, তবে তা (আরবের মহামূল্যবান) লাল উট অপেক্ষা উত্তম হবে।” (বুখারী ৩০০৯, ৩৭০১, ৪২১০, মুসলিম ৬৩৭৬)
০৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৪৯
Abdullah Ibn Amr Ibn Aas (RA)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «بلغوا الناس عني ولو آية، حدثوا عن بني إسرائيل فلا بأس به، ومن كذب علي متعمدا أو كذبا فقد كذب علي»
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমার পক্ষ থেকে জনগণকে (আল্লাহর বিধান) পৌঁছে দাও, যদিও একটি আয়াত হয়। বনী-ইস্রাঈল থেকে (ঘটনা) বর্ণনা কর, তাতে কোন ক্ষতি নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা (বা জাল হাদীস) আরোপ করল, সে যেন নিজ আশ্রয় জাহান্নামে বানিয়ে নিল।” (বুখারী ৩৪৬১)
০৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৫০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سلك طريقا يطلب فيه علما سهل الله له طريقا إلى الجنة، ما من قوم في بيت من بيوت الله اجتمعوا، يتلون كتاب الله ويتدارسونه، حفتهم الملائكة، ونزلت عليهم السكينة، وغشيتهم الرحمة، وناقشهم الله في ملائكته عنده».
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি এমন পথ অবলম্বন করে চলে যাতে সে ইল্ম (শরয়ী জ্ঞান) অণ্বেষণ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার জন্য জান্নাতে যাওয়ার পথ সহজ করে দেন। যখনই কোন একদল মানুষ আল্লাহর গৃহসমূহের কোন এক গৃহে (মসজিদে) সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং আপোসে তা অধ্যয়ন করে তখনই ফিরিশতাবর্গ তাদেরকে পরিবেষ্টিত করে নেন, তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, করুণা তাদেরকে আচ্ছাদন করে নেয় এবং তাদের কথা আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফিরিশতাবর্গের মধ্যে আলোচনা করেন। আর যাকে তার আমল পশ্চাদ্বর্তী করেছে, তাকে তার বংশ অগ্রবর্তী করতে পারে না।” (মুসলিম ৭০২৮, বুখারী শিরোনামে, আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম)
০৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৫১
আল-রাবি (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من دعا إلى صراط مستقيم كان له مثل حسنات أتباعه، ولا ينقص من حسناتهم شيء". (مسلم 6980)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সৎপথের দিকে আহ্বান জানাবে, সে তার অনুসারীদের সমতুল্য নেকীর অধিকারী হবে; তাতে তাদের নেকীর কিছুই হ্রাস পাবে না।” (মুসলিম ৬৯৮০)
০৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৫২
আল-রাবি (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاثة عمل: صدقة جارية، أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له». (مسلم 4310 الخ)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আদম সন্তান যখন মারা যায়, তখন তার তিন প্রকার আমল ছাড়া অন্য সব রকম আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায়; সাদকাহ জারিয়াহ (বহমান দান খয়রাত, মসজিদ নির্মাণ করা, কূপ খনন করে দেওয়া ইত্যাদি) অথবা ইল্ম (জ্ঞান সম্পদ) যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় অথবা সুসন্তান যে তার জন্য নেক দু’আ করতে থাকে।” (মুসলিম ৪৩১০ প্রমুখ)
০৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৫৪
আল-রাবি (রাঃ)
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ملعونة الأرض وما فيها، ولكن ذكر الله وأتباعه والعلماء وطلبة العلم». (الترمذي 2322، ابن ماجه 4112، بيكبير شعب الإيمان 1708، صحيح الترغيب 70)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “পৃথিবী অভিশপ্ত এবং অভিশপ্ত তার সকল বস্তু। তবে আল্লাহর যিকর ও তার আনুষঙ্গিক বিষয়, এবং আলেম (দ্বীন শিক্ষক) ও তালেবে ইলম (দ্বীন শিক্ষার্থী অভিশপ্ত) নয়।” (তিরমিযী ২৩২২, ইবনে মাজাহ ৪১১২, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১৭০৮, সহীহ তারগীব ৭০)
০৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৫৫
আবু 'উমামাহ (রাঃ)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «فضل العالم على الناس كفضلي عليكم». فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله يرحمه، وملائكته، وأهل السموات والأرض، حتى الضفادع في الحفر، وحتى الحوت، يصلون على معلمي الناس خيرًا». (الترمذي 2685، الترغيب 77)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আলেমের ফযীলত আবেদের উপর ঠিক সেই রূপ, যেরূপ আমার ফযীলত তোমাদের উপর।” তারপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন, তাঁর ফিরিশতাকুল, আসমান-যমীনের সকল বাসিন্দা এমনকি গর্তের মধ্যে পিপড়ে এবং (পানির মধ্যে) মাছ পর্যন্ত মানবমন্ডলীর শিক্ষাগুরুদের জন্য মঙ্গল কামনা ও নেক দু’আ করে থাকে।” (তিরমিযী ২৬৮৫, সঃ তারগীব ৭৭)
১০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৫৭
হুযাইফাহ বিন ইয়ামান (রাঃ)
عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَضْلُ الْعِلْمِ خَيْرٌ مِنْ فَضْلِ الْعِبَادَةِ وَخَيْرُ دِينِكُمُ الْوَرَعُ
হুযায়ফাহ বিন আল-ইয়ামান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: ইবাদতের গুণের চেয়ে জ্ঞানের গুণটি উত্তম এবং তোমাদের দ্বীনের মধ্যে সর্বোত্তম হল তাকওয়া।
১১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৫৮
মু'আয বিন আনাস (রাঃ)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «من علم علما كان له مثل أجر العامل، لا ينقص ذلك من أجر العامل شيئا». (ابن ماجه 240، صحيح الترغيب 76)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন ইল্ম শিক্ষা দেয়, তার জন্য রয়েছে সেই ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব, যে সেই ইল্ম অনুযায়ী আমল করে। এতে আমলকারীরও সওয়াব কিঞ্চিৎ পরিমাণ হ্রাস হবে না।” (ইবনে মাজাহ ২৪০, সহীহ তারগীব ৭৬)
১২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৬৬
Ka'b bin Malik (RA)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من طلب العلم ليماري به العلماء، أو ليماري السفهاء، ويأخذ من العوام نصراً، أدخله الله النار). شكرا جزيلا. (الترمذي 2654، ابن أبي دنيا، حكيم 293، بيكبير شعب الإيمان 1772، صحيح الترغيب 100)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, “যে ব্যক্তি উলামাদের সাথে তর্ক করার জন্য, অথবা মূর্খ লোকেদের সাথে বচসা করার জন্য এবং জন সাধারণের সমর্থন (বা অর্থ) কুড়াবার জন্য ইল্ম অন্বেষণ করে, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ জাহান্নাম প্রবেশ করাবেন।” (তিরমিযী ২৬৫৪, ইবনে আবিদ্দুনয়্যা, হাকেম ২৯৩, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ১৭৭২, সহীহ তারগীব ১০০)
১৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৬৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من طلب علماً يرجو به وجه الله، لا يطلبه إلا الدنيا، كان يوم القيامة، ولا يجد لك رائحة الجنة». (Ahmad 8457, Abu Dawud 3666, Ibn Majah 252, Ibn Hibban 78)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন এমন ইল্ম অন্বেষণ করে যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশা করা হয়, যদি তা সে কেবলমাত্র পার্থিব সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যেই অন্বেষণ করে তবে সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না।” (আহমাদ ৮৪৫৭, আবু দাঊদ ৩৬৬৬, ইবনে মাজাহ ২৫২, ইবনে হিব্বান ৭৮)
১৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৭০
Abdullah Ibn Amr Ibn Aas (RA)
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ إِنَّ اللهَ لاَ يَقْبِضُ العِلْمَ انْتِزَاعاً يَنْتَزعهُ مِنَ النَّاسِ، وَلكِنْ يَقْبِضُ العِلْمَ بِقَبْضِ العُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِماً اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤُوساً جُهَّالاً فَسُئِلُوا فَأَفْتوا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا متفقٌ عَلَيْهِ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে বলতে শুনেছি, “নিঃসন্দেহে আল্লাহ লোকদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ইল্ম তুলে নেবেন না; বরং উলামা সম্প্রদায়কে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ইল্ম তুলে নেবেন (অর্থাৎ, আলেম দুনিয়া থেকে শেষ হয়ে যাবে।) অবশেষে যখন কোন আলেম বাকি থাকবে না, তখন জনগণ মূর্খ অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে নেতা বানিয়ে নেবে এবং তাদেরকে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা হবে, আর তারা না জেনে ফতোয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অপরকেও পথভ্রষ্ট করবে।” (বুখারী ৭৩০৭, মুসলিম ৬৯৭১)
১৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৭১
ইবনে মসঊদ (রাঃ)
كيف سيكون حالك عندما يستهلكك الفساد؟ فينشأ الطفل ويكبر الكبير، (تصبح عادة الجميع)، وتعتبر سنة (طريقة الدين). فإذا حدث تغير في الرضا سيقول الناس: هذا العمل خفي!\nفقيل: (يا ابن مسعود!) متى يكون هذا؟ قال: «إذا قل المودعون فيكم، وكثر الأمراء، وقل الفقهاء، وكثر القراء». فالعلم يطلب في غير الدين، وطلب الدنيا بعمل الآخرة. (عبد الرزاق 20742، ابن أبي شيبة 37156، صحيح الترغيب 111)
‘তোমাদের তখন কী অবস্থা হবে, যখন তোমাদেরকে ফিতনা-ফাসাদ গ্রাস করে ফেলবে? যাতে শিশু প্রতিপালিত (বড়) হবে এবং বড় বৃদ্ধ হবে, (তা সকলের অভ্যাসে পরিণত হবে) আর তাকে সুন্নাহ (দ্বীনের তরীকা) মনে করা হবে। পরন্তুতার যদি কোনদিন পরিবর্তন সাধন করা হয় তাহলে লোকেরা বলবে, ‘এ কাজ গর্হিত!’\nতাঁকে প্রশ্ন করা হল, ‘(হে ইবনে মসঊদ!) এমনটি কখন ঘটবে?’ তিনি বললেন, ‘যখন তোমাদের মধ্যে আমানতদার লোক কম হবে ও আমীর (বা নেতার সংখ্যা) বেশী হবে, ফকীহ (বা প্রকৃত আলেমের সংখ্যা) কম হবে ও ক্বারী (কুরআন পাঠকারীর) সংখা বেশী হবে, দ্বীন ছাড়া ভিন্ন উদ্দেশ্যে জ্ঞান অন্বেষণ করা হবে এবং আখেরাতের আমল দ্বারা পার্থিব সামগ্রী অনুসন্ধান করা হবে।’ (আব্দুর রাযযাক ২০৭৪২, ইবনে আবী শাইবা ৩৭১৫৬, সহীহ তারগীব ১১১)
১৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৭৪
সালামাহ (রাঃ)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «من قال ما لم أقل فليتبوأ مقعده من النار» (البخاري 109).
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমি যা বলিনি তা বানিয়ে বলে, সে যেন নিজের ঠিকানা দোযখে বানিয়ে নেয়। (বুখারী ১০৯)
১৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৭৫
মুগীরাহ বিন শু’বাহ
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ حَدَّثَ عَنِّى بِحَدِيثٍ يُرَى أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ
আল-মুগীরাহ ইবনে শুবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার প্রমাণে এমন হাদীস বর্ণনা করে যে সে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করে সে মিথ্যাবাদীদের একজন।
১৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৭৭
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "سيكون في الآخرة كثير من الكذبة الذين يأتونكم بأحاديث لم تسمعوها أنتم ولا آباؤكم، فاحذروهم". "ابق عسى أن لا يدخلوكم في فتنة أو فتنة". (مسلم 16) .
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আখেরী যামানায় বহু ধোকাবাজ মিথ্যাবাদী হবে; যারা তোমাদের কাছে এমন এমন হাদীস নিয়ে উপস্থিত হবে, যা তোমরা এবং তোমাদের বাপদাদারাও কোন দিন শ্রবণ করেনি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সাবধান থেকো; তারা যেন তোমাদেরকে ভ্রষ্টতা ও ফিতনায় না ফেলে।” (মুসলিম ১৬)
১৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৭৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من كذب باسمي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار". (البخاري 110، 6197، مسلم 4)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার নামে ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলে, সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।” (বুখারী ১১০, ৬১৯৭, মুসলিম ৪)
২০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৭৯
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله لا ينزع العلم الذي علمكم كما ينتزعه منكم، بل ليذهبن العلماء العلم، فيكون الجاهلون فقط، إذا بقي شيء، فيستفتونهم الناس، فيفتونهم بحكمهم، فيضلوا أنفسهم ويضلوا غيرهم» (البخاري). (101، 7307، مسلم 6971)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে যে ইল্ম দান করেছেন তা তোমাদের নিকট থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মত তুলে নেবেন না। বরং ইল্ম-ওয়ালা (বিজ্ঞ) উলামা তুলে নিয়ে ইল্ম তুলে নেবেন। এমতাবস্থায় যখন কেবল জাহেলরা অবশিষ্ট থাকবে, তখন লোকেরা তাদেরকেই ফতোয়া জিজ্ঞাসা করবে। ফলে তারা নিজেদের রায় দ্বারা ফতোয়া দেবে, যাতে তারা নিজেরা ভ্রষ্ট হবে এবং অপরকেও ভ্রষ্ট করবে। (বুখারী ১০১, ৭৩০৭, মুসলিম ৬৯৭১)
২১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৮০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أفتي بغير علم فإن إثمه على المفتي، ومن أوصى أخاه وهو يعلم أن فيه خيرا له، إلا خانه». (أبو داود 3659، الحكيم 350، صحيح الجامع 6068)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “বিনা ইল্মে যাকে ফতোয়া দেওয়া হয় (এবং সেই ভুল ফতোয়া দ্বারা সে ভুলকর্ম করে) তবে তার পাপ ঐ মুফতীর উপর এবং যে ব্যক্তি তার ভাইকে এমন পরামর্শ দেয় অথচ সে জানে যে তার জন্য মঙ্গল অন্য কিছুতে আছে, তবে সে ব্যক্তি তার খিয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) করে।” (আবূ দাঊদ ৩৬৫৯, হাকেম ৩৫০, সহীহুল জামে’ ৬০৬৮)
২২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৮১
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ كَتَمَ عِلْمًا أَلْجَمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন ইল্ম (জ্ঞান) গোপন করে, কিয়ামতে আল্লাহ তার মুখে আগুনের লাগাম দেবেন।” (হাকেম ৩৪৬, ইবনে হিব্বান ৯৬)
২৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৮২
ওয়াবেস্বাহ বিন মা’বাদ
عَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم اسْتَفْتِ نَفْسَكَ، وَإِنْ أَفْتَاكَ الْمَفْتُونَ
ওয়াবিসা বিন মাআবাদের সূত্রে, তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আপনার নিজের মতামত জিজ্ঞাসা করুন, এমনকি যদি মুফতি করা ব্যক্তি আপনাকে ফতোয়া দেয়।
২৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৮৩
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
وقال: "نحن ممنوعون من التصرف بمبادرة منا". (البخاري 7293) .
তিনি বলেন, ‘স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাধ্যাতীত কর্ম করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।’ (বুখারী ৭২৯৩)
২৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৮৪
মাসরুক (রা)
قال: دخلنا على عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، فقال: أيها الناس، من علم شيئاً فليقل، ومن لم يعلم فليقل: الله أعلم، فإن قول الله أعلم فيما لا تعلمونه واحد.
তিনি বলেন, একদা আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন ‘হে লোক সকল! যে ব্যক্তির কিছু জানা থাকে, সে যেন তা বলে। আর যার জানা নেই, সে যেন বলে, ‘আল্লাহই ভালো জানেন।’ কারণ তোমার অজানা বিষয়ে ‘আল্লাহই ভালো জানেন’ বলাও এক প্রকার ইল্ম (জ্ঞান)। মহান আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে সম্বোধন করে বলেছেন, “বল, আমি উপদেশের জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না এবং যারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাধ্যাতীত কর্ম করে, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।” (সূরা সা’দ ৮৬)।\n(বুখারী ৪৮০৯, মুসলিম ৭২৪৪)
২৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৮৫
উকবাহ বিন আমের (রাঃ)
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَكْثَرُ مُنَافِقِي أُمَّتِي قُرَّاؤُهَا
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আমার উম্মতের মুনাফিকদের অধিকাংশ হল ক্বারীর দল।” (আহমাদ ১৭৩৬৭, ত্বাবারানী ১৪২৫৬, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৬৯৬০, সঃ জামে’ ১২০৩)
২৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৮৬
আবু বারিয়াহ ইস ইসলামী (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تزول قدما عبد يوم القيامة حتى يسأل عما أفناه، وماذا عمل في علمه، وأين اكتسب ماله، وأين أنفق، وأين أهلك جسده؟» عن هذه الأشياء. (الترمذي 2417، الدارمي 537، صحيح الجامع 7300)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “কিয়ামতের দিন ততক্ষণ পর্যন্ত কোন বান্দার পা সরবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, তার আয়ু কী কাজে ব্যয় করেছে, তার ইল্ম দ্বারা কী আমল করেছে, তার সম্পদ কোথা হতে অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে, তার দেহ কোথায় ধ্বংস করেছে?---এসব সম্পর্কে। (তিরমিযী ২৪১৭, দারেমী ৫৩৭, সহীহুল জামে’৭৩০০)
২৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৮৭
আবু আল-সাইদ খুদরি (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اقرأوا القرآن واسألوا الله به الجنة، قبل من يعلم القرآن تفتن به الدنيا، فإن القرآن يعلمه ثلاثة: الأول: من يتباهى به، والثاني: من يملأ بطنه منه، والثالث: من يقرأ في سبيل الله".
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তার দ্বারা আল্লাহর নিকট জান্নাত প্রার্থনা কর, তাদের পূর্বে পূর্বে যারা কুরআন শিক্ষা করে তার দ্বারা দুনিয়া যাচনা করবে। যেহেতু কুরআন তিন ব্যক্তি শিক্ষা করে; প্রথমতঃ সেই ব্যক্তি যে তার দ্বারা বড়াই করবে। দ্বিতীয়তঃ সেই ব্যক্তি যে তার দ্বারা উদরপূর্তি করবে এবং তৃতীয়তঃ সেই ব্যক্তি যে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে তেলাঅত করবে।’ (বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ২৬৩০, সিঃ সহীহাহ ২৫৮)
২৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১৫৮৯
উবাই বিন কা'ব (রাঃ)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ابشر هذه الأمة برخاء، وعلو في الدين، وبسط نفوذها في البلاد، وبشر بالفتح، ولكن من ابتغى مصلحة دنيا ما». ومن عمل في الآخرة لم يكن له في الآخرة خلاق». (أحمد 21224، ابن ماجه، حكيم، بيحقير شعب الإيمان 6833 ابن حبان 405، صحيح الترغيب 21)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “এই উম্মতকে স্বাচ্ছন্দ্য, সমুন্নতি, দ্বীন সহ সুউচ্চ মর্যাদা, দেশসমূহে তাদের ক্ষমতা বিস্তার এবং বিজয়ের সুসংবাদ দাও। কিন্তু যে ব্যক্তি পার্থিব কোন স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে পরকালের কর্ম করবে তার জন্য পরকালে প্রাপ্য কোন অংশ নেই।” (আহমাদ ২১২২৪, ইবনে মাজাহ, হাকেম, বাইহাকীর শুআবুল ঈমান ৬৮৩৩ ইবনে হিব্বান ৪০৫, সহীহ তারগীব ২১)