অধ্যায় ৮
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১১০
عَنْ عُثْمَانَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعْلَّمَ الْقُرْاٰنَ وَعَلَّمَه». رَوَاهُ البُخَارِىُّ
উসমান (রাঃ)-এর সূত্রে, যিনি বলেছেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে কুরআন শিখে এবং শিক্ষা দেয়।" আল-বুখারী থেকে বর্ণিত
০২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১১১
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: خَرَجَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ وَنَحْنُ فِى الصُّفَّةِ فَقَالَ: «أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَغْدُوَ كُلَّ يَوْم إِلٰى بُطْحَانَ أَو الْعَقِيْقَ فَيَأْتِىْ مِنْهُ بِنَاقَتَيْنِ كَوْمَاوَيْنِ فِىْ غَيْرِ إِثْمٍ وَلَا قَطْعِ رَحِمٍ» فَقُلْنَا يَا رَسُول الله نُحِبُّ ذٰلِكَ قَالَ: «أَفَلَا يَغْدُوْ أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَيَعْلَمُ أَوْ يَقْرَأُ اٰيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللهِ خَيْرٌ لَه مِنْ نَاقَتَيْنِ وَثَلَاثٍ خَيْرٌ لَه مِنْ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعٍ خَيْرٌ لَه مِنْ أَرْبَعٍ وَمِنْ أَعْدَادِهِنَّ مِنَ الْإِبِلِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি বলেন, আমরা (একদিন) মাসজিদের প্রাঙ্গণে বসেছিলাম। এ সময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আসলেন ও (আমাদেরকে) বললেন, তোমাদের কেউ প্রতিদিন সকালে ‘বুত্বহান’ অথবা ‘আক্বীক’ বাজারে গিয়ে দু’টি বড় কুঁজওয়ালা উটনী কোন অপরাধ সংঘটন ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়া নিয়ে আসতে পছন্দ করবে? এ কথা শুনে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের প্রত্যেকেই এ কাজ করতে পছন্দ করবে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যদি তা-ই হয় তাহলে তোমাদের কেউ কোন মাসজিদে গিয়ে সকালে আল্লাহর কিতাবের দু’টি আয়াত (মানুষকে) শিক্ষা দেয় না বা (নিজে) শিক্ষাগ্রহণ করে না কেন? অথচ এ দু’টি আয়াত শিক্ষা দেয়া তার জন্য দু’টি উটনী অথবা তিনটি আয়াত শিক্ষা দেয়া তার জন্য তিনটি উটনী অথবা চারটি আয়াত শিক্ষা দেয়া তার জন্য চারটি উটনীর চেয়েও উত্তম। সারকথা কুরআনের যে কোন সংখ্যক আয়াত, একই সংখ্যক উটনীর চেয়ে উত্তম। (মুসলিম)[১]
০৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১১২
قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أيحب أحدكم أن يرجع إلى بيته فيأتي بثلاث نوق سمينة؟» قلنا: (يا رسول الله!) إنا لنعجبنا. ثم قال (عليه السلام): ثم يقرأون في الصلاة ثلاث آيات. فهذه الثلاث آيات خير له من ثلاث إبل سمان. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কি নিজ ঘরে ফিরে তিনটি মোটাতাজা গর্ভবতী উটনী পেতে পছন্দ করো? আমরা বললাম, (হে আল্লাহর রসূল!) নিশ্চয়ই পছন্দ করি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তারা যেন সলাতে তিনটি আয়াত পড়ে। এ তিনটি আয়াত তার জন্য তিনটি মোটাতাজা গর্ভবতী উটনী অপেক্ষা উত্তম। (মুসলিম)[১]
০৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১১৩
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من يعرف القرآن يكون صحبة السفراء الكرام الملائكة. ومن تعلم القرآن فاضطرب فيه وكان القرآن مؤلما له جائزتان له (البخاري ومسلم)[1]
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন অধ্যয়নে পারদর্শী ব্যক্তি মর্যাদাবান লিপিকার মালায়িকাহ্’র (ফেরেশ্তাগণের) সাথী হবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন অধ্যয়ন করে ও যে এতে আটকে যায় এবং কুরআন তার জন্য কষ্টদায়ক হয়, তাহলে তার জন্য দু’টি পুরস্কার। (বুখারী, মুসলিম)[১]
০৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১১৪
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَا حَسَدَ إِلَّا عَلٰى اِثْنَيْنِ: رَجُلٌ اٰتَاهُ اللّٰهُ الْقُرْاٰنَ فَهُوَ يَقُومُ بِه اٰنَاءَ اللَّيْلِ وَاٰنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ اٰتَاهُ اللّٰهُ مَالًا فَهُوَ يُنْفِقُ مِنْهُ اٰنَاءَ اللَّيْلِ وَاٰنَاءَ النَّهَارِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "দুটি ছাড়া অন্য কোন হিংসা নেই: একজন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দিয়েছেন এবং তিনি মাঝে মাঝে তা পালন করেন।" রাত ও দিন এবং এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে তা থেকে রাত ও দিন ব্যয় করে। (সম্মত)
০৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১১৬
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللهَ يَرْفَعُ بِهٰذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِه اٰخَرِينَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা এ কিতাব কুরআনের মাধ্যমে কোন কোন জাতিকে উন্নতি দান করেন। আবার অন্যদেরকে করেন অবনত। (মুসলিম)[১]
০৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১২২
وَعَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِىَّ ﷺ يَقُولُ: «يُؤْتٰى بِالْقُرْاٰنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَهْلِهِ الَّذِينَ كَانُوا يَعْمَلُونَ بِه تَقْدُمُه سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَاٰلُ عِمْرَانَ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ ظُلَّتَانِ سَوْدَاوَانِ بَيْنَهُمَا شَرْقٌ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُحَاجَّانِ عَنْ صَاحِبِهِمَا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আল-নাওয়াস বিন সামআন (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "কিয়ামতের দিন কুরআন এবং তার লোকেরা যারা এর উপর আমল করত তাদের নিয়ে আসা হবে।" সূরা আল-বাকারাহ এবং আল ইমরানের পরিচিতি যেন তারা দুটি মেঘ বা দুটি কালো ছায়া তাদের মধ্যবর্তী পূর্বদিকে, অথবা তারা যেন উড়তে থাকা পাখির দুটি ঝাঁক। তারা তাদের মালিকের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেছে।” মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
০৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১২৫
وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: بَيْنَمَا جِبْرِيلُ قَاعِدٌ عِنْدَ النَّبِىِّ ﷺ سَمِعَ نَقِيضًا مِنْ فَوْقِه فَرَفَعَ رَأْسَه فَقَالَ: «هٰذَا بَابٌ مِنَ السَّمَاءِ فُتِحَ الْيَوْمَ لَمْ يُفْتَحْ قَطُّ إِلَّا الْيَوْمَ فَنَزَلَ مِنْهُ مَلَكٌ فَقَالَ هٰذَا مَلَكٌ نَزَلَ إِلَى الْأَرْضِ لَمْ يَنْزِلْ قَطُّ إِلَّا الْيَوْمَ فَسَلَّمَ وَقَالَ أَبْشِرْ بِنُورَيْنِ أُوتِيتَهُمَا لَمْ يُؤْتَهُمَا نَبِىٌّ قَبْلَكَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ وَخَوَاتِيمُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَنْ تَقْرَأَ بِحَرْفٍ مِنْهُمَا إِلَّا أَعْطَيْتُه». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিব্রাইল (আ) যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বসে ছিলেন, তখন তিনি তার উপর থেকে কিছু শুনতে পেলেন, তাই তিনি মাথা তুলে বললেন: "এটি আসমান থেকে একটি দরজা যা খোলা হয়েছে।" আজকে ছাড়া এটি আর কখনো খোলা হয়নি, এবং সেখান থেকে একজন ফেরেশতা নেমে এসে বললেন, "ইনি একজন ফেরেশতা যিনি পৃথিবীতে অবতরণ করেছেন, এটি আজকের আগে কখনও অবতরণ করেনি, তাই তিনি আমাকে সালাম দিয়ে বললেন।" দুটি আলোর সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা আপনাকে দেওয়া হয়েছে যে আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হয়নি: কিতাবের উদ্বোধন এবং সূরা আল-বাকারার শেষ। আমি তাকে না দিলে তাদের একটি চিঠি তোমাকে পড়া হবে না।" মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
০৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১২৬
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ الآيتين من آخر سورة البقرة في ليلة - يعني: "آمن الرسول" - من آخرهما كفتاه. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল বাকারার শেষ দু’টি আয়াত, অর্থাৎ- ‘আ-মানার রসূলু’ হতে শেষ পর্যন্ত পড়ে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট হবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
১০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১২৭
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من شر الدجال. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ-এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম)[১]
১১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১২৯
الحديث رواه أبو سعيد.[1]
হাদীসটি আবূ সা‘ঈদ হতে বর্ণনা করেছেন।[১]
১২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৩০
وَعَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ بَعَثَ رَجُلًا عَلٰى سَرِيَّةٍ وَكَانَ يَقْرَأُ لأَصْحَابِه فِىْ صَلَاتِهِمْ فِيَخْتِمُ بِـ ﴿قُلْ هُوَ اللّٰهُ أَحَدٌ﴾. فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذٰلِكَ لِلنَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ: «سَلُوهُ لِأَىِّ شَىْءٍ يَصْنَعُ ذٰلِكَ» فَسَأَلُوهُ فَقَالَ لِأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمٰنِ وَأَنَا أَحَبُّ أَنْ أَقرَأَ هَا. فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ: «أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللهَ يُحِبُّه». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি সেনাদলের সেনাপতি করে পাঠালেন। সে তার সঙ্গীদের সলাত আদায় করাত এবং ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ দিয়ে সলাত শেষ করত। তারা মাদীনায় ফেরার পর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ কথা উল্লেখ করেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাকে জিজ্ঞেস করো কি কারণে সে তা করে। সে বলল, এর কারণ এতে আল্লাহর গুণাবলীর উল্লেখ রয়েছে। আর আমি আল্লাহর গুণাবলী পড়তে ভালবাসি। তার উত্তর শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তা‘আলাও তাকে ভালবাসেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
১৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৩৪
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ عَوْفٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: «ثَلَاثَةٌ تَحْتَ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْقُرْاٰنُ يُحَاجُّ الْعِبَادَ لَه ظَهْرٌ وَبَطْنٌ وَالْأَمَانَةُ وَالرَّحِمُ تُنَادِىْ: أَلَا مَنْ وَصَلَنِىْ وَصَلَهُ اللّٰهُ وَمَنْ قَطَعَنِىْ قَطَعَهُ اللّٰهُ». رَوَاهُ فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ
আবদ আল-রহমান ইবনে আউফের সূত্রে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আরশের নীচে তিনজন থাকবে। বান্দারা দুপুরে কুরআন নিয়ে বিতর্ক করবে। এবং গর্ভ, বিশ্বস্ততা এবং আত্মীয়তা ডেকে বলবে: "যে আমাকে ছেদ করবে, আল্লাহ তাকে ছেঁটে ফেলবেন এবং আল্লাহ তাকে সংযুক্ত করবেন। তাকে বন্ধ করে দিন।" তিনি শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন
১৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৩৬
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: البطن بدون القرآن كالبيت الخراب. (الترمذي والدارمي، قال الإمام الترمذي، الحديث صحيح) [1]
বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে পেটে কুরআনের কিছু নেই তা শূন্য (ধ্বংসপ্রাপ্ত) ঘরের মতো। (তিরমিযী ও দারিমী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ)[১]
১৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৩৮
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللّٰهِ فَلَه بِه حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ: اَلٓمٓ حَرْفٌ. أَلْفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيْبٌ إِسْنَادًا
ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পাঠ করবে তার জন্য একটি নেক আমল রয়েছে এবং একটি নেক আমলের দশগুণ সওয়াব দেওয়া হবে। আমি বলি: বেদনা একটি অক্ষর, আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর এবং আল-নারী এবং আল-নারী দ্বারা একটি বর্ণ। আল-তিরমিযী বলেছেন: এটি একটি হাসান, সহীহ ও অদ্ভুত হাদিস
১৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৪০
وَعَن معَاذ الْجُهَنِىِّ: أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: «مَنْ قَرَأَ الْقُرْاٰنَ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ أُلْبِسَ وَالِدَاهُ تَاجًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْءُه أَحْسَنُ مِنْ ضَوْءِ الشَّمْسِ فِىْ بُيُوتِ الدُّنْيَا لَوْ كَانَتْ فِيكُمْ فَمَا ظَنُّكُمْ بِالَّذِىْ عَمِلَ بِهٰذَا؟». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُوْ دَاوُدَ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং এর মধ্যে তাঁর হুকুম-আহকামের উপর ‘আমাল করে, তার মাতাপিতাকে কিয়ামাতের দিন একটি মুকুট পরানো হবে। এ মুকুটের কিরণ দুনিয়ার সূর্যের কিরণ হতেও উজ্জ্বল হবে, যদি এ সূর্য তোমাদের মধ্যে থাকত (তবে উপলব্ধি করতে পারতে)। যে ব্যক্তি এ কুরআনের উপর ‘আমাল করে তার ব্যাপারে এখন তোমাদের কী ধারণা? (আহমদ, আবূ দাঊদ)[১]
১৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৪১
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «المصحف إذا لف في أدم وأضرم في النار لم يحترق». (الدارمي)[1]
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, কুরআন কারীমকে যদি চামড়ায় মুড়িয়ে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় তাহলে তা পুড়বে না। (দারিমী)[১]
১৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৪২
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ القرآن وحفظه، فيحل حلاله ويحرم حرامه، أدخله الله الجنة. وتقبل وصيته لعشرة من أهل بيته، كلهم على يقين بالجحيم. (أحمد والترمذي وابن ماجه والدارمي. لكن الإمام الترمذي قال هذا حديث ضعيف. أحد رواته حفص بن سليمان ضعيف في رواية الحديث).[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে ও একে মুখস্থ করে, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মেনে চলে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তার পরিবারের এমন দশ ব্যক্তির জন্য তার সুপারিশ কবূল করবেন, যাদের প্রত্যেকেরই নিশ্চিত ছিল জাহান্নাম। (আহমদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। এর একজন বর্ণনাকারী হাফস ইবনু সুলায়মান হাদীস বর্ণনায় দুর্বল।)[১]
১৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৪৩
قال: سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أبي بن كعب كيف تقرأ القرآن في الصلاة؟ وردا على ذلك، قرأ أبي بن كعب سورة الفاتحة على رسول الله صلى الله عليه وسلم. (قراءته قال صلى الله عليه وسلم: والذي نفسي بيده، ما نزلت سورة في التوراة ولا الإنجيل ولا جابور ولا الفرقان مثلها). هذه السورة هي سبيل المسني (مكرر سبع آيات) والقرآن العظيم. هذا أعطيتني. (الترمذي. قال هذا حديث حسن صحيح. روى الدارمي أنه لا سورة نزلت مثلها ولم يذكر في روايته خاتمة الحديث وحادثة أبي المذكورة آنفاً)[1] .
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার উবাই ইবনু কা‘বকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি সলাতে কিভাবে কুরআন পড়ো? উত্তরে উবাই ইবনু কা‘ব রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সূরা আল ফাতিহাহ্ পড়ে শুনালেন। (তাঁর পড়া শুনে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন! এর মতো কোন সূরা তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবূর বা ফুরকান-এ (কুরআনের অন্য কোন সূরাতেও) নাযিল হয়নি। এ সূরা হলো সাব্‘উল মাসানী (পুনরাবৃত্ত সাতটি আয়াত) ও মহান কুরআন। এটি আমাকেই দেয়া হয়েছে। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ। দারিমী বর্ণনা করেছেন, এর মতো কোন সূরা নাযিল করা হয়নি। তাঁর বর্ণনায় হাদীসের শেষের দিক ও উপরের বর্ণিত উবাই-এর ঘটনা বর্ণিত হয়নি।)[১]
২০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৪৫
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ سورة المؤمن "إليه المصير" وآية الكرسي في الصباح، حفظ في حفظتها حتى يمسي. ومن قرأه في المساء حفظه حتى الصباح - (الترمذي والدارمي. لكن الإمام الترمذي يقول الحديث ضعيف.) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে সূরা হা-মীম ‘‘আল মু’মিন..... ইলায়হিল মাসীর’’ পর্যন্ত ও আয়াতুল কুরসী পড়বে, তাকে এর বারাকাতে সন্ধ্যা পর্যন্ত হিফাযাতে রাখা হবে। আর যে ব্যক্তি তা সন্ধ্যায় পড়বে তাকে সকাল পর্যন্ত নিরাপদ রাখা হবে- (তিরমিযী ও দারিমী। কিন্তু ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব।)[১]
২১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৪৬
وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِنَّ اللّٰهَ كَتَبَ كِتَابًا قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ بِأَلْفَىْ عَامٍ أَنْزَلَ مِنْهُ اٰيَتَيْنِ خَتَمَ بِهِمَا سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَلَا تُقْرَاٰنِ فِىْ دَارٍ ثَلَاثَ لَيَالٍ فَيَقْرَبَهَا الشَّيْطَانُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيْبٌ
আল-নুমান বিন বশীর থেকে, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে একটি কিতাব লিখেছিলেন।” তিনি তা থেকে দুটি আয়াত নাযিল করেন যা দিয়ে তিনি সূরা বাকারা শেষ করেছেন। আর কোন ঘরে তিন রাত তা পাঠ করবেন না, পাছে শয়তান তার কাছে চলে আসবে। আল-তিরমিযী আল-দারিমী থেকে বর্ণিত এবং আল-তিরমিযী বলেছেন: এটি একটি অদ্ভুত হাদীস।
২২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৪৭
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ ثلاث آيات من أول سورة الكهف عصم من فتنة الدجال. (الترمذي. وقال: هذا حديث حسن صحيح.) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ-এর প্রথম দিকের তিনটি আয়াত পড়বে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে নিরাপদ রাখা হবে। (তিরমিযী। তিনি বলেন, এ হাদীসটি হাসান ও সহীহ।)[১]
২৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৪৮
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لكل شيء كلاب. "كلاب" القرآن هو "سورة ياسين". ومن قرأ هذه السورة مرة واحدة كتب الله تعالى له ثواب قراءة القرآن عشر مرات بما قرأه مرة واحدة. (الترمذي، الدارمي. ووصف الإمام الترمذي هذا الحديث بالفقير.)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক জিনিসের ‘কলব’ (হৃদয়) আছে। কুরআনের ‘কলব’ হলো, ‘সূরা ইয়াসীন’। যে ব্যক্তি এ সূরা একবার পড়বে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একবার পড়ার কারণে দশবার কুরআন পড়ার সাওয়াব লিখবেন। (তিরমিযী, দারিমী। ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।)[১]
২৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৫১
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ سورة حم والدخان في ليلة الجمعة غفر له. (الترمذي. وقال: هذا حديث ضعيف. ويقال أن حبره أبو المقدام هشام ضعيف.) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমার রাতে সূরা ‘হা-মীম আদ্ দুখা-ন’ পড়বে তাকে মাফ করে দেয়া হবে। (তিরমিযী। তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। এর রাবী আবূল মিকদাম হিশাম কে দুর্বল বলা হয়েছে।)[১]
২৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৫৩
رواه خالد بن معدان (رضي الله عنه) حديثا. وقال الإمام الترمذي، الحديث حسن غريب.[1]
হাদীস হিসেবে খালিদ ইবনু মা‘দান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব।[১]
২৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৫৪
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن سورة في القرآن عددها ثلاثون آية، شفعت لرجل». ونتيجة لذلك، تم العفو عنه. تلك السورة هي "طابا رقلاجي بيدحل الملك". (أحمد والترمذي وأبو داود والنسائي وابن ماجه[1])
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনে ত্রিশ আয়াতের একটি সূরা আছে, যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছে। ফলে তাকে মাফ করে দেয়া হয়েছে। সে সূরাটি হচ্ছে, ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক’। (আহমদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[১]
২৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৫৫
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: ضَرَبَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِىِّ ﷺ خِبَاءَه عَلٰى قَبْرٍ وَهُوَ لَا يَحْسَبُ أَنَّه قَبْرٌ فَإِذَا فِيهِ إِنْسَان يَقْرَأُ سُوْرَةَ ﴿تَبَارَكَ الَّذِىْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ﴾ حَتّٰى خَتَمَهَا فَأَتَى النَّبِىَّ ﷺ فَأَخْبَرَه فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «هِيَ الْمَانِعَةُ هِيَ الْمُنْجِيَةُ تُنْجِيهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْر». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَقَالَ: هٰذَا حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু সাহাবী তাঁর কবরের উপর ধাক্কা মারলেন, এটা ভাবলেন না যে এটি একটি কবর, এবং তখন সেখানে এক ব্যক্তি তেলাওয়াত করছিল। সূরা "ধন্য তিনি যার হাতে রাজত্ব" যতক্ষণ না তিনি এটি শেষ করেন। অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁকে অবহিত করলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এটিই এটিকে বাধা দেয়।" ত্রাণকর্তা তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করেন।" আল-তিরমিযী এটি বর্ণনা করেন এবং বলেন: এটি একটি অদ্ভুত হাদীস।
২৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৫৬
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ كَانَ لَا يَنَامُ حَتّٰى يَقْرَأَ: ﴿الٓمٓ تَنْزِيْلُ﴾ وَ ﴿تَبَارَكَ الَّذِىْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ﴾ رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَالدَّارِمِىُّ. وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ. وَكَذَا فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ. وَفِى الْمَصَابِيْحِ : غَرِيْبٌ
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোবার পর) যে পর্যন্ত সূরা ‘আলিফ লা-ল মীম্ তানযীল’ ও সূরা ‘তাবা-রকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক’ পড়ে শেষ না করতেন ঘুমাতেন না। (আহমদ, তিরমিযী ও দারিমী। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ। ‘শারহুস্ সুন্নাহ্’য় এরূপ রয়েছে, মাসাবীহ এ হাদীসকে গরীব বলেছেন।)[১]
২৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৫৭
وكلاهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (في الثواب) سورة عز ذو الزيلات تعدل نصف القرآن، وقل هو أحد تعدل الثلث، وقل يا أيهال كا فرعون تعدل الربع. (الترمذي)[1]
দু’জনেই বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (সাওয়াবের দিক দিয়ে) সূরা ‘ইযা- যুলযিলাত’ কুরআনের অর্ধেকের সমান, ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ (কুরআনের) এক-তৃতীয়াংশের সমান, ‘কুল ইয়া- আইয়ুহাল কা-ফিরূন’ এক-চতুর্থাংশের সমান। (তিরমিযী)[১]
৩০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৬১
قال: سمع النبي صلى الله عليه وسلم رجلاً يقرأ: «قل هو أحد» فقال: «صدقت». سمعت، فقلت: ما ثبت (يا رسول الله)؟ قال (صلى الله عليه وسلم): «الجنة». (مالك والترمذي والنسائي)[1]
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ পড়তে শুনে বললেন, সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। আমি শুনে বললাম, কি সুনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে (হে আল্লাহর রসূল) উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘জান্নাত’। (মালিক, তিরমিযী ও নাসায়ী)[১]
৩১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৬২
وَعَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ عَنْ أَبِيهِ: أَنَّه قَالَ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ عَلِّمْنِىْ شَيْئًا أَقُولُه إِذَا أَوَيْتُ إِلٰى فِرَاشِىْ. فَقَالَ: «اقْرَأْ ﴿قُلْ يٰاَ أَيُّهَا الْكٰفِرُوْنَ﴾ فَإِنَّهَا بَرَاءَةٌ مِنَ الشِّرْكِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِىُّ
তার পিতা নাওফাল হতে বর্ণনা করেছেন, একদিন নাওফাল (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এমন একটি বিষয় আমাকে শিখিয়ে দিন যা আমি ঘুমাতে গিয়ে পড়তে পারি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সূরা ‘‘কুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’’ পড়ো। কেননা এ সূরা শির্ক হতে পবিত্র। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, দারিমী)[১]
৩২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৬৩
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: بَيْنَا أَنَا أَسِيْرُ مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ بَيْنَ الْجُحْفَةِ وَالْأَبْوَاءِ إِذْ غَشِيَتْنَا رِيحٌ وَظُلْمَةٌ شَدِيدَةٌ فَجَعَلَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يُعَوِّذُ ب ﴿أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ﴾ وَ ﴿أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ﴾ وَيَقُولُ: «يَا عُقْبَةُ تَعَوَّذْ بِهِمَا فَمَا تَعَوَّذَ مُتَعَوِّذٌ بِمِثْلِهِمَا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
উকবা বিন আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হাঁটছিলাম, তখন আল-জুফাহ ও আল-আবওয়া’র মাঝখানে একটি প্রবল বাতাস ও অন্ধকার আমাদেরকে ঘিরে ফেলল। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর বরকত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে শান্তি দান করুন, “আমি সৃষ্টির পালনকর্তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি” এবং “আমি মানুষের পালনকর্তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি” বলে আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং বললেন: “হে উকবা, তাদের কাছে আশ্রয় চাও, যা ভূত-প্রতারক বِمِثْلِهِمَا»। আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
৩৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৬৫
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ أَقْرَأُ سُورَةَ (هُودٍ) أَوْ سُورَةَ (يُوسُفَ)؟ قَالَ: لَنْ تَقْرَأَ شَيْئًا أَبْلَغَ عِنْدَ اللّٰهِ مِنْ ﴿قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ﴾ رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيّ والدَّارِمِىُّ
উকবা বিন আমির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি সূরা হুদ পাঠ করব নাকি সূরা ইউসুফ? তিনি বললেনঃ আপনি আল্লাহর দৃষ্টিতে এর চেয়ে বেশি বাগ্মী আর কিছু পড়বেন না, "বলুন, আমি সৃষ্টিকর্তার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" আহমাদ, আল-নাসায়ী ও আল-দারিমী থেকে বর্ণিত।
৩৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৭১
وَعَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ مُرْسَلًا قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «فِىْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ». رَوَاهُ الدَّارِمِىُّ وَالْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ
আবদ আল-মালিক ইবনে উমাইর থেকে, একটি মুরসালের সূত্রে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কিতাব খোলার মধ্যে প্রতিটি রোগের নিরাময় রয়েছে।" শু'আব আল-ইমান গ্রন্থে আল-দারিমী এবং আল-বায়হাকী কর্তৃক বর্ণিত
৩৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৭৩
وقال: «من قرأ سورة آل عمران في يوم الجمعة، لم تزل الملائكة تصلي عليه حتى الليل». (الدارمي)[1]
বলেছেন, যে লোক জুমার দিনে সূরা আ-লি ‘ইমরান পড়বে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার জন্য রাত পর্যন্ত সলাত বা দু‘আ করতে থাকবেন। (দারিমী)[১]
৩৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৭৪
وَعَن جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ قَالَ: «إِنَّ اللّٰهَ خَتَمَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ بِاٰيَتَيْنِ أُعْطِيتُهُمَا مِنْ كَنْزِهِ الَّذِىْ تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَعَلَّمُوْهُنَّ وَعَلِّمُوهُنَّ نِسَاءَكُمْ فَإِنَّهَا صَلَاةٌ وَقُرْبَانُ وَدُعَاءٌ». رَوَاهُ الدِّرَامِىُّ مُرْسَلًا
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূরা আল বাকারাকে আল্লাহ তা‘আলা এমন দু’টি আয়াত দ্বারা শেষ করেছেন, যা আমাকে আল্লাহর ‘আরশের নীচের ভাণ্ডার হতে দান করা হয়েছে। তাই তোমরা এ আয়াতগুলোকে শিখবে। তোমাদের রমণীকুলকেও শিখাবে। কারণ এ আয়াতগুলো হচ্ছে রহমত, (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের উপায়। (দীন দুনিয়ার সকল) কল্যাণলাভের দু‘আ। (মুরসালরূপে দারিমী বর্ণনা করেছেন)[১]
৩৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৭৭
وَعَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ قَالَ: اِقْرَؤُوْا الْمُنْجِيَةِ وَهِىَ ﴿الٓمٓ تَنْزِيْلُ﴾ فَإِن بَلَغَنِىْ أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَقْرَؤُهَا مَا يَقْرَأُ شَيْئًا غَيْرَهَا وَكَانَ كَثِيرَ الْخَطَايَا فَنَشَرَتْ جَنَاحَهَا عَلَيْهِ قَالَتْ: رَبِّ اغْفِرْ لَه فَإِنَّه كَانَ يُكْثِرُ قِرَاءَتِى فَشَفَّعَهَا الرَّبُّ تَعَالٰى فِيهِ وَقَالَ: اَكْتُبُوْا لَه بِكُلِّ خَطِيئَةٍ حَسَنَةٍ وَارْفَعُوْا لَه دَرَجَةً.\nوَقَالَ أَيْضًا: «إِنَّهَا تُجَادِلُ عَنْ صَاحِبِهَا فِى الْقَبْرِ تَقُولُ: اَللّٰهُمَّ إِنْ كُنْتُ مِنْ كِتَابِكَ فَشَفِّعْنِىْ فِيهِ وَإِنْ لَمْ أَكُنْ مِنْ كِتَابِكَ فَامْحُنِىْ عَنْهُ وَإِنَّهَا تَكُونُ كَالطَّيْرِ تَجْعَلُ جَنَاحَهَا عَلَيْهِ فَتَشْفَعُ لَه فَتَمْنَعُه مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ» وَقَالَ فِىْ ﴿تَبَارَكَ﴾ مِثْلَه. وَكَانَ خَالِدٌ لَا يَبِيْتُ حَتّٰى يَقْرَأَهُمَا.\nوَقَالَ طَاوُوسُ: فُضِّلَتَا عَلٰى كُلِّ سُوْرَةٍ فِى الْقُرْاٰنِ بِسِتِّينَ حَسَنَةً. رَوَاهُ الدَّارِمِىُّ
খালিদ বিন মাদানের সূত্রে, তিনি বলেছেন: আল-মুনজিয়াহ পাঠ কর, যা "আল-মামান তানযিল"। কেননা আমি শুনেছি যে এক ব্যক্তি তা পাঠ করছিলেন। তিনি তাকে ব্যতীত অন্য কিছু তেলাওয়াত করেছিলেন, এবং সে অনেক পাপ করেছিল, তাই সে তার উপর তার ডানা ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং বলেছিল: আমার প্রভু, তাকে ক্ষমা করুন, কারণ সে প্রচুর পাঠ করত, তাই প্রভু তার জন্য সুপারিশ করেছিলেন। এতে সর্বশক্তিমান এবং তিনি বলেছিলেন: প্রতিটি পাপের জন্য তার জন্য একটি ভাল কাজ লিখে দিন এবং তাকে মর্যাদায় উন্নীত করুন।\nএবং তিনি আরও বলেছেন: “এটি কবরে তার সঙ্গীর কথা বলে, এই বলে: হে আল্লাহ, আমি যদি আপনার কিতাব থেকে থাকি তবে আমাকে তার জন্য সুপারিশ করুন এবং যদি আমি আপনার কিতাব থেকে না হই তবে তার জন্য আমাকে ক্ষমা করুন। এবং তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।" এবং তিনি "আশীর্বাদিত" তেও একই কথা বলেছিলেন। সেগুলো না পড়া পর্যন্ত খালেদ রাতারাতি থাকেননি। তাওউস বলেছেন: তারা ষাটটি নেক আমল সহ কুরআনের প্রতিটি সূরার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আল দারিমি থেকে বর্ণিত
৩৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৭৯
قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: من قرأ سورة ياسين فقط ابتغاء وجه الله، غفر له ما تقدم من ذنبه. فاقرأ هذه السورة على من هو على وشك الموت. (البيهقي – شعب الإيمان) [1]
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে সূরা ইয়াসীন পড়বে, তার আগের গুনাহসমূহ (সগীরাহ্) মাফ করে দেয়া হবে। তাই তোমরা তোমাদের মৃত্যু (আসন্ন) ব্যক্তিদের কাছে এ সূরা পড়বে। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
৩৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৮০
ويقول: كل كائن له قمة. ذروة القرآن هي سورة البقرة. كل كائن له "جوهر". جوهر القرآن هو سور المفصل. (الدارمي)[1]
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি বস্তুর একটি শীর্ষস্থান রয়েছে। কুরআনের শীর্ষস্থান হলো সূরা আল বাকারাহ্। প্রত্যেক বস্তুরই একটি ‘সার’ রয়েছে। কুরআনের সার হলো মুফাস্সাল সূরাহগুলো। (দারিমী)[১]
৪০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৮১
قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لكل شيء جمال. جمال القرآن سورة الرحمن. (رواه الإمام البيهقي في شعب الإيمان)[١]
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, প্রত্যেকটি জিনিসের সৌন্দর্য আছে। কুরআনের সৌন্দর্য সূরা আর্ রহমান। (ইমাম বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[১]
৪১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৮২
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْوَاقِعَةِ فِىْ كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ أَبَدًا». وَكَانَ ابْنُ مَسْعُودٍ يَأْمُرُ بَنَاتَه يَقْرَأْنَ بهَا فِىْ كُلِّ لَيْلَةٍ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ
ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে সে কখনো দারিদ্র্যের শিকার হবে না।” ইবনে মাসউদ তার কন্যাদের প্রতি রাতে তা পাঠ করার নির্দেশ দিতেন। শুআব আল-ইমান গ্রন্থে আল-বায়হাকী বর্ণনা করেছেন
৪২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৮৪
قال: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! علمني شيئا فقال ستقرأ ثلاث سور من السور الكاملة من الألف لا مارا. فقال ذلك الرجل يا رسول الله! أنا كبير في السن، "وعائي" صلب و"لساني" متصلب (أي - لا أحفظ). ثم قال صلى الله عليه وسلم: ثم تقرأ ثلاث سور بين السور مع الحميم. مرة أخرى أجاب الشخص كما كان من قبل. ثم قال يا رسول الله! ما عليك فعله هو الحصول على بطاقة الائتمان الخاصة بك خامسا. ثم قرأ عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم سورة العز الزلزلة حتى ختمها. فقال الرجل: والذي بعثك بالنبي الحق لا أزيد على السورة شيئا بعد ذلك. ثم غادر الرجل من هناك. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أفلح الرجل، أفلح الرجل». (أحمد وأبو داود)[1]
বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে আরয করল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, আলিফ্ লা-ম রা- সম্পন্ন সূরাগুলো হতে তিনটি সূরা পড়বে। সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি বুড়ো হয়ে গেছি। আমার ‘কলব’ কঠিন ও ‘জিহবা’ শক্ত হয়ে গেছে (অর্থাৎ- আমার মুখস্থ হয় না)। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তাহলে তুমি হা-মীম যুক্ত সূরাগুলোর মধ্যকার তিনটি সূরা পড়বে। আবার সে ব্যক্তি আগের জবাবের মতো জবাব দিলো। তারপর বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে আপনি পরিপূর্ণ অর্থবহ একটি সূরা শিখিয়ে দিন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে ‘সূরা ইযা- যুলযিলাত’ শেষ পর্যন্ত পড়িয়ে দিলেন। তখন সে ব্যক্তি বলল, যিনি আপনাকে সত্য নাবী করে পাঠিয়েছেন, তাঁর শপথ, আমি (আপনার শিখানো) সূরার উপর কখনো আর কিছু বাড়াব না। এরপর লোকটি ওখান থেকে চলে গেল। এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি সফলতা লাভ করল, লোকটি সফলতা লাভ করল। (আহমদ ও আবূ দাঊদ)[১]
৪৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৮৫
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَلَا يَسْتَطِيعُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ أَلْفَ اٰيَةٍ فِىْ كُلِّ يَوْمٍ؟» قَالُوا: وَمَنْ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَقْرَأَ أَلْفَ اٰيَةٍ فِىْ كُلِّ يَوْمٍ؟ قَالَ: أَمَا يَسْتَطِيعُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ: ﴿أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ﴾ رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, তোমাদের কেউ কি দৈনিক (কুরআনের) এক হাজার আয়াত করে পড়তে পারে? সাহাবীগণ বললেন, কে আছে দৈনিক (কুরআনের) এক হাজার আয়াত করে পড়তে পারে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, তাহলে তোমাদের কেউ কি প্রত্যহ ‘সূরা আল হা-কুমুত্ তাকা-সুর’ পড়তে পারে না? (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
৪৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৮৬
وَعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ مُرْسَلًا عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: «مَنْ قَرَأَ ﴿قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴾ عَشَرَ مَرَّاتٍ بُنِىَ لَه بِهَا قَصْرٌ فِى الْجَنَّةِ وَمَنْ قَرَأَ عِشْرِينَ مَرَّةً بُنِىَ لَه بِهَا قَصْرَانِ فِى الْجَنَّةِ وَمَنْ قَرَأَهَا ثَلَاثِينَ مَرَّةً بُنِىَ لَه بِهَا ثَلَاثَةُ قُصُورٍ فِى الْجَنَّةِ». فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ : وَاللّٰهِ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ إِذَا لَنُكَثِّرَنَّ قُصُورَنَا. فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «اللّٰهُ أَوْسَعُ مِنْ ذٰلِكَ». رَوَاهُ الدَّارِمِىُّ
সাঈদ বিন আল-মুসায়্যাব থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি "বলো, 'তিনি আল্লাহ, এক'" দশবার পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে, যে ব্যক্তি বিশবার পাঠ করবে তার জন্য দুটি প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে তিনবার পাঠ করা হবে। জান্নাতে তার জন্য প্রাসাদ নির্মাণ করা হবে।” ওমর ইবনুল খাত্তাব বললেনঃ আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল, তাহলে আমরা আমাদের প্রাসাদকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেব। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তার চেয়েও বিস্তৃত।" আল দারিমি থেকে বর্ণিত
৪৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৮৭
قال النبي صلى الله عليه وسلم: من قرأ في ليلة مائة آية لم يرفع القرآن عليه في تلك الليلة شيئاً. ومن قرأ مائتي آية في ليلة كتب له ثواب ليلة واحدة. وأن من قرأ في الليل من خمسمائة إلى ألف آية كان له أجر كنتوار واحدة إذا استيقظ في الصباح. سألوا يا رسول الله! ما هو "kintwar"؟ قال (عليه السلام): وزن اثني عشر ألف دينار. (الدارمي)[1]
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে (কুরআনের) একশ’টি আয়াত পড়বে, ওই রাতে কুরআন তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উত্থাপন করবে না। আর যে ব্যক্তি রাতে দু’শত আয়াত পড়বে, তার জন্য এক রাতের ‘ইবাদাতের সাওয়াব লিখা হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে পাঁচশ’ হতে এক হাজার আয়াত পর্যন্ত পড়বে ভোরে উঠে সে এক ‘কিনত্বার’ সাওয়াব পাবে। তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এক ‘কিনত্বার’ কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবাব দিলেন, বারো হাজার দীনার সমান ওজন। (দারিমী)[১]
৪৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৯০
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ: إِنَّمَا مَثَلُ صَاحِبِ الْقُرْاٰنِ كَمَثَلِ صَاحِبِ الْإِبِلِ الْمُعَقَّلَةِ إِنْ عَاهَدَ عَلَيْهَا أَمْسَكَهَا وَإِنْ أَطْلَقَهَا ذَهَبَتْ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআনকে স্মৃতিতে ধারণকারীদের দৃষ্টান্ত হলো রশিতে বাঁধা উটের মতো। উটের প্রতি সব সময় লক্ষ্য রেখেই তাঁকে বেঁধে রাখা যেতে পারে। আর লক্ষ্য না রাখলে সে রশি ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
৪৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৯১
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اقرؤوا القرآن على القلب. وإذا تغير المزاج، أي إذا نقصت الفائدة فإنه يتركها. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মনের আকর্ষণ থাকা পর্যন্ত কুরআন পড়বে। মনের ভাব পরিবর্তিত হলে অর্থাৎ- আগ্রহ কমে গেলে তা ছেড়ে উঠে যাবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৪৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৯২
قال: سئل أنس رضي الله عنه كيف كانت قراءة النبي صلى الله عليه وسلم القرآن؟ قال: كانت تلاوته للقرآن متواصلة. ثم قرأ [أنس (رضي الله عنه)] بسم الله الرحمن الرحيم. هو "بسم الله الرحمن الرحيم". سحب "رحمة نير" وسحب "رحيم". (البخاري)[1]
তিনি বলেন, একবার আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরআন পাঠ কেমন ছিল? তিনি বললেন, তাঁর কুরআন পাঠ ছিল টানা টানা। তারপর তিনি [আনাস (রাঃ)] ‘বিস্মিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’ পড়লেন। তিনি ‘বিস্মিল্লা-হি’ টানলেন। ‘রহমা-নির’ টানলেন এবং ‘রহীম’-এ টানলেন। (বুখারী)[১]
৪৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৯৩
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الله يستمع لقراءة النبي من القرآن كما لا يستمع الله من حديث". (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন নাবীর সুর করে কুরআন পড়াকে আল্লাহ তা‘আলা যতটা কান পেতে শোনেন আর কোন কথাকে এতো কান পেতে শোনেন না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৫০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২১৯৬
وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ لِي رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ: «اقْرَأْ عَلَىَّ». قُلْتُ: أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ؟ قَالَ: «إِنِّىْ أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِىْ». فَقَرَأْتُ سُورَةَ النِّسَاءِ حَتَّى اتَيْتُ إِلٰى هٰذِهِ الْاٰيَةِ (فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلٰى هَؤُلَاءِ شَهِيْدًا) قَالَ: «حَسْبُكَ الْاٰنَ». فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ فَإِذَا عَيْنَاهُ تَذْرِفَانِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে বসে আমাকে বললেন, তুমি আমার সামনে কুরআন পড়ো (আমি তোমার কুরআন পড়া শুনব)। (তাঁর কথা শুনে) আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সামনে আমি কুরআন পড়ব? অথচ এ কুরআন আপনার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ কুরআন আমি অন্যের মুখে শুনতে পছন্দ করি। অতঃপর আমি সূরা আন্ নিসা পড়তে শুরু করলাম। আমি ‘‘তখন কেমন হবে আমি যখন প্রত্যেক উম্মাতের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকেও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করব এদের বিরুদ্ধে’’ এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এখন বন্ধ করো। এ সময় আমি তাঁর দিকে তাকালাম। দেখলাম তাঁর দু’ চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]