অধ্যায় ১১
অধ্যায়ে ফিরুন
১৪৫ হাদিস
০১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫০৭
[Abu Hurayrah (RA)]
قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي العمل أفضل؟ قال (عليه السلام): إيمان بالله ورسوله. وسئل مرة أخرى، ثم ما أمل؟ قال صلى الله عليه وسلم: الجهاد في سبيل الله. سأل مرة أخرى، أي واحد؟ قال (صلى الله عليه وسلم): «الحج المبرور» يعني: الحج المبرور. (البخاري ومسلم) [1]
তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ ‘আমাল সর্বোত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, তারপরে কোন্ ‘আমাল? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা। আবারও জিজ্ঞেস করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘হজ্জে মাবরুর’ অর্থাৎ- কবূলযোগ্য হজ্জ। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
০২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫০৯
[Abu Hurayrah (RA)]
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ليس إلا الجنة كفارة لما بين العمرة والعمرة. (البخاري ومسلم) [1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক ‘উমরা হতে অপর ‘উমরা পর্যন্ত সময়ের জন্য (গুনাহের) কাফফারাহ স্বরূপ আর কবূলযোগ্য হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ব্যতীত আর কিছু নয়। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
০৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫১০
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ عُمْرَةً فِىْ رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: রমজানে ওমরাহ হজ্জের সমতুল্য। (সম্মত)
০৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫১১
['Abdullah ibn 'Abbas (RA)]
فقال: (أنا) يا رسول الله! فحملت امرأة طفلاً فقالت: (يا رسول الله! ما الحج له؟) قال (عليه السلام): نعم، ولكن لك أجر. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হজের সফরে) ‘রওহা’ নামক জায়গায় এক আরোহী দলের সাক্ষাৎ পেলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? তারা বললো, ‘আমরা মুসলিম’। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলো, ‘আপনি কে?’ তিনি বললেন, (আমি) আল্লাহর রসূল! তখন একজন মহিলা একটি শিশুকে উঠিয়ে ধরলেন এবং বললেন, (হে আল্লাহর রসূল!) এর কি হজ্জ হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ, তবে সাওয়াব হবে তোমার। (মুসলিম)[১]
০৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫১৪
['Abdullah ibn 'Abbas (RA)]
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يخلون رجل بامرأة في مكان واحد، ولا تسافر امرأة وحدها إلا ذو محرمها. فسأل رجل يا رسول الله! اسمي مكتوب في حرب كذا وكذا. وزوجتي خرجت للحج وحدها. فقال (عليه السلام): اذهب فحج مع امرأتك. (البخاري ومسلم) [1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন পুরুষ যেন কক্ষনো কোন স্ত্রীলোকের সাথে এক জায়গায় নির্জনে একত্র না হয়, আর কোন স্ত্রীলোক যেন কক্ষনো আপন কোন মাহরাম ব্যতীত একাকিনী সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! অমুক অমুক যুদ্ধে আমার নাম লেখানো হয়েছে। আর আমার স্ত্রী একাকিনী হজ্জের উদ্দেশে বের হয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যাও তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্জ করো। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
০৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫১৭
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: وَقَّتَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ: ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلِأَهْلِ الشَّامِ: الْجُحْفَةَ وَلِأَهْلِ نَجْدٍ: قَرْنَ الْمَنَازِلِ وَلِأَهْلِ الْيَمَنِ: يَلَمْلَمَ فَهُنَّ لَهُنَّ وَلِمَنْ أَتٰى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ لِمَنْ كَانَ يُرِيدُ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَمَنْ كَانَ دُونَهُنَّ فَمُهَلُّه مِنْ أَهْلِه وَكَذَاكَ وَكَذَاكَ حَتّٰى اَهْلُ مَكَّةَ يُهِلُّوْنَ مِنْهَا. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তাদের ব্যতীত, তাকে তার পরিবার থেকে একটি সময় দেওয়া হয় এবং অমুক-অমুক, অমুক-অমুক, এমনকি মক্কাবাসীদেরও তা থেকে একটি সময় দেওয়া হয়। (সম্মত)
০৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫১৮
জাবির (রাঃ)
وَعَنْ جَابِرٍ عَنْ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: «مُهَلُّ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِنْ ذِى الْحُلَيْفَةِ وَالطَّرِيقُ الْاٰخَرُ الْجُحْفَةُ وَمُهَلُّ أَهْلِ الْعِرَاقِ مِنْ ذَاتِ عِرْقٍ وَمُهَلُّ أَهْلِ نَجْدٍ قَرْنٌ وَمُهَلُّ أَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمُ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মাদীনাবাসীদের মীকাত হলো ‘যুলহুলায়ফাহ্’। অন্য পথে (সিরিয়ার পথে) প্রবেশ করলে ‘জুহফাহ্’, ইরাকবাসীদের মীকাত হলো ‘যা-তু ‘ইরক্ব’ এবং নাজদবাসীদের মীকাত হলো ‘ক্বরনুল মানাযিল’ এবং ইয়ামানবাসীদের মীকাত হলো ‘ইয়ালাম্‌লাম্। (মুসলিম)[১]
০৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫১৯
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: اعتمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أربع مرات. وأدى كل عمرة إلا الحج في شهر ذو القعد. اعتمر عمرة من مكان يقال له الحديبية في شهر زيلكاد، وعمرة أخرى.
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোট চারবার ‘উমরা পালন করেছেন। হজ্জের সাথে ‘উমরা ছাড়া প্রত্যেকটি ‘উমরা পালন করেছেন যিলকদ মাসে। এক ‘উমরা করেছেন হুদায়বিয়াহ্ নামক স্থান হতে যিলকদ মাসে (আগমনকারী বৎসরে), আর এক ‘উমরা করেছেন জি‘রানাহ্ নামক স্থান থেকে, যেখানে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হুনায়ন যুদ্ধেলব্ধ গনীমাতের মাল বণ্টন করেছিলেন যিলকদ মাসে। আর এক ‘উমরা তিনি পালন করেছেন (দশম হিজরীতে তাঁর বিদায়) হজ্জের মাসে। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
০৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫২৭
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ مَا يُوجِبُ الْحَجَّ؟ قَالَ: الزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْن مَاجَهْ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! কিসে (কোন বস্ত্ততে) হজ্জ ফরয করে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পথ খরচ ও বাহনে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[১]
১০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫২৮
['Abdullah ibn 'Umar (RA)]
قال: سأل رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم من الحاج؟ قال (صلى الله عليه وسلم): الرجل (للإحرام) يكون له شعر نث، وأنف بدنه. ثم وقف شخص آخر وسأل: مرحبًا
তিনি বলেন, এক লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, হাজী কে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে লোকের (ইহরাম বাঁধার জন্য) অগোছালো চুল এবং সুগন্ধিহীন শরীর। এরপর অপর ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! কোন্ হজ্জ উত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘লাব্বায়কা’ বলার সাথে আওয়াজ সুউচ্চ করা এবং (কুরবানীর) রক্ত প্রবাহিত করা। তারপর অপর (তৃতীয়) ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! কুরআনে বর্ণিত ‘সাবীল’ (সামর্থ্য রাখে)-এর অর্থ কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, পথের খরচ ও বাহন। [ইমাম বাগাবী (রহঃ) শারহুস্ সুন্নাহ-তে এবং ইবনু মাজাহ তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি শেষের অংশ বর্ণনা করেননি।][১]
১১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫২৯
আবূ রযীন আল উক্বায়লী
وجاء مرة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! والدي كبير في السن، ولا يستطيع الحج والعمرة، ولا يستطيع الجلوس في عربة. فقال صلى الله عليه وسلم: تحج عن أبيك وتعتمر. [الترمذي وأبو داود والنسائي؛ قال الإمام الترمذي (رضي الله عنه): الحديث حسن صحيح (١).
তিনি একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা অতিশয় বৃদ্ধ, হজ্জ ও ‘উমরা করার সামর্থ্য রাখে, না বাহনে বসতে পারেন না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তোমার পিতার পক্ষ হতে হজ্জ ও ‘উমরা করে দাও। [তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী; ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ][১]
১২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৩০
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ سَمِعَ رَجُلًا يَقُولُ لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ قَالَ: «مَنْ شُبْرُمَةُ؟» قَالَ: أَخٌ لِىْ أَوْ قَرِيبٌ لِىْ قَالَ: أَحَجَجْتَ عَنْ نَفْسِكَ؟ قَالَ: لَا قَالَ: «حُجَّ عَنْ نَفْسِكَ ثُمَّ حُجَّ عَنْ شُبْرُمَةَ». رَوَاهُ الشَّافِعِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, আমি শুব্রম্নমাহ্’র পক্ষ হতে (হজ্জ/হজ পালনের উদ্দেশে) উপস্থিত হয়েছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, শুব্রম্নমাহ্ কে? সে বললো, আমার ভাই অথবা বললো, আমার নিকটাত্মীয়। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি নিজের হজ্জ করেছো কি? সে বললো, জি না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে (প্রথমে) নিজের হজ্জ করো। পরে শুবরুমাহ্’র পক্ষ হতে হজ্জ করবে। (শাফি‘ঈ, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
১৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৩২
আয়েশা (রাঃ)
فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم جعل جاتو يركب ميقاتا لأهل العراق. (أبو داود والنسائي)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইরাকবাসীদের জন্য ‘‘যাতু ‘ইরক্ব’’-কে মীকাত নির্ধারণ করেছেন। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[১]
১৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৩৩
উম্মু সালামা (রাঃ)
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: مَنْ أَهَلَّ بِحَجَّةٍ أَوْ عُمْرَةٍ مِنَ الْمَسْجِدِ الْأَقْصٰى إِلَى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه وَمَا تَأَخَّرَ أَوْ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মাসজিদে আক্বসা থেকে মাসজিদে হারামের দিকে হজ্জ বা ‘উমরার ইহরাম বাঁধবে তার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। অথবা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তার জন্যে জান্নাত অবধারিত হবে। (আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]
১৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৩৬
Abu Umamah
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من سافر إلى الموت ولم يحج إلا من حاجة ظاهرة، أو إعاقة من جائر، أو من مرض قاتل، فليمت يهوديا أو نصارى (الدارمي)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সুস্পষ্ট অভাব অথবা অত্যাচারী শাসকের বাধা, অথবা সাংঘাতিক রোগে আক্রান্ত হওয়া ছাড়া হজ্জ পালন না করে মৃত্যুপথে যাত্রা করেছে, সে যেন মৃত্যুবরণ করে ইয়াহূদী হয়ে অথবা নাসারা হয়ে। (দারিমী)[১]
১৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৩৮
[Abu Hurayrah (RA)]
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: وفد الله أو ضيوفه ثلاثة. غازي (مشارك في الكفاح المسلح من أجل الإسلام)، الحاج والعمرة الولي (النسائي والبيهقي-شعبول في الإيمان)[1]
তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহর প্রতিনিধি বা মেহমান হলো তিন ব্যক্তি। গাযী (ইসলামের জন্যে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী), হাজী ও ‘উমরা পালনকারী। (নাসায়ী ও বায়হাক্বী- শু‘আবুল ঈমান-এ রয়েছে)[১]
১৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৪১
আয়েশা (রাঃ)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ لِإِحْرَامِه قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ وَلِحِلِّه قَبْلَ أَنْ يَطُوفَ بِالْبَيْتِ بِطِيبٍ فِيهِ مِسْكٌ كَأَنِّىْ أَنْظُرُ إِلٰى وَبِيصِ الطِّيبِ فِىْ مَفَارِقِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ وَهُوَ مُحْرِمٌ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুগন্ধি লাগাতাম, তিনি ইহরাম বাঁধার আগে ইহরাম বাঁধতেন এবং প্রদক্ষিণ করার আগে তা গলিয়ে ফেলতাম। কস্তুরীযুক্ত সুগন্ধিযুক্ত ঘরে, যেন আমি ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্ধিস্থলে সুগন্ধির ঝলকানি দেখছি। (সম্মত)
১৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৪৫
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: كنت جالساً في الخلف مع أبي طلحة في نفس الركوب، والصحابة يلبيون الحج والعمرة مجتمعين. (البخاري)[1]
তিনি বলেন, আমি একই সওয়ারীতে আবূ ত্বলহাহর সাথে পিছনে বসেছিলাম, তখন সাহাবীগণ সম্মিলিতভাবে হজ্জ ও ‘উমরার জন্যে উচ্চস্বরে তালবিয়াহ্ পাঠ করছিলেন। (বুখারী)[১]
১৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৪৬
আয়েশা (রাঃ)
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَأَهَلَّ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ بِالْحَجِّ فَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ فَحَلَّ وَأَمَّا مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ أَوْ جَمَعَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَلَمْ يَحِلُّوْا حَتّٰى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বিদায় হজ্জের বছরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে কেউ হজ ও ওমরার যোগ্য এবং আমাদের মধ্যে কেউ হজ ও ওমরার যোগ্য ছিল। যে ব্যক্তি হজের জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তিনি হজের জন্য যোগ্য হয়েছেন, তারপর যে ব্যক্তি ওমরার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছে তার জন্য জায়েজ, এবং যে ব্যক্তি হজ বা সম্মিলিত হজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং কোরবানির দিন না আসা পর্যন্ত ওমরাহ জায়েজ ছিল না। (সম্মত)
২০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৫০
খল্লাদ ইবনুস্ সায়িব
رواه عن أبيه (صائب). قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أتاني جبريل (عليه السلام) فأمرني أن آمر أصحابي بالتلبية. (مالك والترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجه والدارمي[1]
তার পিতা (সায়িব) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমার কাছে এসে আমাকে নির্দেশ দিলেন যে, আমি যেন আমার সাহাবীগণকে উচ্চস্বরে তালবিয়াহ্ পাঠ করতে আদেশ করি। (মালিক, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[১]
২১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৫১
সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا لبى المسلم لبى على ما عن يمينه وشماله من حجارة أو شجر أو تربة. وحتى من هنا إلى هنا وهناك (شرقًا وغربًا) إلى أقصى الأرض. (الترمذي وابن ماجه) [1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিম যখন তালবিয়াহ্ পাঠ করে, তখন তার সাথে সাথে তার ডান বামে যা কিছু আছে- পাথর, গাছ-গাছড়া কিংবা মাটির ঢেলা তালবিয়াহ্ পাঠ করে থাকে। এমনকি এখান থেকে এদিক ও ওদিকে (পূর্ব ও পশ্চিমের) ভূখগুের শেষ সীমা পর্যন্ত। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[১]
২২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৫৪
জাবির (রাঃ)
قال: وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أراد الحج أعلن ذلك في الناس. لذلك اجتمع الناس في مجموعات. وأحرم (بالحج) عندما وصل إلى المكان الذي يسمى البيضاء. (البخاري)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হজ্জ পালনের ইচ্ছা পোষণ করলেন, তখন মানুষের মধ্যে ঘোষণা করে দিলেন। তাই লোকেরা দলে দলে সমবেত হলো। তিনি ‘বায়দা’ নামক জায়গায় পৌঁছলে (হজের জন্য) ‘ইহরাম’ বাঁধলেন। (বুখারী)[১]
২৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৫৫
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
قال: كان المشركون يهللون: لبيك لا شريك لك. فيقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ويلكم، كفوا، كفوا) (ولا تتقدموا، (لكنهم تحركوا سريعا) إن شريكك أنت المالك وأنت مالك ما يملكون، وكانوا (المشركين) يقولون هذا ويطوفون ببيت الله. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, মুশরিকরা তালবিয়াহ্ পাঠে বলতো, ‘‘লাব্বায়কা লা- শারীকা লাকা’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমরা উপস্থিত। তোমার কোন শারীক নেই।)। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ‘‘তোমাদের সর্বনাশ হোক, থামো থামো (আর অগ্রসর হয়ো না, কিন্তু তারা দ্রুত বেগে চলতো) অবশ্য যে শারীক তোমার আছে, যার মালিক তুমি এবং তারা যে জিনিসের মালিক তারও তুমি মালিক। তারা (মুশরিকরা) এ কথা বলতো আর বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতো। (মুসলিম)[১]
২৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৫৯
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
دخل شهر الحج . (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এটা ‘উমরা, যা দিয়ে আমরা তামাত্তু' করলাম। অতএব যার কাছে কুরবানীর পশু সাথে নেই, সে যেন (‘উমরা শেষ করে) পূর্ণভাবে হালাল হয়ে যায়। তবে এটা মনে রাখবে যে, ক্বিয়ামাত পর্যন্ত ‘উমরা হজ্জের মাসে প্রবেশ করলো। (মুসলিম)[১]
২৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৬০
আত্বা ইবনু আবূ রবাহ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ هٰذِه عُمْرَةٌ اسْتَمْتَعْنَا بِهَا فَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ الْهَدْىُ فَلْيَحِلَّ الْحِلَّ كُلَّه فَإِنَّ الْعُمْرَةَ قَدْ دَخَلَتْ فِى الْحَجِّ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “এটি একটি ওমরাহ যা আমরা উপভোগ করেছি, সুতরাং যার কাছে কোরবানির পশু নেই, সে যেন সম্পূর্ণ জায়েয হয়।” কেননা ওমরাহ কেয়ামত পর্যন্ত হজ্জের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
২৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৬১
আয়েশা (রাঃ)
قال: جاءني رسول الله صلى الله عليه وسلم غضبان في الرابع أو الخامس من ذي الحجة. في هذا الوقت سألت يا رسول الله! من الذي أغضبك؟ عسى الله أن يدخله جهنم . فقال صلى الله عليه وسلم: (أما تعلمون أني أمرت الناس بأمر؟) وهم مترددون في ذلك. لو كنت قد فهمت عن نفسي أولاً ما فهمته فيما بعد، لكنت أخذت معي الذبيحة لما أتيت؛ كنت قد اشتريته في وقت لاحق. وبعد ذلك سأصبح حلالا مثلهم. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্জ মাসের চার বা পাঁচ তারিখে আমার কাছে রাগান্বিত অবস্থায় আসলেন। এ সময় আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লার রসূল! কে আপনাকে রাগান্বিত করলো? আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করুন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি জান না, আমি (কিছু) লোকদেরকে একটা বিষয়ে আদেশ করেছি? আর তারা এ ব্যাপারে দ্বিধাবোধ করছে। যদি আমি আমার ব্যাপারে প্রথমে বুঝতে পারতাম যা পরে বুঝেছি, তাহলে কক্ষনো আমি কুরবানীর পশু সাথে করে নিয়ে আসতাম না; বরং পরে তা কিনে নিতাম। অতঃপর আমিও তাদের ন্যায় হালাল হয়ে যেতাম। (মুসলিম)[১]
২৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৬৩
আয়েশা (রাঃ)
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: إِنَّ النَّبِىَّ ﷺ لَمَّا جَاءَ إِلٰى مَكَّةَ دَخَلَهَا مِنْ أَعْلَاهَا وَخَرَجَ مِنْ أَسْفَلِهَا. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় আসেন, তখন তিনি ওপর থেকে তাতে প্রবেশ করেন এবং নিচ থেকে চলে যান। (সম্মত)
২৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৬৪
উরওয়াহ ইবন আল-যুবায়ের (রাঃ)
قال: حج النبي صلى الله عليه وسلم، وأخبرتني عمتي عائشة أنه دخل مكة فتوضأ أولاً. ثم طاف ببيت الله. لكنه حولها إلى عمرة لا (أي - لم يفتح الإحرام). ثم حج أبو بكر رضي الله عنه، وكان أول شيء طاف ببيت الله. ولم يحول هذا الطواف إلى عمرة. ثم عمر ثم عثمان رضي الله عنه حج بنفس الطريقة. (البخاري ومسلم) [1]
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ করলেন, (আমার খালা) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাক্কায় প্রবেশ করে প্রথমে উযূ করলেন। অতঃপর বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন। তবে তা ‘উমরায় পরিণত করলেন না (অর্থাৎ- ইহরাম খুললেন না)। তারপর আবূ বাকর (রাঃ) হজ্জ করেছেন, তিনিও প্রথমে যে কাজ করেছেন তা হলো বায়তুল্লাহর তাওয়াফ। তিনি এ তাওয়াফকে ‘উমরায় পরিণত করেননি। অতঃপর ‘উমার, তারপর ‘উসমান (রাঃ) এই একইভাবে হজ্জ সম্পাদন করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
২৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৬৫
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ إِذَا طَافَ فِى الْحَجِّ أَوِ الْعُمْرَةِ مَا يَقْدَمُ سَعٰى ثَلَاثَةَ أَطْوَافٍ وَمَشٰى أَرْبَعَةً ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ يَطُوْفُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনে উমর (রাঃ) এর সূত্রে, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: যখনই আল্লাহর রসূল, আল্লাহ তাকে বরকত দান করুন এবং তাকে শান্তি দান করুন, হজ্জ বা ওমরার সময় প্রদক্ষিণ করতেন, তিনি প্রায়শই তিনটি প্রদক্ষিণ করতেন। তিনি চারবার হাঁটাহাঁটি করলেন, তারপর দুই সেজদা করলেন, তারপর সাফা ও মারওয়ার মধ্যে প্রদক্ষিণ করলেন। (সম্মত)
৩০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৬৬
['Abdullah ibn 'Umar (RA)]
قال: طاف رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث رمال من هزار أسود إلى هزار أسود وأربعة باكس عادة. ولذلك كان الصفا (عليه السلام) إذا قال سعى حتى في وسط المروة، وكان باطنيل يمشي سريعا في وسط المسيل. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজারে আসওয়াদ থেকে শুরু করে আবার হাজারে আসওয়াদ পর্যন্ত তিন পাক রমল (দ্রুতবেগে) তাওয়াফ করেছেন এবং চার পাক স্বাভাবিকভাবে করেছেন। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সাফা মারওয়ার মাঝেও সা‘ঈ করতেন তখন বাত্বনিল মাসীলে মাঝখানে (নিচু জায়গায়) দ্রুতবেগে চলতেন। (মুসলিম)[১]
৩১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৬৭
জাবির (রাঃ)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: إِنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ لَمَّا قَدِمَ مَكَّةَ أَتَى الْحَجَرَ فَاسْتَلَمَه ثُمَّ مَشٰى عَلٰى يَمِينِه فَرَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشٰى أَرْبَعًا. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাক্কায় এলেন, হাজারে আসওয়াদের নিকট গেলেন এবং একে স্পর্শ করলেন। তারপর এর ডানদিকে ঘুরে তিন চক্কর রমল (কা‘বাকে বামে রেখে) করলেন আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। (মুসলিম)[১]
৩২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৬৯
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: لَمْ أَرَ النَّبِىَّ ﷺ يَسْتَلِمُ مِنَ الْبَيْتِ إِلَّا الرُّكْنَيْنِ الْيَمَانِيِّيْنِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইয়েমেনের দুটি কোণ ছাড়া ঘরের কোন অংশ স্পর্শ করতে দেখিনি। (সম্মত)
৩৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৭১
[Ibn Abbas (RA)]
قال: طاف رسول الله صلى الله عليه وسلم ببيت الله على جمل. فإذا وصل هزاري إلى الأسود، أشار بشيء (عصا) بيده وكبر. (البخاري)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের উপর সওয়ার অবস্থায় বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছেন। হাজারে আসওয়াদের কাছে পৌঁছেই নিজের হাতের কোন জিনিস (লাঠি) দিয়ে ইশারা করতেন এবং (আল্লা-হু আকবার) তাকবীর দিয়েছেন। (বুখারী)[১]
৩৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৭২
আবু তুফায়েল (রাঃ)
وَعَنْ أَبِىْ الطُّفَيْلِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ وَيَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنٍ مَعَه وَيُقَبِّلُ الْمِحْجَنَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবু আল-তুফায়েলের সূত্রে, তিনি বলেন: আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাবা প্রদক্ষিণ করতে, তাঁর সাথে একটি মুজিন সহ কোণ স্পর্শ করতে এবং মুযিনকে চুম্বন করতে দেখেছি। মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
৩৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৭৩
আয়েশা (রাঃ)
قال: خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم. ولم نلبي يومئذ لغير الحج. عندما وصلنا إلى مكان يسمى "شريف" بدأت دورتي الشهرية. في ذلك الوقت جاءني النبي عليه الصلاة والسلام. كنت أبكي لأنني لم أتمكن من أداء فريضة الحج. (نظر إلى بكائها) قال (صلى الله عليه وسلم): كأنك قد حيضت. قلت نعم! فقال صلى الله عليه وسلم: "إنه أمر كتبه الله تعالى على بنات آدم". فافعل ما يفعل الحجاج، ولكن لا تطوف ببيت الله حتى تطهر. (البخاري ومسلم) [1]
তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (হজের উদ্দেশে) রওনা হলাম। তখন আমরা হজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর (‘উমরার) তালবিয়াহ্ পড়তাম না। আমরা ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছলে আমার ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গেলো। এমন সময় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আসলেন। আমি হজ্জ করতে পারবো না বিধায় কাঁদছিলাম। (কাঁদতে দেখে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মনে হয় তোমার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে। আমি বললাম, হ্যাঁ! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটা এমন বিষয় যা আল্লাহ তা‘আলা আদাম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। তাই হাজীগণ যা করে তুমিও তা করতে থাকো, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তুমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ থেকে বিরত থাকো। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
৩৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৭৪
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال، قبل حجة الوداع (بسنة)، الحجة التي بعث النبي صلى الله عليه وسلم أبا بكر (رضي الله عنه) أميراً على الحج، أرسلني مع قوم آخرين يوم النحر لأعلن للناس - إياكم! وبعد هذه السنة لا يستطيع مشرك أن يحج إلى بيت الله، ولا يطوف حول بيت الله عرياناً. (البخاري ومسلم) [1]
তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের (এক বছর) আগে যে হজে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ)-কে হজ্জের আমির বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন, সে হজে আবূ বাকর কুরবানীর দিনে আরো কিছু লোকসহ আমাকে লোকদের মাঝে ঘোষণা দিতে আদেশ করে পাঠালেন- সাবধান! এ বছরের পর আর কোন মুশরিক বায়তুল্লাহর হজ্জ করতে পারবে না এবং কেউ কক্ষনো উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
৩৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৭৫
মুহাজির আল মাক্কি (রাঃ)
عَنِ الْمُهَاجِرِ الْمَكِّىِّ قَالَ: سُئِلَ جَابِرٌ عَنِ الرَّجُلِ يَرَى الْبَيْتَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فَقَالَ قَدْ حَجَجْنَا مَعَ النَّبِىِّ ﷺ فَلَمْ نَكُنْ نَفْعَلُه. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ
তিনি বলেন, একবার জাবির -কে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহকে দেখে (দু‘আ পাঠের সময়) নিজের দুই হাত উঠাবে। জবাবে জাবির (রাঃ) বললেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ্জ করেছি, কিন্তু কক্ষনো আমরা এরূপ করিনি। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]
৩৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৭৬
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة من المدينة، فمضى إلى الحضر الأسود يقبلها. ثم طاف ببيت الله، ثم أتى نحو الصفا، فصعد إليها حتى يرى بيت الله. ثم رفع يديه وبدأ في الذكر والدعاء لله بسخاء. (أبو داود)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাহ্ হতে (হজ্জ/হজ ও ‘উমরা পালনের জন্য) মাক্কায় প্রবেশ করে হাজারে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হলেন, একে চুমু খেলেন। তারপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন, এরপর সাফা পাহাড়ের দিকে এলেন এবং এর উপর উঠলেন যাতে বায়তুল্লাহ দেখতে পান। তারপর দু’ হাত উঠালেন এবং উদারমনে আল্লাহর যিকির ও দু‘আ করতে লাগলেন। (আবূ দাঊদ)[১]
৩৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৭৮
[Ibn Abbas (RA)]
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لما نزل هزار الأسود من الجنة وهو أشد بياضا من اللبن. فأظلمها خطيئة بني آدم. [أحمد والترمذي؛ وقال الإمام الترمذي (RA) حديث حسن صحيح. [1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হাজারে আসাওয়াদ যখন জান্নাত হতে নাযিল হয়, তখন তা দুধের চেয়েও বেশি সাদা ছিল। অতঃপর আদাম সন্তানের গুনাহ একে কালো করে দেয়। [আহমাদ ও তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।][১]
৪০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৭৯
[Ibn Abbas (RA)]
قبلوه بالإيمان يشهد له. (الترمذي، إينو ماجه، والداريمي)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজারে আসওয়াদ সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহর কসম! ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ এটিকে উঠাবেন, তখন এর দু’টি চোখ থাকবে যা দিয়ে সে দেখতে পাবে। তার একটি জিহবা থাকবে ও এই জিহবা দিয়ে সে কথা বলবে এবং যে তাকে ঈমানের সাথে চুমু দিয়েছে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে । (তিরমিযী, ইনু মাজাহ ও দারিমী)[১]
৪১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৮১
উবায়দ ইবনে উমায়র (রাঃ)
وَعَن عُبيدِ بنِ عُمَيرٍ: أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يُزَاحِمُ عَلَى الرُّكْنَيْنِ زِحَامًا مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ يُزَاحِمُ عَلَيْهِ قَالَ: إِنْ أَفْعَلْ فَإِنِّىْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: إِنَّ مَسْحَهُمَا كَفَّارَةٌ لِلْخَطَايَا وَسَمِعْتُه يَقُولُ: مَنْ طَافَ بِهٰذَا الْبَيْتِ أُسْبُوعًا فَأَحْصَاهُ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ. وَسَمِعْتُه يَقُولُ: لَا يَضَعُ قَدَمًا وَلَا يَرْفَعُ أُخْرٰى إِلَّا حطَّ اللّٰهُ عَنْهُ بِهَا خَطِيْئَةً وَكَتَبَ لَه بِهَا حَسَنَةً. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ
তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) দু’ রুকনের (হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর) কাছে যেভাবে ভীড় করতেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের আর কাউকে এমনভাবে (প্রতিযোগিতামূলকভাবে) ভীড় করতে দেখিনি। ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, আমি যদি এরূপ করি (তাতে দোষের কোন বিষয় নয়), কেননা আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই এদের স্পর্শ করা গুনাহের কাফফারাহ্। আমি তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) আরো বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহর চারদিকে সাতবার তাওয়াফ করবে ও তা যথাযথভাবে সম্পন্ন করবে, তবে তা তার জন্য গোলাম মুক্ত করে দেবার সমতুল্য হবে। এটা ছাড়াও তাঁকে (ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে) বলতে শুনেছি, কোন লোক এতে এক পা ফেলে অপর পা উঠানোর আগেই বরং আল্লাহ তা‘আলা তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন ও তার জন্যে একটি সাওয়াব নির্ধারণ করেন। (তিরমিযী)[১]
৪২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৮২
আব্দুল্লাহ ইবনুস্ সায়িব
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّائِبِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ مَا بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ: ﴿رَبَّنَا اٰتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الْاٰخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ﴾. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবদুল্লাহ ইবন আল-সাইব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দুই কোণের মাঝখানে বলতে শুনেছি: “হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন।” এটা উত্তম এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আবু দাউদ থেকে বর্ণিত
৪৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৮৫
ইয়া'লা বিন উমাইয়াহ (রাঃ)
قال: طاف رسول الله صلى الله عليه وسلم ببيت الله وعليه ثوب أخضر مثل ياطيبة. (الترمذي وأبو داود وابن ماجه والدارمي)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সবুজ চাদর ইযত্বিবা হিসেবে গায়ে দিয়ে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[১]
৪৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৮৭
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
قال: ما تركنا نستلم هذين الركنين: الركن اليماني، والحضر الأسود في كل شدة ورخاء منذ رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يستلم هذين الركنين. (البخاري ومسلم) [1]
তিনি বলেন, আমরা এ দু’টি কোণ তথা রুকনে ইয়ামানী ও হাজারে আসওয়াদ কষ্টে ও আরামে কোন অবস্থাতেই স্পর্শ করতে ছাড়িনি যখন থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দু’ কোণ (রুকন) স্পর্শ করতে দেখেছি। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
৪৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৮৮
বুখারী ও মুসলিম
وَفِىْ رِوَايَةٍ لَهُمَا: قَالَ نَافِعٌ: رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ يَسْتَلِمُ الْحَجَرَ بِيَدِه ثُمَّ قَبَّلَ يَدَه وَقَالَ: مَا تَرَكْتُه مُنْذُ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَفْعَلُه. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তাদের বর্ণনায়: নাফি বলেন: আমি ইবনে উমরকে তার হাতে পাথরটি গ্রহণ করতে দেখেছি, তারপর তিনি তার হাতে চুম্বন করলেন এবং বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে দেখার পর থেকে এটি ছেড়ে যাইনি। ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ করুন এবং তাকে শান্তি দান করুন। (সম্মত)
৪৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৮৯
উম্মু সালামা (রাঃ)
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: شَكَوْتُ إِلٰى رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ أَنِّىْ أَشْتَكِىْ. فَقَالَ: «طُوفِىْ مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَأَنْتِ رَاكِبَةٌ» فَطُفْتُ وَرَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يُصَلِّىْ إِلٰى جَنْبِ الْبَيْتِ يَقْرَأُ بـ (الطُّوْرِ وكِتَابٍ مَسْطُوْرٍ). (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অভিযোগ করেছিলাম যে, আমি অভিযোগ করছি। তিনি বললেনঃ তুমি সওয়ারী অবস্থায় লোকদের পিছনে আসো। তাই আমি চারপাশে গিয়েছিলাম যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের পাশে সালাত আদায় করছিলেন, তেলাওয়াত করছিলেন (আয়াত এবং বইটি নিম্নরেখা করা হয়েছে)। (সম্মত)
৪৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৯৪
জাবির (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قربت بهذا المكان، منى موضع الأضحية. لذلك تذبحون في بيوتكم. وأقمت في هذا المكان (عرفة)، وعرفة هي المكان كله وأقمت في هذا المكان، ومزدلفة هي مكان الإقامة كله. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি এ স্থানে কুরবানী করেছি, মিনা সম্পূর্ণটাই কুরবানীর স্থান। তাই তোমরা তোমাদের বাসায় কুরবানী কর। আমি এ স্থানে (‘আরাফায়) অবস্থান করেছি, আর ‘আরাফাহ্ সম্পূর্ণটাই অবস্থানের স্থান এবং আমি এ জায়গায় অবস্থান করেছি, আর মুযদালিফা সম্পূর্ণটাই অবস্থানের স্থান। (মুসলিম)[১]
৪৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৯৭
জাবির (রাঃ)
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: كُلُّ عَرَفَةَ مَوْقِفٌ وَكُلُّ مِنًى مَنْحَرٌ وَكُلُّ الْمُزْدَلِفَةِ مَوْقِفٌ وَكُلُّ فِجَاجِ مَكَّةَ طَرِيْقٌ وَمَنْحَرٌ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِىُّ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আরাফার সম্পূর্ণ স্থানই অবস্থানস্থল এবং মিনার সম্পূর্ণ স্থানই কুরবানীর স্থান, মুযদালিফার সম্পূর্ণটাই অবস্থানস্থল এবং মক্কার সকল পথই রাস্তা ও কুরবানীর স্থান। (আবূ দাঊদ ও দারিমী)[১]
৪৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৫৯৯
আমর ইবনু শুআইব
عن أبيه شعيب عن جده [عبد الله بن عمر رضي الله عنهما] أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: أفضل الدعاء دعاء يوم عرفة، وأفضل كلمة قلتها، وقرأت الأنبياء السابقون: لا إله إلا الله وحده لا شريك له له "ملك وله الحمد وهو على كلي شاين قادر" (يعني - لا إله إلا الله. وحده لا شريك له. له الملك. وله الحمد. وهو ظلمة كل قوة.). (الترمذي)[1]
তাঁর পিতা শু‘আয়ব হতে, তিনি তাঁর দাদা [‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)] হতে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল দু‘আর শ্রেষ্ঠ দু‘আ হলো ‘আরাফার দিনের দু‘আ আর শ্রেষ্ঠ কালিমাহ্ (যিকির) যা আমি পাঠ করেছি ও আমার পূর্ববর্তী নাবীগণ পাঠ করেছেন তা হলো, ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই। তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শারীক নেই। তাঁরই রাজত্ব। তার জন্যই সকল প্রশংসা। তিনি সকল শক্তির আঁধার।)। (তিরমিযী)[১]
৫০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৬০০
ইমাম মালিক (রাঃ)
رواه ابن عبيد الله إلى جملة "لا شريك له".[1]
ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ হতে ‘‘লা- শারীকা লাহূ’’ বাক্য পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।)[১]