অধ্যায় ৬
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৭৭৩
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ: «إِنَّكَ تَأتِىْ قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ. فَادْعُهُمْ إِلى شَهَادَةِ أَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا اللّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللّهِ. فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لذَلِكَ. فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللّهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ. فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوْا لذلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَن الله قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤْخَذُ مِنَ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ فِىْ فُقَرَائِهِمْ. فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ. فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّه لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الله حِجَابٌ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠাবার সময় বললেন,মু’আয! তুমি আহলে কিতাবদের (ইয়াহূদী ও খৃস্টান) নিকট যাচ্ছো। প্রথমতঃ তাদেরকে এ লক্ষ্যে দ্বীনের প্রতি আহবান করবে,এক আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই,আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল। যদি তারা এটা মেনে নেয় তাহলে তাদের সামনে এই ঘোষণা দেবে যে,নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাদের ওপর দিনরাতে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ফার্য করেছেন। তারা এটা মেনে নিলে তাদেরকে জানাবে,নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাদের ওপর যাকাত ফার্য করেছেন। তাদের ধনীদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করে তাদের গরীবদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। যদি তারা এ হুকুমের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে তাহলে তুমি (তাদের) ভাল ভাল মাল গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে,মাযলূমের ফরিয়াদ হতে বাঁচার চেষ্টা করবে। কেননা মাযলূমের ফরিয়াদ আর আল্লাহ তা’আলার মধ্যে কোন আড়াল থাকে না। (বুখারী,মুসলিম) [১]
০২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৭৭৫
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من آتاه الله مالاً ولم يؤد زكاته، كان ذلك المال ثعباناً أصلع يوم القيامة. هذا الثعبان له عينان سوداوين وستكون هناك ندبات (أي ثعابين سامة). بعد ذلك، ستمسك الأفعى بفك الرجل وتقول: أنا كنزك، أنا كنزك. ثم تلا هذه الآية يعني لا يحسبن الذين يبخلون هو خيرا لهم بل شرا لهم ويوم القيامة ما يبخلون به في أغلال في أعناقهم. (سورة آل عمران 3 : 180) إلى نهاية الآية. (البخاري) [1]
তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা’আলা ধন-সম্পদ দান করেছেন,অথচ সে ঐ ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করেনি,সে ধন-সম্পদকে ক্বিয়ামাতের দিন টাকমাথা সাপে পরিণত হবে। এ সাপের দু’চোখের উপর দু’টি কালো দাগ থাকবে (অর্থাৎ বিষাক্ত সাপ)। এরপর ঐ সাপ গলার মালা হয়ে ব্যক্তির দু’চোয়াল আঁকড়ে ধরে বলবে,আমিই তোমার সম্পদ,আমি তোমার সংরক্ষিত ধন-সম্পদ। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন,অর্থাৎ “যারা কৃপণতা করে,তারা যেন মনে না করে এটা তাদের জন্য উত্তম বরং তা তাদের জন্য মন্দ। ক্বিয়ামতের দিন অচিরেই যা নিয়ে তারা কৃপণতা করছে তা তাদের গলায় বেড়ী করে পরিয়ে দেয়া হবে”। (সূরাহ্ আল ‘ইমরান ৩ : ১৮০) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (বুখারী) [১]
০৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৭৭৬
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: من كان له إبل وبقر وماعز فلا زكاة فيها. ويؤتى يوم القيامة بهذه الدواب طازجة وسمينة فيسحقونها بأرجلهم. بأبواقهم جوتوب بعد سحق المجموعة الأخيرة، ستعود المجموعة الأولى مرة أخرى حتى يتم الحساب (وهكذا). (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন,নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির উট,গরু ও ছাগল থাকবে,আর সে এসবের হাক্ব (যাকাত) আদায় করবে না। ক্বিয়ামাতের দিন এসব জন্তু খুব তরতাজা মোটাসোটা করে আনা হবে এবং তারা তাদের পা দিয়ে তাদের পিষবে। তাদের শিং দিয়ে গুতোবে। শেষ দলটি পিষে যাবার পর আবার প্রথম দলটি আসবে হিসাব-নিকাশ হওয়া পর্যন্ত (এভাবে চলতে থাকবে)। (বুখারী,মুসলিম) [১]
০৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৭৭৮
وَعَنْ عَبْدُ اللّهِ بْنِ أَبِىْ أَوْفى رَضِيَ اللّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَتَاهُ قَوْمٌ بِصَدَقَتِهِمْ قَالَ: اللّهُمَّ صَلِّى عَلى الِ فلَانٍ . فَأَتَاهُ أَبِىْ بِصَدَقَتِه فَقَالَ: اللّهُمَّ صَلِّ عَلى ال أَبِىْ أوْفى. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)\nوَفِي رِوَايَة: إِذا أَتَى الرَّجُلُ النَّبِيَّ بِصَدَقَتِه قَالَ: اللّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ
তিনি বলেন,কোন ক্বওম নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে তাদের যাকাত নিয়ে এলে তিনি বলতেন,“আল্ল-হুম্মা স-ল্লি ‘আলা- আ-লি ফুলা-ন” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! অমুকের ওপর রহ্মাত বর্ষণ করো)। আমার পিতাও যখন তার নিকট যাকাত নিয়ে এলেন তিনি বললেন,“আল্ল-হুম্মা সল্লি ‘আলা- আ-লি আবী আওফা” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আবূ আওফা ও তার বংশধরদের ওপর রহ্মাত বর্ষণ করো)। (বুখারী,মুসলিম) [১]\nঅন্য এক বর্ণনায় এসেছে,যখন কোন ব্যক্তি তার নিজের যাকাত নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসতেন,তিনি বলতেন,“হে আল্লাহ! এ ব্যক্তির ওপর রহ্মাত বর্ষণ করো।”
০৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৭৭৯
قال: أرسل رسول الله (صلى الله عليه وسلم) عمر (رضي الله عنه) ليجمع الزكاة. وجاء أحدهم وذكر أن ابن جميل وخالد بن الوليد والعباس رضي الله عنه رفضوا دفع الزكاة. (سمع هذا) رسول الله (صلى الله عليه وسلم). قال وسلام: امتنع ابن جميل من إخراج الزكاة لأنه كان فقيرا. ثم أغناه الله ورسوله. وأمر خالد بن الوليد أنك تظلمه. إنه سلاحه في سبيل الله وقد أُعطي الوقف (ليس هذا العام فحسب، بل أيضًا) هذا (العام المقبل). ثم هناك قضية عباس. زكاته لهذا العام وما يعادلها على عاتقي. ثم قال: يا عمر! ألا تعلم أن عم الرجل مثل أبيه؟ (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকাত আদায়ের জন্য ‘উমার (রাঃ)-কে পাঠালেন। কেউ এসে খবর দিলো যে,ইবনু জামিল,খালিদ ইবনু ওয়ালীদ আর ‘আব্বাস (রাঃ) যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ইবনু জামিল এজন্য যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন যে,(প্রথম দিকে) গরীব ছিল। এরপর আল্লাহ ও তাঁর রসূল তাকে সম্পদশালী করেছেন। আর খালিদ ইবনু ওয়ালীদ-এর ব্যাপার হলো,তোমরা তার ওপর যুল্ম করছ। সে তো তার যুদ্ধসামগ্রী আল্লাহর পথে ওয়াক্ফ করে দিয়েছে (কাজেই তোমরা তার শুধু এ বছরই নয় বরং) এ রকম (আগামী বছর)ও। এরপর থাকে ‘আব্বাস-এর বিষয়। তার এ বছরের যাকাত এবং এর সমপরিমাণ আমার দায়িত্বে। অতঃপর তিনি বললেন,হে ‘উমার! তুমি কি জানো না কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার মতই। (বুখারী,মুসলিম) [১]
০৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৭৮৫
وَعَنْ بَشِيرِ بْنِ الْخَصَاصِيَّةِ قَالَ: قُلْنَا: أَنَّ أَهْلَ الصَّدَقَةِ يَعْتَدُوْنَ عَلَيْنَا أَفَنَكْتُمُ مِنْ أَمْوَالِنَا بِقَدْرِ مَا يَعْتَدُوْنَ؟ قَالَ: لَا - رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
তিনি বলেন,আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সবিনয়ে জানালাম যে,যাকাত আদায়কারীরা যাকাতের ব্যাপারে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করে। (এ অবস্থায়) পরিমাণের চেয়ে যে মাল তারা বেশী নেয়,আমরা কি তা গোপন রাখতে পারি? তিনি বললেন,না। (আবূ দাঊদ) [১]
০৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৭৮৭
وصفه عن جده عن طريق أبيه. قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا تأتي الزكاة بالأربع على الأصل. ولن يبتعد أصحاب الحيوانات ذات الأرجل الأربعة. زكاة هذه الحيوانات لهم ستتعافى جالسة. (أبو داود) [1]
তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেনঃ যাকাত উসূলকারীর কাছে চতুষ্পদ পশুকে টেনে আনবে না। কিংবা চতুষ্পদ পশুর মালিকগণও দূরে সরে থাকবে না। এসব পশুর যাকাত তাদের অবস্থানে বসেই উসূল করবে। (আবূ দাঊদ) [১]
০৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৭৮৮
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من كان له مال فليس عليه زكاة في هذا المال قبل أن يحول عليه الحول. (الترمذي، وقال جماعة: سند هذا الحديث إلى ابن عمر، لا إلى الرسول صلى الله عليه وسلم).[1]
তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি কোন ধন-সম্পদ লাভ করবে,এক বছর অতিবাহিত হবার আগে এ ধন-সম্পদের উপর তাকে যাকাত দিতে হবে না। (তিরমিযী;একদল লোক বলেছেন,এ হাদীসটির সানাদ ইবনু ‘উমার পর্যন্ত পৌঁছেছে,রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত নয়।) [১]
০৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৭৮৯
قال: سأل العباس رسول الله (ص) هل يمكن إخراج الزكاة قبل تمام الحول؟ فأذن له رسول الله صلى الله عليه وسلم. (أبو داود، الترمذي، ابن ماجه، الدارمي) [1]
তিনি বলেন,(একবার) এক বছর পরিপূর্ণ হবার আগে নিজের যাকাত দিতে পারা যাবে কিনা ‘আব্বাস (রাঃ) তা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তাকে অনুমতি দিলেন। (আবূ দাঊদ,তিরমিযী,ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]
১০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮০১
قال: أمر النبي صلى الله عليه وسلم حين بعث إلى اليمن عاملاً: في كل ثلاثين بقرة بقرة حولين، وفي كل أربعين بقرة زكاة بقرة ذات سنتين. (أبو داود، الترمذي، النسائي، الدارمي) [1]
তিনি বলেন,নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে প্রশাসক বানিয়ে ইয়ামানে পাঠাবার সময় এ হুকুম দিয়েছিলেন,প্রত্যেক ৩০টি গরুতে ১ বছর বয়সী ১ টি গরু এবং প্রত্যেক ৪০ টি গরুতে দু’বছর বয়সী ১ টি গরু যাকাত হিসেবে উসুল করবে।(আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, দারিমী) [১]
১১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮০৩
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: لا تجب الزكاة حتى يكون الحب والتمر خمسة أوساك. (النسائي) [1]
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শস্য ও খেজুর ৫ ওয়াসাক পরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত যাকাত ওয়াজিব হবে না। (নাসায়ী) [১]
১২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮০৫
وَعَنْ عَتَّابِ بْنِ أَسِيدٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ فِىْ زَكَاةِ الْكُرُوْمِ: «إِنَّهَا تُخْرَصُ كَمَا تُخْرَصُ النَّخْلُ ثُمَّ تُؤَدّى زَكَاتُه زَبِيْبًا كَمَا تُؤَدّى زَكَاةُ النَّخْلِ تَمْرًا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ
আত্তাব ইবনে আসিদ থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙ্গুর ক্ষেতের যাকাত সম্পর্কে বলেছেন: "যেভাবে খেজুর গাছ কাটা হয় সেভাবে তা কাটা উচিত, তারপর কিসমিসের উপর যাকাত প্রদান করা উচিত যেভাবে প্রদান করা হয়।" খেজুরের যাকাত। আল-তিরমিযী ও আবু দাউদ থেকে বর্ণিত
১৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮০৭
He said, The Prophet (peace be upon him) used to send Abdullah Ibn Rawaha to the Jews (of Khaybar). He used to go there and estimate the quantity of dates. Then it would be sweet, but the food would not be suitable. (أبو داود) [1]
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু রওয়াহাকে (খায়বারের) ইয়াহুদীদের কাছে পাঠাতেন। তিনি সেখানে গিয়ে খেজুরের পরিমাণ অনুমান করতেন। তখন তা’ মিষ্টি হত,কিন্তু খাবার উপযুক্ত হত না। (আবু দাউদ) [১]
১৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮০৯
وَعَنْ زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللّهِ قَالَتْ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ جَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বললেন,হে মেয়েরা! তোমাদের মালের যাকাত আদায় করো,অলংকার হলেও। কেননা ক্বিয়ামতের দিন তোমাদের বেশিরভাগই জাহান্নামী হবে। (তিরমিযী) [১]
১৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮১০
وروى عمرو بن شعيب عن أبيه، عن أبيه عن جده. (ذات يوم) جاءت امرأتان إلى الرسول (صلى الله عليه وسلم). وكلاهما كانا يرتديان أساور ذهبية. فقال الرسول (صلى الله عليه وسلم): وما أنت؟ هل أعطيتهم الزكاة؟ قالوا "لا". قال: أتحب أن يلبسك الله تعالى خاتمين من نار؟ قالوا "لا". ثم قال: فتصدق بهذا الذهب. (الترمذي: قال: هذا الحديث هكذا رواه مُسنة بن صباح رضي الله عنه عن عمرو بن شعيب. ومسنة بن صباح وابن لهيعة [وهو راوي هذا الحديث] ضعيفان. وليس هناك حديث صحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفعل).[1]
‘আম্র ইবনু শু’আয়ব তার পিতা হতে, তার পিতা তার দাদা হতে বর্ননা করেছেন। (একদিন) দু’জন মহিলা রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উপস্থিত হলেন। উভয়ের হাতে সোনার চুড়ি পরেছিল। রসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন তোমরা কি এগুলোর যাকাত দিয়েছ? তারা বলল “জ্বী না”। তিনি বললেন তোমরা কি চাও আল্লাহ’তাআলা (ক্বিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে দু’টি আগুনের বালা পরাবেন? তারা বলল “না”। তখন তিনি বললেন, তাহলে এ সোনার যাকাত দিয়ে দাও। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদিসটি এভাবে মুসান্না ইবনু সব্বাহ (রহঃ) ’আম্র ইবনু শু’আয়ব থেকে বর্ননা করেছেন। আর মুসান্না ইবনু সব্বাহ এবং ইবনু লাহী’আহ-কে [যিনি এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারীর ব্যপারে] দুর্বল মনে করা হয়। আর এ বিষয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোন সহীহ হাদীস বর্ণিত হয় নি।) [১]
১৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮১১
He said, I used to wear gold Awazah (the name of a kind of ornament). قلت يوما يا رسول الله! The gold ornaments and what will be considered as accumulated goods? (Which is feared in the Qur'an?) He said, That which fulfills the Nisab and gives Zakat on it. يصبح مقدسا. Then it is not counted among the accumulated wealth. (مالك، أبو داود) [1]
তিনি বলেন,আমি সোনার আওযাহ (এক রকম অলংকারের নাম) পরতাম। আমি একদিন বললাম,হে আল্লাহর রসুল! এ সোনার অলংকার ও কি সঞ্চিত মাল হিসাবে গন্য হবে? (যে ব্যাপারে কুরআনে ভয় দেখানো হয়েছে?) তিনি বললেন,যে জিনিসে নিসাব পুর্ণ হয় এবং এর যাকাত দিয়ে দেয়া হয়,তা পবিত্র হয়ে যায়। তখন তা সঞ্চিত ধন সম্পদের মধ্যে গণ্য নয়। (মালিক,আবু দাউদ) [১]
১৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮১২
وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ: أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ كَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ نُخْرِجَ الصَّدَقَةَ مِنَ الَّذِىْ نُعِدُّ لِلْبَيْعِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ব্যবসায়ের জন্য তৈরী করা মালপত্রের যাকাত আদায়ের হুকুম দিতেন। (আবু দাউদ) [১]
১৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮১৩
وعن ربيعة بن أبي عبد الرحمن رضي الله عنه عن عدة من الصحابة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أعطى بلال بن الحارث المزني منجما في مكان يقال له القبلية بفرح. ومن تلك المناجم الآن وحتى الآن لا تُجبى إلا الزكاة. (أبو داود) [1]
রবী’আহ ইবনু আবু ‘আবদুর রহ্মান (রাঃ) একাধিক সাহাবী হতে বর্ননা করেছেন যে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিল্লাল ইবনু হারিস আল মুযানীকে ‘ফারা’-তে অবস্থিত ক্বাবালিয়াহ্ নামক স্থানের খনি জায়গীর দিয়েছিলেন। সেসব খনি হতে এখন পর্যন্ত কেবল যাকাতই উসূল করা হয়। (আবু দাউদ) [১]
১৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮১৬
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: فَرَضَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثى وَالصَّغِيْرِ وَالْكَبِيْرِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوْجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلَاةِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুসলিমদের প্রত্যেক গোলাম,আযাদ,পুরুষ,নারী,ছোট-বড় সকলের জন্য এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব সদাক্বায়ে ফিত্বর ফারয্ করে দেয়েছেন। এ ‘সদাক্বায়ে ফিত্বর’ ঈদুল ফিত্বরের সলাতে বের হবার আগেই আদায় করতে হুকুম দিয়েছেন। (বুখারী,মুসলিম) [১]
২০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮১৮
وقال مرة للناس في آخر رمضان: تصدقوا بصيامكم. رسول الله (صلى الله عليه وسلم) موعد لكل مسلم، حر ورع، عبد وأسير، ذكر وأنثى، صغير وكبير. والشعير أو نصف قمح العك سا جعل صدقة الفطر فرزا. (أبو داود، النسائي) [1]
একবার তিনি রমাযানের শেষ দিকে লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমরা তোমাদের সিয়ামের সদাক্বাহ্ দাও। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের প্রত্যেক মুসলিম, স্বাধীন-অধীন, গোলাম-বাঁদী, পুরুষ-মহিলা, ছোট-বড় সকলের পক্ষে ‘এক সা’ খেজুর ও যব অথবা ‘এক সা’-এর অর্ধেক গম সদাক্বাতুল ফিত্বর ফার্য করে দিয়েছেন। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
২১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮২১
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ أَوْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عَبْدِ اللّهِ بْنِ أَبِىْ صُعَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «صَاعٌ مِنْ بُرٍّ أَوْ قَمْحٍ عَنْ كُلِّ اثْنَيْنِ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثى. أَمَّا غَنِيُّكُمْ فَيُزَكِّيهِ اللّهُ. وَأَمَّا فَقِيرُكُمْ فَيَرُدُّ عَلَيْهِ أَكْثَرَ مَا أعطَاهُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক সা’গম প্রত্যেক দু’ ব্যক্তির পক্ষ হতে। ছোট কিংবা বড়, আযাদ গোলাম, পুরুষ অথবা নারী। তোমাদের মধ্যে যে ধনী তাকে আল্লাহ এর দ্বারা পবিত্র করবেন। কিন্তু যে গরীব তাকে আল্লাহ ফেরত দেবেন, যা সে দিয়েছিল তার চেয়ে অধিক। (আবু দাউদ) [১]
২২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮২২
قال: مر النبي صلى الله عليه وسلم ذات يوم بنخلة ملقاة في الطريق. فقال (عليه السلام) حينئذ: لو لم يكن في هذا التمر زكاة أو صدقة لالتقطته وأكلته. (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন পথে পড়ে থাকা একটি খেজুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ খেজুর যাকাত বা সদাক্বাহ্ হবার সন্দেহ না থাকলে আমি উঠিয়ে খেয়ে নিতাম। (বুখারী, মুসলিম) [১]
২৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮২৭
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يَقَبِّلُ الْهَدِيَّةَ وَيُثِيْبُ عَلَيْهَا. رَوَاهُ البُخَارِيُّ
আয়েশা (রাঃ) থেকে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপহার গ্রহণ করতেন এবং তাদের পুরস্কৃত করতেন। আল-বুখারী থেকে বর্ণিত
২৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮২৯
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ليس الفقير الذي يمد الناس. فيعطونه قبضة أو اثنتين أو تمرة أو تمرتين. بل الفقير هو من لا كرامة له. ولكن من مظهره الخارجي لأن الناس لا يفهمون أنه شخص ظريف. ويمكن أن تعطى له الصدقة. كما أنه لا يستطيع التواصل مع الناس في أي شيء. (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি মিসকীন নয়,যে লোকের কাছে হাত পাতে। আর তারা তাকে এক বা দু’মুষ্টি অথবা একটি কি দু’টি খেজুর দান করে। বরং মিসকীন ওই ব্যক্তি যে কদর্পকহীন। কিন্তু তার বাহ্যিক বেশভূষার কারণে মানুষেরা বুঝতে পারে না সে মুখাপেক্ষী। তাকে সদাক্বাহ্ দেয়া যায়। আর সেও কোন কিছুর জন্য লোকদের কাছে হাত বাড়াতে পারে না। (বুখারী, মুসলিম) [১]
২৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৩০
Rasulullah (Sallallahu Alayhi Wasallam) sent a man from Bani Makhjum as a collector of Zakat. While leaving, the man said to Abu Rafi, you also go with me. سوف تحصل أيضًا على جزء منه. Abu Rafi' said, No, Messenger of Allah I cannot go without asking him. فذهب إليه. Asking him for permission to go with him, the Messenger of Allah (may peace be upon him) said: Sadaqah is not lawful for us (Bani Hashim). And The slave of any tribe is counted among them (you are our slave). (الترمذي، وأبو داود، والنسائي) [1]
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বানী মাখযুম-এর এক ব্যক্তিকে যাকাত আদায়কারী করে পাঠালেন। যাবার সময় সে ব্যক্তি আবূ রাফি’কে বলল, আপনিও আমার সাথে চলুন। এতে কিছু অংশ আপনিও পেয়ে যাবেন। আবূ রাফি’ বললেন, না, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস না করে আমি যেতে পারি না। তাই তিনি তাঁর কাছে গেলেন। তাঁকে তার সাথে যাবার অনুমতি চাইলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ সদাক্বাহ্ আমাদের (বানী হাশিমের) জন্য হালাল নয়। আর কোন গোত্রের দাস তাদের মধ্যেই গণ্য (তুমি তো আমাদেরই দাস)। (তিরমিযী,আবূ দাঊদ,নাসায়ী) [১]
২৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৩৩
وَعَنْ عُبَيْدِ اللّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ قَالَ: أَخْبَرَنِىْ رَجُلَانِ أَنَّهُمَا أَتَيَا النَّبِيَِّ ﷺ وَهُوَ فِىْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ يُقَسِّمُ الصَّدَقَةَ فَسَأَلَاهُ مِنْهَا فَرَفَعَ فِيْنَا النَّظَرَ وَخَفَضَه فَرَانَا جَلْدَيْنِ فَقَالَ: «إِنْ شِئْتُمَا أَعْطَيْتُكُمَا وَلَا حَظَّ فِيهَا لِغَنِيٍّ وَلَا لِقَوِيٍّ مُكْتَسِبٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيّ
উবায়দ আল্লাহ ইবন আদী ইবনুল খায়্যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ দু’জন ব্যক্তি আমাকে বলল যে, তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিলেন, যখন তিনি বিদায় হজ্জে ছিলেন এবং তিনি শপথ করছিলেন। দাতব্য, তাই তিনি তাকে এটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, এবং তিনি আমাদের দিকে তাকালেন এবং দুটি চামড়া দেখে বললেন: "যদি আপনি চান তবে আমি এটি আপনাকে দেব, এবং ধনী বা "একজন শক্তিশালী এবং ভাল উপার্জনকারী ব্যক্তির জন্য নয়।" আবু দাউদ ও আল-নাসায়ী বর্ণনা করেছেন
২৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৩৪
وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ مُرْسَلًا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ إِلَّا لِخَمْسَةٍ: لِغَازٍ فِىْ سَبِيلِ اللّهِ أَوْ لِعَامِلٍ عَلَيْهَا أَوْ لِغَارِمٍ أَوْ لِرَجُلٍ اشْتَرَاهَا بِمَالِه أَوْ لِرَجُلٍ كَانَ لَه جَارٌ مِسْكِينٌ فَتَصَدَّقَ عَلَى الْمِسْكِينِ فَأَهْدَى الْمِسْكِيْنُ لِلْغَنِيِّ». رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَبُوْ دَاوُدَ
‘আত্বা ইবনু ইয়াসার মুরসাল পদ্ধতিতে বর্ননা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ধনী লোকের জন্য যাকাতের মাল হালাল নয়। তবে পাঁচ অবস্থায় (১) আল্লাহর পথে জিহাদকারী ধনী [যখন কাছে যুদ্ধ সরঞ্জাম নেই] (২) যাকাত আদায়ে নিযুক্ত ধনী, (৩) জরিমানার হুকুমপ্রাপ্ত ধনী [যা তাকে পরিশোধ করতে হবে। অথচ ঐ সময় এ পরিমাণ সম্পদ তার নেই], (৪) নিজ মালের পরিবর্তে যাকাতের মাল ক্রয়কারী ধনী, (৫) আর ওই ধনীর জন্যও হালাল, যার প্রতিবেশী যাকাতের মাল পেয়ে প্রতিবেশী ধনী ব্যক্তিকে কিছু তোহফা দিয়েছে। (মালিক,আবূ দাঊদ) [১]
২৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৩৮
عَنْ قَبِيْصَةِ بْنِ مُخَارِقٍ الْهِلَالِىْ قَالَ: تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ أَسْأَلُه فِيهَا. فَقَالَ: «أَقِمْ حَتَّى تَأْتِيْنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا» . قَالَ ثُمَّ قَالَ: «يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِأَحَدِ ثَلَاثَةٍ رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ اجْتَاحَتْ مَالَه فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتّى يَقُوْمَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجى مِنْ قَوْمِه. لَقَدْ أَصَابَتْ فُلَانًا فَاقَةٌ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ فَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَة يَا قَبِيْصَةٌ سُحْتًا يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
কুবাইসা বিন মুখারিক আল-হিলালীর সূত্রে, তিনি বলেন: আমি একটি বোঝা বহন করে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসেছিলাম, তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য। তিনি বললেনঃ দাতব্য আমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত অবস্থান কর এবং আমরা তোমাদের জন্য আদেশ করব। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে কুবাইসা, স্ট্রেচার বহনকারী তিনজনের একজন ব্যতীত বিষয়টি জায়েয নয় এবং এটি তার জন্য জায়েয ছিল। সমস্যাটি সমাধান করা হয় যতক্ষণ না সে এটিকে কষ্ট দেয়, তারপর সে এমন একজন ব্যক্তিকে ধরে যে মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছিল যা তার সম্পদ ধ্বংস করেছিল, তাই তার জন্য সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছিল যতক্ষণ না সে জীবনযাপনের একটি উপায়ে কষ্ট দেয়, বা তিনি বলেন। একজন ব্যক্তি দারিদ্রে ভুগছেন, যতক্ষণ না তার তিনজন মানুষ জেগে ওঠে। অমুক ব্যক্তির সাথে একটি খারাপ ঘটনা ঘটেছিল এবং এটি তার জন্য জায়েয ছিল। যতক্ষণ পর্যন্ত না কেউ একজনের জীবিকা অর্জন করে বা বলুন, একজনের পূর্ণ পরিমাণ জীবিকা না পাওয়া পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করা, তাহলে হে কাবিসাহ, একটি হারাম জিনিস যা এর মালিক অবৈধভাবে খায় তা ছাড়া আর কোন সমস্যা নেই। . মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
২৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৩৯
He said, Rasulullah (Sallallahu Alayhi Wasallam) said: He who seeks from people to increase his wealth, surely desires (Hell) fire. (بعد أن علم ذلك) فليسأل أقل أو أكثر. (مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করার উদ্দেশে মানুষের কাছে চেয়ে বেড়ায়, সে নিশ্চয় (জাহান্নামের) আগুন কামনা করে। (এটা জানার পর) সে কম বা অধিক চাইতে থাকুক। (মুসলিম) [১]
৩০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৪১
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «لَا تُلْحِفُوا فِي الْمَسْأَلَةِ فوَاللّه لَا يَسْأَلُنِىْ أَحَدٌ مِنْكُمِ شَيْئًا فَتُخْرِجَ لَه مَسْأَلَتُه مِنِّي شَيْئًا وَأَنَا لَه كَارِهٌ فَيُبَارَكَ لَه فِيمَا أَعْطَيْتُه» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
মুয়াবিয়ার কর্তৃত্বে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কোন প্রশ্নে দ্বিধাগ্রস্ত হবেন না, কারণ আল্লাহর কসম, তোমাদের কেউ আমার কাছে কিছু চাইবে না এবং আমার কাছ থেকে তার অনুরোধ তার কাছে পৌঁছে যাবে।" এবং আমি এটি ঘৃণা করি, তাই আমি তাকে যা দিয়েছি তার জন্য আমি তাকে আশীর্বাদ করব।" মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
৩১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৪২
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يربط أحدكم حزمة من خشب بحبل، فيحملها على ظهره، فيبيعها». إنه ليس مجرد وسيلة راحة راتنج (لا يوجد خيار آخر). وهذا العمل خير للناس من الأيدي. قد يعطيه الناس شيئًا أو لا. (البخاري) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ এক আঁটি লাকড়ি রশি দিয়ে বেঁধে পিঠে বহন করে এবং তা বিক্রি করে। আল্লাহ তা’আলা এ কাজের দ্বারা তার ইয্যত সম্মান বহাল রাখেন (যা ভিক্ষা করার মাধ্যমে চলে যায়)। এ কাজ মানুষের কাছে হাত পাতা অপেক্ষা তার জন্য অনেক উত্তম। মানুষ তাকে কিছু দিতে পারে আবার নাও দিতে পারে। (বুখারী) [১]
৩২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৪৪
He said, Rasulullah (may peace be upon him) mentioned standing on the pulpit and refraining from giving charity and laying hands (to people). وقيل: اليد العليا خير من اليد السفلى. The upper hand is the giver and the lower hand is the receiver (beggar). (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে সদাক্বাহ্ এবং (মানুষের কাছে) হাত পাতা হতে বিরত থাকার বিষয়ে উল্লেখ করে। তিনি বলেন, উপরের হাত নীচের হাত অপেক্ষা উত্তম। উপরের হাত দাতা আর নীচের হাত গ্রহীতা (ভিক্ষুক)। (বুখারী, মুসলিম) [১]
৩৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৪৫
He said, (One day) some Ansar people asked the Messenger of Allah (may peace be upon him) for something. He (peace and blessings of Allah be upon him) gave them something and if they asked again, he gave it again. وحتى ما كان لديه قد ذهب. Then he said, "The wealth that comes to me, I will not save you and make a pile of wealth." Remember that the person who refrains from asking people, Allah saves him from being in front of people. لا تواجه الناس. And whoever is greedy for other people's wealth, Allah is greedy for him. الشخص الذي ينتظر بفارغ الصبر؛ نسأل الله له القوة على الصمود. Remember, giving something is better and wider than patience not done (Bukhari, Muslim) [1]
তিনি বলেন, (একদিন) কিছু আনসার ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু চাইলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে কিছু দিলেন তারা আবার চাইলে তিনি আবারো দিলেন। এমনকি তাঁর কাছে যা ছিল তা শেষ হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, আমার কাছে যে সম্পদ আসবে তা আমি তোমাদেরকে না দিয়ে বাঁচিয়ে রেখে ধনের স্তুপ বানিয়ে রাখব না। মনে রাখবে, যে ব্যক্তি মানুষের কাছে চাওয়া হতে বিরত থাকে, আল্লাহ তা’আলা তাঁকে মানুষের মুখাপেক্ষী হওযা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন, তাকে মানুষের মুখাপেক্ষী করেন না। আর যে ব্যক্তি অপরের সম্পদের অমুখাপেক্ষী হয়, আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করেন। যে ব্যক্তি সবরের প্রত্যাশী হয়; আল্লাহ তাকে ধৈর্য্যধারণের শক্তি দান করেন। মনে রাখবে, সবরের চেয়ে বেশী উত্তম ও প্রশস্ত আর কোন কিছু দান করা হয়নি। (বুখারী, মুসলিম) [১]
৩৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৪৭
He said, Rasulullah (Sallallahu Alaihi Wasallam) said: To others, hand-to-hand is a disease, with which a person infects his face. الشخص الذي يريد أن يحافظ على (كرامته) سليمة يجب أن يشعر بالخجل (أن يضع يديه)، ويحمي. والشخص الذي لا يريد أن يحافظ على (كرامته) سليمة يمكن أن يفقد قيمته الخاصة ليكتسب يدًا من الناس. لكن يمكن للناس التواصل مع سلطات الدولة. or will ask (of someone) something at a time when it is very necessary to ask. (أبو داود، الترمذي، النسائي) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: পরের কাছে হাত পাতা একটি রোগ, যার দ্বারা মানুষ নিজের মুখকে রোগাক্রান্ত করে। যে ব্যক্তি (নিজের মান সম্মান) অক্ষুণ্ন রাখতে চায় সে যেন (হাত পাততে) লজ্জা অনুভব করে, মান ইয্যত রক্ষা করে। আর যে ব্যক্তি (মান ইয্যত) অক্ষুণ্ন রাখতে চায় না সে মানুষের কাছে হাত পেতে নিজের মান সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত করতে পারে। তবে মানুষ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হাত পাততে পারে। অথবা এমন সময়ে (কারো কাছে) কিছু চাইবে যা চাওয়া খুবই প্রয়োজন। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী) [১]
৩৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৪৮
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: من سَأَلَ النَّاسَ وَلَه مَا يُغْنِيهِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَسْأَلَتُه فِي وَجْهِه خُمُوْشٌ أَوْ خُدُوْشٌ أَوْ كُدُوْحٌ» . قِيلَ يَا رَسُولَ اللّهِ وَمَا يُغْنِيهِ؟ قَالَ: «خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذَّهَبِ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُ
তিনি বলেন, রাসুলুললাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও মানুষের নিকট হাত পাতে , তাকে ক্বিয়ামাতের দিন এ অবস্থায় উঠানো হবে যে, এ অভ্যাস তার মুখের উপর ‘খুমূশ’ ‘খুদূশ’ অথবা ‘কুদূহ’ রূপে প্রকাশ পাবে। নিবেদন করা হলো , হে আল্লাহর রসূল ! কি পরিমান সম্পদ তাকে অমুখাপেক্ষী করবে? তিনি বললেন, পঞ্চাশ দিরহাম অথবা এ মূল্যের সোনা। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]
৩৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৫০
وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ بَنِىْ أَسَدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ سَأَلَ مِنْكُمْ وَلَه أُوقِيَّةٌ أَوْ عَدْلُهَا فَقَدْ سَأَلَ إِلْحَافًا» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيُّ
যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এক উক্বিয়্যাহ্ পরিমাণ (অর্থাৎ চল্লিশ দিরহাম) অথবা এর সমমূল্যের (সোনা ইত্যাদি ) মালিক হওয়ার পরও মানুষের কাছে হাত পাতে, সে যেন বিনা প্রয়োজনে (মানুষের কাছে) হাত পাতল। (মালিক, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী) [১]
৩৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৫১
فقال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يحل لغني صحيح سليم الأعضاء أن يسأل أحدا شيئا. ولكن يحل للفقير الذي وقع على الأرض من الجوع والعطش. هذه هي الطريقة التي يكون بها هات باتا حلالًا مسموحًا به أيضًا للمدين المثقل بالديون الثقيلة. وتذكر أن من طلب قرضاً من الناس ليزداد ماله الطيب، فإن طلبه سيظهر على وجهه علامة الأذى يوم القيامة. علاوة على ذلك، سيتم إعطاء الحجارة الساخنة كطعام له في الجحيم. لذلك، من يريد، فليلمس أقل أو يلمس أكثر. (الترمذي) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কারো কাছে কিছু চাওয়া ধনী, সুস্থ সবল ও সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পন্ন লোকের জন্য হালাল নয়। তবে ঐ ফকিরের জন্য তা হালাল, যে ক্ষুধা পিপাসার কারনে মাটিতে পড়ে গেছে। এভাবে ওই ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্যও হাত পাতা হালাল যে ভারী ঋণের বোঝায় জর্জরিত। মনে রাখবে যে ব্যক্তি শূধু সম্পত্তি বাড়াবার জন্য মানুষের কাছে ঋণ চায়, তার এ চাওয়া ক্বিয়ামতের দিন আহতের চিহ্নরূপে তার মুখে ভেসে উঠবে। তাছাড়াও জাহান্নামে তার খাদ্য হিসেবে গরম পাথর দেয়া হবে। অতএব যার ইচ্ছা সে কম হাত পাতুক অথবা বেশী হাত পাতুক। (তিরমিযী) [১]
৩৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৫৩
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من كانت له حاجة شديدة، إذا أظهر رغبته في قضاء حاجته بين الناس، لم تنزاح هذه الحاجة. ومن حدث افتقاره إلا إلى الله كفاه الله إما أن يعتقنه من الفقر بالموت المبكر أو يغنيه في أيام قليلة. (أبو داود، الترمذي) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কঠিন অভাবে জর্জরিত, সে মানুষের সামনে প্রয়োজন পূরনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে এ অভাব দূর হবেনা। আর যে ব্যক্তি তার অভাবের কথা শুধু আল্লাহর কাছে বলে, আল্লাহই তার জন্য যথেস্ট। হয় তাকে তাড়াতাড়ি মৃত্যু দিয়ে অভাব থেকে মুক্তি দিবেন অথবা তাকে কিছুদিনের মধ্যে ধনী বানিয়ে দিবেন। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী) [১]
৩৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৫৪
قال: قال (أبي) الفراسي (رضي الله عنه): ناشدت رسول الله (صلى الله عليه وسلم)، يا رسول الله! هل يمكنني التواصل مع الناس؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لا. (وليس دائما) توكل على الله. ولكن إذا كان لا بد من طلب شيء (لحاجة ماسة)، فاطلب من شخص صالح. (أبو داود، النسائي) [1]
তিনি বলেন, (আমার পিতা) ফিরাসী(রাঃ) বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি মানুষের কাছে হাত পাততে পারি? নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, না। (বরং সর্বাবস্থায়) আল্লাহর উপর ভরসা করবে। তবে (কোন কঠিন প্রয়োজনে) কিছু চাওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়লে নেক মানুষের কাছে চাইবে। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
৪০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৫৬
أنه سمع رجلا يوم عرفة يسأل الناس شيئا ليضعوا أيديهم عليه. فقال له فهل تمس في هذا اليوم في هذا المكان أحدا غير الله؟ ثم جلده. (مطر)
তিনি ‘আরাফার দিন এক ব্যক্তিকে লোকজনের কাছে হাত পেতে কিছু চাইতে শুনলেন। তিনি তাকে বললেন, আজকের এই দিনে এই জায়গায় তুমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে হাত পাতছো? তারপর তিনি তাকে চাবুক দিয়ে মারলেন। (রযীন)
৪১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৫৮
وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ يَكْفُلُ لِي أَنْ لَا يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا فَأَتَكَفَّلَ لَه بِالْجَنَّةِ؟» فَقَالَ ثَوْبَانُ: أَنَا فَكَانَ لَا يَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার বলেছেন, যে আমার সাথে এ ওয়া‘দা করবে যে, সে কারো কাছে ভিক্ষার হাত বাড়াবে না। আমি তার জন্য জান্নাতের ওয়া‘দা করতে পারি। সাওবান বলেন, আমি। ফলে তিনি কারো কাছে কোন কিছু চাইতেন না (বস্ততঃ সাওবান যত অভাবেই থাকুন, কারো কাছে আর কোনদিন হাত পাতেননি) [১]
৪২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৫৯
قال: دعاني رسول الله صلى الله عليه وسلم (ذات يوم) فشرط علي، فقال: «لا تمس أحدا بشيء». قلت حسنا. ثم قال حتى العصا التي في يدك إذا وقعت لترفع أحدا فلا تقل بل تنزل وتلتقطها بنفسك. (أحمد) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (একদিন) ডেকে এনে আমার ওপর শর্তারোপ করে বললেন, তুমি কারো কাছে কোন কিছুর জন্য হাত পাতবে না। আমি বললাম, আচ্ছা। তারপর তিনি বললেন, এমনকি তোমার হাতের লাঠিটাও যদি পড়ে যায় কাউকে উঠিয়ে দিতে বলবে না। বরং তুমি নিজে নেমে তা উঠিয়ে নেবে।(আহমাদ) [১]
৪৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৬০
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لو كان لي مثل جبل أحد ذهباً لفرحت أن لا يودعني ثلاثة أيام إلا الدين. (البخاري) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার কাছে যদি উহুদ পাহাড় সমান সোনাও থাকে, ঋণের অংশ বাদে তা তিনদিন আমার কাছে জমা না থাকলেই আমি খুশি হব।(বুখারী) [১]
৪৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৬১
He said, Rasulullah (may peace be upon him) said: Every morning two angels descend (from the sky). أحدهم يقول: "اللهم! رد الجميل لفاعل الخير. ولعن الملك الثاني يا الله! ضرر البخيل (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্রতিদিন ভোরে (আকাশ থেকে) দু’জন মালাক (ফেরেশতা) নেমে আসে। এদের একজন দু’আ করে ‘হে আল্লাহ! দানশীলকে তুমি বিনিময় দাও। আর দ্বিতীয় মালাক এ বদদু‘আ করে, হে আল্লাহ! কৃপণকে ক্ষতিগ্রস্ত করো। (বুখারী, মুসলিম) [১]
৪৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৬২
He said, Rasulullah (may peace be upon him) said: Spend (in the way of Allah). ولكن لا تنفق الكثير. ثم سيجزيك الله خيرا كثيرا. لا تخزنها. ثم سيحفظه الله تعالى. القدرة على الإنفاق وفقا لذلك في سبيل الله. (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (আল্লাহর রাস্তায়) খরচ করো। কিন্ত গুনে গুনে খরচ করো না। তাহলে আল্লাহ তোমাকে গুনে গুনে (নেকি) দিবেন। তোমরা জমা করে রেখ না। তাহলে আল্লাহ তা’আলা জমা করে রাখবেন। সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর পথে খরচ করো। (বুখারী, মুসলিম) [১]
৪৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৬৫
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مثل البخيل والمتصدق كمثل رجلين فيهما حديدان. And (because of this) the hands of these two hang from their chests to their necks. In this situation When a charitable person wants to donate, his shackles are extended. Even the fingers of his hand are covered and his mark is erased. When a miser wants to give, his shackles are narrowed and each of its bars is stuck together in its own place. يذهب (البخاري ومسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এমন দু‘ব্যক্তির মতো যাদের শরীরে দু‘টি লোহার পোশাক রয়েছে। আর (এটার কারণে) এ দু‘জনের হাত তাদের সিনা হতে গর্দান পর্যন্ত লটকে আছে। এ অবস্থায় দানশীল ব্যক্তি যখন দান করতে চায় তখন তার বেড়ি সম্প্রসারিত হয়। এমনকি তাঁর হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত আবৃত করে ফেলে এবং তার চিহ্ন মিটে যায়। কৃপণ ব্যক্তি দান করতে চাইলে তার বেড়ি সংকুচিত হয়ে এর প্রত্যেকটি কড়া নিজ নিজ স্থানে একটা আরেকটার সাথে আটকে যায়। (বুখারী, মুসলিম) [১]
৪৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৬৬
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «اتَّقُوا الظُّلْمَ فَإِنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاتَّقُوا الشُّحَّ فَإِنَّ الشُّحَّ أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ: حَمَلَهُمْ عَلى أَنْ سَفَكُوا دِمَاءَهُمْ وَاسْتَحَلُّوا مَحَارِمَهُمْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অন্যায় থেকে সাবধান হও, কেননা কিয়ামতের দিন অন্যায় অন্ধকার হবে এবং কৃপণতা থেকে সাবধান হও, কেননা কৃপণতা তাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আপনার আগে: তিনি তাদের রক্তপাত করতে বাধ্য করেছেন এবং তারা যা হালাল করেছেন তা হালাল করেছেন। মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
৪৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৭২
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَثَلُ الَّذِىْ يَتَصَدَّقُ عِنْدَ مَوْتِه أَوْ يُعْتِقُ كَالَّذِي يُهْدِىْ إِذَا شَبِعَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুর দুয়ারে এসে দান সদাক্বাহ্ অথবা গোলাম আযাদ করে তার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মতো, যে কাউকে পেট ভরা অবস্থায় (তুহফা, হাদিয়্যাহ্, খাবার) দান করে। (তিরমিযী, নাসায়ী, দারিমী; ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।) [১]
৪৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৭৫
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن من الطبع الذي في الإنسان طبيعتان هما فطرتان. الأول هو الجشع المخدر، والثاني هو الجبن المرعب. (أبو داود) [١] وسنروي أبونا حديث هريرة (رضي الله عنه) في باب الجهاد.
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মানুষের মধ্যে যেসব স্বভাব পাওয়া যায় তার মধ্যে দু'টো স্বভাব সবচেয়ে গর্হিত। একটি হলো চিত্ত অস্থিরকারী কৃপণতা, আর দ্বিতীয়টা হলো ভীতিকর কাপুরুষতা। (আবূ দাঊদ) [১]\nআর আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি [আরবী] জিহাদ অধ্যায়ে আমরা বর্ণনা করব।
৫০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৮৮০
He said, I offered to the Messenger of Allah (may peace be upon him), O Messenger of Allah! When the poor man comes to my door (and asks for something from me) I am very ashamed, because I have nothing in my house to give him. Messenger of Allah (Peace be upon him) said, Give him something, even if it is a hoof scorched by fire. (أحمد، وأبو داود، والترمذي) [1]
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট নিবেদন করলাম, হে আল্লাহ্র রসূল! মিসকীন আমার দরজায় এসে দাঁড়ালে (এবং আমার কাছে কিছু চায়) তখন আমি খুবই লজ্জা পাই, কারণ তাকে দেবার মত আমার ঘরে কিছু পাই না। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তার হাতে কিছু দিও, যদি তা আগুনে ঝলসানো একটি খুরও হয়। (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিজী) [১]