অধ্যায় ১
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১
وَعَنْ عَامِرٍ الرَّامِ قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَه يَعْنِىْ عِنْدَ النَّبِىِّ ﷺ إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ عَلَيْهِ كِسَاءٌ وَفِىْ يَدِه شَىْءٌ قَدِ الْتَفَّ عَلَيْهِ فَقَالَ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ مَرَرْتُ بَغِيضَةِ شَجَرٍ فَسَمِعْتُ فِيهَا أَصْوَاتَ فِرَاخِ طَائِرٍ فَأَخَذْتُهُنَّ فَوَضَعْتُهُنَّ فِىْ كِسَائِىْ فَجَاءَتْ أُمُّهُنَّ فَاسْتَدَارَتْ عَلٰى رَأْسِىْ فَكَشَفْتُ لَهَا عَنْهُنَّ فَوَقَعَتْ عَلَيْهِنَّ فَلَفَفْتُهُنَّ بِكِسَائِىْ فَهُنَّ أُولَاءِ مَعِىْ قَالَ: «ضَعْهُنَّ» فَوَضَعْتُهُنَّ وَأَبَتْ أُمُّهُنَّ إِلَّا لُزُومَهُنَّ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَتَعْجَبُوْنَ لِرُحْمِ أُمِّ الْفِرَاخِ فِرَاخَهَا؟ فَوَ الَّذِىْ بَعَثَنِىْ بِالْحَقِّ:اَللّٰهُ أَرْحَمُ بِعِبَادِه مِنْ أُمِّ الْفِرَاخ بِفِرَاخِهَا ارْجِعْ بِهِنَّ حَتّٰى تَضَعَهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَخَذْتَهُنَّ وَأُمُّهُنَّ مَعَهُنَّ». فَرَجَعَ بِهِنَّ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলও, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহ্র কাছে সর্বাধিক বড় গুনাহ কোন্টা? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সেই আল্লাহর সাথে কাউকে শারীক করা। অতঃপর পুনরায় সে জিজ্ঞেস করলো, তারপর কোন্টা? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার সন্তান তোমার সাথে খাবে- এ ভয়ে তাকে হত্যা করা। পুনরায় প্রশ্ন করলো, তারপর কোন্টা? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা। তিনি [ইব্নু মাসঊদ(রাঃ)] বলেছেন, এর সমর্থনে আল্লাহ তা’আলা (কুরআনে) অবতীর্ণ করলেন: “তারাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে মা’বূদ হিসেবে গণ্য করে না,আল্লাহ যাদের হত্যা করা হারাম করে দিয়েছেন, আইনের বিধান ছাড়া তাদের (অন্যায়ভাবে) হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করে সে শাস্তির সাক্ষাৎ লাভ করবে”।– (সূরাহ আল ফুরকান ২৫ : ৬৮)। [১]
০২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১
وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَةَ عَنْ كَثِيْرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّه
জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, সলাতে আমি নানা ধরনের (ভুলের) সন্দেহের মধ্যে পড়ি। এটা আমার খুব বেশি হয়। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন, (এটা শাইত্বনের কাজ, এ রকম ধারণার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করো না) তুমি তোমার সলাত পূর্ণ করতে থাকবে। কেননা সে (শায়ত্বন) তোমার কাছ থেকে দূর হবে না- যে পর্যন্ত না তুমি তোমার সলাত পূর্ণ কর এবং মনে কর যে, আমি আমার সলাত পূর্ণ করতে পারিনি। [১]
০৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللّهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِه وَيَدِه وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللّهُ عَنْهُ هذَا لَفْظُ الْبُخَارِىِّ وُلِـمُسْلِمٍ قَالَ : إِنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ ﷺ أَيُّ الْمُسْلِمِيْنَ خَيْرٌ؟ قَالَ : مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُوْنَ مِنْ لِسَانِه وَيَدِه
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতেও সামান্য শাব্দিক পরিবর্তনে হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে। তা হচ্ছে- যখন উলঙ্গ কাঙ্গাল এবং মূক ও বধিরগণকে অর্থাৎ অযোগ্য লোকদেরকে দেশের রাজা বা শাসক হতে দেখবে। সে পাঁচটি বিষয় ক্বিয়ামাতের আলামাতের অন্তর্গত, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তারপর তিনি প্রমাণ হিসেবে কুরআনের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ (আরবী)\nঅর্থাৎ “আল্লাহ্ ক্বিয়ামাত সম্পর্কে ভাল জানেন কবে তা সংঘটিত হবে? কিভাবে হবে? বৃষ্টি তিনিই বর্ষিয়ে থাকেন” – (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১:৩৪)। [১]
০৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/৩
وَعَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ سُئِلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَنْ هذِهِ الْاۤيَةِ : ﴿وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي اۤدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ﴾ الاۤية قَالَ عُمَرُِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يُسْأَلُ عَنْهَا فَقَالَ : إِنَّ اللهَ خَلَقَ اۤدَمَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَه بِيَمِينِه فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقْتُ هَؤُلَاءِ لِلْجَنَّةِ وَبِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ يَعْمَلُونَ ثُمَّ مَسَحَ ظَهْرَهٗ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقْتُ هَؤُلَاءِ لِلنَّارِ وَبِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ يَعْمَلُونَ». فَقَالَ رَجُلٌ فَفِيمَ الْعَمَلُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنَّ اللهَ إِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلْجَنَّةِ اسْتَعْمَلَه بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتّى يَمُوتَ عَلى عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُدْخِلُه بِهِ الْجَنَّةَ وَإِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلنَّارِ اسْتَعْمَلَه بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتّى يَمُوتَ عَلى عَمَلٍ مِنْ أَعْمَالِ أَهْلِ النَّارِ فَيُدْخِلُه بِهِ النَّارَ. رَوَاهُ مَالِك وَالتِّرْمِذِيُّ وأَبُوْ دَاوٗدَ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমার উম্মাতের মধ্যেও ‘খাস্ফ’ (জমিন ধ্বসিয়ে বা অদৃশ্য করে দেয়া) এবং ‘মাস্খ’ (চেহারা বা আকার পরিবর্তন করে দেয়ার) মত শাস্তি হবে। তবে এ শাস্তি তাক্বদীরের প্রতি অবিশ্বাসকারীদের মধ্যেই হবে। আবূ দাঊদ, ইমাম তিরমিযীও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। [১]
০৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/৪
وَعَنْ مُّعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ لِيْ رَسُوْل اللهِ ﷺ : مَفَاتِيْحُ الْجَنَّةِ شَهَادَةُ أَنْ لَّا إِلهَ اِلَّا اللهُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ
তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : জান্নাতের চাবি হচ্ছে “আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ্ নেই” বলে (অন্তরের সাথে) সাক্ষ্য দেয়া। [১]
০৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/৫
وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَلَامِىْ لَا يَنْسَخُ كَلَامَ اللهِ وَكَلَامُ اللهِ يَنْسَخُ كَلَامِىْ وَكَلَامُ اللهِ يَنْسَخُ بَعْضُه بَعْضًا
তিনি বলেন, রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার কথা আল্লাহ্র কথাকে রহিত করতে পারে না, কিন্তু আল্লাহ্র কথা আমার কথাকে রহিত করে। এছাড়া কুরআনের একঅংশ অপরাংশকে রহিত করে। [১]
০৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/৬
وَعَنْ عُثْمَانَ قَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ تَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ هذَا وُضُوْئِيْ وَوُضُوْءِ الْأَنْبِيَاءِ قَبْلِيْ وَوُضُوْءِ إبْرَاهِيْمَ. رَوَاهُمَا رَزِيْن وَّالنَّوَوِىُّ ضَعَّفَ الثَّانِيْ فِىْ شَرحِ مُسْلِمٍ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতের উপর এমন একটি সময় আসবে যেমন বানী ইসরাঈলের উপর এসেছিল। যেমন এক পায়ের জুতা অপর পায়ের জুতার ঠিক সমান হয়। এমনটি বানী ইসরাঈলের মধ্যে যদি কেউ তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে কুকর্ম করে থাকে, তাহলে আমার উম্মাতের মধ্যেও এমন লোক হবে যারা অনুরূপ কাজ করবে আর বানী ইসরাঈল ৭২ ফিরক্বায় (দলে) বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আমার উম্মাত বিভক্ত হবে ৭৩ ফিরক্বায়। এদের মধ্যে একটি ব্যতীত সব দলই জাহান্নামে যাবে। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! জান্নাতী দল কারা? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যার উপর আমি ও আমার সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত আছি, যারা তার উপর থাকবে। [১]
০৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৬
وَعَنْ بِلاَلِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُزَنِيْ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَحْيَا سُنَّةً مِنْ سُنَّتِي قَدْ أُمِيتَتْ بَعْدِي فَإِنَّ لَه مِنَ الْأَجْرِ مِثْلَ اُجُوْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنِ ابْتَدَعَ بِدْعَةَ ضَلَالَةً لَا يَرْضَاهَا اللهَ وَرَسُولُه كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْاِثْمِ مِثْلُ اۤثَامِ مَنْ عَمِلَ بِهَا لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْئًا. ورَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার কোন একটি সুন্নাতকে যিন্দা করেছে, যে সুন্নাত আমার পরে ছেড়ে দেয়া হয়ছিল, তার এত সাওয়াব হবে যত সাওয়াব এ সুন্নাত ‘আমালকারীদের হবে, কিন্তু সুন্নাতের উপর ‘আমালকারীদের সাওয়াবে কোন অংশ হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি গুমরাহীর নতুন (বিদ‘আত) পথ সৃষ্টি করবে, যাতে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল রাযী-খুশী নন, তার জন্য সে সকল লোকের গুনাহ চাপিয়ে দেয়া হবে, যারা তার সাথে ‘আমাল করবে, অথচ তাদের গুনাহের কোন অংশ হ্রাস করবে না। [১]