মুয়াত্তা মালিক — হাদিস #৩৫২৫৯

হাদিস #৩৫২৫৯
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ مَعْبَدَ بْنَ حُزَابَةَ الْمَخْزُومِيَّ، صُرِعَ بِبَعْضِ طَرِيقِ مَكَّةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَسَأَلَ مَنْ يَلِي عَلَى الْمَاءِ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ فَوَجَدَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَمَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ فَذَكَرَ لَهُمُ الَّذِي عَرَضَ لَهُ فَكُلُّهُمْ أَمَرَهُ أَنْ يَتَدَاوَى بِمَا لاَ بُدَّ لَهُ مِنْهُ وَيَفْتَدِيَ فَإِذَا صَحَّ اعْتَمَرَ فَحَلَّ مِنْ إِحْرَامِهِ ثُمَّ عَلَيْهِ حَجُّ قَابِلٍ وَيُهْدِي مَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْىِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَعَلَى هَذَا الأَمْرُ عِنْدَنَا فِيمَنْ أُحْصِرَ بِغَيْرِ عَدُوٍّ وَقَدْ أَمَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ وَهَبَّارَ بْنَ الأَسْوَدِ حِينَ فَاتَهُمَا الْحَجُّ وَأَتَيَا يَوْمَ النَّحْرِ أَنْ يَحِلاَّ بِعُمْرَةٍ ثُمَّ يَرْجِعَا حَلاَلاً ثُمَّ يَحُجَّانِ عَامًا قَابِلاً وَيُهْدِيَانِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ وَكُلُّ مَنْ حُبِسَ عَنِ الْحَجِّ بَعْدَ مَا يُحْرِمُ إِمَّا بِمَرَضٍ أَوْ بِغَيْرِهِ أَوْ بِخَطَإٍ مِنَ الْعَدَدِ أَوْ خَفِيَ عَلَيْهِ الْهِلاَلُ فَهُوَ مُحْصَرٌ عَلَيْهِ مَا عَلَى الْمُحْصَرِ ‏.‏ قَالَ يَحْيَى سُئِلَ مَالِكٌ عَمَّنْ أَهَلَّ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ بِالْحَجِّ ثُمَّ أَصَابَهُ كَسْرٌ أَوْ بَطْنٌ مُتَحَرِّقٌ أَوِ امْرَأَةٌ تَطْلُقُ ‏.‏ قَالَ مَنْ أَصَابَهُ هَذَا مِنْهُمْ فَهُوَ مُحْصَرٌ يَكُونُ عَلَيْهِ مِثْلُ مَا عَلَى أَهْلِ الآفَاقِ إِذَا هُمْ أُحْصِرُوا ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ فِي رَجُلٍ قَدِمَ مُعْتَمِرًا فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ حَتَّى إِذَا قَضَى عُمْرَتَهُ أَهَلَّ بِالْحَجِّ مِنْ مَكَّةَ ثُمَّ كُسِرَ أَوْ أَصَابَهُ أَمْرٌ لاَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يَحْضُرَ مَعَ النَّاسِ الْمَوْقِفَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ أَرَى أَنْ يُقِيمَ حَتَّى إِذَا بَرَأَ خَرَجَ إِلَى الْحِلِّ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى مَكَّةَ فَيَطُوفُ بِالْبَيْتِ وَيَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ يَحِلُّ ثُمَّ عَلَيْهِ حَجُّ قَابِلٍ وَالْهَدْىُ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ فِيمَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ مِنْ مَكَّةَ ثُمَّ طَافَ بِالْبَيْتِ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ مَرِضَ فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَحْضُرَ مَعَ النَّاسِ الْمَوْقِفَ ‏.‏ قَالَ مَالِكٌ إِذَا فَاتَهُ الْحَجُّ فَإِنِ اسْتَطَاعَ خَرَجَ إِلَى الْحِلِّ فَدَخَلَ بِعُمْرَةٍ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ لأَنَّ الطَّوَافَ الأَوَّلَ لَمْ يَكُنْ نَوَاهُ لِلْعُمْرَةِ فَلِذَلِكَ يَعْمَلُ بِهَذَا وَعَلَيْهِ حَجُّ قَابِلٍ وَالْهَدْىُ ‏.‏ فَإِنْ كَانَ مِنْ غَيْرِ أَهْلِ مَكَّةَ فَأَصَابَهُ مَرَضٌ حَالَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْحَجِّ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَلَّ بِعُمْرَةٍ وَطَافَ بِالْبَيْتِ طَوَافًا آخَرَ وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ لأَنَّ طَوَافَهُ الأَوَّلَ وَسَعْيَهُ إِنَّمَا كَانَ نَوَاهُ لِلْحَجِّ وَعَلَيْهِ حَجُّ قَابِلٍ وَالْهَدْىُ ‏.‏
রেওয়ায়ত ১০৬. আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেনঃ অসুস্থতার কারণে যদি কেউ যাত্রা করিয়াও খানা-এ-কাবায় পৌঁছিতে না পারে তবে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী না করা পর্যন্ত সে আর হালাল হইবে না। সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রাঃ) হইতে বর্ণিত-মাবদ ইবন হুযাবা মাখযুমী (রহঃ) মক্কা আসার পথে তাহার বাহন হইতে পড়িয়া গিয়া আহত হন। তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর একটি কূপের নিকট যাত্রা বিরতি করিলেন এবং খোঁজ নিয়া জানিতে পারিলেন যে, সেখানে আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাঃ), আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রাঃ) এবং মারওয়ান ইবনুল হাকাম (রাঃ) আছেন। তাহাদের নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করিলে তাহারা বলিলেনঃ প্রয়োজনীয় ঔষধ ব্যবহার কর আর উহার ফিদয়া আদায় করিয়া দিও। সুস্থ হওয়ার পর উমরা আদায় করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিও। আগামী বৎসর পুনরায় এই হজ্জ আদায় করিয়া নিও এবং সামর্থ্যানুযায়ী কুরবানী দিও। মালিক (রহঃ) বলেনঃ শক্র ছাড়া অন্য কোন কারণে হজ্জে বাধাপ্রাপ্ত হইলে আমাদের নিকটও মাসআলা অনুরূপ। মালিক (রহঃ) বলেনঃ আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) এবং হাব্বান ইবন আসওয়াদ (রাঃ) যখন হজ্জের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হইতে পারিলেন না এবং নাহরের দিন উপস্থিত হইলেন, সেই বৎসর দশ তারিখে মক্কায় গিয়া পৌছিলেন, তখন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) তাহাদিগকে বলিয়াছিলেনঃ উমরা করিয়া ইহরাম খুলিয়া নিন এবং এই বৎসর ফিরিয়া যান। আগামী বৎসর হজ্জ করিবেন এবং কুরবানী দিবেন। কুরবানীর সামর্থ্য না হইলে আপনাদেরকে হজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়ি ফিরিয়া সাতদিন রোযা রাখিতে হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইহরাম বাঁধার পর অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে- যেমন তারিখে ভুল করার দরুন, যদি হজ্জ করিতে না পারে তবে তাহার হুকুম মুহসারের মত হইবে।[1] ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল- মক্কাবাসী কোন ব্যক্তি হজ্জের নিয়তে ইহরাম বাঁধার পর তাহার পা ভাঙিয়া গেল বা দাস্ত শুরু হইল, এখন সে কি করিবে? তিনি বলিলেনঃ তাহার হুকুম মুহসারের মত। মক্কার বাহিরের অধিবাসী কোন ব্যক্তির ইহসার বা বাধাপ্রাপ্ত হইলে যে হুকুম, এখানেও সেই হুকুম প্রযোজ্য হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ হজ্জের মাসে কোন ব্যক্তি উমরার ইহরাম বাধিয়া মক্কা আসিল এবং উমরা সমাধা করিয়া মক্কা হইতে পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর তাহার পা ভাঙিয়া গেল বা এমন কোন কষ্ট পাইল যাহাতে সে আরাফাতে যাইতে আর সক্ষম হইল না। তখন সে যখন সুস্থ হইবে হারম শরীফের বাহিরে গিয়া মক্কায় ফিরিয়া আসিবে এবং তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করিয়া ইহরাম খুলিয়া ফেলিবে। পরে আগামী বৎসর পুনরায় হজ্জ করিবে এবং কুরবানী দিবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি হজ্জের মওসুমে উমরার ইহরাম বাঁধিয়া মক্কায় প্রবেশ করিল। অতঃপর উমরা পূর্ণ করিয়া মক্কা হইতে হজ্জের ইহরাম বাঁধিল। অতঃপর (দুর্ঘটনায় হাত-পা) ভাঙিল অথবা অন্য কোন বাঁধার সম্মুখীন হইল। ফলে অন্য লোকদের সঙ্গে আরাফাতে উপস্থিত হইতে পারে নাই। মালিক (রহঃ) বলেনঃ উক্ত ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় থাকিবে। যখন সে সুস্থ হইবে, হিলের (হারম শরীফের বাহিরে) দিকে যাইবে। অতঃপর মক্কার দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে। তাওয়াফ করিবে ও সাফা-মারওয়া সায়ী করিবে এবং হালাল হইবে। তাহার উপর আগামী বৎসর হাদয়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি মক্কা হইতে হজ্জের ইহরাম বাধিয়াছে, তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সায়ী করিয়াছে, অতঃপর সে অসুস্থ হইয়া পড়ে এবং লোকের সঙ্গে আরাফাতে উপস্থিত হইতে পারে নাই। তিনি বলেনঃ যদি সে হজ্জ করিতে না পারে যখন সম্ভব হইবে তখন সে হিলের দিকে যাইবে এবং উমরার নিয়ত করিয়া মক্কায় প্রবেশ করবে। ইহার কারণ, প্রথমে সে তাওয়াফ ও উমরার নিয়ত করে নাই। এইজন্য সে পুনরায় তাওয়াফ ও সায়ী করিবে এবং তাহার উপর আগামী বৎসর হাদয়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হইবে।মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি হজ্জের ইহরাম বাধিয়াছে সে যদি মক্কার বাহিরের লোক হয়, সে অসুস্থতার দরুন যদি হজ্জ করিতে না পারে, অথচ ইহার পূর্বে সে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সায়ী করিয়াছিল, সেই ব্যক্তি উমরা করিয়া হালাল হইবে এবং আরেকবার বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সায়ী করবে। কারণ তাহার পূর্বের তাওয়াফ ও সায়ী ছিল হজ্জের নিয়তে। তাহার উপর আগামী বৎসর হাদয়ী ও হজ্জ ওয়াজিব হইবে।
উৎস
মুয়াত্তা মালিক # ২০/৮০৪
গ্রেড
Mauquf Sahih
বিভাগ
অধ্যায় ২০: হজ্জ
পূর্ববর্তী হাদিস সকল হাদিস দেখুন পরবর্তী হাদিস
বিষয়: #Fasting #Mercy #Mother #Hajj

সম্পর্কিত হাদিস

এই কিতাবের আরো হাদিস