অধ্যায় ১০
অধ্যায়ে ফিরুন
৪৩ হাদিস
০১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৩৫
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ : شَهَادَةِ أَنْ لاَ إلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِّ البَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ متفقٌ عليه
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “ইসলামের ভিত পাঁচটি জিনিসের উপর স্থাপিত আছে। (১) এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ (উপাস্য) নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ, (২) নামায কায়েম করা, (৩) যাকাত প্রদান করা, (৪) বায়তুল্লাহর হজ্জ করা এবং (৫) মাহে রমযানের সিয়াম (সিয়াম) পালন করা।” (বুখারী ৮, মুসলিম ১২২)
০২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৩৭
আল-রাবি (রাঃ)
قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي العمل أفضل؟ قال: "أن تؤمن بالله ورسوله". قيل: ثم ماذا؟ قال: "الجهاد في سبيل الله". فسأله مرة أخرى، قيل: ثم ماذا؟ قال: «الحج المبرور». (البخاري 26، مسلم 258)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘সর্বোত্তম কাজ কী?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি ঈমান রাখা।” জিজ্ঞাসা করা হল, ‘তারপর কী?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘অতঃপর কী?’ তিনি বললেন, “মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।” (বুখারী ২৬, মুসলিম ২৫৮)
০৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৩৮
আল-রাবি (রাঃ)
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من حج فلم يرفث ولم يفسق رجع إلى بيته كيوم ولدته أمه». أنجبت." (البخاري 1521، 1819-1820، مسلم 3357-3358)
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি (আল্লাহর জন্য) হজ্জ পালন করল এবং (তাতে) কোন অশ্লীল কাজ করল না ও পাপাচার করল না, সে ব্যক্তি ঠিক ঐ দিনকার মত (নিষ্পাপ হয়ে) বাড়ি ফিরবে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।” (বুখারী ১৫২১, ১৮১৯-১৮২০, মুসলিম ৩৩৫৭-৩৩৫৮)
০৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৩৯
আল-রাবি (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «العمرة إلى العمرة كفارة لما بينهما، والحج المبرور ليس جزاءه إلا الجنة». (البخاري 1773، مسلم 3355)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “একটি উমরাহ পরবর্তী উমরাহ পর্যন্ত ঐ দুয়ের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত পাপরাশির জন্য কাফফারা (মোচনকারী) হয়। আর ‘মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।” (বুখারী ১৭৭৩, মুসলিম ৩৩৫৫)
০৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৪০
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: ""إذا خرجت من بيتك إلى الكعبة المشرفة، كتب الله بكل خطوة من ركوبك حسنة وغفر ذنباً واحداً. وبينما هو واقف بعرفة، نزل الله إلى السماء الدنيا، فباهي بهم الملائكة، فقال: "إن عبادي هؤلاء يأتونني شعثا ثياباً مغبرة، يأتونني يرجون رحمتي، ويخافون عذابي، فيرونني"." لا يبصرون، فكيف يصنعون لو رأوني؟ فإذا كان عليك ذنب مثل جبل رمل أو عمر الأرض أو مطر السماء يغسله الله.\nيجمع لك أجر الرجم.\nإذا هززت رأسك كتب لك بكل شعرة الأجر.\nثم تطوف بالبيت، تخرج من خطاياك كيوم ولدتك أمك." (الطبراني 13390، صحيح الجامع 1360)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পবিত্র কাবার দিকে স্বগৃহ থেকে তোমার বের হওয়াতে, তোমার সওয়ারীর প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে আল্লাহ একটি করে সওয়াব লিপিবদ্ধ করবেন এবং একটি করে পাপ মোচন করবেন।\nআরাফায় অবস্থান কালে আল্লাহ নিচের আসমানে নেমে আসেন এবং তাদেরকে (হাজীদেরকে) নিয়ে ফিরিশতাবর্গের নিকট গর্ব করেন। বলেন, ‘আমার ঐ বান্দাগণ আলুথালু কেশে ধূলামলিন বেশে দূর-দূরান্তর পথ অতিক্রম করে আমার কাছে এসে আমার রহমতের আশা করে এবং আমার আযাবকে ভয় করে, অথচ তারা আমাকে দেখেনি। তাহলে তারা আমাকে দেখলে কি করত? সুতরাং তোমার যদি বালির পাহাড় অথবা পৃথিবীর বয়স অথবা আকাশের বৃষ্টি পরিমাণ গোনাহ থাকে, আল্লাহ তা ধৌত করে দেবেন।\nপাথর মারার সওয়াব তোমার জন্য জমা থাকবে।\nমাথা নেড়ার করলে প্রত্যেক চুলের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব লিখা হবে।\nঅতঃপর কাবা গৃহের তওয়াফ করলে তুমি তোমার পাপরাশি থেকে সেই দিনের মত বের হবে, যেদিন তোমার মা তোমাকে জন্ম দিয়েছিল।” (ত্বাবারানী ১৩৩৯০, সহীহুল জামে’ ১৩৬০)
০৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৪২
আবু আল-সাইদ খুদরি (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «يقول الله رضي الله عنه: من رزقته صحة بدنه وسعة ماله، فمات عليه خمس سنين ولم يأتيني فهو محروم». (ابن حبان 3703، البيهقي 10695، أبو يعلى 1031، السلسلة الصحيحة 1662)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, “যে বান্দাকে আমি দৈহিক সুস্থতা দিয়েছি এবং আর্থিক প্রাচুর্য দান করেছি, অতঃপর তার পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়ে যায় অথচ আমার দিকে (হজ্জব্রত পালন করতে) আগমন করে না, সে অবশ্যই বঞ্চিত।” (ইবনে হিব্বান ৩৭০৩, বাইহাকী ১০৬৯৫, আবূ য়্যালা ১০৩১, সিলসিলাহ সহীহাহ ১৬৬২)
০৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৪৬
আয়েশা (রা)
قال: قلت: يا رسول الله، إنا نعتبر الجهاد في سبيل الله أفضل، أفلا نجاهد؟ قال: ولكن أفضل الجهاد الحج المبرور. (البخاري 1520، 1861)
তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে সর্বোত্তম কাজ মনে করি, তাহলে কি আমরা জিহাদ করব না?’ তিনি বললেন, “কিন্তু (মহিলাদের জন্য) সর্বোত্তম জিহাদ হচ্ছে ‘মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।” (বুখারী ১৫২০, ১৮৬১)
০৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৪৭
আল-রাবি (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ""ليس هناك يوم آخر غير يوم عرفة، أكثر من أن يعتق الله فيه عددا من الناس من النار"." (مسلم 3354) .
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আরাফার দিন অপেক্ষা এমন কোন দিন নেই, যেদিন আল্লাহ সর্বাধিক বেশী সংখ্যায় বান্দাকে দোযখমুক্ত করেন।” (মুসলিম ৩৩৫৪)
০৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৪৯
লাকিত ইবন আমের (রাঃ)
وَعَنْ لَقِيطِ بنِ عَامِرٍ  أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَقَالَ : إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ لاَ يَسْتَطِيعُ الحَجَّ وَلاَ العُمْرَةَ وَلاَ الظَّعَنَ ؟ قَالَ حُجَّ عَنْ أَبِيكَ وَاعْتَمِرْ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحِيْحٌ
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘আমার পিতা এত বেশী বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন যে, তিনি না হজ্জ করতে সক্ষম, না উমরা করতে সক্ষম, আর না সফর করতে পারবেন।’ তিনি বললেন, “তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ ও উমরা সম্পাদন কর।” (আবূ দাঊদ ১৮১২, তিরমিযী ৯৩০, হাসান সহীহ)
১০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৫১
Sa'ib Ibn Yazid (RA)
وَعَنِ السَّائِبِ بنِ يَزِيْدَ  قَالَ : حُجَّ بِي مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فِي حَجَّةِ الوَدَاعِ وَأنَا ابنُ سَبعِ سِنينَ رواه البخاري
আল-সাইব বিন ইয়াযিদ এর সূত্রে, আল্লাহ তাঁর উপর আশীর্বাদ বর্ষণ করুন, তিনি বলেন: আমি সাত বছর বয়সে বিদায় হজ্জের সময় আল্লাহর রাসূলের সাথে হজ্জ করেছি। আল-বুখারী থেকে বর্ণিত
১১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৫২
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قال: فهل هو الحج؟ قال: نعم، ولك أجر. (مسلم 3317-3319، الترمذي 924)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘রাওহা’নামক স্থানে একটি যাত্রীদলের সাথে সাক্ষাৎকালে বললেন, “তোমরা কোন্ জাতি?” তারা বলল, ‘আমরা মুসলমান।’তারা বলল, ‘আপনি কে?’ তিনি বললেন, “আমি আল্লাহর রসূল।” এই সময়ে একজন মহিলা একটি শিশুকে তুলে ধরে বলল, ‘এর কি হজ্জ হবে?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ। আর (ওকে হজ্জ করানো বাবত) তোমারও সওয়াব হবে।” (মুসলিম ৩৩১৭-৩৩১৯, তিরমিযী ৯২৪)
১২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৫৩
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
وقد حج النبي صلى الله عليه وسلم في عربة. وكانت تلك السيارة تحمل جميع المعدات اللازمة. (البخاري 1517) .
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাহনে চড়ে হজ্জ সমাধা করেন। আর ঐ বাহনটিই ছিল প্রয়োজনীয় যাবতীয় সাজ-সরঞ্জামের বাহক। (বুখারী ১৫১৭)
১৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৫৪
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
وقال إن الأماكن التي تسمى عكاظ ومجنة وذو المجاز (قبل ظهور الإسلام) كان بها أسواق في الجاهلية. ولذلك اعتبر الصحابة التجارة في موسم الحج من المحرمات. فنزلت فيه هذه الآية، أي: (عليكم فليس جناح أن تبتغوا وجه ربك). (سورة البقرة-02:198، البخاري 2050، 2098، 4519)
তিনি বলেন, উকায, মাজিন্নাহ ও যুল-মাজায নামক স্থানগুলিতে (ইসলাম আসার পূর্বে) জাহেলী যুগের বাজার ছিল। তাই সাহাবায়ে কেরাম হজ্জের মৌসমে ব্যবসা-বাণিজ্যমূলক কাজ-কর্মকে পাপ মনে করলেন। তার জন্য এই আয়াত অবতীর্ণ হল, যার অর্থ, “(হজ্জের সময়) তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনায় (ব্যবসা-বাণিজ্যে) কোন দোষ নেই।” (সূরা বাক্বারাহ-০২:১৯৮, বুখারী ২০৫০, ২০৯৮, ৪৫১৯)
১৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৫৮
বর্ণনাকারী (RA)
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لَا نَذْكُرُ إِلَّا الْحَجَّ فَلَمَّا جِئْنَا سَرِفَ طَمِثْتُ فَدَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ مَا يُبْكِيكِ قُلْتُ لَوَدِدْتُ وَاللهِ أَنِّي لَمْ أَحُجَّ الْعَامَ، قَالَ لَعَلَّكِ نُفِسْتِ قُلْتُ نَعَمْ، قَالَ فَإِنَّ ذَلِكِ شَيْءٌ كَتَبَهُ اللهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَافْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হয়েছিলাম, হজ ছাড়া আর কিছুই মনে ছিল না। যখন আমরা এলাম, তিনি বেরিয়ে গেলেন, এবং আমি ঋতুবতী হয়ে পড়লাম, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমি যখন কাঁদছিলাম তখন তিনি আমাকে সালাম দিলেন। তিনি বললেন, "কিসে তোমাকে কাঁদায়?" আমি বললাম, "আল্লাহর কসম, আমি যদি এ বছর হজ না করতাম।" তিনি বললেন, "সম্ভবত তুমি নিঃশ্বাস হারিয়ে ফেলেছ।" আমি বললাম, হ্যাঁ, তিনি বললেন, এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ আদম কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, সুতরাং হজ্জ যা করেন তা করুন, তবে আপনি পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত কাবা প্রদক্ষিণ করবেন না।
১৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৫৯
বর্ণনাকারী (RA)
عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنَّهُ قَالَ لَعَلَّكَ آذَاكَ هَوَامُّكَ قَالَ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم احْلِقْ رَأْسَكَ وَصُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ أَوْ انْسُكْ بِشَاةٍ
কাব বিন উজরাহ এর বরাতে, আল্লাহ্‌ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হতে পারেন, আল্লাহ্‌র রসূলের সূত্রে, আল্লাহ্‌র দোয়া ও শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক, তিনি বলেছিলেন, "সম্ভবত তোমার দুশ্চিন্তা তোমাকে কষ্ট দিয়েছে।" তিনি বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মাথা মুণ্ডন কর এবং তিন দিন রোজা রাখ, অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাওয়াও অথবা নিজের জন্য একটি ভেড়া কোরবানি কর।
১৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৬১
খাল্লাদ বিন সায়েব আনসারী (রাঃ)
عَنْ خَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ الأَنْصَارِىِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ أَتَانِى جِبْرِيلُ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَأَمَرَنِى أَنْ آمُرَ أَصْحَابِى وَمَنْ مَعِى أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالإِهْلاَلِ أَوْ قَالَ بِالتَّلْبِيَةِ
খালাদ ইবন আল-সাইব আল-আনসারীর সূত্রে, তার পিতার কর্তৃত্বে যে, আল্লাহর রসূল, আল্লাহ্‌র দোয়া ও শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক, বলেছেন: জিব্রাইল, আল্লাহ্‌র দোয়া ও শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আমার কাছে এসে আমাকে আদেশ দিলেন। আমার সাহাবীদেরকে এবং আমার সঙ্গীদেরকে সালাম বা তালবিয়াতে আওয়াজ তুলতে আদেশ করা।
১৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৬২
সাহল বিন সাদ (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا لبى المسلم، لبى الحجر والشجر والأرض عن يمينه وعن شماله، حتى أقاصي الأرض من المشرق والمغرب. (الترمذي 828، ابن ماجه 2921)».
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন মুসলিম তালবিয়্যাহ পাঠ করে, তখনই (তার সাথে) তার ডানে ও বামের পাথর, গাছপালা ও (পাথুরে) মাটি প্রত্যেকেই তালবিয়্যাহ পড়ে থাকে; এমন কি পূর্ব ও পশ্চিম হতে পৃথিবীর শেষ সীমান্তও (তালবিয়্যাহ পাঠ করে থাকে।)” (তিরমিযী ৮২৮, ইবনে মাজাহ ২৯২১)
১৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৬৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করে এবং দুই রাকাত নামায আদায় করে, সে গোলাম মুক্ত করার সমান”।
১৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৬৬
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «نزل من الجنة ألف أسود، كان يومئذ أشد بياضا من اللبن، ثم اسودته خطايا بني آدم». (الترمذي 877)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “হাজারে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। তখন তা দুধের চেয়েও সাদা ছিল। পরবর্তীতে আদম সন্তানের পাপ তাকে কালো করে দিয়েছে।” (তিরমিযী ৮৭৭)
২০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৭০
নাফে’
عَنْ نَافِعٍ قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ يَسْتَلِمُ الْحَجَرَ بِيَدِهِ ثُمَّ قَبَّلَ يَدَهُ وَقَالَ مَا تَرَكْتُهُ مُنْذُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَفْعَلُهُ
নাফি'র সূত্রে, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে তার হাতে পাথরটি নিতে দেখেছি, তারপর তিনি তার হাতে চুম্বন করলেন এবং বললেন, "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার পর থেকে এটি ছেড়ে যাইনি।" সে এটা করে
২১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৭১
আয়েশা (রা)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَسسنْهَا قَالَتْ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَنْ الْجَدْرِ أَمِنَ الْبَيْتِ هُوَ؟ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ: فَمَا لَهُمْ لَمْ يُدْخِلُوهُ فِي الْبَيْتِ قَالَ إِنَّ قَوْمَكِ قَصَّرَتْ بِهِمْ النَّفَقَةُ
আয়েশা (রাঃ) থেকে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রাচীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। এটা কি বাড়ির সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আমি বললামঃ ওদের কি হল যে ওরা ঘরে নিয়ে আসেনি? তিনি বললেনঃ তোমার কওম তাদের খরচ থেকে বঞ্চিত ছিল।
২২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৭২
আয়েশা (রা)
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كُنْتُ أُحِبُّ أَنْ أَدْخُلَ الْبَيْتَ فَأُصَلِّيَ فِيهِ، فَأَخَذَ رَسُول اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بِيَدِي فَأَدْخَلَنِي الْحِجْرَ، فَقَالَ صَلِّي فِي الْحِجْرِ إِنْ أَرَدْتِ دُخُولَ الْبَيْتِ فَإِنَّمَا هُوَ قِطْعَةٌ مِنْ الْبَيْتِ وَلَكِنَّ قَوْمَكِ اسْتَقْصَرُوهُ حِينَ بَنَوْا الْكَعْبَةَ فَأَخْرَجُوهُ مِنْ الْبَيْتِ
‘একদা আমি আগ্রহ প্রকাশ করলাম যে, কাবাগৃহে প্রবেশ করে নামায পড়ব। সুতরাং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার হাত ধরে হিজ্রে প্রবেশ করালেন এবং বললেন, “কাবাগৃহের ভিতরে নামায পড়তে চাইলে এখানে নামায পড়। যেহেতু এটিও কাবাগৃহের একটি অংশ। কিন্তু তোমার সম্প্রদায় কাবা নির্মাণের সয়ম সংক্ষেপ করে মূল অংশ থেকে বের করে দিয়েছে।” (তিরমিযী ৮৭৬, নাসাঈ ২৯১৫)\nঅন্য এক বর্ণনায় আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, \n\nيَا رَسُولَ اللهِ أَلَا أَدْخُلُ الْبَيْتَ؟ قَالَ ادْخُلِي الْحِجْرَ فَإِنَّهُ مِنْ الْبَيْتِ\n\n‘হে আল্লাহর রসূল! কাবা ঘরে প্রবেশ করব না কি?’ তিনি বললেন, “তুমি হিজ্রে প্রবেশ কর। তা কাবা ঘরেরই অংশ।” (নাসাঈ ২৯১৪)
২৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৭৪
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَا مِنْ أَيَّامٍ العَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّام يعني أَيَّامَ العَشرِ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ وَلاَ الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ ؟ قَالَ وَلاَ الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيءٍ رواه البخاري
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “এই দিনগুলির (অর্থাৎ, যুল হিজ্জার প্রথম দশ দিনের) তুলনায় এমন কোন দিন নেই, যাতে কোন সৎকাজ আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।” লোকেরা বলল, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয় কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে কোন (মুজাহিদ) ব্যক্তি যদি তার জান মালসহ বের হয়ে যায় এবং তার কোন কিছুই নিয়ে আর ফিরে না আসে।” (অর্থাৎ শাহাদত বরণ করে, তাহলে হয়তো তার সমান হতে পারে।) (বুখারী ৯৬৯, প্রমুখ)
২৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৭৫
জাবের (রা)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أعظم أيام الدنيا أيام العشر). (البيار، صحيح الجامع ١١٣٣)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল (যুলহজ্জের) দশ দিন।” (বায্যার, সহীহুল জামে’ ১১৩৩)
২৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৭৬
আব্দুল্লাহ বিন ক্বুর্ত (রাঃ)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ قُرْطٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَعْظَمَ الأَيَّامِ عِنْدَ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَوْمُ النَّحْرِ ثُمَّ يَوْمُ الْقَرِّ
আবদুল্লাহ ইবনে কার্তের সূত্রে, নবীর কর্তৃত্বে, ঈশ্বরের প্রার্থনা এবং শান্তি হতে পারে, যিনি বলেছেন: আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় দিন, বরকতময় এবং সর্বোচ্চ, কোরবানির দিন, তারপর কুরআনের দিন।
২৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৭৭
আয়েশা (রা)
قَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ وَإِنَّهُ لَيَدْنُو ثُمَّ يُبَاهِى بِهِمُ الْمَلاَئِكَةَ فَيَقُولُ: مَا أَرَادَ هَؤُلاَءِ
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “আরাফার দিন অপেক্ষা আর এমন কোন দিন নেই, যেদিনে আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বান্দাদেরকে দোযখ হতে অধিকরূপে মুক্তি দিয়ে থাকেন। তিনি এদিনে (বান্দাদের) নিকটবর্তী হন, অতঃপর তাদেরকে নিয়ে ফেরেশতামন্ডলীর নিকট গর্ব করে বলেন, ‘ওরা কী চায়?’ (মুসলিম ৩৩৫৪)
২৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৭৮
ত্বারেক বিন শিহাব
جاء رجل من اليهود إلى عمر فقال: يا أمير المؤمنين! آية من كتابك التي تقرأها، لو أن تلك الآية نزلت علينا معشر اليهود لاعتبرنا ذلك اليوم عيدا. قال: وأي آية؟ قال: «اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام دينا» (هذه الآية). فقال عمر (رضي الله عنه): نحن نعرف ذلك اليوم وذلك المكان أيضًا؛ أن تلك الآية نزلت على النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقاتل بعرفة يوم الجمعة. (البخاري 45، مسلم 7712)
ইয়াহুদীদের এক ব্যক্তি উমারের নিকট এসে বলল, ‘হে আমীরুল মুমেনীন! আপনাদের কিতাবের এক আয়াত যা আপনারা পাঠ করে থাকেন, ঐ আয়াত যদি ইয়াহুদী সম্প্রদায় আমাদের উপর অবতীর্ণ হত, তাহলে (যে দিনে অবতীর্ণ হয়েছে) ঐ দিনটাকে আমরা ঈদ বলে গণ্য করতাম।’ তিনি বললেন, ‘কোন আয়াত?’ বলল, “আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীনরূপে মনোনীত করলাম” (এই আয়াত)। উমার (রাঃ) বললেন, ‘ঐ দিনটিকে আমরা জেনেছি এবং সেই স্থানটিকেও চিনেছি; যে স্থানে ঐ আয়াত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর অবতীর্ণ হয়, যখন তিনি জুমআর দিন আরাফার ময়দানে দন্ডায়মান ছিলেন। (বুখারী ৪৫, মুসলিম ৭৭১২)
২৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৭৯
উকবাহ বিন আমের (রাঃ)
عن عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَوْمُ عَرَفَةَ وَيَوْمُ النَّحْرِ وَأَيَّامُ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الإِسْلاَمِ وَهِىَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ
উকবা বিন আমির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আরাফার দিন, কোরবানির দিন এবং তাশরীকের দিন আমাদের উৎসব, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের, এবং তারা খাওয়া-দাওয়ার দিন।
২৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৮০
আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা.)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم كَانَ يَقُولُ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يُبَاهِي مَلَائِكَتَهُ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ بِأَهْلِ عَرَفَةَ فَيَقُولُ انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي أَتَوْنِي شُعْثًا غُبْرًا
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন, “আল্লাহ তাআলা আরাফার দিন বিকালে আরাফাত-ওয়ালাদের নিয়ে আসমানবাসী ফিরিশতাদের নিকট গর্ব করেন। তিনি তাদেরকে বলেন, ‘আমার বান্দাদেরকে দেখ, আমার নিকট ধূলিমলিন ও আলুথালু রুক্ষ কেশে উপস্থিত হয়েছে!” (আহমাদ ৭০৮৯, ত্বাবারানী ১৫০৪, ইবনে খুযাইমা ২৮৩৯)
৩০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৮৪
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من ذبح قبل الصلاة فقد ضحى عن نفسه، ومن ذبح بعد الصلاة فقد تم أضحيته، وعلى سنة المسلمين». (البخاري 5545-5546، مسلم 5181)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি (ঈদের) নামাযের পূর্বে যবেহ করে, সে নিজের জন্য যবেহ করে। আর যে নামাযের পরে যবেহ করে, তার কুরবানী সিদ্ধ হয় এবং সে মুসলমানদের তরীকার অনুসারী হয়।” (বুখারী ৫৫৪৫-৫৫৪৬, মুসলিম ৫১৮১)
৩১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৮৫
আল-হাসান বিন আলী (রাঃ)
عَنِ الْحَسَنِ بن عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَأَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَنْ نَلْبَسَ أَجْوَدَ مَا نَجِدُ وَأَنْ نَتَطَيَّبَ بِأَجْوَدِ مَا نَجِدُ وَأَنْ نُضَحِّيَ بِأَسْمَنِ مَا نَجِدُ الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْجَزُورُ عَنْ عَشَرَةٍ وَأَنْ نُظْهِرَ التَّكْبِيرَ وَعَلَيْنَا السَّكِينَةُ وَالْوَقَارُ
আল-হাসান বিন আলীর কর্তৃত্বে, ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেছিলেন: আল্লাহর রসূল, আল্লাহর প্রার্থনা এবং শান্তি তাঁর উপর বর্ষিত হোক, আমাদেরকে আমরা যা পেতে পারি তা পরতে এবং সুগন্ধি পরিধান করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমরা যা পাই তার সর্বোত্তম দ্বারা, এবং আমরা যা পাই তার মধ্যে সবচেয়ে মোটাতাজা কুরবানী করা, সাতটির বিনিময়ে একটি গরু এবং দশটির বিনিময়ে একটি উট এবং তাকবীর প্রকাশ করা এবং আমাদের অবশ্যই প্রশান্তি ও মর্যাদা থাকতে হবে।
৩২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৮৬
রাফে’বিন খাদীজ (রাঃ)
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قَالَ النبي صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَعْجِلْ أَوْ أَرْنِى مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللهِ فَكُلْ لَيْسَ السِّنَّ وَالظُّفُرَ وَسَأُحَدِّثُكَ أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ وَأَمَّا الظُّفُرُ فَمُدَى الْحَبَشَةِ
রাফি’ বিন খাদিজের সূত্রে, তিনি বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ত্বরা কর বা আমাকে দেখাও যা রক্তপাত করে এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর, কারণ সবকিছুই দাঁত ও নখ নয়। এবং আমি আপনাকে বলব: দাঁতের ক্ষেত্রে এটি একটি হাড়, এবং নখের ক্ষেত্রে এটি ইথিওপিয়ার পরিধি।
৩৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৮৭
আবূ ইয়ালা শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله تعالى فرض الإحسان في كل عمل، فإذا قتلتم فأحسنوا القتلة، وإذا ذبحتم فأحسنوا الذبحة، وليحد كل رجل سكينته ولتريح الذبيحة». (أي: سرعة إتمام العمل بالذبح) (مسلم 5167).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মহান আল্লাহ প্রতিটি কাজকে উত্তমরূপে (অথবা অনুগ্রহের সাথে) সম্পাদন করাটাকে ফরয করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা যখন (কাউকে) হত্যা করবে, তখন ভালভাবে হত্যা করো এবং যখন (পশু) জবাই করবে, তখন ভালভালে জবাই করো। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, সে যেন নিজ ছুরি ধারাল করে নেয় এবং যবেহযোগ্য পশুকে আরাম দেয়।” (অর্থাৎ জবাই-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে।) (মুসলিম ৫১৬৭)
৩৪
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৮৯
আয়েশা (রা)
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ هَا هُنَا أَقْوَامًا حَدِيثٌ عَهْدُهُمْ بِشِرْكٍ يَأْتُونَا بِلُحْمَانٍ لَا نَدْرِي يَذْكُرُونَ اسْمَ اللهِ عَلَيْهَا أَمْ لَا ؟ قَالَ اذْكُرُوا أَنْتُمْ اسْمَ اللهِ وَكُلُوا
একদা একদল লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করল, ‘এক নও-মুসলিম সম্প্রদায় আমাদের নিকট গোশ্ত নিয়ে আসে। আমরা জানি না যে, তার যবেহকালে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে কি না। তিনি বললেন, “তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে তা ভক্ষণ করো।” (বুখারী ২০৫৭, ৫৫০৭, ৭৩৯৮)
৩৫
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৯০
আবু ওয়াকভেদ (রাঃ)
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: (الجزء المقطوع وهو حي مثل الميتة). (أحمد 21903-21904، أبو داود 2860، الترمذي 1480، الحكيم 7150، صحيح الجامع 5652)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “পশু জীবিত থাকতে যে অংশ কেটে নেওয়া হয়, তা মৃত (পশুর মাংসের) সমান।” (আহমাদ ২১৯০৩-২১৯০৪, আবূ দাঊদ ২৮৬০, তিরমিযী ১৪৮০, হাকেম ৭১৫০, সহীহুল জামে’ ৫৬৫২)
৩৬
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৯১
আদী বিন হাতিম (রাঃ)
وسئل النبي صلى الله عليه وسلم ذات مرة فقال: (إذا أرسلت كلبك المعلم يقول: بسم الله، فكل الصيد فإنه يقتلك، فإن كان فلا تأكل، فإنه أخذه لنفسه). (البخاري 175، مسلم 5082-5083)
একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে (শিকার প্রসঙ্গে) জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “যখন তুমি তোমার শিক্ষাপ্রাপ্ত কুকুর (শিকার করার জন্য) ‘বিসমিল্লাহ’বলে প্রেরণ করবে (অতঃপর সে তোমার জন্য যে শিকার) হত্যা করবে তা খাও। আর যদি সে (তার কিছু অংশ) খায়, তাহলে খেয়ো না। কারণ সে তা নিজের জন্য ধরেছে।” (বুখারী ১৭৫, মুসলিম ৫০৮২-৫০৮৩)
৩৭
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৯৬
জাবের (রা)
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم صَلَاةٌ فِي مَسْجِدِي هَذَا أَفْضَلُ مِنْ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ إِلَّا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ وَصَلَاةٌ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ صَلَاةٍ فِيمَا سِوَاهُ
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার এই মসজিদে একটি নামায মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদে হাজার নামাযের চেয়ে উত্তম। পবিত্র মসজিদ এবং পবিত্র মসজিদে একটি নামাজ অন্যত্র এক লাখ নামাজের চেয়ে উত্তম
৩৮
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৯৭
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আমর (রাঃ)
قال رسول الله (صلى الله عليه وآله): لما بنى سليمان بن داود (عليه السلام) بيت المقدس سأل الله ثلاثا: فعل مثل عزمه، فأعطيه، وسأل الله عز وجل ملكا لا يقدر عليه أحد من بعده، فأعطي، فلما فرغ من بناء المسجد أتاه الله عز وجل ودعا لمن أتى ذلك المسجد إلا للصلاة، ليرجع ذلك الإنسان بريئا كيوم ولدته أمه. (النسائي 693، ابن ماجه 1408)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “সুলাইমান বিন দাঊদ (আঃ) যখন বায়তুল মাক্বদিস নির্মাণ করেন, তখন তিনি আল্লাহ আযযা অজাল্লার নিকট তিনটি বিষয় প্রার্থনা করলেন; তিনি আল্লাহ আযযা অজাল্লার নিকট এমন বিচার মীমাংসা প্রার্থনা করলেন যা তাঁর মীমাংসার অনুরূপ হয়। তাঁকে তাই দেওয়া হল। তিনি আল্লাহ আযযা অজাল্লার নিকট এমন সাম্রাজ্য চাইলেন যা তাঁর পরে যেন কেউ পেতে না পারে। তাই তাঁকে প্রদান করা হল। আর তিনি যখন মসজিদ নির্মাণ শেষ করলেন, তখন আল্লাহ আযযা অজাল্লার নিকট প্রার্থনা করলেন যে, যে ব্যক্তি কেবলমাত্র নামাযের উদ্দেশ্যেই ঐ মসজিদে উপস্থিত হবে, সে ব্যক্তি যেন ঐ দিনকার মত নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে; যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।” (নাসাঈ ৬৯৩, ইবনে মাজাহ ১৪০৮)
৩৯
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৯৮
সাহল বিন হুনাইফ (রাঃ)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من خرج من بيته فشهد هذا المسجد للصلاة كان له مثل أجر عمرة». (النسائي 699، ابن ماجه 1412، صحيح النسائي 675)
আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি (স্বগৃহ হতে ওযূ করে) বের হয়ে এই মসজিদে (কুবায়) উপস্থিত হয়ে নামায আদায় করে, সে ব্যক্তির একটি উমরাহ আদায় করা সমান সওয়াব লাভ হয়।” (নাসাঈ ৬৯৯, ইবনে মাজাহ ১৪১২, সহীহ নাসাঈ ৬৭৫)
৪০
হাদিস সংগ্রহ # ০/১১৯৯
উসাইদ বিন জুহায়ের আনসারি (রাঃ)
قال النبي صلى الله عليه وسلم: «الصلاة في مسجد قباء تعدل عمرة». (الترمذي 324، ابن ماجه 1411، البيهقي 10594، الحكيم 1792، الطبراني 569، صحيح الجامع 3872)
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “কুবার মসজিদে নামায পড়ার সওয়াব একটি উমরাহ করার সমতুল্য।” (তিরমিযী ৩২৪, ইবনে মাজাহ ১৪১১, বাইহাক্বী ১০৫৯৪, হাকেম ১৭৯২, ত্বাবারানী ৫৬৯, সহীহুল জামে’ ৩৮৭২)
৪১
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২০১
জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাঃ)
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قال: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَقُولُ مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, “যমযমের পানি যে নিয়্যাতে পান করা হবে সে নিয়্যাত পূর্ণ হওয়ায় ফলপ্রসূ।” (ইবনে মাজাহ ৩০৬২, ইরওয়াউল গালীল ১১২৩)
৪২
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২০২
আবু জার (রাঃ)
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنها مباركة، إنها طعام شفاء ودواء شفاء". (الطبراني سواجر 295، بيزار 3929، صحيح الجامع 2435)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয় তা (যমযমের পানি) বরকতপূণ। তা তৃপ্তিকর খাদ্য এবং রোগনিরাময়ের ঔষধ।” (ত্বাবারানীর স্বাগীর ২৯৫, বাযযার ৩৯২৯, সহীহুল জামে’ ২৪৩৫)
৪৩
হাদিস সংগ্রহ # ০/১২০৩
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خير ماء على وجه الأرض ماء الصيام، فيه طعام الرضا، وشفاء الداء». (أسات الطبراني 3912، 8129، الكبير 11004، صحيح جامع 3322)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “পৃথিবীর বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ পানি হল যমযমের পানি। তাতে রয়েছে তৃপ্তির খাদ্য এবং ব্যাধির আরোগ্য।” (ত্বাবারানীর আসাত্ব ৩৯১২, ৮১২৯, কাবীর ১১০০৪, সঃ জামে’ ৩৩২২)