অধ্যায় ৫
অধ্যায়ে ফিরুন
০১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫২৬
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: حق المسلم على المسلم ستة. فسئل يا رسول الله! ما هي هذه الحقوق؟ فقال: (1) إذا لقي المسلم فسلّم عليه، (2) وإذا دعاك أحد أجبته، (3) وإذا سألك أحد بخير فنصحته به، (4) وإذا عطست فشمه، (5) وإذا مرض فعدته، (6) وإذا مات شاركته في جنازته. [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুসলিমের ওপর মুসলিমের ছয়টি হাক্ব (অধিকার) আছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! এ অধিকারগুলো কি কি? জবাবে তিনি বলেন, (১) কোন মুসলিমের সাথে দেখা হলে, সালাম দেবে, (২) তোমাকে কেউ দা’ওয়াত দিলে, তা কবূল করবে, (৩) তোমার কাছে কেউ কল্যাণ কামনা করলে তাকে কল্যাণের পরামর্শ দেবে, (৪) হাঁচি দিলে তার জবাব ইয়ারহামুকাল্ল-হ বলবে, (৫) কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দেখতে যাবে, (৬) কারো মৃত্যু ঘটলে তার জানাযায় শারীক হবে। [১]
০২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫২৮
وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا عَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ لَمْ يَزَلْ فِىْ خُرْفَةِ الْجَنَّةِ حَتّى يَرْجِعَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মুসলিম তার অসুস্থ কোন মুসলিম ভাইকে দেখার জন্য চলতে থাকে, সে ফিরে আসা পর্যন্ত জান্নাতের ফল আহরণ করতে থাকে ৷ [১]
০৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৩০
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ عَلَى اعْرَابِيٍّ يَعُودُه وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلى مَرِيضٍ يَعُودُه قَالَ: «لَا بَأْسَ طَهُوْرٌ إِنْ شَآءَ اللّهُ» فَقَالَ لَه: «لَا بَأْسَ طَهُوْرٌ إِنْ شَآءَ اللّهُ» . قَالَ: كَلَّا بَلْ حُمّى تَفُوْرُ عَلى شَيْخٍ كَبِيْرٍ تَزِيْرُهُ الْقُبُوْرُ. فَقَالَ: «فَنَعَمْ إِذَنْ» . رَوَاهُ البُخَارِيُّ
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বেদুইনকে দেখতে গেলেন এবং তাকে দেখতে গেলেন এবং যখন তিনি একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন তখন তিনি তাকে দেখতে গেলেন, বললেন: “পবিত্রতায় কোন ক্ষতি নেই, আল্লাহ ইচ্ছা করেন”, তাই তিনি তাকে বললেন: “পবিত্রতায় কোন ক্ষতি নেই, আল্লাহ ইচ্ছা করেন।” তিনি বললেনঃ না, বরং এটা এমন জ্বর যা একজন বৃদ্ধের মধ্যে ফেটে যায় এবং তাকে কবর জিয়ারত করে। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাহলে। তিনি এটি আল-বুখারী বর্ণনা করেছেন
০৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৩২
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ إِذَا اشْتَكَى الْإِنْسَانُ الشَّيْءَ مِنْهُ أَوْ كَانَتْ بِه قَرْحَةٌ أَوْ جُرْحٌ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ بِأُصْبُعِه: «بِسْمِ اللّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا لِيُشْفى سَقِيْمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হতে পারেন, তিনি বলেন: যখনই কোনো ব্যক্তি কোনো কিছুর অভিযোগ করত বা ঘা বা ক্ষত পেত, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঙুল দিয়ে বলতেন: "আল্লাহর নামে, আমাদের জমির মাটি এবং আমাদের কারো লালা, যাতে আমাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে আমাদের অসুস্থ আরোগ্য হয়।" (সম্মত)
০৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৩৩
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا اشْتَكى نَفَثَ عَلى نَفْسِه بِالْمُعَوِّذَاتِ وَمَسَحَ عَنْهُ بِيَدِه فَلَمَّا اشْتَكى وَجَعَهُ الَّذِىْ تُوُفِّيَ فِيهِ كُنْتُ أَنْفِثُ عَلَيْهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ الَّتِىْ كَانَ يَنْفِثُ وَأَمْسَحُ بِيَدِ النَّبِيِّ ﷺ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)\nوَفِىْ رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَتْ: كَانَ إِذَا مَرِضَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ بَيْتِه نَفَثَ عَلَيْهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ
তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলে (مُعَوِّذَاتِ) ‘‘মু‘আবিবযা-ত’’ অর্থাৎ সূরাহ্ আন্ নাস ও সূরাহ্ আল ফালাক্ব পড়ে নিজের শরীরের উপর ফুঁ দিতেন এবং নিজের হাত দিয়ে শরীর মুছে ফেলতেন। তিনি মৃত্যুজনিত রোগে আক্রান্ত হলে আমি মু‘আবিবযাত পড়ে তাঁর শরীরে ফুঁ দিতাম, যেসব মু‘আবিবযাত পড়ে তিনি নিজে ফুঁ দিতেন। তবে আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত দিয়েই তাঁর শরীর মুছে দিতাম। (বুখারী, মুসলিম)[১]\n\nমুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেছেন, তাঁর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তিনি ‘‘মু‘আবিবযাত’’ পড়ে তার গায়ে ফুঁ দিতেন।
০৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৩৪
قال: فحدث رسول الله صلى الله عليه وسلم عن وجع يجده في جسده. فلما سمع ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له: "يدك حيث تألم". احفظ ثم قل بسم الله ثلاث مرات وقل سبع مرات أعوذ بعزة الله وقدرته من شري ماجدو ووها زير (أي أعوذ بعزة الله وقدرته التي أشعر بها وأخافها). من أذيته).\n\nقال عثمان بن أبي العاص: ففعلت ذلك. ونتيجة لذلك، أزال الله الألم في جسدي. (مسلم)[1]
তিনি বলেন, একবার তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাঁর শরীরে অনুভূত একটি ব্যথার কথা জানালেন। এ কথা শুনে আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, যে জায়গায় তুমি ব্যথা অনুভব করো সেখানে তোমার হাত রাখো। তারপর তিনবার ‘‘বিসমিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ আল্লাহর নামে) আর সাতবার বলো, ‘‘আ‘ঊযু বি‘ইযযাতিল্ল-হি ওয়া কুদ্রাতিহী মিন্ শার্রি মা- আজিদু ওয়াউহা-যির’’ (অর্থাৎ আমি আল্লাহর সম্মান ও তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমি অনুভব করছি ও আশংকা করছি তাঁর ক্ষতি হতে)।\n\n‘উসমান ইবনু আবুল ‘আস বলেন, আমি তা করলাম। ফলে আমার শরীরে যে ব্যথা-বেদনা ছিল তা আল্লাহ দূর করে দিলেন। (মুসলিম)[১]
০৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৩৬
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ: «أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ» وَيَقُولُ: «إِنَّ أَبَاكُمَا كَانَ يُعَوِّذُ بِهِمَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي أَكْثَرِ نُسَخِ الْمَصَابِيْحِ: «بِهِمَا» عَلى لَفْظِ التَّثْنِيَةِ
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল-হাসান ও আল-হুসাইনের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন: “আমি আপনার কাছে আল্লাহর নিখুঁত বাণীর সাহায্যে প্রতিটি শয়তান ও প্রাণী এবং প্রতিটি মন্দ চোখ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” লাম্মাহ" এবং তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই, তোমার পিতা ইসমাঈল ও ইসহাকের কাছে আশ্রয় চাইতেন।" আল-বুখারী এবং অধিকাংশ কপি আল-মাসাবিহ দ্বারা বর্ণিত: দ্বৈত শব্দের উপর ভিত্তি করে "তাদের সাথে"।
০৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৩৭
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله يضر من يشاء». (البخاري)[1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদগ্রস্ত করেন। (বুখারী)[১]
০৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৩৯
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ يُوعَكُ فَمَسِسْتُه بِيَدِىْ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللّهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: «أَجَلْ إِنِّىْ أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلَانِ مِنْكُمْ» . قَالَ: فَقُلْتُ: ذلِكَ لِأَنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ؟ فَقَالَ: «أَجَلْ» . ثُمَّ قَالَ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُه أَذًى مِنْ مَرَضٍ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حَطَّ اللّهُ تَعَالى بِه سَيِّئَاتِه كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশ করলাম, যখন তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন, তখন আমি তাকে আমার হাত দিয়ে স্পর্শ করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি খুবই অসুস্থ। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “হ্যাঁ, আমি তোমাদের মধ্যে দু’জনের মত দুর্বল”। তিনি বললেনঃ তাই আমি বললামঃ এটা কি এজন্য যে, তোমার দুটি সওয়াব আছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তারপর বললেন, "কি?" "যদি কোন মুসলমান অসুস্থতা বা অন্য কিছুর মতো ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তবে মহান আল্লাহ তার খারাপ কাজগুলিকে এমনভাবে দূর করে দেবেন যেভাবে একটি গাছ তার পাতা ঝরে যায়।" (সম্মত)
১০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৪০
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ أَحَدًا الْوَجَعُ عَلَيْهِ أَشَدُّ مِنْ رَسُولِ اللّهِ ﷺ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আয়েশার কর্তৃত্বের উপর, ঈশ্বর তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বললেন, আমি ঈশ্বরের রাসূলের চেয়ে কেউ বেশি গুরুতর যন্ত্রণায় ভোগ করতে দেখিনি, ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ করুন এবং তাকে শান্তি দান করুন।
১১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৪১
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَاتَ النَّبِيُّ ﷺ بَيْنَ حَاقِنَتِىْ وَذَاقِنَتِىْ فَلَا أَكْرَه شِدَّةَ الْمَوْتِ لِأَحَدٍ أَبَدًا بَعْدَ النَّبِيَّ ﷺ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার বুক ও চিবুকের মাঝে মাথা রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর পর আর কারো মৃত্যু যন্ত্রণাকে আমি খারাপ মনে করি না। [১]
১২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৪২
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مثل المؤمن كمثل غصن من الحبة في الحقل، تشده الريح. مرة واحدة يميل إلى هذا الجانب. يستقيم مرة أخرى. وهكذا انتهت حياته. ومثل المنافق كمثل شجرة بيبال قوية قائمة. هذه الشجرة لا تحتاج إلى صدمة قبل أن تسقط على الأرض. [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মু’মিনের দৃষ্টান্ত হলো, ক্ষেতের তরতাজা ও কোমল শস্য শাখার মতো, যাকে বাতাস এদিক-ওদিক ঝুঁকিয়ে ফেলে। একবার এদিকে কাত করে। আবার সোজা করে দেয়। এভাবে তার আয়ু শেষ হয়ে যায়। আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হলো শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পিপুল গাছের মতো। একেবারে ভূমিতে উপড়ে পড়ার আগে এ গাছে ঝটকা লাগে না। [১]
১৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৪৪
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: دَخَلَ رَسُوْلِ اللّهِ ﷺ عَلَى اُمِّ السَّائِبِ فَقَالَ: «مَالَكِ تُزَفْزِفِينَ؟» . قَالَتِ: الْحُمّى لَا بَارَكَ اللّهُ فِيهَا فَقَالَ: «لَا تَسُبِّي الْحُمّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِىْ ادَمَ كَمَا يُذْهِبُ الْكِيْرُ خَبَثَ الْحَدِيْدِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবিরের সূত্রে, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল সায়েবের কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন: "আপনি কেন ফুসফুস করছেন?" . তিনি বললেন: জ্বর, ঈশ্বর যেন ভালো করেন। তিনি বললেনঃ “জ্বরকে অভিশাপ দিও না, কেননা তা আদম সন্তানের গুনাহ দূর করে যেমন ভাটা লোহা থেকে অপবিত্রতা দূর করে।” মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
১৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৪৭
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الشهداء خمسة: (1) الذين يموتون بالطاعون، (2) والذين يموتون في البطن، (3) والذين يموتون في الماء، (4) والذين يموتون تحت الجدر، (5) والجهاد في سبيل الله. شخص ميت [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শাহীদরা পাঁচ প্রকার-(১) মহামারীতে মৃত ব্যক্তি, (২) পেটের অসুখে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তি, (৩) পানিতে ডুবে মৃত ব্যক্তি, (৪) দেয়াল চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি এবং (৫) আল্লাহর পথে জিহাদ করে মৃত ব্যক্তি। [১]
১৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৪৮
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللّهِ ﷺ عَنِ الطَّاعُونِ فَأَخْبَرَنِي: «أَنَّه عَذَابٌ يَبْعَثُهُ اللّهُ عَلى مَنْ يَشَاءُ وَأَنَّ اللّهَ جَعَلَه رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِيْنَ لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِه صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّه لَا يُصِيْبُه إِلَّا مَا كَتَبَ اللّهُ لَه إِلَّا كَانَ لَه مِثْلُ أَجْرِ شَهِيْدٍ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে মহামারীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি আমাকে বললেন, এটা এক রকম ‘আযাব। আল্লাহ যার উপর চান এ ‘আযাব পাঠান। কিন্তু মু’মিনদের জন্য তা তিনি রহমাত গণ্য করেছেন। তোমাদের যে কোন লোক মহামারী কবলিত এলাকায় সাওয়াবের আশায় সবরের সাথে অবস্থান করে এবং আস্থা রাখে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই হবে, তাছাড়া আর কিছু হবে না, তার জন্য রয়েছে শাহীদের সাওয়াব। [১]
১৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৪৯
وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الطَّاعُوْنُ رِجْزٌ أُرْسِلَ عَلى طَائِفَةٍ مِنْ بَنِىْ إِسْرَائِيْلَ أَوْ عَلى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَإِذَا سَمِعْتُمْ بِه بِأَرْضٍ فَلَا تَقْدَمُوْا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوْا فِرَارًا مِنْهُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্লেগ হচ্ছে বনী ইসরাঈলের একটি দল বা তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর প্রেরিত একটি আঘাত। সুতরাং আপনি যদি এটি একটি জমিতে শুনতে পান, তবে তার কাছে যেও না এবং যদি এটি কোনও জমিতে ঘটে যখন আপনি সেখানে থাকেন তবে সেখান থেকে পালানোর জন্য বাইরে যাবেন না।" (সম্মত)
১৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৫১
قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من أصبح مسلماً يعود مريضاً مسلماً صلى عليه سبعون ألف ملك حتى يمسي. وإذا زارها عشية صلى له سبعون ألف ملك حتى يصبح، وخلق له روضة في الجنة. [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যে মুসলিম সকাল বেলায় কোন অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে যায়, তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) দু’আ করতে থাকে। যদি সে তাকে সন্ধ্যায় দেখতে যায়, তার জন্য সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) সকাল পর্যন্ত দু’আ করতে থাকে এবং তার জন্য জান্নাতে একটি বাগান তৈরি হয়। [১]
১৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৫৩
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من عاد أخا مسلما مريضا بعد أن يتوضأ يحتسبه، بعده عن النار ستين خريفا. [1]
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সাওয়াবের নিয়্যাতে ভাল করে উযূ করার পর তার কোন অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, তাকে জাহান্নাম থেকে ষাট বছরের পথ দূরে রাখা হবে। [১]
১৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৫৪
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا فَيَقُولُ سَبْعَ مَرَّاتٍ: أَسْأَلُ اللّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَّشْفِيَكَ إِلَّا شُفِيَ إِلَّا أَنْ يَكُونَ قَدْ حَضَرَ أَجَلُه». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কোন মুসলমান অন্য মুসলমানের কাছে ফিরে আসে না এবং সাতবার বলে: আমি মহান আরশের মালিক সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তার সময় না আসা পর্যন্ত তিনি তোমাকে সুস্থ করবেন।" আবু দাউদ ও তিরমিযী থেকে বর্ণিত
২০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৫৫
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ: كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْحُمّى وَمِن الْأَوْجَاعِ كُلِّهَا أَنْ يَقُوْلُوْا: «بِسْمِ اللهِ الْكَبِيْرِ أَعُوذُ بِاللّهِ الْعَظِيمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَعَّارٍ وَمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا يُعْرَفُ إِلَّا مِنْ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ وَهُوَ يُضَعَّفُ فِي الحَدِيْثِ
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে জ্বরসহ অসুখ-বিসুখ হতে পরিত্রাণ পাবার জন্য এভাবে দু’আ করতে শিখিয়েছেন, “মহান আল্লাহর নামে, মহান আল্লাহর কাছে সব রক্তপূর্ণ শিরার অপকার হতে ও জাহান্নামের গরমের ক্ষতি হতে।” [১]
২১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৫৬
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللّهِ ﷺ يَقُولُ: «مَنِ اشْتَكى مِنْكُمْ شَيْئًا أَوِ اشْتَكَاهُ أَخٌ لَه فَلْيَقُلْ: رَبُّنَا اللّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ تَقَدَّسَ اسْمُكَ أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ كَمَا أَنَّ رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ اغْفِرْ لَنَا حُوْبَنَا وَخَطَايَانَا أَنْتَ رَبُّ الطَّيِبِيْنَ أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلى هذَا الْوَجَعِ. فَيَبْرَأُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবু আল-দারদা'র সূত্রে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “তোমাদের মধ্যে যে কেউ অভিযোগ করে বা তার কোন ভাই কোন বিষয়ে অভিযোগ করে, সে যেন বলে: হে আমাদের প্রভু, স্বর্গে আল্লাহ, আপনার নাম পবিত্র হোক। আপনার আদেশ আসমানে ও পৃথিবীতে রয়েছে। যেমন আপনার করুণা পৃথিবীতে, আমাদের জন্য আপনার দয়া দেখান। এবং আমাদের পাপ আপনি আপনার রহমত থেকে একটি রহমত এবং এই ব্যথা নিরাময় করা হবে. আবু দাউদ থেকে বর্ণিত
২২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৫৭
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا جَاءَ الرَّجُلُ يَعُوْدُ مَرِيْضًا فَلْيَقُلْ اللّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ يَنْكَأُ لَكَ عَدُوًّا أَوْ يَمْشِىْ لَكَ إِلى جَنَازَةٍ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি কোন ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে ফিরে আসে, সে যেন বলে, হে আল্লাহ, তোমার বান্দাকে সুস্থ করে দাও, যে তোমার শত্রু হবে।" অথবা তিনি আপনার জন্য একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় হাঁটবেন।" আবু দাউদ থেকে বর্ণিত।
২৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৬০
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِن الْعَبْدَ إِذَا كَانَ عَلى طَرِيْقَةٍ حَسَنَةٍ مِنَ الْعِبَادَةِ ثُمَّ مَرِضَ قِيلَ لِلْمَلَكِ الْمُوَكَّلِ بِه: اكْتُبْ لَه مِثْلَ عَمَلِه إِذَا كَانَ طَلِيْقًا حَتّى أطْلِقَه أَوْ أَكْفِتَه إِلَيَّ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যদি কোনো বান্দা ভালো ইবাদত করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে বাদশাহকে বলা হবে... এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি: আমি তাকে ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত বা তাকে আমার কাছে অর্পণ না করা পর্যন্ত তার জন্য তার কাজের অনুরূপ কিছু লিখুন।
২৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৬১
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا تعرض المسلم لخطر في بدنه، قيل للملائكة، ما كان هذا العبد يعمله من الأعمال الصالحة، اكتبوا في عملائه. وبعد ذلك شفاه الله وغسل ذنوبه. وإذا رفعه غفر له ورحمه. [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোন মুসলিমকে শারীরিক বিপদে ফেলা হলে মালায়িকাহ-কে (ফেরেশতাদেরকে) বলা হয়, এ বান্দা নিয়মিত যে নেক কাজ করত, তা-ই তার ‘আমালনামায় লিখতে থাকো। এরপর তাকে আল্লাহ্ আরোগ্য দান করলে গুনাহখাতা হতে ধুয়ে পাকসাফ করে নেন। আর যদি তাকে উঠিয়ে নেন, তাকে মাফ করে দেন এবং তার প্রতি রহমাত দান করেন। [১]
২৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৬৪
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: مَا أَغْبِطُ أَحَدًا بِهَوْنِ مَوْتٍ بَعْدَ الَّذِىْ رَأَيْتُ مِنْ شِدَّةِ مَوْتِ رَسُولِ اللّهِ ﷺ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ
আয়েশার কর্তৃত্বের উপর, ঈশ্বর তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন, তিনি বলেছিলেন: ঈশ্বরের রাসূলের মৃত্যুর তীব্রতার পরে আমি কারও সহজ মৃত্যুতে খুশি নই, ঈশ্বর তাকে আশীর্বাদ করুন এবং তাকে শান্তি দান করুন। আল-তিরমিদি এবং আল-নাসা’ই দ্বারা বর্ণিত
২৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৬৫
قال: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم عند الموت. كان لديه وعاء مملوء بالماء. وكان يغمس يده في هذا الوعاء مراراً وتكراراً. ثم يمسح بيده وجهه ويقول: اللهم! أنت الموت بالنسبة لي. ساعدني في الألم. [1]
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে আমি তাঁর মৃত্যুবরণ করার সময় দেখেছি। তাঁর কাছে একটি পানিভরা বাটি ছিল। এ বাটিতে তিনি বারবার হাত ডুবাতেন। তারপর হাত দিয়ে নিজের চেহারা মুছতেন ও বলতেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে মৃত্যু যন্ত্রণায় সাহায্য করো। [১]
২৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৬৬
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا أراد الله بعبد من عباده الخير عذبه بذنوبه في الدنيا أولا. وإذا أردت أن تؤذي أي عبد، فتوقف عن معاقبة ذنوبه في الدنيا، وابق أخيرًا يوم القيامة، سينال عقوبته كاملة. [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তাঁর কোন বান্দার কল্যাণ চাইলে আগে-ভাগে দুনিয়াতেই তাকে তার গুনাহখাতার জন্য কিছু শাস্তি দিয়ে দেন। আর কোন বান্দার অকল্যাণ চাইলে দুনিয়ায় তার পাপের শাস্তিদান হতে বিরত থাকেন। পরিশেষে কিয়ামতের দিন তাকে তার পূর্ণ শাস্তি দিবেন। [১]
২৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৬৮
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يزال خطر المؤمنين والمؤمنات قائما، قد يكون هذا الخطر على جسده، أو ماله، أو سعادة أولاده. ويستمر حتى يبقى لقاء الله، وبعد لقاء الله ليس عليه إثم. (رواه الترمذي مالك رضي الله عنه هكذا. وقال الترمذي الحديث حسن صحيح).
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: মু’মিন নারী-পুরুষের বিপদ মুসীবাত লেগেই থাকে, এই বিপদ মুসীবাত তার শারীরিক, তার ধন-সম্পদের, তার সন্তান- সন্তুতির ব্যপারে হতে পারে। আল্লাহর সাথে মিলিত হবার আগ পর্যন্তই তা চলতে থাকে। আর আল্লাহর সাথে তার মিলিত হবার পর তার উপর গুনাহের কোন বোঝাই থাকেনা। (তিরমিযী; মালিক (রহঃ) এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান ও সহীহ।)
২৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৬৯
وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا سَبَقَتْ لَه مِنَ اللّهِ مَنْزِلَةٌ لَمْ يَبْلُغْهَا بِعَمَلِهِ ابْتَلَاهُ اللهُ فِىْ جَسَدِه أَوْفِي مَالِه أَوْ فِي وَلَدِه ثُمَّ صَبَّرَه عَلى ذلِكَ يُبَلِّغُهُ الْمَنْزِلَةَ الَّتِي سَبَقَتْ لَه مِنَ اللهِ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُوْ دَاوُدَ
তাঁর দাদা বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহর তরফ হতে কোন মানুষের জন্য যখন কোন মর্যাদা নির্ধারিত হয়, যা সে ‘আমাল দিয়ে লাভ করতে পারে না, তখন আল্লাহ তাকে তার শরীরে অথবা তার সন্তান-সন্ততির উপর বিপদ ঘটিয়ে পরীক্ষা করেন। এতে তাকে ধৈর্যধারণ করারও শক্তি দান করেন। যাতে সেরূপ মর্যাদা লাভ করতে পারে, যা আল্লাহর তরফ হতে তার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। [১]
৩০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৭১
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «يَوَدُّ أَهْلُ الْعَافِيَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حِيْنَ يُعْطى أَهْلُ الْبَلَاءِ الثَّوَابَ لَوْ أَنَّ جُلُودَهُمْ كَانَتْ قُرِضَتْ فِي الدُّنْيَا بِالْمَقَارِيْضِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সুস্বাস্থ্যের অধিকারী লোকেরা কিয়ামতের দিন, যখন বিপদগ্রস্ত লোকদের প্রতিদান দেওয়া হবে, তখন তারা তাদের চামড়া চাইবে, “এটি দুনিয়াতে ঋণদাতাদের দিয়ে ধার দেওয়া হয়েছিল।” আল-তিরমিযী থেকে বর্ণিত
৩১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৮০
ذات مرة ذهب كلاهما لرؤية مريض. سألوه كيف حالك هذا الصباح؟ فقال المريض بخير بفضل الله. فلما سمع شداد كلامه قال: أبشر أن مغفورة ذنوبك وجنايتك! لأني رسول الله صلى الله عليه وسلم. سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: يقول الله: أمرض عبدا مؤمنا من عبادي. ومن شكرني على الرغم من مرضه، تطهر من كل الذنوب كالمولود من فراش المرض. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يقول الله تعالى للملائكة: حبست عبدي بالمرض. فاكتب له ما تكتب له في صحته. [1]
একবার তাঁরা দু’জন এক রোগীকে দেখতে গেলেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আজ সকালটা তোমার কেমন যাচ্ছে? রোগীটি বলল, আল্লাহর রহ্মতে ভালই। তার কথা শুনে শাদ্দাদ বললেন, তোমার গুনাহ ও অপরাধ মাফ হবার শুভ সংবাদ! কারণ আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাদের মধ্যে কোন মু’মিন বান্দাকে রোগাক্রান্ত করি। রোগগ্রস্ত করা সত্ত্বেও যে আমার শুকরিয়া আদায় করবে, সে রোগশয্যা হতে সদ্যপ্রসূত শিশুর মতো সব গুনাহ হতে পবিত্র হয়ে উঠবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা মালাকগণকে (ফেরেশতাদেরকে) বলেন, আমি আমার বান্দাকে রোগ দিয়ে বন্দী করে রেখেছি। তাই তোমরা তার সুস্থ অবস্থায় তার জন্য যা লিখতে তা-ই লিখো। [১]
৩২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৮১
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا كَثُرَتْ ذُنُوبُ الْعَبْدِ وَلَمْ يَكُنْ لَه مَا يُكَفِّرُهَا مِنَ الْعَمَلِ ابْتَلَاهُ اللّهُ بِالْحَزَنِ لِيُكَفِّرَهَا عَنهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দার গুনাহ যখন বেশী হয়ে যায় এবং এসব গুনাহের কাফ্ফারার মতো যথেষ্ট নেক ‘আমাল তার না থাকে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে বিপদে ফেলে চিন্তাগ্রস্ত করেন। যাতে এ চিন্তাগ্রস্ততা তার গুনাহের কাফ্ফারাহ্ হয়ে যায়। [১]
৩৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৮২
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ عَادَ مَرِيْضًا لَمْ يَزَلْ يَخُوضُ الرَّحْمَةَ حَتّى يَجْلِسَ فَإِذَا جَلَسَ اغْتَمَسَ فِيْهَا» . رَوَاهُ مَالِكٌ وَأحْمَدُ
জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায়, সে বসে থাকা পর্যন্ত রহমতের মধ্যে ডুবে থাকে এবং যখন সে বসে পড়ে, তখন সে তাতে ডুবে যায়।” মালেক ও আহমদ থেকে বর্ণিত
৩৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৮৩
وَعَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «إِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمُ الْحُمّى فَإِنَّ الْحُمّى قِطْعَةٌ مِنَ النَّارِ فَلْيُطْفِئْهَا عَنْهُ بِالْمَاءِ فَلْيَسْتَنْقِعْ فِي نَهْرٍ جَارٍ وَلْيَسْتَقْبِلْ جِرْيَتَه فَيَقُولُ: بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ وَصَدَقَ رَسُوْلُكَ بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَقَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلْيَنْغَمِسْ فِيهِ ثَلَاثَ غَمْسَاتٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي ثَلَاثٍ فَخَمْسٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي خَمْسٍ فَسَبْعٍ فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي سَبْعٍ فَتِسْعٍ فَإِنَّهَا لَا تَكَادَ تُجَاوِزُ تِسْعًا بِإِذْنِ اللّهِ عَزَّ وَجَلَّ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
হযরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি তোমাদের কেউ জ্বরে আক্রান্ত হয়, তবে জ্বরটি আগুনের টুকরো, তাই সে যেন পানি দিয়ে তা নিভিয়ে দেয়।” সে যেন একটি প্রবাহিত নদীতে নিজেকে নিমজ্জিত করে এবং তার স্রোতের মুখোমুখি হয় এবং বলে: ঈশ্বরের নামে, হে ঈশ্বর, আপনার বান্দাকে সুস্থ করুন এবং সকালের প্রার্থনার পরে এবং তার আগে আপনার বার্তাবাহকের সত্য বলুন। সূর্যের উদয় এবং সে এতে নিজেকে তিন দিনের জন্য তিন ডুবো ডুবিয়ে রাখুক, এবং যদি সে তিনটিতে নিরাময় না করে তবে পাঁচটি, এবং যদি সে পাঁচটিতে আরোগ্য না করে তবে সাতটি, এবং যদি সে সাত বা নয়টিতে আরোগ্য না করে, কারণ এটি খুব কমই নয়টি অতিক্রম করবে, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ইচ্ছা।" আল-তিরমিযী এটি বর্ণনা করেন এবং বলেন: এটি একটি অদ্ভুত হাদীস।
৩৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৮৫
قال: عاد رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلاً مريضاً فقال: أبشر! يقول الله تعالى: هذه ناري. أرسل هذه النار في العالم إلى عبدي المؤمن. ولهذا يصبح حرق هذه النار مكملاً لنار جهنم. [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার এক অসু্স্থ লোককে দেখতে গিয়ে বললেন, সুসংবাদ! আল্লাহ তা’আলা বলেন, তা আমার আগুন। আমি দুনিয়াতে এ আগুনকে আমার মু’মিন বান্দার কাছে পাঠাই। তা’ এজন্যই যাতে এ আগুন ক্বিয়ামাতে তার জাহান্নামের আগুনের পরিপূরক হয়ে যায়। [১]
৩৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৮৭
قال: مرض عبد الله بن مسعود فذهبنا إليه. بدأ البكاء عند رؤيتنا. عند رؤية ذلك، بدأ بعض الناس يصفونه بالسوء. فقال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: لا أبكي من المرض. سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: المرض يكفر الخطايا. أنا أبكي لأن هذا المرض أصابني في سن الشيخوخة. ليس عندما كان لدي القوة. لأن الإنسان إذا مرض كتب له الأجر، وهو المرض الذي كتب له قبل وقوعه. ولهذا منعه المرض من أداء تلك العبادة. [1]
তিনি বলেন, একবার ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) অসুস্থ হলে আমরা দেখতে গেলাম। আমাদেরকে দেখে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তা দেখে তাঁকে কেউ কেউ খারাপ বলতে লাগলেন। সে সময় ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) বললেন, আমি অসুখের জন্য কাঁদছি না। আমি শুনেছি, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ অসুখ হচ্ছে গুনাহের কাফ্ফারাহ্। আমি বরং কাঁদছি এজন্য যে, এ অসুখ হল আমার বৃদ্ধ বয়সে। আমার শক্তি-সামর্থ্য থাকার সময়ে হল না। কারণ মানুষ যখন অসুস্থ হয় তার জন্য সে সাওয়াব লেখা হয়, যা অসুস্থ হবার আগে তার জন্য লেখা হত। এজন্যই যে অসুস্থতা তাকে ওই ‘ইবাদাত করতে বাধা দেয়। [১]
৩৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৮৯
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا أتيت مريضا فاسأله أن يدعو لك. لأن دعاء المريض كدعاء الملائكة. [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তুমি কোন অসুস্থ লোককে দেখতে গেলে, তাকে তোমার জন্য দু’আ করতে বলবে। কারণ রুগ্ন লোকের দু’আ মালায়িকার (ফেরেশ্তাদের) দু’আর মতো। [১]
৩৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৯১
قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن المريض ليقليل من عمره». [1]
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ রোগী দেখতে অল্প সময় নেবে। [১]
৩৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৯২
القاعدة الجيدة هي الاستيقاظ مبكرًا. [1]
রোগীকে দেখার উত্তম নিয়ম হলো তাড়াতাড়ি উঠে যাওয়া। [১]
৪০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৯৪
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ تُوُفِّيَ رَجُلٌ بِالْمَدِينَةِ مِمَّنْ وُلِدَ بِهَا فَصَلّى عَلَيْهِ النَّبِيُِّ ﷺ فَقَالَ: «يَا لَيْتَه مَاتَ بِغَيْرِ مَوْلِدِه» . قَالُوا وَلِمَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللّهِ؟ قَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا مَاتَ بِغَيْرِ مَوْلِدِه قِيسَ لَه مِنْ مَوْلِدِه إِلَى مُنْقَطَعِ أَثَرِه فِي الْجَنَّةِ» . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মাদীনায় মারা গেলেন, মাদীনায়ই তার জন্ম হয়েছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জানাযায় সলাত আদায় করালেন। তারপর তিনি বললেন, হায়! এ ব্যক্তি যদি তার জন্মস্থান ছাড়া অন্য কোন জায়গায় মৃত্যুবরণ করত। সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, কেন? হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি বললেন, কোন লোক জন্মস্থান ছাড়া অন্য কোথাও মৃত্যুবরণ করলে তার মৃত্যুস্থান ও জন্মস্থানের মধ্যবর্তী স্থান জান্নাতের জায়গা হিসেবে গণ্য করা হয়। [১]
৪১
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৯৫
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَوْتُ غُرْبَةٍ شَهَادَةٌ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সফররত অবস্থায় মারা যায় সে শাহীদ। [১]
৪২
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৯৭
عَن الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «يَخْتَصِمُ الشُّهَدَاءُ وَالْمُتَوَفَّوْنَ عَلى فُرُشِهِمْ إِلى رَبِّنَا فِي الَّذِيْنَ يُتَوَفَّوْنَ مِنَ الطَّاعُونِ فَيَقُولُ الشُّهَدَاءُ: إِخْوَانُنَا قُتِلُوْا كَمَا قُتِلْنَا وَيَقُوْلُ: الْمُتَوَفُّوْنَ عَلى فُرُشِهِمْ إِخْوَانُنَا مَاتُوا عَلى فُرُشِهِمْ كَمَا مِتْنَا فَيَقُولُ رَبُّنَا: انْظُرُوا إِلى جِرَاحِهِمْ فَإِنْ أَشْبَهَتْ جِرَاحُهُمْ جِرَاحَ الْمَقْتُولِيْنَ فَإِنَّهُمْ مِنْهُمْ وَمَعَهُمْ فَإِذَا جِرَاحُهُمْ قَدْ أَشْبَهَتْ جِرَاحَهُمْ». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيُّ
আল-ইরবাদ বিন সারিয়াহ থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “শহীদ ও মৃত ব্যক্তিরা তাদের বিছানায় আমাদের প্রভুর সামনে প্লেগ থেকে মারা যাওয়া নিয়ে বিতর্ক করে এবং শহীদরা বলে: আমাদের ভাইদেরকে হত্যা করা হয়েছিল যেমন আমরা নিহত হয়েছিলাম, এবং শহীদরা বলে: আমাদের ভাইরা তাদের শয্যায় মারা গিয়েছিল, যেমন আমাদের প্রভু বলেছেন: আমরা তাদের শয্যার জন্য আহত হয়েছিলাম, যেমনটি আমরা তাদের শয্যার জন্য মারা গিয়েছিলাম। যারা নিহত হয়েছিল তাদের ক্ষতগুলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তাহলে তারা তাদের এবং তাদের সাথে তাই যদি "তাদের ক্ষতগুলি তার ক্ষতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়।" আহমাদ ও আল-নাসায়ী বর্ণনা করেছেন
৪৩
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৯৮
وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ: «الْفَارُّ مِنَ الطَّاعُونِ كَالْفَارِّ مِنَ الزَّحْفِ وَالصَّابِرُ فِيهِ لَه أَجْرُ شَهِيدٍ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ প্লেগ রোগ চড়িয়ে পড়লে ওখান থেকে ভেগে যাওয়া যুদ্ধের ময়দান থেকে ভেগে যাবার মতো। প্লেগ ছড়িয়ে পড়লে সেখানেই ধৈর্য ধরে অবস্থানকারী শাহীদের সাওয়াব পাবে। [১]
৪৪
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৫৯৯
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يتمنين أحدكم الموت. لأنه إذا كان فاضلاً، فسوف تتاح له الفرصة للقيام بالمزيد من الأعمال النبيلة. وإذا كان البكار (تاب) لينال رضوان الله تعالى ورضوانه. سوف تحصل على فرصة. [1]
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারন সে নেক্কার হলে আরো বেশী নেক কাজ করার সুযোগ পাবে। আর বদকার হলে, (সে তাওবাহ করে) আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি ও রেযামন্দি হাসিল করার সুযোগ পাবে। [১]
৪৫
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৬০০
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يتمنين أحدكم الموت، ولا يدعوه قبل أن يأتي، فإنه إذا مات انقطعت أعماله». وإذا زيد في عمر المؤمن ازدادت حسناته[1]
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে আর তা আসার পূর্বে তাকে যেন আহ্বান না জানায়, কারন সে যখন মৃত্যুবরণ করবে তার ‘আমাল বন্ধ হয়ে যাবে। আর মু’মিনের হায়াত বাড়লে তার ভাল কাজই বৃদ্ধি পায়। [১]
৪৬
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৬০১
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يتمنين أحدكم الموت لضر. فإذا كان لا بد من تمني مثل هذه الأمنية فليقول: «اللهم أحييني ما كان خيراً لي في حياتي، وتوفني إذا كانت الوفاة خيراً لي»[1].
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন কোন দুঃখ-কষ্টের কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। যদি এ ধরনের আকাঙ্ক্ষা করতেই হয় তাহলে যেন সে বলে, “আল্ল-হুম্মা আহয়িনী মা-কা-নাতিল হায়া-তু খায়রাল লী ওয়াতা ওয়াফফানী ইযা-কা-নাতিল ওয়াফা-তু খায়রাল লী” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার জীবনে আমার জন্য যতক্ষণ কল্যাণকর হয়, আমাকে বাঁচিয়ে রেখ। আর আমাকে মৃত্যুদান করো যদি মৃত্যুই আমার জন্য কল্যাণকর হয়।) [১]
৪৭
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৬০৩
وَفِىْ رِوَايَةِ عَائِشَةَ: وَالْمَوْتَ قَبْلَ لِقَاءِ اللهِ
এবং আয়েশার বর্ণনায়: এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের আগে মৃত্যু
৪৮
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৬০৫
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ بِمَنْكِبِىْ فَقَالَ: «كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ» . وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ: إِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الصَّبَاحَ وَإِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تَنْتَظِرِ الْمَسَاءَ وَخُذْ مِنْ صِحَّتِكَ لِمَرَضِكَ وَمِنْ حَيَاتِكَ لِمَوْتِكَ. رَوَاهُ البُخَارِيُّ
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদা হাত দিয়ে আমার দু’কাঁধ ধরলেন। তারপর বললেন, দুনিয়ায় তুমি এমনভাবে থাকো, যেমন-তুমি একজন গরীব অথবা পথের পথিক। (এরপর থেকে) ইবনু ‘উমার (মানুষদেরকে) বলতেন, “সন্ধ্যা হলে আর সকালের অপেক্ষা করবে না। আর যখন সকাল হবে, সন্ধার অপেক্ষা করবে না। নিজের সুস্থতার সুযোগ গ্রহন করবে অসুস্থতার আগে ও জীবনের সুযোগ গ্রহন করবে মৃত্যুর আগে। [১]
৪৯
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৬০৭
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أول ما يقول الله للمؤمنين يوم القيامة أنبئكم به إن شئتم». قلنا عليك أن تقول: يا رسول الله! قال: فيقول الله للمؤمنين: هل تريدون لقائي؟ فيقول المؤمنون: يا ربنا (كنا نحب لقاءك)! فيقول الله تعالى: لماذا تحب مقابلتي؟ فيقول المؤمنون: نحن لكم. فطلبت العفو والمغفرة. فإذا سمع الله ذلك قال: «كان حقًّا أن أستغفرك». [1]
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (আমাদেরকে উদ্দেশ করে) বললেন, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামাতের দিন মু’মিনদেরকে সর্বপ্রথম যে কথাটি বলবেন, তোমরা চাইলে আমি তা’ তোমাদের বলে দিতে পারি। আমরা বললাম, অবশ্যই বলবেন, হে আল্লাহর রসুল! তিনি বললেন, আল্লাহ মু’মিনদেরকে বলবেন, তোমরা কি আমার সাক্ষাৎকে ভালবাসতে? মু’মিনগণ আরয করবেন, হে আমাদের রব অবশ্যই (আমরা আপনার সাক্ষাতকে ভালবাসতাম)! আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তোমরা কেন আমার সাক্ষাতকে ভালবাসতে? মু’মিনরা বলবে, আমরা আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত কামনা করেছি, তাই। এ কথা শুনে আল্লাহ বলবেন, তোমাদের জন্য মাগফিরাত মঞ্জুর করা আমার উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। [১]
৫০
মিশকাতুল মাসাবীহ # ০/১৬০৮
قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أنت الذي تهدم لذات الدنيا أكثر ذكر الموت. [1]
তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ বলেছেনঃ তোমরা দুনিয়ার ভোগবিলাস বিনষ্টকারী জিনিস, মৃত্যুকে বেশী বেশী স্মরণ করো। [১]