৫৭ হাদিস
০১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০২৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إذا كان أول ليلة من شهر رمضان، صفدت الشياطين ومردة الجن، وغلقت أبواب جهنم كلها، فلم يفتح منها باب، وفتحت أبواب الجنة كلها". نعم، لذلك لا يوجد باب واحد مغلق. وينادي منادٍ آخر: يا مانغالكامي! تمضي ويا حاقدًا! لقد تراجعت (توقف). فإن الله هم المعتقون من النار (لعلك أن تكون منهم). (الترمذي 682، ابن ماجه 1642، ابن خزيمة 1883، ابن حبان 3435، البيهقي 8284، الحكيم 1532، صحيح الترغيب 998)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “রমযান মাসের প্রথম রাত্রি যখন আগত হয়, তখন সকল শয়তান ও অবাধ্য জিনদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করা হয়, সুতরাং তার একটি দরজাও খোলা হয় না। পরন্তু জান্নাতের সকল দরজা খুলে রাখা হয়, সুতরাং তার একটি দরজাও বন্ধ রাখা হয় না। আর একজন আহ্বানকারী এই বলে আহবান করে, ‘হে মঙ্গলকামী! তুমি অগ্রসর হও। আর হে মন্দকামী! তুমি পিছে হটো (ক্ষান্ত হও)। আল্লাহর জন্য রয়েছে দোযখ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ (সম্ভবতঃ তুমিও তাদের দলভুক্ত হতে পার)।’ এরূপ আহবান প্রত্যেক রাত্রেই হতে থাকে।” (তিরমিযী ৬৮২, ইবনে মাজাহ ১৬৪২, ইবনে খুযাইমাহ ১৮৮৩, ইবনে হিব্বান ৩৪৩৫, বাইহাকী ৮২৮৪, হাকেম ১৫৩২, সহীহ তারগীব ৯৯৮)
০২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৩১
আবু 'উমামাহ (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: ""كل يوم يفطر فيه الله يعتق كثيراً من النار"." (أحمد 22202، الطبراني 8014، بيكبير شعب الإيمان 3605، صحيح الترغيب 1001)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “প্রত্যহ ইফতারী করার সময় আল্লাহ বহু মানুষকেই দোযখ থেকে মুক্তিদান করে থাকেন।” (আহমাদ ২২২০২, ত্বাবারানী ৮০১৪, বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৩৬০৫, সহীহ তারগীব ১০০১)
০৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৩২
আবু আল-সাইদ খুদরি (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن لله تبارك وتعالى في الليل مخرجا كثيرا، ولكل مسلم دعاء مستجاب في اليوم والليلة. (الدعاء مستجاب) أحمد 7450، أوسط الطبراني 6401، البيار، صحيح الترغيب 1002».
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয়ই (রমযানের) দিবারাত্রে বর্কতময় মহান আল্লাহর জন্য রয়েছে বহু (দোযখ থেকে) মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ (যাদেরকে তিনি মুক্ত করে থাকেন)। আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রয়েছে প্রত্যহ দিবারাত্রে গ্রহণ (কবুল) যোগ্য দুআ। (প্রার্থনা করলে মঞ্জুর হয়ে থাকে।) (আহমাদ ৭৪৫০, ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৬৪০১, বায্যার, সহীহ তারগীব ১০০২)
০৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৩৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يقول الله تعالى: كل عمل ابن آدم لنفسه. ولكن ليس بصوم، فهو لي وأنا أوفيه. فريحك أطيب عند الله من ريح المسك. للصائم متعتان ينالهما: وعندما يفطر يفرح بالصوم. وإذا لقي ربه فرح بصيامه». (البخاري 1904، مسلم 2762)
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, “আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার নিজের জন্য; তবে সিয়াম নয়, যেহেতু তা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।’ সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং তোমাদের কারো সিয়ামের দিন হলে সে যেন অশ্লীল না বকে ও ঝগড়া-হৈচৈ না করে; পরন্তু যদি তাকে কেউ গালাগালি করে অথবা তার সাথে লড়তে চায় তবে সে যেন বলে, ‘আমি সিয়াম রেখেছি, আমার সিয়াম আছে।’ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে! নিশ্চয়ই রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর সুবাস অপেক্ষা অধিকতর সুগন্ধময়। রোযাদারের জন্য রয়েছে দুটি খুশী, যা সে লাভ করে; যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারী নিয়ে খুশী হয়। আর যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তার সিয়াম নিয়ে খুশী হবে।” (বুখারী ১৯০৪, মুসলিম ২৭৬২)
০৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৩৪
সাহল বিন সাদ (রাঃ)
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّ فِى الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مَعَهُمْ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَدْخُلُونَ مِنْهُ فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
সাহল বিন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতে আল-রাইয়ান নামক একটি দরজা রয়েছে যেখান দিয়ে রোজাদাররা প্রবেশ করে। কিয়ামতের দিন তারা ছাড়া আর কেউ তাদের সাথে প্রবেশ করবে না। বলা হবে, রোজাদাররা কোথায়? এবং তারা সেখান থেকে প্রবেশ করবে। তাদের মধ্যে শেষটি প্রবেশ করলে তা বন্ধ হয়ে যাবে।
০৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৩৬
হুযাইফা (রাঃ)
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ أَسْنَدْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِلَى صَدْرِي فَقَالَ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ قَالَ حَسَنٌ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার বুকে হেলান দিয়ে ছিলেন। সেই সময় তিনি বললেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’বলার পর যে ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে একদিন সিয়াম রাখার পর যে ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কিছু সাদকাহ করার পর যে ব্যক্তির জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে সেও জান্নাত প্রবেশ করবে।” (আহমাদ, সহীহ তারগীব ৯৮৫)
০৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৩৮
আবু সাঈদ
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من صام يومًا واحدًا في سبيل الله، باعد الله بصيامه ذلك عن النار سبعين عامًا». (البخاري 2840، مسلم 1153)
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন মাত্র সিয়াম রাখবে সেই বান্দাকে আল্লাহ ঐ সিয়ামের বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের পথ পরিমাণ দূরত্বে রাখবেন।” (বুখারী ২৮৪০, মুসলিম ১১৫৩)
০৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৪২
সাহল বিন সাদ (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إن في الجنة بابا يقال له الريان، لا يدخل منه إلا الصائمون يوم القيامة، لا يدخل منه أحد غيرهم، يُنادى: الصيام». أين الرعاة؟ ثم سيقاتلون. (ومن ذلك الباب يدخلون الجنة) فإذا دخل آخرهم أغلق الباب. ولا يستطيع أحد أن يدخل منه». (البخاري 1896، مسلم 2766)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে এমন একটি দরজা আছে, যার নাম হল ‘রাইয়ান’; সেখান দিয়ে কেবল সিয়াম পালনকারী গণই কিয়ামতের দিনে প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া আর কেউ সেদিক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা করা হবে, ‘সিয়াম পালনকারীরা কোথায়?’ তখন তারা দন্ডায়মান হবে। (এবং ঐ দরজা দিয়ে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে) তারপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর সেখান দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।” (বুখারী ১৮৯৬, মুসলিম ২৭৬৬)
০৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৪৫
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر الناس صدقة، وكان إذا لقيه جبريل في شهر رمضان أكثر رحمة. جبريل ماه في كل يوم من رمضان
তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমস্ত লোকের চেয়ে অধিক দানশীল ছিলেন। আর মাহে রমযানে যখন জিব্রাঈল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তখন তিনি আরো বেশী বদান্যতা প্রদর্শন করতেন। জিব্রাঈল মাহে রমযানের প্রত্যেক রজনীতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁর কাছে কুরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিব্রাঈলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে অবশ্যই কল্যাণবহ মুক্ত বায়ু অপেক্ষা অধিক দানশীল ছিলেন।’ (বুখারী ৬, ১৯০২, মুসলিম ৬১৪৯)
১০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৪৮
আল-রাবি (রাঃ)
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من لم يدع قول الزور والعمل به فليس لله حاجة في أن يدع طعامه وشرابه». (البخاري 1903، 6057)
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও তার উপর আমল করা পরিহার না করল, তখন আল্লাহর কোন দরকার নেই যে, সে তার পানাহার ত্যাগ করুক।” (বুখারী ১৯০৩, ৬০৫৭)
১১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৫০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: (من أكل أو شرب ناسيا فليتم صومه، فإنما أطعمه الله وسقاه). (البخاري 1933، 6669، مسلم 2772)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি ভুলবশতঃ কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলবে, তখন সে যেন তার সিয়াম (না ভেঙ্গে) পূর্ণ করে নেয়। কেননা, আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন এবং পান করিয়েছেন।” (বুখারী ১৯৩৩, ৬৬৬৯, মুসলিম ২৭৭২)
১২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৫২
আয়েশা (রা)
قال: "(أحيانًا) كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصبح جنبًا من جامع امرأته، ثم يغتسل ويصوم". (البخاري 1925-1926)
তিনি বলেন, ‘(কখনো কখনো) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ভোর এভাবে হত যে, তিনি স্ত্রী-মিলন হেতু অপবিত্র অবস্থায় থাকতেন। অতঃপর তিনি গোসল করতেন এবং সিয়াম করতেন।’ (বুখারী ১৯২৫-১৯২৬)
১৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৫৩
আয়েশা (রাঃ)
وَعَنْهُمَا رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَتَا : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يُصْبِحُ جُنُباً مِنْ غَيْرِ حُلُمٍ ثُمَّ يَصُومُ متفقٌ عَلَيْهِ
এবং তাদের কর্তৃত্বে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন, তারা বলেন: আল্লাহর রসূল, আল্লাহর নামায ও সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, স্বপ্ন ছাড়াই জুনুব হলে সকালে ঘুম থেকে উঠতেন, তারপর তিনি রোজা রাখতেন। একমত।
১৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৬০
যায়েদ ইবনে শাবেত (রাঃ)
وَعَنْ زَيدِ بنِ ثَابِتٍ قَالَ : تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلاَةِ قِيلَ : كَمْ كَانَ بَينَهُمَا ؟ قَالَ : قَدْرُ خَمْسِينَ آيةً متفقٌ عَلَيْهِ
যায়েদ বিন সাবিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সেহরী খেয়েছিলাম, তারপর আমরা সালাত আদায় করতে উঠলাম। বলা হলঃ তাদের মধ্যে কতদিন ছিল? তিনি বললেনঃ পঞ্চাশ আয়াতের অনুমান একমত
১৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৬২
সাহল বিন সাদ (রাঃ)
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الفِطْرَ متفقٌ عَلَيْهِ
রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যতদিন পর্যন্ত মুসলমানেরা শীঘ্র ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।” (বুখারী মুসলিম)
১৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৬৯
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أفطر قال هذا الدعاء: ""شباب جامع أبطاليل أوروكبو أشباتال أزرو إن شاء الله"." أي يروي الظمأ، وتنتعش العروق، وبإن شاء الله يعلم الأجر." القاعة (أبو داود 2359)
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইফতার করতেন, তখন এই দুআ বলতেন, “যাহাবায যামা-উ অবতাল্লাতিল উরুক্বু অষাবাতাল আজরু ইন শা-আল্লাহ।”\nঅর্থাৎ, পিপাসা দূরীভূত হল, শিরা-উপশিরা সতেজ হল এবং ইন শাআল্লাহ সওয়াব সাব্যস্ত হল। (আবূ দাঊদ ২৩৫৯)
১৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৭০
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
أتى النبي صلى الله عليه وسلم إلى سعد بن عبادة. وقدم الخبز والزيت على رسول الله صلى الله عليه وسلم. وقد استخدم النبي صلى الله عليه وسلم هذا الدعاء فقال: "أفطروا سوا يمن، عقالا تامقوم أبرار، الصلاة عليكم ملائكة". لقد أكل طعامك الأبرار، والملائكة استغفروا لك، ودعا. (أبو داود 3856 محض حديثه)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদ ইবনে উবাদাহ (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি রুটি ও (যায়তুনের) তেল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সম্মুখে পেশ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা ভক্ষণ করে এই দুআ পড়লেন,\nউচ্চারণ ‘আফত্বারা ইন্দাকুমুস স্বা-য়িমূন, অআকালা ত্বাআমাকুমুল আবরার, অস্বাল্লাত আলাইকুমুল মালাইকাহ।’\nঅর্থাৎ, সিয়াম পালনকারী গণ তোমাদের নিকট ইফতার করল। সৎব্যক্তিগণ তোমাদের খাবার ভক্ষণ করল এবং ফিরিশতাগণ তোমাদের (ক্ষমার) জন্য দুআ করলেন। (আবূ দাঊদ ৩৮৫৬, বিশুদ্ধে সূত্রে)
১৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৭১
যায়েদ ইবন খালেদ জুহানি (রাঃ)
عَن زَيدِ بنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَنْ فَطَّرَ صَائِماً كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أنَّهُ لاَ يُنْقَصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْءٌرواه الترمذي وقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيْحٌ
যায়েদ বিন খালেদ আল-জুহানী থেকে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি একজন রোজাদারকে আহার করাবে তার জন্য তার সমান সওয়াব রয়েছে, তবে তার সওয়াব হ্রাস করা হবে না। রোজাদার এমন কিছু যা আল-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন যিনি বলেছেন: এটি একটি ভাল এবং নির্ভরযোগ্য হাদীস।
১৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৭৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من صام شهر رمضان إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه". (البخاري 37، 2008-2009، مسلم 1815، أبو داود، الترمذي، النسائي)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও নেকীর আশায় রমযান মাসে কিয়াম করবে (তারাবীহ পড়বে), তার পূর্বেকার পাপসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (বুখারী ৩৭, ২০০৮-২০০৯, মুসলিম ১৮১৫, আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ)
২০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৭৫
আয়েশা (রা)
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি বলেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে বা অন্য কোনো সময়ে এগারো রাকাতের বেশি নামায পড়তেন না।
২১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৭৬
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
قال: "كان النبي صلى الله عليه وسلم يعتكف في العشر الأخير من رمضان". (البخاري 2025، مسلم 2838).
তিনি বলেন, ‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (বুখারী ২০২৫, মুসলিম ২৮৩৮)
২২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৭৭
আয়েশা (রা)
اعتكف النبي صلى الله عليه وسلم في العشر الأواخر من رمضان حتى قتله الله تعالى. ومن بعده (تيرودان) اعتكفت زوجاته. (البخاري 2026، مسلم 2841)
‘নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমযানের শেষ দশকে মহান আল্লাহ তাঁকে মৃত্যুদান করা পর্যন্ত ইতিকাফ করেছেন। তাঁর (তিরোধানের) পর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করেছেন।’ (বুখারী ২০২৬, মুসলিম ২৮৪১)
২৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৭৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: "من صام رمضان إيماناً وإيماناً واحتساباً غفر له ما تقدم من ذنبه، ومن صام الشاباكدار إيماناً واحتساباً". وبفعله غفر له ما تقدم من ذنبه». (البخاري 35، 1901، 2014، مسلم 1817)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে এবং সওয়াবের আশা রেখে রমযানের সিয়াম রাখে, তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি শবেক্বদরে (ভাগ্যরজনী অথবা মহিয়সী রজনীতে) ঈমানসহ নেকীর আশায় কিয়াম করে (সালাত পড়ে), তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (বুখারী ৩৫, ১৯০১, ২০১৪, মুসলিম ১৮১৭)
২৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৮০
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رِجَالاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أُرُوا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي المَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ متفقٌ عليه
ইবনে ওমরের বরাতে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন: নবীর কিছু সাহাবী, আল্লাহ তাকে শান্তি দান করুন, শেষ সাত রাতে স্বপ্নে লায়লাতুল কদর দেখেছিলেন এবং আল্লাহর রসূল বলেছিলেন: আল্লাহর দোয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি দেখতে পাচ্ছি যে গত সাত রাতে তোমার দর্শন মিলিত হয়েছে। তাদের তদন্তকারী কে ছিল? তাই তাকে শেষ সাত দিনে তা সন্ধান করতে দিন। একমত।
২৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৮১
আয়েশা (রা)
وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يُجَاوِرُ فِي العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، ويَقُوْلتَحرَّوا لَيْلَةَ القَدْرِ في العَشْرِ الأَوَاخرِ مِنْ رَمَضَانَ متفقٌ عليه
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশ রাতে রাত্রি যাপন করতেন এবং বলতেন, "লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর।" রমজানের শেষ দশ দিনে একমত।
২৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৮৪
আল-রাবি (রাঃ)
قال: "ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجتهد في العشر الأواخر". (مسلم 2845) .
তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আল্লাহর ইবাদতের জন্য রমযানের) শেষ দশকে যত মেহনত করতেন অন্য দিনগুলিতে তত মেহনত করতেন না।’ (মুসলিম ২৮৪৫)
২৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৮৫
আল-রাবি (রাঃ)
قال: فعرضت ذات يوم: يا رسول الله! تقول، إذا كنت (لحسن الحظ) أعرف الشابكدار، فما (الدعاء) الذي سأقرأ فيه؟ أي يا الله! إنك عفوٌّ محبٌّ للغفران. لذا سامحني. (أحمد 25384، الترمذي 3513، النصائر الكبرى 7712، ابن ماجه 3850، الحاكم 1942)
তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন, যদি আমি (ভাগ্যক্রমে) শবেক্বদর জেনে নিই, তাহলে তাতে কোন (দুআ) পড়ব?’ তিনি বললেন, এই দুআ, “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউবুন (কারীমুন) তুহিবুব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী।” অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল, (মহানুভব) ক্ষমা ভালবাস। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। (আহমহদ ২৫৩৮৪, তিরমিযী ৩৫১৩, নাসাঈর কুবরা ৭৭১২, ইবনে মাজাহ ৩৮৫০, হাকেম ১৯৪২)
২৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৮৬
আয়েশা (রা)
عَنْ عَائِشَةَ - رَضِىَ اللهُ عَنْها - أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সিয়াম বাকী রেখে মারা যায়, তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক সিয়াম রেখে দেবে।” (বুখারী ১৯৫২, মুসলিম ২৭৪৮)
২৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৮৭
বর্ণনাকারী (RA)
ولما توفيت أم عمارة وهي صائمة في رمضان، سألت عائشة رضي الله عنها: «أأقضي عن أمي؟» فقالت عائشة (رضي الله عنها): لا. بل أعطى بدل كل يوم نصف صاع (حوالي 1 كجم، 250 جرامًا) لمسكين واحد
আমরাহর মা রমযানের সিয়াম বাকী রেখে ইন্তিকাল করলে তিনি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি আমার মায়ের তরফ থেকে কাযা করে দেব কি?’ আয়েশা (রাঃ) বললেন, ‘না। বরং তার পক্ষ থেকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে এক একটি মিসকীনকে অর্ধ সা’ (প্রায় ১কিলো ২৫০ গ্রাম খাদ্য) সদকাহ করে দাও।’ (ত্বাহাবী ৩/১৪২, মুহাল্লা ৭/৪, আহকামুল জানাইয, টীকা ১৭০পৃঃ)
৩০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৮৮
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
«من مرض في شهر رمضان ثم مات وهو مفطر، وجب إطعام المسكين عنه؛ ليس لديه مال. وأما إذا مات تاركاً صيام النضر، صام عنه وليه. (أبو داود 2401) إلخ.)
‘কোন ব্যক্তি রমযান মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তারপর সিয়াম না রাখা অবস্থায় মারা গেলে তার পক্ষ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে; তার কাযা নেই। পক্ষান্তরে নযরের সিয়াম বাকী রেখে মারা গেলে তার পক্ষ থেকে তার অভিভাবক (বা ওয়ারেস) সিয়াম রাখবে।’ (আবূ দাউদ ২৪০১ প্রমুখ)
৩১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৮৯
আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من صام ستة أيام من شوال بعد صيام رمضان كان كصيام الدهر كله». (مسلم 2815، أبو داود 2435، الترمذي 759، النصائر الكبرى 2862، ابن ماجه 1716)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমযানের সিয়াম পালনের পর শওয়াল মাসের ছয়দিন সিয়াম রাখল, সে যেন সারা বছর সিয়াম রাখল।” (মুসলিম ২৮১৫, আবু দাঊদ ২৪৩৫, তিরমিযী ৭৫৯, নাসাঈর কুবরা ২৮৬২, ইবনে মাজাহ ১৭১৬)
৩২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৯১
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (تعرض الأعمال يوم الاثنين والخميس، فأحب أن يعرض عملي وأنا صائم). (الترمذي 747 صحيح الترغيب 1027)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “(মানুষের) আমলসমূহ সোম ও বৃহস্পতিবারে (আল্লাহর দরবারে) পেশ করা হয়। তাই আমি ভালবাসি যে, আমার আমল এমন অবস্থায় পেশ করা হোক, যখন আমি সিয়ামের অবস্থায় থাকি।” (তিরমিযী ৭৪৭ সহীহ তারগীব ১০২৭)
৩৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৯২
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «في كل اثنين وخميس تعرض الأعمال، فيغفر الله سبحانه لكل من نسب إليه شيئا». لا يثبت ولا يغفر لمن له عداوة مع أخيه. فقال لهذين الشخصين (للملائكة) أنظروا لهما حتى يلتقيا. أمهلهما حتى يصالحا». (مسلم 6712 وغيره)
তিনি বলেন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবারে (মানুষের) সকল আমল (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হয়। আর (ঐ উভয় দিনে) আল্লাহ আয্যা অজাল্ল্ প্রত্যেক সেই ব্যক্তিকে মার্জনা করে দেন যে কোন কিছুকে তাঁর অংশী স্থাপন করে না। তবে সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না যার নিজ ভাইয়ের সাথে বিদ্বেষ থাকে; এই দুই ব্যক্তির জন্য (ফেরেশতার উদ্দেশ্যে) তিনি বলেন, উভয়ের মিলন না হওয়া পর্যন্ত ওদেরকে অবকাশ দাও। উভয়ের মিলন না হওয়া পর্যন্ত ওদেরকে অবকাশ দাও।” (মুসলিম ৬৭১২, প্রমুখ)
৩৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৯৩
আয়েশা (রা)
قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجتهد في صيام الاثنين والخميس". (الترمذي 745)
তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সোম ও বৃহস্পতিবারে সিয়াম রাখার জন্য সমধিক সচেষ্ট থাকতেন।’ (তিরমিযী ৭৪৫)
৩৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৯৬
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.)
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم صَوْمُ ثَلاَثَةِ أيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ متفقٌ عليه
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখা, সারা বছর ধরে সিয়াম রাখার সমান।” (বুখারী ১৯৭৯, মুসলিম ২৭৯৩)
৩৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৯৭
মুআযাহ আদাবিয়্যাহ
وسأل عائشة رضي الله عنها: هل كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصوم في الشهر ثلاثا؟ قالت: نعم. قلت: أي يوم من الشهر صام؟
তিনি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আল্লাহর রসূল কি প্রতি মাসে তিনটি করে সিয়াম রাখতেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’আমি বললাম, ‘মাসের কোন কোন দিনে সিয়াম রাখতেন?’ তিনি বললেন, ‘মাসের যে কোন দিনে সিয়াম রাখতে তিনি পরোয়া করতেন না।’ (মুসলিম ২৮০১)
৩৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৯৮
আবু জার (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا صمت من كل شهر (نفلا)، فصم أيام الثالث عشر والرابع عشر والخامس عشر (من شوكلا باكشا)." (الترمذي 761)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “প্রত্যেক মাসে (নফল) সিয়াম পালন করলে (শুক্লপক্ষের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারীখে পালন করো।” (তিরমিযী ৭৬১)
৩৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১০৯৯
কাতাদাহ বিন মিলহান (রাঃ)
وَعَنْ قَتَادَةَ بنِ مِلْحَانَ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَأْمُرُنَا أَنْ نَصُومَ الْبِيضَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ -رواه أَبُو داود
তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে শুক্লপক্ষের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারীখে সিয়াম রাখার জন্য আদেশ করতেন।’ (আবূ দাঊদ ২৪৫১)
৩৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১০২
আবু জার (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من صام ثلاث مرات في كل شهر، صام الدهر كله. يقول الله تعالى: "من عمل حسنة فله بها عشر أمثالها". (سورة الأنعام 160) اليوم الواحد يساوي 10 أيام. (الترمذي 762، ابن ماجه 1708)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে ৩টি করে সিয়াম রাখবে, তার সারা বছর সিয়াম রাখা হবে। আল্লাহ আযযা অজাল্ল্ এর সত্যায়ন অবতীর্ণ করে বলেন, কেউ কোন ভাল কাজ করলে, সে তার ১০ গুণ প্রতিদান পাবে। (সূরা আনআম ১৬০) এক দিন ১০ দিনের সমান।” (তিরমিযী ৭৬২, ইবনে মাজাহ ১৭০৮)
৪০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১০৩
আবু কাতাদা (রাঃ)
قال: ولما سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيام يوم عرفة، قال: «يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده». (مسلم 2804 وأبو داود والترمذي والنسائي وابن ماجه)
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আরাফার দিনে রাযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে তিনি বললেন, “তার পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গোনাহ মোচন করে দেয়।” (মুসলিম ২৮০৪, আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
৪১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১০৪
সাহল বিন সাদ (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من صام يوم عرفة غفر له ذنوبه أكثر من سنتين». (الطبراني 5790، أبو يعلى 7548، صحيح الترغيب 1012)
তিনি বলেন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি আরাফার দিন সিয়াম রাখে তার উপর্যুপরি দুই বৎসরের পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।” (ত্বাবারানী ৫৭৯০, আবু য়্যালা ৭৫৪৮, সহীহ তারগীব ১০১২)
৪২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১০৮
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قال: لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم يرى يوما بعد صيام رمضان أعظم من أي يوم إلا يوم عاشوراء.
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমযানের সিয়ামের পর আশুরার দিন ছাড়া কোন দিনকে অন্য দিন অপেক্ষা মাহাত্ম্যপূর্ণ মনে করতেন না।’ (ত্বাবারানী আওসাত্ব ২৭২০, সহীহ তারগীব ১০০৬)
৪৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১১০
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لئن بقيت إلى قابل لأصومن التاسع من المحرم". (أي أصوم اليوم التاسع والعاشر) (مسلم 2723).
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আগামী বছর যদি আমি বেঁচে থাকি, তাহলে মুহার্রম মাসের নবম তারীখে অবশ্যই সিয়াম রাখব।” (অর্থাৎ, নবম ও দশম দু’দিন ব্যাপী সিয়াম রাখব।) (মুসলিম ২৭২৩)
৪৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১১১
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
إن شاء الله." ولكن قبل أن يأتي العام المقبل توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم. (مسلم 2722، أبو داود 2447)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আশূরার সিয়াম রাখলেন এবং সকলকে রাখার আদেশ দিলেন, তখন লোকেরা বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ দিনটিকে তো ইয়াহুদ ও নাসারারা তাযীম করে থাকে।’ তিনি বললেন, “তাহলে আমরা আগামী বছরে ৯ তারীখেও সিয়াম রাখব ইনশাআল্লাহ।” কিন্তু আগামী বছর আসার আগেই আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইন্তিকাল হয়ে গেল। (মুসলিম ২৭২২, আবূ দাঊদ ২৪৪৭)
৪৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১১৩
রুবাইয়াহ বিনতে মুয়াবিজ (রা)
وأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى قرى الأنصار التي في جوار المدينة صباح يوم عاشوراء: «من أصبح يصوم فليتم صيامه، ومن لم يصبح فليتم صيامه». ليقضي بقية أيامه." قالت ربيعة: صامنا ذلك منذ ذلك الحين وحافظنا على أطفالنا الصغار أيضًا. كنت أصنع لهم ألعابًا قطنية وأذهب بها إلى المسجد، فجعل أحدهم يبكي على الطعام
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশূরার সকালে মদীনার আশেপাশে আনসারদের বস্তিতে বস্তিতে খবর পাঠিয়ে দিলেন যে, “যে সিয়াম অবস্থায় সকাল করেছে, সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে নেয়। আর যে ব্যক্তি সিয়াম না রাখা অবস্থায় সকাল করেছে সেও যেন তার বাকী দিন পূর্ণ করে নেয়।” রুবাইয়ে’বলেন, ‘আমরা তার পর হতে ঐ সিয়াম রাখতাম এবং আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদেরকেও রাখাতাম। তাদের জন্য তুলোর খেলনা তৈরী করতাম এবং তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ খাবারের জন্য কাঁদতে শুরু করলে তাকে ঐ খেলনা দিতাম। আর এইভাবে ইফতারের সময় এসে পৌঁছত। (আহমাদ ৬/৩৫৯, বুখারী ১৯৬০, মুসলিম ২৭২৫, ইবনে খুযাইমা ২০৮৮, বাইহাক্বী ৪/২৮৮)
৪৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১১৪
আয়েশা (রা)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْها قَالَتْ كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصُومُ عَاشُورَاءَ فِى الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَصُومُهُ فَلَمَّا هَاجَرَ إِلَى الْمَدِينَةِ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ شَهْرُ رَمَضَانَ قَالَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ
‘কুরাইশরা জাহেলিয়াতের যুগে আশূরার সিয়াম পালন করত। আর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও জাহেলিয়াতে ঐ সিয়াম রাখতেন। (ঐ দিন ছিল কাবায় গিলাফ চড়াবার দিন।) অতঃপর তিনি যখন মদীনায় এলেন, তখনও তিনি ঐ সিয়াম রাখলেন এবং সকলকে রাখতে আদেশ দিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন রমযানের সিয়াম ফরয হল, তখন আশূরার সিয়াম ছেড়ে দিলেন। তখন অবস্থা এই হল যে, যার ইচ্ছা হবে সে রাখবে এবং যার ইচ্ছা হবে সে রাখবে না।’ (বুখারী ১৯৫২, ২০০২, মুসলিম ২৬৯৩ প্রমুখ)
৪৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১১৫
মুআবিয়া বিন আবূ সুফিয়ান (রাঃ)
مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِى سُفْيَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم هَذَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ وَلَمْ يَكْتُبِ اللهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ وَأَنَا صَائِمٌ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَصُومَ فَلْيَصُمْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُفْطِرَ فَلْيُفْطِرْ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আজকে আশূরার দিন; এর সিয়াম আল্লাহ তোমাদের উপর ফরয করেননি। তবে আমি সিয়াম রেখেছি। সুতরাং যার ইচ্ছা সে সিয়াম রাখবে, যার ইচ্ছা সে রাখবে না।” (বুখারী ২০০৩, মুসলিম ২৭০৯)
৪৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১১৬
আয়েশা (রা)
لم أر رسول الله صلى الله عليه وسلم يصوم في شهر غير رمضان. ولم أره يصوم أكثر أيام شهر غير شعبان». (أحمد، البخاري 1969، مسلم 2777، الترمذي، ابن ماجه)
‘আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে রমযান ছাড়া অন্য কোন মাস সম্পূর্ণ সিয়াম রাখতে দেখিনি। আর শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসের অধিকাংশ দিনগুলিতে তাঁকে সিয়াম রাখতে দেখিনি।’ (আহমাদ, বুখারী ১৯৬৯, মুসলিম ২৭৭৭, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
৪৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১১৭
আয়েশা (রা)
عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهُا قَالَتْ : لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَصُومُ مِنْ شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْ شَعْبَانَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ وَفِيْ رِوَايَةٍ : كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلاَّ قَلِيلاً متفقٌ عَلَيْهِ
আয়েশা (রাঃ)-এর বরাতে, আল্লাহ্‌ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের চেয়ে বেশি এক মাস রোজা রাখতেন না, কারণ তিনি পুরো শাবান রোজা রাখতেন। আর এক বর্ণনায় আছে: অল্প কিছু ব্যতীত তিনি শাবান মাসে রোজা রাখতেন। একমত।
৫০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১১৮
উসামা বিন যাইদ (রাঃ)
قال: قلت يوما: يا رسول الله! إني أراك تصوم في شهر شعبان ما لا أراك تصوم في غيره من الشهور، (ما سر هذا)؟ والأعمال تعرض على رب العالمين. فأحب أن يعرض عملي في الصيام. (أحمد 21753، النسائي 2357، صحيح الترغيب 1008، تمام المنة 412 ص)
তিনি বলেন, ‘একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে শাবান মাসে যত সিয়াম রাখতে দেখি তত অন্য কোন মাসে তো রাখতে দেখি না, (এর রহস্য কী)?’ উত্তরে তিনি বললেন, “এটা তো সেই মাস, যে মাস সম্বন্ধে মানুষ উদাসীন, যা হল রজব ও রমযানের মাঝে। আর এটা তো সেই মাস; যাতে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের নিকট আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, সিয়াম রাখা অবস্থায় আমার আমল (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হোক। (আহমাদ ২১৭৫৩, নাসাঈ ২৩৫৭, সহীহ তারগীব ১০০৮, তামামুল মিন্নাহ ৪১২পৃঃ)