অধ্যায় ৪
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/৩৫
قال: لو كان المار أمام الصلاة يعلم عقوبة جريمه لكان أن يغوص تحت الأرض خير له من أن يمر بين يدي المصلي. بدلاً من كلمة "أفضل" في وصف آخر ظهرت كلمة "سهل جدًا". (المالك) [1]
তিনি বলেন, যদি সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানতো তার এই অপরাধের শাস্তি কি, তাহলে সে নিজের জন্য ভূগর্ভে ধ্বসে যাওয়াকে সলাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে যাবার চেয়েও উত্তম মনে করতো। অন্য এক বর্ণনায় ‘উত্তম’-এর স্থানে ‘বেশী সহজ’ শব্দ এসেছে। (মালিক)[১]
০২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০০০
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: العطاس، والنعاس، والتثاؤب، والحيض، والقيء، والرعاف في الصلاة من عمل الشيطان. (الترمذي) [1]
তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতের মাঝে হাঁচি আসা, তন্দ্রা আসা, হাই তোলা, মাসিক হওয়া, বমি হওয়া, নাক দিয়ে রক্ত নির্গত হওয়া শয়তান কর্তৃক আয়োজিত হয়। (তিরমিযী) [১]
০৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০০১
وَعَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ يُصَلِّىْ وَلِجَوْفِه أَزِيْزٌ كَأَزِيزِ الْمِرْجَلِ يَعْنِىْ: يَبْكِىْ\nوَعَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ يُصَلِّىْ وَلِجَوْفِه أَزِيْزٌ كَأَزِيزِ الْمِرْجَلِ يَعْنِىْ: يَبْكِىْ.\nوَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يُصَلِّىْ وَفِىْ صَدْرِه أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الرَّحَا مِنَ الْبُكَاءِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَرَوَى النَّسَائِيُّ الرِّوَايَةَ الْأُولى وَأَبُو دَاوُدَ الثَّانِيَة
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি সলাত আদায় করতেছিলেন এবং তাঁর ভিতর থেকে টগবগে আওয়াজ হচ্ছিল যেমন ডেগের ফুটন্ত পানির টগবগ আওয়াজ হয়। অর্থাৎ তিনি কান্নাকাটি করছিলেন।\nআর এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাত আদায় করতে দেখেছি। এমতাবস্থায় তাঁর সিনার মধ্যে চাক্কির আওয়াজের ন্যায় কান্নার আওয়াজ থাকত। (আহমাদ, নাসায়ী প্রথমাংশটুকু, আবূ দাঊদ দ্বিতীয়াংশটুকু বর্ণনা করেছেন) \n[১]
০৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০০২
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا قام أحدكم في الصلاة فلا يفرك بيديه الحجر. لأن الرحمة تسبقه. (أحمد، الترمذي، أبو داود، النسائي، ابن ماجه) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সলাতে দাঁড়াবে সে যেন হাত দিয়ে পাথর ঘষে না উঠায়। কেননা রহ্মাত তার সম্মুখ দিয়ে আগমন করে। (আহমাদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]
০৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০০৩
قال: رأى النبي صلى الله عليه وسلم غلاما لنا يقال له أفلح ينفخ عندما يسجد. فقال (عليه السلام): يا أفلح! أنت غبار وجهك. (الترمذي) [1]
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমদের ‘আফলাহ’ নামক গোলামকে দেখলেন যে, সে যখন সাজদায় যায় (তখন সাজদার স্থান সাফ করার জন্য) ফুঁ দেয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আফ্লাহ! তুমি তোমার চেহারাকে ধূলিময় করো। (তিরমিযী) [১]
০৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০০৪
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: القيام في الصلاة مقيد اليدين راحة لأهل النار. (شرح السنة) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতে কোমরে হাত বেঁধে দাঁড়ানো জাহান্নামীদের বিশ্রাম স্বরূপ। (শারহুস সুন্নাহ) [১]
০৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০০৬
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُصَلِّي تَطَوُّعًا وَالْبَابُ عَلَيْهِ مُغْلَقٌ فَجِئْتُ فَاسْتَفْتَحْتُ فَمَشى فَفَتَحَ لِي ثُمَّ رَجَعَ إِلى مُصَلَّاهُ وَذَكَرْتُ أَنَّ الْبَابَ كَانَ فِي الْقِبْلَةِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيُّ وَرَوَى النَّسَائِيّ نَحْوَه
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, আল্লাহ্ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: আল্লাহ্র রসূল, আল্লাহ্ তাঁর উপর বরকত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে শান্তি দান করুন, তিনি স্বেচ্ছায় প্রার্থনা করছিলেন এবং তাঁর জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমি এসে এটি খুললাম এবং তিনি হেঁটে গেলেন এবং এটি আমার জন্য খুলে গেল। তারপর তিনি তার নামাযের স্থানে ফিরে গেলেন এবং আমি উল্লেখ করলাম যে দরজাটি কিবলার দিকে মুখ করে ছিল। এটি আহমাদ, আবু দাউদ এবং আল-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং আল-নাসায়ী অনুরূপ কিছু বর্ণনা করেছেন।
০৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০০৭
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا تنفس أحدكم في الصلاة، فليرجع فليتوضأ، وليصل مرة أخرى. (أبو داود؛ كما أن الإمام الترمذي اختصر هذا الحديث وصفه قليلاً.) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ সলাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ যখন নিঃশব্দে বাতাস বের করে, সে যেন ফিরে গিয়ে উযূ করে এসে পুনরায় সলাত আদায় করে নেয়। (আবূ দাঊদ; এ বর্ণনাটিকে ইমাম তিরমিযীও কিছু বেশ কম করে বর্ণনা করেছেন।) [১]
০৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০০৮
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: إِذَا أَحْدَثَ أحَدُكُمْ فِي صَلَاتِه فَلْيَأْخُذْ بِأَنْفِه ثُمَّ لِيَنْصَرِفْ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সলাতে উযূ ভঙ্গ করে ফেলে সে যেন তার নাক চেপে ধরে তারপর সলাত ছেড়ে চলে আসে। (আবূ দাঊদ) [১]
১০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০০৯
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا وصل أحدكم إلى آخر مجلس، ثم توضأ قبل أن يرد السلام، فقد صحت صلاته. (الترمذي؛ قال: مصدر هذا الحديث ليس بالقوي، ورجاله من المحدثين يرون أن هناك خلطًا بين المصادر).[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন শেষ বৈঠকের শেষ পর্যায় উপনীত হয়, আর সালাম ফিরানোর আগে উযূ ভঙ্গ হয়ে যায়, তবুও তার সলাত বৈধ হবে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটির সূত্র শক্তিশালী নয় এবং তার সূত্রের মাঝে গণ্ডগোল মনে করছেন হাদীস বিশারদগণ।) [১]
১১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০১০
قال: خرج النبي صلى الله عليه وسلم ليصلي. فلما كبر رجع صلى الله عليه وسلم وأشار إلى أصحابه فقال: "كونوا كما أنتم". ثم خرج (عليه السلام). أخذ حماما. ثم جاءت في هذه الحالة قطرات الماء تتساقط من شعره. وكان يصلي مع أصحابه. فلما قضى الصلاة استهدف (عليه السلام) أصحابه فقال: إني نجس. لقد نسيت الاستحمام. (أحمد) [1]
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায়ের জন্যে বের হলেন। যখন তাকবীর দিলেন তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেছনের দিকে ফিরলেন এবং সাহাবীদেরকে ইশারা করে বললেন, তোমরা যেভাবে আছো সেভাবে থাকো। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে গেলেন। গোসল করলেন। তারপর আসলেন। এমতাবস্থায় তার চুল থেকে পানির ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছিল। তিনি সহাবীদের নিয়ে সলাত আদায় করলেন। তারপর যখন সলাত শেষ করলেন তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি অপবিত্র ছিলাম। গোসল করতে ভুলে গিয়েছিলাম। (আহ্মা্দ) [১]
১২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০১১
والحديث رواه الإمام مالك عطا بن يسار (رضي الله عنه) مرسلاً. [1]
হাদীসটি ইমাম মালিক ‘আত্বা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে মুরসালরুপে বর্ণনা করেছেন। [১]
১৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০১২
وَعَنْ جَابِرِ قَالَ: كُنْتُ أُصَلِّي الظُّهْرَ مَعَ رَسُولِ اللّهِ ﷺ فَآخُذُ قَبْضَةً مِّنَ الْحَصى لِتَبْرُدَ فِىْ كَفِّىْ أَضَعُهَا لِجَبْهَتِي أَسْجُدُ عَلَيْهَا لِشِدَّةِ الْحَرِّ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوُدَ وَرَوَى النَّسَائِيّ نَحْوَه
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে যুহরের সলাত আদায় করতাম। আমি এক মুষ্টি পাথর হাতে নিতাম আমার হাতের তালুতে শীতল করারা জন্যে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচার জন্যে এ পাথরগুলোকে সাজদার স্থানে রাখতাম। (আবূ দাঊদ, নাসায়ীতে অনুরূপ) [১]
১৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০১৩
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَامَ رَسُوْلُ اللّهِ ﷺ فَسَمِعْنَاهُ يَقُوْلُ: «أَعُوْذُ بِاللّهِ مِنْكَ» ثُمَّ قَالَ: «أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللّهِ» ثَلَاثًا وَبَسَطَ يَدَه كَأَنَّه يَتَنَاوَلُ شَيْئًا فَلَمَّا فَرَغَ مِنَ الصَّلَاةِ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللّهِ قَدْ سَمِعْنَاكَ تَقُولُ فِي الصَّلَاةِ شَيْئًا لَمْ نَسْمَعْكَ تَقُولُه قَبْلَ ذلِكَ وَرَأَيْنَاكَ بَسَطْتَ يَدَكَ قَالَ: «إِنَّ عَدُوَّ اللّهِ إِبْلِيسَ جَاءَ بِشِهَابٍ مِنْ نَارٍ لِيَجْعَلَه فِي وَجْهِي فَقُلْتُ أَعُوذُ بِاللّهِ مِنْكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. ثُمَّ قُلْتُ: أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللّهِ التَّامَّةِ فَلَمْ يَسْتَأْخِرْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَرَدْتُ أَخْذَه وَاللّهِ لَوْلَا دَعْوَةُ أَخِينَا سُلَيْمَانَ لَأَصْبَحَ مُوثَقًا يَلْعَبُ بِه وِلْدَانُ أَهْلِ الْمَدِينَة». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবু আল-দারদা'র সূত্রে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন এবং আমরা তাঁকে বলতে শুনেছি: "আমি তোমার থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই," তারপর তিনি বললেন: "আমি তোমাকে আল্লাহর অভিশাপ দিয়ে অভিশাপ দিচ্ছি" তিনবার। তিনি তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন যেন তিনি কিছু ধরে আছেন, এবং যখন তিনি নামায শেষ করলেন, তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনাকে নামাযের সময় এমন কিছু বলতে শুনেছি যা আমরা শুনতে পাইনি। তার আগেই তুমি বল, আর আমরা তোমাকে হাত মেলে দেখলাম। তিনি বললেন: "আসলে, ঈশ্বরের শত্রু শয়তান একটি গুলি করার তারকা নিয়ে এসেছিল যাতে এটি আমার মুখে লাগানো যায়, তাই আমি বলেছিলাম, আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই।" তোমার কাছ থেকে তিনবার। তখন আমি বললামঃ আমি তোমাকে আল্লাহর সম্পূর্ণ অভিশাপ দিয়ে অভিশাপ দিচ্ছি। তিনবার দেরি করলেন না। তারপর আমি তাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, ঈশ্বরের কসম, যদি এটি একটি আমন্ত্রণ না হয়। আমাদের ভাই শলোমন শহরের ছেলেমেয়েদের সাথে খেলার জন্য আবদ্ধ হয়েছিলেন।” মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
১৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০১৪
وَعَنْ نَافِعٍ قَالَ: إِنَّ عَبْدَ اللّهِ بْنَ عُمَرَ مَرَّ عَلى رَجُلٍ وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَرَدَّ الرَّجُلُ كَلَامًا فَرَجَعَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللّهِ بْنُ عُمَرَ فَقَالَ لَه: إِذَا سُلِّمَ عَلى أحَدِكُمْ وَهُوَ يُصَلِّي فَلَا يَتَكَلَّمْ وَلْيُشِرْ بِيَدِه. رَوَاهُ مَالك
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গমন করলেন, তখন সে সলাত আদায় করছিল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তাকে সালাম প্রদান করলেন। সে ব্যক্তি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সালামের উত্তর স্বশব্দে দিলো। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তার নিকট ফিরে গেলেন এবং বললেন, তোমাদের কোন লোককে সলাতরত অবস্থায় সালাম দেয়া হলে তার উত্তর স্বশব্দে দিতে নেই, বরং নিজের হাত দিয়ে ইশারা করবে। (মালিক) [১]
১৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০১৭
(قال) فصلى رسول الله صلى الله عليه وسلم الظهر في خمس ركعات. فقيل له: زادت الصلاة؟ فسأل (عليه السلام) ماذا حدث؟ فقال الصحابة تصلي خمسا فصلى ركعات. فسجد (عليه السلام) بعد السلام سجدتين. وفي مصدر آخر قوله صلى الله عليه وسلم: وأنا بشر. كما ترتكب الأخطاء، فأنا مخطئ أيضًا. إذا كنت مخطئًا، فسوف تذكرني. إذا شك أحدكم في الصلاة فليفكر في الصواب، وليتم الصلاة على الظن الصحيح. ثم يسلم ويسجد سجدتين. (البخاري، مسلم) [1]
(তিনি বলেন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত পাঁচ রাক্‘আত আদায় করে নিলেন। তাঁকে বলা হলো, সলাত কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রশ্ন করলেন, কি হয়েছে? সহাবীরা বললেন, আপনি সলাত পাঁচ রাক্‘আত আদায় করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাম ফিরানোর পরে দু’ সাজদাহ্ করে নিলেন। আর এক সূত্রে এ শব্দগুলোও আছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আমিও একজন মানুষ। তোমাদের যেমন ভুল হয়, আমারও তেমন ভুল হয়। আমি ভুল করলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। তোমাদের কেউ সলাতে সন্দেহ করলে সে যেন সঠিকটি চিন্তা-ভাবনা করে এবং সে সঠিক চিন্তার উপর সলাত পূর্ণ করে। তারপর সে যেন সালাম ফিরিয়ে দু’টো সাজদাহ্ করে। (বুখারী, মুসলিম) [১]
১৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০১৯
وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم الصحابة بصلاة الظهر. وقرأ الركعتين الأوليين (الركعة الثالثة إلا الجلوس في اللقاء الأول) قائما لا جالسا. ووقف معه آخرون أيضاً. وحتى إذا قضى الصلاة وانتظر الناس أن يرد السلام كبر صلى الله عليه وسلم جالسا فسجد سجدتين قبل أن يسلم ثم رد السلام. (البخاري، مسلم) [1]
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহাবীদেরকে যুহরের সলাত আদায় করালেন। তিনি প্রথম দু’ রাক্‘আত পড়ে (প্রথম বৈঠকে বসা ছাড়া তৃতীয় রাক্‘আতের জন্য) দাঁড়িয়ে গেলেন, বসলেন না। অন্যান্যরাও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেলেন। এমনকি সলাত যখন শেষ করলেন এবং লোকেরা সালাম ফিরাবার অপেক্ষা করলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসা অবস্থায় তাকবীর দিলেন এবং সালাম ফিরাবার পূর্বে দু’টি সাজদাহ্ করলেন, তারপর সালাম ফিরালেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
১৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০২০
وقد صلى معهم النبي صلى الله عليه وسلم. أخطأ في وسط الصلاة. وقدم سجدتين. ثم قرأ التحية ورد السلام. (الإمام الترمذي، قال: هذا حديث حسن غريب) [١]
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিয়ে সলাত আদায় করলেন। সলাতের মাঝে তাঁর ভুল হয়ে গেলো। তিনি দু’টি সাজদাহ্ দিলেন। তারপর তিনি আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করলেন এবং সালাম ফিরালেন। (ইমাম তিরমিযী; তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি হাসান গরীব) [১]
১৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০২১
وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: إِذَا قَامَ الْإِمَامُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ فَإِنْ ذَكَرَ قَبْلَ أَنْ يَسْتَوِيَ قَائِمًا فَلْيَجْلِسْ وَإِنِ اسْتَوى قَائِمًا فَلَا يَجْلِسْ وَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيِ السَّهْوِ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
আল-মুগীরাহ ইবনে শুবা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম যদি দুই রাকাতে দাঁড়ায়, তাহলে দাঁড়ানোর পূর্বে যদি তার মনে পড়ে তবে তাকে দাঁড়াতে হবে। তাকে বসতে দাও, কিন্তু যদি সে সোজা হয়ে দাঁড়ায়, তবে সে যেন না বসে এবং সে যেন বিস্মৃত হয়ে দুই সিজদা করে। আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ থেকে বর্ণিত
২০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০২৩
وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُول: «مَنْ صَلّى صَلَاةً يَشُكُّ فِي النُّقْصَانِ فَلْيُصَلِّ حَتّى يَشُكَّ فِي الزِّيَادَةِ» . رَوَاهُ أَحْمدُ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, সলাত আদায় করতে যে ব্যক্তি কম (রাক্‘আত) পড়ার সন্দেহ করে, সে যেন সলাত আদায় করে যতক্ষণ পর্যন্ত বেশী আদায়ের সন্দেহ না করে। (আহ্মাদ) [১]
২১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০২৪
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سَجَدَ النَّبِيُّ ﷺ بِالنَّجْمِ وَسَجَدَ مَعَهُ الْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ وَالْجِنُّ وَالْإِنْسُ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরাহ্ আন্ নাজ্ম- এ সাজদাহ্ করেছেন। তার সাথে মুসলিম, মুশরিক, জিন্ ও মানুষ সাজদাহ্ করেছে। (বুখারী) [১]
২২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০২৫
قال: سجدنا مع النبي صلى الله عليه وسلم على سورة الانشقاق وسورة العلق. (مسلم) [1]
তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সূরাহ্ ইনশিক্বাক্ব ও সূরাহ্ আল ‘আলাক্ব-এ সাজদাহ্ করেছি। (মুসলিম) [১]
২৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০২৭
قال قرأت سورة النظام بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم. ولم يسجد له. (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সম্মুখে সূরাহ্ নাজম পাঠ করেছি। তিনি এতে সাজদাহ্ করেননি। (বুখারী, মুসলিম) [১]
২৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০২৮
فقال: سجدة سورة سعد ليست بواجبة. وطبعاً رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يسجد لهذه السورة. [1]
তিনি বলেন, সূরাহ্ সাদ-এর সাজদাহ্ বাধ্যতামূলক নয়। অবশ্য আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সূরায় সাজদাহ্ করতে দেখেছি। [১]
২৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০২৯
وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ مُجَاهِدٌ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: أَأَسْجُدُ فِي (ص)؟ فَقَرَأَ: ﴿وَمِنْ ذُرِّيَّتِه دَاوٗدَ وَسليمنَ﴾ [الأنعام 6 : 84] حَتّى أَتى ﴿فَبِهُدهُمْ اَقْتَدِهْ﴾ [سورة الأنعام 6 : 90] ، فَقَالَ: نَبِيُّكُمْ ﷺ مِمَّنْ أَمِرَ أَن يَقْتَدِيَ بِهِمْ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
আমি 'আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সূরাহ্ সাদ-এ সাজদাহ্ করবো কি-না? উত্তরে তিনি (ইবনু ‘আব্বাস) “তাঁর বংশধরের মধ্যে থেকে দাঊদ ও সুলায়মান” পাঠ করতে করতে এই বাক্য পৌঁছলেন- “সুতারাং তুমি তাদের পথ অনুসরণ কর”- (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৮৪-৯০)। অতঃপর বললেন, তোমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ লোকদের মধ্যে গণ্য যাদের প্রতি আগের নাবীর আনুগত্য করার নির্দেশ ছিল। (বুখারী) [১]
২৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৩১
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللّهِ فُضِّلَتْ سُورَةُ الْحَجِّ بِأَنَّ فِيهَا سَجْدَتَيْنِ؟ قَالَ: «نَعَمْ وَمَنْ لَمْ يَسْجُدْهُمَا فَلَا يَقْرَأْهُمَا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُه بِالْقَوِيِّ. وَفِي «الْمَصَابِيحِ» : «فَلَا يَقْرَأْهَا» كَمَا فِي شَرْحِ السُّنَّةِ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! সূরাহ্ আল হাজ্জ-এর কি দু’টি সাজদাহ্ করার কারণে এমন মর্যাদা? জবাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যাঁ। যে ব্যক্তি এ দু’টি সাজদাহ্ করবে না সে যেন এ দু’টি আয়াত তিলাওয়াত না করে। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসের সূত্র মজবুত নয়। আর মাসাবীহ হতে শারহুস্ সুন্নাহ্র মতো “সে দু'’টো সাজদার আয়াত যেন না পড়ে”-এর স্থলে “'তাহলে সে যেন এ সূরাকে না পড়ে” এসেছে।) [১]
২৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৩২
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ سَجَدَ فِىْ صَلَاةِ الظُّهْرِ ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ فَرَأَوْا أَنَّه قَرَأَ تَنْزِيْلَ السَّجْدَةَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাতে সাজদাহ্ করলেন, তারপর কিয়াম করলেন। তারপর রুকূ’ করলেন। মানুষেরা মনে করলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তানযীল আস্ সাজদাহ্ সূরাহ পড়েছেন। (আবূ দাঊদ) [১]
২৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৩৩
قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ بين أيدينا القرآن. وكان إذا وصل إلى آية السجدة يسجد بالتكبير. وكنا نسجد معه. (أبو داود) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সামনে কুরআন মাজীদ পাঠ করতেন। যখন সাজদার আয়াতে পৌছতেন তাকবীর বলে সাজদাহ্ দিতেন। আমরাও তাঁর সাথে সাজদাহ্ করতাম। (আবূ দাঊদ) [১]
২৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৩৪
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّه قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَرَأَ عَامَ الْفَتْحِ سَجْدَةً فَسَجَدَ النَّاسُ كُلُّهُمْ مِنْهُمُ الرَّاكِبُ وَالسَّاجِدُ عَلَى الْأَرْضِ حَتَّى إِنَّ الرَّاكِبَ لَيَسْجُدُ عَلى يَدِه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিজয়ের বছরে একটি সিজদা পাঠ করেছিলেন এবং সওয়ারী এবং মাটিতে সিজদা করা ব্যক্তি সহ সকলেই সিজদা করেছিলেন, যাতে আরোহী হাতের উপর সেজদা করে। আবু দাউদ থেকে বর্ণিত
৩০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৩৬
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يَقُولُ فِي سُجُودِ الْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ: «سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَه وَشَقَّ سَمْعَه وَبَصَرَه بِحَوْلِه وَقُوَّتِه» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে তিলাওয়াতের সাজদায় এ দু‘আ পড়তেনঃ “সাজাদা ওয়াজ্হিয়া লিল্লাযী খলাক্বাহূ ওয়া শাক্বা সাম্‘আহু ওয়া বাসারাহূ বিহাওলিহী ওয়া ক্যুওয়াতিহী” (অর্থাৎ আমার চেহারা ওই জাতে পাককে সাজদাহ্ করল যিনি একে সৃষ্টি করেছে। নিজের শক্তি ও কুদরতের দ্বারা তাতে কান ও চোখ দিয়েছেন)। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ) [১]
৩১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৩৮
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَرَأَ (وَالنَّجْمِ)، فَسَجَدَ فِيهَا وَسَجَدَ مَنْ كَانَ مَعَه غَيْرَ أَنَّ شَيْخًا مِنْ قُرَيْشٍ أَخَذَ كَفًّا مِنْ حَصًى أَوْ تُرَابٍ فَرَفَعَه إِلى جَبْهَتِه وَقَالَ: يَكْفِيْنِىْ هذَا. قَالَ عَبْدُ اللّهِ: فَلَقَدْ رَأَيْتُه بَعْدُ قُتِلَ كَافِرًا. وَزَادَ الْبُخَارِيُّ فِي رِوَايَةٍ: وَهُوَ أُمَيَّةُ بْنُ خَلْفٍ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘সূরাহ্ আন্ নাজম’ তিলাওয়াত করলেন এবং তাতে সাজদাহ্ করলেন। তাঁর কাছে যেসব মানুষ ছিলেন তারাও সাজদাহ্ করলো। কিন্তু কুরায়শ বংশের এক বৃদ্ধ পাথর অথবা এক মুষ্টি মাটি নিয়ে নিজের কপালের দিকে উঠাল এবং বলল, আমার জন্যে এটাই যথেষ্ট হবে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘'উদ (রাঃ) বলেন, আমি এ ঘটনার পর দেখেছি ঐ বৃদ্ধ মানুষটিকে কুফ্রী অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম; বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, সে বুড়া লোকটি ছিল উমাইয়্যাহ্ বিন খাল্ফ।) [১]
৩২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৩৯
قال: سجد النبي صلى الله عليه وسلم في سورة سعد وقال: سجد داود (ع) في سورة سعد لإجابة الدعاء. وننحني امتنانًا لتوبته. (النسائي) [1]
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরাহ্ সাদ-এ সাজদাহ্ করেছেন এবং বলেছেন, দাঊদ (আঃ) সূরায়ে সাদ-এর সাজদাহ্ দু‘আ কবুলের জন্যে করেছেন। আর আমরা তার তাওবাহ্ কবূলের কৃতজ্ঞতা স্বীকারস্বরূপ সাজদাহ্ করছি। (নাসায়ী) [১]
৩৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৪০
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يحرص أحدكم على الصلاة عند طلوع الشمس أو غروبها. وقال في لغة الوصف: "إذا طلعت الشمس انقطعت الصلاة عن الصلاة حتى لا تنجلي الشمس. وكذلك إذا غربت الشمس انقطعت الصلاة حتى تغرب الشمس تماما. ولا ترغبوا في الصلاة وقت طلوع الشمس وغروبها، فإن الشمس لها قرنان من الشيطان يطلع من وسطهما" (البخاري ومسلم) [1] .
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সূর্য উদয়ের ও অস্ত যাওয়ার সময় সলাত আদায়ের জন্য অন্বেষণ না করে। একটি বর্ণনার ভাষা হলো, তিনি বলেছেন, “যখন সূর্য গোলক উদিত হয় তখন সলাত ত্যাগ করবে, যে পর্যন্ত সূর্য বেশ স্পষ্ট হয়ে না উঠবে। ঠিক এভাবে আবার যখন সূর্য গোলক ডুবতে থাকে তখন সলাত আদায় করা থেকে বিরত থাকবে, যে পর্যন্ত সূর্য সম্পূর্ণভাবে ডুবে না যায়। আর সূর্য উঠার ও অস্ত যাওয়ার সময় সলাতের ইচ্ছা করবে না। কারণ সূর্য শায়ত্বনের দু’ শিং-এর মধ্যখান দিয়ে উদয় হয়। (বুখারী, মুসলিম) [১]
৩৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৪১
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: ثَلَاثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيْهِنَّ أَو نَقْبُرَ فِيْهِنَّ مَوْتَانَا: حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتّى تَمِيْلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتّى تَغْرُبَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি বলেন, তিন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাত আদায় করতে ও মুর্দা দাফন করতে আমাদেরকে বারণ করেছেন। প্রথম হলো সূর্য উদয়ের সময়, যে পর্যন্ত না তা সম্পূর্ণ উদিত হয়। দ্বিতীয় হলো দুপুরে একবারে সূর্য ঠিক স্থির হওয়ার সময় থেকে সূর্য ঢলার আগ পর্যন্ত। আর তৃতীয় হলো সূর্য ডুবে যাবার সময় যে পর্যন্ত না তা ডুবে যায়। (মুসলিম) [১]
৩৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৪২
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا صلاة بعد صلاة الفجر حتى تطلع الشمس. ولا صلاة بعد صلاة العصر حتى تغرب الشمس. (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ ফাজ্রের সলাতের পর সূর্য উঠে উপরে চলে না আসা পর্যন্ত আর কোন সলাত নেই। আর ‘আস্রের সলাতের পর সূর্য না ডুবা পর্যন্ত কোন সলাত নেই। (বুখারী, মুসলিম) [১]
৩৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৪৬
وَعَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: «يَا بَنِىْ عَبْدَ مَنَافٍ لَا تَمْنَعُوْا أَحَدًا طَافَ بِهذَا الْبَيْتِ وَصَلّى أَيَّةَ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيّ
মহানাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে ‘আব্দ মানাফ-এর সন্তানেরা! তোমরা কাউকে এ ঘরের (খানায়ে কাবার) তাওয়াফ করতে এবং রাত-দিনের যে সময় মনে ইচ্ছা হয় এতে সলাত আদায় করতে নিষেধ করো না (তাকে সলাত আদায় করতে দাও)। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
৩৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৪৮
قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يكره صلاة الظهر حتى تغرب الشمس إلا يوم الجمعة. وقال أيضاً: تسخن جهنم ظهراً كل يوم إلا الجمعة. [أبو داود؛ قال - ولم يلق أبو الخليل أبا قتادة (رضي الله عنه) (فهذا الحديث ليس بسند متسائل).] [1]
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঠিক দুপুরে সলাত আদায় করাকে মাকরূহ মনে করতেন, যে পর্যন্ত না সূর্য ঢলে যায়, একমাত্র জুমু‘আর দিন ছাড়া। তিনি আরো বলেন, জুমু‘আর দিন ব্যতীত প্রতিদিন দুপুরে জাহান্নামকে গরম করা হয়। [আবূ দাঊদ; তিনি বলেছেন- আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)-এর সাথে আবুল খলীলের সাক্ষাৎ হয়নি (তাই এ হাদীসের সানাদ মুত্তাসিল নয়)।] [১]
৩৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৫০
قال: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نصلي صلاة العصر في مكان يقال له المخمس. ثم قال: إن هذه الصلاة كتبت على من كان قبلكم فأفسدوها. فمن حافظ على هذه الصلاة فله أجر مرتين. (وقال أيضًا: لا صلاة بعد صلاة العصر حتى يقوم الشهيد). وشاهد نجم. (مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে মুখাম্মাস নামক স্থানে ‘আস্রের সলাত আদায় করালেন। তারপর বললেন, এ সলাতটি তোমাদের পূর্বের মানুষের উপরও অবশ্য পালনীয় বিধান করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা নষ্ট করে দিয়েছে। কাজেই যে লোক এ সলাতরে ব্যাপারে যত্নবান হবে সে দ্বিগুণ প্রতিদান পাবে। (তিনি এ কথাও বলেছেন,) ‘আস্রের সলাত আদায় করার পর আর কোন সলাত নেই, যে পর্যন্ত শাহিদ উদিত না হবে। আর শাহিদ হলো তারকা। (মুসলিম) [১]
৩৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৫১
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: إِنَّكُمْ لَتُصَلُّوْنَ صَلَاةً لَقَدْ صَحِبْنَا رَسُولَ اللّهِ ﷺ فَمَا رَأَيْنَاهُ يُصَلِّيهِمَا وَلَقَدْ نَهى عَنْهُمَا يَعْنِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ. رَوَاهُ البُخَارِيُّ
তিনি মানুষদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, তোমরা তো একটি সলাত আদায় করছ। আর আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সঙ্গ পেয়েছি। তবে আমরা তাঁকে এ দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করতে দেখিনি। বরং তিনি তো ‘আস্রের সমাপ্তির পরে এ দু’ রাক্‘আত সলাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী) [১]
৪০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৫২
ووقف على باب الكعبة وقال من عرفني فقد عرفني. ومن لا يعرفني فليعلم أني جندب. سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: بعد صلاة الفجر قبل طلوع الشمس. حتى صلاة العصر وبعدها حتى غروب الشمس لا صلاة إلا في مكة فقط في مكة فقط في مكة. (أحمد، راين) [1]
তিনি কাবা ঘরের দরজার উপর উঠে বলেছেন, যিনি আমাকে জানেন তিনি তো জানেনই। আর যারা আমাকে জানেন না তারা জেনে রাখুক, আমি ‘জুনদুব’। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, ফাজ্রের সলাত আদায় করার পর সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত এবং ‘আস্রের সলাতের পর সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কোন সলাত নেই, একমাত্র মাক্কায়, একমাত্র মাক্কায়, একমাত্র মাক্কায়। (আহ্মাদ, রযীন) [১]
৪১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৫৩
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلَاةَ الْفَذِّ بِسْبَعٍ وَعِشْرِيْنَ دَرَجَةً». (مُتَّفق عَلَيْهِ)
ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জামাতের নামায ব্যক্তিগত নামাযের চেয়ে 27 ডিগ্রি দ্বারা শ্রেষ্ঠ।" (সম্মত)
৪২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৫৪
قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: والذي نفسي بيده. اعتقدت أنني سأطلب من بعض (الخادم) أن يجمع الحطب. عندما يتم جمع الحطب، سأأمر بالصلاة (العشاء). الأذان للصلاة عند الانتهاء، سأأمر شخصًا ليؤم الصلاة. ثم سأخرج للبحث عن هؤلاء الناس (الذين لم يأتوا للصلاة في الجماعة دون سبب). وفي مصدر آخر: قال الرسول صلى الله عليه وسلم: لآتين قوماً لا يصلون فأحرقهم وبيوتهم. والذي نفسي بيده مقيدة! وإذا علم أحد ممن لا يحضر صلاة الجماعة أنه يوجد في المسجد عظم مع لحم أو ظلفين جيدين، فإنه يجب عليه أن يحضر صلاة العشاء. (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ ঐ পবিত্র সত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার জীবন নিবদ্ধ। আমি মনে করেছি কোন (খাদিমকে) লাকড়ি জোগার করার আদেশ করব। লাকড়ি জোগার করা হলে আমি (‘ইশার) সলাতের আযান দিতে আদেশ করব। আযান হয়ে গেলে সলাতের ইমামতি করার জন্যে কাউকে আদেশ করব। তারপর আমি ঐসব লোকের খোঁজে বের হবো (যারা কোন কারণ ছাড়া জামা‘আতে সলাত পড়ার জন্য আসেনি)। অপর সূত্রে আছেঃ রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করলেন, আমি ঐসব লোকের কাছে যাবো যারা সলাতে হাযির হয় না এবং আমি তাদেরকে ঘরবাড়ীসহ জ্বালিয়ে দেব। সে সত্বার কসম যার হাতে আমার জীবন আবদ্ধ! যারা সলাতের জামা‘আতে অংশ গ্রহণ করে না তাদের কোন ব্যক্তি যদি জানে যে, মাসজিদে মাংস সহ হাড় অথবা (গাভী ও বকরীর) দু’টি ভাল খুর পাওয়া যাবে, তাহলে সে অবশ্যই ‘ইশার সলাতে উপস্থিত হয়ে যেত। (বুখারী, মুসলিম) [১]
৪৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৫৬
لقد أذن بالصلاة في ليلة شتوية باردة في نهر بارد. لا مزيد من المعلومات, شكرا! صلوا في بيوتكم. ثم قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمر المؤذن فيؤذن في الليالي الباردة الممطرة. بعد أن أعطى كما لو كان يقول: "احذر!" صلوا في مواقفكم الخاصة. (البخاري، مسلم) [1]
তিনি এক শৈত্য প্রবাহে শীতের রাতে সলাতের আযান দিলেন। আযান দেয়ার পর তিনি বললেন, সাবধান! তোমরা নিজ নিজ আবাসে সলাত আদায় কর। এরপর বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঠাণ্ডা শীত-বৃষ্টি মুখর রাতে মুয়ায্যিনকে আদেশ দিতেন সে আযান দেয়ার পর যেন বলে দেয়, ‘সাবধান! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে সলাত আদায় কর।’ (বুখারী, মুসলিম) [১]
৪৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৫৮
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُوْلُ: لَا صَلَاةَ بِحَضْرَةِ طَعَامٍ وَلَا هُوَ يُدَافِعُهُ الْأَخْبَثَانِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইরশাদ করতে শুনেছিঃ খাবার সামনে রেখে কোন সলাত নেই এবং দু’ অনিষ্ট কাজ (পায়খানা-পেশাব) চেপে রেখেও কোন সলাত নেই। (মুসলিম) [১]
৪৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৬১
وقد أوصانا رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تتطيب امرأة منكم إذا خرجت إلى المسجد. (مسلم) [1]
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন নারী মাসজিদে গেলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে। (মুসলিম) [১]
৪৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৬৩
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تمنعوا أزواجكم المسجد. ولكن البيت خير لهم من الصلاة. (أبو داود) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে মাসজিদে আসতে নিষেধ করো না। তবে সলাত আদায়ের জন্য তাদের জন্যে ঘরই উত্তম। (আবূ দাঊদ) [১]
৪৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৬৪
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: صَلَاةُ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَا فِي حُجْرَتِهَا وَصَلَاتُهَا فِي مَخْدَعِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلَاتِهَا فِي بَيْتِهَا . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: একজন মহিলার ঘরে তার নামায তার ঘরে নামায এবং তার শোবার ঘরে তার নামাযের চেয়ে উত্তম। তার চেয়ে ঘরে নামাজ পড়া উত্তম। আবু দাউদ থেকে বর্ণিত
৪৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৬৬
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كل عين زانية. والمرأة التي تتطيب وتذهب إلى مجلس الرجال فكذلك أي زانية. (الترمذي، وأبو داود، والنسائي) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ প্রতিটি চক্ষুই ব্যভিচারী। আর যে মহিলা সুগন্ধি দিয়ে পুরুষদের সভায় যায় সে এমন এমন অর্থাৎ ব্যভিচারকারিণী। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
৪৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৬৭
قال: صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم الفجر. فرد (عليه السلام) السلام، وقال: هل حضر فلان؟ فقال الصحابة: لا، فقال صلى الله عليه وسلم: فهل حضر فلان؟ قال الصحابة: لا، ثم قال صلى الله عليه وسلم: «إن هاتين الصلاتين (الفجر والعشاء) في سائر الصلوات شاقتان على المنافقين». فإذا كنت تعلم كم بين هاتين الصلاتين من الفضيلة، فعليك أن تصلي ولو كنت جاثيا على ركبتيك. الصف الأول من الصلاة مثل صف الملائكة. إذا كنت تعرف فضائل الصف الأول، فحاول الوصول مبكرًا للمشاركة. والصلاة منفرداً مع غيره أفضل من الصلاة منفرداً. وإذا صليت مع اثنين فلك أجر أكبر من صلاتك مع شخص واحد. وكلما كثرت الصلاة جماعة كلما كانت عند الله محبوبة (أبو داود، النسائي) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন আমাদেরকে নিয়ে ফাজ্রের সলাত আদায় করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাম ফিরানোর পর বললেন, অমুক লোক কি হাযির আছে? সহাবীগণ বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুণরায় বললেন, অমুক লোক কি হাযির আছে? সহাবীগণ বললেন, না। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সব সলাতের মাঝে এ দু’টি সলাত (ফাজ্র ও ‘ইশা) মুনাফিক্বদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য। তোমরা যদি জানতে এ দু’টি সলাতের মাঝে কত পুণ্য, তাহলে তোমরা হাঁটুর উপর ভর করে হলেও সলাতে আসতে। সলাতের প্রথম কাতার মালায়িকাহ্’র (ফেরেশ্তাদের) কাতারের মতো (মর্যাদাপূর্ণ)। তোমরা যদি প্রথম কাতারের ফাযীলাত জানতে তবে এতে অংশগ্রহণ করার জন্য তাড়াতাড়ি পৌছার চেষ্টা করতে। আর একা একা সলাত আদায় করার চেয়ে অন্য একজন লোকের সঙ্গে মিলে সলাত আদায় করা অনেক সাওয়াব। আর দু’জনের সাথে মিলে সলাত আদায় করলে একজনের সাথে সলাত আদায় করার চেয়ে অধিক সাওয়াব পাওয়া যায়। আর যত বেশী মানুষের সঙ্গে মিলে সলাত আদায় করা হয়, তা আল্লাহর নিকট তত বেশী প্রিয়। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]
৫০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১০৬৮
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: مَا مِنْ ثَلَاثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلَا بَدْوٍ لَا تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلَاةُ إِلَّا قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ الْقَاصِيَةَ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেনঃ যে গ্রামে বা জঙ্গলে তিনজন মানুষ বসবাস করবে, সে স্থানে জামা‘আতে সলাত আদায় করা না হলে তাদের ওপর শয়তান জয়ী হয়। অতএব তুমি জামা‘আতকে নিজের জন্যে অপরিহার্য করে নাও। কারণ দলচ্যুত ছাগলকে নেকড়ে বাঘ ধরে খেয়ে ফেলে। (আহ্মাদ, আবূ দাঊদ, নাসায়ী) [১]