অধ্যায় ৭
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৬১
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا كان أول ليلة من شهر رمضان حبس الشيطان ومردة الجن. أبواب الجحيم مغلقة. لا يتم الاحتفاظ بأي من هذه مفتوحة. وفي هذه الأثناء تفتح أبواب الجنة. لم يتم تأجيل أي واحد. ينادي الداعي (الملاك) يا طالب الخير! المضي قدما في العمل لله. يا طالب البؤس والشر! (من فعل الأشياء السيئة) توقف. في هذا الشهر يعتق الله الناس من النار ويحررهم من النار ويحدث ذلك كل ليلة (من شهر رمضان). (الترمذي وابن ماجه) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন রমাযান (রমজান) মাসের প্রথম রাত হয়, শয়তান ও অবাধ্য জীনদেরকে বন্দী করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহকে বন্ধ করে দেয়া হয়। এর একটিও খোলা রাখা হয় না। এদিকে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। একটিও বন্ধ রাখা হয় না। আহবানকারী (মালাক বা ফেরেশতা) ঘোষণা দেন, হে কল্যাণ অনুসন্ধানকারী! আল্লাহর কাজে এগিয়ে যাও। হে অকল্যাণ ও মন্দ অনুসন্ধানী! (অকল্যাণ কাজ হতে) থেমে যাও। এ মাসে আল্লাহ তা‘আলাই মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেন এবং এটা (রমাযান (রমজান) মাসের) প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[১]
০২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৬২
وقال الإمام الترمذي (رضي الله عنه): الحديث ضعيف.[1]
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, হাদীসটি গরীব।[১]
০৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৬৩
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أتاكم شهر رمضان المبارك». وقد فرض الله عليك صيام هذا الشهر. في هذا الشهر تفتح أبواب الجنة وتغلق أبواب النار كلها. في هذا الشهر تسجن الشياطين المتمردة. إن في هذا الشهر ليلة واحدة خير من ألف شهر. الشخص الذي يُحرم من خير هذه الليلة؛ وبقي بطبيعة الحال محروماً من كل رفاهية. (أحمد والنسائي) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের জন্য রমাযানের বারাকাতময় মাস এসেছে। এ মাসে সওম রাখা আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। এ মাসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের সব দরজা। এ মাসে বিদ্রোহী শয়তানগুলোকে কয়েদ করা হয়। এ মাসে একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এ রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো; সে অবশ্য অবশ্যই প্রত্যেক কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত রইল। (আহমদ ও নাসায়ী)[১]
০৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৬৪
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الصيام والقرآن يشفعان للعبد. فيقول صيام يا رب! منعته من تناول الطعام في النهار ومن تخفيف الرغبة. فتقبل شفاعتي فيه الآن. القرآن قل يا رب! أبقيته مستيقظا في الليل. لذا اقبل توصيتي بشأنه الآن. وبعد ذلك سيتم قبول كلا التوصيتين. (بيهقي، شعب الإيمان)[1]
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সিয়াম এবং কুরআন বান্দার জন্য শাফা‘আত করবে। সিয়াম বলবে, হে রব! আমি তাকে দিনে খাবার গ্রহণ করতে ও প্রবৃত্তির তাড়না মিটাতে বাধা দিয়েছি। অতএব তার ব্যাপারে এখন আমার শাফা‘আত কবূল করো। কুরআন বলবে, হে রব! আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি। অতএব তার ব্যাপারে এখন আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবূল করা হবে। (বায়হাক্বী; শু‘আবূল ‘ঈমান)[১]
০৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৬৬
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : دَخَلَ رَمَضَانُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «إِنَّ هٰذَا الشَّهْرَ قَدْ حَضَرَكُمْ، وَفِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مَنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَهَا فَقَدْ حُرِمَ الْخَيْرَ كُلَّه، وَلَا يُحْرَمُ خَيْرَهَا إِلَّا كُلُّ مَحْرُوْمٍ». رَوَاهُ ابْن مَاجَه
আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রমজান এল এবং আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই, এই মাসটি তোমাদের কাছে এসেছে, এবং এতে একটি রাত হাজারের চেয়ে উত্তম একটি মাস, যে ব্যক্তি এটি থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে সমস্ত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং প্রত্যেক বঞ্চিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হবে না।" ইবনে মাজাহ থেকে বর্ণিত
০৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৭০
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تصوموا حتى تروا القمر، ولا تفطروا حتى تروه. فإن لم تتمكن من رؤية القمر لأن السماء غيمة، فثلاثين يوما من الشهر (شعبان). أكمله (يعني: اجعل هذا الشهر ثلاثين يومًا). فلا تصوموا حتى ترى الهلال. فإذا غممت السماء فقد تم من الشهر ثلاثون يومًا (البخاري ومسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম (রোযা) পালন করবে না এবং তা না দেখা পর্যন্ত সওম শেষ (ভঙ্গ) করবে না। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় তোমরা যদি চাঁদ না দেখতে পাও তাহলে (শা‘বান) মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ করো (অর্থাৎ- এ মাসকে ত্রিশ দিন হিসেবে গণ্য করো)।\n\nঅপর বর্ণনায় আছেঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ রাতেও হয়। তাই চাঁদ না দেখা পর্যন্ত সওম পালন করবে না। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। (বুখারী, মুসলিম)[১]
০৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৭৪
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يصوم أحدكم قبل شهر رمضان يوما أو يومين. لكن من اعتاد صيام أيام معينة يمكنه أن يصوم تلك الأيام. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন রমাযান (রমজান) মাস আসার এক কি দু’দিন আগে থেকে সওম (রোযা) না রাখে। তবে যে ব্যক্তি কোন দিনে সওম রাখতে অভ্যস্ত সে ওসব দিনে সওম রাখতে পারে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
০৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৭৫
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تصوموا على نصف شعبان. (أبو داود، الترمذي، ابن ماجه، الدارمي)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শা‘বান মাসের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে তোমরা সওম পালন করবে না। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[১]
০৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৭৭
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ النَّبِىَّ ﷺ يَصُومُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ إِلَّا شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِىُّ وَالنَّسَائِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ
তিনি বলেন, আমি কক্ষনো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শা‘বান ও রমাযান (রমজান) ছাড়া একাধারে দু’ মাস সিয়াম পালন করতে দেখিনি। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ)[১]
১০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৭৮
وَعَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُمَا قَالَ: مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَقَدَ عَصٰى أَبَا الْقَاسِمِ ﷺ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِىُّ وَالنَّسَائِىُّ وَابْنُ مَاجَهْ والدَّارِمِىُّ
আম্মার বিন ইয়াসেরের সূত্রে, আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি সন্দেহজনক দিনে রোজা রাখবে সে আবু আল কাসিম (রাঃ) এর অবাধ্যতা করল। আবু দাউদ, আল-তিরমিযী, আল-নাসায়ী, ইবনে মাজাহ এবং আল-দারিমী বর্ণনা করেছেন।
১১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৮১
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يَتَحَفَّظُ مِنْ شَعْبَانَ مَالَا يَتَحَفَّظُ مِنْ غَيْرِه. ثُمَّ يَصُومُ لِرُؤْيَةِ رَمَضَانَ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْهِ عَدَّ ثَلَاثِينَ يَوْمًا ثُمَّ صَامَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শা'বান মাসে এমন সতর্কতা অবলম্বন করতেন যা তিনি অন্যদের থেকে গ্রহণ করতেন না। অতঃপর রমজান শুরু হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখে এবং মেঘলা হয়ে গেলে ত্রিশ দিন গণনা করে রোজা রাখে। আবু দাউদ থেকে বর্ণিত
১২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৮৩
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كلوا سحراً. السهري بالتأكيد لديه بركات. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ‘সাহরী’ খাও। সাহরীতে অবশ্যই বারাকাত আছে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
১৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৮৪
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الفرق بين صيامنا وصيام أهل الكتاب هو السحر». (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ও আহলে কিতাবদের (ইয়াহূদী ও খৃষ্টান) সওমের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরীর। (মুসলিম)[১]
১৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৮৭
قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيام مكان واحد. فسأله أحدهم يا رسول الله! أنت تصوم في مكان واحد. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من مثلي فيكم؟ أقضي الليل على ما يطعمني ربي ويشبعني. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমে বিসাল (অর্থাৎ- একাধারে সওম রাখতে) নিষেধ করেছেন। তখন তাঁকে একজন জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো একাধারে সওম রাখেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের মধ্যে কে আমার মতো? আমি তো এভাবে রাত কাটাই যে, আমার রব আমাকে খাওয়ান ও পরিতৃপ্ত করেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
১৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৯৪
قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول بعد الإفطار: ذهب الظمأ، وانتعشت العروق. وإن شاء الله فقد ثبت الأجر. (أبو داود)[1]
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতার করার পর বলতেন, পিপাসা চলে গেছে, (শরীরের) রগগুলো সতেজ হয়েছে। আল্লাহর মর্জি হলে সাওয়াব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। (আবূ দাঊদ)[১]
১৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৯৬
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يزال الدين ظاهرا (ما أفطر الناس). لأن اليهود والنصارى يؤخرون الإفطار. (أبو داود، ابن ماجه) [١]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দ্বীন সর্বদাই বিজয়ী থাকবে (ততদিন), যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে। কারণ ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা ইফতার করতে বিলম্ব করে। (আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ)[১]
১৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৯৭
قال: ذهبت أنا ومسروق (ذات يوم) إلى عائشة (رضي الله عنها) فصلينا يا أم المؤمنين! وكان لمحمد صلى الله عليه وسلم صاحبان. أحدهما يصوم الإفطار ويصوم يصلي. والثاني هو تأخير الإفطار وتأخير الصلاة. سألت عائشة (رضي الله عنها) من يعجل فيفطر ويصلي؟ قلنا: عبد الله بن مسعود. قالت عائشة رضي الله عنها: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعل هذا. والآخر الذي كان يؤخر الإفطار والصلاة هو أبو موسى. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক উভয়ে (একদিন) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম ও আমরা আরয করলাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’জন সাথী আছেন। তাদের একজন দ্রুত ইফতার করেন, দ্রুত সলাত আদায় করেন। আর দ্বিতীয়জন বিলম্বে ইফতার করেন ও বিলম্বে সলাত আদায় করেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তাড়াতাড়ি করে ইফতার করেন ও সলাত আদায় করেন কে? আমরা বললাম, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপই করতেন। আর অপর ব্যক্তি যিনি ইফতার করতে ও সলাত আদায় করতে দেরী করতেন, তিনি ছিলেন আবূ মূসা। (মুসলিম)[১]
১৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৯৯৯
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أفضل طعام المؤمنين التمر». (أبو داود)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিনের জন্য সাহরীর উত্তম খাবার হলো খেজুর। (আবূ দাঊদ)[১]
১৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০০০
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من لم يدع الكذب والعمل به فليس له حاجة إلى الله في ترك الطعام والشراب. (البخاري)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (সিয়ামরত অবস্থায়) মিথ্যা কথা বলা ও এর উপর ‘আমাল করা ছেড়ে না দেয়, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (বুখারী)[১]
২০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০০১
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يُقَبِّلُ وَيُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لِأَرْبِه. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওমরত অবস্থায় (নিজের স্ত্রীদেরকে) চুমু খেতেন এবং (তাদেরকে) নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে ধরতেন। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রয়োজনে নিজেকে তোমাদের চেয়ে অনেক বেশী নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ ছিলেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
২১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০০২
قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يظل نجسا حتى طلوع الفجر في شهر رمضان. هذه النجاسة ليست بسبب الحلم. ثم كان (عليه السلام) يغتسل ويصوم. (البخاري، مسلم[1]).
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান (রমজান) মাসে ভোর পর্যন্ত অপবিত্র অবস্থায় থাকতেন। এ অপবিত্রতা স্বপ্নদোষের কারণে নয়। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গোসল করতেন ও সওম পালন করতেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
২২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০০৪
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من نسي أن يأكل أو يشرب وهو صائم فليتم صيامه. لأن هذا الإطعام والشرب من عند الله. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সওম অবস্থায় ভুলে কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলে, সে যেন সওম পূর্ণ করে। কেননা এ খাওয়ানো ও পান করানো আল্লাহর তরফ থেকেই হয়ে থাকে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
২৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০০৬
عَن عَائِشَة: أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ: كَانَ يُقَبِّلُهَا وَهُوَ صَائِمٌ وَيَمُصُّ لِسَانَهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সায়িম অবস্থায় চুমু খেতেন এবং তিনি তাঁর জিহবা লেহন করতেন। (আবূ দাঊদ)[১]
২৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০১২
وَعَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ: لَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِىَّ ﷺ بِالْعَرْجِ يَصُبُّ عَلٰى رَأْسِهِ الْمَاءَ وَهُوَ صَائِمٌ مِنَ الْعَطَشِ أَوْ مِنَ الْحَرِّ. رَوَاهُ مَالِكٌ وَأَبُو دَاوُدَ
একজন সাহাবী বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘আরজ’-এ (মক্কা মাদীনার মাঝখানে একটি জায়গার নাম) সায়িম অবস্থায় পিপাসা দমনের জন্য অথবা গরম কমানোর জন্য মাথায় পানি ঢালতে দেখেছি। (মালিক ও আবূ দাঊদ)[১]
২৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০১৫
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كثير من الصائمين لا يحصل لهم صيام إلا جوع». هناك العديد من شعب القيامرات (دانايامان) الذين ليست عباداتهم الليلية سوى نيشي جاغانار، ولا يمكنهم أن يؤتيوا أي ثمار. (الدارمي)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অনেক সায়িম এমন আছে যারা তাদের সওম দ্বারা ‘ক্ষুধার্ত থাকা ছাড়া’ আর কোন ফল লাভ করতে পারে না। এমন অনেক কিয়ামরত (দন্ডায়মান) ব্যক্তি আছে যাদের রাতের ‘ইবাদাত নিশি জাগরণ ছাড়া আর কোন ফল আনতে পারে না। (দারিমী)[১]
২৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০১৬
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ثلاث لا يفطرن صائماً. سينجا والقيء والحلم. (الترمذي؛ قال: هذا الحديث لا يخلو من الأخطاء. وقال أحد رواته عبد الرحمن بن زيد عن الحديث: ضعيف.)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি জিনিস সায়িমের সওম ভঙ্গ করে না। শিঙ্গা, বমি ও স্বপ্নদোষ। (তিরমিযী; তিনি বলেন, এ হাদীসটি ত্রুটিমুক্ত নয়। এর একজন বর্ণনাকারী ‘আবদুর রহমন ইবনু যায়দকে হাদীস সম্পর্কে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হয়।)[১]
২৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০১৭
وَعَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ قَالَ: سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: كُنْتُمْ تَكْرَهُونَ الْحِجَامَةَ لِلصَّائِمِ عَلٰى عَهْدِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ؟ قَالَ: لَا إِلَّا مِنْ أَجْلِ الضَّعْفِ. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ
তিনি বলেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আপনারা কী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে সায়িমকে শিঙ্গা দেয়া মাকরূহ মনে করতেন? তিনি বলেন, না; তবে দুর্বল আশংকা থাকলে। (বুখারী)[১]
২৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০১৯
وقال إن الصائم يغسل الماء من فمه، وما بقي في فمه من لعاب أو بقايا ماء لا يضر الصائم. ولا ينبغي لأي شخص أن يمضغ العلكة. وإذا ابتلع عصيره بسبب المضغ، فأنا في حقه لم أقل أنه أفطر، بل نهى عنه. (البخاري - ترزمت الباب)[1]
তিনি বলেন, সায়িম (রোযাদার) ব্যক্তি কুলি করে মুখ থেকে পানি ফেলে দেয় আর তার মুখের থুথু বা পানির অবশিষ্টাংশ যা থেকে যায় তাতে সওমের কোন ক্ষতি হবে না। আর কোন ব্যক্তি যেন চুইংগাম না চিবায়। যদি চিবানোর কারণে তার রস গিলে ফেলে, তাহলে তার ক্ষেত্রে আমি বলিনি যে, সে সওম ভঙ্গ করল, বরং তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। (বুখারী- তরজমাতুল বাব)[১]
২৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০২০
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: إِنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الْأَسْلَمِىَّ قَالَ لِلنَّبِىِّ ﷺ أَصُومُ فِى السَّفَرِ وَكَانَ كَثِيرَ الصِّيَامِ. فَقَالَ: «إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأفْطِرْ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন, হামযাহ্ ইবনু ‘আমর আল আসলামী নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছেন, আমি কি সফরে সওম পালন করব? হামযাহ্ খুব বেশী সওম পালন করতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এটা তোমার ইচ্ছাধীন। চাইলে রাখবে, না চাইলে না রাখবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৩০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০২১
قال: (ذات مرة) ذهبنا إلى حرب مع رسول الله (صلى الله عليه وسلم). وفي ذلك الوقت كان اليوم السادس عشر من شهر رمضان (رمضان) قد انقضى. (في هذا الوقت) بعضنا صام، وبعضنا لم يصوم. ولم يسيء الصيام إلى المفطرين، ولم يسيء المفطرون إلى الصائمين. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, (একবার) আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে রওনা হলাম। সে সময় রমাযান (রমজান) মাসের ষোল তারিখ অতিবাহিত হয়েছিল। (এ সময়) আমাদের কেউ সওম রেখেছে, আবার কেউ রাখেনি। সায়িমগণ সওমে না থাকা লোকদেরকে খারাপ জানেনি আবার সওমে না থাকা লোকজনও সায়িমগণকে খারাপ মনে করেনি। (মুসলিম)[১]
৩১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০২২
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ فِىْ سَفَرٍ فَرَأَى زِحَامًا وَرَجُلًا قَدْ ظُلِّلَ عَلَيْهِ فَقَالَ: «مَا هٰذَا؟» قَالُوا: صَائِمٌ. فَقَالَ: «لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصَّوْمُ فِى السَّفَرِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক সফরে ছিলেন। এক স্থানে তিনি কিছু লোকের সমাগম ও এক ব্যক্তিকে দেখলেন। (রোদের তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য) ওই লোকটির ওপর ছায়া দিয়ে রাখা হয়েছে। (এ দৃশ্য দেখে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, ওখানে কী হয়েছে? লোকেরা বলল, এ ব্যক্তি সায়িম (দুর্বলতার কারণে পড়ে গেছে)। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সফর অবস্থায় সওম রাখা নেক কাজ নয়। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৩২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০২৪
فقال (عام فتح مكة) خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم من المدينة إلى مكة. وقد صام (صلى الله عليه وسلم) (في هذه الرحلة). فلما كان صلى الله عليه وسلم على غلوتين من مكة وصل إلى عسفان (مكان تاريخي) فجلب الماء. ثم أخذه بيده فرفعه عاليا جدا. حتى يتمكن الناس من رؤية الماء. ثم أفطر (عليه السلام). وبذلك وصل (عليه السلام) إلى مكة. وكانت هذه الزيارة في شهر رمضان (رمضان). وكان ابن عباس يقول: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصوم في السفر ثم يفطر. فمن سره فليصوم (إذا لم يكن هناك مشقة). ولا تبقي من يرغب. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, (মক্কা বিজয়ের বছর) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাহ্ হতে মক্কার দিকে রওনা হলেন। (এ সফরে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওম রেখেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন (মক্কা হতে দু’ মঞ্জীল দূরে) ‘উসফান’-এ (নামক ঐতিহাসিক স্থানে) পৌঁছলেন তখন পানি চেয়ে আনালেন। এরপর তা হাতে ধরে অনেক উঁচুতে উঠালেন। যাতে লোকেরা পানি দেখতে পায়। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সওম ভাঙলেন। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় পৌঁছলেন। এ সফর হয়েছিল রমাযান (রমজান) মাসে। ইবনু ‘আব্বাস বলতেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে সওম রেখেছেন, আবার ভেঙেছেন। অতএব যার খুশী সওম রাখবে (যদি কষ্ট না হয়)। আর যার ইচ্ছা রাখবে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৩৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০২৭
وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ كَانَ لَه حَمُولَةٌ تَأْوِىْ إِلٰى شِبْعٍ فَلْيَصُمْ رَمَضَانَ من حَيْثُ أدْرَكَهُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (সফরের সময়) যে ব্যক্তির কাছে এমন সওয়ারী থাকবে, যা তাকে তার গন্তব্য পর্যন্ত অনায়াসে ও আরামে পৌঁছে দিতে পারে (অর্থাৎ- সফরে কষ্ট না হয়); যে জায়গায়ই রমাযান (রমজান) মাস আসুক সে ব্যক্তি যেন সওম পালন করে। (আবূ দাঊদ)[১]
৩৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৩০
وَعَن حَمْزَة بن عَمْرِو الْأَسْلَمِيُّ أَنَّه قَالَ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ إِنِّىْ أَجِدُ بِىْ قُوَّةً عَلَى الصِّيَامِ فِى السَّفَرِ فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ؟ قَالَ: «هِىَ رُخْصَةٌ مِنَ اللّٰهِ عَزَّ وَجَلَّ فَمَنْ أَخَذَ بِهَا فَحَسَنٌ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصُومَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! সফর অবস্থায় আমি সওম পালনে সমর্থ। (না রাখলে) আমার কী কোন গুনাহ হবে? তিনি বললেন, এ ক্ষেত্রে আল্লাহ ‘আযযা ওয়াজাল্লা তোমাকে অবকাশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ অবকাশ গ্রহণ করবে, সে উত্তম কাজ করবে। আর যে ব্যক্তি সওম রাখা পছন্দ করবে (সে রাখবে), তার কোন গুনাহ হবে না। (মুসলিম)[১]
৩৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৩১
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ يَكُونُ عَلَىَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِىَ إِلَّا فِىْ شَعْبَانَ. قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ: تَعْنِى الشُّغُلَ مِنَ النَّبِىِّ أَو بِالنَّبِىِّ ﷺ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন, রমাযান (রমজান) মাসের সওমের কাযা আমি শুধু শা‘বান মাসেই করতে পারি। ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে ব্যস্ত থাকায় অথবা বলেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতের ব্যস্ততা ‘আয়িশাহকে (শা‘বান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে) কাযা সওম আদায়ের সুযোগ দিত না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৩৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৩২
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تصوم امرأة عند زوجها إلا بإذنه. وكذلك لا ينبغي للمرأة أن تسمح لأحد بالدخول إلى البيت دون إذن زوجها. (مسلم) [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন নারীর উচিত নয় স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া নফল সওম পালন করা। ঠিক তেমনই কোন নারীর জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়াও অনুচিত। (মুসলিম)[১]
৩৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৩৩
وسأل أم المؤمنين عائشة (رضي الله عنها) ما سبب صيام الحائض وعدم الصلاة؟ قالت عائشة رضي الله عنها: كنا نصوم على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا حاضت. لقد أمر بالقيام به. ولكن لم يؤمر بأداء صلاة القضاء. (مسلم)[1]
তিনি উম্মুল মু’মিনীনাহ্ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ঋতুবতী মহিলাদের সওম কাযা করতে হয়, অথচ সলাত কাযা করতে হয় না, কারণ কী? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় আমাদের যখন মাসিক হত, তখন সওম কাযা করার হুকুম দেয়া হত। কিন্তু সলাত কাযা করার হুকুম দেয়া হত না। (মুসলিম)[১]
৩৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৩৪
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صَوْمٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّه». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে অথচ তার সওম অনাদায়ী ছিল, এ ক্ষেত্রে তার ওয়ারিসগণ সওমের কাযা আদায় করে দেবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৩৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৩৫
رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم. قال صلى الله عليه وسلم: من مات وعليه الصيام، كان عنه كل صوم يطعم عنه مسكينا. (الترمذي، قال الإمام الترمذي: الصحيح في هذا الحديث أنه موقوف حتى ابن عمر. وهو قوله [أي لا قول رسول الله صلى الله عليه وسلم]).[1]
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছে অথচ তার ওপর সওম আদায়ের দায়িত্ব ছিল, এমতাবস্থায় তার তরফ থেকে (তার ওয়ারিসগণকে) প্রতিটি সওমের পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাবার খাইয়ে দিতে হবে। (তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটির ব্যাপারে সঠিক কথা হলো, এটি ইবনু ‘উমার পর্যন্ত মাওকূফ। এটি তাঁর কথা [অর্থাৎ- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা নয়]।)[১]
৪০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৩৮
وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ: أَكَانَ النَّبِىُّ ﷺ يَصُوْمُ شَهْرًا كُلَّه؟ قَالَ: مَا عَلِمْتُه صَامَ شَهْرًا كُلَّه إِلَّا رَمَضَانَ وَلَا أَفْطَرَه كُلَّه حَتّٰى يَصُومَ مِنْهُ حَتّٰى مَضٰى لِسَبِيْلِه. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি গোটা মাস সওম রাখতেন? তিনি [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)] বললেন, আমি জানি না যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান (রমজান) ছাড়া অন্য কোন মাস পুরো সওম রেখেছেন কিনা? কিংবা এমন কোন মাসের কথাও জানি না যে, মাসে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মোটেও সওম রাখেননি। তিনি প্রতি মাসেই কিছু দিন সওম পালন করতেন। এ নিয়মেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবন কাটিয়েছেন। (মুসলিম)[১]
৪১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৩৯
وعن النبي صلى الله عليه وسلم أنه (صلى الله عليه وسلم) سأل عمران أو غيره، وعمران يسمع، فقال (صلى الله عليه وسلم): يا فلان. والد الشخص! ألا تصوم آخر أيام شهر شعبان؟ ثم قال: لا. قال (صلى الله عليه وسلم): "سوف تصومان (في آخر رمضان)." (البخاري، مسلم)[1]
তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইমরানকে অথবা অন্য কোন লোককে জিজ্ঞেস করেছেন, আর ‘ইমরান তা শুনছিলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে অমুক ব্যক্তির পিতা! তুমি কী শা‘বান মাসের শেষ দিনগুলো সওম রাখো না? তখন তিনি বললেন, না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি (রমাযানের শেষে শা‘বান মাসের) দু’টি সওম পালন করে নিবে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৪২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৪০
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أفضل الصيام بعد صيام شهر رمضان صيام عاشوراء في شهر الله المحرم. وأفضل الصلاة بعد الفريضة صلاة الليل (أي التهجد). (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান (রমজান) মাসের সওমের পরে উত্তম সওম হলো আল্লাহর মাস, মুহাররম মাসের ‘আশূরার সওম। আর ফরয সলাতের পরে সর্বোত্তম সলাত হলো রাতের সলাত (অর্থাৎ- তাহাজ্জুদ)। (মুসলিম)[১]
৪৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৪১
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَا رَأَيْتُ النَّبِىَّ ﷺ يَتَحَرّٰى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَه عَلٰى غَيْرِه إِلَّا هٰذَا الْيَوْمَ: يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَهٰذَا الشَّهْرُ يَعْنِىْ شَهْرَ رَمَضَان. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এমন দিনে রোজা রাখতে দেখিনি যা তিনি এই দিন ব্যতীত অন্য কোন দিনের চেয়ে পছন্দ করেছেন: আশুরার দিন এবং এটি। মাস মানে রমজান মাস। (সম্মত)
৪৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৪২
قال، إذا صام رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم عاشوراء؛ وأمر بإبقاء الصحابة أيضا. فقال الصحابة يا رسول الله! هذا اليوم هو اليوم المهم جداً لليهود والمسيحيين! (وبما أننا نعارض اليهود والنصارى فإننا نساعدهم على مراعاة أهمية هذا اليوم بالصوم). فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لئن بقيت إلى قابل فلا أصوم التاريخ أيضا. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, যে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আশূরার দিন সওম রেখেছেন; আর সাহাবীগণকেও রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সাহাবীগণ আরয করেন, হে আল্লাহর রসূল! এদিন তো ঐদিন, যেটি ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ! (আর যেহেতু ইয়াহূদী-খ্রিষ্টানদের আমরা বিরোধিতা করি, তাই আমরা সওম রেখে তো এ দিনের গুরুত্ব প্রদানের ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা করছি)। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যদি আমি আগামী বছর জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্য অবশ্যই নয় তারিখেও সওম রাখবো। (মুসলিম)[১]
৪৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৪৩
وَعَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ: أَنَّ نَاسًا تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ فِىْ صِيَامِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هُوَ صَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَيْسَ بِصَائِمٍ فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلٰى بِعِيْرِه بِعَرَفَةَ فَشَرِبَه. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
এবং উম্মে আল-ফাদল বিনতে আল-হারিসের সূত্রে: আরাফাতের দিনে লোকেরা তার সাথে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর রোজা রাখার বিষয়ে বিতর্ক করেছিল, এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছিল: তিনি রোজা রেখেছেন। তাদের কেউ কেউ বললঃ সে রোযা রাখে না, তাই আমি তাকে এক পেয়ালা দুধ পাঠালাম যখন সে আরাফাতে তার উটের উপর দাঁড়িয়ে ছিল এবং সে তা পান করেছিল। (সম্মত)
৪৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৪৪
قال: ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم صام قط في العصر (أي العقد الأول من شهر ذي الحجة). (مسلم)[1]
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কখনো ‘আশর-এ (অর্থাৎ- যিলহজ মাসের প্রথম দশকে) সওম পালন করতে দেখিনি। (মুসলিম)[১]
৪৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৪৬
قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيام يوم الاثنين؟ فقال (عليه السلام): ولدت في هذا اليوم. في مثل هذا اليوم أنزل علي (القرآن). (مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এ দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি। এ দিনে আমার ওপর (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে। (মুসলিম)[১]
৪৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৪৮
وروى هذا الحديث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من صام شهر رمضان. وبعد ذلك يصام الست من شهر شوال، فيحسب له صياماً. (مسلم)[1]
তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমাযান (রমজান) মাসের সওম রাখবে। এরপর সে শাওয়াল মাসের ছয়টি সওমও রাখবে তাহলে সে একাধারে সওম পালনকারী গণ্য হবে। (মুসলিম)[১]
৪৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৪৯
قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيام عيد الفطر والأزهر. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন সওম পালন করতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)[১]
৫০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/২০৫০
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا صيام يومين. عيد الفطر وعيد الأضحى. (البخاري، مسلم)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’ দিন কোন সওম নেই। ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আযহা। (বুখারী, মুসলিম)[১]