অধ্যায় ১০
অধ্যায়ে ফিরুন
১০৭ হাদিস
০১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২২৮৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن لله تعالى واحدا وتسعين إلا مائة اسم. ومن حفظ هذه الأسماء دخل الجنة. وفي رواية أخرى: أنه يحب الغريب، الغريب. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার নিরানব্বই- এক কম একশ’টি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে। অপর বর্ণনায় আছে, তিনি বিজোড়, (তাই) বিজোড়কে ভালবাসেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
০২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২২৯০
বুরাইদাহ (রা)
قال: سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلاً يقول: «اللهم! أدعوك وأعلم أنك أنت الله. حقا لا إله إلا أنت. أنت واحد وفريد ​​من نوعه. إنك لا تصبر، إذا دعا أعطاه، وإذا دعا أجابه. (الترمذي، أبو داود)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং জানি যে, তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন মা‘বূদ নেই। তুমি এক ও অনন্য। তুমি অমুখাপেক্ষী ও স্বনির্ভর। যিনি কাউকে জন্মও দেননি। কারো থেকে জন্মও নন। যার কোন সমকক্ষ নেই।’ তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলাকে তার ইস্‌মে আ‘যম বা সর্বাধিক বড় ও সম্মানিত নামে ডাকল। এ নামে ডেকে তাঁর কাছে কেউ কিছু প্রার্থনা করলে, তিনি তাকে তা দান করেন এবং কেউ ডাকলে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[১]
০৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২২৯৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ (سبحان الله وبحمده) مائة مرة حين يصبح ومساء، بأحسن كلام منه يوم القيامة.
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় একশ’বার পড়বে ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’ (অর্থাৎ- আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে)- কিয়ামাতের দিন তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ বাক্য নিয়ে কেউ উপস্থিত হতে পারবে না, সে ব্যক্তি ব্যতীত যে এর সমপরিমাণ বা এর চেয়ে বেশি পড়বে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
০৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩০১
আবু যার গিফারী (রাঃ)
قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي الكلام أفضل؟ فلما سمع ذلك قال صلى الله عليه وسلم: كلمة الله لملائكته.
তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন্ কালাম (বাক্য) সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ? এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে কালাম আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মালায়িকাহ’র (ফেরেশতাগণের) জন্য পছন্দ করেছেন তা হলো, ‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়াবিহামদিহী’। (মুসলিম)[১]
০৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩০৩
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ في اليوم مائة مرة: لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير. على كل شيء)\n\nفأجره هو تحرير عشرة رقاب. كتبت له مائة حسنة، وغفرت له مائة ذنب، وكان هذا الدعاء له حرزاً من الشيطان حتى يمسي ذلك اليوم، ولم يعمل أحد عملاً أفضل من عمله إلا من أكثر منه دعاء. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে একশ’বার পড়বে\n\n‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’\n\n(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি হচ্ছেন সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান)\n\nতার দশটি গোলাম মুক্ত করে দেয়ার সমপরিমাণ সাওয়াব হবে। তার জন্য একশ’ নেকী লেখা হবে, তার একশ’টি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, তার জন্য এ দু‘আ ঐ দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান হতে বেঁচে থাকার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং সে যে কাজ করেছে তার চেয়ে উত্তম কাজ অন্য কেউ করতে পারবে না, কেবল ঐ ব্যক্তি ছাড়া যে এর চেয়ে বেশী পড়বে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
০৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩০৬
ইউবায়ের (রা)
وَعَنِ الزُّبَيْرِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَا مِنْ صَبَاحٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلَّا مُنَادٍ يُنَادِىْ سَبِّحُوا الْمَلِكَ الْقُدُّوْسَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ
আল-জুবায়েরের সূত্রে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এমন কোন সকাল নেই যেদিন বান্দারা ডাকাডাকি ব্যতীত জেগে ওঠে, "পবিত্র বাদশাহ মহিমান্বিত।" "আল-তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
০৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩০৮
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আমর (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الحمد لله" أو الحمد أفضل الشكر. ومن لم يحمد الله لم يشكره.[١]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ’’ বা প্রশংসা করা হলো সর্বোত্তম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যে বান্দা আল্লাহর প্রশংসা করল না, সে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল না।[১]
০৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩১৩
আমর ইবনু শুআইব
وصفه عن جده عن طريق أبيه. وعن جده قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ سبحان الله مائة مرة حين يصبح وعصره، كان كمن حج مائة مرة. من قال الحمد لله في الصباح و العصر مائة مرة كان كالذي بعث مائة مجاهد على مائة فرس في سبيل الله. من قرأ لا إله إلا الله مائة مرة حين يصبح وبعد الظهر أعتق مائة من ولد إسماعيل (ع). سيكون معادلا للشخص المعطى. ومن كبر في الصباح و العصر مائة مرة لم يكن أحد أعظم أجرا منه. وبطبيعة الحال، فإن الشخص المستثنى من عمل مثل هذا العمل أو أكثر - (الترمذي وقال:
তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তাঁর দাদা বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ পড়বে, সে তাঁর মতো হবে (সাওয়াবের দিক দিয়ে) যে একশ’বার হজ করবে। যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ পড়বে, সে আল্লাহর পথে একশ’ ঘোড়ায় একশ’ মুজাহিদ রওনা করে দেয়া ব্যক্তির মতো হবে। যে সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ পড়বে, সে নাবী ইসমা‘ঈল (আঃ)-এর বংশের একশ’ লোক মুক্ত করে দেয়া ব্যক্তির সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে একশ’বার করে ‘আল্ল-হু আকবার’ পড়বে, সেদিন তার চেয়ে বেশি সাওয়াবের কাজ আর কেউ করতে পারবে না। অবশ্য যে ব্যক্তি ব্যতিক্রম, যে অনুরূপ ‘আমাল করেছে অথবা এর চেয়ে বেশি করেছে- (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[১]
০৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩১৪
আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আমর (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: سبحان الله نصف المسافة، والحمد لله ها يتممها، وليس بين يدي لا إله إلا الله ستر حتى تصل إلى الله. (الترمذي؛
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘সুবহা-নাল্ল-হ’ হলো পাল্লার অর্ধেক, ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ একে পূর্ণ করে, আর ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’-এর সামনে কোন পর্দা নেই, যে পর্যন্ত না তা আল্লাহর কাছে গিয়ে না পৌঁছে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব, এর সানাদ সবল নয়)[১]
১০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩১৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال لا إله إلا الله في قلبه، فتحت له أبواب الجنة، حتى يصل إلى عرش الله، إذا اجتنب الكبائر.
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন বান্দা খালেস মনে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ বলবে, অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খোলা হবে, যতক্ষণ না তা আল্লাহর ‘আরশে না পৌঁছে, তবে যদি সে কাবীরাহ্ গুনাহ হতে বিরত থাকে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
১১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩১৭
ইউশায়রা (রাঃ)
وكانت من نساء المهاجرين. قال: قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم: «تقرؤون: سبحان الله، والتهليل، والتقديس بأصابعكم».
তিনি মুহাজির রমণীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমরা তাসবীহ (সুবহা-নাল্ল-হ), তাহলীল (লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ), তাকদীস (সুবহা-নাল মালিকিল কুদ্দূস) নিজের আঙ্গুলে গুণে গুণে পড়বে। কারণ আঙ্গুলকে কথা বলার শক্তি দিয়ে কিয়ামাতের দিন জিজ্ঞেস করা হবে এবং আল্লাহর জিকির করা হতে গাফিল হয়ো না, যাতে তোমরা আল্লাহর রহমাতকে ভুলে না যাও। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[১]
১২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩১৯
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
إن كلمة "الحمد لله وسبحان الله ولا إله إلا هو وهو أكبر" تحط خطايا العبد مثل ورق الشجرة. (الترمذي، وقال: الحديث ضعيف)[١]
তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি শুকনা পাতাবিশিষ্ট গাছের কাছে গেলেন এবং নিজের হাতের লাঠি দিয়ে এতে আঘাত করলেন। এতে গাছের পাতা ঝরতে লাগল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘আলহামদুলিল্লা-হ, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হ, ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াল্ল-হু আকবার’’-এ বাক্যগুলো বান্দার গুনাহ এভাবে ঝরিয়ে দেয় যে, যেভাবে ঐ গাছের পাতা ঝরছে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
১৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩২০
মাখুল আবু হুরায়রা (রাঃ)
وَعَن مَكْحُوْلِ عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «أَكْثِرْ مِنْ قَوْلِ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ فَإِنَّهَا مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ». قَالَ مَكْحُولٌ: فَمَنْ قَالَ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ وَلَا مَنْجَأَ مِنَ اللّٰهِ إِلَّا إِلَيْهِ كَشَفَ اللّٰهُ عَنْهُ سَبْعِينَ بَابًا مِنَ الضُّرِّ أَدْنَاهَا الْفَقْرُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ. وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُه بِمُتَّصِلٍ وَمَكْحُولٌ لَمْ يَسْمَعْ عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ
তিনি বলেন, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ বেশি বেশি করে পড়তে। কেননা এ বাক্যটি জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের বিশেষ বাক্য।\n\nমাকহূল (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি পড়বে ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি ওয়ালা- মানজাআ মিনাল্ল-হি ইল্লা- ইলায়হি’’- আল্লাহ তার সত্তরটি কষ্ট দূর করে দিবেন, যার সর্বনিমণ হলো দারিদ্র্যতা। (তিরমিযী। তিনি বলেন, হাদীসের সানাদ মুত্তাসিল নয়। মাকহূল (রহঃ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে হাদীসটি শুনেননি।)[১]
১৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩২১
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا حولة قوة إلا بالله» دواء من تسعة وتسعين داء، أيسرها الظن.[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘লা- হাওলা ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ হলো নিরানব্বইটি রোগের ঔষধ, তন্মধ্যে সহজটা হলো চিন্তা।[১]
১৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩২৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّه قَالَ: سُبْحَانَ اللّٰهِ هِىَ صَلَاةُ الْخَلَائِقِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ كَلِمَةُ الشُّكْرِ وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ كَلِمَةُ الْإِخْلَاصِ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ تَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ قَالَ اللّٰهُ تَعَالٰى: أَسْلَمَ وَاسْتَسْلَمَ. رَوَاهُ رَزِيْنٌ
আর ওমরের পুত্র বললেন, ‘প্রাণীর প্রার্থনাই বরকতময়, এবং আল্লাহর প্রশংসা হল শুকরিয়ার বাণী, এবং আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে নেই, নাজাতের বাণী, এবং আল্লাহর কাছেই সর্বশ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে ভরা স্বর্গের বাণী এবং দুষ্ট।’ রিজিন থেকে বর্ণিত।
১৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩২৬
[Agar al-Muzani (RA)]
قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا أيها الناس! توبوا إلى الله. وأتوب إلى الله في كل يوم مائة مرة. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মানবমন্ডলী! আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করো। আর আমিও প্রতিদিন একশ’বার করে আল্লাহর কাছে তাওবাহ্ করি। (মুসলিম)[১]
১৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩২৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: والذي نفسي بيده! لو لم تذنب لأخرجك الله ولخلق قوما يذنبون ويستغفرون الله. و
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঐ সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি তোমরা গুনাহ না করতে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে সরিয়ে এমন জাতিকে সৃষ্টি করতেন যারা গুনাহ করত ও আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা চাইত। আর আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন। (মুসলিম)[১]
১৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৩০
আবু মূসা আশআরী (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله يبسط يده بالليل ليتوب مسيء النهار. ثم يمد يده في النهار ليتوب الخاطئ في الليل
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা রাতে নিজের হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে দিনের বেলায় গুনাহকারীর তাওবাহ্ করতে পারেন। আবার দিনের বেলায় তিনি তার হাত বাড়িয়ে দেন, যাতে রাতের বেলায় গুনাহকারীর তাওবাহ্ করতে পারেন। এভাবে তিনি হাত প্রসারিত করতে থাকবেন যতদিন না সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হবে। (মুসলিম)[১]
১৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৩১
আয়েশা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا اعترف العبد بعد الذنب واستغفر الله. الله يغفر. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন গুনাহ করার পর তা স্বীকার করে (অনুতপ্ত হয়) আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
২০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৩৩
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله ليعجب من توبة عبده إذا تاب إليه. كونوا أسعد من سعادة ذلك الرجل منكم، عربة معراجه الهاربة منه في الصحراء، وعلى هذه المركبة طعامه وشرابه. وبسبب هذا، شعر بخيبة أمل. في هذه الحالة، بعد أن يئس تمامًا من وسيلة الصعود، وصل إلى شجرة واستلقى تحت ظلها. وفجأة رأى السيارة تقترب منه ليقف، فأمسك بزمام السيارة وغلبته الفرحة وقال: يا الله! أنت عبدي وأنا سيدك. إنه يرتكب هذا الخطأ من باب الفرح. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দার তাওবাহ্ করায় অত্যন্ত আনন্দিত হন যখন সে তাঁর কাছে তাওবাহ্ করে। তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তির খুশীর চেয়ে অধিক খুশী হন, যে ব্যক্তির আরোহণের বাহন মরুভূমিতে তার কাছ থেকে ছুটে পালায়, আর এ বাহনের উপর আছে তার খাবার ও পানীয়। এ কারণে সে হতাশ-নিরাশ হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় আরোহণের বাহন সম্পর্কে একেবারেই নিরাশ হয়ে একটি গাছের কাছে এসে সে এর ছায়ায় শুয়ে পড়ে। এমন সময় সে হঠাৎ দেখে, বাহন তার কাছে এসে দাঁড়ানো। সে বাহনের লাগাম ধরে আর আনন্দে আবেগআপ্লুত হয়ে বলে উঠে, হে আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু। সে আনন্দের আতিশয্যে এ ভুল করে। (মুসলিম)[১]
২১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৩৫
জুনডুব (রা)
وَعَنْ جُنْدُبٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ حَدَّثَ: «أَنَّ رَجُلًا قَالَ: وَاللّٰهِ لَا يَغْفِرُ اللّٰهُ لِفُلَانٍ وَأَنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى قَالَ: مَنْ ذَا الَّذِىْ يَتَأَلّٰى عَلَىَّ أَنِّىْ لَا أَغْفِرُ لِفُلَانٍ فَإِنِّىْ قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ». أَوْ كَمَا قَالَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জনৈক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তা‘আলা অমুক ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন, এমন কে আছে যে আমাকে কসম দিতে পারে যে, (আমার নামে শপথ করতে পারে) আমি অমুককে ক্ষমা করব না। যাও, আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার ‘আমাল নষ্ট করে দিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এ বাক্য অথবা অনুরূপ বাক্য বলেছেন। (মুসলিম)[১]
২২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৩৮
আহমাদ ও দারিমি আবু যার (রাঃ)
وَرَوَاهُ أَحْمَدُ وَالدَّارِمِىُّ عَنْ أَبِىْ ذَرٍّ، وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيْثٌ حَسَنٌ غَرِيْبٌ
আবু ধরের কর্তৃত্বের বিষয়ে আহমদ ও আল-দারিমি বর্ণনা করেছিলেন এবং আল-তিরমিহি বলেছিলেনঃ এটি একটি হাসান ঘেরিব হাদিস।
২৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৪০
[‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)]
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من دوام الاستغفار، فتح الله له من كل ضيق مخرجا، وفرج الله عنه من كل هم. وأعطاه من الرزق ما لم يستطع حتى أن يفكر فيه. (أحمد، أبو داود، ابن ماجه) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সবসময় ক্ষমা চায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসার পথ খুলে দেন এবং প্রত্যেক দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত করেন। আর তাকে এমন রিযক দান করেন, যা সে কক্ষনো ভাবতেও পারেনি। (আহমদ, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[১]
২৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৪২
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كل ابن آدم خطاء. وخير الذنب من تاب. (الترمذي، ابن ماجه، الدارمي) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। আর উত্তম পাপী হলো সে ব্যক্তি যে (গুনাহ করে) তাওবাহ্ করে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]
২৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৪৪
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله يقبل توبة العبد حتى تكون روحه مطيعة. (الترمذي، ابن ماجه)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দার প্রাণ (রূহ) ওষ্ঠাগত না হওয়া পর্যন্ত অবশ্যই আল্লাহ তার তাওবাহ্ কবূল করেন। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]
২৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৪৬
সফ্ওয়ান ইবনু আসসাল
وَعَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى جَعَلَ بِالْمَغْرِبِ بَابًا عَرْضُه مَسِيرَةُ سَبْعِينَ عَامًا لِلتَّوْبَةِ لَا يُغْلَقُ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ مِنْ قِبَلِه وَذٰلِكَ قَوْلُ اللّٰهِ عَزَّ وَجَلَّ: ﴿يَوْمَ يَأْتِىْ بَعْضُ اٰيَاتِ رَبِّكَ لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيْمَانُهَا لَمْ تَكُنْ اٰمَنَتْ مِنْ قَبْلُ﴾. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَابْن مَاجَهْ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাওবাহ্ কবূলের জন্য পশ্চিম দিকে একটি দরজা খুলে রেখেছেন, যার প্রশস্ততা সত্তর বছরের পথ। সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় না হওয়া পর্যন্ত এ দরজা বন্ধ করা হবে না। আর এটাই হলো আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ব্যাখ্যাঃ ‘‘যেদিন (কিয়ামাতের পূর্বে) তোমার ‘রবের’ কোন বিশেষ নিদর্শন এসে পৌঁছবে, সেদিন এ ঈমান তার কোন কাজে আসবে না। কেননা এ নিদর্শন আসার আগে ঈমান আনেনি’’- (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১৫৮)। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ)[১]
২৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৪৭
মু'আবিয়াহ (রাঃ)
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ حَتّٰى يَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ وَلَا تَنْقَطِعُ التَّوْبَةُ حَتّٰى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالدَّارِمِىُّ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হিজরতের ধারাবাহিকতা বন্ধ হবে না ততকক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তাওবার দরজা বন্ধ না হয়। আর তাওবার দরজা বন্ধ হবে না, সূর্য পশ্চিমাকাশে উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (আহমদ, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[১]
২৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৫০
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
وَعَن ابْن عَبَّاس: فِىْ قَوْلِه تَعَالٰى: (إِلَّا اللَّمَمَ) قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنْ تَغْفِرْ اَللّٰهُمَّ تَغْفِرْ جَمَّا وَأَىُّ عَبْدٍ لَكَ لَا أَلَمَّا. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ. وَقَالَ: هٰذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ
এবং ইবনে আব্বাসের সূত্রে: সর্বশক্তিমানের বাণীতে: (ছোটগুলি ব্যতীত) আল্লাহর রসূল, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি আপনি ক্ষমা করেন, হে আল্লাহ, আপনি অনেককে ক্ষমা করেন, কিন্তু আপনার কোন বান্দাকে কষ্ট দেয় না। আল-তিরমিযী থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ এটি একটি উত্তম, সহীহ ও অদ্ভুত হাদীস।
২৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৫৩
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فِى الْمَجْلِسِ يَقُولُ: «رَبِّ اغْفِرْ لِىْ وَتُبْ عَلَىَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ» مِائَةَ مَرَّةٍ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা যদি আল্লাহর রসূলকে গণনা করি, আল্লাহ তাঁর উপর শান্তি বর্ষণ করেন, তিনি একটি সমাবেশে বলতেন: "হে আমার পালনকর্তা, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার দিকে তওবা করুন, নিশ্চয় আপনি সবচেয়ে ক্ষমাশীল, ক্ষমাশীল।" একশ বার। আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
৩০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৫৪
বিলাল ইবনু ইয়াসার ইবনু যায়দ
وَعَن بِلَال بْنِ يَسَارِ بْنِ زَيْدٍ مَوْلَى النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: حَدَّثَنِىْ أَبِىْ عَنْ جَدِّىْ أَنَّه سَمِعَ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ يَقُولُ: «مَنْ قَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ الَّذِىْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَ لَه وَإِنْ كَانَ قَدْ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَأَبُو دَاوُدَ لَكِنَّه عِنْدَ أَبِىْ دَاوُدَ هِلَالُ بْنُ يَسَارٍ وَقَالَ التِّرْمِذِىُّ: هٰذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
বলেন, আমার পিতা আমার দাদার মাধ্যমে বলেন, আমার দাদা যায়দ বলেছেন, তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন। যে ব্যক্তি বলল, ‘\n\n‘আস্‌তাগফিরুল্ল-হাল্লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলায়হি’’\n\n(অর্থাৎ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছে তাওবাহ্ করি।)।\n\nআল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করবেন, যদিও সে যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে যেয়ে থাকে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ। তবে আবূ দাঊদ বলেন, বর্ণনাকারীর নাম হলো হিলাল ইবনু ইয়াসার। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[১]
৩১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৫৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله تعالى ليزيد عبداً من عباده الصالحين في الجنة. فيرى (العبد الصالح) هذا الوضع فيقول: يا رب! كيف زادت حالتي؟ فيقول الله تعالى : لأن أولادك يستغفرون لك. (أحمد) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে তাঁর কোন নেক বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। এ অবস্থা দেখে সে (নেক বান্দা) বলবে, হে আমার রব! আমার এ মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি হলো? তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্য মাগফিরাত কামনা করার কারণে। (আহমাদ)[১]
৩২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৫৬
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَا الْمَيِّتُ فِى الْقَبْرِ إِلَّا كَالْغَرِيقِ الْمُتَغَوِّثِ يَنْتَظِرُ دَعْوَةً تَلْحَقُه مِنْ أَبٍ أَوْ أُمٍّ أَوْ أَخٍ أَوْ صَدِيقٍ فَإِذَا لَحِقَتْهُ كَانَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَإِنَّ اللّٰهَ تَعَالٰى لَيُدْخِلُ عَلٰى اَهْلِ الْقُبُورِ مِنْ دُعَاءِ أَهْلِ الْأَرْضِ أَمْثَالَ الْجِبَالِ وَإِنَّ هَدِيَّةَ الْأَحْيَاءِ إِلَى الْأَمْوَاتِ الْاِسْتِغْفَارُ لَهُمْ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি হলো পানিতে পড়া ব্যক্তির মতো সাহায্যপ্রার্থী। সে তার পিতা-মাতা, ভাই-বন্ধুর দু‘আ পৌঁছার প্রতীক্ষায় থাকে। তার কাছে যখন দু‘আ পৌঁছে, তখন তার কাছে সারা দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল জিনিসের চেয়ে এ দু‘আ বেশি প্রিয় হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াবাসীদের দু‘আয় কবরবাসীদেরকে পাহাড় পরিমাণ রহমত পৌঁছান এবং মৃত ব্যক্তিদের জন্য জীবিতদের পক্ষ থেকে হাদিয়্যাহ্ (উপহার) হলো তাদের জন্য ক্ষমা চাওয়া। (বায়হাক্বী- শু‘আবূল ঈমান)[১]
৩৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৫৭
আব্দুল্লাহ বিন বুসর (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "طوبى لمن كان عمله أكثر استغفاراً أو استغفاراً". (ابن ماجه. والإمام النسائي في كتابه “عمل اليوم والليلة” “عمل يوم وليلة” موصوف في الكتاب.)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সৌভাগ্যবান হবে সে, যার ‘আমালনামায় ইস্তিগফার বা ক্ষমা চাওয়া বেশি পাওয়া যাবে। (ইবনু মাজাহ। আর ইমাম নাসায়ী তাঁর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ্ ‘‘একদিন ও একরাতের ‘আমাল [কাজ]’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন।)[১]
৩৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৫৮
আয়েশা (রাঃ)
قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول: اللهم! واجعلني ممن يفرح بالخير ويستغفر للشر. (ابن ماجه، البيهقي - الدعوات الكبيرة)[1]
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো যারা ভাল কাজ করে খুশী হয় ও মন্দ কাজ করে ক্ষমা চায়। (ইবনু মাজাহ, বায়হাক্বী- দা‘ওয়াতুল কাবীর)[১]
৩৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৬০
আলী ইবনু আবি তালিব (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن الله يحب العبد المؤمن الذي يذنب ويتوب.[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা ওই মু’মিন বান্দাকে ভালবাসেন, যে গুনাহ করে তাওবাহ্ করে।[১]
৩৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৬১
সওবান (RA)
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ‘‘ইয়া- ‘ইবা-দিয়াল্লাযীনা আসরফূ ‘আলা- আনফুসিহিম, লা- তাকনাত্বূ ......’’ (অর্থাৎ- হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছো, তোমরা আল্লাহর রহমাত হতে নিরাশ হয়ো না’’- (সূরা আয্ যুমার ৩৯ : ৫৩)। এ আয়াতের পরিবর্তে সারা দুনিয়া হাসিল হওয়াকেও আমি পছন্দ করি না। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। অতঃপর তিনবার করে বললেন, যে ব্যক্তি শির্ক করেছে তার ব্যাপারেও।[১]
৩৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৬২
আবু যার আল-গিফারী (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يغفر الله لعبده حتى يسقط الحجاب. سأل الصحابة يا رسول الله! ما هي الشاشة؟ وقال (عليه الصلاة والسلام): الرجل يموت وهو مشرك.\n\nالأحاديث الثلاثة المذكورة رواه الإمام أحمد، والحديث الأخير رواه الإمام البيهقوي في “كتاب بسي والنشور”.[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাকে ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত (আল্লাহ ও তার বান্দার মধ্যে) পর্দা না পড়ে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! পর্দা কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কোন ব্যক্তির মুশরিক হয়ে মৃত্যুবরণ করা।\n\nউপরোক্ত তিনটি হাদীসই বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ, আর শেষ হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন ‘‘কিতাবিল বা‘সি ওয়ান্ নুশূর’’-এ।[১]
৩৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৬৪
Abdullah Bin Mas'ud
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: التائب من الذنب كمن لا ذنب له. (ابن ماجه).\n\nوقال البيهقي في شعب الإيمان: رواه النهراني وحده، وهي مشهورة. و شرهوس
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহ হতে তাওবাহকারী ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই। (ইবনু মাজাহ।)\n\nআর বায়হাক্বী শু‘আবূল ঈমান-এ বলেন, নাহরানী এটা একাই বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি মাজহূল ব্যক্তি। আর শারহুস্ সুন্নাহ্’য় ইমাম বাগাবী এটাকে মাওকূফ [‘আবদুল্লাহ-এর কথা] হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি [‘আবদুল্লাহ] বলেছেন, ‘‘অনুশোচনাই হলো তাওবাহ্, আর তাওবাহকারী হলো ঐ ব্যক্তির মতো যার কোন গুনাহ নেই’’।)[১]
৩৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৬৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لما قرر الله تعالى أن يخلق الخلق كتب كتابا محفوظا على العرش. فيه رحمتي سكنت غضبي. وفي وصف آخر
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা মাখলূকাত (সৃষ্টিজগত) সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলে একটি কিতাব লিখলেন, যা ‘আরশের উপর সংরক্ষিত আছে। এতে আছে, আমার রহমত আমার রাগকে প্রশমিত করেছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, আমার রাগের উপর (রহমত) জয়ী হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৪০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৬৬
[Abu Hurayrah (RA)]
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن لله مائة رحمة، ما أنزل منها إلا رحمة واحدة للجن والإنس والبهائم والحشرات. بهذه الرحمة الواحدة يتقربون إلى بعضهم البعض، وبهذه الرحمة يرحمون بعضهم بعضًا. ولهذا السبب تحب الحيوانات البرية أطفالها. والتسعة والتسعون الباقية رحمة تركها الله تعالى للمرة القادمة. الذي يرحم به عباده يوم القيامة. (البخاري، مسلم[1]).
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলার একশটি রহমত রয়েছে, তন্মধ্যে মাত্র একটি রহমত তিনি (দুনিয়ার) জিন্, মানুষ, পশু ও কীট-পতঙ্গের জন্যে অবতীর্ণ করেছেন। এই একটি রহমত দিয়ে তারা পরস্পরকে স্নেহ-মমতা করে, এ রহমাত দিয়ে তারা পরস্পরকে দয়া করে। এর দ্বারাই বন্য প্রাণীরা এদের সন্তান-সন্ততিকে ভালবাসে। আর অবশিষ্ট নিরানব্বইটি রহমাত আল্লাহ তা‘আলা পরবর্তী সময়ের জন্য রেখে দিয়েছেন। যা দিয়ে তিনি কিয়ামাতের দিন তাঁর বান্দাদেরকে রহম করবেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৪১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৬৭
য় সালমান ফারসী
قال (صلى الله عليه وسلم): ملأه الله يوم القيامة من تلك النعم كلها.[1]
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ঐ সকল রহমত দিয়ে তাকে পূর্ণতা দান করবেন।[১]
৪২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৬৮
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم-: "لو كان المؤمن يعلم ما هو عذاب الله لما كان أحد قد توقع جنته". ولو كان الكافر يعلم ما كان عند الله، لما كان أحد يئس من جنته. (بخاري، مسلم)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে কি শাস্তি রয়েছে মু’মিন বান্দা যদি তা জানত, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাতের আশা করত না। আর কাফির যদি জানত আল্লাহর কাছে কি দয়া রয়েছে, তাহলে কেউই তাঁর জান্নাত হতে নিরাশ হত না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৪৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৬৯
Abdullah Bin Mas'ud
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: الْجَنَّةُ أَقْرَبُ إِلٰى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِه وَالنَّارُ مِثْلُ ذٰلِكَ. رَوَاهُ البُخَارِىُّ
ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: জান্নাত তোমাদের একজনের জুতার ফিতের চেয়েও নিকটবর্তী এবং জাহান্নামও এমনই। আল-বুখারী থেকে বর্ণিত
৪৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৭০
আবু হুরায়রা (রাঃ)
وأوصى بأن يحرق عند موته. ثم يتناثر نصف رماد الجثة في البر والنصف الآخر في البحر. بالله! فإذا أدركه عذبه ما لم يعذب أحدا من أهل الدنيا. وعندما مات اتبع أبناؤه تعليماته. ثم أمر الله البحر فجمع البحر كل ما وقع فيه من رماد. هكذا أشار إلى الأرض، جمعت الأرض كل الشيفاسما الموجودة فيها. وأخيرا سأله الله تعالى لماذا فعلت مثل هذا الشيء؟ (أجاب) الخوف منك يا رب! أنت تعرف ذلك. فلما سمع ذلك غفر الله له. (البخاري ومسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন এক ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনকে বলল, কোন সময় সে কোন ভাল কাজ করেনি। আর এক বর্ণনায় আছে, এক ব্যক্তি নিজের ওপর অবিচার করেছে। মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলে নিজের সন্তান-সন্ততিকে ওয়াসিয়্যাত করল, যখন সে মারা যাবে তাকে যেন পুড়ে ফেলা হয়। অতঃপর মৃতদেহের ছাইভস্মের অর্ধেক স্থলভাগে, আর অর্ধেক সমুদ্রে ছিটিয়ে দেয়া হয়। আল্লাহর কসম! যদি তিনি (আল্লাহ) তাকে ধরতে পারেন তাহলে এমন শাস্তি দিবেন, যা দুনিয়ার কাউকেও কক্ষনো দেননি। সে মারা গেলে তার সন্তানেরা তার নির্দেশ মতই কাজ করল। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা সমুদ্রকে হুকুম করলেন, সমুদ্র তার মধ্যে যা ছাইভস্ম পড়েছিল সব একত্র করে দিলো। ঠিক এভাবে স্থলভাগকে নির্দেশ করলেন, স্থলভাগ তার মধ্যে যা ছাইভস্ম ছিল সব একত্র করে দিলো। পরিশেষে মহান আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন এরূপ কাজ করলে? (উত্তরে বললো) তোমার ভয়ে ‘হে রব!’ তুমি তো তা জানো। তার এ কথা শুনে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[১]
৪৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৭৩
জাবির (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لن يبلغ أحد منكم الجنة بعمله، ولا ينقذه من النار، ولا أنا إلا برحمة الله». (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কাউকেই তার ‘আমাল (‘ইবাদাত-বন্দেগী) জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে না এবং তাকে জাহান্নাম হতেও মুক্তি দিতে পারবে না, এমনকি আল্লাহর রহমত ছাড়া আমাকেও নয়। (মুসলিম)[১]
৪৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৮১
উসামাহ ইবনে যায়েদ (রাঃ)
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ فِىْ قَوْلِ اللّٰهِ عَزَّ وَجَلَّ: ﴿فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهٖ وَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقٌ بِالْخَيْرَاتَ﴾ قَالَ: كُلُّهُمْ فِى الْجَنَّةِ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ كِتَابِ الْبَعْثِ وَالنُّشُورِ
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার এ কালাম, ‘‘ফামিনহুম যা-লিমুন লিনাফসিহী, ওয়া মিনহুম মুকতাসিদুন্, ওয়া মিনহুম সা-বিকুন বিল্ খইর-ত’’ (অর্থাৎ- বান্দাদের মধ্যে কেউ নিজের প্রতি যুলম করে, তাদের মধ্যে কেউ ভালো মন্দ উভয়ই করে, আবার কেউ কল্যাণের দিকে অগ্রবর্তী হয়।)- (সূরা আল ফা-ত্বির ৩৫ : ৩২)। এরা সকলেই জান্নাতে যাবে। (ইমাম বায়হাক্বী তাঁর ‘‘কিতাবুল বা’সি ওয়ান্ নুশূর’’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন)[১]
৪৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৮৩
হুযাইফা (রাঃ)
وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِىُّ ﷺ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَه مِنَ اللَّيْلِ وَضَعَ يَدَه تَحْتَ خَدِّه ثُمَّ يَقُولُ: «اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا». وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ: الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِىْ أَحْيَانًا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ. رَوَاهُ البُخَارِىُّ
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুমানোর সময় গালের নীচে হাত রাখতেন আর বলতেন, ‘‘আল্ল-হুম্মা বিস্‌মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া-’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার নামে মৃত্যুবরণ করি ও তোমার নামেই জীবিত হই)। আবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুম থেকে জেগে বলতেন, ‘‘আলহাম্‌দু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা‘দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলায়হিন্ নুশূর’’ (অর্থাৎ- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার, যিনি আমাদেরকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করলেন এবং তারই দিকে আমাদেরকে প্রত্যাবর্তন)। (বুখারী)[১]
৪৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৮৫
আবু হুরায়রা (রাঃ)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا نام أحدكم على فراشه، فلينفض السرير بباطن ثيابه. لأنه لا يعرف ما الذي جاء إلى السرير. ثم دعه يقرأ هذا الدعاء\n\n''عجب ربي وياتو جامبي وبيكا عرفاه في أمسكتا نفسي فرهمها- وا في إرسالها- فاهفازاها- بيما- تحفظو بيهي 'إيبا-داكاس سا-ليهين''\n\n(ومعنى- يا رب! باسمك أضع جسدي وباسمك أبعثه مرة أخرى. إذا رفعت (امسك نفسي وارحم نفسي فإن تركتها فاحفظ بها ما تحفظ به عبادك الصالحين). وفي رواية أخرى، ثم ينام على شقه الأيمن، ثم يقول: «بشميكا» (أي باسمك). (البخاري، مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ বিছানায় ঘুমানোর সময় যেন নিজের পরিধেয় বস্ত্রের ভিতর দিক দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না, তারপর বিছানায় কি এসে পড়েছে। অতঃপর সে যেন এ দু‘আ পড়ে,\n\n‘‘বিস্‌মিকা রব্বী ওয়া য‘তু জাম্‌বী ওয়াবিকা আরফা‘উহ ইন্ আম্‌সাকতা নাফসী ফারহাম্‌হা- ওয়া ইন্ আরসালতাহা- ফাহফাযহা- বিমা- তাহফাযু বিহী ‘ইবা-দাকাস্ স-লিহীন’’\n\n(অর্থাৎ- হে রব! তোমার নামে আমার দেহ রাখলাম এবং তোমার নামেই আবার তা উঠাব। যদি তুমি আমার আত্মাকে (মৃত্যু হতে) ফিরিয়ে রাখো, তবে তুমি আমার আত্মার উপর দয়া করো। আর যদি একে ছেড়ে দাও, তাহলে এর রক্ষা করো, যা দিয়ে তুমি তোমার নেক বান্দাদেরকে রক্ষা করে থাকো।)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, অতঃপর সে যেন নিজের ডান পাশে ঘুমায়, তারপর বলে, ‘‘বিসমিকা’’ (অর্থাৎ- তোমারই নামে)। (বুখারী, মুসলিম) [১]
৪৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৮৯
আবু হুরায়রা (রাঃ)
ويقول عند الصلاة والنوم: سبحان الله ثلاثاً وثلاثين مرة، والحمد لله ثلاثاً وثلاثين، والله أكبر أربعاً وثلاثين. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, একদিন ফাতিমা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একজন খাদিম চাইতে আসলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি কি তোমাকে এমন পথ দেখাবো না, যা তোমার জন্য খাদিমের চেয়ে অনেক উত্তম হবে? তা হলো প্রত্যেক সলাতের সময় ও ঘুমানোর সময় পড়বে তেত্রিশবার ‘সুবহা-নাল্ল-হ’, তেত্রিশবার ‘আলহামদুলিল্লা-হ’ ও চৌত্রিশবার ‘আল্ল-হু আকবার’ । (মুসলিম)[১]
৫০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২৩৯১
[Abu Hurayrah (RA)]
خالق الأرض، الرازق، مالك كل شيء، أشهد أن لا إله إلا أنت، أعوذ بك من شر نفسي، ومن شر الشيطان وشركه.)\n\nقال صلى الله عليه وسلم: عليك بهذا الدعاء في الصباح والمساء وعند النوم.‘‘ (الترمذي وأبو داود والدارمي)
তিনি বলেন, আবূ বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেছেন, একদিন আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে একটি দু‘আ বলে দিন যা আমি সকাল-সন্ধ্যায় পড়তে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি পড়বে, ‘\n\n‘আল্ল-হুম্মা ‘আ-লিমাল গয়বি ওয়াশ্‌শাহা-দাতি, ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি, রব্বা কুল্লি শাইয়িন, ওয়া মালীকাহূ আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আন্‌তা, আ‘ঊযুবিকা মিন্ শাররি নাফ্‌সী, ওয়ামিন শার্‌রিশ্ শায়ত্ব-নি, ওয়া শিরকিহী’’\n\n(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক ও মালিক- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, আমি তোমার কাছে আমার মনের মন্দ হতে, শয়তানের মন্দ ও তাঁর শির্ক হতে আশ্রয় চাই।)\n\nতিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি এ দু‘আ সকালে-সন্ধ্যায় ও ঘুমানোর সময় পড়বে।’’ (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[১]